• হরিদাস পাল
  • খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে... (হরিদাস পাল কী?)
  • দর্শনের চোখে সময় (দ্বিতীয় পর্ব)

    পিনাকী ভট্টাচার্য
    বিভাগ : আলোচনা | ০১ এপ্রিল ২০২০ | ৩৯৮ বার পঠিত
  • আগে যা লিখেছিঃ https://www.guruchandali.com/comment.php?topic=১৭২৯৬

                  প্রথম পর্বে আমরা কান্টের দৃষ্টিতে সময়কে দেখেছি। সেখানে দেখেছি কি ভাবে, কি যুক্তিতে সময় কে অবাস্তব হিসাবে তুলে ধরা হয়েছে। সময় অবাস্তব এ শুধু কান্ট, হেরিক্লেটাস বা জেনোর কথা নয়, বৃটিশ দার্শনিক জন ম্যাকট্যাগার্ট ও মনে করতেন সময় অবাস্তব, কিন্তু সময়ের মূলগত বাস্তবতা কে তিনি অস্বীকার করেননি। এই কারণেই এই পর্বে বিংশ শতকের  হেগেলিয়ান ঘরানার এই ভাববাদী তত্ত্ববিদের যুক্তির আলোতে সময় কে একবার দেখতে চাইব।  


                 ম্যাকট্যাগার্টের সর্বশ্রেষ্ঠ কাজ  ‘দ্যা নেচার অব একজিসটেন্স’। এর প্রথম খণ্ড ১৯২১ সালে এবং দ্বিতীয় খণ্ড ১৯২৭ সালে তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়। এই নেচার অব একজিসটেন্সের দ্বিতীয় খণ্ডে কালের অবাস্তবতার সপক্ষে অনেক যুক্তি তিনি খাড়া করেছেন, যদিও সময়কে নিয়ে তার চিন্তা ভাবনা অনেক আগে থেকেই ছিলও। ১৮৮৯ সালের জুন মাসে  রজার ফ্রেয়ের কাছে লেখা চিঠিতে  সময় ‘দূরীকরণ’ সম্পর্কে তার কিছু চিন্তাভাবনার কথা তিনি লেখেন, এমন কি ১৮৯৬ তে স্টাডিজ ইন দ্য হেগেলিয়ান ডায়াল্যাক্টিকেও সময়ের অবাস্তবতা প্রমাণের স্বপক্ষে একটি যুক্তি রাখেন, যদিও যুক্তিটি  ১৯০৮ সালে  মাইন্ড নামক জার্নালে  প্রকাশিত "দ্য আনরিয়ালিটি অফ টাইম" এর থেকে ভিন্ন। একথা অনস্বীকার্য যে নানা বিতর্ক সত্ত্বেও, "দ্য আনরিয়ালিটি অফ টাইম" লেখাটি পরবর্তী প্রজন্মের বিশ্লেষণাত্মক অধিবিদ্যকদের উপর ভয়ঙ্কর প্রভাব ফেলে।


     ম্যাকট্যাগার্টের A B C সিরিজ:


