• বুলবুলভাজা  আলোচনা  বিবিধ

  • মজুররত্ন

    তন্বী হালদার লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | বিবিধ | ১৪ এপ্রিল ২০২০ | ৯২৭ বার পঠিত
  • জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
  • উঁয়ার লাজ লাই গো, মেয়া মানষের লাজ গেলে কী থাকে? বেহায়া বেহদ্দ মেয়াছেল্যা। থপথপিয়া হেইসা চেয়ারাখানা লিয়ে কামে আসছেক বটে। কিমন বিটি-ছালা লাগে উটি। মেয়ালোক হেট্টে গেলে কেমন সোন্দর গতরখানা লড়বে-চড়বে। বুকখানা উঠানামা হবেক, পাছাখানা ওঠানামা হবেক, তবে না মেয়ামানুষ!

    যার সম্পর্কে এত কথা হচ্ছে সে আমাদের বাতাসিয়া। বাতাসিয়া সোরেন। বীরভূমের নলহাটির সুজাউদ্দিনের পাথর খাদানের অন্যতম কামিন। এইসা তালগাছের মতো লম্বা, চৌকো মুখ, চওড়া চোয়াল। খুদে খুদে চোখ, চ্যাপটা নাক, পুরু ঠোঁট। হাত, পা, সমস্ত শরীরটা আখাম্বা ধরনের। ইস্পাতের মতো শক্ত। মাথা ভরতি পাথরের ধুলোমাখা রুক্ষ চুল। চওড়া আর মজবুত হাতের পাঞ্জা দেখলে ভয় খেয়ে যাবে যে-কোনো মরদ। ত্যারাবেঁকা পায়ের আঙুল সহ একজোড়া কলাপাতার মতো পায়ের পাতা। গায়ের রংটা কালো না ফরসা এখন আর বোঝা যায় না। পাথর গুঁড়োর ধুলো মাখতে মাখতে ধূসর মলাটে ঢাকা। দেহাতি শাড়িগুলো আড়ে বেড়ে কোনোটাতেই আসে না বলে লুঙ্গির মতো করে শাড়িটা পেঁচিয়ে পরে। ওপরে ছেলেদের শার্ট বা গেঞ্জি। এমন পোশাকে শরীরের লালিত্য বলে যে তার কিছু আছে তা আর বোঝা যায় না।

    খাদানের কুলি-কামিনরা সকলেই বিড়ি খায়। বাতাসিয়াও তাই ফুঁক ফুঁক করে কাজের ফাঁকে বিড়ি টানে। মাঝে মাঝে সুজাউদ্দিনের কাছে সিগারেটও চায়। সলজ্জ মুখে বলে – এ মালিক সিগারেট কি তুই একাই খাবি? দে না কেনে একটা।

