এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  অন্যান্য

  • স্বামী বিবেকানন্দ ই: নির্মোহ (তিন)

    Samik
    অন্যান্য | ৩১ জানুয়ারি ২০১২ | ৬৪৯১৬ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • /\ | ১৭ জুলাই ২০১৩ ১৪:১৭513308
  • ব্যক্তিগত খোঁচাটুকুই তো নুন। তা বাদে বিরস আলুচোনা পোষাবে?
  • dukhe | ১৭ জুলাই ২০১৩ ১৪:২৪513309
  • ব্যক্তিগত খোঁচা কি সেরেফ বিবুদারই খাদ্য? তবে ভদ্রলোক যে কেমন ক্রাউডপুলার ছিলেন, ১৫০ বছর পরের টইয়েও মালুম দেয়।

    ফাইনালি কী দাঁড়াল? সন্দেশের বিপরীত শব্দ মণ্ডা নয় - এই সিদ্ধান্তসহ সভাভঙ্গ হবে?
  • দীপ | ১৭ জুলাই ২০১৩ ১৪:২৬513310
  • দুখেবাবুকে প্রথম থেকেই দেখেছি ফিল্টার করে করে পড়েন - "ব্রহ্মচারিণীরা মেয়েদের মধ্যে শিক্ষাবিস্তার করবে" এটা দেখতে পেলেন, আর "কালে যাতে তারা ভাল গিন্নি তৈরী হয়, তাই করতে হবে" এটা চোখে পড়ল না, যেমন "এরটিক ভেনম"-টা এখনও চোখে পড়েনি :) একটু মন খুলে পড়ুন স্যার।

    "তবে সব তো আর অনলাইন খুঁজে পাব না। সত্যিই লাগলে বলবেন, অকারণে খাটাবেন না" - সব অনলাইন পাবার কোনও দাবী নেই। সত্যিই লাগবে। বিবুদা-দাড়িবাবার সম্পর্কে একে অন্যকে পিঠ চাপড়াচ্ছেন এরকম উদাহরণ পেলে সত্যিই একটু কাল্টিভেট করে দেখতে চাই। যদি বলেন নিবেদিতার ডায়রি তবে তাই সই - খুঁজে নেব। T'র মতো 'সব বই' 'পড়ে টড়ে' দেখার পরামর্শ না দিলেই হল।
  • দীপ | ১৭ জুলাই ২০১৩ ১৫:০৫513311
  • শিষ্য। মেয়েদের এখন কিরূপ শিক্ষার প্রয়োজন?
    স্বামীজী। ধর্ম, শিল্প, বিজ্ঞান, ঘরকন্না, রন্ধন, সেলাই, শরীরপালন—এ-সব বিষয়ের স্থূল মর্মগুলিই মেয়েদের শেখানো উচিত। নভেল-নাটক ছুঁতে দেওয়া উচিত নয়।
    ----------------------

    একটু আগেই লিখেছি, আবার লিখলাম। এটাও হয়ত চোখ এড়িয়ে গ্যাছে।
  • T | ১৭ জুলাই ২০১৩ ১৫:১০513312
  • @/\
    না না, দেখেছি তো। মুক্তমনাতে রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে দিব্যি জমেছিল। একেবারে পারসী থিয়েটার। রিপিং। আমাদের বিপদা কী লড়াইটাই না লড়লেন। রবীন্দ্রনাথ প্রমথনাথের পান্ডুলিপি ঝেঁপেছেন ইত্যাদি নিয়ে জোর গা গরম চলছিল। দেখে শুনে সিরিয়াসলি অ্যাসটেরিক্স ও গথ দস্যু মনে পড়ছিল।
  • dukhe | ১৭ জুলাই ২০১৩ ১৫:১২513313
  • কিসুই ফিল্টার করি নাই দাদা। আপনি ফিল্টার ক'রে কনক্লুশন টানলেন সেটাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখালাম মাত্র।
    এরটিক ভেনম পড়েছি তো। প্রথমবার পড়লাম তাও না।
  • dukhe | ১৭ জুলাই ২০১৩ ১৫:২০513314
  • "নেগেটিভিটির চর্চা আমাদের চালু প্র্যাক্টিস - তা সে বিবুদাও একটু আধটু করে ফেলেছেন।

    বিদ্যাদার একটা উদাহরন আগের পাতায় দিয়েছি" -এটাও পড়েছি।

    - কোনটা নেগেটিভিটির চর্চা? বাচ্চাদের জন্য "ঈশ্বর নিরাকার চৈতন্যস্বরূপ" চলবে না বলা? বিকল্প বইয়ের প্রস্তাব দেওয়া?

    - এই প্রশ্নগুলো হয়তো ফিল্টার হয়ে গেছে।
  • dukhe | ১৭ জুলাই ২০১৩ ১৫:২৪513315
  • ""একজন নিরাকার ঈশ্বর ও পাশ্চাত্য শিক্ষার উপর আস্থা রাখছেন, আর তাঁর সমসাময়িক আরেকজন পৌরাণিক ধর্ম ও বিশুদ্ধ ভারতীয়তায় - ঐ সময়ের এই টাগ-অফ-ওয়ার'টা দেখানোর জন্যেই এটা লিখলাম, বিবেকানন্দের নিজের জবানিতে।"
    - নিরাকার ঈশ্বর না সুবোধ গোপাল - কোনটা পাশ্চাত্য শিক্ষার অবদান ?
  • T | ১৭ জুলাই ২০১৩ ১৫:২৬513316
  • দীপ স্যার, আপনি কাকে ধরবেন বলুন তো, এই দেখুন না রবীন্দ্রনাথও (দাড়িবাবা) বলেছেন নাটক নভেল পড়ে বাঙালী গোল্লায় গেছে, এখন বিজ্ঞান পড়া দরকার। আচ্ছা বেশ আপনার মতো কোট করি না হয়,

    প্রমথনাথ সেনগুপ্ত তাঁর আনন্দরূপমে লিখেছেন, রবীন্দ্রনাথ বলেন- "গল্প এবং কবিতা বাংলাভাষাকে অবলম্বন করে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে, তাতে অশিক্ষিত ও অল্পশিক্ষিত মনে মননশক্তির দুর্বলতা এবং চারিত্রিক শৈথিল্য ঘটবার আশঙ্কা প্রবল হয়ে উঠেছে। এর প্রতিকারের জন্য সর্বাঙ্গীন শিক্ষা অচিরাৎ আবশ্যক। বুদ্ধিকে মোহমুক্ত ও সতর্ক করবার জন্য প্রধান প্রয়োজন বিজ্ঞানচর্চার। লোকশিক্ষা গ্রন্থ প্রকাশে তার প্রতি বিশেষ দৃষ্টি রাখতে হবে।"

    কেমন চিন্তাধারায় মিল দেখুন। একে অন্যের পিঠ চাপড়াবে এতে আর অবাক কি?
  • /\ | ১৭ জুলাই ২০১৩ ১৫:৩৭513318
  • পৌরাণিক ধর্ম আর নিরাকার ঈশ্বরের কথা যে পরস্পরের বিরোধী, যাকে বলে বিপ্রতীপে দাঁড়িয়ে সেটাও তো শেখার। এরপর বিবেকানন্দ কখনো পৌরাণিক ধর্মের কথা বলেছেন আবার কখনো নিরাকার ঈশ্বরের কথা, অর্থাৎ স্ববিরোধীতা করেছেন সেটাও শোনা যেতে পারে। কোনটা কিসের বিরোধী সেটা মুক্তমনা "তরুন তুর্কী"রা একটু ভালো করে বুঝে নিলে সুবিধে হয়।
  • দীপ | ১৭ জুলাই ২০১৩ ১৬:০৪513319
  • বাচ্চাদের জন্য "ঈশ্বর নিরাকার চৈতন্যস্বরূপ" চলবে না বলা নেগেটিভিটির চর্চা হতেই পারে। আজকের দিনে ফ্রী থিঙ্কিং এর যুগে এই ধরণের মাথা মোড়ানোর চেষ্টাকে নেগেটিভ হিসাবেই ধরা হয়। অবশ্য একইসাথে পৌরাণিক গল্প পড়িয়ে রাম-সীতা চরিত্রের মানুষ তৈরি করার ইচ্ছাটাও ঐ ক্যাটেগরিতেই পড়ে।

    আপাতদৃষ্টিতে নিরাকার ঈশ্বর বা সুবোধ গোপাল - এদের মধ্যে পাশ্চাত্যের কিছু চোখে পড়ে না। নিরাকার ঈশ্বর হিন্দুদের দর্শণেও আছেন। কিন্তু বিদ্যাদা বেদান্ত আর সাংখ্য - দুটোকেই ভ্রান্ত বলে বাতিল করেছিলেন - তাই আমার এটাকে বিদ্যাদার উপর পাশ্চাত্যশিক্ষার প্রভাব বলেই মনে হয়েছে। সুবোধ গোপালও পৌরাণিক চরিত্র থেকে সরে এসে অন্যরকম শিক্ষাপ্রসারের চেষ্টা। যদি ভুল ভেবে থাকি চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেবেন।

    "একটি কাষ্ঠখণ্ডকে উহার আঁশের অনুকূলেই যেমন সহজে চিরিয়া ফেলা যায়, তেমনি হিন্দুধর্মের দ্বারাই প্রাচীন হিন্দুধর্মের সংস্কার করিতে হইবে, নব্য সংস্কার-আন্দোলন দ্বারা নহে"। বিবুদা পাশ্চাত্যের দর্শণ ও বিজ্ঞান শিক্ষা গ্রহণ করতে চাইলেও চরিত্রগঠণে সনাতন ভারতীয়ত্ব থেকে বিচ্যুত হতে চান নি।
  • /\ | ১৭ জুলাই ২০১৩ ১৬:৩৭513320
  • ‘ঈশ্বর নিরাকার চৈতন্যস্বরূপ’, 'গোপাল অতি সুবোধ বালক' এই সমস্ত সংস্কৃতঘেঁষা আপ্তবাক্য ছোটোদের দিয়ে মুখস্ত করিয়ে তোতাপড়ানোর নাম পাশ্চাত্য শিক্ষায় আস্থা রাখা। আর ছোট ছোট গল্প নিয়ে ""অতি সোজা ভাষায়"" ছোটোদের জন্য বই বানিয়ে সেগুলো পড়ানোর নাম মাথা মোড়ানো। কারণ গল্পগুলো রামায়ণ, মহাভারত, উপনিষদ থেকে নিতে বলা হচ্ছে, কালিদাস থেকে নয়? বাংলা ভাষার আধুনিক ব্যবহারের দিক থেকে নরেন দত্ত "সমসাময়িক" ঈশ্বরচন্দ্রের থেকে কয়েক যোজন এগিয়ে থাকবেন,যদি একান্ত তুলনা করতেই চান। এদিকটা নোট করে রাখবেন, বিদ্যাসাগরের নির্মোহ ব -এর সময় চালিয়ে দেবেন।
  • abc | ১৭ জুলাই ২০১৩ ১৬:৫৮513321
  • কিন্তু বিদ্যাদা ও তো হিন্দু ধর্ম কে অস্বীকার করেন নি, পৈতে পরা বামুন হিসেবেই থেকে গেলেন। সংস্কৃত চর্চা করা, বাংলার ভাষার কাঠামো কে সংস্কৃত ভাষার ব্যাকরণ ফলো করে রচনা করাটাকে না হয় সনাতন ভারতীয়ত্ব নাই বা ধরলাম। নরেন দত্ত ছোটবেলা তেই হুঁকো টেনে বসে আসেন জাত যায় কিনা দেখতে। সেভাবে দেখলে তো সবার ই খুঁত বের করা যায়। এবার ত্রুটি, স্ববিরোধ সত্বেও লোকে কয়েক বছরে কি কি কাজ করেছে সেটা নিয়েও দু পয়সা হলে হত না?
  • siki | ১৭ জুলাই ২০১৩ ১৭:১৩513322
  • বিদ্যাদা, যদ্দূর জানি, নাস্তিক ছিলেন।

