• খেরোর খাতা

  • কো জা গ রী 

    Sunanda Dhali লেখকের গ্রাহক হোন
    ০২ জানুয়ারি ২০২১ | ১৭৮ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • আজ কোজাগরী লক্ষ্মী পুজো। এই পুজো সাধারণ লক্ষ্মী পুজোর থেকে বিলক্ষণ আলাদা। কোজাগরী অর্থে 'কো জাগর্তি' বা 'কো জাগো রে?' বলা হয় স্বয়ং মা লক্ষ্মী আসেন মর্ত্যলোকে। ঘরে ঘরে গিয়ে দেখেন তাঁর আরাধনায় কোন কোন গৃহস্থ সারারাত জেগে আছে। যার কিছু নেই সে কিছু লাভের আশায় জেগে থাকেন আর যার অনেক কিছু সম্পত্তির মালিক, সে সব আগলে জেগে থাকেন।
     
    এই বার মা লক্ষী নজরদারি করতে এসেছেন হুতুম পাড়ায়। এই 'কে জাগো?'
    - এই মামনি তুমি তো বেশ মিষ্টি। তা পাশা খেলছ না?
    - হোয়াট ইস পাশা? অ্যান্ড হু আর ইউ উইথ অল দিস জাঙ্ক জ্যুয়েলরি?
    - আরে নিব্বি আমি লক্ষী। ধন সম্পদ শস্যের দেবী। 
    "নিশীথে বরদা লক্ষ্মীঃ জাগরত্তীতিভাষিণী ।
    তস্মৈ বিত্তং প্রযচ্ছামি অক্ষৈঃ ক্রীড়াং করোতি যঃ ।। "
    পাশা খেলে যে গৃহস্থ জেগে থাকে, তাকে আমি অনেক ধন সম্পদ দি। 
    - ম্যাম আমি পাশা খেলছি না। আমি মিম পোস্ট করি রাতে। ইটস ইন।
    - ওমা এই কর্কশ আওয়াজটা কি? 
    - এইটা রিমিক্স ভার্সন অফ্ 'এসো মা লক্ষী বসো ঘরে।'
     
    (মনে মনে) থাক যা করুক জেগে থাকলেই হল। এ'কে জন্মদিনে দু পাঁচশো বেশি পাইয়ে দেব। মা এবার হাওয়ায় ভেসে গেলেন পাশের ফ্ল্যাটে। বেশ সুন্দর করে আলপনা আঁকা। সাথে একটা টুকটুকে লক্ষী আসনে। মায়ের মনটা একেবারে গলে গেল। প্রায় দিয়েই দিচ্ছিলেন দু-চারটে বরদান। এমন সময় শুনলেন -
    - কিগো আজ আমাকে কেমন লাগছিল? মায়ের দেওয়া ওই সীতাহারটা ব্যাপক মানিয়েছিল তাইনা?
    - হুম।
    - আরে কি হুম। বলো না? আর ওই চিপচিপে নাড়ু বানানোর ব্যাপারটা কেমন তোমার মা'কে গছালাম বলো? সেই ফাঁকে কতগুলো ছবি তোলা গেল। জানো কত কমেন্ট পড়েছে?
    - কার বউ দেখতে হবে তো?
    - উঁহহহ দুটাকার ধনেপাতা, তার আবার ক্যাশ মেমো। 
    - এই কি বললে কি বললে? দাঁড়াও আজ তোমাকে কে বাঁচায় দেখব।
    - এই এই সবাই জেগে যাবে। কোমড় ছাড়ো বলছি।
     
    মা লক্ষ্মী পা টিপে টিপে চলে যাওয়াই উত্তম মনে করলেন। আজ মনে হয় এরা জেগেই থাকবে। যাক। এবার ওপর তলায় আওয়াজ পেলেন এক গুরু গম্ভীর গলার। নির্ঘাৎ সেন গিন্নি। সিড়ি বেয়ে উঠতে লাগলেন মা। যদি কিছু মেদ টেদ ঝরে। এমনিতেই লকডাউনের বাজারে শুধু বসে বসে কাজ। ভেসে বেড়াতে একটু কষ্ট হয়। গলার হার, হাতের বালা সব-ই আঁটো সাটো প্রায়। ঘরে ঢুকতেই দেখলেন হাতে দুটো নাড়ু নিয়ে সেন গিন্নি।
    - আমার কাশির সিরাপটা কোথায় রেখেছ শুনি? 
    - দেখ গিয়ে কোথায় রেখেছ নিজেই। তোমার তো খবরের কাগজ ফ্রিজে আর টিভির রিমোট বাথরুমে থাকে। শুধু খাচ্ছে আর জিরো ফিগার বানাচ্ছে(বির বির করে)।
    - বুড়োর কথা শোনো। মাথা টা তুমি চিবিয়ে ছেড়েছ। এসব ছোট খাটো ভুল তো হবেই। তাতে এত রাগার কি আছে?
    - রাগবো না? ঘুমটা দিলে চটকে ওই বাজখাঁই গলায়।
    - সারা দিন রাত আমি খেটে মরি আর ওনার খালি পড়ে পড়ে ঘুম। আগে সিরাপ খোঁজো। কাল নাহলে ফেসবুক লাইভে গাইতে পারবো না। ওসব আর কি বোঝো তুমি?
    - সেইতো। আমি তো শুধু আকাশবাণী বুঝি। ওখানে তো চিল, শকুন গায় না।
    - কি বললে????
     
    মা পড়ি মরি করে পালিয়ে বাঁচলেন। উফফ লোকজন কি আমার বিষ্ণুর মত শান্ত হতে পারে না। এই তো এই ঘরটা বেশ অন্ধকার। মনে হচ্ছে কেউ নেই।
    - 'কে জাগো?'
    -  মা গো তুমি এসেছ? আমি জানতাম তুমি আসবে? আজ সকালেই এফবিতে কোজাগরী পূর্ণিমার পোস্ট দিয়েছি। জানো মা লোকজন ট্রোল করেছে। বলে কিনা মায়ের সময় নেই এত বাড়ি ঘোরার। বলো মা ভক্তি তো সব। তুমি না এসে কি পারো।
    - এই তো বাছা আমি এসেছি।( মায়ের মন ডুকরে কেঁদে উঠলো)।
    - মা একটা রিকোয়েস্ট আছে। 
    - হ্যাঁ বাবা আমি তো তোমাকে ধন, সম্পত্তি দেব। তুমি বলো কি চাও?
    - সকালে হ্যাসট্যাগ নামানোর সময়ই ভেবে নিয়েছিলাম কি চাইবো। বলবো মা?
    - হ্যাঁ বাছা আমার বলো বলো।
    - মা ওই পাশের ফ্ল্যাটে শিউলি বৌদির মনে আমার এক চিলতে জায়গা করে দাও প্লিজ। আমি যে দিনরাত অন্ধকার দেখি, বৌদি সামনে আসলে। আজ আলতা পরা পা'দুটো ফেবুতে দেখলাম। মাগো কি বলি তোমায়, ওখানেই জীবন আমার।
    - ওরে হতভাগা। দূর হ। দূর হ। ও আমি তো এসেছি। যাই যাই আমি। আর আসবো না এই বলে গেলাম। 
    আর একটু হলে আমার বরদান বিফলে যেত একেবারে। কিসব দিনকাল পরলো গো। এইসব মায়ের থেকে কেউ চায়। কামদেবের একটা পুজো মর্ত্যে শুরু করতে হবে বাবাকে বলে। দেখি আর এক একটা। এই জরি দেওয়া শাড়ি পরে ঘোরা কি চাট্টিখানি কথা। কি ভারী। কৈলাশের টেলার গুলো সব ব্যাকডেটেড। একটাকে মর্ত্য থেকে ধরে নিয়ে যেতে হবে। এগিয়ে এলেন মা।
     
    -এই 'কে জাগো?' 
    -আমরা জাগি।
    নব বিবাহিত স্বামী স্ত্রী। স্ত্রী বিয়ের জন্য এত ছুটি নিয়েছে, এখন রাত জেগে পেন্ডিং কাজ করছে।
    - কি দরকার ছিল একমাসের ছুটি?
    - তুমি কিছু বোঝো? ওই তো জাম্বুবানের মত চেহারা আর ব্যাসদেবের মত সুরত। তুমি কি বুঝবে প্রপার ট্রিটমেন্ট অ্যান্ড প্রিওয়েডিং কত কিছু যত্ন করতে হয়?
    - এই বাজে বোকো না তো। মা আমাকে কালাচাঁদ ডাকে। আমার মত জামাই পেয়ে তোমার চোদ্দো গুষ্ঠি ধন্য। দিন রাত গুণগান করছে।
    - আদিখ্যেতা দেখ। বিয়ের আগে নেহাত পাঁচ বছরের প্রেম করেছি নাহলে শুভদৃষ্টির সময় শিওর ভিরমি খেতাম।
    - হ্যাঁ ভালোই হত। তোমার পিসির ননদের মেয়েটা এমনিতেও বেশ সুন্দরী।
    - তোকে আজ তেলে ভাজা ভাজা করবো শুয়োর।
    - এসব আবার তুই তোকারি শুরু করলে? মাকে ডাকবো?
    মা গো মাআআআআ। এদিকে মার কান ঝালা পালা। জগতের মা অন্য ঘরের দিকে যাত্রা করেছেন। 
     
