• বুলবুলভাজা  আলোচনা  সমাজ

  • কোভিডের দিনগুলিতে গ্রামীন ব্যাংক

    কুণাল মজুমদার
    আলোচনা | সমাজ | ০৪ আগস্ট ২০২০ | ১২৩২ বার পঠিত
  • জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
  • কেমন আছে ব্যাংক-কর্মীরা? সত্যি কথা বলতে কি, ব্যাংকে চাকুরিতে ঢোকার আগে সরকারি ব্যাংক-কর্মচারীদের অলসতা, অকর্মণ্যতা—সেইসব অনেক কিছু নিয়ে অভাব-অভিযোগ শুনে এসেছিলাম। কিছু কিছু যার নিশ্চয়ই সত্যি—কিন্তু এর বাইরেও যে কর্মীদের নিরলস কাজের মাধ্যমে এই ভারতের মতো কৃষিভিত্তিক এবং গ্রামীণ অর্থনীতি এখনও পুরোপুরি পঙ্গু হয়ে যায়নি—তাঁরা কেমন আছেন এই সংকটময় কোভিড পরিস্থিতিতে?

    গ্রাহক পরিসেবা চাইবে, সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু একটু ভাবলেই বুঝতে পারবেন অনেক সময় গ্রাহক যে বিশেষ পরিসেবা চাইছেন বা যে সময়ের মধ্যে চাইছেন তা বাস্তবায়িত করতে চাই ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সম্মতি এবং সাহায্য। তা সেইসব ব্যাপারে কতটা মনোযোগী কর্তৃপক্ষ? ব্যাংকিং যখন ‘জরুরি পরিসেবা’ বলে ঘোষিত তখন আমাদের অবাক লাগে না—কারণ সেটাই স্বভাবিক মনে হয়, আর স্বভাবতই ব্যাংক-কর্মীরাও নিজেদের সেই ‘নতুন স্বাভাবিক’-এর সঙ্গে মানিয়ে নিতে প্রস্তুত হয়। তবে শুধু ‘জরুরি পরিসেবা’ দেগে দিলেই তো আর সমস্যার সমাধান হবে না! সঠিক ভাবে পরিসেবা কার্যায়িত করতে হলে, বিশেষ করে প্রত্যন্ত গ্রামীণ ব্যাংকগুলিতে—শুধু আবেগ দিয়ে হবে না—চাই সঠিক স্ট্যাটিজি, চাই জরুরি অবস্থায় কাজ করবার জন্য সাপোর্ট ফাংশন। এর কতটা দিতে পেরেছে সরকার বা ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ? আসুন একটু দেখার চেষ্টা করি।

    এই মহামারির পরিস্থিতিতে মানুষের জীবন নিয়ে যে রাজনৈতিক খেলা করছেন সরকার এবং জনপ্রতিনিধিরা, তাতে একটা কথা পরিষ্কার যে সাধারণ মানুষদের নিয়ে চিন্তাভাবনা তো দূরঅস্ত্‌, তাদের সুরক্ষা, স্বাস্থ্য পরিকাঠামো নিয়ে ওনাদের বিশেষ কোনো ভাবনার বোধহয় আর প্রয়োজন নেই। কারণ বিভিন্ন চিকিৎসাবিদদের বিভ্রান্তিমূলক চিন্তাধারা এবং অপদার্থ সরকারের ভুল তথ্য বা তথ্য লুকোনো আজ গোটা সমাজ বা মানবজাতিকে এক কঠিন সময়ের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। নীতিনিয়মের প্রণেতারাই আজ মানবজাতির সবথেকে বড়ো শত্রু হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংবাদমাধ্যম, সংবাদপত্র হয়তো কিছু কঠিন সত্যের মানচিত্র আমাদের হাতে তুলে দিতে পেরেছে।

    সত্যিই তো সুস্থতার হার যেমন বেড়েছে, বেড়েছে সংক্রমণও, বেড়েছে মৃত্যুহার। যদি সরকার বাহাদুরকে জিজ্ঞেস করা হয় আপনি কী করলেন? হয়তো উত্তরে অনেক কিছু থাকবে। ২০ লক্ষ কোটি টাকার আর্থিক প্যাকেজ, আত্মনির্ভর ভারত আর মহামারির পরিস্থিতিতে সচল অর্থনীতি।

