এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  অন্যান্য

  • মাওবাদী

    SB
    অন্যান্য | ১৮ মে ২০১০ | ২৫৮৮৩ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • pi | ১৭ জুন ২০১০ ১৯:২৭446652
  • sb র পোস্ট প্রসঙ্গে বলি, তাঁদের ও ব্যাপারটা শকিং লেগে থাকলে সেটা তাঁদের রিপোর্টিং এ ফুটে ওঠা উচিত। কোন কাগজের রিপোর্টে কি কোথাও এভাবে নিয়ে যাওয়ার প্রতিবাদ করা হয়েছে ?
    এইভাবে নিয়ে যাওয়ার ছবি দেওয়া যায়, কিন্তু দিলে তার উদ্দেশ্য হওয়া উচিত এই অমানবিক আচরণটার প্রতিবাদ করা।
    মামুর পয়েন্টটা ঠিক পুরোটা বুঝিনি। প্রতিহিংসা বশত: এইরকম ভাবে নিয়ে যাওয়া হতেই পারে? সেটা নিয়ে আপত্তি নেই, সেই নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারটা দেখালে আছে ? যদিও এখানে দেখানোর উদ্দেশ্য আদৌ এটা পয়েন্ট আউট করা ছিল না। একটা শকিং সেনসেশন তৈরি করা ছিল, এবং সেটা প্রতিবাদযোগ্য।

    তবে, এটা লিখতে গিয়ে মনে হল। এটা যদি উদ্দেশ্য হয়ে থাকে, তার মানে, মানুষ এটা ভালো খায়। সিনেমা তেও তো দেখানো হয়, ভিলেনকে যত কষ্ট দিয়ে মারা যায়, তত তো একরকম করে আনন্দ পেতে থাকে দর্শক। তো, এখানেও তাই। মাওবাদী শত্রু দের এরকম পরিণতি
    একরকম আনন্দ ই দেবে অনেকের মনে।
  • pi | ১৭ জুন ২০১০ ১৯:৩৫446653
  • আকাদার পোস্ট পড়ে আবার চিন্তায় পড়ে গেলাম। ইন ফ্যাক্ট কাল ঐ নন্দীগ্রামের ছবিটা দেবার সময় ও সেটাই ভাবছিলাম। যাঁরা ঐ মৃতদেহ বহন করছিলেন, তাঁরা তো বিরোধী দলের বা পুলিশের লোক মনে হয় নি। মৃতের পরিচিত কেউ ই। মানে, তাঁরা প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে ওভাবে নিয়ে যাচ্ছিলেন, ব্যাপারটা বোধহয় তা না। কালকেই জিগেস করেছিলাম এটাই প্রচলিত রীতি কিনা। আকাদার কথা শুনে তো তাই মনে হচ্ছে।
    তাহলে, দেশের বেশিরভাগ জায়গায় এভাবেই নিয়ে যাওয়াটা রীতি হলে সেটা দেখিয়ে শকিং সেনসেশন আর কজনের মধ্যে তৈরি করা যাবে ? এর সাথে অপরিচিত শহুরে কিছু মানুষের মধ্যে বড়জোর।

    আবার, এটাই যদি স্বভাবিক রীতি হয়, তো, জওয়ানরা সহকর্মী কোন জওয়ান বা অস্বাভাবিক ভাবে মৃত অ-মাওবাদী কোনো মানুষকেও কি ঐভাবেই নিয়ে যেতেন ?
    সব গুলিয়ে যাচ্ছে।
  • pinaki | ১৭ জুন ২০১০ ১৯:৪৩446654
  • আমার মনে হয় স্ট্রেচার না থাকলে ঐভাবেই নিয়ে যায়। ট্রেন অ্যাক্সিডেন্টের বডি যে ঐভাবে যায় - সেটা আমিও বহুবার দেখেছি। আসলে স্ট্রেচার না থাকলে ঐভাবে নিয়ে যাওয়াটা সবচেয়ে সুবিধাজনক। তবে ট্রেন অ্যাক্সিডেন্টের ক্ষেত্রে বডিটা প্লাস্টিক বা বস্তা দিয়ে মোড়া থাকে। সবক্ষেত্রেই ডেডবডির প্রতি অসম্মানজ্ঞাপক এই ব্যাপারটা। স্ট্রেচারের ব্যবস্থা করা উচিৎ। কিন্তু আমার বেশী ঝাঁট জ্বলেছে রিপোর্টিং এর ধরণ দেখে।
  • SC | ১৭ জুন ২০১০ ১৯:৪৪446655
  • http://www.anandabazar.com/17khar2.htm
    এখানে একজন "মাওবাদী"র ছবি দেখলাম।

    জানতে ইচ্ছে করে, "এও কি ভীষণ মাওবাদী আর আল কায়দার চর"? (সুমনের মতো করে)
  • pinaki | ১৭ জুন ২০১০ ২০:০১446657
  • একটু ভুল বলেছি। মনে করে দেখলাম ট্রেন অ্যাক্সিডেন্টের বডি নিয়ে যাওয়ার সময় প্লাস্টিকে/বস্তায় মোড়া বডিটা বাঁশের সাথে পুরো বাঁধা থাকে। এরকম হাত আর পায়ে দড়ি বেঁধে চারপেয়ে প্রাণীর মত করে বাঁশ থেকে ঝুলিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় না।
  • pi | ১৭ জুন ২০১০ ২০:০৯446658
  • রিপোর্টিং থেকে স্পষ্ট, জওয়ানদের মধ্যে প্রচন্ড রকম প্রতিহিংসা, উল্লাস কাজ করেছে।
    আর এইভাবে নিয়ে যাওয়াটা তার ই প্রতিফলন। ওখানকার রীতি এরকম ই কিনা তাই নিয়ে আমি ধন্দে, কিন্তু আমি নিশ্চিত, কোনো জওয়ানের মৃতদেহ এভাবে নিয়ে যেতো না তারা।
    এইভাবে নিয়ে যাওয়ার মধ্যে ইচ্ছে করে অসম্মান দেখানো, প্রতিহিংসা চরিতার্থ করা কেমন স্পষ্ট ফুটে উঠছে।

    এবং সেটার কোনো নিন্দা নেই রিপোর্টাগুলোতে। বরং কায়দা করে তাকে একটা বৈধতা দেওয়া আছে।

    আবাপ র দুটো রিপোর্টেই ওখানকার ঐ যুদ্ধ যুদ্ধ উন্মাদনা টা আইপিএল আর বিশ্বকাপ জ্বরের মত ছড়িয়ে দেবার একটা চেষ্টা।
    সেটাই সবচেয়ে নিন্দনীয়।

    ফোটো টা দেওয়া নিয়ে সেভাবে আপত্তি নেই,, অক্ষদার সাথে একমত। দেওয়া না হলে তো জানাও যাবে না, কি আচরণ করা হচ্ছে। কিন্তু সেটা পয়েন্ট আউট করে দিয়ে, কোনো কমেন্ট ছাড়া এধরণের ছবি ছাপা আপত্তিকর। কারণ স্পষ্টত ই উদ্দেশ্য সেখানে অন্য।
  • pi | ১৭ জুন ২০১০ ২০:১১446659
  • পিনাকীদা, নন্দীগ্রামের ঐ ছবিটাতে ঐ মৃতদেহ কারা নিয়ে যাচ্ছিল? এক ই রকম ছবি তো।
    গ্রামের লোকজন ই ? তাহলে ওখানে কেন ওরকম অসম্মান প্রদর্শন ?
  • pinaki | ১৭ জুন ২০১০ ২০:২০446660
  • গ্রামের লোকের কাছে স্ট্রেচার থাকাটা মুশকিলের। আর স্ট্রেচার না থাকলে ওভাবে ক্যারি করাটা সুবিধেজনক। বিশেষত: যদি লং ডিস্ট্যান্স বইতে হয়। কিন্তু রাষ্ট্র যখন সেটা করছে - সেখানে স্ট্রেচার না ব্যবহার করাটা গ্রামের লোকেদের থেকে কিছুটা আলাদাভাবে দেখা উচিৎ বলে মনে হয়। কারণ সেখানে ইনফ্রাস্ট্রাকচারের অভাবটা ইস্যু নয়, সদিচ্ছা/দৃষ্টিভঙ্গিটা ইস্যু।
  • aka | ১৭ জুন ২০১০ ২০:৩০446662
  • এটা একটা ভ্যালিড পয়েন্ট। শুধু তাই নয় আহতদের চিকিৎসা হচ্ছে কিনা তাও দেখা দরকার। মাওবাদীরা কি আলোচনায় একেবারেই উৎসাহী নয়? কোন এক স্বামীজী যে গেলেন?
  • a x | ১৭ জুন ২০১০ ২০:৩৫446663
  • অগ্নিবেশ
  • pi | ১৭ জুন ২০১০ ২০:৪১446664
  • পিনাকীদা, নন্দীগ্রামের ছবি প্রসঙ্গে, স্ট্রেচার বলিনি, দেহটি অন্তত ঢেকে তো নিয়ে যাওয়া যেত ! তুমি ঐ রেল অ্যাকসিডেন্টে যেভাবে নিয়ে যাওয়ার কথা বল্লে, সেরকম তো করা যেত।

    তবে, রাষ্ট্রের এই ব্যাপারটা যে পুরোপুরি ইচ্ছা করে অসম্মান জানানো, পিছনে কাজ করেছে প্রতিহিংসাপরায়ণতা, সে নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
  • pi | ১৭ জুন ২০১০ ২০:৪৮446665
  • তবে, যাঁরা বলছেন, এরকম ছবি ই দেওয়া উচিত না, তাঁরা কি তাপসী মালিকের ( বা সুনীতা মণ্ডল) ছবি দেওয়া নিয়েও আপত্তি তুলবেন ?
    ব, এই যে কদিন আগে wikileaks এর ভিডিও গুলো বেরোলো আমরাই লিং দিয়েছি, সার্কুলেট করেছি। ঠান্ডা মাথায় মানুষ খুনের সব দৃশ্য। সেগুলো কি অনুচিত কাজ হয়েছে ? ছবি টা তো কনটেক্সটের উপর ডিপেন্ড করে, তাই না? পুরোটাই তো ব্যবহারের উপর। কিভাবে রিপ্রেসেন্ট করা হচ্ছে, তার উপর। এই ছবি, ভিডিও তো এভিডেন্সের ও কাজ করে আর এই ঘটনাগুলোর নিন্দা করার জন্য জনমত গড়ে তোলার জন্য ও ব্যবহার করা যেতে পারে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এই কেসে রিপোর্টিং গুলো ঠিক উল্টো পথে হেঁটেছে।
  • pi | ১৭ জুন ২০১০ ২০:৫৩446666
  • পিনাকীদার দেওয়া countercurrents এর লেখাটা ভালো লাগলো।

    There is a civic decorum that democratic life demands we share, and the media is as much a party to this compact. But when the media presents such photos without comment, and agrees to treat a section of the Indian citizenry as little more than animals to be hunted, one wonders what the democratic contract is all about - perhaps it is a lovely fiction that we all like to invoke when struggles for equality and justice turn violent;

    payenTaa eTaai.
    without comment ছাপানো কিম্বা আবাপ র মত সূক্ষ্মভাবে এটাকে যুদ্ধজয়ের 'উল্লাস' এর উন্মাদনা ছড়িয়ে দেবার জন্য ব্যবহারে আপত্তি।
  • SB | ১৭ জুন ২০১০ ২১:০৪446667
  • ইসে, আমার ওই হাত পা চারিদিকে ছড়িয়ে আছে, চিৎপাত হয়ে মৃতদেহ পরে আছে রাস্তার ধারে, পাশে মাওবাদীদের পোস্টার - এই দৃশ্যের ছবি দেখতেও একইরকম খারাপ লাগে। নিশ্চই সবাই দেখেছেন, অনেকবার করেই দেখেছেন, তাই লিং দিলাম না।

    আর শকিং ছবি বলেই ছাপিয়েছে বলতে, শকিং বলেই লোকে "খাবে' তাই দিয়েছে বলতে চেয়েছিলাম, কোন মহৎ উদ্দেশ্য যে নেই, সেটা ক্লিয়ার।
  • pi | ১৭ জুন ২০১০ ২১:১৪446668
  • ঐ একই লেখার শুরুর প্যারা:

    The woman's body had been trussed up like the carcass of a dead animal. The photo speaks volumes of how the Indian state views those it considers a threat to the internal security of the nation - as people beneath its contempt and consideration. The photo featured alongside that of the dead woman shows a 'captured' young adivasi man, barely past his adolescence - a face that could stand in for a large number of disenfranchised, poor and desperate tribals, who are being treated as enemies of the state for merely wanting to lead a life of autonomy and dignity. Merely labeling the dead woman and this young man 'Maoist' does not explain the reasons for their disenchantment with the Indian state's policies, both at the regional and national levels - policies which are calculated to deprive them of their right to life and livelihood. Nor does such a labeling take away from the cynical and outrageous disregard and disrespect that these photos represent.



