এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • মাস্টারনামা

    আফতাব হোসেন লেখকের গ্রাহক হোন
    ০৫ এপ্রিল ২০২২ | ২৩১ বার পঠিত
  • মাটির ঢেলা শুধুই, তায় আগাছায় ঢাকা।
    একমানুষ জমি মাত্র। বেশিরভাগটাই নাবাল। মাঝে মধ্যে পোড় খাওয়া চাষি চষে যায় মাথা, বুক, শরীর… গরমে ঝলসে যাবার আগে
    এবারের ফসল ঘরে তোলার সময় হল বলে।
    মুখের  স্বাদ মত বিচার করবেন … 
    জানবেন
    সব ফলন পেট ভারির জন্যও থাকে না,
    কিছু ফলন
    নাকেও গন্ধ ছড়ায় …

    'সুফি' নাম টা বনেদি ভাবতাম। পরিচয় হবার পর বুঝলাম পুরোটাই ঘন জঙ্গল,সভ্যতার চিন্হ নেই বললেই চলে। থাকলেও আগাছায় ভরা। ভরা সন্ধ্যে বেলায় পা ছড়িয়ে গতর দুলিয়ে শোনায় মাঝে মাঝে

    - ' মাস্টার, সালা বদ রক্তে ভরে গেল শরীল টা, চুলকানি খুব, সাদা পুঁজ জমে রোজ, গেলে দিয়ে সুখ পাই খুব...কিরিম টিরিম দে কিছু ...'
    বিদিগুচ্ছিরি মার্কা হাসে। রাগ করি না আজকাল, দিয়ে দিই, দিলেও লাভ হয় না। এর আগে হাজারবার দিয়েছি, নিওষ্পরিন, মারকিউড়োক্রম সব। মাখেই না ...
    কেউ বলে মাস্টারের দরদ বেশি, কেউ আবার ওর বুকের ছেঁড়া বোতামে আমার চোখের দোষ খোঁজে। আমি গান্ডু সারাজীবন, চোখে কাফের, আমি কি খুঁজি ... কি যে খুঁজি ...কে জানে? 

    সব নিয়মে হয়েছিল সুফির। শরীরে রক্ত আসা,রক্ত বাড়া, রক্ত শুরু, রক্ত বন্ধ, রক্ত খালাস, সও ওব নিয়মে। সব্বার সঙ্গে লড়ে পুরো টুয়েলভ ডিঙিয়ে তবেই মোহর করলো। গিয়েছিলাম মোচ্ছবে। একবারও তাকায়নি। তরকারিতে ঝাল খুব, আমারও মুখ বন্ধ। মাতব্বর গোছের কেউ একজন বললো শুনলাম, মেয়ে বারো কেলাসের সেরা ছিল, ওপারের বরযাত্রীদের ফিচেল হাসির সাথে রস শুনলাম, 
    - ' শুনলি ও ফুরকান, বারো ক্লাসের মত গাদন দিস রে ...'

    গোস খাইনা, সবেতেই ঝাল খুব, উঠেই এলাম। গাদনের চাপে।

    তারপর এগারো বছর, কত কি শিখলাম, মাস্টারি করতে চেয়ে অক্ষর শিখেছিলাম। বাঁচতে গিয়ে শিখলাম শরীর, মন, মাথা, বুক সব। নিজের, সাথে অন্যের। চিনতে পারিনি শুধু সুফি কে। চা বাগানের বাজ পড়া গাছটার নীচে সাদা পুঁজ গেলে বেঁচে থাকা পুটলিটাকে। রাত বিরেতে অন্যের সংসারে ঠান্ডা আগুনে তাপ দেওয়ার কি দরকার ওর বুঝিনি। শুনলাম ট্রাজেডি নেই কিছু। পুরোটাই সায়েন্টিফিক। হেবি আয়রন ডেফিসিয়েন্সি, সাথে পলিসিস্টিক ওভারি, দু বার ফার্স্ট ট্রিমিস্টারেই খালাস। গেরামের ভাষায় হাওয়া লাগা।

    আদিবাসী ঝাঁড়ান জোয়ানটা চার ঘণ্টা ঘরে তিন সপ্তাহ ঝাড়লো, আর ওদিকের দাঁড়ি বালা টা এগারো দিন। কার তাগদে তিন নম্বরের টা সেকেন্ড ট্রিমিস্টার পর্যন্ত্য এলো সে হিসেবে কারো জানা নেই। শুধু এইটুকু সব্বাই বুঝলো এ হাওয়ার কোন ঝাড়ান নাই। তারপরেও সব মিথ কে মিথ্যে করেই সুফির যমজ হল। একেবারে যমজ। আর তার কয়েক মাসের মাঝেই  ঘরছাড়া। কেউ বলে সালির প্যাটে কিতাব ঘুসেছিল বলে শালী সোয়ামী সংসারে মন নাই, কেউ বলে শালী ধ্যামনা, ঘরজ্বালানি, পর মারানী  রেন্ডি... 
    আমি বুঝি বেশি মিশলে গেরামে বাতাস উড়বে কম, ছড়াবে বেশি।

    বৃষ্টিটা থামার জন্যই দাঁড়িয়েছিলাম। সুফিও ঠিক এলো। নোংরা ভেজা পুঁজে ভর্তি শরীর। তবুও তো মেয়েশরীর। সরে এলাম খানিক। 

    বললো মাস্টার ব্যাগে ফল।

    ইঙ্গিতে বোঝালাম হ্যাঁ 

    বললো খেজুর নিলি রোজা মাসের জন্যি।

    এবারেও ইঙ্গিতে বোঝালাম।

    বললো ছেলে তোর খুব খুশি হবে, আমারটা হয় খুব।

    আর চুপ থাকলাম না। বললাম

    রোজা দিস নাকি? যাস ছেলের কাছে?

    সাদা পুঁজ ফাটানো বন্ধ করে তাকালো খানিক।

    বললো 
    মাস্টার আমার বুক দেখেছিস?
    থতমত খেলাম খানিক
    বললো
    তোরা চাষ করিস খালি, জমি দেখিস কম। 
    শুন মাস্টার,
    রক্ত শুধু নয়, বুকে দুধও নাই আমার, সেই আট মাসেই দুধ শ্যাষ। 
    গোলাপি দিদি গুলান বললো রক্ত না বাড়ালে দুধ বাড়বে না। 
    ছেনা  দুটা কে একা বাপ পুষতে পারে না। 

    সেই থেকেই রোজা দিচ্ছি বুঝলি...
    তোরা শুধু পেট খালি রাখিস মাস্টার, 
    আমার সেই কবে থেকে পেট খালি সাথে মন,সংসারও।
    ফুরকান জানে সব। তিনবার পেট খালি করার পর যারা পেটে এলো তাদের পেট খালি রাখি কি করে বল?

    চুপ থাকলাম খানিক
    বললাম বুঝলাম তোর স্যাক্রিফাইস 
    তা  মান ইজজত খসালি কেন? স্কুলে তো ওরকম ছিলি না? 

    চোখ নামালো খানিক
    বললো ইফতারের সময় হল মাস্টার
    ঘরে যা, ছুয়াটা তোর চিন্তায়।
    বৃষ্টি কমলো 

    বাইকে স্টার্ট দেবার আগে সামনে এলো একেবারে
    বুকের কাছে বুক লাগিয়ে চোখে তাকিয়ে বললো

    ফুরকান টাও তোর মত, চষে বেশি, বীজ বুনে কম, তাও তো বেটাছেনা, 
    মাস্টার
    ঘরছাড়া বউয়ের মরদ আবার মোহর করতে পারে
    কিন্তু রেন্ডির মরদের মোহর কেউ দেবে না মাষ্টার...

    কি জানি, 
    এখনো তাকিয়ে আছি সুফির চোখে..
    আমি বুঝি কম ..
     গান্ডু সারাজীবন, চোখে কাফের, 
    আমি কি খুঁজি ... 
    কি যে খুঁজি ...
    কে জানে? 

    #পবিত্র রমজানের শুভেচ্ছা সক্কলকে
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • ঝর্না বিশ্বাস | ০৫ এপ্রিল ২০২২ ২০:৪০506030
  • একদম অন্যরকম লেখা। স্টাইলটা খুব সুন্দর...আর লেখাটাও
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভেবেচিন্তে মতামত দিন