• বুলবুলভাজা  কূটকচালি  শিক্ষা

  • ভর্তুকির শিক্ষা বনাম অসাম্যের পাঠ

    বিহংগ
    কূটকচালি | ৩০ জুলাই ২০২০ | ৭৮০ বার পঠিত
  • জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
  • ‘আজকেও রেকর্ড সংক্রমণ!’
    ‘১০ দিন ধরে হেঁটে চলেছেন পরিযায়ীরা!’
    ‘আম্ফানে বিধ্বস্ত দক্ষিনবঙ্গ!’
    ‘বেড়েই চলেছে মৃত্যুমিছিল!’

    হেডলাইনের দখল নেওয়া এইসব খবরের মাঝে টুকরো জায়গা নিয়ে জ্বলজ্বল করছে ‘অনলাইন ক্লাস না করতে পেরে আত্মঘাতী স্কুলপড়ুয়া’। হতাশার রোজনামচা এখন ভারতবর্ষের ‘নিউ নর্মাল’। সেই যন্ত্রনার খতিয়ানে শিক্ষা মোটেও প্রায়রিটি লিস্টের প্রথম সারিতে আসছেনা। অথচ অতিমারীর নিদারুণ প্রকোপ আরও অনেক অসাম্যের মত শিক্ষাব্যবস্থায় গ্রহীতার বিভাজনকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে চলেছে। দীর্ঘ লকডাউন পিরিয়ড কাটিয়ে আনলকের নতুন ফেজেও স্বাভাবিক ভাবেই স্কুল কলেজ খোলার কথা ভাবতে সাহস করছেন না কেন্দ্র বা রাজ্য সরকার। কিন্তু খাতায় কলমে শিশুশিক্ষা বাধ্যতামূলক। শিক্ষাব্যবস্থার দায়ভার এখনও সরকারের হাতে। তবে কিনা প্রাইভেটাইজেশন ঘটেছে। পরিষেবা ক্রয়ের ক্ষমতা অনুযায়ী গজিয়ে উঠেছে বেসরকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। অংশত সরকারী বিদ্যালয় এবং প্রধানতঃ বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোতে রমরমিয়ে শুরু হয়েছে অনলাইন ক্লাসের পরিষেবা। আর এখানেই বেধেছে গোলযোগ। সরকারী বিদ্যালয়গুলির ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার প্রথমেই ক্ষমতা অনুযায়ী অনলাইন ক্লাসের পরিষেবা দেওয়ার কথা ঘোষণা করে। বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোতেও শুরু হয় অনলাইন ক্লাস। কার্যক্ষেত্রে বিষম গোলযোগ। কেননা ডিজিটাল ইন্ডিয়া খচিত ভারতে এখনও প্রতি শিক্ষার্থীর ঘরে স্মার্ট ফোন ও হাই স্পিড ইন্টারনেট সুদূরকল্পনা। অথচ খানিক আধখ্যাঁচড়াভাবেই শুরু হয়ে গেছে অনলাইন ক্লাস। সেখানে শুধু পড়াশুনা নয় রীতিমতো মূল্যায়নও চলছে। ফলে চিরাচরিত ইঁদুর দৌড়ের খেলা এখন আন্তর্জালিক রূপ পেয়েছে। সেই খেলায় ভারতের বেশিরভাগ ছাত্র পিছিয়ে যাচ্ছে এই নতুন বৈষম্যের মাপকাঠিতে। দৃশ্যত এই সমস্যার সমাধান করার থেকে মহামারীর প্রকোপ কমার জন্য অপেক্ষা করাই বোধহয় সুখকর ছিলো। কিন্তু নিত্যনতুন রেকর্ড সে আশায় প্রতিদিনই জল ঢেলে চলেছে। সুতরাং ভিন্নপথ খোঁজা দরকারি।

    স্পষ্টত দুটো মত উঠে এসেছে।
    • ২০২০কে জিরো অ্যাকাডেমিক ইয়ার ঘোষণা করা ও গোটা শিক্ষাবর্ষকেই এক বছর পিছিয়ে দেওয়া।
    • এসেনশিয়াল নিডসের আওতাভুক্ত হিসাবে সকল শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাসের পরিষেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করা।

    প্রথম পন্থাকে নিয়ে আলোচনা করতে বসলে আপাতভাবে ছাত্রদরদী মনে হওয়া স্বাভাবিক। কেননা এই বিকট অসাম্য চলার থেকে না চলা ভালো। কিন্তু শিক্ষার সাথে জড়িত আনুষঙ্গিক বিষয়াবলী এর ভবিষ্যত বিষময় করে তুলতে পারে। প্রথমত লকডাউন পিরিয়ড কর্মহীনতাকে মাত্রাছাড়া করে তুলেছে। ধুঁকতে থাকা অর্থনীতির ফাঁদে পড়ে বহু ছাত্রকেই আয়ের পথ খুঁজে বেড়াতে হচ্ছে। যে ছাত্রকে আজ সুদিনের আশায় অব্যহতি দেওয়া হল সে ফিরতি বছরে আদৌ স্কুলমুখী হবে কিনা তা বলা মুশকিল। গোটা বিশ্বেই এই আশঙ্কা ঘনীভূত হচ্ছে যে অতিমারীর প্রকোপ কাটলে ভয়াবহ ড্রপ আউট হতে চলেছে স্কুল কলেজে। ভারতে এর মাত্রা যে ঠিক কত ভয়াবহ হতে পারে তা আন্দাজ করাও মুশকিল। জিরো অ্যাকাডেমিক ইয়ারের প্রাথমিক অব্যহতি নড়িয়ে দিতে পারে ফিরতি বছরের শিক্ষার্থীর হারকেই। তাছাড়া শিক্ষাব্যবস্থা নিজেই অর্থনীতির একটা বড় অংশ। এই গোটা ব্যবস্থার সাথে যুক্ত শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের ভিতর বিভাজন কম নয়। পারমানেন্ট সরকারি, পারমানেন্ট বেসরকারি, পারমানেন্ট কন্ট্র্যাক্টচুয়াল, গেস্ট লেকচারার, প্যারাটিচার, কন্ট্র্যাক্টচুয়াল বেসরকারি, পারমানেন্ট স্টাফ, ক্যাজুয়াল স্টাফ এবং প্রাইভেট টিউটরদের বহুধাবিভক্ত শিক্ষাব্যবস্থায় একমাত্র সরকারি পারমানেন্টরা ছাড়া কারুর আয়ই এই নতুন সময়ে সুরক্ষিত নয়। অধিকাংশ বেসরকারি স্কুল কলেজে মাইনে কমানো হয়েছে। বেশকিছু স্কুল কলেজে এখনই ছাঁটাই শুরু হয়ে গেছে। জিরো অ্যাকাডেমিক ইয়ার ঘোষণা করার সাথে সাথে সেই বিপুল অংশের পেটে সরাসরি লাথি পড়তে পারে। বেসরকারি স্কুলগুলোতে ইতিমধ্যে গার্জিয়ানরা ব্যাপক বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন স্কুল ফি নিয়ে। ক্লাস সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেলে মাইনেও বন্ধ হয়ে যাবে এই কথা বলাই বাহুল্য। ফলে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি এক ধাক্কায় ছাঁটাই করে দেবে বড় অংশের কর্মীদের। সমস্যার তৃতীয় ক্ষেত্রটা উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে। বিভিন্ন অনগোয়িং কোর্সের পরীক্ষা পিছিয়ে যাওয়ায় বা বন্ধ হওয়ায় বৃহৎ অংশের ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অন্ধকারের মুখে। এসময় শিক্ষাবর্ষ পিছোলে তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পূর্ণভাবে ব্যহত হতে পারে।

    অন্যদিকে সার্বিক অনলাইন কোর্সের ব্যবস্থা করার সবথেকে বড় অন্তরায় বোধহয় তার বাস্তবতার দিকটা। দিন আনি দিন খাইয়ের ভারতে নিছকই পড়াশুনা করাবার জন্য প্রতি শিক্ষার্থীর কাছে সরকারি অনুদানে স্মার্ট ফোন উঠে আসবে এ চিন্তা হয়তো চায়ের ঠেকেও হাস্যরসের পরিবেশনই করবে। আসলে না পাওয়ার পৃথিবীতে আমরা এতটাই অভ্যস্ত যে প্রাথমিক চাহিদাগুলোকে মুখ ফুটে বলার ভাষা হারিয়েছি। এভাবে বৈষম্যের ব্যবস্থাকেই স্বাভাবিক ধরে নেওয়ার প্রবণতা জন্মায়। অথচ মজার ব্যাপার এই যে ডিজিটাল ইন্ডিয়ার মণিরত্নখচিত প্ল্যানিং-এর অন্যতম বিষয় ছিলো গ্রামীণ ভারতকে টেক স্যাভি করে তোলা। সেই মর্মে অতি স্বল্প মূল্যের স্মার্টফোন বিলোনো হয়েছে তখন। অথচ দরকারের সময় রাষ্ট্রের স্বার্থ ছাড়া এতবড় দাবী করা যে যায় এই ধারণাই হয়তো বেশ খানিক অলীক। অনলাইন ক্লাসের প্রিভিলেজ যে অল্পসংখ্যক ছাত্রছাত্রীই পাবে তা সরকারের অজানা নয়। তবু এই ব্যবস্থাকে তারা শিলমোহর দিয়েছেন কেননা এই দুঃসময়ে এটাই একমাত্র পথ। শিফটিং ক্লাসের কথাও উঠেছে। কিন্তু তাতে দূর থেকে আসা শিক্ষার্থীদের সমস্যার সমাধান হচ্ছেনা। যখন এই পন্থায় প্রাথমিক শিলমোহর লাগানোই হয়েছে তখন কেন তার বিকাশ সার্বিক হবেনা? প্রাইমারি স্কুলগুলোতে মিড ডে মিলের সাথে সাথে কিছু পঠনপাঠনের মেটেরিয়াল পাঠানো হচ্ছে ঘরে। কিন্তু হিউম্যান ইন্ট্যার‍্যাকশন যা স্কুলশিক্ষার মূল তার থেকে বঞ্চিত থাকছে লাখো লাখো ছাত্র। পয়সার বিনিময়ে পরিষেবা ক্রয় একমাত্র পন্থা হয়ে গেলে মৌলিক অধিকারের ধারণাই ধাক্কা খায়। কোভিড পরবর্তী ভারতবর্ষে এলিমেন্টারি এডুকেশনের ধারণাটাই বদলে ফেলো কড়ি মাখো তেল চালু হয়ে যেতে পারে। যে হারে ড্রপ আউটের আশঙ্কা করা হচ্ছে তাকে ঠেকাতে গেলে সরকারকে এই ব্যবস্থা সার্বিক করে তুলতেই হবে। সকল বিপিএল তালিকাভুক্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের কাছে নেট কানেক্টিভিটি সহ স্মার্ট ফোন পৌঁছানো অর্থনীতিকে কতদূর বিপদগ্রস্থ করবে সত্যিই বোধগম্য নয় কিন্তু এর অন্যথা যে দেশের ভবিষ্যতকে ঝরঝরে ও পক্ষপাতদুষ্ট করে তুলবে তা বুঝতে বিশারদ হতে হয়না। যতদিন এই সমস্যার সমাধান না হবে এই উৎকট বৈষম্যের দায়ভার বহন করতে হচ্ছে বৃহৎ অংশের শিক্ষার্থীকে। ততদিন অনলাইন ক্লাস বন্ধ করে দেওয়া নয়, বরঞ্চ অতি দ্রুত এর সার্বিক বিকাশ ঘটিয়ে তোলাই হতে পারে একমাত্র সমাধান।

  • বিভাগ : কূটকচালি | ৩০ জুলাই ২০২০ | ৭৮০ বার পঠিত
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • অনিন্দিতা | 103.87.57.178 | ৩০ জুলাই ২০২০ ১৭:২৯95697
  • সবিনয়ে বলি, অনলাইন ক্লাসের সার্বিক উন্নতি সহজ কাজ নয়। সরাসরি যোগাযোগ যা পারে, তা অনলাইন পারে না। বিদ্যালয়ের পরিবেশ ও সহপাঠীরা শিশুকে পড়াশুনার বাইরেও অনেক কিছু শেখায়। শিক্ষক কেবল চোখের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারেন ছাত্র বুঝতে পারছে কিনা। 

    অনলাইন সেশানে অনেক বেশী পরিমাণ তথ্য দেওয়া যায়। কিন্তু বলা যায় না সেই বই-এর বাইরের বিষয়গুলি, যা ছাত্রের সর্বাঙ্গীন জ্ঞানলাভে সাহায্য করে। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এই আলোচনা বিশেষভাবে জরুরী । মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও এর নানা সীমাবদ্ধতার কথা বলেন। 

    পরিশেষে বলি, ভারতবর্ষে অনলাইন পড়াশুনা চালু করার প্রয়াস কোভিডের অনেক আগেই শুরু হয়েছে।আজকের  নিউ এডুকেশন পলিসী তারই দলিল। 