    খুব ভালো কথা—গোটা দেশ তাকিয়ে ছিল সেদিন আপনার অভয়বার্তার দিকে আর আর্থিক সহায়তার দিকে। অবশ্যই আপনি ভেবেছেন দেশের কথা, না হলে এই মহামারির পরিস্থিতিতে ব্যাংক সংযুক্তিকরণ, আর ভুরি ভুরি সরকারি সংস্থার বেসরকারিকরণের যে বার্তা আপনি দিয়েছেন তা কিছুমাত্রায় সফলও করেছেন। তামাম বিশ্বের বড়ো বড়ো অর্থনীতিবিদরা যখন বললেন সাধারণ মানুষের হাতে আরও বেশি পরিমাণ টাকা তুলে দিতে তখন আপনার চিন্তাধারায় ধরা পড়ল ব্যাংক। আপনি ব্যাংককে করে দিলেন জরুরি পরিসেবা! সেটা ঠিক আছে। কিন্তু ব্যাংককর্মীরা যাতে ঠিক ভাবে কাজ করতে পারে তার জন্য কি কিছু করেছেন? বা উদারহণও কি আছে যে অন্তত ভাবা হয়েছে? শুধু তাই নয়, ব্যাংককর্মীরা প্রায় জীবনের ঝুঁকিকে উপেক্ষা করে কাজে নিয়োজিত হলেন আর সরকার সেই সুযোগে ব্যাংক সংযুক্তিকরণের মতো একটা কাজ যেটা কিছুদিন বাদেও হতে পারত, সেটা সেরে ফেললেন। চাপ সৃষ্টি হল ব্যাংক-কর্মচারীদের উপর। এরপরে সরকারের Covid Relief Fund ঘোষণা—যার পুরো দায়ভারটাই চাপল ব্যাংক-কর্মীদের উপর।

    আর টাকা? সবটাই চাপিয়ে দিলেন নিরীহ ব্যাংক-কর্মচারীর উপরে। লোন, লোন আর লোন—যার বেশির ভাগ অংশটাই হয়তো জন্ম দেবে আবার কোনো বিজয় মাল্য বা মেহুল চোকসির মতো willful defaulter-দের, যাদের কোটি কোটি টাকা মকুব হয়ে যাবে। আর সেই সব অনাদায়ী ঋণের দায়ভার চাপবে সেই নিরীহ ব্যাংক-কর্মচারীদের উপর যারা কর্তৃপক্ষের রক্তচক্ষুর সামনাসামনি চাপে পড়ে সেই লোন দিতে বাধ্য হয়েছিল। আর এর সূত্র ধরে ব্যাংক-কর্মচারীদের বেতনবৃদ্ধির জন্য অপেক্ষা করতে হবে প্রায় হাজার দিন!

    এটা আমাদের সবারই জানা যে গ্রামীণ ব্যাংকগুলি স্থাপনের মূল লক্ষ্যই ছিল গ্রামীণ অর্থনীতি-র সঙ্গে জড়িয়ে কাজ করার জন্য এবং সেই গ্রামীণ অর্থনীতিকে বিকাশ ঘটাতে সাহায্য করা। আর তাই স্বাভাবিক ভাবে ‘কম খরচে ব্যাংকিং’ হয়ে উঠেছিল গ্রামীণ ব্যাংকের মূলমন্ত্র আর তার সঙ্গে জুড়ে ছিল কিছু ‘প্রায়োরিটি সেক্টর ব্যাংকিং’ প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে। গ্রামের দিকে প্রায়োরিটি সেক্টর বলতে প্রধানত কৃষিকেই প্রাধান্য দেওয়া হয় অনেক জায়গায় আর তাই চাষ-আবাদের জন্য লোন দেওয়া এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে দেওয়া লোনের উপর ভিত্তি করেই অনেক গ্রামীণ ব্যাংক বিকশিত হয়েছে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে।

    এবার যদি এই প্রশ্ন ওঠে যে সব গ্রামীণ ব্যাংকগুলোই কি পরিপূর্ণ রূপে উন্নতি করেছে বা বিকশিত হয়েছে? অন্তত যতটা উন্নতি তাদের করার সম্ভাবনা ছিল? এর উত্তর খুবই সোজা—অবশ্যই না! আর নানাবিধ কারণের সঙ্গে আমার মতে এই উন্নতির পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে উঠেছে গ্রামীণ ব্যাংকগুলির স্পনসর ব্যাংক কীভাবে তাদের পরিচালিত করছে।

    যে-কোনো ব্যাংক অবশ্যই চাইবে লাভের মুখ দেখতে এবং বলাই বাহুল্য দিনের শেষে লাভ দেখাতে না পারলে টিকে থাকার চাপ এবং বোঝ দুই বাড়তে থাকবে। কিন্তু তার পরেও কিছু কথা থেকে যায়—আপনি লাভের জন্য কর্মীদের কতটা চাপ দেবেন এবং প্রায় জোর জবরদস্তি করে নানাবিধ ভয় (প্রমোশন, শোকজ ইত্যাদি) দেখিয়ে তাদের কাজ করাতে বাধ্য করবেন? আর উপেক্ষিত হয়ে চলবে দিনের পর দিন কর্মীদের ন্যায্য দাবিদাওয়া! এখানে কিন্তু মনে রাখবেন যে গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মীরা আলাদা কিছু বিশেষ ব্যবস্থা চাইছে না কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে। তাদের সামনে আছে অন্য ব্যাংকের উদাহরণ—একই সেক্টরে অন্য ব্যাংক-কর্মীদের যে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মীরা তা পাচ্ছে না! এমনকি কর্মী এবং গ্রামীণ ব্যাংকের মধ্যে ‘বাইপারটিট সেটেলমেন্টে’ যে সুযোগসুবিধা পাবার কথা আছে তা থেকেও বঞ্চিত করা হচ্ছে লাভের নামে! তা বলে কাজের চাপ কিন্তু কমেনি—দিনের পর দিন অনিয়মিত এবং অপর্যাপ্ত কর্মী নিয়োগের ফলে গ্রামীণ ব্যাংকের বর্তমান কর্মীদের উপরে চাপ বেড়েই চলেছে। সব কিছু দেখেও কর্তৃপক্ষ উদাসীন—কর্মীদের ন্যায্য দাবি উপেক্ষিত দীর্ঘদিন।

    আমাদের ব্যাংক-কর্মী সকলেরই এইটুকু সাধারণ বুদ্ধি আছে বলে মনে করি যাতে করে আমরা কোন্‌টা ‘মানবিক’ এবং ‘স্বাভাবিক’ তার সঙ্গে প্রায় অনৈতিক চাপ তার পার্থক্য করতে পারব। আমরা এটাও বুঝি যে সব কিছু কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে থাকে না—তাই এই লেখায় সেই সব বিষয়ই কেবল উল্লেখ করব যে বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে কর্তৃপক্ষ চাইলেই সমাধান করতে পারতেন। গ্রামীণ ব্যাংকের উন্নতির এক প্রধান অভ্যন্তরীণ অন্তরায় হল সঠিক টেকনোলজি এবং কম্পিউটিং ব্যবস্থা ঠিকমতো না করা। অন্য সব ব্যাংকে যে কাজ কম্পিউটার দিয়ে সারা হয় বহু বছর ধরে, সেই সাধারণ বেসিক টেকনোলজিও প্রদান করা হয়নি বহু ব্যাংকে। এবং তাই স্বাভাবিক ভাবেই কর্মীদের কাজ বেড়ে গেছে ম্যানুয়ালি সব কিছু সম্পন্ন করতে করতে। গ্রামীণ ব্যাংকের সিস্টেম কম্পিউটারাইজড হয়েছে মাত্র কিছু দিন আগে অন্য ব্যাংকের তুলনায়। আর সেন্ট্রালাইজড ব্যাঙ্কিং—সে তো আরও বয়সে নবীন গ্রামীণ ব্যাংকে। আর যেটা আজকের এই ডিজিটাল অগ্রগতির দিনে ভাবা যায় না, তা হল অনেক গ্রামীণ ব্যাংক এখনও তাদের গ্রাহকদের জন্য মোবাইল ব্যাংকিং বা ইন্টারনেট ব্যাংকিং চালু করে উঠতে পারেনি! পরিসেবার ব্যবস্থা করব না, কর্মীদের কাজ করার বেসিক জিনিসপত্র প্রদান করব না, কিন্তু বছরের শেষে আমার ভাঁড়ার যেন লাভে ভরে ওঠে অন্য কর্মাশিয়াল ব্যাংকের মতো—এত হল আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আকাঙ্ক্ষা এবং তাদের কর্মীদের উপরে চাপিয়ে দেওয়া চাহিদা! এটা কি বাস্তবে অর্জন করা সম্ভব? ছ্যাঁচড়ার মশালা দিয়ে বিরিয়ানি রাঁধা যায় না—এই সাধারণ সত্যটা এনারা বুঝতে পারেন না, এটা মেনে নিতে কষ্ট হয়।

    বেশির ভাগ গ্রামীণ ব্যাংকে এয়ার কন্ডিশনার তো দূরের কথা ঠিক মতো ফ্যানের ব্যবস্থাই নেই! কর্মীরা বদ্ধ ঘরে সারাদিন কাজ করে যাচ্ছে এই ৩৬ ডিগ্রি গরমে! বেশির ভাগ ব্রাঞ্চেই মেয়েদের জন্য কোনো টয়লেটের ব্যবস্থা নেই—নেটওয়ার্ক আর মেশিনপত্র মেন্টেনেনস্‌-এর কথা আর নাই বা বললাম! খারাপ ভাবে মেনটেন করার জন্য কখন মেশিনপত্র খারাপ হয়ে যাবে কিছুই বোঝা যায় না—এমনও খুব কমন যে মেশিন খারাপ হয়ে গিয়ে ১৫ থেকে ৩০ দিন পর্যন্ত ব্যাংক বসে গেছে পুরো! গ্রামীণ অবস্থায় কী প্রভাব ফেলতে পারে বুঝতেই পারছেন যেখানেই অনেকের আর অন্য ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট নেই! কর্মীদের যে হেনস্থা বা লাঞ্ছনার স্বীকার হতে হয় এমন পরিস্থিতিতে, তার ভিতরে আর নাই বা ঢুকলাম! ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেও, বেশির ভাগ সময় তা এত ধীর গতির যে কাজকর্মে খুব অসুবিধা হয় এবং গ্রাহকদের হাতে কর্মীদের অযথা হেনস্থা! ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট কিন্তু এই অপ্রসন্ন গ্রাহকদের কোনো দায় নিয়ে চায় না! পুরোটাই সেই প্রায় অসহায় ব্যাংক-কর্মীর উপরে চাপিয়ে দেয় এই বলে যে তোমরা ঠিকঠাক ম্যানেজ করতে পারছ না!

    উপরে উল্লিখিত সমস্যাগুলি হঠাৎ করে গজিয়ে ওঠেনি। কিন্তু বাকি আরও অনেক কিছুর মতো, এই কোভিড বিপর্যয় এসে গ্রামীণ ব্যাংকের ফোঁপরা অবস্থা নগ্ন করে তুলে ধরল যেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অপদার্থতা, নিজের কর্মীদের প্রতি উদাসীনতা, কিন্তু উপরতলার অফিসারের শুধু নিজের স্বার্থ, প্রমোশন ইত্যাদি দেখা গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মীদের এক অসহায় অবস্থার দিকে ঠেকে দিয়েছে। সাধারণত যে-কোনো চাকুরির নিয়মই হচ্ছে কর্মী কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে সে তার নিজের ম্যানেজারকে গিয়ে জানায় প্রথমে—কিন্তু যদি এই ঊর্ধ্বতন অফিসারদের সবাই প্রবল স্বার্থপর এবং উদাসীন হয়, তাহলে কী হবে?

    কোভিডের সময়ে ব্যাংকিং সার্ভিসকে জরুরি পরিসেবার অধীনে রাখা হয়েছে—সেই বিষয়ে কোনো ব্যাংক-কর্মীর কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু এক ব্যাংক-কর্মী কীভাবে যাবে ব্যাংকে? অন্য সব বেশির ভাগ ব্যাংকই যখন চেষ্টা করেছে এবং সাহায্য বা ব্যবস্থা করেছে তার কর্মীদের ব্যাংকে পৌঁছতে, তখন গ্রামীণ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ পুরো উদাসীন! তুমি কীভাবে পৌঁছাবে সেটা তোমার নিজের ব্যাপার—আর না পৌঁছাতে পারলে শোকজ! কোনো কোনো ব্যাংক প্রতি ছয় দিন যাতাযাতের জন্য কর্মীর একদিনের বেতন রিমবার্স করেছে। কোনো কোনো ব্যাংক ছুটির ব্যাবস্থাতেও সায় দিয়েছে, কিন্তু অনেক অনেক চাপানউতোরের পর গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মীরা আশ্বাস পেল প্রতি ১২ দিনে একদিন রিমবার্স! এটা কী? এটা কি কর্মীদের প্রতি দয়া দেখানো নাকি! আর এটা ভাবতে পারেন যে এই কোভিড মুহূর্তে কোনো কোনো গ্রামীণ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ব্রাঞ্চের জন্য বেসিক স্যানেটাইজের জিনিসপত্র কেনার খরচ দিতে প্রস্তুত নয়!

    অবশ্যই আমরা কাজ করতে চাই—আমরা চাই আমাদের সংস্থার উন্নতি হোক। কারণ এটা বোঝার মতো আমাদের ক্ষমতা আছে যে সংস্থার উন্নতি হলে হয়তো আমাদের নিজেদেরও উন্নতি হবে—মিথোজীবিতা একধরনের। কিন্তু যদি দেখেন যে কোনো কঠিন সমস্যার সময়েই ম্যানেজমেন্ট আপনার পাশে নেই, তাহলে আপনার কেমন মনে হবে? কর্তৃপক্ষ সবসময়েই মিষ্টি ফল খাবার জন্য তৈরি-কিন্তু জমিতে কী দিলে বা জমি কীভাবে তৈরি করলে সেই ফল লাভ হতে পারে সেই নিয়ে ওনাদের মাথা ব্যাথা নেই! কোনো সুরক্ষার আশ্বাস নেই ম্যানেজমেন্টের কাছ থেকে। সহানুভূতি তো দূরের কথা, এই মুহূর্তে উপরতলার কিছু অফিসার বরং উলটে ভীতিকে আশ্রয় করেছেন নিজেদের স্বার্থ মিটিয়ে নিতে। জরুরি সময়ে কেবল জরুরি পরিসেবা দিতেই তৈরি বেশির ভাগ সংস্থা—আর সেখানে এই কর্তরা কেবলমাত্র নিজেদের কেরিয়ারের কথা ভেবে একপ্রকার বাধ্য করছেন কর্মীদের দিয়ে এমন কাজ করিয়ে নিতে যা আরও কিছু দিন পরে করলেও ক্ষতি হত না।

    যেমন লোন রিকভারি—বহু বছরের অনাদায়ী লোন আছে। কিন্তু এক্ষুনি কী দরকার আছে ফিল্ডে গিয়ে লোন রিকভারির চেষ্টার? চারিদিকে যেখানে রোজ রোজ কোভিড পজিটিভের সংখ্যা বাড়ছে, সরকার থেকে নির্দেশ আসছে যতটা পারেন ঘরে থাকতে, সেখানে একজন গ্রামীণ ব্যাংক-কর্মী তার কর্তৃপক্ষ প্রদত্ত কিছু মাত্র সুরক্ষা ছাড়া গ্রামে গ্রামে ঘুরতে বাধ্য হচ্ছে লোন রিকভারির জন্য! হ্যাঁ, নির্দেশিকা জারি হল সামাজিক দূরত্বের, কিন্তু কাজ যা যা চাপল তা সামাজিক দূরত্ব মেনে করা সম্ভব নয়। আর এই লোন রিকভারি করা কিন্তু উপরতলার অফিসারের অনুরোধ নয়, বরং জোরালো আদেশ। সঙ্গে দিয়ে দেওয়া হচ্ছে অবাস্তব সব টার্গেট—সেই টার্গেট না মেলাতে পারলে ‘শো-কজ’-এর ভয় দেখানো।

    আর শুধু ভয় দেখানোই বা বলি কেন, এই মুহূর্তে কিছু ঊর্ধ্বতন অফিসারের ব্যবহার বর্বরোচিত। খোলামেলা হুঙ্কার দেওয়া হচ্ছে ‘দেখে নেব’ যদি আমার কেরিয়ারের কোনো ক্ষতি হয়! বাধ্য করা হচ্ছে কর্মীদের কোভিড সময়ে এমন সব কাজ করাতে যাতে করে সেই কর্মীর বাইরের এক্সপোজার অনেক বেড়ে যাচ্ছে—বেড়ে যাচ্ছে জীবনের ঝুঁকি। তিনি নিজে ঠান্ডাঘরে বসে রিকভারি করবার, ব্যাংকের লাভ বাড়াবার নির্দেশ দিয়ে যাচ্ছেন!

    আপনারা বলতে পারেন গ্রামীণ ব্যাংক-কর্মীদের কি কোনো সংগঠন নেই যারা এই সমস্যাগুলি নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারে? আছে—বেশ কয়েকটি সংগঠন আছে। কিন্তু এখনকার পরিস্থিতি শুধু কর্তৃপক্ষের নগ্ন রূপই নয়, ব্যাংক-কর্মীদের সংগঠনগুলির অন্তঃসারশূন্যতা চোখে আঙুল গিয়ে দেখিয়ে দিল। এটা বোঝা গেল এইসব সংগঠনের মাথাগুলি সংগঠন করতে নেমেছেন শুধুই ব্যক্তিস্বার্থ মেটাতে। সমষ্টিগত স্বার্থ মেটাতে তাঁদের উৎসাহ এবং মেরুদণ্ড কোনোটাই নেই!
  • বিভাগ : আলোচনা | ০৪ আগস্ট ২০২০ | ১২৩২ বার পঠিত
  • জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত