• টইপত্তর  আলোচনা  বিবিধ

  • দেকার্তঃ দর্শনের আঙিনায় যুক্তিবাদের কন্ঠস্বর (২)

    Ranjan Roy লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | বিবিধ | ১৬ নভেম্বর ২০২০ | ২২৪ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • দেকার্তের জীবন (১৫৯৬-১৬৫০ খৃষ্টাব্দ) ও ঐতিহাসিক পটভূমি

    রেনে দেকার্ত জন্মেছিলেন ফ্রান্সের ব্রিতানি(Brittany) রাজ্যের তুরিন(Touraine) এর পাশে ‘লা হায়ে’(La Haye) তে। তখন সপ্তদশ শতাব্দী শুরু হওয়ার মাত্র চারবছর বাকি। জন্ম দিয়েই মা মারা গেলেন। দেকার্ত বড় হলেন দিদিমার কাছে। ছোট বেলা থেকেই উনি রুগ্ন। বাবা ছিলেন ব্রিতানির সংসদের একজন কাউন্সিলর এবং অল্পকিছু জমিজমার মালিক। বাবার মৃত্যুতে দেকার্ত সেই সম্পত্তির মালিক হয়ে সেসব বেচে দিয়ে যা পেলেন তা বিনিয়োগ করে বছরে সাত হাজার ফ্রাঁ আমদানি সুনিশ্চিত করলেন। আট বছর বয়সে ভর্তি হলেন লা ফ্লেশের(La Fleche) জেসুইট কলেজে, আর ষোল বছর বয়সে যখন পাশ করে বেরোলেন ততদিনে তাঁর আধুনিক গণিতবিদ্যায় বিশেষ ব্যুৎপত্তি হয়েছে। এটি দেকার্তের সারা জীবনের পাথেয় হয়ে রইল।

    সদ্য কৈশোর পেরোনো দেকার্ত গেলেন প্যারিসে। সালটা ১৬১২। তত্কালীন প্যারিসের সামাজিক জীবনযাত্রা অন্তর্মুখী এই তরুণের কাছে অত্যন্ত একঘেয়ে এবং বিরক্তিকর মনে হল। তাই সেখানকার পাততাড়ি গুটিয়ে খুঁজে নিলেন নতুন আশ্রয় -- ফ’বর্গ সাঁ জাঁ’র (Faubourg Saint Germain) এক নিরালা নিভৃত কোণে। এখানে নিজের মত করে মজে রইলেন আধুনিক জ্যামিতির চর্চায়। কিন্তু তরুণ বন্ধুরা ঠিক খুঁজে বের করে ফেলল ওঁর আস্তানা, খুঁচিয়ে আনল বাইরে। এভাবে কাটল পাঁচটি বছর। শেষে নিরুপদ্রব শান্তির খোঁজে উনি যোগ দিলেন ওলন্দাজ ফৌজে, বয়েস তখন একুশ।

    পরের দু’বছর কেটে গেল বিনা কোন ঝুট ঝামেলায়, নিরবচ্ছিন্ন অধ্যয়নে, কারণ ওলন্দাজেরা তখন কোন যুদ্ধবিগ্রহে লিপ্ত ছিল না। কিন্তু এই অবস্থা বেশি দিন চলল না। শুরু হল ‘তিরিশ বছরের যুদ্ধ’ আর দেকার্ত ব্যাভারিয়ান আর্মিতে নাম লেখাতে বাধ্য হলেন। সে যা হোক, ১৬১৯-২০ সালের ওই ব্যাভারিয়ার ভীষণ শীতেই যা অভিজ্ঞতা হয়েছিল, যা ভুগেছিলেন তাই পরবর্তী কালে তাঁর ‘ডিসকোর্স অন মেথড’ (১৬৩৭) বইটিতে বর্ণিত হয়েছে। উনি নাকি শীতের থেকে বাঁচতে উনুনের মধ্যে আশ্রয় নিতেন। মনন চিন্তন চলতে থাকত, আর যখন শীতের শেষে বেরিয়ে এলেন তখন ওঁর দার্শনিক চিন্তা প্রায় অর্ধেক রূপ নিয়ে ফেলেছে।

    সক্রেটিস নাকি সারাদিন পেঁজা বরফের মধ্যে বসে ধ্যানমগ্ন থাকতেন, অথচ দেকার্ত আবার শরীর গরম না হলে মনকে একাগ্র করতে পারতেন না! এসব আজকের দিনে আক্ষরিক ভাবে কেউ নেয় না।

    ১৬২১ সাল, দেকার্ত যুদ্ধের ময়দান থেকে বেরিয়ে এলেন। ইতালি বেড়িয়ে এসে শেষমেশ প্যারিসে আস্তানা গাড়লেন। কিন্তু প্যারিসে সেই পুরনো সমস্যা! লাজুক, মিতভাষী অমিশুক দেকার্ত দুপুরের আগে কদাচিৎ বিছানা ছেড়ে ওঠেন। তবু বন্ধুবান্ধবেরা এসে অসময়ে ঘুম ভাঙায়, খোঁচায়, জোর করে বাইরে নিয়ে যায়। ১৬২৮ সালে আবার লা রোশেল( La Rochelle) দুর্গ অবরোধের যুদ্ধে সামরিক বাহিনীতে যোগদান করতে হল। যুদ্ধ শেষ হলে ইস্তফা দিলেন চাকরিতে।

    এবার দেকার্তের স্থায়ী আস্তানা হল হল্যান্ড। এদেশে রইলেন দীর্ঘ বিশ বছর (১৬২৯-৪৯)। মাঝে দু’একবার অল্প সময়ের জন্যে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডে গেছলেন বটে, কিন্তু সে’সব ছিল নেহাৎই কেজো সফর।

    কিন্তু উনি নিজের দেশ ছেড়ে হল্যান্ডকে বেছে নিলেন কেন? সম্ভবতঃ গোঁড়া রোমান ক্যাথলিক রাষ্ট্র ফ্রান্সে ধর্মীয় বিধিনিষেধ ও অত্যাচারের হাত থেকে বাঁচতে। হয়তো উনি ১৬১৬ সালে ভ্যাটিক্যান এর যাজকদের ‘ইনকুইজিশন’ এর হাতে গ্যালিলিওর প্রথমবার হেনস্থা হওয়ার গোপন ঘটনাটি জানতেন। আর ১৬০০ সালেই জিওর্দানো ব্রুনোকে ভ্যাটিক্যানের থেকে আলাদা স্বাধীন মতামতের জন্যে ইনকুইজিশনের হুকুমে পুড়িয়ে মারা হয়। বৃটিশ পার্লিয়ামেন্ট তার দু’শ বছর আগে ১৪০১ সালে একটি বিল পাস করে প্রচলিত ধর্মের বিরোধীদের প্রকাশ্যস্থানে পুড়িয়ে মারার নির্দেশ জারি করে।

    (আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। এ’বছর, অর্থাৎ সেই অন্ধযুগের চার শতাব্দী পরে বীরের দেশ রাজস্থানে রামনবমীর শোভাযাত্রায় বঙ্গ থেকে পেটের ধান্দায় আলোয়ারে কাজ করতে আসা মুসলিম মজদুরকে কুপিয়ে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে মারার ঘটনাকে ধার্মিক গৌরবগাথার ঝাঁকি হিসেবে দেখানো হয়েছে।)

    রেনে দেকার্ত ছিলেন নিষ্ঠাবান ক্যাথলিক। কিন্তু সৃষ্টিতত্ত্ব ও সৌরজগতের প্রশ্নে উনি কোপারনিকাস ও গ্যালিলিওর সূর্যকেন্দ্রিক মডেলের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন। তখন বাইবেলের পৃথ্বীকেন্দ্রিক টলেমিয় মডেলের বিরোধিতা করে ‘পৃথিবী স্থির নয়, বরং সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে’ মতের পোষক হলে প্রাণ বিপন্ন হওয়ার আশংকা অমূলক ছিল না।

