এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  নাটক

  • চাগ্রীর গপ্পো

    সে
    নাটক | ১৩ নভেম্বর ২০১৪ | ৩০৭৪২ বার পঠিত | রেটিং ৪ (১ জন)
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Tim | ১২ ডিসেম্বর ২০১৪ ১৬:৫০652374
  • স্বর্ণেন্দু তো যাকে বলে যারপরনাই সোসিতো। ঃ-))

    নব্বই এর প্রথম হাফে আমার জ্যামিতি বাক্সে পাঁচটাকা থাকতো ডিসাস্টার ম্যানেজমেন্টের জন্য। মানে যদি বাস খারাপ হয়ে যায়, যদি অ্যাক্সিডেন্ট হয়ে আবার বাসে উঠতে হয়, যদি ...ইত্যাদি।
    নব্বইয়ের শেষে সেটা বেড়ে পঞ্চাশ হয়েছিলো। বলা বাহুল্য অ্যাক্সিডেন্ট হয়নি বলে কেলাস শেষের দিন একটা সিনেমা দেখেছিলুম। ঃ-)

    বন্ধুদের কখনো ট্রিট দিতে হলে ঐ ১০০ টাকাই লাগতো। বছরে এক দুবার।
  • ranjan roy | ১২ ডিসেম্বর ২০১৪ ১৭:০৩652375
  • স্বর্নেন্দুর বয়স কত?ঃ)))
    মানে ওই 'ল্যাংটো' চারমিনার ১৯৬৭র শেষে বা ৬৮র গোড়ায় আন্ডারওয়ার পরল কি না!তখন মৌলানায় যাওয়ার আগে রোজ কিনতুম।২৫পয়সাথ্কে ২৮ পয়সা প্যাকেট হওয়ায় হাহাকার পড়ে গেছ্ল।
  • . | ১২ ডিসেম্বর ২০১৪ ১৮:৪৯652376
  • সেটা বয়েসের জন্য মনে হচ্ছে, নইলে '৯০এর শুরুর দিকে মাসিক ৬০০০টাকা মাইনেতে চাকরী করতে শুরু করেছিলাম - সেটা দারুণ কিছু ছিল না- ভাল মাইনে এই অবধি।
  • sswarnendu | ১২ ডিসেম্বর ২০১৪ ২১:৩৩652377
  • " 'ল্যাংটো' চারমিনার ১৯৬৭র শেষে বা ৬৮র গোড়ায় আন্ডারওয়ার পরল কি না "
    রঞ্জনদা ১৯৬৭ তে আমার বাবা বি এস সি পাস করে নি :)ঃ)ঃ)
    তাহলে আবার আন্ডারওয়ার খুলেছিল... আমি নব্বই এর দশকের শেষের দিকের কথা বলছি... একদম কবে উঠে যায় মনে নেই ঠিকঠাক, কিন্তু সে ২০০২ এর আগে নয়... আমি যাদবপুরেও খেয়েছি বলেই মনে পড়ছে...
  • R | ১২ ডিসেম্বর ২০১৪ ২২:৫২652378
  • হ্যাঁ, ল্যাংটো পাওয়া যেত তো, আমাদের সময়ে মনে হয় আড়াই টাকা প্যাকেট ছিল। ঐ ২০০০ - ২০০১ হবে।
  • sda | ১২ ডিসেম্বর ২০১৪ ২৩:২৫652379
  • ২০০৮ এ লাস্ট খেয়েছি। ।। ৫ টাকা প্যাকেট ছিল। তারপরে অম্বুমণির বাম্বু খেয়ে বন্ধ হয়ে গেল।
  • সে | ১৩ ডিসেম্বর ২০১৪ ০০:১৫652380
  • এখনো ব্রেক চলছে? সিগারেট নিবিয়ে দিয়ে এবার বসুন সব।
  • sswarnendu | ১৩ ডিসেম্বর ২০১৪ ০৪:১১652381
  • আরে গল্প কই? কখন থেকে সিগারেট নিভিয়ে বসে আছি... চেন স্মোকারকে এতক্ষণ সিগারেট খেতে না দেওয়া, তাও এভাবে গুপি দিয়ে, এ ভারী অন্যায়... :( :( :(

    সে, তারপর তারপর?
  • সে | ১৩ ডিসেম্বর ২০১৪ ১৪:০৫652382
  • একটু কাজে ফেঁসে আছি। এই উইকেন্ডেই লিখব।
  • সে | ১৪ ডিসেম্বর ২০১৪ ০৬:৫৬652384
  • শনিবার দুপুর দেড়টার একটু পরেই বৈভব শপিং কমপ্লেক্সে পৌঁছে গেছি। আগের দিন একটা বিরাট মিসটেক হয়ে গিয়েছে। যার সঙ্গে আজ অ্যাপয়েন্টমেন্ট, তার নামটাই জিগ্যেস করে রাখা হয় নি। অ্যাভারেজ বাঙালীদের তুলনায় স্লাইট ফর্সা রোগা পাতলা কটাচোখ চশমা নেই এইটুকুই মনে আছে, এর বেশি মনে নেই। হাইটও মাঝারি কি সামান্য বেশি হবে। সবচেয়ে মারাত্মক যেটা সেটা হচ্ছে মুখটা এক্কেবারে ভুলে মেরে দিয়েছি। এখন সে লোক যদি আমার সামনে দিয়ে চলেও যায়, চিনতে পারব না। একবার গিয়ে ওপরে দেখে এলাম। মোটামুটি ফাঁকা। দুটো টেবিলে দুজোড়া প্রেমিক প্রেমিকা কোল্ডড্রিঙ্ক সহকারে প্রেম করে চলেছে। ফের একতলায় গেটের সামনে দাঁড়িয়ে পথচারীদের মুখ পর্যবেক্ষন করতে লাগলাম। খুব একটা সহজ কাজ নয় এটা। এর মূল কারন হচ্ছে যে আমি একজন মেয়ে। একে তো হাঁ করে একই জায়গায় অনেকক্ষন দাঁড়িয়ে রয়েছি, দুই সন্দেহভাজন কারোকে দেখলেই তার মুখটা খুঁটিয়ে দেখে নিচ্ছি। দোষটা আমারই। সকলে ব্যাপারটা ভালোভাবে নিচ্ছে না।
    পৌনে দুটো প্রায় বাজে বাজে এমন সময় একটা চেনামুখের দেখা পেলাম। আমার সেই প্রতিদ্বন্দ্বী ছেলেটা। উল্টো ফুটে দাঁড়িয়ে সিগারেট টানছে। এদিকে নজর রাখছে। চোখাচোখি হতে আমি চিনবার চেষ্টা করলাম, কিন্তু সে মুখ ঘুরিয়ে নিলো। আর বাইরে দাঁড়িয়ে থেকে লাভ নেই, আমি ওপরের সেই কাফেটেরিয়ার দিকে রওনা দিলাম। বেশিক্ষন অপেক্ষা করতে হয় নি। এক বোতল ঠান্ডা অর্ডার করতে না করতেই দেখি দুজনেই একসঙ্গে সেখানে ঢুকছে। আমি সর্বপ্রথমেই লিকটার নামটা জেনে নিলাম।
    আপনার নামটা আগের দিন জানা হয় নি।
    ওহ্‌! বলিনি বুঝি? প্রদীপ। প্রদীপ মুখার্জি।
    অল্প কুশল বিনিময় হলো। এরপরে কাজের কথায় আসতে হবে। কিন্তু কীকরে সেটা শুরু করব বুঝতে পারছি না। ঐ প্রতিদ্বন্দ্বী ছেলেটা কিন্তু বেশ চালক চতুর। ঝপ করে কাজের প্রশ্নটা করে ফেলল।
    ইন্টারভিউয়ের ডেটটা কবে, জানা গেছে?
    ডেট? হ্যাঁ। ইন্টারভিউ তো প্রায় রোজই হচ্ছে।
    আমরা তখনো চুপ করে প্রদীপ মুখার্জির মুখের দিকে তাকিয়ে আছি।
    কিন্তু এই অ্যাপ্লিকেশনগুলো তো জাস্ট জমা পড়েছে। আমি কাল বিকেলেও লাস্ট একবার চেক করেছি।
    তাহলে ডেটটা আপনি এখনো জানেন না?
    ছেলেটার মুখটা কঠিন হয়ে যায়।
    মনে হচ্ছে সোম মঙ্গলবারের মধ্যে অ্যানাউন্স করে দেবে।
    এর মধ্যে ওরা দুজনেই আমারি মতো কোল্ড ড্রিঙ্ক নিয়েছিলো। প্রতিদ্বন্দ্বী আর সেখানে বসে না। দাম মিটিয়ে দিয়ে চলে যায়। আমারো কথা ফুরিয়ে গেছে। ভাবছি হুট্‌ করে উঠে পড়লে সেটা অভদ্রতা হবে কি না, এমন সময় প্রদীপ মুখার্জি বলে ওঠেন,
    অ্যাক্‌চুয়ালি আমি যেটা বলতে চাচ্ছিলাম।
    একবার গলা খাঁকরে নেন তিনি।
    ভেতরে ভেতরে লোক নেওয়া হয়ে গেছে।
    এরকম কথা শুনবার জন্যে প্রস্তুত ছিলাম না।
    তাহলে?
    টপ লেভেলের ম্যানেজমেন্টের লোকেরা তাদের নিজের নিজের ক্যান্ডিডেট ঢুকিয়ে ফেলেছে। এখন ইন্টারভিউ নিতে হয় তাই ইন্টারভিউ চলছে। অ্যাপ্লিকেশানও জমা পড়েছে প্রচুর। আমিই তো বেছে বেছে শর্ট লিস্ট করি।
    আমি শুনে চলেছি।
    এত খারাপ লাগে না! কিস্যু করার নেই।
    তাহলে চিঠি আসবে না বলছেন?
    সম্মতিসূচক চুপ করে থাকেন মিস্টার মুখার্জি।
    আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
    আমি উঠে পড়ি।
    বসুন। কথা আছে।
    বসে পড়লাম। আলোচনার গতি প্রকৃতি প্রতি মুহূর্তে নতুন মোড় নিচ্ছে।
    আমাদের অফিসে আরো অনেক কোম্পানী থেকে লোক আসে। সেসব জায়গাতেও জব ওপেনিং থাকে। তাই যেটা বলছিলাম আরকি...
    লোকটা আবার গল খাঁকরানি দেয়। কী বলতে চাইছে লোকটা?
    আপনি টিচিং প্রোফেশানে যেতে চান?
    ইস্কুলে কলেজে?
    আরে না না। কম্পিউটার ট্রেনিং ইন্স্‌টিটিউটগুলোয় তো অনেক স্কোপ আছে।
    আমি হাঁ করে শুনে যাচ্ছি।
    আমার চেনা একটা ছেলে কালই বলছিলো যে ওরা ইন্স্‌ট্রাকটার খুঁজছে। আপনি যদি রাজি থাকেন তো বলতে পারি।
    আমি চুপচাপ মাথা নেড়ে সম্মতি দিয়ে দিলাম।
    কোনো চিন্তা নেই। আপনার জন্যে খুবই সহজ হবে। তাহলে এক কাজ করুন। ছেলেটাকে আমি বলে রাখব। তারপরে আপনাকে ফোন করে জানিয়ে দিচ্ছি? ফোন নাম্বার আছে?
    না। ফোন তো নেই।
    ঠিক আছে। সামনের সপ্তাহে রবিবার একটা জায়গায় মীট করে আমি আপনাকে পুরো ব্যাপারটা জানিয়ে দিচ্ছি।
    রবিবার?
    কাল নয় কিন্তু, নেক্স্ট সানডে। ডোভার লেন চেনেন?
    চিনি।
    ঐ ডোভার লেনের মোড়টায় সকাল দশটা নাগাদ? কোনো অসুবিধে নেই তো?
    না না, কোনো অসুবিধে নেই। কী নাম ঐ কম্পিউটার ট্রেনিং ইন্স্‌টিটিউটের?
    এটার নাম হচ্ছে কম্পিউটার পয়েন্ট। আরো অনেক আছে। অ্যাপটেক, টিউলেক, নীট।
    আমি বিদায় নিই।
    এক কোম্পানীতে চাকরির জন্যে অ্যাপ্লাই করে অন্য কোম্পানীতে কাজের সন্ধান পাচ্ছি। অদ্ভুত লাগে। হাসি পেয়ে যায়।
  • সে | ১৪ ডিসেম্বর ২০১৪ ০৭:১৩652385
  • রবিবার ডোভার লেনের মোড়ে দেখা হবার পরে অদূরেই তাঁর বাড়ীতে যাবার জন্যে পেড়াপিড়ি করেন প্রদীপ মুখার্জি, কিন্তু আমি রাজি হইনি।
    কম্পিউটার পয়েন্টে ইন্টারভিউয়ের তারিখ ও সময় অবশ্য জেনে যাই।
    প্রচুর ধন্যবাদ টন্যবাদ জানিয়ে আনন্দ মনে বিদায় নিই।
    সত্যি! আজকালকার দিনেও লোকে এরকম হেল্প করতে এগিয়ে আসে? কল্পনা করা যায় না। এদিকে আবার কোম্পানী কাগজে বিজ্ঞাপন দিয়ে ভেতরে ভেতরে নিজেদের লোক ঢুকিয়ে নিচ্ছে চাকরিতে। লোকদেখানি ইন্টারভিউও চলছে। অফিসের কর্মচারীরা জানে বোঝে সবই দেখছে, কিন্তু কিছু করবার উপায় নেই।
    অবশ্য আমার হতাশ হবার কিছু নেই। একটা ইন্টারভিউয়ের ডেট তো পেয়েছি। টিচিং লাইন তো খারাপ কিছু নয়। বেকার থাকার চেয়ে তো ভালো। টাকা পয়সা রোজগার তো করতেই হবে। তা সে যত সামান্যই হোক না কেন। এই প্রদীপ নামের লোকটা অবশ্য জানে না যে চাকরি আমার কতটা দরকার। বাইরে থেকে আমি কাউকে কিছু বুঝতে দিই না। কিন্তু লোকটা কিছু একটা আঁচ করেছে মনে হয়। নইলে আগবাড়িয়ে এমন একটা অফার কেউ দেয় নাকি? আমার উপকার করে লোকটার কী লাভ হবে? অবশ্য লাভের আশায় তো লোকে উপকার করে না। এসব কেন ভাবছি আমি? চাকরি খুঁজতে খুঁজতে হাজার জায়গার চক্কর কাটতে কাটতে আমার মনটাই হয়ত ছোটো হয়ে গিয়েছে।
  • সে | ১৪ ডিসেম্বর ২০১৪ ০৭:৩৪652386
  • থিয়েটার রোডের মধ্যে যে এয়ার কন্ডিশান্ড মার্কেট ছাড়াও আরো একটা বাজার আছে, সেটা এই জানলাম। বিকে মার্কেট। স্টেটাস এসি মার্কেটের চেয়ে কম, এবং এই মার্কেটের মধ্যে আমার ট্রেনিং ইন্স্‌টিটিউট। ইন্টারভিউ ও সেখানেই। সমস্তই দোকান। শাড়ী, কাপড়জামা, মিউজিকসিস্টেম, টিভি, এসমস্ত খুব বিক্রি হচ্ছে। বিউটি পার্লার রয়েছে। মনিহারী জিনিসের দোকানও আছে। কয়েকটা তলা নিয়ে এই মার্কেট। দোতলায় এরকমই কিছু দোকানের পাশে কম্পিউটার শেখানোর এই ট্রেনিং ইন্স্‌টিটিউট। কাচের দরজা ঠেলে ঢুকলেই একটা মেয়ে রিসেপশানে বসে আছে। অসম্ভব চেনা মুখ। সেখানেই সামনে গদি মোড়া সোফায় বসে আমি ইন্টারভিউয়ের জন্যে অপেক্ষা করতে লাগলাম।
    মেয়েটা একটার পর একটা ফোনকল রিসিভ করছে, খাতায় কীসব টুকে নিচ্ছে, দু একবার ভেতরে গিয়ে কাকে কীসব খবর দিয়ে এলো, কারোকে খুঁজে এলো মনে হয়। তারই ফাঁকে আমার সঙ্গে কয়েকবার চোখাচোখি হলো।
    এত চেনা মুখ, অথচ কিছুতেই মনে করতে পারছি না।
    ইন্টারভিউয়ের ডাক পড়েছে।
    ভেতরে একটা ছোট্টো ক্লাসরুমে গিয়ে বোর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে ইন্টারভিউ দিলাম। ছোট্টো করে একটু ক্লাস নেওয়া। কিছু প্রশ্নের উত্তর দেওয়া। দুজন পরীক্ষক চেয়ারে বসে আমায় প্রশ্ন করলেন।
    এসমস্ত সেরে বেরিয়ে আসছি, ওঁরা আমায় ফের অপেক্ষা করতে বললেন রিসেপশানে।
    এইবার মেয়েটাকে দেখেই বুঝেছি, কেন চেনা লেগেছিলো।
    আচ্ছা, একটা কথা বলব কিছু মনে করবেন না তো?
    মেয়েটা হাসি হাসি চোখে আমার দিকে তাকিয়ে বলে, কী কথা?
    আপনি কি জানেন, যে আপনর মুখটা দেখতে ঠিক..
    সে আমায় বাক্য শেষ করতে দেয় না, নিজেই বলে ওঠে, স্মিতা পাতিলের মতো তো?
    হ্যাঁ।
    জানি। সবাই বলে।
  • de | ১৫ ডিসেম্বর ২০১৪ ১০:৫৫652387
  • তাপ্পর?
  • সে | ১৫ ডিসেম্বর ২০১৪ ২৩:২৭652388
  • সেই থেকে ডালিয়া আমার বন্ধু হয়ে গেল।
    দু হাজার দুশো টাকা মাস মাইনেয় আমি এই চাকরিতে বহাল হই। নাইন টু সিক্স জব। নটার আগে ঢুকতে হয় এখানে খাতায় নাম লিখে সময় লিখে। আবার ফিরবার সময়েও লিখে বেরোতে হবে কটায় বেরোচ্ছি। সপ্তাহে মোট চারটে ক্লাস থাকে আমার অথচ একবার ঢুকলে বেরোনোর কোনো উপায় নেই। মাঝে মাঝেই হাজিরা খাতা চেক করেন বিভাগীয় প্রধান শুভ্রা চৌধুরী। ডালিয়ার ওপরেও স্ট্রিক্ট ইন্‌স্ট্রাকশান আছে নজর রাখার, কেউ যেন ভুল সময় না লিখতে পারে হাজিরা খাতায়। নজরদারির জন্যে আরো একজন আছেন। তিনি হচ্ছেন মিস্‌ দৃষ্টি কুমার। শুভ্রাদেবী ও ম্যানেজমেন্টের লোকজনদের বাদ দিয়ে বাকি সকলের সঙ্গেই দৃষ্টি খরখরে মেজাজে কথা বলে থাকেন। যতবারই সে মুখের দিকে তাকিয়েছি বিরক্তি ও রাগ রাগ অভিব্যক্তি দেখতে পেয়েছি। অবশ্য এঁর সঙ্গে আমার কোনো ডিরেক্ট ইন্ট্যারাক্‌শানের স্কোপ নেই সেটাই বাঁচোয়া। আরেকজন মানুষও আছেন যিনি সর্বনিম্ন কর্মচারী। এঁর নাম রাজুদা অথবা রাজু। রাজুদা দারোয়ান কাম সুপার কাম পিওন কাম কুলি কাম নাইটগার্ড। নাইটগার্ড হবার সুবাদে এখানেই রাত্রে ঘুমোনোর অনুমতি আছে, যদিও ওঁর নিজের আত্মীয় স্বজন বাসস্থান এসমস্তই আছে অন্য কোথাও। ডালিয়ার কাছ থেকেও এও জেনে গেছি যে রাজুদা নাকি গ্র্যাজুয়েট। অবশ রাজুদা সম্পর্কে এত কিছু সম্ভবতঃ ডালিয়া ও আমি ছাড়া আর কেউ তেমন জানে না।
    এই কোম্পানীতে আমার ডেজিগনেশন হচ্ছে "ফ্যাকাল্টি"। এতকাল জানতাম ফ্যাকাল্টি থাকে ইউনিভার্সিটিতে বা কলেজে। ফ্যাকাল্টি, ডিপার্ট্‌মেন্ট এসব থাকে - বিষয়বস্তু অনুসারে বা সায়েন্স আর্ট্‌স্‌ ফিলসফি এইসবের। ফ্যাকাল্টি যে কোনো মানুষের ডেজিগনেশন হতে পারে সেটা এইখানে এসে প্রথম জানলাম। যাইহোক, এই অদ্ভুত ডেজিগনেশনে আমার মতো অন্যান্য ফ্যকাল্টিদেরও কোনো আপত্তি নেই দেখতে পাই। তারাও আমায় জিগ্যেস করে, তুমি কি ফ্যাকাল্টি?
    হ্যাঁ।
    কী পড়াবে?
    হার্ড্‌ওয়ার।

    দলে দলে মানুষ হুড়মুড়িয়ে কম্পিউটার শিখছে। স্কুলের ছাত্র থেকে শুরু করে কলেজের পড়ুয়া, বেকার অথবা চাকুরিজীবী যুবক, হাউজওয়াইফ, সবাই। এরা শিখতে আসে কম্পিউটার কেমন করে চালাতে হয়, কেমন করে টাইপ করতে হয়, ফাইল সেভ করা, ডিলিট করা। প্রচুর ক্লাস হয়। যদিও এসব পড়ানোর জন্যে ইতিমধ্যেই ফ্যাকাল্টিরা আছেন। আমি যেটা পড়াই, সেই ক্লাসে লোক খুব কম। জনা আষ্টেক মধ্যবিত্ত কি নিম্নমধ্যবিত্ত যুবক। সপ্তাহে চারটে ক্লাস নিই আমি। হাতে কলমে কাজ শেখানো চলে। অল্প থিয়োরি। এরা কাজ শিখে নিয়ে মেশিন অ্যাসেম্বল্‌ করবার চাকরি পেয়ে যাবে। বাংলায় ক্লাস নিতে হয়। প্রথমদিন কায়দা করে ইংরিজিতে পড়াতে শুরু করেছিলাম, তখন ছাত্ররাই বাধা দিলো।
    ম্যাডাম, যদি কিছু মনে না করেন একটু বাংলায় বলবেন? আসলে আমরা বাংলা মিডিয়ামে পড়েছি তো। ইংলিস্‌টা অতটা ভালো বুঝতে পারি না।
    সেই থেকে বাংলাতেই ক্লাস চলে।
    অবশ্য মাঝে মধ্যে শুভ্রাদেবী দরজা ফাঁক করে ইন্স্‌পেক্‌শানে আসেন। দরজা ফাঁক হচ্ছে দেখতে পেলেই আমি সঙ্গে সঙ্গে ইংরিজিতে সুইচ্‌ করে ফেলি। ছাত্ররাও খুব গম্ভীর মতো হয়ে মনোযোগ দিয়ে সেসব শুনতে থাকার ভাণ করে।
    কিন্তু ক্লাস তো সপ্তাহে ছদিন থাকে না। মোটে চারদিন। তাও মাত্র দুটো ঘন্টা। বাকী সময়টুকু কাটাবো কেমন করে?
  • সে | ১৬ ডিসেম্বর ২০১৪ ০২:৫১652389
  • এই সেন্টারের এক্কেবারে ভেতরের দিকে যে ঘরটা সেটা হচ্ছে ফ্যাকাল্টিদের বসবার ঘর।একটা লম্বা টেবিল ঘিরে অনেকগুলো লোহার ফোল্ডিং চেয়ার। ঐ টেবিলের ওপরে বইপত্র খাতা ইত্যাদি থাকে, আবার টিফিনের সময় ওটাই খাবার টেবিল হয়ে যায়। একটা দিকের দেয়াল জুড়ে কাচের জানলা, সেটা দিয়ে উঁচু উঁচু বাড়ী দেখা যায়। সবই অফিস বাড়ী গোছের। বাকি তিন দেয়ালের দুটোয় রয়েছে গোটা তিনেক স্টিলের আলমারি। সেই আলমারির মধ্যে অনেক বইপত্র আছে। আমাকে কাজ দেওয়া হয়েছে সেইসব বইপত্র গুছিয়ে রাখবার। অধিকাংশই কোর্স মেটিরিয়াল। এই কোম্পানীর নিজস্ব কোর্স মেটিরিয়াল। ওয়ার্ড পারফেক্ট বলে একটা বিষয় আছে, সেটা এখন আর এরা শেখাচ্ছে না; সেই ওয়ার্ড পারফেক্টের মোটা মোটা কোর্স মেটিরিয়াল আলাদা করে ফেলতে হবে। আরো আছে লোটাস ওয়ান টু থ্রি। সেটা অবশ্য ফেলে দেওয়া হবে কিনা সেই ব্যাপারটা এরা মনস্থির করে উঠতে পারে নি। তবুও আলাদা করে গুছিয়ে রাখতে হচ্ছে। তারপরে আছে মাইক্রোসফ্‌ট্‌ উইন্ডোজ। এটা খুব দরকারি জিনিস। গুনে গুনে রেখে দিতে হবে। একটাও যেন না হারায়। খুব দামী জিনিস। এছাড়া যেগুলোর খুব ডিম্যান্ড, সেগুলো হচ্ছে ওয়ার্ড, এক্সেল এবং পাওয়ার পয়েন্ট। এইগুলোর জন্যে দলে দলে স্টুডেন্ট আসে। প্রত্যেককে একটা করে কোর্স মেটিরিয়াল দিতে হয়। এগুলোর কোর্স মেটিরিয়াল পর্যাপ্ত পরিমানে আছে কিনা সেটা জানা সবচেয়ে দরকারি। আমি গুনে গেঁথে একটা খাতার মধ্যে সংখ্যাগুলো লিখে রেখে দিই।
    যে বিষয়টা আমি পড়াচ্ছি, সেটার কোনো কোর্স মেটিরিয়াল নেই। থাকলে পড়াতে সুবিধে হতো। সেকথা শুভ্রাদেবীকে বলেওছিলাম, কিন্তু তিনি হুঁ হাঁ করে চলে গেলেন, বিশেষ পাত্তা দিলেন না।
    ফ্যাকাল্টি ছাড়াও সকালের দিকে দুপুরে লাঞ্চের সময় আর সন্ধেবেলা এইঘরে আসে দুজন যুবক। শুভাশিস আর অর্ণব। এরা মার্কেটিং এর লোক। বিভিন্ন স্কুল অফিস এইসব জায়গায় ঘুরে ঘুরে এরা এই সেন্টারের জন্যে ছাত্র জোগাড় করে। অর্ণব আবার মাঝে মধ্যে ক্লাসও নেয়। শুভাশিসই একদিন বলল যে সে প্রদীপ মুখার্জ্জিকে চেনে। ঐ অফিসে সে যায় কর্পোরেট ছাত্র জোগাড় করতে। তথ্য প্রযুক্তি যেভাবে এগিয়ে চলেছে অফিসগুলোও চায় যে তাদের কর্মচারীরা কম্পিউটার শিক্ষিত হয়ে উঠুক।
    দুপুর হতেই রাজুদা আমাদের প্রত্যেকের থেকে অর্ডার নিয়ে নিয়ে হোচিমিন সরণী থেকে লাঞ্চ কিনে আনে। বিভিন্ন রকমের চাউমিন, বিরিয়ানী, নয়ত বিকানের ভুজিয়াওয়ালার দোকান থেকে ধোকলা সমোসা।ভেজিটেরিয়ানরা একটু দূরে দলবেঁধে বসে। অন্যরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে, কিন্তু ননভেজ খাবার দাবার যেন ভেজিটেরিয়ানদের ছুঁয়ে না ফেলে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হয়। আমাদের কোম্পানীর মালিক স্বয়ং ভেজিটেরিয়ান। কথায় কথায় জানতে পেরেছি, এই সেদিন অবধি নাকি নন ভেজ ফুড একদম অ্যালাওড ছিলো না এই সেন্টারে। কিন্তু কেন জানিনা, ইদানীং সেই নিয়ম শিথিল হয়েছে। এগ চাউ, চিকেম চাউ অবধি ছাড় পাওয়া গেছে, কিন্তু মাটন যেন ভুলক্রমেও না ঢোকে। দৃষ্টি কুমার সবসময় সদা সতর্ক দৃষ্টি রাখেন এসব ব্যাপারে। শুভাশিস এসে গেলে লাঞ্চ টেবিলের আবহাওয়াই বদলে যাবে। দেখতে ছোট্টোখাট্টো রোগা পাত্লা হলে কি হবে, গলার স্বরে মারাত্মক বেস এবং স্টিরিওফোনিক সাউন্ড উইথ গ্রাফিক ইকুয়ালইজার। কোথায় লাগে অমিতাভ বচ্চন? সিঁড়ি দিয়ে কারো সঙ্গে কথা বলতে বলতে সে উপরে উঠে আসছে, সেন্টারের শেষ প্রান্তে ফ্যাকাল্টিদের ঘর অবধি গমগম করছে। লাঞ্চ টেবিলে ব্রীফকেসটা অবহেলার সঙ্গে রেখে দিয়ে শুভাশিস একটা চেয়ার টেনে বসে শুরু করে দেয় তার সেদিনের অভিজ্ঞতা। সঙ্গে সঙ্গত দেয় অর্ণব মৃদু স্বরে। হয়ত এক ধাক্কায় প্রচুর স্টুডেন্টকে জালে তুলে ফেলেছে, সেইসব কাজ সে কেমন করে করল তার বর্ণনা খুব নাটকীয়ভাবে দিতে থাকে শুভাশিস। আমরা অনেকেই হাঁ করে তার এইসব গল্প শুনি। মেয়েরা অবশ্য সোজাসুজি খুব একটা মনোযোগ দেখায় না, কিন্তু তারাও এসব গল্প উপভোগ করে অন্য দিকে তাকিয়ে। মাঝে মধ্যেই শুভাশিস খুব মুরুব্বির মতো আমাকে জিগ্যেস করে, কী কেমন চলছে? ক্লাস টাস নিচ্ছ? ছাত্রদের ফীডব্যাক কেমন?
    এরকম প্রশ্নে আমি একটু হকচকিয়ে যাই। আমতা আমতা কিছু উত্তর দিই, কিছু উত্তর গিলে ফেলি। শুভাশিস গম্ভীরভাবে বলে, চিন্তা কোরো না, আস্তে আস্তে সব শিখে যাবে; এখন তো কম্পিউটারেরই যুগ। তোমরাই তো করে খাবে। আমাকে দেখছো তো? ব্রাহ্মণসন্তান হয়ে সেলসের চাকরি করছি। ভাগ্য। আমার বাপ ঠাকুর্দা চোদ্দোপুরুষের কেউ কখনো কোনোদিন ভেবেছিলো যে তাদের বংশের সন্তানকে এসব কাজ করতে হবে?
  • সে | ১৬ ডিসেম্বর ২০১৪ ০২:৫৯652390
  • একদিন সকালে পৌঁছতেই দেখি রাজুদা ঐ ফ্যাকাল্টি রুমটা থেকে কোনো অজ্ঞাত কায়দায় একাই ঐ ঢাউশ টেবিলটা সরিয়ে আমার হার্ডওয়ার ক্লাসরুমের একটা দিকে ঠেলে ঠুলে ঢুকিয়ে দিয়েছে। ফ্যাকাল্টিরুম ভরিয়ে দেওয়া হচ্ছে চেয়ারে। সেই চেয়ারগুলোর একদিকের হাতলের ওপরে ছোটো একফালি তক্তা লাগানো, লিখবার কাজ ওর ওপরেই করা যায়, আলাদা করে টেবিল লাগে না। চেয়ারহুলো আনা হয়েছে বিভিন্ন ক্লসরুম থেকে। দৃষ্টিদেবী নির্দেশ দিচ্ছেন কেমন করে আরো একটু স্পেস তৈরী করে আরো চেয়ার ঢোকানো যাবে।
    অল্প পরেই দল বেঁধে স্কুল ইউনিফর্ম পরা ছেলে ও মেয়ের দল ঢুকে গেল সেন্টারে। ডালিয়া তাদের বলে দিচ্ছে কোন ঘরে যেতে হবে। ছাপানো প্রশ্নপ্রত্র বিলিয়ে দেয়া হলো তাদের মধ্যে। শুরু হয়ে গেল ট্যালেন্ট সার্চ কন্টেস্ট।
  • সে | ১৬ ডিসেম্বর ২০১৪ ০৪:০৫652391
  • মোট তিরিশটি প্রশ্ন। সময়সীমা এক ঘন্টা। প্রশ্নপত্রের মধ্যেই উত্তর দিতে হবে। সবই অবজেকটিভ টাইপ। এক কথায় বা সংখ্যায় উত্তর। কোনো কোনো প্রশ্নের উত্তর হ্যাঁ বা না দিয়ে। পেপার সেট করেছেন শ্রীমতী ভেঙ্কটরমন। তিনি এখানে ওয়ার্ড পড়ান। একটা ফুলস্কেপ কাগজের দুপিঠে টাইপ করা প্রশ্নপত্র ফোটোকপি করিয়ে আনানো হয়েছে সস্তার কাগজে। সম্ভবতঃ ফোটোকপি মেশিনে কালি বিশেষ ছিলো না। ঝাপসা মতো ছাপা হয়েছে। কিছু কিছু প্রশ্নপত্র আবার বেঁকে ছেপেছে, সবকটা প্রশ্ন পুরোপুরি ছাপা হয় নি। সে নিয়ে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে কোনো অভিযোগ আপত্তি দেখলাম না। পরীক্ষাহলে নজরদারি করবার জন্যে গেলেন দৃষ্টি। পরীক্ষার্থীরা এন্তার কথা বলে চলেছে। দেখাদেখি করে লিখছে। সকলের একঘরে জায়গা হয় নি। অন্য একটা ঘরেও গোটা দশ বারো পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছে। সে ঘরে কোনো ইনভিজিলেটর নেই। সেখানে কিন্তু আবহাওয়া অপেক্ষাকৃত শান্ত। ওদের কিছু জিজ্ঞাস্য আছে কিনা জানবার জন্যে আমায় সেখানে পাঠানো হোলো। সেঘরে দরজার দিকে পেছন ফিরে বসবার ব্যবস্থা। চুপচাপ কয়েকজন উত্তর লিখছে। একটি ছেলে তার পাশের মেয়েটির হাতে ডটপেন দিয়ে কী যেন লিখছে। টোকাটুকি করছে কিনা দেখতে গিয়ে দেখলাম সে ইতিমধ্যে একটি হরতন এঁকে ফেলেছে তীর টির সহ। এখন নামের আদ্যক্ষর লেখা চলছে।
    একঘন্টার অগেই পরীক্ষার্থীরা লক্ষ্মী হয়ে উত্তরপত্র জমা করে দিলো। তাদের তখন ইস্কুলে ফিরে যেতে হবে।
    কানে এলো কথাবার্তা হচ্ছে যে রেজাল্ট আজকেই বিকেলের মধ্যে ঘোষনা করা হবে।
    পরীক্ষার্থীরা সকলে চলে গেলে পরে দৃষ্টিদেবী আমায় এসে বললেন রিসেপশানে কিছুক্ষন বসতে। এর অর্থ হচ্ছে, ডালিয়াকে কিছু কাজ দেওয়া হবে। সেইসময়টা রিসেপশান যাতে ফাঁকা না থাকে সেইজন্যে আমায় ওখানে বসতে হবে, ফোন ধরতে হবে। আমার ভালোই লাগে। ডালিয়া ভেতরে গিয়ে কাজ বুঝে নিয়ে ফিরে এলো। ওর হাতে গোটা তিরিশ চল্লিশ উত্তরপত্র। ওকে দিয়েই এখন খাতা কারেক্ট করাবে নাকি?
    কিন্তু না। আমাকে বিস্মিত করে দিয়ে ডালিয়া বলল, তুমি আমাকে একটু হেল্প করবে?
    খাতা কারেক্ট করতে হবে?
    না। খাতা একটাও কারেক্ট করতে হবে না। এই নামগুলো দেখে দেখে টেলিফোন করতে হবে।
    কাকে?
    খাতার ওপরেই প্রত্যেকের বাড়ীর টেলিফোন নম্বর আছে। আমি নম্বরটা ডায়াল করে দেবো। বোসোনা পাশে।
    তারপরে?
    তুমি কথা বলবে। আপনার ছেলে/মেয়ে এক্স্‌ট্রা অর্ডিনারী রেজাল্ট করেছে আজকের ট্যালেন্ট সার্চ এক্‌জাম এ। তাই এই কোম্পানীর তরফ থেকে আপনার ছেলে/মেয়েকে আমরা থার্টি পার্সেন্ট ডিস্‌কাউন্টে কম্পিউটার কোর্স অফার করছি। এটা লিমিটেড অফার। মাত্র দশটা সীট আছে। যদি এনরোল করতে চান তবে নেক্স্‌ট্‌ পাঁচদিনের মধ্যে, ফার্স্ট কাম ফার্স্ট বেসিসে...
    খাতা না দেখেই?
    একটু হেল্প করো না। তিরিশ চল্লিশটা ফোন করা। একবারে যদি না লাগে, আবার ট্রাই করতে হবে। সব লিখে রাখতে হবে।
    সন্ধে ছটা বেজে যায় আমাদের ফোন শেষ করতে করতে। তবুও শেষ হয় না। ডালিয়া ও আমি পালা করে করে ফোন করি। কোনো কোনো বাড়ীতে ফোন পেয়ে গৃহকর্ত্রী ভয় পেয়ে যান। ভাবেন ছেলে/মেয়ের ইস্কুলে কোনো বিপদ আপদ ঘটেছে বুঝি। অনেকেই ইংরিজি বোঝেন না। তখন হিন্দিতে বোঝাতে হয়। কেউ কউ বলে ছাত্রের পিতাজি ঘরে ফিরলে যেন ফোন করি। পিতাজি কখন ফিরবেন? রাত আট ন বাজে।
    এইসমস্ত কিছু নোট করে রেখেও দেখা যায় অনেক ফোনকল তখনো বাকি।
    ডালিয়ার বয়ফ্রেন্ড এসে গেছে তাকে নিতে। দৃষ্টি অসন্তুষ্টমুখে রিপোর্ট জমা নিয়ে জানায় বাকিটা আগামীকাল লাঞ্চের আগেই যেন সেরে ফেলা হয়।
    ঠিক এমনি সময় দেখি প্রদীপ মুখার্জি আমাদের ট্রেনিং সেন্টারে ঢুকে গটগট করে শুভ্রাদেবীর কেবিনে দরজায় টোকা দেন।
  • কল্লোল | ১৬ ডিসেম্বর ২০১৪ ০৭:৫২652392
  • উফ। সে বড় হয়ে টিভিতে থ্রিলার সিরিয়াল বানাবে।
    তাপ্পর কি হলো-ও-ও-ও???
  • সে | ১৬ ডিসেম্বর ২০১৪ ১৪:৩৮652393
  • শুভ্রাদেবী বিকেল সাড়ে চারটে পাঁচটা নাগাদ বেরিয়ে গেছেন, অতয়েব তাঁর কেবিনের ভেতর থেকে কোনো সাড়া মেলে না। এখন সাড়ে ছটা। রাজুদা মোড়ের মাথার এভারেস্ট বিল্ডিং এর একতলার গাঙ্গুরাম সুইট্‌স্‌ থেকে এক হাঁড়ি রসমালাই কিনে ঠিক তক্ষুনি সেন্টারে ঢুকছে। কেবিনের ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে মিস্টার মুখার্জি সদর দরজার দিকে তাকাতেই রাজুদাকে দেখতে পান প্রথমে।
    ম্যাডাম তো বেরিয়ে গেছেন!
    ওহ্‌হো! অলরেডি বেরিয়ে গেছেন?
    হ্যাঁ, মানে আপনার কি কোনো মেসেজ দেবার আছে?
    মিস্টার মুখার্জি একটু উশ্‌খুশ্‌ করেন, তারপরেই আমার দিকে ওঁর চোখ পড়ে যায়। আমি তখন রিসেপশানে বসে আছি। আরো কয়েকটা ফোনকল করে নেবো কিনা ভাবছি। ডালিয়া ইতিমধ্যে বয়ফ্রেন্ডের কাছে গিয়ে দাঁড়িয়েছে কিন্তু তখনই বেরিয়ে যেতে সাহস পাচ্ছে না। হাজার হলেও দৃষ্টিদেবী এখনো বেরিয়ে যান নি। কে না জানে যে বস বেরিয়ে না যাওয়া অবধি কাজের ভাণ করে বসে থাকতেই হবে, তা সে যতই দেরী হোক না কেন। আমার অবস্থাও একই। দৃষ্টির শ্যেনদৃষ্টিতে পড়বার কোনো ইচ্ছে আমার নেই। তাই ইতস্তত করছিলাম। আমায় রিসেপশানের চেয়ারে দেখতে পেয়েই মিস্টার মুখার্জি আমার দিকে এগিয়ে এসে বলেন, একী! তুমি এখানে?
    আমি হাসিহাসি মুখ করি। এঁর চেষ্টার ফলেই আজ আমি এই চাকরি পেয়েছি। কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্যে হাসিহাসি মুখ ছাড়া আর কীই বা করতে পারি এখন।
    তোমাকে রিসেপশানে বসতে হচ্ছে নাকি?
    নো নো, নাথিং লাইক দ্যাট। ও নিজে নিজেই বসেছে।
    কখন যেন পেছনে এসে দাঁড়িয়েছেন দৃষ্টিদেবী। এবার তিনি আমাকে বলেন, ইউ ক্যান গো নাও। সাড়ে ছটা বেজে গেছে তো।
    প্রদীপবাবু আমাকে বলেন, তুমি একটু ওয়েট করবে? আমি দুটো কথা বলেই আসছি।
    আমি ওয়েট করতে রাজি হই। তারপরে কী একটা ভেবে উনি বলেন, না ঠিক আছে তুমি চলেই যাও, দেরি হয়ে গেছে এখন।
    ছাড়া পেয়ে আমরা তিনজনে বেরিয়ে আসি। থিয়েটার রোডে বেরিয়ে এসে ডালিয়া আলাপ করিয়ে দেয় ওর বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে।
    নমস্কার।
    নমস্কার।
    ডালিয়া লজ্জামিশ্রিত গর্বের সঙ্গে বলে, ও রাজা। ইস্টবেঙ্গলে খেলে, জানোতো।
  • সে | ১৬ ডিসেম্বর ২০১৪ ১৫:২৩652395
  • পরেরদিন সকাল থেকে আবার শুরু হয়ে যায় আমাদের ফোনকল। ডালিয়ার সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব দৃষ্টি খুব একটা ভালো নজরে দেখছে না। মাঝে মধ্যেই সে ডালিয়াকে ডেকে নিয়ে গিয়ে অনেক কাজ দিয়ে দেয়। পাতার পর পাতা টাইপ করায় ওয়ার্ডে। নতুন কোর্স ম্যানুয়াল তৈরী হচ্ছে কিনা। ডালিয়াও খুশি। বিনা খরচে সে উইন্ডোজ শিখে ফেলেছে। ওয়ার্ড শেখা হয়ে যাচ্ছে। আড়াই হাজার তিনহাজার করে এক একটা কোর্স সেই কোনোদিনো অ্যাফোর্ড করতে পারত এই দেড়হাজার টাকার মাস মাইনেতে? কোনো সার্টিফিকেট অবশ্য এরা ওকে দেবে না। কিন্তু নতুন চাকরি খুঁজতে গেলে সার্টিফিকেটই সব নয়, সে হাতে কলমে পরীক্ষায় বসে দেখিয়ে দেবে যে সে কম্পিউটার জানে। আমরা যখন একসঙ্গে ফোনকল করে করে ডিস্‌কাউন্ট অফার দিই, সেই সব কাজের ফাঁকে ফাঁকে এই সব কথা সে বলে আমাকে।
    জানোতো, বাড়ী ফিরবার সময় সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয়। রোজ এরা দেরি করিয়ে দেবে। ফেরার বাসে প্রচন্ড ভিড় থাকে বলে চার্টার্ড বাসের জন্যে তিনশো টাকা দিয়েছি। সেই বাস সন্ধেবেলা ধরতেই পারিনা আদ্দেক দিন।
    চার্টার্ড বাস ছাড়ে বুঝি?
    মিন্টো পার্ক থেকে গড়িয়া। কিন্তু সাড়ে ছটার মধ্যে গিয়ে ধরতেই হবে। এরা যদি ছটা ছটা দশের মধ্যেও ছেড়ে দেয় দৌড়ে দৌড়ে যেকরে হোক সাড়ে ছটার মধ্যে মিন্টোপার্কে পৌঁছনো যায়, কিন্তু রোজ ঠিক বিকেলে একগাদা করে কাজ দিয়ে দেবে। সকালের দিকে দিলে পারে না? রোজ বাস মিস্‌ করি। সামনের মাস থেকে ভাবছি আর বাসের টাকা দেবো না।
    তুমি এদের বলতে পারোনা?
    কাকে বলব? ঐ দৃষ্টিকে?
    অন্য কারোকে বলো। শুভ্রা চৌধুরীকে বলো।
    ওরে বাবা। দৃষ্টি ঠিক জেনে যাবে। ওরা দুজনে বন্ধু তো। দেখোনি দুজনে টিফিন ভাগাভাগি করে খায়। জানো না তো আমার সঙ্গে এর আগে কীরকম খারাপ বিহেভ করেছে।
    কী করেছে?
    দৃষ্টিকে বোলোনা কিন্তু প্রমিস করো।
    ওর সঙ্গে আমি কথাই বলি না।
    ও একবার বোম্বে গেছলো তো, তখন আমার জন্যে বোম্বে থেকে একটা খুব সুন্দর সালোয়ার কামিজ নিয়ে এসেছিলো।
    ও কে?
    কালকে আলাপ করালাম না?
    রাজা?
    এত সুন্দর না জিনিসটা, এরকম এখানে পাওয়া যায় না। প্রিন্টেড, তার ওপরে সুতোর কাজ, লেংথটা একটু শর্ট। মানে ওটাই স্টাইল। ওটার সঙ্গে কোনো ওড়না নেই। ওড়না ছাড়াই পরতে হয়। আমি পরেরদিন ওটা পরে অফিসে এসেছি, ব্যাস্‌ দৃষ্টি ম্যাডামের চোখে পড়েছে। আমার কাছে এসে, এই এখানে দাঁড়িয়ে বলছে, হোয়াট্‌ হ্যাপেন্ড? আমি প্রথমে কিছু বুঝতে পারিনি। তারপরে আবার বলছে, হোয়াট্‌ হ্যাপেন্ড? তখনও আমি ব্যাপারটা বুঝিনি জানোতো। তারপরে ভেতরে ডেকে নিয়ে গিয়ে টানা দশ মিনিট ধরে ঝাড়ল। দুপাট্টা ছাড়া কেন এসেছি! এটা একটা এডুকেশন সেন্টার, এখানে অভদ্র ড্রেস করা চলবে না। এত বিশ্রীভাবে কথা বলেছিলো না, আমার চোখে জল এসে গিয়েছিলো। খুব হিংসুটি মেয়ে। ওদিকে দেখো শুভ্রা ম্যাডাম কীরকম লো কাট ব্লাউজ পরে আসে। পুরো পিঠটাইতো খোলা থাকে। ওকে কিন্তু কিছু বলতে সাহস পাবে না।
    ঠিক।
    যারা স্টুডেন্ট, তারা তো যা খুশি তাই পরে পরে আসছে। তাদের জন্যে সব অ্যালাওড।
    কী করবে বলো? আমাদের হাতে তো ক্ষমতা নেই।
    সেইটাই। ও আমাকে বলেছে, বিয়ের পর এই চাকরি ছেড়ে দিতে।
    কবে বিয়ে করছো তোমরা?
    ও তো সবসময়ই তাড়া দিচ্ছে, কিন্তু অসুবিধাটা আমার দিক থেকেই, জানোতো। আরো দুটো বোন আছেতো আমার পরে। দুজনেই পড়ছে। বাবা যদি সংসারটা দেখতো আমাদের ওপর এত চাপ পড়ত না। আমি এখন হুট করে বিয়ে করে ফেললে মা একা সামলাতে পারবে না।
  • সে | ১৬ ডিসেম্বর ২০১৪ ১৬:৪০652396
  • যা বুঝেছি, সমস্ত ফ্যাকাল্টিদের মাইনেই ঐ দুই থেকে আড়াই হাজারের রেঞ্জে সীমাবদ্ধ। দৃষ্টি যেহেতু পুলিশের কাজ করে, সে পায় চার হাজার, শুভ্রা ম্যাডাম হয়ত আরেকটু বেশি। আর আছেন প্রেমাংশু স্যার। এঁকে ক্বচিৎ কদাচিৎ দেখা যায়। আমার ইন্টারভিউয়ের সময়ে ইনিই ছিলেন প্রধান প্রশ্নকর্তা। চুপচাপ স্বভাবের মানুষ, নিজের মতো আসেন, নিজের মতো যান, এসে চেম্বারে ঢুকে যান, কারোকে বিরক্ত করেন না, সেখানেই খুটখাট করে কম্পিউটার চালিয়ে কাজকর্ম করেন। ইনিই এডুকেশান ডিপার্টমেন্টের হেড। ক্লাস টাস নিতে কখনো দেখিনি, তবে এই বিকে মার্কেটেই তো এডুকেশান সেন্টারের পুরোটা নয়, ক্যামাক স্ট্রীটের ওপরে খুব যত্নসহকারে তৈরী হচ্ছে আসল এডুকেশান সেন্টার। সেখানেও আপাতত কয়েকটা ক্লাসরুম খোলা হয়ে গেছে। আরো অনেক ক্লাসরুম এখনও তৈরীর স্টেজে। সমস্তটা তৈরী হয়ে গেলে এই বিকে মার্কেটের ভাড়া করা জায়গাটা এরা হয়ত ছেড়ে দেবে। শ্রীমতী ভেঙ্কটরমন ও অর্ণব এরা দুজনেই মাঝে মধ্যে ক্যামাক স্ট্রীটে ক্লাস নিতে যান। ঐ দোকানটায় আমি কখনো ঢুকিনি, কিন্তু শুভাশিসের মুখে শুনেছি, সে এক এলাহী ব্যাপার। বেস্ট কোয়ালিটির জয়পুরী মার্বেল দিয়ে তৈরী হচ্ছে ফ্লোর। সেই ফ্লোরের মধ্যে দিয়ে সিঁড়ি নেমে যাচ্ছে আন্ডারগ্রাউন্ডে। সেই সিঁড়িও জয়পুরী মার্বেলের। মাখনের মতো স্মুদ নাকি সেই মার্বেল। তার ওপরে এতই পিচ্ছিল যে সেই মার্বেলে চলতে গিয়ে আছাড় খেয়ে প্রেমাংশু স্যারের হেয়ার লাইন ফ্র্যাক্‌চার হয়েছে পায়ে। আপাততঃ তিনি বাড়ীতেই বেডরেস্টে আছেন। শুভাশিস গেল রোববারে স্যারের বাড়ীতে দেখা করতে গেছল। শুভাশিস নিপুণভাবে বর্ণনা দেয় প্রেমাংশুস্যারের সঙ্গে তার রবিবারের সাক্ষাৎকারের। হেয়ার লাইন ফ্র্যাকচার তো আসলে একটা ছুতো, সে আসলে দেখতে গেছল স্যারের কম্পিউটারটা। ব্যাপক জিনিস একটা। এই কোম্পানীর কোত্থাও তেমন জিনিস নেই। দেখার মতো কম্পিউটার। ফোর এইট্টি সিক্স। ইয়াব্বড়া স্ক্রীন। ফুল কালার। অ্যাত্তোবড়ো মেশিনটা। আর যা সব সফট্‌ওয়ার আছে না ভেতরে। শুভাশিস সমস্ত বুঝে উঠতে পারে নি ঠিকই, কিন্তু প্রেমাংশু স্যার যখন ঐ অবস্থাতেই মাউসের সাহায্যে তাকে সব খুঁটিনাটি দেখাতে শুরু করলেন, সে মুগ্ধ হয়ে গেছল। কিন্তু এখানেই শেষ নয়, খুব শীঘ্রই বাজারে আসতে চলেছে পেন্টিয়াম। আর বছর খানেক কি দেড়েকের মধ্যে হয়ত প্রেমাংশুস্যারও পেন্টিয়াম কিনে ফেলবেন। প্রেমাংশু স্যার যখন রঙীন কম্পিউটারে তাকে বিভিন্ন জিনিসপত্র দেখাচ্ছিলেন, তার মনে হচ্ছিলো এই সমস্ত সেলসের কাজ ছেড়ে পৈত্রিক বাড়ী বাঁধা রেখে সে কম্পিউটার শিখে নেবে। জিনিসটা খুবই রিস্কি হয়ে যাবে ঠিকই, কিন্তু নো রিস্ক, নো গেইন। একবার আইটিতে ঢুকে পড়তে পারলে জীবন সার্থক।
  • সে | ১৬ ডিসেম্বর ২০১৪ ১৭:৩৯652397
  • সব ফ্যাকাল্টিরই আসবার বেরোবার সময় বেঁধে দেওয়া আছে, একমাত্র এক্সেপশান হচ্ছেন শ্রীমতী ভেঙ্কটরমন। ইনি সকালের দিকে এসে ক্লাস নেন রোজ। একটা ক্লাস বিকে মার্কেটে অন্যটা ক্যামাক স্ট্রীটে। লাঞ্চ ব্রেক হতে না হতেই প্রায় দৌড়ে বেরিয়ে যান। নিয়মাবলী এঁর জন্যে বিশেষভাবে শিথিল। একটু ভারী গড়নের মধ্যবয়সী ভদ্রমহিলা, খুবই শান্তশিষ্ট টাইপ, দুঃখী দুঃখী কাঁদো কাঁদো মতো মুখ এবং অত্যন্ত মিষ্টভাষী। সেদিন কোনো কারনে তাঁর ক্লাস ছিলো না, তিনি ফ্যাকাল্টিরুমে বসে আনসার শীট কারেক্ট করছিলেন, সম্ভবতঃ কোনো ক্লাস টেস্ট নিয়েছেন। আমিও তখন কাজহীন অবস্থায় চুপচাপ বসে আছি। এগিয়ে গিয়ে আলাপ করলাম।
    কোথায় থাকেন আপনি?
    নট ভেরি ফার, নীয়ার রেস কোর্স।
    সাড়ে বারোটার মধ্যেই উনি বেরিয়ে পড়বেন, বাড়ীতে তাড়া আছে বললেন। বাচ্চারা স্কুল থেকে ফিরে আসবে।
    আপনার কটি বাচ্চা?
    আই হ্যাভ টু কিড্‌স্‌। বোথ গো টু স্কুল।
    ও আচ্ছা।
    ওরা স্কুল থেকে ফিরবার আগেই আমায় ফিরতে হয়, এই সকালটুকুই আমার যা ফ্রী টাইম, এরই মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে। আমার ফিরতে দেরি হয়ে গেলে খুব অসুবিধে হয়ে যাবে। কুকিং, ...
    কেন? আর কেউ নেই বাড়ীতে?
    আই হ্যাভ হেল্পিং হ্যান্ড্‌স্‌। বাট্‌, কিড্‌স্‌, ইউ নো...
    বুঝলাম, কাজের লোকের হাতে বাচ্চাদের একা ছাড়তে চান না তিনি।
    অ্যান্ড মাই হাসবেন্ড...
    এইটুকু বলে তিনি দুদিকে মাথা নাড়তে নাড়তে ওপরের দিকে তাকিয়ে চোখদুটো বন্ধ করে ফেললেন। মুখদুটো খুবই কাঁদো কাঁদো হয়ে গেল।
    এতক্ষনে বুঝেছি। ওঁর স্বামী মারা গিয়েছেন! দুটো ছোটোছোটো বাচ্চাকে মানুষ করবার ফাঁকে সকালে দুতিন ঘন্টা এই চাকরিটুকু করছেন। আমি সহানুভূতি জানাতে চেষ্টা করি।
    ও! আই সী।
    উনি অধোবদনে মাথা নীচু করে কাগজপত্র গোছাতে থাকেন।
    খুবই স্ট্রাগল করতে হচ্ছে আপনাকে।
    ইয়েস। বাট আই এনজয় ওয়ার্কিং হিয়ার।
    কতদিন হয়েছে?
    অলমোস্ট ওয়ান ইয়ার।
    আপনার হাসবেন্ড এক বছর হলো মারা গেছেন?
    নো! হি ইজ্‌ ভেরী মাচ্‌ অ্যালাইভ্‌! আই অ্যাম ওয়ার্কিং হিয়ার ফর ওয়ান ইয়ার।
    ও সরি সরি। আমি ভুল বুঝেছি।
    হি ইজ্‌ ইন্‌ ইন্ডিয়ান আর্মি। উই লিভ ইন টার্ফ ভিউ। হি ইজ্‌ (আবার সেইরকম করে চোখ ওপরে তুলে তারপর বন্ধ করে ফেলেন শ্রীমতী ভেঙ্কটরমন) ভের্‌রি স্ট্রীক্ট। ভের্‌রি স্ট্রীক্ট আই মেন্ট।
    ও! তাই বলুন। আই অ্যাম ভেরী সরি।
    একটু অসন্তুষ্ট হয়ে তিনি চলে যান।
    ইশ্‌! ওঁর ফেশিয়াল এক্স্‌প্রেশান ও বডি ল্যাঙ্গুয়েজ একেবারেই বুঝতে পারি নি। উনি ওঁর স্ট্রীক্ট স্বামীকে খুব ভয় করেন সেইটে বোঝাতে চেয়েছিলেন। আমি একটা গর্ধভ।
  • cb | ১৬ ডিসেম্বর ২০১৪ ১৭:৫১652398
  • টার্ফ ভিউ বাড়ির আমাদের অন্চলেই, সেকেন্ড ব্রিজে ওঠার আগেই টুক করে নেমে গিয়ে হেস্টিংস দিয়ে বাড়ি ফিরতাম কলেজ থেকে, সে কতদিন আগের কথা। সময় এত তাড়াতাড়ি যায়?
  • de | ১৬ ডিসেম্বর ২০১৪ ১৭:৫৭652399
  • :))
  • Tim | ১৬ ডিসেম্বর ২০১৪ ১৯:১৬652400
  • হরতনের তীর টির আর ভেররি স্ট্রিক্ট ঃ-)))
  • Du | ১৬ ডিসেম্বর ২০১৪ ১৯:৫১652401
  • ওহ সেই ২৫৬ কেবি র‌্যাম! এখন ভাবতে গেলে মনে হয় - নিশ্চয় ভুল করছি ইউনিটে।
  • সে | ১৭ ডিসেম্বর ২০১৪ ০০:৩৬652402
  • টিফিনের সময় আমাকে এরা বাইরে বেরোতে দেয় না। সর্বক্ষণ এক জায়গায় বসে থাকতে থাকতে আমার কোমর ধরে যায়। তাছাড়া রাজুদাকে দিয়ে টিফিন কিনিয়ে আনলে খরচও বেশি পড়ে। এরা একেকজন যা সব দামী দামী খাবার অর্ডার করে একেকজন। পঁচিশ টাকার ধোকলা। ফ্রায়েড রাইস উইথ চিলি চিকেন, তাও আবার রাজুদাকে বলে দেয় হোচিমিন সরণীর ডেচকি থেকে যেন না আনে, মানে চোখ বন্ধ করে মিনিমাম চল্লিশ থেকে পঁয়তাল্লিশ টাকা। বিকেলে আসছে শোনপাপড়ি, রসমালাই, পাপড়ি চাট। আমি মনে মনে হিসেব করে দেখেছি, এরা যা ইনকাম করে তার থেকে বেশি এদের এই টিফিন ইত্যাদির খরচ। সবই শখের চাকরি বোঝা যাচ্ছে। তারপরে শুভ্রাদেবী, দৃষ্টিদেবী, নন্দিতা, ভেঙ্কটরমন, এঁদের যাতায়াত নিজস্ব মোটোরগাড়ীতে। নন্দিতার অবশ্য নিজের গাড়ী নয়, তার বাবার অফিসের গাড়ী। সকালে ওকে ড্রপ করে দেন, বিকেলে তুলে নেন। কীসের টানে যে এরা সারাটা দিন এই ঘুপচি ট্রেনিং সেন্টারে মশার কামড় খায়, আমার বোধগম্য হয় না।
    নন্দিতারও আমার মতো খুব কম ক্লাস। ফাঁকা সময়ের কিছুটা ও দৃষ্টি কুমারের ঘরে, কিছুটা শুভ্রা চৌধুরীর ঘরে গল্প করে কাটায়; কিন্তু লক্ষ্য করেছি সঞ্জয় বলে একজন পার্টটাইম ফ্যাকাল্টির যেদিন ক্লাস থাকে নন্দিতা ফ্যাকাল্টি রুমে বসে খুব মন দিয়ে কীসব কাজ টাজ করে। তারপরে সঞ্জয় ক্লাসের আগে বা পরে ফ্যাকাল্টিরুমে ঢুকলেই নন্দিতা বাঁকিয়ে বাঁকিয়ে ভাববাচ্যে কিছু মন্তব্য করবে। কেউ কিছু উত্তর দেয় না। বিশেষ কেউ তখন থাকেও না, এই অধম ছাড়া। ঝগড়াঝাঁটি পাছে শুরু হয়ে যায় এই ভয়ে আমি পরিস্থিতি সামলাবার চেষ্টা করেছি। লাভ হয় নি। কারণ যাকে উদ্দেশ্য করে কটুক্তি, সেই সঞ্জয় বিশেষ উত্তর টুত্তর দেয় না, দিলেও হাল্কা কিছু বলে পাশ কাটিয়ে খাতাবই নিয়ে বা রেখে সেখান থেকে চলে যায়।
    একদিন টিফিনের একটু আগে এইরকম একটা ঘটনা আবার ঘটতে চলেছে বুঝতে পেরেই আমি ওখান থেকে সোজা বেরিয়ে গেছি। নদিতা গায়ে পড়ে সঞ্জয়ের সঙ্গে ঝগড়া করতে চায় তো করুক, আমাকে সাক্ষী রাখবার দরকারটাই বা কী? হেঁটে হেঁটে হোচিমিন সরণীতে গিয়ে মাত্র ছটাকা দিয়ে চমৎকার গরম গরম ভেজ চাউ খেয়ে এলাম। অল্প হাঁটাও হোলো। টিফিনের ব্রেক শেষ হবার অনেক আগেই ফিরেও এসেছি। ওমা! তাও দেখি সবাই আমাকে দেখে চোখ চাওয়া চাওয়ি করছে। ছেলেরা বেরিয়ে গেলে কোনো দোষ নেই, যত দোষ সব আমার। আমার এই বেরিয়ে যাওয়াটা আবার লাগিয়েছে নন্দিতা। ও ছাড়া আর কে ই বা লাগাতে পারে? শুভ্রাদেবী আমাকে গম্ভীরভাবে বললেন, ওঁকে খবর না দিয়ে আমি যেন হুটহাট সেন্টার থেকে বেরিয়ে না যাই।
    টিফিন খেতেও বাইরে যেতে পারব না?
    বাইরে যাবার দরকারটাই বা কী? রাজুকে দিয়ে পছন্দমতো খাবার আনিয়ে নিতে পারো। সকলেই তো আনাচ্ছে।
    হায়! কে বোঝাবে শুভ্রাদেবীকে যে নিজে ঘুরে ঘুরে বেছে বেছে পছন্দমতো খাবার কিনে খাওয়ার মধ্যে কী আনন্দ। তারপরে দামেও তো অনেক সস্তা হয়। আমি যদি মুড়ি ছোলাভাজা কিনে খেতে চাই, সেটা ঐ টেবিলে বসে ওদের সঙ্গে খাওয়া যাবে? শখের চাকরি করে তো সব, যা ইনকাম তার চেয়ে বেশি খরচ আর ফুটানি। রাগে মাথা গরম হয়ে যায়। আমি ডালিয়ার কাছে গিয়ে দাঁড়াই। ডালিয়া ফোনে ব্যস্ত। একটু পরে আমাদের কথা হয়।
    ঐ ঝগড়ুটে নন্দিতা নিশ্চই শুভ্রা ম্যাডামকে লাগিয়েছে আমার নামে। ও ঝগড়া শুরু করছিলো বলে আমি ঘর থেকে বেরিয়ে গেছলাম।
    ডালিয়া হেসে কুটিপাটি।
    ঝগড়া? ও ঝগড়া নয়। ঐভাবেই প্রোপোজ করবার চেষ্টা করে যাচ্ছে বহুদিন ধরে। সঞ্জয়দা খুব বুদ্ধিমান তাই পাত্তা দেয় না।
    ঝগড়ার মাধ্যমে প্রেম নিবেদন? এ আবার কীরকম স্টাইল?
    ঐরকমই ওর কায়দা। সঞ্জয়দার বান্ধবী আছে তা জেনেও ঐ নন্দিতা ম্যাডাম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সবাই জানে। কেউ কিছু বলে না।
    আমার সমস্ত রাগ গলে জল হয়ে যায়। কত রকমের মানুষ আছে দুনিয়ায়। তাও কেমন যেন শ্বাসরুদ্ধ লাগে। সকাল নটা থেকে সাড়ে ছটা তার মানে আমি বন্দী? পাঁচ মিনিটের জন্যে খোলা আকাশের তলায় দাঁড়াবার জন্যেও আমায় কারন দেখিয়ে পার্মিশান নিতে হবে এদের? দুহাজার দুশো টাকার বিনিময়ে আমার এটুকু স্বাধীনতাও বাঁধা পড়ে গেল শেষ পর্যন্ত?
  • r.huto | ১৭ ডিসেম্বর ২০১৪ ০০:৫৯652403
  • ওঃ, এই টিফিন খাওয়ার চাপ। কাঁকুড়গাছির মোড়ে আফিস ছিল, লোকজন সব মন্জিনিস অথবা ভালোরকম রেস্টুরেন্টে খেত, তিরিশ চল্লিশ টাকা তো খরচ হতোই। তো সবার সঙ্গে খেতে যাওয়া এড়াতে লাঞ্চের সময় গুচ্ছের কাজ দেখানো, এদিকে খাবার সময় পেরিয়ে গেলে সস্তার দোকানপাট বন্ধও হয়ে যায়। এইসব না করে উপায় নেই, পয়সা নেই বললে কেউ বিশ্বাসও করেনা, ওদের দোষ নেই, এমনিতে সবাই খুবই বন্ধুলোক, কিন্তু পয়সা যে নাও থাকতে পারে সেটা ওরা জানেইনা তো।
    আরেকটি ছেলে ছিল যার সঙ্গে সে সময় খুব একটা আলাপ পরিচয় হয়নি, বছর আটেক পর তার সঙ্গে অন্যত্র আলাপ হয়ে জানতে পারি তারও আমার মতই সমস্যা ছিল, তাই সহকর্মীদের সঙ্গে বিশেষ মেলামেশা বাড়াতো না।

    খুব মন দিয়ে পড়ছি পুরোটা লেখা - মাঝখানে মন্তব্য করতে অস্বস্তি হয় তাল কাটছি কিনা ভেবে, আজ আর পারা গেল না আরকিঃ)
  • সে | ১৭ ডিসেম্বর ২০১৪ ০১:৩২652404
  • প্রদীপ মুখার্জিকে এর মধ্যে আরো দুবার দেখেছি এখানে আসতে। অল্প হাই হ্যালো হয়েছে, আর কোনো কথা হয় নি। আমার ধারনা ওঁদের কোম্পানী থেকে লোকেরা এখানে কম্পিউটার শিখতে আসবে। উনি এলেই এরা তাই খুব খাতির টাতির করে। ভদ্রলোক আমাকে চাকরিটা করে দিয়ে খুবই উপকার করেছেন, কিন্তু আমার হয়েছে অন্য অসুবিধা- স্বাধীনতা হারিয়ে গেছে। বড্ড দোটানায় ভুগছি। একে তো টাকা রোজগার না করলে বেঁচে থাকাটাই অসম্ভব হয়ে যাবে, কিন্তু সেই অন্ন ও বাসস্থানের তাগিদে কি এরকম একটা বদ্ধ পরিবেশে নিজেকে বন্দী করে রাখা যায়? অথচ এই বন্দিত্ব কিন্তু রিলেটিভ। যেটা আমার কাছে দমবন্ধকর লাগে, সেটাই আবার অন্যদের কাছে স্বাভাবিক। আমিই কি অ্যাডজাস্ট করতে পারছি না এই ব্যবস্থার সঙ্গে, নাকি অন্যদেরও এইরকমই অসুবিধে হয়? ঠিক বুঝতে পারি না।
    একদিন সকালে অঞ্জলীম্যাডাম বেশ হাঁফাতে হাঁফাতে এসে ঢুকলেন সেন্টারে। কিছুটা উত্তেজিত। তাঁর উত্তেজনার কারন আমরা কেউ জানতে চাইনি, কিন্তু তিনি নিজে থেকেই জানাতে চাইলেন। নন্দিতা দৃষ্টি এরা সব মন দিয়ে শুনছে। ট্যাক্সিওয়ালার সঙ্গে মারামারি হয়ে গেছে অফিসে আসবার সময়। ম্যাডাম অবশ্য নিজে মারামারি করেন নি, মারামারি করেছেন ম্যাডামের হাজবেন্ড।
    আমি জিজ্ঞাসার চোখে ডালিয়ার দিকে তাকাই। ম্যাডামের হাজবেন্ড কোথায়?
    ডালিয়া ফিসফিসিয়ে জবাব দেয়, উনি টিউলেক এ চাকরি করেন।
    টিউলেকটা কী?
    ওটাও এডুকেশান সেন্টার, কিন্তু আমাদের এটার থেকে অনেক বড়ো।
    ম্যাডামের হাজবেন্ডও কি ওখানে ফ্যাকাল্টি?
    শ্‌শ্‌শ্‌ আস্তে। না, সেটা ঠিক জানি না।
    ম্যাডাম ট্যাক্সি ড্রাইভারের সঙ্গে হাজবেন্ডের হাতাহাতির ঘটনাটা সকলকে জানিয়ে, টেলিফোনের দিকে ফিরে এলেন। ফোন করলেন বরের অফিসে।
    কী?.. এখন মাথা ঠাণ্ডা হয়েছে তো?.. ডেটল থাকলে লাগিয়ে নাও... হ্যাঁ হ্যাঁ আমি ঠিক আছি। চিন্তা তো হবেই বাবা.. আর মাথা গরম কোরো না.. ঠিক আছে?
    এতক্ষনে হাসি ফুটেছে অঞ্জলীম্যাডামের মুখে। যদিও সারাটা দিনই ট্যাক্সি ড্রাইভারের সঙ্গে মারামারির ঘটনাটা তিনি অনেকের সঙ্গেই শেয়ার করলেন। সেইসঙ্গে মাঝে মধ্যেই, উঃ! ওর মাথাটা যা গরম, আমি তো ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম..

    সন্ধেয় আবার সেন্টারে উপস্থিত হলেন মিস্টার মুখার্জি। এবার আর শুভ্রাদেবীর চেম্বারে নয়, আমাকে রিসেপশানে দেখতে পেয়েই বললেন, ছটা তো বেজে গেছে, চলো আর কোনো কাজ না থাকলে। কথা আছে তোমার সঙ্গে।
  • সে | ১৭ ডিসেম্বর ২০১৪ ০২:৩২652407
  • আমি একটা অন্যায় করেছি। একটা পুরো অন্যায় না অর্ধেক অন্যায়, সে নিয়ে নিজেও ভেবে কুলকিনারা পাই নি। অথচ এ ছাড়া আমার আর কোনো উপায়ও ছিলো না। দেশে আমার এই প্রথম চাকরিটার জন্যে আমি মরিয়া হয়ে উঠেছিলাম, তাই বাধ্য হয়ে একটু অর্ধসত্য। আমার অ্যাড্রেস। আমি যে এখন শহরের প্রায় শেষপ্রান্তে একটা পাড়াপাড়া অঞ্চলে বস্তিতে থাকি, সেটা ঠিকানা দেখলেই বোঝা যাবে। অথচ পাসপোর্টে যে ঠিকানাটা রয়েছে সেটা আমার পুরোনো অ্যাড্রেস। চাকরির দরখাস্তে আমি ইচ্ছে করেই সেই ভদ্রপাড়ার ঠিকানাটা দিই। নিজেকে বস্তিবাসী বলতে কোনো সমস্যা আমার নিজের নেই, কিন্তু যারা চাকরি দেবে তাদের এই সমস্যা থাকতে পারে, সেইজন্যেই এই সতর্কতা। মিছিমিছি রিস্ক নিয়ে কী লাভ? মানুষজন তো কম চেনা হচ্ছে না প্রত্যেকদিন।
    যে কারনে এই অর্ধসত্যের অবতারণা, প্রদীপবাবুর ধারণা হচ্ছে যে আমার বাসস্থান ওঁর ঐ ডোভারলেন থেকে পায়ে হাঁটা দূরত্ব। উনি আমাকে সঙ্গে করে বাইরে বেরিয়েই একটা ট্যাক্সি নিলেন।
    কোথায় যাচ্ছি আমরা?
    চিন্তা নেই, আমি তোমাকে তোমার বাড়ীতে ড্রপ করে দেবো।
    সেরেছে! ওটাতো আসলে আমার কাগজে কলমে ঠিকানা। আসল বাসস্থান তো পুরো উল্টোপথে বহুদূরে ধ্যাড়ধেড়ে গোবিন্দপুর। কিন্তু আসল সত্যটা প্রদীপবাবুকে জানাই কেমন করে? জানিয়ে লাভই বা কী হবে? চেপে যাওয়াটাই বেটার। ট্যাক্সি চলতে চলতে গুরুসদয় রোডের মোড়ের কাছটায় এসে থামল। অল্প একটু রাস্তা পায়ে হেঁটে আমরা প্রবেশ করলাম ম্যাক্স্‌ম্যুলার ভবনের চত্তরে। ট্যাক্সিতে আসবার সময় কথাবার্তা তেমন হয় নি। ঐ টুকটাক, চাকরি কেমন লাগছে, কাজের প্রেশার আছে কিনা, কোলিগদের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়েছে কিনা, এই সমস্ত। আসলে আমিই জড়োসড়ো হয়ে রয়েছি, মিথ্যা ঠিকানা বলবার জন্যে। বেশ কয়েকবার ভেবেছি, বলে দেবো? বলেই দিই? নাঃ থাক। হাজারটা কথা বাড়বে। যেখানেই ড্রপ করে দিক না কেন, যত রাতই বাড়ুক না কেন, ঠিক বাস ধরে নিজের ডেরায় পৌঁছে যাবো। একটু দেরি হবে এই ই যা।
    অবশ্য আমায় এরকম ট্যাক্সিতে করে ম্যাক্স্‌ম্যুলার ভবনে নিয়ে আসবার কারনটাই বা কী হতে পারে? এখানে তো যতদূর জানি জার্মান ল্যাঙ্গুয়েজ শিখতে আসে লোকেরা। হঠাৎ এখানে আমাকে আনল কেন?
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। চটপট মতামত দিন