• বুলবুলভাজা  ধারাবাহিক  রাজনীতি

  • ‘বিজেপিকে রোখার প্রস্তুতিতে আরও কিছুটা সময় দিল বাংলার ভোটের ফলাফল’

    দীপঙ্কর ভট্টাচার্যের সঙ্গে আলাপে নীলাঞ্জন হাজরা
    ধারাবাহিক | রাজনীতি | ২৫ মে ২০২১ | ৪২১৮ বার পঠিত | ৫ জন
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • সামাজিক প্রকল্পগুলির জোরেই নিজস্ব ভোট ধরে রেখেছে তৃণমূল। অতিরিক্ত ভোট মিলেছে সুস্পষ্ট বিজেপি-বিরোধী অবস্থানে। সুচিন্তিত ভাবে মহিলা ও সংখ্যালঘুদের বড়ো অংশ বেছে নিয়েছেন এই দলকেই। বিজেপি-র সর্বভারতীয় বিপদ সম্যক ভাবে বুঝতেই পারছেন না মূলধারার বাম নেতৃত্ব। বিরোধী ভূমিকাপালনের বদলে নিজেদের ভেবেছেন ‘গভর্নমেন্ট ইন ওয়েটিং’। জনবিচ্ছিন্নতা চরমে। বামশূন্য বিধানসভায় বিজেপি-র উত্থান দুশ্চিন্তার। জানালেন দীপঙ্কর ভট্টাচার্য। আলাপে নীলাঞ্জন হাজরা


    প্রথম পর্ব

    নীলাঞ্জন হাজরা— আজ ১২ মে, ২০২১। কথা বলছি সিপিআই(এমএল)-লিবারেশন নামের রাজনৈতিক দলের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্যের সঙ্গে। সবে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হয়েছে—অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস(এআইটিসি) পেয়েছে ২১৩ টি আসান, ভারতীয় জনতা পার্টি(বিজেপি) ৭৭ এবং ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট(আইএসএফ) ১ টি। এখন পর্যন্ত বুথ-ওয়াড়ি পরিসংখ্যান আসেনি, কাজেই খুব পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ সম্ভব নয়। তবু, মোটামুটি সার্বিক ধারণার ভিত্তিতে আপনি আমায় বলুন, আপনার কাছে এই ফলাফল কী ইঙ্গিতবাহী?

    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য— সবথেকে স্পষ্ট যে ইঙ্গিত তা হল, একটা ধারণা তৈরি হয়েছিল যে, বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে জোর করে ক্ষমতা দখল করে নেবে। এই আশঙ্কা ছিল বলেই আমরা সবথেকে বেশি জোর দিয়েছিলাম যে, বিজেপি-কে হারাও, বাংলা বাঁচাও। তৃণমূল কংগ্রেস ভোট পেয়েছে প্রায় ৪৮ শতাংশ, আর বিজেপি ৩৮ শতাংশ। কাজেই ধরে নিতে পারি প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ এই নির্বাচনে বিজেপিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। এটা আমার কাছে মনে হয় একনম্বর ইঙ্গিত এবং সবথেকে ভালো ইঙ্গিত।

    এবার দ্বিতীয় প্রশ্ন হল, আমরা যদি ২০১৬-র বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে ফিরে যাই তাহলে দেখব, বিজেপির জেতা আসনসংখ্যা ছিল ৩, ভোটের শতাংশ আমার ঠিক মনে নেই সম্ভবত ১০-১২ শতাংশ (১০.১৬), সেই নিরিখে বিজেপি হয়েছে তিন থেকে ৭৭ (৩৮.১৩ %)। এটা শুধু লাফিয়ে বাড়া নয়, বিধানসভায় এই মুহূর্তে বিরোধী বলতে শুধু বিজেপি। সেখান লেফট এবং কংগ্রেস পুরোপুরি আউট। বিরোধীপক্ষের এই যে ছবিটা এটা অবশ্যই একটা বড়ো বিপদের ইঙ্গিত। ফলে, এই নির্বাচনে যে আশঙ্কা ছিল সেইটা ঠেকানো গেছে। বিজেপি কিন্তু মনে করছে আমরা ওয়েটিং লিস্টে আছি। এবারে এটাকে কনফার্মেশন করে দিতে হবে। যেটা ওরা বলছে।

    কাজেই, আমি বলছি খানিকটা সময় আমরা পেলাম। আমরা এটাকে ‘বেঙ্গল ব্রিদার’ বলতে পারি, নিশ্বাস নেওয়ার কিছুটা সময় পেলাম।

    নী. হা.এবার আমার প্রশ্ন হল, ১০ বছর ক্ষমতায় থাকার পরেও তৃণমূল কংগ্রেস ৪৭.৯৪ শতাংশ ভোট পেল, যা আগে কখনও পায়নি, এটা তো চাট্টিখানি কথা নয়। এটা কীভাবে সম্ভব হল? তার কোনো বিশ্লেষণ আপনারা করেছেন? এর একাধিক কারণ থাকতে পারে, সে বিষয়ে আপনারা কী ভাবছেন?

    দী. ভ.— সার্বিক ভাবে যদি দেখি, এর মধ্যে দুটো দিক আছে। একটা হচ্ছে, তৃণমূল কংগ্রেসের সম্পর্কে প্রচুর বিক্ষোভের কথা আমরা শুনি, কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস তার নিজস্ব ভোটের একটা বড়ো অংশকে ধরে রাখতে পেরেছে। পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে যাঁরা লেখালিখি করেন, বিশেষ করে ইকনমিস্টরা, তাঁরা বলছেন, এই সরকারের যে বিভিন্ন ওয়েলফেয়ার স্কিমগুলি চলে সেগুলোর ডেলিভারিতে অবশ্যই কিছু লিকেজ আছে, কিছু হয়তো দুর্নীতি আছে, তা নিয়ে মানুষের মধ্যে বিক্ষোভ আছে, কিন্তু ওভার-অল তার যে ডেলিভারি, সেখান থেকে (তৃণমূল কংগ্রেসের) ভোটের একটা ভিত্তি তৈরি হয়েছে।

