ম | ২৬ আগস্ট ২০২০ ২১:০৭453533আচ্ছা এলেবেলে। এদের ধুদ্ধুড়িনাড়া হয়েছে এমন দুচারটি বইয়ের নাম দেবেন তো।
আগাম ধন্যবাদ
এলেবেলে | ২৬ আগস্ট ২০২০ ২১:০১453532আমি কথার খুব একটা নড়চড় করি না। বলে দিয়েছি অরিন না লিখলে এখানে আর কিছু লিখব না। তাতে আপনাকে আমার কথা না মেনে নেওয়া অবধি আমাকে টাইপ করে যেতে হবে, আমি এমন মাথার দিব্যি দিইনি। আপনার কাজ না থাকতে পারে, আমার অনেক কাজ আছে। কাটি।
sm | ২৬ আগস্ট ২০২০ ২০:৫৬453531
এলেবেলে | ২৬ আগস্ট ২০২০ ২০:৫১453530এসেম, সব গুপ্ততথ্য যদি ভাটে ফাঁস করি, তাহলে লেখায় আর কী পড়ে থাকবে! এই কারণেই খ-এর অভাব ফিল করি। এখনই আপনাকে বুঝিয়ে দিতেন কেম্ব্রিজ স্কুল আর পোস্ট-কলোনিয়াল স্কুলে কোথায় ফারাক।
খ কি শুনছেন আমার কাতর প্রার্থনা?
এলেবেলে | ২৬ আগস্ট ২০২০ ২০:৪৯453529মনু এবং পরাশর রিগ্রেসিভ। তাদের ঢাল করেন দুই মহাপুরুষ সেকুলার চূড়ামণি ও নারীদের উদ্ধারকর্তা হিসেবে প্রোজেক্টেড (ব্রিটিশদের দ্বারা) রামমোহন এবং বিদ্যাসাগর। আধুনিক মনু-পরাশর জুটি।
ম | ২৬ আগস্ট ২০২০ ২০:৩৭453528- বিধবাবিবাহ এবং মনুবচন - বহুবিবাহ)। মেয়েদের জন্য সবচেয়ে রিগ্রেসিভ দু'জনকে ঢাল করে প্রতিষ্ঠা হয় নারীদের দুই ভারতীয় উদ্ধারকর্তার।
এইটের মানে টা যদি একটু বুঝিয়ে দ্যান?
sm | ২৬ আগস্ট ২০২০ ২০:৩৫453527আপনি আমার দেওয়া গারল্যান্ড ক্যানন এর জোনস এর অটো বায়োগ্রফির প্রথম পেজ টা পড়লেন?এ তো স্টুডেন্ট লাইফ থেকে জিনিয়াস মশাই।স্কুলের হেড মাস্টার সার্টিফিকেট দিচ্ছেন। আপনি এতো সন্দেহ প্রকাশ করছেন কেন?!
দুই,এর পর কেনেথ আর কেনেডির পুরো আর্টিকেল দিতে পারি।
আরো অনেকে আছেন। এরা কেন এতো ভূয়সী প্রশংসা করে লিখতে যাবেন!! ?এঁরা তো জোনস নামক একজন প্রফেট এর ভক্তমন্ডলী নন।একেবারে বিশ্ব বিদ্যালয়ের রিসার্চারস।তাঁরা রিসার্চ করছেন প্রায় দুশো বছর পরে।
সমসাময়িক লোকজন এবং পণ্ডিতরাও ওনার পাণ্ডিত্য এর বিষয়ে পঞ্চমুখ।
আমি আপনার অবিশ্বাস এর পেছনে এনেকডোট ছাড়া কিছু পাচ্ছি না।
এলেবেলে | ২৬ আগস্ট ২০২০ ২০:৩০453526এসেম, ক্যানন পড়ে কি জোন্স জানা যাবে? রোশার পড়তে হবে, সঙ্গে টাকনা হিসেবে কপিল রাজ। অক্সফোর্ড থেকে আমার বন্ধু-কাম-দিদি এই নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা করেছেন। বইও প্রকাশিত হয়েছে। আমি এই নিয়ে আগ্রহী এবং বিদ্যাসাগর নিয়ে লিখছি জেনে তিনি আমাকে তাঁর বই হিসেবে অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপিটি ভালোবেসে পাঠিয়েছেন এবং ব্যবহার করার পূর্ণ অনুমতি দিয়েছেন। যেহেতু বইটি এখনও প্রকাশিত হয়নি তাই তাঁর নাম নিচ্ছি না। আপাতত এইটুকু স্যার।
এলেবেলে | ২৬ আগস্ট ২০২০ ২০:২২453525//কারো শিক্ষাদীক্ষা সম্বন্ধে নিজের অবস্থান থেকে দাঁড়িয়ে জাজমেন্টাল হয়ে ড্র করা কনক্লুশনের বাইরে তথ্যের দিকটুকু জানতে আগ্রহী//
কেউ জাজমেন্টাল হয়ে কনক্লুশন ড্র করছে না। আপনি ওয়ান পাশ করে যদি জীবনানন্দের দশটা কবিতা ইংরেজিতে অনুবাদ করেন, সঙ্গে সমসাময়িক কবি-সাহিত্যিকদের আরও নানারকম পাঁচটা জিনিস তাহলে সবাই বুঝবে ওগুলো আপনার হয়ে অন্য কেউ করে দিয়েছেন, আপনি মুফতে নাম কিনছেন। স্কুল ম্যাগাজিনে লেখার মতো।
অত বড় নাম নেওয়ার দরকার নেই। গুরুতে এক জিনিস আর্কাইভ, শোধগঙ্গা থেকে নামিয়ে প্লেটে সাজিয়ে দেওয়ার লোক বেশি নেই। তার চেয়ে বরং ছোট একটা চিহ্ন নিলেই হত।
যাই হোক, হ্যালহেডের সংস্কৃত জ্ঞানও তথৈবচ ছিল। এগারো জন পণ্ডিতের সহায়তায় এবং হেস্টিংসের আর্থিক বদান্যতায় তিনি ১৭৭৬-এ নামিয়ে ফেলেন Code of Gentoo Laws। হেস্টিংসের তখন বড় তাড়া। দেওয়ানি আদালত তাকে চালাতে হয়, কাঁহাতক পণ্ডিতদের তোল্লাই দেওয়া যায়?
কিন্তু হ্যালহেডের কাজ জোন্সের পছন্দ হয়নি। তিনি আরও বড় সংস্কৃতজ্ঞ কিনা! তো তাঁর অনুরোধে (এবং টাকার লোভে) পণ্ডিত জগন্নাথ তর্কপঞ্চানন ১৭৯২-৯৪ সালে অনুবাদ করেন বিবাদভঙ্গার্ণবসেতু। তাকেই ইংরেজিতে অনুবাদ করেন কোলব্রুক সাহেব। ততদিনে জোন্স পটল প্লাক করেছেন। ১৭৯৮তে প্রকাশ পায় কোলব্রুকের Digest of Hindu Law। মনু হঠাৎই সমস্ত হিন্দুর কাছে আইনে পরিণত হন। অথচ জীবনেও এ জিনিসকে ভারতীয়রা অত গুরুত্ব দেননি। সেখানে প্রচুর ইন্টারপোলেশন ও এক্সট্রাপোলেশন করা হয়। তৈরি হয়ে যায় আদালতে ভারতীয় হিন্দুদের জন্য আইন।
তারপরে একে বৈধতা দেন দুই কলোনিয়াল স্টুজ রামমোহন (মনুকে যাহা ২ কহিয়াছেন তাহাকেই পথ্য মানিবে) এবং বিদ্যাসাগর (কলিযুগে পরাশর মান্য - বিধবাবিবাহ এবং মনুবচন - বহুবিবাহ)। মেয়েদের জন্য সবচেয়ে রিগ্রেসিভ দু'জনকে ঢাল করে প্রতিষ্ঠা হয় নারীদের দুই ভারতীয় উদ্ধারকর্তার।
এর পরে অরিন কিছু না লিখলে এখানে আর কিছুই লিখব না।
অ্যায় ঘোতনা, এই তোর মামাকে মশলা খাওয়ানোর নমুনা? সেই সক্কালবেলা দুটো কাজ দিলাম। রন্টিপাগলা আর ফাঁফ্যার সঙ্গে ফ্যা ফ্যা করে ঘুরে বেড়ালে হবে? যা দিকি। কাজদুটো করে আয়।
sm | ২৬ আগস্ট ২০২০ ২০:০২453524এলেবেলে বাবু,জোনস সাহেব তো ছাত্রবস্থা থেকেই আর্ডিনারি না আছে,একদম একস্ট্রা আর্ডিনারি!!
গুরুচণ্ডা৯ | ২৬ আগস্ট ২০২০ ১৯:৪৮453522গুরুচণ্ডা৯ র নতুন বিভাগ সিরিয়াস৯ র এবারের বিষয় করোনায় কর্মনাশ। রয়েছে চারটি লেখা। সাংবাদিক প্রতীক লিখেছেন সংবাদকর্মীদের ছাঁটাই নিয়ে, সাংবাদিক প্রিয়াঙ্কা আইচ ভৌমিক লিখেছেন টালিগঞ্জ স্টুডিও পাড়ার হাল হকিকত, পেশায় গৃহশিক্ষক সৌমাভ চক্রবর্তী লিখেছেন তাঁর ও তাঁর পেশার অন্যান্যদের সংকটবৃত্তান্ত, এবং বাংলাদেশ থেকে সাংবাদিক বিপ্লব রহমান তুলে এনেছেন মারী আর লকডাউনের জেরে বন্ধ এক দোকানের কথা।
এ বিভাগের পর পর সব কটি লেখার জন্য ক্লিক করুন এই লিংকে
https://www.guruchandali.com/forum.php?forum=4&tag=%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%AF
আলাদা করে প্রতীকের লেখা
https://www.guruchandali.com/comment.php?topic=18672
টালিগঞ্জ নিয়ে প্রিয়াঙ্কার লেখা
https://www.guruchandali.com/comment.php?topic=18687
গৃহশিক্ষকতা নিয়ে সৌমাভর লেখা
https://www.guruchandali.com/comment.php?topic=18688
বাংলাদেশ থেকে বিপ্লবের লেখা
https://www.guruchandali.com/comment.php?topic=18689
sm | ২৬ আগস্ট ২০২০ ১৮:৩৪453520
aka | ২৬ আগস্ট ২০২০ ১৭:৩১453519
b | ২৬ আগস্ট ২০২০ ১৭:১৮453518
বিবাদভঙ্গার্ণব | ২৬ আগস্ট ২০২০ ১৭:০৭453517বাকি লিংকসমূহ,
বিশ্বকোষ - https://archive.org/details/dli.bengal.10689.5312/page/n368/mode/1up
ঋতঙ্কর মুখার্জির থিসিস - https://shodhganga.inflibnet.ac.in/handle/10603/193017
তো, বিবাদভঙ্গার্ণব ব্যপারটা কেন জরুরি সেটা যদি খোলসা হয় ...
আমি ক্লাস ওয়ান থেকে টুয়েলভ অবধি ইংরেজি পড়েও বলি, ইংরিজি খুব কঠিন জিনিস। অনেকেই হয়তো পরিণত বয়সে শিখতে শুরু করে কয়েক মাসেই চট করে শিখে যান। সে যাক, কারো শিক্ষাদীক্ষা সম্বন্ধে নিজের অবস্থান থেকে দাঁড়িয়ে জাজমেন্টাল হয়ে ড্র করা কনক্লুশনের বাইরে তথ্যের দিকটুকু জানতে আগ্রহী।
sm | ২৬ আগস্ট ২০২০ ১৭:০৬453516মেসি কে,ম্যান সিটি বা লিভার পুল এর হয়ে দেখতে চাই।
b | ২৬ আগস্ট ২০২০ ১৬:৪৯453515
sm | ২৬ আগস্ট ২০২০ ১৬:৪১453514
এলেবেলে | ২৬ আগস্ট ২০২০ ১৬:৩১453513হ্যাঁ, সে তো বটেই! তাই ১৭৮৫তে সংস্কৃত শিক্ষা শুরু করতে না করতেই এক বছরের মধ্যে মিল পেয়ে যান। বিদ্যাসাগর শাস্ত্রটা ১২ বছর পাঁচ মাস পড়েছিলেন এবং তারপরেও লিখেছিলেন 'সংস্কৃতবিদ্যা নিরতিশয় গুরুপাক দ্রব্য'। আর সেদিনের ছোকরা জোন্স নিমেষে সব হজম করে ফেললেন!
sm | ২৬ আগস্ট ২০২০ ১৬:০৩453512
sm | ২৬ আগস্ট ২০২০ ১৬:০২453511জোনস কুড়িটা র ওপর ভাষা জানতেন।ফারসি ও ল্যাটিন ফ্লুয়েন্ট জানতেন।তার ইংল্যান্ডে পড়াশোনা ছিলো হ্যারো এবং অক্সফোর্ড ইউনি তে।আগ্রহ ছিল ল এবং কম্পারেটিভ স্টাডি অফ ডিফারেন্ট ল্যাঙ্গু়েয়েজ।সুতরাং অতি অল্প বয়সে এতগুলো ভাষা জানা তো জিনিয়াস লোকের কাজ।সংস্কৃত ও তাড়া তাড়ি শিখে ফেলতে পারেন।আশ্চর্য্যের কি আছে! আর সংস্কৃত এর সঙ্গে ল্যাটিন ও ফারসিভাষায় মিল,সেতো ওনার আগে কিছু ইওরোপীয় ভাষা বিদ দের নজরে ছিলই।জোনস ও নিশ্চয় এঁদের থেকেই ধারণা পেয়ে থাকবেন।
আচ্ছা কার কেনেডি কে?? নাম টি চেনা লাগছে?
এলেবেলে | ২৬ আগস্ট ২০২০ ১৫:৫৯453510ধন্যবাদ লিঙ্কটার জন্য। কিন্তু সেই নিয়ে বিবাদটার কী হবে যার নাটের গুরু হচ্ছে সংস্কৃতে বিশুদ্ধ মূর্খ জোন্স?
বিবাদভঙ্গার্ণব | ২৬ আগস্ট ২০২০ ১৫:৫৬453509আগেরটা নগেন্দ্রনাথ বসু সঙ্কলিত ও প্রকাশিত বিশ্বকোষ (১৩১৭), ২২ খন্ড, পৃ ৩৬০
এটা - উনিশ শতকে পুরাণ পরিসর ও নির্বাচিত বাংলা উপন্যাসে জাতীয়তাবাদী ভাবধারার বিকাশ - Mukherjee, Ritankar - Jadavpur University - ২০১৫ - PhD - Chapter 3 : উনিশ শতকে বাংলাদেশে পুরাণচর্চার গতিপ্রকৃতি
অতুল সুর - "আঠারো শতকের বাঙলা ও বাঙালী" (১৯৫৭) - চ্যাপ্টার - শিক্ষা ও পণ্ডিতসমাজ
https://archive.org/details/in.ernet.dli.2015.298828/page/n105/mode/2up
এলেবেলে | ২৬ আগস্ট ২০২০ ১৫:১৩453508এহেন জোন্সের সংস্কৃত চর্চার সামান্য হদিশ নেওয়া যাক। তিনি লন্ডনে নানা ভাষা শিখলেও সংস্কৃত জানতেন না। কলকাতায় আসার আগে, অক্সফোর্ডে শিক্ষক রেখে আরবি শিখেছেন তিনি – এমনটা অবশ্য জানা গেছে। ১৭৮৩ সালে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হয়েছেন বটে, অথচ তখনও অবধি সংস্কৃতর ‘স’ জানেন না। মুনশিদের দিয়ে আরবি, ফারসি আর হিন্দুস্তানি দিয়ে কাজ চালিয়ে নিচ্ছেন কোনও ক্রমে। কলকাতায় আসা ইস্তক সংস্কৃত নিয়ে তাঁর কোনও উৎসাহের কথা জানা তো যাচ্ছেই না, বরং উইলকিন্সকে ১৭৮৪-র ২৪ এপ্রিল তিনি জানাচ্ছেন ‘life is too short and my necessary business too long for me to think at my age of acquiring a new language’। এদিকে আদালতে সংস্কৃত শাস্ত্রবিচার করে রায় দিতে হয়, জোন্সের যাকে বলে একেবারে বেইজ্জত অবস্থা! তো হিন্দু শাস্ত্রজ্ঞ পণ্ডিতদের খপ্পর থেকে নিজেকে বাঁচাতে এবং সে ভাষাটার পকড় নিজের হাতে তুলে নিতে ১৭৮৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি তিনি উইলিয়াম পিট (জুনিয়র)-কে জানান তাঁর সংস্কৃত শেখার আসল মনোবাসনার কথা। ভাষা হিসেবে সংস্কৃত শেখা তাঁর উদ্দেশ্যে নয়, আসলে তিনি ভাষাটা শিখতে আগ্রহী যাতে তিনি ‘may check on the pandits in the Court’। সময়কালটা খেয়াল করুন দয়া করে।
ভারতে পদার্পণ করার প্রায় বছরখানেকের মধ্যে এই উদ্দেশ্যে তিনি হাজির হয়েছেন কাশী, যদিও সেখান থেকে তাঁকে ব্যর্থমনোরথ হয়ে ফিরতে হয়েছে। এবারে ১৭৮৫-র সেপ্টেম্বর মাসে তিনি সংস্কৃত শিক্ষায় হাতে খড়ি নিতে পাড়ি জমান নবদ্বীপ। ৮ সেপ্টেম্বর রাসেলকে চিঠি লিখে তিনি জানাচ্ছেন যে সেখানে তাঁর যাওয়ার একমাত্র কারণ হল এমন একজন উপযুক্ত ব্রাহ্মণ পণ্ডিতের সন্ধান করা, যাঁর থেকে তিনি ‘the rudiments of that venerable and interesting language’ আয়ত্ত করে স্মৃতিশাস্ত্র অনুবাদ করতে পারেন। কিন্তু দুর্গাপুজোর কারণে নবদ্বীপের ব্রাহ্মণেরা তখন নবদ্বীপ ছেড়ে দূরস্থ যজমানদের বাড়িতে চলে গেছেন। ফলে ব্রাহ্মণ পণ্ডিদের কাউকে না পেয়ে অগত্যা অক্টোবর মাসে কলকাতা ফেরেন অব্রাহ্মণ (বৈদ্য) রামলোচন পণ্ডিতকে সঙ্গে নিয়ে। কৃষ্ণনগর থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর উইলকিন্সকে চিঠিতে জানাচ্ছেন, তিনি এবারে রামলোচনের থেকে হিতোপদেশ পড়া শিখবেন। হিতোপদেশ মানে সংস্কৃতের বর্ণপরিচয় হওয়ার পরের ধাপ! মাত্র মাসখানেকের সংস্কৃত ভাষাশিক্ষার সঙ্গে ফারসি ভাষার জ্ঞান মিলিয়ে আদালতে পণ্ডিতদের মত উলটে দিয়ে জোন্স নিজের রায় দেওয়া শুরু করেন। শুধু তাই নয়, রামলোচনেরর যাদুগুণে মাত্র এক বছরের মধ্যে তিনি সংস্কৃততে এত পারদর্শী হয়ে ওঠেন যে, ১৭৮৬ সালের ২৩ অক্টোবর হেস্টিংসকে জানাচ্ছেন তিনি ‘tolerably strong in Sanskrit’ এবং ‘Menu, the Minos of India’ অনুবাদ করতে সক্ষম!
এই লোক কি না ১৭৮৬-তে সংস্কৃতর সঙ্গে মিল পাচ্ছেন লাতিনের! তখনও ওর দুধেভাতে দশা কাটেনি। এর পরে পরেই ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত না হওয়ার 'অপরাধ'-এ আরবিকে তাড়ানো হবে। আর ফারসি সেই গোষ্ঠীভুক্ত হলেও তাকেও তাড়াবে ফোর্ট উইলিয়ামের কেরি ও তার মুনশিরা। একেই বলে কলোনিয়াল নির্মাণ।
শেষ
এলেবেলে | ২৬ আগস্ট ২০২০ ১৫:০৫453507১৮১১ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর সঞ্চিত অর্থে সংস্কৃতের অধ্যাপকপদ প্রতিষ্ঠা করেন কর্নেল বোডেন। একদা ওই পদে অধিষ্ঠিত স্যার মনিয়র উইলিয়ামস ১৮৯৯ সালে রচিত সংস্কৃত থেকে ইংরেজি অভিধানের ভূমিকায় বলেছেন, বোডেন স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে এই পদ স্থাপনে তাঁর লক্ষ্য সংস্কৃত ভাষায় বাইবেল-অনুবাদের উন্নয়ন, যাতে তাঁর স্বদেশীয়রা ভারতবাসীকে খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরিত করতে পারে। এই মানসিকতা থেকেই হ্যালহেড সাহেব কড়া নির্দেশ দেন, সংস্কৃত ভাষাটার চর্চা এমনভাবে করতে হবে যাতে ভাষাটা ব্রিটিশদের কাছে হয়ে ওঠে ‘a general medium of intercourse between the Government and its Subjects; between the Natives of Europe who are to rule, and the Inhabitants of India who are to obey’।
A Grammar of the Bengali Language গ্রন্থে হ্যালহেড রীতিমতো গর্বভরে জানান যে, তিনিই প্রথম ইউরোপীয় যিনি ‘আবিষ্কার’ করেছেন ‘the Bengal language merely as derived from its parent Shanscrit’। আর জোন্সকে তাঁর ভবিষ্যতের ‘আবিষ্কার’-এর পথ মসৃণ করে দেন এই ধরতাইটুকু দিয়ে যে, তিনি চরম বিস্মিত হয়েছেন ‘the similitude of Shanscrit words with those of Persian and Arabic, and even of Latin and Greek’ দেখে। বাধ্য ছাত্রের মতো ‘ভারততত্ত্ববিদ’ উইলিয়াম জোন্স মহাজন হ্যালহেডের দেখানো পথ অনুসরণ করে ১৭৮৬-র ২ ফেব্রুয়ারি এশিয়াটিক সোসাইটির এক বক্তৃতায় ‘আবিষ্কার’ করেন শাসকের সেই বহুপ্রার্থিত তত্ত্বটি। তিনি বলেন,
The Sanscrit language, whatever be its antiquity, is of a wonderful structure; more perfect than the Greek, more copious than the Latin, and more exquisitely refined than either, yet bearing to both of them a stronger affinity, both in the roots of verbs and in the forms of grammar, …there is a similar reason, though not quite so forcible, for supposing that both the Gothick and the Celtick, though blended with a very different idiom, had the same origin with the Sanscrit; and the old Persian might be added to the same family ….
চলবে...
এলেবেলে | ২৬ আগস্ট ২০২০ ১৫:০১453506অরিন, যথা আজ্ঞা। আগে জোন্সের সংস্কৃতচর্চার ইতিহাস।
ষোড়শ শতক থেকেই ইউরোপীয় দার্শনিকরা মানুষের ‘আদি’ ভাষার সন্ধানে ব্যাপৃত ছিলেন। তাঁদের ধারণা ছিল পৃথিবীর সমস্ত ভাষাই সেই আদিভাষা থেকে উদ্ভূত। এই আদিভাষাকে তাঁরা ‘পবিত্র’ ও ‘অভিজাত’ হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন, ফলে সমগ্র ইউরোপের জন্য এই আদিভাষার অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল লাতিন, গ্রিক ও হিব্রু।
এই ধারণা আরও জোরালো হয় ১৭৬৯ সালে হার্ডার-এর Essay on the Origin of Language প্রবন্ধ প্রকাশিত হওয়ার পরে, যেখানে তিনি সমস্ত ভাষার একটিমাত্র ভাষা-পরিবারের অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে যুক্তি দেখান। শ্বেতাঙ্গদের (বর্তমানের পরিভাষায় ককেশিয়ান) সমস্ত বর্ণের মানুষদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হিসেবে বিবেচনা করে প্রথম কেতাবি কিতাব প্রকাশিত হয় জার্মানির গোটিঙ্গন (Gottingen) বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ব্রিটিশরা এই তত্ত্ব লুফে নেয়। শ্বেতাঙ্গদের ভাষাকে শ্রেষ্ঠতম বিবেচনা করে ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠীর নির্মাণ শুরু হয় এবং সেমেটিক (মূলত আরবি) ও হ্যামিটিক (উত্তর আফ্রিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রচলিত) ভাষাসমূহকে অ-শ্বেতাঙ্গদের (মূলত বাদামি বর্ণের মানুষজন) ভাষা হিসেবে চিহিত করা হয়। এই ভাষাশ্রেণির একদম শেষ স্তরে আশ্রয় নেয় ‘কালা আদমি’-দের নিগ্রিটিক (জুলু) বা সুদানিক (ইথিওপিয়া থেকে সেনেগাল অবধি প্রচলিত) ভাষাগুলি। এইভাবে তিনটি স্তরে থাকবন্দি হয় পৃথিবীর যাবতীয় ভাষা।
সংস্কৃতকে এই ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠীতে স্থান দেওয়া হলেও, তাকে অতীত ভারতবর্ষের লুপ্ত গরিমা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ফলে ইংরেজরা এ কথা প্রমাণ করতে মরিয়া হয়ে ওঠে যে, সংস্কৃত ‘মৃত’ ভাষা এবং তার সঙ্গে বর্তমান উপমহাদেশের ভাষা ও সংস্কৃতির যোগাযোগ ছিন্ন হয়ে গেছে। তাই বর্তমানে দেশে চালু সমস্ত ভাষাই হয় ‘তদ্ভব’ (dialects) নতুবা অপকৃষ্ট ‘দেশি’ (vernacular) ভাষা মাত্র। অর্থাৎ সেই তিনটি স্তরে থাকবন্দি করে ফেলার প্রক্রিয়া এখানেও অব্যাহত থাকে। ভারতবর্ষে এই কাজ প্রথমে শুরু হয় এশিয়াটিক সোসাইটি ও পরে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বিদেশি সাহেবদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে দেশি মোসাহেবদের সক্রিয় সহযোগিতায়।
চলবে...
সিএস | ২৬ আগস্ট ২০২০ ১৪:৫২453505
অরিন | ২৬ আগস্ট ২০২০ ১৪:৪৯453504আরে এখানে লিখুন না!