এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  বইপত্তর

  • কাগুজে গুরুর বইমেলা অভিযান - ২

    Samik
    বইপত্তর | ২১ নভেম্বর ২০১১ | ৫১০৯১ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • pharida | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ২২:৫৩502782
  • এইখানে লেখ তুমি –

    ঘুমিয়ে পড়েছে রাত আজ বেলাবেলি –
    শহরের শেষ ট্রাম চলে গেছে কবে –
    এখন ফুলের টবে জাল পেতে রাখা –
    রেকাবিতে বিষনাড়ু থাকে –
    মোবাইল সংকেতে রাস্তা হারিয়ে ফেলে
    এক পরিযায়ী পাখি।

    তুমি ঠিক জানো -
    ফুঁপিয়ে ওঠেনি আজ কেউ
    তোমার মুখোমুখি?
  • aranya | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ২৩:১৪502783
  • এইবার আমি ঠিক কেঁদে ফেলব :-(
  • aranya | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ২৩:১৭502784
  • একটুর জন্য কত কিছু হল না। সময়, কোন সময়, হায় সময় .........
  • Bratin | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ২৩:৩৪502785
  • কালকে যাবো।
  • nk | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ২৩:৩৮502786
  • অরণ্য, বিপুল ব্যাপক ধূলোর কথা জানলে আর কাঁদবেন না, কারণ তাইলে কাদা হয়ে যাবে ! :-)
  • aranya | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ২৩:৪৭502787
  • দেশে থাকলে, কল্লোল-দা/মহীনের ঘোড়াদের গান শুনতে আর রঞ্জন-দা, কল্লোল-দা, কাব্লি-দা, সাম-সুম ইত্যাকার সবার সঙ্গ পেতে আমি মুখে মুখোশ বেঁধে, দরকারে আগাম অ্যান্টিবায়োটিকের কোর্স শুরু করে যেখানে যেতে হয় যাব, ধূলার ভয়ে কম্পিত নয় এ হৃদয়। শুধু বসের খেঁচানিতে আম্রিগা-ভারতটা এ যাত্রা হয়ে উঠল না, যদিও চেষ্টা করেছিলাম একপিস নিঊইয়র্ক-লুরু- কলকাতা (কল্যাণী, নবগ্রাম)-নিঊইয়র্ক ঝটিকা সফর নামানোর।
  • nk | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ২৩:৫৪502788
  • ব্যাপারটা সিম্পল হারমোনিক মোশনের মতন হয়ে যেতো অরণ্য। :-)
  • kd | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ০০:৩৯502789
  • নিশি, বইমেলায় কোথাও ধুলো নেই। পুরো মেলাটা সুন্দর টাইল্‌স দিয়ে বাঁধানো। এমনকি রাস্তাঘাটও পরিস্কার - কলকাতার বাসিন্দেরা আপ্রাণ চেষ্টা করেছে মেলাটাকে বাকি শহরের মতো করতে - কিন্তু মেলাকর্মীরা এতই ""অভদ্র'' যে কিছুতেই তা হ'তে দিচ্ছে না।

    মেলাপ্রাঙ্গনে বিড়ি খাওয়া বারণ - তাই বলে বারবার অ্যানাউন্স করছে। তা আমরা লি-ম্যা এরিয়ার সামনের টয়লেটের পাশে বিড়ি খাওয়ার পারমিশন নিজেদেরই দিয়ে দিয়েছিলুম। কিন্তু কোন কারণে পুলিশ আমাদের সঙ্গে একমত হয়নি - গোটা চারেক পুলিশ এসে আমাদের সংযত হ'তে বল্লো, মানে হাতের জ্বলন্ত বিড়ি ফেলে দিতে বল্লো। কিন্তু বিড়ির এই অপমান কোনো বাঙালি সহ্য করতে পারে, তোমরাই বলো। একটি উদীয়মান ছেলে (বড় হয়ে এই ছেলে নির্ঘাত এক কেউকেটা হবে) বল্লো, না ফেল্লে কী করবেন? উত্তর পেলো, অ্যারেস্ট করতে বাধ্য হবো। উত্তর - বেশ তো, করুন। পুলিশ - চলুন তাহ'লে। হেঁটে? তা কি করে হয়? অ্যারেস্ট করলে তো গাড়িতে করে নিয়ে যেতে হবে, তাই নিয়ম। গাড়ি নিয়ে আসুন, আমরা কোথ্‌থাও যাচ্ছি না।
    পুলিশগুলো সেই যে গাড়ি আনতে গেলো, মেলা শেষ অব্দি এলো না।

