এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  আলোচনা  সিনেমা

  • কুলির বুলিতে প্রীতির বিলাপে স্টকহোম সিনড্রোমের পরশ

    সমরেশ মুখার্জী লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | সিনেমা | ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ৪৮৮ বার পঠিত | রেটিং ৪ (২ জন)
  • তেলেঙ্গানা আন্দোলন পৃথক রাজ‍্যের দাবিতে ১৯৬৯ সাল থেকে চলে আসা এক দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক আন্দোলন। ২০১৪তে অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে তেলেঙ্গানা‌র সৃষ্টি‌তে তার অবসান হয়। কিন্তু তার‌ অনেক আগে‌ পরাধীন ভারতে ১৯৪৬ সালে হঠাৎ শুরু হয়েছিল আর এক তেলেঙ্গানা বিদ্রোহ যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল নিজাম শাসিত তদানীন্তন অবিভক্ত বৃহৎ হায়দ্রাবাদ রাজ‍্যের ওয়ারাঙ্গল, বিদর প্রভৃতি জেলার চার হাজারের‌ও বেশি গ্ৰামে। এক‌ই সময়ে (১৯৪৬-৪৭) জ্বলে ওঠা বাংলার তেভাগা আন্দোলনের মতো সেটাও ছিল প্রান্তিক,  ভূমিহীন কৃষকদের এক স্বতঃস্ফূর্ত গণ আন্দোলন। হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রমে ফলানো ফসলের ওপর নায‍্য পাওনা ও সমাজে মানুষ হিসেবে নূন‍্যতম আত্মসম্মানের সাথে বাঁচার অধিকার অর্জনের লড়াই। 

    দুটি ক্ষেত্রেই প্রাথমিক‌ভাবে গ্ৰামবাসী‌দের তাদের বঞ্চনা ও অধিকার সম্মন্ধে সচেতন ও সংগঠিত করতে কমিউনিস্ট‌দের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা থাকলেও সে বিদ্রোহের আত্মা ছিল অরাজনৈতিক। ভাষার প্রেক্ষিতে আলাদা রাজ‍্যের  দাবিতে‌ নয়। বহুকাল ধরে উদ্ধত, হৃদয়হীন জমিদারদের নির্মম অত‍্যাচার সহ‍্য করে, দাসখৎ লিখে পুরুষানুক্রমে বেগার খেটে, বাড়ির মেয়েদের জমিদার ও তার সাঙ্গোপাঙ্গোদের লালসার হাত থেকে বাঁচাতে না পারার গ্লানি সয়ে সয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া কিছু হতভাগ্য মানুষের ঘুরে দাঁড়ানোর মরীয়া চেষ্টার প্রকাশ ছিল সে বিদ্রোহ। বহুদিনের সঞ্চিত ঘৃণা, হতাশা, আক্রোশের ফলে সৃষ্ট বারুদের স্তুপে বিস্ফোরণ ঘটতে প্রয়োজন হয় কিছু স্ফূলিঙ্গের। ১৯৪৬এ তেলেঙ্গানা অঞ্চলে সেটাই হয়েছিল যার রেশ চলেছিল  ১৯৫১ অবধি।

    ১৯৪৫ সালে ঐরকম একটি স্ফূলিঙ্গের ন‍্যায় সত‍্যঘটনার পটভূমি‌কায় শ‍্যাম বেনেগাল একটি ছবি করতে চেয়েছিলেন। তাঁর অনুরোধে প্রখ্যাত নাট‍্যকার বিজয় তেন্ডুলকর ঐ বিষয়ে গবেষণা করে, ঐসব অঞ্চলে ঘোরাঘুরি করে, তথ্য সংগ্ৰহ করে ছবিটি‌র চিত্রনাট‍্য লেখেন। ১৯৭৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত নিশান্ত ছবিটি রাষ্ট্রীয় পুরস্কারে ভূষিত হয়। ছবিটি অস্কারের জন‍্যে‌ও মনোনীত হয়।

    সিনেমাটি আগে দেখিনি। সেদিন দেখে এক মিশ্র অনুভূতি‌ হোলো। মন ভরে গেল। আবার ভারীও হয়ে গেল। নিশান্ত মানে নিশার অন্ত বা (কাল)রাত্রির শেষ। মন ভরে গেল গোভিন্দ নিহালনীর সিনেমাটোগ্রাফী‌তে সুন্দর কাহিনী বিন‍্যাস, সমান্তরাল সিনেমার দিকপাল কিছু কলাকুশলীদের অনবদ‍্য অভিনয় দেখে। ওটি নাসিরুদ্দিন শাহ ও কুলভূষন খারবান্দার প্রথম ছবি। স্মিতা পাটিলের দ্বিতীয় ও অমরীশ পুরীর প্রথম হিন্দি ছবি। মন ভার হয়ে গেল সেই পরিস্থিতি‌তে মাস্টারের জায়গায় নিজেকে কল্পনা করে।

    বড়ভাই অমরীশ পুরী ঐ এলাকার বর্তমান জমিদার। তার লৌহ-কঠিন ব‍্যাক্তিত্বের সামনে অন‍্য তিন ভাই, তাবৎ গ্ৰামবাসী মায় গ্ৰামের পুলিশ কর্তা অবধি কেঁচো হয়ে থাকে। মেজ ভাই প্রসাদ (মোহন আগাশে) ও সেজ ভাই অঞ্জাইয়া (অনন্ত নাগ) দুজনেই অবিবাহিত ও চূড়ান্ত লম্পট। আকণ্ঠ মদ‍্যপান ও ইচ্ছে মতো গ্ৰামের যে কোনো মেয়েকে হাভেলীতে তুলে এনে ভোগ ক‍রা তাদের নিত‍্যকর্ম পদ্ধতির অঙ্গ। ছোট ভাই বিশ্বম (নাসির) কিঞ্চিৎ ব‍্যাক্তিত্ত্বহীন, বোকা সোকা হলেও তার মধ‍্যে তখন‌ও বেঁচে আছে কিছু নীতিবোধ। সে বিবাহিত। তার ব‌উ রুকমনি (স্মিতা) ও বড়দাও তাকে ঠিক বুঝে উঠতে পারে না।

    সেই গ্ৰামে বদলি হয়ে এলো এক নতুন মাস্টার (গিরিশ কাড়নাড)। সাথে সুন্দরী যুবতী ব‌উ সুশীলা (শাবানা) ও  ছোট্ট পুত্র সন্তান মুন্না। স্বামীর কাছে সুশীলা আব্দার করে হাত আয়নার চেয়ে একটু বড় একটা আয়নার। খাওয়া পড়ার অভাব না থাকলেও এই সামান্য আব্দার তাদের প্রাচূর্যহীন নিরামিষ জীবনের ইঙ্গিতবাহী। তবু তাদের সংসারে  ছিল গার্হস্থ্য শান্তি।

    কিন্তু তাও কপালে স‌ইলো না। এক কালরাত্রিতে স্বামী, পুত্র, মহল্লার অনেকের চোখের সামনে সেই দুই লম্পট ভাই সুশীলাকে জোর করে গাড়িতে তুলে নিয়ে গেল হাভেলীতে। সেখানেই তাকে বন্দিনী করে রেখে নিয়মিত দুজনে তাকে ভোগ করতে লাগলো। বিশ্বম‌ই প্রথম গ্ৰামের এক দোকানে সুশীলাকে দেখে বিমোহিত হয়ে যায়। তবে হাভেলীতে হাতের নাগালে পেয়ে সাময়িক রিরংসার অনুভূতি অচিরেই বদলে যায় মোহাচ্ছন্ন সহানুভূতি‌তে।

    সদর থানা, কালেক্টর, আদালত - সব ঘাটে মাথা কুটে মাস্টার বোঝে রুদ্ধ আক্রোশে ফোঁসা ছাড়া ঐ প্রতাপশালী জমিদারের বিরুদ্ধে তার বস্তুত কিছু‌ই করার নেই। বহুকাল ধরে অত‍্যাচার সয়ে জীবন্মৃত গ্ৰামবাসীর কারুর সাক্ষ‍্য দেওয়ার সাহস নেই। যেন ভেড়ার পালে বাঘ পড়ার মতো। কাউকে তো একটা নেবেই। কী আর করা যাবে। নিয়তি‌বাদী হয়ে মন্দিরে দেবতার পায়ে মাথা ঠোকা ছাড়া অত‍্যাচার থেকে মুক্তি পাওয়ার কোনো সম্ভাব্য পন্থা তাদের জানা নেই।

    যাই হয়ে যাক, প্রকৃতির নিয়মে জীবন‌ থেমে থাকে না। তাই এদিকে মাস্টার বাড়ি, ছেলে সামলে স্কুলে যান্ত্রিক‌ভাবে ক্লাস নেয়। ওদিকে নিস্ফল প্রতিরোধ ত‍্যাগ করে বোধশুন‍্য হয়ে সুশীলা‌ সমর্পণ করে নিজেকে। অনিচ্ছা‌য় সমর্পিত তার শব-শীতল শরীরে নিয়মিত উপগত হয়ে উষ্ণতা খোঁজে হাভেলীর দুই কামুক শকুন।

    বেশ কয়েকদিন কেটে গেছে। নিদারুণ শোকের মতো চরম অপমানের তীব্রতা‌ও ক্রমশ স্তিমিত হয়ে আসে। অক্ষম ক্রোধ ও গ্লানি‌তে বিবশ মাস্টার একদিন মন্দিরে এক অন্ধকার কোনে বসে আছে। সুশীলা দিনমানে এসেছে মেজভাই প্রসাদের সাথে গাড়িতে করে মন্দিরে পুজো দিতে। সেই গাড়ি, যাতে করে তাকে ওরা এক কালরাত্রিতে জোর করে তুলে নিয়ে গেছিল। স্বামী‌কে দেখে উচ্ছিষ্ট নারী‌র‌ও মাতৃহৃদয় আকুল হয়ে ওঠে। জিজ্ঞাসা করে, মুন্না ক‍্যায়সা হ‍্যায়? এ প্রশ্নের কি কোনো উত্তর হয়? তা‌ই মাস্টার একটা যান্ত্রিক জবাব দেয়, ঠিক হ‍্যায়। আর যন্ত্রের মতো একটা অর্থহীন প্রশ্ন‌ও করে ফেলে - ঔর তুম ক‍্যায়সী হো?

    ব‍্যস! আর যায় কোথায়।  এতদিনে‌র অবদমিত অপমানে‌ জর্জরিত সুশীলার মনে যেন আগুনে ঘৃতাহুতী হয়। বিচারের আশায় মাথা কুটে মরা হতাশ স্বামীর সমস্ত প্রচেষ্টা তার অজানা। অবুঝ ক্ষোভে সে বিষ উগড়ে দেয়। বুঝতে চায়না ঐ প্রতাপশালী জমিদারের বিরুদ্ধে - যাকে পুলিশ পর্যন্ত সমঝে চলে - এক নিরীহ স্কুল মাস্টারের প্রতিবাদ করতে গিয়ে শহীদ হয়ে যাওয়া ছাড়া বাস্তবিক কিছুই করার নেই। তাতে ফিরবে না সুশীলার হাল বরং মুন্না হবে পিতৃহীন। তবু ক্ষোভে, হতাশায় সে স্বামী‌কে শেষবেষ নপুংসক বলে ধিক্কৃত করে ফেলে।

    এই অপমানের পর মাস্টার ও মন্দিরের পূজারী গ্ৰামবাসী‌দের সংঘবদ্ধ করতে সফল হয়। একদিন উন্মত্ত গ্ৰামবাসী‌র দল সেই উদ্ধত জমি‌দার সহ হাভেলীর সবাইকে হত‍্যা করে। স্ফূলিঙ্গের কাজ করে সেই নিরীহ মাস্টার। আচমকা ক্ষিপ্ত হয়ে সে জমিদারকে  আক্রমণ করে বসে। তাতে ইন্ধন দেয় পূজারী। ক্লীবতার বাঁধ ভেঙে সঞ্চিত আক্রোশের তীব্রতায় ক্ষিপ্ত জনতা  নিমেষে সবংশে নির্মূল করে দেয় একদা প্রতাপশালী সেই জমিদারকে। কিন্তু মাস্টারের সেই স্ফূলিঙ্গ দেখতে না পাওয়ায় সুশীলার কাছে তার স্বামী হয়তো নপুংসক‌ই থেকে যায়। আক্রান্ত হাভেলী ছেড়ে নিজের ব‌উ রুকমনীকে ফেলে বিশ্বম সুশীলাকে নিয়ে খিড়কি দুয়ার দিয়ে পালায়। কেন? রুকমনীর কাছে বিশ্বম কোনোদিন পাত্তা পায় নি। তাই হয়তো মোহ ও সহানুভূতি‌র জটিল সংশ্লেষে আবেগতাড়িত হয়ে সে সুশীলাকে নিয়ে পালিয়ে গিয়ে ওঠে এক টিলার মাথায়। গ্ৰামবাসী‌রা ধাওয়া করে আসে। দুজনকে একসাথে দেখে কার্যকারণ অনুধাবন না করে‌ গণ হিস্টিরিয়া‌য় দুজনকেই পিটিয়ে মেরে ফেলে। তখন পশ্চাৎপটে হাহাকারের মতো শোনা যায় প্রীতি সাগরের খালি গলায় এই গানটি:

    पिया बाज प्याला पिया जाए ना
    पिया बाज यक तिल जिया जाए ना।

    कही ते ना पिया बिन सबूरी करूँ
    कई या जाए अम्मा किया जाए ना।

    नहीं इश्क़ जिस वो बड़ा कूड़ है
    कभी उससे मिल कर बितिया जाए ना।
     
    क़ुतुब शाह ना दे मुझ दीवाने को पंद
    दीवाने को कुछ पंद दिया जाए ना।

    জনতার হাতে ধরা পড়ে মারা যাওয়ার আগে বিশ্বম সুশীলার কোলে মাথা রেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। হাভেলীতে মাত্র একবার‌ই সে মোহগ্ৰস্থ হয়ে তাকে পরম আশ্লেষে জড়িয়ে ধরেছিল।  এ ছাড়া হাভেলীতে বন্দী অবস্থায় বিশ্বম‌ কখনো তার প্রতি অসদাচরণ করেনি। সুশীলার হাত তার অজান্তেই বিশ্বমের মাথায় সান্ত্বনা‌র স্নেহস্পর্শ বুলিয়ে দেয়। দৃশ‍্যত রচিত হয় গূঢ় স্টকহোম সিনড্রোমের এক কাব‍্যিক মূর্ছনার প্রকাশ।

    স্টকহোম সিনড্রোম আপাতদৃষ্টিতে একটি  অযৌক্তিক মানবিক প্রতিক্রিয়া। মুক্তি‌পণ হিসেবে বন্দী মানুষের অপহরণ‌কারীর প্রতি অবিশ্বাস ও ভীতি থাকা‌ই স্বাভাবিক। সুযোগ পেলেই সে পালাতে চাইবে, অপহরণকারীকে আঘাত করতে বা ধরিয়ে দিতে চাইবে। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে দেখা গেছে প্রাথমিক ভীতি কেটে যাওয়ার পর অপহরণকারীর উদ্দেশ্য, ব‍্যক্তিত্ব বা আচরণের ফলে বন্দীর মনে তার প্রতি তৈরি হয়েছে সহানুভূতি। এই সংজ্ঞা‌টির উৎপত্তি হয় ১৯৭৩ সালে স্টকহোমের এক ব‍্যর্থ ব‍্যাংক ডাকাতির ঘটনায়। ছাড়া পেয়ে চার বন্দী‌র (তিনজন মহিলা, একজন পুরুষ) একজন‌ও অপহরণকারীর বিরুদ্ধে আদালতে সাক্ষ‍্য দেয় না বরং তার জন‍্য অর্থ সংগ্ৰহে উদ‍্যোগী হয়।

    এর বিপরীত প্রতিক্রিয়া‌ও হতে পারে। সেখানে অপহরণকারী হয়ে পড়তে পারে বন্দীর প্রতি সহানুভূতিশীল। ১৯৯৬ সালে পেরুর লিমা শহরে জঙ্গিরা জাপানি রাষ্ট্রদুতের আবাসে অনেককে বন্দী বানিয়ে‌ও কয়েকঘন্টা বাদে বেশিরভাগ লোককেই ছেড়ে দেয়। এহেন আচরণকে লিমা সিনড্রোম বলা হয়। ইমতিয়াজ আলী‌র হাইওয়ে সিনেমা‌টি স্টকহোম সিনড্রোমের এক অনবদ‍্য উদাহরণ। ২০১৪ সালে সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার আগে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে ঐ ভাবনাটি ইমতিয়াজের মাথায় ঘুরপাক খেয়েছে।  অপহৃত আলিয়া ভাট প্রাথমিক আশাঙ্কা কেটে যাওয়ার পর ক্রমশ অপহরণকারী রণদীপ হুডার প্রতি দূর্বল হয়ে পড়ে। আর লিমা সিনড্রোমের উদাহরণ? কিছুটা হয়তো অমিতাভ - শ্রীদেবী অভিনীত - আখরি রাস্তা।  

    তা না হয় হোলো। কালরাত্রির শেষে ঊষা‌কালে বিয়োগান্তক  বিলাপ, স্টকহোম সিনড্রোম এসব না হয় বোঝা গেল। কিন্তু  এ লেখা‌র শিরোনামের শুরুতে 'কুলির বুলি'র কী তাৎপর্য? তাহলে আরো দুচার কথা বলতে হয়। 

    সিনেমাহলে অনেকেই পরিচয় লিপিতে পরিচালক, মূল অভিনেতা, অভিনেত্রী, সূরকার এসব বাদে আর বিশেষ কিছু মন দিয়ে দেখে না। সিনেমার শেষে ছোট ছোট অক্ষরে রোলিং ক্রেডিট শুরু হ‌ওয়া‌র আগেই দর্শক‌রা উঠে পড়তে থাকে। বাড়িতে ল‍্যাপটপে ছবিটির রোলিং ক্রেডিটের শেষদিকে একটি নিরীহ তথ‍্য পজ, রিওয়াইন্ড করে আবার দেখি। অন্তিম দৃশ‍্যে প্রীতি সাগরের গাওয়া গানটির গীতিকার - মহম্মদ কুলি কুতব শাহ (১৫৬৬ - ১৬১২). তাতে থমকে যাওয়ার‌ কী হোলো? তাহলে একটু বিস্তারে যেতে হয়। 

    ২০১০ এর ২৫শে জানুয়ারি চেন্নাই থেকে অফিসে‌র কাজে উড়ে এসে সকাল এগারোটা‌য় হায়দ্রাবাদে উঠেছি এক হোটেলে। অফিসের কাজ ২৭শে সকালে। ২৬শে জাতীয় ছুটি। তা‌ই হাতে দেড়দিন ফাঁকা সময়। বিখ্যাত হায়দ্রাবাদী মাটন বিরিয়ানী দিয়ে লাঞ্চ সেরে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে ভাবছি কোথায় যাই। ফরিস্তার মতো উদয় হোলো এক মুসলমান অটোওয়ালা। তার অমায়িক মুখে হাসিটা বড় সুন্দর। জানতে চায় - কহী জানা হ‍্যায় সাব্? 
    - ক‍্যয়া নাম হ‍্যায় আপকা?
    - সেলিম, সাব্। মধূর হাসির সাথে ওর মিঠা জবানে সাব লেগেই আছে। 
    - সেলিম ভাই, মেরে পাশ আজ আধা ও কাল পুরা দিন কা ওয়াক্ত হ‍্যায়। গোলকোন্ডা, সালারজং, হুসেন সাগর, বিড়লা টেম্পল, ওসমানিয়া ইউনিভার্সিটি ইয়ে সব পহলে দেখ চুকা হু। কো‌ই অলগ সা, থোরা বিরান সা জগহ দিখা সকতা হ‍্যায় ক‍্যায়া?
    - সাব, আপনে সাত গুম্বজ দেখা? 
    - নেহী তো! দেখনা তো দূর ম‍্যায়নে ইসকে বারেমে শুনাভী নেহী।

    ঘরাং করে হ‍্যান্ডেল মেরে অটো চালু করে সেলিম বলে, তব চলিয়ে সাব, ম‍্যায় দিখাতা হু আপকো‌। দিল খুশ হো জায়েগা। 
    - মগর কিতনা দেনা পড়েগা? বহু জায়গায় প্রথমে ভাড়া ঠিক না করে পরে চোট  খেয়ে এ বাঙালি এখন সাবধানী। 
    সে আবার একগাল হেসে বলে, সাব, আপ পরদেশী, হামারা মেহমান, লুটেঙ্গে নেহী, বে ফিকর রহিয়ে, আইয়ে, বৈঠিয়ে। তার বলার ভঙ্গিমা ও দৃষ্টিতে এমন কিছু ছিল যা নিমেষে আমার সংশয় শুষে নিল। সঁপে দিলাম নিজেকে সেলিমের অটোয়।

    এ গলি সে গলি  করে সে নিয়ে গেল ইব্রাহিম‌ বাগে।  অদূরে দেখা যায় গোলকোন্ডা ফোর্ট। মনটা খুশীয়াল হয়ে গেল। বিস্তৃত জায়গা জুড়ে অঢেল সবুজ ও নিটোল নির্জনতা‌র মাঝে কুতব শাহী সুলতানী খানদানের সমাধিক্ষেত্র। সাতটি মনোরম গম্বুজাকৃতি সমাধিসৌধের মধ‍্যে  ১৬০২ সালে তৈরি মহম্মদ কুলি কুতব শাহর সমাধিসৌধটি আকারে সর্ববৃহৎ ও আভিজাত্য‌ময়। কুতবশাহী রাজত্বের প্রথম সুলতান কুলি কুতব মুলক্। প্রথা অনুযায়ী তিনি জীবদ্দশাতেই তাঁর সমাধিসৌধ‌টি তৈরি করান ১৫৪৩ সালে। সেই ঘরানা বজায় থাকে পরবর্তী কালে। সাত প্রজন্মের সুলতানী শাসনকালে একমাত্র শেষ সুলতান আবুল হাসান কুতব শাহ বাদে বাকি সবাই এখানে শায়িত আছেন চিরনিদ্রায়। রাজ পরিবারের অনেক আত্মীয় ও উচ্চপদস্থ রাজকর্মচারীদের‌‌ও সমাধিসৌধ‌‌ রয়েছে এখানে। আছে মসজিদ‌‌। 

    সেলিম অটো রেখে আমার সাথে ভেতরে এলো। তার পরিচিত একটি লোকের সাথে আলাপ করায়। সে মসজিদে আজান দেয়। আমরা তিনজনে মহম্মদ কুলি কুতব শাহর গম্বুজাকৃতি সমাধিগৃহে ঢুকলাম। হালকা কথার‌ও সুন্দর প্রতিধ্বনি হচ্ছে। কি মনে হলো, সেলিম‌কে বললাম, উনি কি এখানে একবার আজান দিতে পারেন। শুনতাম কেমন লাগে। উনি রাজী হলেন। মন্ত্রশক্তির ঈশ্বর পাটনীর মতো ক্ষণিক চোখ বুঁজে  নিজেকে গুছিয়ে নিয়ে যখন তিনি ওপর দিকে মুখ করে তাকালেন - মনে হোলো অন‍্য মানুষ। কালোয়াতী ভঙ্গিতে আবেগমথিত কণ্ঠে প্রলম্বিত সেই আল্লা হো আকবর ধ্বনীতে আমার মতো ঈশ্বরের অস্তিত্বে সংশয়াচ্ছন্ন মানুষের‌ও মন‌ও শিরশিরিয়ে উঠলো। মনে হোলো সঙ্গীতের মতোই ঈশ্বরের উদ্দেশে নিবেদিত ভক্তের আকূল প্রার্থনা‌র‌ আবেগ‌ও জাতি, ধর্ম, ভাষার অতীত কোনো ঐশ্বরিক অনুভূতি। প্রতিবার স্বর ছেড়ে দেওয়ার পরে‌ গম্বুজের মধ‍্যে তার খানিক অপসৃয়মান প্রতিধ্বনি‌র মাধূর্য অনির্বচনীয়। অবিষ্মরণীয়‌ও।

    গোলকোন্ডা রাজ‍্যের কুতব শাহী বংশের পঞ্চম সুলতান মহম্মদ কুলি কুতব শাহ ছিলেন এক প্রজাবৎসল উদ‍্যমী শাসক। মাত্র ৪৬ বছরের জীবন‌কালে তাঁর আমলে‌ই কুতব শাহী শাসন সাফ‍ল‍্যের শিখরে ওঠে। তিনি সিংহাসনে বসেন মাত্র ১৫ বছর বয়সে‌। ১৫৯১ সালে ২৬ বছর বয়সে তিনি মুসী নদীর দক্ষিণ তীরে সুপরিকল্পিতভাবে স্থাপনা করেন বর্তমান হায়দারাবাদ শহরের। তিনি চারমিনার ও সংলগ্ন মক্কা মসজিদে‌র নির্মাণ‌ও করেন। শোনা যায় তিনি ভাগমতী নামক এক হিন্দু মহিলা‌র প্রেমে নিমজ্জিত হয়ে তাকে বিবাহ করেন। তিনি তার নাম দেন - হায়দারী মহল। যেমন শাজাহানের প্রিয় পত্নী ছিলেন - মমতাজ মহল। প্রথমে প্রেয়সী, পরে প্রিয় পত্নীর নামেই নতুন শহরের নাম দেন  - হায়দারাবাদ। যদিও এই আখ‍্যান কিছুটা বিতর্কিত।

    মহম্মদ কুলি তাঁর স্বল্প জীবনকালে রাজকার্যের নানান ব‍্যস্ততার মাঝেও চালিয়ে গেছেন একান্তে কাব‍্যচর্চা।  তিনি ছিলেন এক প্রথিতযশা কবি। অনেক শের শায়রী‌ রচনা করেন। নিশান্ত সিনেমার শেষ দৃশ‍্যে বনরাজ ভাটিয়ার করুণ সুরে, প্রীতি সাগরের মরমী কণ্ঠে শোনা রাত্রি শেষের গানটি‌ তাঁরই রচিত। উন্মত্ত জনতার হাতে মৃত্যুতে শেষ হয় সুশীলার কালরাত্রি। হয়তো তার ওপর নেমে আসা সেই অভিশাপের মধ‍্যে‌ই নিহিত ছিল অদূর ভবিষ্যতে তেলেঙ্গানা বিদ্রোহের বীজবপনের আশীর্বাদ। সে নির্যাতিতা হয়ে, মারা গিয়ে‌‌ও সূচীত করে গেল বঞ্চনাময় বহু কালরাত্রির শেষে এক নতুন প্রতিশ্রুতিময়  উষার। তবে সে‌ই নতুন ভোরের পরে কী অপেক্ষা করছে তা আর তার দেখা হোলো না।

    পুনশ্চঃ- কয়েকবার শুনেও চারশো বছরের পুরোনো ঐ শায়রীটির উর্দু ঘেঁষা লবজ গুলির অর্থ আমি‌ প্রথমে ঠিকমতো বুঝতে পারিনি। তবু ঐ আজানের মতো, শব্দ না বুঝেও, প্রীতির অনবদ‍্য গায়কী‌তে, ঐ প্রক্ষাপটে বিলাপে‌র মতো গানটি মনে খুব নাড়া দিয়েছিল। ঐ শায়রী‌টিতে সেই সময়কার কিছু হায়দ্রাবাদী চলিত কথা আছে। আমার এক পরিচিত, যার শের শায়রী‌র ওপর আগ্ৰহ আছে তার সাথে কথা বলে কিছুটা অস্পষ্টতা কাটলো। তাই আমি এর একটা ভাবানুবাদের চেষ্টা করেছি। জানিনা তা মূলের কতটা কাছে গেছে।

    पिया बाज प्याला पिया जाए ना 
    (প্রিয় বিনা কেন পারিনা 
    ছোঁয়াতে অধরে পেয়ালা) 

    पिया बाज यक तिल जिया जाए ना। 
    (প্রিয় বিনা যেন এক পল‌ আমি
     পারিনা থাকিতে বাঁচিয়া)

    कही ते ना पिया बिन सबूरी करूँ 
    (প্রিয়র বিহনে সবে তো কহে
     বিরহ যাতনা সহিতে)

    कई या जाए अम्मा किया जाए ना। 
    (বলে তো সবাই, দরদী, 
    তবু, পারিনা কেন করিতে)

    नहीं इश्क़ जिस वो बड़ा कूड़ है 
    (প্রেমহীন যার জীবন
    যেন তা উষর মরু)

    कभी उससे मिल कर बितिया जाए ना।
    (প্রেম যেন এসেও না যায়
    হারিয়ে কভু হেলায়) 
     
    क़ुतुब शाह ना दे मुझ दीवाने को पंद 
    (কুতুব শা তুমি দিও না মোরে শলা
    কেন হয়ে যাই আমি প্রেমে বিহ্বলা)

    दीवाने को कुछ पंद दिया जाए ना
    (প্রেমপাগলিনীকে দিতে নেই
    যেনো এমন কোনো শলা)

    থাকলো সেই মরমী গানটি‌র ভিডিও


    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • আলোচনা | ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ৪৮৮ বার পঠিত
  • আরও পড়ুন
    চিরুনি - Rashmita Das
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Arindam Basu | ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১১:৩৫528406
  • খুব মর্মস্পর্শী লেখা। 
  • dc | 2401:4900:232e:a656:997f:e3d6:332a:4eed | ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১২:৫২528407
  • এই লেখাটার জন্য ধন্যবাদ, আমি হায়্দ্রাবাদে বছর দুয়েক ছিলাম, সেই সময়ের কথা মনে পড়ে গেল! কুতুব শাহী সমাধিক্ষেত্র দেখতে আমি আর আমার বৌ বার দুয়েক গেছিলাম। জায়গাটা অসাধারন সবুজ, গাছ আর বাগিচায় ভর্তি। আর দুর্দান্ত আর্কিটেকচার! একেক জায়গায় অনেকক্ষন বসে থাকতে ইচ্ছে করে। আর আমাদেরও নামাজ পড়ার সময়ে অসাধারন অনুভূতি হয়েছিল।  
  • সমরেশ মুখার্জী | ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৫:৫৭528410
  • @ অরিনবাবু, 
     
    লেখা‌টা তাহলে আপনাকে নাড়া দিয়েছে, ধন‍্যবাদ।

    @dc,

    সেদিন সাত গুম্বজ চত্বরে সেলিমের পরিচিত মানুষ‌টি ছিলেন ওখানকার মসজিদের মুয়াজ্জিন, নামাজের আজান দিয়ে অভ‍্যস্থ বলেই একটি সমাধি সৌধের গম্বুজের অভ‍্যন্তরে অতো সুন্দর “আল্লাহ হো আকবর” ধ্বনি দিয়েছিলেন। সেদিন সেলিম আমায়, “বাবুজী, আপনি দেখুন ইচ্ছা মতো, কোনো তাড়া নেই”- বলে বাইরে ওর অটোয় গিয়ে বসেছিল। সেই মুয়াজ্জিন‌ও আমায় বললেন, দেখুন আপনার খুশী মতো তবে একটা জিনিস আমি দেখিয়ে দি, হয়তো আপনার নজরে নাও পড়তে পারে। 

    এই বলে তিনি একটি সমাধি সৌধে গিয়ে সেটি‌র দে‌ওয়ালে ফুট বারো ওপরে এক জায়গায় আঙুল দেখিয়ে বলেন, বিশেষ কিছু নজরে পড়ছে? মাথা নাড়ি - না তো। উনি বলেন, ঐ দেখুন দুটি পায়রা। (অথবা ময়ুর, এখন ঠিক মনে নেই)। অবাক হয়ে বলি, ঠিক তো! কিন্তু আমি যতদূর জানি, ইসলামী স্থাপত‍্যে বা অলংকরণে মানুষ বা পশু, পাখি খোদাই, চিত্রন নিষিদ্ধ? ফ্লোরাল বা জ‍্যামিতিক প‍্যাটার্ণ, ক‍্যালিগ্ৰাফি করে কোরানের বাণী ইত্যাদি এসবই আঁকা হয়, তাহলে এখানে পাখি কী করে এলো? উনি বলেন, আপনি ঠিক‌‌ই শুনেছেন, তবে সম্ভবত কারিগরদের মধ‍্যে কোনো হিন্দু ছিল যে পলেস্তারা‌র মধ‍্যে ঐ পাখিদুটি খোদাই করে গেছে। 

    বলি, যদি তাই হয়, ইসলামের রীতিবহির্ভূত ঐ খোদাই নষ্ট করে ফেলা হয়নি কেন? উনি বলেন, যদি ও দুটো আমাদের নজরে পড়ে থাকে, তিন চারশো বছর ধরে রয়েছে, তাহলে তখন বা পরেও সম্ভবত আরো অনেকে‌র নজরে পড়েছে, তবে কেউ‌ই যে ওটা নষ্ট করেনি সে তো দেখা‌ই যাচ্ছে, তবে কেন, তা বলতে পারবো না। আমি বলি, ভারি অদ্ভুত একটি জিনিস দেখালেন তো! নানা প‍্যাটার্ণের সাথে এমন মিলেমিশে আছে, আপনি অমন পিন পয়েন্ট করে না দেখালে এখানে দশবার এলেও আমার নজরে পড়তো না। এরকম আরো আছে নাকি? উনি বলেন, একমাত্র এটাই, এখানে আর কোথা‌ও এমন কিছু নজরে পড়েনি কারুর।

    সেদিন দুপুরে সেই জনহীন সমাধি চত্বরে আমি একা‌ই ঘুরছি‌লাম। একটি সমাধির নীচে বেসমন্ট মতো ছিল। সেই সমাধির কবরটির অবস্থান সেখানে‌ই।  মাটির নীচে ঘুলঘুলি দিয়ে আসা আলো আঁধারিতে ওখানে নেমে ঘুরেফিরে দেখতে একটু গা ছমছম অনুভব হচ্ছিল। রাতের বেলা একা ঐ নির্জন বেসমেন্টে যেতে বেশ অস্বস্তি হবে। ফিরে এসে সেলিম‌কে অকুণ্ঠে ধন‍্যবাদ দিই। সেলিম‌ বলে, বলেছিলাম না, ভালো লাগবে? আসলে আপনার কথা থেকেই আপনার নশ (নাড়ি) বুঝে গেছি‌লাম আমি। সন্নাটা আপনার পছন্দ। 

    বলি, সেলিম ভাই, আজ তো বেলা পড়ে এলো। হোটেলে নিয়ে চলো। কালকেও ফ্রী আছি। কাল কী দেখাবে? সেলিম বলে, আপনি চৌমহলা প‍্যালেস দেখেছেন? বলি, না, এবং স্বীকার করছি, সাত গুম্বজের মতো, এটা‌র‌ও নাম শুনিনি। সেলিম বলে, তাহলে ওটাও আপনার ভালো লাগবে। কখন আসবো বলুন? বলি, দশটা নাগাদ এসো হোটেলে। আজ কতো দেবো? সেলিম বলে, জো আপকা মর্জি। 

    ভাবি যাতায়াত নিয়ে হয়তো খুব বেশী হলে ১৫ কিমি হবে কিন্তু ও আমার জন‍্য ওখানে প্রায় ঘন্টা‌খানেক বসেছিল। তাছাড়া অতো সুন্দর, আমার অজানা একটা জায়গায় নিয়ে গেল। খুশি হয়ে চারশো টাকা দিয়ে বলি, ঠিক আছে? সেলিম টাকাটা কপালে ঠেকিয়ে বলে, হুজুর মেহরবান, আপনি বেশী‌ই দিয়েছেন। কিন্তু কাল আপনাকে চৌমহলা প‍্যালেসে নামিয়ে দিয়ে আমি চলে যাবো, ওটা দেখতে আপনার সময় লাগবে, ওখানে আমায় বসিয়ে রেখে ওয়েটিং চার্জ দেওয়ার মানে হয় না। প‍্যালেস দেখে বাইরে এসে অনেক অটো পেয়ে যাবেন।

    পরদিন ঠিক দশটায় আসে সেলিম, চৌমহলা প‍্যালেসে নামিয়ে দিয়ে সেলাম করে চলে যায়। ইচ্ছা মতো সময় নিয়ে দেখে, লাঞ্চ করে যাই গোলকোণ্ডা ফোর্ট। নীচে সন্ধ্যায় টিকিট কেটে Bose এর অনবদ‍্য Surround Sound System এ অমিতাভ বচ্চনের কণ্ঠে শুনি Light n Sound Show. সম্ভব‌ত এসেছি‌ল কুলি কুতব শাহ আর ভাগমতীর প্রেমকাহিনী‌ও - চোদ্দ বছর পরে, আজ আর তা সঠিক মনে নেই।

    ১৯৭৯ তে দাদার সাথে প্রথম গেছি‌‌লাম হায়দ্রাবাদ। তার‌পর আরো চারবার গেছি বিভিন্ন সময়ে। ২০১০ সালে অফিসে‌র কাজে হায়দ্রাবাদ যা‌‌ওয়ার শুধু এটুকু‌ই স্মৃতি‌‌তে আজো অক্ষয় হয়ে আছে - এক অচেনা অটো‌ওয়ালা সেলিমের দৌলতে দুটি সুন্দর স্থান দেখতে পাওয়ার সুযোগ।
     
  • পলিটিশিয়ান | 2603:8001:b102:14fa:8e51:e06e:2bab:4988 | ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৭:৫২528411
  • নিশান্ত থেকে কুলি কুতব শাহে গল্পের বদলে যাওয়াটা ভারী সুন্দর লাগল।
     
    কুতব শাহী বংশের শেষ রাজা তানা শাহ শিল্প সাহিত্যের সমঝদার ছিলেন। ছিলেন এক সুফি সাধকের শিষ্য। তার শেষ জীবন কেটেছিল দৌলতাবাদ ফোর্টে, ঔরঙ্গজেবের বন্দী হয়ে। তার সমাধি আছে খুলদাবাদে। সেটিও তার পূর্বপুরুষদের সমাধির ধরণেই তৈরী, যদিও খুব ভাল অবস্থায় নেই।
  • dc | 106.198.42.48 | ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৯:৪৩528412
  • চৌমহলা প্যালেস তো অসাধারন! ভেতরের একেকটা মহলে কি সূক্ষ কারুকাজ! আর আমার কালার থিমটাও খুব ভালো লেগেছিল, পিচ কালারের দেওয়াল আর তার ওপর সাদা কাজ। হায়্দ্রাবাদে ঘোরার জায়গার তো অভাব নেই, তাই আমি আর বৌ প্রায় প্রতি উইকেন্ডে আর ছুটিতে বেরিয়ে পড়তাম। হায়্দ্রাবাদ শহরটাও আমার খুব ভালো লাগতো, আর খাবারের তো কথাই নেই। হায়দ্রাবাদি বিরিয়ানি আমার অতোটা ভালো লাগেনি, তবে হালিম, ফিরনি, পায়া, কাবাব ইত্যাদি প্রাণ ভরে খেয়েছি। আর খেয়েছি খুবানি কা মিঠা :-)
  • kk | 2607:fb90:eab2:c595:b588:2f45:5560:4881 | ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ২০:৪৯528415
  • ভালো লাগলো এই লেখা।
  • সমরেশ মুখার্জী | ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ২১:৩০528417
  • সেবার জামনগর থেকে চেন্নাই হয়ে হায়দ্রাবাদ অফিসিয়াল ট‍্যূরে গেলেও সাথে ছিল 2006 তে কেনা আমার প্রথম ডিজিটাল ক‍্যামেরা - Sony DSC H1. ওটার Sensor only 5MP হলেও Sensor size অপেক্ষা‌কৃত বড় এবং Lens Quality ভালো ছিল। ফলে ঝকাস ছবি উঠতো। পরে 2014তে অনেক দাম দিয়ে Nikon D750 Full Frame DSLR কেনা ইস্তক ওতে ভ্রমণে‌র, পারিবারিক বহু স্মরণীয় ছবি তুলেছিলাম। 

    কিন্তু হায়! যে 1TB External Seagate HDDতে ছবি‌গুলো রেখেছি‌লাম তা Crash করতে বহু ছবি হারিয়ে গেছে। চাঁদনী থেকে সাড়ে তিনহাজার দিয়ে রিকোভারি করে কিছু পেয়েছি, অধিকাংশ‌ই ক‍রাপ্ট হয়ে গেছে। আমাদের ছেলের ছোটবেলা‌র অনেক ছবি - যেসব দিন আর ফিরে আসবে না - সেসব‌ও উড়ে গেছে। এটা মনে পড়লে দুঃখ উথলে ওঠে। তার পর থেকে সব ছবি তিন জায়গায় Backup রাখি। 

    তো ঐ HDD Crash করতে 2010 এর সেই ট্রিপে তোলা কুতবশাহী সমাধি, চৌমহলা প‍্যালেস, গোলকোণ্ডা‌র ছবি‌ও হারিয়ে গেছে। তবে মনে আছে, চৌমহলা প‍্যালেসের অভ‍্যন্তরে ঢোকার মুখে বাইরে ঢাকা বারান্দায় একটি মার্বেল স্ট‍্যাচু ছিল - দুটি পুরুষ কুস্তি করছে। একটি সিঙ্গেল ব্লক কেটে বানানো। দারুণ লেগেছিল। সময় নিয়ে সেটা ঘুরে ঘুরে দেখেছি‌লাম। আন্তর্জালে‌র দৌলতে ছবিটা‌ও পেয়ে গেলাম। রাখছি সেটা দুটি এ্যাঙ্গেল থেকে।



     
  • সমরেশ মুখার্জী | ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ২১:৩৯528418
  • @ পলিটিশিয়ান

    আপনার উল্লিখিত তানা শাহ প্রসঙ্গ‌টি জানতাম না। পাবলিক ফোরামে লেখা দিলে এমন সব পাঠ মন্তব্য থেকে নিজের জানার পরিধির বাইরে আরো অনেক কিছু জানা যায় - এগুলো‌ই আসল প্রাপ্তি। 

    ধন্যবাদ।
     
  • এলেবেলে | 202.142.71.17 | ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ২২:২৯528419
  • সমরেশবাবুর দুঃখ কিঞ্চিৎ লাঘবের জন্য 
     
     
     
     
     
     
  • পলিটিশিয়ান | 2603:8001:b102:14fa:8e51:e06e:2bab:4988 | ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ২২:৩২528420
  • গুগল লেন্স বলল এই মুর্তিটা একটা গ্রীক ভাস্কর্যের রোমান কপি।
     
  • সমরেশ মুখার্জী | ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ২২:৪৪528423
  • @ পলিটিশিয়ান, 
     
    তবে WiKi entry তে ওটা চৌমহলা প‍্যালেসে আছে সেটা দেখলাম না। তাহলে চৌমহলা প‍্যালেসে‌র ঐ স্ট‍্যাচু‌টাও একটা কপি। ওখানে ওটা চাক্ষুষ দেখেছি বলে পরিস্কার মনে আছে। YT Shorts এ‌ও দেখলাম ওটার ভিডিও রয়েছে।
     
    https://youtube.com/shorts/iOiXkm2jSYE?si=mAPcUL5Ghzhr9gI5
  • পলিটিশিয়ান | 2603:8001:b102:14fa:8e51:e06e:2bab:4988 | ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ২৩:০২528424
  • পুরোটা লিখিনি, দুঃখিত।
     
    চৌমহলা প্রাসাদের ওটাও কপি। হয়তো উফিজি গ্যালারির মুর্তিটার থেকেই করা। বলছি, কেননা মূল গ্রীক মূর্তিটা যতদূর জানি আর নেই। উফিজির কপিটাই সবচেয়ে পুরোনো কপি।
     
    হায়দ্রাবাদের পশ্চিমী শিল্পের অনেকগুলোই আসলে কপি। এমনকি সালার জং মিউজিয়ামের গুলোও। যেমন বিখ্যাত ভেইলড রেবেকা। https://en.m.wikipedia.org/wiki/Veiled_Rebecca
  • সমরেশ মুখার্জী | ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ২৩:২৪528425
  • @ এলেবেলে

    হ‍্যাঁ, এগুলি‌ই। মনে হচ্ছে ভালো‌ভাবেই রক্ষণাবেক্ষণ হয়। তবে কী জানেন, হায়দ্রাবাদের ঐ ছবি‌গুলো উড়ে গেছে বলে অতো দুঃখ নেই। ওগুলো তো মজবুত, গুরুত্বপূর্ণ, ঐতিহাসিক স্মারক। ভূমিকম্পে বা বাবরি মসজিদের মতো হামলায় গুঁড়িয়ে না গেলে - আরো বহু বছর অমনি‌ই রয়ে যাবে। আবার কখনো হায়দ্রাবাদ গেলে দেখতেও পারি। 

    Ext HDD Crash করাতে গভীর দুঃখ হয়েছিল একান্ত ব‍্যক্তি‌গত পরিসরে‌র কিছু মানুষ‌জনের বহু ছবি‌ উড়ে যাওয়া‌তে। যেমন ধরুন একবার আটজনের পারিবারিক দলে উত্তরাখণ্ডে দু হপ্তার ভ্রমণে গেছি‌লাম। এক বিকেলে রাণীক্ষেতের গলফ‌কোর্সে তখন আমাদের আট বছরের পুত্র ও তার দশ বছরের মাসতুতো দিদি খিলখিলিয়ে হাসতে হাসতে সবুজ গালি‌চার মতো ঘাসে আপন মনে দৌড়াদৌড়ি করছিল। আমি ওদের অজান্তেই আমার Sony HD VDO ক‍্যামেরায় মিনিট দুয়েকের ভিডিও নিয়েছি‌লাম। খুব সুন্দর, ন‍্যাচারাল উঠেছিল সেটা। এই নভেম্বরে শ‍্যালিকা‌র মেয়ের বিয়ে হয়ে গেল। 

    পরিণত বয়সে সন্তান সন্ততি‌দের ছোটবেলা‌র বা আমাদের নিজেদের প্রারম্ভিক জীবনের এমন সব মুহূর্তে‌র ছবিছবা দেখে স্মৃতি‌ভারাতুর লাগলেও এক ধরণের আনন্দ‌ও হয়। আমি যে দুঃখের কথা বলেছি, তা ঐ সব ছবি, ভিডিও উড়ে যাওয়া‌তে - সে ক্ষতি আর পূরণ হ‌ওয়া‌র নয়। crying

     
  • dc | 2401:4900:232e:a656:854e:43f0:62e5:86b7 | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ০৮:৪৩528426
  • হ্যাঁ, চৌমহলা প্যালেসের বাইরে ঐ দুজন কুস্তিগীরের মূর্তির কথা মনে আছে। ওটা নিয়ে আমি আর বৌ অনেক গবেষনা করেছিলাম, আরও এই জন্য যে ওরকম গ্রিক মূর্তি একেবারেই আউট অফ প্লেস মনে হয়েছিল। আরও ঘোরার পর অবশ্য বুঝতে পেরেছিলাম ওরকম আরও অনেক আর্টিফ্যাক্ট কালেক্ট করা হয়েছিল সেগুলোর নভেল্টি ভ্যালুর জন্য, তাও  সারা দিন আমরা নানারকম পসিবিলিটি নিয়ে আলোচনা করেছিলাম laugh 
  • সমরেশ মুখার্জী | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১১:১৩528427
  • @ পলিটিশিয়ান

    মানতেই হবে - ভে‌ইলড রেবেকা - গোত্রের ভাস্কর্য কপি করতেও ভাস্করের যথেষ্ট এলেম প্রয়োজন। 2017 তে সময় নিয়ে দেখেছি‌লাম সালারজং মিউজিয়াম। সাধারণ MI5 মোবাইলে কিছু দ্রষ্টব্যর ছবি তুলেছিলাম। মনে হয় এই তৈলচিত্র‌গুলি‌ও কপি, তবে সুন্দর প্রতিলিপি। অরিজিনাল ছবি নয়, স্ক্রিন‌শট রাখলাম, তাই রেজোলিউশন কম মনে হতে পারে।





  • পলিটিশিয়ান | 2603:8001:b102:14fa:a13d:9985:c129:332e | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৮:৪৭528433
  • এলেমের কথা বলিনি। তবুও একটা চারুশিল্প অন্যটা কারুশিল্প। 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। বুদ্ধি করে মতামত দিন