এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • নস্টালজিয়া এখন

    সিএস লেখকের গ্রাহক হোন
    ২৭ মে ২০২৪ | ২২১ বার পঠিত
  • ব্যাপারটা শুরু হয়েছিল, আমার ধারণা, বেশ কয়েক বছর আগেই, যখন ব্যোমকেশ বা ফেলুদাকে নিয়ে সিনেমা তৈরী হতে থাকে। ভাবতাম, এ কি নিছকই বাজার ধরার চেষ্টা, পোস্ট ঋতুপর্ণ যুগে বাংলা সিনেমা গোয়েন্দা গল্পকেই ভরসা করছে সিনেমাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য ? সে করতে গিয়েও সমসাময়িক লেখাপত্র পাওয়া যাচ্ছে না বলে, পুরোন লেখা ও চরিত্র ?

    অথবা, এই দুই চরিত্রকে নিয়ে সিনেমা তৈরীর ভেতরের কারণ ছিল বাঙালী যৌথতার নস্টালজিয়া ? নস্টালজিয়া, যে বাঙালী জীবন হারিয়ে গেছে, তার এক বিশেষ সময় হারিয়ে গেছে তার প্রতি ? শুধু পোশাকই যদি দেখি, ব্যোমকেশের মূলতঃ ধুতি - পাঞ্জাবি, অথবা ফেলু মিত্তির / প্রদোষ চন্দ্র মিত্র / পি সি মিটারের ধুতি - পাঞ্জাবি - শাল - স্যুট - ট্রাউসার, এসবই যা দৈনন্দিনেরই ব্যবহার, বিশেষ উৎসব - অনুষ্ঠানে পরার ব্যাপার নয়, যা বাঙালীর পরিচ্ছদেরই একাধিক দিক, ২০০০ পরবর্তী সময়ে এসবেরই ব্যবহার ক্রমশঃ কমে যেতে থাকলে, দৈনন্দিনে,  পোশাককেন্দ্রিক নস্টালজিয়া থেকে এই দুই চরিত্রকে নিয়ে যেসব গল্প, সেসব গল্পের মধ্যে বাঙালীর ব্যবসা - আর্থিক অবস্থার বাহার - কোলিয়ারি - বাঙালীর পশ্চিম, কলকাতা বা তার আশে পাশের বনেদী - আর্থিক ভাবে স্বচ্ছল মানুষজন, সেই সবের প্রতি নস্টালজিয়া তৈরী করছিল ? এক বিশেষ সময়ে এসবই বাঙালী জীবনে ঘটেছিল আর ১৯৯০ - ২০০০ এর পরে বাঙালীর সমাজ - অর্থনীতি - রাজনীতি ক্রমশঃ টেনশনসঙ্কুল হয়ে উঠলে, স্থিরতা হারিয়ে অস্থির হয়ে উঠতে থাকলে, ক্রমশঃ বাঙালী নিজের রাজ্য থেকে বাইরে চলে যেতে থাকলে নস্টালজিয়া তৈরী হতে পারে যা ঐসব গল্পকে ঘিরে গড়ে উঠতে থাকে ? এসবেরই এক্সটেনশন, ক্রমশঃ গল্পের চরিত্রদের থেকে সরে এসে বাস্তবের চরিত্রদের দিকে যাওয়া, সিনেমা জগতের বা কালচারাল জগতের আইকনদের দিকে যাওয়া, বাংলা সিনেমার ট্রিনিটিদের নিয়ে সিনেমা তৈরী, ঋত্বিককে নিয়ে যার শুরু ? একটা কিছু এরা করেছিল, বলার মত, সমসময়ে নানারকমের ডিবেট আর সমালোচনার মধ্যে দিয়েও, পুরস্কার, মান্যতা বা তিরস্কার সবই জুটেছিল, সেসব এখন ফিরে দেখা, যখন মনে হচ্ছে সে রকমের কাজ আর করে ওঠা যাবে না ? করে ওঠা যাবে না এই বোধটিই যৌথ অবচেতনে রয়ে যাচ্ছে, সমাজ - রাজনীতিও পালটে যাচ্ছে, মোকাবিলা করা যাচ্ছে না সেসবের সাথে, ক্রিটিকাল থাকা যাচ্ছে না বা আইডিওলজিরও সাপোর্ট নেই আর, এককালে যারা ক্রিটিকাল ছিল বা আর্ট তৈরী করতে পেরেছিল সেইসব আইকনরা প্রাধাণ্য পাচ্ছে, তাদের সময়ের অনেক কিছুকে কাটছাঁট করে ? খুব সম্ভব, সুনীল গাঙ্গুলী বা উৎপল দত্ত, এঁরাও কিছুদিনের মধ্যে সিনেমায় চরিত্র হিসেবে হাজির হবেন, উৎপল দত্ত তো বাংলা নাটকের স্টেজ ইদানীং জুড়ে আছেন, টিনের তলোয়ার বা ব্যারিকেড নিয়ে, সমসাময়িক রাজনীতি যত হিংস্র হয়ে উঠছে বা সমস্যাকর, বিরোধী রাজনীতি যখন শক্তভাবে তৈরী হতে পারছে না, কারোর ওপরই ভরসা করা যাচ্ছে না, তখন পুরোন নাটককে ব্যবহার করেই প্রতিবাদ করা হচ্ছে, সেইসব নাটকের সেই সময়ের সাফল্য, প্রতিবাদের সাফল্য এখনও পথ দেখাবে বা কাজ করবে এই ভেবে ?

    যা হারিয়ে ফেলেছি, ব্যবসা - অর্থনীতি - রাজনীতি - প্রতিবাদ - ডিবেট, এগুলো ট্রিগার করছে নস্টালজিয়াকে, ভেতরে, উঠে আসছে সিনেমায় - নাটকে, গল্পের বা বাস্তবের আইকনদের ব্যবহার করে ?
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • | ২৭ মে ২০২৪ ২১:১০532403
  • হুঁ যা হারিয়ে গেছে অথচ তার কাছাকাছি মানের কিছু উঠে আসছে না সেই বোধ নস্টালজিয়া ট্রিগার করে তো বটেই।  কিন্তু গোটা ব্যপারটা কালেকটিভ কনশাসে ঢুকে গেছে এইটে চাপের।  সন্দীপ রায়ের নাহয় বাবা ছাড়া আর কোন বৌদ্ধিক পুঁজি বিশেষ নেই তাই ওই ভাঙিয়েই চলছে।  
  • পাপাঙ্গুল | ২৭ মে ২০২৪ ২১:২০532405
  • নস্টালজিয়া ভাঙিয়ে অনেকদিন ধরেই বাংলা ছবি চলছে কারণ প্রযোজকরা দেখে নিয়েছে বিনিয়োগ সবথেকে নিরাপদ ব্যোমকেশ ফেলুদায়। সেটা ধীরে ধীরে অন্য জিনিসে ছড়াচ্ছে অনীক দত্তের অপরাজিতর পর। যদিও অঞ্জনের ছবিটি প্রচুর ব্যবসা করবে বলে বানানো বলে আমার মনে হয়নি। অনেকদিন পরিচিতির এবং কাছ থেকে দেখার সুবাদে এরকম 'পার্সোনাল' ছবি বানানো যেতে পারে। ছবির প্রযোজকও অঞ্জন নিজেই, কোনো বড় হাউস নয়। সমস্যা হচ্ছে সৃজিতও এবার একটা ছবি আনছেন মৃণাল সেনের ওপর  সেটা অবশ্যই ব্যবসার উদ্দেশ্যে বানানো কারণ সৃজিত কোনোদিন মৃণাল সেনের সঙ্গে কাজ করেননি।
  • অরিন | 119.224.61.73 | ২৮ মে ২০২৪ ১২:৫৪532437
  • বাংলা সিনেমায় নস্টালজিয়া, স্মৃতি সততই সুখের, এবং দেখা যাচ্ছে বাণিজ্যের পক্ষে লাভজনক। কিন্তু যেটা হচ্ছে এক ধরণের বেশীরকম বিক্রির চেষ্টা, কতগুলো ফেলুদা আর ব্যোমকেশকে নিয়ে ছবি হয়েছে তার খেই হারিয়ে ফেলেছি। 
    অনুপ্রেরণা এক জিনিস, কিন্তু ইতিহাসকে কেন্দ্র করে বাঁচা আরেক। অঞ্জন দত্ত ইনটারভিউতে বলছিলেন তাঁর উদ্দিষ্ট দর্শকরা সব কলকাতা/বাংলা ছেড়ে অন্যত্র পাড়ি দিয়েছে। হতে পারে, কিন্তু এই যে একটা দর্শক আর আসছে না, বা কেন সমসাময়িক চিন্তাভাবনায় এঁরাও ঠিক নিজেদের যোগ করতে পারছেন না, এ নিয়ে এরা কতটা ভাবছেন বা পরীক্ষা নিরীক্ষা করছেন, আমার কাছে স্পষ্ট নয়। অতীত ভাঙিয়ে বেশী দিন চালানো যাবে না। সমকালীন সমস্যাগুলো নিয়ে ছবি/শিল্প/সাহিত্য  চর্চার একটা পরিসর তৈরী করার জায়গা আছে মনে হয়। জানিনা। 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লুকিয়ে না থেকে মতামত দিন