ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • নিস্তার 

    JAYASHREE KONAR লেখকের গ্রাহক হোন
    ০৩ নভেম্বর ২০২০ | ৫২৫ বার পঠিত | রেটিং ৪ (২ জন)
  • বটুক ঘোষের বটুয়ার অবস্থা আজকাল খুব করুণ। কারণ প্রীতির কারনে তিনি পাড়ার বিলিতি বস্তুর দোকানে বিশেষ আপ্যায়ন পেয়ে থাকেন বটে, তবে সেখানেও আর ধারাবাহিক ধার বাকি চলছেনা। ইদানীং চালের ব্যবসাটা বেচালে বসে যাওয়াতেই এই বিবশ দশা। বিরস বদনে বাগানে সদ্য লাগানো বেগুনচারাগুলোর দিকে তাকিয়ে বেচারা তিনি বারান্দায় বসে ছিলেন। রোদ ঝলমলে সকাল। কিন্তু তাঁর মনের ভেতরটা কেমন যেন হুহু করছে।

    অকস্মাৎ ঘোষ গিন্নী নিস্তারিণী বাজারের থলিখানি নিক্ষেপপূর্বক স্বরক্ষেপ করলেন
    - বলি, বাজারে কি আর যাওয়া হবেনা?

    বটুকবাবু ঠেকা দেওয়ার চেষ্টা করলেন ঠেকায় পড়ে
    - যাচ্ছি ! কতইবা বেলা! অগ্নিতে ঘৃতসংযোগ হলো।

    - অলপ্পেয়ে মিনসে! বেলা এগারোটাতেও ওনার চোখে রোদ পড়েনা ! কাজ না করার ফিকির যত!

    - আহা চটছ কেন? পকেটে তেমন রেস্ত নেই কিনা !ব্যস্ত জবাব বটুকবাবুর।

    - মরণ আমার! দোকানপাট লাটে তুলে দিলে আর ছাইপাঁশ গিল্লে রাজার ধনও শেষ হয়! এই শেষ বার!

    বিশেষ শাসানি সহযোগে নিস্তারিণী পঞ্চাশটাকার একটি নোট আর বাজারের থলেটি সুদ্ধ বটুকবাবুকে গলাধাক্কা দিয়ে বাড়িছাড়া করলেন। যদিও ওই নোটখানি কোনো এককালে বটুক বাবুরই বটুয়া থেকে গোপনে বঞ্চিত হয়েছিল। বরেনবাবু বরেণ্য মানুষ। তাঁর বুদ্ধির খুব তারিফ হয় নানা তরফে। পাড়ার লোকে খুচরো বিপদে পড়লে তিনিই চটজলদি কিছু ফন্দি এঁটে দেন মুশকিল আসানের। ছেলেমেয়ে বকে গেলে কিংবা শরিকানি গোলমালে মিটমাট করে দিতে তাঁর মতো আর কোনো মাতব্বর নেই। এইসব ঝামেলায় পড়লেই পল্লীবাসী পিলপিল করে হাজির হয় তাঁর হায়াতে। আজ বটুকবাবুর হাজিরির পালা। তাঁর দুচোখ ভরে জল জ্বলজ্বল করছে। নিস্তারিণীর নিকট এহেন মানহানি দিনের পর দিন আর কাঁহাতক হজম করা যায় ! এর একটা বিহিত দরকার। বরেনবাবু শুনলেন সব।

    - কোনো উপায় নেই? (ব্যাকুল হলেন বটুকবাবু)
    - আছে। নিস্তারিণীর হাত থেকে নিস্তারের উপায় আছে! তবে সে উপায়ে আপনায় একটু সাহস ধরতে হবে। আপনাকে একটু শক্ত হতে হবে। (চুপ করলেন বরেনবাবু)
    - সাহস লাগবে! (চুপসে গেলেন বটুকবাবু)
    - হুম! আপনাকে পাল্টা দিতে হবে। শব্দের বদলে শব্দ, ঘায়ের বদলে আঘাত।
    - গার্হস্থ হিংসা, মানে থানা পুলিশ হয়ে যাবেনাতো শেষটা! (গলা শুকিয়ে এলো বটুকবাবুর)
    - ভয় নেই আমি আছি। ( দে দে পাল তুলে দে হেলা করিস না - দরাজ গলায় গান ধরলেন বরেনবাবু)

    বরেনবাবুর বৈঠকখানা থেকে বেরিয়ে এলেন বটুকবাবু। বুকটুকু কেমন ধড়ফড় করছে। প্রাণপাখি ফরফর করছে। একটু দম নিলেন। সাহস সঞ্চয় করতে হবে সাহস। তাঁর অন্তরাত্মা জানান দিলো আসক্তিতেই আছে শক্তি। তবে একাজ বিলিতি দিয়ে হবেনা। খাঁটি মা কালী মার্ক দেশী চাই। যেমন ভাবা তেমন কাজ। বাজারের পঞ্চাশটাকা তো আছেই।

    ঘন্টাদেড়েক কেটে গেলো। বটুকবাবু তুরীয় দশাপ্রাপ্ত হয়ে সংসারে দর্শন দিলেন। নিস্তারিণী সকাশে ডুয়েল লড়বার আহ্বান জানালেন। নিস্তারিণী সবেমাত্র মনে মনে বটুকবাবুর মুন্ডপাত করছিলেন আর বাগানের ধানি লঙ্কা সহযোগে ফ্যান ভাত গলাধঃকরণ করছিলেন।

    - ভেবেছোটা কী ? রোজ তোমার এই অত্যাচার আমি সহ্য করবো না!

    বটুকবাবুর বজ্রনাদ। ভ্যাবাচ্যাকা নিস্তারিণী কিছুক্ষন নিথর হয়ে রইলেন। সময় নিলেন ব্যাপারটা বোধগম্য করবার। তারপর সশস্ত্র অবস্থায় রণাঙ্গনে অবতীর্ণ হলেন। দক্ষিণ হস্তে আঁশবটি বামে নারকেল ঝাঁটা। বটুকবাবু বলতে থাকলেন
    - হে মা কালী ! করালবদনী আজ তোর দেখা দেওয়ার সময় হলো ! আমায় বর দে মা যেন বৌয়ের বজ্জাতি ঘোচাতে পারি! জানিস মা বরেনবাবু না থাকলে যে কী হতো !
    - হ্যাঁ হতভাগা ! তোর সব জ্বালা জুড়িয়ে দেব আজ।

    এরপর প্রায় আধ ঘন্টা বিভিন্ন আপাত অর্থহীন কিন্তু যন্ত্রনাকাতর ধ্বনিমালা নিনাদিত হলো মহল্লার আকাশে বাতাসে। খোকাখুকুরা ভরদুপুরবেলা ডুকরে কেঁদে উঠলো, বুড়োবুড়িরা ভিরমি খেলো। বরেনবাবুর সদর দরজা যা সদাই খোলা থাকে তড়িঘড়ি অর্গলরূদ্ধ হলো।

    পুনঃশ্চ - বটুকবাবু সাতদিন যাবত বাজার করা এবং নিস্তারিণীরগঞ্জনার হাত থেকে সাময়িক নিস্তারলাভ করেছেন কারন তিনি ভগ্ন অস্থিসকল নিয়ে হাসপাতালের শয্যায় অস্থির ভাবে কাতরাচ্ছেন। আর বরেনবাবু পৈতৃক বাড়ি ছেড়ে অন্য পাড়ায় বাড়ি ভাড়া নিয়েছেন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। দ্বিধা না করে মতামত দিন