  • π | ৩০ জুলাই ২০২০ ২৩:১৫95706
  • অনেকাংশে একমত।
    এনিয়ে কিছুদিন আগে এই কথাগুলো মনে হচ্ছিল।
    পার্থপ্রতিমদার লেখাটায় টিভি দিয়ে শিক্ষা নিয়ে অনেক কিছু উঠে এসেছে।

    ওয়াশিংটন পোস্টের একটি প্রবন্ধ পড়লাম। খুব ইন্টারেস্টিং অব্জার্ভেশন এটা। এই লকডাউনে স্কুল কলেজ বন্ধ থেকে শিক্ষার বৈষম্য আরো বাড়তেই থাকবে। সে কিন্তু শুধু একদলের কাছে নেট বা ফোন আছে, অন্যদলের কাছে নেই বলে নয় ( সেটা অবশ্যই একটা বড় কন্সার্নের জায়গা, একের পর এক আত্মহত্যাও দেখছি, বাচ্চাদের ক্লাস করার জন্য স্মার্টফোন নেই বলে), ওই একদল, যাদের আছে, তাদের বহুলাংশের কাছে এমন মা বাবাও আছেন, যাঁরা নিজেরাই অনেক কিছু শেখাতে পারেন, আর সেই শেখানোর সময় অনেকে কিছুটা এখন পাচ্ছেন,আগের তুলনায় বেশি, নিজেদের কাজকর্ম বন্ধ বা কম থাকলে। কেউ কেউ আক্ষেপও করছেন, স্কুলের অনলাইন ক্লাসের চাপ আবার কেন, মা বাবার কাছে শেখার, অন্য কত আক্টিভিটি করার কত সুযোগ এখন!
    এটা ঠিকই। কিন্তু আবার অন্যদিক দিয়ে ভেবে দেখলে এটা কি নিতান্তই প্রিভিলেজড অবস্থান থেকে বলা নয়? সবার কাছে যেমন ফোন বা নেট নেই বলে বঞ্চিত হবে একদল, তেমনি সবার কাছে বাড়িতেই শেখানোপড়ানোর মত শিক্ষিত মাবাবা বা পরিবেশও তো নেই!
    যেমন ধরা যাক, প্রথম প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা, তাদের অবস্থা তো আরোই খারাপ, স্কুলের ক্লাস হলে যেটুকু যা শেখার সুযোগ, সেটুকুও কপালে জুটছেনা। অনেকেরই বাড়ির পরিবেশ এমন, স্কুলের, ক্লাসের সময়টুকু মুক্তির স্বাদ।
    অনলাইন কি কোনভাবে ক্লাসের সুযোগ থাকলে সেটুকু হয়ত কিছু হলেও জুটত!
    এছাড়াও আছে সেইসমস্ত পরিবার, এসেনশিয়াল কর্মী, যাঁদের এই সময়ে রোজ কাজ করতে হচ্ছে। এই আমাদেরই সহকর্মীদের দেখেছি, যাঁদের রোজ কাজ করতে হয়েছে বা সেই স্বাস্থ্যকর্মীদের, যাঁদের অন্য সময়ের চেয়েও বেশি ডিউটি কর‍্তে হচ্ছে আর ঘরের কাজ কেউ করে দেবেন তার ব্যয়বহনের সাধ্যও নেই, সুযোগও না। তাঁদের ঘরের বাচ্চারা? এই কথাগুলোই উঠে এল ওই প্রতিবেদনে। Dilip Ghosh দাকে ধন্যবাদ, পড়ানোর জন্য। লেখাটার থেকে কিছু অংশ রইল শেষে।

    তো এতসব হ্যানাত্যানার পরে কথা হল, যেটাই হোক না কেন, আর্থসামাজিকভাবে নিচের দিকে অবস্থানকারীরা বঞ্চিত হচ্ছেন। বেসরকারি স্কুলগুলো যেভাবে হোক পড়াচ্ছে, সরকারি স্কুলগুলো খুব কম। এমনি দশা এখন আমাদের, আর্থ-সামাজিক ভাবে নিচুতলার মানুষজনই মূলত সরকারি স্কুলে বাচ্চাদের দিচ্ছেন। তো, সমানেই বিভাজন বেড়ে চলেছে।
    যেহেতু শিক্ষিত, সময় দিতে পারা মা বাবা অমনি রাতারাতি সবার বাড়িতে গজিয়ে ফেলা যাবেনা, উল্টো দাবিটা তোলা বেটার।৷ অনেক খামতি থাকবে, অনেক আনুষংিক সমস্যা। তাও মন্দের ভাল, কানামামা।
    অন্তত মাথাব্যথা হলে মাথা কেটে ফেলার নিদানের চেয়ে ভাল।

