• টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। যে কোনো নতুন আলোচনা শুরু করার আগে পুরোনো লিস্টি ধরে একবার একই বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে কিনা দেখে নিলে ভালো হয়। পড়ুন, আর নতুন আলোচনা শুরু করার জন্য "নতুন আলোচনা" বোতামে ক্লিক করুন। দেখবেন বাংলা লেখার মতো নিজের মতামতকে জগৎসভায় ছড়িয়ে দেওয়াও জলের মতো সোজা।
  • আস্তিকতা, নাস্তিকতা, স্বাধীন ইচ্ছা, চেতনা ইত্যাদি তর্ক

    dc
    বিভাগ : অন্যান্য | ১৫ মে ২০১৫ | ৭৯ বার পঠিত
আরও পড়ুন
N-Deal-Freedom,CPIM-CONG - DC
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1 | 2
  • dc | 132.164.185.175 | ১৫ মে ২০১৫ ১০:২৮676022
  • ঈশ্বর আছে না নেই? স্বাধীন ইচ্ছা (free will) আছে না নেই? চেতনা (consciousness) আছে না নেই? আত্ম-চেতনা (self-consciousness) কি আত্মার একরকম বহিঃপ্রকাশ নাকি স্রেফ মস্তিষ্কের নিউরনগুলোর সমষ্টিগত কারসাজি? সমস্ত প্রাণী জগতে কি শুধু মানুষেরই স্বাধীন ইচ্ছা আর চেতনা আছে? একজন মানুষের নীতিগত (ethical) জীবনযাপনের জন্য কি মূল্যবোধের (virtues) দরকার আছে?

    এসব প্রশ্ন বহুকালের, হয়তো মানবসভ্যতার সাথে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। পাশ্চাত্য ও প্রাচ্যের বহু দার্শনিক বহু হাজার বছর ধরে এগুলো নিয়ে তর্ক করছেন, কিন্তু এই তর্কের নিরসন হয়নি। এই তর্ক করতে ফিয়ে বিভিন্ন দার্শনিক চিন্তাধারা বা স্কুল অফ থট তৈরি হয়েছে, যেমন determinism, compatibilism, libertarianism, hard determinism, hard compatibilism, indeterminism, incompatibilism ইত্যাদি। এই নানান চিন্তাধারা নিয়ে অল্প অল্প করে কিছু লেখার চেষ্টা করবো। আস্তিক, নাস্তিক, ভোগবাদী, অদৃষ্টবাদী, সবাইকেই নিজের নিজের মতো করে লেখার অনুরোধ করলাম।

    পারস্য দেশের সুফি দার্শনিক জালাল উদ-দিন মহম্মদ রুমির উক্তি স্মরন করে আলোচনা শুরু করা যাকঃ There is a disputation that will continue till mankind is raised from the dead, between the necessitarians and the partisans of free will.
  • dc | 132.164.185.175 | ১৫ মে ২০১৫ ১০:২৯676033
  • তর্ক শুরু করার আগে কিছু সংজ্ঞা পরিষ্কার করে লিখে দেওয়া ভাল। প্রত্যেকের এই সংজ্ঞাগুলো পছন্দ না হতেই পারে, সেক্ষেত্রে নিজের সংজ্ঞাটিও লিখে দিতে পারলে ভালো হয়। আর তর্ক করার সময়ে কে কোন সংজ্ঞার সাপেক্ষে তর্ক করছেন সেটাও একটু বলে দেবেন।

    স্বাধীন ইচ্ছা (free will): যেখানে আমার সামনে বেশ কিছু অপশান আছে, সেখানে আমি নিজের ইচ্ছেমতো কোন একটিকে বেছে নিতে পারি। অবশ্যই এর মানে এই নয় যে আমি সম্পূর্ণ স্বাধীন। নানান বাধা থাকতে পারে, যেমন আমি ইচ্ছেমতো মাধ্যাকর্ষন শক্তি উপেক্ষা করতে পারিনা (জাগতিক নিয়মসমূহের বাধা) বা ইচ্ছেমতো চুরি করতে পারিনা (সামাজিক নিয়মসমূহের বাধা), আমি অন্ধকারে একা থাকতে ভয় পাই (মানসিক বাধা), আমি ঘুষ দিতে ঘৃনা করি (আমার নিজের নীতিগত বাধা) ইত্যাদি।

    ঈশ্বরঃ এমন এক যৌক্তিক (rational) সর্বশক্তিমান (omnipotent) সত্ত্বা যা এই মহাবিশ্ব আর তার ভেতর সব কিছুর জন্ম দিয়েছে।

    ডিটারমিনিজমঃ এই মহাবিশ্ব চলে শুধুমাত্র কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম (well defined laws) মেনে। এর সবকিছু কার্য্যকারন নির্ধারিত। প্রাথমিক ঘটনাবলী (initial events) যদি নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয় তাহলে তার মাত্র একটিই ফল হতে পারে (law of necessity)। সুতরাং এই মহাবিশ্বে স্বাধীন ইচ্ছার কোন জায়গা নেই।

    compatibilism বা soft determinism: এর জনক ডেভিড হিউম। ওনার মতে ঘটনাবলী যদিও প্রাকৃতিক নিয়মের (natural laws) দ্বারা চালিত, কিন্তু স্বশাসিত শক্তি (autonomous agent) কিছু নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা মেনে নিয়ে নিজের ইচ্ছেয় (free volition) ঘটনাবলীর ওপর নিজের প্রভাব (influence) খাটাতে পারে। দুরকম কার্য্য হতে পারে, স্বাধী আর শর্তসাপেক্ষ (free action and unfree action) শর্তসাপেক্ষ কার্য্য ডিটারমিনিস্টিক, অর্থাত প্রাকৃতিক নিয়মের অদইন, অর্থাত ডিটারমিনিস্টিক। কিন্তু স্বাধীন কার্য্য (free action) নিজের ইচ্ছেয় নিজের নীতি (morality) মেনে করা যায়।

    libertarianism: ফ্রি উইল আছে, ডিটারমিনিজম একটি ভুল মতবাদ। (এটি লিবারটারিয়ানিজমের দার্শনিক চিন্তাধারার ডেফিনিশন। লিবার্টারিয়ালিজমের একটি পলিটিকাল সংজ্ঞাও আছে)
  • dc | 132.164.27.149 | ১৫ মে ২০১৫ ১০:৪৭676044
  • প্রাচীন গ্রীসে চেষ্টা শুরু হয়েছিল, সব ঘটনাকেই দৈবের ইচ্ছা না বলে প্রাকৃতিক নিয়ম দিয়ে ব্যাখ্যা করার। Anaximander বোধায় প্রথম বলেন যে আমাদের চারপাশে যা ঘটনা ঘটে তার সুনির্দিষ্ট প্রাকৃতিক কিছু কারন (natural causes) আছে। আমাদের চারপাশে যা দেখি তার দুটি ভাগ - প্রকৃতি (cosmos) আর সেই প্রকৃতিকে যে নিয়মগুলো চালায় (logos)। Anaximander কে এই কারনে প্রথম cosmologist বলা হয়।

    Heracletas বলেন যে যা কিছু পরিবর্তন হয় তার সব কিছুই প্রাকৃতিক নিয়মের জন্য। সবকিছু ঐ নিয়ম মেনেই ধারাবাহিক ভাবে বিবর্তিত হয়, জলের মতো বয়ে চলে (panta rhei)।
  • dc | 132.164.42.191 | ১৫ মে ২০১৫ ১২:১৫676055
  • এর পর Democritus আর Leucippus বস্তুবাদী যৌক্তিক (raional) দর্শন প্রচলন করেন। এনারা বলেন যে বস্তু অবিভাজ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র atom দিয়ে তৈরী, আর এই অ্যাটমগুলোর মধ্যে যা আছে তা হলো শূণ্যস্থান (empty space)। এই অ্যাটমগুলো সবসময়ে চলমান, এগুলোর নানারকম গঠন আর সাইজ আছে। এই অ্যাটমগুলোর নড়াচড়ার কোন উপলক্ষ নেই, কোন আদি কারন (prime cause) ও নেই। সুতরাং প্রকৃতি শুধুমাত্র প্রাকৃতিক নিয়ম মেনে চলে, দৈব প্রভাব বলে কিছু নেই। আমাদের চারপাশে সবকিছু mechanistic। দৈবাৎ কোন কিছুই ঘটে না, চান্স বলে কিছু নেই, কারন পূর্বে যা ঘটেছে তাই দিয়ে ভবিষ্যত সুনির্দিষ্ট।

