এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  প্রবন্ধ

  • যুদ্ধাপরাধী, সাবধান! (পর্ব - ১)

    নূপুর রায়চৌধুরী
    প্রবন্ধ | ১১ মার্চ ২০২৪ | ৮৯৩ বার পঠিত | রেটিং ৪ (১ জন)
  • পর্ব - ১ | পর্ব - ২
    নুরেমবার্গ ট্রায়ালে আসামীরা। (ছবি: উইকিমিডিয়া কমন্স)




    সেদিনটা ছিল শুক্রবার, মার্চ ১৭, ২০২৩। বেশ মনে আছে, প্রতিদিনকার মতো গাড়ি চালিয়ে যেতে যেতে এফএম-এ এনপিআর নিউজ শুনছি, হঠাৎ শুনি বলছে, হেগ-এর আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট, আইসিসি) যুদ্ধাপরাধী হিসাবে রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এই প্রক্রিয়াকে ‘যৌক্তিক’ বলেছেন, আর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মতে, এই পরোয়ানা জারির ঘটনা ‘ঐতিহাসিক’। খবরটা শুনে দাঁতে দাঁত চিপে বললাম - রাইটলি সার্ভড, কিন্তু পরক্ষণেই আশঙ্কা জাগল: পারবে কি আইসিসি ওই নরঘাতীর বিরুদ্ধে অ্যাকশন নিতে? খবরে তখনও বলে চলেছে: মস্কো এই আদেশকে অকার্যকর" বলে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং রাশিয়ার শীর্ষ তদন্ত কমিটি বলেছে যে, পুতিনের পক্ষ থেকে অপরাধমূলক দায়বদ্ধতার কোনও ভিত্তি নেই; ১৯৭৩ সালের জাতিসংঘের কনভেনশনের অধীনে পরম অনাক্রম্যতা উপভোগ করেন রাষ্ট্রপ্রধানরা।

    বিশেষজ্ঞদের আলাপ আলোচনা থেকে উঠে আসল আরও অনেক অজানা তথ্য: আইসিসি’র পক্ষে পুতিনের মতো রুশ নেতাদের বিচার করার অসুবিধে আছে, কারণ, রাশিয়া ২০০০ সালে রোম সংবিধিতে স্বাক্ষর করলেও আইসিসির সদস্য হওয়ার জন্য এটিকে কখনই অনুমোদন করেনি এবং শেষমেশ ২০১৬ সালে সই-ই প্রত্যাহার করে নেয়। তাত্ত্বিকভাবে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ আইসিসিকে এই অপরাধ তদন্ত করার জন্য বলতেই পারে; তবে রাশিয়া এতে ভেটো দিতেও সক্ষম।

    ভাবতেই আশ্চর্য্য লাগে, অসহায় মানুষদের নির্বিচারে ঠান্ডা মাথায় খুন করে যারা, তাদের বাঁচানোর জন্য কত না আইনের মারপ্যাঁচ রয়েছে, নিত্যনতুন তৈরিও হচ্ছে, অথচ ইউক্রেনে ব্রোভারি'র চার বছরের বাচ্চা মেয়েটির উপর যে রুশ সৈন্যরা যৌন নিপীড়ন করল, তার বাবার সামনে বন্দুকের মুখে তার মাকে গণধর্ষণ করল, তাদের পৈশাচিক অপরাধের দায়ভার কে নেবে? অথবা বুচার ৬৯ বছর বয়সী পেনশনার ভ্যালেন্টিনা জেন--কী দোষ ছিল তাঁর? ২৫ মার্চ, ২০২২-এ রাশিয়ার দখলদার বাহিনী ভ্যালেন্টিনাকে তাঁরই বাড়ির উঠোনে গুলি করে হত্যা করে। ভ্যালেন্টিনার মৃতদেহটি সেখানেই পড়ে ছিল যতক্ষণ না ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী রাশিয়ানদের কবল থেকে ৩১ মার্চ বুচাকে আবার মুক্ত করে– এত বড়ো অন্যায়ের কি কোনো বিচার নেই?

    যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত হয়েছেন রাষ্ট্রপ্রধান-এ কিছু নতুন নয়, আগেও হয়েছে। সুদানের রাষ্ট্রপতি ওমর আল-বশিরের বিরুদ্ধেও তো দারফুরে নৃশংস হত্যা, জাতিগত নির্মূল, ধর্ষণ এবং নির্যাতনের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য ২০০৯ ও ২০১০ সালে আইসিসি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। কিন্তু সুদানে ঘাপটি মেরে বসে থেকে, দীর্ঘকাল আইসিসি'র নাগালের বাইরেই রয়ে যান বশির। দেখুন, সুযোগ যে একেবারেই আসেনি তা তো নয়, কিন্তু পৃথিবীতে বিশ্বাসঘাতকেরও কোনো অভাব নেই! তাই, ২০১৫ সালে, দক্ষিণ আফ্রিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জেকব জুমা তাঁর নিজস্ব সরকারি আদালতের আদেশ উপেক্ষা করেন এবং বশিরকে আফ্রিকান ইউনিয়নের শীর্ষ সম্মেলন ছেড়ে যাওয়ার অনুমতি দেন। এতে দারুণ ক্ষুব্ধ হয়েছিল নাগরিক সমাজ। দক্ষিণ আফ্রিকার একটি আদালত পরে রায়-ও দেয় যে, বশিরকে আইসিসি'র হাতে তুলে না দিয়ে সরকার "অসম্মানজনক" আচরণ করেছে। ভাবছেন, আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য কী সাফাই গাইলেন জুমা? কেন? আছেই তো সেই বস্তাপচা ধুয়ো: আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, আল-বশিরের মতো রাষ্ট্রপ্রধানরা ফৌজদারি এখতিয়ার থেকে অনাক্রম্যতা উপভোগ করেন। এর সহজ অর্থ হল একজন রাষ্ট্রপ্রধানকে তাদের কথিত অপরাধের জবাব দেওয়ার জন্য আইসিসি'র আদালতে হাজির করা যাবে না। তবে হ্যাঁ, সব কিছুরই শেষ আছে, অপেক্ষা শুধু সময়ের। ২০১৯-এর সামরিক অভ্যুত্থানে বশিরকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করা হয় এবং তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি বশির বর্তমানে দুর্নীতির দায়ে সুদানের কোবার জেলখানায় দুই বছরের সাজা ভোগ করছেন। ১৯৮৯ সালের সেনা-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অন্যায়ভাবে ক্ষমতা অধিগ্রহণের অভিযোগে ২০২০-র জুলাই থেকে তাঁর বিচারও শুরু হয়েছে। আইসিসি সাধারণত সেসব দেশের যুদ্ধাপরাধের বিচারের দায়িত্ব নেয়, যেসব দেশে বিচারব্যবস্থা খুব দুর্বল এবং নিজেদের বিচার চালাতেই তারা যথেষ্ট বেগ পায়। এদিকে জটিলতা ও আধিক্যের পরিপ্রেক্ষিতে বশিরের যুদ্ধাপরাধ বিচারের মোকাবিলা করা সুদানের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষে রীতিমতো চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠতে পারে, সুতরাং, এক্ষেত্রে আল-বশিরকে আইসিসির হাতে তুলে দেওয়াই সরকারের পক্ষে সেরা বিকল্প হতে পারে। সুদানের ভাবগতিক দেখে মনে হচ্ছে: খুব শিগগিরই এমনটাই হতে চলেছে।

    আরেকটা ঘটনার কথা মনে পড়ছে। লাইবেরিয়ার প্রাক্তন স্বৈরাচারী রাষ্ট্রপতি চার্লস টেলরের সমর্থন-পুষ্ট সিয়েরা লিওনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরইউএফ (রেভলিউশনারী ইউনাইটেড ফ্রন্ট) ১৯৯১ থেকে ২০০২ পর্যন্ত ধ্বংসের তান্ডবলীলা চালিয়ে সিয়েরা লিওন দেশটাকে ছারখার করে দিয়েছে। সিয়েরা লিওনের ওই গৃহযুদ্ধে আরইউএফ শুধু কাতারে কাতারে ৮ থেকে -১৪ বছর বয়সী শিশুদের জোর করে সৈন্য হিসাবে নিয়োগ করেনি, হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিককে নির্বিচারে খুন, ধর্ষণ, হাত-পা কেটে পঙ্গু বানিয়ে দেওয়া-কিছুই বাদ রাখেনি। ৪ জুন, ২০০৩-এ, জাতিসংঘ সমর্থিত সিয়েরা লিওনের বিশেষ যুদ্ধাপরাধ আদালত (স্পেশাল কোর্ট ফর সিয়েরা লিওন- এসসিএসএল) টেলরের বিরুদ্ধে যখন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে, টেলর তখন লাইবেরিয়ান শান্তি আলোচনার জন্য ঘানা সফর করছিলেন। এতসব জঘন্য অপরাধের পরেও টেলর ঘানায় এসে পৌঁছালে, তাঁকে গ্রেপ্তার করেনি সেখানকার সরকার। কিন্তু নিপীড়িত মানুষের আর্তকান্না মহাকালের কর্ণকুহরে একদিন না একদিন ঠিকই পৌঁছায়, তাই তো ২০১২ সালে, প্রতিবেশী দেশ সিয়েরা লিওনে যুদ্ধাপরাধের জন্য আইসিসি টেলরকে দোষী সাব্যস্ত করে। এই মুহূর্তে, ব্রিটেনে ৫০ বছরের সাজা ভোগ করছেন জল্লাদ টেলর। আইসিসি’র জয় হউক!

    দেখুন, যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ, বিশেষ করে যুদ্ধের উত্তেজনার সময়, অস্বাভাবিক কিছু নয়, তবে যুদ্ধাপরাধ বলতে ঠিক কোনগুলোকে বোঝায় এবং কে সিদ্ধান্ত নেয় যে এ ব্যাপারে কাউকে জবাবদিহি করতে হবে কিনা, আসুন সেটা জেনে নিই। যুদ্ধের আইন বা রীতিনীতি হল আন্তর্জাতিক প্রথাগত আইনের একটি অঙ্গ যা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কনভেনশন এবং চুক্তির মাধ্যমে প্রবর্তিত হয়; এ প্রসঙ্গে বিশেষ করে উল্লেখযোগ্য ১৮৯৯ এবং ১৯০৭ সালের হেগ কনভেনশন, ১৯৪৯ সালের জেনেভা কনভেনশন, এবং ১৯৭৭ সালের অতিরিক্ত প্রোটোকল ১ এবং ২। জেনেভা কনভেনশন এবং এর অতিরিক্ত প্রোটোকলগুলি যুদ্ধের বর্বরতাকে সীমিত করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়মগুলি সংহত করে। বিশ্বের ১৯৬টি দেশ জেনেভা কনভেনশনকে অনুমোদন করেছে। যারা লড়াইয়ে অংশ নেয় না (বেসামরিক, চিকিত্সক, সাহায্য কর্মী) এবং যারা আর লড়াই করতে পারে না (আহত, অসুস্থ এবং জাহাজ বিধ্বস্ত সেনা, যুদ্ধবন্দী) তাদের রক্ষা করে এই আইন। যুদ্ধ চলাকালীন সশস্ত্র সংঘাতের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করার জন্যও বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা জারি রাখে এই রীতিনীতি। সেই তালিকার কয়েকটি হলো: বিষাক্ত অস্ত্রের প্রয়োগ, সামরিক প্রয়োজনীয়তার দ্বারা ন্যায্য নয় এমন শহরগুলির বেপরোয়া ধ্বংস, ধর্মের জন্য উত্সর্গীকৃত প্রতিষ্ঠানের ধ্বংস এবং সরকারী বা ব্যক্তিগত সম্পত্তি লুণ্ঠন।

    যুদ্ধের সময়, এইসব আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘিত হওয়া মানেই যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে: একটি হাসপাতাল, স্কুল বা বেসামরিকদের আশ্রয় দেওয়ার জায়গায় জেনেশুনে বোমা ফেলা বা নিরস্ত্র এবং আত্মসমর্পণকারী শত্রু সৈন্যদের হত্যা করা একটি যুদ্ধাপরাধ।

    অন্য যে কোনো অপরাধমূলক কার্যকলাপের তদন্ত যেভাবে এগোয়, যুদ্ধাপরাধের ক্ষেত্রেও সেই একই পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়: সাক্ষীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া, ছবি বা ভিডিও পর্যালোচনা করা এবং ব্যালিস্টিক বিশ্লেষণ, ময়নাতদন্ত বা ডিএনএ পরীক্ষা সহ ফরেনসিক প্রমাণ সংগ্রহ, ইত্যাদি। মূল উদ্দেশ্য হলো প্রসিকিউটরদের যুক্তিসঙ্গত সন্দেহের বাইরে প্রমাণ করতে হবে যে, অভিযুক্ত ব্যক্তি বা ব্যক্তিরা জেনেশুনে অপরাধ করেছে। এখানে একটা উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে: একটা হাসপাতালে বোমার হামলা আমাদের কাছে একটা সুস্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ বলে মনে হতে পারে, কিন্তু আক্রমণকারী যুক্তি দিতে পারে যে, বোমা বিস্ফোরণ অনিচ্ছাকৃত ছিল, অথবা সেই বিল্ডিংটিতে শত্রু সৈন্য বা অস্ত্র মজুত ছিল। তাছাড়া, যুদ্ধে বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়ার অর্থও সবসময় এই নয় যে, তাদের শত্রুরা ইচ্ছাকৃতভাবেই তাদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে।

    অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে যুদ্ধাপরাধের পার্থক্য হলো এই যে, যুদ্ধাপরাধ রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতার সাথে জড়িত নয় বরং ব্যক্তিগত অপরাধমূলক দায়বদ্ধতার সাথে জড়িত; এর মানে হল যে, এই অপরাধের জন্য ব্যক্তিগতভাবে কাউকে দায়ী করা যেতে পারে এবং তাদের বিচারও করা যেতে পারে।

    "যুদ্ধাপরাধ বিচারের ক্ষেত্রে প্রধান চ্যালেঞ্জ হল কে তার জন্য দায়ী, তা নির্ধারণ করা", প্রখ্যাত হার্ভার্ড ল-স্কুল প্রফেসর এবং প্রাক্তন আইসিসি প্রসিকিউটর আলেক্স হোয়াইটিং বলেছেন, আদালত যখন ক্ষমতাশালী নেতাদের কাছ থেকে জবাবদিহি আদায়ের চেষ্টা করে, তখন প্রায়শই এটা আরও কঠিন হয়ে ওঠে, কারণ নিয়মনীতি লঙ্ঘনের দৃশ্যপটে অভিযুক্ত কখনোই সরাসরি উপস্থিত থাকে না। যুদ্ধক্ষেত্রে ঠিক কী ঘটেছিল, একজন রাষ্ট্রপ্রধান সে সম্পর্কে কতটা অবহিত ছিলেন, বা ব্যক্তিগতভাবে ঘটনাগুলিকে তিনি কতটা চালিত করেছিলেন, বা তাঁর ঐকান্তিক অভিপ্রায় কেমনটি ছিল, প্রসিকিউটরদের পক্ষে সেসব প্রমাণ করা অত সহজ নয়।

    ১৯৪৬ নাগাদ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ "আন্তর্জাতিক আইনের মূলনীতি" নিশ্চিত করেছিল এবং যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি নির্ধারণ করে এমন প্রস্তাব তৈরি করতে শুরু করেছিল। বর্তমানে, বেশিরভাগ যুদ্ধাপরাধের শাস্তি হয় মৃত্যু নতুবা দীর্ঘ মেয়াদী কারাদণ্ড।
    এই দুটি সাজা'র কোনো একটি দেওয়ার জন্য, যুদ্ধাপরাধের যে কোনও উদাহরণ অবশ্যই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) নিয়ে যেতে হবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার উদ্দেশ্যে জাতিসংঘ ১ জুলাই, ২০০২ নেদারল্যান্ডের হেগ-এ আইসিসি গঠন করে। এই আদালতের ক্ষমতা ১৯৮৮ সালে "রোম সংবিধি" চুক্তির উপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়েছিল এবং বিশ্বের ১০৮টি দেশ এটিকে সমর্থন করে। বেশ কয়েকটি দেশ যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত, ইরাক, ইসরায়েল, লিবিয়া, কাতার, এবং ইয়েমেন আইসিসির রোম সংবিধি অনুমোদন করতে অস্বীকার করেছে। রাশিয়া ২০০০ সালে রোম সংবিধিতে স্বাক্ষর করেছিল কিন্তু, আইসিসির সদস্য হতে স্বীকার করেনি। ২০১৪ সালে, রুশ-ইউক্রেনীয় যুদ্ধের সময় ক্রিমিয়ান উপদ্বীপকে নিজেদের ভূখণ্ডের সাথে সংযুক্ত করে নেয় রাশিয়া, আইসিসি এই অন্তর্ভুক্তিকে রাশিয়ার দখলদারি হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করার পরেই, ২০১৬ সালে, রোম সংবিধিতে করা স্বাক্ষরও প্রত্যাহার করে নেয় রাশিয়া।

    আইসিসি’র মূল আসন যদিও নেদারল্যান্ডসের হেগ-এ, তবে, কিছু কিছু মামলার শুনানির জন্য জাতিসংঘ অ্যাড-হক ভিত্তিতে বিশেষ বিচারসভা (স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল) তৈরি করে, যেই ফৌজদারি আদালতগুলো একটি বহুপাক্ষিক আন্তর্জাতিক চুক্তি ("আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল") বা একটি রাষ্ট্র (যে দেশে নৃশংসতা সংঘটিত হয়েছে) এবং একটি আন্তঃসরকারি সাংগঠনিক-এর মধ্যে একটি চুক্তির ("হাইব্রিড ট্রাইব্যুনাল") মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। সাধারণত একটি নির্দিষ্ট সংঘাতে মূল আন্তর্জাতিক অপরাধ- যুদ্ধাপরাধ, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ এবং গণহত্যা তদন্ত করার জন্য এগুলো প্রতিষ্ঠিত হয়। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে, রুয়ান্ডা (ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল ট্রাইবুনাল ফর রুয়ান্ডা, আইসিটিআর) এবং যুগোস্লাভিয়ার (ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল ট্রাইবুনাল ফর যুগোস্লাভিয়া- আইসিটিওয়াই) ক্ষেত্রে এইরকম বিশেষ ট্রাইব্যুনাল তৈরি করা হয়েছিল। ২০০২ সালের জানুয়ারিতে সিয়েরা লিওনের জন্য যে এসসিএসএল গঠিত হয়েছিল সেটি ছিল একটি "হাইব্রিড ট্রাইব্যুনাল", যেখানে সিয়েরা লিওনের অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক আইনের সমন্বয়ে বিচার পরিচালনা করা হয়েছিল। এসসিএসএল আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের একটি নতুন প্রজন্মের সূচনা করে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেছিলেন যে, এই ধরণের মডেল রুয়ান্ডা এবং যুগোস্লাভিয়ার তুলনায় দ্রুত এবং কম খরচে বিচার প্রদান করবে।

    প্রশ্ন উঠতে পারে, যে যুদ্ধাপরাধের বিচার করার প্রয়োজনীয়তাটা কোথায়? এটা বুঝতে কষ্ট হবার কথা নয় যে, যুদ্ধাপরাধের জন্য জনগণকে দায়বদ্ধ রাখতে পারলে তা ভবিষ্যত নৃশংসতা প্রতিরোধে অনেকাংশেই সহায়তা করবে। বিশ্বব্যাপী সংঘাতের সমাধান এবং প্রতিরোধ প্রচারের দায়িত্বে নিয়োজিত আমেরিকান ফেডারেল প্রতিষ্ঠান ইউএসআইপি-তে (ইউনাইটেড স্টেটস ইনস্টিটিউট অফ পিস) সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার লরেন বেলি নৃশংসতা প্রতিরোধ প্রোগ্রামের নেতৃত্ব দেন। তাঁর মতে এটি একটি সুস্পষ্ট বার্তা পাঠায় যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কোনোমতেই নৃশংসতার সাথে সমঝোতা করবে না এবং যারা এরকম গর্হিত অপরাধ করবে, তাদের শাস্তি পেতেই হবে।

    ভাবতে খুব খারাপ লাগে যে, অনেক যুদ্ধাপরাধের কোনো বিচারই হয় না, সে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবেই হোক, কার্যকর পদ্ধতির অভাবে হোক, অথবা অন্যান্য ব্যবহারিক কারণের জন্য হোক। এরকম অনেক নজির আছে যেখানে যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়েছে তা প্রমাণ করার জন্য ইতিহাসবিদ এবং আইনজীবীরা একটা গুরুতর মামলা রুজু করেছেন। কিন্তু সেইসব অপরাধের কথিত অপরাধীদের কখনই আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার করা হয়নি, কারণ তদন্ত কমিটি তাদের সমস্ত অভিযোগ থেকে রেহাই দিয়েছে। প্রথম বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলি যখন উন্নয়নশীল দেশে অবলীলায় যুদ্ধপরাধ করার পরে, নিজেদেরকে আদালতের অধীনস্থ করতে অস্বীকার করে, তখন তাদের অপরাধ সে যতই নির্লজ্জ হোক না কেন, তার সামনে দাঁড়িয়ে নপুংসক হওয়া ছাড়া আদালতের আর গত্যন্তর কী?

    আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধীদের শাস্তি দেওয়ার সর্বপ্রথম পদ্ধতিগত প্রয়াসের ফল, নুরেমবার্গ ট্রায়ালস। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং হলোকাস্টের পর, জার্মানির নুরেমবার্গে অনুষ্ঠিত, ১৩টি ধারাবাহিক ট্রায়ালের এই ঐতিহাসিক বিচার নাৎসি জার্মানির অনেক নেতাকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য কাঠগড়ায় হাজির করেছিল। এই ট্রায়ালগুলো চলেছিল ১৯৪৫ থেকে ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত। নুরেমবার্গের এই সামরিক ট্রাইব্যুনালে, নাৎসি একনায়কত্বের সমর্থক ১৯৯ বিচারাধীন আসামির মধ্যে, ১৬১ জনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়; ৩৭ জনের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে। নুরেমবার্গের প্রথম বিচারাধীন আসামি-টি আর কেউ নয়, স্বয়ং হারমান গোরিং-নাৎসি লুফ্টওয়াফের কমান্ডার ইন চিফ, রাইখস্টাগের প্রেসিডেন্ট, গেস্টাপোর প্রধান, প্রুশিয়ার প্রধানমন্ত্রী এবং হিটলারের মনোনীত উত্তরসূরি। গোরিংকে ষড়যন্ত্র, শান্তির বিরুদ্ধে অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ- সব কটির জন্যই দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। তাঁকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সাজা কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘন্টা আগে সায়ানাইড খেয়ে আত্মহত্যা করেন গোরিং।

    এরপর কয়েক দশক ঠান্ডা থাকার পর,১৯৯০-তে, প্রাক্তন যুগোস্লাভিয়ার ভাঙনের সময়কার নৃশংসতা এবং রুয়ান্ডায় ১৯৯৪ সালের হাড়হিম করা গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধের বিষয়টিকে আবার আলোচনার লাইমলাইটে নিয়ে আসে। চলুন, এক পলক দেখে নিই এই দুই জায়গায় কীভাবে কী হলো।

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে ইউরোপের সবচেয়ে মারাত্মক সশস্ত্র সংঘাতের একটি হিসাবে প্রায়শই সাবেক যুগোস্লাভিয়ার ১৯৯০ দশকের বিচ্ছেদকেই বর্ণনা করা হয়। বিচ্ছেদের ফলে সৃষ্ট তখনকার জাতিগত যুদ্ধগুলো গণহত্যা, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, জাতিগত নির্মূল এবং গণযুদ্ধকালীন ধর্ষণ সহ অনেক যুদ্ধাপরাধ দ্বারা চিহ্নিত হয়েছিল। এই যুদ্ধগুলোর মধ্যে ১৯৯৫ সালের স্রেব্রেনিকার ৮,০০০-এরও বেশি বসনিয়ান মুসলিম পুরুষ ও ছেলেদের ওরফে বসনিয়াকদের গণহত্যা অন্তর্ভুক্ত ছিল। সার্বিয়ান বাহিনী ব্যাপক ধর্ষণ ও জাতিগত নির্মূল অভিযোগের সম্মুখীন হয়। বসনিয়া, ক্রোয়েশিয়া এবং সার্বিয়ান প্রদেশের কসোভোর যুদ্ধে, যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে, সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট স্লোবোদান মিলোসেভিচকে ২০০১ সালে গ্রেফতার করে আইসিটিওয়াই। জেনেভা কনভেনশনে উল্লিখিত যুদ্ধের আইন, রীতিনীতির গুরুতর লঙ্ঘন, গণহত্যা এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সব মিলিয়ে মোট ৬৬টি অপরাধের জন্য আইসিটিওয়াই তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে। মিলোসেভিচ অবশ্য বুক ফুলিয়ে জানিয়েছিলেন যে, এর একটিরও জন্যে তিনি দায়ী নন, কোনোরকম সহযোগিতা করা তো দূরের কথা, বিচারসভার প্রতি আগাগোড়া প্রবল বিদ্বেষ দেখিয়ে গেছেন তিনি, কখনো বা আদালতকে বিদ্রুপ করেছেন, অথবা অভিযোগ তুলেছেন যে, তাঁকে চাপ দিয়ে প্রমাণ বার করার চেষ্টা চলছে। বস্তুত বিচারের প্রথম আড়াই বছর ক্রমাগত নিজের কাজকম্মের সাফাই-ই গেয়ে গিয়েছেন মিলোসেভিচ। ওদিকে তাঁর ক্রমাগত স্বাস্থ্য-সমস্যার কারণে আদালতের সেশনগুলি ঘন ঘন স্থগিত করা হচ্ছিল। ২০০৬ সালে বিচার শেষ হওয়ার আগেই ৬৪ বছর বয়সী মিলোসেভিচ তাঁর কারাকক্ষে হার্ট অ্যাটাকে মারা যান, তাঁর মৃত্যুতেই শেষ হয় তাঁর যুদ্ধপরাধের বিচার।

    ১৯৯৪ সালের ৭ এপ্রিল থেকে ১৫ জুলাই, রুয়ান্ডার রক্তঝরা গৃহযুদ্ধের সময়। হুতু রাজনৈতিক ও সামরিক চরমপন্থীরা সংখ্যালঘু টুটসি জনসংখ্যার প্রায় তিন চতুর্থাংশকে হত্যার পরিকল্পনা করে, যার ফলে অর্ধ মিলিয়নেরও বেশি লোক মারা যায়। অনেক হুতু যারা টুটসিদেরকে আড়াল করার বা বাঁচানোর চেষ্টা করেছিল এবং যারা এই নারকীয় গণহত্যার বিরোধিতা করেছিল তাদেরকেও খুন করা হয়। এই ঘৃণ্য কাজ চালাবার জন্য মিলিশিয়া এবং রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলিকে অর্থ দিয়ে মূলত সাহায্য করেছিলেন রুয়ান্ডার অর্থশালী ব্যবসায়ী ফেলিসিয়েন কাবুগা। আইসিটিআর গণহত্যা এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য, ১৯৯৭ সালে কাবুগাকে অভিযুক্ত করে কিন্তু তিনি ফ্রান্সে পালিয়ে গিয়ে গা ঢাকা দেন। দীর্ঘ ২৬ বছর পালিয়ে থাকার পর, শেষে ১৬ মে, ২০২০ প্যারিসে কাবুগাকে যখন গ্রেপ্তার করা হলো, তখন তাঁর কত বয়স জানেন? বেশি নয়, মাত্র ৮৭ বছর! ১১ নভেম্বর, ২০২০, আইসিটিআর-এর সেই পুরানো কেস আবার খোলা হয়েছে: অসমাপ্ত বিচারের ভারপ্রাপ্ত "ইউ এন মেকানিজম"-এর প্রসিকিউটর, বেলজিয়ান ম্যাজিস্ট্রেট সের্গে ব্রামেরজ, কাবুগার বিচার শুরু করেছেন। হেগ-এর ট্রাইব্যুনালে প্রথমবার হাজিরা দিতে এসেই কাবুগা বুক ঠুকে নিজেকে নির্দোষ ঘোষণা করেছেন, অবশ্য সেটা কোনো আশ্চর্য হওয়ার মতো খবর নয়, দুনিয়ার সব পাকা অপরাধীরাই ধরা পড়লে এই একই গাওনা গেয়ে থাকে! এবার দেখা যাক, কোথাকার জল কোথায় গড়ায়!

    ভাবছেন, এইসব বিচ্ছিরি অপরাধ-টপরাধ আর যেখানেই হোক, প্রথম বিশ্বে নৈব নৈব চ! দাঁড়ান, দাঁড়ান, আচ্ছা, আপনাদের কি মনে পড়ছে ২০০৭-এ অস্কার অ্যাওয়ার্ড পাওয়া সেই তথ্যচিত্র-টির কথা "ট্যাক্সি টু দা ডার্কসাইড'', হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন, ওই যেখানে ২০০২ সালে নিরীহ, সাধারণ একজন আফগানি ট্যাক্সি ড্রাইভার দিলওয়ার আর তার গাড়ির সওয়ারীদের আফগানিস্তানের মরুভূমি থেকে তুলে বাগরাম কারাগারে নিয়ে যায় মার্কিন সেনাবাহিনী। পাঁচ দিন পর দিলওয়ার মারা যায়, তার দুই পায়ে ছিল অস্বাভাবিক আঘাতের চিহ্ন, যেন একটা বিশাল ট্রাক দলেপিষে, একেবারে থেঁতলে দিয়ে চলে গেছে পা দুটো, সে আঘাত দেখে বোঝাই যাচ্ছিল, দিলওয়ার যদি বেঁচেও থাকত, তাহলে তার পা দুটোকে কেটে ফেলা ছাড়া আর কোনো উপায়ই থাকত না। এইখান থেকে সিনেমাটার শুরু, তারপর? তার আর পর নেই, সন্দেহভাজন তালিবান সন্ত্রাসবাদী হিসাবে তুলে আনা মানুষের উপর অমানবিক অত্যাচারের একের পর এক জলজ্যান্ত উপস্থাপনা; দেখতে দেখতে কখনো কখনো তীব্র ক্রোধে সারা শরীর কম্পিত হয়, কখনো বা নিষ্ফল কান্নায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে আসে। আমেরিকান জনগণের নাম নিয়ে ইরাকের আবু ঘ্রাইব থেকে কিউবার গুয়ানতানামো পর্যন্ত একটি অ-সংজ্ঞায়িত 'সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে' (War on terror) মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লিউ বুশ প্রশাসনের নৃশংসতা, এবং নির্যাতনের ভূমিকার বীভৎস গল্প বলে এই মুভি। মনের মধ্যে হাজার প্রশ্নের ঝড় ওঠে: কারা করছে এই সাংঘাতিক অন্যায় অবিচার? এ তো কোনো নাৎসি কন্সেন্ট্রেশন ক্যাম্প নয়, স্বাধীনতা আর ডেমোক্রেসির পীঠস্থান এক মহা উন্নত, সভ্য দেশের, একবিংশ শতকের সেনাবাহিনী অধিকৃত কয়েদখানা, যেখানে অনুক্ষণ ছিন্নভিন্ন হয় মানবতা, প্রতিদিন ধুলোয় লোটায় ব্যক্তিসত্তার পবিত্রতা! এ কোন আকাল এসে উপস্থিত হলো আমাদের দোরগোড়ায়? আমাদের ধ্যানধারণা সব গুলিয়ে যায় -আসল সন্ত্রাসবাদী কে? ইরাক আক্রমণের ২০ বছর হয়ে গেছে, আজ অবধি কোন মার্কিন নেতাকে যুদ্ধাপরাধের জন্য অভিযুক্ত করা হয়নি। ২০০৯ সালে বুশ প্রশাসনের অন্তে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ক্ষমতায় এলে তদানীন্তন মার্কিন বিচার বিভাগ সক্রিয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেয় যে, বুশ আমলে সংঘটিত যুদ্ধবন্দীদের উপর নির্যাতন ও সামরিক ক্ষমতা অপব্যবহারের জন্য কোনো তদন্ত করা হবে না। আরে, এ যে দেখি সব শিয়ালের এক রা!


