বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--3


           বিষয় : বই যেন আশ্রয়
          বিভাগ : অন্যান্য
          শুরু করেছেন :অনুরাধা কুন্ডা
          IP Address : 236712.158.566712.9 (*)          Date:25 Jul 2019 -- 04:46 PM




Name:  অনুরাধা কুন্ডা           

IP Address : 236712.158.566712.9 (*)          Date:25 Jul 2019 -- 04:50 PM

মনের মধ্যে মাঝে মাঝে একটা ঝাপসাভাব আসে।কোনো কিছু যেন স্পষ্ট করে দেখা যায় না।নিজের নিয়মে সকাল হয়, দুপুর আসে, সন্ধ্যা নামে।সবকিছুই নিয়মমতো চলে অথচ তার সুর, তাল, লয়, ছন্দ কিছুই ঠিক ধরে ওঠা যায় না।বেসুর কানে আসে।বেতাল হয়ে যায় চলা।ছন্দ উবে যায় কাজের চাপে।মনের চাপে।চিন্তায়।দুর্ভাবনায়।আর কাজগুলো যে বেশির ভাগ অকাজের তা বুঝতে পেরে আরো ছটফট করে মন।কেমন অস্থির লাগে।তখন রবি ঠাকুরের কাছে গিয়ে বসি।ভাবি , যা হবার তা হবে।যে আমারে কাঁদায় সে কি অমনি ছেড়ে রবে!
অমনি করে "কবির আবাস" বইটির কাছে গিয়ে বসি।বড়ো শান্ত , স্নিগ্ধ তার ছায়া ।যে মানুষ দেশে দেশে তাঁর ঘর খুঁজে নিতে চেয়েছিলেন আর বলেছিলেন, " হেথা নয়, হোথা নয়,অন্য কোথা ,অন্য কোনোখানে" তাঁর মধ্যেও তো কাজ করতো এক সুবিশাল অস্থিরতা , যার তাড়নায় তিনি এক আবাস থেকে অন্য আবাস, জোড়াসাঁকো থেকে শিলাইদহ, শিলাইদহ থেকে বীরভূম স্থানান্তরিত করেছেন নিজেকে।সারা দেশ জুড়ে তাঁর চলাচল ছড়িয়ে গেছে গোটা পৃথিবীতে।আর বাসস্থানের বদল নিয়ে তাঁর যে বৈচিত্রযাপন , তাও কি তাঁর অস্থিরতা না অপরিসীম সৌন্দর্য বোধকে ছড়িয়ে দেয়ার প্রবল প্রতিভা? সামান্য একটি দুটি জায়গায় অত বিশাল বোধ আর ব্যাপ্তিকে ধরে রাখার সঙ্গতি কোথায়!
সুরঞ্জনা ভট্টাচার্য দুটি খণ্ডে লিখে গেছেন " কবির আবাস।"অতি নিষ্ঠা ও গভীর ভালোবাসা না থাকলে এ বই লেখা সম্ভব নয়।
কেন বারবার বাসাবদল করতেন কবি?এক জায়গায় থাকা কি তাঁর সৃষ্টি কে ব্যহত করতো?বাঙালির গৃহসজ্জা বোধকে নবরূপ দিয়েছিলেন যে মানুষ, তিনি নিজেও তো গৃহসজ্জা বিষয়ে বিশেষ সচেতন ছিলেন , সে তো বলাবাহুল্য।লেখক রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজড়িত
আবাসগুলিকে খুঁজে বেরিয়েছেন।যেমন নতুন তথ্য সামনে এনেছেন, তেমনি দূর করে দিয়েছেন মিথ হয়ে যাওয়া ভুল তথ্যাবলি।" রামভবন" সম্পর্কিত প্রবাদ যে ভুল বা একতলার ঘুপচি ঘরে আদৌ রাখা ছিল না কাদম্বরীর মৃতদেহ, এইসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে তাঁর আলোচনাতে।গেছেন শিলাইদহতে।পদ্মা তো বটেই।কী সুন্দর সব নদীর নাম!
