• বুলবুলভাজা  অপর বাংলা

  • চিরিরবন্দর ও অন্যান্য ঘটনা: কারও আর দায় নেই

    জলধি রায় লেখকের গ্রাহক হোন
    অপর বাংলা | ৩০ আগস্ট ২০১২ | ৪৪৭ বার পঠিত
  • ক. চিরিরবন্দরঃ জ্বলছে ভাওয়াইয়া গানের দেশ

    ভাওয়াইয়া গানের দেশ দিনাজপুর, এ দেশেরই একটা উপজেলা চিরিরবন্দর, আর চিরিরবন্দরের একটা ছোট বেচাকেনার স্থল বলাই বাজার; প্রায় ১৪টির মতো দোকানঘর আছে এই বাজারে। বাজারের আশেপাশের এলাকায় অধিকাংশই হিন্দু বসতি, আশেপাশে দুই কিলোমিটারের মধ্যে কোনো মুসলিম বাড়ি নেই। এ এলাকাতেই ৪ আগস্ট জ্বলে উঠল আগুন, পুড়ে গেল ৩০টির মতো হিন্দু বাড়িঘর।
     
    বলাইবাজারে অধ্যাপিকা হামিদা খাতুন একটা মার্কেট বানিয়েছিলেন; অধ্যাপিকার বাপের বাড়ি এই এলাকাতেই, আর তাঁর শ্বশুরবাড়ি রাজশাহীতে। মার্কেটসংলগ্ন জমিতে একটা থান ছিলো, ঠাকুরের থান। আর থানের ১০০ গজের মধ্যে একটা মন্দির, মন্দিরটা তৈরি হওয়ার আজ ৭/৮ বছর হয়ে গেল। ঠাকুরের থানটা ছিলো হামিদা খাতুনের নিজের জমির মধ্যেই। ১ বছর আগে অধ্যাপিকা সেই থানের উপরে টিন শেড দিয়ে ছোট একটা অস্থায়ী মসজিদ বানিয়েছিলেন। এলাকার হিন্দু সম্প্রদায় ঠাকুরের থানের উপরে টিনশেড দিয়ে মসজিদ বানানোর সময় কোনো আপত্তি করেন নি, করার কথাও নয়, কারণ জমিটা অধ্যাপিকার  নিজের। সম্প্রতি সেই অধ্যাপিকা টিনশেডের ছোট মসজিদটি স্থায়ীভাবে পাকা করার উদ্যোগ নেন। মসজিদের ভিত্তি খোঁড়ার কাজও শুরু হয়েছিল, কিন্তু তিনি মসজিদের একটা অংশ বানাচ্ছিলেন সংলগ্ন রাস্তার উপরে। তাঁর তৈরি মার্কেটের একটা অংশও আছে সংলগ্ন রাস্তার উপরে।

    এলাকার হিন্দু সম্প্রদায় এবার আপত্তি তোলেন, আপত্তির কারণ মসজিদটির একটা অংশ বানানো হচ্ছিল রাস্তার উপরে, দ্বিতীয় কারণ সে স্থানের ১০০ গজের মধ্যেই আছে একটা মন্দির। তাঁরা ভাবলেন, মন্দিরের পাশেই একটা মসজিদ হলে, মন্দিরে পূজার সময়, ঢাক-ঢোলের শব্দে মসজিদের কর্মে ব্যাঘাত ঘটতে পারে, এ নিয়ে কোন্দল হতে পারে। উপরন্তু মসজিদটি চলে আসছিল রাস্তার উপরে। মার্কেটের ঠিক পেছনেই অধ্যাপিকার আরো ৪ বিঘা জমি খালি পড়ে আছে, তিনি বরং কেন সেখানে বানাচ্ছেন না মসজিদ? হিন্দুরা রাস্তা বাদ দিয়ে কিংবা এও হতে পারে যে মসজিদটি সরিয়ে তৈরি করতে বলেছিল। অধ্যাপিকা মহোদয়া আপত্তি কানে তোলেন নি, 'আমার নিজের জমির উপরে আমি মসজিদ বানাচ্ছি', এরকম ছিলো তাঁর বক্তব্য।

    এ নিয়ে কোন্দল বাড়তে থাকে, বাড়তে থাকে উত্তেজনা। চিরিরবন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান, জামায়াত নেতা আফতাবউদ্দীন মোল্লা, কোন্দলের পুরোটা সম্পর্কে অবহিত ছিলেন; হিন্দু সম্প্রদায় তাঁর সঙ্গে যোগাযোগও করেছিলেন; কিন্তু তিনি কোন্দল মেটানোর কোনো উদ্যোগ নেন নি, বলাই বাজারে একবারও আসেন নি স্থানীয় জনগণের সঙ্গে কথা বলতে। অধ্যাপিকার স্থানীয় প্রতিনিধি, জনৈক বাবলু মেম্বার এবং তার দুই সহযোগী রায়হান ও রফিকুল একটা কার্ড ছাপিয়ে প্রায় ৪০০র মতো মসজিদে বিলি করে, যে কার্ডের বক্তব্য ছিলো হিন্দুরা মসজিদ ভেঙে ফেলেছে, হিন্দুদের প্রতিহত করুন। রায়হান ও রফিকুল উপজেলার ঘুঘরাতলী মসজিদের ইমাম মো. আল আমিন-এর সঙ্গেও বৈঠকে মিলিত হয়। বিভিন্ন মসজিদে মুসল্লিদের আহ্বান জানানো হয় হিন্দুদের প্রতিহত করতে। ৩ তারিখ শুক্রবার রাতে বিভিন্ন মসজিদে সকল মুসল্লিগণ করণীয় ঠিক করার জন্য মিলিত হন।

    প্রচারিত হয়, হিন্দুদের দেখে নেওয়া হবে। এ অবস্থায় চিরিরবন্দর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মো. রশিদুল মোন্নাফ কবীর, যিনি জামায়াত সংশ্লিষ্ট হিসাবে পরিচিত, শুক্রবার রাত ১২টায় মাইকিং করে কার্ফ্যু জারির নির্দেশ প্রচার করেন। কার্ফ্যু বলবৎ হবে শনিবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। সেই প্রচারের ভাষা ছিলো এরকম, 'হিন্দুরা মসজিদ নির্মাণে বাধা প্রদান করার কারণে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় কার্ফ্যু জারির...'। নির্বাহী অফিসার এও কথা দেন যে তিনি পরদিন শনিবার দুপুর ১২টার সময় দুই পক্ষের সঙ্গে মীমাংসায় বসবেন। নির্মাণাধীন মসজিদের পাশে কিছু পুলিশও মোতায়েন করা হয়।