    দ্বিতীয়ত, বেশ একটা উল্লেখযোগ্য সংখ্যার মানুষ, যাঁরা তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থক নন, যাঁরা তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনীতি এবং সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে অনেক প্রশ্নেই যথেষ্ট বিরোধী, তাঁরা বিজেপি-র বৃহত্তর বিপদটাকে বুঝে, বিজেপির বিরুদ্ধে সবথেকে শক্তিশালী ও ভায়াবল বিকল্প হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেসকে বেছে নিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের ৪৮ শতাংশ ভোটের মধ্যে আমি বলব দুটো ভাগ আছে, একটা সেদলের নিজের ভোট, আর-একটা ভাগ বিভিন্ন কোণ থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে জড়ো হয়েছে বিজেপিকে আটকাতে। তার শতাংশের হিসেব এই মুহূর্তে আমার পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়, কিন্তু যদি ধরি তার নিজস্ব ভোট ৪০ শতাংশ (গত বিধানসভা নির্বাচনে ছিল ৪৪.৯১ শতাংশ), আট শতাংশ ভোট কিন্তু এই দলকে মানুষ দিয়েছেন বিজেপি-কে আটকাতে।

    নী. হা.এইবারে আমি বিভিন্ন দলের পক্ষ থেকে এই ফলাফলে যে প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়েছে, সেগুলি আপনার নজরে এনে, সেগুলির বিষয়ে আপনার মতামত চাইব। প্রথমেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এ পর্যন্ত যা বলেছেন, আমার নজরে যা এসেছে—খুব পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ জনপরিসরে করেননি এই ফলাফলের। সার্বিক ভাবে মানুষকে ধন্যবাদ দিয়েছেন বিজেপিকে পরাস্ত করার জন্য। কিন্তু দুটো কথা বলেছেন, যার মধ্যে একটি আমার কাছে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে হয়েছে—তিনি মহিলাদের সমর্থনের কথা বিশেষ ভাবে উল্লেখ করেছেন। আর বলেছেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের ভোটের কথা।

    এখন এই যে বিপুল সংখ্যক মহিলা ভোটার, এই বিষয়ে আমার প্রশ্ন হল—আপনার কী মনে হয়েছে যে, তৃণমূলের নিজের যে কমিটেড ভোটাররা আছেন, যাঁদের মধ্যে বহু মহিলাও স্বাভাবিক ভাবেই আছেন, তাঁরা ছাড়াও, এতকাল তৃণমূলের প্রধান বিরোধী সিপিআই(এম)-নেতৃত্বাধীন বাম দলগুলি, এবং কংগ্রেস, সেই দলগুলির দীর্ঘকালীন সমর্থক মহিলারাও এবারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে তৃণমূলকে ভোট দিয়েছেন?


    দী. ভ.— মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে দিয়েছেন এটা হয়তো নির্দিষ্ট ভাবে বলা যাবে না। কিন্তু বিজেপির বিরুদ্ধে দিয়েছেন। মহিলাদের ভোটের বিষয়ে আমি বলব, এটা নিশ্চয়ই একটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার এখানে। কারণ পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি যেটা করতে চেয়েছিল সেটা হচ্ছে হিন্দু-মুসলমান মেরুকরণ। ওদের অঙ্কটা খুব সোজা ছিল—মুসলমানরা একদিকে ভোট দিলে আমরা হিন্দুদের বলব, ওরা একদিকে ভোট দিচ্ছে, তোমরাও একদিকে ভোট দাও, ওরা ‘মুসলিম তুষ্টিকরণের মাধ্যমে মুসলিম ভোটব্যাংক তৈরি করা হচ্ছে’ এই কথাটা বারবার বলে আসলে নিজেরা একটা হিন্দু ভোটব্যাংক তৈরি করতে চেয়েছিল। মানে, যেখানে হিন্দু ভোট দেবে হিন্দু হিসেবে। এই ছকটা ভাঙার ক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ‘জেন্ডার’। ক্লাস, শ্রেণি—কৃষক-শ্রমিক—যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে জেন্ডার। এবং আমার মনে হয়েছে, পশ্চিমবাংলায় বিভিন্ন ভাবে এটা উঠে এসেছে। সেখানে আপনি মহিলা ভোটারদের আলাদা আলাদা ডিমগ্র্যাফিক এজ-গ্রুপ ভাবতে পারেন, শিক্ষা ইত্যাদি মিলিয়ে তাঁদের আলাদা আলাদা প্রোফাইল করতে পারেন, আমাদের কাছে যে খবর আসছে সব মিলিয়ে মহিলাদের তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি-কে সমর্থনের মধ্যে ১৪-১৫ শতাংশ পার্থক্য হয়েছে।

    নী. হা.যেটা বিশাল ব্যাপার…

    দী. ভ.— বিশাল… এটা বিশাল। এই যে ওয়েলফেয়ার স্কিমগুলোর কথা বলছিলাম, অবশ্যই মহিলাদের মধ্যে তার একটা বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা আছে। ধরুন স্বাস্থ্যসাথী বলে যে স্কিমটা আছে, সেটাতে মহিলাদের ভূমিকা যা রাখা হয়েছে…

    নী. হা.কন্যাশ্রী থেকে সেটা শুরু হয়েছে…

    দী. ভ.— অবশ্যই। অবশ্যই। তো সেক্ষেত্রে মহিলাদের ক্ষমতায়ন বলতে যা বলা হয়, তার অন্তত একটা বোধ যদি তৈরি হয়ে থাকে, সেটা আছে। এ ছাড়া, বিজেপির যে রাজনৈতিক ভাষা— যেমন ধরুন যোগী আদিত্যনাথ এসে বললেন উত্তরপ্রদেশের মতো এখানে ‘অ্যান্টিরোমিও স্কোয়াড’ করব, ‘লাভ-জিহাদ’ বন্ধ করে দেব। এখন ‘লাভ-জিহাদ’ বিরোধী আইন মানে কী? কিছু মুসলমান যুবককে জেলে পুরে দেওয়া। এই ‘লাভ-জিহাদ’-বিরোধী আইন আনার হুমকি, এটা আসলে কী? হিন্দু-মুসলমান মৈত্রী ও নারীস্বাধীনতা উভয়ের ওপর একাধারে হামলা। এমন কোনো আইন হলে নিজের ধর্মপালনের অধিকার এবং নিজের জীবনসাথী নিজে বেছে নেওয়ার অধিকার, দুটোই আক্রান্ত হবে। এটা কিন্তু শুধু মুসলমান যুবকদের ভাবায়নি। এটা কিন্তু হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে যে নতুন প্রজন্মের মেয়েরা, যারা স্বাধীনতা চায়, তাদেরও ভাবিয়েছে।

    নী. হা.আমিও নয়-নয় করে অনেকগুলি বিধানসভা-লোকসভা নির্বাচন দেখলাম। কিন্তু এবারের নির্বাচনি প্রচারে বিজেপির নেতা-কর্মীরা, বাইরে থেকে আসা নেতারাই শুধু নয়, একেবারে দীর্ঘকাল পশ্চিমবঙ্গে রাজনীতি করা বিজেপি নেতারা যে উগ্র মনুবাদী-পুরুষতান্ত্রিক হুঙ্কার পেড়েছিলেন, যে ভাষায় কথা বলছিলেন, তা আমি এর আগে কোনোদিন মনে করতে পারি না। এখন, আমার মনে হয় যে, বাংলার একটা দীর্ঘকালীন সাংস্কৃতিক পরম্পরা থেকেই, নারীরা, মেয়েরা, হয়তো ব্রাহ্মণ্যবাদী, মনুবাদী এসব তাত্ত্বিক ভাবে না ভেবেই, এই ভাষাটাকেই, এই আক্রমণাত্মক অবস্থানটাকেই নিতে পারেননি, সহ্য করতে পারেননি। আপনার কী মনে হয়?

    দী. ভ.— একদম ঠিক। বাংলার সংস্কৃতির কথা অবশ্যই মনে রাখতে হবে। বাংলার যে মনীষীরা… ধরুন রামমোহন রায়, বা ধরুন বিদ্যাসাগর… ওই সময়ে, অতকাল আগে, তাঁরা সতীদাহ প্রথা রুখে দিতে চাইছেন, বিধবা-বিবাহ চালু করতে চাইছেন। কী কঠিন সময় তখন, এখনকার থেকে অনেক কঠিন। মানে ধরুন, হিন্দুকোড বিল আনতে গিয়ে (ভীমরাও) আম্বেদকরকে যে বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে ১৯৫০-এর দশকে, তার থেকে বহুগুণ বাধা তখন ছিল, সেইটাকে অতিক্রম করে, তার বিরুদ্ধে তাঁরা রুখে দাঁড়িয়েছিলেন তো। রামমোহন, বিদ্যাসাগররা সেইসময় যা অ্যাচিভ করতে পেরেছিলেন, সেটা তো বাংলার সংস্কৃতির রন্ধ্রে রন্ধ্রে রয়ে গিয়েছে। ফলে, ওই ‘জয় শ্রীরাম’ বলে রণহুঙ্কার—আপনি ওইসব মিছিলে মহিলাদের বেশি দেখবেন না। এই রণহুঙ্কার মানুষকে ভয় পাইয়ে দেয়। কাজেই আমার মনে হয়েছে, বিভিন্ন প্রকল্প থেকে যে-মহিলারা লাভবান হয়েছেন, শুধু তাঁরাই নন, বিজেপিকে ভোট দেওয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গে যে ক্যাম্পেনটা হয়েছে, আমি দেখেছি আজকে কলেজ-বিশ্ববিদ্যলয়ের ছাত্রীরা তার একেবারে সামনের সারিতে থেকেছে।

    নী. হা.এবার, বলুন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ, মানে মূলত মুসলমানরা যেভাবে ভোট দিয়েছেন তাতে আপনার কী মনে হয়েছে?

    দী. ভ.— মুসলিম জনগণের ব্যাপক অংশ দেখাই যাচ্ছে তৃণমূলকেই বেছে নিয়েছেন। এমনকি পরম্পরাগত ভাবে যে মুসলমানরা কংগ্রেসের পক্ষে ছিলেন, মালদা, মুরশিদাবাদ, দিনাজপুরের কিছু অঞ্চলে, তাঁদের একটা বিরাট অংশ শিফট করে গিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে। অন্যদিকে (আইএসফ নেতা) আব্বাস সিদ্দিকি-কে ঘিরে মুসলমান ভোট ভাগাভাগির যে আশঙ্কা দেখা গিয়েছিল অন্তত ২৪ পরগনা, হুগলি, হাওড়ার মতো জেলাগুলোতে সেটাও দেখা গেল ঘটেনি। একটা-দুটো আসনে ছাড়া কিছুই দাঁড়ায়নি। বিজেপি এই মুসলমান ভোটটাকে, VOTE শব্দটার অক্ষরগুলো রদবদল করে নিয়ে বলছে এটা VETO, মাইনরিটি ভেটো। রাকেশ সিনহা একটা টুইট করেছেন দেখলাম। এই নিয়ে একটা অপপ্রচার চলছে। মুসলমানদের হয়তো দেখা যাবে ৭৫ শতাংশ তৃণমূল কংগ্রেসকে বেছে নিয়েছেন—অনেকেই বেছে নিয়েছেন, ওঁরাও নিয়েছেন। এবং আমি মনে করি এটা মুসলমানদের রাজনৈতিক বিচক্ষণতা এবং গণতান্ত্রিক অধিকারবোধের যে চেতনাতার পরিচয়। কাজেই, আমার মনে হয়, ঠিকই এইবারের নির্বাচনে মহিলা এবং মুসলিম ফ্যাক্টর যদি বলা যায়, দুটোই খুব ডমিন্যান্ট ভূমিকা নিয়েছে।

    নী. হা.বেশ। আমি টেলিভিশনে প্রশান্ত কিশোরের একটা দীর্ঘ সাক্ষাৎকার দেখছিলাম। সেখানে তিনি এই ফলাফলের কারণের প্রশাসনিক, স্ট্র্যাটেজিক এবং কিছুটা রাজনৈতিক বিশ্লেষণও করেছেন। বিশদে।

    দী. ভ.— নির্বাচনের আগে না পরে…

    নী. হা.পরে। প্রথম যেটা আমার চোখে পড়ল তা এই—সোশাল মিডিয়ায় যে ক্যাম্পেনটা চলেছে যার মূল কথা ছিল ‘ফ্যাসিবাদ রুখতে বিজেপি-কে আটকাও’, উনি সেই কথাই তুললেন না। ফ্যাসিবাদ ইত্যাদি শব্দ উচ্চারণই করলেন না। উনি বললেন, মিডিয়া যেটা লক্ষ্যই করেনি সেটা হল, ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে খানিকটা ধাক্কা খাওয়ার পরে আমরা (উনি ‘আমরা’ ‘আমরা’ করেই বলছিলেন) সোশাল ওয়েলফেয়ার স্কিমগুলোর সুযোগ-সুবিধে যাতে মানুষের কাছে পৌঁছোয়, তার ডেলিভারির দিকটায় খুব নজর দিয়েছিলাম। তৃণমূল কংগ্রেস সরাসরি ভোটের মেশিনে তার ফসল তুলেছে।

    এই সামাজিক প্রকল্পর কথা আপনিও বলেছেন। প্রশান্ত কিশোর খুব জোর দিয়ে এটাই বলেছেন। এবারে, আমি যদি গোটা প্রেমাইসটাকে এইভাবে গঠন করি যে, একদিকে বহু সামাজিক প্রকল্পে যতটাই ডেলিভারি হয়ে থাকুক না কেন তাতে খুশি হয়ে, এবং অন্যদিকে বিজেপি-র রাজনীতি-সংস্কৃতিকে প্রত্যাখ্যান করার উদ্দেশ্যে কংগ্রেস ও বাম জোট, আমি সরাসরি সিপিআই(এম)-ই বলব, তাদের ওপর ভরসা না করে সাধারণ মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর ভরসা রাখলেন। তাহলে এই ভোটের ফলাফলকে আমি সামগ্রিক ভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতি আস্থার ভোট কেন বলব না? মানে, আপনি কী বলবেন?


    দী. ভ.— এটা, একটা বড়ো কম্পোন্যান্ট অবশ্যই। কিন্তু যেহেতু তৃণমূল কংগ্রেসের ভোটের হার ৪৮ শতাংশে চলে গিয়েছে, অতএব এখানে তৃণমূল কংগ্রেস ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি একটা আস্থা অবশ্যই আছে। বড়ো অংশই, হয়তো ৪০ শতাংশ তাই হবে। এর সঙ্গে ওই যে আট শতাংশের কথা বললাম…

    নী. হা.কিন্তু সেই আট শতাংশও যে সিপিআই(এম) বা কংগ্রেসকে না বেছে তৃণমূল কংগ্রেসকে বাছলেন, সেটাও তো একটা আস্থা। যে আমি জানি, এরাই পারবে, এরাই করবে। যদি এইভাবে দেখা যায়?

    দী. ভ.— আমি বলব, সেটা ভারসাম্যের আস্থা। কারণ, অন্য কাকে দিতেন? কংগ্রেস বা সিপিআই(এম)-এর সাংগঠনিক জায়গাটা ভোট করার দিক থেকে অত্যন্ত দুর্বল। এবং রাজনৈতিক জায়গা থেকেও তাঁরা ওই জায়গাটা ছেড়ে দিয়েছেন।

    নী. হা.আমি এইটাতেই আসতে চাইছি… বলুন আপনি…

    দী. ভ.— বিজেপির বিরুদ্ধে আমরা আছি, সেই জায়গাটা কংগ্রেস, সিপিআই(এম) পুরোপুরি ছেড়ে দিয়েছে। ধরুন, নির্বাচন চলাকালীন একটা প্রশ্ন উঠেছিল ত্রিশঙ্কু বিধানসভা হলে কী হবে? তখন তাঁরা এই অবস্থান নিতেই পারতেন যে, বিজেপি-কে আটকাতে নির্বাচনের পরে যদি কিছু ব্যবস্থা নিতে হয় আমরা নেব।

    নী. হা.কিন্তু সূর্যকান্ত মিশ্র খুব অ্যাগ্রেসিভলি বললেন…

    দী. ভ.— হ্যাঁ, বললেন, ‘আমরা কোনোমতেই তৃণমূল কংগ্রেসকে সমর্থন করব না’। তার মানে, বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এল কী এল না তাতে তাঁদের কোনো মাথাব্যথা নেই।

    নী. হা.আপনি আমার পরের প্রশ্নটার উত্তর অনেকটাই দিয়ে ফেলেছেন। তবু জিজ্ঞেস করি, সিপিআই(এম) নেতৃত্বাধীন বামজোট যে মানুষের আস্থা সম্পূর্ণ হারালেন, এর কারণ কী বলে আপনার মনে হয়? এই আলোচনাটা বড়ো করে হওয়া দরকার, কারণ এর বিপুল প্রভাব আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি, সমাজ সবকিছুর ওপরে পড়বে বলে আমার মনে হয়।

    দী. ভ.— এটা কয়েকটা ধাপে বলতে হবে। এই নির্বাচনের আগে সিপিআই(এম) আমাদের (সিপিআই-এমএল-লিবারেশন-এর) সম্বন্ধে লিখলেন যে, পশ্চিমবঙ্গে যদি আমাদের মুখ খুলতে হয়, তাহলে তার প্রথম কথাই হতে হবে ‘অ্যান্টিইনকাম্বেন্সি’। আপনি যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের, তৃণমূল কংগ্রেসের সম্পূর্ণ বিরোধিতা না করেন, তাহলে পশ্চিমবঙ্গে আপনার কথা বলারই কোনো জায়গা নেই। তার মানে, ওঁদের মনে ছিল এবারে বিধানসভার নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে বিবেচ্য মূল প্রশ্নটা হল—১০ বছর ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেসকে কে সরাচ্ছে?

    নী. হা.এখানে একটা স্বাভাবিক প্রশ্ন আছে, তাই একটু আটকাচ্ছি—এই মনে হওয়াটা কেন হল? যদি সিপিআই(এম)-এর রাজ্য নেতৃত্বের কথা ধরা যায়, সেটা ২০১১ (বা তারও আগে) থেকে কার্যত অপরিবর্তিত। সেই একই মুখ। এঁরা কিন্তু প্রত্যেকে সিপিআই(এম)-কে ক্ষমতায় আসতে দেখেছেন, পূর্ণক্ষমতায় দেখেছেন, ক্ষমতা হারাতে দেখেছেন। সূর্যকান্ত মিশ্র, বিমান বসু, মহম্মদ সেলিম… প্রথমসারির রাজ্যনেতৃত্বের প্রত্যেকে ৩৪ বছরের বামশাসন পরিচালনায়, সরকারের সঙ্গে যুক্ত থেকে হোক বা সাংগঠনিক ভাবে হোক, সক্রিয় ভাবে থেকেছেন। এমন অভিজ্ঞ মানুষদের এই অদ্ভুত মনে হওয়াটার কারণ কী? কী মনে হয় আপনার?

    দী. ভ.— দেখুন, এটা মানুষের থেকে একটা বিরাট বিচ্ছিন্নতা। একটা উইশফুল থিংকিং-এ আত্মমুগ্ধ হয়ে থাকা। এই আত্মমুগ্ধ তা তখনই আসে যখন আপনি বাস্তব পরিস্থিতি থেকে এবং জনগণের ব্যাপক ভাবনা থেকে ভীষণ ভাবে বিচ্ছিন্ন। এই বিচ্ছিন্নতা ওঁদের কথাবার্তা, ওঁদের স্লোগান, ওঁদের বিশ্লেষণে ধরা পড়েছে, তেমনই ভোটের ফলাফলেও ধরা পড়েছে। যেটা বলছিলাম, ওঁরা ধরে নিলেন মানুষের সামনে বিবেচ্য প্রশ্ন হল, তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে কে সরাচ্ছে।

    দুই, এখন, নির্বাচনের পরে ওঁদের বিশ্লেষণ যদি দেখেন ওঁরা বলছেন, এটা বিজেপি-বিরোধী ভোট হয়েছে।

    নী. হা.ঠিকই। আমি পাঠকের জন্য একটু উদ্ধৃত করে দিই, ৩ মে, ২০২১, সিপিআই(এম)-এর মুখপত্র ‘গণশক্তি’ প্রথম পৃষ্ঠায় প্রকাশ করেছে সংযুক্ত মোর্চার পক্ষ থেকে বিমান বসুর বিবৃতি—শিরোনাম: ‘বিজেপি’কে হারানোর তীব্র আকাঙ্ক্ষায় লাভ তৃণমূলের’। এই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘এই নির্বাচনে বিজেপি-র পরাজয় উল্লেখযোগ্য ঘটনা… বলা যেতে পারে বিজেপি-কে পরাস্ত করার জন্য জনগণের তীব্র আকাঙ্ক্ষা থেকেই তৃণমূল লাভবান হয়েছে।’’

    দী. ভ.— এই যে কথাটা, এই কথাটা স্বীকার করতে গেলে তো একটা আত্মসমালোচনা আগে করতে হয়। তা হল, জনগণের কাছে সব থেকে বড়ো প্রশ্ন ছিল—বিজেপি ক্ষমতায় চলে আসবে না তো বাংলায়? জনগণের কাছে সবথেকে বড়ো প্রশ্ন—বিজেপি-কে কে আটকাবে? আর পার্টির নেতৃত্বের মনে হয়েছিল, মানুষের কাছে সবথেকে বড়ো প্রশ্ন হল, তৃণমূল কংগ্রেসকে ক্ষমতা থেকে কে সরাবে?

    নী. হা.হ্যাঁ। এবং এরপরেই একটা খুব তাৎপর্যপূর্ণ ‘হাইফেন’ চলে আসছে—এরপরেই বিমান বসুর ওই বিবৃতি বলছে, ‘তৃণমূল-বিজেপি বিরোধী সব শক্তির কাছেই দায়িত্ব বহুগুণ বেড়ে গেল।’ কাজেই ইঙ্গিত এই যে, ভবিষ্যতেও তাঁদের কাছে তৃণমূল এবং বিজেপি সমান শত্রু হিসেবেই থাকবে। তাঁরা এই নির্বাচনি ফলাফলের পরেও সেই অবস্থান থেকে সরছেন না।

    দী. ভ.— সেটা দেখা যাক, আমরা পরে আরও দেখব ওঁরা কী ভাবছেন। কিন্তু ঘটনা এই যে, ওঁদের প্রথম ভুল ছিল, এই নির্বাচনে মানুষের প্রধান বিবেচ্য কী ছিল সেটা বুঝতে না পারা। সেটা যদি ওঁরা বুঝতে পারতেন, তাহলে সিপিআই(এম) এবং কংগ্রেসের প্রথম কর্তব্য ছিল, এটা মানুষের কাছে তুলে ধরা যে আমরাও বিজেপির বিরুদ্ধে একটা বড়ো শক্তি। আমরা যদি ক্ষমতায় চলে আসি, ভালো। যদি না আসতে পারি, তাহলেও বিজেপি-কে এক ইঞ্চি জমি ছেড়ে দেব না। যদি বিধানসভা ত্রিশঙ্কু হয়, আমরা সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব। এই কথাগুলো ওঁরা জোরের সঙ্গে বললেন না। এটা হল প্রথম ভুল।

    নী. হা.এবং আপনি মনে করেন এই না বলাটার পিছনে আছে সিপিআই(এম)-এর জনবিচ্ছিন্নতা?

    দী. ভ.— জনবিচ্ছিন্নতা। এবং জনবিচ্ছিন্নতা ছাড়াও আরও একটা ব্যাপার আছে—বিজেপি যে কীধরনের একটা পার্টি, তারা যে ভারতে কী করতে চলেছে সেবিষয়েও সিপিআই(এম)-এর একটা সম্যক ধারণা গড়ে ওঠেনি। যার ফলে ওঁরা এখানে বিজেপি-কে উল্লেখ করেছেন কার্যত তৃণমূলের বি-টিম হিসেবে। আজকে গোটা ভারত চিন্তিত, সারা দেশ দেখছিল পশ্চিমবঙ্গে কী হচ্ছে। সেইসময়ে সিপিআই(এম) বলছে বিজেপি(পশ্চিমবঙ্গে) তৃণমূলের বি-টিম, অর্থাৎ তাঁদের(সিপিআইএম নেতৃত্বের) পুরো পৃথিবীটা তৃণমূলকে ঘিরে আবর্তিত হচ্ছে।

    ওদের দুটি থিওরি—বিজেপি-কে হারাতে গেলে আগে তৃণমূলকে হারাতে হবে। এবং তৃণমূল ও বিজেপি একই বৃন্তে দুটি কুসুম, দুটো মিলে বিজেমূল—ওঁদের এই যে দুটো তত্ত্ব, এই আজগুবি তত্ত্ব (ওঁদের এই নির্বাচনী ফলাফলের পিছনে) বড়ো একটা ব্যাপার।

    আরও আছে। গত দশ বছরে সিপিআই(এম)-এর কাছে বড়ো চ্যালেঞ্জ ছিল, একটা বিরোধী দল হিসেবে পশ্চিমবঙ্গে নিজেকে রিইনভেন্ট করা। তার বদলে তাঁরা চিরস্থায়ী ভাবে ‘গভর্নমেন্ট-ইন-ওয়েটিং’ (মানে, এই তো আমরা সরকারে এলাম বলে) মানসিকতার মধ্যে থেকে গেলেন। এই মানসিকতাটা ওঁদের বাস্তব অবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে।

    নী. হা.বেশ। এই গেল মোটামুটি নির্বাচনী ফলাফলের আপনার বিশ্লেষণ। এবার আর-একটা জরুরি প্রশ্নে আসি। সেজন্য কয়েকটা পরিসংখ্যান একটু দেখা দরকার। নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক হিসেব

    ২০২১-এ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন
    মোট ভোটারসংখ্যা—৫ কোটি ৯৯ লক্ষ ৩৫ হাজার ৯৮৮
    তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাপ্ত ভোট—২ কোটি ৮৭ লক্ষ ৩৫ হাজার ৪২০ (৪৭.৯৪ %)—জয়ী ২১৩
    বিজেপি-র প্রাপ্ত ভোট—২ কোটি ২৮ লক্ষ ৫০ হাজার ৭১০ (৩৮. ১৩ %)—জয়ী ৭৭
    সিপিআই (এম)-এর প্রাপ্ত ভোট—২৮ লক্ষ ৩৭ হাজার ২৭৬ (৪.৭৩ %)—প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে—১৩৭

    ২০১৬ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন
    সিপিআই (এম)-এর প্রাপ্ত ভোট—১ কোটি ৮ লক্ষ ২ হাজার ৫৮ (১৯.৭৫ %)—প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে—১৪৮—জয়ী ২৬

    ২০১১ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন
    সিপিআই (এম)-এর প্রাপ্ত ভোট—১ কোটি ৪৩ লক্ষ ৩০ হাজার ৬১ (৩০.০৮ %)—প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে—২১৩—জয়ী ৪০

    এর মধ্যে আমার প্রশ্ন— পশ্চিমবঙ্গে ১৯৬০-এর দশক থেকেই, নির্বাচনী রাজনীতিতে অন্তত, প্রধান বামশক্তি, বামদল হয়ে থাকা সিপিআই(এম)-কে ঘিরে। ২০১১ সাল, কার্যত বলা যায় ২০০৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন থেকেই, ভোটের মেশিনে এই দলের যে ক্রমাগত মানুষের আস্থা হারাতে থাকার প্রতিফলন, এবং শেষে এবারের ছ-কোটি ভোটারের মধ্যে ২৮ লক্ষে (শরিকদের ধরলে আরও সামান্য বাড়বে নিশ্চয়ই), আর আসনের নিরিখে শূন্যতে এসে ঠেকা—স্বাধীনতার পর থেকে এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় কোনো কমিউনিস্ট প্রতিনিধি থাকছেন না—এটা যদি সমাজের রাজনৈতিক মনোভাবের প্রতিফলন হয়, তাহলে পশ্চিমবঙ্গ থেকে কমিউনিস্ট—আমি এখানে বাম-ঘেঁষা ইত্যাদি বলছি না—কমিউনিস্ট বামপন্থী মনোভাবাপন্ন মানুষ কি মুছে গেলেন? এমত পরিস্থিতিতে এখানে বামপন্থার ভবিষ্যৎ কী? ইংরেজিতে যাকে বলে—Whither Left?



    এই জরুরি প্রশ্নে দীপঙ্কর ভট্টাচার্যর মতামত প্রকাশিত হবে দ্বিতীয় কিস্তিতে…


  • বিভাগ : ধারাবাহিক | ২৫ মে ২০২১ | ৪২১৮ বার পঠিত | ৫ জন
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Santosh Banerjee | ২৫ মে ২০২১ ২০:১১106421
  • প্রাথমিক শর্ত তো সেটাই হওয়া উচিত ছিল ।...যে ওই বর্বর মৌলবাদী আর ফ্যাসিস্ট ক্ষমতা কে রুখেদেয়া , সেটা বাম নেতৃত্ত্ব একদম কিছুই জানতেন না এমন কি ??এর মধ্যে কোন  সুচতুর খেলা চলেছে , কেনই বা কংগ্রেস নামক একটা ফসিল হয়েযাওয়া দলের তরফে কোনো নেতা বানেত্রী বাংলায় পা রাখলেন না , রাজকুমার রাহুল গান্ধী অসমে বার বার গেছেন , কেরালায় গেছেন , আর বাংলায় ?? আর আমার মনেহয় , এটাআমাদের হঠাৎ প্রাপ্তি তাই  তৃণমূল জিতলো , আর কাপড় তুলে নাচবো তা মোটেই কাম্য নোই। ব্যাঙ তাড়াতে সাপ ঢুকিয়ে দিয়েছি !দেখুন না আগামী দিন গুলোতে এই তৃণমূলী রা পাইয়ে দেয়ার রাজনীতি করে করে আমাদের আরো কত পঙ্গু ,অকর্মণ্য করে , আর মোদ্দা কথা বলি , সিপিম বা  বাম পার্টি বলে যেটা আছে এই বঙ্গে ওটাকে আদৌ কমিউনিস্ট পার্টি বা জন  গণের  পার্টি বলা যায় কি ??এখনো কি ওদের ঔধত্ত্য চলতি কথায় ""ফুটানি ""গুলো গেছে কি ?? উন্নাসিকতা গেছে কি ?? সর্বত্র মার্কস - লেনিন -স্তালিন এর নাতি নাতনি রা ঘুরে বেড়াচ্ছে যে !!চার পাশে ছোট বড় মেজো দাদা দের কথাশুনে তো পেত্তয় হয় না !!!

  • সুদীপ্ত পাল | ২৬ মে ২০২১ ১২:১৯106430
  • খুব ভালো বক্তব্যগুলো। তবে দীপঙ্কর বাবুকে একটা প্রশ্ন করতে ইচ্ছে হয়। উনি বললেন জয় শ্রীরামের রণহুঙ্কার মিছিলে একজনও মহিলা পাবেন না। কিন্তু গত বছর বিহারে ওঁদের উনিশ জন প্রার্থীর তালিকায়ও কোনো মহিলা পাইনি কেন? 

  • কল্লোল চক্রবর্তী | 2402:3a80:abe:3751:f7c7:f570:a2ad:832e | ২৬ মে ২০২১ ১৮:৫৭106445
  •  সিপিএমের সবচেয়ে পুরোনো শত্রু, এই অতি বাম, যারা আসলে আল্ট্রা রাইটিস্টদের মধু খেয়ে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখে।

  • দীপঙ্কর ভট্টাচার্য | 2409:4060:2e1a:235d:edf7:b2f7:a200:bb3 | ২৬ মে ২০২১ ২৩:০৩106461
  • @সুদীপ্ত পাল


    বিহারে আমরা মাত্র একজন মহিলা প্রার্থী দাঁড় করাতে পেরেছিলাম। স্কীম ওয়ার্কার্স আন্দোলন ও মহিলা আন্দোলনের রাজ্য নেত্রী এবং আমাদের পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যা কমরেড শশী যাদব রাজধানী পাটনার দীঘা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। কিন্তু ওখানে আমরা জিততে পারিনি। মহিলা প্রার্থীর সংখ্যা কম থাকাটা অবশ্যই আমাদের তালিকার অন্যতম দুর্বল দিক। জোটের স্বার্থে এবার আমরা অনেক কম আসনে লড়তে বাধ্য হয়েছি, স্থানীয় প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার ফলেও মহিলা প্রার্থীর সংখ্যা খুবই কম হয়েছে। এ দুর্বলতা অবশ্যই দ্রুত কাটিয়ে উঠতে হবে। 

  • দীপঙ্কর ভট্টাচার্য | 2409:4060:2e1a:235d:edf7:b2f7:a200:bb3 | ২৬ মে ২০২১ ২৩:০৩106460
  • @সুদীপ্ত পাল


    বিহারে আমরা মাত্র একজন মহিলা প্রার্থী দাঁড় করাতে পেরেছিলাম। স্কীম ওয়ার্কার্স আন্দোলন ও মহিলা আন্দোলনের রাজ্য নেত্রী এবং আমাদের পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যা কমরেড শশী যাদব রাজধানী পাটনার দীঘা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। কিন্তু ওখানে আমরা জিততে পারিনি। মহিলা প্রার্থীর সংখ্যা কম থাকাটা অবশ্যই আমাদের তালিকার অন্যতম দুর্বল দিক। জোটের স্বার্থে এবার আমরা অনেক কম আসনে লড়তে বাধ্য হয়েছি, স্থানীয় প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার ফলেও মহিলা প্রার্থীর সংখ্যা খুবই কম হয়েছে। এ দুর্বলতা অবশ্যই দ্রুত কাটিয়ে উঠতে হবে। 

  • স্বপন দাস | 2409:4061:2093:e4b9::18b9:d8a0 | ২৭ মে ২০২১ ১০:০২106467
  • এমন ভাব করছে যেন ভোটে জিতে সরকার গড়েছে

  • ওমর রাব্বি | 103.62.144.242 | ২৭ মে ২০২১ ১১:৩০106469
  • পশ্চিমবঙ্গের সিপিআইএম দলের ধারাবাহিক বিপর্যয়ের অন‍্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তাদের পরাজয়ের কোনো বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লষণ আজ পর্যন্ত করতে না পারা। এখনো তারা তাদের ওই বিপর্যয়কে জনগণের 'বিভ্রান্তি' বলে বা নানা ধরনের ষড়যন্ত্র তত্ত্ব দিয়ে ব‍্যাখ‍্যা করার চেষ্টা করে থাকে। আসলে সিপিএমের রাজনীতির শ্রেণীগত সীমাবদ্ধতার কারণেই তাদের পক্ষে কোনো যথার্থ আত্মসমীক্ষা করা এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। প্রকৃতপক্ষে , সিপিএমের রাজনীতি হচ্ছে মূলত পেটিবুর্জোয়া সংস্কারবাদী রাজনীতি। বিশ্ব ধনতন্ত্র তথা ভারতীয় পুঁজিবাদের ক্রমবর্ধমান সংকটেরর কারণে এই সংস্কারবাদ এখন ক্রমান্বয়ে অকার্যকর হয়ে পড়ছে। ফলে একসময়ের সংস্কারবাদী সিপিএম দ্রুতই নির্লজ্জ সুবাধাবাদী ও ক্ষমতালিপ্সু দলে রূপান্তর লাভ করছে। এটাই তার ভবিতব‍্য। ভারতের পেটিবুর্জোয়া বামপন্থার এই শোচনীয় অবস্থা থেকে উপযুক্ত শিক্ষা নিয়ে প্রকৃত বিপ্লবী গণআন্দোলন গড়ে তোলার যথাযথ নীতি-কৌশল বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তা করার এখনই সময় বলে আমরা মনে করি। একবিংশ শতাব্দীর ফ‍্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনকে হতে  হবে অতি অবশ্যই গোটা পুঁজিবাদী ব‍্যবস্থার উচ্ছেদের আন্দোলন। অন‍্যথায় বিপর্যয় এড়ানো অসম্ভব।

  • ওমর রাব্বি | 103.62.144.242 | ২৭ মে ২০২১ ১১:৫০106470
  • সিপিআইএম নেতৃত্বের বোধদয়ের জন্য অপেক্ষা না করে ভারতে সাম্রাজ্যবাদ-পুঁজিবাদ-ফ‍্যাসিবাদ বিরোধী বিপ্লবী গণআন্দোলন গড়ে তোলার  উপযুক্ত নীতিকৌশল নিয়ে চিন্তাভাবনা করাই সেদেশের কমিউনিস্ট বিপ্লবীদের এখনকার প্রধান রাজনৈতিক দায়িত্ব বলে আমরা মনে করি।

  • ? | 43.251.171.165 | ২৭ মে ২০২১ ১২:৩৫106471
  • সেটা কী হবে?  নীতিকৌশল টা ?  কোনো গাইডলাইন আছে? কী করিতে হইবে গোছের? 

  • শান্তনু দত্ত। | 43.255.166.2 | ২৭ মে ২০২১ ২০:৩৮106483
  • কেরল সিপিএম ও বঙ্গ সিপিএম এদের রাজনৈতিক লাইনের ফারাক সম্বন্ধে দীপঙ্করবাবুর বক্তব‍্য জানা গেলে ভালো লাগত। কেরলের সিপিএম তো বিজেপিকে খাতা খুলতেই দেয়নি।এই কৃতিত্ব কি পার্টি লাইন বিবর্জিত? আর বিহারে লিিবারেশন এত ভালো ফল করবার পর বাংলা নির্বাচনে  তৃনমূলের সঙ্গে একযোগে লড়াই করল না কেন?আহ্বান তো ছিল।

  • অশোক রায় | 2401:4900:3147:78f6:0:59:fc03:1601 | ২৭ মে ২০২১ ২১:২০106484
  • বর্তমান পরিস্থিতির যথার্থ মূল্যায়ন ও প্রকৃত শত্রু চিহ্নিতকরন না করতে পারার ফলাফলই প্রকাশ পেয়েছে বামফ্রন্টের ভোটবাক্সে। 

  • ? | 43.251.171.165 | ২৭ মে ২০২১ ২১:৩৮106485
  • সিপিএম এর "" ‘গভর্নমেন্ট-ইন-ওয়েটিং’ (মানে, এই তো আমরা সরকারে এলাম বলে) মানসিকতা "" খুব ভালো পয়েন্ট আউট করেছেন। গত দশ বছর ধরেই এদের স্ট্যান্ড ঠিক এরকম। প্রথমে ছিল - মমতাকে একবার জিততে দাও। পাঁচ বছরে পাবলিক তিতিবিরক্ত হয়ে আমাদের ফিরিয়ে আনবে। সেটা ছিল সবচেয়ে বড় ভুল। এই অ্যাটিচুড না থাকলে ২০১১ তেও তিনোরা জেতে না। এবারও তাই, ভবিষ্যতেও তাই - এত কাটমানি এত চুরি জোচ্চুরি, গায়ের জোয়ারি, লোকে বর্তমানে গভর্নমেন্টে বিরক্ত হয়েই অন্য কাউকে বেছে নেবে। এতে করে কোনো প্রতিবাদ, আন্দোলন, তেড়ে রুখে ওঠা এসবএর থেকে দূরে দাঁড়িয়ে, 'ওরা কী খারাপ' - এই আঙুল তোলাতেই সব এফর্ট শেষ হয়ে যাচ্ছে, যে, ওরা খারাপ প্রতিপন্ন হলেই অবশ্যম্ভাবি অল্টারনেট আমরা। এই ফাঁক দিয়ে বিজেপি ঢুকে ফাল হয়ে বেরোচ্ছে। 


    কেন্দ্রে কংগ্রেসের ও একই স্ট্যান্ড, বিজেপি কে রিজেক্ট করতে হলে মানুষকে বাধ্য হয়ে কংগ্রেসকেই চুজ করতে হবে। আর এটাই সুযোগ ছিল তৃতীয় কোনো সর্বভারতীয় দলের উঠে আসার, যেটা হল না। 

  • আশীষ গায়েন | 2401:4900:3141:899b:0:48:5302:f401 | ২৭ মে ২০২১ ২২:২৫106486
  • সঠিক বিশ্লেষন। বিজেপি কে আপাতত আটকে দেওয়া গেছে। কিন্তু তৃনমুল এত করাপশন যে বেশিদিন এই আগ্রাসী মনোভাবাপন্ন ভয়ংকর দলকে আটকে রাখতে পারবে না। তাই আগামী পাঁচ বছরে জনগণের সামনে একটা বিকল্প খাড়া করতেই হবে। তাকে বিশ্বাস করতে পারা যাবে। এই পরিস্থিতিতে সিপিএম এর সেটা গড়ে তোলার মত ক্ষমতা ইচ্ছে ও সংগঠন নেই। ফলে অন্য বিকল্পের কথা ভাবতে হবে।

  • ঈশানী ঘোষ | 2409:4060:e88:4101::2988:2c04 | ২৭ মে ২০২১ ২৩:৪৪106488
  • সিপিএম এর সব থেকে বড় সমস্যা যারা আমাদের ভোট দিলো না তারা 'অপরাধ' করেছে। আর আরো বড় সমস্যা social media তে cpim সমর্থকদের ঔদ্ধত্য। আপনি সমর্থক হয়ে পার্টির হিতে কিছু বলতে যান, আলোচনা করুন, ওদের মনমতো না হলে অশিক্ষিত, তিনু ... এরা constructive criticism নিতে জানেনা। যে নিজে মরতে চায়, তাকে আপনি বাঁচাবেন কি করে।।।

  • ঈশানী ঘোষ | 2409:4060:e88:4101::2988:2c04 | ২৭ মে ২০২১ ২৩:৪৪106487
  • সিপিএম এর সব থেকে বড় সমস্যা যারা আমাদের ভোট দিলো না তারা 'অপরাধ' করেছে। আর আরো বড় সমস্যা social media তে cpim সমর্থকদের ঔদ্ধত্য। আপনি সমর্থক হয়ে পার্টির হিতে কিছু বলতে যান, আলোচনা করুন, ওদের মনমতো না হলে অশিক্ষিত, তিনু ... এরা constructive criticism নিতে জানেনা। যে নিজে মরতে চায়, তাকে আপনি বাঁচাবেন কি করে।।।

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। হাত মক্সো করতে প্রতিক্রিয়া দিন