• টইপত্তর  বইপত্তর

  • -

    স। র। খান লেখকের গ্রাহক হোন
    বইপত্তর | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৫৪০ বার পঠিত
  •  

     
     


    FBI  ডিরেক্টর হুভার এসে বুভুয়াকে ঝুল বারান্দা থেকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিলো। বুভুয়া দোতলা থেকে পড়ে যেতে যেতে বলছে, "তাও বলবো হেগেলের সেকুলার গড খারাপ, বুদ্ধিমানরা স্বাধীন"।  হুভার লম্বালম্বা কালো নকল পাঁপড়ি লাগানো চোখে দেখছে।  ঢেউ খেলানো সোনালী গাউন গাট্টাগোট্টা শরীরে।  নিচে দাঁড়িয়ে টাকু গলাবন্ধ ফুকো সব দেখেছে নিষ্পাপ চোখে।  বুভুয়ারে তারও হিংসা লাগে।  এইরকম জিনিস সে তার স্বপ্নের মধ্যেও করার সাহস রাখেনা,  শুধু আসেপাশে টুকটাক খুঁচানি মেরে চুপ করে থাকে।   কিন্তু এখন হুভারের দিকে প্রেমময় দৃষ্টিতে তাকাতে তার সাহসে কুলাচ্ছে না।
    বিড়বিড় করে বললো, কিন্তু আমাদের তো বিয়ন্ড আইডেন্টিটি যেতে হবে।   কিন্তু এখন আহত বুভুয়ার কাছে গিয়ে সেকথা বলার সাহস নেই।    গুটিগুটি পায়ে ধীরেধীরে বুভুয়ার দিকে যাচ্ছে।
    দালানের পাশে যে দিকে রোদ, সেখানে কাঠের টেবিলচেয়ার পাতা।   চেয়ারে বসে আছেন আধাঅন্ধ বোর্হেস, বলছেন  "কিন্তু আমার লেখার দোষটা কি হতে পারে এঙ্গেলসের চোখে,  সেটাই তো বুঝলামনা এতো দিনে"।    হেমিংওয়ে পাশে দাঁড়িয়ে গুনগুন করলো,    "মনে হয় মারি এক কারাতে চপ হালা!"    শুনতে পেয়েছে মনে করে গলা তুলে বললো,   আমিও ডুয়েল নিয়ে লিখি তো,   জোয়ানকাল থাকলে আপনার সাথে এক রাউন্ড খেলার ইচ্ছে করতাম।   শেষের দিকে কণ্ঠ আরো ভদ্রোচিত করে ফেললো।   ফকনার মোচে তা দিয়ে চুপ করে দাঁড়িয়ে আছেন - ব্যাপার্স না।                   
    বেসমেন্টে হ্যারল্ড ব্লুম খুব হাউকাউ করছিলেন,   হুভারকে নেমে আসতে দেখে নিজেনিজেই গুটিয়ে এলেন,  ভাব দেখালেন কেউ টের পাচ্ছেনা তার বদল;  সাত্রে বলছিলেন,   "নকল করলে লেখার জোর কমে - আপনাকে এই আজব ধারণা প্রচার করতে কে বলেছে,   আমরা ওখানে তো সবাই সবাইকে সারাক্ষন নকলই করছি, আপনারা কেউ কিছু টের পাচ্ছেন?                                                                        ব্লুম আংক্সাইটি নিয়ে কাঁপাকাঁপা কণ্ঠে বললেন,     জানেনই তো ভাসাভাসা মোরাল শোনায় এমন কথাবার্তা একটু... ছেলেপুলে পড়বে,  কোনো শ্রম দেয়না কেউ... বই তো লেখাই লাগে।   অ্যালেন ব্লুম এসে পড়েছেন, তিনি ঠিকই জানেন তার মতো অন্য ব্লুমও জীবিত মেয়েমানুষের প্রশংসা ঠিক মতো করতে পারেন না।
    সাত্রে দেখলেন কম বয়সী মেয়েদের খুঁজতে এসে বেসমেন্টে কেবল বুড়ো সমালোচক এর সমাহার।
    অন্যদিকে যেতে হবে...        
     

  • আরও পড়ুন
    লাফ  - Saswati Basu

  • অ্যালেন ডুলেস মাথায় হাত দিয়ে বসে আছেন - টেবিলে দুই কনুই, কি ভয়ংকর কথা -তার ময়না তারেই বলে, "পিউ কাঁহা!" - এখন চারিদিকে এক পিউ কাহা ছাড়া আর কোনো খবর নেই।
    আসল খবর কি উপায়ে আসবে! প্রথমে তার লোকেরা ভেবেছিলো সোভিয়েৎরা ইকো মেশিন বসিয়েছে - কিন্তু না, নো ইকো, নো বাইরের ইকো মেশিন, তাদের নিজেদের যন্ত্রে নিজেদের কর্ণই ঝালাপালা!    আসল খোলখবর বের করার পথ পাওয়া যাচ্ছে না!    ৫০০০০ ময়না ছেড়েছিলেন পিউকাঁহা বুলি শিখিয়ে, কিন্তু এখন সকল ময়না সারাক্ষন পিউকাঁহা ছাড়া কিছু বলছে না !   কেমনে কি!
    তার আন্ডারের শোনার হেডফোনওয়ালা ঘাগুঘাগু পুরাতন লোকলস্কর এখন মাঝেমধ্যে বলে বসছে, পিউকাঁহাই সব - আর কিছু নেই দুনিয়ায়, - এটা শেষ আর এটাই প্রথম খবর দুনিয়ায় - খবর আর কিছু নেয়ার নেই - মার্ ছুড়ে হেডফোন ইথারে - কাজ শেষ!
    রাগ লাগে না এমন বোকাবোকা কথা শুনলে! কাজ কোনো দিন শেষ হয়! পিউকাঁহা আমরাই শেখালাম ভেবে চিন্তে বিশ্লেষণ করে! কেমনে এমন হয়! কিছু তো একটা শেষ বটেই! যদি কাজ না হয় তো দুনিয়া! কেমন করে এতো এফিসিয়েন্ট হয়ে গেলো সিস্টেম! সব জায়গা থেকে নিজেদের পাতানো খবরই আসছে! বেসম্ভব সিমেট্রি! যেনো এর বাইরে আসল বলে আর কিছু নেই! মাথায় হাত দিয়ে মাথা নিচু করে আছেন - কি ব্যাখ্যা - সবাই এক সাথে সুইসাইডাল খেলছে -তাও বা কেমনে সম্ভব!
     


    সাত্রে বের হবার একটা পথ পেয়েছেন, একটা সিঁড়ি রোঁদের দিকে গেছে, পথে দাঁড়িয়ে আছেন ফ্রেডরিক জেমেসন, খুব গুলতানি হচ্ছে, পুরো চীনরে উনি পোস্টমডার্ন এর রহস্য ভেদ করে দিচ্ছেন...
    চীনারা সবচে ভালো বুঝতেছে সবকিছু। কোত্থেকে এক মেয়ে এসে বললো, আপনি তো মার্ক্সিজমরেই পোস্ট করে দিচ্ছেন, বাল! বলে পাশ দিয়ে চলে যেতে যেতে যেনো সে উবে গেলো হাওয়ায়..
    যেতে যেতে সাত্রে শুনতে পেলেন , পিছনে জেমসন বলছেন আমারে দিয়ে আপনারা হুমায়ুন আহমেদের গল্পের এন্ডিং এক্সপ্লেইন করেন না কেন - কত সুন্দর মিলে যায় ...

     
     

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
    মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


    পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খারাপ-ভাল প্রতিক্রিয়া দিন