    কিন্তু Epicurus যোগ করেন যে অ্যাটমগুলো কখনো কখনো নিজেদের সুনির্দিষ্ট পথ থেকে সরে যায় (atoms swerve to the side), যার থেকে সম্ভাবনার জন্ম। কারন অ্যাটমের গতিপথ যদি সম্পূর্ণ সুনির্দিষ্ট হতো তাহলে মহাবিশ্বে সবকিছুই পূর্বনির্ধারিত হতো, কিন্তু তা নয়। মানুষের স্বাধীন ইচ্ছার সূচনাও এই swerve থেকে। এপিকিউরাসের মতে, সব কিছু পূর্বনির্ধারিত মানতে গেলে এও মেনে নিতে হয় যে মানুষের কাজের জন্য তার নিজের কোন দায় নেই। ভালো কাজ করলে তাকে প্রশংসা করা যাবে না বা খারাপ কাজ করলে তাকে নিন্দে করা যাবে না কারন তার কোন স্বাধীন ইচ্ছা নেই। সুতরাং atomic swerve এর কথা বলে এপিকিউরাস বলেন যে মানুষের কাজের দায় তার নিজেরই।
  • dc | 132.164.42.191 | ১৫ মে ২০১৫ ১২:১৭676066
  • এপিকিউরাস "প্রব্লেম অফ ইভিল" সূত্রেরও জনক। উইকি থেকে গ্রিক স্কেপটিক স্কুলের মূল আর্গুমেন্টটা কপি করে দিলামঃ

    Is God willing to prevent evil, but not able?
    Then he is not omnipotent.
    Is he able, but not willing?
    Then he is malevolent.
    Is he both able and willing?
    Then whence cometh evil?
    Is he neither able nor willing?
    Then why call him God?
  • san | 113.245.12.83 | ১৫ মে ২০১৫ ১৩:২২676077
  • আগ্রহ নিয়ে পড়ছি।
  • dc | 132.164.42.191 | ১৫ মে ২০১৫ ১৫:৩৩676087
  • এবার মঞ্চে প্রবেশ সক্রেটিস, প্লেটো আর অ্যারিস্টোটলের। বঙ্গে রবীন্দ্রনাথ আর খেলার মাঠে ওয়াসিম আক্রামের মতো এঁরা দর্শনের ডিপার্টমেন্টাল স্টোর। প্লেটো প্রথম "স্বাধীন ইচ্ছা"র কাছাকাছি একটা ধারনা তৈরি করেন, boulesthai। boulesthai মানে হলো কিছু করার ইচ্ছা। বুদ্ধি (intellect) দিয়ে বিচার করে যদি মানুষ মনে করে ভালো একটা কাজ করতে হবে বা যদি মনে করে যে একটা কাজ করলে ভালো হয় (তার নিজের বা সবার) তাহলে যে ইচ্ছা হয় তা হলো boulesthai। অর্থাৎ শুধুমাত্র যুক্তি বা বিচারবোধ (reason) প্রয়োগ করে একজন মানুষ ভালো কিছু করার ক্ষমতা রাখে, এর জন্য ঈশ্বরকে স্মরন না করলেও হবে। প্লেটো আরো বলেন যে মানুষের আত্মার অন্তত দুটি ভাগ আছে (বা তিনটি), তার মধ্যে একটি ভাগ যৌক্তিক (rational) আর বাকি একটি বা দুটি ভাগ অযৌক্তিক (non-rational)।

    ক্ষুধা তৃষ্ণা অযৌক্তিক, কারন এই ইচ্ছেগুলোর সাথে ভালোমন্দের সম্পর্ক নেই। আমার খিদে পেয়েছে তাই খাবো, তাতে হয়তো আমার শরীরে অন্য কোন ক্ষতি হতে পারে (হয়তো আমার কোন রোগ হয়েছে), বা আমার খিদে পেয়েছে তাই খাবো কিন্তু পাশেই একটা অভুক্ত লোক দাঁড়িয়ে আছে - তাই খিদে অযৌক্তিক ইচ্ছে। কিন্তু যদি আমি মনে করি যে আমার খিদে পেলেও আগে পাশের লোকটার ক্ষুন্নিবৃত্তি করবো, অর্থাৎ ভালো কিছু করবো, তাহলে সেটা যৌক্তিক ইচ্ছা। অর্থাত আমরা যে কাজ করি তার পেছনে ভিন্ন ভিন্ন প্রেরণা (motivation) থাকতে পারে আর তার ফলে আমাদের মধ্যে মানসিক সংকটও উদ্ভূত হতে পারে।

    তাহলে আদর্শ মানুষ কিভাবে হওয়া যায়, বা কি কাজ করলে আদর্শ জীবনযাপন করা যায়? প্লেটো বল্লেন এমন এক নীতি অনুসরন করা উচিত যা সদ্গুনাবলীর ওপর ভিত্তি করে রচিত (virtue based ethics)। Virtue হলো সেই গুণাবলী যা দিয়ে সর্বোচ্চ আচরন আর চিন্তা করা যায়, মানুষের পক্ষে ভালোভাবে বেঁচে থাকা যায় (eudaimonia)। প্লেটোর মতে চাররকম সদ্গুন আছে - ন্যায় বা সুবিচার (justice), জ্ঞান (wisdom), সংযম (moderation or self-control) আর সাহস (courage)। সাহস মানে নিজের নীতিতে অবিচল থাকার সাহস।
  • b | 24.139.196.8 | ১৫ মে ২০১৫ ১৫:৩৮676088
  • ডিসি, আলোচনাটা একটু পশ্চিম ঘেঁষা হয়ে যাচ্ছে। স্টিয়ারিংটা এদিকেও ঘোরাবেন স্যার।
  • b | 24.139.196.8 | ১৫ মে ২০১৫ ১৫:৪৭676023
  • এই খেয়েছে। না না, আপনি লিখুন।
  • dc | 132.164.42.191 | ১৫ মে ২০১৫ ১৫:৪৭676089
  • b জানি, পুরোটা পাশ্চাত্য দর্শন নিয়ে লেখা হচ্ছে। তবে প্রাচ্য দর্শন ভয়ানক রকম জটিল আর বহুবিভক্ত, ডিটেলে লিখতে গেলে বেশ কয়েকদিন লেগে যাবে। তাই অন্তত রেনেসাঁ আর তার পর এজ অফ এনলাইটেনমেন্ট পর্য্যন্ত পাশ্চাত্য ধারা অনুসরন করার ইচ্ছে আছে, তারপর ওরিয়েন্টাল শুরু করবো। এর মধ্যে আপনি বা অন্য কেউ প্রাচ্য নিয়ে শুরু করতে চাইলে স্বাগতম।
  • ranjan roy | 192.69.134.43 | ১৫ মে ২০১৫ ২১:০৫676024
  • এত সংক্ষেপে এত সুন্দরভাবে ! চলুক, চলুক।
    অপেক্ষায় আছি কখন লক,, হিউম ও কান্ট আসবেন। তারপর হেগেল।
  • সিকি | 132.177.173.147 | ১৫ মে ২০১৫ ২১:২২676025
  • পড়ছি।
  • lcm | 60.242.74.27 | ১৫ মে ২০১৫ ২১:৩৩676026
  • বাহ!
    সেকেন্ড পোস্টে যে সংজ্ঞা গুলি ডিসি দিয়েছে, তাদের মধ্যের কনফ্লিক্ট নিয়ে কখন লেখে তার অপেক্ষায় আছি। আদৌ কনফ্লিক্ট জরুরী কি না, ইত্যাদি।
  • dc | 132.164.42.191 | ১৫ মে ২০১৫ ২১:৪১676027
  • অ্যারিস্টোটল ইনডিটারমিনিসম ধারার প্রবর্তন করেন। উনি বলেন সম্ভাব্যতা (chance) ঘটনা প্রবাহের (stream of events) জনক, কাজেই মহাবিশ্ব ডিটারমিনিস্টিক না। একটি ঘটনা, তার কারন, সেই ঘটনার কারন...এই ভাবে পিছিয়ে গেলে আমরা দেখতে পাবো আদি যে ঘটনাটি ঘটেছিল সেটা একটা আকস্মিক ঘটনা ছিল (কিন্তু দৈবের দ্বারা সূত্রিত ছিলনা)। এই রকম একেকটি ঘটনা প্রবাহের ওপর ভিত্তি করেই মানুষ সিদ্ধান্ত নেয়, আর এই ধরনের কিছু ঘটনা হয়তো সেই ব্যাক্তিটির জন্মেরও আগে ঘটেছে (antecedent cause)। কিন্তু যেহেতু এরকম আক্স্মিক ঘটনাবলী সারাক্ষন ঘটেই চলেছে আর প্রত্যেকটি থেকে একেকটি কার্য্যকারন সম্পৃক্ত ঘটনা প্রবাহ তৈরি হচ্ছে (causal stream of events) তাই সব মিলিয়ে আমাদের মনে হয় বুঝি সব কিছুই ডিটারমিনিস্টিক।

