• হরিদাস পাল  ব্লগ

  • ফাঁসিচক্র

    তির্যক লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ০৫ আগস্ট ২০১৫ | ১০৪৭ বার পঠিত
  • এই বিতর্কটা চলবেই, কারণ আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশে আর যারই অভাব থাক অপরাধীর কোনও অভাব নেই আর মাঝে মাঝেই তাদের ফাঁসীকাঠের দিকে পাঠাতেই হয়। তখনই আমাদের এই অনিবার্য তক্কাতক্কিতে ঢুকে পড়তে হয়। এখানে আপনাকে একটা পক্ষ নিতেই হবে, দিনের শেষ আপনি মৃত্যুদন্ডের পক্ষে অথবা বিপক্ষে, কোনো মাঝামাঝি অবস্থান নেই। আমরা সদ্য একটা ফাঁসিচক্র সামলে উঠলাম, ঘুলিয়ে উঠল আমাদের থিতিয়ে পড়া মতামত গুলো। আপাততঃ আমাদের সামনে কেউ নেই, তাই আসুন এই সুযোগে নিজেদের যুক্তি ও আবেগগুলো নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরি। এখানে নিরপেক্ষ মানে পক্ষবিহীন নয়, পক্ষপাতবিহীন।
    মৃত্যুদন্ডের পক্ষে ও বিপক্ষে যাঁরা যারা তাঁদের প্রায় সরাসরিই ‘লিগ্যাল’ আর ‘মরাল’ দুটো ভাগে ভাগ করে ফেলা যায়। কেন সেটা এই কথোপকথন এগোলেই বোঝা যাবে। যাঁরা পক্ষে তাঁদের একটা অসুবিধেজনক অবস্থান আছে। তাঁদের কোনও না কোনও একটা ঘটনার (পড়ুন একটা অভিযুক্তের) সাপেক্ষেই মৃত্যুদন্ডটা কতটা উপযুক্ত সেটা বিচার করতে হয়। তবে এর একটা সুবিধেও আছে তাঁরা ঘটনার অভিঘাতটা সরাসরি কাজে লাগাতে পারেন। অন্যদিকে মৃত্যুদন্ডের বিরোধীদের আবেগটা স্থিতিশীল, ঘটনাগুলো বদলে বদলে গেলেও এঁদের যুক্তিগুলো বদলায় না।
    সুতরাং। ‘লি’-রা বক্তব্য শুরু করবেন, অপরাধের গুরুত্ব দিয়ে। সাধারণতঃ সন্ত্রাস, খুন, বা ধর্ষণ + খুন। মানে যে লোকটা এতগুলো লোককে (সংখ্যাটা বদলে যাবে) খুন করেছে বা এতগুলো মৃত্যুর কারণ হয়েছে, এইরকম নৃশংস ভাবে ধর্ষণ করেছে তাকে কি ভাবে ছেড়ে দেওয়া যায় ! (হ্যাঁ, লি-রা তর্কের উত্তেজনায় প্রায়ই ফাঁসী না হওয়া আর শাস্তি না হওয়াকে গুলিয়ে ফেলেন)। তার জন্য চরম শাস্তিই নির্দিষ্ট। আমাদের দেশের আইনে ফাঁসীই চরম শাস্তি তাই এর অন্যথা হওয়ার অর্থ হল ওই ঘৃণ্য অপরাধের গুরুত্ব খাটো করে দেওয়া। এইটুকুর উত্তরে ‘ম’-দের বক্তব্য খুব সোজাসাপ্টা। ক্ষমার বা শাস্তি না হওয়ার প্রশ্নই নেই, চরম শাস্তিই হোক, কিন্তু চরম শাস্তির সীমাটা প্রাণদন্ডের আগেই থেমে যাক। কারণ প্রাণদন্ডও একপ্রকারের হত্যাই, রাষ্ট্র নির্দিষ্ট হত্যা। আর হত্যার বদলে হত্যাকে প্রতিশোধ বলা যায়, বিচার বলা যায় না কারণ তা সংশোধনের কোনও রাস্তা খোলা রাখে না, বরং তা হিংসাকে প্রশ্রয় দেয়, ‘অ্যান আই ফর অ্যান আই উইল মেক দ্য হোল ওয়ার্ল্ড ব্লাইন্ড’, তাই প্রাণদন্ড ব্যাপারটাই বিচার ব্যবস্থা থেকে বাদ দেওয়া উচিৎ। তাহলে আর অপরাধের গুরুত্ব কমে যাওয়ার সমস্যা থাকবে না।
