• খেরোর খাতা

  • সারভিলিয়েন্স ক্যাপিটালিসম

    sayantan saha লেখকের গ্রাহক হোন
    ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ৩৪১ বার পঠিত
  • দ্য এজ অফ সারভিলিয়েন্স ক্যাপিটালিসম

    আগে বলা হতো সক্কলে কবি নয় কেউ কেউ কবি, তেমনি আগে এও ধারণা করা হতো সক্কলে ইন্টারনেট ব্যবহার করে না, করে একটা বিশেষ শিক্ষিত শ্রেণীর মানুষজন। কিন্তু জিয়ো মার্কেটে আসার মধ্যে দিয়ে ইন্টারনেট পরিষেবা সত্যিকারের অর্থেই জনসাধারণের হয়েছে বা হতে পেরেছে, আমরা একটা দেশ হিসেবে আরো বেশী ডিজিটাল হয়েছি। এখন তো অনলাইনে ক্লাস হচ্ছে অফিস হচ্ছে সারাবছর ধরে কেনাকাটা হচ্ছে, থ্যাঙ্কস টু ধীরুভাই ন্ড হোল টীম; ইন্টারনেটের স্পীড এত ভালো আর দাম নাগালের ভেতর রাখার জন্য, অনেকটা জলের দরে ফলের রস খাচ্ছি বলে মনে হয় আর মনে হওয়াটা নিছক মিথ্যে নয়।জিয়ো আসার পড়ে এই নেট এবং নেট রিলেটেড বিজনেস যেভাবে ফ্লারিশ করতে পেরেছে জিয়ো না থাকলে এই জিনিস সম্ভব হতে অনেক অনেক দেরী হত, কিন্তু এই লেখা আসলে জিয়োর প্রশংসা বা নিন্দে কোনোটাই করার জন্য ঠিক নয়, এই কথাগুলো সবই আপনাদের জানা, তাও আসলে চারপাশের বাস্তব পরিস্থিতিটুকুর সাথে আরেকবার আপনাদের রিলেট করে দেওয়ার জন্যই এই ভূমিকাটুকুর দরকার ছিলো।

    তাহলে গল্পটা এইরকম দাঁড়ালো জিয়ো আসার পর নেট রিলেটেড এক্টিভিটি সাধারণ লোকের আসলে অনেকটাই বেড়েছে কারণ এক জিয়োর কম দাম আর দুই স্পীড মোটামুটি ভালোই দেয়, একে আপনি ‘জিয়ো পাগলা’ ব্যাপার স্যাপার বলেও ভাবতে পারেন। সুতরাং প্রশ্নাতীত ভাবেই জিয়ো ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যাপারটাকে সাধারণের জন্য অনেক বেশী এক্সেসেবল করে দিয়েছে, এখন মালিক আর প্রভু একই প্ল্যাটফর্মে একই ঈশ্বরের ভাষণ শুনে লাইক দেয়, সাম্য তো এরেই কয়। আর আমরা যারা তুলনায় একটু নতুন প্রজন্মের ছিলাম তাঁরা তো সব অলরেডি ইন্টারনেটের ভেতর হান্দিয়ে বসেই আছি অনেকদিন ধরে, এখন আনন্দের ব্যাপারটা হচ্ছে বাবা মা কাকা কাকিমা জ্যঠা জেঠিমা মামা মাসী পিসি বনগাঁ বাসী সবাই ফেসবুক ইউটিউব নেটফ্লিক্সের গ্রাহক হয়ে গেছে আমারই মতন, এবং এই যে আমরা সবাই মিলে দুম করে ডিজিটালি কানেক্টেড হয়ে গেলাম এইখান থেকেই এই লেখাটার শুরু।

