• খেরোর খাতা

  • হারিয়ে যাওয়া হীরালাল  

    Lipikaa Ghosh লেখকের গ্রাহক হোন
    ২৯ অক্টোবর ২০২০ | ৯৫ বার পঠিত | ৫/৫ (২ জন)
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার

  • চলচ্চিত্র বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় মনোরঞ্জনের মাধ্যম হিসাবে চিহ্নিত । শুধু তাই ই নয় বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় বানিজ্য  প্রতিষ্ঠানেরও অন্যতম। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো ভারতবর্ষে এই শিল্প-বানিজ্য প্রসার লাভ করেছে। বিশ্বের প্রথম সারির চলচ্চিত্র নির্মানে ভারতবর্ষ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে চলেছে।আর এই ভারতীয় চলচ্চিত্রকে পথ প্রদর্শন করেছে বাংলার চলচ্চিত্র নির্মাতারা। চলচ্চিত্র নির্মানের শুরুতেই বাংলার ভূমিকা ছিল দৃষ্টান্ত মূলক। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে হীরালালের নাম সর্বাগ্রে উচ্চারণ করতে হয়। তাঁদের হাত ধরে বাংলায় প্রথম বায়োস্কোপ আসে।


    এই হীরালাল সেনের জন্ম 1866 খ্রিঃ এ  মানিকগঞ্জের বগজুরি গ্রামে। তাঁর পিতার নাম চন্দ্রমোহন সেন, মাতা বিধুমুখী। পিতামহ গোকুলকৃষ্ণ মুনশি ছিলেন ঢাকার জজ আদালতের নামকরা আইনজীবী। পরে অবশ্য  তিনি কলকাতা হাইকোর্টে আইনজীবী হিসাবে যোগ দেন। পিতা মাতার আটটি সন্তানের মধ্যে হীরালাল ছিলেন দ্বিতীয় সন্তান । ‘মানিকগঞ্জ মাইনর স্কুলে’ তাঁর শিক্ষা জীবন শুরু হয় । তিনি  ইংরেজির সঙ্গে সঙ্গে  ফারসি  ভাষাও শিখেছিলেন। 1879 খ্রিঃ এ মাইনর পরীক্ষা পাস করে ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে  ভর্ত্তি হন। পরে পিতার সঙ্গে  হীরালাল কলকাতায় কলেজে ভর্ত্তি হন। আই.এস.সি.পড়ার সময়  চলচ্চিত্রের প্রতি ভীষণভাবে আকৃষ্ট হয়ে পড়লে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা  বন্ধ হয়ে  যায়। হীরালাল সেনের আদি বাড়ি  বাংলাদেশের মানিকগঞ্জ জেলায় বগজুরিতে (ঢাকা থেকে প্রায় আশি কি.মি. দূরে) হলেও  তাঁর শৈশব কেটেছিল কলকাতায়। প্যারিসের 'পাথে ফ্রেরেস স্টুডিও'র সদস্য অধ্যপক স্টিভেনসনের একটি নাতিদীর্ঘ ছবি কলকাতার স্টার থিয়েটারে দেখানো হয়’ দ্য ফ্লাওয়ার অফ পারসিয়া’ (পারস্যের ফুল)) নামে একটি অপেরার সঙ্গে। স্টিভেনসনের ক্যামেরা ধার করে নিয়ে হীরালাল বানান তাঁর প্রথম ছবি,’এ ডান্সিঙ সিন ফ্রম দ্য অপেরা,দ্য ফ্লাওয়ার অফ পারসিয়া’ ওই অপেরার একটি নাচের দৃশ্য নিয়েই। ভাই মতিলাল সেনের সাহায্যে লন্ডনের ‘ওয়ারউইক ট্রেডিং কম্পানী’র চার্লস আরবানের কাছ থেকে তিনি একটি 'আরবান বায়োস্কোপ' কিনে নেন। ঐ বছর (1898)তিনি ভাই মতিলালের সহযোগিতায়  ভারতের প্রথম চলচ্চিত্র নির্মাণ কোম্পানি তথা প্রযোজনা সংস্থা ‘রয়্যাল  বায়োস্কোপ কোম্পানি’ প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত এই কোম্পানির সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির উদ্যোগে একের পর এক চলচ্চিত্র ব্যবসার বিভিন্ন কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠান  গড়ে উঠতে শুরু করে। তখনকার বিভিন্ন খবরেরকাগজের নিত্যনৈমিত্তিক বিজ্ঞাপনানুযায়ী কলকাতায় তখন রয়েল বায়োস্কোপ কোম্পানির দেখাদেখি তেইশটি ঘোষিত কোম্পানি গড়ে উঠেছিল । বাইশ তেইশ বছরের এক যুবক হীরালাল সেন স্টিফেন সাহেবের সান্নিধ্য এসে নতুন দিগন্তের হাতছানি দেখতে পান। স্টিফেন সাহেবের কাছ থেকে সিনেমার নানা কৃৎকৌশল ও শিখেছিলেন। বহু কষ্টে অর্থ সংগ্রহ করে মার্কিন বয়োস্কোপ কম্পানির কাছ থেকে ক্যামেরা, প্রোজেক্টর, স্ক্রিন,ফিল্ম,ও চলচ্চিত্র নির্মানের যাবতীয় যন্ত্রাদি কিনে আনেন। হীরালাল সেনকে বিশেষ কৌশলে অক্সিজেন গ্যাসে রবারের ব্যাগে ময়দানে আলোক সহযোগে ছবির প্রদর্শন করেন। পরবর্তীতে এই ব্যাগের বদলে স্টিলের ট্রাঙ্ক ব্যবহার করেন।বিশ্বের তিনিই প্রথম আর্কল্যাম্প প্রোজেক্টর সাহায্যে গ্রামে গঞ্জে ছবি দেখানোর ব্যবস্থা করেন। 1900খ্রিঃ এর শুরুতে ক্ল্যাসিক থিয়েটারের নটরাজ অমরেন্দ্র নাথ দত্তের সঙ্গে আলাপ হয়। অমরেন্দ্র নাথের মঞ্চ সফল ‘আলিবাবা’নাটকটির কিছু অংশ তিনি ক্যামেরা বন্দি করে দেখান। এর পর বেশ কিছু নাট্যাংশ ক্যামেরা বন্দি করেন,যেমন-সরলা,সীতারাম,ভ্রমর প্রভৃতি। এই নাটক গুলির টুকরো টুকরো অংশ নিয়ে একটি পূর্ণ দৈর্ঘ্যের (দু ঘণ্টা) সিনেমা তৈরি করেন। 1903খ্রিঃ এ ‘আলিবাবা’ নাটকটির সমগ্র কাহিনী  চলচিত্রায়িত হয়। জানা যায় 1903 সালে নির্মিত আলিবাবা (মুক্তির তারিখ 23 জানুয়ারি1903) চলচ্চিত্রই সারা পৃথিবীর মধ্যে প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য কাহিনিভিত্তিক চলচ্চিত্র।কারণ চলচ্চিত্রকার এডউইন এস পোর্টার-নির্মিত’গ্রেট ট্রেন রোবারি’(মুক্তির তারিখ : 1 ডিসেম্বর1903) পৃথিবীর প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য কাহিনিভিত্তিক চলচ্চিত্র হিসেবে কথিত হলেও, তার দৈর্ঘ্য মাত্র বারো মিনিট দশ সেকেন্ড।অন্য দিকে তাঁর আগেই হীরালাল সেন দুই ঘণ্টা দৈর্ঘ্যের’আলিবাবা’ চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেন এবং সারা বাংলা ও ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে তা প্রদর্শন করেন। শুধু ভারতবর্ষেই নয়, বহির্বিশ্বেও জনপ্রিয়তা লাভ করে এই চলচ্চিত্রটি। এরপর তিনি বিজ্ঞাপনের  জন্য কয়েকটি ছবি বানিয়েছিলেন,  তার মধ্যে জবাকুসুম হেয়ার ওয়েল,এডওয়ার্ড টনিক,সালসা পিলা উল্লেখযোগ্য।এছাড়া টুকরো টুকরো করে  কলকাতার রাস্তার ছবি ও গ্রামের বাড়ির পুকুর ঘাটের লোকেদের স্নানের দৃশ্যের ছবি তুলেছিলেন । তিনি  দুটি তথ্যচিত্র করেছিলেন । প্রথমটি ‘দিল্লির দরবার’এবং  দ্বিতীয়টি ‘বঙ্গভঙ্গ ও স্বদেশি আন্দোলন’। এই সময় তিনি রবীন্দ্রনাথের রাখীবন্ধনের দৃশ্য ক্যামেরা বন্দি করেন। পরবর্তীতে বাংলার বিভিন্ন জায়গায় বায়োস্কোপ দেখাতে আরম্ভ করেন। 1913খ্রিঃ নাগাদ ভাইয়ের সঙ্গে বিবাদের জেরে রয়্যাল বায়োস্কোপ কম্পানি বন্ধ হয়ে যায় । তাঁর নির্মিত উপমহাদেশের প্রথম চলচ্চিত্রের নাম ‘দ্য ডান্সিঙ সিন ফ্রম দ্য অপেরা, দ্য ফ্লাওয়ার অফ পারসিয়া’(1898) তিনি উপমহাদেশের এবং সারা পৃথিবীর প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র –আলিবাবা  (1903) এবং প্রথম রাজনৈতিক চলচ্চিত্র গ্র্যান্ড পেট্রিয়ট ফিল্ম (1905)-এর নির্মাতা। হীরালাল সেন পৃথিবীর সেই প্রথম চলচ্চিত্রকার, যিনি চলচ্চিত্র নির্মাণের কারণে রাজরোষে নিপতিত হয়েছিলেন এবং যাঁর নির্মিত চলচ্চিত্র ‘দ্য ভিজিট ফিল্ম’(1912) বিশ্ব চলচ্চিত্র ইতিহাসে প্রথম রাজনৈতিক কারণে নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়েছিল।। 1913খ্রিঃ এর পর তিনি নিদারুণ অর্থ কষ্টে ভুগতে থাকেন এবং ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হন, দ্য ভিজিট ফিল্ম বিক্রি করতে বাধ্য হন । হীরালাল সেনের হতাশা আর  অর্থ  কষ্টের সুযোগ নিয়ে তাঁর কাছ থেকে ছবিটি কিনে নেন চতুর অবাঙালি ব্যবসায়ী জেএফ ম্যাডান। পরদিন 8 জানুয়ারি 1912 তারিখে লাটভবনে শুধু রাজকীয় অতিথিদের সামনে(সাধারণের জন্য নিষিদ্ধ ছিল) এই ছবিপ্রদর্শন করে এবং ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থেকেই ম্যাডান, বিদেশি রাজ- দম্পতির(পঞ্চম জর্জ ও তাঁর স্ত্রী,যাদের ভারত আগমনের ছবি তুলেছিলেন হীরালাল ) কাছ থেকে মনোরম ছবি প্রদর্শনের জন্য প্রশংসা অর্জনের সুবর্ণ সুযোগ লাভ করেন। এই যন্ত্রণা সহ্য করা হীরালালের কাছে ক্যান্সারের যন্ত্রণা সহ্যের থেকেও কঠিন ছিল।  এত ইতিহাস তৈরি করেও শেষ রক্ষা হয়নি । তাঁর কোনও সৃষ্টিকর্ম রক্ষা করা সম্ভব হয় নি। 1917খ্রিঃএ হীরালাল সেনের পূর্ন দৈর্ঘ্যের ছবি সহ সমস্ত ছবি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তাঁর সিনেমার প্রমাণ হিসাবে খবরের কাগজের বিজ্ঞাপন, হ্যান্ডবিল, আর পোস্টার ছাড়া আর কিছু পাওয়া যায় না । ঐ সমস্ত চলচ্চিত্রের প্রমাণাদি থাকলে আজ বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে বাংলা সিনেমার স্হান হত সর্বোচ্চে। জীবনের সকল কষ্টকে নিবারণ করে  তাঁর সমস্ত সৃষ্টি কর্ম পুড়ে যাবার দুদিন পর 29 শে অক্টোবর 1917খ্রিঃ এ  মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন হীরালাল সেন । তিনি ভারতীয় চলচ্চিত্রের পথ প্রদর্শক হয়েও সেই স্বীকৃতি থেকে  বঞ্চিত হয়েছেন । তাঁর জন্মস্থান বাংলাদেশের বগজুরির জন্মভিটের পাশে তাঁর নামে একটি সড়কের নামকরণ  করা হয়েছে,স্বীকৃতি এটুকুই।

  • ২৯ অক্টোবর ২০২০ | ৯৫ বার পঠিত | ৫/৫ (২ জন)
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন গ্রাহক পুনঃপ্রচার
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যুদ্ধ চেয়ে মতামত দিন