এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • চা দিবস

    আফতাব হোসেন লেখকের গ্রাহক হোন
    ২২ মে ২০২৪ | ১৬৬ বার পঠিত
  • - চিনির সাথে জল মিশিয়ে গরম করি।
    - একটু গাঢ় হলে বাসী ভাত মিশাই।
    - শক্ত হলে বাটিতে ভরি। গোল বাটিতে।
    - সকালে কেকের মত লাগে।
    - ছেয়েটো খুব পসন্দ করে।
    চটের হাটের স্টেশনে নেমে কিছুদূর হাঁটলেই গঙ্গা চা বাগান। তেরো বছরের পেট ভাতার জায়গা। বন্ধু বান্ধব কম, চা কুলিরাই ভরসা বড্ড।
    প্রিয় একজন নিকোলাস।
    নিকোলাস রাতে বেরোয় রোজ। শহরের বাড়ি গুলো এড়িয়ে গ্রামের ছোট ছোট গুমটি গুলোই তাঁর বেশি পছন্দ। শহুরে বাড়িগুলোতে সব আছে সুখ ছাড়া। আর গুমটি গুলোতে সুখ আছে সব ছাড়া।
    লোকে বলে নিকোলাস নাকি পাগল। কেউ বোঝে না নিকোলাস সুখ খোঁজার ব্যাপারী। নিতে তো সবাই পারে। নিকোলাস ই কত্ত নিয়েছে। তারপর ওর বাবাকে পরমাত্মা যেদিন নিল সেদিন থেকে নেবার আর শখ নেই। দিতে মন চায়। শুধু দিতে।
    নিকোলাস দের মেয়েরা চাকরি করে। রোজ এর চাকরি। কোবরা, গো সাপ আর অনিশ্চয়তার বিষ আর লোভী চোখ এড়িয়ে সবুজ খোঁজার চাকরি। সবুজ খুঁজে পেলেই দুটো পাতা আর কুঁড়ি কে পিঠে সান্তার ব্যাগে চালান। সকাল থেকে বিকেল। ব্যাগ এর ভার পিঠে ভালবাসার ছাপ ছেড়ে যায়। দিনের শেষে পিঠের ছাপের ওজন মাত্র একশ টাকা। ইদানিং মেশিন আসার পর তাও হয় না।
    বলল বাবু পাতির চেয়ে গান্ধী হালকা গো।
    বললাম ছবিতে দেখিসনি লোকটা রোগা ছিল। তাই হালকা মনে হয়।
    নিকোলাসের তিন মেয়ে, মাসে তিন দিন বেকার। দশ বছরের পর থেকেই নোংরা কাপড় দিয়ে রক্ত ঢেকে ঢেকে ইনফেকশন। প্রতি মাসে জ্বালায় বিছানা থেকে উঠতে লারে। পেটের জ্বালা পেটের নিচের জ্বালার জোর টক্কর। কে জিতে কে জানে ? ভাগ্যিস এক মেয়ে বাগানে। রাতে নীল রঙের গান্ধী বাঁধা। সন্ধ্যের আগে এসে ধপাস করে বসে বললো বাগানে নোটিস। কাল থেকে বেকার।
    নিকোলাসের তিন মেয়েই আজ থেকে বেকার। বাগানে নোটিস। বাগানের বিষে তিরিশ টা বছর দেওয়া নিকোলাস আজ অথর্ব। বড় মেয়ের ছোট ছেলের কেক এর বায়না। দিলাম একটা বড়সড় কেক পুঁচকেটাকে। বললাম খাস প্রাণ ভরে। একটুকরো মুখে দিয়ে বলল মায়েরটা আরো ভালো।
    বোবা চোখে বড় মেয়েকে বললাম কি করে বানাও ?
    বলল
    চিনির সাথে জল মিশিয়ে গরম করি।
    - তারপর ?
    - তারপর একটু গাঢ় হলে বাসী ভাত মিশাই।
    - তারপর ?
    - শক্ত হলে বাটিতে ভরি। গোল বাটিতে।
    - তারপর ?
    - সকালে কেকের মত লাগে। ছেলেটো খুব পসন্দ করে।
    পরিচয় করিয়ে দিই ...
    নিকোলাস কুজুর। চা বাগানের অভিশাপের ফসল। ট্রেড ইউনিয়নের বিষের ফল। ঘাস আর পদ্মফুলের ভোটব্যাঙ্ক আর কাস্তে হাতুড়ির দগদগে ঘা।
    আজ সকালে গিয়েছিলাম নিকোলাস কুজুরদের ওখানে। চা দিবসে। চা খেতে।
    বদলে
    চোখ ছোট করে ঘরের ভাতকেক একবাটি দিল।
    পিস করে কেক শহরে চলে। বাগানে বাটি।
    বলল খাও মাস্টার।
    উদিকে দেখ
    দেখলাম ছোট ছেলেটা শিকন ভর্তি নাকে চোখ বড় বড় করে একবাটি কেক খাচ্ছে।
    চা আর কি খাওয়াই বলো, সারাজীবন ভর চা ই আমাদের খেলো গো......
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • অসিতবরণ বিশ্বাস | 2409:4061:4eb8:7dec::d309:f70d | ২২ মে ২০২৪ ০৯:৪৬532136
  • চমৎকার লেখা। সারাজীবন ভর চা-ই ওদের খায়।
    'একটা কলির দুইটা পাত 
    তাই তর পেটের ভাত 
    পাহি পাহি পাতা তরি টকরি ভরাই 
    এহে সখি জিয়ে কি উপায়। 
    হায়রে হায়রে হায়।
     
    দুই টকার বাজার করি 
    বাকি আনি লাউ পানি 
    গটা দিন পাতা তরি 
    হপ্তা হিসাব পাই 
    এহে সখি জিয়ে কি উপায়। 
    হায়রে হায়রে হায়।
     
    বাবু ভায়ার ছানা পুনা 
    ইশকুল পড়ে যায়রে 
    মজদুর ছানা পকা বিছে যায় 
    এহে সখি জিয়ে কি উপায়। 
    হায়রে হায়রে হায়।
     
    মজদুর ছানার গতি দেখলে 
    লহু বহে আঁখিয়ালে 
    কিবা করি কি করিব হায়। 
    এহে সখি জিয়ে কি উপায়।
     হায়রে হায়রে হায়।'
                          ...চা-বাগিচার ঝুমুর।।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লুকিয়ে না থেকে মতামত দিন