    সুজাউদ্দিন মানুষটা মন্দ না, সমুদ্রের ফেনার মতো টাকা উপচে পড়লেও ইদ, দুর্গাপুজো, মারাংবুরুর পুজোয় মন খুলে খরচ করে। সবাইকে পেট ভরে মাংস-ভাত খাওয়ায়। বছর দুই আগে হজ করে এসেছে। হাজি মানুষের বিষয়-আশয়ে মন দেওয়া চলে না। কিন্তু দিনকালের গুরুপাক আল্লাতালাও বোঝেন। বাতাসিয়ার প্রতি স্নেহ-মমতা ছিল একটু বেশিই। তা থাকবেই না বা কেন। বাতাসিয়ারা তিন পুরুষ এই খাদানের সঙ্গে জড়িয়ে। এখানকার আদিবাসী ঘরের মেয়েরাও কাজ করে এই খাদানে। কিন্তু বাতাসিয়ার ব্যাপারটা একটু অন্য। বাতাসিয়ার মা ঝুমিয়া ছিল বড়ো জেদি মেয়েমানুষ। এখানে মেয়ে-মরদ সকলেই কাজের ফাঁকে একটু-আধটু লটরপটর করে। ঢলাঢলি গলাগলি না থাকলে মন মজে নাকি এই পাথরের রুখাশুখা কাজে! রস তাই নিজেরাই তৈরি করে নেয়। আদিরস। কিন্তু ঝুমিয়া সোরেনের চরিত্রটা খানিকটা এক বগ্‌গা ফনফনে লাউডগার মতো। পরপুরুষ তো পড়ে মরুক নিজের মরদও সোহাগ করবার সময় সামলে থাকে। খিস্তি করে না। হাঁড়িয়া খেয়ে মুখে তেঁতুল-টকো গন্ধে টকসে থাকে না। তা বাপু এতে তো আর পাথর খাদানে কাজ করা পুরুষের দেহে-মনে সুখ আসে না। তারা আদিরসের সঙ্গে আদিম ব্যবহারই পছন্দ করে। এহেন ঝুমিয়া নামে মেয়েমানুষটাকে খুব স্বাভাবিক কারণেই মনে ধরেনি মাথুরের। বাতাসিয়ার জন্মের কিছুদিন আগে রঙ্গোলি নামে পানের রসে ঠোঁট চুবানো কামিনটার সঙ্গে ভাব হয় মাথুরের। বাতাসিয়াকে পেটে নিয়েও পাথর ভাঙার কাজ করত ঝুমিয়া। সব কামিনকেই করতে হয়। তবে ঝুমিয়া কী কারণে যেন একবার সুজাউদ্দিনের বাড়ি গিয়েছিল। তখন টিভিতে দেখেছিল পেটমোটা চিকন চেহারার একটা মেয়েলোক শাড়ির ওপর নিজের পেটে হাসি মুখে হাত বোলাচ্ছিল। মেয়েমানুষটার হাসিতে যেন সুখের তেল চোঁয়ানো ছবি। একটা ব্যাটাছেলে, বউটার টিভির স্বামী মনে হয়, বউটার পেটটায় কান রেখে হাসি মুখে বউটার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। টিভির ভেতর থেকে কথা ভেসে আসে গর্ভবতী মাকে সুখে রাখা, বিশ্রামে রাখার দায়িত্ব তার পরিবারের। মনে রাখবেন এই মায়ের মধ্যে লুকিয়ে আছে ভবিষ্যতের বীজ। টিভিতে অন্য ছবি দেখানো শুরু হয়ে গেলেও হাঁ করে তাকিয়ে ভাবছিল ঝুমিয়া – ইমনটা কীভাবে হবেক বটে?

    ঝুমির স্বভাবের জন্যই মাথুরের সঙ্গে ভাবসাব তেমন জমেনি। সুজাউদ্দিনের বাবার সময় থেকে খাদানে মজুররত্ন পুরস্কার চালু হয়। এতে কাজের গতি থাকে। পুরস্কার খুব লোভনীয়। নগদ পাঁচ হাজার টাকা, নতুন জামাকাপড় আর কোনো উৎসবের ছুতো ধরে দেদার মদ-মাংস খাওয়া। সুজাউদ্দিনের সময় এই প্রথায় চমক লেগেছে - টাকার পরিমাণ বেড়ে দশ হয়েছে। সঙ্গে চায়না সেটের মোবাইল। জামাকাপড় খাওয়া-দাওয়া ওই একই আছে। খবরের কাগজের বাবুরা আসে, ছবি তোলে। কাজে গতি এবং ফাঁকি কমানোর জন্য মজুররত্ন পুরস্কার এখন খুবই জনপ্রিয়। ঝুমিয়ার বাবার ঘর ম্যাসাঞ্জোরের ড্যাম ঘেষে ঝাড়খণ্ড সীমানায়। সেখানে ঝুমিয়া ইটভাটায় কাজ করত। ওখানে এমন ব্যাপার-স্যাপার কেউ জন্মেও শোনেনি। তাই শ্বশুর ঘরে পা দিতে না দিতে খাদানে কাজ করতে গিয়ে এমন লোভনীয় পুরস্কারের হাতছানি ঝুমিয়ার মনে ভরা বর্ষার ম্যাসাঞ্জোরের ড্যামের লকগেট খোলার মতোই খুলে গিয়েছিল। মনের ভেতর উড়াল দিয়েছিল ড্যামের ওপরে ঝাঁকে ঝাঁকে যে সবুজ টিয়াগুলো ওড়ে তাদের ভেতরকার খুশির মাতন। মাথুর তার মনে যত না জায়গা করতে পেরেছিল তার থেকে অনেক বেশি জায়গা করে নিয়েছিল মজুররত্ন পুরস্কারের লোভনীয় হাতছানি। অবশ্য কোনো কামিন কখনও খাদানে মজুররত্ন পায়নি। ঝুমি তাই পণ করেছিল সে মজুররত্ন হবে। মন দিয়ে কাজ করত ঝুমি। কামিনরা খাদানে নামে না। তারা সাধারণত ওপরে পাথর ভাঙার কাজ করে। ডিনামাইট দিয়ে পাথর ফাটানো হলে অনেক পাথরের টুকরো দূর দূর ছড়িয়ে যায়। সেগুলো বয়ে আনা। এনে ক্র্যাশারে দেওয়া। ক্র্যাশার থেকে চালুনি ছেঁকে ছেঁকে নানা সাইজের পাথর বার হয়। সেগুলোকে এক জায়গায় জড়ো করা। বেলচা করে পাথর তুলে ঝুড়ি ভরতি পাথর লরিকে লরি ভরতি করা। কিন্তু ঝুমিয়া নামত খাদানে। মাথুর পছন্দ করত না। অশান্তি লাগাত। ঘরে ফিরে চিৎকার করত – হ্যাঁ রে তু কিমন বেহায়া মিয়াছেলে বটে? খাদানের পেটভরতি মরদলোক ছিক ছিক করে, উঁয়াদের সুঙ্গে গতর না শুঁকে কাম করতি পারিস লাই? ঝুমিয়া মুখ বুজে থাকত। কারণ সে তখন মনে মনে একটাই স্বপ্ন দেখত - সে মজুররত্ন হয়েছে। তার স্বপ্নের রঙিন ঘুড়িটায় ফানুস বেঁধে উড়িয়ে দিত অনেক উঁচুতে। কেমন সুন্দর ঘুড়িটা বনবন করে উড়ে যেত আর ফানুসের আলোটা যেন তাকে হাতছানি দিয়ে ডাকত – আয় রে ঝুমিয়া, তু এখন মজুররত্ন বটে। তুর ছবি ছাপবেক কলকেতার কাগজওয়ালারা। তুকে লোকে বাহবা দিবেক।

    সাহসে ভর দিয়ে এক রাতে মাথুরকে বলে – সুবে সুবে বিহা হইয়েছে, টুকুন দেরি করে নুনা-নুনু নিলি হত না? মাথুর তখন কামনার শীর্ষে। ঝুমিয়ার মতেই তার মত। জড়ানো গলায় বলে – হ তু যা বলবি তাই হবেক। মাথুর যখন ঝুমিয়ার শরীরটা দলে-মলে ধনুকের মতো বাঁকিয়ে নিয়েছে ঝুমিয়া তখন মনে মনে ভাবছে - কাল স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে নার্স দিদির সঙ্গে দেখা করবে। কিন্তু কপাল গুণে ঝুমিয়ার গর্ভে সে রাতেই বীজ বপন হয়ে যায়। সুজাউদ্দিন ঝুমিয়াকে স্বপ্ন দেখিয়েছিল – মন দিয়ে কাজ কর ঝুমি। আমার তো মনে হয় তুই এ বছর মজুররত্ন পাবি। তখনও ফানুসবাঁধা ঘুড়িটার স্বপ্ন দেখেছিল ঝুমিয়া। কিন্তু ক-মাস যেতে না যেতেই স্বপ্নের ঘুড়িটা লাট খেয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে খাদানের পাথরের ওপর। বাতাসিয়ার জন্ম দেয় ঝুমিয়া। মজুররত্ন পুরস্কার পাওয়া আর হল না ঝুমিয়ার। বাতাসিয়াকে পিঠে বেঁধে খাদানের ভেতর নামতে গিয়ে পা হড়কে যায়। সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে পড়ে পা ভাঙে। সুজাউদ্দিন গাড়ি করে সিউড়ি সদর হাসপাতালে এনেছিল। ডাক্তার দেখে বলে কমপাউন্ড ফ্র্যাকচার। ছ-মাস ভুগল ঝুমিয়া। এই ছ-মাসে তার জীবনের সাংঘাতিক দুটো রাসায়নিক পরিবর্তন হয়ে যায় - মাথুর রঙ্গোলি নামে মেয়েটাকে নিয়ে রাঁচিতে গিয়ে ফের ঘর বসত করে এবং তার ঝুমিয়া নামটা আশ্চর্যজনকভাবে বদলে গিয়ে খোঁড়া ঝুমি হয়ে যায়।

    খোঁড়া ঝুমির খাদানের ভেতর নামার স্বপ্ন চিরতরে ঘুচে গেছে। মোটা একটা সোনাঝুরি ডাল নিয়ে খোঁড়াতে খোঁড়াতে আসে। বসে বসে পাথর ভাঙে আর ফি বছর চেয়ে চেয়ে দেখে লখু মুদি, নোরেল হেমব্রম, চঞ্চু সোরেনরা মজুররত্ন হচ্ছে। বাতাসিয়ার ছোটো ছোটো হাতদুটোয় পাথর তুলে দেয়। বাতাসিয়া খেলা ভাবে। ঝুমিয়া তখন আর একটুকরো দেয়। রুটি দেখায়, আখের গুড় দেখায়, মণ্ডা খাওয়ার লোভ দেখায়। বলে - লে লে তুল বিটুয়া, পাথর তুল ...।

    সুজাউদ্দিন দেখতে পেয়ে একদিন ধমক দিয়েছিল — কী হচ্ছেটা কী ঝুমিয়া, মেয়েটাকে ওইভাবে কষ্ট দিচ্ছিস কেন? মাথাটা খারাপ হয়ে গেল নাকি?

    হাসে ঝুমিয়া – কী করবেক মালিক, কামিনের বিটি কামিন হবেক। তো ট্রেনিংটো লাগবেক বটে।

    খোঁড়া ঝুমির নামের আগে নতুন বিশেষণ বসে - পাগলি খোঁড়া ঝুমি। ঝুমিয়ার তাতে অবশ্য হেলদোল নেই। সে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাতাসিয়াকে রোদে খেলতে দেয়। মুষলধারে বর্ষায় বলে – আ আ বিটুয়া বিষ্টির জলে হামরা সান করি না কেনে। বাতাসিয়া মজা পায়। আর ঝুমিয়া দেখতে পায় ভবিষ্যতের মজুররত্নকে।

    বাতাসিয়ার বিয়ের কথা ভাবেনি ঝুমিয়া। মেয়ের কানে বীজমন্ত্র দিয়েছিল - হ আগে তু মজুররত্ন বনে যা, তারপর বিহা। রোদে পোড়া, জলে ভেজা পোড় খাওয়া বাতাসিয়ার শক্তপোক্ত শরীরটা একা দুজন কুলির কাজ করে দিতে পারে। ঝুমিয়া একদিন সুজাউদ্দিনকে বলে – কী গো মালিক, বিটুয়া হামার কিমন কামিন বটে? মেয়ের গর্বে চোখের পাতা তিরতির করে কাঁপে ঝুমিয়ার। সুজাউদ্দিন হেসে সাদা দাড়িতে হাত বুলিয়ে বলে – ফাস্ট কেলাস।

    ঝুমিয়া লাঠি ধরে ঝুঁকে পড়ে – তবে ইবার মজুররত্ন পুরস্কারডো উইতো পাবেক? সুজাউদ্দিন ঘাড় নাড়ে - পাবে।

    না। মজুররত্ন পুরস্কার বাতাসিয়ারও পাওয়া হয়নি। কী করে যেন ফিশফাশ গুঞ্জনে শিমুল তুলোর মতো বাতাসে ভেসে গিয়েছিল - পাগলি খোঁড়া ঝুমির বিটি বাতাসিয়া এবার জোয়ান মরদ কুলিদের সব টেক্কা দিয়ে মজুররত্ন হবে। এমন বিষয় মেনে নিতে পারেনি কেউ। একদিন সন্ধ্যার পর কাজ থেকে ফেরবার সময় একদল মুখে কাপড় বাঁধা পুরুষ ছিন্নভিন্ন করে দেয় বাতাসিয়াকে। খোঁড়া ঝুমির বাতাসিয়াকে মজুররত্ন বানানোর স্বপ্ন ফের চিরতরে ঘুচে যায়। বাতাসিয়া এখন খুদে খুদে চোখ জোড়ায় ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকে। খাদানে এমন ঘটনা মাঝেসাঝে ঘটে। তাই হইচই একটু কমই হয়। তা ছাড়া বাতাসিয়া তো বোবা হয়ে গেছে। ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকে আর নাল ঝরে, শুধু বসে বসে পাথর ভাঙে।

    বাতাসিয়া মা হতে চলেছে খবর পেয়ে ছুটে এসেছিল সুজাউদ্দিন। ঝুমিয়াকে রেগে গিয়ে বলেছিল – ওকে হাসপাতালে নিয়ে যা। যা খরচা লাগে আমি দেব।

    মাথা নেড়েছিল ঝুমিয়া – না মালিক। মারাংবুরু জীবন দেয়। নেয় না বটে।

    নির্দিষ্ট সময় বাতাসিয়া একটা মেয়ের জন্ম দেয়। বাচ্চা দেখতে ঝুমিয়ার দাওয়ায় উপচে পড়ে ভিড়। মেয়ে দেখতে এসে কুলি মরদগুলো যেন প্রত্যেকেই নিজের মুখের সঙ্গে মিল খুঁজে পায় বোবা বাতাসিয়ার মেয়ের। ভয়ে ভয়ে তাকায় বাচ্চাটার দিকে।

    ঝুমিয়া আর বাতাসিয়া এখন দুজনেই পাথর ভাঙার কাজ করে। ওদের দুজনের মাঝখানে বড়ো একটা ঝুড়ি দিয়ে ঢাকা থাকে বাতাসিয়ার বাচ্চাটা। মাঝে মাঝে ঝুমিয়া ঝুড়িটা তুলে ওকে রোদ খাওয়ায়। বাতাসিয়ার বুকের কাছে ধরে দুধ খাওয়ায়। আজকাল বিভিন্ন এনজিও থেকে দিদি-দাদারা আসে। খবরাখবর নেয় কুলিকামিনদের। ওষুধ দেয়। ছবি তোলে। হাসে। পরামর্শ দেয়। তা এমন একদিন হঠাৎ একটা এনজিও দলের লোকেরা এসে কাজ দেখে সকলের। ঝুমিয়া, বাতাসিয়ার কাছে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে থমকে যায়। কৌতুক ভরে জিজ্ঞাসা করে - এই, তোমাদের মাঝখানে অতবড়ো ঝুড়িতে কী ঢাকা ওটা?

    গোঁ গোঁ শব্দ বার হতে থাকে বাতাসিয়ার গলা দিয়ে। পাথরের গায়ে হাতুড়ির আঘাত দ্বিগুণ লয়ে পড়তে থাকে। চোখ দিয়ে আগুন যেন ঠিকরে বার হতে চায়। আর ঝুমিয়া সোনাঝুরির ডালটায় ভর দিয়ে ওদের সামনে এসে দাঁড়ায়। দাঁতে দাঁত ঘষে বলে — তুরা জানিস না উটি কি? উটি এ খাদানের মজুররত্ন বটে।

    তন্বী হালদারের গল্প সংগ্রহ "মজুররত্ন" থেকে ( https://www.guruchandali.com/book.php?&page=৪ )
  • বিভাগ : আলোচনা | ১৪ এপ্রিল ২০২০ | ৯২৭ বার পঠিত
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • একলহমা | ১৬ এপ্রিল ২০২০ ০০:৫৬92369
  • এ গল্প-ও রত্ন বটে! 

  • রুমেলা | 162.158.159.49 | ২৮ এপ্রিল ২০২০ ১৫:৫৮92765
  • বড্ড ভালো লাগলো গল্পটা

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। পড়তে পড়তে মতামত দিন