ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  অন্যান্য

  • সন্ত্রাসবাদীর কোন ধর্ম হয় কী ?

    রুদ্র
    অন্যান্য | ১৭ ডিসেম্বর ২০১৪ | ২৩২৯ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • রুদ্র | 59.202.24.7 | ১৮ ডিসেম্বর ২০১৪ ২০:০১655743
  • "কোথায় আছো রাম-রহিম?
    কোথায় আছো যীশু?
    তোমার কাছে উত্তর চায়
    খুন হয়ে যাওয়া শিশু..."
  • রুদ্র | 59.202.24.7 | ১৮ ডিসেম্বর ২০১৪ ২০:০১655742
  • "কোথায় আছো রাম-রহিম?
    কোথায় আছো যীশু?
    তোমার কাছে উত্তর চায়
    খুন হয়ে যাওয়া শিশু..."
  • ranjan roy | 24.97.23.196 | ১৮ ডিসেম্বর ২০১৪ ২১:৩৯655745
  • KM,
    এই সব নিম্নরুচির লোকদের খিস্তাখিস্তি এপাতায় পরিবেশন নাই বা করলেন!!
  • PM | 131.97.75.56 | ১৯ ডিসেম্বর ২০১৪ ১২:৪৮655747
  • পাকিস্তানের লাল মসজিদের কথা মনে আছে? ওটা স্বর্ন মন্দিরের মতো সন্ত্রাস বাদী (তালিবান) ঘাটি পাকিস্তানে। কেউ ওখানে হাত দেবার সাহস পায় না। মুসারফ লাল মস্জিদে সামারিক অভিযান চালিয়েছিলো। বহু হতাহত হয়েছিলো।

    বদলা নিতে একাধিকবার মুসরফকে খুনের চেষ্তা হয়েছিলো।

    পরে সেই লাল মসজিদ আবার সন্ত্রাসবাদি ঘাঁটি হয়ে ওঠে।

    পেশোয়ারের শিশুহত্যার প্রতিবাদে পাকিস্তানের সিভিল সোসাইটি সেই লাল মসজিদ দখল অভিযানে বেড়িয়েছে-

    http://www.dawn.com/news/1151823/citizens-arrive-at-lal-masjid-to-reclaim-their-mosque
  • সিকি | 135.19.34.86 | ১৯ ডিসেম্বর ২০১৪ ১৩:১৫655748
  • বড় ভালো খবর দিলেন, পিএম। পড়ে ভালো লাগল।
  • PM | 132.52.254.242 | ১৯ ডিসেম্বর ২০১৪ ১৩:৩১655749
  • আরেকটা ভালো খবর দি সিকি। লকভিকে পাক সরকার আবার গ্রেপ্তার করেছে অন্য একটা ধারায়। আমাদের এখানে হলে সুজাত, কল্লোলদারা চেঁচিয়ে পাড়া মাথায় করতেন
  • সিকি | 131.241.127.1 | ১৯ ডিসেম্বর ২০১৪ ১৩:৪২655750
  • হ্যাঁ, এটা পড়ছি সকাল থেকেই। হাইকোর্টে অ্যাপীল করেছে জামিনের বিরুদ্ধে।

    তৃতীয় সেনটেন্সটা না লিখলেও চলত। :))

    আরও একটা খবর পেলাম, মৃত্যুদণ্ড ফিরে আসার পর পাকিস্তানের বিভিন্ন জেলে ২৭ জন আতঙ্কবাদীর ফাঁসির জন্য তোড়জোড় শুরু হয়েছে, খুব তাড়াতাড়িই হয় তো তাদের ফাঁসি হয়ে যাবে। আপাতদৃষ্টিতে এটাও আমার কাছে ভালো খবর।
  • PM | 131.97.75.56 | ১৯ ডিসেম্বর ২০১৪ ১৩:৪৭655752
  • পাকিস্তানে জাজরা জঙ্গীদের শাস্তি দিতে ভয় পান--ওনাদের ওপোর আক্রমনের ভয়ে। কথা চলছে ভিডিও ক্যামেরায় বিচারের জন্য যাতে জাজের পরিচয় গোপন থাকে
  • দেব | 133.63.241.33 | ১৯ ডিসেম্বর ২০১৪ ১৩:৫৯655753
  • @রুদ্র

    অবশ্যই হয়। কেন হবে না। আপনি যদি নিজেকে হিন্দু বলেন তাহলে আপনি হিন্দু, মুসলিম বললে তাই, শিখ বললেও তাই।

    কিন্তু পেশোয়ারের ঘটনাটা কি ধর্মবিশ্বাসের জন্য হয়েছে? আদৌ নয়। যারা করেছে তাদের সোজাসাপ্টা বক্তব্য পাকবাহিনী আমাদের মেরেছে ইনক্লুডিং নিউমেরাস চিল্ড্রেন। এটা তার বদলা। দাবীটা সর্বৈব সত্য। উত্তর পশ্চিম পাকিস্তানে গত ৬ মাসে সরকারী হিসেবে মারা গেছে ১৫০০ লোক। উদ্বাস্তুর সংখ্যাটা অবিশ্বাস্য নয় লক্ষ। আরেকটু পিছিয়ে যান। ২০০৪ থেকে এই যুদ্ধে মারা গেছেন ৬০ থেকে ৮০০০০ এর মতন মানুষ। বাস্তুচ্যূত প্রায় ৩৫ লক্ষ। এই সংখ্যাগুলো জানতেন? এরপর কি আর এরা ফুলের মালা দিয়ে পাকিস্তানি সেনাকে অভ্যর্থনা জানাবে?

    এখন প্রশ্ন হচ্ছে স্পেসিফিক কোন ধর্মবিশ্বাসের জন্যই ক্যাচাল বাধে কি না? উত্তর - অবশ্যই বাধে। কিন্তু সেটা আপনার স্ক্রিপচারে কি লেখা আছে সেই জন্য নয়। ধর্ম একটা আইডেন্টিটি। যেমন ভাষা। যেমন গায়ের রং, এথনিসিটি। এগুলোর প্রত্যেকটা নিয়েই অনেক রক্ত ঝরেছে।
  • সিকি | 135.19.34.86 | ১৯ ডিসেম্বর ২০১৪ ১৪:০৪655754
  • পিছোচ্ছিই যখন, আরও একটু পিছিয়ে দেখি।

    পাক সেনাবাহিনির কারণে এত হাজার মানুষ মরল কেন, উত্তর পশ্চিম পাকিস্তানে? এত লক্ষ মানুষ উদ্বাস্তু হল কেন? পাকিস্তানি সৈন্যরা ওখানে মানুষ মেরে টাইমপাস করছিল? ধর্মবিশ্বাসকে মাথায় নিয়েই কি ঐ অঞ্চলের লোকেরা উগ্র আতঙ্কবাদের চাষ করে নি? পাক সেনাবাহিনি কি এমনি এমনি অভিযান চালিয়েছিল?

    পুরো অশান্তির মূলেই ধর্ম, তথা ধর্মবিশ্বাস। যেভাবেই দেখুন না কেন।
  • দেব | 133.63.241.33 | ১৯ ডিসেম্বর ২০১৪ ১৪:৩৮655755
  • সেতো আরোই পেছোনো যায়। এদেরকে দুধকলা দিয়ে পুষেছিল পাক বাহিনীই এবং আমেরিকা। কেন পুষেছিল সে ইতিহাস তো সবারই জানা। "ঐ অঞ্চলের লোকেরা" উগ্র আতঙ্কবাদের চাষ করে নি, জল সার দিয়ে বীজ রোপণ করেছিল বাইরের লোকে। আজ খেসারত দিচ্ছে।

    আরও একটু পিছিয়ে গেলে দেখা যাবে ঠিক ঐ অঞ্চলের লোকেরাই ব্রিটিশ আমলে এক বিরাট অহিংস আন্দোলন গড়ে তুলেছিল গফর খানের নেতৃত্বে। তখনও এরা মুসলিমই ছিল। আর ঠিক তখনই সুর্য্য সেনের নেতৃত্বাধীন একদল বাঙ্গালী হিন্দু একটি ইউরোপীয় ক্লাবে গুলি চালিয়ে নিরীহ শ্বেতাঙ্গদের রক্তে ভাসিয়েছিলেন। ভাবুন এটা আজকে হলে এদের কোথায় ফিট করবেন?

    সব কিছুরই মূলে ধর্ম, ওটা না থাকলেই শান্তিকল্যাণ এই বিপপালীয় থিওরী দিয়ে বাস্তব চলে না।
  • কল্লোল | 125.242.173.130 | ১৯ ডিসেম্বর ২০১৪ ১৫:০২655756
  • লাকভির বিরুদ্ধে আরও মামলা থাকলে আগেই তা রুজু করা উচিৎ ছিলো। তাকে জামিন দেওয়াই বা কেন ? আবার গ্রেপ্তার করাই বা কেন?

    এরকম ৭০ দশকে বহু হয়েছে। একটা মামলায় জামিন পেতেই আরও তিনটে মামলায় তাকে জেল গেট বা আদালত চত্বর থেকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আর হ্যাঁ, শুধু নকশালদের নয় সিপিএমের ক্যাডারদেরও। সেগুলো অন্যায় হলে লাকভিরটাও অন্যায়। লাকভির মত বা পথ কোনটার সমর্থন না করেও এটা বলাই যায়।

    দেবের Date:19 Dec 2014 -- 02:38 PM পোস্টকে ক্ক।
  • রুদ্র | 37.107.126.76 | ১৯ ডিসেম্বর ২০১৪ ১৮:৩৭655757
  • উত্তুরে হাওয়া কাঁপিয়ে তুলছে হাড়
    শীতের সকালে রোদ্দুর ম্রিয়মান
    বিজেপি নেতার গর্জন শুনি দূরে
    নিকেশ করবে মুস্লিম খৃষ্টান।

    দুহাজারেকুশ রাজেশ্বরের সিং
    গুঁতিয়ে তাড়াবে এ-দুই সম্প্রদায়
    ঘোষণা বিজেপি নেতার এ-চোদ্দোয়
    বিধাতা জানেন কী-কারণে হাসি পায়।

    বিজেপি এখন ভিজেপি রক্তে ভিজে
    বিধর্মীদের নিকেশ কল্পনায়
    পারলে যীশুকে আবার হত্যা করে
    যবনরক্ত আঁজলা ভরেই খায়।

    নির্মূল খৃষ্টান আর মুসলমান
    দুজারেকুশ ঘোষক বিজেপি নেতা
    ম্লেচ্ছরক্তে হবে কি পূণ্যস্নান
    তবেই হবে কি ওদের যুদ্ধজেতা।

    নাকি সব্বাই হিন্দুই হয়ে যাবে
    আগ্রায় হলো ছোট্ট রিহার্সাল
    ওদের ধর্ম এভাবে শান্তি পাবে
    সঙ্গে বাজবে হিন্দুত্বর তাল।

    এই হবে দেশ ভেবেছিল বুঝি কেউ
    ভগৎ সিং বা ক্ষুদিরাম প্রীতিলতা
    মুঙ্গের জেলে দু'শোর ওপরে ফাঁসি
    গান্ধীর বুকে বুলেটের স্তব্ধতা।

    সকলকে মারো - সাবাশ বিজেপিরাজ
    সাজাও মুণ্ডু যবনের থরে থরে
    কে আর জানবে কাদের গুলির মুখে
    দাঁড়িয়েছিলেন হেমন্ত করকরে -

    কারা মেরেছিল আপনাকে করকরে!!!

    ***** ***** *****
    ১৯,১২,২০১৪ বিকেল

    ২০২১ নাগাদ ভারত মুসলমান-ও-খৃষ্টানমুক্ত হবে - বিজেপির রাজেশ্বর সিং জানিয়েছেন। তার পর এই লিরিক: Kabir Suman
  • de | 69.185.236.52 | ১৯ ডিসেম্বর ২০১৪ ১৮:৪১655758
  • ঠিকই আছে - শুধু "কারকারে" হবে - হেমন্ত কারকারে!
  • রুদ্র | 37.107.126.76 | ১৯ ডিসেম্বর ২০১৪ ১৮:৪৬655759
  • ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ বিয়ের পাত্রপাত্রীর হদিশ দিতে ওয়েবসাইট কেরল সিপিএম যুবদের
    abpananda.abplive.in

    বেশ ইন্টারেস্টিং তো --

    ধর্ম, জাত,সম্প্রদায় নিপাত যাক -
  • pi | 24.139.221.129 | ১৯ ডিসেম্বর ২০১৪ ১৮:৫৬655760
  • কে লিখেছেন, সেটা হয়তো বোঝাই যাচ্ছে। তবে সেটা খুব প্রয়োজনীয় নয়। এটা পড়তে পড়তে একটা অংশ পড়ে আবার সেই প্রশ্নটা পেল, যা আগেও করেছি, উত্তর পাইনি।
    'eরা ধর্মে মুসলমান। কিন্তু তাদের একজনও, বিশেষ করে সাধারণ বোম্বেটেরা, অর্থাৎ যোদ্ধারা, জীবনে কখনও একখণ্ড কুরআন শরীফ হাতে নিয়েছিলেন কিনা সন্দেহ। পাশ্চাত্য-নেতৃত্বাধীন সেই বোম্বেটে আফগান "মুক্তিযোদ্ধাদের" মনে মতবাদগত মগজ-ধোলাই-এর সাহায্যে ইসলামের এক বিকৃত রূপকে কায়েম করে দেওয়া হয়। এটা ছিল যুদ্ধপরিচালকদের ঘোষিত রণকৌশলের একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক। -'

    এটা পড়ে আবার সেই কনফ্যুশন জেগে উঠলো। একদল বলেন, যারা জঙ্গী , তারা 'প্রকৃত' ইসলাম জানেনা।
    আরেকদল বলেন, বলেন ইসলাম ধর্মে 'প্রকৃত 'বিশ্বাসী হলে শান্তিকামী হতেই পারেন না।
    এখন এই দু' দলই নিশ্চয় কোরান পড়ে একথা বলছেন। যেহেতু নিজের এসব পড়া নেই, পড়ার খুব আগ্রহ বা ধৈর্যও নেই, তাই কোরান থেকে দুই দলই নিজেদের বক্তব্যের সপক্ষে কিছু অংশ তুলে দেখালে ভালো হয়। এই 'প্রকৃত' র প্রকৃতি নিয়ে জানতে আগ্রহী। আগাম ধন্যবাদ।

    আর হ্যাঁ, পুরো লেখাটাও রইলো।
    -----

    'এক শীতের সকালের ভাবনা -
    বয়স হলে শীতকালটা নেওয়া কষ্টকর। সকাল থেকেই মনে হয় কচ্ছপ হয়ে যাচ্ছি। কথায় কথায় ঠাণ্ডা লাগে। স্মোকার্স কাশিটা বেড়ে যায়।
    অবশ্য, শীতকাল না হলেও কচ্ছপ হয়ে যাওয়ার ইচ্ছেটাই হয়তো ক্রমশ পেয়ে বসত - চারদিকে যা অবস্থা। পশ্চিমবঙ্গে রোগা-রোগা কালো-কোলো (আমার বাংলার রঙেরই) দরিদ্র গ্রামবাসীরা জঙ্গি হয়ে উঠছেন, কাঁখের বাচ্চা সামলাতে সামলাতে আল-কায়দার সেনাপতি না কার যেন স্ত্রীর কাছে গিয়ে কালাশনিকভ এসল্ট রাইফেল চালানোর ট্রেনিং নিয়ে এসে বাড়ি ফিরে আবার গম্ভীর মুখে কুটনো কুটছেন গ্রামবাংলার বধূরা; ছেলেমেয়েরা মাদ্রাসায় গিয়ে বাকুনিন-এর আরবি অনুবাদ (এটা আমি লিখলাম - বাকুনিন নামটা কলকেতার দুই প্রধান আল্‌-আর-এস-এস পত্রিকার সম্পাদকমণ্ডলি আর জানেন বলে মনে হয় না) আর আরবি ভাষায় লেখা ভারতবিরোধী জঙ্গি ম্যানিফেস্টো পড়ে মুখস্ত করছেন এবং যে যার এলাকায় মৌলবী সাহেবদের কাছে মাঝরাতে চুপিচুপি গিয়ে পড়া মুখস্ত বলছেন; মুর্শিদাবাদ জেলাটি যে সবচেয়ে মুসলিমপ্রধান জেলা তা কলকেতায় বেরোনো এক মর্তমান পত্রিকা জানতেন না তাই ধরে নিয়েছেন যে সারা বিশ্বের মুসলমান জঙ্গিরা সেই জেলায় এসে ভীড় জমাচ্ছেন - এবং বিশেষ সূত্রে জানা যাচ্ছে যে আর কিছুদিনের মধ্যেই এখানে হিন্দুদের আর ঠাঁই হবে না - শুধু মুসলমানরা থাকবেন; অন্যদিকে রাজধানিতে গীর্জায় আগুন; এক বিজেপি নেতা ঘোষণা করছেন মহাত্মা গান্ধীকে যিনি খুন করেছিলেন সেই নাথুরাম গড্‌সে দেশপ্রেমী...ইত্যাদি ইত্যাদি।
    অন্যদিকে, আবার তালিবান।
    গত শতকের আটের দশকের প্রথম থেকে যদি ভয়েস অফ আমেরিকার বাংলা বিভাগে চাকরি না করতাম, কতো কী যে জানা হতো না। আমাদের কাজের বেশিরভাগটাই ছিল ভি ও এ'র সাহেব লেখক-সাংবাদিকদের অমৃতবাণী অনুবাদ করে তা স্টুডিয়োয় গিয়ে লাইভ পড়ে দেওয়া বা রেকর্ড করা - যাতে তা পরে সম্প্রচার হয়। সাংস্কৃতিক বিষয়ে আমাদের অল্পস্বল্প স্বাধীনভাবে কিছু লেখার অধিকার ছিল। সেখানেও - ওরে বাবা, রনি রেগানের আমল - একটা American Angle আনতে হতো। যে কোনও দেশেই সরকারি বেতারে চাকরি করলে এই ধরণের অভিজ্ঞতাই হয়ে থাকে।
    আফগানিস্তানে সোভিয়েত বাহিনী আস্তানা গাড়ল। সারা দুনিয়ায় হৈচৈ। বেশিরভাগ দেশই বললেন - এ ভারি অন্যায়। ঠিকই। হঠাৎ অন্য দেশ দখল করবে কেন? - আমরা ওয়াশিংটন ডিসির স্টুডিয়োয় বসে মার্কিন লেখক-সমীক্ষকদের লেখা জ্বালাময়ী সব রিপোর্ট ও কমেন্টারি দ্রুত অনুবাদ করে সম্প্রচার করতে লাগলাম। হিন্দি বিভাগে আমার এক বন্ধু ছিলেন - উমেশ অগ্নিহোত্রী, উর্দু বিভাগে ছিলেন বন্ধু আরিফ আরিফ। দুজনেই একদিন কফি খেতে খেতে দ্বৈতকন্ঠে ককিয়ে উঠলেন, "সুমন-ভাইয়া, ইয়ে কঁহা ফঁস্‌ গয়ে।" - ওদিকে খোদ মার্কিন সরকার কিন্তু নিকারাগুয়ায় নাক গলাচ্ছেন, সানদিনিস্তা বিপ্লবকে ধ্বংস করতে চেষ্টা করছেন প্রতিবিপ্লবীদের কোটি কোটি ডলার সাহায্য দিয়ে। দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবৈষম্যবাদী সংখ্যালঘু শ্বেতাঙ্গ সরকার যা খুশি তাই করছেন, ওয়াশিংটন নিরব। ইস্রায়েল আপন মনে প্যালেস্টাইনের উদ্বাস্তু শিবিরে বিমান হানা চালাচ্ছেন, নিরীহ নিরপরাধ মানুষ মারা পড়ছেন। ওয়াশিংটন নিরব। আমরা অনুবাদ করে করে মাইকের সামনে উগরে দিচ্ছি - পি এল ও আর সান্‌দিনিস্তা সরকার গণতন্ত্রবিরোধী, সন্ত্রাসবাদী। দক্ষিণ আফ্রিকার সংখ্যালঘু শ্বেতাঙ্গ সরকার কিন্তু গণতন্ত্রী। ফিদেল কাস্ত্রোর কিউবার কাজ কী? " সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছ থেকে বিপ্লব জোগাড় করে এনে তার বিষ মধ্য আমেরিকায় ও ক্যারিবিয় অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়া।
    সোভিয়েত বেতারে একদিন শোনা গেল এক সোভিয়েত বেতারকর্মী আবেগকম্পিত গলায় জানান দিচ্ছেনঃ "আফগানিস্তানে সোভিয়েত দখলদারির বিরুদ্ধে দুনিয়ার মানুষ গর্জে ওঠো।" - সকলে স্তম্ভিত। বলে কী লোকটা? এ তো বাঘের ঘরে ঘোঘের বাসা। - কয়েকদিন আর তাঁর কণ্ঠ শোনা যায়নি। তারপর আবার শোনা গেল। জগৎবাসীদের প্রতি তাঁর সেই উদাত্ত আহ্বান অবশ্য আর শোনা যায়নি।
    আমাদের প্রান্তে সাহেবরা বললেন - লোকটাকে দিন সাতেক সাইকোলজিকাল চিকিৎসায় রাখা হয়েছিল। - তা হোক, কিন্তু আফগানিস্তানে সোভিয়েত দখলদারির বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগে গেলেন মার্কিন সরকারের নেতৃত্বে আরও কিছু পশ্চিমে দেশ। এইসব ব্যাপারে "এগালিতে ফ্রাতার্‌নিতে" আউড়ানো ফ্রান্স বরাবর তৎপর। ইটালিও। তখনকার পশ্চিম জার্মানি তো হাতের পুতুল।
    তালিবান। তালিবান নামে কোথাও কিছু ছিল কি?
    পাকিস্তানে এক পা রেখে ওয়াশিংটন ও তার পশ্চিমে স্যাঙাতরা কোটি কোটি টাকা ঢালতে লাগলেন - আফগানিস্তানের "ওয়ারলর্ড"বৃন্দ, যত রাজ্যের খুনে-বোম্বেটে সকলকে একজোট করে আধুনিক অস্ত্র ব্যবহারের ট্রেনিং দিতে। নন্দীগ্রাম অভ্যুত্থানের সময়ে যে নামটি এ-রাজ্যে বাংলা ভাষায় চালু হয়ে যায় সেই 'হার্মাদ' নামটি সেই সময়কার আফগান দস্যুদের বেলা চমৎকার খাটে। আমরা ভি ও এ'র অফিসে ঝটাপট তর্জমা করতে লাগলাম মার্কিন সাহেবদের লেখা: "আফগানিস্তানে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকামী যোদ্ধারা জেগে উঠছেন, সংগঠিত হচ্ছেন।" - ওয়াশিংটন সরকার সেই হার্মাদদের বলতে লাগলেন মুক্তিযোদ্ধা।
    নন্দীগ্রামের আন্দোলনকে ধ্বংস করার লক্ষ্যে তখনকার শাসকদল-সংগঠিত হার্মাদদের যেমন আলাদা কোনও বিশ্বাস বা মতবাদ ছিল না, তারা যেমন শুধু একধার থেকে খুনজখম ও ধর্ষণ করার কাজেই ব্রতী ছিল, আফগানিস্তানের হার্মাদরাও তেমনই। তারা ধর্মে মুসলমান। কিন্তু তাদের একজনও, বিশেষ করে সাধারণ বোম্বেটেরা, অর্থাৎ যোদ্ধারা, জীবনে কখনও একখণ্ড কুরআন শরীফ হাতে নিয়েছিলেন কিনা সন্দেহ। পাশ্চাত্য-নেতৃত্বাধীন সেই বোম্বেটে আফগান "মুক্তিযোদ্ধাদের" মনে মতবাদগত মগজ-ধোলাই-এর সাহায্যে ইসলামের এক বিকৃত রূপকে কায়েম করে দেওয়া হয়। এটা ছিল যুদ্ধপরিচালকদের ঘোষিত রণকৌশলের একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক। - জন্ম দেওয়া হলো তালিবানদের। তালিবান। পাশ্চাত্যের সাম্রাজ্যবাদী ও প্রভুত্ববিস্তারবাদী অভিসন্ধিকে আফগানিস্তানে এবং কিছুটা হলেও পাকিস্তানের এক অংশে কায়েম করা ও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ইসলাম ধর্মের এক কুৎসিৎ প্যারোডি বানিয়ে সেই উদ্ভট এককাট্টাপনার ভিত্তিতে বেশ কিছু সংখ্যক অশিক্ষিত, আধাবর্বর, সভ্য সমাজের সঙ্গে সম্পূর্ণ সংশ্রবহীন সম্পর্কহীন প্রায় জান্তব বোম্বেটেদের মানসিক ও সামরিকভাবে তৈরি করা হলো মার্কিন সরকার ও তাঁদের স্যাঙাতদের নির্দেশে। মনে রাখা দরকার ওসামা বিন লাদেনেরও রঙ্গমঞ্চে প্রবেশ মোটামুটি ওই সময়ে। তিনিও ছিলেন এক হার্মাদ-ঠিকেদার। নিজে হার্মাদ ছিলেন না। নানান দেশে, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ও ব্রিটেনে ব্যবসা।
    তালিবানদের সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হতে থাকল পাকিস্তানে। এইভাবে মার্কিনভজা পাকিস্তানেও তালিবানদের আস্তানা হলো। পাকিস্তানের কিছু মাদ্রাসায় এককাট্টা (মৌলিকভাবে ইসলামের আদর্শবিরোধী) মতবাদগত পন্থায় জঙ্গি প্রশিক্ষণ শুরু হয় ঐ সময়ে। তার আগে কস্মিনকালে 'মাদ্রাসা' নামক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জঙ্গিতালিমের কোনও সম্পর্ক ছিল না। মানবেতিহাসে কোথাও তার কোনও নজির নেই। এই চমৎকার কাজটির মন্ত্রদাতা ও অর্থদাতা কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আজ্ঞাবহ - পাকিস্তানের মূর্খ সামরিকশাহী। পাকিস্তানে তার প্রভু ওয়াশিংটনের নির্দেশে ও টাকায় তালিবানদের সামরিক ও মতবাদগত তলিমের পরিণামে পাকিস্তানের পশ্চাদ্দেশে যে কী কী প্রবিষ্ট হয়েছে এবং হয়ে চলেছে তা সবচেয়ে ভাল জানে পাকিস্তান। কারণ তালিবানের মেওয়া আফগানিস্তানে যেমন ফলেছে, তেমনি পাকিস্তানেও। একের পর এক তালিবানি হামলা হয়েছে পাকিস্তানে। সাম্প্রতিকতম নৃশংসতা আমরা এই দেখলাম। কিন্তু দেখুন - এই সব কিছুর নান্দীকার মার্কিন সরকার ও তাঁদের অন্যান্য শ্বেতাঙ্গ স্যাঙাত দেশগুলো কেমন তোফা আছে।
    সোভিয়েত মদতপুষ্ট নজিবুল্লাহ্‌ সরকারকে (সমাজতন্ত্রী সরকার) উৎখাত করেছিল তালিবানরা। আমরা ওয়াশিংটনে মাইকের সামনে বসে বসে প্রায় জয়ধ্বনি দিয়েছিলাম। নজিবুল্লাহ্‌ সরকার সোভিয়েতভজা। কিন্তু তাঁদের আমলে আফগানিস্তানের মেয়েরা সবচেয়ে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতেন। কাবুলের মন্ত্রীসভায় সবচেয়ে বেশি সংখ্যক আফগান মহিলা ছিলেন - আবিশ্ব গণতন্ত্রের অভিভাবক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যা প্রায় কখনও হয়নি। সরকারি দপ্তরগুলোয় মহিলারা অতীতের তুলনায় অনেক বেশি চাকরি পেয়েছিলেন। ইসলাম ধর্ম স্বাভাবিকভাবেই পালিত হতো, কিন্তু তা নিয়ে বাড়াবাড়ি ছিল না, গা-জোয়ারি ছিল না। নজিবুল্লাহ্‌র শাসনকালে দেশে শান্তিশৃঙ্খলা ছিল। আর পাঁচটা দেশের মতোই আফগনিস্তানে জনজীবন অনেক স্বাভাবিক হয়ে ঊঠেছিল।
    রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে তালিবানরা প্রথমেই নজিবুল্লাহ্‌ ও তাঁর ভাইকে ধ'রে প্রকাশ্যে তাঁদের অণ্ডকোষ কেটে নেয়। চারপাশে দাঁড়িয়ে উল্লাস করছিল তারা, যাদের আমরা ওয়াশিংটনে ভি ও এ'র স্টুডিয়োর মাইকের সামনে বসে 'মুক্তিযোদ্ধা' বলে এসেছিলাম। তাদের প্রত্যেকের হাতে ছিল মার্কিন সরকারের টাকায় কেনা এসল্ট রাইফেল ও গ্রেনেড লঞ্চার। দুই ভাইকে তারপর প্রকাশ্যে, তালিবান-নির্মিত ফাঁসিকাঠে ঝোলানো হয়। অন্তত এক সপ্তাহ দুজনের মৃতদেহ ঐভাবে ঝুলেছিল। সারা পৃথিবী দেখেছে। সারা দুনিয়ার ফোটোগ্রাফররা সেই ছবি তুলেছিলেন। ভিডিও-ও তোলা হয়েছিল। - তালিবানদের জন্মদাতা, পালক, মন্ত্রদাতা, অর্থদাতা, অস্ত্রদাতা, খাদ্যপানীয়দাতা মার্কিন সরকার ও তাঁদের বন্ধুরা তখন কী করছিলেন?
    তার পর থেকে তালিবানরা যা যা করেছে সেই বর্ণনার অতীত নিষ্ঠুরতার জন্য আসলে কারা দায়ি? কাবুলে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের পর থেকেই তালিবানরা লেগে গিয়েছিল তাদের কাজকর্মে। বাপের জম্মে যারা কোনও স্বাভাবিক শিক্ষা পায়নি, যাদের ডেরা ছিল আদিম পরিবেশে, যাদের মনমানসিকতা ও দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে মানবসভ্যতার কোনও সম্পর্ক কোনওদিনই ছিল না, যারা পুষ্ট হয়েছিল শুধু নৃশংসতায়, জীবন বলতে যারা জেনেছিল শুধু হানাহানি লুঠতরাজ ধ্বংসসাধন, যাদের একজোট করা হয়েছিল কোটি কোটি মার্কিন ডলার খরচ করে সোভিয়েত বাহিনীকে আফগানিস্তান থেকে তাড়ানোর লক্ষ্যে তাদের কাছ থেকে আমরা কী আশা করব? - রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করার পর তারা যখন যথেচ্ছাচার শুরু করল, তাদের পশ্চিমে জন্মদাতারা কি একবারও চেষ্টা করেছিলেন তাদের থামাতে? মানুষ তো সেরকম অবস্থায় মরিয়া হয়ে গিয়ে যুদ্ধও করে থাকে। ইতিহাসে ভুরি ভুরি নজির। "নাইন ইলেভেনের" পর ওয়াশিংটন লাদেন-মারো অভিযান শুরু করেছিল। তালিবানদের অপরিসীম নিষ্ঠুরতা ও যথেচ্ছাচারের নজির সমানে দেখার পর ওয়াশিংটন তাদের নির্মূল করার জন্য ব্যাপক আক্রমণ করেছিল কি? ইরাককে তো পিষে দিল আমেরিকা। ইরাণের সঙ্গে খাপ খুলল না হেরে যাওয়ার ভয়ে। তালিবানদের রেখে দিল সাহেবরা। কেন?
    বন্ধুরা, হয়তো আপনারা পড়েছেন, তাও বলি - Edward W Said- এর 'Covering Islam' ও 'Orientalism' বইদুটি কয়েকটি জরুরি ব্যাপার বুঝতে সাহায্য করতে পারে।
    আমরা চাই বা না চাই দুনিয়াটা বড় উদ্ভটভাবে সাদা কালো। শ্বেতাঙ্গরা কোনওদিন ইসলামি দুনিয়া, আমাদের উপমহাদেশ ও চীনের ভাল চায়নি। তার চেয়েও যা গুরুত্বময়: পৃথিবীর এই বিপুল অঞ্চলটিকে তারা মোটের ওপর অসভ্যই ভেবে এসেছে দীর্ঘকাল। তাদের "সভ্যতার" মাপকাঠির সঙ্গে যা যা মিলছে না সেটা বা সেগুলো "সভ্যতার" আওতায় পড়ছে না। হিন্দুত্ববাদীরা যদি ভেবে থাকেন শ্বেতাঙ্গ প্রভুরা মুসলমানদের ওপর খাপ্পা, হিন্দুদের ওপর নয়, তো তাঁরা ভুল করছেন বেজায়। শ্বেতাঙ্গ প্রভুদের কাছে "হিন্দু" "মুসলমান" কিছুই তাঁদের সভ্যতার সঙ্গে খাপ খায় না, অতএব খারাপ। - তালিবানদের তারা রেখে দিল ঝামেলা পাকিয়ে রাখার লক্ষ্যে। তাদের হাতে আধুনিক অস্ত্র, রকেট লঞ্চার সবই তুলে দিল। হয়তো এখনও সাপ্লাই আসে। পাকিস্তানের শাসকরা গবেট। সামরিকশাহী বারোটা বাজিয়ে দিল। মেরিবাবার ভজনা করতে গিয়ে খাল কেটে যে কুমির আনল মূর্খরা তাতে তো নিজেদেরই গেল-গেল দশা। তার মর্মান্তিক নজির আমরা দেখতে পাচ্ছি বারবার। সাহেবরা কী করছেন? তালে আছেন - আমাদের মধ্যে আর কোন্‌ কোন্‌ উপায়ে গোলমাল পাকানো যায় ও পাকিয়ে রাখা যায় তা সমানে যাচাই করে দেখতে।
    জীবনের এই শেষ পর্যায়ে পুরোনো দিনের কত কথা মনে পড়ে গেল। ইতিহাসের একটি অধ্যায়ের সাক্ষী ছিলাম আন্তর্জাতিক রাজনীতির একটি রাজধানী ওয়াশিংটন ডি সিতে ভি ও এ'র চাকরি করার সুবাদে। আমেরিকার সরকারবিরোধী সংগ্রামীরাও আমায় তালিম দিয়েছিলেন, যাঁদের অনেকেই আজ আর নেই। তবু নম চমস্কি আছেন। কতো জরুরি সাবধানবাণী তিনি শুনিয়ে এসেছেন সেই কোন্‌ কাল থেকে। দুনিয়ার কজন শুনেছে?
    কচ্ছপ হয়ে যাচ্ছি...
    শীত করছে।..
    ?'
  • r2h | 172.136.192.1 | ১৯ ডিসেম্বর ২০১৪ ১৯:৪৭655761
  • মিথ্যে কিছু না কিন্তু আজকাল সুমনের লেখাপত্র পড়লেই অকারনেও ** জ্বলে যায়। তারওপর প্রকাশ্যে ধর্ম বিষয়ে ল্যাল্যা করা লোকজনকেও আর সহ্য করতে পারার কোন কারন দেখিনা, বিশেষত তিনি যদি আদারওয়াইজ শিক্ষিত পরিশীলিত স্বচ্ছ চিন্তাভাবনার অধিকারী হন। আর গোটা একটা উপমহাদেশ আর আরো সব বড় প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী বড় দেশ দেশ যদি ডিমের সরু দিকটা আগে ভাঙবে না মোটা দিকটা সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্যে সাহেবদের দিকে তাকিয়ে থাকে, সাহেবদের অঙ্গুলিহেলনে ঠিক করে প্রতিবেশীকে খুন করবে কি করবে না, তাইলে সেই লোকগুলোর মধ্যে তো গভীর সমস্যা। পাশ্চাত্যের চক্রান্ত সুগভীর এইসব সত্যি কথা, কিন্তু অন্যকে দোষারোপ না করে নিজেদের দিকে তাকানোর একটা সংস্কৃতি তৈরী নাহলে সিয়ার চক্রান্ত এইরুপ নাকেকান্না ছাড়া আর কিই বা থাকবে।
    আমেরিকার বিদেশনীতি তো আমাকে বলে ঠিক হবে না, কিন্তু আমি আমার নিজের দেশের লোককে দুটি আইনকানুন সহিষ্ণুতা এইসব শেখাতে পারি। যে দেশের লোক আমেরিকার চক্রান্তে শতাব্দীব্যাপী ল্যাজ নেড়ে গেল, সে আর আমেরিকার বিদেশনীতির কি ছিঁড়বে।

    ইনফ্যাক্ট ** জ্বলে আছে, এতগুলো বাচ্চার লাশের ছবি দেখে মানবতা ইত্যাদি সুগভীরবিষয়জনিত লজ্জায় অধোবদন হয়ে বসে থাকা আর মনে মনে খিস্তি করা চাড়া আর কিই বা করার থাকে।

    ধর্ম ও ধর্মের প্রকৃত পাঠের ** একশোআটবার।
  • শ্রী সদা | 212.142.122.93 | ১৯ ডিসেম্বর ২০১৪ ১৯:৫৫655763
  • হুতোদাকে কয়েক হাজার ক।
  • dd | 132.172.149.67 | ১৯ ডিসেম্বর ২০১৪ ২০:২২655764
  • ইয়েস।(রবাহুতোকে)। "সাহেবদের অঙ্গুলিহেলনে ঠিক করে প্রতিবেশীকে খুন করবে কি করবে না, তাইলে সেই লোকগুলোর মধ্যে তো গভীর সমস্যা"

    এই "তালিবান তো আমেরিকার সৃষ্টি" আর "ছাগোলদের ভোটে তৃণমূল এসেছে" একই কথা। একই মেন্টালিটি। অন্যরা "করে দিয়েছে"।

    আর এই জেহাদীপনা যেনো শুধুই তালিবানেই সীমাবদ্ধ। বোকা হারাম? আইসিস? আরো একশো একটা গ্রুপ?
  • pi | 24.139.221.129 | ১৯ ডিসেম্বর ২০১৪ ২১:৫৯655765
  • এই নিয়েই আলোচনা হবে ভেবেছিলাম। আমি নিজে হুতোর বক্তব্যের সাথে কিছুটা সহমত, কিছুটা না। যে হাতেকলমে অন্যায় করছে, সে সমালোচনার যোগ্য তাতে কোন সন্দ নাই, কিন্তু তাতে করে যে কলকাঠি নেড়ে অন্যায় করালো সে সমালোচনার অযোগ্য হয়ে যায়না বা ঊর্ধ্বে উঠে যায়না। আমেরিকার সমালোচনা করা হচ্ছে মনে যারা তালিবান হয়ে উঠলো, তাদের কোন দোষ নাই, অবোধ শিশু, এমনি তো নয়। মানে সুমন কী ভেবে বলেছেন জানা নেই, আমার মত বললাম।
    অনেকেরই সেরকম মত মনে হয়।
    দাঙ্গাকারীদের যেমন ঘৃণা করা হয়, অপরাধী মনে করা হয়, দাঙ্গায় উস্কানিদাতাদেরও তো।

    যাহোক, আমার প্রশ্ন অন্য ছিল। তার উত্তরের অপেক্ষায়।
  • Arpan | 125.118.106.163 | ১৯ ডিসেম্বর ২০১৪ ২২:১৮655766
  • হুতোকে কয়েকশো ক্ক।
  • pi | 24.139.221.129 | ১৯ ডিসেম্বর ২০১৪ ২২:২৪655767
  • 'Mehmood Madani, a prominent cleric in Delhi, described the attack as "barbaric" and said the act was "indescribable".
    "It is an inhuman attack and cannot be tolerated. It must be dealt with strongly. Islam does not allow this. Those who indulge in such despicable acts are doing disservice to Islam," Madani told IANS.
    Condemnations poured in over the killing of 148 people, including 132 children, at an army-run school in Pakistan's Peshawar city by the Taliban.
    "They were not the children of Pakistan they were the children of the world. Taliban are murderers of humanity. I don't have words," Kamal Faruqui, one of the progressive Muslim personalities, said.
    Maulana Mufti Mukarram Ahmed, the Shahi Imam of Fatehpuri Masjid in Old Delhi, echoed the same views.
    "Terrorism in the name of Islam is un-Islamic. They call themselves Muslims, but they are a blot on Muslims," Ahmed said.,

    এই লোকগুলি প্র্যাকটিসিং মুসলিম বলেই এদের এই সব বক্তব্য কুম্ভীরাশ্রু হয়ে যাবে , কারণ প্রকৃত মুসলিম ( ধর্মপালনকারী) কিছুতেই শান্তিকামী হতে পারেন না ? তাই যদি হয়, তাহলে সেটা কেন বলা হচ্ছে, ধর্মীয় রেফারেন্স সহ জানতে চাই আর সেগুলো নিয়ে এই ধর্মপালনকারীরা কী বলেন, তাও জানতে চাই।
  • pi | 24.139.221.129 | ১৯ ডিসেম্বর ২০১৪ ২২:৩১655768
  • বা, এঁরা যা বলছেন?

    Jamaat-e-Islami Hind president Maulana Syed Jalaluddin Umari said the Peshawar school attack is an inhuman act and savagery that can never be justified. Neither such act nor its perpetrators have anything to do with the Islam, he said, adding that no Muslim organisation in India and elsewhere can ever support terrorist organisations like Taliban and ISIS.

    Maulana Umari said, “Islam calls for protection of man’s life and property. It does not like wrongful killing of a single person. So such act cannot be linked with Islam. Those who are executing such acts in the name of Islam must know they are wrongly using its name. Those who are acting against the teachings of Islam cannot use its name for such act.”

    Condemning the killing of school children, Dr Zafarul Islam Khan, President, All India Muslim Majlise Mushawarat, termed Taliban as a blot on Islam and said that Tahrik-e-Taliban Pakistan, the terrorist organisation responsible for this attack, must be crushed and eliminated without mercy.”

    He said the organisations such as Taliban, ISIS, Boko Haram and Al-Qaeda are terrorist outfits which mislead the masses in the name of Islam but the pristine and peaceful message of Islam totally disowns their blood-thirsty ideology and tactics.

    Calling the attack ‘reprehensible’ and ‘height of barbarity’, Dr. Mohammad Manzoor Alam, general secretary of All India Milli Council, said terrorists are nobody’s friend and all kinds of terrorism anywhere on earth-private as well as state – is reprehensible, equally and unequivocally. He praised Prime Minister Narendra Modi for his call to observe two minutes of silence on Wednesday in schools all over the country in memory of the slain children.

    - See more at: http://freepressjournal.in/muslim-leaders-condemn-brutal-taliban-massacre/#sthash.qaCUhEgW.dpuf
  • শ্রী সদা | 212.142.122.93 | ১৯ ডিসেম্বর ২০১৪ ২২:৪৫655769
  • "ইসলামের এক বিকৃত রূপকে কায়েম করে দেওয়া হয়" - এটা খুব পলিটিক্যালি কারেক্ট স্টেটমেন্ট। যে ধর্মগ্রন্থের হাজার দিক থেকে হাজাররকম ব্যাখ্যা বের করা যায় সেটার কোনটা বিকৃত আর কোনটা আসল কে ঠিক করবে ? আসিফের যে লেখাটার কথা ডিডিদা বললেন সেটাতে ঠিক এই পয়েন্ট নিয়েই কোরানকে ঠোকা হয়েছে। আল্লাবাবুর এত ধোঁয়াটে বাণী দেওয়া উচিত হয়নি।
    পাইদিকে বললাম।
  • pi | 24.139.221.129 | ১৯ ডিসেম্বর ২০১৪ ২২:৫৫655770
  • নাঃ। আমার আসিফের কিছু বক্তব্য ছায়ার সাথে যুদ্ধ মনে হয়েছে।

    'যেন তালেবান, আইসিসরা, বোকো হারামরা, এরকম লক্ষ লক্ষ জঙ্গি সংগঠন একদম দুধের শিশু, বোকার হদ্দ, কিছুই বোঝে না, ভাজা মাছটিও উলটে খেতে জানে না। তাদের পশ্চিমারা বলেছে, যাও বাছারা টুইন টাওয়ার উড়িয়ে দিয়ে আসো, অমনি তারা দৌড়ে গেল। তাদের আমেরিকা বলেছে, শিশুদের স্কুলে বোমা মারো, অমনি তারা এক লাফ দিয়ে বাচ্চাদের স্কুলে বোমা মেরেছে।

    এরা অবোধ, দুধের শিশু এরকম কেউ বলতে পারে, কিন্তু অনেকেই বলছে না। তারা অনেকেই তারপরেও অন্যদেরও দোষী করছে। দোষী করছে বলেই তালিবান আইসিসদের অবোধ শিশু বলে ট্রিট করছে, এমনটা নয়।

    যাইহোক, ওর কোরানের ধোঁয়াশা সংক্রান্ত পোস্টটা মিস করেছি। পেস্ট করে দিবি ?
  • ধর্মীয় নষ্টামি | 122.198.83.237 | ১৯ ডিসেম্বর ২০১৪ ২৩:১৩655771
  • অ শুধু সায়েবদের দোষ। সাহেব এসে বল্ললো আর একজন ড্যাং ড্যাং করে নাচতে নাচতে চলে গেলো সুইসাইড বোম্বার হতে। আপনাকে কেউ বল্লে যাবেন? নীচের ভিডিওটা দেখুন, কিছুটা আঁচ পাবেন কিভাবে তাদের মগজ ধোলাই করা হয়---

  • সিকি | ১৯ ডিসেম্বর ২০১৪ ২৩:২৮655772
  • এই কোশ্চেনটাই আমি করেছিলাম ভাটে। দুবেলা পেট ভরে খাবার আশ্বাস দিয়ে ওয়াহাবি মাদ্রাসা বলল, যা গিয়ে বোম বানা, যাকে যাকে যেমন যেমন বলব, বোম মেরে উড়িয়ে দিবি। তা বোম বাঁধতে গিয়ে বোমা ফেটে উড়ে গেল তার স্বামী। তারপরে লোকে যখন খাগড়াগড়ের মেয়েটাকে দেখল, তার চোখে জল নেই, এক হাতে বাচ্চাকে কোলে নিয়ে অন্য হাতে বন্দুক দেখিয়ে লোককে আটকে রাখছে। আর তার পরেই সে ছেঁড়া কাপড় দিয়ে তার স্বামীর ডেডবডির আশেপাশের রক্ত মুছছে, নির্বিকার মুখে বসে আগুনে পোড়াচ্ছে দলিল দস্তাবেজ, সিমকার্ড।

    শুধু আরব দেশের পাঠানো পয়সায় পেট ভরে খাবার আশ্বাস পেলে আপনি এমনটা করতে পারবেন?
  • a x | 138.249.1.198 | ১৯ ডিসেম্বর ২০১৪ ২৩:৪০655774
  • আমি তো অনেক কিছুই করতে পারবনা। আমি মায়ের সামনে কৈশোর না পেরোন ছেলেকে সোডোমাইজ করতে পারবনা। আমি হুডি পরা কালো মানুষ দেখলেই গুলি চালাতে পারবনা, আমি ছোট বাচ্চাকে দুধে নাক ডুবিয়ে মারতে পারবনা। এর একটার সাথেও কোনো ধর্মের দূর দূরান্ত কোনো সম্পর্ক নেই।

    দেবের অনেক বক্তব্যকে অনেকগুলো ক দিলাম, এই বাজারেও কেউ কেউ ভাবনা চিন্তা বজায় রাখে দেখে।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা মনে চায় মতামত দিন