         ম্যাকট্যাগার্টের মূল কথা হল সময় কোনও বাস্তবতার অংশ নয়। তিনি তার দ্য আনরিয়ালিটি অফ টাইমের শুরুতেই এটা স্বীকার করে নেন যে তার আগেও স্পিনোজা, কান্ট, হেগেল এবং শোপেনহাওয়ার এই কথা বলে গেছেন, যদিও তার দেওয়া যুক্তি গুলি তাদের থেকে ভিন্ন।তিনি তার বিশ্লেষণে সময়ের দুই রকম ধারনা দেন, অর্থাৎ তিনি বলতে চান আমরা দুই ভাবে সময় কে ভাবতে পারি। প্রথম ধারনায়  সময় প্রবহমান,  সে  অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ এই তিন ভাগে আমাদের কাছে ধরা দেয়। তিনি এর পোশাকি নাম নাম দেন A সিরিজ। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে যে অভিজ্ঞতা হয় তা অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ তিনকালেরই উপস্থিতি জানান দেয়। তাই সময়ের A সিরিজ প্রয়োজন  পরিবর্তনের  যুক্তি থেকে, কারণ  পরিবর্তন ঘটলে তবেই সময় কে বুঝতে পারি, আবার ম্যাকট্যাগার্টের কথায় A  সিরিজ থাকলেই পরিবর্তন হয়ে থাকে,  সুতরাং  A সিরিজ থাকলেই সময়ের বাস্তব রূপটি পাওয়া যাবে। ম্যাকট্যাগার্টের দ্বিতীয় ধারনায় সময় ক্রিয়া-কাল হীন, এখানে অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যতে নয়, ঘটনা গুলি শুধু কে কার আগে কে কার পরে এই ভাবেই নির্ধারিত হয়। এর নাম  B সিরিজ। B সিরিজে ঘটনার অবস্থান গুলি সুস্পষ্ট ও স্থির, কারণ ক ঘটনার পরে খ ঘটনা বললে তা কালের রেখায় নির্দিষ্ট স্থান বোঝায়। কপিলদেবের ভারত বিশ্বকাপ জেতার পর ধনির ভারত বিশ্বকাপ জেতে, এটা স্থির। এই কারণেই ম্যাকট্যাগার্ট মনে করতেন কালের ধর্ম B সিরিজ এ ধরা পড়ে না। এ যেন আলমারিতে বই সাজিয়ে রাখার মতো, স্থির, সচল নয়, পরিবর্তনের কোনও আভাস এখানে নেই, বরং পরিবর্তনের রূপরেখা A সিরিজেই দেখা যায়, কারণ তা কথা বলে অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ এই তিন ভাগ অনুযায়ী।ফ আচ্ছা এমন কি সম্ভব যে B সিরিজ তৈরি হচ্ছে কিন্তু A সিরিজ নয়? অর্থাৎ আমরা ধরে নিচ্ছি যে অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যতের পার্থক্য বাস্তবে প্রযোজ্য না। তাহলে কি দাঁড়াল? একটি ঘটনা, সেই ঘটনা হিসাবেই থেমে যাচ্ছে, শেষ হয়ে যাচ্ছে আর আবার অন্য একটি ঘটনার থেকে সেই ঘটনা শুরু হচ্ছে। কিন্তু এটা  সম্ভব নয়।  একটা ঘটনা একটি ঘটনায় শেষ হতে পারে না কারণ কোনও ঘটনা যখন সিরিজের মধ্যে চলে আসে তখন সে আর এলে তা বেরিয়ে আসবে কি করে? ‘খ’ যদি ‘গ’ এর আগে আর ‘ক’ এর পরে হয় তবে এটি সর্বদা সেখানেই থাকবে।ফলত গুণগত দিক থেকে B সিরিজ বস্তুনিষ্ঠ(objective)হলেও, তা কখনোই মূলগত (fundamental) নয়।



       সময় কেনও বিভ্রম?:


             এখন যা অতীত কিছুক্ষণ আগে তাই ছিল বর্তমান, আবার তার আগে সে ছিল ভবিষ্যৎ।  ধরাযাক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যু -এর বৈশিষ্ট্যগুলিতে কি পরিবর্তন ঘটতে পারে। এটি একটি মৃত্যু, এর কারণ রয়েছে,ইত্যাদি- এই ধরণের প্রতিটি বৈশিষ্ট্য কখনই পরিবর্তিত হয় না, কিন্তু অন্য এক দিক থেকে পরিবর্তন হয়। এক সময় যা ছিল সুদূর ভবিষ্যতের একটি ঘটনা প্রতি মুহূর্তে সেটি নিকট ভবিষ্যতের একটি ঘটনায় পরিণত হচ্ছিল। তারপর একসময় সেটি উপস্থিত হয়েই অতীত হয়ে ওঠে,সর্বদা অতীত থাকে এবং ক্রমে আরও অতীত হয়ে যায়। এই ব্যাখ্যা দর্শক নিরপেক্ষ নয়, কারণ এখন বর্তমান, এটা বলার জন্য একজন বক্তা চাই। 