    অ্যারিস্টোটল মানুষের স্বাধীন ইচ্ছার ওপরও জোর দেন, বোধায় ইচ্ছা (choice) আর দায়িত্ব (responsibility) র যে সম্পর্ক পাশ্চাত্য দর্শনের মূল ধারা হয়ে উঠেছে তারও জনক উনি। অ্যারিস্টোটল বলেন যে সদগুনসম্পন্ন কোন কাজ (virtuous action), সঠিক কাজ, বেশ কয়েকটা বিকল্প আছে তার মধ্যে একটা ভালো কাজ - এগুলো মানুষের নিজের ইচ্ছেয় আসা উচিত (hekon)। জন্তুরা হয়তো স্বাধীনভাবে (voluntarily) কিছু করে, কিন্তু তার পেছনে যুক্তি থাকে না। অন্যদিকে মানুষ অনেকক্ষন ভেবেচিন্তে তারপর স্বাধীনভাবে যুক্তি খাটিয়ে একটা বিকল্প বেছে নিতে পারে। তাই জন্তুদের আমরা তাদের কোন কাজের জন্য প্রশংসা বা নিন্দা কিছুই করিনা। কিন্তু মানুষ যদি সদগুনসম্পন্ন কাজ করে তো তার প্রশংসা প্রাপ্য, আবার যদি খারাপ কিছু করে (vicious action) তো তার নিন্দা প্রাপ্য। অন্যদিকে যদি কাউকে কিছু করতে বাধ্য করা হয়, যাতে তার বিকল্প আর কিছু করার নেই, তাহলে তার সাথে জন্তুর কাজের কোন পার্থক্য নেই, কাজেই নিন্দা বা প্রশংসাও তার প্রাপ্য না।
  • dc | 132.164.42.191 | ১৫ মে ২০১৫ ২১:৪৯676028
  • রঞ্জন বাবু হেগেলও আসবেন, কিন্তু তার জন্য Bonnএ যেতে হবে, অর্থাৎ উনিশ শতকীয় জার্মান দর্শনে পৌঁছতে হবে ঃ-)

    lcm কনফ্লিক্ট আসতে শুরু করেছে, এরপর স্টোইক পিরিয়ড এলেই ডিটারমিনিজম আর ইনডিটারমিনিজমের কনফ্লিক্ট। আবার একই সংজ্ঞার ভিন্ন ভিন্ন রূপ দেওয়া হয়েছে, সেগুলোও সময়মতো লেখার ইচ্ছে আছে। তবে আপনি বা কেউ চাইলে এখনি সেগুলো নিয়ে আলোচনা শুরু করে দিতে পারেন। লিনিয়ার ডিসকোর্স হতেই হবে তারো তো কোন মানে নেই, তবে অন্তত বিংশ শতক পর্য্যন্ত ক্রম অনুসারে লেখার চেষ্টা করবো।
  • ranjan roy | 192.69.134.43 | ১৬ মে ২০১৫ ০৬:১৭676029
  • খুব কাজের লেখা। সঙ্গে আছি।
  • dc | 132.164.214.181 | ১৬ মে ২০১৫ ০৯:২৫676030
  • প্রাচীন গ্রিসে ডিটারমিনিসম এর পক্ষে ধারাবহিক জোরদার সওয়াল প্রথম শুরু করেন স্টোইক রা। এনারা মনে করতেন মানুষের যাবতীয় আবেগসমূহ ভুল বা কৃত্রিম সিদ্ধান্তের (judgement) জন্ম দেয়, সুতরাং যিনি প্রকৃত জ্ঞান অর্জন করেছেন তিনি এই আবেগ এড়িয়ে চলবেন। আর এরকম ব্যক্তি দুঃখে অবিচল থাকবেন, কেবলমাত্র সদগুনসম্পন্ন কাজ করে তিনি খুশী থাকবেন। স্টোইক রা এও মনে করতেন যে ঈশ্বর এই সংসারে সর্বত্র বিরাজমান, সবকিছুতেই তাঁর অংশ আছে, তিনি মানুষের মধ্যেও আছেন। মানুষের আত্মার চালিকাশক্তি hegemonikon ঐশ্বরিক logos এর একটি অংশ মাত্র।

    স্টোইক স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা জেনো (Zeno of Citium) বলেন যে প্রাকৃতিক নিয়মসমূহের সাথে সাযুয্য আছে এরকম ইচ্ছা (will) থাকাটাই হলো সদগুন। (ইনি (Zeno of Elea) নন, যাঁর নামে অনেকগুলো প্যারাডক্স চালু আছে আর যিনি dialectics এর প্রতিষ্ঠাতা) এই বিশ্ব শুধুমাত্র প্রাকৃতিক নিয়ম মেনে চলে, তাই মানুষের শুধু সেটাই ইচ্ছা করা উচিত যা তার নিজের সাধ্যের মধ্যে আর যা এই নিয়মগুলোর সঙ্গতি (hrmony) নষ্ট না করে। জেনো প্রথম এও বলেন যে প্রতিটি ঘটনার একটি নির্দিষ্ট কারন আছে, আর কারন যদি নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয় তাহলে একটিই ঘটনা ঘটা সম্ভব।

    স্টোইক স্কুলের আরেক দার্শনিক Chrysippus সরাসরি ইনডিটারমিনিজমের বিরোধিতা করেন। উনি বলেন যে অতীত অপরিবর্তনীয়, আর ভবিষ্যতের পরিবর্তন সম্ভব কিছুটা মানুষের কাজের দ্বারা আর কিছুটা ঈশ্বরের ইচ্ছায়। এই তত্ত্বকে বলে doctrine of co-fated events, পরে এর থেকেই হিউম compatibiism এর সূচনা করেন। ক্রিসিপ্পাস এই তত্ত্বের প্রবর্তন করেন সিসেরোর তর্কের জবাবে। সিসেরো বলেছিলেন সব কিছুই যদি পূর্ব-নির্ধারিত (pre-determined) হয় তাহলে মানুষের কাজ করার কি দরকার? যা হওয়ার তা তো হবেই (lazy argument)! এর উত্তরে ক্রিসিপ্পাস বলেন যে, ধরা যাক আমার অসুখ হয়েছে। ডাক্তার ডাকলে অসুখ সারবে, নাহলে সারবেনা, কাজেই অসুখ সারানোর জন্য ডাক্তার ডাকার কাজ তো আমাকে করতেই হবে। কিন্তু আমি যে ডাক্তার ডাকলাম আর তার পরিণতিতে সেরে উঠলাম এই পুরোটাই পূর্ব নির্ধারিত আর নাতো ঈশ্বরের কৃপায় সম্ভবপর। কাজেই মানুষের স্বাধীন ইচ্ছা বলে কিছু নেই, আকস্মিক ঘটনাও কিছু নেই।
  • ঈশান | 183.17.193.253 | ১৬ মে ২০১৫ ০৯:৪২676031
  • এটা কিন্তু প্রবল স্কেচি এবং অনেক ক্ষেত্রে কনফিউজিং হচ্ছে। একটা উদাহরণ দিই। " প্লেটো আরো বলেন যে মানুষের আত্মার অন্তত দুটি ভাগ আছে (বা তিনটি), তার মধ্যে একটি ভাগ যৌক্তিক (rational) আর বাকি একটি বা দুটি ভাগ অযৌক্তিক (non-rational)" -- কেসটা ঠিক এরকম নয়। প্লেটো আত্মার তিনটে টুকরোর কথা বলেছিলেন বটে। কিন্তু সেটা অনেকটা সাইকোলজির ধরণে। আধ্যাত্ম সম্পর্কিত আমাদের প্রচলিত প্যাটার্নে নয়। প্লেটোর নিজের উদাহরণ দিয়েই বলা যাক। ফেড্রাস (এর সঠিক উচ্চারণ কি ভগবান জানে,) এ প্লেটো মানুষের অন্তস্থলকে একটা রথ বা ঘোড়ার গাড়ির সঙ্গে তুলনা করছেন। সেই রথে আছে একজন চালক, আর দুটো ঘোড়া। এই তিনজন(দুটো ঘোড়া এবং একজন মানুষ) হল মন বা আত্মার তিনটে অংশ।
    একটি ঘোড়া খুব উচ্চমার্গের। সে তেজি এবং বাধ্য। সিধে সামনের দিকে এগোতে চায়। চালক আদেশ দিলেই মেনে চলে। এ হল মানুষের উচ্চ স্পিরিট। যথা উচ্চাকাঙ্খা, ক্রোধ, আক্রমনাত্মক ভাব অর্থাৎ অ্যাগ্রেশন, সাহস, সম্মান, বিশ্বস্ততা, গর্ব, এইসব। (ক্রোধ, অ্যাগ্রেশন এই লিস্টিতে কেন ঢুকল, সে প্রশ্ন করবেননা, তার সঙ্গে গ্রিসের ইতিহাসের সম্পর্ক আছে।)
    দ্বিতীয় ঘোড়াটি বদের বাসা। সে সব সময়ে পিছন দিকে যেতে চায়। অবাধ্যতার চূড়ান্ত। না চাবকালে সে রথকে উল্টেও দিতে পারে। এ হল মূলত মানুষের জৈবিক চাহিদা। শরীরী ক্ষুধা, কামনা, প্রয়োজন, এইসব। এটা একদম পরিষ্কার।
    তৃতীয় জন, অর্থাৎ, চালক হল যুক্তি বা রিজন। তার কাজ হল ঠিকঠাক চাবকে এবং/অথবা নির্দেশ দিয়ে রথটাকে চালানো। এবং পুরো জিনিসটার ব্যালেন্স রক্ষা করা। ব্যালেন্সটা ঠিকঠাক রাখা যাচ্ছে কিনা, এইই হল মানুষের সার্থকতার পরিমাপ।

    এটা আধ্যাত্ম বা দর্শনের চেয়ে ফ্রয়েডের ইদ, ইগো, সুপার-ইগো এই তিনটুকরো মডেলের সঙ্গে বরং তুলনীয়। ইদের সঙ্গে জৈবিক তাড়নার অনেকটা সরাসরি তুলনা করা যায়। বাকিদুটোর ক্ষেত্রে তুলনাটা অবশ্য একটু গোলমেলে। কিন্তু পয়েন্ট হল, মডেল দুটো অনেকটা একই রকম।

    এবং এখানে আরেকটা জিনিস বলা দরকার। এই পুরো সিস্টেমে রিজন কেন চালকের আসনে? এটা কিন্তু আরবিট্রারি নয়। এটা বস্তুত প্লেটোর দর্শনের অন্যত্র ডিডাক্ট করা হয়েছে। বস্তুত প্লেটো যে আদর্শ রাষ্ট্র থেকে কবিদের বার করে দিতে চেয়েছিলেন, তার সঙ্গেও সম্পর্কিত। বস্তুত বাকি দর্শন এবং সেই সময়ের গ্রিক ইতিহাস এবং চিন্তনের অন্যান্য ঘরানা বাদ দিলে পুরোটা বলা অসম্ভব।
  • dc | 132.164.214.181 | ১৬ মে ২০১৫ ১০:০৪676032
  • ঈশান ঠিকই বলেছেন, আমি যে পোস্টগুলো করছি সেগুলো ছোট ছোট সামারি টাইপের। ঈশ্বর, স্বাধীন চিন্তা আর চেতনা নিয়ে কে কি বলেছেন সেগুলো খুব সংক্ষেপে লেখার চেষ্টা করছি। আরো বেশ কিছুটা গিয়ে তারপর সিন্থেসিস করার চেষ্টা করবো, তার আগে সামারিগুলো লিখে রাখতে চাইছি যাতে সিন্থেসিসের সময়ে মোটামুটি পরিষ্কার ধারনা থাকে কার কি বক্তব্য ছিল।

    আর প্লেটোর আত্মা সম্পর্কে ধারনা আমাদের প্রচলিত ধারনার সাথে মেলে, এরকম কিছু বলতে চাইনি তো! গ্রিক বা মধ্যযুগের অনেক দার্শনিকই যে সংজ্ঞার সাপেক্ষে তর্ক করতেন তার অনেকগুলো আমাদের এখনকার সংজ্ঞার থেকে আলাদা। তবে আমি চাইছি সংক্ষেপে মূল বক্তব্যগুলো তুলে ধরতে, যাতে পরে কম্পেয়ার করা যায়। এখনো বহু দার্শনিক বাকি, অ্যাকুইনাস থেকে উইটগেনস্টেইন দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে, তাই খুব বেশী ডিটেলে লিখতে গেলে আর তুলনার জায়গায় পৌঁছতে পারবো না। তবে আপনি যেমন কিছুটা লিখলেন, বা রিজন কেন চালকের আসনে জানতে চাইলেন, এরকম লিখলে তো খুবই ভালো হয়।
  • PT | 213.110.243.23 | ১৬ মে ২০১৫ ১০:০৬676034
  • এ হে হে, "Is God willing to prevent evil, but not able?" প্রসঙ্গে এট্টু রাউল সংকৃত্যান হলে বেশ হত। বইটা হাতের কাছে নেই.....
  • dc | 132.164.214.181 | ১৬ মে ২০১৫ ১০:০৮676035
  • PT, লিখে ফেলুন!
  • dc | 132.164.31.52 | ২০ মে ২০১৫ ২২:৫২676036
  • এটা উপরে তুলে দিলাম। কয়েকদিন লিখতে পারিনি, কাল সকাল থেকে আবার শুরু করবো।

    (জানি এভাবে ভয় দেখানো উচিত না, যাই হোক :p)
  • dc | 132.164.180.161 | ২১ মে ২০১৫ ০৯:৫৫676037
  • খৃশ্চান এরা শুরু হওয়ার সাথে খৃশ্চান থিওলজিরও গোড়াপত্তন হয়। প্রথমদিকের খৃশ্চানদের মধ্যে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ হলেন সেন্ট অগাস্টিন বা অগাস্টিন অফ হিপো, যিনি পাশ্চাত্য ফিলজফিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেন। অগাস্টিন মনে করতেন ঈশ্বর সর্বশক্তিমান আর মানুষের স্বাধীন ইচ্ছার উৎস। এই স্বাধীন ইচ্ছা কাজে লাগিয়েই মানুষ তার নিজের ইচ্ছামতো কাজ করতে পারে বা বেছে নিতে পারে, আর এই নিজের ইচ্ছেমতো বেছে নেওয়ার থেকেই অশুভর (evil) উৎপত্তি। কাজেই অ্যারিস্টোটলে মতো অগাস্টিনও ইচ্ছা আর তার ফলবর্তী দায়িত্ত্বের (choice and responsibility) ওপর জোর দেন। শুধু তাই না, অগাস্টিন মনে করতেন অসুখবিশুখ বা অন্যান্য প্রাকৃতিক অশুভের উৎপত্তিরও উৎস মানুষের ইচ্ছার আর বেছে নেওয়ার থেকে, কারন যতক্ষন না কোন মানুষ তার নিজের কাজের ফলে অসুস্থ হয়ে পড়ছে ততক্ষন সেই অসুখকে অশুভ বলা যায়না।

    অগাস্টিন বলেন যে মানুষের দুটি ভাগ - শরীর আর আত্মা। শরীরের ত্রিমাত্রিক বা পার্থিব অস্তিত্ব আছে, কিন্তু আত্মার এরকম কিছু নেই। পাশ্চাত্য দর্শনে আত্মা বলতে আমরা এখন যা বুঝি, তার উৎপত্তি মোটামুটি এখান থেকে। তার কারন প্লেটো যেমন আত্মার মেটাফিজিক্স নিয়ে আনেক কিছু লিখেছিলেন, অগাস্টিন সেরকম বিস্তারিত কিছু লেখেননি। ওনার মতে আত্মা শরীরের থেকে আলাদা, আত্মাই শরীরের চালিকা শক্তি, আর ঈশ্বর আত্মাকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য (attribute) দিয়েছে - মেধা, বুদ্ধিমত্তা আর ইচ্ছা (intellect, intelligence, will)। এছাড়াও অগাস্টিন আত্মাকে আরো কিছু কিছু বৈশিষ্ট্য দেন। যেমন শরীরের অনুভব ক্ষমতা (perception) আর আত্মার বোধশক্তি (ability to perceive), শরীরের কল্পনা করার ক্ষমতা (imagination) আর আত্মার বিশ্বাস (faith), শরীরের স্মৃতিশক্তি (memory) আর আত্মার চিন্তন ক্ষমতা (recollection)।

    কিন্তু মহাবিশ্বের উৎপত্তি নিয়ে অ্যাকুইনাস একটু অন্যরকম বলেছিলেন। তাঁর মতে ভগবান সবকিছু তাৎক্ষনিকভাবে সৃষ্টি করেছিলেন (simultaneously)। জেনেসিসে যে লেখা আছে ছদিনে সৃষ্টির কথা, সেটা অ্যাকুইনাসের মতে একটা আত্মিক বা যৌক্তিক ঘটনাক্রম (logical flow of events) মাত্র। ছদিন মানে ছয়দিনের সময় না, বরং ছয়টি ধাপ পেরিয়ে উৎপত্তি। এমনকি অ্যাডাম আর ঈভকেও ঈশর নশ্বর মানুষ (mortal) হিসেবেই সৃষ্টি করেন, তারা যে পাপ করবে এবং পতন হবে (fall of adam and eve) তাও পূর্বনির্ধারিত। এদিক দিয়ে দেখলে অ্যাকুইনাসের দর্শন অনেকটাই ডিটারমিনিস্টিক। কিন্তু ডিটারমিনিজম আর স্বাধীন ইচ্ছার পরষ্পর বিরোধিতা নিয়ে তিনি কিছু বলেন নি, বরং তিনি সিসেরোর যুক্তি খারিজ করে দেন। সিসেরোর মতে, যদি স্বাধীন ইচ্ছা আছে তো সব কিছু পূর্বনির্ধারিত না, তাহলে ঈশ্বরেরও পূর্বজ্ঞান (foreknowledge) নেই, তাহলে ঈশ্বর সর্বশক্তিমান না।
  • dc | 132.164.180.161 | ২১ মে ২০১৫ ১০:১৬676038
  • অগাস্টিনের সমসাময়িক পেলাগিয়াস প্রিডেস্টিনেশনের বিরোধিতা করেন। উনি বলেন যে সবকিছুই ঈশ্বরের ইচ্ছায় চালিত হয় তা নয়, অ্যাডামের পথম পাপের ফল সব মানুষকেই ভুগতে হবে তাও না, মানুষ নিজের ইচ্ছায় নিজের ভাগ্য বদলাতে সক্ষম। কাজেই ঈশ্বরের তৈরি নিয়মকানুন (divine law) কিছু নেই, বরং মানুষের উচিত মানুষের বানানো নিয়মের ওপর জোর দেওয়া। মানুষ শুধুমাত্র নিজের চিন্তাশক্তির জোরেই ভালো আর মন্দ কাজের পার্থক্য করতে পারে, এর জন্য ঈশ্বরের ওপর নির্ভর করার দরকার নেই।

    পেলাগিয়াসের দর্শন প্রথমদিকে বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল। কিন্তু অ্যাকুইনাস এইসব ধারনার জন্য পেলাগিয়াসকে আর্চ-হেরেটিক (arch-heretic) বলেন। তবুও প্রথমদিকে চার্চ থেকে পেলাগিয়াসকে হেরেটিক বলা হয়নি, কিন্তু পরেরদিকে অ্যাকুইনাস ও আরো অনেকের প্রভূত চেষ্টার ফলে পোপ জোসিমাস চার্চ থেকে পেলাগিয়াসকে বহিষ্কার করেন। পেলাগিয়াসের বইপত্রও আস্তে আস্তে হারিয়ে যায়। অ্যাকুইনাস পন্থীরা জয়ী না হয়ে যদি পেলাগিয়াসপন্থীরা জয়ী হতেন তো পাশ্চাত্য দর্শন আজ কিরকম হতো কে জানে!
  • dc | 132.164.180.161 | ২১ মে ২০১৫ ১০:২২676039
  • এরপর মধ্যযুগ, মোটামুটি ১১০০ থেকে শুরু হয় স্কলাস্টিক (scholastic) আন্দোলন আর স্কলাস্টিক দর্শন। অ্যানসেল্ম (Anselm of canterbury) অ্যাকুইনাসের সাথে মোটামুটি সহমত হয়েও খানিকটা পরিবর্তিত মতবাদ শুরু করেন।
  • 0 | 132.163.43.62 | ২১ মে ২০১৫ ১০:৩১676040
  • বাংলায় সংক্ষেপে পাশ্চাত্য দর্শনের নানান মতের সার কথাগুলো সহজ ভাষায় এভাবে একজায়গায় কি এর আগে সংকলিত হয়েছে ? এগুলো নিয়ে গুরু থেকে একটা চটি পাবলিশ হতে পারে তো। dc আরো আরো লিখুন।
  • dc | 132.164.176.18 | ২১ মে ২০১৫ ১৪:০৭676041
  • অ্যানসেল্ম বলেন যে যৌক্তিক কর্তা দের (rational agents) নিজেদের মেধা আর বুদ্ধিমত্তা আছে, কাজেই তারা নিজেরাই বুঝতে পারে কি করলে স্বাধীন ইচ্ছারও প্রকাশ পাবে আবার কি করলে সদগুনসম্পন্ন কাজও (virtuous action) করা যাবে। কাজেই স্বাধীন ইচ্ছা হলো মেধারই আরেক রপ, যে মেধার ফলে স্বাধীন ইচ্ছা প্রকাশ পাচ্ছে। অ্যানসেল্ম প্রথম দ্বি-ইচ্ছা তত্ত্ব উপস্থাপন করেন (theory of two wills)। অনেক পরে শ্রডিংগার থেকে বেল, এঁরা যে থ্ট এক্সপেরিমেন্ট প্রথা জনপ্রিয় করে তুলেছেন, বলা যেতে পারে অ্যানসেল্ম এই প্রথার পত্তন করেন। অ্যানসেল্ম বলেন, মনে করুন ঈশ্বর দেবদূত বানাচ্ছেন। ঈশ্বর দেবদূতকে সুখী হওয়ার স্বাধীন ইচ্ছা (will to be happy) প্রদান করলেন। তাহলে কি আমরা সত্যিই বলতে পারি যে দেবদূতটি চাইলেই সুখী হতে পারে? না, কারন দেবদূতের আর কোন ইচ্ছেই নেই, ওই একটি মাত্র স্বাধীন ইচ্ছা, কাজেই অন্য কোন স্বাধীন ইচ্ছা বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা না পওয়া পর্য্যন্ত আমরা বলতে যে দেবদূতটি নিজের ইচ্ছেয় খুশী হয়েছে। কিন্তু যখন ঈশ্বর দেবদূতটিকে অন্য একটি ইচ্ছা প্রদান করলেন, ধরা যাক ন্যায়ের ইচ্ছা (will to be just), তখন বলা যেতে পারে যে দেবদূতটি নিজের ইচ্ছেমতো খুশী হওয়াকেও বাছতে পারে বা ন্যায্য হওয়াকেও বাছতে পারে। অর্থাত স্বাধীন ইচ্ছা আর বেছে নেওয়ার উপায় (choice), এই দুটো অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িত। চয়েস না থাকলে ফ্রী উইল থাকেনা।

    অ্যানসেল্ম আরো বল্লেন, কিছু দেবদূত খুশী হওয়ার ইচ্ছাকে বেশী প্রাধান্য দিয়েছে, খুশী হওয়ার জন্য তারা অন্যায় করতেও ইচ্ছুক হয়েছে। আবার কিছু দেবদূত ন্যায়পরায়নতাকে বেশী প্রাধান্য দিয়েছে, অখুশী হয়েও তারা ন্যায় কাজ করেছে। প্রথম দেবদূতের দল পাপ করেছে। কাজেই পাপ ঈশ্বরের থেকে আসেনি, এসেছে স্বাধীন ইচ্ছার থেকে। মানুষের ক্ষেত্রেও ঠিক তাই।
  • dc | 132.164.176.18 | ২১ মে ২০১৫ ১৪:৩৩676042
  • এর কিছু পরে টমাস অ্যাকুইনাস theory of action এর প্রবর্তন করেন। টমাস বলেন যে মানুষ স্রেফ কাজ করার জন্য কাজ করেনা, তার প্রতিটি কাজের পেছনে কিছু লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য থাকে (goal or motivation)। যারা মহৎ (virtuous) তারা ভালো কিছু করার উদ্দেশ্য রাখেন কারন সেটাই তাদের স্বাধীন ইচ্ছার অংশ। এর ফলে এঁদের মধ্যে ভালো কিছু করার প্রবৃত্তি জাগে, তখন এঁরা নিজের বুদ্ধি দিয়ে বিচার বিবেচনা করে একটা রাস্তা বেছে নেন আর সেইমতো কাজ করেন। কাজেই মেধা (intellect) হলো মূল চালিকাশক্তি, যা পরিস্থিতি বিচার করে বেশ কয়েকটা বিকল্পর একটা বেছে নিতে সাহায্য করে।

    টমাস এও বলেন যে স্বাধীন ইচ্ছা মানেই যে ভগবানের পূর্বজ্ঞান অসম্পূর্ণ, তা নয়। কারন ভগবানের অস্তিত্ব স্থান-কালের বাইরে। ভগবান যুগপৎ সব কিছু জানেন, ভূত, বর্তমান আর ভবিষ্যত সব সময়ে একসাথে বিরাজ করেন (eternalism)।
  • dc | 132.164.176.18 | ২১ মে ২০১৫ ১৫:০৫676043
  • টমাস অ্যাকুইনাস বলেছিলেন যে ঈস্বর সর্বশক্তিমান আর সর্বজ্ঞানী হলেও তাকে যুক্তি মেনে চলতে হয়। হাই মিডল এজের আরেক নামকরা দার্শনিক ডান্স স্কোটাস (Duns Scotus) টমাসের প্রায় সব ব্ক্তব্যেরই বিরোধিতা করেন। ডান্স বলেন যে ঈশ্বরকে যে শুধু যুক্তি মেনে চলতে হবেনা তাই নয়, ঈশ্বর কোনরকম প্রতিবন্ধকতা দ্বারাই সীমাবদ্ধ নয়। ডান্স আরও বলেন যে একমাত্র সত্য হলো আমাদের অস্তিত্ব, বা আমরা আছি (univocity of being)। অস্তিত্বই হলো মেধার আসল প্রমান, অস্তিত্ত্ব হলো একটি transcental অবস্থা। এর আগে অ্যাকুইনাস বলেন যে পার্থিব বস্তুসমূহের উপাদান (essence) আর অস্তিত্ব (existence) আলাদা, কিন্তু ডান্স স্কোটাস বলেন এই দুইয়ের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। তার কারন আমরা প্রত্যেকে, আমার অস্তিত্ব আর আমার আমিত্বর মধ্যে কোন পার্থক্য করতে পারিনা। তেমনি যেকোন জিনিষের মধ্যে অস্তিত্ব (si est) আর উপাদান ((quid est) এর পার্থক্য নেই।

    ডান্স স্কোটাস টমাসের মেধা তর্কেরও বিরোধিতা করেন। ডান্স বলেন যে মেধা চালিকাশক্তি না, স্বাধীন ইচ্ছা পারিপার্শ্বিকের (environment) ওপর নির্ভরশীল। যেমন ধরা যাক, একটি ছাত্রকে পরীক্ষার পড়া করতে হবে। ছাত্রটির মেধা তাকে সবসময়েই বলবে পড়া করতে, কারন এতেই তার ভালো। তা সত্ত্বেও কিন্তু কিছু কিছু ছাত্র পড়া তৈরি নাও করতে পারে, অর্থাত স্বাধীন ইচ্ছা তার মেধার উপরে। কাজেই মেধা কোন একটি কাজ নির্দিষ্ট করে দেওয়ার পরেও পারিপার্শ্বিকের ওপর বিচার করে স্বাধীন ইচ্ছা সিদ্ধান্ত নেয় সেই কাজ সে করবে কিনা। টমাস মার্সটন পরে ডান্সের এই মত সমর্থন করেন। মার্সটন এও বলেন যে স্বাধীন ইচ্ছার অর্থই হলো স্বাধীন, তার ওপর মেধা বা অন্য কোন কিছু চাপিয়ে দেওয়া মানেই হলো সেটা আর স্বাধীন রইলো না।
  • 0 | 132.163.43.62 | ২১ মে ২০১৫ ১৭:৫২676045


  • একটু ট্রাই নিলাম। একটা ফ্লো-ডায়াগ্রামের মতো কিছু থাকলে সুবিধে হয়।
  • b | 135.20.82.164 | ২১ মে ২০১৫ ১৭:৫৮676046
  • ফ্রী উইলটা পাশ্চাত্য দর্শনের বেশ একটা বড় সমস্যা মনে হচ্ছে।এই আকচাআকচি কি প্রাচ্য (পড়ুন, ভারতীয়) দর্শনেও আছে?
  • dc | 132.164.156.15 | ২১ মে ২০১৫ ১৯:০৯676047
  • 0 কে ধন্যবাদ। কিন্তু ফ্রি উইল আর র‌্যাশনালিটির বাক্সগুলো বোধায় একেকজনের মতবাদ অনুসারে জায়গা বদল করতে পারে, তাই না?

    হুঁ ফ্রি উইল পাশ্চাত্য দর্শনের মূল সমস্যাগুলোর মধ্যে একটা। বোধায় এমন কোন চিন্তাবিদ নেই যিনি এটা নিয়ে লড়েন নি। এখনো সমানে তর্ক চলছে, টুরিং থেকে পেনরোজ কেউ কাউকে এক ইঞ্চি জায়গা ছাড়বেন না।
  • dc | 132.164.156.15 | ২১ মে ২০১৫ ২০:২৯676048
  • সংক্ষেপে যদি বলা যায় যে মধ্য যুগে বেশীরভাগ দার্শনিক ঈশ্বরের নানান ব্যাখ্যা আর দৈব ইচ্ছার দ্বারা উৎপন্ন মানুষের স্বাধীন ইচ্ছা নিয়ে তর্ক করেছেন, তাহলে হয়তো খুব একটা ভুল বলা হবেনা। মধ্য যুগের শেষ দিকে libertarianism বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে, কিন্তু কার্য্যকারন সম্পৃক্ত ঘটনা প্রবাহ যার একটি আদি কারন আছে (causal determinism) আর স্বাধীন ইচ্ছার যে সংঘাত, তার কোন মীমাংসা হয়নি।

    মোটামুটি চতুর্দশ শতাব্দীর থেকে মধ্য যুগের অবসান হয়ে রেনেসাঁর সূত্রপাত, এরকমটা ধরা হয়। রেনেসাঁর বৈশিষ্ট্য হলো নতুন চিন্তা, নতুন ভাবনার সূত্রপাত, বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধিৎসা আর পুরনো যা কিছু সব নতুন করে প্রশ্ন করা। সাহিত্য, ভাস্কর্য্য, শিল্পর সাথে সাথে দর্শনেও এর ছোঁয়া লাগে। অনেক দার্শনিক মিলে humanism এর সূত্রপাত করেন, মানে প্রচলিত ঈশ্বর বিশ্বাসের জায়গায় আস্তে আস্তে মানুষ কেন্দ্রিক চিন্তাভাবনা শুরু হয়। তারই ফসল rationalism, empiricism ইত্যাদি দার্শনিক ধারাগুলো।

    রেনেসাঁর শুরুর দিকে Erasmus Roterodamus প্রথম বলেন যে স্বাধীন ইচ্ছা আর স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষমতা (freedom to act) দর্শনের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর মধ্যে একটি। রোটেরোদামুস এও বলেন যে মানুষের ভালো আর মন্দের মধ্যে বেছে নেওয়ার স্বাধীন ইচ্ছা আর সেইমতো স্বাধীন ভাবে কাজ করার ক্ষমতার থেকেই যাবতীয় ভালো আর মন্দের (good and evil) সৃষ্টি, ঈশ্বরের সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই। সেই সময়ে predestination এর একটি চালু ব্যাখ্যা ছিল যে ঈশ্বর কিছু কিছু লোককে আগে থেকে বেছে রেখেছেন যারা মরে গিয়ে স্বর্গে যাবে (salvation)। যেমন অ্যাব্রাহাম, মোজেস ও আরো অনেককে ঈশ্বর আগে থেকেই বেছে রেখেছেন। রোটেরোদামুস এই ব্যাখ্যার বিরোধিতা করেন, মার্টিন লুথারের (লুথারিজম এর জনক) সাথে রোটেরোদামুসের দীর্ঘ পত্রবাহিত তর্ক হয়।
  • 0 | 132.163.15.103 | ২২ মে ২০১৫ ১৬:০০676049
  • হ্যাঁ হ্যাঁ dc। অবশ্যই। ইন্ফ্যাক্ট্‌ নিজেরই খুঁতখুঁত লাগছে। দেখি, পরে হয়তো ... এখন প্রচুর ল্যাদ্‌ :-(
  • dc | 132.164.137.141 | ২২ মে ২০১৫ ১৬:৩২676050
  • প্রায় পনেরোশো বছর বা তারও বেশী পুরনো খৃশ্চান ধর্মের প্রথম সফলভাবে সংশোধন (reform) করতে সক্ষম হন মার্টিন লুথার। রোটেরোদামুসের সাথে লুথারের তর্ক বুঝতে হলে তাই প্রোটেস্ট্যান্ট রিফর্ম সম্বন্ধে একটু জেনে নেওয়া ভালো। লুথার মূলত পোপের কিছু কিছু কাজ আর প্রচলিত ধ্যানধারনায় (doctrines) আঘাত হানেন, সঙ্গে পান Melanchthon আর জন কালভিনকে। কালভিন আলাদাভাবে কালভিনিজমের জনক, যার মূল প্রতিপাদ্য প্রিডেস্টিনেশন আর ঈশ্বর অনুমোদিত সালভেশন। প্রোটেস্ট্যান্ট রিফর্মের ফলে পোপের বেশ কিছুটা কর্তৃত্ব খর্ব হয় আর বহু সংঘাত রচিত হয়, যার মধ্যে তিরিশ বছরের যুদ্ধ অন্যতম।

    লুথার একটি বই লেখেন, On the Bondage of Will, যা কিনা রোটেরোদামুসের On Free Will বইয়ের জবাব। লুথার লেখেন যে স্বাধীন ইচ্ছা সম্ভব না, কারন মানুষ পাপ করতে আকৃষ্ট (the temptation of sin) হবেই আর তার ফলে তার পতন ঘটবেই। লুথার এও মনে করতেন যে সংসারে আসলে সবাই পতিত (fallen man), আর তাদের ওপর রাজত্ব করে শয়তান। শয়তান কাউকে মুক্তি (salvation) দেয় না, কিন্তু ঈশ্বর মাঝে মাঝে শয়তানকে পরাজিত করে কাউকে কাউকে বাঁচান। একই সাথে ঈশ্বর সেই ব্যক্তিকে স্বাধীন ইচ্ছাও দান করেন যাতে সেই ব্যক্তি নিজের ইচ্ছেয় ঈশ্বর চিন্তা করতে সক্ষম হয়। সুতরাং চারিদিকে যে মানুষ দেখা যায় তারা সবাই পতিত (fallen), তাদের স্বাধীন ইচ্ছার ধারনা আসলে এক মরীচিকা (illusion) মাত্র। এই মরীচিকা বা মায়া আসলে শয়তানের তৈরী, যাতে মানুষ ঈশ্বর চিন্তা না করে।

    রোটেরোদামুস কিন্তু নাস্তিক বা চার্চ বিরোধী ছিলেন না। চার্চের অনেক কিছুর সমালোচনা করলেও তিনি প্রোটেস্ট্যান্ট ছিলেন না, তিনি ছিলেন কিছুটা মধ্যপন্থী। তাই স্বাধীন ইচ্ছার প্রশ্নেও তিনি কিছুটা মাঝামাঝি অবস্থান নেন। লুথারের বইয়ের জবাবে তিনি লেখেন যে মানুষের প্রতিটি কাজ দুভাবে দেখা যেতে পারে। এক হলো ঈশ্বরের ইচ্ছা, যা কিনা মুখ্য কারন (primary cause), আর দ্বিতীয় মানুষের ইচ্ছা, যা তার নিজের, আর যা অনেক সময়ে তাকে পাপের প্রতি আকৃষ্ট করে।

    এই দুজনেরই বিপরীতে দাঁড়িয়ে কালভিনিজম বলে দুনিয়ায় যা কিছু ঘটছে, পাপ, শুভবোধ, নৈতিকতা - এই সবকিছুই সম্পূর্ণ আর একমাত্র ভাবে ঈশ্বরের ইচ্ছায় ঘটছে। এছাড়াও total depravity নামক তত্ত্ব আনা হয়, যাতে বলা হয় যে মানুষ পাপবোধ নিয়েই জন্মায় (born into sin)। ঈশ্বরের সাহায্য ব্যতিরেকে মানুষ স্বেচ্ছায় ভালো কিছু করতে অক্ষম, এমনকি ঈশ্বর চিন্তা করতেও অক্ষম, ঈশ্বর যদি salvation দান করেন তো সেই উপহার গ্রহন করতেও অক্ষম। এই সমস্ত কিছুর জন্যই ঈশ্বরের সাহায্য প্রয়োজন। কাজেই total depravity মানে হলো মানুষ স্বভাবতই পাপ কাজ করতে উদ্যত হয়।

    কিন্তু দেখা গেল কালভিনিজম মানতে গেলে মানুষের নিজের কাজের আর কোন দায় থাকছে না, চুরি ডাকাতি যা কিছুই হোক না কেন কাউকে আর দোষ দেওয়ার নেই, কারন পাপ করাই মানুষের স্বভাব। বিশেষ করে Pico della Mirandola কলভিনিজমের বিরুদ্ধে বহু তর্ক করেন। তেইশ বছর বয়্সে তিনি Oration on the Dignity of Man নামের একটি বক্তৃতা লেখেন যা পরে Manifesto of the Renaissance নামে খ্যাতি লাভ করে।
  • Mridha | 77.161.49.9 | ২২ মে ২০১৫ ১৭:৪৮676051
  • ভারতীয় দর্শন আধ্যাত্মিকতা নিয়ে দু পয়সা ঝাড়তে ইচ্ছে হল। পড়াশুনা, knowledge দুটো ই কম, এখান ওখান থেকে যতটুকু ভাল লেগেছে এক জায়্গায় করার চেষ্টা করলম। bellow the belt ঝাড়বেন না।

    আমাদের ভারতীয় দর্শনে ঈশ্বর সন্ধানের প্রথম ধাপ হচ্ছে নিজেকে জানা। ভগবান খোজার প্রথম ধাপ হচ্ছে আমি কে ?

    আর তা শেষ হয় ভগবান কে নিজের মধ্যে realize করা দিয়ে। ঈশ্বরকে বোঝার understand করা অনেক রকম হতে পারে কিন্তু realization অভিন্ন।

    ॐ पूर्णमदः पूर्णमिदम् पूर्णात् पूर्णमुदच्यते |
    पूर्णस्य पूर्णमादाय पूर्णमेवावशिष्यते ||
    ॐ शान्तिः शान्तिः शान्तिः ||

    Om Poornamadah, Poornamidam
    Poornaad Poornamudachyate;
    Poornasya Poornamaadaaya
    Poornamevaavashisyate
    Om, Shanti, Shanti, Shanti !

    The invisible is full;
    The visible, too, is full.
    From the full, the full having come;
    The full still remains the same.

    - Om, whatever we are seeing ( here seeing may not be very correct word, it is not what we are seeing outside, it is something what we see as me) is complete, whatever is beyond of our comprehension ( what people describe as God) is also complete, From that completeness only this completeness appeared.This completeness is like infinity in mathematical concept, no matter whatever way we distribute it, only completeness remains. And then finally it reminds..
    Om, Peace peace peace

    অন্যভাবে বলা যায় আমাদের সবার মধ্যেই ভগবান আছে। অথবা এই জীব জগতের সবার আমিই হচ্ছে ভগবান।

    Next comes the never satisfying question, if we consider the true nature of all human beings are same then why there is so much diversity.

    তাই যদি হবে তাহলে দুটো প্রাণীর মধ্যে বক্তিত্যর ভিন্নতা কেনো ? জন্তু জনোয়ার তো দূর দুটো মানুষ এক রকম নয় কেনো ? তার করণ, আমাদের উপরে প্রকৃতির প্রভাব আছে।

    In this dynamics of interacting with outside world of an individual understanding Prakriti ( nature) is a very important

    Life is expression of some behaviors sparked from our very own unique believe system ( sanskar). At first some elements of this believe system we get from parents and relatives, then comes contribution from friends and our educational systems, thirdly all the pleasant and painful experiences we go through in our life and some parts of it, nobody knows from where it comes, this is what some of eastern philosophies say, we inherit from our previous life. Characterizing of this believe-system into a person or in a living being, is called as its Prakriti (nature).

    All of us have our unique nature(prakriti) and which not only other considers as us but also more often we ourselves consider as ourselves. So it is very loving to us. And all living beings has a tendency to confirm ( to prove it is the only truth ) its nature in outside world. And this is very very powerful in the world of action, this phenomenon is named as Maya ( illusion) . All living beings [ including us :) !! ] interact with world through that Maya (an unrealistic view of existence). The strange thing is, it is so correct to us at this very moment that we can’t think of any other idea to be correct but in a short while our view itself get changed and another view appears as perfect truth. So in reality, we all are perceiving the world through an unique glass of maya of this very moment but strange thing is we are not ready to accept it. That gives all the diversities in the world.

    The moment our nature or believe system get challenged by another nature we become very arrogant. This phenomenon is called as our ego.

    One thing we all observed, we feel very comfortable with whom we consider as friends and those people have a lot of similar life experiences. A man, they say, is known by the company he keeps. This is because there are lot of similarities in our nature and we can easily confirm or get assurance about our nature is correct, from that company. That’s what we all want to see world is doing to our nature. We must have observed when somebody gets in line with our thought we just get some comfort but really not expanding, it just pamper our ego and get some sense of relief. Many times, those friendly interactions are not much productive but more self-assuring. That is why gossiping ( পড়নিন্দা পরচর্চা)
    is so delicious.

    আমাদের জাগতিক কর্ম জীবনের লক্ষ, যা Graduation Party, উপনয়ন এর সময় কানে কানে স্মরন করিয়ে দেওয়া হত তা ছিল सो हम् (সোহম ), in other way express your inner god for others and realize your inner god for yourself।

    আর আমদের আধ্যত্মিক জীবনের লক্ষ হচ্ছে আমাদের প্রকৃতিকে বিলিন করে দেওয়া removing the Prakriti from us and when its achieved there is no difference between God and his followers.

    এসবে আমার নিজের কি লাভ ? নির্মল আনন্দ পাওয়া যাবে।
  • ranjan roy | 132.176.10.88 | ২৩ মে ২০১৫ ১১:২৪676052
  • মৃধা,
    এই টইটির নাম--"আস্তিকতা, নাস্তিকতা, স্বাধীন ইচ্ছা, চেতনা ইত্যাদি তর্ক "। অর্থাৎ, দর্শনের উৎপত্তির দিন থেকে আজ অবধি যে সব প্রশ্নে দার্শনিক স্কুলগুলোর মধ্যে বিতর্ক চলছে, নানারকম যুক্তি-তর্ক, সেগুলোর সাথে সংক্ষেপে পরিচয় করিয়ে দেওয়া।
    কাজেই ভালো লাগবে যদি আপনি আপনার আধ্যাত্মিক বক্তব্যের প্রেক্ষিতে মানুষের কোন স্বাধীন ইচ্ছা আছে কি না অথবা সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের ইচ্ছা না হলে গাছের পাতাটিও নড়ে না -- এ নিয়ে যদি দু'পয়সা দেন।
    অথবা, কী করে নিশ্চিত হতে পারি যে আমার মধ্যেও ঈশ্বর আছেন?
    কোন সংকোচ করবেন না। এখানে কেউ কারো পড়া ধরছে না।
    আমরা সবাই অন্ধের হস্তিদর্শন করছি। আপনি আপনার কথা লিখুন না!
  • dc | 132.164.202.140 | ২৩ মে ২০১৫ ১১:২৭676053
  • মৃধা, বিস্তারিত লিখলে সত্যি উপকার হয়। আর শুধুমাত্র ভারতীয় দর্শনেরই যে কতো ধারা উপধারা, সেসব নিয়ে অল্প অল্প লিখলেও ভাল্লাগবে।
  • dc | 132.164.202.140 | ২৩ মে ২০১৫ ১১:৩৯676054
  • আর শুধু ইংরেজিতে না লিখে বাংলায় অনুবাদ করে দিলে আরো ভাল্লাগবে। অবশ্যই এটা অনুরোধ মাত্র, আপনার যেভাবে সুবিধে মনে হবে সেভাবেই লিখবেন।
  • Mridha | 77.161.49.9 | ২৩ মে ২০১৫ ২০:০৭676056
  • রন্জনবাবু,

    আপনার কথাটা বড় ভাল লাগল আমরা সবাই অন্ধের হস্তিদর্শন করছি। আপনার সাথে এটও এক মত dc র সুন্দর উপস্থ্পনার মধ্যে আমার post তাল কেটে দিচ্ছে। আমি কোনো speceific দর্শন না নিয়ে in general প্রাচ্য দর্শন এর কি আমার ব্যক্তিগত ভাবে ভাল লাগে তাই আমার কয়েকটা article থেকে copy করেছিলাম। সময় হতে বড় কম, আর বাঙ্গলা টাইপ speed ভাল নয়। তাই translation করব ভেবেও করে উঠতে পারি নি।

    আপনার সুত্র ধরে

    স্বাধীন ইচ্ছা : অবশ্যই আমাদের স্বাধীন ইচ্ছে আছে। আমাদের স্বাধীন হবার ইচ্ছে আছে বলেই তো আধ্যাত্মিক চেতনা।

    কিন্তু যাকে আপাত ভাবে আমার স্বাধীনতার প্রকাশ মনে করি তা যে আমাদের প্রকৃতির দাসত্যের বহিপ্রকাশ তা তো আমরা ধরতেই পারি না।

    আর কার্য কারন সম্পর্ক যে একটা আছে তাতো বোঝাই যায়, কোনো প্রকৃতিকে আহত করলে, সে যে সময় পেলে তার স্বাধীন ইচ্ছায় আমাকে ছেড়ে দিতেও পারে বা আমাকে আঘাত করে তার পরের প্রারব্ধ তৈরী করতে পারে।

    কী করে নিশ্চিত হতে পারি যে আমার মধ্যেও ঈশ্বর আছেন : না রন্জন বাবু এর উত্তর অমার কাছে নেই। তবে কিছু তো একটা আছে যার জন্য যত powerfull computer ই বানানো হোক না সে নিজের আনন্ন্দে অন্ক করতে বসবে না please note, not out of fear ।

    না আর তালভঙ্গ করব না dc মন দিয়ে পড়ছি, ধন্যবাদ।
  • সিকি | 132.177.91.13 | ২৩ মে ২০১৫ ২০:০৮676057
  • ও মৃধা, তাল টাল কিছু কাটছে না, দিব্যি হচ্ছে, দুটোই পাশাপাশি পড়তে পারছি তো।

    আপনি লিখুন আরও।
  • S | 109.27.138.238 | ২৪ মে ২০১৫ ০৬:৫১676058
  • dc | 132.164.151.235 | ২৪ মে ২০১৫ ১৬:১৬676059
  • মিরান্ডোলা শহরের অধিবাসী পিকো (Pico della Mirandola) একজন আদ্যন্ত হিউম্যানিস্ট ছিলেন। তিনি বলেন আমাদের চারপাশের গাছপাথর ইত্যাদি নিজেদের ইচ্ছায় কোন কার্য্য করতে পারেনা, এই ক্ষমতা শুধুমাত্র মানুষের আছে। আবার মানুষও চাইলেই সবকিছু করতে পারেনা, যেমন চাইলে নিজের বয়স কমিয়ে দিতে পারেনা বা হৃত্স্পন্দন থামিয়ে দিতে পারেনা। কাজেই মানুস্শ কিছুটা প্রকৃতির অধীন, আবার প্রকৃতি কিছুটা মানুষের অধীন। এই দিয়ে মিলেই বিশ্ব, ঈশ্বরের এখানে কোন স্থান নেই। কাজেই ঈশ্বরপ্রদত্ত শাস্তিবিধান বা মুক্তিবিধান (damnation or salvation) মানারও কোন কারন নেই। মানুষ নিজে যা নিয়ম তৈরি করেছে সেই নিয়ম মেনে চলে যা শাস্তি বা প্রশংসা প্রাপ্য হয়, শুধু সেটুকু মানলেই চলবে। পিকো এও বলেন যে মানুষ্যত্বের সারমর্ম (essence of humanity) যেহেতু স্বাধীন ইচ্ছা, কাজেই মৃত্যুর পরেও মানুষের আত্মার স্বাধীন ই্চ্ছা থেকে যাবে। অর্থাত সেই আত্মা স্বর্গে বা নরকে গিয়েও নিজের ইচ্ছেমতো পাপ বা পুন্য কাজ করতে পারবে। তার মানে চিরন্তন শাস্তি বা মুক্তি (eternal damnation or salvation) বলেও কিছু নেই। পিকোর এই তত্ব রেনেসাঁ যুগের সবথেকে প্রভাবশালী তত্বগুলোর মধ্যে একটি ছিল। কারন এর ফলেই শিল্পী, সাহিত্যিক, ভাস্কররা ঈশ্বর ও মানুষের নানান রূপান্তর ও বিবর্তনের ছবি, গল্প ইত্যাদি রচনা করতে শুরু করেন।
  • dc | 132.164.151.235 | ২৪ মে ২০১৫ ১৬:৩০676060
  • এর পর অসীম ক্ষমতাশালী (omnipotent) ঈশ্বরের ধারনায় যিনি আঘাত করেন, তিনি দার্শনিক ছিলেন না, তিনি ছিলেন জ্যোতির্বিদ - জিওর্দানো ব্রুনো।

    এর কিছু আগেই কোপার্নিক মডেলের প্রবর্তন হয়েছে, যেখানে কোপার্নিক দেখিয়েছিলেন যে গ্রহগুলো পৃথিবীর না, সূর্য্যের চারিদিকে ঘোরে। কিন্তু কোপার্নিকের মডেলে সূর্য্য ছিল বিশ্বের কেন্দ্র, আর গ্রহগুলোর বাইরে কিছু ছিলনা। ব্রুনো বলেন যে সূর্য্যও আসলে কোন কিছুর কেন্দ্র না, আর গ্রহগুলোও বিশ্বের শেষ সীমা নয়। মহাবিশ্ব আসলে সীমাহীন, আর এই অনন্ত মহাবিশ্বে অলৌকিক (miracle) বলে কিছু হতে পারেনা। তার কারন ঈশ্বর যদি সত্যিই অসীম ক্ষমতাশালী হন (omnipotennt), তাহলে সমস্ত সম্ভাবনাকে রূপ দেওয়ার জন্য তাঁকে অসীম সংখ্যক মহাবিশ্বের জন্ম দিতে হবে। কিন্তু প্রত্যেকটি মহাবিশ্বে সব কিছুই পূর্বনির্ধারিত হয়ে থাকবে, কারন পূর্বজ্ঞানের মাধ্যমে ঈশ্বর আগেই সবরকম ভুল সংশোধন করে নিতে পারবেন। ফলে এই মহাবিশ্বে অলৌকিক এর কোন স্থান নেই। ব্রুনোর এই সমস্ত বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করা হয় ও তাঁকে পুড়িয়ে মারা হয়। কিন্তু তাঁর মৌলিক অবদান ছিল অলৌকিকের ধারনা আর অসীম ক্ষমতাশালী ঈশ্বরের ধারনার মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখানো।
  • dc | 132.164.151.235 | ২৪ মে ২০১৫ ১৬:৩৪676061
  • মোটামুটি ১৬৫০ থেকে শুরু হয় এজ অফ এনলাইটেনমেন্ট - দেসকার্তেস, স্পিনোজা, লাইবনিজ ইত্যাদির মতো দর্শনের মহারথীদের যুগ। এবং এঁদের কিছু কিছু ধারনার বিরোধিতা করে হিউম, লক ও রাসেলের মতো এম্পিরিসিস্টদের যুগ।
  • ranjan roy | 132.176.10.88 | ২৫ মে ২০১৫ ১২:০৪676062
  • পড়ছি।
  • lcm | 118.91.116.131 | ২৫ মে ২০১৫ ১২:১১676063
  • এনলাইটমেন্ট ফিলসফির যুগ শুরু হয়েছিল -
    ভলতেয়ার, মন্তেস্কু, রুশো - এদের দিয়ে - তাই না।
  • সিকি | 132.177.91.13 | ২৫ মে ২০১৫ ১২:২৭676064
  • যদ্দূর মনে পড়ছে ছোটবেলায় গল্প পড়েছিলাম, ব্রুনোর পরিণতি দেখে কোপার্নিকাস তাঁর গবেষণার পেপার লিখে রেখে গেছিলেন, কিন্তু জীবদ্দশায় ছাপাখানায় পাঠাবার সাহস করেন নি। তাঁর মৃত্যুশয্যায় সে লেখা ছাপাতে পাঠানো হয়। প্রথম যখন কোপার্নিকাসের বই ছেপে বেরোয়, প্রথম কপি হাতে নিয়ে প্রকাশক এসে দেখেন কোপার্নিকাস বিছানায় মৃত পড়ে রয়েছেন।
  • dc | 75.49.14.77 | ২৫ মে ২০১৫ ১৪:২৭676065
  • lcm অবশ্যই, এনলাইটেনমেন্ট যুগে ভলতেয়ার, ফ্রান্সিস বেকন ইত্যাদিরাও ছিলেন। নাস্তিকতা, স্বাধীন ইচ্ছা ইত্যাদি বিষয়ে এঁদের মতামত নিয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করবো।
  • Mridha | 77.161.49.9 | ২৬ মে ২০১৫ ০৪:৫৮676067
  • সিকির দেওয়া ভরসাতে আরেকটা post করছি, আবার স্মরন করিয়ে দিই, আমার post dc র মত সুন্দর organized different school of thoughts নয়। কোথাও পড়ে আমার যা ভাল লাগে তাই আমার মত করে বলার চেষ্টা করছি

    In Indian spiritualism Nastik never considered as sinner. In the contrary Nastik has its own place of honor in Indian spiritualism. Nastik philosophy is not is not truly western atheism , in atheist school of thought one will go against anything in name of god, but Nastik philosophy one try to justify what others are portraying as God, He may not be there! That’s of course true because very few can comprehend god or divinity at every single moment of one’s life, and its not possible to express true nature of God by literature or any other mean, so quite possible our personal god, can be a distorted form of god…so advocating and prescribing it for everybody cannot be acceptable…… so what Nastik philosophy tries to express, is also a kind of seeking…so should have a place of respect in the world of spirituality. I intentionally did not use the word Hinduism, because this terminology saw the sunlight only after and by other religions to classify their identity.
  • করোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1 | 2
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত