এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  অন্যান্য

  • ভাট: ভার্চুয়াল থেকে রিয়েল-৩

    pharida
    অন্যান্য | ১৪ এপ্রিল ২০১২ | ২৯৪০১ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • aka | ১৭ এপ্রিল ২০১২ ১৯:৫৩544948
  • পা টা টানব কি টানব না, ভাবতে ভাবতে দোনামনা করে পা বাড়িয়ে বলের ওপর চোখ রেখে ছেড়ে দিলাম। বল সোজা উইকেটকিপারের হাতে এবং এখন পানি পানের বিরতি।
  • kc | ১৭ এপ্রিল ২০১২ ১৯:৫৬544949
  • যত্তসব পাপীদের দল।
  • bratin | ১৭ এপ্রিল ২০১২ ২০:১৪544950
  • :-)
  • Reshmi | ১৭ এপ্রিল ২০১২ ২০:১৬544951
  • kc এবার বুঝলাম। মজাও লাগল এই ভেবে যে "জোনাকী'র আলোয় এমনই আলোকিত ছিলাম যে এত বছর পরেও লোক চিনতে পারছে :)
  • ppn | ১৮ এপ্রিল ২০১২ ০২:১৬544952
  • আয় হায়! কীসব নাম নিচ্ছে এখানে পাবলিক!! তেনার আলোয় অন্ধ হবার দিনগুলি, আহা সেই দিনগুলি .... :-)
  • kumu | ১৮ এপ্রিল ২০১২ ১১:০০544953
  • রাজদীপকন্যা হৃদিকার সুন্দর আবৃত্তি-

    এক যে আছে মজার দেশ,সব রকমে ভালো।
  • shrabani | ১৮ এপ্রিল ২০১২ ১২:০৫544954
  • রিষার নাম হৃদিকা না হৃদিতা? তুমি অমন শুরু করে আর লিখলে না কেন? এইসব ভারী ভরকম টইয়ের মাঝে একটু রিলিফ হত!;)
  • siki | ১৮ এপ্রিল ২০১২ ১৪:০৬544955
  • hRiditaa
  • kumu | ১৮ এপ্রিল ২০১২ ১৪:৩৫544956
  • সরি,সরি,হৃদিতা,ভারী চমৎকার,শান্ত,মিষ্টি মেয়ে।

    আর ওর ভাইও খুব শান্ত,একবারো কাঁদতে শুনিনি।

    শ্রাবণী,আমাহেন লিখিয়ের লিখতে এট্টু টেইম লাগে,সেটাই পাচ্ছি না।
  • dd | ১২ মে ২০১২ ১০:০২544488
  • লেখা যাচ্ছে ? ট্রাই করে দেখি।
  • ডিডি | ১২ মে ২০১২ ১০:৩০544489
  • হ্যাঁ যাচ্ছে।

    শুনেছিলেন তো যে সর্বজনশ্রদ্ধেয় ভিকিদা ছিছেন্নাইতে এসেছেন। নাকি শুধু হিলারির ভারত ভ্রমন নিয়েই মাথা ঘামালেন?

    তো ভিকিদা( সঃ শ্রঃ)কে নিয়ে গতো রেতে ছেন্নাইএর একটা "বারে" ঢুকলাম। খুবই ডাউন মার্কেট। শ্রমজীবি ভাইএরা সেখানে সারাদিনের রক্ত ঘাম ঝড়িয়ে সাঁঝের বেলায় একটু শান্তি খোঁজেন। মিছে কথা কইবো না ঘামের কথাটা আদৌ অতিরঞ্জিত নয়।

    বিয়ার চাইলে দু বোতোল দিয়ে গ্যালো ঠকাস করে। "এ কি এ যে ঠান্ডা নয়" বলতে বেয়ারা কাঁধ ঝাঁকিয়ে চলে যায়। তো ইষদুষ্ণ বিয়ার ছোটো ডিস্পোসেবল প্লাস্টিকের গ্লাসে ঢেলে চোঁ চা` আমরা মেরে দিলাম।।ছোটো কাগজের প্লেটে খেলাম মাছ ভাজা ও অতীব ঝাল পেপর চিকেন।

    বিয়ারের শেষে মুখসুদ্দি করলাম ওল্ড কাস্ক রাম দিয়ে। ওল্ড মংক জাতীয় দামী মদ এনারা স্টক করেন না। পেগ হিসেবে কেনা যায় না। সব সময়েই বোতোলে কিনতে হয়। বরোপ দেয় না। তবে ঠান্ডা জল/কোক পয়সা দিয়ে কিনতে পারা যায়।

    মাটির মানুষ, সেই জ্ঞান তপস্বী এইসব আদৌ মাইন্ড কল্লেন না। বরং "ডিডিদা, এটা আমার মাইরি হেব্বী পোষাচ্ছে" বলে আহ্লাদে বিগলিত হলেন।

    সাহিত্য, ফেলোজফি, এই প্রজন্মের ছেলেছোগরাদের চরিত্র নির্ণয় (সালা, আমাদের জেনারেশনের মতোন মাখোম মিথ্যেবাদী, করাপ্ট পাব্লিক আর হয় নি- উনি কইলেন। আমি সায় দিলেম)। উনি অদ্ভুতুড়ে নামের জাপানী বসনিয়ান সব সিনেমার গল্পো কইলেন। আমি উনাকে বিগ ব্যাং রেকো কল্লেম।

    ইত্যকার কথকতা ও যৎসামান্য কেচ্ছা কুচ্ছোর পর আমরা যে যার ঘরে ফিরলাম (উনি মান্দ্রাজ আই আইটির গেস্ট হাউসে,আমি নিজের খাঁচায়)। এই হোলো বেত্তান্তো।
  • | ১২ মে ২০১২ ১০:৩৫544490
  • তা পাঁইট পুরাণের ভবিতব্য সম্পর্কে কিছু জানতে পারলেন?
  • ডিডি | ১২ মে ২০১২ ১০:৩৯544491
  • হ্যাঁ। আরো দু হপ্তা থেকে মেরে কেটে দু মাস। প্রায় মেরে এনেছেন আর কি। না কি ফিনিসিং টাচ চলছে।
  • | ১২ মে ২০১২ ১০:৪২544492
  • কিন্তু সে কোথায় প্রকাশিত হবে? জগৎ জোড়া জালে? নাকি খসখসে কাগজে?
  • dd | ১২ মে ২০১২ ১০:৪৬544493
  • প্রকাশিত হবে যখন লিখেছি তখন অবশ্যই কাগোজে।
    জ জ জা হলে বিকশিত বা উদ্ভাসিত লিখতাম
  • অপু | ১২ মে ২০১২ ১২:৩০544494
  • কেসি,অপ্পন অভাগা জন দের জন দের জন্যে একটু লেখো।

    টীকাঃ

    জোনাকী এবং তার আলো (৫)
  • Tim | ১২ মে ২০১২ ১২:৩৩544495
  • বোতিন্দার লেখা প্রথম জীবনমুখী পদ্য। খাসা হয়েছে।
  • অপু | ১২ মে ২০১২ ১২:৩৫544496
  • অ্যাঁ? ঃ-))
  • kumu | ১৬ জুলাই ২০১২ ১৩:৫৮544497
  • দিল্লীগুরুদের ব্যাভারটা দেখলেন?
    শনিবার ঐ নয়ডাভাটে যেতে পাল্লুম না,এখন অব্দি মন খারাপ। তা টইতে কেউ এট্টু ভাটের বন্ননা লিখে দিক,একটু পড়ি,তাতেও এদের ল্যাদ?
    শনিবার রাতে শ্রাবণী ও অন্যরা ফোনিয়েছিল অবিশ্যি,নাকি সিকি আরেকটা লা-জবাব লিখবে।

    তুলেও দিলাম।
  • sinfaut | ১৬ জুলাই ২০১২ ১৭:১৬544499
  • ডিডিদা বিগ ব্যাং দ্যাখেন? ব্রেশ ব্রেশ। :-))
  • শ্রাবণী | ১৬ জুলাই ২০১২ ১৭:২৭544500
  • কুমুদি,
    কী আর বলিব, এসব কথা যে লিখতে পারে সেই শমীক তো এখন ব্যস্ত.......অগত্যা!

    শনিবারের সন্ধ্যায় আরেকটি দিল্লী ভাট হয়ে গেল নয়ডার সেক্টর বাষট্টির জাস্ট ইমাজিনে!
    এবারে শত্তুরের মুখে ছাই দিয়ে নিতাইবাবু সবার আগে তৈরী হয়ে জেগে বসেছিলেন (আগে একবার ঘুমিয়ে পড়ে দেরীতে এসে যে বদনাম হয়ে গেছে সেটা ঘোচাতেই তা আর বলাই বাহুল্য!)
    কথা ছিল মোটামুটি সাতটায় সবাই পৌঁছব, তবে খুব কড়াকড়ি কিছু ছিলনা, সবই স্থানীয় শুধু ফরিদারা ছাড়া। তাই ওদের সাথে যোগাযোগ রাখছিলাম, ওরা কোথায়, সেই অনুযায়ী আমরা তৈরী হব!
    এদিকে নিতাইয়ের তর সয়না, সে সেদিন ফার্স্ট হবেই হবে, তাই খুব লজ্জা লজ্জা করে শেষে ফোন করেই ফেলল, "কখন আসবে তোমরা"? আমরা দুজনে তখন ছুটির দুপুরে টেনে ঘুমিয়ে উঠে সবে চা কফি নিয়ে কুমুদির প্রিয় কাঁচের বারান্দায় বসেছি, সামনে সদ্য বর্ষা ভেজা পার্কের হরিয়ালী!
    তা বলে কেউ যেন না ভাবে নিতাই বেলা চারটেয় ফোন করেছে, আসলে তখন প্রায় সাতটা বাজে, এখানে যদিও তখন ভরপুর বিকেল।
    আমিও লজ্জা পেলাম, "আহারে বাচ্চাগুলো তৈরী হয়ে গেছে আর আমাদের বুড়োদের কান্ডজ্ঞান নেই, এখনো বসে বসে দেয়ালা করছি।"

    সুমনকে ফোন করতে রেশমী জানালো তারা আটটায় পৌঁছবে, শমীক ফোন করে জায়গাটা আরেকবার কনফার্ম করল এবং জানালো ওরাও পৌনে আটটায় রওনা হবে।
    আমরাও তোড়জোড় শুরু করলাম, শুধু তো নিতাই রুবিকে তোলা নয়, ওদের নতুন সংসার খানায় ও এইফাঁকে একবার উঁকি দেওয়ার কথা আছে!
    খুব তাড়াহুড়ো করেও সাতটা চল্লিশের আগে বেরোনো গেলনা, নিতাইকে ফোন করতে যাব, আবার ওর ফোন এল, সতীশ তখন ছোট গাড়ি আগে করে বড় গাড়ি বার করছে রুবির অনারে, আমার বারণ ও তাড়া না শুনে (আমাদের একই গ্যারাজ স্পেসে দুটো গাড়ি একটার পর একটা রাখা থাকে):)

    নিতাইকে আর বললাম না যে আমরা তখনও রওনাই হইনি, হতাশ হয়ে যাবে, তাই ফোন তুলেই জিজ্ঞেস করি বাড়ির ডিরেকশনের কথা। যদিও সাত বছর আগে ওর এলাকা আমাদের একান্ত পরিচিত ছিল তবু এতদিন পরে একটু গোলমাল হল। তাও নিতাই এগিয়ে এসেছিল আমাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে যেতে, তাই অসুবিধে হয়নি, শুধু অন্ধকারে ঐ কালচে শার্ট যদি না পরত আরো আগেই ওকে দেখতে পেতাম!

    (নিতাই রবিবার ভোরে সিঙ্গাপুর যাবে আর রুবি যাবে আত্মীয়ের বাড়ি, তাই গাড়ি অফিসের পার্কিংয়ে রেখে এসে ওরা আমাদের সঙ্গী হয়েছিল ওদিন)
  • kumu | ১৬ জুলাই ২০১২ ১৭:৪৩544501
  • সতীশের মত ছেলে হয় না,আগেও বলিচি,আবারো বলি।
  • শ্রাবণী | ১৬ জুলাই ২০১২ ১৭:৫৩544502
  • নিতাই রুবির ঘরে বসা হল যদিও অল্প সময়ের জন্য, তার মধ্যেই মনে ষোল বছর আগের স্মৃতি জুড়ে এল, এমনিই ছিল একদিন আমাদেরও সংসার...একটু কাঁচা, একটু অগোছালো, খালি আবার অনেক কিছুতে ভরা, যা এখনকার গোছানো ভরা বাড়িতে পাওয়া যায় না!
    তবে এতদিন পর সামনাসামনি দেখা, কথা আমাদের বিশেষ করে রুবি আর আমার, থামেনা। গাড়ি স্টার্ট করে কিছুদুর এসে নিতাইয়ের মনে হল সে বাড়ির চাবি পাচ্ছেনা, থামা হল, আমরা সবাই রাস্তায় ঘাসে ঘাসে খোঁজবার জন্যে প্রস্তুত হচ্ছি, সেসময় সুসংবাদ, এ পকেট ও পকেট হাতড়ে শেষ পর্যন্ত, তার হদিশ পাওয়া গেল। তবে বলতেই হবে এমন অবস্থা হলে আমি যা টেনশনে হতাম, অথচ রুবি হেসেই গেল, কোনো চিন্তা নেই! আমাদের নিতাই ভাগ্য করে বৌ পেয়েছে এ আরও একবার প্রমান হয়ে গেল!

    ঐ টুকু পথেরও আমরা তখন মাঝরাস্তায়, ঘড়ির কাঁটা আটটা ছুঁয়েছে বেশ খানিক আগে, সুমনের ফোন এল। ওরা আমার ডিরেক্টিত পেট্রল পাম্পের কাছে পৌঁছে গেছে কিন্তু কোথাও আমার বর্ণনা অনুযায়ী হলদিরামের নিওন ব রেস্তরাঁর সারি দেখতে পাচ্ছেনা! আমি চিন্তায়, কোথায় গিয়ে পড়েছে কে জানে!
    আমাদের কথাবার্তা শুনে ও আন্দাজ করে আমার কুল বর এতক্ষনে বলল, রাস্তা ঠিকই আছে কিন্তু ঐ জায়গাটা থেকে ওসব কিছু দেখা যায়্না, সুমন অর্থাৎ ফরিদা সেসব শুনে আর ঝুঁকি না নিয়ে বলল, "আমি পেট্রল পাম্পের ভেতরে অপেক্ষা করছি, তোমরা এসে নিয়ে যাও"।

    এবার আবার আমি তাড়া লাগালাম ড্রাইভার মানে সতীশকে তবে লাভ হয়না কোনোদিনই সেদিনও হলনা (আমি জানি ডিফেন্সে কুমুদি রে রে করে ঝাঁপিয়ে পড়বে)!

    পেট্রল পাম্পের ভেতর থেকে সুমন দের উদ্ধার করে বর্শায় খারাপ হওয়া খানাখন্দ রাস্তা পেরিয়ে পৌঁচলাম হলদিরাম পেরিয়ে জাস্ট ইমাজিনের সামনের বিরাট খোলা (এবং খালি ও নিরিবিলি) পার্কিং লটে।
    এর মধ্যে আবার আমাদের গাড়ি দেখে উৎসাহে পেট্রল পাম্প থেকে বেরোবার সময় ব্যাক করতে গিয়ে সুমনের গাড়ি একটি বাইককে আলতো এদিকের ভাষায় কিস করেছে ও বাম্পারে কয়েকটি আঁচড় তার সাক্ষী বহন করছে। তাই নিয়ে রেশমীর মুখও আলতো ভার (হওয়ারই কথা), ছেলেরা সব ওটা কিছু না বলে সুমনকে সাপোর্টাচ্ছিল দেখে আমরা মেয়েরা রেশমীকে সমর্থন করি জোর গলায়।
    দুটো গাড়ীর লোকেরা নামতে না নামতেই তৃতীয় গাড়ি শমীক, স্বর্ণালী আর সাঁঝ কে নিয়ে ঢুকে গেল প্রায় এক সময়েই।
    সাঁঝের মিষ্টি ব্লু টী শার্টে "টিনটিন ইন লাদাক" লেখা, লাদাক সর্ষে মনে পড়ে গেল সবার.....
    সাঁঝের মাথায় ম্যাচিং ব্লু ফুল, মুখে মিষ্টি হাসি, সাম্পানের মুখ হাল্কা গম্ভীর, সে এখন বড় হয়ে গেছে তো, ছোটদের এই হৈচৈ তার আর ভালো লাগেনা!
  • kumu | ১৬ জুলাই ২০১২ ১৮:০০544503
  • অ্যাঁ,আমাকে বাদ্দিয়ে সবাই এত মজা করেচে!!চাবি হারানো,গাড়ীতে আঁচড়-এ তো বত্রিশ ভাজা!!!হাউমাউ,ফের যদি শনিবারে ভাট ফেলেচো তোমরা!
    হাউমাউ-
  • শ্রাবণী | ১৬ জুলাই ২০১২ ২০:১২544504
  • তোমাকে শুধু তোমাকে মনে করেই এ ভাটে ছবি তোলা হয়নি, দেখে তোমার মন খারাপ হবে বা তোমাকে আর শ্যামলদাকে বাদ দিয়ে আমাদের গ্রুপ ফোটো......তা যেন ভাবতেই পারি নাআআ....সে তুমি যেটা খুশী ভেবে নাও!

    জাস্ট ইমাজিন, লেমন টুইস্ট, ব্যাম্বু শুট এসব হল ভাই ভাই আর আমরা বিশেষ করে সেই আট্টা মার্কেটে যখন কিছু ছিলনা ব্যাম্বু শুট ছাড়া সেই আমল থেকে এদের খদ্দের, তাই অর্ধেকের মুখ চেনা।
    পাশাপাশি লেমন টুইস্ট আর জাস্ট ইমাজিন (প্রথমে এটা ইটালিয়ান ক্যাফে নামে ছিল, বেশ একটা বিদেশী ক্যাফে আমেজ, ডেকরও সেইরকম, প্রশস্ত, দেওয়াল জোড়া বড় বড় ফ্ল্যাট স্ক্রীন, আগে খাবারও খালি পিৎজা আর কন্টিনেন্টাল দিত, কনসেপ্টটা বাটার চিকেনের দেশে চলেনি বলে ডেকর রয়ে গেছে, নাম বদলে গেছে আর খাবার এখন সবই পাওয়া যায়, লেমন টুইস্টের মেনু আর ক্যাফের মেনু মিলিয়ে মিশিয়ে। ও হ্যাঁ, দেওয়ালে পুরনো আমলের হলিউডি নায়ক নায়িকাদের ফোটো ফ্রেমে, এছাড়া পুরনো অ্যাড পোস্টার ছবি ফিল্ম সংক্রান্ত, খেয়াল করে দেখলে দিব্য লাগে), তা আমরা দ্বিতীয়টিতেই ঢুকলাম, দোতলায়, ফাঁকাই ছিল।

    তারপরে শুরু হল হু হু আড্ডা, শমীকের গল্প তো সর্ষে তে শোনা হয়েছে, আমরা শুনলাম স্বর্ণালী আর সাঁঝের লাদাক ভ্রমণের গল্প। স্বর্ণালীকে আমরা সাতকাহন করে শোনালাম (আমি আর রেশমী একটু আধটু, রুবি গুরু পড়েনা, ছেলেরা শমীকের দলে তাই চুপ ছিল), শমীক কী কী লিখেছে।
    তবে জনতা, এন সি আরের জল হাওয়ার গুণ এই হল যে এখানকার গুরুজনের স্পাউসেরা বেশ কুল কাল....স্বর্ণালী বিশেষ পাত্তাই দিলনা, তবে তার কথা শুনে ফাইন্যালি আমরা জুরিরা মিলে চৌহান কে এবছরের " বেস্ট মেল ইন আ ভিলেনাস রোল " অ্যাওয়ার্ড টা দিয়েই দিলাম।

    প্যাংগং এর সূর্যাস্ত না দেখতে পাওয়ার দুঃখ স্বর্ণালীরও, আমার শুনে মনে হল ২০১৪ তে ওকে ছেড়ে শমীক একা কী করে যাবে, যেতে পারবে!
    সাঁঝ চিন্তা করে জানালো তার পছন্দ কারুর নীলচে সবুজ নদী, "ওটা ইন্দাস ছিল জান তো".....আমি ভাবলাম কত সুন্দর একটা স্মৃতি ওকে ওর মা বাবা উপহার দিল এটা বড় হয়ে বুঝবে.....যেমন ওর বয়সে ঘোরা বা ওমনিই আর একটু বড় হয়ে কাশ্মীর ভ্রমণ আমার ঝুলিতে কত সুন্দর সুখস্মৃতি হয়ে রয়ে গেছে!

    স্যুপ এল চিকেন সুইট কর্ণ, তার সাথে স্টার্টার চিকেন ললিপপ আর কাবাব, চিকেন মালাই টিক্কা।
    ছুটির দিনে দেরীতে খাওয়াদাওয়া হয়ে কেউ বেশী খাবার মত অবস্থায় ছিলনা.......মেন কোর্সে বাটার নান, ভেজ পোলাও, হোশিয়ারপুর দী কুক্কড (ধাবা চিকেন) আর জংলী লাল মাস (মাটনের একটা গরগরে কারী)।

    খাওয়ার মাঝে মাঝে গল্প আড্ডা যা চলল সে শুধু গল্প নয়, দৈনন্দিন থেকে বেরিয়ে খোলা হাওয়ায় অনেক খানি অক্সিজেন সবাই ভরে নিলাম ফুসফুসে আবার পরের জমায়েত তক কে লিয়ে!
    লেখাপত্তর, গুরু, পরের বছরের বইমেলা (দিল্লী) ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা হল, গত বইমেলার আর একপ্রস্থ স্মৃতিচারণা হল, গুনতিতে ছিলাম দশ জন কিন্তু আসলে ছিল আরো অনেকে, কুমুদি শ্যামলদা, অনির্বাণ, সবাই!
    তবে শুধুই কী আর হাসি গান, অল্প বিষাদ ছিল, সিকি বিনে আগামী দিনে এসব কী করে হবে.....বিষাদ, সে অবশ্য অধিক জমল না, উড়ে গেল শরতের মেঘের মত, মোটে দেড়টা বছর তো, মাঝে মাঝে আসার প্রতিশ্রুতি রইল.........বলা যায়না এই চক্করে হয়ত ভাট আর একটু ঘন ঘন হবে!

    এই দিককার হিসেবেই চার ইয়ার যখন মিলে বসে তখন কোনো কিছুর ঠিক ঠিকানা থাকেনা, বেশ একটু রাতেই উঠলাম, খাওয়ার শেষে গল্প হচ্ছিল বেশ কিছুক্ষণ টেবিলে বসে, লোকেরা দুরে হাসিমুখে দেখছিল, বিল নিয়ে তাগাদা দিতে আসেনি, বা বার বার আর কী নেব জিজ্ঞেস করেও বিরক্ত করেনি, হয়ত ওরাও এই অন্যরকম খোলা আড্ডা উপভোগ করছিল। বিল চেয়ে মিটিয়ে ওঠা হল তাও শুধু বাচ্চাদের ঘুমে চোখ জুড়ে আসছিল তাই!

    রেস্তরাঁর লোকেদেরও বোধহয় ঘুম পেয়ে গিয়েছিল তাই মৌরীর ট্রে টা আনেনি, এদিকে সুমন সঁফ সঁফ করে চিৎকার করতে সতীশ আমার ইয়ার্কি সত্যি ভেবে অরেগানোর শিশি তার দিকে এগিয়ে দিয়েছে, ঠিক সেই মুহূর্তে সঁফের ট্রে না পৌঁছনয় একটা শেষ প্রহরের প্রহসন থেকে বঞ্চিত হলাম সবাই!

    হয়েও হয় না শেষ, পার্কিং লটে চলতেই থাকল আড্ডা, কুমুদির মিসড কল দেখে আমি ফোন করি, শমীকের সাথে কথা হয়......প্রায় মধ্যরাত্রি, পরদিন ভোরে নিতাইয়ের সিঙ্গাপুরের ফ্লাইট আর সুমন রেশমী যাবে প্রায় দেড়্ঘন্টা ড্রাইভ করে সেই ফরিদাবাদে.....তাই শেষ করতেই হয়, গুরুর বইপত্তর ম্যাগ এমনকি পরের মেলার জন্যে রাখা আগের মেলার বিলবই, প্লাস্টিকের থলে সব আপাতত আমার জিম্মায় হস্তান্তরিত হল, সুমন আর সতীশ মিলে গাড়ির ডিকিতে সব ভরল।
    আরেকপ্রস্থ বিদায় আড্ডা, গুডনাইট সেরে পার্কিং লটের অবশিষ্ট মাত্র কয়েকটি গাড়ির মধ্যে থেকে তিনটি গাড়ি স্টার্ট নিল। সুমনকে পথ দেখিয়ে নিয়ে গিয়ে কালিন্দীকুঞ্জের হাইওয়ে তে তোলার কথা সতীশের, এদিকে সুমন তড়িঘড়ি করে আগে অন্য রাস্তায় প্রায় চলে যায়, আমার ফোনে ঘুরে ঠিক পথে আসার আগে রেশমীর কাছে কী খেল তা পরের ভাটে জেনে নেব (ফোনে ঠিক হয় না!)।

    নিতাই রুবিকে ছাড়তে যাওয়ার পথে নিতাইয়ের ফোন এল, একান ওর বাড়িতে ডকুমেন্ট দিতে আসছে, অত রাতেও সে যখন শুনল "আমি বাইরে, একটু পরে আসুন" তখন তার মুখ্র ভাব কী হয়্ছিল তা আমরা কোনোদিনই জানতে পারব না!

    ওঃ, নিতাইয়ের তখনো প্যাকিং হয়নি, রাত বারোটা, ভোর সাতটায় ফ্লাইট। নিতাই শুধু কবি নয়, বীরও।

    (এই সব কিছুতে আবার বলি কুমুদিকে আমরা মিস করেছি, এবং এর পরের ভাট কুমুদি যতই ভয় দেখাক ব পাক, আমরা তার বাড়িতেই করব, দরকার হলে শনিবার রাত থেকে রবিবার বিকেল)!
  • শ্রাবণী | ১৬ জুলাই ২০১২ ২০:২৫544505
  • তাড়াতাড়িতে লিখতে গিয়ে খুব টাইপো হল, নিতাই এসে ভুল ধরবে আবার!

    *"সঁফের ট্রে পৌঁছনোয়" (না টা বাদ)

    *একান নয় একজন

    *মুখের
  • শ্রাবণী | ১৬ জুলাই ২০১২ ২০:৩৪544506
  • ও, রাজদীপ দেবিকা আর স্বপনদার কথা লিখিনি, ওদেরও মিস করেছি বিশেষ করে রাজদীপদের, কুচোগুলোসমেত..........রাজদীপ, নানান কথার মাঝে দাদুর ব্যাপারটা শমীক বলল, সবাই খুব অন্যরকমের গর্ব অনুভব করলাম, পরের বার সবাই তোর কাছে শুনব!
  • সিকি | ১৬ জুলাই ২০১২ ২১:০৭544507
  • যাক, আমার লেখার পরিশ্রমটা বাঁচল।
  • ফরিদা | ১৬ জুলাই ২০১২ ২১:২৯544508
  • লেখার কিছু বাকি না থাকলেই স্বস্তি লাগে, ফাঁকা পার্কিং লট যেন। চেনা গাড়িরা অনেকদিন পর পাশাপাশি দাঁড়ায়, নয়ত কি বৃষ্টি কি রোদ্দুর সম্বতসর সেই অফিসের গা ঘেঁসাঘেঁসি পার্কিং, পাশের দামী গাড়িটার কোঁচকান ভুরু অবধি স্পষ্ট।

    আলো ছিল, যতটা দেখলে ভালো লাগে, ততটাই। জুলাই মাসের আর্দ্রতা মাত্রাছাড়া নয়, হাওয়া ছিল। যতটা থাকলে সেটার দিকে মুখ ফেরাতে হয় না, কিন্তু আবহসংগীতের মতো লাগে, ততটাই।

    কথা থাকে কত, বান্তর অবান্তর কথা এতদিনের তেপান্তর পেরিয়ে আসে দলে দলে জড়ো হয়, সেই ফাঁকা পার্কিং লট মুখরিত হয় বুঝি। চেনা কথা খুঁজি সেই কথা ফিরে আসে ফের সাথে তার বন্ধুকে আনে, পরিচয় বাড়ে আরো।

    সকালে উড়ান ধরতে হবে নেত্যকে, সিকি সারাদিন ঘুরে বেরিয়েছে ব্যাঙ্ক, দোকানপাট, সাঁঝ স্বর্ণালীও সারাদিনের ঘোরাফেরা সত্ত্বেও ঝকমকে থাকে, শ্রাবণী সতীশ বড়দাদাদিদি যেন, জড়ো করে সবাইকে। রেশমী অবধি তার গাড়ির বাম্পারে লাগা স্ক্র্যাচ মুছে ফেলে চোখমুখ থেকে কত দ্রুত।

    ভাট বলে বুঝি একে? অসংলগ্নতা?

    না থাকলে আমাদের যন্ত্র বলা হত না?
  • ranjan roy | ১৬ জুলাই ২০১২ ২১:৪২544510
  • সন্ধ্যারাগের মন কেমন করা ভালোলাগা!
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লাজুক না হয়ে মতামত দিন