• বুলবুলভাজা  ধারাবাহিক  স্বাস্থ্য  শনিবারবেলা

  • করোনার দিনগুলি - দ্বিতীয় ঢেউ - নবম কিস্তি

    ঐন্দ্রিল ভৌমিক 
    ধারাবাহিক | স্বাস্থ্য | ০৫ জুন ২০২১ | ৩১২ বার পঠিত | ২ জন
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • ~~ ২০ ~~

    মন খারাপ


    হঠাৎ হঠাৎ কোলাহল। আবার থেমেও যায়। অকস্মাৎ নিস্তব্ধ হয়ে যায় আশপাশ। সামনের চেয়ারে নতমস্তকে বসে থাকে চৌদ্দ বছরের অনাথ ছেলে। অনাথ ছিল না তিনদিন আগেও। ওর বাবা, মা একটি সরকারি কোভিড হাসপাতালে মারা গেছেন একই দিনে। একজন সকালে, একজন রাত্রে।

    শোকের সময় নেই। ছেলেটির জ্বর আসছে। ছেলেটির সাথে তার কাকা এসেছেন। তাঁরও জ্বর। বাড়িতে বয়স্ক ঠাকুমা। তাঁরও জ্বর।

    জ্বর ছাড়া আর কোন রোগ নেই? আছে- আদিম আতংক। সকলে আতংকে ভুগছেন। বোধ, বুদ্ধি, বিবেচনা বোধ গুলিয়ে ফেলছেন। মৃত্যু ভয়- লকডাউনের ভয়- কাজ হারানোর ভয়।

    এক শীর্ণকায়া ভদ্রমহিলা এসেছেন। তাঁর স্বামী করোনায় আক্রান্ত হয়ে সাগর দত্ত হাসপাতালে মারা গেছেন। ভদ্রমহিলা ঘন ঘন অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় কোয়াক ডাক্তারের নিয়মিত ডাক পড়ে। তিনি এসে দু – বোতল, তিন – বোতল স্যালাইন চালান। টালির ঘরে টিম টিমে হলুদ বালব। ঘরের এধার থেকে ওধার নাইলনের দড়ি। তার থেকে স্যালাইনের বোতল ঝোলে। মহিলা ক্রমশ বিছানার সাথে মিশে যান। কোয়াক ভরসার বাণী শোনান, 'শরীরের ভেতর শুকিয়ে গেছে। স্যালাইন দিলেই ঠিক হয়ে যাবে।'

    রোগিণী ঠিক হন না। অথবা যেটুকু ঠিক হন, ওই ভরসাটুকুর জোরেই।

    আমি পাশ করা ডাক্তার, বোঝানোর চেষ্টা করি। 'শরীর ওভাবে শুকিয়ে গিয়ে কোনো রোগ হয় না। খামোখা স্যালইন দিয়ে লাভ নেই।'

    রোগিণীর আত্মীয়দের সিদ্ধান্তহীনতা বেড়ে যায়। ওষুধ লিখে দিই। রোগিণী পরের দিন আবার আসেন। তার পরের দিনও। অবস্থার উন্নতি হয় না। কোনো ওষুধই প্রিয়তম মানুষটিকে হারানোর কষ্ট কমাতে পারে না।

    জ্বর নিয়ে বন্ধ কারখানার শ্রমিক আসেন। জ্বর নিয়ে ভ্রাম্যমাণ সব্জি বিক্রেতা আসেন। জ্বর নিয়ে কাজের মাসি আসেন। ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা তাঁদের আধমরা করে রাখে। ডাক্তার আর ভরসা দিতে পারে না। ডাক্তার চোখ বুজলেই দুঃস্বপ্ন দেখে।

    একেকটা করে উদ্দেশ্যহীন দিন কাটে। সকাল থেকে দুপুর, দুপুর থেকে রাত। মাস্কের আড়ালে প্রতিটি মুখ এক।

    করোনার আগের দিনগুলি অলীক মনে হয়। আদৌও কি সেই সব দিনগুলি ছিল? যখন সোনার কারিগর জোয়ান ছেলেটি নববধূকে নিয়ে আসত। যুবকের চোখে প্রগাঢ় ভালোবাসা। যুবতীর ঠোঁটের কোণে রহস্যময় হাসি।

    যুবকটি বলে, 'একবার ভালো করে দেখে দেন ডাক্তারবাবু। বেলা গড়ালে ওর খুব দূর্বল লাগে।'

    'এই মেয়ে তোর বাপের বাড়ি কোথায়? কলেজে গিয়েছিলি? তাহলে এত বড়ো বড়ো নখ রেখেছিস কেন?'

    যুবকটি হাসতে হাসতে একটা পাঁচশো টাকার নোট বার করে। আমি ফেরত দেওয়ার জন্য চকচকে একশো- দুশো টাকার নোট খুঁজি।

    করোনার দিনগুলি চলে গেলেও আগের দিনগুলি ফিরবে না। শ্রমজীবী মানুষদের বহু লড়াই তখনও বাকি থাকবে।


  • বিভাগ : ধারাবাহিক | ০৫ জুন ২০২১ | ৩১২ বার পঠিত | ২ জন
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • বিপ্লব রহমান | ০৬ জুন ২০২১ ০৬:৪২494626
  • শেষ বাক্যে দীর্ঘশ্বাস! তবু আশানদী প্রবাহমান।

    আরো লিখুন, শশী ডাক্তার

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। কল্পনাতীত প্রতিক্রিয়া দিন