    শনিবার মীমাংসার পরিবর্তে জ্বলে উঠল আগুন। শনিবার হিন্দুদের একটি প্রতিনিধি দল নির্বাহী অফিসারের অফিসে মীমাংসায় বসার জন্য গিয়েছিলেন; কিন্তু নির্বাহী অফিসার তখন অফিসে নেই, তিনি বলাই বাজারে, কুস্থলে অবস্থান করছেন। শনিবার সকাল থেকেই বলাই বাজারে ট্রাকে, টেম্পুতে করে বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন আসছিল, প্রায় ৫/৬ হাজারের মতো, বেশিরভাগ বাইরের লোক। তাদের হাতে লাঠিসোটা, রামদা, অস্ত্রপাতি। কার্ফ্যু চলছে, প্রচার করা হচ্ছে হিন্দুরা যেন বাইরে সমাগম না করে। বলাই বাজারে তখন উপস্থিত আছেন নির্বাহী অফিসার, আর তাঁর সঙ্গে আছেন সেই অধ্যাপিকা। নির্বাহী অফিসারের সামনে দিয়েই হামলাকারীরা জড়ো হচ্ছে।

    সকাল ১১টার দিকে হামলা শুরু হলো। দফায় দফায় হামলা, এলাকার তিনটি হিন্দু গ্রামে, মাঝাপাড়া, কবিরাজপাড়া আর বটতলীতে। হামলা চলল সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। জ্বালিয়ে দেওয়া হলো ৩০টির মতো ঘরবাড়ি; গরুছাগল, টাকাপয়সা, দামী জিনিসপত্র, সোনাদানা, ধানচাল লুটপাট; মারধোর, মহিলাদের কাপড়চোপড় খোলার চেষ্টা, শ্লীলতাহানি। আহত হলো ৬০ জনের মতো। না, হিন্দুরা কোনো পাল্টা আক্রমণ করে নি। পুলিশ বলেছে, আপনারা কেউ পাল্টা আক্রমণ করবেন না, করলে পরিস্থিতি ভয়ংকর হবে। সুতরাং, পরিস্থিতি ভয়ংকর হয় নি, শুধু হিন্দুরা জ্বলেছে। নির্বাহী অফিসার দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে চলতে থাকা কার্ফ্যু পর্যবেক্ষণ করেছেন, বেলা ২টার দিকে তিনি পর্যবেক্ষণ শেষ করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। দমকল বাহিনীর কর্মীরা এসেছে, তারা কতদিকে নেভাবে আগুন? একদিকে নেভালে জ্বলে ওঠে আরেকদিকে। ৫টার দিকে এলাকায় উপস্থিত হন বিজিবির সদস্যরা। ঘটনার শেষে উপস্থিত হন উপজেলা চেয়ারম্যান।

    শনিবার রাতে জ্বলে যাওয়া প্রত্যেক পরিবারকে ৫ হাজার টাকা, ২০ কেজি চাল, ২টা লুঙ্গি, ২টা শাড়ি প্রদান করা হয়। ৮ তারিখ বুধবার দেওয়া হয় ২ বান করে ঢেউটিন।

    ৮ দিন পর এলাকায় এখনো মোতায়েন রয়েছে দেড়শতর উপরে পুলিশ এবং র‍্যাব। কোনো পরিবারই এখন পর্যন্ত বাড়িঘর তুলে উঠতে পারেন নি। নির্বাহী অফিসারকে ট্রান্সফার করা হয়েছে। অনেককে আসামী করে মামলা হয়েছে; আসামীদের মধ্যে আছেন অধ্যাপিকা হামিদা খাতুন, আছে বাবলু মেম্বার, রফিকুল এবং রায়হান। অ্যারেস্ট করা হয়েছে ১০/১২ জনকে, কিন্তু মূল হোতাদের কাউকে এখনও অ্যারেস্ট করা হয় নি।

    উপরের ঘটনার বিবরণটি পত্রিকার রিপোর্টের ভিত্তিতে তৈরি করা হয় নি, তৈরি করা হয়েছে বলাই বাজার এলাকার মানুষের সঙ্গে ফোনে কথা বলে।

    হাটহাজারী, কালীগঞ্জ-এর পর এবার ভাওয়াইয়া গানের দেশ দিনাজপুর। সে দেশে আগুন নিভেছে, কিন্তু জেগে আছে আগুনের তাপ, আর ঘর পুড়ে যাওয়া ছাই।

    চিরিরবন্দর ও পত্রিকা

    নয়াদিগন্তঃ নয়াদিগন্ত এই ঘটনার সংক্ষিপ্ত রিপোর্ট করেছে মসজিদ নির্মাণে হিন্দুদের বাধা দেওয়ার প্রতিবাদ হিসাবে সাধারণ মানুষের বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা হিসাবে। তারা এও রিপোর্ট করেছে যে ঘটনার প্রায় সাথে সাথেই পুলিশ এবং র‍্যাব ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। 'গত শনিবার সকালে বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ মসজিদের কাজ শুরুর দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা রাজাপুর কবিরাজপাড়ায় হামলা চালায়। এ সময় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ১০টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।'

    দি ইন্ডিপেন্ডেন্টঃ ঘটনার মোটামুটি সঠিক বিস্তৃত বিবরণ দিয়েছে, কিন্তু তাদের রিপোর্ট পড়ে মনে হয়েছে প্রশাসন যথেষ্ট তৎপর ছিলো যেন খারাপ কিছু না ঘটে।

    আমার দেশঃ আমার দেশ ঘটনাকে রিপোর্ট করেছে মসজিদ নির্মাণে হিন্দুদের বাধাদানকে কেন্দ্র করে হিন্দু মুসলিম দ্বিপাক্ষিক সংঘর্ষ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশের সঙ্গে জনতার সংঘর্ষ হিসাবে। 'এ সময় মুসল্লিরা সংঘবদ্ধ হয়ে পার্শ্ববর্তী কবিরাজপাড়া, বানিয়াপাড়া, ছোট হাসিমপুর এলাকায় প্রবেশ করে ব্যাপক লুটপাট, ২৩টি ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়ায় মুসলমান ও হিন্দুর উভয়পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বাধে।'


  • প্রথম আলোঃ ঘটনার মোটামুটি বিবরণ দিয়েছে, তবে তাদের রিপোর্টের ধরন দেখে মনে হয়েছে এটা একটা গড়পড়তা সাধারণ ঘটনা। '১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে পার্বতীপুর, সৈয়দপুর, দিনাজপুর, বিরামপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে টেম্পো, রিকশাভ্যান, ট্রাক্টর, নছিমনসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে লোকজন এসে আজ সকাল আটটা থেকে নয়টার মধ্যে বলাইবাজারে সমবেত হন। এ সময় তাঁরা মসজিদ নির্মাণ শুরু করেন। এতে হিন্দুরা বাধা দিলে তাঁরা বাজারের পূর্ব পাশে রাজাপুর কবিরাজ পাড়ায় হামলা চালান। তাঁরা হিন্দুদের ২৫টি বাড়ি ও খড়ের গাদায় আগুন ধরিয়ে দেন।'

    মানবজমিনঃ চরম দায়সারা রিপোর্ট করেছে মানবজমিন। তারা এটাকে বলেছে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, উপরন্তু এটাও বলার প্রয়োজন মনে করে নি এই দুই পক্ষ কারা কারা। 'গতকাল ভোরে কে বা কারা রাজাপুর বসতির ২২টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে লোকজন। তারা পাল্টা হামলা চালায়। এতে ছড়িয়ে পড়ে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ। আহত হয় কমপক্ষে ২০ জন।'

    জনকণ্ঠঃ ঘটনার মোটামুটি সঠিক বিস্তৃত বিবরণ দিয়েছে, এবং তারা রিপোর্ট করেছে জামায়াতের সংশ্লিষ্টতার কথা। হামলার ভয়াবহতা সম্পর্কে তারা বলেছেঃ 'হামলায় আক্রান্তরা ঘটনাটিকে একাত্তরের হানাদার বাহিনীর হামলার চেয়েও বর্বর ও নির্মম বলে উল্লেখ করেছেন।'

    ডেইলি স্টারঃ চরম দায়সারা রিপোর্ট করেছে ডেইলি স্টার। তার এই ঘটনার রিপোর্ট করেছে দেশের আরো ৩টি জেলায় কতজন কেন আহত হয়েছে সেসব ঘটনার সঙ্গে। কারা কাদের উপরে হামলা করেছে সে কথাও বলার প্রয়োজন তারা মনে করে নি।

    সংবাদঃ ঘটনার মোটামুটি সঠিক বিবরণ দিয়েছে এবং তারা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের ভূমিকা সম্পর্কে বলেছেঃ 'দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার উসকানিমূলক মাইকযোগে প্রচারের কারণে গতকাল ২ থেকে আড়াই হাজার লোক সংঘবদ্ধ হয়ে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে দুটি গ্রামের ৩০টি হিন্দু পরিবারের বাড়িতে হামলা চালিয়ে অগ্নিসংযোগসহ ব্যাপক লুটপাটের ঘটনা ঘটিয়েছে।' তারা ৯ আগস্ট সাম্প্রদায়িক এ হামলার জন্য নির্বাহী অফিসার, উপজেলা চেয়ারম্যান এবং ঘুঘরাতলী মসজিদের ইমামকে দায়ী করে একটি সম্পাদকীয় ছাপে।

    যুগান্তরঃ ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিয়েছে মসজিদ নির্মাণে হিন্দুদের বাধা প্রদানকে কেন্দ্র করে দ্বিপাক্ষিক সংঘর্ষ হিসাবে। 'প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থলে ১৪৪ ধারা জারি করা হলে উভয় সম্প্রদায়ের লোকজন তা ভঙ্গ করে সকাল ১০টার দিকে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে কমপক্ষে ১২ জন আহত হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালীন ২টি হিন্দু গ্রাম ও ১টি মুসলমান গ্রামে অগ্নিকাণ্ডে ১৬টি বাড়ি ভস্মীভূত হয়েছে।'

    ভোরের কাগজঃ ঘটনার মোটামুটি সঠিক সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিয়ে একটা রিপোর্ট করেছে।

    ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ এই ঘটনার কোনো রিপোর্ট করে নি। বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় এই ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়েছে জনকণ্ঠ, সংবাদ এবং দি ইন্ডিপেন্ডেন্ট, শুধু এই ৩টি পত্রিকা। অধিকাংশ পত্রিকা হয় বিকৃত না হয় দায়সারা অথবা গুরুত্বহীনভাবে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে।

    খ. ধারাবাহিক সব ঘটনাঃ কারো আর দায় নেই
     
    হাটহাজারী, চট্টগ্রামঃ নামাজের সময় মসজিদের পাশ দিয়ে হিন্দুদের একটি শোভাযাত্রা ঢাকঢোল বাজিয়ে অতিক্রম করে যাওয়াকে কেন্দ্র করে ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি ঘটে যাওয়া তাণ্ডবে হিন্দুদের ১০টি মন্দির, ১৫টি দোকান এবং ৪/৫টি বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর, লুটপাট। সে ঘটনায় প্রশাসন হিন্দুদের রক্ষা করার ব্যাপারে চূড়ান্ত অবহেলার পরিচয় দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে ঘটনার সঙ্গে জামায়াতের সংশ্লিষ্টতার।

    কালীগঞ্জ, সাতক্ষীরাঃ একটি স্কুলে মঞ্চায়িত নাটকে মহানবীর চরিত্র কলংকিত করা হয়েছে এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে তাণ্ডব। ৩১ মার্চ হামলাকারীরা নাটকের পাণ্ডুলিপি রচয়িতা শাহীনুর রহমান শাহীন, শিক্ষিকা মিতা রানী বালা, স্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য আব্দুল হাকিম ও লক্ষীপদের বাড়িতে ভাঙচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ করে। তারা ২টা স্কুল এবং একটা সাংস্কৃতিক কেন্দ্রেও ভাঙচুর করে। এর পরদিন ১লা এপ্রিল এই স্থান থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে একটি গ্রামের এক হিন্দু মহিলা মহানবীকে কটাক্ষ করেছেন এমন অভিযোগে ৭টি হিন্দু বাড়িতে ভাঙচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ। সাতক্ষীরার এসব হামলায় জামায়াত নেতা কর্মীরা প্রত্যক্ষ অংশ নিয়েছে। প্রশাসন এবং পুলিশ দায়িত্ব পালনে শুধু অবহেলাই দেখায় নি, বরং পরোক্ষ সহযোগিতা করেছে। অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় জাতিয় পার্টির নেতা, আওয়ামীলীগ এবং বিএনপি কর্মীদের বিরুদ্ধেও।
       
    প্রতিটি ঘটনাতেই অসহনীয় নিস্পৃহতা দেখিয়েছে সংবাদপত্র এবং অন্যান্য মিডিয়া। তারা কী ভাবছে আসলে? এসব ঘটনা ফলাও করে প্রচার করলে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা আরো বাড়বে? আসলে সংবাদপত্র এবং অন্যান্য মিডিয়াও ক্রমশ চলে গেছে নষ্টদের দখলে। তাদের নিস্পৃহতা এসব ঘটনাকে বিচারহীনভাবে অন্তরালে হারিয়ে যেতে সাহায্য করে, ফলে উৎসাহিত হয় আরেকটি নতুন ঘটনা।

    হাটহাজারীর ঘটনায় চট্টগ্রামে মানববন্ধন হয়েছে; শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন হয়েছে জাহাঙ্গীরনগর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। এসব মানববন্ধন কর্মসূচিতে কতজন মানুষ উপস্থিত ছিলেন আমি দেখি নি, কিন্তু পত্রিকাওলা ও মিডিয়ার চোখে পড়ে নি, হয়ত চোখে পড়ার মতো নয়। তবে একটি পত্রিকা জানাচ্ছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মানববন্ধনে ছাত্রনেতৃবৃন্দসহ শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া প্রতিবাদ করেছেন জগন্নাথ হলের, যেটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিন্দু ছাত্রদের হল, এ হলের শিক্ষার্থীরা। দেশের একাধিক স্থানে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ করেছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠন।

    সাতক্ষীরার ঘটনায় প্রতিবাদ হয়েছে আরো কম। এ ঘটনায় বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা, একটি পত্রিকা জানাচ্ছে সমাবেশে অর্ধশতাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। প্রতিবাদ ও মশাল মিছিল করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মচারীরা।

    চিরিরবন্দরের ঘটনার পর একমাত্র দিনাজপুর ছাড়া আর কোথাও কিছু হয় নি। খুব সম্ভব দেশের অধিকাংশ মানুষই জানেন না দিনাজপুরে কিছু ঘটেছে কিনা। আমি বিভিন্ন স্থানের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, তারা শোনে নি। ঘটনার প্রতিবাদ ও দায়ীদের শাস্তির দাবিতে একটা যৌথ বিবৃতি প্রদান করেছে 'একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি' এবং 'মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী দক্ষিণ এশীয় গণসম্মিলন'। যে বিবৃতিতে স্বাক্ষরদানকারী হিসাবে আছেন পঞ্চাশ জনের উপরে, যাঁদের মধ্যে সুপরিচিত কিছু লেখক, কবি, অধ্যাপক, শিল্পী, সাংবাদিক রয়েছেন।

    সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আশাব্যঞ্জক নয়। ক্রমশ বাড়ছে ধর্মান্ধ আর সাম্প্রদায়িক শক্তি। প্রশাসনের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ ধর্মবুদ্ধিতে আক্রান্ত। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বুদ্ধিজীবি, শিল্পী, সাহিত্যিকদের শুভবোধের তাড়নার ক্রমবর্ধমান অভাব, তাঁদের বড় একটা অংশই এখন ব্যক্তি ও দলীয় স্বার্থের কুবুদ্ধিচর্চায় নিয়োজিত। মোটা দাগে উপরের তিনটি ঘটনাতেই বুদ্ধিজীবি, শিল্পী, সাহিত্যিকরা ছিলেন নিস্পৃহ। যাঁরা পত্রিকায় নিয়মিত কলাম লেখেন তাঁদের কেউ এক লাইন খরচ করেন নি। প্রতিবাদে এগিয়ে আসে নি কোনো সাংস্কৃতিক সংগঠন।

    লোকে বলছে, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ, কিন্তু এই সম্প্রীতি কাজে আসছে না সংখ্যালঘুদের উপরে হামলার সময় কিংবা হামলার পরে।

  • বিভাগ : অপর বাংলা | ৩০ আগস্ট ২০১২ | ৪৪৭ বার পঠিত
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • শুদ্ধসত্ত্ব | 127.194.248.56 (*) | ০১ সেপ্টেম্বর ২০১২ ০৬:৪৭90246
  • জলধি, আপনার লেখাটা পড়লাম। কয়েকটা কথা বলতে ইচ্ছে হল। সংবাদ মাধ্যম কোনো ভাবেই স্বাধীন কোনো অস্তিত্ব নয়। তা তার মালিকের/ মালিক-সম্পাদকের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সিদ্ধির চাবিকাঠি। সব দেশেই এমন। বাংলাদেশেও ব্যাতিক্রম নয়। সাংবাদিক? সোজা বাংলায় বলি সাংবাদিক হবার যোগ্যতাও যাদের নেই তাদেরি এখন সাংবাদিকতায় নেওয়া হয়, মাথায় চড়ানো হয়। কেন না যোগ্য ব্যাক্তিরা প্রশ্ন করেন মালিককে, মালিকের কথাই বেদবাক্য এমন ভাবেন না, সংবাদের সর্বোপরি দায়বদ্ধতা যে মানুষের প্রতি তার দিকে নজর রেখেই কাজ করেন। কাজেই আজকাল এমন মানুষ এই উপমহাদেশের সমস্ত সংবাদমাধ্যমেই বিরল। আর বাকী যাঁরা সাংবাদিক হন তাঁরা বুদ্ধিমান হলে গোপনে দালালি করেন, বাইরে বিপ্লব। নির্বোধ হলে শুধু দালালিই করেন। তাঁরা তাঁদের ব্যাক্তিগত দল-মত-ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতা সব রকমের খুঁত নিয়েই যে কোনো সংবাদের মোকাবিলা করেন এবং শেষত মালিকের ছাঁচে চালান করেন সবটা। কয়েকজন যাঁরা কিঞ্চিত সাবভার্সন করেন তাঁরা এতটাই সংখ্যালঘু আর সাবভার্সনের জায়গা এত কম যে বলাই বাহুল্য হয়ে যান। সুতরাং, সত্য দূর অস্‌ত।

    এবারে বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িকতা। ভারতের মতোই তা শাসক শ্রেণীর সর্বাঙ্গে জড়িয়ে আছে, থাকবেও। কেউ প্রকাশ্যে, কেউ গোপনে সাম্প্রদায়িক- কিন্তু সাম্প্রদায়িক বটেই। আপনার নিশ্চই মনে আছে দেশভাগের সময় পাকিস্তান চাইতে দরিদ্র মুসলমান চাষাকে বলা হয়েছিল যে হিন্দু জমিদারের জমি সব বিলিয়ে দেওয়া হবে তাদের মধ্যে। হয়েছে? যদিও কিছুকাল আগে অমর্ত্য সেন একটি গোলমেলে মন্তব্য করেছিলেন, যে দেশভাগের ফলে নাকি বাংলাদেশে ভূমিসংস্কার হয়ে গিয়েছে বেশ কিছুটা। তাই যদি হবে এত মানুষ সেখানে দরিদ্র কেন? তাই যদি হবে তাহলে সরকারের পক্ষে দেশের মানুষের শিক্ষার জন্য যতগুলো বিদ্যালয় প্রয়োজন তা না বানিয়ে ব্যাক্তিগত উদ্যোগে গড়ে তোলা মাদ্রাসার হাতে শিক্ষা ব্যবস্থা ছেড়ে দিতে হয়েছে কেন? যে মাদ্রাসায় কোরান মনে রাখা এবং আরবী-পারসিক চর্চা ছাড়া (বাংলা নয়, আর বাকীদুটোও যত কম বোঝে ছাত্র তত ভাল, এই টাইপে) আর কিছু হয় না সেই মাদ্রাসা থেকে যে মানুষ বেরোয় তার মস্তিষ্কে কি থাকতে পারে বিদ্বেষ ছাড়া? সরকারেরা সব জানে, কিন্তু দুর্নীতি আর ক্ষমতায় থাকা ছাড়া তাদের বাকী কিছুতে মন আছে বলে মনে হয়নি কখনো! ধর্ম বা ভারতবিরোধী জিগির ছাড়া রাস্তা কি আছে মানুষকে ললিপপ দেবার? তা বলে ভাববেন না ভারত খুব মহান এমন কিছু আমি বলছি।

    সেকুলারদের কথা বলি! তাঁরা খুব শোভন যতক্ষণ তাঁরা নিজেদের বৃত্তে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ-টাদ করছেন। কিন্তু মাঠে নেবে লড়তে বললে কজনের যে টিকি খুঁজে পাওয়া যাবে তা নিয়ে আমি নিশ্চিত নই। এবং মনে রাখবেন এর কোনোটাই শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, এই ভারতের জন্যও প্রযোজ্য। ফারাক হল মাদ্রাসার বদলে এখানে প্রাথমিক ইস্কুল আছে, যেখানে দুপুরের খাওয়ার কোনো মতে একটা ব্যবস্থা ( যা আবার সর্বত্রও একই ভাবে চলে না) দিয়ে উপস্থিতির হার বাড়িয়ে শিক্ষা প্রসারের স্ট্যাটিস্টিক বাড়ানো হয়। ভারত একটি বিশাল দেশ, তাই সব জায়গার ছবি এক কথায় আঁকা যায় না। গো বলয়ে বা দক্ষিণ ভারতে আবার এই চিত্রটা একটু আলাদা। সেখানে ইস্কুলেই শুরু হয়ে যায় হিন্দুত্বের এক চাপা শিক্ষা। সে নিয়ে অনেকে লিখেছেন আমার লেখার মানে হয় না। তো এই যেখানে মানুষের হাল সেখানে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছাড়া, এই ডামাডোলের অর্থনীতি আর বিকাশবিহীন রাষ্ট্রগুলোতে আমরা কি আশা করতে পারি? আসাম আমার কাছে অন্তত খুব বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা না। যদি আমি সামান্যও বুঝে থাকি এ সব তাহলে এমন ঘটনা এ দেশেও আরো বাড়বে বই কমবে না। তবে ওই যে, দেশটা বড়, আর সেই জন্য এখানে এগুলোকে ঘেণ্ণা করে এমন লোকের সংখ্যাটাও একটু বেশী, তাই প্রতিবাদ বা কখনো কখনো প্রতিরোধের শব্দটাও একটু জোরে বাজে। পাকিস্তান বা বাংলাদেশের সেই সুবিধেটা নেই।

    আরেকটা সুবিধেও একটু কম আছে, সেটা হল ধর্মের মধ্যে থেকে ধর্মাচরণকারী বা ধর্মত্যাগীদের সমালোচনার স্পেসটা। তথাকথিত হিন্দুদের মধ্যে এই স্পেসটা বেশী হয়েছে অনেক লড়াই-এ, কিন্তু ইসলামের আধুনিক কালেও সমালোচকরা সংখ্যায় এত কম যে মোল্লা-মৌলবীর ইসলাম এক অনড়-অচল ব্যবস্থা হয়ে আছে। পৃথিবী পাল্টে যাবে আর শুধু একটি ধর্মের কোনো কিছু পাল্টাবে না, এ যতই নানা বঞ্চনার প্রতিক্রিয়া হোক না কেন, এই উপমহাদেশে তার থেকে মুক্ত হবার সময় অনেককাল আগেই এসে গিয়েছে। কিন্তু সে লড়াই লড়বে কে? হিন্দু নামের কেউ, ধরুণ যদি আমিই এই সমালোচনা তেড়ে শুরু করি, তাহলে সরলীকরণ করে বলে দেওয়া হবে যে আমি হিন্দু কাফের বলে নবীর ধর্মের উপরে আঘাত হানছি। আমার উদ্দেশ্য না, জাত বিচার করে মোল্লাক্ষমতাতন্ত্র তার জেহাদ জানাবে। তাই লড়াইটা আসা উচিত তাদের মধ্যে থেকে যাঁরা ইসলামীয় নাম ধারণ করেন অন্তত। আবার এখানে একটি কথা না বললে অত্যন্ত অন্যায় হয়ে যাবে যে এই উপমহাদেশের এককালের সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুরা, বা এখনকার ভারতের হিন্দুরা ইসলামের সম্পর্কে জানে অতি কম। আমার কত মুসলমান বন্ধু আছে এটা মুসলমান সমাজকে জানার উপায় শুধু না, জানতে হলে তাকে তার ইতিহাস-সমাজতত্ত্বের মধ্যে দিয়েই জানতে হবে। তবু বেশ কিছু মুসলমান এমন করে জেনেছেন, বা জানতে বাধ্য হয়েছিলেন হিন্দুর বারো মাসের তেরো পার্বণকে। মুসলমানেরটা এত কম হিন্দুরা জানে যে তাদের সমালোচনার কোনো যোগ্যতাই থাকে না। হয়ে দাঁড়ায় বিদ্বেষের প্রকাশ মাত্র।

    রাগের মাথাতেই লিখলাম। কিছু এলোমেলোও লিখলাম হয়তো। কিন্তু ধর্মীয় বর্বরতা দেখলে ঘৃণা ছাড়া আর কিছুই আসে না আমার। সে যে ধর্মেরই হোক না কেন! ঘৃণা আসে এই কারণে যে সমাজে ধর্ম অনেক বৃহৎ বিষয় হতে পারতো। ধর্ম আর ঈশ্বর স্রেফ এক বস্তু না। ধর্ম সমাজকে ধারণ করতে সাহায্য করতে পারতো। কিন্তু লজ্জার কথা এই যে সে ধর্মকে মানুষ ক্ষমতালোভী শাসকের (সে ধর্মের তকমাতেই আসুক আর বিধর্মের তকমাতে) উস্কানিতে তার নিজের কুশ্রী ছায়ায় দিয়েছে চাপা। যদি তার বদলে ধর্মের প্রকৃত ছায়াতে মানুষ কিছুটা জিরোতে পারতো তাহলে আমরা আরেকটু মানুষ হতে পারতাম। মাদ্রাসায় শুধু কোরান পড়ানো হত না আরবের মধ্যযুগে, 'ইজতিয়াদ' বলে একটি শব্দ ছিল, যার মানে যুক্তিশৃঙ্খলের চর্চা। বহু সময়েই বহু শাসকের ফতোয়া অগ্রাহ্য করেও গোটা মধ্যযুগ ধরে আরবে, পারস্যে, ইজিপ্টে ইসলাম ধর্মীয় শিক্ষকরাই পড়িয়েছেন গণিত, জ্যোতির্বিদ্যা, চিকিৎসা শাস্ত্র, লজিক, নানা অঞ্চলের দর্শন। স্পেনের মুসলমানরা ইহুদীদের সঙ্গে মিলেই আগলে রেখেছে, কিম্বা সিরিয়াক নেস্টোরিয়ান খ্রীষ্টানদের সঙ্গে মিলেি ইরাকি-ইরানীরা আগলে রেখেছে প্লেটো, অ্যারিস্টটল, ভারত উপমহাদেশের গণিত। আজ যখন দেখি কতিপয় মূর্খ ধর্ম ব্যবসায়ী ঠিক ভারতের ভন্ড ও মূর্খ হিন্দুধর্মপ্রেমীদের মতন শুধু বিদ্বেষ ছড়ায়, মানুষকে নিকৃষ্টতার দিকে নিয়ে যায় তখন মনে হয় মানুষের মুক্তির দিন বহু দূর। এদের থেকে মানুষ নিজে না বাঁচতে শিখলে কে বাঁচাবে তাকে?
  • aranya | 78.38.243.161 (*) | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১২ ০১:২৯90247
  • শুদ্ধ-কে বড় হাতের ক।

    বাঙালী বলেই হয়ত আরও একটা দুঃখ হয় আজকের বাংলাদেশ নিয়ে - ৭১-এ মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে দিয়ে, ধর্মীয় বিদ্বেষের আগুনে বহু প্রাণ বলি দিয়ে যে দেশের জন্ম হল, তার তো পুরোদস্তুর সেকুলার হওয়ার কথা।

    আর একটা বিস্ময়ের ব্যাপার - বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন হয়, আমার আম্রিগাবাসী বাংলাদেশী বন্ধু বান্ধব-দের অনেকেই এটা বিশ্বাস করে না। হয়ত জলধি যেমন লিখেছেন, মেন স্ট্রীম মিডিয়ায় এই সব অত্যাচারের খবর তেমন আসে না বলে।
  • জলধি | 68.97.224.208 (*) | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১২ ০৩:২৯90251
  • সবার মতামত পড়লাম । ভালো লেগেছে শুদ্ধসত্ত্বদার বিশ্লেষণ । সুশান্তদার মন্তব্য গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে । 'এমন অবস্থাতে সমস্ত নিরপেক্ষতার মোহ ছেড়ে সোজা হিন্দু সুরক্ষা সংগঠন গড়ে তোলাই আসলে মুক্তির লক্ষ্যে প্রথম পদক্ষেপ।' এটা তিনি আগেও বলেছিলেন । সবাইকে ধন্যবাদ ।
  • শুদ্ধসত্ত্ব | 127.194.236.172 (*) | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১২ ০৪:৫৫90248
  • অরণ্য, এখানে একটা কথা বলি। আমার ধারণা যে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ক্ষেত্রে অনেক সময়ে প্রচুর প্রাধান্য পেয়েছে ভাষা সংক্রান্ত লড়াই, পিছনে পড়ে গিয়েছে 'আশরফ' আর 'আতরফ' মুসলমানের লড়াই। আফঘান সুলতানদের সময় থেকেই এই বিভেদটা অত্যন্ত সুস্পষ্ট ছিল। মুঘল আমলে যখন আফঘান দল্পতিদের তাড়িয়ে এবং শায়েস্তা করে মুঘলরা ক্ষমতার সম্প্রসারণ করছিল তখন থেকেই কিছুটা এই আশরফ আতরফ মৈত্রী ছিল না একদমই। একটু অন্য ভাবে বলি। ইতিহাসে বারো ভুঁইঞার লড়াই-এ দেখা যায় যে ঈশা খাঁ-র নেতৃত্বে প্রতাপাদিত্যর মতন জমিদাররা লড়ছে মুঘলদের বিরুদ্ধে। একে হিন্দু-মুসলিম মৈত্রী বলা যায় না কোনো মতেই। এ আসলে ক্ষমতার লড়াই। এবং ক্ষমতার লড়াইতে শত্রুর শত্রু আমার বন্ধু এ নীতি অতি প্রাচীন। যেমন ভারতের পশ্চিম প্রান্তের ব্যাকটিরিয় গ্রীকরা বৈষ্ণব হয়েছিল আর স্থানীক হিন্দু রাজন্যদের সঙ্গে মিলে অনেক সময় শক বা হুণ মোকাবিলাও করেছে তাতে অন্য সময়ে নিজেদের অন্তর্বিরোধ কমেনি; প্রতাপাদিত্যদের ব্যাপারটাও অনেকটা তাই।
    কেন না তার কিছুদিন আগেই কয়েক শতক ধরে চলা নীতিকে জলাঞ্জলি দিয়ে বাংলার সুলতান সুলেইমান কররানি গজিপতি বংশের রাজা মুকুন্দদেবের রাজত্ব শুধু আক্রমণ করে তাঁকে পরাস্ত করেন এমনই না, সঙ্গে জগন্নাথ দেবের মন্দিরটি লুন্ঠন করেন ও ভেঙে দ্যান। রাজনৈতিক কাজ আসলে। রাজার গড়া সৌধ ধ্বংস করে দিয়ে তাকে ক্ষমতাহীন নিবীর্য প্রতিপন্ন করা ও তার ভিতরে, তার অনুগত শাসিতদের ভিতরে ভয়ের জন্ম দেওয়া উদ্দেশ্য ছিল। কিন্তু এতে বাংলার হিন্দু-মুসলমান সহাবস্থানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল এটাও সত্যি। কাজেই সেটা দেখলে ঈশা খাঁ-র সঙ্গে মৈত্রী সঙ্গত না। কিন্তু ক্ষমতার লড়াইতে সব হয়।
    তেমনই আশরফ মুসলমানেরা যখন দেখলো যে ইংরেজের চাকরী থেকে সুবিধে সব হিন্দুরা বেশী পাচ্ছে তখন সৈয়দ আহমদই হোক কি ঢাকার নবাব সকলেই বাংলার মুসলমান চাষাভূষোর দিকে হাত বাড়ালো। বা বাকী ভারতের মুসলমান শ্রমজীবির দিকে হাত বাড়ালো। কেন না তারাই জনসংখ্যায় বেশী, তারাই অত্যাচারিত সরাসরি হিন্দু জমিদার থেকে শুরু করে চা বাগানের মালিক দ্বারা। আতরফ চাষার সঙ্গে আশরফ প্রাক্তন মুঘল দরবারী আমলা কি নবাবদের বা ব্যাবসায়ীদের মৈত্রী পাকিস্তান দিল। দেওয়ার সময়েও ওই জমি দেওয়া হবে জাতীয় প্রতিশ্রুতি বন্যার মতন বিলোনো হয়েছিল। এমনকি ফজলুল হকের বাংলায় ক্ষমতায় আসাটাও তো এই আতরফ মুসলমানের জোরে। ফজলুল হক ক্ষমতায় এসে আর জমিদারীর বিরুদ্ধে কিছুই করতে পারেননি। পূর্ব পাকিস্তানেও এর বাইরে কিছুই হবার ছিল না। হিন্দু জমিদাররা চলে গেলে সে জায়গার দখল নিল আশরফ পাকিস্তানিরা। বা তাদের মিত্র বাংলার আশরফ গোষ্ঠী। বাংলা ভাষা শিক্ষাও এদের কাছে ছিল ন্যক্কারজনক ব্যাপার। আরবী, পারসিক এদের স্বপ্নের ভাষা। যদিও ভাষাদুটোর বিরুদ্ধে আমার কিছুই বলার নেই। ফার্সীতো অসামান্য একটি ভাষা, কিম্বা উর্দু। উর্দুকে বাদ দিয়ে হিন্দিকে মূল ভাষা করতে চাওয়া গো বলয়ের কিছু হিন্দু বলে কথিত নেতা যেমন দ্বিজাতিতত্ত্বের বীজ পাকা করেছিলেন সৈয়দ আহমদদের দূরে সরিয়ে দিয়ে, তেমনই আবার পশ্চিম পাকিস্তানি আশরফরাও একই কাজ করলো বাংলাকে ক্রমশ আক্রমণ করে।

    কিন্তু শুধু ভাষা না। জমির সমস্যা থেকে কাজের সমস্যা সবটাই নেপথ্যে কাজ করেছে। বাংলায় ততকালে ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ কাদের হাতে দেখলেও কিছুটা বোঝা যাবে। কিন্তু ভাষা সংক্রান্ত আবেগের নেপথ্যে অনেকটাই চাপা পড়ে যায় এই সব দ্বন্দ্বগুলো। ভাষা মৈত্রীর একক হতেই পারতো, কিন্তু হল না যে তার পিছনেও স্বাধীন বাংলার শাসকদের আর্থ-সামাজিক সমস্যা সমাধানের অক্ষমতাই বেশী কাজ করেছে। কাজ করেছে রাজাকারদের (যাদের বড় অংশ বাংলাদেশী আশরফ) পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় এসে বসা। সব দলে আছে এই রাজাকাররা। সব দলে আছে মৌলবাদী গোঁড়ামি। জলধির লেখাটায় দেখুন সম্পত্তি কি একটা বড় কারণ নয় আক্রমণগুলোর? বারে বারে সব জায়গায় সব দাঙ্গায় এটাই হয়েছে, এটাই হয়। বাবু বজরঙ্গী, মায়া কোদনানি বা কালে কালে নরেন্দ্র মোদীর যদি সাজা হয়ও তাহলেও বাদ পড়ে যাবে গুজরাতী মধ্য ও উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর পুরুষ এমনকি নারীরাও যারা মুসলমানদের দোকান লুঠেছিল নির্লজ্জের মতন। তাদের শাস্তির কি হবে? এখানেও দু চারজনের শাস্তি হবে দেখনদারী, তারপরে? দাঙ্গার পিছনে সব সময়েই অর্থনীতি একটি জোরদার শক্তি। সে শক্তিকে না বিশ্লেষণ করলে বা সেই ওরিয়েন্টেড সমস্যাগুলোর সমাধান না করলে দাঙ্গা আমরা এই গোটা উপমহাদেশে কিছুতেই এড়াতে পারবো না, কোনোদিন এড়াতে পারবো না। কিন্তু করবে কে? দালাল, লোভী, নোংরা রাজনীতির কারবারীরা? হাহ!!!! !!!
  • aranya | 78.38.243.161 (*) | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১২ ০৫:১৯90249
  • শুদ্ধ, আবারও একমত, সব পয়েন্টেই।
    বড় ভাল লিখেছেন। অনেক মানুষ যদি আপনার মত ভাবত, পৃথিবী আরও একটু বাসযোগ্য হত।
  • সুশান্ত | 127.203.162.140 (*) | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১২ ০৫:৩২90250
  • জলধি রায়ের লেখা থেকে এটা বোঝা যায়, শুধু রাষ্ট্র নয় গোটা মধ্যবিত্ত বৌদ্ধিক সমাজ ইসলামকে প্রশয় দেয়। অন্তত ওই পক্ষটি সবল। এখানে ধর্মনিরপেক্ষতার জায়গা কদ্দূর? এতো মুখোস মাত্র হয়ে থাকে। কেন এটা হয়? শাসকশ্রেণি কথাটা বড় ভেক। শাসক শ্রেণি এটা করবে, সুতরাং আমরা যেন না করি এই হয় আমাদের সিদ্ধান্ত। পুঁজির শাসনটা বুঝতে হবে। পুঁজি নিজের ঘনিভবন এবং বিনিয়োগের সামাজিকি করণ আশা করে। তার মানে এর শ্রমিকতো সর্বত্র চাই, কিন্তু মুনাফা মুষ্টিমেয় অর্থনৈতিক সংখ্যালঘুর হাতে। তবে এই সংখ্যালঘু নিজের শাসন চালাবেন কী করে? তারা তো লুট করেই বড়লোক। লোকে তো এটা দেখবে স্পস্ট। দেখেও। সুতরাং দৃষ্টিকে আচ্ছন্ন করে রাখতে হবে। শত্রুমিত্রের নিজস্ব সংজ্ঞা বের করতে হবে। গোটা দেশের শ্রমিক শ্রেণিই তাদের রাজনৈতিক শত্রু কিন্তু উৎপাদনের মিত্র। এই তাদের সংকট। সুতরাং জাতীয়তাবাদ তা ধর্ম কিম্বা ভাষাকে আশ্রয় করে হচ্ছে এই সেই দৃষ্টি আচ্ছাদনী যন্ত্র যা কাজ করে আমাদের চেতনার জগতে। একে ধরা যায় না ছোঁয়া যায় না বলে একে বন্দুকের বা বুলডেজারের মতো হাতিয়ার বলে অনেকে ভাবতেই পারেন না। এই জাতীয়তাবাদের স্বরূপ যাই হোক মধ্যবিত্তকে সহজেই কাছে টেনে নেয়, কেননা শ্রেণী হিসেবে তার স্বপ্ন সবসময়েই শিল্পমালিকদের সারিতে উঠার। না হলেও তার পরিচালিত ব্যবস্থাটির নাট বল্টু হবার। লেখক সাংবাদিক বুদ্ধিজীবি শিক্ষকেদের ভোট বেঙ্কের দরকার নেই। কিন্তু ভক্তবেঙ্কের দরকার নেই কি? এটা তাঁরা বলেন না, গোপন করেন। সব্বাই গোপন করেন। কে আর সংখ্যাগুরুদের প্রসঙ্গে 'ভোটবেঙ্ক' কথাটির ব্যবহার করেন, আমরা দেখি তো আমাদের দেশে। আসলে কিন্তু এই ভোট বেঙ্কটিকে অনিরাপদ করে কোনো দলই শাসনে থাকতে পারে না। আমেরিকা বাংলাদেশে হাত বাড়াচ্ছে। আগের চেয়ে আরো গভীর হচ্ছে। কিন্তু এটা আশা করাই বাতুলতা যে তারা যেহেতু লাদেনকে মেরছে তাই বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের বড় উদ্ধার করবে। কিচ্ছু করবে না। কারণ এদের দেশীয় দালাল হয়ে মুসলমান শিল্পপতিরাই কাজ করেন আর করবেন, সুতরাং লীগ জামাতিরা এদের রাজনৈতিক সহযোগী ছিল আর থাকবে। এই অর্থনীতি পালটে যাক, দেখবেন কোনো ধর্ম সংস্কার না করেই দেশ থেকে সাম্প্রদায়িকতা চলে গেছে। আজকের যে সাম্প্রদায়িকতা সে যে প্রাক ব্রিটিশ যুগে ছিল না, আর কেন ছিল না এই নিয়ে আমরা যারা যুক্তির কথা বলি তারাও কিছু ভাবি না। মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠের দেশে হিন্দুরা এমনকি মোঘল যুগের জমিনদার ছিলেন কী করে, আর এখন নেই কেন --এই প্রশ্ন নিয়ে ভাবলেই বোঝা যাবে। এমন অবস্থাতে সমস্ত নিরপেক্ষতার মোহ ছেড়ে সোজা হিন্দু সুরক্ষা সংগঠন গড়ে তোলাই আসলে মুক্তির লক্ষ্যে প্রথম পদক্ষেপ। তাতে কি আক্রমণ নামবে না। নামবে, ভয় পাইয়ে দেবার সমস্ত আয়োজন হবে। আর সেজন্যেই দরকার অবাঙালি জনগোষ্ঠীগুলো এবং মুসলমান কৃষক শ্রমিক বা দলিতদের সংগে এক বৃহৎ ঐক্যের পরিকল্পনা। তা না করে আর সব কান্নাই আসলে মেঘনার জলে মিশে যেতে বাধ্য। উপমহাদেশের সাম্প্রদায়িক নিরপেক্ষতার নীতি নিয়ে আমাদের পুনর্বিবেচনা করতেই হবে, আজ কিম্বা কাল। আর এটা মার্কবাদীরাই করবে। তা আপাতত তারা যতই বিভ্রান্ত পথে হাঁটুন না কেন। হয়তো সময় পরিপক্ক হয় নি! কিন্তু ভাবনার পালা যে চলছে, এটা লেখা লেখি দেখলেই বুঝি।
  • h | 127.194.236.121 (*) | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১২ ০৪:৪০90252
  • সুশান্ত যা বলেছেন, অনেকটাই একমত, তবে সঠিক কিনা জানি না কারণ এই রিয়েলিটির সঙ্গে আমার পরিচয় নেই।

    উনি বিস্তীর্ণ অভিজ্ঞতা থেকে বলেছেন। লেখাপড়া থেকে বলেছেন। হয়তো ঠিক ই বলছেন। তবে হিন্দু সুরক্ষা সংগঠন নামের কোন সংগঠন কি ভাবে বৃহৎ ঐক্যের পরিকল্পনায় থাকবে তা আমার কাছে স্পষ্ট নয়। বিশেষতঃ বাংলাদেশের জামাতি দের এমনকি বি এন পি র একাংশের র‌্যালিং পয়েন্ট হল ভারত বিরোধীতা। তার মধ্যে হয়তো কিছুটা সঙ্গত ও। ভারতের রাষ্ট্র পরিচালনা, রাজ্য পরিচালনা, ব্যক্তি রাজনৈতিক নেতা, রাজনৈতিক দল এর রেটোরিকের ইলেকশন অনুযায়ী ওঠা পড়া, বর্ডার ডিস্পুট, বিএস এফ-বিডিআর টানাপোড়েন সব কিছুকেই দূর থেকে একই সমীকরণের মধ্যে বলে মনে হয় খানিকটা, তার সুযোগ অনেকেই নিয়ে থাকেন। দেশে দেশে সাম্প্রদায়িক বা অন্তত পোলিটিকাল কনজারভেটিভ দের দৃষ্টিভঙ্গী তে স্বাভাবিক মিল থাকা আশচর্য কিসু না।
    বাংলাদেশের রাজনীতিতে অভিজ্ঞ লোক বলতে পারবেন। পরামর্শ দেওয়া উদ্দেশ্য নাই, ইচ্ছাও নাই, ইন ফ্যাক্ট খুব বেশি অগ্রহও নাই, জাস্ট এই টেক্স্ট পড়ে যা মনে হল বললাম।
  • aranya | 154.160.226.53 (*) | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১২ ০৪:৪২90253
  • 'হিন্দু' সুরক্ষা সংগঠন-এর বদলে 'সংখ্যালঘু' সুরক্ষা সংগঠন নাম দিলে গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে, ধর্মীয় সংখ্যালঘু হিন্দু , এথনিক সংখ্যালঘু যেমন আদিবাসী চাকমারা - সব মাইনরিটি-দের জন্যই কাজ করতে পারবে সেই সংগঠন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভালবেসে মতামত দিন