                  সময়ের অযৌক্তিকতা প্রমাণ করার জন্য ম্যাকটেগার্ট দুটি থিসিস উপস্থাপন করেন, যার একটি ইতিবাচক এবং অন্যটি নেতিবাচক থিসিস। ইতিবাচক থিসিস অনুযায়ী  সময় যদি সর্বদা বিদ্যমান থাকে, তবে তাকে অবশ্যই A সিরিজ এর সাথে জড়িত থাকতে হবে, কারণ A সিরিজ না থাকলে পরিবর্তন এর ধারনাটি আসেনা, যা আগেই বলা হয়েছে। এখন নেতিবাচক থিসিস বলছে যেহেতু A সিরিজ দুটি  অনুসিদ্ধান্তর উপরে দাড়িয়ে ১) যে কোনও ঘটনা একই সঙ্গে অতীত এবং ভবিষ্যৎ হতে পারেনা,(কারণ সেই ক্ষেত্রে দর্শকের দ্বৈত অবস্থান মানতে হয়) এবং ২) যদি কোনও ঘটনা অতীত, ভবিষ্যৎ বা বর্তমান এর একটি হতে পারে তবে সে অন্যটিও হতে পারবে( না হলে সময়ের প্রবাহ বুঝব কি করে), যেমন আমার মাধ্যমিক দেওয়াটা আমার জন্মের সাপেক্ষে  ভবিষ্যৎ , কিন্তু আজকের সাপেক্ষে অতীত। এখন যেহেতু  অনুসিদ্ধান্ত দুটি পরস্পর কে অস্বীকার করছে, সেই কারণে এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ধারণা দুটি তাত্ত্বিকভাবে কার্যকর নয় তাই A সিরিজের অস্তিত্ব নেই কারণ এটি একটি স্ববিরোধী ধারণা। এখান থেকে ম্যাকটেগার্ট প্রাথমিক ভাবে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে সময়  আমাদের উপলব্ধি থেকে উদ্ভূত একটি বিভ্রম ছাড়া আর কিছুই নয়।


     এ আবার কেমন কথা?:


            প্রাথমিক ভাবে মনে হতে পারে এ কেমন যুক্তি?এখানে তো কোনও স্ববিরোধীতা নেই। অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ তো কোনও ঘটনার উপর একসঙ্গে প্রযোজ্য হচ্ছে না, কোনও ঘটনাকে একসাথে অতীত,বর্তমান,ভবিষ্যৎ দেখানো হলে নাহয় স্ববিরোধীতার কথা ভাবা যেত, কিন্তু এখানে তো তেমন কিছু হচ্ছেনা।তাহলে কি  ম্যাকটেগার্টের যুক্তি ত্রুটিপূর্ণ? একটু তলিয়ে দেখলে দেখা যাবে এই ত্রুটি কে প্রতিষ্ঠা করা মুশকিল, কারণ তা করতে গেলে একরকম অনবস্থা দোষের(Fallacy of never-ending) সৃষ্টি হবে। কি এই অনবস্থা দোষ?  সহজ কথায় যে সব কল্পনার বিশ্রান্তি নেই, একটি ধারণা কে প্রতিষ্ঠা করতে সেই ধারণাই যদি বারবার ফিরে আসে  এই ধারা  কখনও শেষ হয়না, এটাই অনবস্থা। সে যাই হোক,  প্রশ্ন আসবে এই দোষ  এখানে  কি ভাবে আসছে? একটা উদাহরণ নেওয়া যাক। একটি বাচ্চা স্কুলে ভর্তি হলও।এখন অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ এই তিন কাল নিশ্চয়ই যুগপৎ এই ঘটনায় প্রযোজ্য হবে না, কাল গুলি এসেছে পরপর(successively)। বাচ্চাটির জন্মের ক্ষণের সাপেক্ষে বিদ্যালয়ে ভর্তিটি ভবিষ্যৎ, আবার প্রথম শ্রেণিতে পড়ার সাপেক্ষে স্কুলে ভর্তির ক্ষণটি অতীত। এবার মনে হতেই পারে “বিদ্যালয়ে ভর্তি” এই বিষয়টা একসাথে তো আর “তিনকাল” কে ছুঁতে পারছেনা, তাহলে ম্যাকটেগার্টের যুক্তি এখানে খাটবে না।কিন্তু ম্যাকটেগার্ট কে খণ্ডন করতে গিয়ে একটা পূর্ব স্বীকৃতির হাত আমাদের ধরতেই হবে, সেটি হলও ক্ষণ(moment)। আমরা বলছি বিভিন্ন ক্ষণে ঘটনা গুলো ঘটছে।কিন্তু ক্ষণের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে এক কাল ধর্ম। তাই ক্ষণকে স্বীকার করার মানেই হলও কালগত ধর্ম কে স্বীকার করা, আর কালের ধর্ম বহন করে A সিরিজ। এটাই এই ক্ষেত্রের অনবস্থা দোষ। A সিরিজ কে খণ্ডাতে গিয়ে তার কাছেই আবার ফিরে আসা, প্রথম স্ববিরোধ ঘটনা(event)কে কেন্দ্র করে আর তাকে খণ্ডাতে গিয়ে স্ববিরোধ হলও ক্ষণ(moment)কে কেন্দ্র করে। A সিরিজের হাত থেকে নিস্তার নেই।


          ম্যাকটেগার্টঃ কোথায় আলাদা?:


                 সময় অবাস্তব, এ কিন্তু শুধুই ম্যাকটেগার্টের কথা নয়, কান্ট ও মনে করতেন  সময় বাস্তবতার অংশ নয়।ম্যাকটেগার্ট কিন্তু কান্টের ঘরানার সঙ্গে যথেষ্ট পরিচিত  ছিলেন, তাহলে প্রশ্ন আসবে ম্যাকটেগার্ট কি সময়কে একই দৃষ্টিকোণ থেকে "অবাস্তব" বলে দাবি করলেন ? এর সহজ উত্তর না, আসলে ম্যাকটেগার্টের“সময় অবাস্তব” হেগেলিয়ান দৃষ্টিকোণ থেকে বলা, তাই সময় কে অবাস্তব বললেও তার মূলগত)underlying) বাস্তবতা কে স্বীকার করে। কান্টের মতে সময় একটি জ্ঞানীয় গঠন (cognitive construct) যা বাস্তবতার উপর চাপানো বা আরোপ করা, যাকে কান্ট  “the ‘flux’ of representations in inner sense” বা  “succession of states of consciousness” বলেছেন।ফলে কান্টের ভাবনা  ঘটনা সম্পর্কে ম্যাকট্যাগার্ট এর বাস্তবতার চিন্তা কে প্রত্যাখ্যান করে, কারণ ম্যাকট্যাগার্ট মনে করতেন সময় যদি আদৌ কিছু হয় তবে তা মূলত মনের প্রভাবের ফল। এ যেন এক বিষয়গত প্রহেলিকা । তবে তার  সময় বিষয়ক এই জাতীয় সিদ্ধান্ত যে সবার মধ্যে একটা জিজ্ঞাসা তৈরি করবে তা ম্যাকটেগার্ট ভালোই জানতেন। নেচার অব একজিসটেন্সের দ্বিতীয় ভাগে এই আভাস তিনি করে গেছেন


       “..such an assertion involves a departure from the natural position of mankind … since we have no experience which does not appear to be temporal. Even our judgments that time is unreal appear to be themselves in time.”


              তিনি মনে করতেন টেম্পোরালারিটি  কখনই  মহাবিশ্বের বৈশিষ্ট্য নয় কোনও ঘটনা বা বা ঘটনার মধ্যে কোনও সম্পর্ক তা সে এই মুহূর্তেরই হোক বা বহু কাল আগের টেম্পোরালারিটি সেখানে খাটবে না। সেই কারণেই "দ্য আনরিয়ালিটি অফ টাইম" এর তিনি C সিরিজ এর ও প্রস্তাব করেন। C সিরিজ B সিরিজেরই মতো কিন্তু এখানে দিক নির্দিষ্ট নয়।তাই সিরিজ টি আদি (primitive), সকর্মক(transitive) এবং অপ্রতিসম(asymmetric), তাই তার কোনও দিক নেই। দিক পেতে গেলে  C সিরিজে A সিরিজ প্রয়োগ করতে হবে তাহলেই স্থির কিন্তু দিক যুক্ত B সিরিজ পাওয়া যাবে।


     যখনই আমরা সময় কে জানতে যাই, কোনও বিষয়ে জ্ঞাত না হয়ে সেই সময়কে বুঝতে পারা আমাদের পক্ষে সম্ভব হয় না। এখন বোঝাটা বস্তু নিরপেক্ষ হল না বলে সময়ের বোধটা সঠিক, নাকি হিসাবে গরমিল রইল তার উত্তর পাওয়া যায় না। শুধু কান্ট নয়, পরিবর্তনের বিষয়ে ম্যাকট্যাগার্ট ও রাসেলের মধ্যেও দ্বিমত দেখা যায়। যদি প্রশ্ন ওঠে সময়কে বাস্তব হতে হলে ঘটনাগুলির  কি A সিরিজ এবং B সিরিজ একসঙ্গে মেনে চলা উচিত? এ বিষয়ে ম্যাকটেগার্টের বন্ধু তথা ছাত্র বার্ট্রান্ড রাসেলের  মত ছিল


    “…past, present, and future do not belong to time per se, but only in relation to a knowing subject. An assertion that N is present means that it is simultaneous with that assertion, and assertion that it is past or future means that it is earlier or later than that assertion. Thus it is only past, present, or future in relation to some assertion.” এটা কিন্তু ম্যাকট্যাগার্টের বেঁধে দেওয়া নিয়মের বাইরে গিয়ে সময় কে বোঝার বা বলার চেষ্টা।


      পালাবার পথ নেই:


           শুধু রাসেল নন, এ জে এয়ারের মতো দার্শনিকও বুঝে ছিলেন ম্যাকট্যাগার্ট যে জায়গায় বিষয়টি কে নিয়ে গেছেন সেখানে A সিরিজ এবং B সিরিজের মধ্যে প্রভেদ কে অগ্রাহ্য করে এগোতে হবে, না হলে এই প্রহেলিকা থেকে নিস্তার নেই। কিন্তু এই কাজ অর্থাৎ ঘটনাকে শুধু “আগে পরে” করে সাজাতে গেলে আরেক ধরনের সমস্যা চলে আসে। কি সেই সমস্যা? সমস্যা টি হল এর ফলে ঘটনা গুলি পরপর সাজানো অবস্থায় স্থির থেকে যায়, তার ফলে কালের প্রবাহ আর মান্যতা পায় না। এই অবস্থায় কাল ও দেশ(space)এর মধ্যে বিভেদ রেখা মুছে যায়। কাল ও দেশ একে অপরের অনুরূপ হয়ে ধরা দেয়। এয়ার আর একটি পথের ও চিন্তা করেন। তিনি বর্তমানত্ব (being present) কে নতুন করে এমন ভাবে ব্যাখ্যা করতে চাইলেন  যাতে কাল ধর্মের পরাশ্রয়বৃত্তি থেকে সে মুক্তি পায়।এর একটা সহজ উপায় হলও বর্তমানত্ব কে প্রদর্শনাত্বক ধর্ম(demonstrative property)বলে সংজ্ঞায়িত করা। এই পথে চললে বাকি সব ঠিক থাকলেও সমস্ত ঘটনা ব্যক্তি সাপেক্ষ(subjective) হতে বাধ্য। কারণ যখনই কেউ “এখন”(now) কথাটা বলবে তখন এই প্রশ্ন করা যাবেনা যে “এখন” বলতে “কখন”?  এই “এখন” এর বক্তা সে ছাড়া আর কারোর কথাই গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ এই “এখন” আসলে একটি বিন্দুমাত্র, তাই ঘটনা ব্যক্তি সাপেক্ষ হতে বাধ্য। তাহলে ঘটনার বিষয়-নিষ্ঠ(objective)ব্যাখ্যা কি পাওয়া যাবে না? পাওয়া যাবে তবে বোঝাই যাচ্ছে এই ক্ষেত্রে ব্যাখ্যাকার কে থাকতে হবে কালধারার বাইরে, যা কিনা অসম্ভব।


       এই আলোচনা থেকে দেখা গেলো ম্যাকট্যাগার্টের দেওয়া মডেল কে পাশ কাটাতে গেলে সময়ের ধর্ম গুলিকে ঠিকঠাক রাখা যাচ্ছেনা। এ যেন খেলায় জিততে গিয়ে ক্রমাগত খেলার নিয়ম পাল্টাতে গিয়ে খেলাটাকেই পাল্টে ফেলা।এটাই হয়তো ম্যাকট্যাগার্টের A,B,C সিরিজের মজা।

  • বিভাগ : আলোচনা | ০১ এপ্রিল ২০২০ | ৩৯৮ বার পঠিত
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • Rajkumar Raychaudhuri | 162.158.167.185 | ০২ এপ্রিল ২০২০ ২২:১৫91973
  • সময়ের অযৌক্তিকতা প্রমাণ করার জন্য ম্যাকটেগার্ট দুটি থিসিস উপস্থাপন করেন, যার একটি ইতিবাচক এবং অন্যটি নেতিবাচক থিসিস। ইতিবাচক থিসিস অনুযায়ী সময় যদি সর্বদা বিদ্যমান থাকে, তবে তাকে অবশ্যই A সিরিজ এর সাথে জড়িত থাকতে হবে, কারণ A সিরিজ না থাকলে পরিবর্তন এর ধারনাটি আসেনা, যা আগেই বলা হয়েছে। এখন নেতিবাচক থিসিস বলছে যেহেতু A সিরিজ দুটি অনুসিদ্ধান্তর উপরে দাড়িয়ে ১) যে কোনও ঘটনা একই সঙ্গে অতীত এবং ভবিষ্যৎ হতে পারেনা,(কারণ সেই ক্ষেত্রে দর্শকের দ্বৈত অবস্থান মানতে হয়) এবং ২) যদি কোনও ঘটনা অতীত, ভবিষ্যৎ বা বর্তমান এর একটি হতে পারে তবে সে অন্যটিও হতে পারবে( না হলে সময়ের প্রবাহ বুঝব কি করে), যেমন আমার মাধ্যমিক দেওয়াটা আমার জন্মের সাপেক্ষে ভবিষ্যৎ , কিন্তু আজকের সাপেক্ষে অতীত। এখন যেহেতু অনুসিদ্ধান্ত দুটি পরস্পর কে অস্বীকার করছে, সেই কারণে এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ধারণা দুটি তাত্ত্বিকভাবে কার্যকর নয় তাই A সিরিজের অস্তিত্ব নেই কারণ এটি একটি স্ববিরোধী ধারণা। এখান থেকে ম্যাকটেগার্ট প্রাথমিক ভাবে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে সময় আমাদের উপলব্ধি থেকে উদ্ভূত একটি বিভ্রম ছাড়া আর কিছুই নয়।

    এই জায়গাটা বুঝতে পারলাম না। একটু ব্যাখ্যার প্রয়োজন
  • Rajkumar Raychaudhuri | 162.158.167.185 | ০২ এপ্রিল ২০২০ ২২:১৬91974
  • ফ আচ্ছা এমন কি সম্ভব যে B সিরিজ তৈরি হচ্ছে কিন্তু A সিরিজ নয়? অর্থাৎ আমরা ধরে নিচ্ছি যে অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যতের পার্থক্য বাস্তবে প্রযোজ্য না। তাহলে কি দাঁড়াল? একটি ঘটনা, সেই ঘটনা হিসাবেই থেমে যাচ্ছে, শেষ হয়ে যাচ্ছে আর আবার অন্য একটি ঘটনার থেকে সেই ঘটনা শুরু হচ্ছে। কিন্তু এটা সম্ভব নয়। একটা ঘটনা একটি ঘটনায় শেষ হতে পারে না কারণ কোনও ঘটনা যখন সিরিজের মধ্যে চলে আসে তখন সে আর এলে তা বেরিয়ে আসবে কি করে? ‘খ’ যদি ‘গ’ এর আগে আর ‘ক’ এর পরে হয় তবে এটি সর্বদা সেখানেই থাকবে।ফলত গুণগত দিক থেকে B সিরিজ বস্তুনিষ্ঠ(objective)হলেও, তা কখনোই মূলগত (fundamental) নয়।

    ইটা একটু বেশি ব্যাখ্যার দরকার
  • অমিত খামারু | 162.158.50.247 | ০২ এপ্রিল ২০২০ ২৩:২১91975
  • আলোচনা বেশ উপভোগ্য
  • করোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত