এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  নাটক

  • নতুন সরকারের শিক্ষা স্বাস্থ্য শিলপনীতি ইত্যাদি

    pi
    নাটক | ২৯ জুলাই ২০১১ | ২২৯২৫ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • pinaki | ৩১ জুলাই ২০১১ ১৬:০৬483162
  • বাই দা ওয়ে, নবোদয় স্কুলকে আমি গরীবের মধ্যে একটা এলিট শ্রেণী তৈরীর পদ্ধতি হিসেবে দেখি এবং আমার নবোদয় স্কুলের কনসেপ্ট নিয়ে ঘোরতর আপত্তি আছে।

    একটা সমাজে চাকরি পাওয়ার এবং মিনিমাম হিউম্যান ডিগনিটিটুকু নিয়ে বেঁচেবর্তে থাকার সম্ভাবনা যদি ৯০% হয় (আম্রিকার বেকারত্বের হার বর্তমানে ১০% ধরে নিয়ে বল্লাম, যদিও সেখানে বেকার হলেই সব শেষ হয়ে যায় না), আর একটা দেশে সেই একই হিসেব যদি ১০% হয় - তাদের শিক্ষাব্যবস্থার তুলনা কিছুতেই করা যাবে না। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে ঐ ইনসিকিওরিটিটাই শিক্ষার মূলস্রোতকে এবং পারপাসকে নির্ধারণ করবে। তার মধ্যে কিছু ব্যতিক্রম থাকবে। ব্যতিক্রমী প্রচেষ্টা থাকবে। সেগুলো থাকাই উচিৎ। কিন্তু সার্বিক সমস্যা সেই দিয়ে সমাধান হবে না। গ্যাপটাও কিছু অর্নামেন্টাল চেঞ্জ দিয়ে বা কিছু সৃজনশীল পদ্ধতি আমদানি করে মীট আপ করে দেওয়া যাবে না। কিন্তু তাবলে কি হাত গুটিয়ে বসে থাকতে হবে? বা সেইসব সৃজনশীল চেষ্টা করা উচিৎ নয়? অবশ্যই উচিৎ।
  • Sumit | ৩১ জুলাই ২০১১ ১৭:০৮483163
  • বাংলা সেন্‌টেন্সে ইংলিশ ওয়ার্ডের ইউজ কমানোর অন্তত একটা কোর্স অয়াডাল্ট এডুকেশনের কারিকুলামে ইনক্লুড করাটা কি নেসেসারি মনে করেন?

    খুব চটে গেলেন নাতো?
  • aka | ৩১ জুলাই ২০১১ ১৮:১১483164
  • কমরেড পিনাকি কে আমার স্পোকস পারসন করবই করব। এত সহজে এত ঠিক কথা বলে। টেবিল, চেয়ার, দেয়াল চাপড়ে সমর্থন।
  • nk | ৩১ জুলাই ২০১১ ২০:৪৪483165
  • দেয়াল চাপড়ালে হাতে ব্যথা হবে না???? :-)
  • dukhe | ৩১ জুলাই ২০১১ ২১:০৫483166
  • কিন্তু নবোদয়ের ওপর রাগ কেন ? সরকারি খরচায় ভালো ইস্কুল হলে মন্দ কী ? গরীবে এলিট হলেই বা ক্ষতি কিসের ? এট্টু বিশদে লিখুন না।
  • pi | ৩১ জুলাই ২০১১ ২১:৩৯483167
  • কালকে আর এখানে লিখিনি, কারণ লিখতে ইচ্ছে করছিল না। মনে হচ্ছিল, যা লিখচি ঠিকঠাক পড়াই হচ্ছে না আর তর্ক চলছে। আমি অনেক আগেই লিখেছি, আর অনেকবারই লিখেছি, কেভির মত স্কুল অনেক বেশি বেশি হওয়া উচিত। একটা নবোদয়ের জায়গায় আরো দশটা কেভি হলে আমি সেটাকে প্রেফার করব।
    কিন্তু এখানে আরো অনেকগুলো বক্তব্য আছে।
    এই নবোদয়ের থেকে অন্যান্য স্কুলগুলিতে অনেক কিছুই নেওয়া যায়, অনেক ব্যয় না করেও।

    অনেক ভালো কেভি তে করা হয়ও। বিশেষ করে আইআইটি র সাথের কেভি গুলোতে। BARC র টাতেও হতে পারে। দেদি ভালো বলতে পারবে। কারণ মনে হয় এখানে পেরেন্টাল প্রেশার বেশি আছে।

    আলোচনা সেদিকে করা যেতেই পারে এবং সেটাই করতে চাইছিলাম।
    কিন্তু এসব দেখার পর ও যদি বলা হয়, যা আছে তার কিছুই ঠিক নেই, ইনফ্রাস্ট্রাকচর, সিলেবাস, ব্যবস্থা সব কিছু ঢেলে বদলে শুরু থেকে শুরু করতে হবে তাইলে সহমত হতে পারবো না !

    স্পেসিফিকালি দেখাতে বলবো, এই সিস্টেমে কী কী ঠিক নেই যে আমূল বদলে ফেলতে হবে ? এটা তোমাদের ভালো আম্রেইগান সিস্টেম থেকেই বা কতটা খারাপ ?

    তবে একটা জিনিস কিন্তু ভারি মহার হচ্ছে। যখন রিমিদির পোস্ট প্রসঙ্গে নার্চারের কথা এল, তখন আকাদা বল্লো, হ্যাঁ, সেটা তো ঠিক। এদেরকে নার্চার করা হবে না কেন। আমাদের দেশে নার্চার করা হয়না, কোন ব্যবস্থা নেই ইত্যাদি।
    সেটা যে ঠিক নয়, নার্চার করার জন্য শুধু শাইনিং দের ই না, গরীব, পিছিয়ে পড়া মানুষজনের ট্যালেন্টকেও নার্চার করা হয়, সেটা দেখাতে নবোদয়ের উদাহরণ এল তো ....:)
  • pi | ৩১ জুলাই ২০১১ ২১:৫৩483168
  • আর হ্যাঁ, দুখেদার প্রশ্নটা আমারো আছে।

    একটু রিফ্রেজ করবো।

    শুধু শহুরে 'এলিট' দের জন্য এলিটিস্ট শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে আপত্তি নেই ? নিজেদের বেলায় তো আমরা সেই এলিটিস্ট শিক্ষাবআঅবস্থা যথেষ্ট এলিটিস্ট আর ভালো অয় বলে আক্ষেপ করি, আরো আরো সুযোগসুবিধে নেই বলে।

    এই শিক্ষাব্যবস্থা টিঁকে আছে, আমরা তাকে প্রেফার করছি আর সেটা গ্রামের গরীব লোকজন অ্যাক্সেস করতে পারছেন না, এই ফাঁকটা ঘোচাতে বাধ্য হয়েই তো এই সিস্টেম চালু করা। কথাটা হয়ত ঠিক বল্লাম না। এটা চালু করে সরকার ও একরকম করে মান্যতা দিয়ে দিয়েছে, যে, শহুরে ধনী এলিটদের জন্য প্রাইভেট এলিটিস্ট শিক্ষাব্যবস্থাকে।
    কিন্তু সেটাকে নিয়ে কোন প্রশ্ন না তুলে গ্রামের গরীবদের জন্য এলিট শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে এত আপত্তি তুল্লে কিন্তু পাল্টাআ প্রশ্ন ও করবো, আপত্তি ও জানাব।

    আর হ্যাঁ, এই আমাদের ইজেদের অনেকেরই অ্যাস্ট্রনমিক্যাল মাইনে পেয়ে এলিট হয়ে যাওয়া নিয়ে কোন বক্তব্য ?

    এলিটিসম নিয়ে প্রশ্ন তুলতে হলে তো আরো বেসিক প্রশ্নই তোলা যায়। এই কর্পোরেট বা ষষ্ঠ পে কমিশনের পরে আরো নানা সেক্টরে মাসে প্রায় লাখ, দু'লাখ, চারলাখ মাইনে বনাম ন্যূনতম ধার্য মজুরির হিসেবে মাসে তিন চার হাজার টাকার মাইনের বৈষম্য নিয়ে প্রশ্ন।
    নিজেদের ( ইনক্লুডিং আমার) কমফর্ট জোনে আঘাত করবে বলে সে প্রশ্ন অবশ্য আমরা তুলবো না।
  • ranjan roy | ৩১ জুলাই ২০১১ ২২:০০483169
  • পিনাকী,
    নবোদয় এলিট তৈরি করে? আমার ধারণা কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ই এলিট তৈরি করে।
    নবোদয় তৈরি করে মিডল্‌ ক্লাস।
    কিন্তু একটু রেজিমেন্টেড,যা মিডল ক্লাস ডিসিপ্লিনের নামে পছন্দ করে।
    ওখানে আমাদের রামকৃষ্ণ মিশনের বোর্ডিং এর মত বলা হয় ঘর থেকে আলাদা করে কিছু দেবেন না। কিন্তু তার থেকে অনেক বেশি রেজিমেন্টেড; টুথপেস্ট-সাবান সবই বিদ্যালয়ের থেকে সবাইকে দেয়া হবে এবং একই ব্র্যান্ডের। কোন এক্সোটিক ব্র্যান্ডের নয়।বিছানা সাধারণ মানের কিন্তু সবার জন্যে এক। খাওয়া-দাওয়া সাধারণ, কিন্তু পর্য্যাপ্ত এবং পুষ্টিকর। আমাদের পাড়ার বিজেপি নেতৃ যাঁর স্বামী সরকারি স্কুলের প্রিন্সিপাল, এখন সর্বশিক্ষার জেলা অধিকর্তা, নিজের একমাত্র মেয়েকে নবোদয়ে পাঠিয়ে ছিলেন। সে সাতদিনে কাঁদাকাটা করে বাড়ি ফিরে এল।
    কারণ ওখানের থাকার ব্যবস্থা-খাওয়াদাওয়া বড্ড প্লেবিয়ান।
  • ranjan roy | ৩১ জুলাই ২০১১ ২২:৪১483170
  • রত্নার চিন্তা:
    টিচার ছোটবাচ্চাদের পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে পড়াবে না। দাঁড়াবে বাচ্চাদের মাঝখানে। ছোট বাচ্চাদের লেখাবে না; না অ্যালফাবেট, না নিউম্যারিক্যাল্‌স্‌। অভিবাবকেরা মাথা খেয়ে ফেলে;-- কি করছেন ম্যাম! অমুক স্কুলে তো বাচ্চারা গড়গড় করে টুয়েন্টি এবং এ টু জেড লিখে ফেলছে, আমার বাচ্চা যে পিছিয়ে পড়ছে!
    রত্না: চিন্তা করবেন না। এই কোমল হাতে জোর করে লেখালে পরে ওরা লিখতে ভয় পাবে। আমি পোয়েম্‌স্‌- সং-রাইমস্‌ -গেমস্‌ এবং পিকচার দেখে আইডেন্টিফাই করার দিকে জোর দিচ্ছি। আর রাইমস্‌ এবং স্টোরি টেলিং অ্যাক্ট করার দিকে। এতে ওরা আনন্দের সঙ্গে শব্দ শিখবে, বেসিক অ্যারিথমেটিক্স শিখবে, অ্যানালিটিক্যালি--- টেবিল মুখস্থ না করে। কোন হোম টাস্ক দেয়া হবে না। পড়াশুনাটা ১০০ মিটার স্প্রিন্ট নয়, ম্যারাথন রেস।
    আপনার এখন মনে হচ্ছে বাচ্চা পিছিয়ে পড়ছে, ধৈর্য্য ধরুন। লেখালেখিটা একটু পরে শুরু হবে, কিন্তু আপনার বাচ্চা অন্যদের চেয়ে গ্যালপিং স্পীডে এগুবে।
    রত্না মুখস্থ করানোর চেয়ে জোর দিত বাচ্চাদের মাল্টি-টাস্ক করানোয়, রিয়েল লাইফ প্রবলেম ফেস করানোয়।
    বাচ্চাদের নিয়ে যেত কাছের ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেক্টরে অটোমেটিক রাইস মিলের অপারেশন দেখাতে। কোর্টে নিয়ে আদালতের ফাংশন দেখাতে।
    ওদের নিয়ে গেছিল সাউথ ট্যুরে। লুরুতে ইনস্টিট্যুট অফ সায়েন্স, হায়দ্রাবাদের মিউজিয়াম দেখাতে। ফাইভ থেকে বড় বাচ্চাদের নিয়ে ৩০০০মিটার উঁচু পাহাড়ে ইউথ হোস্টেলের সঙ্গে ট্রেকিং করে ওখানে ক্যাম্প করে রাত কাটাতে। এন আই এস এর কোচকে আলাদা করে পেমেন্ট করে চেষ্টা করলো সুইমিং পুলে স্কুলের বাচ্চাদের বাটার ফ্লাই, ব্রেস্ট স্ট্রোক ইত্যাদি শিখাতে।
    দার্জিলিং আর ভুটানের ফুন্টশিলিং ট্যুরে ছাত্রদের নিয়ে গেল। সেখানে কোলকাতা থেকে আসা তিনবন্ধুর একজন পাথরে ঘেরা কোন ছোটখাট জলপ্রপাতে লাফিয়ে নেমে তারপর আটকে যায়। ওর চোখে মৃত্যুভয়, সাহায্যের জন্যে চেঁচায়। রত্না বাচ্চাদের নিয়ে ডাল ভেঙে কাছাকাছি গার্ডেনের কোন ভাঙাগেট নিয়ে দড়ি বেঁধে ভাসিয়ে সবাই মিলে হাত ধরাধরি করে ছেলে অব্দি দড়ি পৌঁছিয়ে ওকে টেনে তোলে। এগুলো ওর কাছে ইম্পর্ট্যান্ট।
    নেতাজির জন্মদিনে ও লেকচার না দিয়ে বাচ্চাদের বলে, আলাদা আলাদা ক্লাস, ওনার জীবনের বিভিন্ন এপিসোড নিয়ে পেন্টিং বানিয়ে দেয়ালে ডিসপ্লে করতে। তৈরি হয় গোটা পঞ্চাশেক পোস্টার। সেগুলোকে কালখন্ডের হিসেবে ছেলেমেয়েরাই সাজায়। এই প্রসেসে ওরা সবাই নেতাজির ব্যাপারে জেনে যায় ওদের মত করে।
    দশ -পনের বছর আগে TOI তে খবর ও অ্যাড বেরোয় যে অম্রিগায় প্রাইমারি ও মিডল লেভেলের জন্যে চিন ও ভারত থেকে টিচার নেয়া হবে। ভারত থেকে সিলেকশনের দায়িত্ব পায় TSG বলে একটি সংস্থা।
    ও অ্যাপ্লাই করে। ই-মেল ও টেলিফোনিক ইন্টারভিউ এর মাধ্যমে ও প্রথম চান্সেই প্রাইমারি লেভেলের জন্যে (নিউ জার্সি) সিলেক্ট হয়। ওরা বলে আপনার চিন্তা আমাদের ভালো লেগেছে। কিন্তু সিকিউরিটি ইত্যাদি মিলিয়ে দু'লাখ টাকা জোগাড় করার কথা, পারিনি।তাই ওর যাওয়া হয় নি। কাজেই আম্রিগার এডুকেশন সিস্টেম হাতে কলমে দেখা হয় নি।
    তবে আমাদের ইনফর্মেশন মুখস্থ করার মডেলকে একটু বদলে অনেক বেশি চারদিকের বাস্তব জীবন সম্পর্কে সচেতন করা ও প্রবলেম সলভ্‌ করার স্কিল ও অ্যাটিচুড ডেভেলপ করার দিকে জোর দেয়া দরকার বলে ও মনে করে। মুখস্থ করা মডেলের বাচ্চারা প্রায়ই জীবনযুদ্ধে আউট অফ কোর্স কোশ্চেনের সামনে পড়লে ঘাবড়ে যায় বলে ওর ধারণা।
    মনে হচ্ছে প্রসঙ্গ থেকে অনেক সরে এসেছি; ক্ষমাঘেন্না করে মোদ্দা কথাটা বুঝে নিও।
  • pinaki | ৩১ জুলাই ২০১১ ২৩:১৬482572
  • খাওয়া-দাওয়া পোষাক আষাকে কি করে জানি না। কিন্তু এই যে কনসেপ্টটা, যে কিছু জনকে আলাদা করে নিয়ে একটা ঘেরা জায়গায় রেখে একটা দারুণ কিছু শেখানো হচ্ছে - এটা এলিমেন্টারি এডুকেশন লেভেলে একটা বৈষম্যের সৃষ্টি কি করে না? এটা তো অপ্রয়োজনীয়। এমন তো নয় যে এটা বিশেষভাবে স্পেশালাইজড উচ্চশিক্ষা বা গবেষণাক্ষেত্র - যেটা সকলের না পেলেও চলে। পাই এর শহুরে এলিট স্কুলের ব্যাপারটাও একই ভাবে ভ্যালিড। মাধ্যমিক স্তর অব্দি একই মানের শিক্ষায় সকলের সমান অধিকার থাকাটাই কাম্য। অন্তত: আমার কাছে। তাই আমার মতে সেটা সরকারি হওয়া উচিৎ। পুরোপুরি। বেসরকারি ক্ষেত্রকে ঢুকতেই দেওয়া উচিৎ নয়। নবোদয় যদি সরকারি স্কুলশিক্ষার একমাত্র রূপ হত - আমার বলার কিছু ছিল না। একই সাথে নবোদয়ও থাকবে, আবার গ্রামের চাল বিহীন, বাথরুমবিহীন সরকারি স্কুলও থাকবে - দুটো একসাথে চলতে পারে না। স্কুল স্তরে সেন্টার অফ এক্সেলেন্সের প্রয়োজন দেখি না। সেই স্তরবিভাজনটা তার পরে গিয়ে হোক।

    আমাদের দেশে মোদ্দাভাবে শিক্ষা মানে কতকগুলো এলিমিনেশন টেস্ট উৎরোনোর কৌশল শেখা। কারা সেটা সবচেয়ে এফেক্টিভলি শেখাতে পারবে? লোকের চাহিদাও সেটাই। কারণ সুযোগ সীমিত, প্রার্থীর সংখ্যা অসীম। কোনো স্কুল যদি ভাবে সে এইসবের বাইরে ছত্রছাত্রীদের দারুণ সৃজনশীল হওআর শিক্ষা দেবে - জয়েন্ট, আইআইটির জন্য না তৈরী করে - একটা লেভেলের পরে পাব্লিক সেই স্কুলকে প্রত্যাখ্যান করবে। এই অবস্থাকে কাজে লাগিয়ে বেসরকারি স্কুলগুলো পাব্লিককে চুষে ছিবড়ে করে দিচ্ছে। চেন্নাই এর ভারতীয় বিদ্যা ভবন-এ চার লাখ টাকা ক্যাপিটেশন ফী নিয়েছে লোয়ার কেজি লেভেলে। ক্যান ইউ ইমাজিন? আমার তো ভয় লাগে এক এক সময়! মেয়ের স্কুল ভর্তির সময় আমাকে দুটো স্কুলে রাত চারটেয় গিয়ে লাইন দিতে হয়েছে ফর্ম তোলার জন্য। চার দিন অফিস ছুটি নিতে হয়েছে সেই ফর্ম জমা দেওয়ার লাইনে দাঁড়াতে গিয়ে। লোয়ার কেজিতেই এই। এরপর ইঞ্জি: ডা: না জুটলে জেনারেল কলেজের জন্য কি লেভেলে লাইন দিতে হবে - এখন ভাবতে গেলে শিউরে উঠি। আমেরিকার মাধ্যমিক শিক্ষায় কি এসব আছে? এই তীব্র ইনসিকিওরিটি? এই হাড় হিম করা প্রতিযোগিতা? এসব বাদ দিয়ে কি কোনো তুলনা হয়? আমি জানি না। আবার এই প্রতিযোগিতার ভালো দিকও আবিষ্কার করা সম্ভব। এর মধ্যে দিয়ে যে এক্সেল করে বেরিয়ে আসে - সে সত্যি দুনিয়া জুড়ে করে খাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করে। করে খাচ্ছেও। একই কথা প্রযোজ্য চাইনীজ দের জন্য। মাটি কামড়ে পড়ে থাকে। ইউ এসের ইউনির প্রফেসরদের যে কারণে ভারতীয় বা চাইনীজ ছাত্র বেশী পছন্দ। আম্রিকানরা প্রফদের অন্যায় আব্দার মেটানোর ধারকাছ দিয়েও যাবে না।
  • ranjan roy | ০১ আগস্ট ২০১১ ০০:০৪482573
  • রামকৃষ্ণ মিশন বা অন্য কোন মিশনারি স্কুলের ব্যাপারে কি বক্তব্য?
    ওরাও তো আলাদা করে সেক্লুডেড ঘেরা জায়গায়----?
  • kc | ০১ আগস্ট ২০১১ ০০:১৯482574
  • পিনাকীর 11:16 PM এর পোস্টটা, একদম আমার মনে কথা। কী সুন্দর করে গুছিয়ে লিখেছে।
  • pi | ০১ আগস্ট ২০১১ ০০:৩০482575
  • একটা ক্ল্যারিফিকেশন। এটা কিন্তু এলিমেন্টারি এডুকেশন নয়। ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে।

    আলাদা করে ঘেরা জায়গায় থাকা নিয়ে আপত্তি বলতে কি আবাসিকের কথা বলছো ?

    সে তো অনেক বিদ্যালয় ই আবাসিক। বিশেষ করে মিশনের গুলো। সেই সিস্টেমলে তো আবার ভালো বলা হয় !

    যাইহোক, এটা নিয়ে তর্ক থাকতে পারে।
    কিন্তু এক্ষেত্রে আবাসিক করা হয়েছে কয়েকটা প্র্যাকটিকাল কথা মাথায় রেখে,যা মনে হয়।

    এক। এখানে দূরদূরান্তের গ্রামের ছেলেমেয়েরা আসছে। তার ডে স্কলার হবে কীকরে ?
    জেলায় অনেকগুলো বিদ্যালয় হলেও যা যাতায়াত ব্যবস্থা আর গ্রামগুলির মধ্যে যা দূরত্ব সেই দিক দিয়ে আবাসিক করার প্রভিশন রাখা খুব প্রয়োজনীয় বলেই মনে হয়।

    দুই। এই পড়ুয়াদের অনেকেই প্রথম প্রজম্নের শিক্ষরে্‌থ্‌হ। এদের বাবা মা হয়তো জাস্ট সাক্ষর কি ক্লাস ফোর পাশ বা তাও নয়। হ্যাঁ, এরকম ঘর থেকেও প্রচুর ছাত্রছাত্রী আসে। তারা তো পড়ার ব্যাপারে বাড়ির সাপোর্ট টাই সেভাবে পাবেনা।
    এই যে রিমিদি এত করে বলছে, স্কুলে কম চাপ থাকুক, যাতে বাড়িতে ভাল করে শেখানোর সুযোগ সময় থাকে। এই বাড়ি থেকে শেখার সুযোগ আ তো দের জন্য নেই !
    আবাসিক হলে সেই ঘাটতিরও পূরণ হবে।

    আর, সবাই মিলে একসাথে থাকা। অনেক গরীব ঘরের ছেলেপুলের সাথে রোজ ওঠাবসা করা, সব কিছু শেয়ার করা, রঞ্জনদা যা বল্লেন। মানে, ২০% শহুরে বা মোটামুটু স্বচ্ছল ঘরের ছেলেমেয়েদের ও তাই করতে হবে, এটা মন্দ কি ?
    ভাটে ব্যাংদি বোধহয় একবার লিখেছিল, কোন এক চ্যানেলের কোন স্কুলের প্রিন্সিপালের ইন্টারভ্যু প্রসঙ্গে। নেইবারহুড স্কুলের কথা ওঠায় তিনি নাকি বাবা-মা কে জিজ্ঞেস করেন, মা-বাবা কি ভেবে দেখেছেন, 'ঐসব' ছেলেপুলের সাথে নিজেদের সন্তানকে মিশতে দিতে রাজি হবেন কিনা, বা এজাতীয় কিছু।
    এধরণের মনোভাবের উপর তো একটি সপাট চড় বসায় এইধরণের সিস্টেম।

    তবে একটা প্রশ্ন আছে, এরকম অনেক স্কুল চালু হলে যেখানে গ্রামের বা গরীব ছেলেমেয়েদের জন্য সিট সংরক্ষিত থাকবে, সেখানে বা, মেট্রো শহরের কাছাকাছিও যদি চালু হয়, আর ধরা যাক কম আয়ের পরিবারের জন্য সংরক্ষণ থাকে, কতজন মা -বাবা প্রাইভেট স্কুলে না পাঠিয়ে এই স্কুলে পাঠানো প্রেফার করবেন ? :)
  • pi | ০১ আগস্ট ২০১১ ০০:৪৪482576
  • যাহোক, এখানে যদ্দুর যা জানি, শিক্ষার ব্যাপারে ছাত্র-ছত্রী প্রতি অনেক বেশি খরচ করা হয়। যা হয়ত কমানোই যায়।
    বিশেষ করে পরিকাঠামোর দিক দিয়ে।
    শুনেছি, মাথা পিছু একটু করে কম্প। দরকার আছে কি ?
    স্কুলে স্টেডিয়াম ও নাকি থাকে। কোন প্রয়োজন আছে কি ?
    তবে এগুলো বোধহয় সব স্কুলে থাকে, এমন না। কোনো এম পি নিজের এলাকার বিদ্যালয়ে দুমদাম প্রচুর খরচ করে দিলেন, এরকমটাও হয়ে থাকে বোধহয়।
    এইগুলো কোনোভাবেই কাম্য নয়।

    কিন্তু পড়ানোর সিস্টেম, কারিকুলাম, পদ্ধতি, শিক্ষকদের কোয়ালিটি এগুলো যে আলাদা করে ভালো, সেই ভালোটা তো ভালোই। সর্বত্রই এরকম করার চেষ্টা করা উচিত। এইগুলো তো খুব ব্যয়সাপেক্ষ নয়।

    এখানে হয়ত অ্যাডভান্সড, গিফে্‌টড ছাত্রছাত্রীর জন্য স্পেশাল কেয়ারের ব্যবস্থা থাকে, সেটা কিছু মাত্রায় হয়ত করা দরকার, কিন্তু সেটার জন্য পুরো আলাদা স্কুল সিস্টেম থাকা নাকি এক স্কুলের মধ্যেই এদের জন্য বিশেষভাবে অন্যরকম অ্যাডভান্সড শিক্ষা দেবার ব্যবস্থা করা বেটার সেটা আলোচনা ও তর্ক-সাপেক্ষ।

    তাছাড়া একটা ভালো ব্যাপার হল, এখানে হালি পড়াশুনোর কথাই বলা হয়না।
    খেলাধূলায় তো বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয় ই, গান বাজনা, ফাইন আর্টসেও। এবং, গুরুত্বপূর্ণ কথা হল সেগুলোকে কেরিয়ার হিসেবে নিতে এনকারেজ করা হয়।
    প্রায় প্রত্যেক স্কুলের ই নিজস্ব ওয়েবসাইট আছে।
    বেশ কয়েকটাতে গোল হিসেবে লেখা দেখলাম, ভালো মিজিশিয়ান, স্পোর্টসম্যান ইত্যাদি তৈরি করা।
  • pi | ০১ আগস্ট ২০১১ ০০:৫১482577
  • আচ্ছা, তাহলে কী দাঁড়ালো ?
    কমরেড আকার স্পোকসপার্সন পিনাকীদা জানালেন সব ইউনিফর্ম হোক, সরকারি হোক। এটাকে কমরেড আকার তরফের বিবৃতি বলেই ধরে নেবো তো ? ;-)
  • pinaki | ০১ আগস্ট ২০১১ ০১:৪০482578
  • আরে ধুর আবাসিক অর্থে সেক্লুডেড কেন বলব? সরকারি স্তরে দুরকমের স্কুল ব্যবস্থা কেন থাকবে? প্রশ্নটা সেই নিয়ে। এ তো সেন্টার অফ এক্সেলেন্সের কনসেপ্ট। খুব সম্ভবত: রাজীব গান্ধী এটার প্রবক্তা। কিন্তু কোথাও সমস্ত সরকারি স্কুলকে নবোদয় লেভেলে নিয়ে যাওয়া হবে - এরকম মিশন সরকারের নেই, ছিলও না। আমাদের দেশ, যেখানে স্কুল ব্যবস্থাটা কাজ করে একটা সিস্টেমেটিক মেথড অফ এলিমিনেশন হিসেবে - সেখানে সকলের জন্য নবোদয় স্কুল হবে - এই মিশন সরকারের পক্ষে নেওয়া সম্ভবই নয়। এইরকম নবোদয় ব্যবস্থায় গ্রামের গরীব ঘর থেকে দুটি চারটি ভালো ছাত্র এর সুবাদে মেইনস্ট্রীমে ঢুকবে, তথাকথিত 'সফল' হবে, আর তাকে পোস্টার করে দেখানো চলবে - এই তো গরীবরা উন্নতি করছে সরকারি স্কুল ব্যবস্থার হাত ধরে। অথচ বৃহত্তর অর্থে ব্যবস্থা বলতে যা বোঝায় - সেটা যে তিমিরে ছিল - সেখানেই রয়ে যাবে। পুরো ব্যবস্থার উন্নতি একবারে করতে পারছি না, তাই একটু একটু করে করছি - এটা একরকম। নবোদয় কনসেপ্টটা সেই জায়গা থেকে এলে তাও মানা যেত। কিন্তু অ্যাপ্রোচটা যদি এইটা হয় - যে পুরো ব্যবস্থার উন্নতি করতে চাই না - তাই সেটা পাশ কাটানোর জন্য কয়েকটা নবোদয় খুলে দিলাম - সেন্টার অফ এক্সেলেন্সের ধুয়ো দিয়ে - তাহলে সেটায় আপত্তি থাকবেই। এখনকার নবোদয় সিস্টেমের আড়ালের কথাটা সেইটাই।
  • pi | ০১ আগস্ট ২০১১ ০২:২৯482579
  • সেটার আরেকটা কারণ এই প্রাইভেট সিস্টেম জাঁকিয়ে বসাও। সেটা নিয়ে আপত্তি না তুলে এটা নিয়ে বলার কোন মানে নেই। তাই না ?

    নবোদয় নিয়ে আপত্তি থাকলে চেন্নাই এ তোমার ডিএভি নিয়েও আপত্তি থাকার কথা। সেটা প্রাইভেট, কিন্তু অন্য সরকারি স্কুলের থেকে তো আলাদা, এলিটিস্ট সিস্টেম তো বটেই।

    তবে এখানে 'তথাকথিত' দু একটি 'সফল' দের পোস্টার করে কতটা দেখানো হয়, জানিনা।
    বল্লাম তো, অনেকগুলোর ওয়েবসাইট দেখছিলাম। এরকম কিছু পোস্টার দেখিনি। সরকারি সাইটেও তো মনে হানা দেখেছি।

    এরকম খুব স্পষ্ট করেও লেখা আছে, স্পোর্টসম্যান, মিউজিশিয়ান তৈরি করার গোল রয়েছে। এগুলোও কি 'তথাকথিত সফল' এর ক্যাটেগরিতে ফেলবে ?

    আর, শিক্ষিত মানে তো এও বুঝলাম, আউত অব বক্স চিন্তাভাবনা করাকে স্টিমুলেট করবে, নার্চার করবে।
    নানা ইনোভেশন, অলিম্পিয়াডে এদের বাছাই হওয়া, এদের বাছাই হওয়া প্রোজেক্ট গুলো দেখলে তো মনে হয়, সেক্ষেত্রেও সফল।

    এবার এধরণের ইনোভেটিভ কিছু করতে পারাকেই আমাদের সমাজে তথাকথিত ভাবে সফল বলা হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে। আবার করলেও অবিযোগ থাকছে।
  • pi | ০১ আগস্ট ২০১১ ০২:৩৮482580
  • পুরোটার উন্নতি করা যাচ্ছে না, একটু একটু করে করা হচ্ছে, এটা নয়, তা নিয়েই বা সিওর হলে কীকরে ?

    নবোদয় স্কুলগুলো যেখানে হয়, তার আশেপাশের স্কুলগুওলোতেও নানা প্রোগ্রাম নেওয়া হয় কিন্তু। নবোদয়ের পক্ষ থেকেই।

    এটা তো অবজেক্টিভের মধ্যে লেখাই আছে :

    To serve, in each district, as focal point for improvement in quality of school education through sharing of experiences and facilities.

    আর একটার বেশি স্কুল করা হবেনা, এরকম কোন নিয়মও আছে কি ?

    বরং রাজ্য চাইলে ও জমি ও এই সুযোগসুবিধা দিলে তো মনে হয় করাই যাবে :

    The opening of a Navodaya Vidyalaya is based on the proposal received from the concerned State/UT alongwith the following :

    l 30 acres of suitable land free of cost in relaxation to the extent of at least 10 acres on case to case basis.

    l Sufficient space in the building and other infrastructure free of rent for at least three to four years which could accommodate 240 students and staff for running the Vidyalaya till the Samiti constructs its new building at the permanent site.
  • aka | ০১ আগস্ট ২০১১ ০৩:৫৬482581
  • কি জ্বালা রে বাবা। আর্ধেক স্কুলের মাথায় ছাদ নেই এদিকে জেলায় একটা করে নবোদয় বিদ্যালয় হচ্ছে। আগে ১০০ শতাংশ ছেলেমেয়ের বেসিক এডুকেশনের জন্য যা যা লাগে সেগুলো ঠিক করা হোক তারপর এলিট ফেলিট বানানো হবে। আম্রিগায় এই সমস্যা নেই। এরপরে সিলেবাস টাস নিয়ে ভাবা যাবে।

    আর হ্যাঁ সকলের জন্য ইউনিফর্ম ভালো ব্যপার তো। আমেরিকার বহু স্কুলে আছে। সাম্পানের পরবর্তী স্কুলেও আছে।

    পাই, তিনটি পয়েন লেখো যেখানে ভারতীয় এলিমেন্টারি স্কুলিং সিস্টেম আমেরিকার থেকে এগিয়ে। মেনে নেব।
  • pi | ০১ আগস্ট ২০১১ ০৪:০৮482583
  • আমি এরকম কিছু বলেছি নাকি ! :o
  • aka | ০১ আগস্ট ২০১১ ০৪:১৩482584
  • একেবারেই বুঝতে পারছি না বক্তব্য কি? নবোদয় বিদ্যালয় হচ্ছে তাই ভারতীয় এলিমেন্টারি শিক্ষা মুক্তির পথ দেখছে? নাকি ধীরে ধীরে ভারতীয় স্কুলিংয়ের আকাশে নতুন সূর্য্যের আলো দেখা দিচ্ছে?

    নাকি আমেরিকার সিস্টেম কপি করলেই ভালো হবে না?

    বুঝতে পারছি না।
  • rimi | ০১ আগস্ট ২০১১ ০৪:১৮482585
  • আমি সবগুলো পোস্ট ভালো করে পড়ার সময় পেলাম না। কিন্তু চাপ প্রসঙ্গে আমার দৃষ্টিভঙ্গীটা পরিষ্কার করে বলে যাই।

    "স্কুলে চাপ কম দিক যাতে বাড়িতে আমি ভালো করে শেখাতে পারি" - আমি কিন্তু ঠিক এইটা বলতে চাই নি।

    চাপ মানে - একটা বাচ্চা যতটা নিতে পারে, তাকে জোর করে তার থেকে বেশি নিতে বাধ্য করা। সেটা স্কুলেও হতে পারে, বাড়িতেও। বাড়ি বা স্কুল কোথাও ই বাচ্চাকে "চাপ" দেওয়াটা উচিত নয়, কোনো ব্যপারেই নয়।

    আমি বলতে চেয়েছিলাম, যেটুকু বেসিক এডুকেশন, যেমন লিখতে পড়তে শেখা, কিছু অংকের কনসেপ্ট জানা ইত্যাদি সেগুলো স্কুলেই যা শেখার শিখুক, বাড়ি এসে যাতে আমাকে স্কুলের কাজটা না করতে হয় বা প্রাইভেট টিউটরের বন্দোবস্ত না করতে হয়। আমি বাড়িতে ছেলের সঙ্গে সময়টা যথাসম্ভব রিলাক্সড ভাবে, আনন্দ করে কাটাতে চাই। "আনন্দ"টা আমার কাছে খুব ইমপর্ট্যান্ট। বাচ্চা যেন বাড়ির সব কাজে আনন্দের সঙ্গে অংশ নিতে পারে - শুধু ছবি আঁকা বা বই পড়া নয়, রান্না করা ঘর গোছানো ইত্যাদি সবেতেই।

    এবারে একেক বাচ্চার নেবার ক্ষমতা, শেখার ক্ষমতা একেকরকম। স্কুলে "চাপ" না দিয়ে পড়ানোটা একটা চ্যালেঞ্জ। তার জন্যে একটা বড় ব্যপার হল - যার নেবার ক্ষমতা কম তাকে না বকা, লজ্জা বা শাস্তি না দেওয়া, আর যার নেবার ক্ষমতা বেশি তাকে গ্লোরিফাই না করা। দেশে, আমি যত স্কুলে পড়েছি, কোথাও এটা করতে দেখি নি। প্রথম দেখলাম আমার ছেলের স্কুলে। একই ক্লাসে চারটে গ্রুপ। বাচ্চাদের শেখার ক্ষমতা অনুযায়ী তাদের গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। একেক গ্রুপের অ্যাসাইনমেন্টও আলাদা। কিন্তু কোনো গ্রুপকেই গ্লোরিফাই করা বা লজ্জায় ফেলার ব্যপার নেই। একেকজন একেকরকম ক্ষমতা অনুযায়ী একেক স্পিডে শিখবে, এটাই খুব স্বাভাবিক বলে ধরা হয়।

    রত্নাদির কনসেপ্টটা একদম আমার মনের কথা। শিক্ষা মানে শুধু যোগ বিয়োগ ইতিহাস ভূগোল নয়, শিক্ষা মানে লাইফ স্কিল। শিক্ষা শুধু কেরিয়ারের জন্যে নয়, সারাজীবনের প্রত্যেকটা ছোটোখাটো কাজের জন্যে। আমি ছোটোবেলায় রত্নদির মতন টিচার পেলে নিজেকে লাকি মনে করতাম।
  • pi | ০১ আগস্ট ২০১১ ০৪:৪১482586
  • এলিমেন্টারি এডুকেশান মানে কী ? :(
    ক্লাস সিক্স থেকে এলিমেণ্টারি এডুকেশান দেওয়া হয় ? :(

    আর, আমি বোধহ্য nth বার বলেছি, নবোদয়ের ইনফ্রাস্ট্রাকচরের পিছনে এর খরচ কমিয়ে তার পড়ানোর সিস্টেম, কারিকুলাম, অল-রাউণ্ড ডেভেলপমেন্ট ইত্যাদি কনসেপ্ট এগূলো নেওয়া দরকার।

    আর রিপিট করতে ক্লান্ত লাগছে।

    যা বলিনি, সেটা বারবার ডিফেণ্ড করতে বললে মনে হয় কিছু না পড়েই প্রশ্ন করা হচ্ছে।
  • aka | ০১ আগস্ট ২০১১ ০৪:৪৬482587
  • তা আমিও তো তাই বলছি, মনে হয় পিনাকিও তাই বলছে। তাহলে তক্কোটা কোথায়? সেটা দু এক লাইনে বললেই মেটে।

    আমেরিকার স্কুলিং সিস্টেম বেটার। নবোদয় স্কুলের বদলে সেই জিনিষপত্তর পুরো সিস্টেমে হোক। সবেতেই তো এক মত হওয়া গেল। কোন জিনিষটায় আপত্তি তাহলে সেটা অ্যাড্রেস করি বা মেনে নিই।
  • pi | ০১ আগস্ট ২০১১ ০৮:২২482588
  • না:, কোথায় আর একদম এক হল ?

    তুমি তো বলছিলে, এই সিস্টেমের আগাপাশতলা সব বদলে ফেলতে হবে।(তবে লাস্ট পোস্টে বলেছ, নবোদয়ের 'মত' আরো অনেক হোক। ) আর টাকা না বাড়ালে তো কিছু হবেই না। আম্রিগান সিস্টেম কপি পেস্ট করতে হবে।

    এর একটার সাথেও পুরো একমত নই।

    এক্সিটিং অনেক কিছু আছে। অনেক কিছু কাজ ও হচ্ছে।অসিলেবাস, বই, পড়ানোর পদ্ধতি, কারিকুলাম অনেক জায়াগাতেই ভাল আছে। সেটা সর্বত্র চালু করার জন্য সদিচ্ছা, প্ল্যানিং, এগুলোকে গুরুত্ব ও প্রায়োরিটি দেওয়া অনেক বেশি দরকার। আরো আরো টাকা ঢালার চেয়ে। টাকা এলে অবশ্য ভাল। তখন নবোদয়ের মত স্কুল বিল্ডিং হয়ত সর্বত্র করা যাবে, কিন্তু না এলেও অনেক কিছু করা যায়, যেগুলো অনেক বেশি দরকারি, যার কিছু হয়ত হচ্ছে, অনেক কিছুই হচ্ছে না।
    আর অন্যগুলো ঠিক না করে টাকা বাড়ালে সেটা ফুটো পাত্রে ঢালা হবে। কাজের কাজ কমই হবে।

    worldbank এর রিপোর্ট টা দেখতে পার। কী কী হয়েছে, আর কী কী হয়নি।:
    http://www.worldbank.org.in/WBSITE/EXTERNAL/COUNTRIES/SOUTHASIAEXT/INDIAEXTN/0,,contentMDK:21458552~pagePK:141137~piPK:141127~theSitePK:295584,00.html

    মিড ডে মিল টিলের পিছনে তো ভালোয় খরচ হচ্ছে, এনরোলমেন্ট অনেক বেড়েছেও ( য়দিও যতটা বেড়েছে বলে দাবি করা হয়, বাস্তবে তার থেকে কম)।

    সমস্যা এডুকেশনের কোয়ালিটি নিয়ে। টিচারদের ট্রেনিং এর প্রোগ্রাম ট্রোগ্রাম আছে। কিন্ত তার কদ্দুর কী হয় ?

    অনিল সদগোপালের সাথে আমরা একটা গ্রুপ বানিয়ে কিছু কাজ করতাম। তখন সর্ব শিক্ষা অভিযানের অনেক রিপোর্ট নাড়া ঘাঁটা করতাম। অডিট রিপোর্ট। এর পিছলে কিন্তু কিছু কম টাকা ঢালা হয়নি বা হয়না। সে টাকা নয় ছয় ও ভাল মত হয়, নানারকম ব্যুরোক্রাসির চক্করে ঠিক ঠাক সময় ঠিক ঠাক জায়গায় পউঁছায় না, এও হয়, আবার প্রচুর ফাণ্ড আণ্ডারইউটিলাইসাড, এমনটাও দেখেছি। টাকা ফেরত চলে যায়।

    এই গিফটেড স্কুল, যেটা নিয়ে আপত্তি, সে তো আম্রিগান সিস্টেমেরই খুব চালু ( ও অনেকের মতে ভাল জিনিস)।

    আর, এখানে একটা জিনিস রিমিদিকে জিগানোর ছিল, লাস্ট পোস্টে যে লিখেছ, একি স্কুলে স্পিড ও কিছু ক্রাইটেরিয়ার বেসিসে চারটে গ্রুপ থাকে ক্লাসে, কাঊকে গ্লোরিফাই করা নয়, কাউকে লজ্জায় ফেলা নয়, এটা তো খুব ভাল জিনিস। এঈ সিস্টেম থাকা সঙ্কেÄও এখানে ঐ গিফটেড, ম্যাগনেট - ঐসব রয়েছে কেন ?

    আর, পিনাকীদা বলেছিল, 'পাই এর শহুরে এলিট স্কুলের ব্যাপারটাও একই ভাবে ভ্যালিড। মাধ্যমিক স্তর অব্দি একই মানের শিক্ষায় সকলের সমান অধিকার থাকাটাই কাম্য। অন্তত: আমার কাছে। তাই আমার মতে সেটা সরকারি হওয়া উচিৎ। পুরোপুরি। বেসরকারি ক্ষেত্রকে ঢুকতেই দেওয়া উচিৎ নয়।'

    একমত কি ? :)

    গ্রামের গরীব প্রতিভাবান কিছু ছেলে কেন সরকারী টাকায় অন্যরকম এলিট শিক্ষা পাবে, এই প্রশ্ন তুললে অনেক আগে কিন্তু এই প্রশ্ন উঠে আসবে, শহরে আমাদের মত এলিটরা, তাদের ছেলেমেয়েরা কেন টাকার জোরে এর চেয়েও বেশি এলিট শিক্ষা পাবে, যা অন্যদের জন্য এক্সেসিবল নয়।
  • pi | ০১ আগস্ট ২০১১ ০৮:২৭482589
  • ও হ্যাঁ, সর্ব শিক্ষা অভিযান এর 'শিক্ষা' র উদ্দেশ্য নিয়েই অনেক প্রশ্ন তোলা যায়।
  • pi | ০১ আগস্ট ২০১১ ০৮:৩১482590
  • রিমিদি, তোমার 31 Jul 2011 -- 02:25 AMপোস্টের উত্তর লিখতে শুরু করে মুছে দিয়েছিলাম।
    আকাদার 31 Jul 2011 -- 06:37 AM পোস্টটা পড়ে। :)

    ভাবলাম, নিনাদি আগে লিখুক। তারপর লিখবো খন।
    হয়তো খুব বেশি কিছু লেখারও নেই।
  • rimi | ০১ আগস্ট ২০১১ ০৯:০৪482591
  • পাই আমার পোস্টের সঙ্গে আকার পোস্ট একদম গোলাবি না। আকার আর আমার বক্তব্যএর কন্টেক্সট একেবারেই আলাদা। আমি কোনো রকম জেনেরাল আলোচনা করার মতন জায়গাতে নেই :-)
  • siki | ০১ আগস্ট ২০১১ ০৯:১৩482592
  • এই নবোদয় বিদ্যালয়টা কি রিসেন্ট কোনও কনসেপ্ট? এই টই খোলার আগে পর্যন্ত আমি নাম শুনি নি। কেভি শুনেছি। আর, সে¾ট্রাল মডেল স্কুল শুনেছি। সে¾ট্রাল মডেলই কি কেভি? কল্যাণীতে একটা সে¾ট্রাল মডেল স্কুল আছে, অতীব ঝাঁটু স্কুল। অভ্যু বলতে পারবে। :-)
  • Abhyu | ০১ আগস্ট ২০১১ ০৯:৩৭482594
  • না হে সিকি, এই নবোদয় বিদ্যালয় কনসেপ্টটি, আমার বিদ্যেমতে, খুব ভালো।
    কেভি মানে কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় - এগেন, ভালো স্কুল।
    ওদিকে কল্যাণীর সে¾ট্রাল মডেল স্কুলটি আমাদের সময় অবশ্য বেশ মডেল মডেলই ছিলো, মানে দেখতে ভালো, তবে ঐ পর্যন্তই :)
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঠিক অথবা ভুল প্রতিক্রিয়া দিন