• খেরোর খাতা

  • ম্যাটিল্ডা

    Sujata Ganguly লেখকের গ্রাহক হোন
    ১৮ অক্টোবর ২০২০ | ৬৮ বার পঠিত
  • ৪/৫ (১ জন)
  • জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
  • মেজাজ খারাপ ? ওয়ার্ক ফ্রম হোম করে করে পিঠে ব্যথা ? প্রথম প্রথম ভালোই লাগতো , কিন্তু এখন মনে হচ্ছে অফিসই ভালো ছিল ? যে বরের সান্নিধ্যের জন্য হেদিয়ে যেতেন, মনে হচ্ছে তাকে অফিস পাঠিয়ে দিই ? ছেলেমেয়ে  অন্য শহর থেকে চলে এসেছে ?  তাদের আবার আলাদা হ্যাপা। তাদের ঘুমনোর  টাইমিং আলাদা, খাবার ধরণ আলাদা। এখন মনে হচ্ছে যে যার জায়গায় ফিরে গেলেই ভালো। হচ্ছে না এমন বোধ ? স্বীকার করুন বা না করুন একটু তো এই সব পাপ চিন্তা আসছেই মনে।

    তার ওপর  সামনেই পুজো। কিন্তু বাইরে যাওয়া বারণ। হতে পারে সেই তিনদিনই হেঁসেল ঠেলতে হবে। ভাবতেই মেজাজ তুঙ্গে। ভাবলেন এগারোটা নাগাদ কাজকর্ম সেরে আনন্দমেলা নিয়ে বসবেন, একটু কিশোরী বেলার স্বাদ ফিরে পাওয়া যাবে। শীর্ষেন্দুর উপন্যাসগুলো আনন্দমেলার প্রধান আকর্ষণ ছিল এক সময়।  কিন্তু তাও তেমন পছন্দ হচ্ছে না!  আমি উপায় বাৎলে দিতে পারি। 

    দেখে ফেলুন ম্যাটিল্ডা। হ্যাঁ, নেটফ্লিক্সেই। মেজাজ শরীফ হয়ে যাবে, গ্র‍্যান্টি! 

    রোয়াল্ড ডালের ম্যাটিল্ডা নামের উপন্যাসটি ১৯৯৬ সালে চলচিত্রায়ণ হয়। পরিচালক, ড্যানি ডি ভিটো। অসাধারণ সিনেমাটি। 

    শিশুদের জগৎটা সব সময় সুন্দর নয়। কখনো সখনো খোদ বাবামাই  শিশুর প্রতিপক্ষ হয়ে যান। কখনো বা স্কুল টিচার। কখনো কোনো পিসি বা জেঠি। এই গল্পও ঠিক এই রকম। ছোট্ট ম্যাটিল্ডার বাবা মা ম্যাটিল্ডাকে একদম পছন্দ করেন না। জন্ম থেকেই অনাদরে অবহেলায় প্রায় নিজে নিজেই বড় হতে থাকে সে। বাবা পুরনো গাড়ির ব্যবসা করেন, লোক ঠকান। মা জুয়া খেলেন, উৎকট সাজগোজ করেন, শিশু ম্যাটিল্ডাকে একা ছেড়ে বেরিয়ে যান । বাবামা দুজনেই পড়াশুনোর ধার ধারেন না। ম্যাটিল্ডার কিন্তু খুব পড়ার ইচ্ছে। একটু বড় হলে সে একা একাই পাবলিক লাইব্রেরী গিয়ে বই পড়া শুরু করে। কিন্তু তাতে তার বাবা মার খুব আপত্তি। একদিন সন্ধ্যে বেলায় সবাই টিভিতে মারপিট দেখছে, আর ম্যাটিল্ডা এক কোনায় বসে মবি ডিক পড়ছে। ম্যাটিল্ডার বাবা খুব রেগে বইটা হাত থেকে কেড়ে ছিঁড়ে ফেলেন। তাকে বাধ্য করেন টিভি দেখতে। ম্যাটিল্ডা খুব রেগে যায়। অবাক হয়ে আবিষ্কার করে, রেগে কিছুক্ষণ টিভির দিকে তাকানোর ফলে টিভি বার্স্ট করে যায়। ধীরে ধীরে ম্যাটিল্ডা নিজের এই অদ্ভুত  অতিপ্রাকৃত ক্ষমতা বুঝতে পারে। 

    এদিকে ম্যাটিল্ডার বাবা তাকে দারুণ কড়া একটি স্কুলে ভর্তি করে দেন। ভাবখানা,  পড়তে চাস, দ্যাখ তবে !  স্কুলের প্রিন্সিপাল মহিলাটি বড্ড কড়া। তিনি আবার জ্যাভেলিন থ্রোয়ার। বাচ্চাদের দুটি চক্ষে দেখতে পারেন না। বাচ্চারা ওনাকে যমের মতন ভয় খায়। ম্যাটিল্ডা রকম সকম দেখে ভীত হয়ে পড়ে। কিন্তু তার ক্লাস টিচার মিস হানি ভারী স্নেহময়ী।  ম্যাটিল্ডার শিক্ষার প্রতি আগ্রহ ও তার খুব তাড়াতাড়ি শিখে নেওয়ার ক্ষমতা তাকে আকৃষ্ট করে। মিস হানির কাছেই  ম্যাটিল্ডা প্রথম স্নেহের স্বাদ পায় । 

    স্কুলের দোর্দণ্ড প্রতাপ প্রিন্সিপাল, ঠোঁটের ওপর হালকা গোঁফের রেখা, সারাক্ষণ ভাবছেন কোন বাচ্চাকে কী শাস্তি দেবেন। তাঁর ভয়ে গোটা স্কুল থরহরিকম্প। একদিন যখন  ম্যাটিল্ডাদের ক্লাসে এসে বেজায় বকাবকি করছেন, তখন ম্যাটিল্ডা ওনার জলের গেলাস দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে থেকে সেটা উল্টে দেয়। সকলে অবাক হয়ে যায় কিন্তু কেউ বুঝতে পারে না কী ভাবে জাগটা উল্টে গেল। ম্যাটিল্ডা নিজের এই বিশেষ ক্ষমতা মিস হানিকে জানায়। 

    মিস হানি আর ম্যাটিল্ডার মধ্যে এক সুন্দর সখ্য গড়ে ওঠে। মিস হানি ম্যাটিল্ডা কে জানান, যে ওই প্রিন্সিপাল, মিস ট্রাঞ্চবুল সম্পর্কে মিস হানির পিসি হন। মিস হানির মা খুব ছোটবেলায় মারা গিয়েছিলেন বলে মিস হানির বাবা ছোট্ট হানি যে দেখাশুনার জন্য মিস ট্রাঞ্চবুলকে নিয়ে আসেন। কিন্তু মিস ট্রাঞ্চবুল হানির বাবার মৃত্যুর কারণ হন, আর মিস হানিকেও বাড়ি থেকে উৎখাত করেন। মিস হানির মনে খুব কষ্ট।   ওই সাংঘাতিক মহিলা মিস হানির বাবার ছবি আর একটি প্রিয় পুতুল, সেই দুটো জিনিস ও আনতে দেন নি।

    ম্যাটিল্ডা মিস হানিকে ভালোবেসে ফেলেছে। সে নিজের অতিপ্রাকৃত ক্ষমতা প্রয়োগ করে ওই পুতুল আর মিস হানির বাবার ছবি উদ্ধার করে। কিন্তু মিস ট্রাঞ্চবুল বুঝতে পেরে যান, কাণ্ডটা ম্যাটিল্ডা ঘটিয়েছে।  কিন্তু প্রমাণ নেই। পরদিন স্কুলে এসে বেজায় হম্বিতম্বি করতে থাকেন। বাচ্চাদের ওপর রীতিমত অত্যাচার শুরু করেন। একটি মোটাসোটা ছেলেকে মাথার ওপর দুইহাতে তুলে  বনবন করে ঘোরাতে ঘোরাতে যেই না জানালার বাইরে ছুঁড়ে দিয়েছেন অমনি ম্যাটিল্ডা এইসা তাকিয়েছে যে ছেলেটা আকাশ থেকে বুমেরাং এর মত এ্যাবাউট টার্ন হয়ে সোঁ করে এসে সোওজা মিস ট্রাঞ্চবুলের ঘাড়ে পড়ে যায়।  ম্যাটিল্ডা আরো সব অসৈরণ কাণ্ড ঘটাতে থাকে। 

    এই সব কাণ্ড দেখে সব ক্লাস থেকে বাচ্চারা  হই হই করে বেরিয়ে পড়ে। বদ প্রিন্সিপাল পালাবার পথ খুঁজে পান না। তাকে আর কেউ কোনো দিন ওই চত্বরে দেখে নি। সব্বাই স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল। আরও খুশি হলো সবাই যখন মিস হানি স্কুলের প্রিন্সিপাল হয়ে গেলেন। 

    উঁহু, গল্প এখানেই শেষ নয়।ম্যাটিল্ডার বাবা মা অন্য শহরে চলে যাচ্ছেন। ম্যাটিল্ডা তো কিছুতেই তাদের সঙ্গে যাবে না। সে মিস হানি কে অনুরোধ করে তাকে এডপ্ট করতে। তার বাবা মা এই প্রথম তার জন্যে একটা ভালো কাজ করেন। দত্তক নেওয়ার প্রস্তাবে সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে যান। ব্যস। আরকি ! ম্যাটিল্ডা আর মিস হানি সেই বিশাল বাড়িতে সুখে শান্তিতে বাস করতে লাগলো।

    দেখবেন  সিনেমাটা ? না দেখতে ইচ্ছে হলে উপন্যাসটা নামিয়ে পড়ে ফেলুন !  আরো ভালো লাগবে। সেই সঙ্গে রোয়াল্ড ডালের  চার্লি ইন দ্য চকোলেট ফ্যাক্টরি ও পড়ে নিন। সেই সেভেন এইট নাইন ক্লাসে পড়ার ফিলিং ফিরে পাবেন !

  • ১৮ অক্টোবর ২০২০ | ৬৮ বার পঠিত
  • ৪/৫ (১ জন)
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যুদ্ধ চেয়ে মতামত দিন