যমুনা, গোরাই,করতোয়া,ফুলঝোর,ইছামতী, আত্রেয়ী ।নাম শুনেই প্রাণ জুড়িয়ে যায়।এইসব নদী দিয়ে বয়ে যেত রবীন্দ্রনাথের পদ্মা বোট।লেখক দু চোখ ভরে দেখেছেন নরম রোদের চাদর বিছানো দ্বীপ,দু একটি চালাঘর,কাশবন।গিয়েছেন সেই চলনবিলে , যেখানে প্রবল ঝড়ের টালমাটাল বোটে বসে কবি লিখেছিলেন প্রেমের গান।যদি বারণ কর তবে গাহিব না আর তুমি সন্ধ্যার মেঘমালা। চোখের সামনে বোটের আবাস ভেসে ওঠে।
সাজাদপুরের কুঠিবাড়িতে জোর করে একা থেকেছেন সুরঞ্জনা ।দেখেছেন বিশাল প্রাঙ্গণের একদিকে সেই কুঠিবাড়ি,যেখানে বসে লেখা হয়েছিল " ক্ষুধিত পাষাণ ""পোস্ট মাস্টার"," অতিথি", "বিসর্জন ।"
প্রায় বারো বছর ধরে এই গবেষণার কাজ।শেষ পাঁচ বছর ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করতে করতে কাজ শেষ করেছেন সুরঞ্জনা ।সে যাত্রার শুরু হয়েছিল জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ির গল্প দিয়ে ।প্রবাদপ্রতিম সেই মহীরূহ।তার সামার হাউস।গাছঘর।ফোয়ারা।দোলনা।আদি ভদ্রাসনের অন্দরমহলে " ভিতরবাড়ির বাগান।"রবীন্দ্রনাথের জীবিতাবস্থায় ঠাকুরবাড়ির প্রাঙ্গণে পাঁচটি বাসগৃহের বিবরণ আছে। আদি ভদ্রাসন। বৈঠকখানা বা পাঁচ নম্বর বাড়ি ।বিচিত্রা।বারাণসী ঘোষ লেনের ত্রিতল বাড়ি ।ক্ষিতীন্দ্রনাথ ঠাকুর নামাঙ্কিত মহল।খুঁটিয়ে লিখেছেন।দ্বারকানাথ থেকে শুরু হচ্ছে গৃহের আখ্যান।মহর্ষি ভবন।পাঁচ নম্বর বাড়িতে যে আমোদ প্রমোদ চলতো , তাতে যোগ দেওয়ার অনুমতি ছিল না মহর্ষি ভবনের ছেলেমেয়েদের।সুরঞ্জনা র কাজের গুণ এই যে তিনি শুকনো পাণ্ডিত্য ফলান নি।বাড়ির সঙ্গে সঙ্গে এসেছে বাড়ি র মানুষদের কথা। রবীন্দ্রনাথের নিজের কথা।
প্রথম খণ্ডে আরো আছে পূর্ববঙ্গের জমিদারিতে কবির বাস।শিলাইদহ।পদ্মাবোট।সাজাদপুর।পতিসর।কুষ্টিয়া ।আর আছে শান্তিনিকেতন পর্ব।
নতুনবাড়ি।দেহলি।কোণার্ক।শ্যামলী।পুনশ্চ।উদীচী।উদয়ন।আছে জাপানি ল্যান্ডেস্কাপ গার্ডেন।আনন্দ রূপম অমৃতং যেখানে মূলমন্ত্র ।নিরাকার ব্রহ্ম ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই।প্রান্তরলক্ষ্মী শব্দটির মহিমা এখানেই বোধগম্য হয় বুঝি।প্রচুর দুর্মূল্য ছবি সমৃদ্ধ বইখানিতে সুরঞ্জনা সাজিয়ে দিয়েছেন কোন গৃহে কোন লেখার কাজ হয়েছিল , তার তথ্যসমৃদ্ধ বিশদ বিবরণ।
দ্বিতীয় খণ্ডে আবার জোড়াসাঁকো ।আর বাংলা ছাড়িয়ে বক্রোটা,শাহিবাগ, কারোয়ারে তাঁর আবাস।
পড়তে পড়তে প্রাণে শান্তি আসে।কোথায় বসে তিনি লিখেছিলেন , তোমার সৃষ্টির পথ রেখেছো আকীর্ণ করি?
রাণী চন্দ কে বলেছিলেন, এইসব কবিতাগুলি মুখস্থ করে রাখিস।এগুলি মন্ত্রের মতন।
বই জুড়ে আছে বাড়ির আঙিনা, ছাদ,বারান্দায় ছড়ানো স্নিগ্ধ জ্যোৎস্না।ফুলে বোঝাই দক্ষিণী বারান্দার চাঁপাগাছ।লালবাড়ির লাগোয়া কদমগাছ।আছে সুরেলের সানসেট বাংলো , মংপুতে মৈত্রেয়ী দেবীর আবাস,কালিম্পঙের গৌরীপুর ভবন।
ভারি মমতা নিয়ে করা এই বিশাল কাজ।দেখলে আশ্চর্য হতে হয় লেখকের গভীর অধ্যাবসায় সম্পর্কে ।কী গভীর অনুসন্ধিত্সা নিয়ে কাজ করে গেছেন প্রতিটি খুঁটিনাটি সহ।সুরেলে বিদ্যুত ছিল না।কবির মনে পড়তো ছেলেবেলার কথা। সন্ধ্যা বেলা ঘরে জ্বালানো হত রেড়ির তেলের বাতি।ছোট অ্যাংলো ইন্ডিয়ান ছেলেদের কবি পড়ে শোনাতেন কবিতা।শেষ হয় " একটি নমস্কারে।" মন ভালো হয়ে যায় ।চোখের সামনে ছবি ভাসে।উচ্চারণ ভাসে।স্নিগ্ধ বাতিটি দেখি।দেখি যেন প্রশান্ত মহলানবিশের আম্রপালি বাড়ি।সেখানে কখনো না গিয়ে ও তিনিই আছেন।যেমন আছেন মনে।
কোন কোন বই শুধু লেখা হয় না।সযত্নে তার লালন হয়।এই বই বড়ো যতনে আদরে লালিত হয়েছে।দুটি খন্ড ভর্তি মণিরত্ন নয়।শান্তি।একটি সুদৃশ্য জ্যাকেটে দুটি খন্ড।রঙে রুচিতে শোভন।শান্ত।তথ্যে সমৃদ্ধ হওয়া যদি এর সত্য হয়, তবে আরো সত্য হল এর সৌন্দর্য ।খুব কম দিন বেঁচেছিলেন সুরঞ্জনা ।কিন্তু যে কাজটি করে গেছেন তা অনন্যসাধারণ ।আবাস তো শুধু চারদেওয়ালের গাঁথনি নয়।সে হল ইতিহাস।সে হল ঐতিহ্য।তার গায়ে লেগে থাকা শ্যাওলা আর ফাটলে জন্মানো বটগাছটিরও একটি গল্প থাকে।কী আবেগ আর মনন সমৃদ্ধ এই ইতিহাস।মহাজীবনকে স্পর্শ করার অনুভূতি।তিনধরিয়া হোক বা আর্ট কলেজ ভবন, সর্বত্র কবির চিন্তাস্পর্শ।মন সুস্থির হয়।ঝাপসাভাবটুকু কেটে পরিষ্কার দেখতে পাই।একেই তো পাওয়া বলে।


দুঃখতাপে ব্যথিতচিতে নাই বা দিলে সান্ত্বনা
দুঃখে যেন করিতে পারি জয়।


Name:   ন্যাড়া           

IP Address : 237812.68.121223.141 (*)          Date:25 Jul 2019 -- 07:45 PM

প্রকাশক, দাম ইত্যাদি জানানো যায়?


Name:  U:          

IP Address : 236712.158.8956.74 (*)          Date:26 Jul 2019 -- 05:36 AM

https://www.google.com/amp/s/www.anandabazar.com/amp/supplementary/pus
tokporichoi/%25E0%25A6%2586%25E0%25A6%25AE-%25E0%25A6%25B8-%25E0%25A6%
2587-%25E0%25A6%2598%25E0%25A6%25B0-%25E0%25A6%25AE%25E0%25A6%25B0-%25
E0%25A6%2596-%25E0%25A6%259C-%25E0%25A7%259F-1.379681


এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--3