    এসে পৌঁছলেন ধোঁয়াময় এক ঘরে। কাশতে কাশতে মায়ের যায় যায় অবস্থা।
    - এই হতচ্ছাড়া ঘরময় এ কেমন ধুনো জ্বেলেছিস।
    - এটা বং মা।
    - বং আবার কি? সরস্বতী বলেছিল মানেটা অবশ্য। বাংলা তো?
    - আরে মাই ডিয়ার লোকু এ আলাদা স্বর্গ। ওসব তোমরা বুঝবে না।
    - নিকুচি করেছে আমার বুঝতে। তা ওইটা কি? নারকেলের জল?
    - রাম নাম করি লোকু। তুম তো বহত হি ভোলি হো পুষ্পা।
     
    এসব যন্তর মর্ত্যে আছে জানলে প্ল্যান টাই ক্যান্সেল করে দিতাম। বাবাহ জোর বাঁচা বেঁচেছি। এক্কা দোক্কা করে একটা ঘর খুঁজে এবার আগে পেঁচাকে ছেড়ে দিলেন দেখে আসতে। গাছতলায় একটু জিরিয়ে নেবেন ততক্ষণে। পেঁচা ঘুরে ফিরে এসে রিপোর্ট করল, ওই বাড়িতে লক্ষী পুজো নেই। সরস্বতী কেস। ছেলে এখন লিরিক্স বানাচ্ছে।  কোজাগরী পূর্ণিমার চাঁদের আলোয় লিরিক্স পটাপট আসছে। কালীপুজো তে নতুন গান আসবে মার্কেটে, 
    "সবার সাথে সোহাগ করো, আমি কেন বাদ?
    আমার বুকে তোমার জন্য ফুটফুটে এক চাঁদ।"
     
    পেঁচা নেচে এসেছে একটু। মাকে বলতেই মা বললেন, বুঝলি যা দেখলাম, এখানে সবাই মোটামুটি রাত জেগেই থাকে। সবার দিনে ঘুম। এই সময় হাতে বোতল নিয়ে কালুদা যেতে যেতে সুর ছেড়েছে " ইয়ে চাঁদ সা রোশান চেহেরা, জুলফো কা রঙ সুনেহেরা....." এই ছোকরা আমাকে টিটকিরি দিচ্ছিস? তোকে চার হাতে পেটাবো বলে দিলাম।
     
    - মা আমার ঘুমের সময় হচ্ছে। আকাশ ফর্সা হচ্ছে। চলো চলো ফিরে যাই। সেন গিন্নির বাড়ি থেকে নাড়ু আর খই নিয়েছি। যেতে যেতে খাবো।
    - আহারে আমার পেঁচা। চল চল আমাদের সপ্ততরী (পুজোয় ব্যবহৃত নৌকা) করে কৈলাশ ফিরে যাই। তার আগে সবাইকে দু হাত ভরে ভালোবাসা আর সহিষ্ণুতা দিয়ে যাই। 
    - মা কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে আবার! 
    - এত ধকল আর সহ্য হয় না রে পেঁচু।
  • ০২ জানুয়ারি ২০২১ | ১৭৮ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন গ্রাহক পুনঃপ্রচার
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • সুদেবী | 2409:4060:2e87:56ba:8661:3b6d:ef4a:defa | ০২ জানুয়ারি ২০২১ ১১:৩৬101466
  • খুব সুন্দর লেখা 

  • Swastika Bhattacharya | 2402:3a80:a4d:1f6a:e9b7:a6c:4cc2:565e | ০২ জানুয়ারি ২০২১ ১৩:৫১101468
  • দারুণ!

  • সঙ্ঘমিত্রা | 2409:4060:e93:187a::bd88:a800 | ০২ জানুয়ারি ২০২১ ১৮:০৪101470
  • খুব ভালো লাগলো

  • PRADIP | 116.193.130.18 | ০৩ জানুয়ারি ২০২১ ১০:১০101477
  • পড়ে খুব ভালো লাগলো ।অসাধারণ ঈর্ষণীয় লেখা . 

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। হাত মক্সো করতে মতামত দিন