    শিক্ষকেরা চাইলে অনেক ইনোভেটিভ উপায়ও বেরিয়ে যেতে পারে ( বেরচ্ছেও, Anuradha Kunda দির পোস্টেই সেদিন পড়ছিলাম, যদিও তা কলেজের জন্য, আর অভিজিত মজুমদার দের ও, আই আই টি তে। হ্যাঁ, পরিকাঠামো অনেক বেটার কিন্তু সেই পরিকাঠামো ভাল করার দাবিটাও উঠুক আর প্রায় একই পরিকাঠামোতেও কি সবাই এই চেষ্টাটা অন্তত করছেন?)। অন্যান্য কাজে, এই আমাদের নন এডুকেশন সেক্টরের কাজেও রিমোটলি কাজ চালানোর জন্য নানা অন্যরকম ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে তো। সেগুলো প্রত্যন্ত গ্রামের ছেলেপুলেদের মোবাইলে নির্ভর করেই। নইলে এই অবস্থায় ম্যালেরিয়ায় গাদা গাদা লোককে মরতে হত!

    অনলাইন ক্লাস কেনর থেকেও বেশি দাবি কেন উঠছেনা, সবার ঘরে এরকম স্মার্টফোন আর ডাটাপ্যাকের ব্যবস্থা সরকার থেকেই করে দেওয়া হোক? এই দাবিটা উঠতে দেখছিনা কেন?
    ডিজিটাল ডিভাইড আছে বলে সব বন্ধ রাখার চেয়ে সেই ডিভাইড কমানোর উদ্যোগ নিলে ও তা বাস্তবায়িত হলে, বাস্তবজীবনের বৈষম্য কিছুটা হলেও কমতে পারে, এই আক্সেসিবিলিটির বিস্তার গ্রেট নাহোক, কিছুটা লেভেলে তো লেভেলার হতেই পারে।

    Sabir Ahamed দের দারুণ উদ্যোগ নিতে দেখছি, পড়ে থাকা বাড়তি মোবাইল সারিয়ে এই পড়ুয়াদের কাছে দেওয়ার। এরকম উদ্যোগ আরো হোক, মোবাইল দেওয়ারও। অবশ্যই এটা সর্বস্তরে যেতে পারে সরকারি উদ্যোগ হলেই। তার দাবিটা উঠুক একটু।

    পুঃ একজন মনে করিয়ে দিলেন। টিভিতে সরকারি চ্যানেলে নানা শিক্ষার ক্লাস নেওয়া। আমার ধারণা ছিল টিভিতে এগুলো হচ্ছে। টিভি রেডিও কিছু দেখিনা শুনিনা বলে জানিনা ঠিক কী হচ্ছে। কিন্তু এগুলো তো অনেক প্ল্যান করে করাই যেত। আগে তো এরকম শিক্ষার অনেক ক্লাস হত। রামায়ণ, মহাভারত ফেরানোর থেকে সেসব ফেরালে আর নতুন করে করলে বোধহয় কাজে দিত।
    টিভিতে নিয়ম করে সারাদিন সব বিষয় নিয়ে সব শ্রেণির জন্য ক্লাস। রেডিও তেও। আগে অনেক খবরের কাগজে হপ্তায় একদিন আসত, এখন এই এত অনলাইন প্লাটফর্মে তো আসতেই পারে কিছু।
    এসবেরই হাজারটা সমস্যা, খামতির কথা অনেকেই বলবেন, কিন্তু আবারো বলব কানা মামা।
    সবাইকেই তো এই পরিস্থিতিতেই যেটুকু যা করা যায়, করতে হচ্ছে।
    একজনের প্রস্তাব শুনলাম, স্কুলে শিফটিং আওয়ার্স বা অল্টারনেট ডে ক্লাসের অর্ধেক অর্ধেক ছাত্রছাত্রী, অর্ধেক ক্লাস।
    কথা হল, বহু অসাম্য এই লকডাউনের আগেও ছিল, তার মধ্যেও আগে সর্বত্র সাম্য আসুক ভেবে তো সবকিছু বন্ধ হয়ে যায়নি, চলেছে, বরং তার মধ্যেই কীকরে বৈষম্য কমানো যায়, সবার কাছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য দিয়ে, সংরক্ষণ দিয়ে সেই চেষ্টাও তো হয়েছে, সেই কাজ আরো বেড়ে গেল, আবার এটাকে একটা সুযোগ হিসেবেও ব্যবহার করা যেতে পারে, কিছু ক্ষেত্রে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড দেবার। চেষ্টাটুকু তো করা যেতেই পারে।

    অবশ্য, লকডাউন উঠে যাওয়া নিয়ে যাদের এত আপত্তি, এত প্রশ্ন, লকডাউন চলাকালীন সবার কাছে সরকারি চাকরি করা লোকজনের মতই বাঁধা মাসমাইনের নিরাপত্তা বা নিদেনপক্ষে খাওয়াদাওয়া বেঁচেথাকার জন্য যা জরুরি, তার যোগান থাকছেনা কেন, সেই প্রশংুলো কেন উঠতে দেখিনি, সে প্রশ্ন থেকেই যায়। সেইতো একই লাইন। আমাদের দাবিদাওয়াগুলো বোধহয় বড্ড আমাদের নিজেদের অবস্থান সাপেক্ষে হয়ে যায়।

    -----
    Washington Post এর প্রতিবেদন থেকে, বৈষম্য কীকরে বাড়ছে, তার কিছু উদাঃ, খাপে খাপ মিলে যায় আমাদের অনেককিছুর সংগেই।

    "...A friend, a biologist in normal times, now staying home from work, is taking her preschool, kindergarten, and second-grade children for walks in the woods where they learn the names of birds, why goldfinches get their bright yellow wings, about sexual selection in birds and their funny displays to attract a mate, and how moss reproduces with spores. They found some of that moss in the woods and saw that when you touch the red part, it lets out a puff of tiny spores; this was a huge hit with the children.In neighborhoods that are socioeconomically segregated, friends and classmates of children like these have similar experiences. Parents with full-time professional jobs never before had the opportunity to be full-time instructors, and many make the most of it.

    Meanwhile, many parents with less education have jobs that even during the coronavirus crisis cannot be performed at home — supermarket clerks, warehouse workers, delivery truck drivers..."

    -----
  • S | 2405:8100:8000:5ca1::6a6:dcce | ৩১ জুলাই ২০২০ ০০:১২95709
  • অনলাইন ক্লাস নিয়ে আমার কয়েকটা পয়েন্ট।
    ১) আমি অনলাইনে ক্লাস নিয়মিত পড়াই। এখনই একটা পড়াচ্ছি। ফেস টু ফেসের ধারেকাছেও তার মান হয়না।
    ২) আমি অনলাইন ক্লাস স্কাইপেও নিয়েছি, মানে যাকে আজকাল সিন্ক্রোনাস বলা হচ্ছে। মানে লাইভ ক্লাস কিন্তু রিমোট লার্ণিং। সেক্ষেত্রে ছাত্ররাই অভিযোগ করেছে যে সবসময় তাদের মনোযোগ থাকছেনা।
    ৩) আমি চিনি এমন একটি পরিবারের দুই ভাইবোন। বাবামা পড়াশুনা জানেন না। এবং আর্থিক সঙ্গতি খুবই কম। মেয়েটি পড়ে একটি বাংলা মাধ্যমের প্রাইভেট প্রাইমারি স্কুলে। ছেলেটি পড়ে বাংলা মাধ্যমের সরকারি হাইস্কুলে নীচের ক্লাসে। প্রসংগত আমিও এই দুটি স্কুলে পড়েছি, তবে সে প্রাগৈতিহাসিক কালে, ফলে এখন অনেক পরিবর্তন হয়েছে। এর মধ্যে মেয়েটির অনলাইন ক্লাস অ্যাসাইনমেন্ট হচ্ছে। ছেলেটির কিছুই হচ্ছে না।
    ৪) আরেকটি শিশুর কথা বলি। শিশুই। প্রাইভেট স্কুল। নার্সারি বোধয়। তারও ক্লাস হচ্ছে অনলাইনে। আসলে প্রাইভেট স্কুলগুলো এইসব করে মাইনেটা নিচ্ছে, নইলে অনেক বাবামা হয়ত সেটা দেবেনা।

    বাচ্চাদের পড়াতে দেখলে আমার এমনিতেই খুব রাগ হয়। তার উপর আবার শুরু হয়েছে এইসব অনলাইনের ঢং।
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা মনে চায় মতামত দিন