    পরবর্তী ও শেষ পর্ব আগামী সপ্তাহে।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক।
    পর্ব - ১ | পর্ব - ২
  • প্রবন্ধ | ১১ মার্চ ২০২৪ | ৮৯৩ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • যোষিতা | ১১ মার্চ ২০২৪ ০৭:০৬529234
  • মার্কিন বাহিনীর ভিয়েতনাম পর্বটা আগামী পর্বে লিখবেন প্লিজ।
  • হীরেন সিংহরায় | ১১ মার্চ ২০২৪ ১৬:৩৩529248
  • আই সি সিকে যে চললিশটি দেশ (চীন রাশিয়া আমেরিকা ভারত সহ আরো অনেকে) স্বীকার করে না ।  
  • Nupur Raychaudhuri | ১১ মার্চ ২০২৪ ১৯:০৯529256
  • হ্যাঁ, আগামী পর্বে ভিয়েতনামের প্রসঙ্গ থাকছে |
  • Nupur Raychaudhuri | ১১ মার্চ ২০২৪ ১৯:১২529257
  • ধন্যবাদ, হীরেনবাবু, আপনার মন্তব্যের জন্য, ঋদ্ধ হলাম |
  • ঝান্ডু বাম। | 2409:4060:2d4b:9dc0:4036:c84c:b52e:e45e | ১১ মার্চ ২০২৪ ২০:৩৩529266
  • আচ্ছা! ইজরায়েলের নেতানিয়াহুকে আন্তর্জাতিক আদালত আদালত শাস্তি দিতে পারবে?  আর যদি বা পারেও, আমেরিকা দিতে দেবে দেবে, শাস্তি ????? 
  • Nupur Raychaudhuri | 204.25.204.77 | ১৮ মার্চ ২০২৪ ২২:০০529569
  • ঝান্ডু বাম, আপনার প্রশ্নের উত্তরে বলি:  দেখুন, স্বার্থের তাগিদে মানুষ অনেক কিছুই চেপে যায়, কিন্তু ইউনাইটেড স্টেটস এয়ার ফোর্সের  সক্রিয়-ডিউটি ​​সদস্য অ্যারন বুশনেলের মতো মানুষরাও তো রয়েছেন, যিনি নিজেকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার আগে সোচ্চারে বলে গেছেন '' আমি আর ইজরায়েল দ্বারা কৃত গণহত্যার সাথে জড়িত থাকব না।'' সারা পৃথিবীকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়েছেন কিভাবে নিজেদের লজ্জিত হতে হয়। বুশনেলের মতো মানুষদের হাতে গোনা যায়|  এই পৃথিবীতে কোন কিছুই আসলে পরিবর্তন হয় না। সকলেরই নিজস্ব সংকীর্ণ এজেন্ডা আছে - তা রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক বা যাই হোক না কেন, আমরা এতে পুরোপুরি নিমজ্জিত। আমরা কি সত্যিই গণহত্যা বন্ধ করতে অঙ্গীকারবদ্ধ? তাহলে ঐক্যবদ্ধভাবে বেরিয়ে এসে যুদ্ধবাজদের অন্ধকূপে ফেলে দেওয়া উচিত, এখনই! 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা খুশি মতামত দিন