এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • ভাটিয়ালি

  • এ হল কথা চালাচালির পাতা। খোলামেলা আড্ডা দিন। ঝপাঝপ লিখুন। অন্যের পোস্টের টপাটপ উত্তর দিন। এই পাতার কোনো বিষয়বস্তু নেই। যে যা খুশি লেখেন, লিখেই চলেন। ইয়ার্কি মারেন, গম্ভীর কথা বলেন, তর্ক করেন, ফাটিয়ে হাসেন, কেঁদে ভাসান, এমনকি রেগে পাতা ছেড়ে চলেও যান।
    যা খুশি লিখবেন। লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়। এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই। সাজানো বাগান নয়, ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি। এই হল আমাদের অনলাইন কমিউনিটি ঠেক। আপনিও জমে যান। বাংলা লেখা দেখবেন জলের মতো সোজা। আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি।
  • এস-আই-আর গুরুভার আমার গুরু গুরুতে নতুন? বন্ধুদের জানান
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • xi | ০৮ জুন ২০১২ ০৩:৫৬12240
  • ওফ্ফ, আমি আবার একটা বৌদ্ধ ম্যাগাজিন কিনে ফেল্লাম। ঃ-)
    ভারী সুন্দর সব ছবি আছে। ঃ-)
  • ব্যাং | ০৮ জুন ২০১২ ০৩:৫৪12239
  • অভ্যু, ঃ-))
    আজ অব্দি আমার এমন কোনো ইচ্ছে নেই, যেটা আমি চেয়েছি আর হয় নি।
    ছোটোবেলায় যখন সানডে টেলিগ্রাফের নীল ওব্রায়েনের কুইজের কলাম পড়তাম, স্টেটসম্যানের কুইজের কলামে ডালহৌসি ইনস্টিটিউটে হওয়া কোনো কুইজের রিপোর্ট পড়তাম, ভাব্তাম ইস যদি সামনে থেকে এদের দেখতে পেতাম। তার কয়েক বছর পরেই কেকেআরের জয় ভচ্চাজ্যি থেকে শুরু করে ওব্রায়েন পরিবারের সবার সঙ্গে বসে কুইজ করেছি, বাড়িতে গেছি, আড্ডা মেরেছি। সবাই অসম্ভব ভালোবেসে আমাকে কাছে টেনে নিয়েছে।
    এরকম আরো অনেক চাওয়া আছে, যেগুলো আমি মনে মনে চাই, আর ম্যাজিকের মতন সত্যি হয়ে যায়। ছেলের ক্রিস গেইলকে নিয়ে আকুলিবিকুলি দেখে খুব চেয়েছিলাম যে ইস ও যদি গেইলকে দেখার একটা সুযোগ পায়। ছেলে কী সুন্দর নিজেই ব্যব্স্থা করে নিল আমার চাওয়াটা পূর্ণ করার।
    এগুলো আমি পাগলের মতন লিখছি। কাল সকালে এসে অনেকেই দেখে হয়তো হাসবে। কিন্তু আমার এটা বিশ্বাস করতে ভালো লাগে, যে আমি যদি কিছু চাই, আমি সেটা পাই।
  • সায়ন | ০৮ জুন ২০১২ ০৩:৪৮12237
  • যদি সত্যি খুব তাড়াতাড়ি এই ডিজঅর্ডার থেকে বেরিয়ে আসতে পারো, জানবো স্ট্রং উইল ইজ জাস্ট আ ম্যাটার অফ চয়েজ। পারতেই হবে এটা করে দেখাতে। ব্যাঙদি'। উই অল আর ইগারলি ওয়েটিং।
  • xi | ০৮ জুন ২০১২ ০৩:৪৮12238
  • হ্যাঁ ব্যাং, রোজ দুইবেলা স্নান করতো সেই মেয়েটাও, তারপরে সেরে যাবার পরে একবেলা স্নান করে। ঃ-)
    তুমি সেরে যাবার দিকে এগিয়ে যাচ্ছ। এখন একটা ভালো ঘুম দিয়ে ওঠো। ভেবে দ্যাখো ভালো একটা বাড়ী ভালো ভালো খাবার ভালো ভালো কাপড়---এইটুকু সেফটিও কত লোকের থাকে না, সেটা তো অন্তত আমাদের আছে! বাকী সব তো মনের ব্যাপার, সম্পর্ক টম্পর্ক স্মৃতি টিতি সবই তো পার্সেপশন মাত্র।
  • hu | ০৮ জুন ২০১২ ০৩:৪৬12236
  • এবারে একটু শুয়ে থাকার চেষ্টা করো। ঘুম না হলেও শরীরকে একটু শুতে দাও।
  • ব্যাং | ০৮ জুন ২০১২ ০৩:৪৪12235
  • আমি যে ওসিডির থেকে বেরোনোর চেষ্তা করছি না, তা কিন্তু নয়। নানাভাবে আমি পরিচ্ছন্নতা নিয়ে পাগলামির বাউটসগুলো ইগ্নোর করার চেষ্টা করি। যেমন ধর, তোমরা নিশ্চয়ই আমাকে লিখতে দেখেছ জে আমি রাত একটায় স্নানে যাচ্ছি, রাত দুটোয় স্নানে যাচ্ছি। বাইরের জামাকাপড়ে বাড়ির চেয়ারে বা বিছানায় বসার কথা ভাব্তেই পারতাম না। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে ইচ্ছে করে বাইরে থেকে এসে বাইরের জামাকাপড়ে ছেলের চেয়ারে বসছি। রাতে স্নান করছি না। এইভাবে নানারকম চেষ্টা আমি করি এর থেকে বেরোনোর।
  • Abhyu | ০৮ জুন ২০১২ ০৩:৪২12234
  • "একদিন ঠিক জিতে যাব, আমি জানি।" - খুব ভালো লাগলো পড়ে
  • xi | ০৮ জুন ২০১২ ০৩:৪১12233
  • ব্যাং, আমর পরিচিত সেই মেয়েটি যার ও সি ডি ছিলো, সেও কাউন্সেলিং নিয়েছিলো সাকিয়াট্রিস্ট্রের থেকে আর ওষুধও কিছুদিন খেয়েছিলো। তাতে কোনো উপকার হয়েছিলো বলে সেও বোঝে নি।

    তার পরে জীবনটা যখন তার বদলে গেলো, সে যখন পরিচিত পরিবেশ থেকে চেনাজানা সব মুখ থেকে দূরে চলে গেল একা, তখন সে দেখলো তার চারপাশে সব মানুষগুলো ও কেমন যেন ভালো ভালো! তারা দিব্যি সাহায্য করে, ঠাট্টা ইয়ার্কি করে, কঠিন কাজের সময় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে আবার অবসরের সময় তাকে দিব্যি একা আলগা আলগা থাকতে দেয়। এইগুলো আসলে পারসেপশন, ওর দেখার ভঙ্গীটা বদলে গেল বলে মানুষগুলো ও ভালো মনে হতে লাগলো।

    তারপর কালের নিয়মে সেরে গেল একদিন।
  • ব্যাং | ০৮ জুন ২০১২ ০৩:৩৯12232
  • নিশি, হুচি, অক্ষ, কেকে,
    নিশি যেটা বলল, সেই চেষ্টা আমি প্রতি মুহুর্তে করি, বিশ্বাস কর এবং এখন আগের থেকে অনেক ভালো আছি। একদিন ঠিক জিতে যাব, আমি জানি।
  • ব্যাং | ০৮ জুন ২০১২ ০৩:৩৫12231
  • নিশি, আমি জানি তো এইগুলো। ডাক্তাররা বারে বারে বুঝিয়েছেন, কিন্তু ঐ যে মনে ধুলোবালি সম্পর্কে একটা ঘেন্না ধরে গেছে। ওটার থেকে আর বেরোতে পারি না। এক-দুই দিন হয়তো খুব সচেতনভাবে চেষ্টা করি কিছুকিছু ব্যাপারে পিটপিটানিটা ইগ্নোর করতে পারি। কিন্তু আবার অন্য কোনো ঘটনার আফটারম্যাথে শুরু হয়ে যায় ওসিডির দাপট।
  • xi | ০৮ জুন ২০১২ ০৩:৩১12230
  • আরেকটা কথা, জীবাণু বিষয়ে একটা ভুল ধারণা অনেকের মতন আমারও ছিল, জীবাণু বুঝি বাইরের ব্যাপার, সাবান দিয়ে সার্ফ দিয়ে নানারকম ক্লিনিং এজেন্ট দিয়ে ডিসিন্ফেক্ট্যান্ট দিয়ে ধুয়ে ধুয়ে বুঝি ওগুলো দূর করা যায় আর তাতেই সুস্থ থাকা যায়।
    একদিন এক বিখ্যাত জীববিদ এলেন আমাদের ইস্কুলে, এককালে আর এন এ নিয়ে যুগান্তকারী কাজ করেছেন, তো তিনি সাধারণ মানুষের জন্য একটা টক দিলেন আর পরে কোশ্চেন আন্সার সেশনেও অনেক উত্তর দিলেন। সেদিন ই প্রথম জানতে পারলাম মানুষের শরীর(সব জীবের শরীর) আসলে একটা ইকোসিস্টেমের মতন, জীবাণুরা তার সঙ্গে একেবারে অঙ্গাঙ্গী, এগুলো ভিতরে ও বাইরে থাকে বিলিয়নে বিলিয়নে। এগুলোর সঙ্গে বোঝাপড়া করেই আমাদের শরীর সিস্টেম চলে। অসুখ বিসুখ হয় একুইলিব্রিয়ামটা ভেঙে গেলে।

    বল্লে বিশ্বাস করবে না লেকচার হল থেকে বেরিয়ে হাল্কা ফুরফুরে লাগলো। ঃ-)

    সেই থেকে এখন তো আরো নানা আর্টিকেলে প্রায়ই এই বিষয়ে দেখি। এটা সত্যি ই, আরো জানা যাচ্ছে রোজই। এমন্কি সদ্যোজাত সন্তান রা যখন মায়ের দুধ খায়, তখন শুধু ক্ষুধাতৃষ্ণাই তাদের মেটে না, এই ইকোসিস্টেমটি ও পোক্ত হয়।

    এই ব্যাপারে আমি অনধিকারী, পাই ইত্যাদিরা ভালো বলতে পারবেন এই ব্যাপারে, কিন্তু আমার খুব কাজে এসেছিলো বক্তৃতাটা।
  • hu | ০৮ জুন ২০১২ ০৩:২৬12229
  • নিশি খুব ভালো লিখল। হ্যাঁ, এটা সম্ভব।
  • ব্যাং | ০৮ জুন ২০১২ ০৩:২৫12228
  • সায়ন, তোর স্নেহার কথা শুনে আমারও একজনের কথা মনে পড়ল। তার দুই-একটা অভিজ্ঞতার কথা লিখি?
    ১) প্রেগন্যান্সির থার্ড ট্রেমিস্টারে তার শাশুড়ি (কলেজের লেকচারার) তাকে নিজেদের কোনো টয়লেট ব্যবহার করতে দিত না। তিনতলার টয়লেট ব্যবহার করার অনুমতি দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই টয়লেটটায় তালাচাবি দিয়ে রাখতেন, আর এমন ভাবে তালা দিতেন যে বাথরুমের দরজায় তালা, লাগোয়া ঘরের দরজায় তালা, সেই সব চাবি নীচের তলার আলমারির ড্রয়ারে। আলামারির চাবি ড্রেসিংটেবিলের ড্রয়ারে। এইভাবে মেয়েটিকে টয়লেটে যাওয়ার প্রয়োজন হলে পাঁচ-ছটা তালাচাবি খুলে দোতলা থেকে তিনতলা উঠে যেতে হত।
    ২) মেয়েটি আপত্তি করায় মেয়েটির বর মেয়েটির মাথা নিজের পা দিয়ে চেপে ধরে মেয়েটির মুখে থুতু ফেলেছিল।
    ৩) সব শুনে মেয়েটির মা বলেছিল, মেয়েদের অনেক কিছু মানিয়ে নিতে হয়, তুমি যখন জানতেই ওর মাথাগরম, অশান্তি করতে গেছিলে কেন? তুমি ফিরে এলে এখানে তোমার ঠাঁই হবে না। নিজের পেটের বাচ্চাকে নিয়ে গাছতলায় দাঁড়িও।
  • kk | ০৮ জুন ২০১২ ০৩:২৩12227
  • ব্যাং, তোমার কষ্টটা খুব ভালো করেই বুঝতে পারলাম। আমি নিশির প্রত্যেকটা কথার সাথে একমত। বিশেষ করে শেষের আগের প্যারাটায়। এই কথাটা খুব সত্যি, কারুর সাধ্য নেই যে তোমার নিজে নিজেকে দেওয়া স্বাধীনতা কাড়ে। ট্রাস্ট মি, আই নো।
  • xi | ০৮ জুন ২০১২ ০৩:১৮12226
  • ব্যাং, আমি খুব সচেতনভাবে ব্যক্তিগত প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাই খোলা পাতায়, কোনো কোনো ক্ষেত্রে বলতে হলে গল্পের মতন করে নাম বানিয়ে বলি।
    কিন্তু আজকে একটা কথা আমার বলতেই হচ্ছে---ব্যাং, তুমি নিজে জেতো। কিছুতেই জিততে দিও না অন্ধকারকে, তোমার যে অত্যাচার করেছিলো, বহু আগে, সেই কিন্তু জিতে যাচ্ছে তুমি যদি সেটা বয়ে বেড়াও।
    দুই হাতে কাঁচকলা তুলে বলো, তুই আমার ঘেঁচু করবি, ওসব আমি ফু ফু ফু করে উড়িয়ে দিলম এই দ্যাখ।।
    পুরনো জীবন ছেড়া কাপড়ের মতন ফেলে নতুন জীবনে ঢুকে যাও, পুরানো কাপড় পুড়িয়ে ফেলো।
    মনে করো ওটা অন্য কারুর জীবন, সত্যি ই তো তাই, কারণ প্রতি মুহূর্তেই আমরা নতুন করে জন্মাই। স্মৃতি শুধু আমাদের জমিয়ে রাখা সম্পদের মতন বাইরের ব্যাপার, ঠিক যেমন ভবিষ্যৎ কল্পনা ও তাই।

    খুব সুখে থাকো, কোনো টেন্শন নিও না, নিজের মনে নাচো, ছবি আঁকো---নিজেকে স্বাধীন করে দাও, প্R্থিবীর কারুর সাধ্যি নেই সেই স্বাধীনতা কাড়ে।

    আমি ঘনিষ্ঠ একজনকে জানি, সে নিজেই ও সি ডি টে ভুগতো, একসময় আত্মহত্যার কাছকাছি চলে গেছিলো, একদিন শুধু তীব্র জেদে তার থেকে বেরিয়ে পুরানো সব ছেঁড়া কাপড়ের মত ফেলে নতুন জীবনে ঢুকে গেছিলো।
  • ব্যাং | ০৮ জুন ২০১২ ০৩:১৬12225
  • খুব বাজে বানান ভুল হচ্ছে। কিন্তু আর পারছি না আসলে। এইগুলো টাইপ করতে খুব কষ্ট হচ্ছে।

    সেই তিতিবিরক্তি আজও আছে। ছেলে আজ অনেকটাই সুস্থ। কিন্তু বিষাদ, বিরক্তি, বিরূপতা, কোনোকিছুই আমাকে ছেড়ে যায় নি। শুধু একদিন এক সম্পুর্ণ অপরিচিত মহিলা দেকে একটা ছোট্ট জায়্গায় একটা কাজ দিলেন আর ঈপ্সিতা তিনবছর আগে একদিন মেইল করে নন্দনের বইমেলা অ্যাটেন্ড করার ইন্ভিটেশন পাঠাল। নীপা থেকে সপা হয়ে গেলাম। তারপরের সবকিছু তো তোমরা জানই। সারাদিন তোমরা সবাই মিলে সবকিছু ভুলে থাকতে সাহায্য কর, তবে রাত্তিরে বালিশে মাথা রাখলে তখন তো তোমরা আমাকে হাসানোর জন্য থাক না। তখন আমার পুরনো বন্ধুরা ফিরে আসতে থাকে, অসহ্য কিছু স্মৃতি। তাই ঘুমের থেকে পালিয়ে বেড়াই।

    আর তোমাদের যাদের্ছেলেপুলে আছে অথবা এখন নেই, পরে হবে, তাদের সব্বাইকে বলছি, ছেলেমেয়ের প্রতিটী কথা বিশ্বাস কোরো, যদি বুঝতেও পার জে মিথ্যে বলছে, তবু ওদেরকে বিশ্বাস করতে দিও জে তোমরা ওদের কথাই বিশ্বাস করছ। ওদের জানতে দিও প্রতিটা মুহুর্তে জে ওদের মতন দামী তোমাদের কাছে আর কিচ্ছুটি নয়।
  • ব্যাং | ০৮ জুন ২০১২ ০৩:০৬12224
  • বন্ধুমহলে যত বেশি পাত্তা পেতে লাগলাম, নিজের উপর কনফিডেন্স বাড়তে লাগল। আর উড়নচন্ডিপনাও বাড়তে লাগল। হেন কাজ নেই বাড়িতে না জানিয়ে করেছি। কলেজে পড়তে পড়তেই একটা ছোট্ট কাজ পেয়ে গেলাম, বাড়িতে না জানিয়ে সেটাই করতে লাগলাম। তার উপর টিউশনি করতাম তিনবছরেও মাবাবা টের পায় নি যে তিন-চারটে টিউশনি করি আমি। ঐ বয়সে সব মিলিয়ে হাতে তিনহাজারটাকাই বা মন্দ কী ছিল। ঐ টাকাগুলো আমাকে বয়ে যেতে আরো হেল্প করল। সব মিলিয়ে একটার পর একটা ভুল সিদ্ধান্ত নিতে লাগলাম। আর ঐ যে ছোটবেলাতেই নিজের উপর ঘেন্না জন্মে গেছিল, তার থেকে আর মুক্তি পেলাম না। বিষাদ যে ভিতরে ভিতরে জাল ছড়াচ্ছিল, কখনো টের পাই নি। এক অসম্ভব ঝোড়ো সম্পর্কের মধ্যে জড়িয়ে যেতে যেতে আবার লাট খেতে খেতে পড়তে পড়তে একদম বিষাদের কবলেই পড়ে গেলাম। প্রতি মুহুর্তে নিজেকে শেষ করে দেওয়ার চিন্তা একটা একুশ-বাইশ বছরের মেয়ের। যাদবপুরের বন্ধুরা প্রমাদ গুনল। নিয়ে গেল তাদের এক স্যারের কাছে। তিনি কথা বলে শিউরে উঠে পাঠালেন সাইক্রিয়াটিস্টের কাছে। সাইক্রিয়াটিস্ট অনেক সাহায্য করলেন, কাউনসেলিং এবং ওষুধ দুটৈ কাজ দিতে লাগল। বেশ কিছু মানুষও পাশে দাঁড়ালেন, কাজের মধ্যে আমাকে ভুলিয়ে রাখলেন। এই সময়ে নিজের পরিবারও টালমাটাল অর্থনৈতিক অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিল, বাবা অন্য দেশে কাজ নিয়ে যেতে বাধ্য হয়। মায়ের থেকে আঘাত পেয়ে ঐ বাবাই ছিল আমার চিরকালের আশ্রয়্স্থল। একদিন দেখলাম, আমি-ই বাবার জুতোটা পরে নিয়েছি। বাবা ঠিক যা যা করত, পরিবারের জন্য, আমি তার সবগুলো কাজ করছি। এমনকি বাবা যেসব জিনিস কিনে আনত মায়ের জন্য উপহার হিসেবে, সেগুলৈ আমি মায়ের জন্য কিনতে শুরু করেছি। ছোট্ট ভাইকে ট্যাক্সি চড়িয়ে সিনেমা দেখাতে নিয়ে যাওয়া, বাইরে খাওয়াতে নিয়ে যাওয়া, ঠিক যেমন বাবা করত, সব করছি। কিন্তু মা তখনো আমাকে কাছে টেনে নিল না। ক্ষোভে-দুঃখে আরো বেশি করে বাইরে সময় কাটাতে লাগলাম, বন্ধুদের উপর আরো বেশি করে নির্ভর করতে শুরু করলাম। অবশ্য বন্ধুরা কখনো আমাকে বিমুখ করে নি, সবসময় আমার পাশে দাঁড়িয়েছে, এখন যেমন তোমরা সবাই দাঁড়াচ্ছ। হঠাৎ করে একটা খুব ভালো চাক্রি পেয়ে গেলাম, মানে তখনকার দিনের তুলনায় এবং আমার কাগজে-কলমের যোগ্যতার তুলনায়। অফিসে প্রত্যেকে আমাকে পিতৃস্নেহে আগলে রাখতে শুরু করলেন, ঐ ডিভিশনে আমি সবচেয়ে ছোট ছিলাম। কী ভালোঅবাসাটাই না পেয়েছি ঐ কোম্পানির সব কটা চেনা মানুষের থেকে। এবারে দেখলম মা আমাকে কিছুটা হলেও অন্য ভাবে দেখছে, অন্যদের কাছে আমাকে নিয়ে গর্ব করছে। আমিও তখন আকাশে উড়ছি।
    কিন্তু তখনো তো জানি না, বিষাদ যাকে একবার জড়িয়ে ধরে, তাকে সহজে ছেড়ে দেয় না, প্রতিটা মোড়ে অপেক্ষা করে থাকে আবার নিজের কবলে টেনে আনার জন্য। বিয়ে করলাম। নিজেই পছন্দ করে বিয়ে করলাম। শহর ছাড়লাম, আরো ভালো চাকরি পেলাম। কিন্তু তখন দুঃস্বপ্নেও বুঝি নি যা কিছু এখন খুব ভালো মনে হচ্ছে, ঠিক মনে হচ্ছে, তার প্রত্যেকটা সিদ্ধান্ত ভুল। কোলকাতার চাকরিও ছাড়া উচিৎ ছিল না, আর আমার মত মানুষের সংসারেও জড়িয়ে পড়া উচিৎ ছিল না। তারপরের সময়গুলোর কথা আর বিশদে লিখতে চাই না। শুধু এটুকু বলতে চাই যে বিয়ের পরে কিছু মানুষের ব্যবহার আমাকে আরো ঘন বিষাদের মধ্যে ঠেলে দিল। যার ফলটা হল আমার পোস্ট-প্রেগ্ন্যান্সি ব্লুজ। ছেলের জন্মের পর থেকে দুই-তিনবছর বয়স অব্দি আমার কোনো স্মৃতি আর মনে পড়ে না। ডিপ্রেশন যে সবচেয়ে আগে মানুষের স্মৃতিশক্তিটা ধ্বংস করে দেয়, সেটা নিজের জীবন দিয়ে শিখলাম। ছেলে ছিল অ্যাকিউট চাইল্ডহুড অ্যাস্থমা। যে কারণে ব্যাঙ্গালোরে এসে চাকরি জয়েন করেও ছেড়ে দিতে বাধ্য হলাম। ছেলে যত বেশি করে অসুস্থ হতে লাগল, আমি তত বেশি করে ওসিডির উপসর্গগুলোর মধ্যে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে শুরু করলাম। সে এক বিভীষিকা। চোখের সামনে দেখছি ছয়্মাসের ছেলে শক্ত হয়ে, নীল কাঠ হয়ে শুয়ে আছে, আর দুইজন ডাক্তার মিলে ঐটুকু ছেলের বুকে ঘুঁষি মারছে, অক্সিজেন লেভেল মাপছে। সব মিলিয়ে দিশেহারা হয়ে গেলাম। শুধু একটাই সিদ্ধান্ত নিলাম, এই ছেলেকে যেভাবেই হোক বাঁচাবই বাঁচাব। আমার মায়ের মতন মা কক্ষনো হব না। সবসময় আমার ছেলের পাশে থাকব। ছেলেকে একটা বড় মানুষের মতন ট্রিট করা শুরু করলাম। ছেলের পাঁচবছর বয়স অব্দি এমন একটা মাস যায় নি যে মাসে ও হস্পিটালে ভর্তি হয় নি, যে মাসে ডাক্তাররা বলে নি, এখনো কিছু বলা যাচ্ছে না, আরো কয়েক ঘন্টা না গেলে বলতে পারব না। ছেলের নার্সারি স্কুলের বাইরে গিয়ে বসে থাকতাম, কে জানে কখন ওর শ্বাসকষ্ট শুরু হবে। ঘরবাড়ি ধুলোমুক্ত রাখার এক অমানুষিক প্রচেষ্টা শুরু করলাম। মোছ ঘর আবার মোছ, দরজার ছিটকিনি মোছা, ঘরে ঢুকে পুরো পায়ের পাতা ফেলে হাঁতা জাবে না, বুড়ো আঙুলে ভর দিয়ে হেঁতে বাথরুমে ঢুকে পা সাবান দিয়ে ধুয়ে তবে ঘরে পুরো পা ফেল জাবে। আশপাশের মানুশ হগুলো তিতিবিরক্ত হয়ে জেতে লাগল
  • hu | ০৮ জুন ২০১২ ০৩:০৪12223
  • সায়নের প্রথম প্যারায় প্রবল ভাবে ক। সব সময়ে যে একটা বড় ওয়েল ডিফাইনড প্রোজেক্ট নিতে হবে এমন কোন মানে নেই। খুব সামান্য কিছুও হতে পরে। রান্না-বান্না বা সেলাই-ফোঁড়াই বা টুকটাক লেখালেখি। কিছু তৈরী করার চেয়ে বড় অ্যান্টি ডিপ্রেসেন্ট মনে হয় নেই।
  • সায়ন | ০৮ জুন ২০১২ ০২:৫৩12222
  • যাঁরা কোনও পুরনো কষ্ট আঁকড়ে কষ্টেসৃষ্টে নিজেকে ক্ষতবিক্ষত করে ভাবছেন, এযাত্রা মরে গিয়ে বেঁচে গেলাম বুঝি, তাঁদের বলি, কষ্টের বহিঃপ্রকাশ যদি দেখাতেই হয় (কারণ কষ্ট অনেকাংশেই অসহ্য), তাহলে কোনওক্রমে যদি তার প্রকাশ সৃষ্টিমূলক কিছুতে নিয়োগ করতে পারেন, ট্রাস্ট মি, সৃষ্টিশীলতার এই উচ্চতা জীবনের সাধারণ কোনও সময়ে স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারবেন না। এটা না লিখলেও চলতো। কিন্তু যেই মেয়েটার সঙ্গে আজ 'পরিচয়' হল, আর যাকে নিয়ে আজই 'এত কথা' জানলাম - তার জন্য এগুলো এখুনি না লিখলে শান্তি পাওয়া দুষ্কর।

    একটা মেয়ে, মেয়েটার নাম ধরা যাক, স্নেহা। স্নেহা রমেশ। ডটার অফ লেট আর্মি অফিসার রমেশ মুনিকৃষ্ণাপ্পা। হাসিখুশী। প্রাণবন্ত। আত্মবিশ্বাসী। যেমন হয়, তার বিয়ে স্থির হল। অ্যারেঞ্জড। দু'একবার আপত্তি করেছিল কিন্তু সে আপত্তি ধোপে টেঁকেনি। পাত্রপক্ষ নাকি খুব উচ্চজাতের ব্রাহ্মণ, একমাত্র ছেলে। হঠাৎ করে খুব শিগগিরি সব হয়ে গেল। খুশী খুশী মেয়ের বিদায়ী। বিয়ের সব চাটনি-রসম চুকেবুকে যেতে শান্ত এক দুপুরে, প্রায় তিন সপ্তাহের মাথায় মেয়ে 'বাপের বাড়ি'র দরোয়াজা খটখটায়। মা দেখে মেয়ের হাত মুখময় কালশীটে। আরও দেখে গোটা পিঠজোড়া বেল্টের দাগ। ক্রমে ক্রমে জানা যায়, বউ-পেটানো বর। ড্রাগ অ্যাডিক্টেড। ছেলের মা ছেলেকে ডাক্তারের অনেক বলা সত্বেও রিহ্যাবে পাঠায়নি কারণ ছেলে 'সম্পূর্ণ সুস্থ'! আসরে নামে মেয়ের মামা। ভাগ্নিকে বলে, তোরই দোষ। কই বিয়ের আগে আমরা ছেলেকে দেখেছি কই একবারও তো মনে হয়নি ছেলে অ্যাডিক্ট বলে। নিশ্চয়ই তোর কোনও দোষ। মেয়ের হাউহাউ কান্না কানে না তুলে তাকে তার 'নিজের বাড়ি'তে রেখে আসে মা ও মামা। তারপর থেকে প্রতিদিন মেয়েটা মুখবুজে মারের সাগর পাড়ি দিত। একদিন পারলো না আর। বাড়ি থেকে বেরিয়ে অন্য এক বান্ধবীর কাছে, অন্য এক শহরে কাউকে কিছু না জানিয়ে চলে যায়। প্রায় এক মাস পর মেয়ের বাড়িতে জানতে পারে মেয়ে নিরূদ্দেশ। খুঁজেপেতে ফিরিয়ে আনে এবার মা মেয়েকে নিজের কাছে। বলে, তোকে আর ওখানে যেতে হবে না। ছেলের বাড়ি থেকে কেউই মেয়ের খঁজ নিতে আসে না যদিও, আরও এক মাসের মাথায় খবর আসে ছেলে ড্রাগ ওডি করে শেষ হয়ে গেছে। বাইশ বছরের বিধবা স্নেহা পাথর হয়ে যায়। প্রায় ছ'মাস বাড়ির বাইরে বেরোয়নি, কন্ট্যাক্ট রাখেনি কারুর সঙ্গে। এরও প্রায় আরও এক বছর পর পর্যন্ত এমবিএ'র প্রেপারেশন নেয়, ক্যাট দেয়, ক্লিয়ার ক'রে একটা প্রিমিয়াম ইনস্টিতে ঢোকে। বাকিটা আত্মবিশ্বাস আর দৃঢ়তার কাহিনী। পাস করে বেরিয়ে কোনও হাই ফ্লায়িং জব জয়েন করেনি অনেক অফার সত্ত্বেও। নিজের মায়ের বাড়ির একতলায় একটা সংস্থান খোলে। এলাকার মহিলাদের নিয়ে স্বল্প পুঁজী সম্বল ক'রে ছোটখাটো হাতের কাজ, পাঁপড় আচার তৈরী, নিজের আগ্রহে শেখা সফ্‌ট উড স্কাল্পটিং। কনট্যাক্ট বাড়ায়। কনট্র্যাক্টও বাড়ে। লাভের মুখ দেখে ওরা। ঘর্মাক্ত খুশী খুশী মুখগুলো উজ্জ্বল হয়। ওরা সবাই ওদের প্রিয় 'আক্কা'কে যে খুব ভালোবাসে। শুধু কেউ জানে না আক্কা'র কপালের পাশে ওই গভীর ক্ষতটা কীকরে।

    প্রায় ছয় বছর জার্নির শেষে আজ স্নেহাদের ব্যাঙ্গালোরে মোট আটটা ব্র্যাঞ্চ। ও চেনাশোনা গন্ডী থেকে খেটে খাওয়া ঘরের মহিলাদের নিয়ে আসে, তাদের বেতন, মেডিক্যাল ইন্স্যুর‍্যান্স নিজে করিয়েছে। ওর এই সংস্থার পশ্চিমদিকের পার্টনার এক বন্ধু, ধরা যাক নাম আলোক। আলোক পিংলে, মারাঠি ছেলে। ওরই মত কোয়ালিফায়েড। এক বিকেলে আলোক স্নেহার মায়ের কাছে সপরিবার এসে জানায় ওদের একে অপরকে ভালোবাসার কথা। আলোক বলে, ও সব জানে, স্নেহার কাছেই শুনেছে।

    কাল স্নেহা-আলোকের বিয়ে। এখানে হোটেল ক্যাপিটলে। ভাবছি কতোটা বুকের পাটা থাকলে ওদের 'হ্যাপী ম্যারিড লাইফ' উইশ করা যায়!
  • pipi | ০৮ জুন ২০১২ ০২:৪০12221
  • ব্যাংদি, তোমার আর আমার ছেলেবেলা আর বড় হওয়াটা ক্কয়ে ক বললেও কম বলা হয়! বিশেষ করে এই লাইনটা - "মায়ের ক্ষোভ বার করার একমাত্র জায়্গা আমি।"
  • a x | ০৮ জুন ২০১২ ০২:২৭12220
  • আর শোনো, অত নিজের পরিবারের প্রতি টান ফান না থাকলেও চলবে, ওগুলো ওভারহাইপড ব্যপার। টান যার প্রতি থাকার থাকলেই হল, কোথাও না থাকলে শূন্যতা থাকতে পারে, কিন্তু স্টিল বেটার।
  • ব্যাং | ০৮ জুন ২০১২ ০২:২৫12218
  • কিন্তু টান হারালে তো হবে না, কিছু একটা তো আঁকড়ে থাকতে হবে। তো আঁকড়ালাম। অসংখ্য বন্ধু। বন্ধু আর বন্ধু। জত্ত বন্ধু বাড়তে লাগল, তত নিজের পরিবারের থেকে দুরে জেতে লাগলাম। আর একটার পর একটা কাজ করতে লাগলাম খুব ভালোকরছি ভেবে, যেগুলো প্রত্যেকটা ব্যাকফায়ার করতে থাকল সেগুলোর পিছনে অনেক শ্রম আর যত্ন দেওয়ার পরেও। যত্তো বেশি করে মানুষ চিনতে লাগলাম, তত বেশি করে নিজের ভিতরে আরো কুঁকড়ে যেতে লাগলাম। মা-বাবার জিদ ছিল আমাকে সায়েন্স পড়তেই হবে, ইন্জিনীয়ার হতেই হবে। কেন? না, আমি অঙ্কে ভালো। যা হওয়ার হল, এইচেসে কেমিস্ট্রি পরীক্ষা দিতে গিয়ে ঘুমোলাম, ফিজিক্স পরীক্ষা দিয়ে এসে বুঝলাম, অসম্ভব মিরাকল না হলে পাশ করব না। এইচেসে রেজাল্ত দেখে এসে বাবা বুকে হাত দিয়ে বসে পড়ল, দরদর করে ঘামতে লাগল। মা শয্যা নিল। আমাকে ঐ পরিবেশ থেকে বার করার জন্য বড়মামা এসে নিজের কাছে নিয়ে গিয়ে রাখল অনেকদিন। আমার খুব ইচ্ছে ছিল প্রেসিতে সোশ্যাল সায়েন্স পড়ার, বাড়িতে না জানিয়ে ফর্ম তোলা থেকে সব করলাম, চান্সও এলাম। চান্স পেয়ে এসে বাড়িতে বলা মাত্রই মা আবার রাগে উন্মাদ হয়ে গেল, কী কারণ? না, সবাই হাসবে, আমি বিএ পড়ছি জানলে। প্রেসি সোশ্যাল সয়েন্সে বিএ ডিগ্রি দেয়, বিএসসি দেয় না। এদিকে জা নম্বর কোনো ভালো কলেজেই ফিজিক্স, কেমিস্ট্রিতে অনার্স পাব না। স্কটিশে ম্যাথস অনার্স পেলাম, কিন্তু নিজের উপরে বিশ্বাসতাই চলে গেছিল, ভাবলাম এ আমার দ্বারা হবে না। শেষে স্কটিশেই ইকোনোমিক্স নিয়ে ভর্তি হলাম। মা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। মেয়ে বিএসসি পাশ করবে, বিএ নয়। তারপরের বছর্গুলো তো শুধু উড়ন্চন্ডেপনার স্ম্রিতি।
  • a x | ০৮ জুন ২০১২ ০২:২৫12219
  • বেশিরভাগ বাবা-মা'ই বাবা মা হবার যোগ্যতা থাকেনা। এবং বেশির ভাগ সন্তানের সেটাকে প্রশ্ন করার। কিন্তু তোমার এই আইসোলেশনটা তুমি অন্যভাবে প্রকাশ কর, এখন তো তোমাকে বাধা দেবার কেউ নেই, এখন লেখো। এটাকেই তোমার শক্তি ধরে নিয়ে অন্যরকম ভাব না?
  • Abhyu | ০৮ জুন ২০১২ ০২:২১12217
  • ব্যাংদির লেখাটা পড়ে দু;খ পেলাম - যাক যা হবার তো হয়ে গেছে - কিন্তু এখন সচেতনভাবে নিজের যত্ন নেওয়ার চেষ্টা কর - উল্টে নিজেকে কষ্ট দিয়ে লাভ কি বল?
  • ব্যাং | ০৮ জুন ২০১২ ০২:১০12216
  • পিপি ঃ-))
    লেখা শুরু করার আগে বলেই দিই, আমার কোনো উদ্দেশ্য নেই, আমার পরিবারের কাউকে ভিলেন প্রমাণ করার।
    আমি একদম ছোটোবেলায় ছিলাম খুব শান্ত, অসম্ভব বাধ্য। কিন্তু আমি যেমন যেমন বড় হচ্ছিলাম, দেখছিলাম আমার মার আমার প্রতি অসম্ভব আক্রোশ। আমি হয়তো একটা কোনো ভুল করলাম, মা চেঁচিয়ে বাড়ি মাথায় করে আমার পুতুলের সংসার টেনে ফেলে দিল, চুরচুর করে সব ভেঙ্গে গেল। মায়ের ওরকম রিঅ্যাকশন দেখে পাগলের মতন কাঁদতাম। কখনো যদি আত্মরক্ষার্থে কোনো মিথ্যে বলতাম, তখন শুরু হত আরো অমানুষিক মার। ছোটবেলায় কখনো কোনো কিছুর জন্য মায়ের থেকে কোনো ব্যাপারে প্রশংসা পাই নি। যদি খুব ভালো নম্বর পেতাম, মা বলতো "আচ্ছা ঠিক আছে। এটাই তো হওয়ার কথা ছিল, এর জন্য আলাদা করে আনন্দ করার কী আছে?" বড় হতে হতে বুঝতে পারি যে আমি একটা গুড ফর নাথিং। আমি কখনো কোনো কাজ ভালো করে করে উঠতে পারব না। ছোটবেলা থেকেই লিখতাম ভালো, কেউ লেখার প্রশংসা করলে মাকে এসে আনন্দ করে বললে, মা বিশেষ কোনো উৎসাহ দেখাত না। তার উপর যেটা ছিল, সেটা হচ্ছে, মা আমার কোনো আনন্দই সহ্য করতে পারত না। আমাকে হয়তো কেউ আমার পছন্দের কোনো জিনিস উপহার দিল, মা তাকে ডেকে সেটা ফেরত দিয়ে দিত। আমি কোনো পছন্দের ক্যাসেট কিনলাম, মা আমার সামনেই অন্য কাউকে ডেকে সেটা দিয়ে দিত। আমি ছবি আঁকতে ভালোবাসতাম, মা আমার ছবি আঁকার ক্লাসে যাওয়া বন্ধ করে দিয়ে আমাকে গান শিখতে বাধ্য করত। গান গাইতে খারাপ লাগত বলে আমি নাচ শিখতে চেয়েছিলাম, কিন্তু মা কারণ দেখিয়েছিল "নাচ ছেড়ে দিলে হাতির মতন মোটা হয়ে যাবি" বলে। যেহেতু মায়ের নিজের গান শেখার ইচ্ছে ছিল কিন্তু নানা কারনে শেখা হয়ে ওঠে নি। তাই আমাকে বারো বছর ধরে গান শিখে মাকে খুশি করতে হয়েছিল। আর মায়ের এই ডমিনেশন আমাকে এমন একটা জায়গায় পৌঁছে দিচ্ছিল যে আমি নিজের প্রতি সবটুকু ভালোবাসা সেই ছোট্ট বয়সেই হারিয়ে ফেলছিলাম। আমার মামার বাড়ি ছিল বীরভূমের সিউড়ি শহরে। সেখান থেকে ফিরতে হলে বাসে করে দুই ঘন্টার জার্নি করে বোল্পুর এসে শান্তিনিকেতন ধরে হাওড়া এসে আবার বাসে চেপে বাড়ি পৌঁছতে হত। একবার প্রবল জ্বর নিয়ে ধুঁকতে ধুঁকতে কোলকাতা এসে পৌঁছলাম, এসে দেখি সেদিন গানের দিদির আসার কথা না থাকা সত্বেও উনি এসেছেন পরের দিন আসতে পারবেন না বলে। মা আমাকে ঠায় বসে থেকে এক ঘন্তা ধরে গান শিখতে বাধ্য করেছিল, দিদিকে শুধু শুধু এসে আবার অতটা পথ হেঁটে ফিরে যেতে হবে বলে। এগুলো সহ্য করতে করতে বুঝতে পেরেছিলাম আমার কোনো দামই নেই আমার মায়ের কাছে। মনে হত, আমি ভুল করে জন্মে গেছি। আমি যা কিছু বলতাম, আমার মা বিশ্বাস করত না, বলতো মিথ্যা বলছি। অথচ অন্য লোকদের দেখতে চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করতে। তারা যদি আমার সঙ্গে কোনো বদমায়েশি করেছে, মাকে এসে বলেছি, মা আমার কথা বিশ্বাস করে নি। এইগুলো আমার সঙ্গে হতে হতে নিজের মেরুদন্ডতাই ভেঙে গেছিল। নিজেকে খুব হীন একটা অস্তিত্ব বলে মনে হত। তখন থেকেই আমার নিজের প্রতি এই ক্ষোভের শুরু। অথচ আবার আমার এই মাই আমাকে গল্পের বই কিনে দিত, কবিতা আবৃত্তি করে শোনাত। প্রতি জন্মদিনে একটা করে দেব সাহিত্য কুটীরের অনুবাদ সাহিত্যের বই দিত। মাদাম কুরীর জীবনের গল্প শোনাত। আমি বুঝতে পারতাম মায়ের একটা কোনো অসুবিধে আছে। মাসিদের কাছেও শুনেছিলাম মায়ের ছোটবেলাটা কত কষ্টে কেটেছে। তারপরে আমার মাকে দিল্লির রেডিও স্টেশনের চাকরি ছেড়ে দিতে হয় আমার জন্মের সময়ে। তো আমি বুঝতে পারতাম মায়ের ক্ষোভ বার করার একমাত্র জায়্গা আমি। সেতা যখন বুঝে গেলাম, তখন আর হাজার মার খেলেও কষ্ট হত না, মায়ের উপর রাগ হত না, শুধু নিজেকে কষ্ট দেওয়ার লোভটা বেড়ে জেত। তখন আমিও ঐভাবে দেওয়ালে মাথা ঠুকতাম।

    অথচ আমার থেকে দশ বছরের ছোটো ভাই যখন বড় হতে থাকে দেখি, তাকে কিন্তু আমার অভিজ্ঞতাগুলোর একটার মধ্যে দিয়েও যেতে হয় না। মাকে দেখি লিটার‌্যালি পক্ষীমাতার মতন আমার ভাইকে কোনো ঝর্ঘঝাপটা লাগতে না দিয়ে বড় করে তুলতে।

    সব মিলিয়ে আমার মেরুডন্ডটাই কুঁক্ড়ে গেছিল। আমার যত ফুটানি ছিল বাড়ির বাইরে, মায়ের নজরের আড়ালে, আমার স্কুলে, আমার কলেজে। মাকে আঁকড়ে থাকতে চেয়েছিলাম, কিন্তু মা আমাকে আগলে রাখে নি। তার ফলটা জা হওয়ার তাই হল, আমি নিজের বাড়ি, নিজের পরিবারের প্রতি টান জিনিসটি জন্মের শোধ হারালাম।
  • pipi | ০৮ জুন ২০১২ ০২:০৮12215
  • মানে?? আমায় একটা স্প্যানিশ বুল বিয়ে করতে হবে বলছ?
  • T | ০৮ জুন ২০১২ ০২:০৪12214
  • কেউ বিবিসির ইউরো ২০১২ র ওপর ডকুমেন্টরিটা দেখলো? কী ভয়ানক রেসিজম।
  • Abhyu | ০৮ জুন ২০১২ ০২:০৩12213
  • পিপি ওই জন্যে বলি একটা ভালো দেখে বিয়ে করতে। (ছেলেরা কেন বিয়ে করতে চায় তাতেও একটা পয়েন যোগ হল)
  • Abhyu | ০৮ জুন ২০১২ ০২:০১12212
  • আচ্ছা ব্যাংদি তুমি বিপাসানা সম্পর্কে খবর নেবে?
  • pipi | ০৮ জুন ২০১২ ০১:৫৫12211
  • সেতো বুঝেইছি আর তাইতেই তো আরো হিংসে পাচ্ছে।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত