জীবন তরঙ্গ পর্ব ১৮ পছন্দসই একটা আস্তনার সন্ধান পাওয়া গেল। রণজয়ের এক ছাত্রের বাবা ব্যবস্থা করে দিলেন। তাঁর এক বন্ধুর বাড়ি। বন্ধুটি থাকেন কোলকাতায়, ছুটিছাটাতে এখানে এসে দু এক দিন কাটিয়ে যান। একজন মালি বাড়িটার দেখাশুনা করে। বাগানওয়ালা সুন্দর দোতলা বাড়ি। এক তলায় দুটো ঘর, রান্নাঘর, স্নানঘর আর একটা বড় বারান্দা ভাড়াটিয়ার জন্য বরাদ্দ হল। বাড়ির চারপাশে অনেকটা ... ...
জীবন তরঙ্গ - ১৭ এমএসসিতেও রণজয় ফার্স্ট ক্লাস পেল। পাশ করার অল্প সময়ের মধ্যেই একটা আধা সরকারি সংস্থায় ভদ্রস্থ একটা চাকরি লেগে গেল। রাশি তখন থার্ড ইয়ারে পড়ে। নির্মাল্য খুব খুশি এবং অনেকটা নিশ্চিন্ত হলেন। ছেলে ভাল জায়গায় চাকরি পাওয়াতে দিগ্বিজয়ও খুশি হয়েছিলেন। তবে যথারীতি তার বহিঃপ্রকাশ ছিল খুব সীমিত। রণজয় চাকরি পাওয়ার খবরটা প্রথমে মাকে জানিয়েছিল। কণিকা খুশি হয়ে অনেক আদর আর আশীর্বাদের পর ... ...
জীবন তরঙ্গ পর্ব – ১৬ রজতের মামা রণজয় লেখাপড়াতে খারাপ ছিল না। বিএসসিতে ফার্স্ট ক্লাস পেয়ে পাশ করার পর এমএসসি পড়ার জন্য ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হল। কলেজে পড়ার সময় থেকেই রণজয় অনেক টিউশনি করত। বড় হওয়ার পর থেকে বাবার উপদেশ আর পরামর্শ যেমন সে সচরাচর নিত না তেমনি বাবার কাছ থেকে কোন অনুদানও সে নিত না। টিউশনিতে যা আয় হত তা ওর নিজের খরচ চলার পক্ষে ... ...
জীবন তরঙ্গ - পর্ব ১৫ কল্পনা শোভাবাজারের বাড়িতে আর ফেরেনি। এত সব কিছু জানার পর ওখানে আর ফেরা সম্ভব নয়। নিজেদের বাগবাজারের বাড়িতে যেতেও মন চাইছিল না। বাবার কার্যকলাপ সে কিছুতেই মেনে নিতে পারছিল না। বাবা কেবল তার ভালবাসাকে চূর্ণ করেনি, চূর্ণ করে দিয়েছে তার জীবনটাকেও। মন সায় না দিলেও কিছুটা নিরুপায় হয়েই ফিরে এসেছিল মা বাবার আশ্রয়ে। কড়া নাড়তে হয়নি, বাইরের দরজা ভেজান ... ...
জীবন তরঙ্গ পর্ব - ১৪ শ্বশুর বাড়ি থেকে কল্পনাদের বাড়ি মিনিট পনেরর হাঁটা পথ। কাছে হওয়ায় কল্পনা মাঝে মাঝেই বাগবাজারে বাপের বাড়ি যেত। কখনো দিনের দিনেই ফিরে আসত কখনো বা এক আধ দিন থেকে আসত। একাই যেত, সাথে জয়ন্ত কমই গেছে। শ্বশুরবাড়ির লোকজন কখনো এ নিয়ে আপত্তি করেনি। বিয়ের মাস খানেক পর একবার কল্পনা বাপের বাড়িতে এসে দিন দুয়েক ছিল। তৃতীয় দিন সকাল সকাল শ্বশুরবাড়ি ফিরে এল। শ্বশুর আর দেওর তখন দোকানে ... ...
জীবন তরঙ্গ পর্ব - ১৩ আহেলির মায়ের মৃত্যুর আগে পরে কল্পনা ওদের বাড়িতে এসে বাড়ির মেয়ের মত অনেক সার্ভিস দিয়েছে। সেই সুবাদে আড়ষ্টতা অনেকটাই খসে গিয়ে নন্দর সাথে কল্পনার সম্পর্ক বেশ ঝরঝরে হয়ে গিয়েছিল। তবু নিজে প্রপোজ করা সাহসে কুলোয়নি। বোনকে মনের কথা জানিয়েছিল। আহেলি তার বান্ধবীকে জানিয়েছিল দাদার মনের কথা। কল্পনার কাছ থেকে ইতিবাচক উত্তর এসেছিল। এলাকার পর্যবেক্ষকদের ... ...
জীবন তরঙ্গ - পর্ব ১২ দাদুর সাথে বেড়াতে যাওয়া আর মামার কাছে গল্প শোনা ছাড়াও বাগবাজারের বাড়িতে নয়নের আর একটা ভাল লাগার ব্যাপার ছিল, সেটি হল ফেরিওয়ালা। ফেরিওয়ালার হাঁক যে রহড়াতে শুনতে পেত না এমনটা নয়, কিন্তু সেখানে এত বৈচিত্র নেই। বেলা একটু বাড়ার সাথে সাথেই এদের রকমারি ডাক শুনতে পাওয়া যেত। শিলনোড়া এখন খুব কম বাড়িতেই ব্যবহার করা হয়। মিক্সার গ্রাইন্ডারকে কুর্নিশ করে এরা ... ...
জীবন তরঙ্গ - পর্ব ১১ বাড়ির রেডিওটার ওপর নন্দার ভীষণ আকর্ষণ ছিল। ওতে হাত দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও কাছেপিঠে কেউ না থাকলেই ডিঙি মেরে ওর নবগুলো বাঁয়ে ডাইনে ঘুরিয়ে দিত। দু একবার ধরা পড়ে মার কাছে বকুনিও খেয়েছে, তবু নন্দা সুযোগ পেলেই ওর চেষ্টা চালিয়ে গেছে। সেদিন নন্দা স্কুলে যায়নি। অবনি অফিসে বেরিয়ে গেছেন। বৃহস্পতিবার পুজোয় অন্যদিনের থেকে একটু বেশি সময় লাগে তাই শান্তি তখনো ঠাকুরঘরে ... ...
জীবন তরঙ্গ - পর্ব ১০ নয়নের ছোটমামা আগ্রহী শ্রোতাদের কাছে ধীরে ধীরে মেলে ধরল কোলকাতার উন্নয়নে ব্যয় করা অর্থের উৎসের কাহিনী। -- তোমরা আশাকরি লর্ড ওয়েলেসলির নাম শুনেছ। আঠার শতকের একেবারে শেষ দিকে ওয়েলেসলি ভারতে বড়লাট হয়ে আসেন। বছর সাতেক ভারত অধীশ্বর হয়ে এই শহরে ছিলেন। এই শহরটা ছিল তখন ভারতের রাজধানী। তাঁর আমলেই কোলকাতাকে একটা রাজকীয় শহর করার স্বপ্ন দেখা শুরু হয়। ওয়েলেসলি ছিলেন দক্ষ প্রশাসক। তিনি বুঝেছিলেন যে শহরের ... ...
জীবন তরঙ্গ - পর্ব ৯ অল্প বিরতির পর চায়ের কাপে ছোট্ট চুমুক দিয়ে ছোট মামা আবার শোনাতে শুরু করল শহরের সেকালের কাহিনী। -- বর্গিরা ছিল দস্যুর দল। এই হানাদারেরা কাছেপিঠের কেউ নয়, আসত সেই মহারাষ্ট্রের নাগপুর থেকে। যেখানে আসত সেখানকার সব কিছু লুট করে নিয়ে যেত। লোকেদের ওপর চরম অত্যাচার করত, কখনো কখনো প্রাণেও মেরে ফেলত। তবে ওই দস্যুরা ঘোড়ায় চড়ে আসত বলে গঙ্গা পার হয়ে এদিকে আসেনি। যা কিছু বদমায়েশি সব গঙ্গার পশ্চিম পারেই করেছে। কিন্তু তাই বলে তো চুপ করে বসে থাকা চলে ... ...