এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  অন্যান্য

  • লাল গড় :পটভুমি,অতিত-বরতমান-ভবিষ্যত

    kanti
    অন্যান্য | ১৪ নভেম্বর ২০০৮ | ৩৯১২৬ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • kallol | ২১ জুন ২০০৯ ১০:১০405093
  • মাওবাদী খোঁজার নামে পুলিশ-প্যারা মিলিটারী অকথ্য অত্যাচার চালাচ্ছে। বাড়ি বাড়ি ঢুকে কোন কথার আগেই বেধরক মারতে শুরু করছে।
    জানিনা আর কতকাল এই সব চলেই যাবে চলেই যাবে। এই একই ছবি কাশ্মীরে, গোটা উত্তর পূর্বে।
    এই মাওবাদী-আলফা-কাশ্মিরী জঙ্গীরা আর কবে বুঝবে যে এইভাবে কিছু হয় না। ওরা তো হয় মরবে, নয় পালাবে, নয় ধরা পড়ে জেল থেকে বেরিয়ে ""মূল ধারায়"" ঢুকে পড়বে - ইয়াসিন মালিক, আজিজুল হক, কল্লোল দাশগুপ্ত কিছু একটা হয়ে যাবে। কিন্তু এই মানুষগুলো যাদের জন্য নাকি এরা সব ""মরণপণ" করে আছেন, তারা, একবার ওদের, একবার এদের হাতে মার খেয়েই যাবেন।
    রাষ্ট্র কোনদিনই এটা বুঝবে না। সম্ভবই না। তাহলে রাষ্ট্র আর রাষ্ট্র থাকবে না।
    এখন বুঝতে পারি জীবনের সেই সব ""সোনালী দিন""এ ব-য়ে আকার ল ছিঁড়েছি।
    তবু লিখতে হবে - আমাদের সন্তানদের জন্য
    সব লিখে যেতে হবে।
  • Arpan | ২১ জুন ২০০৯ ১০:১৭405094
  • অয়ন, সোর্স ডিজক্লোজ না করা সাংবাদিকতার এথিকসের প্রথম পাঠ।

    তবে এই নিয়ে বিতর্ক আছে। এইটা দেখ।

    http://www.journalismethics.ca/feature_articles/right_to_protect.html
  • arjo | ২১ জুন ২০০৯ ১০:২২405095
  • ভাবতে হলে যেকোনো বামপন্থা থেকেই রোমান্টিসিজম এবং আবেগ দুরে সরিয়ে ভাবুন। বামপন্থার বিকল্প শুধুমাত্র উন্নততর বামপন্থা কিনা একথা ভাবারও মনে হয় সময় হয়েছে।

    যাক, তবে মাওবাদীদের এই প্রয়াস হাস্যকর। আজকের দিনে এইভাবে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধাচারন। এখনও অবধি কোনো সাধারণ মানুষ মারা যায় নি, আশা করব শেষ পর্যন্ত্য সাধারণ মানুষের বলি না দিয়েই এই যুদ্ধ মিটবে।
  • a x | ২১ জুন ২০০৯ ১০:৪২405096
  • অসংখ্য প্রশ্ন আছে, বহু মেল লিখে সেভড ড্রাফ্‌ট। বহু পোস্ট লিখে ডিলিট, বহু স্ক্র্যাপ লিখে কাটিয়ে, আপাতত: এই প্রশ্ন কটি করি।

    ১) ধরা যাক মাওবাদীরা ওখানে না থাকলে কি হত। এক - খুব সহজ, টাঙ্গি ইত্যাদি দিয়ে সিপিএমের হার্মাদ বাহিনী আটকানো যেতনা। এদিক ওদিক দুচারটে কাটা পড়ত, মারধোর খেত। দুই - কোনো এক আশ্চর্য উপায়, দা টাঙ্গি, কিম্বা এক গাল বাড়িয়ে দেবার ফলেই আদিবাসীরা তাদের ন্যায্য দাবীর আন্দোলনটা চালিয়ে যেতে পারলেন।

    - রাষ্ট্র কতদিন এটা চালাতে দিত? মানে মাও ওর নো মাও?

    ২) মাওবাদীরা আছে, আদিবাসী মিছিলের ওপর সিপিএমের আক্রমণ হলে এদিক ওদিক কিছু কাউন্টার অ্যাটাক হচ্ছে, কিন্তু এরকম দেখিয়ে দেখিয়ে মৃতদেহ ফেলে রাখা, বা পার্টি ছাড়তে বাধ্য করা ইত্যাদি হচ্ছেনা। এই অবস্থাও বা কতদিন চলত?

    ৩) এই কদিন আগে লালগড়ের নাম শুনেছিলেন? আমি শুনিনি, শুনলেও বিস্মৃতির অতলে হয়ত ছিল। পাশেই আমলাশোল, লোকজন আত্মহত্যা করার আগে আমলাশোলের নাম শুনিনি। এই যে এরকম বিস্তীর্ণ এলাকা পড়ে আছে, যেখানে পাঁচ মাইল হেঁটে জল আনতে হয়, পুলিশের কাছে অভিযোগ করতে গেলে উল্টে মার খেতে হয়। যখন খুশি তখন পুলিশ এসে ধরে পেটায়, মহিলাদের ভাওলেট করে, এগুলোও আমরা জনতাম না যদ্দিন না ঐ লোকগুলো কান ধরে ওঠ বোস করার মত অদ্ভূত সব দাবী জানায়। কোনো সিপিএম, কোনো সিপিআই, কোনো আরএসপি এদের নিয়ে কোনো আন্দোলন করার চেষ্টা করেন নি। মাওবাদীরা এসেছে, এরা সাহায্য নিয়েছে।

    তো এদের কি করা উচিৎ ছিল? আজ পুলিশ পেটাচ্ছে, কালকেও পুলিশ পেটাচ্ছিল। আজ টিভিতে দেখছেন, কাল দেখেন নি। এখন চোখের সামনে লাশ পড়ছে দেখে শিউড়ে উঠছেন, আগে চোখের আড়ালে টপকাত। আমি সিরিয়াসলি জানতে চাই, এই অবস্থায় কি করা উচিৎ ছিল লালগড়ের মানুষদের। আশা করি কেউ ইয়ার্কি মেরেও থানা-পুলিশ করা, আইন-আদালতের সাহায্য নেওয়া ইত্যাদি বলবেন না।
  • a x | ২১ জুন ২০০৯ ১০:৫৫405097
  • আর যা দেখছি, আমাদের দেশের সব রাজনৈতিক দলের কাছেই গুচ্ছের অস্ত্র মজুত আছে। মাওবাদীদের খালি বলে কয়ে আছে। এরা তো নাহয় লুঠ করে। তৃণমূল, সিপিএম এত অস্ত্র মজুত করে কোত্থেকে?
  • Ishan | ২১ জুন ২০০৯ ১১:০৭405098
  • লোকগুলোর কি করা উচিত ছিল, অক্ষর এই প্রশ্নের কোনো উত্তর নাই। আমার কাছে। এমনিতেও লোকে কতটা ক্ষেপে গেলে বা নিরুপায় হলে মাওবাদী স্কোয়াডে নাম লেখায়, সেটা আমি বুঝতেও পারবনা। বোঝার কোনো প্রশ্নই নেই।
  • arjo | ২১ জুন ২০০৯ ১১:১৫405099
  • প্রশ্নটা মনে হয় লোকেরা কি করেছে তা নিয়ে নয়। লোকজন যে সাহায্য করেছে তার দিকেই হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। সেটাই স্বাভাবিক। অক্ষর একটা কথা অবশ্যই ঠিক তাহল মাওবাদী, গেরিলা যুদ্ধ ইত্যাদির আড়ালে আসল সমস্যা ঢেকে যাচ্ছে। যেন লালগড়ে আচমকা মাওবাদীরা টপকে পড়ল। কোনো অসুবিধাই ছিল না। হ্যাঁ এটাও সত্যি হিসেব করলে দেখা যাবে আজ অবধি হয়ত সিপিএম আর তৃণমুলের হাতে বেশি লোক মারা গেছে। এটাকে বলে অ্যাভেইলিবিলিটি বায়াস। ডেটা বেশি বলে এটাই ভয়ংকর লাগছে। আর এই সাধারণ মানুষকে অসম যুদ্ধে ঠেলে দেওয়াটাও মানুষ বোধহয় নিতে পারছে না। নিতে পারার কথাও নয়।
  • a x | ২১ জুন ২০০৯ ১১:৩৫405100
  • সাধারণ মানুষ, নিরীহ মানুষ, বেচারা মানুষ - এটাই রোম্যান্টিসিজম। যেন এদের কোনো নিজেদের ব্যপারে ডিসিশান নেবার ক্ষমতা নেই। যেন এনারা নিজেরা স্বেচ্ছায় মাওবাদীদের সাথে যান নি। যত ছবি এসেছে লালগড় থেকে, দেখা গেছে কাতারে কাতারে মেয়েরা অস্ত্র নিয়ে মিছিলে, মিটিংয়ে অংশ নিচ্ছেন।

    আর মিডিয়াও বটে। ঢপের পর ঢপ খাওয়ায়, আমরা খাই। কোথাও মেয়ে/বাচ্চাদের পুরোভাগে হিউম্যান শিল্ড করে এখনও পাঠানো হয়নি। কিষেনজি আদৌ ওখান থেকে বেরোন নি। এগুলো তো ইচ্ছে করেই প্রচার করা। কে সত্যি বলছে, কে মিথ্যে বলছে বোঝার উপায় নেই। মাওবাদী হামলা বলে কত যে ফলস এনকাউন্টার হয় তা জানার উপায় নেই।

    আর কে বা কারা যেন প্রশ্ন করেছিলেন মাওবাদীরা কি করেছে, আদার দ্যান স্রেফ নিজেদের চাপিয়ে দেওয়া ছাড়া। তো রোম্যান্টিসিজমে ভোগা কারো লেখা পত্তর একদম দেখবেন না। সোজা প্ল্যানিং কমিশনের ২০০৮'র রিপোর্টে চলে যান। দলিত-আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকাতে নকশাল/মাওবাদীদের প্রভাব এত বেশি কেন। কি কি করেছে। এবং সব দলিত/আদিবাসী অঞ্চলেই নকশাল/মাওবাদী সংগঠন কেন নেই। রাষ্ট্রের যা যা করার কথা এরা তাই করে দেখিয়েছে এই সব এলাকা তে। কাজ গুলো করলে মাওবাদীরা আপনা থেকে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাবে।

    আর নেগোসিয়েশন? রাজা আসে, রাজা যায়, গ্র্যান্ড ডিসাইনটি বদলায় না।
    ২০০৪-এ অন্ধ্র সরকার ও পিপলস ওয়ার বসে সমঝোতা করতে। ভূমিহীনদের মধ্যে ভূমি বন্টন নিয়ে। অক্টোবরে মিটিং হয়। ডিসেম্বর অবধি সিজফায়ারে রাজি হয় পিপলস ওয়ার, সরকার কথা দেয় এর মধ্যে ব্যবস্থা করবে। অবশ্যই সে কথা থাকেনা, নকশালরা নিজেরা জমি ডিস্ট্রিবিউশন শুরু করে। এতদিন নিষ্ক্রিয় সরকার তক্ষুণি খুবই তৎপরতার সাথে ব্যবস্থা নেয়। পুলিশ দিয়ে ওয়ারাঙ্গাল, প: গোদাবরী অঞ্চলে গুলি চালিয়ে বেশ কিছু নকশালদের খুন করে।
  • pinaki | ২১ জুন ২০০৯ ১১:৪৯405101
  • চোখের সামনে তো নন্দীগ্রাম হল। মাওবাদীরা যতই লম্ফঝম্প করুক ওখানকার প্রাথমিক প্রতিরোধ ওদের ছাড়াই হয়েছে। আর সেটা জিতেওছে। ১৪ই মার্চের পরের দিন, অর্থাৎ ১৫ই মার্চ ঐরকম টেররের পরেও ৬০০০০ লোকের মিছিল এসে সি পি এমের সশস্ত্র বাহিনীকে ফুটিয়ে দিয়েছে। একটা প্রতিরোধের বাস্তব তাগিদ থেকে আর্মড হয়ে ওঠা নিয়ে আমার অন্তত: কোনও সংশয় নেই। কিছু ভায়োলেন্সও স্বতস্ফূর্ততা থেকে হয়ে যায়। সেটাও না বোঝার মত কিছু নয়। কিন্তু যে কোনও আন্দোলনকে একটু দীর্ঘমেয়াদে টিকিয়ে রাখতে গেলে সমাজে তার পক্ষের শক্তিকে বাড়িয়ে চলার একটা ব্যাপার থাকে। তার জন্য ঐ এক পা আগে দুই পা পিছে - এসব তঙ্কÄ এসেছে। যেকোনও লড়াই তো আর ফাইট টু ফিনিশ নয়। একই রকম পরিস্থিতি এসেছিল ভোটের আগে। পুলিশ ঢুকতে দেওয়া নিয়ে। মাওবাদীরা চেয়েছিল ঘোষিতভাবে ভোট বয়কট হোক। সেটা এই একই ভাবে একটা ফাইট টু ফিনিশ পরিস্থিতি তৈরী করতে পারত। হয় নি। কারণ ঐসময় ছত্রধররা দারুণ একটা প্রস্তাব দেয় যেটা স্টেটের পক্ষেও ফেলা সম্ভব হয় নি আবার আন্দোলনের মূল দাবী থেকেও সরে আসতে হয় নি। এই লড়াইটা দীর্ঘমেয়াদে চালাতে গেলে এইরকম নমনীয়তা এবং দৃঢ়তা - দুটোকে মিশিয়ে মিশিয়ে চলতে হত। আর সেটা করতে পারলে অবশ্যই সি পি এমকে ঐ এলাকা থেকে দূরে রাখা যেত এবং রাজ্য আর কেন্দ্রের বিরোধকে কাজে লাগিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঢোকা আটকে রাখা যেত। সেক্ষেত্রে পাহাড়ের মত ঐ গোটা এলাকা জুড়ে একটা স্বশাসিত পর্ষদ টাইপের তৈরী করার দাবীকে জনপ্রিয় করা যেতে পারতো আর তার মধ্যে দিয়ে জনগণের কমিটি ঐ এলাকার উন্নয়নের রাশ নিজের হাতে নিয়ে নিতে পারতো। তৃণমূল বা সমাজের সাধরণ মানুষ- কারুর পক্ষেই ঐ দাবীকে বিরোধ করার উপায় থাকতো না।

    ইমোশনালি না দেখে যদি একটু বাস্তববাদী চোখ নিয়ে দেখা যায় - তাহলে দেখা যাবে যে শেষ পর্যায়ে মাওবাদীদের যে ভায়োলেন্স, বা বলা ভালো পাব্লিক ডিসপ্লে অফ ভায়োলেন্স - সেটা এক্কেবারে ইচ্ছাকৃত। ঐটা তারা করেছে আন্দোলনটাকে কিছুটা স্টেট রিপ্রেশন ফেস করানোর জন্য। যাতে সেটা আরো বেশী করে মানুষের থেকে অস্ত্রের উপর (পড়ুন মাওবাদীদের উপর) নির্ভরশীল হয়ে ওঠে। অত্যন্ত দু:খের সাথে বলতে বাধ্য হচ্ছি - এটা ওদের একটি জঘণ্য কিন্তু সুপরিচিত কৌশল। সিঙ্গুরের কথা ভাবুন। গোটা অন্দোলনে মাওবাদীদের কোনও অস্তিত্বই ছিল না। কিন্তু ওদের বিবৃতিগুলো দেখুন। এমন একটা ভাব - যেন ওরাই লীড করছে। এবং এটাকে এস্টাব্লিশ করার জন্য ওরা কি করল? কোত্থাও কিছু নেই, হঠাৎ সিঙ্গুরের টাটার কারখানার দেওয়াল থেকে জিলেটিন স্টিক পাওয়া গেল। এইটা করার কারণ কি বলে মনে হয়? একটাই কারণ - আন্দোলনটা ওদের আন্দোলন - এভাবে দাঁড় করানো।

    এখানেও ওরা ঠিক একই জিনিস করছে। এমন জায়গায় আন্দোলনের টিউনটাকে তুলে দিচ্ছে যেখানে একমাত্র ওদের পক্ষেই বা ওদের উপর নির্ভরশীল হয়েই আন্দোলনটাকে টানা যাবে। এবং এটাতে হয়তো ঐ অঞ্চলটা 'মাওবাদী অধ্যুষিত' তকমাটা লাভ করবে, কিন্তু দাবীগুলোর যে কি হবে তা ভগাই একমাত্র জানে।
  • a x | ২১ জুন ২০০৯ ১১:৫৯405103
  • নন্দীগ্রামে সিপিএমকে মোকাবিলা করতে গুলি গোলা ব্যবহার হয়নি? সেটা তৃণমূল জুগিয়েছে তখন। না হলে ওখানেই শেষ হয়ে যেত হয়ত আন্দোলন। আর দুটো সংসদীয় পার্টির মধ্যে লড়াই আর এটার মধ্যে তফাৎ নেই? মাওবাদীদের ট্যাকটিক্স নিয়ে আমার বলার কিছু নেই। কিন্তু জনগণের কমিটিকে দিনের পর দিন ওখানে মুক্তাঞ্চল বানিয়ে রাখতে দিতনা সরকার। তাহলে দরকার হয় রিপ্লেসমেন্ট। নন্দীগ্রামে সিপিএমের জায়গায় তৃণমূল এল। এখানে কে রিপ্লেস করবে কাকে রিপ্লেস করবে?
  • pinaki | ২১ জুন ২০০৯ ১২:০২405104
  • ও হ্যাঁ। বলতে ভুলে গেছি। ঐ একই কৌশল সি পি এমেরও। মানুষের চেয়ে অস্ত্রের ওপর পুরো ব্যপারটাকে নির্ভরশীল করে তোলা। যাতে পুরোটাকে একটা ল এন্ড অর্ডার প্রবলেম হিসেবে দেখানো যায়। দাবীগুলো লঘু হয়ে গিয়ে শুধু মারামারিটুকু পড়ে থাকে। নন্দীগ্রাম খেয়াল করুন। যবে থেকে নন্দীগ্রাম থেকে ওদের অস্তিত্ব মুছে গেছে (৬ই জানুয়ারী, ২০০৭), তবে থেকে শুরু করে পুনর্দখল পর্যন্ত ওরা অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে প্রাত:কৃত্য করার মত নিয়মানুবর্তিতা নিয়ে যে কাজটা করে গেছে - সেটা হল প্রতিদিন রাত্রে খেজুরির দিক থেকে নন্দীগ্রামের দিকে বোমাবর্ষণ। একটি রাত্রিও বাদ যায় নি। কেন? কারণ সশস্ত্র রিট্যালিয়েশন হোক - এটাই ওদের চাহিদা।

    দুর্ভাগ্য হল লালগড়ের ক্ষেত্রে সি পি এমের চাহিদা আর মাওবাদীদের চাহিদাটা মিলে গেল।
  • a x | ২১ জুন ২০০৯ ১২:০৬405105
  • আমিও বলতে ভুলে গেলাম। নন্দীগ্রামেও তো কেন্দ্রীয় বাহিনী ডিপ্লয় করা এড়ানো যায়নি।
  • pinaki | ২১ জুন ২০০৯ ১২:০৭405106
  • মুক্তাঞ্চল (রাজনৈতিক অর্থে, এখানে ক্ষমা না চাওয়া অব্দি পুলিশ ঢুকতে না দেওয়া = মুক্তাঞ্চল - এটা মানে করছি না) বানিয়ে রাখাটাতো আদিবাসীদের এজেণ্ডা নয়। ওটা মাওবাদীদের এজেণ্ডা। আদিবাসীদের যে বেসিক তিনটে দাবী - সেগুলো এই পরিস্থিতি তৈরী না করেও আদায় করা সম্ভব ছিল বলেই আমার মনে হয়।
  • pinaki | ২১ জুন ২০০৯ ১২:১০405107
  • নন্দীগ্রামে মানুষের সাথে যুদ্ধ করার জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনী ডেপ্লয় করা হল কই? দুপক্ষের মারামারি আটকানোর জন্যে করা হয়েছিল। এখানে তো কেন্দ্রীয় বাহিনী যাচ্ছে দাবীটাকে স্ম্যাশ করতে।
  • a x | ২১ জুন ২০০৯ ১২:১৭405108
  • এইসব শুরুর বহু আগে থেকেই জনগণের কমিটির দাবীগুলোকে আদৌ পাত্তা দেয়নি সরকার। কিছুতেই আলোচনায় বসেনি। বামফ্রন্ট সরকারের পুলিশ নাক খৎ দিয়ে ওঠ বোস করবে, এই দাবী মেনে নেবে এমনি এমনি এটা বিশ্বাস করতে একটু অসুবিধে আছে। পঞ্চায়তের হাতে টাকা না দিয়ে ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের টাকা ছত্রধরদের দেবে এমনটাও হত বলে মনে হয়না।
  • a x | ২১ জুন ২০০৯ ১২:২১405109
  • তাছাড়া বুদ্ধদেবের ওপর হামলার পরে, ঐ এলাকায় পুলিশ ঢুকবেনা, এই দাবীও মানত না সরকার।

    একটা প্যারালাল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের দাবী জানানো আর নিজের জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে লড়াই দুটো কি ঠিক এক ধরণের লড়াই?
  • Arpan | ২১ জুন ২০০৯ ১২:২৬405110
  • কিন্তু এত মাস সাপোর্ট বেস নিয়েও কেন এরা সংঅসদীয় গণতন্ত্রে অংশ নেয় না?

    (পুরনো প্রশ্ন। আবার করছি।)
  • pinaki | ২১ জুন ২০০৯ ১২:৪২405111
  • এটা তো মনে হওয়া। সে নিয়ে ডিবেট করার মানে নেই। আমার মনে হওয়াটা আগেই বলেছি। ক্ষমা না চাওয়া অব্দি পুলিশ বয়কট - এটা চলত। অনেক দিন ধরেই চলত। অন্তত: ২০১১ অব্দি - এটা আমার ধারণা। কেন্দ্র আর রাজ্যের কনট্রাডিকশনকে কাজে লাগাতে পারলে প্রেসারটা পুরোপুরি সি পি এমের উপর রাখা যেত বলেই মনে হয়। আর সেক্ষেত্রে লোকসভা নির্বাচনের এই রেজাল্টের পর নিজের ইমেজ রক্ষার কারণেই প: ব: সরকার ওখানে কেবলমাত্র নিজের পুলিশ দিয়ে কোনও অভিযান করত বলে আমার মনে হয় না। এই সুযোগে শুধু লালগড় নয়, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, প: মেদিনীপুর পুরোটার অনুন্নয়নের দাবীটা আর তার সমাধানের জন্য একটা উন্নয়ন পর্ষদ তৈরীর দাবীকে জনপ্রিয় করা যেতে পারতো। লালগড়ের মত একটা ছোট্ট এলাকায় 'স্বশাসন' মাওবাদী অর নো মাওবাদী - কোনও অবস্থাতেই আদায় করা সম্ভব নয়। ক্ষমা চাওয়ার দাবীতে কিছুকাল পুলিশ ঢুকতে না দেওয়া অব্দি ঠিক আছে। অনুন্নয়েনের মত বড় ইস্যুকে address করতে হলে আরও বড় এলাকা জুড়ে অন্দোলন করতেই হত। ললগড়ে বিকল্প উন্নয়নের যে চেষ্টা হয়েছে শেষ কয়েকমাসে - সেটাতো প্রচারই হয় নি সেভাবে। সেটাকে জনপ্রিয় করতে পারলে আশেপাশের আরো এলাকা এই অন্দোলনে সামিল হত বলেই আমার মনে হয়। সমাজেও এই আন্দোলনের মধ্যের গঠনমূলক দিকের প্রতি লোকের মনোযোগ টানা যেত। তা না করে ফোকাসটা চলে গেল সি পি এম ক্যালানোয়।

    আর একটা কথা। কেন্দ্রের আক্রমণ থেকে আন্দোলনটাকে সেভ করতে হলে মাওবাদীদের প্রকাশ্য উপস্থিতিকে একটু সংযত করতে হত। কিন্তু সেটা মাওবাদীদের একেবারেই পছন্দ নয়। আন্দোলন হল অথচ সেটা জনগণের কমিটির নামে হল - ওদের নাম ফাটল না - এতে ওদের গাত্রদাহ হয়।

    তবে কি হলে কি হত - এটা একেবারেই নিজস্ব ভাবনা। আমি মনে মনে এতদিনের এই আন্দোলনটা এভাবে স্ম্যাশড হয়ে যাওয়ার জন্যে মাওবাদীদের ননসেন্স কাজকর্মকেই দায়ী করছি। তাই আমার লেখাতেও সেটাই প্রধান বিষয় হয়ে আসছে। কারুর অন্যরকম মনে হতেই পারে।
  • Samik | ২১ জুন ২০০৯ ১৩:৩৮405112
  • এই মুহুর্তে লালগড়ে পৌঁছেছেন অপর্ণা, শাঁওলি, ব্রাত্য, কৌশিক, জয় গোঁসাই, মন্দাক্রান্তা ইত্যাদিরা। কিষেণজী কালই ওঁদের আসতে বলেছিলেন লালগড়ে।
  • pinaki | ২১ জুন ২০০৯ ১৩:৫১405114
  • খুব ভালো খবর। একটা আলোচনার জায়গা তৈরী হওয়াটা সবার আগে দরকার। যেভাবে পয়েন্ট অফ নো রিটার্ন এ চলে গ্যাছে ব্যাপারটা - সেটা আশা করব বদলাবে।
  • Abhyu | ২১ জুন ২০০৯ ১৪:৩৭405115
  • শমীক, তোর খবরের সোর্স কি? বাড়িতে ফোন করে তো পুরো উল্টো খবর শুনলাম।
  • Arpan | ২১ জুন ২০০৯ ১৪:৪৫405116
  • তারানন্দে বলছে।
  • Samik | ২১ জুন ২০০৯ ১৪:৪৮405117
  • আমি স্টারানন্দে লাইভ দেখছি।

    ইশানের ১১:০৭ এর পোস্টের উত্তরে : মানুষ ঠিক কোন পজিশনে চলে গেলে মাওবাদীদের দলে নাম লেখায় ...

    এটা ১৯ জুনের হিন্দুস্তান টাইম্‌স থেকে তোলা।

    On Monday, the whole nation watched on TV hundreds of people tearing down the house of Anuj Pandey, a CPI(M) zonal committee member, in Dharampur village in Lalgarh, about 250 km southwest of Kolkata.

    Next day, Chandi Karar, CPI(M) local committee secretary’s house was attacked in Belatikri village.

    Who are Pandey and Karar?
    For three decades, they were virtual rulers of their little fiefdoms, as money flowed in easy with power. Both were panchayat contractors, besides being keepers of funds under the National Rural Employment Generation scheme and the mid-day meal scheme for school children.

    Although this has been happening for three decades, the ignition was charged by the harsh police action, following the November 2, 2008 attack on Chief Minister Buddhadeb Bhattacharjee’s convoy when he was returning from Salboni after laying the foundation for a steel plant of the Jindals.

    Sample these.

    Karan Hembram (30), a hardcore Maoist wanted for his alleged role in the attack, was a daily labourer at Chotapelia village in Lalgarh. Five years ago, he was picked up for allegedly killing a local CPI(M) leader.

    Hembram was mercilessly beaten up in police custody for six months and then released due to lack of evidence. He was dying, when masked men took him away and arranged for his treatment.

    It was in the same Chotapelia village where 40-year-old Chintamoni Murmu lost her left eye in a police raid. She turned into a PCPA activist.

    Sasadhar Mahato (40) of Amlia village did his graduation with honours in Histroy. He was waiting to become a teacher in a Jhargram school. But a local CPI(M) man got the job, instead. He is now a Maoist squad commander and was the brain behind the attack. His brother Chhatradhar is a top PCAPA leader.
  • Arijit | ২১ জুন ২০০৯ ১৫:২৪405118
  • বিদ্বজনের দল (অপর্ণা সেন, শাঁওলি মিত্র, জয় গোস্বামী, কৌশিক সেন ইত্যাদি) ছত্রধরের সাথে দেখা করে আলোচনা করে স্টেটমেন্ট দিয়েছেন - যে ১৪ই জুলাই অবধি অভিযান বন্ধ রাখা হোক। মাওবাদী এবং প্রশাসন অস্ত্র সংবরণ করুক (সোর্স - স্টারানন্দ, ২৪ ঘন্টা, চ্যানেল ১০)।

    এই নিয়ে বলার মতন পয়েন্ট অনেকগুলো আছে - তবে এখানে লিখে লাভ নেই।
  • ranjan roy | ২১ জুন ২০০৯ ১৫:৪৪405119
  • কল্লোলের সঙ্গে সিরিয়াসলি দ্বিমত পোষণ করছি। কোন ব্যক্তিগত খার নয়।:)))))
    না কল্লোল! তোমার প্রথম
    যৌবন ""বাল ছিঁড়ে'' ব্যর্থ হয়নি।
    তুমি-আমি কেউই ভগবান নই, ত্রিকালদ্রষ্টা ঋষি নই। পথের সামনে যেটুকু দেখা যাচ্ছে তাই দেখেই পথ চলি। ভুল করার সাহস রাখি।
    আমরা সবাই বর্তমানে বাঁচি। ভবিষ্যতে ভুল প্রতিপন্ন হতে পারি সেই ভয়ে বর্তমানের চ্যালেঞ্জ এড়িয়ে যাব নাকি? এ হয় না।

    -তেমনি ভাবে বোধি মার খেয়েও নিজের বিশ্বাস অনুযায়ী কাজ করে গেছে।
    হয়ত সাবধানে গা' বাঁচিয়ে চললে বোধি বা তুমি অনেক ভাল ক্যারিয়ার করতে, কিন্তু মানুষ হিসেবে এগিয়ে যেতে না পিছিয়ে পড়তে আমার সন্দেহ আছে। তোমরা তখন সাহস করেছিলে বলেই আজকে সময়ের দুরত্বে দাঁড়িয়ে নিজেদের এবং সেই প্রজন্মের ভুল স্বীকার করবার সৎসাহস রাখ। এনিয়ে সেল্ফ-পিটি অনাবশ্যক, এটা আমার ব্যক্তিগত মত।
  • ranjan roy | ২১ জুন ২০০৯ ১৬:১৯405120
  • ছত্রধর মাহাতো'র সঙ্গে ""বিদ্বজ্জনের'' বার্তালাপ তিনবার দেখলাম।
    ছত্রধরবাবুর বক্তব্য নিয়ে সিরিয়াস রিজার্ভেশন রয়েছে।
    উনি বলছেন-- আমাদের কমিটি নিরস্ত্র অহিংস আন্দোলন করছে। টাঙি-লাঠি-তীরধনুকেগুলো আমাদের কমন ড্রেসকোড।
    (মেনে নিলাম। বিলাসপুরে দিলীপ সিং জুদেবের সঙ্গের আদিবাসীরাও তীরধনুক-টাঙি নিয়ে আসে, পুলিস কিছু বলে না।)
    যখন রীনাদি ও অন্য দাদা-দিদিরা বললেন যে আদিবাসীদের সমস্যা নিয়ে ওনাদের ন্যায়সংগত আন্দোলন ব্যাপক সমর্থন পাচ্ছিল। কিন্তু মাওবাদীদের বন্দুক চমকানো শব দেহ ফেলে রাখার মত কাজের ফলে আন্দোলন সেই সমর্থন ক্রমশ: হারাচ্ছে। তখন ছত্রধর বল্লেন--
    কিন্তু আমাদের অহিংস আন্দোলন সঙ্কেÄও জঙ্গল থেকে যদি মাওবাদীরা গুলি ছোঁড়ে এর জন্যে আমাদের কোন দায়িত্ব কেন হবে?
    ( চমৎকার! তাহলে সিপিএম এর অফিস যখন জনতা পুড়িয়ে দিচ্ছিল তখন পিঠে একে-৪৭ নিয়ে বিকাশ ওখানে কী করছিলেন?)
    বিদ্বৎজনের প্রস্তাব-- ১৪জুলাই যখন সরকার কমিটির সঙ্গেআলোচনার দিন ঠিক করে রেখেছে তখন ঐ তারিখ অব্দি দু'পক্ষই অস্ত্রের ঝন্‌ঝনানি বন্ধ রাখুক। এলাকায় কিছু শান্তি ফিরে আসুক। ছত্রধর বাবু যেন কিষেনজীদের সঙ্গে দেখা করে কিষেনজীদের কাছে বিদ্বজ্জনের প্রস্তাব পৌঁছে দেন।
    ( এইসময় রীণাদি-শাঁওলিদি-জয়কাকু ইত্যাদির চেহারায় ইতিহাসস্রষ্টাদের ন্যায় দিব্য আভা মন্ডল দেখাদিল।
    তবু শালা বিলাসপুরে বসে ল্যাজ্‌নাড়া আর গুচতে লেখার চেয়ে ভাল।)

    এদিকে প্রশাসন বলছে মাওবাদীদের সঙ্গে কোন আলোচনা নয়।একজন সচিব তো বল্লেন -- কার জন্যে আলোচনা? যারা মারছে, পোড়াচ্ছে তাদের বলবো-- আরও আগুন লাগাও, লুঠ করো, হত্যা করো?
    কেন্দ্রীয় সরকার বলছে ---অস্ত্রত্যাগ করেআলোচনায় বস।
    রাজ্য সরকার ছত্রধর মাহাতো এবং অন্যদের নামে গ্রেফতারী পরোয়ানা যারী করেছে। এবং বলছে অপারেশন ১৮টি থানায় মাওবাদীদের সাফায়া করে দম নেবে।
    তাহলে কিসের ১৪ জুলাই? বাস্তিল দিবস??
    বিদ্বজ্জনের উচিৎ আর একটু করা। সরকারের সঙ্গে বসে খোলাখুলি ইস্যু স্পষ্ট করা।
    ১৪জুলাই আলোচনা করতে হলে দুই পক্ষেই অস্ত্র সম্বরণ দরকার।
    সমস্ত গ্রেফতারী পরোয়ানা এবং ফোর্স মুভমেন্ট মুলতবী রাখতে হবে। নেতাদের আলোচনা করে ফিরে আসার সেফটির গ্যারান্টি দিতে হবে।
    আর মাওবাদীদেরও কোথাও আগুন জ্বালানো, গুলিচালানো, রাস্তাকাটা চলবে না, অন্তত: ১৪ জুলাই পর্য্যন্ত। তারপর কি হইবে জানে শ্যামলাল।
    মনে হয় কিস্যু হবে না।
    আরে হাতিয়ার নামিয়ে রাখতে বাধ্য করা তো সরকারপক্ষের আল্টিমেট রণনৈতিক লক্ষ্য।
    সেটা পূর্বশর্ত হয় কী করে?
    দুপক্ষকেই নি:শর্ত আলোচনায় বসতে হবে।
    বিদ্রোহী নাগা-মিজো-কুকি- বা বোরো দের সঙ্গে আলোচনায় বসার জন্যে যদি অস্ত্রত্যাগ পূর্বশর্ত না হয়ে থাকে, তাহলে মাওবাদীদের জন্যেই কেন আলাদা হবে? ওরা কি দেশের বাইরে থেকে এসেছে?
    ( মনে হয় লিট্টের দশা থেকে চিদাম্বরম-বুদ্ধবাবুরা প্রেরণা পাচ্ছেন। আর কিষেনজী বস্তারের খবর থেকে। কাল দন্তেওয়াড়া এলাকায় ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণ ও গুলিতে ২৬জন সিআর পিএফ এর মৃত্যু হয়েছে। এবং TOI দেয়া সাক্ষাৎকার অনুযায়ী
    কিষেনজীর স্ত্রী দন্তেওয়াড়ায় একজন কম্যান্ডার।এবার বোধহয় উনি স্ত্রীকে কবিতা লিখে পাঠাবেন।)
  • Arijit | ২১ জুন ২০০৯ ১৬:২১405121
  • ম্মাম্মাম্মা বাইটস -

    (১) লালগড়ে কোনো মাওবাদী ছিলো না।
    (২) সিঙ্গুর এবং নন্দীগ্রামেও মাওবাদী ছিলো না।
    (৩) লালগড়ে আদিবাসীদের ওপর প্রশাসনিক অত্যাচার চলছে যৌথবাহিনীর অভিযানের নামে।
  • Arijit | ২১ জুন ২০০৯ ১৬:২৮405122
  • ইয়ে - বিদ্বজনেরা তো রাস্তা কাটা, বাড়ি পোড়ানো, জুতোর মালা পরিয়ে মিছিল করানো ইত্যাদি বন্ধ করতে বলেননি। শুধু অস্ত্র সংবরণ করতে বলেছেন - প্রশাসনকে ও মাওবাদীদের। পিসিপিএ-কে মাওবাদীদের থেকে আলাদা রেখেছেন।
  • h | ২১ জুন ২০০৯ ১৭:৩৫405123
  • একটা ছোটো জিনিস সংক্ষেপে বোঝা দরকার। এই গ্রামীন এলাকা গুলোতে যারা নেতা (বা নেতারা যাঁদের প্রতিনিধিঙ্কÄ করে থাকেন), যে পার্টির ই হোন না কেন, তারা মূলত: মধ্যবিত্ত বা ওখানকার মানুষের চোখে বড়লোক। তাদের মূল রোজগার, বনাঞ্চলে বা গ্রামীন বিভিন্ন প্রকল্পে ক¾ট্রাকটারি করা। রাজনৈতিক ক্ল্যাশ গুলো, অনেক সময়েই যে নেবারহুড ফিউডের চেহারা নেয়, তার মূল কারণ অনেক দিনের তীব্র ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতা। মাইরি বলছি, এ আমি যতদিন জেলায় রাজনীতি করেছি, ততদিন দেখেছি। সিপিআইএম এ প্রাথমিক স্তরের শিক্ষক আর সরকারী দপ্তরের নীচুতলার কর্মচারীরা আসায়, এই ডিনামিক সামান্য জটিল চেহার নেয়, তবে আমার আলোচনার ফ্রেমওয়ার্কে ফেলা কঠিন নয়। একটু ভেবে দেখলেই হবে। আমার আন্দাজ হল, এই ক্লাসটা অনেক জায়্‌গাতেই কনভিনিয়েন্টলি তৃণমূলের সমর্থক হয়েছেন,হচ্চেন বা অচিরেই হবেন, কারণ ল্যান্ড ইন্টারেস্ট সকলেরি রয়েছে, এবং বিকল্প সামাজিক নিরাপত্তা গুলি ধোঁয়াশামাত্র। মমতার তথা এখনকার রাজনৈতিক বাংলা সিনেমার অ্যান্টি এনলাইটেনমেন্ট মেসেজ এঁদের কাছে অ্যাপীল করতে বাধ্য। ধরুন গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি ও তো মূলত: হয়েছে, লালপেড়ে শাড়ি পরে, আর ঘরোয়া বিবাদ মিটিয়ে বা পক্ষ নিয়ে, অতএব তার কন্টিনুইটি হচ্ছে বা হবে মাত্র। একদা মধ্যমেধার ন্যায় বলতে বাধ্য হচ্ছি, আমার রাবণ মার্ডি নামক গল্পে, এই কথা গুলো কিছুটা বলার চেষ্টা করেছিলাম;-)

    একটা চালু তত্ব হল, পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েত এমপাওয়ারমেন্ট এবং ত্রিস্তর বাজেট বাড়ার পর থেকে গ্রামীন ভায়োলেন্স বেড়েছে। এটা বড় প্রকল্প এলে আরো বেড়ে যায়। ধরুন রুরাল রোডস প্রকল্প। কারণ এটা পরিষ্কার বোঝা দরকার, গ্রামীন এমপ্লয়মেন্ট এবং ব্যবসা এই গুলোকে কেন্দ্র করে হয়ে থাকে এবং সাধারণ এগ্রিকালচারাল ট্রেডের চেয়ে অনেক বেশি তাড়া তাড়ি অনেক বড় করে ব্যবসা করা যায়। তৃণমূল স্তরের ক্ষমতার লড়াই মোটামুটি সেচ দপ্তর, পি ডাব্লিউডি র ক¾ট্রাক্ট এর মধ্যে আগে সীমাবদ্ধ ছিল, এটা পঞ্চায়েতের হাতে উন্নয়নের রাশ আসার পরে, বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক হানাহানি, স্বজন পোষণ, কোরাপশন ইত্যাদির ও আনুষঙ্গিক সুযোগ বেড়েছে। রাজনীতি গ্রামে হোক কী শহরে, মূলত: অ্যাসপিরান্ট মিডলক্লাস চালায়। তা অ্যাসপিরেশন, ও মধ্য গোছের বিত্ত দুটো-ই গ্রামাঞ্চলে আসে এই ভাবে।
    এই ধরণের প্রশ্নের সাধারণত: একটা আমলাতান্ত্রিক আর উচ্চবিত্ত উত্তর আছে। পঞ্চায়েত ডিপলিটিসাইজ করা, (যেটা আজকাল মমতা বলছেন, বা বেনেফিট অফ ডাউট দিয়ে বলছি, ওনার দোলায়মান সঙ্কÄ¡ অথবা নানা অ্যাদ্ভাইসর রা বলছেন) উন্নয়নের মূল নিয়ন্ত্রন জেলাশাসকের দপ্তরে ফিরিয়ে দেওয়া এবং ছোটোলোকদের মাথায় ওঠা বন্ধ করে, এলিট বলতে যেখ্‌কানে যা বোঝায়, তাদের মহৎ হৃদয় ও বেনেভোলেন্সে ফিরে যাওয়োআ। পুরো, মহিম গাঙ্গুলি বনাম রায়বাড়ি কেস।
    আমার মত হেরে যাওয়া, অথবা স্বীকার করে নেওয়া ভালো, গ্রামে, কৃষিতে, গ্রামীন উন্নয়নে স্টেক না থাকা নাগরিক বামপন্থীদের বক্তব্য হল, তৃণমূল স্তরে গণতন্ত্রকে থাকতে দেওয়া উচিত। এবং সর্বস্তরে উন্নয়ন করে, হানাহানি মারামারি র রাজনীতিকে হারিয়ে দেওয়া উচিত। কাজ টা কঠিন সকলেই জানে। ওয়েল নোবডি সেড ইট ওয়াজ ইজি ;-)
    তবে বাংলা কথা অন্তত ইংরাজি কইরাও কেউ কয় না, ইন্‌ক্‌লুডিং উচ্চমেধাগণ। এই আর কি।
  • h | ২১ জুন ২০০৯ ১৭:৪২405125
  • ছোটো একটা পয়েন্ট যোগ করতে ভুলে গেছি, এই ডিপলিটিসাইজিং শুধু মমতার বক্তব্য নয়, এটা ডেভেলপমেন্ট নামক যে অনুদান নির্ভর ইকোনোমি আমাদের তৃতীয় বিশ্বের দেশ গুলিতে চলে, তার উদ্‌গতা ও মূল ডোনরদেরো এই মূল বক্তব্য। এজেন্সীর সমস্ত সমস্যা সমাধানের ম্যাজিক প্রকরণ সংক্ষেপে একটাই। এন জি ও। এটাকে তৃতীয় বিশ্বের ইলেকটোরাল প্রসেস কে ডিস-এনফ্রানচাইজ করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখবেন কিনা, সেটা নির্ভর করছে আপনি উচ্চমেধা না মধ্যমেধা তার উপরে :-)
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ক্যাবাত বা দুচ্ছাই মতামত দিন