    দেখুন কার্যকারিতার দিক থেকে এই ইন্টারনেটকে এভাবেও বলা যেতে পারে যে এইটা খুব বড় একটা ভার্চুয়াল স্পেস আমাদের সামনে উন্মুক্ত করে দিতে পেরেছে যেখানে নানাবিধ এক্টিভিটি একসাথে চলতে পারে এবং এই জিনিসটার ঠিক কতরকম ভ্যারিয়েসন হতে পারে এর কোনো সঠিক হিসেব দেওয়া সম্ভব নয়, আপনারা নিজেদের জীবন অভিজ্ঞতা থেকে জানেন যে ইন্টারনেট ছাড়া আজকের দুনিয়াটাই অচল। সুতরাং একথা বলাই চলে ইন্টারনেটের এই ডিজিটাল স্পেস জন্ম দিয়েছে একটা নতুন বাজারের এবং সেই সাথে জন্ম দিয়েছে নতুন অর্থনীতির। এইবার এই ডিজিটাল স্পেস কার দখলে থাকবে সেই নিয়ে শুরু হয়েছে এক তীব্র প্রতিযোগিতা এবং এই মুহূর্তে গুগুল ফেসবুক এমাজন এইসব কোম্পানিগুলো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কোম্পানিগুলোর মধ্যে আসে এবং এরা প্রায় সবাই টেকনোলজি কোম্পানি। একটা সময় বাজারে ফার্মার রাজত্ব চলেছে অটোমোবাইল এর রাজত্ব চলেছে ক্রুড ওয়েলের রাজত্ব চলেছে, এই একবিংশ শতকে বাজারে রাজ করছে টেকনোলজি। তা এই টেকনোলোজির ভেতর আমরা যে সবাই হুড়মুড় করে ঢুকে পড়লাম বা বাধ্য হলাম একপ্রকার ঢুকে যেতে এইটাকে কবি এইবার বলতেই পারেন এইসব ইন্টারনেট এবং ইন্টারনেট রিলেটেড জিনিসকে আমি পরিপূর্ণভাবে বুর্জোয়া এবং পাতি বুর্জোয়া শ্রেণীর নিজস্ব অভিব্যাক্তির বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করি কিন্তু মাইরী বলছি তাতে বাজারের একটা কেশ ছেড়াও যায় না এবং এই সিস্টেম অলরেডি ইন্টারনেটকে আপন করে বসে আছে, আর আপনি এইগুলোর ব্যবহার খুব দ্রুত না শিখে নিতে চাইলে না পারলে আপনি আজকের দিনে অচল।

    এই যে ইন্টারনেট বা বৃহত্তর ভাবে চিন্তা করে দেখলে টেকনোলজি সে তো আল্টিমেটলি আমাদের জীবনকে বিভিন্ন দিক দিয়েই প্রভাবিত করতে শুরু করেছে, যেমন এই যোগাযোগের কথাই যদি চিন্তা করা হয়, একসময় সেই প্রাগৈতিহাসিক যুগের টেলিফোন বুথ থেকে এই যে ভিডিও কল এই পুরো জার্নিটার মধ্যে দিয়ে আমাদের যোগাযোগ ব্যাপারটাই চিরতরের মতন বদলে গেছে, এইবার এই ইন্টারনেটের ধাক্কায় আমাদের যোগাযোগ কতটা ভালো হয়েছে এবং বাড়তে বাড়তে এন্ট্রপির সর্বোচ্চ সীমার মতন সব সীমা অতিক্রম করে এখন আনসোশ্যালে চলে যাচ্ছে কিনা বা অলরেডি চলে গেছে কিনা সেইটা এই লেখার সাব্জেক্ট নয়, কিন্তু নিঃসন্দেহে আপনি ভাবতেই পারেন। আসলে যোগাযোগ সে ইন্টারনেট কিংবা অফলাইন যেখানেই হোক না কেন, ডিপেন্ড করে দুই পক্ষের রাজনৈতিক ইচ্ছার উপর, সেই ইচ্ছা ইন্টারনেট কখনোই তৈরী করে দিতে পারে না।

    এতবছর পর্যন্ত টেকনোলজির স্পর্শে এই আমাদের চারপাশের সবকিছুর ভেতর ঘটে চলা যে পরিবর্তন তা আমাদের মাস পিপলের জীবন যাপনকে পজিটিভ অর্থে প্রভাবিত করেছে এই মেনে নিয়ে আপাতত চলছি এবং কিন্তু সেই ধারারেখ প্রবাহের মধ্যে আজকে আমরা এমন একটা পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছি যেইটা খুব ইন্টারেস্টিং একটা জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে, এখান থেকে হিউম্যান বিয়িং সমষ্টিগত ভাবে কিভাবে টেকনোলজিকে ইউজ করে(পজিটিভ অর্থে) না টেকনোলোজির দ্বারা নিজে ইউজড হতে থাকে, এক্সপ্লয়েটেড হতে শুরু করে এইটা নিয়েই বাকি লেখাটা।

    অধ্যাপক সুশানা জুবফ তাঁর বই “দ্যা এজ অফ সারভিলিয়েন্স ক্যাপিটালিসম” দেখিয়েছেন কিভাবে সিলিকন ভ্যালির বিগেস্ট জায়ান্টরা অর্থাৎ উন্নত টেক কোম্পানিগুলো(গুগল ফেসবুক অ্যামাজন নেটফ্লিক্স উবের ওলা যা যা আছে এই লিস্টে এরা প্রায় সবাই কিভাবে আমাদের ব্যাক্তিগত তথ্যকে হাতিয়ে নিচ্ছে সেই তথ্যকে আমাদের না জানিয়ে ব্যবহার করছে এবং সেই তথ্যকে কাজে লাগিয়ে এমন একটি মেকানিজম তৈরী করতে সক্ষম হয়েছে যা খালি চোখে আমাদের সামনে আসে না এবং এই মেকানিজমটি চরিত্রগত ভাবে বেসিক্যালি বিজনেসসেন্ট্রিক এবং ব্যাক্তি মানুষের পার্সপেক্টিভে এক্সপ্লয়েটেটিভ।

    দ্য বিগ ডেটা রবারি

    আজকের যুগে যেখানে আমরা সকলেই জানি তথ্যই সম্পদ আর এই সম্পদ আসলে কি এবং কিভাবে তথ্য সম্পদ হয় এই সম্পদের মূল চরিত্রটা আসলে কেমন প্রথমে এইটা একটু বোঝা দরকার। ২০০০ সালের গোঁড়ার দিকে যখন এই টেক কোম্পানিগুলো তৈরী হচ্ছে তখন থেকেই এরা প্রত্যেক ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর ব্যাক্তিগত তথ্য সংগ্রহের কাজটি খুব গোপনে চলিয়ে আসছিলো, তখন একজন ইউজারের থেকে পাওয়া অবাঞ্ছিত ডেটাগুচ্ছকে বলা হত ডেটা একজস্ট। আজকে ২০২১ সালে এই একজস্টেড ডেটার মধ্যেই লুকিয়ে আছে বিজনেস, বুঝলে ভাই জিগনেস। আমাদের ইগনোরেন্স এইসব টেক কোম্পানিগুলোর কাছে আশীর্বাদ ফলে সিলিকন ভ্যালিতে একটা কথা খুব প্রচলিত, when you are not paying for the products you are not the consumer you are the product. সুতরাং মানুষ পন্য হয়ে যাচ্ছে এই সিস্টেমে, ডিজিটাল দাস, সেইটা কিভাবে আর কেন সেইটা বুঝতে পারবেন একটু বাদেই।

    জুবফ তাঁর লেখায় সরাসরি বলছেন গুগুল বা ফেসবুকে একাউন্ট খুলতে আমরা যেসব তথ্য নিজের থেকে দিই সেইগুলো তো ঠিকাছে, এছাড়াও অনেক ধরণের আপাতভাবে অদরকারী তথ্য গুগুল কিংবা ফেসবুক আমাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে থাকে, যেমন আমার টাইপিং এর ভেতর কি কি এরর আছে, ইউজার হিসেবে আমি গুগুলের কাছে ঠিক কি কি জানতে চাই (সেখান থেকে আমার বিহেভোরিয়াল প্যাটার্ন খুঁজে বের করা), কোন ধরণের ওয়েবসাইট বেশী দেখি, পর্ণ দেখলে কি ধরণের পর্ণ দেখি, জামাকাপড় কিনলে কি ধরণের জামাকাপড় কিনে থাকি, কেমন খাবার খেতে পছন্দ করি, আমার কালার প্রেফারেন্স আমার ফুড হ্যাবিট ভালো লাগা মন্দ লাগা, আমার সেক্সুয়াল ওরিয়েন্টেশান কেমন, আমার পলিটিক্যাল লিনিয়ারিটি কি আছে, আমার ইন্টারেসেট ফোবিয়া কতটা স্পীডে আমি টাইপ করি, কতটা জোড়ে আমি ড্রাইভ করি, এইরকম হাজারটা জিনিস গুগুল সংগ্রহ করে থাকে। এবং এই সব তথ্যগুলিকে সংগ্রহ করে কোনো ব্যাক্তি নয়, একটি উন্নত ইনটেলিজেন্ট সিস্টেম। গুগুলকে এই প্রশ্ন করা হলে গুগুল সরাসরি না বলে না বলে আমরা এই তথ্য সংগ্রহের যে কাজটি করি তা আসলে নিজেদের প্রডাক্ট ন্ড সার্ভিসেস কে উন্নত করার দায় থেকে।

    আজকের দিনে গুগুলের ভেতর বসে থাকা উন্নত একটি এ আই এবং (একটি ইনটেলিজেন্ট সিস্টেম )আসলে আমাদের প্রত্যেকের একটি করে অবতার তৈরী করেছে আমাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা এইসব ডেটার ভিত্তিতে, আপনি যত বেশী বেশী করে ডেটা ফিড করছেন এই মডেলে রোজ রোজ, সে স্ট্যাটিস্টিক্যাল পদ্ধতিতে ঝাড়াই বাছাই করে রোজ আরো আরো নির্ভুল ভাবে আপনার ইচ্ছা অনিচ্ছা এইসব কিছুকে প্রেডিক্ট করে ফেলতে সক্ষম হয়ে উঠছে।

    তারপর কি হয়, কিভাবে হয়

    এই যে ফেসবুকে আমরা কত কি করি, ফেসবুক ইন্সটা ছাড়া চলে না আমাদের, সে ফেসবুকে কবিতা লেখাই হোক নিজের মনের ভাব প্রকাশ করা হোক আর প্রোডাক্ট বিক্রী ফিক্রী যাই হোক কিন্তু ফেসবুক তো তাতে এক পয়সা পায় না, তাহলে ফেসবুক আসলে কিভাবে পয়সা কামায়, বা গুগল কিভাবে নিজের জন্য রেভেনিউ জেনারেট করে ভেবে দেখেছেন। কিভাবে সারা বিশ্বের সবচেয়ে বড় কোম্পানি হয়ে উঠলো গুগুল, সেইটা ইনোভেশন বলুন নতুন টেকনোলজি বলুন কিভাবে করছে গুগুল এতসব। কিন্তু গুগুল মূলত টাকা কামায় আজকেও তাঁদের বিজ্ঞাপনগুলো থেকেই রেভেনিউ জেনারেট হয় সবচেয়ে বেশী বিজ্ঞাপন থেকে, বাকিগুলো আসে নিজেদের সফটওয়্যার ডিজিটাল প্রোডাক্টস গুগুল পে ইত্যাদি ইত্যাদি থেকে। গুগুল ফেসবুক আমাদের বিজ্ঞাপন দেখায় আমাদের আর সেই বিজ্ঞাপন দেখে প্রভাবিত হয়ে আমরা কেনাকাটা করি, যাঁদের থেকে কিনি তাঁরাই গুগুলে আবার এড দেয়, এইভাবেই পুরো চক্রাকারে জিনিসটা চলছে। আজকাল অনেকের কাছে তো ইন্টারনেট আর গুগল সমার্থক, গুগুল আমাদের আজ বলে দেয় কিভাবে রান্না করতে হবে, টিউব লাইট কিংবা জলের পাইপ খারাপ হলে কি করতে হবে, ত্বকে ট্যান পড়লে কি দিয়ে কতক্ষণ ঘষে অথবা না ঘষে কতরকম ভাবে কি করা যায়, কি ভাবে ঘর সাজাবো কোন পেইন্টস করাবো কোন মোবাইল লেটেস্ট ইন এই সময় মার্কেটে সব বলে দেয় গুগুল। এইসব প্রশ্ন ছাড়াও দার্শনিক এবস্ট্রাক্ট কিছু প্রশ্ন করলেও গুগুল দেখিয়ে দেয় এই প্রশ্ন এর আগে কেউ করেছে কিনা এবং সেই নিয়ে পপুলার মতামত যদি থাকে সেই সবকিছু দেখিয়ে দেয়। এখন তো আমরা যে কোনো সমস্যায় পড়লে আগে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার বদলে গুগুল করে নি, গুগুল আমাদের বন্ধু গাইড বড়দা কি সে নয়। কিন্তু এত ভালো কিছুর পরেও সুশানা জুবফ একটি গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক প্রশ্ন পেশ করেছেন সেটি হলো এই যে আমাদের এই যে নিজস্ব ব্যাক্তিগত তথ্য গুলি দিনের পর দিন আমরাই গুগুলকে দিয়েছি কিছুটা অন্ধের মতন বিশ্বাস করে, আজ গুগুল আমাদের না জানিয়ে নিজেদের মতন করে এই তথ্যগুলো ব্যবহার করবে, এইটার এক্তিয়ার গুগল বা এই জাতীয় এই টেক কোম্পানিগুলির আছে কিনা।

    এখন আপনি ভাবছেন এই তথ্য নিয়ে করবিটা কি ভাই। খুব সহজ করে বললে আপনি নামক অবতারটির সেন্টমেন্ট এনালিসিস করে ফেলছে গুগুলের AI বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এবং এনালিসিস করে সে প্রেডিক্ট করার চেষ্টা করছে আপনার ইচ্ছা মর্জি এবং আপনি কি করতে পারেন আগামী দিনে, আর এই প্রেডিকশানটিকেই সে বেঁচে দিচ্ছে তাঁর নিজস্ব ক্লায়েন্টের কাছে, আমার খুব মনে হয় আমাদের মানুষের চরিত্রটা আসলে তো ননডিটারমিনিস্টিক ফলে মজাটাও সেখানেই মনুষ্যজীবনের, এই এআই সব প্রেডিকশন করতে থাকলে খেলাটা না মাটি হয়ে যায়। গুগুল কিভাবে আমাদের সাথে ভালো বিজনেস করতে পারে সেইটা একটা এক্সাম্পেল দিয়ে জিনিসটা আরেকটু ক্লিয়ার করা যাক।

    আপনারা ইউটিউবে দেখেছেন, ভিডিও খুলতে গেলেই একটা এড খুব সামনে আসে, হামনে তুমকো দেখা ট্যা ট্যা... তারপর বলে যাঁহা অপকি নজর হো হম বহী দিখে, গুগল এডস, ইন্টারেস্টিং কাস্টমার লায়ে হরবার।এইবার আজকের দিনে উৎপাদনকারী আর ভোক্তা মিলেমিশে হয়েছে প্রোসিউমার মানে একই সাথে ভোক্তা এবং উৎপাদক ফলে আজকের দিনে আমাদের সবাই কিন্তু চাই আমাদের বিজনেস বাড়ুক, আমাদের দোকানে কাস্টমার আসুক, আমাদের টিউশানে লোক বাড়ুক, এই যে রামের সাথে ঝোলা কে মেলাবেন তো কেউ একটা, তো সেই তিনিটি হচ্ছেন গুগুল, মেলাবেন তিনি মেলাবেন।

    ধরা যাক গুগুল দেখলো সাম্নেই উইকেন্ড এবং ইউজারের তথ্য বিশ্লেষণ করে গুগুল ফেসবুক আগে থেকেই জানে যে ইউজার ফ্রাইড রাইস আর চিলি চিকেন খেতে ভালোবাসে এইবার এই কথাটাকে দেখুন কিভাবে কাজে লাগানো যায় বা লাগানো যেতে পারে। আসলে এই ইনফরমেশনটা কার কাজে লাগতে পারে বলুন তো, ঠিক ধরেছেন কাজে লাগবে এমন কারো যার রেস্টুরেন্টের বিজনেস আছে, এইবার গুগুল রেস্টুরেন্টের মালিককে প্রতিবার নতুন নতুন কাস্টমার এনে দিচ্ছে টাকার বিনিময়ে, এবং এইটা সে করছে ইউজারের সেন্টিমেন্ট এনালিসিস করে ইউজারকে না জানিয়ে। এইবার উইকেন্ডের আগেই আপনার ইউটিউব ফেসবুকের আপাতায় রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষের থেকে ধরুন আপনি একটি ৫০% ডিস্কাউন্ট দেখতে পেলেন, কে বলতে পারে, একটা দুর্বল মুহূর্তে ফ্রাইড রাইস আর চিলি চিকেন অর্ডার করে ফেলবেন না, এইভাবে আপনি ইউজার থেকে একজন পটেনশিয়াল কঞ্জিউমারে কাস্টমারে কনভারটেড হয়ে গেলেন, এইরকম উদাহরণ একাধিক আছে।

    ধরা যাক একটি মেয়ের কবে পিরিয়ড কবে, একথা কোম্পানি জানে কারণ অনেকেই আজকাল এপ্সের মাধ্যমে নিজেদের ডেট ট্র্যাক করে থাকেন এবং তথ্য যেহেতু নিরাপদ নয় ফলে কোম্পানি জানে এই কথাটা যে কোনো ভাবে, এবং কোম্পানি এও জানে এইসময় মেয়েটির কতটা মুডসুইং করে, সে ইমোশনালি ভালনারেবল থাকে, এইসময় তাঁকে তাঁর মতন করে ম্যানিপুলেট করে তাঁকে তাঁর মন মতন জিনিস বিক্রী করতে পারার যে সফিস্টিকেটেড পারসুনালাইজড টারগেটেড এডভারটাইজিং চলে এই জিনিসটা এই মুহূর্তে এইটা কিছুটা চিন্তার কারণ হয়ে উঠতে শুরু করেছে তো বটেই। বাজারের দিক থেকে এইটা প্রফিটেবল কিন্তু ব্যাক্তির স্বাধীন চিন্তার সাপেক্ষে জিনিসটা মরালি ন্ড এথিক্যালি খারাপ।

    ডিজিটাল প্রাইভেসি, সোনার পাথরবাটি

    আপনি অনেকসময় দেখে থাকবেন আপনি ফ্লিপকারট বা এমাজনে কিছু কিনতে গেলেন এবং কিছুক্ষণ পর আপনার ফেসবুকের সাইডে ভেসে উঠলো সেম বিজ্ঞাপন অথবা ধরা যাক আপনি শেয়ার বাজারে একজন স্মল ইনভেস্টার আপনার কাছে মধ্যপ্রদেশ থেকে দিল্লী থেকে এইরকম হাজারটা ফোন আসে যায় প্রতিদিন, এখন এরা কিভাবে নম্বর পেলো এ এক রহস্য যা আগামীতে আরো ঘনীভূত ঘাপ্লায় টার্ন নিতে যাচ্ছে, বা আপনি ইন্টার্ভিউ দিয়ে এলেন সঙ্গে সঙ্গে ইন্সিউরেন্স কোম্পানি আপনাকে সেইদিনেই ফোন দিলো এইসব কাকতালীয় ব্যাপার কিন্তু আজকাল আকছার ঘটে। এই ইন্টারনেটের জগতে ডেটা ব্রীচ ব্যাপারটা এমন শৈল্পিক স্তরে গেছে যে এখান থেকে আর ফেরার উপায় নেই, যারা প্রাইভেসি চান তাঁদের পক্ষে ভিপিএন ইউজ করা উচিৎ, কিন্তু ইউজারের এবসোলিউট প্রাইভেসি বলে আর কিছু এক্সিস্ট করেই না। আপনি খুব বেশী হলে ভিপিএন কিংবা এন্টিভাইরাস( ফ্রীর মাল নয় টাকা খরচ করে কেনা) জিনিস ইউজ করে দেখতে পারেন কিন্তু সেইটাও এবসোলিউট সিকিউরিটি দেয় না।

    এখন আপনি আপনার গুগুলে কি দেখেন এইটা নিয়ে অন্য থার্ড পার্টীর জানার কথা নয়। সে আপনি বোমা বানাবার ফর্মুলা দেখুন বা জেহাদ কিভাবে হয় সেই দেখুন কিংবা ফানি লিওনের গবাক্ষ দিয়ে নেমে যান কার্তিকের জোছনার ভেতর এইটা নিয়ে রাষ্ট্র বা অন্য কারোর অধিকার নেই এই প্রাইভেসির ভেতর নাক গলানোর কিন্তু হায় এই জিনিস কিন্তু হচ্ছে, বিভিন্ন এজেন্সি গুলি আজকাল নিয়মিত এইসব এলাকায় দিবানিশি টহল দেয় তথ্য সংগ্রহ করে এবং ইউজার রাষ্ট্রের পক্ষে বিপদজনক কিছুতে জড়িত আছে কিনা সেইটা খোঁজার চেষ্টা করে, এবং আপনারা যারা ফ্রী ডট কমে গিয়ে আমার মতই ভিডিও দেখেন ইনকগনিটো মুডে আর হিষ্ট্রি ডিলিট করে ভাবেন বিরাট কিছু করলাম তাঁদের আসলে কিন্তু এইটা জানা উচিৎ যে এইভাবে নিজেদের ডিজিটাল পদচিহ্ন মুছে ফেলা আসলে যায় না, কেউ কোথাও একটা বসে আপনার এই সব জিনিস পয়েন্ট বাই পয়েন্ট নোট করে যাচ্ছে।

    শুধু তাই নয়

    আপনার বাড়ির স্মার্ট যন্ত্র এলেক্সার পেটের ভেতর লুকানো মাইক্রোফোন দিয়ে কেউ আপনার কথা শুনছে কিনা, অথবা আপনার জিও রাউটারটি আসলে টাউটার কিনা মানে সেও গোপনে আপনার কথা শোনে কিনা এইটা একটু মনযোগী হলে আপনি নিজেই বুঝবেন। চাইনিজ মোবাইল গুলি তো এই কাজ ডেইলী করছে এবং এই পুরোটা আজকের দিনে প্রায় ওপেন সিক্রেটের মতন, কেউ হয়তো ভাবছেন আমি পথভোলা এক পথিক এসেছি আমার কিছু লুকানোর নেই তাহলে তিনি এই ঘটেচলা ডিজিটাল সারভিলিয়েন্সের স্বরূপটিকে চিনে উঠতে পারেন নি। আমি হয়তো একার চেষ্টায় এই অদৃশ্য টেকনো দানবদের শায়েস্তা করতে পারবো না কিন্তু জনসচেতনতা জিনিসটা এই মুহূর্তে খুব দরকার। আমাদের দেশের বহু মানুষ জিয়োর কারণে ইন্টারনেটে চলে তো এসেছেন, কিন্তু তাঁরা জানেন না কিভাবে এই স্পেসটাকে ব্যবহার করতে হয়, এতদিন করে আমরাই ছাই বুঝি নি আর যারা একটু পুরাতন যুগের লোক তাঁদের এই জিনিসটা রিয়েল লাইফে এই সারভিলিয়েন্স যে চলছে এইটা রিয়েলাইজ করতে বেশ অনেকটা সময় লেগে যাবে।

    দ্য গ্রেট গেম অফ ম্যানুপুলেশন

    যে আপনাকে ফ্রীজ কালারটিভি মোবাইল জামা জুতো এইসবের বিজ্ঞাপন দেখিয়ে মাথা মুড়াতে পারে সে কাল টাকার বিনিময়ে কারো একটা পক্ষ হয়ে আপনাকে বুঝিয়ে দিতে পারে অমুক দল তমুকের চেয়ে কেন বেটার।ঠিক এইরকম কাজটাই হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বলে মনে করা হচ্ছে, আর এই অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন মার্ক জাকারবারগ এবং ফেসবুক, যদিও এইসব কেসের কোনো ঠিকঠাক সমাধান হয় না সেইভাবে এইখেত্রেও হয় নি। অভিযোগ ছিলো কেমব্রিজ এনালিটিকা একটি কোম্পানি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটা বড় অংশের ফেসবুক ইউজারের তথ্য জরিপ করে বোঝার চেষ্টা করেছিলো এরা ডেমোক্র্যাট বা রিপাবলিকানদের মধ্যে কাকে ভোট দেবে বা দিতে পারে, এবং সেইখান থেকে শুরু করে ইউজার অনুযায়ী সফট বিজ্ঞাপন টারগেটেড হেট থেরাপি এবং রেগুলার প্রোপাগান্ডা করে মানুষের মন ঘুরিয়ে দেবার একটা চেষ্টা কিন্তু হয়েছে। একটি দল নিজেদের কাঙ্ক্ষিত রেসাল্ট যাতে হয় সেই উদ্দেশ্যে এই কান্ডটি ঘটিয়েছে, এবং এই কাজ শুধু যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হচ্ছে হয়েছে হতে পারে এমন নয় এই একই কান্ড একই এক্সপেরিমেন্ট আপনার সাথেও হচ্ছে কিনা আপনার বোঝার উপায় নেই। আজকে বিধানসভা ভোটের আগে আইটি সেলের কান্ড কারখানা জানার পর অনেকের চক্ষু তামাকগাছ হয়েছে তো। এই টারগেটেড এডভারটাজিং ব্যাপারটা এত সফিস্টিকেটেড হয়ে গেছে যা পারটিকুলার একটা অঞ্চলের লোককে এখন বিশেষ একটা বিজ্ঞাপন দিয়ে রীতিমত বম্বারিং করা যায়, আপনাকে সে দেখতে বাধ্য করবে এক সময়। এবং এই উন্নত ডিজিটাল মগজ ধোলাই করে সে আসলে একশ্রেণীর শাসকের ব্যবসায়ীর স্বার্থ রক্ষা করবে এবং মানুষের যে স্বাভাবিক প্রগতি ছন্দ সেইটাকে নষ্ট করে দেবে হয়তো আগামীদিনে, কিন্তু ঐ যে ছোটো বেলায় শুনেছিলাম একটা কথা, লড়াই থামালে চলবে না, ওঁদের শক্তি বেশী বুদ্ধি বেশী কিন্তু সাধারণ মানুষ সচেতন ভাবে একত্রিত হলে ওরা নিজেদের চেঞ্জ করতে বাধ্য হবে।

    আজকের দিনে ম্যানুফাকচারড ক্য্যাম্পেইন করে করে একটা কন্সেপ্ট বা জালি আইডিওলজিকে সত্যি বলে প্রমান করে দেওয়া যায়, গরু নিয়ে কত কান্ড হয়ে গেলো চারপাশে সবই তো জানেন, সে নাকি অক্সিজেন দিচ্ছে আর এইটা আজকাল পপুলার কালচারের ভেতর ঢুকেও পড়ছে। এই কায়দা গুলো আসলে ফায়দা তোলার অনেক পুরানো কল, মানুষের মাথা ঘুরিয়ে দেবার নিনজা টেকনিক। সময় যত বদলেছে ততই মানুষকে শোষণ করার জন্য নতুন নতুন তরিকা এসেছে কিন্তু মূল কনসেপ্ট সেই একই আছে, ওরা চাইবে সবাইকে হাবিজাবিতে ভুলিয়ে দিয়ে নতুন নতুন মগজ ধোলাই করে নিজেদের গদী পাকা করতে, ক্ষমতা নিজেদের কাছে রাখতে যাতে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করা যায় কিন্তু আমরা নিজেদের চিন্তার জায়গাটাকে কিছুতেই অন্য কোনো ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ইচ্ছায় প্রভাবিত হতে দেবো না, আমাদের কবিরা আমাদের সাহিত্যিকরা আমাদের যে জীবনবোধ শিখিয়ে গেছেন সেই আলোয় আমরা আলোকিত হবো। আমরা এই সিস্টেমের দাস না হয়ে কিভাবে এই সবের মধ্যে থেকেও নিজের জন্য ভালো যেইটা সেইটা বুঝে নিয়ে খুঁজে নিয়ে ভালো থাকা যায় সেই চেষ্টা করবো, আমরা কিছুতেই রিপুতাড়িত মৌলবাদী হবো না, আমরা সুন্দর হবো নিজেদের মতন করে, আমরা সুন্দর হবো একটু একটু করে এই আশা নিয়ে এই লেখা শেষ করছি। আবার আপনাদের সাথে দেখা হয়ে যাবে অন্য আরেকটা লেখায়, সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন।
  • বিভাগ : অন্যান্য | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ৩৪১ বার পঠিত
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • dc | 122.164.17.231 | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২৩:০২497880
  • সুন্দর রচনা হয়েছে। তবে দু নম্বর কাটলাম, কারন বাক্য গঠন ঠিকমতো হয়নি। 8/10
  • JAYANTA GUHABISWAS | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৮:১৪497891
  • অসাধারণ। চালিয়ে যান। 
  • জিৎ | 2409:4060:2e84:cbee:8e03:5266:f8d1:993b | ১১ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৬:০৭497961
  • আগে ইনফরমেশন এর অভাবে মানুষকে ঘোল খাওয়ানো খুব সহজ ছিল। আজ গুগল এর দৌলতে অতীতের elite priviledged সোসাইটির কাছে থাকা information ও সকলের হাতের মুঠোয়। মগজ ধোলাই আটকানোর সব চেয়ে সেরা উপায়টাই ইন্টারনেট। আর আমাদের কোন জিনিসটা দরকার সেটার যাবতীয় অপশন রিভিউ সমেত গুছিয়ে চোখের সামনে না চাইতেই পাওয়া যাচ্ছে - আজকের চূড়ান্ত rat রেসের যুগে পরম বন্ধু ও এত উপকার করবে না। Capitalism এবং তার যাবতীয় সুফলকে আমরা taken for granted ধরে নিয়েছি। 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খারাপ-ভাল মতামত দিন