এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  নাটক

  • আতান্তর 

    সে
    নাটক | ২৩ জানুয়ারি ২০২২ | ১০০৪ বার পঠিত
  • বাখরখানি যে পরোটা গোত্রেরই একটা খাদ্য তা জানলাম নকশালবাড়ির কাছে একটা চা বাগানে গিয়ে। এ ও প্রেম পর্বেরই ঘটনা। নতুন বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে বেরিয়েছি বেড়াতে পুজোর ছুটিতে। আমরা তিনজন। আমি, সে ও আমার কন্যা। গত শতাব্দীর শেষ দুর্গাপুজো। আমাদের গন্তব্য ছিলো ডুয়ার্সের একটা চা-বাগান, যেখানে নিরিবিলিতে কোলকাতার হৈ হট্টাগোল ভিড়ভাট্টা আওয়াজ চেঁচামেচি এড়িয়ে আড্ডা খাওয়া দাওয়া করে ছুটি কাটানো যাবে। দুজনেরই পুঁজি কম এবং কৃপণতার ঝোঁকও আছে, তাই ধর্মতলা থেকে বাসে চেপে চললাম শিলিগুড়ি অভিমুখে। সরকারি বাস, পুরু গদির আরাম নেই সীটে, তবে টিকিটের দাম অবিশ্বাস্য রকমের কম। সময়ও লাগবে ট্রেনে যাবার মতই প্রায়। বাগানে গিয়ে থাকা হবে ম্যানেজারের নিজস্ব বাংলোয়, আভাসে ইঙ্গিতে বুঝেছি সে এক এলাহি আয়োজন। বাগানের ম্যানেজার শুধু আমার বয়ফেন্ডটির আত্মীয়ই নয়, বন্ধুও বটে, এবং দুজনের বয়সও খুব কাছকাছি।
    মালদহে কিছুক্ষণ বাস আটকে রইল অ্যাকসিডেন্টজনিত ট্র্যাফিক জ্যামে, মোটকথা ঘন্টা তিনেক লেট করে আমরা পৌঁছে গেছি শিলিগুড়ি। সেখান থেকে ট্যাক্সি নিয়ে চা বাগানে গিয়ে উপস্থিত হলাম। পথশ্রমে শুধু ক্লান্তই নই, সবচেয়ে আগে যেটার প্রয়োজন তা হচ্ছে একটা বাথরুম। সত্যিই এলাহি ব্যাপার, তবে আপ্যায়নের বাড়াবাড়ি নেই। বাংলোর সিঁড়ি দিয়ে উঠতেই সামনের খোলা জায়গায় বাঁধা আছে ডোবারম্যান, সে বাড়ির মালিক ছাড়া আর কারোকে তোয়াক্কা করে না।
    সন্ধে নেমে গিয়েছিল। চান করে কাপড় বদলে খাবারের টেবিলের কাছে গিয়ে দেখলাম ওভাল শেপের প্লেটে থরে থরে বাখরখানি। ম্যানেজারটি অ্যাংলো ইন্ডিয়ান। দেখতেও পাক্কা সাহেবের মত, তেমনি তার হম্বিতম্বি। ম্যানেজারের গিন্নি গোয়ান হলেও কোলকাতাতেই জন্ম এবং বেড়ে ওঠা। আর আছে এদের টিনএজার পুত্র জন। বড়ো মেয়ে কোলকাতায় লোরেটো কলেজে পড়শুনো করে, সেও এসেছে পুজোর ছুটিতে। আবার আমাদের মত আরও তিনজন অতিথি সেদিন সকালের ফ্লাইটেই কোলকাতা থেকে এসে গেছে- স্বামী ও ভ্রাতুষ্পুত্রকে নিয়ে ডাভিনা। সেই ডাভিনাই টাটকা বাখরখানি বয়ে এনেছে পার্কসার্কাস থেকে। নিউ মার্কেট থেকে সসেজ এনেছে। পার্কসার্কাসের ধাঙড়বাজার থেকে এনেছে কাঁচা পর্ক সসেজ। বাখরখানির দিকে তাকিয়েই আমার হুহু করে শৈশবের কথা মনে পড়ে গেল।
    আমার দিদিমা ছিল বাঙাল। শৈশবের একটা সময়ে প্রথমদিকে প্রত্যেক সোম এবং বেস্পতিবার সে আমাদের বাড়ি আসত বিকেলে। আবার রাত হলেই চলে যেত। ঝড় বৃষ্টি ট্র্যাফিকজ্যাম ট্রাম বন্ধ হয়ে যাওয়া, এসব তাকে রুখতে পারত না, সে হেঁটে মেরে দিতে পারত হাওড়া থেকে উত্তর কোলকাতা। তা সেই সোম ও বেস্পতিবারগুলোয় তার কাছে সন্ধে কাটাতে হয়েছে কয়েকবছর। তখন নানান গল্প শুনেছি। ঢাকা শহরে তার জন্ম থেকে কৈশোর কেটেছিল, আবার বছর কয়েকের ব্যবধান, এবং বৈধব্য ও আর্লি যৌবনও ঐ একই শহরে। ধর্মগ্রন্থের গল্পের পাশে পাশে তার নিজের জীবনের গল্পও ছিলো, -অতীতের গল্পের মধ্যেই বাখরখানির উল্লেখ বেশ কয়েকবার পেয়েছি। আমার কেমন একটা ধারণা বনে গেছল যে জিনিসটা গজা জাতীয় কোনও মিষ্টি। ঢাকার অমৃতি যেমন একটা রসের মিষ্টি, তারই দূরসম্পর্কের কেউ হবে হয়ত এই বাখরখানি। সেই যে হয় না, নিজে নিজেই কিছু ছবি মানুষের মনের মধ্যে তৈরী হয়ে যায়, এ ও সেরকম। যেমন স্টার থিয়েটারের গেটের দুপাশে পাখির মূর্তি ছিল। সম্ভবত গরুড়ের। রামায়নে জটায়ুর ঘটনাগুলোয় ঐ মূর্তি বারবার মনে পড়ে যেত। কেউ যদি পরে ঐ মূর্তি দেখিয়ে বলে ঈগল কি অন্যকিছু, মানতে অসুবিধে হবে।

