এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • শোলে এবং সত্যজিৎ

    সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায় লেখকের গ্রাহক হোন
    ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ৮৩৫৬ বার পঠিত | রেটিং ৪ (৩ জন)
  • বেনেগাল লিখেছেন, "বোম্বের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি সবসময়েই ভেবেছে, সত্যজিৎ রায় ভারতের জন্য ঠিক কাজ করছেননা। রাজকাপুরের সঙ্গে তাঁর একবার বিরাট ঝামেলা হয়েছিল। রাজ কাপুরের সিনেমা 'জাগতে রহো' পরিচালনা করেছিলেন বাংলার বিখ্যাত নাট্যপরিচালক শম্ভূ মিত্র। সিনেমায় সত্যজিৎ রায়ের যা উচ্চতা, নাটকে তিনি তার সমানই ছিলেন। শম্ভূ সিনেমাটা বানিয়েছিলেন, এবং ১৯৬৪তে কারলভি ভেরি উৎসবে সেটা রাজকাপুরকে সেটা একটা পুরষ্কারও জিতিয়ে দেয়। ওই একই বছর ভেনিসে অপরাজিত জেতে স্বর্ণ সিংহ। তারপর রাজকাপুর এবং সত্যজিৎ রায়ের কোনো একটা অনুষ্ঠানে দেখা হয়। সত্যজিৎ বলেন, বাংলা সিনেমার জন্য এটা একটা বিরাট সম্মান। 
     
    রাজ কাপুর বলেন, 'বাংলা কেন, আপনি ভারতীয় না? আপনি কেন বলেন, আপনি একজন বাঙালি চিত্রপরিচালক?'
     
    সত্যজিৎ বলেন, কারণ, 'আমি একজন বাঙালি চিত্রপরিচালক'। 
     
    রাজ কাপুর বলেন, 'ভগবানের দিব্যি, আপনি নিজেকে ভারতীয় চিত্রপরিচালক বলতে পারেননা কেন?'" *
     
    বোম্বের সঙ্গে, দিল্লির সঙ্গে বাঙালির এই দড়ি-টানাটানি সেই ১৯৪৭ থেকে। দেশভাগের পর এই সেই সময়, বাংলা যখন প্রবল গাড্ডায় । বাংলা সিনেমার বাজার এক ধাক্কায় অর্ধেক হয়ে গেছে, বিপুল সংখ্যক হল পূর্ব পাকিস্তানে চলে গেছে, এক তৃতীয়াংশ স্টুডিওর কাজ নেই। তদুপরি ফিনান্সের সংকট, একটা একটা করে ব্যাংক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, নিউ থিয়েটার্স সহ বড় প্রতিষ্ঠানগুলি ঝাঁপ ফেলে দিচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকার বাংলা সিনেমা রপ্তানির ব্যবস্থা না বোম্বের সিনেমাকে বিশ্বজুড়ে প্রোমোট করছে। কলকাতা থেকে বোম্বেতে ব্রেনড্রেন চলছে। হিন্দি সিনেমাকেই সরকারি মদতে "ভারতীয়" সিনেমা হিসেবে প্রোজেক্ট করা হচ্ছে। যার একমাত্র অর্থ হল, সিনেমার অন্য কেন্দ্রগুলিকে ধ্বংস করা। বাংলার সিনেমা তারপরেও ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল। একদিকে সত্যজিৎ রায়রা। অন্যদিকে মায়ামায় সাদাকালো জনপ্রিয় জলছবি। বাঙালি রোমান্স, বাঙালির  রূপকথা, উত্তম-সুচিত্রার মহাজুটি এমনি আসেনি। চড়াদাগের রঙিন মোটাদাগের হিন্দি সিনেমার জবাবে সেই ছিল বাংলার শৈল্পিক প্রতিরোধ। সত্যজিৎ রায় নামক ঢ্যাঙা লোকটি, একটুও উচ্চকিত না হয়েই, এই প্রতিরোধের প্রতীক ছিলেন। বল্লভভাই প্যাটেল বলেছিলেন, বাঙালি শুধু কাঁদতে জানে।  নার্গিস বলেছিলেন সত্যজিৎ রায় দারিদ্র‌্য বেচেন। ভুল কিছু বলেননি, ওঁরা ভারতীয়ত্বর নামে মোটা দাগের হিন্দুস্তানি বেচেন, এইটা কেবল বলেননি। 
     
    তো, তারপর যা হয়। মহানায়কের স্বর্ণযুগ তো আসলে ততটা স্বর্ণালী ছিলনা। স্রোতের মতো আসছে, হলে-হলে চলছে, বোম্বের সস্তা সিনেমা। যে পদ্ধতিতে ইংরেজ ধ্বংস করেছিল বাংলার বস্ত্রশিল্পকে, বাংলা সিনেমার ধ্বংস হওয়া তার চেয়ে আলাদা কিছু না। স্বয়ং মহানায়ক এবং মহানায়িকাও দৌড়চ্ছেন বোম্বেতে সিনেমা করতে, স্বর্ণযুগ যে আসলে পতনের যুগ, তার অব্যর্থ প্রমাণ এর চেয়ে বেশি আর কী হয়। এরপর বাংলার লো-টেক, লো-বাজেট শৈল্পিক উৎকর্ষময় সিনেমা-টিনেমা ক্রমশ উঠে যাবে, রাজত্ব করবে চড়া-দাগের হিন্দি সিনেমা। এই নিয়েও চমৎকার মন্তব্য আছে রায়বাবুর। শোলে বেরিয়েছিল ৭৫ সাল নাগাদ। পরবর্তীতে শোলে নিয়ে সত্যজিৎ বলেছিলেন, "খুবই দক্ষ, খুবই যোগ্য সিনেমা, যদিও শৈল্পিক ভাবে খুবই নিচু মানের"।** এর চেয়ে ভদ্র হ্যাটা আর কী হতে পারে। যে, ব্যাটারা ওয়েস্টার্ন টুকে একটা ফ্ল্যাট ভারতীয়ত্ব খুব দক্ষতার সঙ্গেই বানিয়েছে। কিন্তু ওটা শিল্প হয়নি। এটা কিন্তু "শিল্প হয়নি" বলে এলিটদের নাক কোঁচকানো নয়। এটা হল নকলনবিশীকে হ্যাটা। 
     
    হিন্দি সিনেমা, গান-টান সমেত, এইসময় মূলত টুকে-টুকেই চলেছে। আর দিগ্বিজয় করে ফেলার পর, বাঙালি মননও ক্রমশ ওটাকেই মোক্ষ বলে ভেবেছে। যেভাবে ম্যাঞ্চেস্টারের কাপড় বাজারে জনপ্রিয় হয়েছিল, ফর্মুলা সেই একই। ওটাই বেঞ্চমার্ক হয়ে গেছে। তারপর বাঙালি সেই হিন্দি সিনেমা টুকে-টুকে খারাপতর সিনেমা বানিয়েছে ক্রমশ। সৃষ্টিশীলতা উবে গেছে। মধ্যও না, ক্রমশ নিম্নমেধার কারবার চারদিকে।
     
    তো, সে যা হবার তাইই হচ্ছে, হবে। কিন্তু শোলের কথা উঠলেই, বারবার, ঢ্যাঙা লোকটির "যদিও শৈল্পিক ভাবে খুবই নিচু মানের", কথাটা মনে পড়ে। 
     
    *মিহির বোসের বলিউড আ হিস্টরি, পাতা ১৮৮-৯ থেকে অনুদিত।
    ** সাক্ষাৎকার। ইন্ডিয়া টুডে। ১৯৮৩।

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কোশ্ন | 43.251.171.191 | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১১:৩৩497568
  • লেখাটার ফোকাস তো ৫℅ দের চোখ দিয়ে ৯৫% দের দেখা। সেখানে নিজেকে ৯৫% এর জায়গায় বসিয়ে ৯৫%এর পোজিশন কে জাস্টিফাই করার মানে কি? ফোকাস ঠিক আছে কিনা বিচার করতে তো আপনাকে ৫% এর জায়গায় এসে লেন্সে চোখ রাখতে হবে। 
  • কোশ্ন | 43.251.171.191 | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১১:৩৩497569
  • লেখাটার ফোকাস তো ৫℅ দের চোখ দিয়ে ৯৫% দের দেখা। সেখানে নিজেকে ৯৫% এর জায়গায় বসিয়ে ৯৫%এর পোজিশন কে জাস্টিফাই করার মানে কি? ফোকাস ঠিক আছে কিনা বিচার করতে তো আপনাকে ৫% এর জায়গায় এসে লেন্সে চোখ রাখতে হবে। 
  • Amit | 103.60.200.23 | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১১:৩৭497571
  • নিজেই নিজেকে ৫% তথাকথিত শিল্প বোদ্ধা দের মধ্যে ধরা যাচ্ছে নাকি আজকাল ? নাকি কোনো এন্ট্রান্স টেস্ট আছে ?
  • কোশ্ন | 43.251.171.191 | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১১:৫০497572
  • সব লেখারই তো একটা রাজনীতি থাকবে। নইলে স্রেফ এন্টারটেইনমেন্টের জন্য লিখতে হয়, ভুতের গল্প বা গোয়েন্দা গল্প নাহয় সেলিব্রিটি গসিপ।
    ঈশেনের পোজিশন বোধয় ডিক্লেয়ার্ড। জিঙ্গোইস্টিক ন্যাশনালিজম এর পালটা হিসেবে প্রাদেশিকতা। বাঙালী জাতীয়তাবাদ। গর্গর সঙ্গে বেশ খানিকটাই সহযাত্রা যদ্দুর বুঝি।  তো এই পোজিশনের লেখালেখির ফোকাস তো এমনটাই হবে যে বাঙালীর পিছিয়ে পড়ার পিছনে বঞ্চনার পিছনে একটা জাতীয়তাবাদী চক্রান্ত বা রাষ্ট্রীয় নীতির সাইড এফেক্ট আছে। 
  • dc | 122.174.81.161 | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১১:৫৮497573
  • "লেখাটার ফোকাস তো ৫℅ দের চোখ দিয়ে ৯৫% দের দেখা"
     
    কোশ্ন, লেখাটার ফোকাস আমার মতে এটা না, বরং এটা ফোকাসঃ "জিঙ্গোইস্টিক ন্যাশনালিজম এর পালটা হিসেবে প্রাদেশিকতা। বাঙালী জাতীয়তাবাদ" 
     
    তবে এটা ​​​​​​​আমার ​​​​​​​মনে ​​​​​​​হওয়া, ​​​​​​​আমি ​​​​​​​ভুলও ​​​​​​​হতে ​​​​​​​পারি :-) এনিওয়ে, ​​​​​​​যদি পরেরটা ​​​​​​​ফোকাস ​​​​​​​হয়ও, ​​​​​​​তো ​​​​​​​আবার ​​​​​​​বলি, "​​​​​​​শোলের ​​​​​​​শিল্পের abhaab" দেখিয়ে ​​​​​​​বাঙালি ​​​​​​​জাতীয়তাবাদ ​​​​​​​এর ​​​​​​​ধোঁওয়া ​​​​​​​দেওয়াটা ​​​​​​​স্ট্রম্যান ​​​​​​​আর্গুমেন্ট ​​​​​​​হয়ে ​​​​​​​গেছে। কারন ​​​​​​​শোলের ​​​​​​​কখনো ​​​​​​​আর্ট ​​​​​​​হওয়ার ​​​​​​​প্রিটেনশান ​​​​​​​ছিলই ​​​​​​​না। ​​​​​​​
  • কোশ্ন | 43.251.171.191 | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১২:১৮497575
  • নিজেই নিজেকে ৫% তথাকথিত শিল্প বোদ্ধা দের মধ্যে ধরতে হবে কেন? এই পার্টিকুলার লেখাটাতে ৫% এর চোখে ৯৫% কে দেখা হচ্ছে, সত্যজিতের চোখে শোলে কে দেখা হচ্ছে। কিশোরী আমোনকারের চোখে কিশোরকুমারকে দেখা যেত, সাদাত হাসান মন্টোর চোখে বিমল মিত্রকে দেখা যেত, মণি কাউলের চোখে হরনাথ চক্রবর্তীকে দেখা যেত। এবার ৫% এর মধ্যে অ্যাডেড ফ্লেভার প্রাদেশিক বাঙালীত্ব আর ৯৫% এর মধ্যে অ্যাডেড ফ্লেভার জাতীয়তাবাদের রিপ্রেজেন্টেটিভ একটা এন্টিটি - হলিউড সিনেমা, ক্রিকেট যেকোনো বর্গই হোক।
    এই অ্যাঙ্গেলে লেখার জন্য নিজেকে ৫% হতে হবে কেন। এই বিশেষ লেখাটা এই অ্যাঙ্গেল থেকে লেখা হয়েছে এটুকু অ্যাক্সেপ্ট করে নিলেই তো হয়। 
     
    এভাবে না দেখে ব্যাপারটাকে পার্সোনালি নিলে, লেখককে দাগিয়ে নেবার চেষ্টা করলে আবার নিজেকে ৯৫% এর মধ্যে গন্য করার কালচারাল কমপ্লেক্স এসে পড়বে। তখন আবার শোলেতে শিল্প আছে, কিশোরের গলায় ক্লাসিকাল টাচ কত ভাল, আরেসেস কেমন জনদরদী কাজ করে এসবের চোরাবালিতে পড়তে হবে।
  • এলেবেলে | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১২:৪৫497577
  • ডন ভার্সাস বসন্ত বিলাপ থেকে কিউ নিয়ে এখানে তক্কো করতে আসলাম। আগেই জানিয়ে রাখি শোলে আমার অত্যন্ত পছন্দের একটি সিনেমা এবং সেটি নয় নয় করে বার দশেক বড় পর্দায় দেখেছি,মফস্‌সলে ও কলকাতার ৭০ মিমি পর্দায়। হ্যাঁ,সত্যজিতের সমস্ত ছবি মায় ডকুমেন্টারিও দেখেছি এবং সংগ্রহে আছে। তাঁর অনেক ছবিও একাধিকবার দেখেছি।
     
    কিন্তু কোনটা শিল্প এবং কোনটা শিল্প নয় তার ফতোয়া দেওয়ার মালিক সত্যজিৎ নন। মানে কোনও দিনও ছিলেন না। আর যদি তক্কের খাতিরে ধরেও নিই যে ছিলেন, তাহলেও সেটাকে আমি অন্তত পাত্তা দিই না। কারণ সত্যজিতের একাধিক খাজাস্য খাজা ছবি আছে।
     
    বাংলা সিনেমার স্বর্ণযুগ একটি অতি প্রচলিত মিথ। যেখানে দিকপাল শিল্পীদের দৈনিক পারিশ্রমিক দেওয়া হয়, একটা ডরমেটরিতে ঠাসাঠাসি করে রাখা হয় (অরণ্যের দিনরাত্রি) এবং অমানুষিক শোষণ করা হয় - সেটা স্বর্ণযুগ হতে পারে না।বাংলা সিনেমা থেকে পয়সা কামিয়েছে সিনেমা হলের মালিকরা। তারা শিল্প-ফিল্পের থোড়াই করেছে করে ও করবে। এই নিয়ে ঋত্বিকের একাধিক প্রবন্ধ দেখে নেওয়া ভালো।
     
    উত্তম-সুচিত্রাও আরেকটা মিথ। তাঁদের দুজনের ফিল্মোগ্রাফিতে খুঁটিয়ে নজর করলে প্রচুর জদা ছবির নাম পাওয়া যাবে। এবং সেই সাড়ে চুয়াত্তর থেকেই সেগুলো মাল্টিস্টারার। দু-চারটে ছবি বাদে একটা ছবিও শিল্পসম্মত নয়। বিনোদনের অন্য মাধ্যম ছিল না, ফলে বাঙালি ঘাড়ে-বগলে পাউডার মেখে হুলিয়ে সেসব ছবি দেখেছে।
     
    এত শিল্প-শিল্প বাতিক করা সত্যজিৎ নিজে ঋত্বিক-মৃণাল-তপনের কতগুলো ছবি দেখেছিলেন? সেই নিয়ে তাঁর কতগুলো সশ্রদ্ধ প্রবন্ধ দেখতে পাওয়া যায়? কাবুলিওয়ালার জন্য ছবি বিশ্বাস বিদেশে পুরস্কার আনতে গেলে বিষয় চলচ্চিত্রতে তপনবাবুর নামোল্লেখ করার সৌজন্যটুকুও দেখাননি তিনি। অথচ ঋত্বিক-মৃণাল অপরাজিত নিয়ে উচ্ছ্বসিত।
     
    ভারতীয় আমজনতার সিনেমা শোলে। তাতে তাঁরা বাঙালি না বিহারি, পাঞ্জাবি না মারাঠি - তাতে কাঁচকলা এসে যায়। 
     
    হ্যাঁ,পারলে আজকেই আবার শোলেটা আরেকবার দেখব।
  • সিএস | 49.37.32.200 | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১২:৫৪497578
  • অম্বের সিনেমা নিয়ে রায়মশাইয়ের তো নানা মন্তব্য আছে। দেব আনন্দ অভিনয় পারেনা অথচ তিনি স্টার, চারুলতা নিয়ে তর্কের সময়ে পকেটে পয়সা থাকলেই সঙ্গম দেখা যায়, এরকম কিছু মন্তব্য তো আছে। সেগুলো থেকে বোঝা যায় বম্বের সিনেমার প্রতি ওনার সমালোচনা আছে কিন্তু আবার এও ঠিক বাংলা সিনেমা দর্শকধন্য হওয়ার জন্য ওনার মন্তব্য আছে, প্রোডিউসারকে টাকা ফেরত দেওয়া ইত্যাদি। কিন্তু দর্শক পেতে গেলেও সিনেমা ঠিক কীরকম হওয়া উচিত সে সম্বন্ধে নিজের মত আছে, যার সাথে বম্বে সিনেমার বিরোধ ছিল। এখন এই বিরোধটুকু শিল্পগত দিক দিয়ে বিচার করা যায় কিন্তু এই লেখায় শুধুই সেইটুকু করা হয়নি বা ঈশান অন্য লেখাতেও সেরকম করেনি। ঐ বিরোধের পেছনে একটা সামাজিক - রাজনৈতিক প্রেক্ষিত আছে, দেশভাগ - ভারত রাষ্ট্র ইত্যাদি আছে, ঈশানের সেরকম ধারণা বলে আমি বুঝি। সত্যজিতের কথা বা কাজকে ব্যবহার করে অন্য অপ্রচলিত মতের অবতারণা করা। তর্কযোগ্য কিন্তু পুরোপুরি ফেলে দেওয়ার মত না হয়ত।
  • Amit | 103.60.200.23 | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৩:০২497579
  • নিজের এজেন্ডাই যদি চালাতে হয় , তবে বেশি না ঘেঁটে সোজা কথা সোজা ভাবে বললেই তো ল্যাটা চুকে যায়। তার জন্যে ঝোপে ঝাড়ে বেকার লাঠি চালিয়ে ফেলে ছড়ানোর দরকার কি? 
  • dc | 122.174.81.161 | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৩:০৪497580
  • "আগেই জানিয়ে রাখি শোলে আমার অত্যন্ত পছন্দের একটি সিনেমা এবং সেটি নয় নয় করে বার দশেক বড় পর্দায় দেখেছি,মফস্‌সলে ও কলকাতার ৭০ মিমি পর্দায়"
     
    আরে রাম ​​​​​​​রাম ​​​​​​​রাম। ​​​​​​​শোলে ​​​​​​​বড়ো ​​​​​​​পর্দায় অন্তত ​​​​​​​পঁচিশ ​​​​​​​বার ​​​​​​​দেখেছি, ​​​​​​​মানে ​​​​​​​হলে ​​​​​​​গিয়ে ​​​​​​​টিকিট কেটে। ​​​​​​​তিনটে ​​​​​​​আলাদা ​​​​​​​শহরে :d​​​​​​​
  • সিএস | 49.37.32.200 | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৩:০৭497581
  • এটা ঠিক অ্যাজেন্ডা চালানো নয়। হিন্দী সিনেমা নিয়ে অজস্র লেখাপত্তর আছে যার মধ্যে দিয়ে nation building দেখা হয়েছে। গবেষকদের কাজ; সেগুলো অ্যাজেন্ডা বলে মনে করি না। ঈশানের এই লেখাগুলো হয়ত ঐ লেখাগুলোর উল্টোদিকের লেখা।
  • Amit | 103.60.200.23 | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৩:১৬497582
  • ইন্ডিয়া তো ছেড়েই দ্যান, আমি মালয়েশিয়ায় থাকতে ওখানের টিভি তে দুবছরের মধ্যে তিনবার শোলে দেখেছি মশাই। আমার মালয় বা মিডল ইস্ট এ থাকার সময় আরব কলিগগুলো একবর্ণ হিন্দি বলতে পারতোনা, কিন্তু শোলে বা শাহরুখ খানের সিনেমার ডায়লগ / গান পুরো মুখস্ত বলে দিতো। হিন্দি সিনেমা র শিল্প নিয়ে যে যা ইচ্ছে প্রাণে চায় ,এভালুয়েট করেন , বাইরে র দেশে হিন্দি সিনেমা যে কত প্রাকটিক্যাল কাজে আসে আমার নিজের অভিজ্ঞতা আছে। 
  • Amit | 103.60.200.23 | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৩:২৬497583
  • হতেও  পারে এটা সেসব  গবেষক দের কাজের উল্টোদিকের লেখা। তবে গবেষণা কম, হেট্ স্পিচ প্যামফ্লেট বেশি মনে হয়েছে পড়ে। 
  • dc | 122.174.81.161 | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৩:৩০497584
  • হ্যাঁ, শোলের সামাজিক ইমপ্যাক্ট নিয়ে বিতর্ক করা যেতে পারে। শোলে ভারতীয় সিনেমায় একটা ওয়াটারশেড, বিরাট বড়ো একটা কালচারাল সিগনিফিক্যান্স আছে। সত্তর আর আশির দশকের জাইটগাইস্ট  ধরা আছে শোলে সিনেমাটায়। বেশ কিছু সোশ্যাল ট্রেন্ড শোলে হয় শুরু করেছিল নাতো অ্যামপ্লিফাই করেছিল। তবে এসবের সাথে, আমার মতে, শোলের শিল্প বা শিল্পহীনতার খুব একটা সম্পর্ক নেই। 
  • র২হ | 2401:4900:314b:8f95:1cf9:7f85:eef:37c7 | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৩:৩৯497585
  • "ওইটাই তো আমারও প্রশ্ন। ৫০-৬০ এ এগিয়ে থাকা বাঙালি ৮০-৯০ এ সবার পেছনে পড়ে যাওয়ার সব দোষ তার ৩০-৪০ বছর আগের ঘটনাবলীর ওপর চাপিয়ে কার কি আদতে লাভ হবে ?"
     
    হ্যাঁ, অনেকবারই লিখেছে। আসলে কিছু কিছু জিনিস একটা জাতির চিরকাল মনে রাখা উচিত, এবং তার বৃহত্তম ট্র্যাডেজিকে কেউ কুমীরছানা বা অজুহাত বলে লঘু করতে চাইলে সেই ইতিহাস বিস্মরণের বিরুদ্ধে বারবার বলা ও লেখা উচিত। সুদূরপ্রসারী বলে একটা শব্দ তো অনর্থক তৈরী হয়নি।
  • সিএস | 2401:4900:1108:fef6:5e6:5b3:66e3:7c79 | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৩:৪৫497586
  • হেট স্পীচ মনে হয় না, যদি না প্রতিষ্ঠিত মতটিকেই একমাত্র বলে মনে করি।

    pamphlet বা পোলেমিকস হতে পারে। কিন্তু সেসবেরও তো অতি গুরুত্ব আছে।
  • র২হ | 223.191.8.249 | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৩:৪৬497587
  • স্যরি আমি এই জায়গাটা কোট করতে চাইছিলাম -
     
    • Amit | 103.60.200.23 | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১১:২৭497567
    • অবশ্য যার যার নিজের এজেন্ডায় ফিট করতে চাইলে করতেই পারে। এরকম লেখা সৈকতবাবু আগেও লিখেছেন। নতুন কিচ্ছু নয়.
  • Amit | 103.60.200.23 | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৩:৫০497588
  • ভুলে যেতে বলছি কোথায় ? সেটা র ইমপ্যাক্ট নিয়ে প্রপার ডাটা এন্ড রিসার্চ বেসড লেখা হাজারটা হোকনা। যেখানে দেখা যাচ্ছে দেশভাগের ২০-৩০ বছর অবধি সবথেকে টার্বুলেন্ট সময়টা বাংলা সিনেমা দিব্যি পাল্লা দিয়ে কাটিয়ে দিয়েছে , তারপর হটাৎ করে মুখ থুবড়ে পড়ে যাচ্ছে , সেখানে তার ফেইলিউর এর কারণ হিসেবে সেই ২০-৩০ বছর আগের দেশভাগ আর কেন্দ্রের বঞ্চনাকেই কেই টেনে আনা হচ্ছে , সেটা কে গবেষণা বলা যায়কি ? 
     
    এতো অনেকটা বাবা রামদেবের করোনীল রিসার্চের মতো হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বাবা বলেছেন -হেন্স কিউ ই ডি। 
  • কোশ্ন | 43.251.171.191 | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৪:০৭497589
  • হ্যাঁ, কুমীর রচনা লেখাই যায় গরু রচনাও কিন্তু পশুপ্রেমের সঙ্গে মানবিকতার সহাবস্থান ও পরস্পর বিরোধিতা বিষয়ে লেখার কী দরকার বুঝিনা যাইহোক এসবের সঙ্গে কুমীর বা গরুর কোনো সম্পর্ক নেই।
    সহি ৯৫% হওয়ার ও সহি ৫% চিনে নেওয়ার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। যেন সত্যজিৎ না বলে কথাটা ঋত্বিক-মৃণাল-তপন এর কেউ বললেই আর তর্ক থাকতো না।
  • dc | 122.174.81.161 | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৪:২২497590
  • এই রে খ দা রেগে গেছে :d
  • এলেবেলে | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৪:৪৬497593
  • "যেন সত্যজিৎ না বলে কথাটা ঋত্বিক-মৃণাল-তপন এর কেউ বললেই আর তর্ক থাকতো না।"
     
    অতি হাস্যকর এবং মন্তব্যকে এড়িয়ে গিয়ে মন্তব্যকারীর প্রতি অযথা শ্লেষ। আজ্ঞে ফতোয়াটা ফালতু। কাজেই ঋত্বিক-মৃণাল-তপন কেন কুরোয়াওয়া-ফেলিনি বললেও ফালতু। আর হ্যাঁ, সিনেমা পরিচালক তাঁর গ্যাঁটের পহা খচ্চা করে সিলপো করেন না। কাজেই সেই পয়সাটা ফেরত পাওয়া অত্যাবশ্যক শর্ত এবং তদুপরি কিঞ্চিৎ লাভও। চলচ্চিত্র শিল্প প্রচুর মানুষকে রুজিরুটির যোগান দেয়। শোলে সেটা দিয়েছে। তাতে সেটা শিল্প না হলে হয়নি।
     
    যাঁরা চলচ্চিত্রে সিলপো করবেন তাঁরা একটু গ্যাঁটের পহা খচ্চা করে সিলপো করুন না। আমরা দু-চোখ ভরে দেখি। আগে ছিল আর ডি বনশল-রঞ্জিৎমল কাংকারিয়া, এখন ভেঙ্কটেশ আর ধানুকা। তা বাপু ওদের ভরসায় সিলপো করার শখ কেন?
  • মাখনলাল | 94.198.40.106 | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৮:৪০497606
  • দাদা, কুরোসাওয়া কে?
  • কোশ্ন | 43.251.171.191 | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৯:১০497607
  • সেকালের শোলে ডন মানে গুরুর ছবি নিয়ে কেন শুধু, একালের বাহুবলী বিষয়েও একই কথা - "খুবই দক্ষ, খুবই যোগ্য সিনেমা, যদিও শৈল্পিক ভাবে খুবই নিচু মানের" বলার মত কোনো বুদ্ধিজীবী গাটস দেখান নি এখনো? গৌতম ঘোষ, আদুর গোপালকৃষ্ণন, কুমার সাহানী, কমল স্বরূপ বা আশিস অভিকুন্থক এর মতামত কেউ জানেন?
    'ফতোয়া' মানে টা আবার অভিধান দেখে নিতে হবে এখানে প্রযোজ্য কিনা।
  • সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায় | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২২:৫৬497617
  • প্রথমে সুকিকে লিখি। শুধু মিহির বোস কেন, নেহরু-প্যাটেলের নেশন-বিল্ডিং এক্সারসাইজ নিয়ে গুচ্ছের লেখা আছে। নেহরু এবং প্যাটেল, একজন বাম একজন দক্ষিণ। দেশভাগে এঁদের একটাই সাধারণ জায়গা ছিল। এঁরা ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং ভাগাগাভাগিতে বিশ্বাস করতেননা। এক জাতি-এক দেশ এরকম একটা ধারণা নিয়ে চলতেন। টাটা-বিড়লা-ঠাকুরদাসরাও ওই একই নৌকোর শরীক ছিলেন। পুরো শিল্পের অধিকার এঁদের চাই, ইস্পাহানিদের সঙ্গে ভাগাভাগি বা প্রতিযোগিতা নয়। বস্তুত বিড়লা দেশভাগের পক্ষে একটি পুস্তক লিখেছিলেন, যার মোদ্দা কথা হল, বিভক্ত ভারতই ভালো থাকবে। তারও আগে এঁরা সবাই মিলে তৈরি করেন বোম্বে প্ল্যান, স্বাধীন ভারতের সরকার মোটামুটি সেটাই অনুসরণ করেছিল। 
     
    এসবের বিশদ বিবরণ দেবার দরকার নেই এখানে। কিন্তু কথা হল, এই এককেন্দ্রিক শক্তিশালী ভারতের ব্যাপারে বেশ ঐকমত্য ছিল। প্যাটেল স্বাধীনতা পেয়েই বস্তুত রাজ্যজয়ে বেরিয়েছিলেন। সমস্ত দেশীয় রাজ্যগুলি জয় করার জন্য। অর্থনৈতিক নীতিতে চালু হল মিশ্র অর্থনীতি। শিল্পপতিরা কেন্দ্রীভূত ভারতের সমস্ত সেক্টর ভাগ করে নিলেন। কিন্তু তারপরেও জনগোষ্টী ছিল  বহুধাবিভক্ত। নানা জাতিতে। সেটাকেও সংস্কৃতিগত ভাবে একটা কেন্দ্রীয় কাঠামোয় বেঁধে ফেলার দরকার হল। যা বহু আলোচিত, তা হল, নেহরু এই কাজে ব্যবহার করেছিলেন এবং মদত দিয়েছিলেন, বোম্বের সিনেমাকে। রাজকাপুর বা দেব আনন্দ মূলত নেহরুর নীতির সাফল্য। 
     
    তো, এসব শুনতে ভালই। কিন্তু, মাশুল সমীকরণ বা কেন্দ্র-রাজ্যের আয় ভাগাভাগির নীতি যেমন পশ্চিমবঙ্গের ভারি শিল্পের সর্বনাশ করেছিল, তেমনই এই তথাকথিত নেশন বিল্ডিং বাংলা সিনেমার বারোটা বাজিয়ে দেয়। এ একেবারে জলজ্যান্ত সত্য। 
     
    দ্বিতীয় কথাটারও উত্তর দিই। "দেখা যাচ্ছে দেশভাগের ২০-৩০ বছর অবধি সবথেকে টার্বুলেন্ট সময়টা বাংলা সিনেমা দিব্যি পাল্লা দিয়ে কাটিয়ে দিয়েছে , তারপর হটাৎ করে মুখ থুবড়ে পড়ে যাচ্ছে" -- এই প্রেমাইসটাই আদ্যন্ত ভুল। 
     
    • ১৯৪৭ সালের আগে বাংলা সিনেমা (নানা ভার্সানের) বাজার ছিল অধুনা পশ্চিমবঙ্গ, বাংলাদেশ, আসাম, বিহার ঝাড়খন্ড, এসব হয়ে লাহোর অবধি। বোম্বের সঙ্গে সর্বভারতীয়ত্বে টক্কর দিত কলকাতার সিনেমা। 
    • ১৯৪৭ সালের পর  বাজার ছোটো হয়ে দাঁড়ায় স্রেফ পশ্চিমবঙ্গে। বোম্বের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার ওখানেই ইতি। 
    • ১৯৫৫ সালে বাংলা সিনেমার প্রোডাকশান কমে এক তৃতীয়াংশ হয়ে যায়। 
    • ১৯৫৫-৫৬ সালে বাংলা সিনেমার বাজেট কমে খুব নিচে নেমে আসে। এর সরাসরি হিসেব পাওয়া সম্ভব নয়। তবে সমকালীন পত্রিকায় বাজেট কত কমালে সাফল্য আসছে, সেই নিয়ে লেখা হয়েছে। সাদা-কালো বাংলা সিনেমা কোনো চয়েস নয়, বাধ্যবাধকতা হয়ে দাঁড়ায়। 
    • ১৯৫৫-৫৬ সালের মধ্যে নিউ থিয়েটার্স সহ সমস্ত বড় প্রতিষ্ঠানগুলি বন্ধ হয়ে যায়।
    • ১৯৫৫-৫৬ সালের মধ্যেই হিন্দি সিনেমা ছেয়ে ফেলে প্রেক্ষাগৃহ। হিসেব নেই, তবে, সে সময়ের পত্রপত্রিকায় এ নিয়ে লেখালিখি হয়েছে। এখন অবশ্য আর লেখালিখিও হয়না।
     
    এর সবকটাই পতনের চিহ্ন। স্বাধীনতার ১০ বছরের মধ্যে। তারপর কুড়ি বছর ৫৬ থেকে ৭৬, বাংলা সিনেমা চলেছে হিন্দির কাছে, রঙিন ছবির কাছে, সস্তা এন্টারটেনমেন্টের কাছে সঙ্কুচিত হতে হতে। কিছু হিট ছবি হয়েছে, লোকে সেগুলো মনে রেখেছে। কিন্তু বাজারের অধিকাংশ ছবিই, ওই সময়েও হিন্দি। তারপর জনরুচি একসময় পুরোটাই বদলেছে। সাদা-কালো রোমান্টিক ছবি আর চলেনি। ডমিনো এফেক্টে প্রথম ঘরটা ভাঙার পর, শেষ অবধি যেতে একটু সময় লাগবে তো।
     
    এর মধ্যে ৮০র দশক থেকে টিভিতে শুরু হওয়া রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম আর ধরলাম না। ওটাও আরেকটা গেম চেঞ্জার। 
  • Amit | 203.0.3.2 | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০২:৫১497628
  • আমিও এক এক করেই  প্রশ্ন করি - ?
     
    1. "১৯৪৭ সালের পর  বাজার ছোটো হয়ে দাঁড়ায় স্রেফ পশ্চিমবঙ্গে"- দেশভাগের জন্যে ​​​​​​​বাংলাদেশ , লাহোরের ​​​​​​​বাজার ​​​​​​​হাতছাড়া ​​​​​​​হলো ​​​​​​​মানা ​​​​​​​গেলো. আসাম, বিহার ঝাড়খন্ড র ​​​​​​​বাজার ​​​​​​​কেন ​​​​​​​হাতছাড়া ​​​​​​​হলো ? 
     
    2. "১৯৫৫ সালে বাংলা সিনেমার প্রোডাকশান কমে এক তৃতীয়াংশ হয়ে যায়।"- একই ​​​​​​​সময়ে (৪৭-৫৫ ) ​​​​​​​হিন্দি , তামিল ​​​​​​​বা ​​​​​​​তেলেগু ​​​​​​​বা ​​​​​​​অন্য ​​​​​​​সিনেমার প্রোডাকশন ​​​​​​​ট্রেন্ড ​​​​​​​কিরকম ? ডাটা ​​​​​​​কোথায় ? যদি ​​​​​​​সবকটা ​​​​​​​ওয়ান থার্ড ​​​​​​​কন্ট্রাকশন ​​​​​​​না হোক একটা ​​​​​​​জেনারেল ডাউনওয়ার্ড ​​​​​​​ট্রেন্ড ​​​​​​​দেখায় ​​​​​​​তাহলে ​​​​​​​আলাদা ​​​​​​​করে ​​​​​​​বাংলা র পতনের ​​​​​​​কারণ ​​​​​​​হিসেবে ​​​​​​​এটা ​​​​​​​তোলা ​​​​​​​যায়কি ? বাকিরা রিভাইভ করতে পারলো , আমরা পারলাম না কেন ? 
     
    3. "১৯৫৫-৫৬ সালে বাংলা সিনেমার বাজেট কমে খুব নিচে নেমে আসে"-কেন ? সেটা ​​​​​​​কি ​​​​​​​শুধুই ​​​​​​​বাজারের ​​​​​​​দোষ ​​​​​​​নাকি ​​​​​​​কোয়ালিটির ​​​​​​​দোষ ? সাদাকালো ​​​​​​​ছবি ​​​​​​​হিট ​​​​​​​হয়না ? ১৯৮৪ ​​​​​​​এ অঞ্জন চৌধুরীর শত্রূ বলে একটা সাদাকালো মুভি আসে - রঞ্জিত মল্লিক ​​​​​​​হিরো। ​​​​​​​সেটা ​​​​​​​শিল্প ​​​​​​​হোক ​​​​​​​নাহোক , কলকাতার ​​​​​​​৭-৮ টা ​​​​​​​হলে ​​​​​​​হাউসফুল ​​​​​​​চলেছিল ২০-২৫ ​​​​​​​হপ্তাহ। 
     
    ৫। "১৯৫৫-৫৬ সালের মধ্যেই হিন্দি সিনেমা ছেয়ে ফেলে প্রেক্ষাগৃহ"- নিজেই ​​​​​​​লিখেছেন ​​​​​​​হিসেব নেই। আমার ​​​​​​​নিজের দেখা ​​​​​​​৮০-র ​​​​​​​দশকেও ​​​​​​​কলকাতায় ​​​​​​​উত্তরা-পূরবী-উজ্জ্বলা ​​​​​​​-ছবিঘর ​​​​​​​-প্রাচী ​​​​​​​আরো ​​​​​​​একগাদা ​​​​​​​হলে তখনো ​​​​​​​ওনারা শুধু বাংলা ​​​​​​​ছবি ​​​​​​​চালাতেন অলমোস্ট ​​​​​​​পুরো ​​​​​​​বছর। ​​​​​​​কলকাতার ​​​​​​​বাইরে ​​​​​​​ছেড়েই ​​​​​​​দেওয়া ​​​​​​​যাক। ভ্যালিড ডাটা ছাড়া এই ক্লেম জাস্ট দাড়ায়না.
     
    ​​​​​​​৮০-র ​​​​​​​শেষের ​​​​​​​দিকে ​​​​​​​এর ​​​​​​​মধ্যে ​​​​​​​একটি ​​​​​​​হলে ​​​​​​​সম্ভবত ​​​​​​​প্রথমবার ​​​​​​​হিন্দি ​​​​​​​ছবি ​​​​​​​আসে। ​​​​​​​তখনকার ​​​​​​​হল মালিকের ​​​​​​​ইন্ট​​​​​​​এসেছিলো ​​​​​​​​​তারিখ ডিটেলস ​​​​​​​মনে ​​​​​​​নেই। ​​​​​​​কিন্তু তিনি ​​​​​​​ডাইরেক্ট ​​​​​​​বলেছিলেন ​​​​​​​অনেকদিন ​​​​​​​তিনি ​​​​​​​ডেডিকেটেডলি ​​​​​​​বাংলা ​​​​​​​ছবি দেখিয়েছেন।। ​​​​​​​কিন্তু ​​​​​​​আর ​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​তার পক্ষে আর লসে চালানো সম্ভব নয়। সুতরাং এক্ষেত্রেও হল না পাওয়ার থেকে সেই হলে চালাতে পারার মতো প্রোডাক্ট না বানাতে পারাটাই ইঙ্গিত করে। 
     
    6.নিজেই ​​​​​​​বলেছেন ​​​​​​​জনরুচি ​​​​​​​একসময় বদলেছে। সাদা-কালো রোমান্টিক ছবি আর চলেনি. তো ​​​​​​​না ​​​​​​​চললে ​​​​​​​সেরকম ​​​​​​​ছবি ​​​​​​​কে ​​​​​​​বানাতে ​​​​​​​বলেছিলো ? আমার ​​​​​​​পাড়ায় ​​​​​​​লোকে ​​​​​​​এগরোল ​​​​​​​খেতে ​​​​​​​চাইছে , আর ​​​​​​​আমি ​​​​​​​আমার ​​​​​​​বাসি ​​​​​​​সিঙ্গারা ​​​​​​​ছাড়া ​​​​​​​কিছু ​​​​​​​বিক্রি ​​​​​​​করবোনা - তো আমার দোকান লাটে উঠলে কি বাজারের দোষ ? 
     
    আর আমার ব্যক্তিগত মতামত - অধিকাংশ উত্তম সুচিত্রা সাদাকালো রোমান্টিক মুভি ই অত্যন্ত ৩র্ড ক্লাস। নেহাত ষ্টার কারিশমা আর অসাধারণ গানের জোরে সেগুলো হিট হয়ে গেছে। সেসবকে শিল্প বলে চালাতে গেলে স্বয়ং রায়মশায় -যাঁকে উপলক্ষ্য বানিয়ে এই এজেন্ডা পিস্ টি লেখা হলো তিনি নিজেই হয়তো কবরে উল্টে যেতেন। 
     
    ৭। নিউ থিয়েটার্স বন্ধ হয়ে যাওয়ার বেসিক কারণ তো মালিক দের ইনফাইটিং। ওরকম হাজারটা সংস্থা বন্ধ হয় অনেক দেশে। নতুন সংস্থা গড়ে ওঠে  নতুন মার্কেটে। সেটা যখন হয়নি তখন এটাও বলা যায় যে বাঙালিরা মে নট বি ক্যাপাবল এনাফ। 
     
    কালকে থেকে যেটা রিপিটেডলি বলার চেষ্টা করে যাচ্ছি - সবসময় ভালো সিনেমা বানাতে হাই বাজেট লাগেনা। থাকলে নিশ্চয় ভালো , কিন্তু ওটাই একমাত্র রিকুইরেমেন্ট নয়। আজকে সাউথে হোক কি হিন্দি - হাজার টা লো বাজেট মুভি বা ওয়েব সিরিজ তৈরী হচ্ছে যেগুলো স্টার  কাস্ট , ফরেন লোকেশনে নাচানাচি , অ্যাকশন স্টান্ট , কম্পুটার গ্রাফিক্স সব ছাড়াই শুধু গল্প আর কনটেন্ট এর জোরে হিট হয়ে যাচ্ছে - বাকি রা তার  রিমেক করছে। একটু ​​​​​​​এই ​​​​​​​বাজারগুলোর ​​​​​​​খোঁজ ​​​​​​​খবরও ​​​​​​​তো রাখা ​​​​​​​দরকার ? 
     
    তো সে রকম লো বাজেট ভালো মুভি বা সিরিজ কেন বাংলায় বানানো যাচ্ছে না ? ভালো সিনেমা বানালে যে লোকে দেখে সেটা তো ভুতের ভবিষ্যৎ বা প্রাক্তন বা আরো বেশ কয়েকটা সিনেমায় দিব্যি দেখা গেছে। ক্রিয়েটিভিটি তো আর জোর করে বানানো যাবেনা ?
  • Amit | 203.0.3.2 | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০২:৫৭497629
  • যা শালা , খানিকটা কি করে উড়ে গেলো ?
  • সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায় | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৭:২৩497642
  • ১৯৪৭ সাল থেকেই বাংলা সিনেমাশিল্পের  অধোগতি শুরু। সেটা দেখাচ্ছিলাম। কেন তো আগে জিগাননি, এখন জিগাচ্ছেন বলে ছোটো করে  বলি। আগেও লিখেছি। 
    স্বাধীনতা উত্তর বাংলা সিনেমার তিনটে সমস্যা ছিল। 
    এক, বাজার ছোটো হয়ে যাওয়া। দেশভাগের ফলে। 
    দুই, ফিনান্সের সংকট। সঠিক মনে নেই, অন্তত গোটাকুড়ি ব্যাংক ফেল করে সেই সময়ে। স্টুডিওগুলো ক্যাশের সমস্যায় পড়ে। 
    তিন, সরকারি নীতি। যেটা সরাসরিই হিন্দি সিনেমাকে প্রেফারেনশিয়াল ট্রিটমেন্ট দিচ্ছিল। 
     
    এর সবকটাই রাজনৈতিক সমস্যা। শেষটা সরাসরি ফ্রি মার্কেট ইকনমির উল্টোদিকে। এই তিনটেই কারণেই বিগ ইন্ডাস্ট্রি লাটে উঠতে শুরু করে। 
     
    এবার বড়ো করে, প্রতিটা পয়েন্টের উত্তর দিই। 
     
    1. "১৯৪৭ সালের পর  বাজার ছোটো হয়ে দাঁড়ায় স্রেফ পশ্চিমবঙ্গে"- দেশভাগের জন্যে বাংলাদেশ , লাহোরের ​​​​​​​বাজার ​​​​​​​হাতছাড়া ​​​​​​​হলো ​​​​​​​মানা ​​​​​​​গেলো. আসাম, বিহার ঝাড়খন্ড র ​​​​​​​বাজার ​​​​​​​কেন ​​​​​​​হাতছাড়া ​​​​​​​হলো ? 
    -- বাংলা সিনেমার মূল বাজারটা ছিল বাংলায়। সেখানে প্রফিট বেশি হত। তারপর বাইরের বাজারের জন্য ডাবল বা মাল্টিপল ভার্সান বানানো হত। বাংলার বাজার অর্ধেকেরও বেশি কমে যাবার ফলে ডাবল বা মাল্টিপল ভার্সানে ইনভেস্ট করা সম্ভব হয়নি। বস্তুত বড় স্কেলে যারা সিনেমা বানাত সবকটা স্টুডিওই ১৯৫৫-৫৬ সালে উঠে যায়। বাংলা ভাগ না হলে উঠতনা। 
     
    2. "১৯৫৫ সালে বাংলা সিনেমার প্রোডাকশান কমে এক তৃতীয়াংশ হয়ে যায়।"- একই ​​​​​​​সময়ে (৪৭-৫৫ ) ​​​​​​​হিন্দি , তামিল ​​​​​​​বা ​​​​​​​তেলেগু ​​​​​​​বা ​​​​​​​অন্য ​​​​​​​সিনেমার প্রোডাকশন ​​​​​​​ট্রেন্ড ​​​​​​​কিরকম ? ডাটা ​​​​​​​কোথায় ? যদি ​​​​​​​সবকটা ​​​​​​​ওয়ান থার্ড ​​​​​​​কন্ট্রাকশন ​​​​​​​না হোক একটা ​​​​​​​জেনারেল ডাউনওয়ার্ড ​​​​​​​ট্রেন্ড ​​​​​​​দেখায় ​​​​​​​তাহলে ​​​​​​​আলাদা ​​​​​​​করে ​​​​​​​বাংলা র পতনের ​​​​​​​কারণ ​​​​​​​হিসেবে ​​​​​​​এটা ​​​​​​​তোলা ​​​​​​​যায়কি ? বাকিরা রিভাইভ করতে পারলো , আমরা পারলাম না কেন ? 
    -- হিন্দি বা দক্ষিণী সিনেমার ট্রেন্ড খুঁজে বার করাই যায়, তবে দরকার নেই। এরা দ্রুত উঠছিল, কলকাতা দ্রুত পড়ছিল। যেকোনো ডেটাতেই দেখা যাবে। বাকিদের রিভাইভ করার প্রশ্নই নেই, তারা দেশভাগের যে সংকটগুলি বললাম, ফেসই করেনি। বোম্বে কিছুটা করেছে, লাহোর মার্কেটটা ফস্কে ফেলায়। নেহরু তার জায়গায় রাশিয়া, আফ্রিকা, এসব বাজার ধরে দিয়েছিলেন। 
     
    3. "১৯৫৫-৫৬ সালে বাংলা সিনেমার বাজেট কমে খুব নিচে নেমে আসে"-কেন ? সেটা ​​​​​​​কি ​​​​​​​শুধুই ​​​​​​​বাজারের ​​​​​​​দোষ ​​​​​​​নাকি ​​​​​​​কোয়ালিটির ​​​​​​​দোষ ? সাদাকালো ​​​​​​​ছবি ​​​​​​​হিট ​​​​​​​হয়না ? ১৯৮৪ ​​​​​​​এ অঞ্জন চৌধুরীর শত্রূ বলে একটা সাদাকালো মুভি আসে - রঞ্জিত মল্লিক ​​​​​​​হিরো। ​​​​​​​সেটা ​​​​​​​শিল্প ​​​​​​​হোক ​​​​​​​নাহোক , কলকাতার ​​​​​​​৭-৮ টা ​​​​​​​হলে ​​​​​​​হাউসফুল ​​​​​​​চলেছিল ২০-২৫ ​​​​​​​হপ্তাহ। 
    -- ১৯৮৪ থাক। ১৯৪৭ এর পরের বিপর্যয়  বাজার বা কোয়ালিটি কারোরই দোষ না। দেশভাগ, অর্থাৎ রাজনৈতিক কারণে পুঁজি এবং বাজার দুটোই নাটকীয় ভাবে  কমে যায়। ১৯৪৮ সালে রূপমঞ্চে লেখা হচ্ছে, বাংলা সিনেমার বাজেট ৭০, হাজার, পারলে ৫০ হাজারে কমিয়ে আনা উচিত (হিন্দি যখন ১০ লাখও ছুঁচ্ছে) । নইলে টাকা ফেরানো অসম্ভব। ৫০-৫১ তে নিউ থিয়েটার্সের বীরেন সরকার যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি চলছে বলে বাজেট কমানো দরকার বলছেন। বিএমপিএর প্রেসিডেন্ট বলছেন ৫০ সালে যে ৪৩ টা সিনেমা বানানো হয়েছে, বড়জোর তার অর্ধেক লাভ করবে। 
    এ সবই দেশভাগ জনিত বাজার এবং পুঁজির সমস্যা। ফ্রি মার্কেট ইকনমি থাকলে এ জিনিস হতনা। কারণ ৪৭ এর ঠিক আগেই বাজেট এবং বাজার উভয়েই কলকাতা আর বোম্বে অ্যাট পার ছিল। এক বছরের মধ্যে কোনো ইন্ডাস্ট্রি অদক্ষ হয়ে যায়না। 
     
    ৫। "১৯৫৫-৫৬ সালের মধ্যেই হিন্দি সিনেমা ছেয়ে ফেলে প্রেক্ষাগৃহ"- নিজেই ​​​​​​​লিখেছেন ​​​​​​​হিসেব নেই। আমার ​​​​​​​নিজের দেখা ​​​​​​​৮০-র ​​​​​​​দশকেও ​​​​​​​কলকাতায় ​​​​​​​উত্তরা-পূরবী-উজ্জ্বলা ​​​​​​​-ছবিঘর ​​​​​​​-প্রাচী ​​​​​​​আরো ​​​​​​​একগাদা ​​​​​​​হলে তখনো ​​​​​​​ওনারা শুধু বাংলা ​​​​​​​ছবি ​​​​​​​চালাতেন অলমোস্ট ​​​​​​​পুরো ​​​​​​​বছর। ​​​​​​​কলকাতার ​​​​​​​বাইরে ​​​​​​​ছেড়েই ​​​​​​​দেওয়া ​​​​​​​যাক। ভ্যালিড ডাটা ছাড়া এই ক্লেম জাস্ট দাড়ায়না.
    ​​​​​​​৮০-র ​​​​​​​শেষের ​​​​​​​দিকে ​​​​​​​এর ​​​​​​​মধ্যে ​​​​​​​একটি ​​​​​​​হলে ​​​​​​​সম্ভবত ​​​​​​​প্রথমবার ​​​​​​​হিন্দি ​​​​​​​ছবি ​​​​​​​আসে। ​​​​​​​তখনকার ​​​​​​​হল মালিকের ​​​​​​​ইন্ট​​​​​​​এসেছিলো ​​​​​​​​​তারিখ ডিটেলস ​​​​​​​মনে ​​​​​​​নেই। ​​​​​​​কিন্তু তিনি ​​​​​​​ডাইরেক্ট ​​​​​​​বলেছিলেন ​​​​​​​অনেকদিন ​​​​​​​তিনি ​​​​​​​ডেডিকেটেডলি ​​​​​​​বাংলা ​​​​​​​ছবি দেখিয়েছেন।। ​​​​​​​কিন্তু ​​​​​​​আর ​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​তার পক্ষে আর লসে চালানো সম্ভব নয়। সুতরাং এক্ষেত্রেও হল না পাওয়ার থেকে সেই হলে চালাতে পারার মতো প্রোডাক্ট না বানাতে পারাটাই ইঙ্গিত করে। 
    -- ৮০র দশকের অ্যানেকডোট থাক। ৫০ এর দশকের ডেটা নেই। বা থাকলেও আমার জানা নেই। তবে রঙ্গালয় ১৯৫০ সালেই লিখছেঃ "হিন্দি সিনেমা ভালো- ভালো প্রেক্ষাগৃহে দেখানো হচ্ছে, আর বাংলা সিনেমা ভীষণভাবে প্রান্তিক হয়ে পড়ছে। বাংলা সিনেমা বাংলা হলগুলিতেই আর জায়গা পাচ্ছেনা।"  হিন্দি সিনেমা ক্রমশ বাজার দখল করছে, এটা তার স্বীকারোক্তি। 
     
    6.নিজেই ​​​​​​​বলেছেন ​​​​​​​জনরুচি ​​​​​​​একসময় বদলেছে। সাদা-কালো রোমান্টিক ছবি আর চলেনি. তো ​​​​​​​না ​​​​​​​চললে ​​​​​​​সেরকম ​​​​​​​ছবি ​​​​​​​কে ​​​​​​​বানাতে ​​​​​​​বলেছিলো ? আমার ​​​​​​​পাড়ায় ​​​​​​​লোকে ​​​​​​​এগরোল ​​​​​​​খেতে ​​​​​​​চাইছে , আর ​​​​​​​আমি ​​​​​​​আমার ​​​​​​​বাসি ​​​​​​​সিঙ্গারা ​​​​​​​ছাড়া ​​​​​​​কিছু ​​​​​​​বিক্রি ​​​​​​​করবোনা - তো আমার দোকান লাটে উঠলে কি বাজারের দোষ ? 
    -- বেসিক জায়গাটাই মিস করছেন। এটা আঁতোনেতের নামে চলা সেই বিখ্যাত ডায়লগটা মনে করায়। রুটি নেই তো কী, কেক খেতে কে বারণ করেছিল? 
     
    আর আমার ব্যক্তিগত মতামত - অধিকাংশ উত্তম সুচিত্রা সাদাকালো রোমান্টিক মুভি ই অত্যন্ত ৩র্ড ক্লাস। নেহাত ষ্টার কারিশমা আর অসাধারণ গানের জোরে সেগুলো হিট হয়ে গেছে। সেসবকে শিল্প বলে চালাতে গেলে স্বয়ং রায়মশায় -যাঁকে উপলক্ষ্য বানিয়ে এই এজেন্ডা পিস্ টি লেখা হলো তিনি নিজেই হয়তো কবরে উল্টে যেতেন। 
    -- ঠিক মনে হয়না। আমার ব্যক্তিগত মতামত। 
     
    ৭। নিউ থিয়েটার্স বন্ধ হয়ে যাওয়ার বেসিক কারণ তো মালিক দের ইনফাইটিং। ওরকম হাজারটা সংস্থা বন্ধ হয় অনেক দেশে। নতুন সংস্থা গড়ে ওঠে  নতুন মার্কেটে। সেটা যখন হয়নি তখন এটাও বলা যায় যে বাঙালিরা মে নট বি ক্যাপাবল এনাফ।
    -- ভুল। ইনফাইটিং না। বাজার এবং ফিনান্সের অভাবে বন্ধ হয়। এর অনেক সাক্ষ্য আছে। এবং একই সময়ে বাকি বড় সংস্থাগুলিও, যেমন ধরুন ভারতলক্ষী বন্ধ হয়ে যায়। এর লিখিত ইতিহাস আছে। বড় করে আর বললামনা। নিউ থিয়েটার্স কতটা কেপেবল ছিল, সেসবও লিখিতই। নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখেনা। এবং এটাও খুবই হাস্যকর কথা, যে, ৪৭ এর আগে পর্যন্ত যারা দক্ষতার সঙ্গে গোটা ভারতে চুটিয়ে ব্যবসা করছিল, এরকম গোটা পাঁচেক সংস্থা, হঠাৎ ৪৮ সালেই ইনকেপেবল হয়ে গেল। পশ্চিমবঙ্গের ব্যাংকগুলোও একই সঙ্গে ইনকেপেবল হয়ে লালবাতি জ্বেলে দিল। 
     
    সত্যি কথা বলতে কি, বাঙালি কীরকম ইনকেপেবল, এটা যদি অ্যাজেন্ডা হয়, তো এত কথাই অর্থহীন। 
  • Amit | 203.0.3.2 | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৮:০৭497643
  • আর শেষ পয়েন্ট টা ? লো বাজেট এ স্টারকাস্ট ছাড়া শুধু কনটেন্ট দিয়ে বাকিরা ভালো জিনিস বানাতে পারছে ? কলকাতা নয় কেন ? 
     
    আর ৬ নম্বরে যে রুটি আর কেকের তুলনাটা আদৌ  আসেনা সেটা আপনি ভালো করেই জানেন। সিনেমা শিল্প অনেকের রুটি রুজি জোগাড় করে ঠিকই কিন্তু আম লোকের কাছে সেটা এসেনশিয়াল কিচ্ছু নয়।  জাস্ট এন্টারটেনমেন্ট। সিনেমা না দেখলে কেও উপোষ করে মরবেনা। হাতে এক্সট্রা পয়সা থাকলে তার যা ইচ্ছে সেটাই দেখবে। এতে সংরক্ষণের কোনো ব্যাপর নেই। আইদার এডাপ্ট উইথ টাইম এন্ড ডিমান্ড  অর পেরিশ। 
     
    যেকোনো পারফর্মিং আর্ট অডিয়েন্সের রিঅ্যাকশন এর ওপর ডিপেন্ড করে। লোকে সময়ের সাথে সাথে গ্রামের যাত্রাপালা - লোকনাট্য থেকে সিনেমায় মুভ করেছে এককালে- তেমনি এখন সিনেমা থেকে ওয়েব সিরিজ বা ইউটুবে মুভ কোরছে। তো আমরা তো সিনেমার জন্যে যেসব প্রান্তিক যাত্রাশিল্পী তাদের জীবিকা হারিয়েছেন তাদের জন্যে চোখের জল ফেলছি ? অথবা অটো বা ট্যাক্সি আসার পর কমে যাওয়া হাতে টানা রিকশা বা ঘোড়ার গাড়ির জন্যে ? কেন নয় ?
     
    আর নেহেরু প্যাটেল এর হাতে সেই সময় আর কি কি অপসন ছিল ?  দেশভাগ হয়ে গেছে অলরেডি। একটি নতুন দেশ (বা যুদ্ধের পরে নতুন ভাবে গড়ে তোলা দেশ ) এর ইমেজ বিল্ডিং এর জন্যে ইসরায়েল / জার্মানি / ফ্রান্স / জাপান / ফিলিপিন্স / রাশিয়া -আরো একগাদা দেশ প্রোপাগান্ডা মুভি বানাতো বা এখনো বানায় দুনিয়ার সামনে দেশের পসিটিভ ইমেজ বিল্ডিং দেখানোর জন্যে। 
     
    সেখানে বাইরের দেশের সামনে কালচারাল শো করলে কোনটা দেখবেন ? মাদার ইন্ডিয়া না পথের পাঁচালি (সেটা শিল্প হিসেবে যে দরেরই হোক) ? আপনি একটা ইন্টারভিউ তে গেলে ভালো জামা -প্যান্ট পড়ে যান নাকি ছেঁড়া ধুতি ?
     
    ইন্ডিয়ার মতো মাল্টি কালচারাল বা মাল্টি লিঙ্গুয়াল দেশে তো সে কাজ আরো হাজার গুন্ কঠিন। অবশ্যই বাকি সব কাজ ফেলে শুধু ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে প্যাট্রোনাইজ করা সম্ভব ছিলোনা। সেখানে বলিউড এদের কাজটা সোজা করে দিয়েছিলো. এটা সিম্বায়োসিস ও হতেই  পারে। আলাদা করে নেহেরু প্যাটেল সক্কলকে ছেড়ে শুধু বাংলা মুভি ইন্ডাস্ট্রিকে টার্গেট করে ধ্বংস করতে এসেছিলেন -সেটা বললে তার মোটিভ টাও বলা জরুরি - তাইনা ?  ওনাদের ইনসেনটিভ টা ঠিক কি ছিল ?
     
    আর আমরা চাই বা না চাই - কোল্যাটেরাল ড্যামেজ ঘটছে - ঘটেই চলেছে দুনিয়া জুড়ে। 
     
    মাশুল সমীকরণ এর ইফেক্ট ক্যালকুলেট করা তো সোজা। ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইনপুট আউটপুট কস্ট আর ট্যাক্স ডিফারেনশিয়াল থেকে। পারফর্মিং আর্ট তো আর স্প্রেডশীট নয় যে বামদিক ডানদিক মিলিয়ে কষে ফেলা যাবে । তার মেজর কম্পোনেন্ট গুলোই হলো ক্রিয়েটিভিটি বা পাবলিক একসেপটান্স। সে সব মাপার কোনো স্কেল আছে নাকি ?
     
    আর প্যাটেল তখন রাজ্যজয়ে না বেরোলে আজকে ইন্ডিয়া হয়তো ডেমোক্রেসির ধারে কাছেও থাকতোনা (যতই রাস্তা চলা বাকি থাক)। গুচ্ছ গুচ্ছ ছোট মোনার্কি র কংগ্লোমারেট হতো আর প্রত্যেকে অন্যের পেছনে কাঠি করে বেড়াতো। 
  • Amit | 203.0.3.2 | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৮:৩০497644
  • আর সরকার থেকে সরাসরি প্রমোট করা হচ্ছে বা ফ্রি মার্কেট ইকোনমির এগেনস্ট এ যাওয়া হচ্ছে  এটা তখনি ক্লেম করা যায় যে  সেটা প্রুভ করা যায় যদি ইন্ডিয়া গভট হিন্দি মুভি গুলোকে বাংলার হলে দেখানোর জন্যে বেটার ট্যাক্স কাট বা ট্যাক্স ফ্রি করে দিচ্ছিলো। 
    যাতে হল মালিক দের কাছে বাংলা র থেকে হিন্দি সিনেমা দেখানোর একটা ডাইরেক্ট ফিনান্সিয়াল ইনসেনটিভ আছে। সেম উইথ অডিয়েন্স।  হিন্দি ছবির ​​​​​​​টিকেট ​​​​​​​এর ​​​​​​​দাম ​​​​​​​বাংলার ​​​​​​​থেকে ​​​​​​​কম ​​​​​​​হয়ে ​​​​​​​গেলে হয়তো বেশি লোকে এটা ছেড়ে ওটা দেখতে লাগলো । 
     
    তো ​​​​​​​সেরকম ​​​​​​​কি ​​​​​​​মাস ​​​​​​​স্কেলে ​​​​​​​করা ​​​​​​​হয়েছিল তখন ? নাহলে ​​​​​​​কোন ​​​​​​​এক ​​​​​​​রঙ্গালয় ​​​​​​​পত্রিকার ​​​​​​​এক ​​​​​​​লাইন বিলাপ ​​​​​​​যে বাংলা ছবি হল পাচ্ছেনা - পড়ে ​​​​​​​এই ​​​​​​​সিদ্ধান্তে ​​​​​​​আসা ​​​​​​​যায়কি ?ওরকম ​​​​​​​হাজারটা ​​​​​​​আর্টিকল ​​​​​​​এলেও নয় ​​​​​​​যতক্ষণ ​​​​​​​ডাটা ​​​​​​​না ​​​​​​​আসছে। ​​​​​​​তাহলে ​​​​​​​তো আইটি সেলের হোয়াটস্যাপ পড়ে ​​​​​​​ইতিহাস ​​​​​​​শিখতে ​​​​​​​হয়। 
  • জ্যায় | 2a03:e600:100::26 | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৯:১৫497649
  • মাদার ইন্ডিয়া আবার কেন? বাইরের দেশের জন্য মোদিজির ভাষণই তো বেস্ট। দেশপ্রেম, শিল্প, পারফর্মিং আর্ট, মেরা ভারত মহানের সুপার কম্বো ফেলে রায়বাবুর ছবি দেখে কোন আহাম্মক?
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। পড়তে পড়তে মতামত দিন