    http://www.abasar.net/UNIVidyasagar.htm
  • dukhe | ১৭ জুলাই ২০১৩ ১৭:৩৬513323
  • "ঈশ্বর নিরাকার চৈতন্যস্বরূপ" - এই প্রিচিং মাথা মোড়ানোর চেষ্টা নয় কেন?
  • ঊমেশ | ১৭ জুলাই ২০১৩ ১৮:০৫513324
  • বিদ্যা'দা পৈতে ছেড়েছিলেন কিনা জানি না, তবে ধর্ম নিয়ে মাথা ঘামাতেন না। আমার ধারনা সেই সময়ে হিসাবে নাস্তিক ছিলেন।
  • siki | ১৭ জুলাই ২০১৩ ১৮:১১513325
  • পৈতেটা নিয়ে আমিও শিওর নই, তবে মন্দিরে যেতেন না। পুজোআচ্চা করতেন না। কোনও রকমের পুজোর চাঁদা কেউ চাইতে এলে তাকে দূর দূর করে তাড়িয়ে দিতেন। শুধু টুলো পণ্ডিতদের তর্কে হারিয়ে বিধবাবিবাহ প্রচলন করবার জেদে শাস্ত্র টাস্ত্র সব পড়ে ফেলে একাকার কাণ্ড করে ফেলেছিলেন।

    হিন্দু সমাজের ভড়ং সারাজীবন ধরে দেখে বিরক্ত হয়েই শেষ জীবনে চলে গেছিলেন কার্মাটায়, সাঁওতালদের কাছে।
  • bip | ১৭ জুলাই ২০১৩ ১৯:০৭513326
  • বিদ্যাসাগরের সাথে অন্যকোন বাঙালীর তুলনা করা ঠিক না -তার সমতুল্য কেও আজও জন্মায় নি এই বঙ্গে।

    চরিত্রের ইন্টিগ্রিটি বা উচ্চতা যদি পরিমাপ হয়, বিদ্যাসাগর ১০ এ ১০ পাবেন। তিনি গোল্ড স্টান্ডার্ড। বিবেকানন্দ বা রবীন্দ্রনাথ ধারে কাছে আসবেন না -কারন এই দুজনে বিরাট বড় মাপের হলেও তাদের চরিত্রের দ্বিচারিতা ও ছিল বড় মাপের।
  • ... | ১৭ জুলাই ২০১৩ ২০:০১513327
  • Date:17 Jul 2013 -- 04:04 PM
    এটাই তো একটা দারুন ব্যাপার, যে তিনি, "পাশ্চাত্যের দর্শণ ও বিজ্ঞান শিক্ষা গ্রহণ করতে চাইলেও চরিত্রগঠণে সনাতন ভারতীয়ত্ব থেকে বিচ্যুত হতে চান নি।"
    বিশেষ করে চিনের চাওমিন, আমাদের চাওমিনের যুগে।
    অ্যাঁ? "বাচ্চাদের জন্য "ঈশ্বর নিরাকার চৈতন্যস্বরূপ" চলবে না বলা নেগেটিভিটির চর্চা"!! এটা তো খুবই প্র্যাগম্যাটিক চিন্তা। না? বাচ্চারা ঈশ্বর, নিরাকার, চৈতন্য, এই সব বোঝে?
    ওবিশ্যি, "বাচ্চা" বলতে কোন এজ-গ্রুপকে বোঝাচ্ছেন, সেইটে একটা প্রশ্ন, বটে!
    এই তো, নিজেকে কিছুক্ষন আগে বড় বললেন। কত বড়? সেই পোস্টের উত্তর পাইনি যদিও।