    অনেক পরে কয়েকটা ভাড়াটে ভলান্টিয়ার ঝামেলা করতে এসেছিলো, কিন্তু যে কাজ পুলিশ পারেনি, এরা কী করবে?
  • siki | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ০০:৪০502790
  • আহা, আত্তিরদিদি কী লিখে গেল! এ তো যুগলবন্দী বেজে শেষ হল মনে হচ্ছে।

    যথারীতি ড্যাম টায়ার্ড। গল্প কাল লিখব, এটুকু বলি, কল্লোলদা গিটার নিয়ে আজও বসে পড়েছিল সামনের ঘাসজমিনে, গানের গন্ধে মাতাল হয়ে এসে পড়েছিলেন এক ব্রিটিশ কবি। কল্লোলদার "বন্ধু দে, ছায়া দে' গানের সঙ্গে তিনি টুইস্ট নাচলেন, শেষদিকে ঠোঁট মেলানোর চেষ্টাও করলেন, এরপরে আমরা শুরু করলাম বব ডিলান, হাও মেনি মাইলস মাস্ট আ ম্যান ওয়াক ডাউন, তারপরে হোয়্যার হ্যাভ অল দা ফ্লাওয়ার্স গন, তারপরে ...

    সে এক জমে ক্ষীর অবস্থা। পাগলা খাবি? না আঁচাবো কোথায় কেস।
  • siki | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ০০:৪২502792
  • হুঁ, বারো বছর পর এক বইমেলা দেখে গেলাম, সম্পূর্ণ ধূলোবিহীন বইমেলা। গুডবাই ক্যালকাটা বুক ফেয়ার। আসছে বছর আবার হবে।
  • r2h | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ০০:৫২502793
  • যা:, সিকি চললে?
    তাও একটা লোক ছবি তুলছিলো :(
  • siki | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ০১:০০502794
  • ছবি তুলেছি। এখানে আর আপডেট দিচ্ছি না। চোখ রাখো আমার অ্যালবামে। আধঘন্টা পর।
  • r2h | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ০১:০২502795
  • চোখ রেখেই বসে আছি :)
  • siki | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ০১:৩১502797
  • ইন ফ্যাক্ট ১৬৩ থেকে শুরু।
  • siki | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ০৯:৩৪502800
  • সামরান, লিং খুলছে না। বোধ হয় পাবলিক করা নাই।
  • kiki | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ১১:৩৮502803
  • উ: আর পারা যাচ্ছে না। মনে হচ্ছে আজ পতিগ্গা টতিগ্গা ভেঙে ফেলবো।
  • raatri | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ১১:৪৯502804
  • সরি,বোতিনের সাতেও আলাপ হয়েছে সেই পোথোম দিন।ভুলে গেচলাম।আর বইমেলায় সত্যি ধুলো নেই কো,আমার ধুলো হল বাইপাসে ভুলভাল জায়গায় নেমে বাঁশ টপকে রাস্তা পেরোনো ইত্যাদির।যাতে দেড়-দু কিলোমিটার কম ঘুরতে হয় আর কি।আর ধুলো মানে ধুলোর ঝড় রীতিমত। ওভারবিরিজের কি ঠেলা রে বাপ্পো!!
  • kumu | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ১২:০৮502805
  • সিকি,ফিরে এলে?

    ম্যামির ছবি আছে তো?
  • kumu | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ১২:৪৩502806
  • আমার "উন্মন বাদ্যকরে" ইন্দোর সই নাই ক্যানো,অ্যাঁ???

    না হয় আধা ঘন্টার জন্য গেছি,না হয় কোন কাজ করি নি,না হয় আমার বিশাল বপু হেতু (জিনিও একটু ব্যোমকে গেছিল,চোখ দেখেই বোঝা গেছিল)গুরুর বিক্কিরি একটু থমকে গেছিল,

    তাই বলে কি সই দেবে না?

    পরের্বার দেখে নেব।
  • raatri | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ১৩:১৫502807
  • আজকের বর্তমান-টা জোগাড় কোরো কেউ,আমার সুবিধে নেই।জয়ন্ত দে গুরু-র রিভিউ লিখবে বলেছে।
  • siki | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ১৪:১৩502808
  • ম্যামির ছবির লিং তো দিয়ে দেছি।

    আর আমি আজ বিকেলে রাজধানীতে চাপছি, কাল পৌঁছবো।
  • kallol | ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ০৮:২০502809
  • ৩ তারিখ।
    চলছিলো হৈচৈ, গান আর আড্ডা। তার মধ্যে সিগারেট কান্ডো। আমাদের কাব্লি আর এপিডিআরের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সুভাসদা ক্ষেপে গিয়ে পুলিশ আর ভলেন্টিয়ারদের অ্যায়সা বকুনি লাগালো যে কি বলবো। কে আবার অ্যারেস্ট করার হুমকি দিলে গাড়ি আনার হুকুম হলো। গাড়ি ছাড়া অ্যারেস্ট হয়!! হেঁটে হেঁটে গ্রেফতার হওয়া যাবে না। এইসবের মাঝে ফোন এলো সুতপার। মহীনের আদি ঘোড়া বাপির বৌ। মহীনের প্রধান ঘোড়া মনিদার বৌ মিনতি উকিলের চিঠি দিয়েছে। বাপি ওদের অপ্রকাশিত অপ্রচলিত গানের একটা সংকলন সম্পাদনা করেছে। সেটা ৪ তারিখ প্রকাশিত হবে। মেলায় এলো সুতপা চিঠিটা নিয়ে। তাতে লেখা ড: মিনতি চ্যাটার্জি ২০০৯ সালে মহীনের ঘোড়াগুলি ব্র্যান্ডের আর তার সমস্ত ইন্টালেকচুয়াল প্রপার্টির একমাত্র স্বত্বাধিকারী, তাই বাপি এই সিডি প্রকাশ করতে পারবে না।
    মন খারাপ। মেলা জমলো না। মেলার মাঠ থেকেই ফোন করলাম, আইনজ্ঞ বন্ধু সাধন রায় চৌধুরীকে। বাড়ি ফিরে এলাম তাড়াতাড়ি। ও হ্যাঁ, আরসেলানের বিরিয়ানী ছিলো। কোনমতে আমি আর রঞ্জন ভাগাভাগি করে খেলাম। বিরিয়ানীর প্যাকেট হাতে টেবিলের উল্টোদিকের ঘাসজমিতে বসতে গিয়ে হঠাৎ প্রায় শুয়ে পড়ে আর কি। একটা অবাধ্য চিকেন টুকরো কেটে পড়ার তাল করছিলো। রঞ্জনের কোলের উপর ল্যান্ড করায় বেচারার প্রচেষ্টা বিফলে যায়। রঞ্জন অবশ্য ওর ক্রিকেটিয় কুশলতার দিকটাই তুলে ধরতে চাইলো, আর পাই "দ্যাটস দ্য স্পিরিট" বলে বাহাবা দিলো।
    ৪ তারিখ।
    সক্কাল সক্কাল শিয়ালদা স্টেশনে, মধ্যমগ্রাম কোন ট্রেন যাবে সেটা খুঁজে পেতে নিয়ে মধ্যমগ্রামে সাধনদার বাড়ি। বিপুল কলেবর সাধনদার আলিঙ্গনে হারিয়ে গেলাম, সব অর্থেই। চা এবং টা শেষে চিঠিটি নিয়ে বসা হলো। সাধনদা বিস্তর নেট ঘাঁটাঘঁটি করে সে চিঠির জবাব দিলেন। আর আমাকে বললেন সিডি এখনই প্রকাশ না করতে। আমি জানতে চাইলাম, এই সিদ্ধান্তটা কি আমরা সিডি প্রকাশের অনুষ্ঠানে ঘোষনা করতে পারি? সাধনদার জবাব - অবশ্যই পারো।
    সাধনদা নিজে ভালো গান গায়। ফলে সব মিটে গেলে গান-আড্ডা ও খাওয়াদাওয়া শেষে বাড়ি হয়ে মেলা প্রাঙ্গনে।
    আমরা শেষ পর্যন্ত সিডি প্রকাশের অনুষ্ঠানে ঘোষনা করলাম - মিনতি চ্যাটার্জির এই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে আমরা তাপস দাস সম্পাদিত মহীনের ঘোড়াগুলি অপ্রকাশিত অপ্রচলিত সিডিটি প্রকাশ করলাম - নাআআআআআ। তারপর অনুষ্ঠান মঞ্চের বাইরে এসে প্রকাশ না করার আনন্দে প্রচুর গান বাজনা হলো। প্রথমেই মনিদার লেখা গান - আমরা গাইবো শুধু গান..........
    সারাক্ষণ গুরুস্থানে যাওয়াই হয় নি প্রায়। আজ যাবো।
  • siki | ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ১২:৩০502810
  • কাল ট্রেনে বসে এটা লিখেছিলাম। পেস্ট করে দিলাম।

    ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১২
    কেমন ধোঁয়াটে লাগছে। পেছনে যে সাতটা দিন ফেলে এলাম, সত্যিই কি আমার জীবনে এসেছিল, নাকি লম্‌-ম্‌-ম্বা একটা স্বপ্ন দেখে উঠে ঘুম ভাঙল, আর দেখলাম আমি রাজধানী এক্সপ্রেসের কামরায় বসে আছি?
    ট্রেন ছাড়িয়ে গেছে বর্ধমান, একটু আগে সামরানকে ফোন করে জানলাম জলপাইগুড়িতে আমার তিন বছরের রুমমেট কে-কে, কৌশিক কুণ্ডু গিয়ে পৌঁছেছে গুরুর স্টলে। প্রত্যেক দিনের মতই মেলা জমজমাট। আমি একলা বসে বসে ল্যাপটপে শুনছি কল্লোলদার গান, কালকে পেয়েছি।
    বরং পরশু থেকে শুরু করা যাক। ঈপ্সিতা ধরে বসল, ওর ওখানে থাকতে আমার কোনো আপত্তি আছে কিনা। আমার পক্ষে এমনিতেই বাড়ি থেকে দৈনিক যাতায়াত করা বেশ চাপের হয়ে যাচ্ছে, এদিক ওদিক কারুর বাড়িতে এক রাতের জন্য মাথা গোঁজার জায়গা খুঁজে পেলে বর্তে যাই। ভাবছিলাম কাবলিদার বাড়িতে থেকে যাব কিনা, তা ঈপ্সিতার কথায় রাজি হয়ে গেলাম।
    পরশু মানে, দু তারিখ। মেলার শেষে এক বুক মুগ্ধতা নিয়ে বেরোলাম যখন, তখন রাত প্রায় নটা। পাইয়ের সঙ্গে ঘুরে বেড়ানোটা এক অ্যাডভেঞ্চারের বেশি বই কম নয়। মেয়েটা এত বেশিজনকে চেনে, এবং সব জনের সঙ্গে এত বেশিমাত্রায় কথা বলে, যে ওর কথা শেষ হবার জন্য অপেক্ষা করতে করতে পায়ে ব্যথা ধরে যায়, কাঁধের ল্যাপটপ জানান দেয় তার ওজন, চোখের সামনে দিয়ে হুশশ করে বেরিয়ে যায় গন্তব্যে যাবার লাস্টের আগের বাস।
    শ্যামবাজার পাঁচমাথার মোড়ে সুমিত ডাক্তার যখন ছেড়ে দিল তখনই বাজে রাত প্রায় সাড়ে নটা। একটা বাস বেরিয়ে গেছে, পরের বাসটা কখন আসবে জানি না। নেতাজি যেদিকে আঙুল দেখিয়ে রয়েছেন, তার ঠিক উল্টোদিকের রাস্তায় দাঁড়িয়ে আমরা প্রতীক্ষা করতে লাগলাম পরের বাসের, যা এল প্রায় দশটায়। প্রথমদিকে বসার জায়গা হয় নি, বাসে সীট পেয়ে গেলে পাইয়ের মত লক্ষ্মী মেয়ে আর দুটি হয় না, দাঁড়িয়ে থাকা সহযাত্রীর একাঁধ ওকাঁধ পিঠ ঘাড় থেকে শেষতম ব্যাগটি খুলে নিয়ে নিজের কোলে না নেওয়া পর্যন্ত ওর শান্তি নেই, ব্যাগ ল্যাপটপ বই ইত্যাদির স্তুপে চাপা পড়া পাইকে দেখা যায় না, কেবল আমি বাসভাড়াটা দেবার জন্য পকেটের দিকে হাত বাড়াতেই সেই স্তুপের ভেতর থেকে একটা হাঁ-হাঁ আওয়াজ এবং একটা হাত বেরিয়ে আসে টাকাসমেত। এবং তার সঙ্গেই স্বপনকুমার স্টাইলে স্তুপের ভেতর থেকে অন্য হাত দিয়ে বের করে আনে গুরু এবং চটির কিছু কপি, কারণ পাশের সহযাত্রীর সঙ্গে তার ততক্ষণে আলাপ হয়ে গেছে, এবং সেখানেও সে গুরুর কপি বিক্কিরি করার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ মেয়েকে ভার দিলে একদিনে তাজমহল বেচে দিতে পারে, সন্দেহ নেই তায়।
    আমি রড ধরে ঝোঝুল্যমান, পাই লেডিজ সীটে উপবিষ্টা, এই অবস্থায় গল্পগুজব বেশ ভালোই চলছিল, হঠাৎ মৃদু কোলাহলের আওয়াজ সামনের দিকের লেডিজ সীট থেকে। দুই মহিলায় লেগেছে। একটু কান পাততেই বোঝা গেল কেস কী। একজন বয়স্কা, তাঁর ওপরে ঢুলতে ঢুলতে বারে বারে হেলে পড়ছেন পাশের জন, তাইতে বিরক্ত হয়ে বয়স্কা বলেছেন, “সোজা হয়ে বসুন না”, আর তার ফলেই দ্বিতীয়ার আঁতে ঘা লেগেছে। তিনি কি গায়ে ঢলে ঢলে পড়েছিলেন? বার চারেক অভিনয় করে দেখালেনও, “আমি কি –এই—ভাবে পরিচি আপনার ঘাড়ে, বলুন, আমি কি –এ—ই ভাবে উল্টিচি?”
    বাসের লোকেরা হাল্কা করে মজা নিচ্ছে। দু চার কলি ঝগড়ার পরেই বোঝা গেল, কমবয়েসী জন টিপিকাল কলকাতার বস্তিবাসী, পাশে তার স্বামীও বসে, চোয়াড়েপানা মুখ, চোখে সুর্মা, কানে দুল, দুজনেই প্রবল পরিমাণে ইনটক্সিকেটেড। বেশ জমিয়ে মদ টেনে দুটিতে উঠে বসেছেন বাসে, আর ঢলে পড়ার পরে দু-কথা শুনে মাতাল মহিলার মনে হয়েছে তাঁর মদ খাওয়া নিয়ে খোঁটা দিয়েছেন বয়স্কা মহিলা।
    বয়স্কাজন বিশেষ কিছু বলার সুযোগ পান নি এর পরে, মাতালজনা একটানা তীব্র স্বরে চালিয়ে গেল, “ক্যা—নো চুপ করব আমি? চুপ করবো কেন? কোন শালা হারামীর বাচ্চার বাপের পয়সায় মদ খেয়েচি আমি? কোন বাঁ* চু*মারানীর বাচ্চা এখানে মদ খায় না, আমায় কেন সরে বসতে বলবে, আমি কি এ—ইভাবে ঢলে পড়িচি? অ্যাঁ? ক্যা—নো, ক্যানো চুপ করব আমি?”
    বাস ভর্তি লোকজন, মনে হল দিল্লির বাসে আছি। অল্পবিস্তর প্রতিবাদ হল, এই গালাগাল দিচ্চো কেন, এই কন্ডাক্টর একে নামিয়ে দাও, কিন্তু ঠিক সেইভাবে কিছু হল না, যেভাবে কলকাতার বাসে হওয়া উচিত। কণ্ডাক্টর নির্বিকার মুখে ঝুলে রইল পাদানিতে, তার খুচরো পয়সার ব্যাগ সমেত, বাস চলতে লাগল, কারণ রাত তখন সাড়ে দশটাও ছাড়িয়েছে, সবারই বাড়ি ফেরার তাড়া। ... মাঝপথে কোন এক স্টপেজে দুটি কপু উঠলেন, বাসশুদ্ধু লোকের সমবেত বক্তব্য শুনে, “এই কেন ঝামেলা করছেন, চুপ করে বসুন, গালাগাল দেবেন না, অন্যের অসুবিধে করবেন না” বলে গটমটিয়ে নেমে গেলেন।
    বাস আবার চলতে লাগল, আমি এই ফাঁকে মোবাইলে রেকর্ডার চালিয়ে সেই ভিড় বাসের সমবেত আওয়াজ আর সুভাষিতাবলী খানিকটে রেকর্ড করে রাখলাম।
    উত্তরপাড়ার একটা সরু গলির মাঝখানে যখন বাসটা আমাদের ছেড়ে দিল, তখন বাজে রাত এগারোটা কুড়ি। চারপাশের বন্ধ দোকানের সাইনবোর্ড দেখে বুঝলাম, গলিটার নাম জি টি রোড। সেখানে একটি মাত্র রিকশা দাঁড়িয়ে আছেন, আমি আর পাই গিয়ে যখন দরবার করলাম তাঁর কাছে, তিনি সাফ ঘাড় নেড়ে “না” করে দিলেন। আমি তো ঘাবড়ে ঘ, কিন্তু পাইকে দেখে মনে হল না একটুও ঘাবড়েছে। দিব্যি সুরেলা গলায় প্রথমে বলল, চলুননা দাদা চলুননা, বেশি ভাড়া দেব। তাতেও ভবি ভুললেন না, পাই তখন দাবি করল, ফিরতি ভাড়াও দেব।
    এইবারে মনে হল একটু বরফ গলল। রিকশার সামনে অত রাতেও একটি মাত্র দোকান তখনও খোলা, মালিক সামনেটা ঝাঁট দিচ্ছিলেন বন্ধ করার আগে। তিনি আমাদের হয়ে রিকশাওলাকে পারসু করলেন, ভাই লে জা, ডবোল ভাড়া দে দেগা না, লে জা।
    রিকশা নিয়ে চলল পাইবাড়ি। মানে অ্যাকচুয়েলি মশামেশোর বাড়ি। পাই কা সসুরাল। ক্ষী পুঁদিচ্চেরি অবস্থা, সেখানে গিয়ে রাতে খেতে বসলাম তখন আর বৃহস্পতিবার নেই, শুক্রবার হয়ে গেছে। কী কী খেয়েছিলাম আলাদা করে মনে নেই, তবে মাংসটা জাস্ট অসাধারণ হয়েছিল, এইটা মনে আছে।
    খেয়ে উঠে হাল্কা আড্ডা হল মাসিমার সঙ্গে। পাইয়ের শাশুড়ি, মশামেসোর মা। ব্যাপক মানুষ। আড়াইটে নাগাদ সব্বাই ঘুমোতে চলে গেল, আর দিনের ফোটো আপলোড করে আমি যখন ঘুমোতে গেলাম তখন বাজে তিনটে পঁচিশ।
    সাতটায় ঘুম ভাঙল, ঝটপট রেডি হয়ে বেরিয়ে পড়লাম, ধর্মতলায় কিছুকিঞ্চিৎ কাজ ছিল। তা সেখানে ফুটপাথ ধরে হকারদের সাথে পাজামা, টিশার্ট ঘড়ি বেল্ট লাগেজব্যাগ ইত্যাদি নিয়ে দর করতে গিয়ে যা বুঝলাম, কলকাতায় বাঙালি আর বিশেষ বেঁচে নেই, অন্তত ধর্মতলা পার্কস্ট্রীট এলাকায় একটাও বাঙালি নেই। কী চাপ রে ভাই, বাংলায় কথা বললেও হিন্দিতেই উত্তর দেয়। যাই হোক, কাজকম্মো সেরে দুটো বাজতে পাঁচে যখন বইমেলার গেটে নামলাম, তখন জনস্রোত দেখে আমি জাস্ট হাঁ।
    কাতারে কাতারে লোক ঢুকছে, হাজারে হাজারে। দুটো তখনও বাজে নি, দুই নম্বর গেটের সামনে ব্যাপক ভিড়। তাড়াতাড়ি গিয়ে টেবিলে পৌঁছলাম। জাস্ট দু-থাক বই তুলেছি নিচের সুটকেস থেকে টেবিলে, সামনে খদ্দের এসে হাজির। বই নেড়েচেড়ে দেখছেন, উল্টেপাল্টে দেখছেন। আমি নিচে সামলাই না ওপরে সামলাই। সব বই বের করার আগেই একশো টাকার বই বিক্রি হয়ে গেল। তখনই শঙ্কর এল মুখে একগাল হাসি আর হাতে প্যাকেটভর্তি বিরিয়ানির ডাব্বা নিয়ে। রঞ্জনদা পার্টি দিচ্ছে আজ। শঙ্করকে টেবিলের ওপরটা দেখতে বলে আমি ঝটপট সব বই বের করে ফেললাম। তখনই এসে পৌঁছল সামরান, সৈকত, কাবলিদা। শুক্রবার সামরানকে দেখে চোখে ঘোর লেগে যাবে যে কারুর। আগুনরঙা লাল শাড়িতে তুলকালাম লাগছে। খোঁপায় একটা পলাশফুলের শুধু অভাব ছিল, সেটুকু হয়ে গেলেই … ব্যস্। আমি তো প্রপোজ করতামই।
    মিঠু এল, হইহই করে শুরু হয়ে গেল বইমেলায় আমার শেষ দিন। কল্লোলদা আর রঞ্জনদাও হাজির। কল্লোলদা বেশি কথার মানুষ না, এসেই এক চক্কর ঘুরে নিয়ে গিটার নিয়ে বসে পড়ল সামনের একফালি ঘাসজমিনে। শুরু হল গান। ভালো থাইকো বন্ধু আমার এমন বিজনে, ভালো থাইকো ভালোবাসায় বন্ধুর পরানে।
    ভিড় জমতে দেরি হল না বেশি। হঠাৎ দেখি ভিড়ের মধ্যে উঁকি মারছে আরেক চেনা মুখ। আরে, এ যে দময়ন্তী! শেষদিন তা হলে দেখা হয়েই গেল।
    দেখা হয়ে গেল আরো অনেকের সাথে, কুয়েত থেকে এসে হাজির কেসি, আরেক কোন দুর্গম জায়গা থেকে এসে হাজির আমাদের শান্তিনিকেতনি শান্তনু। সস্ত্রীক। এলেন শুদ্ধসত্ত্ব। মহাভারতের লেখক। জমাটি এক মানবজমিন, কথা বলে সুখ হয় এমন লোক এই শুদ্ধসত্ত্ব।
    গুরুর টেবিল খালি যাচ্ছে না এক মিনিটের জন্যেও। আশপাশের অন্যান্য লিটিল ম্যাগাজিনের দল সেই অর্থে মাছি তাড়াচ্ছে, কিন্তু গুরু একদম জমজমাট।
    কাজের কাজ যেটা করেছি, কাল কেসি পালের কাছে গিয়ে তাঁর বই এককপি কিনেছি। তিন রকমের বই আছে, একটাকা, পাঁচটাকা আর দশটাকা। কিন্তু কেসি পাল বললেন, ৫ টাকার বইয়ের প্রথম পাতাটাই এক টাকায় পাওয়া যায়, আর দশ টাকার বইটা সব শেষ। “এই বইমেলার বাজারে কখন আর প্রেসে যাবার টাইম পাবো, বলুন?” তা একটা ৫ টাকাই নিয়ে নিলাম, গুরুর জনতার স্বার্থে ওটা আমি স্ক্যান করে রাখব। বেশি না, মাত্র ৬ পাতার বই। হাতে লেখা, জেরক্স করা।
    ক্যালেণ্ডার শেষ হয়ে গেল দেখতে দেখতে, মুখোশও প্রায় শেষ। বেশ কিছু ডিস্ট্রিবিউটর নিজে থেকে এগিয়ে এলেন ভারতে এবং বিদেশে গুরু সাপ্লাই করবার প্রপোজাল নিয়ে। জয়গুরু, এনজয় গুরু। দীপ্তেন্দার আমার ৭০ আর মাত্র সাত কপি পড়ে ছিল, হয় তো আজই শেষ হয়ে গিয়ে থাকবে। হটকেকের মত উড়ছে কল্লোলদার ‘কারাগার বধ্যভূমি’। সামনের জমিতে কল্লোলদা গান করছেন, আর এদিকে সিকি হাঁকছে, ‘এদিকে গুরুর বই, ওদিকে গুরুর গান, নিন, এবার কোথায় যাবেন, যান’।
    ভিড়ের মধ্যে এসে জুড়ে গেলেন ব্রিটেন থেকে আসা এক কবি। নাম, । তিনি বোধ হয় একটি দুটি কবিতা পড়েছিলেন, আমি শুনতে পাই নি, আমি যখন খবর পেয়ে গেলাম ওদিকে, দেখি কল্লোলদা গান ধরেছে, ডিলান বাউলের। দা আনসার মাই ফ্রেন্ড, ইজ ব্লোয়িন ইন দা উইন্ড, দা আনসার ইজ ব্লোয়িন ইন দা উইন্ড।
    ব্রিটিশ কবি তাঁর নাম আর ওয়েবসাইট লিখে দিলেন এক টুকরো কাগজে, রানীর দেশে তাঁর একটা পোয়েটস কমিউনিটি আছে, তিনি তার মেম্বর।
    আটটা বাজল, মেলায় আমার মেয়াদ শেষ। আত্তিরদিদি আগেই চলে গেছে, ইন্দোদাদা আজ আসতে পারে নাই। শেষবেলায় এল সুমিত। সবাইকে টা-টা করে ফেললাম, কিন্তু পাইয়ের কথা কি শেষ হয়? ভাসুরপো বলে দিয়েছে ডাইনোসর নিয়ে আসতে, সেই ডাইনোসর না পেলে তিনি ফিরতে পারবেন না উত্তরপাড়ার বাড়িতে। শুদ্ধসত্ত্ব আমাদের নিয়ে গেল ইংরেজি প্যাভিলিয়নের দিকে, সেখানে গিয়ে পাইদিদি ডাইনোসরের ওপর লেখা বাংলা বই খুঁজতে লাগলেন। অবশেষে অন্য একটা বই চুজ করে তিনি শাশুড়ির জন্য বই খুঁজতে শুরু করলেন। মুখ কিন্তু থেমে নেই। ... সকালবেলায় পাইয়ের শাশুড়ি আমাকে বারবার বলে দিয়েছিলেন, বাবা শমীক, তোমাকেই বলছি, ঈপ্সিতাকে তো বলে লাভ নেই, ওকে একটু তাড়াতাড়ি মেলা থেকে বের করে এনো, যেন দশটার মধ্যে বাড়ি ঢুকে যায়। তো সেই তাড়াতাড়ির চোটে চ্যাটারবক্স পালভৌমিককে বকেঝকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে বের করে এনে যখন বালিখাল ডানকুনির বাসে চাপলাম, তখন বাজে পৌনে নটা।
    বেজায় ভিড় বাসে, অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ঝাঁকুনি খেতে খেতে বসার জায়গা পেলাম, আর অমনি পাই আমার পাশের সহযাত্রীকে গুরুর কপি ধরিয়ে দিল। দোষের মধ্যে ভদ্রলোক আমাদের কথোপকথন শুনে জানতে চেয়েছিলেন, আমরা কোনো ম্যাগাজিনের সঙ্গে যুক্ত কিনা। আমারও যে কোনো দোষ ছিল না কথায় কথা বাড়ানোয়, সে কথা হলফ করে বলতে পারব না। অবশেষে কন্ডাক্টর আর ড্রাইভারের যুগপৎ গালাগাল খেয়ে প্রায় খালি বাস থেকে আমরা যে সম্পূর্ণ অন্ধকার রাস্তায় নামলাম, শুনলাম সেটাই নাকি বালীখাল। সামনে একটা খালও দেখলাম।
    রাত তখন দশটা। কোন হালায় কইসিল এদিক দিয়ে এলে নাকি তাড়াতাড়ি হয়?
    কিন্তু কহানীতে এখনো টুইস্ট বাকি। জানা গেল পাই অনেকদিন আগে মশামেসোর সঙ্গে নাকি হাত ধরাধরি করে এই খালপাড়ে একদিনই হেঁটেছিল, তারপরে আর আসে নি। আজ তাই তেমন চিনতে পারছে না। দূরে একটা রাস্তার মোড়ে মনে হল আলো জ্বলছে, সেদিকে এগিয়ে গেল্মম। রাস্তা জিজ্ঞেস করে জানলাম হুই সেখান থেকে অটো যায়, সেটা উত্তরপাড়া স্টেশনে নামিয়ে দেয়। পাইয়ের শ্বশুরবাড়ি স্টেশন থেকে বেশি দূর নয়।
    হুই সেখানে গিয়ে দেখি দিনশেষের একটিমাত্র অটো বসে ছিল আমাদেরই অপেক্ষায়। আমরা বসলাম, অটো চলল বালীখালের অটোস্ট্যান্ড শূন্য করে। দশটা পঁচিশে উত্তরপাড়া স্টেশন, বাড়ি এলাম লাস্ট বর্ধমান লোকালের কামরায় বসে, পৌনে বারোটায়।
    বইমেলার পাট শেষ আমার, এ বছরের মত। বেহিসেবী কৃতজ্ঞতার বোঝা প্রচুর বাড়িয়ে ফিরে চলেছি দিল্লি। ঝুলি উজাড় করে পেয়েছি সবার কাছ থেকে। বুড়ো বয়েসের জন্মদিনে মিঠু দিল উপহার, সুমেরু দিল উপহার, সুমিত ডাক্তার ধরিয়ে দিল দুখানি বই, আর শেষবেলায় যাবার দিনে কী জানি কেন, সামরান হাতে ধরিয়ে দিল আরো একখানি বই।
    আমি কাউকে কিছু দিতে পারলাম না। খালি হাতে এসেছিলাম, ঝুলি পূর্ণ করে ফিরে যাচ্ছি, কেমন স্বার্থপর লাগছে নিজেকে।

    হাজারীবাগ রোড ক্রশ করে গেল। ডিনার দেওয়া শুরু হয়েছে।
    গুডবাই, বইমেলা। আসছে বছর আবার হবে।
  • siki | ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ১২:৪৭502811
  • বর্তমানে তো কোনও খবর বেরোয় নি!
  • lcm | ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ১২:৫৯502812
  • বাহ! সিকি-র ধারাবিবরণী বেশ উপভোগ্য।
  • siki | ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ১৩:০০502814
  • বাদ চলে গেছে। ব্রিটিশ কবির নাম টনি হিলিয়ার। তাঁর ওয়েবসাইট হল http://www.tonyhillier.com
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভালবেসে মতামত দিন