    ঠিক এইরকম কথাগুলো, ছবিগুলোর সংগে বেরোতে পারতো ( একটাতেও দেখিনি)। ছবিগুলো আদৌ না দিয়ে ( বা তার উল্লেখ না করে) রিপোর্ট করার থেকে সেটা বেটার। কারণ উল্লেখ না হলে, এই ধরণের কাজগুলোর কথা জানানো ও যায়্‌না, প্রতিবাদটুকু ও তো করা হয়না।
    ছবি না দিয়েও হয়তো করা যায়। কিন্তু ঐ wikilieaks এর ভিডিও টার কথা ভাবা যাক। সেটা না দিয়ে, শুধু কথায় লিখলে ওটা নিয়ে যে নেগেটিভ ইম্প্যাক্ট পড়েছে, সেই এক্সটেন্টে আনা যেত ?

    এই দুটো ছবি ই ঐ শুরুতে দেওয়া টেক্টের
    সাথে সব মিডিয়াতে এলে যুদ্ধ উন্মাদনার ঠিক নেগেটিভ ইম্প্যাক্টটা তৈরি হতে পারতো।
  • SC | ১৭ জুন ২০১০ ২৩:২৩446669
  • আবাপ পরিষ্কারভাবে ব্যাবসা করতে নেমেছে। টাইমস ইত্যাদিও তাই। এনিয়ে অভীক সরকারও মনে হয় একমত হবেন।
    কিন্তু তাও কয়েকটা প্রশ্ন রয়ে যায়।

    ছবিটা তো বানিয়ে বানিয়ে তোলেনি, সত্যি এরকম ঘটনা ঘটেছে। নৃশংসতার ছবি দেওয়ার উদ্দেশ্যটা অস্‌ৎ, কিন্তু বীব্‌হ্‌ৎস বলে ছবি দেওয়া যাবে না, এই দাবীও করা চলে না। বরং এরকম ছবি আরো বেশী করে ছাপা দরকার। তাতে যদি ফিল-গুডের বাজারে মানুষের কিছুটা চৈতন্যের উদয় হয়, রাষ্ট্রের আসল চরিত্রটা বুঝতে পারে।

    দুই, যুদ্ধ নিয়েও একই কথা। উন্মাদনা তৈরী করছে আবাপ, যেন আই পি এলের ম্যাচ। কিন্তু যুদ্ধটা তো বানানো নয়, সেটা আছে। এবং মাওবাদীরাই স্টেটের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। তাই যুদ্ধ হচ্ছে না, বা এটা যুদ্ধ নয়, এধরণের যুক্তি দিয়ে লাভ নেই।

  • aka | ১৭ জুন ২০১০ ২৩:৩৯446670
  • ব্যবসা তো ভালোভাবেও করা যায়। নৃশংসতাকে প্রশ্রয় না দিয়েও করা যায় তো। হিন্দী সিনেমার দৃশ্য (রিপোর্টিং + ছবি) দিয়ে না করলেও আবাপ খুব কিছু পিছিয়ে পড়বে না। পৃথিবীতে বহু এরকম ছবি আছে কিন্তু সেগুলোর এরকম পৈশাচিক কভারেজ খুব বেশি দেখা যায় না।

    এই ছবিটা সারা পৃথিবীতে বিখ্যাত। পৈশাচিক সেন্সেশন তৈরির জন্য নয় মনুষ্যত্ব জাগানোর জন্য।

    অভিক সরকারের ঠিকানা জানা থাকলে চারটি পানু পাঠাতাম - সেন্সেশন তৈরি হত, অফ এ বেটার কাইন্ড। আমি এইমাত্র রিপোর্টিংটা আবার পড়েছি এবং প্রচণ্ড জ্বলছে।
  • Arpan | ১৭ জুন ২০১০ ২৩:৪৫446671
  • তাও তো তারানন্দ দেখো না।
  • Ishan | ১৭ জুন ২০১০ ২৩:৫৭446673
  • ইয়ুপ। ছবিতে আমার ততটা আপত্তি নেই, যতটা আছে সেনসেশন তৈরিতে।

    অন্য প্রসঙ্গে: ট্রেনে রেগুলার ডেডবডি নিয়ে যেতে দেখেছি। সেগুলো গার্ডের কামরার পিছনে বাঁধা হত। তারপর বাঁশে বেঁধেই নিয়ে যাওয়া হত। কিন্তু প্লাস্টিকে জড়িয়ে। লাশ কিনা বোঝা যেতেনা ঝট করে।
  • a x | ১৮ জুন ২০১০ ০০:০৮446674
  • কাউন্টারকারেন্টস্‌এর লেখকদ্বয় হিন্দুর এডিটরকে চিঠি লিখেছেন। ঐ চিঠিটাই।
  • G | ১৮ জুন ২০১০ ১১:৫৫446675
  • কয়েকবছর আগে বিডিআরের গুলিতে কয়েকজন বিএসেফের জওয়ান মারা যান। তাঁদের মৃতদেহও এইভাবে বাঁশে ঝুলিয়ে নিয়ে যাওয়ার ছবি বেরিয়েছিল কাগজে। বইছিলেন যতদুর মনে পড়ছে,সহযোদ্ধারাই।
  • dukhe | ১৮ জুন ২০১০ ১২:২৭446676
  • বাবা, প্রোমোটার মানে কী ?
    ...
    তরুণী বধূকে খালে ফেলে খুন করল প্রোমোটার - মানে কী ?
    ...
    মাওবাদী মানে কী?
    ...
    কাকে অমনি ঝুলিয়ে নিয়ে যাচ্ছে?
    ...
    ও কী করে মারা গেল ?
    ...

    কী চাপ! কী কুক্ষণে বাংলা পড়তে শিখেছে! সর্বশিক্ষা নিপাত যাক।
  • Manish | ১৮ জুন ২০১০ ১৬:২০446677
  • kelo | ১৯ জুন ২০১০ ১৫:৫৯446678
  • প্রশ্ন মোটে এইকটা-
    ১) খবরের কাগজগুলোর ঐরকম ছবি প্রথম পাতায় বড় করে ছাপা উচিত হয়েছে কিনা।
    ২) যৌথবাহিনীর মাওবাদী মেরে ওরকম বাঁশে ঝুলিয়ে নিয়ে যাওয়া উচিত হয়েছে কিনা।
    যা বলছি সবই আমার ব্যক্তিগত মতামত। আপনারা অন্যমত পোষন করতেই পারেন।
    আমার মতে ছবিটা যদি সত্যি হয় তবে অবশ্যই ছাপা উচিত হয়েছে। কারন না ছাপালে, আমরা যারা আদৌ সশস্ত্র বিপ্লব করছি না বা রাষ্ট্রের আধাসেনাও নই তারা জানতেই পারতাম না যে সেখানে ঠিক কি ঘটে চলেছে। একটা ছবি হাজারটা শব্দের সমান। আমি খবরকাগজওলা হলে ওরকম ছবি প্রথম পাতায় বড় করে না ছেপে ভেতরের পাতায় ছোট করেই ছাপতাম। যে যা বোঝার ঠিকই খুঁজেবুঝে নিত।
    আর ওভাবে ঝুলিয়ে নিয়ে যাওয়া উচিত কিনা সেটার বেলায় সবাই একমত .. যে.. উচিত নয়। কিন্তু এও ঠিক যে .. জঙ্গলে যুদ্ধ করতে গেলে গুনেগেঁথে স্ট্রেচার নিয়ে যাওয়াও সম্ভব নয়। তাই – হয়ত চিরকালই ঐ ট্রেনের বাফারে বেঁধে নিয়ে যাওয়ার মত এরকম বাঁশে ঝুলিয়েই নিয়ে যাওয়া হয়, সেটা যারই মৃতদেহ হোক.. মাওবাদী বা যৌথবাহিনী। আমরা এতদিন জানতাম না... এখন জানলাম মাত্র। আমার কিন্তু চিন্তা তা নয়। আমার কথা হল … বাঁশে বেঁধে নেওয়া হোক.. কিন্তু শুয়োরের মত করে কেন ? কফিন বা স্ট্রেচারের মত দড়িরও কি সরকারের অভাব ? যেভাবে হাত আর পা বাঁধা হয়েছে ঠিক সেভাবে কি শরীরের মাঝখানে আর একটা বাঁধন দেওয়া যেত না ? যাতে শরীরটা বাঁশের সমান্তরালভাবে লেগে থাকে? এর বেশী সম্মান তো মাওবাদী, কামাওবাদী, অ-মাওবাদী কোন ভারতবাসীই আশা করে না। যদ্দুর মনে পড়ছে ট্রেনে মৃতদেহ নিলে এভাবেই বাঁশের সঙ্গে লেপ্টে বাঁধা থাকে পা থেকে মাথা পর্যন্ত।

    প্রশ্নগুলোর ব্যাখ্যা এভাবে করলাম বটে .. কিন্তু নিজের মনেই আরো কিছু প্রশ্ন জাগল। খবরের কাগজগুলোর নিরপেক্ষতা ভালভাবেই জানি..Icore-একদিনের মত সবাই বড় করে ওপরে কোম্পানীর নাম ছাপে না বটে .. কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমাদের দেওয়া আড়াই টাকায় সে সব কাগজ চলে। আনন্দবাজার যে ভাবে ছেপেছে. তাতে অনেকেরই প্রচন্ড বিরক্ত লেগেছে বা ঝাঁট জ্বলে যাচ্ছে। যাদের যাচ্ছে তারা বোধহয় কেউই মাওবাদী নন.. এমনকি সমর্থকও নন। আনন্দবাজারের ছবি ও লেখা থেকে এটা পরিস্কার ..যে এই প্রোপাগান্ডার উদ্দেশ্য কাউকে ভয় দেখানো। কিন্তু সেটা কাকে ? existing মাওবাদীদের ? wouldbe মাওবাদীদের, না আমাদের মত সাধারন মানুষকে ? অন্তত এই ফোরামের আলোচনা থেকে এও পরিষ্কার যে এর ফল দাঁড়িয়েছে ভয় নয় ঘৃণা। এই বিরক্ত লাগা বা ঝাঁট জ্বলে যাওয়া আসলে বিক্ষোভে ফেটে পড়বার আগে একটু একটু রাগার মত। আমার ভয় .. মাওবাদীদের নিরস্ত করতে গিয়ে শেষে কর্পোরেটদের সরকার ও তার মিডিয়া আরো কাউকে বিক্ষোভে ফেটে পড়বার পথে যেতে অনুপ্রানিত করে বসলেন না তো ?
    সরকার যে কর্পোরেটদের.. সেটা নিয়ে আমার বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই .. কথাটা যতই মাওবাদী মাওবাদী শোনাক না কেন। সিঙ্গুর আন্দোলনের সময় রতন টাটা তো একবার পশ্চিমবঙ্গ সরকার সম্পর্কে বলেই ফেলেছিলেন –OurGovernment. বলেই অবশ্য সামলে যান। কাগজে বেরিয়েওছিল। আপনারা চাইলে খুঁজেও দিতে পারি। রতন টাটা তো আর পশ্চিমবঙ্গবাসী সর্বহারা নন যে ভুল করেও বামফ্রন্ট সরকারকে আমাদের সরকার বলবেন। সুতরাং অনুপাত ২৩৫:৩০ হলেও সরকার কোনমতেই আমাদের নয়।
    তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম সরকার আমাদের, যৌথবাহিনী আমাদেরই ভালর জন্য হাসিমুখে প্রাণ দিচ্ছে। (কোন কর্পোরেটকে ২৪ টাকা টন দরে পাহাড়-জঙ্গল বেচে দেবার জন্য নয়)। কিন্তু তাও প্রশ্ন জাগে.. যে মাওবাদীরা আমাদের যৌথবাহিনীকে কুকুরের মত মারছে বলে আমরাও কেন ওদের মহিলাদের মেরে শুওরের মত ঝুলিয়ে নিয়ে যাব? বা আমাদের সর্বাধিক বিকৃত কাগজে সে ছবি প্রথম পাতায় বড় করে ছাপাব ? আমাদের সঙ্গে তবে ওদের তফাত রইল কই?
  • kelo | ১৯ জুন ২০১০ ১৬:১৫446679
  • @dukhe
    সর্বশিক্ষা নিপাত গেলেও অর্থাত তার সব টাকা (নাকি পাউন্ড বলব?) তছরুপ হয়ে গেলেও আপনি আপনার সন্তানের শেষ দুটি প্রশ্ন ঠেকাতে পারতেন না। কারন ও দুটো প্রশ্ন তো খবর কাগজের প্রথম পাতায় ছাপানো রঙচঙে ছবি দেখে করেছে... তাই না ?
  • ranjan roy | ২০ জুন ২০১০ ০৭:০৬446680
  • প্রায় ২০-২৫ বছর আগের কথা। তখন ইলাস্ট্রেটেড উইকলি'র সম্পাদক প্রীতীশ নন্দী। রাজীব রঞ্জন নামে ( যদ্দূর মনে পড়ছে) এক ফোটোগ্রাফার একটি ছবি ছেপেছিলেন যাতে পাটনা শহরে এক পুলিশ কনস্টেবল বন্দীকে হাত-পা বাঁধা ছাগলের মত করে রিকশায় পায়ের কাছে ফেলে ওপরে ঠ্যাং তুলে নিয়ে যাচ্ছে। পরে বেরুলো ওই ছবি দেখে কনস্টেবলকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল।
    আর দান্তেওয়াড়ায় বা কাছাকাছি এলাকায় নিহত পুলিশকর্মীদের সব স্ট্রেচার বা বাঁশের মেকশিফ্‌ট স্ট্রেচার এ করে জওয়ানরা বয়ে নিয়ে গেছেন।
    হ্যাঁ, দূরত্বের কথা মনে রেখেও বলা যায় যে বাঁশের সঙ্গে আরও ভাল ভাবে বাঁধা যায়, মৃত শুয়োরের মত করে না নিয়ে গিয়ে।
  • kc | ২০ জুন ২০১০ ০৯:৫৮446681
  • বাইরের সবকটা দেশই কিন্তু ভাল ভাবে নজর রাখছে বিষয়টার উপর। যাঁরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আর মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছেন সবাইকে ধন্যবাদ। লিঙ্কের পাতাটায় News in Brief জায়গাটা দেখুন।
    http://www.arabtimesonline.com/Portals/0/PDF_Files/pdf10/jun/19/13.pdf
  • Ishan | ২০ জুন ২০১০ ১২:১৯446682
  • ওদিকে কলকাতার তিনজন শিক্ষক-অধ্যাপককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জঙ্গলমহল থেকে। তাঁরা সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়ে "ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং' করতে গিয়েছিলেন। সাংবাদিকদের অবশ্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

    সিপিএম বুঝছে কিনা জানিনা, এই অঘোষিত জরুরি অবস্থা কিন্তু বজায় থাকবে, সিপিএম ক্ষমতা থেকে সরে যাবার (যদি যায়) পরেও। তখন সেটা কারো পক্ষেই ভালো হবেনা।
  • | ২০ জুন ২০১০ ১৫:২৭446684
  • ট্রেনে কাটা পড়লে ওভাবে নিয়ে যাওয়া হয় তার একটা কারণ সম্ভবত: কেউই কোন কম্পার্টমেন্টে ঐ grotesque দৃশ্য দেখতে চান না; প্লাস কোথায় যেন পড়েছিলাম যিনি নিয়ে যান তাকে তিরিশ টাকা মাত্র দেয়া হয়, এই কাজের জন্যে!
    আবাপ যা করেছে তাতে আমি অন্যায় দেখিনে, তাদের motive যাই থাকুক না কেন। না ছাপলে এই টই তো ফাঁকাই থাকতো।
    প্রশ্ন হল, দুখে যা লিখেছেন। মাঝখানে একটা বাঁধন কি দেয়া যেত না? একজন সাধারণ মানুশের ওজন গড় ৫০ কেজি, ঐ arm joint অতটা load নিতে পারে?
    স্বীকার করি, জওয়ানরাও মানুষ, তাদেরও প্রতিহিংসা স্বাভাবিক, কিন্তু তাই বলে শূকরের মতো বাঁশে ঝুলিয়ে? ফেলে এলেই বা কি মহাভারত অশুদ্ধ হতো?
    এর নামই কি বিপ্লব? তবে সাথে সাথে এও মনে পড়ছে ৭০ দশকের নকশাল আমলের কথা। চাকু দিয়ে খতম করে মুখে আলকাতরা লেপে দেয়া হতো!
    আমরাই নন্দন চত্বরে আঁতলামি করি, my foot!
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। দ্বিধা না করে মতামত দিন