• বুলবুলভাজা  অন্য যৌনতা

  • বস্টনে বংগে - শূন্য থেকে শুরু

    বর্ন ফ্রী লেখকের গ্রাহক হোন
    অন্য যৌনতা | ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৫৯৮ বার পঠিত

  • অবশেষে তিনশ সাতাত্তর বিদায় নিল। এত আনন্দের দিন অথচ কোথাও যেন একটা অস্বস্তি, একটা বিষণ্ণতা রিনরিন করে বেজে চলেছে। সেটা তো হওয়ার কথা ছিল না। এই দিনটার জন্যই তো এত অপেক্ষা, এত সংগ্রাম, এত লড়াই। কত মানুষের দিন-রাত এক করা পরিশ্রম। নিজের আইডেন্টিটির জন্য রাষ্ট্রের কাছ থেকে আইনি মান্যতা ছিনিয়ে নিয়ে আসার জেদ। এই যুদ্ধটার সবথেকে ইন্টারেস্টিং দিক হল যারা এই লড়াইটা কোর্টে গিয়ে বা কোর্টের বাইরে লড়েছেন, ৩৭৭ থাকা বা না থাকায় তাদের অধিকাংশেরই কিচ্ছু ইতরবিশেষ হচ্ছিল না। আইনের ভয়ে কেউ সেক্স করে নি, এমনটা আমি তো অন্তত শুনি নি। আসলে ৩৭৭-এর ব্যবহারিক প্রয়োগ ছিল নগণ্য। তুলনায় যেটা অনেক বেশি হত, সেটা হল ব্ল্যাকমেলিং। তবে সব থেকে বেশি যন্ত্রণা দিত ব্যক্তিগতস্তরের অপমানবোধ। দেশের আইনে আমি অপরাধী, এই ভাবনাটা কোথাও, কোনও এক অতল গভীরে খুব খুব কষ্ট দিত। সেই গ্লানি, সেই দাহ থেকেই বহু মানুষের এই লড়াইতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িয়ে পড়া। আর ক্রমশঃ একটু একটু করে সাথে পাওয়া সেই সব মানুষদের যাঁরা ক্যুইয়ার কমিউনিটির অংশ না হয়েও আমাদের এই লড়াইয়ের ভাগীদার হয়েছেন।

    তিন দশক ব্যাপী এই লড়াইয়ে আমি চুনোপুঁটির থেকেও ছোট কিছু থাকলে তাই। নিরাপদ দূরত্বে বসে নির্ভয়ে আন্দোলনের আঁচ পুইয়েছি। কাজ বলতে ছিল লেখা, আর ইন্টারনেটে জনমত গঠনের চেষ্টা করা। সেই অর্কুট জমানায় শুরু। তখন ২০০৮। দিল্লী হাইকোর্টে কেস চলছে। আর অর্কুটে জমে উঠেছে হোমোফোবিক আক্রমণ। অনেকদিন স্বনামে তর্ক চালিয়ে বুঝলাম, একটা জায়গায় গিয়ে হেরে যাচ্ছি। সেটা হল, আমরা-ওরা। "আপনি ওদের কথা কি জানেন?" এই প্রশ্নের উত্তরে বলতে পারছিলাম না, আমিও "ওরা"। আমিও "ওদেরই" একজন। শেয়ার করতে পারছিলাম না অনেক না বলা কথা। মনে হচ্ছিল মানুষকে সহজ ভাষায় আমাদের কথাটা বলা দরকার। কোনও তত্ত্বে নয়, নিতান্তই ব্যক্তিগত অনুভবে। সেই না বলা জমে থাকা কথার শব্দপিণ্ড থেকে বর্ন ফ্রী-র জন্ম। অর্কুটে। তারপর অনেক কিছু হয়ে গেছে। ইপ্সিতা ও অন্যান্যদের উৎসাহে গুরুচন্ডালীতে "অন্য যৌনতা" বিভাগ হয়েছে, প্রান্তিক যৌনতার ওপর আলাদা সংখ্যা হয়েছে, গুরুচন্ডালী থেকে একাধিক চটি প্রকাশিত হয়েছে। বাংলা ভাষায় প্রান্তযৌনতা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে একাধিক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লেখালেখির কাজ হলেও, সেগুলোর প্রায় সবটাই হয়েছে কমিউনিটির ভেতর থেকে। কমিউনিটির পত্রিকা না হয়েও এইরকম ধারাবাহিকতার বজায় রেখে যৌনতা নিয়ে আর কোনও বাংলাভাষী সাহিত্য সংগঠন কাজ করেছে বলে আমার জানা নেই।

    গুরুচন্ডালীকে পাশে রেখে এই পথ চলার সঙ্গে সঙ্গে কখন যে বর্ন ফ্রী আমার অল্টার ইগো হয়ে গেছে, সেটা নিজেই বুঝতে পারি নি। আজকে পেছন ফিরে দেখতে গিয়ে মনে হচ্ছে বর্ন ফ্রী-র তো জন্মই হয়েছিল তিনশ সাতাত্তরের বিরূদ্ধে লড়াই করার জন্য। আজ যখন তিনশ সাতাত্তরই বিদায় নিল, তখন আর বর্ন ফ্রী-র প্রয়োজন কি? এবার তবে তার বিদায় নিলেই হয়। তবে কি এই আনন্দের দিনে উঁকি মারা বিষাদ ক্লান্তি সেই অবধারিত আসন্ন গুরুত্বহীনতার ভয়ে?

    সম্ভবত নয়। আসলে গত দশ বছরের পথ চলায় বর্ন ফ্রী নিজেই অনেকখানি পাল্টে গেছে। তার বয়স বেড়েছে, বেড়েছে অভিজ্ঞতার ঝুলিও। গত দশ বছরে খুব কাছ থেকে দেখেছি প্রান্ত যৌনতার মানুষদের যন্ত্রণা। দেখেছি কি ভাবে বাবা-মায়েরা ছেলে মেয়েকে দূরে ঠেলে সরিয়ে দিয়েছে, কিভাবে স্কুলে-কলেজে-কর্মক্ষেত্রে বুলিড হয়েছে লোকজন। দেখেছি মৃত্যু, দেখেছি আত্মহত্যা। দেখেছি জবরদস্তির বিষমকামী বিয়ে, দেখেছি বিবাহবিচ্ছেদ, দেখেছি সম্পর্ক বয়ে বেড়ানোর কষ্ট। আজকে বারবার মনে হচ্ছে, আহা, সুপ্রীম কোর্টের আজকের কথাগুলো যদি ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে পারতাম। যদি গিয়ে সেই কুড়ি বছরের ছেলেটার বাবা-মায়ের হাত ধরে বলতে পারতাম, "প্লীজ, এমন ভুল করবেন না। একবার তো রায়টা পুরো পড়ে দেখুন, কিভাবে দেশের শীর্ষ আদালত আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে।" যদি আজকে আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক সিরাস বেঁচে থাকতেন। আজ বারবার করে মনে পড়ে যাচ্ছে সেই সব কষ্ট, সেই সব অপূরণীয় ক্ষতিগুলোর কথা, যেগুলো মন আর চোখ একটু খোলা রাখলেই এড়ানো যেত।



  • আর তার সাথে মনের ভেতর খচখচ করছে আরেকটা প্রশ্ন। গত তিন দশকের লাগাতার লড়াইয়ের শেষে ৩৭৭-এর প্রশ্নে দেশ এগোলো ঠিকই কিন্তু একই সময়কালে কি পিছিয়ে পড়ল না আরও অন্যান্য মানবাধিকারের ক্ষেত্রে? আমরা কি তিন দশক আগে ভাবতে পেরেছিলাম একের পর এক রাজ্য খাদ্যাভ্যাসের ওপর নিষেধাজ্ঞা বসাবে? আন্তঃধর্মীয় প্রেমকে আদালতে দাঁড়িয়ে প্রমাণ করতে হবে যে সেটা জিহাদ নয়? খাস কলকাতার বুকে আলিঙ্গনের অপরাধে গনপিটুনির শিকার হবেন যুবক-যুবতী? ট্রেনের কামরায় প্রধানমন্ত্রীর নাম বলতে না পারায় প্রহৃত হবেন দরিদ্র যুবক? গোরক্ষার নামে দেশ জুড়ে মানুষ খুন হবে? আর সেই খুনিদের মালা পরিয়ে অভিনন্দন জানাবেন দেশের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী? সরকার বিরোধী ইন্টেলেকচুয়ালস ও অ্যাক্টিভিস্টদের নামের লিস্ট তৈরী হবে যেমন হয়েছিল নাজি জার্মানিতে বা পাকিস্তান অধিকৃত বাংলাদেশে? একটা গোটা রাজ্যের নাগরিকদের প্রমাণ দাখিল করতে হবে যে তাঁরা "ঘুসপেটিয়া" নন?

    তাই মনে হচ্ছে একটা লড়াই শেষ হওয়ার আগেই আরও দশটা লড়াইয়ের ফ্রন্ট খুলে গেছে। আজকে সুপ্রীম কোর্টের রায়ে একটা জয় পাওয়া গেলেও আরও বহু যুদ্ধ এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। কেননা আমার চোখে ৩৭৭-এর যুদ্ধ কখনওই শুধু যৌনতার দাবিতে ছিল না, ছিল একটা প্রিন্সিপ্যালকে প্রতিষ্ঠার দাবিতে যেই প্রিন্সিপ্যাল বলে, আমি-আপনি, আমরা সবাই বর্ণ ফ্রী, মুক্তজাতক। আমাদের সেই মুক্তসত্তায়, মুক্তচিন্তায়, মুক্তমনে বেড়ি পড়ানোর অধিকার কারওর নেই, সর্বশক্তিমান রাষ্ট্রেরও নেই।

    ৩৭৭-এর লড়াই শেষ হল।

    মুক্তচিন্তার লড়াই জারী থাক।

  • বিভাগ : অন্য যৌনতা | ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৫৯৮ বার পঠিত
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • বিপ্লব রহমান | 9001212.30.5645.19 (*) | ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ১১:৫০83551
  • লড়াই আসলে শেষ হয় না। মুক্তচিন্তার লড়াই জারি থাকছেই।

    বাংলাদেশে স্বাধীনতার প্রায় চার দশক পর শিখণ্ডীরা জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট ও অন্যান্য দলিলে কাগুজে স্বীকৃতিটুকু পেয়েছেন। শিখণ্ডী ও সমকামীদের আইনি ও সামাজিক অধিকার পেতে আরও কত দশক যে পাড়ি দিতে হবে!

    টিভি নিউজে যখনই ভারতীয় আদালত কর্তৃক সমকামীতাকে বৈধতা দানের খবর দেখলাম, তখন ভেবে গর্ব হচ্ছিল, গুরুচণ্ডা৯ শুরু থেকে এই অধিকার আন্দোলনে সোচ্চার রয়েছে।

    #ব্রেভো!
  • dc | 127812.49.451223.254 (*) | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০৪:০৪83552
  • এই ৩৭৭ ধারা রদ হওয়ায় আমার ভালো লেগেছে কারন আমরা সবাই মানুষ, শুধু একেকজনের সেক্সুয়াল ওরিয়েন্টেশান একেকরকম। তো এই ওরিয়েন্টেশানের জন্য একদল বুক ফুলিয়ে সেক্স করে বেড়াবে আর আরেকদল ভয়ে ভয়ে সেক্স করবে, এটা কোন কাজের কথা না (এই বাক্যে কোন পান থাকলে ইগনোর করতে পারেন)।

    তবে হোমো বা অন্যান্য সেক্সুয়ালিটির বিরুদ্ধে লড়াই শুধু কোর্টে না, আমাদের সমাজেও করতে হবে - আর এই লড়াইটা অনেক বেশী কঠিন। কোর্ট ৩৭৭ ধারা উঠিয়ে দিয়েছে বলেই যে জোর করে বিয়ে দেওয়া বন্ধ হবে তা নয়। উল্টে বিজেপি বা তিনোদের চুপ করে থাকার থেকেই পরিষ্কার যে এই পার্টিগুলো এসবের বিরোধিতা করবে না। কাজেই সাধারন মানুষের মধ্যে অ্যাওয়ারনেস বাড়ানোর লড়াইটা চালিয়েই যেতে হবে।

