ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  অন্যান্য

  • ধর্ষণ ও বিবর্তন নিয়ে কিছু কথা

    sosen
    অন্যান্য | ১৭ অক্টোবর ২০১২ | ৬৬১৩ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • সিধু | 141.104.245.196 | ২৩ অক্টোবর ২০১২ ০১:০৫575109
  • বহুকাল বাদে গুরুতে ব্যাপক লেখা পেলাম একটা
  • 3Q | 161.141.84.239 | ২৩ অক্টোবর ২০১২ ০১:৪২575110
  • সোসেন, খুঁজে দেখলাম এই ক্ষুদ্রাকৃতি মানবগোষ্ঠী Homo Floresienses রা আজ থেকে মাত্র ১২০০০ বছর আগেও টিঁকে ছিলো। এতদিন ধরে টিঁকে থেকে হঠাৎ কী কারণে লুপ্ত হয়ে গেলো? আর এরা কি মডার্ণ হিউম্যানদের সঙ্গে কোনো সম্পর্কস্থাপন করেনি? এদের মিশ্রিত সন্তানসন্ততির কোনো এভিডেন্স কি পাওয়া গেছে?
  • pi | 127.194.1.56 | ২৩ অক্টোবর ২০১২ ০২:১১575111
  • সোসেন, ওরাং বা শিম্পাজী সমাজের 'মানুষীয়' আচরণ নিয়ে কিছু প্রশ্ন ছিল।

    মানুষের আর্থসামাজিক পার্থক্য আর প্রাণিজগতে সেক্সুয়াল ম্যাচিওরিটির তফাত, এদুটো কতটা তুলনীয় ?

    ওরাং ফিমেলরা তো দেখলাম আঘাত পায়না। সেক্ষেত্রে ধর্ষণের তুলনা আনা যাবে ?

    আর বিবর্তনের কথাই যখন বলা হচ্ছে, প্রাণিজগতে ধর্ষণ বলা যেতে পারে, এমন উদাহরণের ফ্রিকোয়েন্সি কেমন ? স্পিসিস ওয়াইজ ?

    চেরিল নট আর থম্পসনের পেপারগুলোর রেফারেন্স পাওয়া যাবে ?

    এগুলো জাস্ট জিগিয়ে রাখলাম। তোমার এখনকার লেখা থামিয়ে উত্তর দিতে হবে, এমন নয়, তোমার মতন লেখো, পরে বল্লেও হবে।
  • sosen | 125.184.123.45 | ২৩ অক্টোবর ২০১২ ০৮:২৫575112
  • যে সব প্রশ্নের ছোট করে উত্তর দেওয়া এই লেখার পরিসরে সম্ভব, সেগুলি দিয়ে যাই।

    পাই ,
    মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থান আর প্রাণিজগতে সেক্সুয়াল পারফরম্যান্সের কোয়ালিটি তুলনীয়। এর ডিটেল আলোচনায় আমি আধুনিক মানুষের বিষয়ে যখন আসবো, তখন করব।

    ওরাং ফিমেলরা আঘাত পায় না, অর্থাৎ অপরিণত পুরুষের সাথে মিলনে বেশি শারীরিক আঘাত পায় না। কিন্তু অপরিণত পুরুষদের সাথে তারা মিলিত হতে চায় না। অপরিণত পুরুষদের নিজস্ব টেরিটরি থাকেনা, তারা এক ফিমেল গ্রুপ থেকে অন্য ফিমেল গ্রুপে পালিয়ে বেড়ায় এবং ফিমেল ওরাং দের ফোর্সফুল কপুলেশনে বাধ্য করে। এই মিলনে ৫০% এর বেশি প্রজননগত সাফল্য আছে। সুতরাং ধর্ষণ এবং ইচ্ছুক মিলন দুটোই প্রায় সমান গুরুত্বপূর্ণ। ফিমেল ওরাং দের রেজিস্ট্যান্স পুট আপ করার সঙ্গে প্রজননগত সাফল্য সমানুপাতিক।
    তবে ধর্ষণ মাত্রেই তো শারীরিক আঘাত নয়।

    প্রাণিজগতে ধর্ষণের ফ্রিকোয়েন্সি স্পেসিস টু স্পেসিস ভ্যারি করে। ইচ্ছুক মিলন ভার্সেস ধর্ষণের প্রজননগত সাফল্য ও ভ্যারি করে। কিন্তু প্রায় সমস্ত পেনিট্রেটিভ প্রাণী ধর্ষণ করে। এটা বোধহয় শুরুতেই বলেছি।
    রেফারেন্স পাওয়া যাবে। আমি পরে দিয়ে দেব।

    3Q
    আধুনিক মানুষের সাথে ফ্লোরেস মানবের মিশ্রণের উদাহরণ জানা নেই। সত্যি বলতে এরা একটি অন্য স্পেসিস সেটাই এখনো প্রমাণিত হয়নি। তবে এরা আধুনিক মানুষের সঙ্গে কো-এক্সিস্ট করেছে, সেখান থেকে অনেকেই এদের আদতে রোগাক্রান্ত মানুষ বলে গণ্য করেন। ওই অঞ্চলে স্টেগডন বলে ওরকম বেঁটে হাতির ও সন্ধান মিলেছে। ওই সময় একটি অগ্ন্যুত্পাত হয়েছিল, তাতেও বিলুপ্ত হতে পারে । যথেষ্ট এভিডেন্স না থাকলে কিসে বিলুপ্ত হয় বলা মুশকিল।

    স্পেসিয়েসনের বায়োলজিক্যাল আলোচনায় দু-একটি জিনিস মাথায় রাখতে হবে
    ১। টুকরো টুকরো কঙ্কাল, যা মাইক্রব্স এ পরিপূর্ণ , তা থেকে পূর্ণ জেনেটিক মেটেরিয়াল পাওয়া খুব কঠিন।
    ২। এবং সেই বায়োলজিক্যাল তথ্যের অনুপস্থিতিতে আমরা ভৌগোলিক অবস্থান দেখে এখন পর্যন্ত যা জানা গেছে সেই তথ্যে অজানা ফসিলকে ফিট করবার চেষ্টা করি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা স্পেকুলেটিভ।

    তথ্যমূলক ভাবে এর বেশি কিছু বলতে পারলাম না।
  • sosen | 125.184.123.45 | ২৩ অক্টোবর ২০১২ ০৯:১৪575113
  • হানুদার প্রশ্নগুলো খুব রেলিভ্যান্ট তাই আলাদা করে উত্তর দিলাম।

    ইমিডিয়েট সেক্সুয়াল গ্র্যাটিফিকেশন=প্লেজার এন্ড রিলিজ অফ হর্মোন সার্জ । দুটোকে একই কোয়ালিটি ধরা হবে। একটা অন্যটার সাবসেট নয়। আলাদা করে মাপা সম্ভব নয়। এবং বংশবৃদ্ধির সঙ্গে কোলিনিয়ার নয়।

    প্রাইমেট দের মধ্যে সোশ্যাল ডমিনেশন এর সাবসেট হিসাবে (বংশবৃদ্ধি + পেরেন্টাল কেয়ার + কেপেবিলিটি অফ কিপিং এ হারেম+ কেপেবিলিটি অফ মেট চয়েস) গণ্য করা হয়। মানুষের মধ্যে এর সঙ্গে যোগ হয় (লার্নিং ও কমিউনিকেশন + এবিলিটি টু ইনফ্লুয়েন্স মেট চয়েস এগেইনস্ট reproductive সাকসেস+ সোশ্যাল স্ট্যাটাস। আলাদা করে মাপা সম্ভব।
    এই সাবসেটগুলোকে ফিজিওলজিক্যাল তো বটেই , জেনেটিক্যালি আলাদা আলাদা করে এক্সপ্লেন করার চেষ্টা হচ্ছে।

    মানুষের মধ্যে ইমিডিয়েট সেক্সুয়াল গ্র্যাটিফিকেশন এবং লং টার্ম এসোসিয়েশন(সোশ্যাল ডমিন্যান্সের সাথে জড়িত) দুটো কনফ্লিকটিং ট্রেট। এ নিয়ে বিশদে আলোচনা করব।

    প্রপার্টির লিনিয়েজ এবং অ্যাকিউমুলেশনের ভূমিকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সোশ্যাল ডমিন্যান্স শুধু সেক্সুয়াল ডমিন্যান্স নয়, প্রপার্টি এবং ডিসিশন-মেকিং ইন ওয়ারফেয়ার , প্রপার্টি ডিস্ট্রিবিউশন এবং রাইট টু কন্ট্রোল মেট চয়েস সব কিছু নিয়ে গঠিত । যেমন আমি মসুও র কথা বললাম- এরা matrilinial , ট্রেডএর কন্ট্রোল পিতৃতান্ত্রিক গ্রুপ "নোবিলিটি"র হাতে। কিন্তু সম্পত্তির অধিকার মেয়েদের হাতে। আবার ইয়ানোমোমোদের যা কিছু সম্পত্তি তার লিনিয়েজ ছেলেদের। এদের তো মেয়েরাই অন্যতম সম্পত্তি, এবং মেয়েরা বাধ্যতামূলক শ্রমিকও । ডেটা বলতে এ নিয়ে অনেক কাজ আছে, সেই The Descent of Man and Selection in Relation to Sex থেকে শুরু করে। উপজাতির মধ্যে সম্পত্তির ডিস্ট্রিবিউশন সোশ্যাল ডমিন্যান্সএর ক্ষেত্রে বিস্তৃতভাবে স্টাডি করা হয়েছে, যদিও আমার এই লেখার পরিসরে আমি খুব বেশি সেটা আনতে পারছিনা। ছড়িয়ে যাবে।

    যদি প্রশ্ন বুঝতে না পেরে থাকি বলবেন।

    মামু আর অরন্যদা, সোশ্যাল ইমপ্যাক্ট মানে ঠিক কি চাওয়া হচ্ছে? আমি তো সোশ্যাল বিহেভিয়ারকেই বায়োলজি দিয়ে ব্যাখ্যার চেষ্টা করছি। একটু বলবেন বুঝিয়ে?
  • pi | 127.194.1.56 | ২৩ অক্টোবর ২০১২ ০৯:৩৫575114
  • -প্রায় সমস্ত পেনিট্রেটিভ প্রাণী ধর্ষণ করে।

    এটা নিয়েই একটু বিস্তারিত জানতে চাইল্ছিলাম, কারণ এনিয়ে খুব বেশি স্টাডি দেখিনি, কিছু কিছু স্পিসিসে উদাঃ দেখি, আবার সেগুলোর সবগুলোকে 'ধর্ষণ' বলা যাবে কিনা, তাই নিয়েও কিছু বিতর্ক আছে। এই বিতর্কের দিকগুলোও পারলে পরে কখনো বোলো একটু। বেশ 'ডমিনেট' করাকেও কি প্রাণিজগতের 'ধর্ষণ'এর মধ্যে ধরা হবে ?
  • sosen | 111.63.239.18 | ২৩ অক্টোবর ২০১২ ১৪:৪০575115
  • নন-রিলিজিয়াস সার্কাম্সিসন বা যৌনাঙ্গচ্ছেদের উদ্ভব
    ______________________________
    সার্কাম্সিসনের ইতিহাস মানুষের সেক্সুয়াল ডমিন্যান্স-এর সঙ্গে সোশ্যাল ডমিন্যান্স একীভূত হয়ে যাওয়ার ইতিহাস। এটাকে একটু ছুঁয়ে যাওয়া দরকার মনে হলো। আফ্রিকা, মিডল ইস্ট, মিশরের লিনিয়েজে নারী ও পুরুষের সার্কাম্সিসন একটি গুরুত্বপূর্ণ রিচুয়াল। জেনিটাল মীউটিলেসন লার্নিং ও কমিউনিকেশনের ফলে মানুষের মধ্যে এসেছে। প্রাণীর মধ্যে এর কাছাকাছি কোনো ব্যবহার(বিহেভিয়ার) নেই। কেনিয়ার একটি উপজাতি বাদে সমস্ত উপজাতি সার্কাম্সিসন প্র্যাকটিস করে, তানজানিয়া, নাম্বিয়া ইত্যাদি বহুবিধ আফ্রিক্যান দেশ সার্কাম্সিসন প্র্যাকটিস করে। কেন সার্কাম্সিসন এর প্রয়োজন পড়ল, এমনকি নিতান্ত শান্তিপ্রিয়, স্থিতিশীল পিতৃতান্ত্রিক সমাজেও?

    এ নিয়ে বহুবিধ বিতর্ক রয়েছে, তার রেলিভ্যান্ট অংশ বলি।

    সেক্স ফর প্লেজার
    ___________________________________________________________________

    রিপ্রোডাকটিভ সাক্সেসের কথা ভেবে কোনো প্রাণী কখনো সঙ্গমে লিপ্ত হয়েছে বলে ভাবা যায় না। প্লেজার এবং রিপ্রোডাকটিভ সাকসেস বেশিরভাগ সময় কাপলড থেকেছে। মানুষের এনাটমি কিন্তু অকস্মাৎ আরো একটা নতুন কনফিউশন যোগ করলো। অর্গ্যাজম এবং নন-রিপ্রোডাকটিভ সেক্স।
    অর্গ্যাজম আদতে কি ? সেক্সুয়াল স্টিমুলেসন এর ( বিভিন্ন রকম) ফলে গড়ে ওঠা শারীরিক টেনশনের রিলিজ। পুরুষ এবং নারী উভয়ের ক্ষেত্রেই পেলভিক মাসলের রিদমিক contraction এবং রিলিজের পরে বহুল পরিমাণে অক্সিটোসিন এবং প্রল্যাকটিনের রিলিজ , ইউফোরিয়া, এবং শরীর ও মনের স্বস্তি।
    পুরুষের অর্গ্যাজম ইরেকশন এবং ইজাকুলেশনের সঙ্গে যুক্ত। পেনিসের অঙ্কদেশে একগুচ্ছ নার্ভ আছে যা ইন্টারকোর্স ছাড়াও সেকন্ডারী সেক্সুয়াল অনুভূতি নিয়ে যায় মস্তিষ্কে। এছাড়া কানের লতি, নিপল, উরুর ভিতরদিক এই সব জায়গায় রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ নার্ভ যারা গিয়ে শেষপর্যন্ত হাইপোথ্যালামাসএ জুড়েছে। এরা প্রত্যেকেই কিছুটা সেক্সুয়াল উত্তেজনা তৈরী করতে পারে। তবে, শেষপর্যন্ত শুরুর থেকেও গুরুত্বপূর্ণ শেষ বিন্দু। অর্গ্যাজমের মূল মস্তিষ্কে। প্যারালাইজড ব্যক্তিদের কোনো স্টিমুলেসন ছাড়াই অর্গ্যাজম এচিভ করতে দেখা গেছে, ঘুমের মধ্যে, বই পড়ে বা ছবি দেখে।
    নারীর অর্গ্যাজম একটু বেশি কমপ্লেক্স। শারীরিক ভাবে, নারীর অর্গ্যাজম ২০ সেকেন্ডের ৫-১০ টি জরায়ুর contraction দিয়ে চিহ্নিত। সেকন্ডারি চিহ্ন যোনিদ্বারের ফুলে ওঠা , স্তনবৃন্ত ইরেক্ট হয়ে ওঠা ইত্যাদি। স্টিমুলাস হতে পারে সাধারণ স্পর্শ থেকে শুরু করে g -স্পট (যোনিপথের ভিতর দিকে যেখানে clitoris এর ভিতরের অংশ এবং স্কিনস গ্ল্যান্ড রয়েছে ) স্টিমুলেসন , clitoral স্টিমুলেসন, স্তনবৃন্ত স্টিমুলেসন। Anal স্টিমুলেসনও অর্গ্যাজম আনতে সক্ষম।
    অর্গ্যাজম একাধারে কোয়ালিটেটিভ ও কোয়ান্টিটেটিভ। সবটাই ডিপেন্ড করছে স্টিমুলাস যেখানে দেওয়া হচ্ছে সেখানকার নার্ভ এন্ডিং এর সংখ্যার উপর। যেমন , clitoris এ , বহু, প্রায় ৮,০০০ নার্ভ এন্ডিং রয়েছে। clitoral স্টিমুলেসন এর ফলে অর্গ্যাজম প্রায় ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে। সেখানে ইন্টার কোর্সের সময় g -স্পট এর স্টিমুলেসন কতটা হচ্ছে তার উপর নারীর অর্গ্যাজম ডিপেন্ড করে এবং অনেক ক্ষেত্রেই আদৌ অর্গ্যাজম হয়না।
    চার রকম মূল নার্ভের কাজ যৌন উত্তেজনা বহন করা-হাইপোগ্যাসট্রিক, পেলভিক, পুডেনডাল এবং ভেগাস। এর মধ্যে ভেগাস নার্ভ স্পাইনাল কর্ড দিয়ে মস্তিষ্কে যায় না, -যা এক্সপ্লেন করে স্পাইনাল কর্ডে আঘাতের ফলে প্যারালাইজড মানুষের ও কিভাবে অর্গ্যাজম হয়। নিপল, এবং অন্যান্য ইরজেনাস অঙ্গ থেকে সংকেত এসে এই নার্ভ গুলিতে জয়েন করে এবং আলটিমেটলি ব্রেনে পৌঁছয়।

    ফিমেল অর্গ্যাজম কি রিপ্রোডাকটিভ সেক্সের জন্য বিপদসংকেত?
    __________________________________________________________________________

    অর্গ্যাজম পুরুষ ও নারীর মস্তিষ্কে কতকগুলি অনুভূতিকে শাট ডাউন করে বিশেষত ভয়, সাপ্রেশন, দুশ্চিন্তা। সেকেন্ডারী স্টিমুলেসন নারীকে বেশি ভালো অর্গ্যাজম দিতে পারে, ইন্টারকোর্সের থেকে। সমস্ত সোসাইটি ই যখন ধীরে ধীরে পিতৃতান্ত্রিক হয়ে আসছে , তখন নারীর সেক্সের পার্টনারের চয়েস কমে এলো। সেইসঙ্গে, নারীর সেক্স ফর প্লেজারের প্রয়োজন কমে সেক্স ফর রিপ্রোডাকসনে যোগদানের প্রয়োজন বেড়ে উঠলো। স্বভাবতই, প্রয়োজনীয় পরিমাণে বা কোয়ালিটিতে সেক্স ফর প্লেজার না পাওয়ায় নারী আত্মরতি বা সমকামিতার প্র্যাকটিস আগের চেয়ে বাড়িয়ে দিল। এতে সব সময় তাকে পুরুষের উপর নির্ভরশীল থাকার দরকার হচ্ছেনা। একটা নিতান্ত চুপচাপ কিন্তু অত্যন্ত মিনিংফুল বিদ্রোহ।
    সমাজ এই প্র্যাকটিস খুশি মনে মেনে নিলোনা। পুরুষের কাছে নারী এই মুহূর্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ টুল, যার বিহেভিয়ারকে সে সম্পূর্ণ কন্ট্রোল করতে চায়। নন-রিপ্রোডাকটিভ সেক্সুয়াল প্র্যাকটিস কে সোজাসুজি রিপ্রোডাকসন কমে যাওয়ার কারণ ও সে ভেবে নিতে পারে। এই কন্ট্রোলের স্বার্থে এবং মনোগ্যামির স্বার্থে এলো ফিমেল সার্কাম্সিসন, এরকম মনে করা হয়।

    নিচের ছবিতে দেখুন আফ্রিকার কোন কোন জায়গায় ফিমেল সার্কাম্সিসন প্র্যাকটিস হয়।



    ফিমেল সার্কাম্সিসন এক এক উপজাতির মধ্যে এক এক রকম, কোথাও শুধুমাত্র clitoris রিমুভ করা হয়, কোথাও তারপর যৌনদ্বারের উপরের লিবিয়া মেজর ও মাইনর ও রিমুভ করা হয় এবং তারপর বিভিন্ন ওষুধ ও পুল্টিশ প্রয়োগ করে মেয়েটির কোমর থেকে গোড়ালি পর্যন্ত এক দেড় মাসের জন্য একসাথে ব্যান্ডেজ করে রাখা হয়, যাতে যৌনপথ সম্পূর্ণ জুড়ে যায়। রক্ত ও মূত্রত্যাগের জন্য কাঠের টুকরো বা অন্য কোনো অবস্ট্রাকসন দিয়ে দুটি ছিদ্র রাখা হয়।



    প্রচুর রক্তক্ষয় ও যন্ত্রণা দায়ক এই পদ্ধতি রিচুয়াল হিসেবে পালন করা হয় মেয়েদের ৪ থেকে ১২ বছর বয়সের মধ্যে। যাতে clitoris দ্রুত বড় হয় ও রিমুভ করতে সুবিধা হয়, সেজন্য কোনো কোনো উপজাতিতে শিশু মেয়েদের clitoral stimulation ও একটি রিচুয়াল। এই পদ্ধতির হাইজিন নিয়ে বিতর্ক সবাই জানেন , সে বিষয়ে আর যাচ্ছিনা। উপরের ছবিতে দেখুন কি কি রকম ফিমেল সার্কাম্সিসন হয়ে থাকে। সন্তানজন্ম ও সঙ্গমের সময় আঘাত ও রক্তক্ষরণ প্রচুর মেয়ের মৃত্যুর কারণ, তা ছাড়া বিভিন্ন ইনফেকশন তো আছেই।



    এই পদ্ধতি স্বল্পস্থায়ী পানিশমেন্ট হিসাবে শুরু হয়েছিল, না দীর্ঘমেয়াদী প্ল্যান হিসেবে তা জানা নেই। কিন্তু প্রাথমিক ভাবে ১। লুটেরা অন্য উপজাতিদের কাছ থেকে নিজেদের মেয়েদের আলাদা করতে, ২। রিপ্রোডাকটিভ সেক্সুয়াল প্র্যাকটিস কে একমাত্র প্র্যাকটিস হিসাবে রাখতে এই স্ট্র্যাটেজি ভালো কাজ করেছিল। আশ্চর্যজনকভাবে যে সব নারীরা এই পদ্ধতির মধ্য দিয়ে গেছে তারা পরবর্তীকালে এই পদ্ধতিকে সাপোর্ট করে। এর কারণ কি হতে পারে? বয়স্ক নারীরা কি শিশুদের উপর ভায়োলেন্সের এই ফর্মকে এনজয় করত? হয়ত। সোশ্যাল কন্ফর্মিটি একটি কারণ তো অবশ্যই।
  • kiki | 69.93.244.237 | ২৪ অক্টোবর ২০১২ ১৭:২৩575116
  • উঃ !!!
  • de | 69.185.236.53 | ২৫ অক্টোবর ২০১২ ১২:১৪575117
  • কত কি-ই যে জানতে পারছি এই টইটা পড়ে ---

    খুব ভালো লেখা হচ্ছে সোসেন -- এই বিষয়ে এমন লেখা আমি আগে কখনো পড়িনি --

    এইটা চটি হয়ে বেরোলে একটা সংগ্রহে রাখার মতো কালেকশন হবে --
  • h | 213.99.212.53 | ২৫ অক্টোবর ২০১২ ১২:৩৪574902
  • সোসেন, সময় দেওয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ। মানে কোন ধন্যবাদ ই যথেষ্ট না। তবু কৃতজ্ঞতা জানালাম।

    আমার কতগুলো বিষয়ে খটকা লাগছে, সেটায় পরে আসবো। তবে আপাতোতো মাস্টারবেশন এবং লেসবিয়ানিজম বেড়ে যাওয়ার 'ফলে' , ফিমেল সারকামসিশন আসছে এই কজালিটি টা কতদূর এস্টাবলিশ্ড? আমার তো মনে হয়, এমনিতেও আসতে পারে, স্রেফ পুরুষের ডমিনেশন এর বাড়ার কারণে, এবং সেটা কমন্স এর উপরে পুরুষ আধিপত্য বাড়ার কারণেও হতে পারে, মানে ইভোলিউশন এর যে দীর্ঘ ছড়িয়ে থাকা অ্যান্থ্রোপোলোজিকাল এভিডেন্স, অত বড় টাইম স্কেলে কি আদৌ এক্জ্যাক্ট সায়েন্সের মত সম্পূর্ণ ভাবে, প্রতিটি বাঁকে, কজালিটি দিয়ে বাঁধা সম্ভব? এটা অ্যানালিসিস এর দুর্বলতা হয়ে উঠতে পারে কিনা।
  • h | 213.99.212.53 | ২৫ অক্টোবর ২০১২ ১২:৩৫574903
  • শেয়ার্ড প্রপার্টি অর্থে কমন্স। ধর একটা পুকুর, সবাই মাছ ধরলো, কিন্তু একটা অলিখিত কোটা ঠিক করে দিলেন পুরুষেরা।
  • h | 213.99.212.53 | ২৫ অক্টোবর ২০১২ ১২:৫৪574905
  • *domination
  • h | 213.99.212.53 | ২৫ অক্টোবর ২০১২ ১২:৫৪574904
  • উল্টো দিক থেকে ধরলে, ফিমেল সারকামসিশন কে আমার , জাস্ট অ্যাজ অ্যান আউটসাইডার টু দ্য ডিসিপ্লিন , মনে হচ্ছে, এভাবে দেখা যেতে পারে, যে,

    this, the practice of female circumcision, probably was a point in evolution, where progeny i.e. continuity of generations does not remain the sole motivation for sexual behaviour or at least practices in a community, male dominations nudges in.

    কোন স্টাডি পেলে একটু উল্লেখ কোরো তো। যদি একেবারে ট্যান না খাই, একটু দাঁত ফোটানোর চেষ্টা করব। আসলে, যে কোন রাজনীতি করা এবং প্রথম লাইফ সাইন্স পড়া ছাত্র হিসেবে আমি ইলেভেন টুএল্ভে, অ্যান্থ্রোপোলোজি ও ইভোলিউশনারি বায়োলোজি তে ইন্টারেস্ট পেয়েছিলাম, কিন্তু অন্য সব কিসুর মতই এই লাইনেও পড়াটা আর হয় নি।
  • sosen | 125.240.98.22 | ২৫ অক্টোবর ২০১২ ২১:৪০574906
  • হানুদা,
    কজালিটি টা এস্টাবলিশড নয়, কিন্তু বিতর্কের একটা নতুন ধারা । আমি যে তথ্যগুলো দিয়েছি সেখানে দেখুন ফিমেল সার্কাম্শিসন মানে সেকেন্ডারি সেক্স অর্গ্যানের abolition । এই পয়েন্টটা সমাজবিজ্ঞানে এতদিন অবহেলিত ছিল। স্তনবৃন্ত, একটি সেকেন্ডারি সেক্স অর্গ্যান, কিন্তু মাতৃত্বে জরুরি । ফিমেল সার্কাম্শিসন কোনভাবে মাতৃত্বর উপর সরাসরি আঘাত করছে না। শুধুমাত্র খুব সিলেক্টিভলি, নিজে নিজে , বা সমধর্মী কারুর কাছ থেকে যে যৌন আনন্দ পাওয়া যেতে পারে তার রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করছে । সেই সঙ্গে, যৌনতার সঙ্গে আঘাত, ভয় এবং সাব্মিসিভ্নেস এর বীজ বুনে দিচ্ছে শিশুদের মনে, যার ফলে , সেক্স এর ইনিশিয়েটর হিসাবে মেয়েদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। যে সব দেশ গুলিতে সার্কাম্শিসন এর প্র্যাকটিস হয়ে থাকে, সেখানে মেয়েরা যৌনতাকে প্রায় পুজো কিংবা রিচুয়াল হিসাবে কনসিডার করে। এদের অর্গ্যাজম এর ধরন ও বদলে যায়, স্তনকে এরা সাধারণত clitoris এর থেকে বেশি সেনসিটিভ বলে রিপোর্ট করে, which is in contrary to general perception and biological facts।

    এখন কজালিটি হিসেবে আপনি যেটা মনে করলেন , সেটা তো অবশ্যই সত্যি। অ-প্রজননশীল সেক্সকে পুরুষতান্ত্রিক সমাজ উত্সাহ দিতে চাইছে না। নারী শেয়ার্ড প্রপার্টির অংশ, দামী, কারণ সন্তানধারণ করবে, কৌমের জনসংখ্যা বাড়াবে। সেই পয়েন্টে এসেই ফিমেল সার্কাম্শিসন এর উদ্ভব। এটা সমাজতত্ত্বের দিক দিয়ে শেষ ব্যাখ্যা।
    কিন্তু এর পরেও আমি বায়োলজির দিক থেকে প্রশ্ন করব, ফিমেল সার্কাম্শিসন করতে গিয়ে পুরুষ কেন ওই পার্টিকুলার অপারেশন গুলো বেছে নিল-যাতে করে নারীর আত্মরতির ক্ষমতা নিতান্ত কমে আসে? মেরে ফেলা , মারধর, ধর্ষণ কেন যথেষ্ট হলনা। তার মানে কি এই নয়, তখনকার পুরুষ নারীর এই বিশেষ অর্গ্যাজমের ধরনকে এবং সেলফ প্লেজার মেকানিজমকে অবজার্ভ করেছে, এবং সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে কোন কোন বিহেভিয়ারকে এলিমিনেট করা প্রয়োজন, এবং তারজন্য কোন অঙ্গকে?
    প্রকৃতি এমন কোনো adaptation মনুষ্যসমাজকে দেয়নি , যাতে কিনা অ-প্রজননশীল সেক্স এক্কেবারে উবে যায়। কিন্তু মানুষের প্রাথমিক adaptation হলো অবজারভেশন এন্ড লার্নিং। আমার মতে, এই অবজারভেশন এন্ড লার্নিং এর মাধ্যমে মানুষ প্রকৃতির কিছু দায়ভার হাতে তুলে নিয়েছে। এটা হলো বিহেভিয়ারাল ইভোলিউশন, যেটা একটাই স্পেসিসের মধ্যে হচ্ছে, এবং মানুষের শারীরিক ইভোলিউশন তো হচ্ছেনা। যেটা হচ্ছে সেটা হচ্ছে ইভোলিউশন অফ লার্নিং এন্ড বিহেভিয়ার। যার ফলে সে কিছু বিহেভিয়ার শুরু করছে, ট্রায়াল এন্ড এরর করে দেখছে সুবিধে হয় কিনা না হলে ফেলে দিচ্ছে। কিন্তু কিছু কিছু প্রাচীন এন্ডেমিক উপজাতির মধ্যে রেসিডুয়াল বিহেভিয়ারটি রিচুয়াল এর রূপে রয়ে যাচ্ছে। বিহেভিয়ারের মিসিং লিংক বলতে পারেন। সোশিও বায়োলজিতে আমরা সেটাই স্টাডি করার চেষ্টা করি। এই ক্ষুদ্র টাইম স্কেলেও বিবর্তন সম্ভব, বাই কনটিন্যুয়াস সিলেকশন অফ আ ট্রেট বাই ব্রিডিং ।

    আমি দু একটা পেপারের এবং পপুলার আর্টিকেল এর লিংক দিলাম, এখন ফুল এক্সেস পাচ্ছিনা। শেষে অতি অবশ্যই আমি সব পেপারের রেফারেন্স ,আর রিডিং মেটেরিয়াল দেব। তবে আত্মরতির সঙ্গে কানেক্সন টা স্বীকৃত ।

    http://www.straightdope.com/columns/read/464/whats-the-story-with-female-circumcision
    http://www.mtholyoke.edu/~zaryc20m/west.htm
    http://onlinelibrary.wiley.com/doi/10.1111/j.1743-6109.2007.00620.x/abstract

    এখানে এক আম্রিগান মাতার ইলেক্টিভ ফিমেল সার্কাম্শিসনের পক্ষে যুক্তি পড়ুন।

    http://www.ratbags.com/rsoles/comment/jacket/beatrice000716.htm

    স্ট্যাটিসটিক্স এর পেপারগুলো আমি আপনাকে পরে দিচ্ছি।

    এই আর্টিকেল টায় আমি এস্টাবলিশড তথ্যের বাইরেও কিছু বলব বা বলার চেষ্টা করছি, যেগুলো পেইন্ফুলি unaddressed ইন সোশিও। আমি ফিজিবল তত্ত্বগুলোর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা এবং প্রমাণ প্রেজেন্ট করার চেষ্টায় আছি। আর কয়েকটা থিওরি তৈরিও করছি। মানে সব ই অন্যের কথা নয় আরকি।
  • aranya | 78.38.243.161 | ২৬ অক্টোবর ২০১২ ০৫:৩৩574907
  • ফাটাফাটি হচ্ছে, সোসেন-কে আবারও কুর্ণিশ।
    সোশ্যাল ইমপ্যাক্ট -টা ভুল বলেছিলাম। মানুষ এমন কিছু কাজ করে যেগুলো ঠিক বিবর্তন বা বায়োলজি দিয়ে ব্যাখা করা যায় না, সেগুলোর কথা ভাবছিলাম। যেমন, বুড়ো বাবা-মার দেখভাল করা, আদর্শের জন্য আত্মত্যাগ, নিজেকে ছাড়াও অন্য মানুষকে বা অন্য প্রাণী, জীবজগৎ-কে ভালবাসা - এই টাইপের আচরণগুলো। তবে এগুলো হয়ত এই লেখার স্কোপের মধ্যে পড়ছে না।
  • sosen | 125.184.81.119 | ২৬ অক্টোবর ২০১২ ০৯:০১574908
  • Altruism । সেটা আরেকটা জটিল সাবজেক্ট। না, এই লেখার মধ্যে আনা যাবে না। পরে লোকজন চাইলে লেখার চেষ্টা করব।
  • sinfaut | 131.241.218.132 | ২৬ অক্টোবর ২০১২ ১০:৪৫574909
  • খুব খুবই ভালো হচ্ছে। লোকজন ১০০ বার চাইছে এসব নিয়েই আপনি লিখতে থাকুন, লেখা ছেড়ে দেবেন না কাইন্ডলি।
  • অবাস্তব | 71.95.189.220 | ২৬ অক্টোবর ২০১২ ১১:৩৬574910
  • ভাল লাগছে এবং মন দিয়ে পড়ছি। কিন্তু একটা প্রশ্ন না করে পারছি না। মানুষের ক্ষেত্রে কি এটা মূলত হতাশার বহিঃপ্রকাশ নয় ?
  • sosen | 125.184.81.119 | ২৬ অক্টোবর ২০১২ ১১:৪৪574911
  • হতাশা কেন? একটু বলুন!
  • sosen | 125.184.81.119 | ২৬ অক্টোবর ২০১২ ১১:৫৩574913
  • ও অরণ্যদাকে আর একটা কথা, জীববিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে আমার ধারণা এই সব বিহেভিয়ার গুলোই বিজ্ঞান এবং বিবর্তনের আলোয় ব্যাখ্যা করা সম্ভব। আর তার কিছুটা করাও হচ্ছে, কিছুটা অজ্ঞাত থাকলেও চেষ্টা চালানো তো হচ্ছেই জানার জন্য। আপনি যে ধর্মগুলোর কথা লিখেছেন ওগুলো ব্যাখ্যাযোগ্য। অবশ্যই।
  • | 24.99.249.119 | ২৬ অক্টোবর ২০১২ ১২:৪৬574914
  • এই লিঙ্কটা ফেবুর 'মেয়ে' গ্রুপে শেয়ার করতে পারি কি?
  • sosen | 125.184.81.119 | ২৬ অক্টোবর ২০১২ ১২:৪৯574915
  • দমুদি, গুরুর কোনো রেগুলেশন না থাকলে আমার কোনো আপত্তি নেই।
    ইপ্সিতা, মামু, জানিও।
  • tatin | 127.194.205.132 | ২৬ অক্টোবর ২০১২ ২২:৩৫574916
  • যে কোনও গ্রুপে শেয়ার করা যেতে পারে।
  • sosen | 125.241.11.127 | ২৬ অক্টোবর ২০১২ ২২:৫৬574917
  • মেল সার্কাম্সিসনের কথাও বলতে হয়। কিন্তু তার আগে একটা কনসেপ্ট এর কথা বলি। এটা হয়ত অনেকেই জানেন, কিন্তু একটু একটু কনফিউশন আছে, সেটা ক্লিয়ার করে দিলে আমার পরবর্তী আলোচনাগুলোর সুবিধে হবে।

    মানুষের মধ্যে বিবর্তনের সময়কালটুকু আদতেই খুব ছোট। সেই তুলনায় সামাজিক প্রাণী হিসাবে মানুষের বিবর্তন খুব দ্রুত। এই বিবর্তনের শারীরিক কম্পোনেন্টগুলো বেশিরভাগই মস্তিষ্কের গঠনগত বিবর্তন। শারীরিক গঠনের আর বিশেষ কোনো বিবর্তন আমরা দেখতে পাইনি।
    অথচ সমাজের একক হিসেবে প্রতিনিয়ত মানুষের বিবর্তন আমরা চোখের সামনে দেখতে পাই। এক একটা রিলিজিয়াস প্র্যাকটিস গড়ে ওঠা, সোশিও-ইকনমিক বিহেভিয়ারাল প্যাটার্ন গড়ে ওঠা, জেনারেশন থেকে জেনারেশনে একটা ব্যবহার রিচুয়াল হিসাবে বয়ে চলা। ঠিক যেমন বাবা মায়ের থেকে সন্তান পায় তার জিনগত বৈশিষ্ট্য এবং পরবর্তী প্রজন্মে ছড়িয়ে দেয়।
    জিনগত বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সমস্ত বিহেভিয়ারাল প্র্যাকটিস সরাসরি তুলনীয় নয়। কালো চোখ আমার সন্তানের মধ্যে সহজেই সঞ্চারিত করতে পারি, কিন্তু বিহেভিয়ার সঞ্চারিত করতে পারি না। তার জন্য সমাজের সাহায্য দরকার, যে বিহেভিয়ারগুলোকে রিচুয়াল-এ পর্যবসিত করবে এবং প্রতি প্রজন্মকে তা মানতে বাধ্য করবে। জোর করেও বাধ্য করতে পারে, আবার মেজরিটির সাথে কনফর্ম করার জন্য মানুষ নিজে থেকেও ব্যবহারগত বৈশিষ্ট্যকে অনুকরণ করতে পারে।

    বংশগত বৈশিষ্ট্যের একটা কোয়ান্টিফায়েবল ইউনিট আছে-জিন। এটা আমরা আজ জেনেছি।

    যেসব বিহেভিয়ারাল বৈশিষ্ট্য জিনের মাধ্যমে প্রবাহিত হয়না, কিন্তু রিচুয়াল এবং কালচারাল হেরিটেজ হিসাবে প্রবাহিত হয় , তারা বহুলাংশে জিন কে অনুকরণ করে।
    কালচারাল বৈশিষ্ট্যের ইউনিট কে একটা নাম দেওয়া হয়েছে, Meme । দ্য সেলফিশ জিন এ রিচার্ড ডকিন্স এই নামটি কয়েন করেন, এবং তদবধি এই কয়েনেজটি প্রচলিত।
    একসাথে অনেকগুলো রিলেটেড ব্যবহার যদি প্রবাহিত হয়, তা হলে তাদের আমরা বলব-memeplex ।
    memeplex এর উদাহরণ-
    বিভিন্ন প্রদেশের ভাষা, অক্ষর, লিখিত ও মৌখিক
    গানের বা বাজনার টিউন ও ঘরানা
    প্রচলিত বিশ্বাস, মিথ, রিচুয়াল্স, কাস্টমস, যুদ্ধের অঙ্গ
    ধর্ম

    মেমেপ্লেক্স এর জেনেটিক মূল হলো মিমিক্রি বা অনুকরণ। লার্নিং এন্ড মিমিক্রি প্রাণীকুলে প্রায়শই দেখা যায়। মনুষ্যসমাজে এই শিক্ষা এবং অনুকরণ একটি জটিল রূপ ধারণ করেছে। অনুকরণের মাধ্যমে কালচারাল রিচুয়াল্স এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে যাচ্ছে , ঠিক জিনের প্রবাহের মতই। তাই, কালচারাল বিবর্তনের ধারাকে সোজা করে ভাববার জন্য একটা কনসেপ্ট এর দরকার ছিল, যেটা meme । meme কালচারালি সিলেক্টেড হতে পারে, ঠিক জিনগত বৈশিষ্ট্যের মত। meme প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে যেতে পারে, অথবা একই প্রজন্মের মানুষের মধ্যেও সঞ্চারিত হতে পারে। কিন্তু meme কে কোয়ান্টিফাই করা সম্ভবপর নয়।

    কালচারাল বিবর্তনের আলোচনায় meme একটি জরুরি কম্পোনেন্ট।
  • Ishan | 60.82.180.165 | ২৭ অক্টোবর ২০১২ ০৭:১৫574918
  • এই সেরেছে, এখানে আমার জানানোর কি আছে? তোমাকেই জিগিয়েছে।

    আমার জানানোর একটাই জিনিস আছে। তাড়াতাড়ি শেষ করো, অনেক তক্কাতক্কি বাকি আছে। :)
  • aka | 85.76.118.96 | ২৭ অক্টোবর ২০১২ ০৭:৩৩574919
  • দ্যাখো সোসেন আমার হাইপোথিসিসের কথাই বলে দিল।

    মানুষের শরীর মানুষের মাথার সাথে পাল্লা দিতে পারে নি। এদিকে গাড়ি আবিষ্কার করে বসে আছে, ওদিকে খাটাখাটনি না করলে মেটাবলিজম এখনও ঘেঁটে যায়। এদিকে সারাদিন নরম চেয়ারে বসে কাজ করে ওদিকে এমন খাবারই ভালো লাগে যা ইনস্ট্যান্ট এনার্জি দেয়, বা প্রচূর ক্যালোরি। আর কয়েকশ বা কয়েক হাজার বছর বাদেই বোধহয় এটা ম্যাচ করে যাবে। তখন হয়ত সারাদিনে দুই খানা লেটুসের পাতা খেলেই মানুষের হয়ে যাবে, বা শুধুই মাথার কাজ করতেই এত ক্যালোরি খরচ হবে যে হাঁড়ি হাঁড়ি ভাত খেলেও নো চর্বি।
  • sosen | 125.184.101.198 | ২৭ অক্টোবর ২০১২ ০৭:৩৯574920
  • আকা সেই বিশেষ দিনের অপেক্ষায়- যখন যা খুশি খাও, নো চর্বি। :)
  • tatin | 127.194.194.44 | ২৭ অক্টোবর ২০১২ ০৮:০২574921
  • শঙ্কুর একটা গল্পে এরকম ছিল না? বিবর্তনের শেষ ধাপে একটা মাথা সর্বস্ব জন্তু পড়ে আছে, বিলীয়মনা হাত-পা শরীর নিয়ে। প্রজননটাও যন্ত্র করে দিচ্ছে বলে যৌনতার দরকার নেই।
  • aranya | 154.160.226.53 | ২৭ অক্টোবর ২০১২ ০৮:০৫574922
  • হ্যাঁ, ঐ গপ্পোটা পড়ে কিঞ্চিৎ আতঙ্ক ও দুঃখ হয়েছিল।
  • aranya | 154.160.226.53 | ২৭ অক্টোবর ২০১২ ০৮:০৬574924
  • তবে প্রজনন, যৌনতা ইঃ ছিল না, ছোটদের জন্য লেখা তো।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। না ঘাবড়ে মতামত দিন