• টইপত্তর  অন্যান্য

  • শাঁখা সিঁদুর বিতর্ক - পুরনোদের কথা

    Yashodhara Raychaudhuri লেখকের গ্রাহক হোন
    অন্যান্য | ০৬ জুলাই ২০২০ | ১১৬১ বার পঠিত
  • জমিয়ে রাখুন
  • যশোধরা রায়চৌধুরী

    A garment, an automobile, a dish of cooked food, a gesture, a film, a piece of music, an advertising image, a piece of furniture, a newspaper headline—these indeed appear to be heterogeneous objects. What might they have in common? This at least: all are signs…this car tells me the social status of its owner, this garment tells me quite precisely the degree of its wearer's conformism or eccentricity.- Roland Barthes

    বাঙালি কী তা যেন কতগুলো চিহ্নের ওপর দাঁড়াল অবশেষে। এই আমাদের দুর্ভাগ্য। লেবেলিং ব্রান্ডিং আর বিক্রয়যোগ্যতা। এইসবের চক্করে বাঙালির পরিচয়ই এখন প্রশ্নাতুর শুধু নয়, চিহ্ন নির্ভর।দেড় হাজার বছরের বঙ্গদেশের ভঙ্গে ভরা ইতিহাসে, চিহ্ন ছাড়া আর সবই বিস্মৃত প্রায়।

    আর কত অকাতরে সোনামুখ করে আমরা তুলে নিচ্ছি নিজেদের গায়ে সেঁটে বসা লেবেলসহ নিজেদের সেলফি। এই দুহাজার পরবর্তী পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়েও, কত না মনোযোগ দিয়ে আমরা জড়ো করি আমাদের সব নানান চিহ্ন। লাল পাড় সাদা শাড়ি । পাঞ্জাবি, ধুতি। ইলিশমাছ চিংড়িমাছ। সরষের তেল। পোস্তবাটা। শাঁখা সিঁদুর। আর হ্যাঁ, হ্যাঁ, অবশ্যই , দুর্গাপুজো।

    এই দুর্গাপুজো এখন বাঙালির শেষ আঁকড়ে ধরা… বারো মাসে তেরো পার্বণের অনেক গুলিই পুরোপুরি হারিয়ে। আমাদের উৎসব অনুষ্ঠানের মধ্যে তাই বেশ জোরালো আর জাঁকালোভাবে ঠেশে বসেছে দুর্গাপুজোর সব কান্ড, যেগুলো নাকি সেকুলার মার্ক্সিস্টদেরও ভারি পছন্দ। হিন্দুত্বের নানা চিহ্ন, শুধু হিন্দুত্ব নয়, ব্রাহ্মণ্যতন্ত্রের , এবং কে না জানে যে ব্রাহ্মণ্যতন্ত্রের প্রচুর কিছুকেই আমরা আগেই মহিলাবিরোধী বলে জানি, তবু, ভারি ধুমধাম করে পালন করি আমরা।

    বিগত হাজার বছর ধরে হিন্দুত্ব থেকে মার্কিজম হয়ে পথ হাঁটিয়াছে বাঙালি…আর আমাদের পুজো আচ্চা আর হিন্দুত্বচিহ্নগণ সবই নাকি বেদম সেকুলার আর প্রচন্ড সাংস্কৃতিক তাই সবকুছ চলতা হ্যায়।
    ‘যেমন, দুর্গাপুজোর বিজয়ার দিন সিঁদুর খেলা। ওইদিন বিসর্জনের আগে দর্পণে মায়ের মুখ দেখে, মৃন্ময়ী মাকে ঘরের মেয়ের মত সিঁদুর পরিয়ে, সন্দেশ খাইয়ে বিদেয় করা। সেই সময়ে স্ত্রী আচারে সধবা মেয়েরা অন্য সধবাদের সিঁদুর পরাতেন চিরকাল। এই উৎসবে কোন অংশগ্রহণ নেই বিধবা বা কুমারীদের। তবু আজ এ উৎসব বাঙালির সংস্কৃতিচিহ্ন। বাঙালির গৌরব। এই উৎসব এক হিড়িকের হুজুগের রূপ নিয়েছে। দোল খেলার মত সিঁদুর খেলা এক বিপুল উদ্দীপনার বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতটাই, যে সধবা ছাড়া বাকি যারা এতে অংশ নিতে পারেন না তাঁদের ডেকে এনে অংশ নেওয়ানোর ধুম পড়েছে। একটা প্রাচীন এবং প্রশ্ন-তোলাই-যায় যা নিয়ে, সে চিহ্নকে এতটাই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে , সেটাকে বাড়াবাড়ি রকমের এক উৎসবে পরিণত করে বাঙালি সংস্কৃতির ছাপ পরিয়ে দিয়ে নবায়ন করা , সো ভি আচ্ছা!

    অভিষেক সরকার বলেনঃ পুজোয় সিঁদুর খেলতে ইচ্ছে করলে নিশ্চয়ই খেলুন, সাবধানে -- সতর্ক হয়ে। আনন্দ করুন। বুক ভরা শুভেচ্ছা। একটি কাতর অনুরোধ -- সিঁদুর খেলাকে প্রগতিশীল আন্দোলন বলে প্রচার করবেন না। একটি প্রগাঢ় হিন্দু বৈবাহিক আধিপত্যের চিহ্নকে (হ্যাঁ, তাই, সিঁদুরের এই চরিত্রটির বিন্দুমাত্র পরিবর্তন হয়নি) উদযাপন করার মধ্যে খুব প্রগতিশীল কিছু নেই। কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠান ছাড়া সিঁদুরের খুব বেশী প্রয়োগ দেখেছি বলে তো মনে পড়ে না।

    মেনে নিতে কি ক্ষতি যে এই চিহ্নটি অন্তত কোনভাবেই সাম্যময় নয়… কোনভাবেই সেকুলার ত নয়ই, এমনকি মেয়েদের ও কেবলমাত্র সধবাত্ব আর সিংগলহুড দিয়ে ভাগাভাগি করে দিয়ে ডিভাইড অ্যান্ড রুল করার অসভ্য এক ঐতিহ্যমাত্র।


    কোনদিন সিঁদুর খেলিনি। কোনদিন সিঁদুর পরিনি। সেটা আমার নিজস্ব ব্যক্তিগত রুচিপছন্দ, যা রাঙিয়ে দিয়েছে আমার শৈশব অভিজ্ঞতা। আমার কদর্য অভিজ্ঞতা। আমার পিতৃহীনতা।

    ছোটবেলায় মাকে বিধবা জেনেছি অন্য কিছু বোঝার আগেই। কারণ মা সবার থেকে আলাদা ছিলেন, অন্য মায়েদের চেয়ে কত্তো আলাদা। চিহ্ন। এখানেও চিহ্ন। মা ধবধবে সাদা শাড়ি পরতেন, আজন্মকালের এই দেখা আমার চোখে থেকে গেছে।

    পরবর্তীতে বুঝেছি মায়ের কাছে ওই সাদাও ছিল এক ধরণের বর্ম। নিজেকে অন্য পুরুষের থেকে অস্পৃশ্য রাখার , এবং আলাদা রাখার বর্ম। নিজের চারিদিকে স্টিলের বলয় বানাবার জন্য যথেষ্ট ভাল চিহ্ন।

    তাছাড়া, মা কোথাও গেলে মাছ মাংস খেতেন না। বৈধব্য বৈধব্য এবং আরো বৈধব্যের চিহ্ন দিয়ে উপুড়ূ হস্ত ছিল আমার ছোটবেলাটা। মা বাড়িতে মাছ মাংস খেতেন কিন্তু সমাজ নামক একটি জুজু ছিল আমাদের ছোটবেলায়। হয়ত আরো বেশি মায়েদের অল্পবয়সে। যাকে শতহস্ত দূর থেকে গড় করবেন বলেই মা এই নাটকটা করতেন। এই ছলনাটা।

    সত্যি বলছি এতে কিন্তু আমার বিস্তর অসুবিধা হত। কেন না মা বাড়িতে মাছ মাংস সব রান্না করতেন এবং অনেক বাচ্চার মতই আমি মাছের কাঁটা বাছার ব্যাপারটা পছন্দ করতাম না, মাংস অনেক বেশি আনন্দদায়ক লাগত। কিন্তু , আমার মাছ খেতে ভাল লাগত না, সেটাও আত্মীয়দের চোখে একটা চিহ্ন হয়ে দাঁড়াল। কোন বাচ্চা কেন মাছ খাবে না, সেটা তাঁদের কাছে বেশি বিসদৃশ ছিল, না, অর্থপূর্ণ ছিল এই তথ্যটি, যে এ এক বিধবার কন্যা! ছিঃ, ভাবতেও এখন গা গুলিয়ে ওঠে, আমি নিজ কর্ণে শুনেছি, তখন মাত্র পাঁচ কি ছয়, বিয়ে বাড়িতে মায়ের কোল ঘেঁষে থাকব বলে মায়ের সঙ্গে বসেছি খাবার জায়গায় এবং সেখানে কেবল নিরিমিষ সার্ভ করা হচ্ছে এবং আমাকে টেনে আমিষ অঞ্চলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হচ্ছে এবং সেই সব কাকিমা জ্যেঠিমারা উচ্চস্বরে বলছেন, ওর মা নিজে মাছ খায়না তাই মেয়েদেরও খাওয়ায় না।

    আপনাদের কজনের এই অভিজ্ঞতা আছে জানি না, বাঙালি ( অবশ্যই হিন্দুর) যে কোন উৎসব অনুষ্ঠানের খাওয়াদাওয়ার মূল জায়গায় বিধবাদের বসার জায়গা রাখা হত না। আমিষ আর নিরামিষ অঞ্চলের ছোঁয়াছুয়ির ব্যাপার সেই শরত চাটুজ্জে থেকে আশাপূর্না হয়ে এসে ১৯৬৮-৬৯ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। আজ পরিস্থিতি কত পাল্টেছে জানা নেই। এবং মেনু তেও ছিল আশ্চর্য বিভেদ। মাছের পদ যদি দুটি কি তিনটি, মাংস দুরকম… নিরিমিষে একটি ঘ্যাঁট ও হয় ছানার ডালনা নয় ধোঁকা … নয়ত ফুলকপি।

    সেই আমিষ অবসেশনের পাপেই বোধ হয় আজ বাঙালির জীবন এত নিরিমিষবাদীদের অত্যাচারে আক্রান্ত । রেস্তরাঁ থেকে শপিং মল অজস্র জায়গায় নিরিমিষের ধাক্কায় প্রাণ ওষ্ঠাগত… জাস্ট জোকিং…

    আমি সিঁদুর পরেছিলাম বিয়ের দিন। তারপর একদিন ও না। শ্বশুরকুলের মুখ ম্লান করে দেওয়া হাসি দিয়ে , বলেছিলাম পরব না। কারণ একদিন পরলে তার পরেরদিন, তার পরেরদিন, না করার আর সুযোগ থাকত না। পরলে কী হয়, না পরে কী আনন্দ পাও এসব প্রশ্ন তুলতেই দিইনি কারুকে। বিবাহ চিহ্ন ধারণের দায় একা মেয়েদের কেন, এ নিয়ে স্পষ্ট বক্তব্য রেখেছিলাম। বিবাহ সভায় সিঁদুর পরাতে গিয়ে শাশুড়ি জায়ের লাফঝাঁপ লক্ষ করেই ঠোঁট টিপে বাধা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই অবিশ্যি।

    আমি, কারুর সিঁদুর খেলার ছবিতে আজো লাইক দিইনা। আমার অ্যালার্জি আছে। বিধবারাও সিঁদুর খেলুন... অমুকেও খেলুন, তমুকেও খেলুন... এসবে বিশ্বাস করিনা। এই বস্তুটিকে এত গুরুত্ব দেওয়াটাই আমার কাছে হাস্যকর।

    এই ব্যক্তিগতটি কি খুবই ব্যক্তিগত? নাহ বোধ হয়। আশৈশবের শেখা লেখা পড়ার মধ্যেও ত ছিলই এই ধারণা যে বিবাহ চিহ্ন একটাই চিহ্নই মাত্র। আর কিছু নয়। তাকে গুরুত্ব দিইনি শুধু নয়, এক পেশে এই চিহ্ন ধারণ আমার কাছে অবান্তর… একটি পুরুষকে দেখে যদি না বোঝা যায় সে বিবাহিত কি অবিবাহিত, এক মহিলাকে দেখে কেন বোঝা যেতে হবে?

    হয়ত এই দৃষ্টিটি আমার পরম্পরাগত প্রাপ্তিও... আমার আত্মীয়া একজন, অধ্যাপিকা ও স্বাধীনতা সংগ্রামী। তাঁর হাত থেকে পাওয়াও হয়ত বা।

    তিনি শান্তিসুধা ঘোষ। প্রথম মহিলা ঈশান স্কলার। গণিত বিষয় নিজে অধিগত করেছিলেন, তাইই, নারীর বিদ্যাচর্চার প্রসঙ্গে লিখেছিলেন, “গণিতশাস্ত্র অধিগত করবার মত সূক্ষ্ম প্রতিভা তাদের আদৌ নেই, এই জাতীয় একটা অপবাদ নারীজাতি সম্পর্কে ছেলেবেলা থেকে শুনে আসছি, সেটা আমার কোনোদিনই হজম করতে ইচ্ছে হয়নি। আজ আত্মপ্রত্যয় বশে আই এ পরীক্ষায় অঙ্কে ভালো কয়ায় তার একটা হাতেকলমে পাল্টা প্রতিবাদ করার ইচ্ছে মনে জাগলো।“
    এরপর তিনি যখন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাট্রিকুলেশনের নতুন পাঠ্যতালিকায় জ্ঞানার্জনের ক্ষেত্রে ছেলেতে-মেয়েতে বিষয়ভিত্তিক পার্থক্য দেখেন, তাঁর মনে হয়, যে মেয়েদের বেলায় উচ্চশিক্ষা সঙ্কোচের গূঢ় অর্থ কেবল এটাই হতে পারে, যে সমান শিক্ষা আর জ্ঞানলাভের অধিকারী হলে নারীর স্বাধীনতা খর্ব করার উপায় আর সমাজের হাতে থাকবে না।
    শান্তিসুধারই একটি প্রবন্ধের বিষয়, ‘বিবাহ বিচ্ছেদের অধিকার’। তিনি কেন বিষয়টি বেছে নিলেন? “কেননা, এ কথা সত্য , যে, আমাদের সমাজে বহু বিবাহিত জীবনে অশান্তির কালো ছায়া স্ত্রীর জীবনকে লক্ষ্যে বা অলক্ষ্যে আচ্ছন্ন করিয়া রহিয়াছে এবং ইহার প্রতিকার প্রয়োজন”
    তিনি সওয়াল করেছেন, “নারীকে যদি বিবাহ বিচ্ছেদের অধিকার আইনতঃ কাগজপত্রে দেওয়াও যায়, তবুও তাহা কার্যত সফল হইবে না – যদতিন পর্যন্ত নারীকে সম্পত্তি ও উপার্জনক্ষমতায় পুরুষের সমান সুযোগ না দেওয়া যায়। “
    এই শান্তিসুধাই, তাঁর উপন্যাসের এক চরিত্রের মুখ দিয়ে বলান, বিয়ে করলেই মেয়েদের মস্তিষ্ক চর্চার পক্ষে অলঙ্ঘ্য বাধা পড়ে। পৃথিবীতে যত কিছু বড় কাজ, তার খুব কমই বিবাহিত মহিলাদের করতে দেখা যায়। “আইনস্টাইন দরজা ভেজিয়ে নিরালা ঘরে নিজের গণিত গবেষণার বিপ্লব তরঙ্গে যখন দিশেহারা হয়ে থাকেন, তাঁর স্ত্রীকে তো তখন লক্ষ্মী বৌটি সেজে গৃহস্থালীর বন্দোবস্তে মন দিতে হয় – স্বামী তাঁর বিজ্ঞানমন্দির থেকে উঠে এসে কী খাবেন। ... আমার খুব বিশ্বাস এর অভাবেই আইনস্টাইন তাঁর প্রথমা গণিতজ্ঞা স্ত্রীকে বরদাস্ত করতে পারলেন না। “
    তিনি নিজের প্রবন্ধেও বলেছেন, ‘আমাদের সমাজে নারীর শুধু নারীরূপে কোনো স্থান নাই, সে হয় কুমারী, নয় সধবা, নয় বিধবা।‘
    ‘শাঁখা- সিঁদুর- ঘোম্‌টা’ নামের একটি প্রবন্ধে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘ স্বীকার করি, এগুলি দেখিতে সুন্দর লাগে... যদি বা তর্কের খাতিরে স্বীকার করিয়া লই, তবে সে সৌন্দর্য্যবৃদ্ধি কুমারীকালে করিলেই বা দোষ কী?কারণ, কুমারীকালে লাল টিপ পরার রীতি আছে...বিবাহ হওয়ামাত্রই এগুলি এক অভিনব রূপ ধারণ করে, অন্যথা করে না, ইহার কোন অর্থ হয়না। বধূবেশে এগুলিকে আমরা যে অনির্বচনীয় শ্রী বলিয়া মনে করি, ইহা আমাদের মনের সংস্কার। ‘...শাঁখা, সিঁদুর, অবগুন্ঠন, ইত্যাদি অশেষ প্রকারের নিদর্শন দ্বারা প্রতিদিন প্রতিমুহূর্তে তাহাকে বিবাহিত জীবন স্মরণ করাইয়া দিবার সূক্ষ্ম কৌশল উদ্ভাবিত হইয়াছে। পতির জীবনের অনুসারেই তাহার সমগ্র জীবন – এই ভাবটি নারীর মনের উপরে দুরপনেয়ভাবে বিস্তার করিতে ইহা বাস্তবিকই একটি অপরূপ মায়াজাল, স্বীকার না করিয়া সাধ্য নাই। ...নারীমনকে স্বতন্ত্র মনুষ্যত্ব বিস্মরণ করাইয়া পতিসর্বস্ব করিয়া রাখিবার জন্যই প্রধানতঃ শাঁখা-সিঁদুরাদি প্রথার প্রবল প্রভাবের প্রবর্তন করা হইয়াছিল।‘
    অন্য একটি কারণও তিনি তীক্ষ্ণ ধীশক্তিতে শনাক্ত করেছেন।
    “অবিবাহিতকালে যে কোনও পুরুষ তাহার প্রতি লোভ করিতে অধিকারী...বিবাহ হইলেই সে গুড়ে বালি পড়ে, আর তাহার কেশাগ্র স্পর্শ করিবার অধিকার নাই, কারণ সে এখন অপরের সম্পত্তি। ...। কাজেই কে কুমারী এবং কে সধবা, ইহার অতি পরিস্ফুট পরিচয় নারীর সর্বাঙ্গে না থাকিলে পুরুষের পক্ষে অসুবিধায় পড়িবার সম্ভাবনা – অর্থাৎ লোলুপ হইবার অধিকার আছে কিনা তাহা সে বুঝিয়া উঠিতে পারে না। সুতরাং শাঁখা সিঁদুর প্রভৃতি ট্রেডমার্কের প্রয়োজন একান্তই হইল।“
    ১৯৩৮ অর্থাৎ আশির বেশি বছর আগের এই লেখা...ভাবতে স্তম্ভিত লাগে না কি?
  • বিভাগ : অন্যান্য | ০৬ জুলাই ২০২০ | ১১৬১ বার পঠিত
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Prativa Sarker | ০৫ জুলাই ২০২০ ২৩:৫৬732343
  • খুবই তথ্যনিষ্ঠ অথচ ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার দৃঢ় ভুমিতে বিচরণ লেখাটির। শান্তিসুধা ঘোষ বিস্মিত করেন। আধুনিক মনন সেকালে যেমন একালেও বিরল। এগোলাম আর কোথায় !  তবু সেই মহিয়সীকে প্রণাম।

  • স্বাতী রায় | 117.194.40.101 | ০৬ জুলাই ২০২০ ০০:২১732344
  • অসম্ভব ভালো লেখা।  শান্তিসুধা সেই যুগে যা বুঝেছিলেন, আজও আমরা তা বুঝতে হিমসিম খেয়ে যাচ্ছি। 

  • সুমন গাঙ্গুলী ভট্টাচার্য্ | 2405:201:8809:1fc8:c84a:b8f4:59ac:3ee0 | ০৬ জুলাই ২০২০ ১০:২০732349
  • ভালো লেখা।সব চেয়ে ভালো লাগলো "গুরুত্ব দিই না"---শব্দ টি।আমিও তাই বিবাহিত মেয়েদের চিহ্ন দিয়ে রাখা অসহ্য লাগে।

  • অনিন্দিতা | 103.87.56.13 | ০৬ জুলাই ২০২০ ১৩:৫৫732350
  • গত সত্তর আশির দশকে বড়ো হওয়া আমাদের অনেকেরই সিঁদুর না পরার গল্পটা মোটামুটি এই ধরনের। অবাক হয়ে দেখি আমাদের চেয়ে কিছু ছোট বা পরের প্রজন্মের মেয়েরা কি বিপুল উল্লাসে সিঁদুর পরছে, খেলছে। এই সিঁদুর খেলাকে হঠাৎ এই প্রবল জনপ্রিয়তা দেওয়ার পেছনে বোধ হয় আছে একটি বাণিজ্যসফল হিন্দী ছবি-‘কাহানী’। সব খুইয়ে বাঙালী এখন আদর্শ খুঁজছে বলিউডে! 

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খারাপ-ভাল মতামত দিন