    ‘লি’-গোষ্ঠী মৃত্যুদন্ডহীন বিচারব্যবস্থা ও শাস্তির কথা ভাবতেই পারেন না। তাঁদের কাছে মৃত্যুদন্ড তুলে দেওয়ার অর্থই হল অপরাধীকে দয়া দেখানো। তাই এর উত্তরে লি-রা বলেন যে মানুষ ঠান্ডামাথায় (!) এতগুলো প্রাণের হানি ঘটাতে পারে (কিম্বা সমতুল্য অপরাধ) তার কোন সংশোধন সম্ভব নয়। ক্ষণিকের উত্তেজনায় যে মানুষ খুন করে ফেলে, তার ক্ষমা (!) হয়। কিন্তু যে প্ল্যান করে এতগুলো নিরপরাধ লোককে খুন করেছে বা এই নৃশংস ধর্ষণ করেছে, তাকে কেন দয়া দেখান হবে ? যে প্রাণের মূল্যই বোঝে না, তার প্রাণের কি মূল্য ? এখানে কিছু উদাহরণ দেওয়া হবে যে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আসামী ছাড়া পেয়ে আবার অপরাধ করেছে। কিন্তু ম-রা মনে করেন মানুষ সংশোধনযোগ্য। কোনও মানুষই অপরাধি হয়ে জন্মায় না, ক্ষণিকের উন্মাদনায় অপরাধ করে মানুষ অনুতপ্ত হয়। সন্ত্রাসবাদী গণহত্যার পেছনেও থাকে কিছু না কিছু ভ্রান্ত ধারণার ইন্ধন। তার কাউন্সেলিং করে তার মাথা থেকে সেই ভুল ধারণা তাড়ালে সে শুধরে যেতে বাধ্য। অজস্র উদাহরণ আছে, বন্দীদের নিয়ে অলকানন্দা রায়ের বাল্মিকী প্রতিভার পরিকল্পনা এবং তার সাফল্যের কথা বলা হবে জোর দিয়ে। তবে ম-রা উদাহরণের ওপর ভরসা করেন না, করেন পদ্ধতির ওপর তাই অপরাধের গুরুত্ব অনুসারে তাঁরা প্রয়োজনে আমৃত্যু বন্দী করে রাখারও পক্ষপাতি।
    লি-রা এখানে কেস-স্পেসিফিক কিছু উদাহরণ দেবেন, আজমল কাসভ বা রাম সিং (নির্ভয়া) এর কথা। এরা যাদের হত্যা করেছে তাঁদের পরিজনদের দুঃসহ যন্ত্রণার কথা তুলে বলবেন ‘আপনার (ম-র) বাড়ির লোকের সঙ্গে এটা হলে আপনি বুঝতেন’। ম-রা এর উত্তরে বলবেন, ‘ঘটনাটা তো আপনার (লি) বাড়ির লোকের সঙ্গেও হয়নি, তাহলে আপনি কি করে তাঁদের মনের কথা জানছেন ? কেন ভাবছেন যে যাঁদের পরিবার নানাভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে তাঁরা সবাই অপরাধির মৃত্যুদন্ডই চাইছেন ? কারণ অপরাধীর মৃত্যুদন্ড হলে তাঁদের প্রিয়জন ফিরে আসবেন তাও নয় আর তাঁর অভাবটা পূর্ণ হয়ে যাবে এমনও নয়। কিন্তু এমন অন্ততঃ দুটো ঘটনার কথা তো আমরা সবাই জানি যেখানে যিনি নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন তাঁর পরিজনই মৃত্যুদন্ড চাননি। গ্রাহাম স্টেইনের স্ত্রী আর রাজীব গান্ধীর স্ত্রী। আর মৃত ব্যক্তির পরিজনের আবেগের কথা মাথায় রাখলে তো ‘অপরাধের গুরুত্ব’ মানে যার ভিত্তিতে ‘বিরলতম’ শিরোপা, তার কোনও মানেই থাকে না; কারণ খুনী একজনকে খুন করুক আর একশো জনকে খুন করুক যে খুন হচ্ছে তার পরিবারের লোকের যন্ত্রনা একইরকম। এমনকি সে ভাবে দেখতে গেলে কারুর ভুলে বা দুর্ঘটনায় (ডাক্তার বা ড্রাইভার) মৃত্যু হলেও সেই মানুষটির পরিজনের কষ্টও একই থাকে, তাহলে কি আমরা সকলেরই প্রাণদন্ড চাইব, নাকি আমরা মৃত্যুতে মৃত্যুতে অভিঘাতের তফাত করব ? নাকি আসলে নিহতের পরিজনের কষ্টের বদলে হত্যাকারীর পরিজনকে একই কষ্টের মধ্যে ফেলতে চাইব !
    লি-দের বক্তব্য হল, হাজার হাজার অপরাধীর মধ্যে মাত্র কয়েকজনকে প্রাণদন্ড দেওয়া হয়, তাও দীর্ঘ বিচারপদ্ধতির মধ্যে দিয়ে, তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের যাবতীয় সুযোগ দেওয়ার পর। তার মানে সেই অপরাধ গুলো সর্বোচ্চ আদালতের বিচারে বিরলতম অপরাধ নিশ্চই। তাহলে সেইটুকু বিশ্বাস আমরা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর রাখতে পারব না কেন ? কিন্তু ম-দের মতে বিচার ব্যাপারটা শুধু কেস-স্পেসিফিকই নয় দেশ-স্পেসিফিকও বটে। তাই আমাদের দেশে যেখানে বিচার কেনা যায়, সেখানে কোনো বিচারই পুরোপুরি ভরসাযোগ্য নয়, অর্থাৎ ভুল লোককে যে ফাঁসীতে চড়ানো হচ্ছে না তার গ্যারান্টি কোথায় ? আর যদি সত্যিই ভুল লোককে মারা হয়, সে ভুল তো কোনোভাবেই সংশোধন করা যাবে না, তারই বা খেসারত কে দেবে ? যেমন আজ ধনঞ্জয় চ্যাটার্জীর কথা শোনা যাচ্ছে। তাকে নাকি সত্যিই অপরাধী সাজানো হয়েছিল। যে দেশে সারকামস্ট্যানশিয়াল এভিডেন্সের নামে ঘোষিতভাবেই বানানো গল্পও বিশ্বাস করানো হয় (আরুষি তলোয়ার), যে দেশে প্রত্যক্ষ প্রমাণের অভাবে ‘পাবলিক ইম্পাল্‌স্‌’ কে-ও ফাঁসী দেওয়ার কারণ হিসেবে ঘোষণা করা যায় (আফজল গুরু), সে দেশের রাষ্ট্রের হাতে প্রাণদন্ডের অধিকার দেওয়া তো ভয়ঙ্কর ! তা ছাড়া আমরা গত তিনটে মৃত্যুদন্ডের ক্ষেত্রে বিরলতম-র যা নমুনা দেখলাম। আজমল কাসভ সরাসরি খুন ও সন্ত্রাসের জন্য যে শাস্তি পেল, আফজল গুরু শুধু গাড়ি / বাড়ি বুক করে দিয়ে (মানে আদালতের রায়ে শেষ অবধি এ ছাড়া সরাসরি কিছু অপরাধের কথা বলা নেই) সেই শাস্তিই পেল, আর ইয়াকুব মেমনকে তো পাকিস্তান থেকে আশ্রয় দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ডেকে এনে ২০ বছর জেলে রেখে শেষে ফাঁসী দেওয়া হল। তার ক্ষেত্রেও ওই সারকামস্ট্যাশিয়াল এভিডেন্স ছাড়া কিছু বলা যায় নি। তাহলে কোথাও বিরলতম অপরাধ যে করল তার সঙ্গে কোনোভাবে জুড়ে গেলেই সেও বিরলতম শাস্তি পাচ্ছে আবার কোথাও সরাসরি গণহত্যার নায়ক দেশের প্রগতির প্রতীক প্রধানমন্ত্রী হয়ে দাঁড়াচ্ছে্ন। এই আদালতের হাতে হত্যার অধিকার দেওয়া ! হয়তো কয়েক হাজারের মধ্যে মাত্র কয়েকজন এই শেষ বিচার পায়, কিন্তু সেই কয়েকজনও তো মানুষ, দেশের নাগরিক এবং কারুর না কারুর বাবা-ছেলে-ভাই। কোন অধিকারে আমরা একটি মানুষের জীবনও বাজী ধরতে পারি ! শুধুমাত্র সেই মানুষটি আমার কেউ নয় বলে ?
    আসলে লি-দের হাতে প্রাণনাশ ছাড়া কোন বিকল্প নেই কিন্তু ম-দের হাতে (মানে মাথায় !) শাস্তির অনেক উপায় আছে। কোন হিংস্র পদ্ধতি নয়, তাঁরা মনে করেন একটা প্রাণ খামোখা নষ্ট না করে ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ, তার ইচ্ছেমত বেঁচে থাকার স্বাধীনতা হরণ করে তাকে দিয়ে কাজ করানো হোক, কঠোর পরিশ্রমের কাজ। এইভাবে সে বেঁচে থাকার যোগ্যতা অর্জন করুক। লি-রা মনে করেন এই ভাবে বেঁচে থাকা তো মৃত্যুরই সমান। তাহলে আর তাকে মেরে ফেললে ক্ষতি কিসের ? ম-রা এই কথাকে চূড়ান্ত অমানবিক মনে করেন। কারণ একটা মানুষের মূল্য তো তার নিজের ও পরিজনদের কাছে, তাঁরা যখন শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রাণভিক্ষা করেন, তখন বুঝতে হবে তাঁদের কাছে সেই প্রানের মূল্য আছে, তা নস্যাৎ করার অধিকার আমাদের নেই। কেউ আমার ঘরের লোককে খুন করলে আমারও তাকে খুন করে ফেলতে ইচ্ছে করতে পারে কিন্তু আমার হয়ে অন্য কারুর সেই ইচ্ছেটা হলে তাকে প্রশ্রয় দেওয়া যায় কি !
    লি-রা যেটাকে মোক্ষম যুক্তি মনে করেন, সেটা হল, অপরাধীকে দয়া দেখালে সম্ভাব্য অপরাধীরা প্রশ্রয় পেয়ে যাবে। অন্যদিকে ফাঁসীর মত চরম শাস্তির ভয় থাকলে ভবিষ্যতের অপরাধীরা অপরাধের আগে দুবার ভাববে। এই কারণেই পৃথিবীর বেশির ভাগ দেশে প্রাণদন্ড চালু আছে, কোনো কোনো গবেষণা নাকি দেখিয়েছে প্রাণদন্ডের ভয়ে অপরাধের হার কমে গেছে। কিন্তু ম-গোষ্ঠী এই যুক্তিকে মোটেই আমল দেন না। তাঁদের মতে যেকোন অপরাধের পেছনে হাজারটা কারণ থাকে, শাস্তির মাত্রার সঙ্গে অপরাধের যদি এতই সরাসরি সম্পর্ক থাকত তা হলে প্রাচীনযুগ থেকে শুরু করে এতদিনে অপরাধ বলে আর কিছু থাকত না। মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশে যেসব বীভৎস পদ্ধতিতে শাস্তি দেওয়া হয়, তাতে সেইসব দেশ একেবারে অপরাধিশূন্য হয়ে যাওয়া উচিত ছিল এতদিনে। কিন্তু তা হয়নি কারণ মানুষ অপরাধ করার সময় তার শাস্তি মৃত্যু না যাবজ্জীবন তাই ভেবে করে না, বরং মনে মনে ভাবে আমি কিছুতেই ধরা পড়ব না। কারণ আসলে কোনও শাস্তিই না পাওয়া অবধি কেউ বুঝতে পারে না সেটা আসলে কি রকম। আজ যারা মনে করছে সারাজীবন জেলে থাকার চেয়ে মরে যাওয়াই ভাল, তাদের মধ্যে ভবিষ্যতের অপরাধিও থাকতে পারে, তারাও আসলে জানে না সত্যি মরে যাওয়াটা ভালো কিনা। তাই ধরা যে পড়ব, শাস্তি যে হবে, এই ভয় থাকা দরকার কিন্তু তার জন্য প্রাণদন্ডই দরকার, এমন কথার পক্ষে তেমন জোরালো যুক্তি কিস্যু নেই।
    এই পর্যায়ে এসে লি-রা দস্তুরমত রেগে গিয়ে বলেন ম-দের এই অহিংস শান্তিকামী ধ্যানধারণা এতটাই অবাস্তব যেন অন্য দেশ আক্রমণ করলেও এই নীতি বজায় রেখে অস্ত্রশস্ত্র তুলে রেখে কাউন্সেলিং করে যাওয়া উচিৎ আর ততক্ষণে আক্রমণকারীরা মেরে শুইয়ে দিক। তবে ম-রা মুচকি হেসে এই উত্তেজনা ঝেড়ে ফেলে বলেন বিচারব্যবস্থা আর প্রতিরক্ষাকে গুলিয়ে ফেলা একান্তই বোকামি। যুদ্ধ এমনিতেই একটা চূড়ান্ত অনৈতীক আর বর্বর ব্যাপার, যেখানে হিংসা আর শুধুমাত্র হিংসাই কাজ করে। যেখানে কোন নিয়মই খাটে না আর মানবিকতার কোন জায়গাই নেই। আর আদালত হল নিয়মের-আইনের-চুলচেরা বিশ্লেষণের জায়গা।।।যুদ্ধক্ষত্রের নিয়ম দিয়ে বিচারব্যবস্থা চালানো হলে সে বড় সুখের সময় নয় আর তার কুফল আমরা সবাই ভোগ করব। তাই এইরকম তুলনা করা একেবারেই উচিৎ নয়।
    ----------------------------------------------------------------
    লি- আর ম- দের তক্কাতক্কি এখানেই শেষ। এই তর্কের শেষে মনে হয় ম-রাই যেন জিতে গেল (বা লেখক তাদের জিতিয়ে দিলেন) কিন্তু বাস্তবে লি-রাই জেতে। তাই আমাদের গণতন্ত্রে আজও ফাঁসি হয়।

     

  • বিভাগ : ব্লগ | ০৫ আগস্ট ২০১৫ | ১০৪৭ বার পঠিত
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • পাতা :
  • Ekak | 113.6.157.185 (*) | ১৩ আগস্ট ২০১৫ ১২:৪৪67704
  • @0

    সেত আছেই । আদালতের মধ্যেও সন্ত্রাস এর ছায়া ও তার ফলাফল আছে । আদালত তো চাঁদে বসছেনা (জিওগ্রাফি নয় ,সিস্টেম অর্থে বলছি) । কাজেই চাপ অনস্বীকার্য্য ।
    ঈশান কোনো একটি toi তে ক্রিমিনাল প্রসিদীয়র কোড তুলে দিয়েছিল । ওগুলো একটু পরলেই বোঝা যায় ধনঞ্জয় এর মত কেস কেন ওরকম রূপ নিল । কোড গুলো পুরো আদ্যিকালের ভালভ এর মত । যদি কোড মেনে চলেন তাহলে যে কোনো রেপিস্ট কে একদম চূড়ান্ত প্রমান ছাড়া ধরতেই পারবেন না । প্রভোকেশন -সিচুএশোনল অমুক তমুক বলে ঠিক তার উকিল বের করে নিয়ে যাবে । এবার আদালত দেশের হাওয়া বুঝে চলে । সেই বুঝেই ভালভগুলো কথাও বন্ধ কথাও খোলা । এটা লিগালিটির উদ্বর্তন না ঘটলে তা কিভাবে জাস্ট একটা ডিরেক্ট (অন্দর্লাইন)ভোটিং সিস্টেমে পরিনত হয়ে যায় তার উদাহরণ । ধনঞ্জয় এর ক্ষেত্রে তাই হয়েছে ।

    এর থেকে বেরোনো কঠিন । চাপ থাকবেই বিচার ব্যবস্থার ওপর । "ডিরেক্ট " প্রেসার থেকে বেরোনো ও জরুরি । সেজন্যেই লিগাল সিস্টেমের এর উদ্বর্তন দরকার । যাঁরা ধনঞ্জয় এর ফাঁসি চাইছিলেন তাঁদের গাল দিয়ে কিছু হবেনা । তাঁরা আমার -আপনার মতই বিচারপ্রার্থী ।এবং , ন্যাচেরালি সবাই যার যার মত করে ।
  • Ekak | 113.6.157.185 (*) | ১৩ আগস্ট ২০১৫ ১২:৪৬67705
  • এখানে বলতে পারেন মরালিটি নিয়ে মারপিট না করে ডিরেক্টলি লিগাল কে পাল্টাতে বল্লুম কেন ।
  • 0 | 132.163.77.140 (*) | ১৪ আগস্ট ২০১৫ ০২:১০67711
  • একক, ওই অনুভূতিগুলো বিভিন্ন স্থানে, কালে, পরিস্থিতিতে মানুষকে সহিংস হতে বাধ্য করেছে, উদ্বুদ্ধ করেছে (জোয়ান্‌ অফ্‌ আর্ক্‌, লক্ষ্মীবাঈ)। আবার কখনো ওগুলো মানুষকে অহিংস হতেও অনুপ্রাণিত করেছে (গান্ধিজী, লুথার কিং)।
    এইজন্যে ওগুলোকে স্থান-কাল-পরিস্থিতি নিরপেক্ষ বলেছি।
    একে স্টেটিস্ট্‌ স্টান্স্‌ আর আস্তিক্য কেন বলছেন?
  • পাতা :
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ক্যাবাত বা দুচ্ছাই মতামত দিন