    সপ্তদশ শতাব্দীর ইউরোপে মুক্তচিন্তার জন্যে সবচেয়ে অনুকুল দেশটির নাম হল্যান্ড। বেকনের অনুসারী প্রয়োগবাদী দার্শনিক হবসকে তাঁর লেখাপত্র হল্যান্ড থেকেই ছাপাতে হয়েছিল। ইংল্যান্ডে প্রতিক্রিয়ার রমরমার পাঁচটি বছরে জন লকও আশ্রয় নিয়েছিলেন হল্যান্ডে। ঈশ্বর বিশ্বাসী হলেও নিজের স্বতন্ত্র মতামত নিয়ে কাজ করতে দেকার্ত অনুরাগী দার্শনিক স্পিনোজাকেও হল্যান্ডকেই কর্মভূমি হিসেবে বেছে নিতে হয়েছিল।

    যাহোক, সতর্ক ও সাবধানী দেকার্ত একটা কাজ করলেন। উনি অ্যাস্ট্রোনমি বা জ্যোতির্বিদ্যা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বই লেখার দায়িত্ব নিয়েছিলেন—লা মঁদ (La Monde) বা ‘বিশ্ব’। কিন্তু ঠিক করলেন যে বইটি ছাপাবেন না। কারণ, তাতে বাইবেল বিরোধী দুটো সিদ্ধান্ত রয়েছে। এক, সূর্যকে কেন্দ্র করে পৃথিবীর প্রদক্ষিণ ও দুই, ব্রহ্মান্ড সসীম নয় অনন্ত। বইটির পূর্ণাঙ্গ রূপ আর দেখা যায় নি। ওঁর মৃত্যুর প্রায় দুই দশক পরে কিছু কিছু খন্ডিত অংশ প্রকাশিত হয়েছে।

    দেকার্তের ব্যক্তিত্বের ব্যাপারে দু’রকম মত রয়েছে। একটি মত অনুযায়ী অমন শান্তশিষ্ট দেখতে অমিশুক দার্শনিকটি আসলে মিটমিটে চতুর এক ব্যক্তি যাঁর ঈশ্বরভজনা এবং ঈশ্বরের অস্তিত্বকে যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করার চেষ্টা আসলে চার্চের ইনকুইজিশনের হাত থেকে রেহাই পাওয়ার জন্যে একটা চাল।

    এর পক্ষে সাক্ষ্য হিসেবে এঁরা দেখান যে এঁর বিখ্যাত মেডিটেসন গ্রন্থটি বা ‘মেডিটেশন অন ফার্স্ট ফিলজফিঃ ইন হুইচ প্রুভড দ্য এক্সিস্টেন্স অফ গড অ্যান্ড দ্য ইম্মর্টালিটি অফ সোল’ (মৌলদর্শন বিষয়ক অনুধ্যানাবলীঃ যাতে ঈশ্বরের অস্তিত্ব এবং আত্মার অমরত্ব প্রমাণিত) প্রকাশের আগে পান্ডুলিপিটি পারীর থিওলজিক্যাল সোসাইটিতে অনুমোদনের জন্যে পাঠিয়েছিলেন যাতে পরে বইটি প্রকাশ হলে কোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মোকাবিলা করা সহজ হয়।

    কিন্তু বার্ট্রান্ড রাসেলের মত অনেকের মতে রেনে দেকার্ত একজন নিষ্ঠাবান ক্যাথলিক ছিলেন অথচ তাঁর তীব্র বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধিৎসা তাঁকে স্বাভাবিক ভাবেই কোপার্নিকাস ও গ্যালিলিওর নতুন চিন্তার পক্ষে নিয়ে যায়। তিনি চেয়েছিলেন হল্যান্ডে গিয়ে নির্বিঘ্নে নিজের অধ্যয়ন ও গবেষণা চালিয়ে যেতে। সেখান থেকেও উনি জেস্যুইট পাদ্রীদের সঙ্গে নিয়মিত পত্রালাপ করতেন। কারণ বিজ্ঞানপ্রেমী মানুষটি চাইতেন যাতে চার্চ বিজ্ঞানচর্চার প্রতি একটু সদয় হয়, বৈরিভাব ছাড়ে। অন্যদের সঙ্গে গ্যালিলিও’র মত ব্যবহার না করে। ওঁর যুক্তি ছিল তাতে চার্চের আখেরে লাভ হবে। অনেক অনেক যুক্তিবাদী মানুষ চার্চের কথা শুনবে। অবশ্যই এর মধ্যে দেকার্তের ব্যক্তিগত সুরক্ষার প্রশ্নটি নিহিত ছিল।

    ফলটা কী হল?

    হল্যান্ডে গিয়েও উনি পুরোপুরি শান্তি পেলেন না। আঘাত এল আশ্চর্যভাবে, গোঁড়া প্রটেস্টান্টদের থেকে। বলা হল দেকার্তের যুক্তিপরম্পরা মানুষকে নাস্তিকতার দিকে ঠেলে দেবে। উনি শাস্তি এড়াতে পারলেন শুধুমাত্র ফরাসী রাষ্ট্রদূত এবং প্রিন্স অফ অরেঞ্জ এর হস্তক্ষেপের ফলে। কয়েকটা বছর কাটল। কিন্তু লেডেন ইউনিভার্সিটি (Leiden University) নির্দেশ জারি করল যে অ্যাকাডেমিক জগতে দেকার্তের নাম উচ্চারণ চলবে না, সে পক্ষেই হোক কি বিপক্ষে। এবারও এগিয়ে এলেন প্রিন্স অফ অরেঞ্জ; ইউনিভার্সিটিকে বললেন ছেলেমানুষি না করতে। এটা বোধহয় প্রটেস্টান্ট রাজ্যগুলোতে রাষ্ট্রের কাছে চার্চের মাথা নোয়ানোর একটা উদাহরণ।

    কিন্তু সুইডেনের ফরাসী রাষ্ট্রদূত চানোঁর (Charnot) মাধ্যমে দেকার্ত পরিচিত হলেন সুইডেনের রাণী ক্রিশ্চিনার সঙ্গে। তখন ওঁর ‘Passions of the Soul’ সদ্য প্রকাশিত হয়েছে। সেটাই দেকার্তের শেষ গ্রন্থ। কিছু পত্রালাপ হল। ক্রিশ্চিনা আন্তরিক ভাবে বিদ্যোৎসাহী সুশিক্ষিত মহিলা।

    দেকার্ত এবার ক্রিশ্চিনাকে তাঁর ‘প্রেম’ নিয়ে দার্শনিক বিচারের লেখাটি পাঠিয়ে দিলেন। এগুলি নিয়ে এতদিন উনি খুব একটা আন্তরিক ছিলেন না। এর আগে বোহেমিয়ার রাজা ফ্রেডারিকের বড় মেয়ে রাজকুমারী এলিজাবেথের জন্যে দেকার্ত ‘আত্মার আকুতি’ নিয়ে কিছু লিখেছিলেন। সেসব লেখাপত্তরও উনি ক্রিশ্চিনাকে পাঠিয়ে দিলেন। ক্রমশঃ ব্যাপারটা গড়াল এমন যে ক্রিশ্চিনা দেকার্তকে চর্মচক্ষে দেখার জন্যে অধীর হলেন। অনুরোধ করলেন ওঁর দরবারে উপস্থিত হতে। দেকার্ত সম্মতি দিলেন। এল এক যুদ্ধজাহাজ দেকার্তেকে স্টকহোম নিয়ে যেতে, সময়টা সেপ্টেম্বর ১৬৪৯।

    দেখা গেল রাণী চাইছেন দেকার্ত ওঁকে রোজ পড়ান, কিন্তু উনি ভোর পাঁচটা ছাড়া অন্য কোন সময় দিতে পারবেন না। দেকার্ত আজীবন ঘুমকাতুরে। দুপুরের আগে বিছানা ছাড়েন না। কী করবেন? উপরোধে ঢেঁকি গিলেছেন যে! আবার রাণীর খেয়াল বলে কথা। কিন্তু স্ক্যান্ডিনেভীয় দেশের ভয়ংকর শীত, তারপর দেকার্তের স্বাস্থ্য বরাবরই যাকে বলে নাজুক। এদিকে আবার রাষ্ট্রদূত চানোঁ বাড়াবাড়ি রকমের অসুস্থ হয়ে পড়লেন। দেকার্ত তাঁর দেখাশোনার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিলেন। চানোঁ ক্রমশঃ সেরে উঠলেন। দেকার্ত নিউমনিয়ায় কাতর, বিছানা নিলেন, আর উঠলেন না।

    ‘নিল সে আমার কালব্যাধিভার তাহার শরীর পরে’।

    সময় ফেব্রুয়ারি ১৬৫০। মৃত্যুর আগের মুহুর্তে দেকার্ত বললেন - ‘So my soul, it is time to part’ - যাবার বেলা হল।

    দেকার্ত বিয়ে করেন নি, তবে আমস্টারডামে থাকাকালীন কাজের মেয়ে হেলেনা জান্স ভ্যান ডার স্টর্ম এর সঙ্গে সম্পর্ক হয় এবং ফ্রাসিন(Francine) নামে একটি কন্যাসন্তান ১৬৩৫-এ জন্মায়। কিন্তু তাঁর অত্যন্ত আদরের এই মেয়েটি মাত্র পাঁচ বছর বয়সে মারা যায়। উনি বলেছেন যে এটাই ওঁর জীবনের সবচেয়ে দুঃখের ঘটনা।

    সেইসময়ের হিসেবে দেকার্ত আদৌ নীতিবাগীশ ছিলেন না, বরং মানবিক অনুভূতির স্পর্শকাতরতাকে যুক্তি দিয়ে সমর্থন করার চেষ্টা করেছেন। মেয়ের মৃত্যুতে চোখের জল ফেলেছেন। পৌরুষের খাতিরে চোখের জল ফেলা চলবে না এই আপ্তবাক্যের খোলাখুলি বিরোধিতা করেছেন।

    অনেকের মতে কন্যাসন্তান প্রাপ্তির আনন্দ এবং তার অকালবিয়োগ দেকার্তের চিন্তার মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ওঁর আগ্রহ চিকিৎসাবিজ্ঞান থেকে সরে যায় এবং পরবর্তী জীবনে অনুসন্ধানের বিষয় হয় দার্শনিক খোঁজ, বিশেষ করে জ্ঞানতত্ত্বের একটি মৌলিক সূত্র খুঁজে বের করা—নিশ্চিত সত্যের ব্যাপারে কী করে নিঃসন্দেহ হওয়া যায়।

    রুচির দিক থেকে উনি সেই সময়ের স্বচ্ছল শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সমাজের প্রতিনিধি। সঙ্গীত ও চারুকলার রসিক। এ নিয়ে লেখালেখিও করেছেন। কিন্তু তাঁর প্যাশন ছিল গণিত ও চিকিৎসাশাস্ত্রের চর্চা।

    সবসময় পরিপাটি করে সেজে থাকতেন, পোষাকের অঙ্গ হিসেবে একটি তলোয়ার ধারণ করতেন।

    দেকার্ত স্বভাবে খুব পরিশ্রমী ছিলেন না। লেখা বা পড়া – কোনটাই একটানা করতে পারতেন না। যখন হল্যান্ডে যান তখন যে ক’টি বই সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বলতে বাইবেল আর টমাস আকুইনাসের গ্রন্থ। ওঁর নিজস্ব গ্রন্থরচনা খুব অল্পসময়ে সুতীব্র মনঃসংযোগের ফসল। তবু সন্দেহ হয় – উনি হয়ত ওঁর সময়ের সংগে তাল রেখে এমন হাবভাব দেখাতেন যে উনি খুব একটা লেখাপড়া বা সিরিয়াস অধ্যয়ন করেন না, যা পুরোপুরি সত্যি নয়। ওঁর সুগভীর এবং ব্যাপক রচনাগুলির পেছনে সুপ্ত আয়াস ও পরিশ্রম স্পষ্ট।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লুকিয়ে না থেকে মতামত দিন