• বুলবুলভাজা  আলোচনা  বিবিধ

  • জীবন বাজি রেখে লড়েছি, আর জিতেছি

    সোহেল আবদুলালি লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | বিবিধ | ১৯ জুন ২০১৩ | ৪৩০ বার পঠিত
  • গণধর্ষণের শিকার হয়েছিলাম আমি, আজ থেকে তিন বছর আগে, আমার যখন সতেরো বছর বয়েস ছিল। আমার নাম আর ছবি মানুষী নামে একটি পত্রিকার নিবন্ধে প্রকাশিত হয়েছিল, ১৯৮৩ সালে।

    আমি বড় হয়েছি বম্বে-তে, আর আমি এখন পড়াশোনা করছি ইউএসএ-তে। আমি একটা থিসিস লিখছি ধর্ষণের ওপর, সপ্তাহদুয়েক আগে রিসার্চের কাজে এখানে এসেছি। তিন বছর আগের সেই দিন থেকেই ধর্ষণ সম্পর্কে, যারা ধর্ষণ করে তাদের সম্পর্কে, আর যারা ধর্ষিত হয়, তাদের সম্পর্কে মানুষের ভুল ধারণার সাথে আমি খুব ভালোভাবে পরিচিত। যে কলঙ্ক নিয়ে বেঁচে থাকতে হয় একজন ধর্ষিতাকে, আমি তা-ও জানি খুব ভালোভাবে। সময়সুযোগ মত তারা এটা বুঝিয়ে দিতে কসুর করে না, যে এই “সতীত্ব” হারানোর কলঙ্ক মাথায় নিয়ে বেঁচে থাকার থেকে মরে যাওয়া অনেক শ্রেয়। আমি এটা বুঝতে অস্বীকার করেছি। আমার জীবন আমার কাছে অনেক বেশি দামী।

    আমি বুঝতে পারি, অনেক মহিলা এই কলঙ্কের ভয়ে চুপ করে থাকেন, কাউকে বলতে পারেন না, কিন্তু মনের মধ্যে অসম্ভব কষ্টদায়ক একটা ক্ষত তাঁরা পুষে রাখেন নীরব হয়ে থেকে। পুরুষেরা দোষ দেয় ধর্ষিতাকে, বিভিন্ন অজুহাতে, এবং আশ্চর্যজনকভাবে, মহিলারাও দোষ দেন, সেই ধর্ষিতাকেই, হয় তো মনের ভেতর গেঁথে যাওয়া পুরুষতান্ত্রিক, পিতৃতান্ত্রিক মূল্যবোধই তাঁদের দোষারোপে উদ্বুদ্ধ করে, যার ফলে নিপীড়িতা মেয়েটি আরও ভয়ংকর এক অবশ্যম্ভাবী পরিণতির দিকে এগিয়ে যায়, ধীরে ধীরে।

    ঘটনাটা ঘটেছিল এক জুলাইয়ের সন্ধ্যেবেলায়। সেই বছরেই মহিলাদের সংগঠন ধর্ষণ সংক্রান্ত আইনের পরিমার্জনের জন্য দাবি জানাচ্ছিলেন। আমি ছিলাম  আমার বন্ধু রাশিদের সঙ্গে। আমরা হাঁটতে বেরিয়েছিলাম, চেম্বুরে আমার বাড়ির থেকে আধ মাইল দুরত্বে একটা পাহাড়ের নিচে আমরা বসে ছিলাম। চারজন লোক আমাদের আক্রমণ করে। তাদের হাতে ছিল কাস্তে। তারা প্রচণ্ড মারে আমাদের, বাধ্য করে পাহাড়ের ওপরে যেতে, সেখানে আমাদের দু ঘণ্টা মত আটকে রাখে। শারীরিক আর মানসিকভাবে আমরা তখন বিধ্বস্ত, আর, সন্ধ্যের অন্ধকার যখন ঘনিয়ে এল, আমাদের দুজনকে আলাদা করে সরিয়ে নেওয়া হল, আর আমার চীৎকার আর্তনাদের মধ্যে তারা আমাকে ধর্ষণ করল, রাশিদকে হস্টেজ রেখে। একজন প্রতিবাদ করলেই অন্যজনের জীবনহানির আশংকা ছিল। ফলে আমাদের প্রতিবাদ করার উপায়টুকুও ছিল না।

    তারা ঠিক করতে পারছিল না আমাদের বাঁচিয়ে রাখবে, নাকি মেরে ফেলবে। আমাদের পক্ষে তখন যা যা করা সম্ভব ছিল, সব রকমভাবে চেষ্টা করছিলাম, শুধু বেঁচে থাকার জন্য। আমার তখন একটাই লক্ষ্য ছিল, বেঁচে থাকা, বেঁচে যাওয়া, সবকিছু ছেড়ে। আমি প্রথমে লড়াই করেছিলাম, তারপরে তাদের গালাগাল দিয়েছিলাম। আমার রাগ আর চীৎকারে কিছুই লাভ হল না, নিরুপায় আমি তাই প্রলাপ বকতে থাকলাম ভালোবাসা আর মনুষ্যত্বের বিষয়ে, বলতে থাকলাম যে আমি একজন মানুষ, আর তারাও তো মানুষ। ... কথাগুলো মনে হয় তাদের মনে কিছুটা কাজ করল, অন্তত যারা তখনও পর্যন্ত আমাকে ধর্ষণ করছিল না। আমি একজনকে বললাম, যদি তারা কথা দেয় আমাকে আর রাশিদকে প্রাণে মারবে না, আমি ফিরে আসব, এখানেই, শুধু তার সাথে দেখা করার জন্য, কাল বিকেলেই। কীভাবে এই কথাগুলো আমি উচ্চারণ করতে পেরেছিলাম, আমি এখন কল্পনাও করতে পারি না, কিন্তু সেই মুহূর্তে দুটো প্রাণ নির্ভর করে ছিল এই কথাগুলোর ওপর। সত্যি সত্যিই যদি আমাকে পরের দিন আবার ফিরে আসতে হত, তা হলে আমাকে হাতে নিয়ে আসতে হত খুব, খুব ধারালো কোনও অস্ত্র, স্রেফ নিশ্চিত করার জন্য যে তারা আর কোনওদিনও, কাউকে ধর্ষণ করতে পারবে না।

    অত্যাচার চলেছিল, মনে হয় যেন কত বছর ধরে (আমার ধারণা আমাকে বোধ হয় পর পর ১০বার ধর্ষণ করা হয়েছিল, আমার ঠিক মনে নেই, কিছুক্ষণের মধ্যেই আমি চেতনা হারিয়ে ফেলেছিলাম প্রচণ্ড যন্ত্রণায়), অবশেষে আমাদের যেতে দেওয়া হয়, সঙ্গে, আমি নীতিবোধহীন একটি বেশ্যা, কারণ আমি সন্ধ্যেবেলা একলা একটি ছেলের সঙ্গে বেরিয়েছি, এই মর্মে একটি লম্বা লেকচার। সম্ভবত এটাই তাদের রাগের কারণ হয়েছিল, সম্পূর্ণ ধর্ষণপ্রক্রিয়াটা তারা চালিয়েছিল, আমাকে সহবৎ শিক্ষা দিয়ে আমার কোনও উপকার করবার উদ্দেশ্যে। উন্মত্তের মত তারা নিজেদের যুক্তির সারবত্তা প্রমাণ করে চলেছিল আমার ওপর।

    তারা আমাদের পাহাড়ের নিচে নামিয়ে নিয়ে এল, আমরা একে অপরকে আঁকড়ে ধরে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটতে লাগলাম। তারা হাতে খোলা কাস্তে নিয়ে কিছুক্ষণ আমাদের অনুসরণ করল, সেই সময়টুকু ছিল আমাদের কাছে সবচেয়ে আতঙ্কের ... মুক্তি এত কাছে অথচ পেছনে ঝলসাচ্ছে মৃত্যুর আশঙ্কা। অবশেষে আমরা বাড়ি পৌঁছলাম, ক্ষতবিক্ষত, রক্তাক্ত, অর্ধমৃত অবস্থায়। সেই মুহূর্তে আমাদের অবিশ্বাস্য লাগছিল কী ভাবে কিছুক্ষণ আগেও আমরা প্রাণপণে অনুরোধ করছিলাম আমাদের ছেড়ে দেবার জন্য, আমাদের প্রাণে না মারার জন্য, মেপে মেপে সমস্ত কথা বলতে হচ্ছিল, কারণ সেই মুহূর্তে কোনও কারণে ধর্ষকদের মনে এতটুকু রাগের সঞ্চার ঘটলে আমাদের শরীরে কাস্তের কোপ পড়ত। মুক্তির আনন্দ আমাদের শরীরে ছড়িয়ে পড়ল, বেরিয়ে এল চোখ ফেটে জল হয়ে, গলা ফাটিয়ে কাঁদতে কাঁদতে আমরা লুটিয়ে পড়লাম, বাড়ির ভেতর।

    ধর্ষকদের কাছে আমি জোড়হাতে কথা দিয়েছিলাম, আমি কাউকে কিছু বলব না। কিন্তু যে মুহূর্তে আমি বাড়ি ঢুকলাম, বাবাকে বললাম পুলিশকে ফোন করতে। বাবা স্বভাবতই দুশ্চিন্তা এবং দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন এ ব্যাপারে। কিন্তু আমি নিশ্চিত ছিলাম, আর কারুর যাতে আমার মত অভিজ্ঞতা না হয় তার জন্য যা করা দরকার যতটা করা দরকার, তার শেষ পর্যন্ত দেখে আমি ছাড়ব। পুলিশ ছিল সহানুভূতিহীন, অবজ্ঞাপূর্ণ, এবং যেভাবেই হোক তারা আমাকে বাদীপক্ষ (Guilty Party) বানিয়ে দিল। তারা যখন আমাকে ঘটনার বিবরণ দিতে বলল, আমি সরাসরি জানালাম কী হয়েছিল আমার সাথে, তাতে তারা ঘেন্নায় শিহরিত হল এই ভেবে যে, আমি লজ্জা না পেয়ে মুখ না লুকিয়ে কী করে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিচ্ছি। তারা যখন জানাল, লোকে কিন্তু জানবে, আমি বললাম, আমার তাতে কোনও আপত্তি নেই। সত্যিই আমার বা রাশিদের মনে এ কথা কখনও আসে নি যে আমাদের দোষী প্রতিপন্ন করা হবে। তারা যখন বলল আমাকে কোনও জুভেনাইল হোমে নিয়ে গিয়ে রাখা হতে পারে আমার “নিরাপত্তা”র খাতিরে, আমি দালাল আর ধর্ষকে ভরা কোনও জায়গাতে গিয়ে থাকতেও রাজি ছিলাম যদি তা আমার ক্ষেত্রে অপরাধীদের আইনের শাস্তি দেওয়া নিশ্চিত করত।

    খুব তাড়াতাড়িই আমি বুঝতে পারলাম মেয়েদের জন্য ন্যায়বিচার আমাদের দেশের আইনব্যবস্থায় নেই। তারা যখন আমাকে জিজ্ঞেস করল আমরা ঠিক কী করছিলাম পাহাড়ের ওপরে, আমার মধ্যে অসম্ভব রাগ জন্ম নিতে শুরু করল। তারা যখন জিজ্ঞেস করল, রাশিদ কেন ঘটনার সময়ে “প্যাসিভ” ছিল, আমি চীৎকার করেছিলাম। তারা যখন আমাকে জিজ্ঞেস করল, আমি কী ধরণের পোশাক পরেছিলাম, রাশিদের শরীরে কোনও দৃশ্যমান ক্ষতচিহ্ন নেই কেন (রাশিদের শরীরের ভেতরে রক্তক্ষরণ হয়েছিল; কাস্তের হাতল দিয়ে উপর্যুপরি ওর পেটে আঘাত করা হয়েছিল), আমি ভয়ে হতাশায় সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিলাম, আর আমার বাবা তাদের সম্বন্ধে ঠিক কী মনোভাব পোষণ করে, সেটা মুখে উচ্চারণ করে তাদের বাড়ির বাইরে দূর করে দিয়েছিল। এই ছিল পুলিশের থেকে আমার প্রাপ্ত সাহায্য। কোনও চার্জ আনা হয় নি। পুলিশ শুধু স্টেটমেন্ট রেকর্ড করেছিল যে আমরা হাঁটতে বেরিয়েছিলাম এবং কোনও কারণে আমাদের ফিরতে “দেরি” হয়েছিল।

    আজ তিন বছর হয়ে গেছে, কিন্তু সেদিনের ঘটনার স্মৃতি আমাকে রোজ তাড়া করে বেড়ায় আজও, প্রতিদিন। সুরক্ষাহীনতা, অসম্মান, ভয়, রাগ, অসহায়তা – আমাকে নিয়মিত এসবের সঙ্গে যুদ্ধ করে যেতে হয় এখনও। কখনও এমন হয়, আমি রাস্তা দিয়ে হাঁটছি, পেছনে কারুর পায়ের শব্দ শোনা গেল, আমি ঘামতে শুরু করি, আমি ঠোঁট কামড়ে ধরি নিজের, পাছে চেঁচিয়ে না ফেলি। আমি বন্ধুত্বের স্পর্শেও ছিটকে যাই, টাইট স্কার্ফ পরলে মনে হয় কেউ বুঝি আমার গলাটা হাত দিয়ে টিপে ধরেছে, আমি পুরুষের দৃষ্টির সামনে আতঙ্কে কাঁপতে থাকি, যে ধরণের দৃষ্টি এখানে সর্বদাই দেখা যায়।

    অথচ তার পরেও মনে হয় আমি আজ অনেক বেশি স্ট্রং। আমি আমার জীবনকে আগের থেকেও বেশি উপভোগ করি। প্রতিটা দিন আমার কাছে একটি উপহার। আমি জীবনের জন্য লড়াই করেছিলাম, এবং জিতেছিলাম। কোনও বিরূপ প্রতিক্রিয়া আমার এই জেতার আনন্দ কেড়ে নিতে পারে নি।

    আমি পুরুষদের ঘৃণা করি না। সেটা করা খুব সোজা, আর পুরুষরাও অন্য অনেক ধরণের অন্যায় অত্যাচারের শিকার হন। আমি ঘৃণা করি পুরুষতন্ত্রকে, এবং ঘৃণা করি এই সর্বৈব মিথ্যে ধারণাকে যা বলে ছেলেরা মেয়েদের থেকে সুপিরিয়র, ছেলেদের যে অধিকার আছে তা মেয়েদের নেই, ছেলেরাই আমাদের ভোগ করার অধিকারি।

    আমার নারীবাদী বন্ধুরা মনে করে আমি মেয়েদের সমস্যা নিয়ে চিন্তিত কারণ আমি ধর্ষিতা হয়েছি। তা নয়। ধর্ষণ আমার নারীবাদী হবার পেছনে অনেকগুলো কারণের মধ্যে একটা। আলাদা করে ধর্ষণের ঘটনাকে প্রাধান্য দেব কেন? কেন ধরে নেব ধর্ষণ কেবলমাত্র ইচ্ছের বিরুদ্ধে যৌনসম্ভোগের নামমাত্র? প্রতিদিন যখন আমরা রাস্তায় হাঁটি, পেছন থেকে অশ্লীল টিটকিরি শুনতে পাই, তখন আমাদের ধর্ষণ হয় না? কেবল একটি মাত্র ডাইমেনশনে মেয়েদের প্রতি দমনের বিন্যাস করা যায় না।  উদাহরণস্বরূপ, সামাজিক শ্রেণীবিশ্লেষণ খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা ব্যাপার, কিন্তু তাই দিয়ে এটা ব্যাখ্যা করা যায় না কেন অধিকাংশ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে একই শ্রেণীর ভেতরে।

    যতদিন মেয়েদের বিরুদ্ধে অসাম্য টিকে থাকবে, ততদিন একটি এবং প্রতিটি মেয়ে ধর্ষণের সম্ভাবনায় কাঁপবে। ধর্ষণের সাথে গড়ে ওঠা সামাজিক নির্মাণকে ভাঙা সবচেয়ে জরুরি। আমাদের বুঝতে হবে এই সম্ভাবনা আমাদের চারদিকে কেমন করে ঘিরে ধরে আছে আমাদের, আর কত বিভিন্ন রূপে তারা আমাদের আক্রমণ করে। আমরা এই ঘটনাগুলোকে যত কম লুকিয়ে রাখতে পারি তত ভালো হয়, আর ঘটনাটার সত্যিকারের রূপের সামনাসামনি হবার হিম্মত অর্জন করতে হবে – একটা অপরাধের ঘটনা যেখানে ধর্ষক হচ্ছে অপরাধী।

    বেঁচে থাকার জন্য আমি তুমুল খুশি। ধর্ষিত হওয়া বর্ণনার অতীত এক কষ্ট, কিন্তু আমার মতে বেঁচে থাকাটা তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যখন কোনও মেয়েকে এইভাবে ভাবতে বাধা দেওয়া হয়, বুঝতে হবে আমাদের সামাজিক মূল্যবোধের কোথাও একটা বড়সড় ফাটল ধরেছে। কারুর ওপর যখন অমানুষিক অত্যাচার করা হয় এবং সে নির্বিবাদে মার খেয়ে যায় শুধু মারের শেষে বেঁচে থাকার প্রত্যাশায়, কেউ ভাবে না তার মার খাবার ইচ্ছে হয়েছিল তাই সে যেচে মার খেয়েছে। কিন্তু ধর্ষণের ক্ষেত্রে একজন মেয়েকে এটাই জিজ্ঞেস করা হয়, সে কেন ধর্ষণ করতে দিল, কেন প্রতিরোধ করে নি, সে নিজে ধর্ষণের ব্যাপারটা উপভোগ করেছিল কিনা।

    কোনও নির্দিষ্ট গ্রুপের মহিলাদের সাথে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে না, ধর্ষকরাও সমাজের কোনও নির্দিষ্ট গ্রুপের সদস্য হয় না। একজন ধর্ষক একজন উন্মাদ অত্যাচারী হতে পারে, অথবা পাশের বাড়ির ছেলেটি কিংবা পরিচিত কোনও কাকুও হতে পারে। ধর্ষণের ঘটনাকে “অন্য মেয়ের ব্যক্তিগত সমস্যা” হিসেবে দেখার অভ্যেস বন্ধ করতে হবে। আমাদের সামগ্রিকভাবে এটা বুঝতে হবে এবং সবাইকে বোঝাতে হবে।

    লিঙ্গভিত্তিক ক্ষমতায়নের নিয়ম যতদিন না পালটায়, মেয়েরা যতদিন না নিজেদের পুরুষের সম্পত্তি হিসেবে ভাবা বন্ধ করে, আমাদের ততদিন এই ভয়ংকর অত্যাচারের হাত থেকে মুক্তি পাবার কোনও উপায় নেই।

    আমি একজন সারভাইভর। আমি আমাকে ধর্ষণ করার জন্য কাউকে অনুরোধ করি নি, আমি ধর্ষণ উপভোগও করি নি। এটা ছিল আমার জীবনে সহ্য করা সবচেয়ে কষ্টকর অত্যাচার। কোনও ধর্ষণ কখনও কোনও মেয়ের দোষে ঘটে না। ধর্ষণকে নিয়ে আমাদের সমাজে পালন করে চলা অদ্ভুত নীরবতা আর অবাস্তব কাল্পনিক মিথকে ছিন্নভিন্ন করে দেবার উদ্দেশ্যেই আমার এই লেখা। আমি এই লেখার মাধ্যমে শুধু এইটুকু সবাইকে জানাতে চাই যে মেয়েরা কোনও সহজলভ্য ভোগসামগ্রী নয়, ধর্ষণের মত অপরাধ একজন মেয়েকে, মানুষ হিসেবে, সামাজিক ও মানসিকভাবে সবচেয়ে একা করে দেয়।


    ১৯৮৩ সালে মানুষী পত্রিকায় এই নিবন্ধটি প্রকাশিত হয়েছিল। সেখান থেকে অনুদিত। বাংলায় অনুবাদ করেছেন শমীক মুখোপাধ্যায়।

     

  • আরও পড়ুন
    ফেরার - JAYASHREE KONAR
  • বিভাগ : আলোচনা | ১৯ জুন ২০১৩ | ৪৩০ বার পঠিত
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • 4z | 152.176.84.188 (*) | ১৮ জুন ২০১৩ ০২:৩১76961
  • yes, i am a survivor and still alive.
  • কৃশানু | 213.147.88.10 (*) | ১৮ জুন ২০১৩ ০২:৪২76962
  • বড় ভালো লেখা। সবাইকে পড়ানো দরকার।
  • jhumjhmi | 127.194.253.55 (*) | ১৮ জুন ২০১৩ ০২:৫৯76963
  • খুব ভালো লেখা । এটাই দরকার, এই মনের জোরটাই আসল।
  • ঐশিক | 132.167.118.139 (*) | ১৮ জুন ২০১৩ ০৩:৩১76964
  • সাংঘাতিক ভাবে প্রাসঙ্গিক
  • ম্যাক্সিমিন | 69.93.218.66 (*) | ১৮ জুন ২০১৩ ০৩:৪৩76965
  • মানুষীতে পড়েছিলাম। বাংলায় পড়লাম। ভালো লাগলো।
  • san | 213.88.22.132 (*) | ১৮ জুন ২০১৩ ০৪:০৮76966
  • খুব ভালো লেখা।
  • a x | 138.249.1.202 (*) | ১৮ জুন ২০১৩ ০৪:১৫76967
  • ভদ্রমহিলার নাম সোহাইলা। সোহেল না।
  • siki | 132.177.231.178 (*) | ১৮ জুন ২০১৩ ০৪:৪৭76968
  • আচ্ছা।

    এই লাইনে পরের দাবি, সুজেটের লেখা চাই। কী আশ্চর্য সমাপতন, আজই এই লেখাটা পাবলিশ হল এখানে।
  • rani | 233.179.144.109 (*) | ১৮ জুন ২০১৩ ০৬:১৮76970
  • খুব দরকারি লেখা ।
  • rani | 233.179.144.109 (*) | ১৮ জুন ২০১৩ ০৬:১৮76969
  • খুব দরকারি লেখা ।
  • ranjan roy | 24.97.41.8 (*) | ১৯ জুন ২০১৩ ০১:১২76982
  • shameekake anek dhanyabaad. chama`tkaar anubaad. aaro chaai. kintu gulty party 'বাদী' নয়। বাদী হল complainant, সিভিল কেসে plaintif বা Applicant।

    gulty party হল প্রতিবাদী, defendant বা সিভিলে non-applicant.
  • siki | 132.177.29.209 (*) | ১৯ জুন ২০১৩ ০১:২১76983
  • বিবাদী পক্ষ।

    আমিও ধন্দে ছিলাম, ঐ জন্য ইংরেজিটা ব্র্যাকেটে লিখে রেখেছিলম, ভেবেছিলাম পরে কনফার্ম করে ইংরেজিটা সরিয়ে দেব।

    তারপরে ভুলে গেছি।
  • BARUNDEV BANDYOPADHYAY | 127.254.251.190 (*) | ১৯ জুন ২০১৩ ০৩:০৫76984
  • Salute,Salute, Salute. Chokhe barabar jal aschilo. Ei rakam ak sangramir katha tule dharar jonno dhonnobad.
  • nina | 22.149.39.84 (*) | ১৯ জুন ২০১৩ ০৩:৫২76985
  • এই প্রতিবাদ কে স্যালুট!
    এই সাহস ই আনতে পারে বিপ্লব--
    সিকি কেও ধন্যবাদ এই সৈনিকের কথা তুলে ধরার জন্য।
  • sch | 132.160.114.140 (*) | ১৯ জুন ২০১৩ ০৫:৪৬76971
  • প্রণাম যদি করতে হয় এদেরকেই করতে হয় - মাথা এমনিই শ্রদ্ধায় নিচু হয়ে আসে এদের সামনে এলে - এরাই প্রকৃ বিপ্লবী - একটা গুলি না ছুঁড়েও - একবারও undergroiund এ না গিয়েও
  • sch | 132.160.114.140 (*) | ১৯ জুন ২০১৩ ০৫:৫০76972
  • অন্য কোনো কবিতা গল্পের দরকার নেই - - এই লেখাটা প্রতিটি নারী নিগ্রহ বিরোধী প্রতিবাদ সভায় মাইক দিয়ে পাঠ করা উচিত। আর প্রতিটা থানায় টাঙ্গিয়ে রাখা উচিত ইংরেজী আর লোকাল ল্যাঙ্গুয়েজে অনুবাদ করে। ধন্যবাদ শমীক। আপনি খুব ভালো কাজ করলেন
  • nurul islam | 226.172.147.69 (*) | ১৯ জুন ২০১৩ ০৮:০২76974
  • ধর্ষণের সাথে গড়ে ওঠা সামাজিক নির্মাণকে ভাঙা সবচেয়ে জরুরি
  • Reshmi | 129.226.173.2 (*) | ১৯ জুন ২০১৩ ০৯:০৫76975
  • লেখাটার জন্য ধন্যবাদ। এটাও থাক http://www.nytimes.com/2013/01/08/opinion/after-being-raped-i-was-wounded-my-honor-wasnt.html?_r=0
    শুধু একটাই আফশোস, এই লেখাটার কথা আরো আগে আগে জানতে পারা উচিত ছিল। লড়াই এ জেতার এরকম গল্প আরো প্রচারের আলোয় আসুক স্বতঃস্ফুর্ত ভাবেই, শুধুমাত্র নতুন করে ঘটা আরেকটি মর্মান্তিক ঘটনার প্রতিক্রিয়া হিসাবে নয়........
  • siki | 132.177.209.106 (*) | ১৯ জুন ২০১৩ ০৯:৫০76976
  • থ্যাঙ্কিউ রেশমী,

    এই লেখাটা আজই প্রথম পড়লাম।
  • kumu | 52.109.69.118 (*) | ১৯ জুন ২০১৩ ০৯:৫২76977
  • স্যালুট।
  • aniket pathik | 212.54.54.240 (*) | ১৯ জুন ২০১৩ ১১:৩৫76978
  • ঠিক এই লেখার মত আর একটা পদক্ষেপ। দেশজুড়ে যখন ধর্ষণকে ‘আলাদা গুরুত্ব’ দেবার দাবী উঠছে, মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করছেন ‘ধর্ষণ প্রমাণ হলেই মৃত্যুদন্ড’, সেই সংকটকালে সব আড়াল সরিয়ে নিজের নাম ও চেহারায় আত্মপ্রকাশ করলেন পার্কস্ট্রীট গণধর্ষণ কান্ডের নিগৃহীতা সোজেট। শুধুমাত্র একটি ‘ধর্ষণ’ দিয়ে একটা গোটা মানুষকে সারাজীবন চিনহিত ও বিচ্ছিন্ন করার যে সামাজিক নির্মাণ, (যার জন্য এই অধিক গুরুত্ব দেওয়ার দাবী) তাকে সরাসরি অস্বীকার করার পথে এই প্রথম পদক্ষেপ ! এই প্রথম একজন মহিলা নিজে দেখালেন যে ধর্ষিত হওয়া এমন কোন বিষয় নয় যার জন্য নিজেকে মুখ লুকিয়ে থাকতে হবে ! বরং যদি আমার ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলাই পৌঁছে যেতে হবে থানায় কিম্বা খবরের দপ্তরে। ধন্যবাদ সজেট ! এই কথাগুলো এত স্পষ্ট করে বলা ক্রমশঃই খুব কঠিন হয়ে পড়ছিল। শারীরিক ধর্ষণের প্রতিকার চাইতে গিয়ে সামাজিক ধর্ষণের দিকটা ক্রমশঃ গুরুত্বহীন হয়ে যাচ্ছিল আমাদের চোখে। এই পথে আপনাকে সঙ্গে পেয়ে আমাদের আত্মবিশ্বাস ফিরে এল। আপনাকে দেখে আবার অনুভব করলাম কিছু কিছু গন্ডী নিজেকেই পেরোতে হয়, কেউ হাত ধরে পার করে দেবে এই আশায় বসে থাকলে চলে না।
  • siki | 132.177.209.106 (*) | ১৯ জুন ২০১৩ ১২:০১76979
  • "এই প্রথম" নয়, তবে কলকাতায় এই প্রথম।
  • রূপঙ্কর সরকার | 126.203.215.132 (*) | ১৯ জুন ২০১৩ ১২:২১76980
  • শমীক, অনুবাদ খুব ভাল হয়েছে। লেখাটা আমার আগে পড়া, তাই সেটা নিয়ে আর মন্তব্য করলাম না।
  • de | 190.149.51.69 (*) | ১৯ জুন ২০১৩ ১২:২৫76981
  • সত্যি ভালো হয়েছে অনুবাদ --
    সোহাইলার দুটো লেখাই আগে পড়া, তবে এই সময়ে পড়তে অন্যরকম লাগলো। অত্যন্ত সময়োপযোগী প্রয়াস!
  • কাজল সেন | 59.136.229.166 (*) | ২০ জুন ২০১৩ ০৬:৫৫76986
  • সত্যি লেখাটা এমন মর্মস্পর্শী যে চোখে জল এসে যায়।
    আবার সোহেল এর প্রতিবাদী কন্ঠস্বর অনেকের মনে সাহস জোগাবে।
    এরকম প্রতিবেদে সরব হোক সব্বাই।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। সুচিন্তিত প্রতিক্রিয়া দিন