    সিনেমায় যেমন চা-বাগানের ম্যানেজারের বাংলো দেখায়, এ ও তেমনই একটা কিন্তু ভেতরে যে এত জায়গা তা বুঝতে পারিনি। বসবার ঘরটাতেই গোটা তিন চার আলাদা আলাদা বসবার ব্যবস্থা। এবং একটার সঙ্গে অন্যটার যথেষ্ট ব্যবধান। সেই ঘরটাকে ঘিরে অন্যান্য ঘর। খাবার ঘরটাও বেশ বড়ো। সাহেবদের আমলে তৈরী বাংলো, জায়গার ব্যাপারে কোনও কার্পণ্য করে নি। মস্ত সেই টেবিল ঘিরে আমরা দশজনে বসলাম। নিমেষের মধ্যে উড়ে যেতে লাগল সসেজ ও বাখরখানি। এরা সবাই ইংরিজিতে কথা বলে। আমি তখনও ইংরিজিতে সড়গড় নই, আমার মেয়ে তো এক বর্ণও জানেনা। ফলত আমরা মাতা পুত্রী একটু লজ্জা-লজ্জা কোণঠাশা অবস্থায়। চাকরবাকরদের সঙ্গে এরা হিন্দিতে কথা বলে, যেমন, পানি লাও, প্লেট উঠাও, ইত্যাদি। আমার মেয়ের হাতে লাড্ডু ধরিয়ে দিল খেতে গৃহকর্ত্রী সিনথিয়া। সে তখনও কথায় কথায় থ্যাংকিউ বলতে শেখে নি। দুটো সংস্কৃতি একে অপরের সঙ্গে মিশে যেতে পারছে না। ভাষা একটা বিরাট পাঁচিল, তার সঙ্গেও কিছু রয়েছে, যেটা অনুভব করতে পারছি, কিন্তু ধরতে পারছি না।
    মেয়েকে জিগ্যেস করল সিনথিয়া, ইউ নো ইংলিশ?
    মেয়ে তৎক্ষণাৎ উত্তর করল - আই নো ইংলিশ।
    আমি থমকে বিষম খাই আর কি! বলে কী! পরে চুপিচুপি জিগ্যেস করলাম, তুই ইংরিজি জানিস? মেয়ে সঙ্গে সঙ্গে বলল, জানিনা বলেই তো বললাম- আই নো ইংলিশ, নো মানে না।
    জন মানে জোনাথান এবং ডাভিনার ভাইপো সেই বাচ্চাটি নিজেদের মধ্যে কথা বলতে লাগল, খেলছে হাসছে। কিছু পরে লক্ষ্য করলাম, পুরুষদের একটা গ্রুপ হয়ে গেছে, যেখানে পুরুষালি আলোচনা চলছে, যেমন, নানান ধরণের গাড়ি মদ ইনভেস্টমেন্ট, আরেকটা হচ্ছে মেয়েদের গ্রুপ, সেখানে সিনথিয়া, ডাভিনা ও ডাভিনার মেয়ে জ্যাকি - জ্যাকলিন। সেখানে কাদের কাদের সম্পর্কে যেন কথা হচ্ছে, খুবই ব্যক্তিগত কিছু ব্যাপার হবে হয়ত। দুদিকেই একটু করে ঘেঁষতে চেষ্টা করে পাত্তা পেলাম না। মোটকথা মা ও মেয়ে অপ্রস্তুতের মত কিছুক্ষণ হাসি হাসি মুখ করে থেকে চুপচাপ বেডরুমের দিকে পা বাড়ালাম।
    ওরা অনেকক্ষণ আমাদের দেখতে পায় নি, বা হয়ত খেয়াল করে নি যে আমরা চলে গেছলাম ঐ ড্রয়িং রুম থেকে। যখন ওদের টনক নড়েছে, তখন রাত অনেক। আমরা ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। ছোট ছেলেটিও সম্ভবত ঘুমিয়ে পড়েছিল নিজের ঘরে। আমার ঘুম ভাঙিয়ে দিল বয়ফ্রেন্ড, এই চলো চলো ও ঘরে চলো, ওখানে গল্প গুজব হচ্ছে, এভাবে চলে এলে অকোয়ার্ড দেখায়- মিশতে শেখো সোসাইটিতে। হা হা হাসি শোনা যাচ্ছে, পুরুষের গলার আওয়াজও সংখ্যায় আগের থেকে বেশি মনে হল। গিয়ে দেখলাম, আরও দুজন পুরুষ যোগ হয়েছে আড্ডায়, কেউ আলাপ করিয়ে দেয় নি আমাদের সঙ্গে, তবে কথায় কথায় বুঝলাম, একজন এই বাগানেরই অ্যাসিট্যান্ট ম্যানেজার, অন্যজন বাগানের ডাক্তার। পুরুষদের সবার হাতেই হুইস্কির গ্লাস, গলার আওয়াজ শুনেই বোঝা যাচ্ছে যে অনেকক্ষণ যাবদ মদ খাওয়া শুরু হয়েছে।
    যেন সব পূর্ব পরিকল্পিতই ছিল, বা এরকম আসর হয়ত নিয়মিতই বসে, এরকম মনে হচ্ছিল। একটা উঁচু টেবিল ঘিরে চারজনে খেলতে বসে গেল তাস। এই খেলাটার নাম তিনপাত্তি। চারজনে মিলে খেললেও উৎসুক দর্শকের সংখ্যা কম নয়। যে হারতে থাকে, সে উঠে পড়ে, নতুন লোক বসে তার জায়গায়।
    আলো বেশি ব্রাইট নয়, ভোল্টেজ কম, টিভিতেও কালো কালো লাইন আসছিল সন্ধেবেলা লক্ষ্য করেছি। একটা টেবিল ঘিরে এই তিনপাত্তির খেলায় সবাই মশগুল। টেবিলের মাঝখানে টাকা জড়ো হচ্ছে, ইয়েন একটু বেশি নেশা করে ফেলেছিল, সব বাক্যেই এক দুবার "বাগার বাগার" বলছিল। সে আগাগোড়া ব্লাইন্ড খেলছে। শেষে যখন শো হচ্ছে, প্রত্যেকবারেই হেরে গিয়ে, ফাক বাগার শিট ইত্যাদি বলছে। অনেক টাকা খোয়ানোর পরে ডাভিনা তার স্বামীকে সরিয়ে নিয়ে গেল সেখান থেকে।
    এই খেলাটার নাম আমি শুনেছিলাম বিদেশে থাকাকালীন, কিন্তু সামনাসামনি কারওকে এমন খেলতে দেখিনি। ছোটো থেকে জেনে এসেছি, জুয়া অতীব খারাপ জিনিস, সেই জিনিস দিব্যি চোখের সামনে চলছে। একটা জিনিস দেখবার মত, তা হচ্ছে সিনথিয়ার খেলা। সে আগাগোড়া জিতছে। সে নাকি প্রতি দিনই জেতে। সিনথিয়ার গা ঘেঁষে বসে আছে তার ছেলে জোনাথান। সে মায়ের হাতের তাস খুব সন্তর্পনে দেখে নিয়ে মিটমিট করে হাসে, অন্য প্লেয়ারদের দিকে তাকায়। ইয়েন সরে যেতে সেখানে খেলতে বসেছে আমার বয়ফ্রেন্ড। এক ধাক্কাতেই সে অনেক টাকা হেরে গেল। আমি তাকে চোখের ইশারা করে খেলতে বারণ করছি। তা সে আমার ইশারা বুঝলে তো! দু তিন রাউন্ড খেলবার পরে দেখি তার জেদ চেপে গেছে। যা হেরেছে, তা জিতে ফেরৎ না নিয়ে সে উঠবেই না।
    তাকে বোঝানো বৃথা। প্রেম ও নেশার মধ্যে নেশা অনেক বেশি শক্তিশালী। আমাদের বেড়াতে আসার পুঁজি সমস্তটাই ক্যাশ টাকায়, নিজস্ব ক্রেডিট কার্ড নেই, চেকবই আছে যদিও, আরও আছে কিছু ক্যাশ, আমি গোপনে এনেছি যদি সখের কিছু জিনিস কিনতে হয়- মানে শপিং টপিং, যদি টাকায় টান পড়ে, সেসব ভেবে। সে টাকার হদিশ আমার বয়ফ্রেন্ড জানে না।

    প্রথম রাত, তার পরের রাত, তার পরের রাত, এই একই জিনিস চলতে লাগল। কোথায় ভেবেছিলাম নিরিবিলিতে একটা ঘরোয়া ছুটি কাটাব আমার বয়ফ্রেন্ডের চেনা জনেদের সাথে - কোথায় কী! দিনের বেলা ম্যানেজার কাজ কর্মে ব্যস্ত থাকে, তার বৌ সিনথিয়া স্কুলের শিক্ষিকা - সেই স্কুলেও পুজোর ছুটি চলছে, দিনের বেলায় একদিন ইয়েন ডাভিনা সিন্থিয়া জ্যাকি এবং তাদের সঙ্গে যে বাচ্চাটা এসেছিল, সব চলে গেল ধুলাবাড়িতে শপিং করতে। ধুলাবাড়ি নেপালে, ওরা বড় একটা সাফারি গাড়িতে চেপে সকালে বেরিয়ে গেল, ফিরল সেই সন্ধে পার করে। আমার বন্ধুটি আমার সঙ্গে কথাই বলে না, সারাক্ষণ সেই ম্যানেজার ও তার ছেলেকে নিয়েই ব্যস্ত। ওরা কোথায় যেন যায় চান করতে, কাছেই নাকি একটা নদী আছে, কুকুরকে নিয়ে যায় সেই নদীতে। শপিং সেরে মেয়েরা ফিরলেই ডিনার, চাকর বাকরদের ওপর ধমক ধামক, এসব সেরে হুইস্কির আসর, আবার সেই ডাক্তারের আগমন, আবার অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার শুভাশিস, আর একটু মদ, এবং অবধারিত তিন তাসের খেলা। আমি আর ওদিকে যাই না। সারাটা দিন ঘরের মধ্যে শুয়ে থাকি। কখনও হয়ত একটু রান্নাঘরের দিকে গেলাম, সেখানে চাকরবাকরেরা মাথা নীচু করে কাজ করে। দুপুরে যেদিন ওরা ছিল, খাবার খাচ্ছিলাম, কী একটা ভুল করেছে চাকর, তাকে বকছে সিনথিয়া, চাকর ফিক করে হেসে ফেলেছে। তা দেখে জ্যাকি চেঁচিয়ে উঠল - হাসতা কিঁউ, হাম তুমকো মারেগা! জ্যাকি পায়ের স্লিপার খুলে হাতে নিয়ে মারবার ভঙ্গী করছে। চাকর চুপ, তার হাসি মিলিয়ে গেছে। দেখে মনে হয় তার বয়স তিরিশ পঁয়ত্রিশ তো হবেই। অত বড়ো একজনকে কেউ এভাবে ধমকাতে পারে তা না দেখলে বিশ্বাস হবার নয়।
    ভাবলাম ওর বাবা মা ওকে থামিয়ে দেবে, কিন্তু তেমন কিছুই হল না।
    চাকর একটু পরে মিনমিন করে বলল, আজ অষ্টমী পুজো দুতিনদিন ছুটি পেলে ঘরে যেতাম। তাকে ধমকে বের করে দেওয়া হল সেখান থেকে। খাবার টেবিলে ইংরিজিতে আলোচনা হচ্ছে, জ্যাকি বলছে, বাগানের বাইরে তো পুজো হচ্ছে দেখে এলাম, ও ওখানে গিয়ে দেখে আসুক! তিনদিন ধরে কী করবে? সব বদমায়েসি, কাজে ফাঁকি দেবার বাহানা।
    জ্যাকি খুব রেগে আছে। কথা ঘোরানোর জন্য ম্যানেজার বলল, কাল রাতে হাতির দল এসেছিল।
    ও মাই গড! ডাভিনা ভয় পেয়ে যায়। খাবার ঘরের উত্তরদিকে পরপর অনেকগুলো কাচের জানলা, সেদিকে দেখিয়ে ম্যানেজার বলে, ঐ যে জঙ্গল রয়েছে পেছনে, ওখান দিয়ে হাতির দল আসে। তখন আমরা ঘরের আলো নিবিয়ে রাখি। কোনও আওয়াজ করি না, হাতিরা দল বেঁধে চলে যায়।
    দিনের বেলা হাতি আসে না? আমার মেয়ে আমায় বাংলায় ফিসফিসিয়ে জিগ্যেস করে। আমি আর তা ইংরিজিতে অনুবাদ করে ওদের জিগ্যেস করি না। নিজের মন থেকে বানিয়ে বানিয়ে উত্তর দিয়ে দিই মেয়েকে।
    আসলে এই বাড়িতে আমাদের মা মেয়ের দম আটকে আসছে। তৃতীয় দিন আমার ব্যাগের গোপন পকেটে হাত দিয়ে মাথার মধ্যেটা ফাঁকা হয়ে গেল। লুকোনো দেড় হাজার টাকা আলাদা রেখেছিলাম, টাকা নেই।
    আমার বিশ্বাস হতে চায় না। ভাবি হয়ত অন্য কোথাও রেখেছি। কাপড় জামার ব্যাগ খুলে একটা একটা করে পোশাক তুলে তুলে ঝেড়ে ঝেড়ে দেখি, তন্নতন্ন করে খুঁজি ঘর, টাকা নেই।
    অঙ্কে ছোটবেলা থেকেই কাঁচা ছিলাম। মাঝে কিছু সময় ঘষে মেজে প্র্যাকটিস করে করে যেটুকু হয় তা দিয়ে মোটামুটি ভাল নম্বর হয়ত পেয়েছি, কিন্তু অঙ্কের হিসেব মেলানো আমার ধাতে নেই, বিশেষ করে তা যদি অচেনা অঙ্ক হয়। তার অ্যালগরিদম খুঁজে বের করা আমার কম্ম নয়, সে জিনিস জীবন দিয়ে বুঝেছি পদে পদে। কিন্তু সত্যিই কি টাকাগুলো আমি এনেছিলাম? কোলকাতায় ভুলে ফেলে আসিনি তো? আরও একবার খুঁজি। মাথা দপদপ করে। তবে যে আমার প্ল্যান ছিল এখান থেকে দার্জিলিং বেড়াতে যাব, তার কী হবে! চেকবই রয়েছে, কিন্তু চেক ভাঙাবো কোথায় এই নির্জন চা বাগানে? এখান থেকে তো হেঁটে কোথাও যাবার উপায় নেই, না আছে বাস, না আছে ট্যাক্সি। তাহলে বেড়ানোর সমস্ত প্ল্যান ভেস্তে গেল?
    কেউ নেই এরা বাড়িতে। কোথায় সব চলে যায়, আমাদের বলেও না, জিগ্যেস ও করে না। আমি রান্নাঘরে যাই। চাকরবাকরেরা নিজেদের মনে গল্প করছিল, আমায় দেখে শশব্যস্ত হয়ে ওঠে। সেই বাঙালি রাঁধুনি লোকটিকে জিগ্যেস করি, দাদা এরা সব কোথায় গেছে জানেন?
    লোকটা হাঁ করে আমার দিকে তাকিয়ে থাকে, যেন ভাষাটা ঠিক মত ধরতে পারছে না। আমার মেয়েও পেছন পেছন এসে গেছে সেখানে। সে আমার কথার পুনরাবৃত্তি করে জিগ্যেস করে, আপনারা কি দেখেছেন এরা কোথায় গেছে?
    লোকটা যেন সম্বিত ফিরে পেয়ে বলে, আপনার হাসব্যান্ড ঐ নদীতে গেছে চান করছে জোনাথানকে নিয়ে, যান না, এই তো কাছেই, এদিকের দরজা দিয়ে যান, সামনের গেটে কুকুর বাঁধা আছে।
    দুপাশে চায়ের ঝোপের মধ্যে দিয়ে সেই নির্জন সরু রাস্তা চলে গেছে নদীর দিকে। একটু পরে ঝোপ শেষ হয়, সামনে খোলা জায়গা, খুব সরু একটা নদী, এবড়ো খেবড়ো পাথর চতুর্দিকে। পষ্ট দেখা যায় আমার বয়ফ্রেন্ড এবং জোনাথান লাফিয়ে লাফিয়ে খেলছে, তার হাতে একটা মস্ত বড় বল, যেগুলো ফুঁ দিয়ে ফোলানো যায়, জোরে কথা বলছে, দুজনেরই পরণে চানের পোশাক। আমরা এগিয়ে গেলে ওরা যেন প্রথমে একটু আশ্চর্য হয়, বা বিরক্ত, তারপরে যেন দেখেও দেখতে পায় না। আমি নদীটার জলের একদম কাছে চলে এসে সোজা জিগ্যেস করি, আমার টাকা কোথায় গেল? খুঁজে পাচ্ছি না কেন?
    সে আমাকে ভোলাতে চায়, কাম, কাম হিয়ার, ডু ইউ নো হাউ টু সুইম? দ্য ওয়াটার ইজ ক্লীন, দেখে দেখে কেয়ারফুলি পাথরে পা ফেলে ফেলে এসো।
    আমি এবার রেগে যাই, আমার টাকা কোথায় গেল?
    কুল ডাউন বাবা। আই টুক ইট। ইউ ওয়ন্ট সাম মানি? আই উইল আস্ক ফ্র্যাঙ্কি (সেই ম্যানেজার)। কত টাকা লাগবে? নাউ ডোন্ট স্পয়েল দ্য ডে। গো।
    আমার রাগ চড়তে থাকে, চিৎকার করে উঠি - আমার টাকা সব চুরি করেছ জুয়া খেলতে গিয়ে? কেন এখানে এনেছ আমাদের? কেন আমার ছুটিটা নষ্ট করে দিলে?
    সে জল থেকে উঠে এসে ঠাশ ঠাশ করে চড় মারে আমাকে।
    আমার মেয়ে চেঁচিয়ে কেঁদে ওঠে - তুমি আমার মা কে মারলে!
    জোনাথান বল নিয়ে লাফাচ্ছে নদীর মধ্যে, সে ডাকে, আংকল কাম হিয়ার! আর ইউ ওকে?
    বয়ফ্রেন্ড নদীতে ফিরে যায়। আমি বুঝতে পারছিনা কী করব। শুকনো পাথরের ওপর তার ঘড়ি কাপড়জামা সব রাখা। মাথার ভেতরটা তোলপাড় করছে। ঘড়িটা তুলে আমি পাহাড়ি নদীতে ছুঁড়ে ফেলে দিই। তারপরে মা মেয়ে ছুটে পালিয়ে যাই সেখান থেকে।
    মারধোর যে জীবনে আর কখনও কারওর কাছ থেকে খাইনি তাতো নয় - বিস্তর খেয়েছি। তারা কেউ পরিচিত কেউ বা অপরিচিত। এ নিয়ে আক্ষেপ করতে বসলে কাজকর্ম সব মাথায় উঠবে। কিন্তু কথা হচ্ছে যে এই জায়গাটা থেকে বেরোব কেমন করে। এরা একজনও আমার পক্ষে থাকবে না, সবাই আমার বয়ফ্রেন্ডের চেনা লোক। চেনা মানে, এই সিনথিয়া তার শালী হয়। সিন্থিয়ার বর তার খুব ক্লোজ ফ্রেন্ড। এরা তো আর আমাকে হেল্প করবে না। এ কটা দিনে এরা আমার অস্তিত্বটুকুই স্বীকার করতে পারছে না। সে কি আমি ইংরিজি বলতে পারি না বলে? নাকি একজন বিবাহিত লোকের সঙ্গে প্রেমিকার ভূমিকায় এসেছি বলে?
    খানিকটা দৌড়ে আমরা চায়ের ঝোপের আড়ালে গিয়ে একটু দাঁড়িয়ে নিই। না কেউ আমাদের তাড়া করছে না, মারতে হলে তেড়ে আসবার প্রয়োজনই হবে না, এই বাগান থেকে পালানো অত সহজ নয়।
    মেয়ে আমার দিকে তাকিয়ে জোরের সঙ্গে বলে, মা তুমি একটা আলাদা ফ্ল্যাট ভাড়া নিতে পারো না, তোমার নিজের নামে?
    - না, পারি না। অবিবাহিত একজন মহিলাকে ফ্ল্যাট ভাড়া দেয় না কোলকাতায়, কম খুঁজেছি নাকি, তুই জানিস না? ম্যারেড হতে হবে, বিধবা বা ডিভোর্সী হলেও তেমন অসুবিধে নেই, কিন্তু অবিবাহিতদের দেয় না। বলে লেডিজ হোস্টেলে গিয়ে থাকতে। কেন লেডিজ হোস্টেলে থাকব আমি?
    - তাহলে কী করবে তুমি এখন?
    - চিন্তা করিস না, ভাবতে দে। সব ঠিক হয়ে যাবে।
    আমরা ঝোপের ভেতর দিয়ে হাঁটতে থাকি।
    -সরসর করে কী যেন একটা চলে গেল পায়ের কাছ দিয়ে।
    - ওরে বাবারে সাপ টাপ কিছু নাকি?
    - চা বাগানে কি সাপ থাকে?
    - জানি না থাকতেও পারে। সাবধানে দেখে দেখে হাঁট। আস্তিকমুনি, আস্তিকমুনি, আস্তিকমুনি...

    হাঁটতে হাঁটতে পথ আর শেষই হচ্ছে না, কই যাবার সময় তো এত সময় লাগে নি। সিনেমায় যেমন থাকে পিঠে বেতের ঝুড়ি নিয়ে চা পাতা তুলছে মেয়েরা, তারাই বা কোথায়? প্রায় মানুষ সমান উঁচু ঝোপ। রোদ বাড়ছে, আজ কি নবমী পুজো? আমরা মনে হয় পথ হারিয়ে ফেলেছি। অনেকটা হেঁটে সত্যিই একটা মেয়েকে পাওয়া গেল, যদিও তার কাপড়জামার রং সিনেমার মত উজ্জ্বল নয়। সে চা গাছের গোড়ায় কীসব কাজ করছে, হাতে খুরপি টাইপের কিছু তাকে জিগ্যেস করি- ম্যানেজারের বাংলো কোথায়? কোনদিকে?
    সে হাত উঁচু করে তুলে একদিকে দেখিয়ে দেয়, আমরা সেই পথ ধরে হাঁটতে শুরু করি। কিছুটা হাঁটার পর জল তেষ্টা পেয়ে যায়। খানিকটা ফাঁকা জায়গা, ঐতো সামনেই বাংলো। ওরা সব ফিরেছে কিনা তাতো জানি না, ডোবারম্যান কোথায় আছে, আদৌ সে বাঁধা না ছাড়া তাও বোঝার উপায় নেই। বাংলোর সামনের দিকটায় গিয়ে সিঁড়ির ধাপের কাছে গিয়েছি কি যাইনি, লালপাড় সাদা ডুরে শাড়ি পরা, মাথায় সিঁদুর দেওয়া এক মহিলা ভেতর থেকে বেরিয়ে এগিয়ে এল ধাপের একদম ওপরে। তার মাথার চুল খোলা, ভিজে মনে হচ্ছে, তার হাতে একটা বড়ো সাইজের ফল। আট দশ ধাপ নীচ থেকেও পরিস্কার বোঝা যাচ্ছে, ওটা একটা আতা।

    এই মহিলাকে আগে কখনও দেখিনি, আমরা একে অন্যের দিকে অবাক হয়ে তাকাচ্ছি। ঐ নীচে থেকেই জিগ্যেস করলাম, এটা কি ম্যানেজারের বাংলো? সে একধাপ নেমে এসে আমাদেরকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে। কিছু বলতে চায় না।
    আমার মেয়ে আমার জামায় টান দিয়ে বলে, এটা অন্য বাড়ি মা, দেখছ না এখানে কুকুর নেই, সেই অর্কিডগুলো নেই ওপরে, এটা অন্যলোকের বাড়ি, ঐ দেখ ঐদিকে আরেকটা বাড়ি।
    ঘাড় ঘুরিয়ে দেখলাম খানিকটা দূরে গাছের আড়ালে আরেকটা বাংলো মত দেখা যায়।
    আমরা ফিরে চলে যাচ্ছি দেখে সেই মহিলা তখন উত্তর দেন, হ্যাঁ এটাই তো ম্যানেজারের বাংলো, কেন, কী হয়েছে?
    আমরা দাঁড়াই না, ফ্র্যাঙ্কির বাংলো তখন চিনতে পেরে গেছি।
    আমার মেয়ে বলে, এটা ঐ শুব্বাশিসের বাড়ী মনে হচ্ছে, দেখলে না বৌটা বাঙালি।
    - তা হবে। কিন্তু ও বলল শুনলি, ওটাই ম্যানেজারের বাংলো।
    - তা তো বলবেই, নিজের স্বামীকে কি অ্যাসিটেন্ট ম্যানেজার বলতে পারে?
    - শুব্বাশিস নয়, শুভাশিস।
    - জানি, সিনথিয়া কীরকম করে বলে শোনো নি - শুব্বাশিস, শুব্বা_শিস, ... যখন জুয়া খেলে দেখোনি, শুব্বাশিস কেমন ইচ্ছে করে করে হেরে যায়, ভালো কার্ড পেলে খেলতে চায় না। নিজের বসের বৌকে তেল দেয়, দেখো নি? আমি তো ঐসবই দেখছিলাম সেদিন।
    আমরা একটু হেসে নিই।

    বাংলোয় ফিরে দেখি তখনও কেউ ফেরে নি। চাকরেরা বলে, ম্যাডামলোগ শিলিগুড়ি গেছে মনে হয়। আপনারা কি খেয়ে নেবেন? খাবার সার্ভ করে দেব?
    চকিতে ডিসিশান নিই আমি, না আমি কিছু খাব না। বাঙালী চাকরটা বলে তাহলে বাচ্চাকে দিয়ে দিই?
    আমিও খাব না - মেয়ে ঝটিতি বলে দেয়।
    একদম অল্প দিলেও খাবেন না?
    আমরা সজোরে মাথা ঝাঁকাই। চাকর নীচুস্বরে বলে, আপনাদের এখানে একটু অসুবিধা হচ্ছে, না ম্যাডাম?

    দুপুরে খাই নি, রাতেও আমরা খাই নি। ব্যাগে দু প্যাকেট বুর্বঁ বিস্কুট ছিল, সেটা থেকেই একটা দুটো খেয়েছি মায়ে ঝিয়ে। হম্বি তম্বিকে ভয় পেলে চলবে না। আজ রাতে আর জুয়ার আসর বসে নি। তবু আমি আমার সিদ্ধান্তে অনড়। এখানে থাকব না।
    কারও আতিথ্য নেবার পরে সে বাড়ির অন্নগ্রহণ করতে না চাওয়া যদি গৃহস্থকে অপমান করা হয়, তবে এটাও জেনে রাখতে হবে যে অতিথি হিসেবে কোনও সম্মান বা স্বীকৃতি আমরাও পাই নি। বরং এক ধরণের অবহেলা জুটেছে। ফেয়ার এনাফ, এখন এই জটিলতা টেনে টেনে বয়ে বেড়ানোর মানেই হয় না, আমি মেয়েকে নিয়ে চলে যেতে চাই। আমার যে টাকা খোয়া গিয়েছে তা ফেরৎ পেতে হবে। এই বেড়ানো বাবদ আমাদের দুজনের তরফ থেকেই টাকা একত্র করা হয়েছিল। তার দুই তৃতীয়াংশ আমি দিয়েছি, আমার নিজের ও মেয়ের খরচ বাবদ। সে টাকা বয়ফ্রেন্ডের কাছে গচ্ছিত ছিল। সে আমাকে সেখান থেকে কিছু ফেরৎ দিক, নইলে আমি ফিরব কেমন করে?
    টেক্সটবুক থেকে ছকে বাঁধা উত্তর দিল সে, আমি কি তোমার টাকা নিয়ে পালিয়ে যাব? কোলকাতায় গিয়ে সব হিসেব করে ফেরৎ দেব। চিন্তা কোরো না।
    -তাহলে আমি এখন ফিরব কীকরে?
    - কত টাকা চাই তোমার?
    - মানে? আবার জুয়ায় বসে টাকা রোজগার করবে ভেবেছ?
    - আরে না রে বাবা। উইল ফাইভ থাউজেন্ড বি এনাফ?
    আমি থ হয়ে যাই শুনে! সে ফ্র্যাঙ্কির কাছে চলে যায়, নিমেষে পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে আসে। আমার হাতে দিয়ে বলে, এতে হবে তো?
    তার মানে জুয়ায় খোয়া যাওয়া কিছু টাকা ফ্র্যাঙ্কিরা ফিরিয়ে দিল! নাকি ধার করে আনল সে? কিছুই বুঝতে পারি না। সে আমায় জিগ্যেস করে, এতে হয়ে যাবে নাকি হাজার দশেক নিয়ে আসব? তাহলে কালই দার্জিলিংএ বেড়াতে যাই চলো। দার্জিলিং থেকে যাব সিকিম, গ্যাংটক হয়ে ছাঙ্গো লেক, তোমরা তো দেখনি, খুব সুন্দর জায়গা সব। আরও পাঁচ নিয়ে আসছি তবে?
    আমার কেমন যেন ঘোর লেগে যায়। সত্যি বলছে সে? সত্যি সত্যিই কাল ভোরে বেরিয়ে পড়ব আমরা? স্বপ্নের মত শুনছি, দার্জিলিং এ হোটেলের ব্যবস্থা হয়ে যাবে, কেভেনটার্সে নাকি ব্রেকফাস্ট খাওয়া হবে একদিন, সেসব না খেলে জীবন বৃথা। সসেজ বেকন আরও কী কী সব থাকে, খুব সাহেবি ব্যাপার। সে বলে যাচ্ছে, সে নিজে যখন টি গার্ডেনের ম্যানেজার ছিল তখন কী কী দেখেছে, কোন কোন জায়গায় বেড়াতে গেছে, প্লান্টার্সদের জগৎটাই অন্যরকম, কোলকাতার ঘিঞ্জি শহুরে পলিউশানের জীবন নয়। এখানে এক খিলি পান কিনে খাবার জন্য লোকে রাতের বেলা পনেরো বিশ মাইল ড্রাইভ করতে পারে, সে নিজে করেওছে। হ্যাঁ, লেবারদের নিয়ে ট্রাবল তো আছেই, বরাবরই কম বেশি ছিল।
    ইয়েনও চলে যাবে আগেই জনিয়েছে, তার ফেরার ফ্লাইটের টিকিটও রেডি। একাদশীর দিন থেকেই তার অফিস খুলে যাচ্ছে, আর ছুটি দেবে না অফিস, প্রচুর কাজ - সল্টলেকের সেকটর ফাইভে তার অফিস। মোটামুটি নামকরা সফ্টওয়্যার ফার্ম। ইয়েন সেখানে ট্র্যাভেলিং ডিপার্টমেন্টে কাজ করে। এমনিতে ইস্কুলের বেশি পড়াশোনা করে নি, কিন্তু খুব ভাল ইংরিজি বলতে পারে, লেখেও নিশ্চয়ই নির্ভুল, টিকেটিং ভিসা, এসব নিয়েই তার কাজ। বারবার বলছে যে হু হু করে জাভা প্রোগ্রামাররা অ্যামেরিকা চলে যাচ্ছে। জাভার খুব দাম এখন বাজারে। কোম্পানী প্রতি মাসেই প্রোগ্র্যামারদের অ্যামেরিকা পাঠাচ্ছে, তার খুব আফশোস হয় এসব দেখে। আমি অবশ্য তার সামনে ভেঙে বলিনি যে তার অফিসের থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে আমার অফিস।
    ওরা তো ধরেই রেখেছে আমি বয়ফ্রেন্ডের ঘাড়ে চেপে বাচ্চা নিয়ে অল্প ভালোমন্দ খাবার লোভে, একটু ভাল ভাল জায়গা দেখবার, বেড়াবার লোভে এখানে এসেছি। কী দরকার ওদের কাছে আমার নিজের কথা বলবার। যদি সত্যিই একটা নামকরা কোম্পানীর চাকরি আমার না থাকত, তাহলেও কি আমি এই একই মানুষটাই রয়ে যেতাম না? চাকরির গর্ব, ডিগ্রির গর্ব, এসবের কোনও দাম নেই আমার কাছে। ওসব খোলস ঝেড়ে বাদ দিয়ে দেখি না মানুষ কীভাবে নেয় আমাকে। ওরা তো দেখছে আমরা একই বিছানায় শুচ্ছি। কোলকাতাতেও একই ফ্ল্যাটে থাকি। শরীর নিয়েই তো লোকের যত আগ্রহ, যত কৌতুহল, মন যে ভেঙে গুঁড়িয়ে থেঁতো হয়ে যায়, তার খবর কেউ রাখে না। আর পাঁচজনে যা ভাবে, কোলকাতাতেও যেমন দেখে এসেছি, আমি একজন বিবাহিত লোকের মিসট্রেস- বাংলায় যাকে রক্ষিতা বলে লোকে। এই স্টেটাসে কোনও সম্মান থাকে না। বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ড তো অনেক নরম কথা, ভুলিয়ে রাখার জন্য ভদ্র মিষ্টিমতো একটা টার্ম।

    দার্জিলিং-এর জন্য বেরোবার আগে আমাকে চেক লিখে দিতে হল ফ্র্যাঙ্কিকে, যে টাকাটা ক্যাশে দিয়েছিল সেটার সমান অঙ্কের। জুয়ায় হেরে যাওয়া টাকা কেউ ফেরৎ পায় না। জুয়ার টেবিলে কোনও হিসেবও থাকে না কার টাকা কার কাছে গেছে। যে খুইয়েছে সে বোঝে কত খোয়ালো, যে জিতল সে কখনই বলবে না কত জিতেছে, কমিয়ে বলবে। তাই সিনথিয়াও টাকা নিয়ে কথায় আলোচনায় যাবে না। আমার বয়ফ্রেন্ডও এই খেলায় মেতেছিল নিজের সম্মান রক্ষার্থে, না খেললে ইজ্জত থাকে না। বন্ধুরা কী ভাববে? ভাববে টাকা খরচ করবার মুরোদ নেই বলে খেলছে না। সেটা খুব লজ্জার ব্যাপার। তাই দলে পড়ে আত্মসম্মান রক্ষার্থে খেলে যেতে হয়। হেরে গেলেও উঠে আসতে নেই, তাতে লোকে ভীতু বলে টিটকিরি দিতে পারে। শালীর বাড়িতে গার্লফ্রেন্ড নিয়ে আসবার মতো সাহসী যে লোক, যার এখনও অবধি ডিভোর্স হয় নি বৌয়ের সঙ্গে, সে এত সহজে হার স্বীকার করতে পারে না। চুরি করতেও তার ভয় নেই, বন্ধুদের সামনে সে নীচু হতে পারবে না।
    বেরোনোর আগে ডাভিনা এগিয়ে আসে আমাদের দিকে। কী একটা দিতে চাইছে, পলিথিনের প্যাকেটে করে এনেছে। সে কোলকাতা থেকে ফল এনেছিল, ভুলে গেছল বের করতে ব্যাগ থেকে। গতকাল নাকি গত পরশু ব্যাগ থেকে বেরিয়েছে ফল, বেশি পেকে যায় নি। কী একটা অ্যাপেল বলল। আপেল আমি ভালোবাসি না। বলল, অ্যাপেল না, কাস্টার্ড অ্যাপেল। প্যাকেট ফাঁক করতে দেখি দুটো আতা। শুভাশিসকেও দিয়েছে কিছু। তাই গতকাল শুভাশিসের বৌয়ের হাতে আতা দেখেছি। বাপরে, ইংরিজিতে আতাকে কাস্টার্ড অ্যাপেল বলে! এটা জানা ছিল না। ইংরিজিতে আনারসও অ্যাপেল, পাইন্যাপল। কত রকমের অ্যাপেল আছে দুনিয়ায়। আতা আমি আরোই খাই না। একদিন পুরো না খেয়ে রয়েছি দেখে ও নিজে থেকে কিছু দিতে চাইল। আমি ধন্যবাদ দিলাম।
    তারপরে দার্জিলিং এর পথে যাত্রা। ওহ! মুক্তি। এই অসুস্থ পরিবেশ থেকে বেরিয়ে যাচ্ছি। ট্যাক্সিতে যেতে যেতে দেখছি পথের দৃশ্য, ক্রমশ পাহাড়ি পথ, প্রকৃতি আমার মনের দুঃখ ভুলিয়ে দেয়। দুঃস্বপ্নের মত মিলিয়ে যেতে থাকে গত কয়েকদিনের অভিজ্ঞতা।
    দার্জিলিংএ যাবার পথে বয়ফ্রেন্ড দূর থেকে দেখায় অন্য একটা চা-বাগানের পথ, যেখানে সে আগে ম্যানেজার ছিল। সে তারও জীবনের এক ঘটনাবহুল সময়। বাগানে লেবার ট্রাবল শুরু হল। ফ্যাক্টরীতে মাঝরাতে তালা লাগিয়ে সে পরেরদিন ভোরে পালিয়ে যাবে সব ঠিকঠাক, কিন্তু ইউনিয়নের কাছে সে খবর পৌঁছে গেছল যেন কেমন করে। তারা অত সহজে ম্যানেজারকে পালাতে দেবে না। মাঝরাতে তালা লাগিয়ে বয়ফ্রেন্ড জিনিস পত্র যা পারল কয়েকটা সুটকেসে ভরে নিয়ে ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই বেরিয়ে পড়ল গাড়ি নিয়ে। ড্রাইভার রুদ্রকে আগেই বলা ছিল।
    অল্প একটু চলবার পরে উৎরাইয়ের রাস্তা গিয়েছে এঁকে বেঁকে পাহাড়ের গা ঘেঁষে। একদিকে পাহাড়, অন্য দিকে গভীর খাদ। মনটা বেশ খুশি, ইউনিয়নের পান্ডারা ঘেরাও করে নি, কিডন্যাপও করে নি, প্রাণেও তো মেরে দিতে পারত। ভোরের আলো ফুটে গেছে। রুদ্র চেঁচিয়ে উঠল - সাব!
    সে পেছনের সীটে বসে ঝিমোচ্ছিল, সারারাত ঘুমোনো হয়নি।
    রুদ্র আবার চেঁচালো, প্রায় কেঁদে উঠে- সাব, ব্রেক নেহি লাগতা।
    এক ঝটকায় মৃত্যু যেন একেবারে সামনে। হু হু করে গাড়ি নেমে যাচ্ছে, যে কোনও মুহূর্তে গড়িয়ে পড়তে পারে খাদে।
    স্টেডি রুদ্র! বি স্টেডি। স্টিয়ারিং ধরে রাখো। একটু পরে খাদের গা ঘেঁষে কিছু উঁচু উঁচু গাছ, গাড়ি সেখানেই ধাক্কা মেরে ঝুলতে লাগল। লাফ মেরে তড়িৎ গতিতে দুজনে বেরিয়ে গেল গাড়ি থেকে। কিছু আঘাত লেগেছে, তবে তা অবশ্যম্ভাবী মৃত্যুর মুখে কিছুই নয়। লাফাতে গিয়ে রুদ্রর পা ভেঙে গেছে, আর তার হাতের কব্জিতে আঘাত, হাত পা ছড়ে গেছে। সেই অবস্থায় তারা ভাবছে গাড়ির ভেতর থেকে জিনিস কিছু বের করে নিতে পারবে কিনা। কিন্তু খাদের গায়ের নরম গাছ গাড়ির ওজন বেশিক্ষণ নিতে পারল না, বেঁকে গেল, অমনি গাড়ি গড়িয়ে পড়ল খাদে।
    এমনি নানান গল্প শুনতে শুনতে পৌঁছে গেছি দার্জিলিং।
    সে আমার কাছে ক্ষমা চায় তার ব্যবহারের জন্য, আমিও বলি, তুমি আর কখনও জুয়া খেলো না, কথা দাও।
    হা হা করে হেসে ওঠে সে।
    - ডোন্ট সে সাচ মিডলক্লাস থিংস। জুয়া নয় রে বাবা, দিস ওয়জ জাস্ট ফর ফান সেক। ডু ইয়ু রিয়েলি থিংক আয়্যাম অ্যা গ্যাম্বলার? উই জাস্ট প্লে কার্ডস ওয়ানস ইন অ্যা হোয়াইল। গ্যাম্বলাররা কী করে জানো না?
    -জানি।
    গ্যাম্বলাররা কী করে আমি জানি। তার কিছু ফলাফল আমি দেখেছি। কোলকাতায় আমাদের পাড়াতেই একটা ফোন বুথে গিয়েছিলাম কিছুদিন আগে। বুথের সামনে একটা নতুন বাইক।
    নতুন বাইক কিনলেন নাকি? কে যেন জিগ্যেস করেছিল দোকানের মালিককে। মালিক বলল, সেকেন্ডহ্যান্ড বাইক সস্তায় পেয়ে গেলাম। কত পড়ল? সে বলতে চায় না, কেবল হাসে। যে জিগ্যেস করছে, সেও ছাড়বে না কিছুতেই, এত নতুন বাইক কীকরে সেকেন্ডহ্যান্ড হয়? তখন সে শুনিয়েছিল বাইক কেনার গল্প। আমরাও মন্ত্রমুগ্ধের মত দাঁড়িয়ে গেছলাম সে গল্প শুনতে।
    যমুনা সিনেমা চেনেন তো? নিউ মার্কেটের ওদিকটায়, সদর স্ট্রীটের কাছে, চেনেন? সেই যমুনা সিনেমার ওদিকটায় একটা ঠেক আছে, আমরা যাই। আমি বেশি যাই না, দোকান ছেড়ে কোথাও যাওয়া হয় না আজকাল। বন্ধুরা যায়। সেদিন এক বন্ধু জোর করে টেনে নিয়ে গেল। সেখানে বোর্ড বসেছে। তিনপাত্তি। আমি খেলছি না, দেখছি। সঙ্গে ক্যাশও বেশি ছিল না। একটা ননবেঙ্গলি ছেলে দেখলাম, নতুন মনে হল। খেলছে, হারছে, রোখ চেপে গেছে। নতুন বিয়ে হয়েছে মনে হল। হারতে হারতে সব গেছে। টাকা যা ক্যাশ ছিল সব শেষ। তারপর হাতে নতুন ঘড়ি, বিয়েতে পেয়েছে, সেটাও গেল। গলার চেন। তারপরে সে কিছুতেই উঠবে না। একটু নেশা মত করে আছে, দুটো ছেলে ইশারা করছে, মানে আরও একটু খেলাবে। ধার চাইছে। কেউ দিচ্ছে না, বলছে তোর আর কী আছে যে ধার দেব? তখন বলছে নতুন বাইক আছে। কত দাম? বলছে দশ হাজার দাও। দশ হাজার কেউ দিতে চাইছে না। আমার কাছে আড়াই হাজার ছিল, সেটা দিলাম। একহাতে টাকা দিলাম, অন্যহাতে চাবি নিলাম। অচেনা ছেলে কোনও বিশ্বাস নেই। বাইকটা সামনেই রাস্তায় পার্ক করা ছিল। ভাবছি উঠে চলে আসি, কিন্তু দেখতে ইচ্ছে করছে। আড়াই হাজার ও হেরে গেল। আরও হারছে, তখন বৌকে বাজি রেখেছে। তখনও হেরে চলেছে, তখন ওকে ছাড়বে না কেউ। পালাতে দেবে না। তারপরে ওর বন্ধুরা গিয়ে বৌটাকে ধরে নিয়ে এল। একদম অল্পবয়সি বাচ্চা মেয়ে। সতেরো আঠেরো বছর বয়স হবে। বৌটা ভয় পেয়ে কাঁদছিল। দেখলে কষ্ট লাগে। আমি আর দাঁড়াই নি। বাইক নিয়ে চলে এলাম।

    এই গল্প আমরা দুজনেই শুনেছিলাম সেই ফোনবুথের সামনে দাঁড়িয়ে পেপসি খেতে খেতে। না, এ আমাকে বাজি রাখবে না, বেচে দেবে না, সে টুকু বিশ্বাস আছে। আরও অনেক বেশি বিশ্বাস আছে। এখন আমরা দার্জিলিং এ বেড়াবো, ঘুরব কত। এখানে কেউ আমাদের চেনেনা জানেনা - কেউ ঝামেলা অপমান করবে না। লোকে ভাববে একটা ফ্যামিলি, স্বামী-স্ত্রী একটা বাচ্চা।

    (চলবে)
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • সে | 2001:1711:fa42:f421:a0e0:dccc:e2ca:8880 | ২৩ জানুয়ারি ২০২২ ১৪:৫৪735429
  •    
  • Alokmay Datta | ২৪ জানুয়ারি ২০২২ ১৬:০৭735436
  • এককথায় বলতে গেলে কুৎসিত ও বিরক্তিকর। 
  • একক | 103.76.82.165 | ২৫ জানুয়ারি ২০২২ ১৪:০৬735445
  • এডিকয়েকটলি কোল্ড এন্ড ক্রিস্প।  ফ্রিজে রাখা মাংসের প্যাটির মত উপভোগ্য হয়েচে। তবে "চলবে" ক্যানো ? মানে অবশ্যই চলুক কিন্তু এই লেখাটা এই অবধিই একটা সম্পূর্ণ ছবি :) 
  • Ranjan Roy | ২৫ জানুয়ারি ২০২২ ১৯:৪২735448
  • হ্যাঁ, নির্মম কোল্ড লেখা। কিন্তু সৎ এবং বাস্তব। যা সাজানো গোজানো সত্যি নয়, বরং অনেক কম্প্রোমাইজে ভরা। এভাবেই আমরা বেঁচে থাকি।  ভাল লেগেছে।
  • জয় | 82.1.126.236 | ২৫ জানুয়ারি ২০২২ ২০:১৫735449
  • চা বাগানে বয়ফ্রেন্ডের ব্যবহার সত্যি কু্ৎসিত ও বিরক্তিকর। নাটকীয় ক্লাইম্যাক্সটা মনে হয়েছিল নদীর ধারে।বোকা পাঠক আমি ভেবেছিলাম নায়িকা বয়ফ্রেন্ডকে ছেড়ে চলে যাবে। কিন্তু না।তবে কি ফাইনাল শো ডাউন কি দার্জিলিংএ- নায়িকা কি থাপ্পরের চরম প্রতিশোধ নেবে? নাকি বয়ফ্রেন্ড একেবারে বদলে যাবে? নাকি স্ক্রিপ্ট বদলাবে না, বয়ফ্রেন্ড একই ভাবে গ্যাম্বলিং করে যাবে, নায়িকা আর নায়িকার মেয়েকে অপমান/ অবহেলা করবে, নায়িকা ফুঁসে উঠেও ড্রাস্টিক কিছু করবে না, মানিয়ে গুছিয়ে চলবে? আতান্তর থেকে উত্তরণ হবে কি হবে না?
     
    ঝকঝকে লেখা। 
     
    তবে কলকাতায় জুয়ার অভিজ্ঞতা মূল নাটকের দ্রুত ঘটনা প্রবাহের তুলনায় অল্প ড্র্যাগিং লেগেছে। গাড়ী অ্যাক্সিডেন্টের কি ভূমিকা হয়ত নাটকের পরের পর্বে পাব।
     
    কিংবা একক যেমন বলেছেন- নাটক এখানেও শেষ হতে পারত। বেশ "শেষ হতেও হইল না শেষ" টাইপস হত। 
  • সে | 2001:1711:fa42:f421:ddfa:2afd:9c5a:40e5 | ২৫ জানুয়ারি ২০২২ ২১:৩৫735453
  • আমার নিজের জীবন এটা। পরে বাকিটুকু লিখব।
  • জয় | 82.1.126.236 | ২৫ জানুয়ারি ২০২২ ২২:২১735455
  • সরি সেদি।
    বিষয়ে নাটক দেখে ভাবলাম। প্লীজ ইগনোর করবেন আমার পোস্টটা। 
    আপনার অভিজ্ঞতা আর লেখা- সব সময়েই রোমহর্ষক। আমার ডাল-ভাত খাওয়া জীবনের যোজন দূরে। অবাক বিস্ময়ে পড়ি। 
  • Ranjan Roy | ২৫ জানুয়ারি ২০২২ ২২:২৮735456
  • জয়,
     
      সে'দির জীবন আমাদের আটপৌরে ফ্রেমের থেকে অনেক আলাদা। ওঁর প্রথম জীবন এবং পরে উজবেকিস্তানে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে যাওয়া নিয়ে অকপট সাহসী লেখাগুলো গুরুর পাতায় বেরিয়েছিল। পরে বই হয়েও প্রকাশিত হয়েছে। 
       পড়লে বোঝা যায় যে বাস্তব কতটা কল্পনাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। 
  • সে | 2001:1711:fa42:f421:ddfa:2afd:9c5a:40e5 | ২৬ জানুয়ারি ২০২২ ০০:১০735461
  • ডক্টর জয় সরি চায় কেন? :-)
  • সে | 2001:1711:fa42:f421:d5ee:e24d:c118:83 | ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ১২:৩১735598
  • এটা কে তুলে দিলাম।
  • জয় | ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ১৪:০৮735601
  • ডাক্তার বেমালুম ভুলভাল ডায়াগনোসিস করেছে!
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। মন শক্ত করে মতামত দিন