    হ্যা, হ্যা, হ্যা, বিপ আবার গ্রেড দিয়েচেন Date:17 Jul 2013 -- 07:07 PM!!!
    আগে একটা টইতে এই নিয়ে বেশ মজা হয়েছিল। মনে পড়ল। আহারে!
    সত্যি বলতে কি, "কানা-ছেলের নাম পদ্মলোচন"-এর প্রবাদটা "মুক্তমনা" দিয়ে রি-রাইট করলে মন্দ হয় না :-)
  • /\ | ১৭ জুলাই ২০১৩ ২২:৩৪513329
  • তবে কি মুক্তমনা তে এখনো বিদ্যাসাগরের নির্মোহ ব হয়নি? ইন্টারেস্টিং চ্যালেঞ্জ। এইটে দীপ/বিপ কনফার্ম করলে ইদিকে একটু মাথা গলাতাম। আচ্ছা ডারউইনের নির্মোহ ব ও বোধয় হয়নি ওখানে এখনো, তাই না? প্লিজ কনফার্ম করুন। অলস উইকএন্ড কোনোদিন পেলে একটু চেষ্টা করতুম।
  • বিপ | ১৮ জুলাই ২০১৩ ০০:৩১513330
  • কি জ্বালা মাইরি- নির্মোহ কথাটার ওপর আমার পেটেন্ট নেওয়া উচিৎ ছিল। সেই দেড় বছর আগে বাজারে ছেড়েছিলাম -এখনো দেখছি চলছে।

    না বিদ্যাসাগর না -আমার আগামী টপিক " গুরুর নামহীন, মেদহীনদের ছেঁড়া জাঙ্গিয়া- একটি নির্মোহ বিশ্লেষন "
  • কৃশানু | ১৮ জুলাই ২০১৩ ০১:০০513331
  • এইটা ভালো হবে। শুরু করুন। সঙ্গে আছি।
  • দীপ | ১৮ জুলাই ২০১৩ ০২:৩০513332
  • শোনেন, বিবেকানন্দ যে বিভিন্ন সময়ে অনেক উল্টোপাল্টা কথা বলেছেন - এই বিষয়টা নিয়ে কোনও সন্দেহ থাকার কথা নয়। বাণী ও রচনার পাতায় পাতায় এমন অনেক মণিমুক্ত ছড়ান আছে। আমি কিছু দিয়েছি। বিপ্লব পালের লেখায় কিছু উদাহরণ আছে। অভিজিত রায়ের মুক্তমনা ব'তেও কিছু আছে। তবে অভিজিতের মুক্তমনা ব মৌলিক নয়। ১৯৯৪ সালে আজকাল পত্রিকায় মানবতাবাদী সমিতির সুতপা বন্দ্যোপাধ্যায় একটা চিঠি লেখেন, যার জবাবে শুরু হয় পত্রবিতর্ক। যাকে বলে গুরুর টইয়ের একটা কাগুজে সংস্করণ, মাইনাস ছ্যাবলামি অবিশ্যি। অভিজিতের লেখার উপাদানগুলি ঐ বিতর্ক থেকে নেওয়া। আমার মানতে বাধা নেই যে এইসব বিতর্কের কিছু কিছু কথা মিসকোট-হাফকোট-কন্টেক্সট দোষে দুষ্ট ছিল। আবার এটাও সত্যি যে, কিছু কিছু কথা যে কন্টেক্সটেই রাখেন না কেন, আঁশটে গন্ধ ছাড়ান যায় না।

    আবার স্বামীজির বিদেশের বক্তৃতাগুলি যদি ধরেন- শিকাগো ধর্মমহাসভায় বিবেকানন্দকে পেয়ে সাদা চামড়ার লোকেরা যারপরনাই বিরক্ত করেছে। হিন্দুধর্মের যাবতীয় কুঅভ্যাস-কুসংস্কার-আচার-অনাচার নিয়ে নানা অস্বস্তিকর প্রশ্ন করে ওনাকে বিরক্ত করেছে। দু-এক জায়গায় উনি কথার কৌশলে কাটিয়ে গেছেন। কিন্তু বেশিরভাগ সময়েই বাল্যবিবাহ, সতীদাহ, স্ত্রী-শিক্ষা, বৈধব্য ইত্যাদি বিভিন্ন টপিকে এন্তার ঢপ মেরেছেন। মাঝে মাঝে সেই ঢপ প্রায় অবাস্তবতার পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। যেমন, ভারতের বিধবারা এত ধনী যে সমস্ত কুমারী মেয়ে বড় হয়ে বিধবা হওয়ার স্বপ্ন দেখে, বিধবারা আনন্দের সাথে সহমরণে যায়, ইত্যাদি ইত্যাদি। কোনও কন্টেক্সটেই এই কথাগুলি পাতে দেওয়া যায় না। কিন্তু বিবেকানন্দ-ভক্তদের যুক্তি যে উনি ধর্মমহাসভায় হিন্দুত্বের মাথা উঁচু করে রাখতেই ইচ্ছে করে এইসব ঢপ ছেড়েছিলেন। After all, "ঘরের গলদ বাইরে যে দেখায়, তার মত গর্দভ কে আছে?"

    আমার এই যুক্তি মানতে কোনও আপত্তি ছিল না, যদিও হিঁদুয়ানার ধ্বজা উড়লে আমার কিছু যায়-আসে না। কিন্তু মুশকিল হল স্বামীজি নিজেই ১৮৯৪ সালে শিকাগোতে বসে লিখলেন, "এরা বিদ্বানের জাত। এখানে 'আমরা বিধবার বে দিই, আর পুতুলপূজা করি না'—এ-সব আর চলে না—পাদ্রীদের কাছে কেবল চলে। ভায়া, এরা চায় ফিলসফি learning, ফাঁকা গপ্পি আর চলে না।" আমি অবিশ্যি বলছি না যে স্বামীজি ঐসব কুপ্রথা সমর্থন করতেন। সামাজিক কুপ্রথার বিরুদ্ধে তিনি নিজে কখনও কিছু বলেননি, শিষ্যদেরও কিছু বলতে নিষেধ করেছেন, কিন্তু সমর্থন করতেন - এরকম কোনও প্রমাণ তিনি রেখে যাননি। তবে ঐসব আজেবাজে না বকলেই হয়ত ভাল হত।
  • শিবু | ১৮ জুলাই ২০১৩ ০২:৪৪513333
  • সিরিয়াস কোশ্নো।

    বিবুবাবুর ভালর মধ্যে -

    ১। হেব্বি ভাল বাংলা লিখতেন।
    ২। একটা মঠ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

    তো আরো অনেকেই হেব্বি ভাল বাংলা লেখেন। মঠও অনেকেই প্রতিষ্ঠা করেছেন, ইস্কন, ভারত সেবাশ্রম ইত্যাদি। তো মুজতবা আলী, বা প্রভুপাদের ভুল ধরলে তাদের ভক্তদের কেউ কেউ হয়তো অফেন্ডেড হবেন, কিন্তু সে নিয়ে এরকম সর্বব্যাপী রে-রে রব ওঠে না।

    বিবুবাবুকে নিয়ে ওঠে কেন? সে কি উনি শিকাগোতে সাহেবদের দু-চাট্টে পিঠ-চাপড়ানি পেয়েছিলেন বলে? নাকি অন্য কিছু আছে?
  • Lama | ১৮ জুলাই ২০১৩ ০৫:৪৩513334
  • ওঠে না আবার? ভাল বাংলা লিখতেন আর আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এরকম তো আমাদের দাদুই আছেন। 'দাদু সকালবেলা বাথরুমে যেতেন', বা 'দাদুর কানে আঁচিল ছিল', কিংবা 'দাদু ইসবগুলের ভূষি খেতেন' গোছের ইহলৌকিক কথা প্রকাশ্যে একবার বলে দেখুন্না! রেরে করে বাঙালী যদি তেড়ে না আসে তবে আর বলছি কি! তাপ্পর ধরুন নেতাজী- মঠ না হলেও ফৌজ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ঐ যাহা মঠ তাহাই ফৌজ। উনি 'বিয়ে করেছিলেন' বললেও অনেকে তেড়ে মারতে আসেন। তাপ্পর আমাদের গাঁধীজিকে ধরুন- আশ্রমও করেছেন, লিখেওছেনঃ বাংলা না হলেও হিন্দিতে। 'উনি টেকো ছিলেন' বললে আদালত পর্যন্ত তেড়ে আসতে পারে। বড়জোর 'ইন্দ্রলুপ্ত' পর্যন্ত বলতে পারেন।

    আর বালক ব্রহ্মচারীকে নিয়ে খবর্দার কিছু বলবেন্না, তাহলে শুধু রেরে নয়, হারেরেরে হয়ে যাবে।
  • b | ১৮ জুলাই ২০১৩ ০৮:৪৭513335
  • বিবেকানন্দর ভক্তরা নিজের ভালোবাসার লোককে ডিফেন্ড করতে ঝগড়া করেন। সে বুঝি। কিন্তু আরো বড় বড় লোকের ভক্তরা আরেকটু হায়ার লেভেলে খেলেন।

    অরবিন্দকে নিয়ে পিটার হিজ (Heehs উচ্চারণ কিভাবে করে?) একটি বই নিয়েও বেশ উলুতপুলুত হয়েছে পন্ডিচেরী। বইটি, ইন্ডিয়াতে ঠিক ব্যানড নয় (যদিও সেই দাবী তোলা হয়েছিলো), তবে ফ্লিপকার্টে সব সময়েই আউট অফ প্রিন্ট, বা আউট অফ স্টক।

    হেঁ হেঁ। নে শালা কত্ত লিখবি নির্মোহ ব।
  • dukhe | ১৮ জুলাই ২০১৩ ০৮:৫২513336
  • দ্যাহেন দীপ, বেশি বকাবাজির বয়স নেই। সত্যি, মানে সত্যিই, যদি বিবুদা ও জাতিভেদ, বিবুদা ও বিদ্যাসাগর, বিবুদা ও রবীন্দ্রনাথ হ্যানোত্যানো জানবার ইচ্ছে থাকে, শঙ্করীপ্রসাদের 'বিবেকানন্দ ও সমকালীন ভারতবর্ষ' দিয়ে শুরু করুন। নির্জলা খিস্তি, থুড়ি, নির্মোহ ব চালাতে চাইলে অবশ্য এমনি ঠিকই আছে।
    আর শিবুদা কি জানেন না বিবুদা কি দাদুকে নিয়ে যারা রে-রে ক'রে ওঠে তারা ওনাদের খাকিপ্যান্ট ভক্ত? আর ভক্তসংখ্যা আর রে-রে রব তো ডিরেক্টলি প্রোপোর্শনাল।
    " গুরুর নামহীন, মেদহীনদের ছেঁড়া জাঙ্গিয়া- একটি নির্মোহ বিশ্লেষন "
    কিংবা দুখের শ্রাদ্ধ হোক না, কেউ টুঁ শব্দটিও করবে না। যদিও দুখের কাছে দু-চাট্টি সাহেবের সাট্টিফিকেট (কোম্পানি ছাড়ার সময়) আছে। হায়।
  • dukhe | ১৮ জুলাই ২০১৩ ০৮:৫৯513337
  • শঙ্খ ঘোষের এই ব-টার বিশদ কেউ খুঁজে দেবেন?
  • b | ১৮ জুলাই ২০১৩ ০৯:১৩513338
  • দুখে, কেন বিবেকানন্দ রবীন্দ্রনাথ নিয়ে পড়াশুনা করতে হলে শংকরীপ্রসাদ বসু ইঃ পড়তে হবে? রবীন্দ্র রচনাবলী/ বিবেকানন্দের বাণী ও রচনা দিয়েই তো শুরু হওয়া উচিৎ।
  • dukhe | ১৮ জুলাই ২০১৩ ০৯:২০513340
  • আহা, অ্যাজাম্পশন হ'ল 'বাণী ও রচনা' পড়া আছে। নইলে আর এত 'উল্টোপাল্টা কথা' খুঁজে পাচ্ছেন কীভাবে?
    উনি কিছু স্পেসিফিক পয়েন্টে আগ্রহী হ'লে শঙ্করীবাবুর বইয়ে সেগুলোর কনটেক্সট ও সামারি পাবেন। ইন জেনেরাল বিবুদাকে জানতে হ'লে শঙ্করীবাবুর বই, আরো কিছু বইপত্রের মত, অপরিহার্য। IMHO। কেন - সেটা পড়লেই বুঝবেন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খারাপ-ভাল প্রতিক্রিয়া দিন