    আর একটা ব্যাপারঃ
    "গত তিন দশকের লাগাতার লড়াইয়ের শেষে ৩৭৭-এর প্রশ্নে দেশ এগোলো ঠিকই কিন্তু একই সময়কালে কি পিছিয়ে পড়ল না আরও অন্যান্য মানবাধিকারের ক্ষেত্রে? আমরা কি তিন দশক আগে ভাবতে পেরেছিলাম একের পর এক রাজ্য খাদ্যাভ্যাসের ওপর নিষেধাজ্ঞা বসাবে? আন্তঃধর্মীয় প্রেমকে আদালতে দাঁড়িয়ে প্রমাণ করতে হবে যে সেটা জিহাদ নয়? খাস কলকাতার বুকে আলিঙ্গনের অপরাধে গনপিটুনির শিকার হবেন যুবক-যুবতী? ট্রেনের কামরায় প্রধানমন্ত্রীর নাম বলতে না পারায় প্রহৃত হবেন দরিদ্র যুবক? গোরক্ষার নামে দেশ জুড়ে মানুষ খুন হবে? আর সেই খুনিদের মালা পরিয়ে অভিনন্দন জানাবেন দেশের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী? সরকার বিরোধী ইন্টেলেকচুয়ালস ও অ্যাক্টিভিস্টদের নামের লিস্ট তৈরী হবে যেমন হয়েছিল নাজি জার্মানিতে বা পাকিস্তান অধিকৃত বাংলাদেশে? একটা গোটা রাজ্যের নাগরিকদের প্রমাণ দাখিল করতে হবে যে তাঁরা "ঘুসপেটিয়া" নন?"

    পুরোটার সাথেই খুব একমত। গত কয়েক বছরে আমাদের জীবনে নানারকম বিধিনিষেধ আরোপিত হতে শুরু করেছে, পার্সোনাল লিবার্টি ক্রমেই কমছে। হ্কাওয়া, পোষাক পরা, প্রেম বা বিয়ে করা, সবেতে সমাজের মোড়লরা নাক গলাতে চাইছে। তবে ৩৭৭ রায়ের একটা লাইন বেশ আশাদায়কঃ "মেজরিটি প্র্যাক্টিস কখনোই মাইনরিটি রাইটসের বিরুদ্ধে যেতে পারেনা"। এই লাইনটার ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে আরও বেশ কিছু লড়াই লড়া যাবে।
  • Ekak | 12.39.896712.5 (*) | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০৪:২১83553
  • বিটকেল সময়ে আছি আমরা যেখানে ওয়েব সীরিজে সমপ্রেম একসেপ্টেড কিন্তু প্রাইম টাইমে টিভি তে ওসোব অসভ্যতা ছি ছি !!

    খোলা অর্থনীতি ও বদ্ধ মনের সন্তান এই সময়। সমাজের মাথা রা গতকাল ঘুরিয়ে নিজেদের হোমোসেক্সুঅল বল্তেন, এখন খোলাখুলি বলতে পার্বেন। সেটা মন্দ তা নয়।

    কিন্তু ৩৭৭ রদ হোয়ে যদি এই বদ্ধ সমজের নিচের ল্র্যরে সামান্য ধাক্কা ও লাগে সেই টুকু আসোল প্রাপ্তি।
  • aranya | 3478.160.342312.238 (*) | ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০৩:২৮83554
  • '৩৭৭-এর লড়াই শেষ হল।

    মুক্তচিন্তার লড়াই জারী থাক'

    - সার কথা।

    মানুষ যেন আর একটু সহনশীল হয়, মুক্ত চিন্তার লড়াই লড়তে গিয়ে যেন খুন হয়ে না যান অভিজিৎ রায়, গৌরী লঙ্কেশ-রা
  • | 453412.159.896712.72 (*) | ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০৭:১০83555
  • এদিকে পাবলিকের আবার সেলিব্রেশানেও সমস্যা হচ্ছে। দশটা বিয়েবাড়ির কুড়ি হাজার ফোটো সমানে শেয়ার করে চললে কারো সমস্যা হয় না, এই দুগগাপুজো আসছে গাদা গাদা ছবিতে ছেয়ে ফেলবে সবাই তাতে সমস্যা হবে না অথচ ৩৭৭ রদ করার সেলিব্রেশানে সমস্যা হচ্ছে।

    কিন্তু ৭ তারিখের 'এই সময়' এ স্বপ্নময় চক্কোত্তির একটা সক্ষাৎকার বেরিয়েছে, কিছু গোলমেলে বক্তব্যসহ। কেউ দেখলে? আর উনাকে নাকি SME ভাবতাম!
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা খুশি প্রতিক্রিয়া দিন