এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  অন্যান্য

  • এখন নন্দিগ্রাম - ১৪ই মার্চের থেকে

    Binary
    অন্যান্য | ০৫ মে ২০০৭ | ৩২৩১৯ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • S | ১৭ মে ২০০৭ ১১:৩০385200
  • সিঙ্গুর সেজ্‌ নয়। পুরনো তথ্য। বিতর্কের কোনও অবকাশই নেই।
  • B | ১৭ মে ২০০৭ ১১:৫৬385201
  • সেজ কতটা জমি দখল করতে পারে ??

    বিধির ২য় অধ্যায়ে বলা আছে যে -
    # যদি কয়েকটি পণ্য উৎপাদন করা হয় তবে সেজ্‌এর জন্য ন্যুনতম জমি লাগবে ১০০০ হেক্টর। সঙ্গে যদি পরিষেবা দেওয়ার কথা বলা হয় তবে আরও অন্তত: ১০০ হেক্টর।
    পুরো জমির ব্যবস্থা করবে রাজ্য সরকার।

    # উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জন্য এই জমির মাপ কম ধরা হয়েছে, যেখানে একসাথে এতটা সমতল জমি পাওয়া যাবে না। তবে সেখানেও অনুপাতটা যথেষ্ট বেশীই।

    # যে জমি নেওয়া হবে, তার ২৫ শতাংশ জমিতেই মাত্র শিল্প শিল্পোদ্যোগটি সেজ্‌-এর সমস্ত আর্থিক ও অন্যান্য সুবিধে পাবে। বাকি অংশ শিল্পোদ্যোগটি প্রায় তার ইচ্ছে মত ব্যবহার করতে পারবে।

    (এখানে এটা বলা হয়তো খুব অপ্রাসঙ্গিক হবে না:-)), যে সংসদে বাম দলগুলি এই জমির ব্যবহারের ব্যাপারে নানা দর কষাকষি চালাচ্ছেন। তাঁদের মতে ২৫%-কে ৫০%-এ উন্নীত করলেই শিল্পোদ্যোগগুলোর সামাজিক দায়বদ্ধতা বাড়বে। কিন্তু জমি অধিগ্রহণ পদ্ধতির চূড়ান্ত অমানবিক দিক, চূড়ান্ত অস্বচ্ছতা, অন্যায্য অর্থনৈতিক ছাড়, উচ্ছেদ হওয়া মানুষদের প্রতি দায়হীনতা, সেগুলো সম্বন্ধে তাঁরা নীরব। এ প্রসঙ্গেই সীতারাম ইয়েচুরি ঘেউ ঘেউ করা কিন্তু না কামড়ানোর কথা বলেছিলেন। এর প্রতিফলন আমরা দেখেছি টাটা-সিঙ্গুর ক্ষেত্রে, যেখানে আজও জমি, ছাড়, বিনিয়োগের অনুপাত, ইত্যাদি কোন ব্যাপারেই কোন স্বচ্ছতা রাজ্য সরকার দেখান নি।)

    # যদি বৈদ্যুতিন শিল্প, কম্পিউটার যন্ত্রাংশ বা সফ্‌ট্‌ওয়ার তৈরি হয়, বা তথ্য প্রযুক্তি পণ্য ও পরিষেবা উৎপাদন করা হয়, তাহলে ন্যুনতম জমির মাপ হবে ১০ হেক্টর। একই নীতি জীবপ্রযুক্তি, অপ্রচলিত শক্তি, সৌরশক্তি সংক্রান্ত যন্ত্র ও যন্ত্রাংশ, মণি ও কাঞ্চনের ক্ষেত্রেও।

    # সেজ্‌ অঞ্চলে মুক্ত বাণিজ্য সংক্রান্ত বিপনন ব্যবস্থা(Free Trade Warehousing) স্থাপন করতে হবে ন্যুনতম ৪০ হেক্টর জমির উপর - এর মধ্যে কম পক্ষে ১ লক্ষ বর্গ মিটার জায়গায় নির্মাণ থাকতে হবে।

    @@ খেয়াল রাখা দরকা যে, জমির প্রয়োজনের নিম্নসীমা বাঁধা থাকলেও উর্দ্ধসীমা সম্বন্ধে আইনে কিছু বলা হয় নি বা নেইও। ফলে জমির কারবারিরা সেজ্‌এর ছদ্মবেশে যত ইচ্ছে জমি দাবি করছে(রিলায়েন্স, ডি এল এফ)। তাদের এই দাবি বেআইনীও নয়। বিধির চার ধারায় বলা হয়েছে যে উন্নয়নকারী বা সহ উন্নয়নকারী যে ব্যবসা করবে, তার অন্তত: ২৬% ভাগ তাদের থাকতে হবে। শুনতে ভালো হলেও ব্যাপারটা বেশ বিপজ্জনক। ব্যবসা শব্দটিকে ইংরিজিতে বলা হয়েছে "entity", যার কাছাকাছি পরিভাষা হতে পারে অস্তিত্বশীল বস্তু। কিন্তু এই বস্তুটিতে যে যে ব্যবসায়ের নাম স্পষ্ট করে বলা হয়েছে তা হলো বসতবাটি নির্মাণ এবং প্রমোদ উপকরণের জন্য নির্মাণ। এর ফলে একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠান যে কোন একটি "রিয়্যাল এস্টেট" ব্যবসার চার ভাগের এক ভাগের মালিক হয়ে সরকারকে আইনি পথেই কর ফাঁকি দিয়ে মানুষের পকেট কাটতে পারে আর রাজ্য সরকারও তার এই অপকর্মের জন্য যাবতীয় সুযোগ সুবিধে অকাতরে বিতরণ করতে পারে, বা করবে।
  • LCM | ১৭ মে ২০০৭ ১২:২৭385202
  • S,
    থ্যাংকু। তর্ক টর্ক নয়, আমি জানি না কোন কোন জায়গা সেজ্‌।

    পশ্চিমবঙ্গে কোন কোন জায়গা সেজ্‌ ? বা কোন জায়গা হবে বলে ঠিক করা হয়েছে?
  • S | ১৭ মে ২০০৭ ১২:৩৯385203
  • এই মুহুর্তে যা মনে পড়ছে, হলদিয়া সেজ্‌। আর পশ্চিমবঙ্গে কী আছে, জানি না। গুগল দেখে বলতে হবে।

    দিল্লির গায়ে লগোয়া নয়ডা হল একটি সেজ্‌।
  • B | ১৭ মে ২০০৭ ১৩:৫৭385205
  • ঠিকই। সিঙ্গুর 'সেজ্‌' নয়। তবে জমি অধিগ্রহণের ধরণধারনে সেজ্‌-পদ্ধতিই অবলম্বন করা হয়েছে বলে তার উল্লেখ।

    পশ্চিমবঙ্গে, আমার জানা অনুযায়ী, এ বছরের শুরু অবধি ১৯টি সেজ্‌এর আবেদন পড়েছে, অনুমোদন পেয়েছে ৮টি। চালু আছে তিনটি - ফলতা, মণিকাঞ্চন, সল্টলেক ইলেক্ট্রনিক সিটি, উইপ্রো যার প্রোমোটার-এখানে মোট ১৪টি ইউনিট কাজ করছে। এছাড়া
    ১) কুলপি - প্রোমোটার WBIDC, (Multiproduct)
    ২) কলকাতা লেদার কম্‌প্লেক্স - এম এল ডালমিয়া অ্যাণ্ড কোম্পানি (Leather product)
    ৩) বানতলা - এম এল ডলমিয়া অ্যাণ্ড কোম্পানি (IT & Related Aector)
    ৪) হুগলি - জেনেসিস, (Electronics & Hardware & software)
    ৫) দক্ষিণ ২৪ পরগণা - ওভাল ডেভেলপার্স প্রাইভেট লিমিটেড (Electronics & Software)
    ৬) বাটানগর - রিভারব্যাঙ্ক হোল্ডিং প্রাইভেট লিমিটেড (IT Sector)

    এছাড়া যে সব সেবা সংক্রান্ত আবেদন জমা পড়েছে তাতে পবন কুমার রুইয়া হলদিয়ায় দেড় হাজার হেক্টর জমি চেয়েছে, হাজার কোটি বিনিয়োগের প্রস্তাবে।

    পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শিল্পবাণিজ্য দপ্তর ২১।৯।২০০৬-এ চিফ এক্‌জিকিউটিভ অফিসার, হলদিয়া ডেভেলপমেণ্ট অথরিটিকে জানান যে ৫৮ হাজার একর জমিকে 'সেজ্‌'-এর জন্য চিহ্নিত করতে হবে। এই জমি প্রাথমিকভাবে অধিগ্রহণের জন্য চিহ্নিত হয়েছিল নন্দীগ্রামের ৩৮টি মৌজা, নন্দকুমারের ৯টি মৌজা, মহিষাদলের ৩২টি মৌজা, ভবানীপুরের ২৯টি মৌজা, সুতাহাটার ২৫টি মৌজা এবং হলদিয়ার ৬টি মৌজাকে নিয়ে।

    পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রস্তাব অনুযায়ী হলদিয়া ঘিরে তিনটি সেজ্‌ হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী যেহেতু ২৫০ স্কোয়্যার কি মি জায়গা লাগবে, অর্থাৎ ৬২ হাজার ৫০০ একর। HDA-র হিসেব অনুসারে ১৪,৫০০ একর জমি রাখা হবে শিল্পের জন্য। ১০হাজার একরে হবে কেমিকাল হাব, আড়াই হাজার একরে জাহাজবন্দর আর বাকি জমি থাকবে নদী পরিবহণের জন্য।

    ১৮.০১.০৭ লক্ষণ শেঠ(চেয়ারম্যান- হলদিয়া ডেভেলপ্‌মেণ্ট অথরিটি) বলেছেন (Times of India- ১৯শে জানুয়ারী) প্রথম পর্যায়ে তিন লাখ একর জমি চিহ্নিত করা হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও একলাখ একর জমিও চিহ্নিত করা হয়েছে।

    ১৮ই জানুয়ারী সালিমের বেনি সান্তাস হলদিয়ায় জানিয়েছিলেন যে তাঁর সেজ্‌এর জন্য সাতাশ একর জমি দরকার। তাঁকে সরকার জানিয়েছেন যে পনেরো হাজার একর জমি নন্দীগ্রামে আর বারো হাজার একর জমি হলদিয়ায় দেওয়া হবে।

    # এই রাজ্যে ১৯৯৫-৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত ২ লক্ষ ৯১ হাজার ৬২০ একর কৃষি জমি বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার হয়েছে। যাতে কারখানা, ইটভাটা, আবাসন, ইত্যাদি গড়ে উঠেছে। ২০০১ থেকে ২০০৫ অবধি গড়ে প্রতি বছর ৫০ হাজার কৃষি জমি অকৃষি জমিতে রূপান্তরিত হয়েছে।
  • B | ১৭ মে ২০০৭ ১৪:০০385206
  • Sector হবে Aector নয়।
  • B | ১৭ মে ২০০৭ ১৪:০২385207
  • উফ্‌, সাতাশ হাজার একর হয়েছে সাতাশ একর। দু:খিত।
  • * | ১৭ মে ২০০৭ ১৭:৩৮384641
  • সত্য বলে সত্য!
    কত আগে সব্বার মুখোশ কেমন খুলে দেওয়া যেত -
    শুধু আজকাল ছাপতে এত দেরী করলো কেন বুঝলাম না!!
    আর আজকালে বেরিয়েছে যখন তখন একদম অভ্রাণ্‌ত,তথ্যের সত্যতা নিয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশই নেই:)
    (এটাও বুঝলাম বুদ্ধিজিবীদের ওপর আক্রমণের খবর আজ্‌কালে আগে বেরোয়ি্‌ন কেনো :D)
  • Suvajit | ১৭ মে ২০০৭ ১৯:৫৮384642
  • এই ভদ্রোলোক কি লিখতে চেয়েছেন বোঝা গেলো না। http://www.aajkaal.net/report.php?hidd_report_id=79055
    বিশেষ করে এই জায়গাটা। "একটিবার ভেবে দেখুন কতখানি বর্বর হলে এই সরকারের পুলিশ নিরন্ন (নিরস্ত্র বলতে চেয়েছেন বোধহয়) কৃষকরমনীদের ওপর গুলি চালাতে থাকা অবস্থায় তাদের গনধর্ষণ করে। কি বললেন? আমরাই জমায়েতের প্রথম সারিতে নারী-শিশুদের ভুলিয়ে ভালিয়ে তেমন পরিস্থিতি তৈরি করেছিলাম? ..."
    অর্থাৎ নারী শিশু আন্দোলোনের প্রথম সারিতে থাকলে প:ব: য়ে গনধর্ষনের মতো একটা পরিস্থিতি তৈরি হয়? এটা লেখক স্বীকার করে নিচ্ছেন।

    আর বর্তমানের এই লেখাটাকে এককথায় বলা যাই পাতি ভাট।
    http://www.bartamanpatrika.com/content/spl1.htm
  • Arijit | ১৭ মে ২০০৭ ২১:২১384643
  • খুড়ো হাসিটা কি এই আজিজুল-তপন মিত্রদের ক্ষেত্রে আগের কথা কেন আনা হবে বলে আবার এই কারো কারো জমিবন্টনবিরোধী ইতিহাসের কথা তুললাম বলে দিলে? জমিবন্টনবিরোধীতাটা একই ক্যাটেগরীতে ফেলা মনে হয় যায় না। আর এই কারো-কারো - মানে যার কথা বলা আর কি - তার গত বিশ বছরের রাজনীতির পরিপ্রেক্ষিতেই কথাটা আসে।
  • B | ১৭ মে ২০০৭ ২৩:৩৫384644
  • হাসিটা ছিলো ধড় না ধরে লেজের টিকি নিয়ে টান মারা দেখে।

    লেজ-এ বা সেজ-এ দুপক্ষের কারুরই যে অরুচি নেই, সেটা আরেকবার ঘোষিত হলো বটে।
  • Ishan | ১৭ মে ২০০৭ ২৩:৪২384645
  • অজ্জিতকে:

    লোকজনের অতীত হিসাবে আনলে খুবই গোলমেলে হিসাব পাওয়া যাবে। তৃণমূলের (আদতে কংগ্রেসের) পুরোনো লোকেরা এককালে জমিবন্টনের বিরোধী ছিলেন। আবার নন্দীগ্রামে ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির লোকেরা এই সেদিনও সিপিএম ছিলেন। ওদের দুই নেতা আবু তাহের আর শেখ সুফিয়ান দুজনেই এলাকায় সিপিএম নেতা ছিলেন। সুফিয়ান কদিন আগেও ছিলেন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি।
  • B | ১৭ মে ২০০৭ ২৩:৫০384646
  • হীরেন সান্যাল সেদিনও, নব্বইয়ের গোড়াতে, প ব সরকারের ধামাধরা কো অর্ডিনেশন কমিটির জেনারেল সেক্রেটারি ছিলেন!! সেই অজয় মুখার্জীর টার্মের (অবসরের সাথে সাথে) পরেই, তারপরে এলেন মলয় রায়, তারপরে স্মরজিৎ রায়চৌধুরী আর এখন জ্যোতিপ্রসাদ বসু। কিন্তু এগুলোতে তো সি পি আই এম-এর সক্রিয় লোক ছাড়া কেউ থাকতে পারত না।

    কিন্তু কি গেরো। হীরেন সান্যাল, মণি সান্যালের ভাইপো, সোমনাথ লাহিড়ীর ভাবশিষ্য, কালে সি পি আই-এম-এর একনিষ্ঠ কর্মী, অবসরের পরেই নতুন দল টল নয়, সরাসরি তৃণমূলে যোগ দিলেন...

    ফলেন বর্তমানে ....:-।
  • B | ১৭ মে ২০০৭ ২৩:৫৯384647
  • শুধু তাই নয়, এত যে ঘাসফুল, ঘাসফুল করে ঘাস খেয়ে ফুলেরা ফুলের নৈবিদ্যি চড়িয়ে আপ্রাণ পোলারাইজ করার চেষ্টা চালাচ্ছে, সেই এদল ওদলের তারা কেউ এ কথা বলছে না যে নন্দীগ্রামের যতজন মারা গেছেন, তার মধ্যে একজনই ঘাসফুল দলের সক্রিয় কর্মী ছিল। আর তার কাকা ছিল প্রচ্ছন্ন সমর্থক। বাকি সবাই, হ্যাঁ, সুব্রত সামন্তও ছিলো এই সেদিনও সি পি আই এম-এরই লোক, সমর্থক বা কর্মী।

    ওই একজনকে আর তার কাকাকে একবারটি শহর থেকে নন্দীগ্রামে গিয়ে দেখে আসুন না গুনীজনেরা।
  • B | ১৮ মে ২০০৭ ০০:২৯384648
  • নয়া সংশোধন বাদ
    ---------------------
    ইয়ে, ঐতিহাসিক নয়, এট্টু ছোট্ট ভুল হয়েছে মনে হচ্ছে। মানে, .... হীরেন সান্যালকে অবিশ্যি পুরোপুরি যোগ দেওয়ার কথা বলাও যায় না, আবার না যোগ দেওয়ারও ...... মানে ওই পুরোনো দলের রাজনীতির মতই আর কি....:-।
  • B | ১৮ মে ২০০৭ ০১:০৫384649
  • সেজ্‌ প্রসঙ্গে আসছি -

    সেজ্‌ আইনের ৫ম ধারা রাজ্য সরকারের দায়-দায়িত্বর কথা বলা হয়েছে। এই নিয়ম অনুযায়ী রাজ্য সরকার কোন সেজ্‌এর প্রস্তাব বিবেচনার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠালে তার আগে এই কর্তব্যগুলো পালন করার অঙ্গীকার করেই পাঠাতে পারবে।

    # প্রকল্পটিকে রাজ্য সরকার তার সমস্ত স্থানীয় কর, শুল্ক, লেভি ও অন্যান্য আর্থিক বিষয়ে ছাড় দেবে।

    # জমি বেচাকেনায় রাজ্য সরকার নিবন্ধীকরণের অর্থসহ স্ট্যাম্প ডিউটি ইত্যাদি ছাড় দেবে।
    (এই নিয়মে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা বিদেশী সংস্থাও ভারতে সেজ্‌ অঞ্চলে জমির মালিক হয়ে বসতে পারে এবং তার মালিকানার অংশকে সে ভারতের বিভিন্ন আইনের উর্দ্ধে ধরে নিয়ে কাজকর্ম করতে পারবে)।

    # রাজ্য সরকার বিদ্যুৎ শুল্কে সম্পূর্ণ ছাড় দেবে। (এই কাজ নিশ্চিন্তে করার জন্য ২০০৩ সালেই কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সরকারগুলি ইলেক্ট্রিসিটি আইন পরিবর্তন করেছে)।
    ( বেসরকারি সংস্থা সেজ্‌ অঞ্চলে নিজের প্রয়োজনে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে। এর জন্য সাধারণ নিয়মে যে সমস্ত কর, শুল্ক বা লেভি দিতে হয়, তার কোনটাই প্রযোজ্য হবে না। উপরন্তু, সেই অঞ্চলে সংস্থাটি বিদ্যুৎ বিতরণ করে ব্যবসাও করতে পারবে। তার জন্য আইনমাফিক বিভিন্ন প্রথাগত সংস্থা থেকে ছাড়পত্রও নেবার দরকার নেই। কেন না, সেজ্‌ হলো "One-Window System"। মানে, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনে যেসব বাধ্যতামূলক জন শুনানি, দূষণ সংক্রান্ত ছাড়পত্র লাগে, তাপবিদ্যুৎ হলে ছাই ব্যবস্থাপনার যেসব প্রকরণ লাগে তার কোনটাই প্রযোজ্য নয়.....
    শিল্পসংস্থাগুলো স্বচ্ছন্দে সেজ্‌এর বাইরে গ্রামগুলোতে ফ্লাই অ্যাশ ফেলে যেতে পারে, দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ কোন জরিমানা করতে পারবে না।)

    # উন্নয়নকারী সংস্থাগুলো জল, বিদ্যুৎ, ইত্যাদি অন্য যেসব পরিষেবা প্রয়োজন বলে দাবী করবে তার প্রত্যেকটিই রাজ্য সরকার বিনামূল্যে উন্নয়নকারীকে বিনামূল্যে সরবরাহ করতে বাধ্য থাকবে। এই দাবীর সপক্ষে উন্নয়নকারীকে কোন যুক্তিই দিতে হবে না, শুধু বিবৃতিই যথেষ্ট। এবং তা মূল প্রকল্পে নাও থাকতে পারে।
    ------

    ** সবচেয়ে সুন্দর কথা অবশ্য সেজ্‌ -এ বলা আছে শ্রম আইন বা শ্রমিকের জন্য। এবং তা ভারতসভায় পাশ করতে গিয়ে আরও চমৎকারভাবে সর্বভারতীয় ট্রেড ইউনিয়নের সর্বোচ্চ নেতা রাজ্যসভার বামপন্থী সাংসদের ভোটও পেয়েছে:-))

    ভারতের শ্রম আইন মতে শ্রম বিরোধ সংক্রান্ত ত্রিপাক্ষিক আলোচনা চালানো, শ্রম বিরোধ মেটানো এবং শ্রমিকের আইনি স্বার্থ যাতে বিঘ্নিত না হয়, তা দেখার দায়িত্ব ন্যস্ত আছে শ্রম দপ্তরের উপর আর তা পালিত হয় শ্রম কমিশনার মারফত। সেজ্‌এর ক্ষেত্রে এর চূড়ান্ত দায়িত্ব শ্রম কমিশনারের পরিবর্তে সেজ্‌এর জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেভেলপমেণ্ট কমিশনারের হাতে অর্পণ করা হয়েছে।

    এই ডেভেলপমেণ্ট কমিশনারের হাতেই আছে সেজ্‌ এলাকার সমস্ত নিয়ন্ত্রনের দায়, সমস্ত কিছুর ছাড়পত্র দেবার একচেটিয়া অধিকার। উন্নয়নকারীকে তিনিই দূষণের ছাড়পত্র দেবেন, তিনিই বলবেন কে কতটা জমি পাবে, অধিগ্রহণের বিষয়ও চূড়ান্ত করবেন তিনি, শ্রম আইন যে সেজ্‌এ অচল এটাও তিনিই মেনে নিচ্ছেন আবার তার হাতেই সমস্ত বিরোধ নিষ্পত্তির ভার...:-))

    তিনিই একমাত্র দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি যিনি সেজ্‌ সীমানা নির্ধারণ করবেন-পুলিশ ফৌজদারি নিয়মে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। তিনিই ঠিক করবেন কে বা কারা বহিরাগত; তিনি আরও ঠিক করবেন কোনো উন্নয়নকারী উৎপাদন এলাকার বাইরে কতটা অংশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হবে, কতটাতে হাসপাতাল, কতটাতে হোটেল-নাইট ক্লাব-সুইমিং পুল - ওয়াটার পার্ক এবং অবশ্যই কতটাতে রিয়েল এস্টেট।

    এবং তিনি, হ্যাঁ, তিনিই শ্রমিকের স্বার্থও রক্ষা করবেন, অবশ্যই ভারত সরকারের আইনে নয়, "অন্য কোন" আইনে।
  • Arjiit | ১৮ মে ২০০৭ ০১:০৬384650
  • আমার কথাটা হল এই ডুবিয়াস লোকজনকে বাদ দিয়ে আন্দোলনটা করতে পারলে আখেরে হয়তো ভালো হত। সমীর পুততুণ্ড বা সৈফুদ্দিন চৌধুরীরা বা নকশালদের মধ্যেও যারা আছে তারা বা আরো এগিয়ে সুমন চাটুজ্জেরা যদি নিজেদের মঞ্চ থেকে আন্দোলনটা করতেন...তৃণমূল এখানে লেজ বলে তো মনে হয় না খবরের কাগজটাগজ পড়লে - আর তারা নিও-লিবারেলিজমের বিরুদ্ধে বা সত্যিই কৃষিজমিরক্ষার পক্ষে আন্দোলন করছে সেটা গত বিশ বছরের হিসাব কষলে মেনে নেওয়া শুধু কঠিন নয়, অসম্ভব। খুড়ো - শুধু আদর্শের জায়গা থেকে দেখে ভাবো। আমি ভোটের রাজনীতি করেছি - গোণাগুণতির খেলাটা বেশ সামনে থেকে দেখা।

    নিও-লিবারেলিজম নিয়ে আমার অনেক কনফিউজন আছে, জমি অধিগ্রহন পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন আছে, নন্দীগ্রাম নিয়েও বক্তব্য আছে - কিন্তু এদের মঞ্চে যাওয়ার কথা ভাবাও সম্ভব নয়।

    নিও-লিবারেলিজম, নন্দীগ্রাম, SEZ ইত্যাদি নিয়ে একটা খসরা লেখা হাতে এসেছে - এক্ষুণি দিতে পারছি না, তবে শিগ্গিরি EPW-তে বেরোবে।
  • B | ১৮ মে ২০০৭ ০১:১৭384652
  • লেজ - লেখাটার লেজ, তৃণমূল নয়।
    সেজ্‌ - বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, স্পেশাল ইকনমিক জোন, সেজবাতি নয়।

    ঝুড়ি কোদাল নিয়ে বোঝানোর চেষ্টায় - ও লেখার লেজ এবং বাংলা বা ভারতের সেজ - দুইই সি পি আই এম (এক্ষেত্রে সমার্থে অরিজিৎ তুই) আর তৃণমূলের পছন্দের তালিকায়।

    একটিবারও সেজ্‌এর বিরুদ্ধে এই দুটি পার্টির সে অর্থে প্রতিবাদ নেই (এক্ষেত্রে হয়তো তুই মাঝে মাঝে আবছা ভাবে একটু বাদ)।
  • Arijit | ১৮ মে ২০০৭ ০১:২৮384653
  • SEZ নিয়ে বিনা পড়াশোনায় কিছু বলা সম্ভব নয়। খবরের কাগজের পাতা ওল্টানো আর হঠাৎ হঠাৎ চোখে পড়া দু একটা আর্টিকল ছাড়া বেশি পড়াশোনাও এই মুহুর্তে খুব একটা সম্ভব নয়। অন্য পড়াশোনার চাপ আছে। তাই ওই তর্কটা আপাতত তোলা থাক।
  • m.s | ১৮ মে ২০০৭ ১৫:০১384654
  • যদিও ঘুম-পাওয়ার মতন প্রচুর লেখা আছে, তবুও কিছু তথ্য জানতে পারলুম, এবং সেইজন্য তথ্যদাতাকে আন্তরিক ধন্যবাদ।
  • B | ২০ মে ২০০৭ ২০:০৪384655
  • গত দুদিন ধরে নন্দীগ্রাম এবং আজ সিঙ্গুরেও ব্যাপক গণ্ডগোল আবার শুরু হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই সবচেয়ে বেশী কভারেজ করছে কলকাতা টিভি এবং তারা টিভি।

    গত ১৮ই মে কলকাতা টিভি "পুনশ্চ নন্দীগ্রাম" বলে একটি অনুষ্ঠান সম্প্রচার করেছিলো। ওই একইদিন রাতে নন্দীগ্রাম গনহত্যা প্রচার উদ্যোগ বলে একটি সমন্বয় কমিটিতে মোট ৪২টি সংগঠন একজোট হয়ে একটি গণ কনভেনশনের আয়োজন করেছিল ইউনিভার্সিটি ইন্‌স্টিটিউটে, যার কিছু কিছু অংশ (নবারুণ ভট্টাচার্য, দেবব্রত বন্দোপাধ্যায় আর জয় গোস্বামীর বক্তৃতা)কলকাতা টিভির ওই অনুষ্ঠানে দেখানো হয়।

    মজার কথা সেইদিন থেকে কলকাতা টিভি-র সমস্ত সম্প্রচার নির্বাক চলচ্ছবিতে পরিণত হয়েছে। আজ বিভিন্ন জায়গায় ফোন করে জানা গেলো যে সেসব জায়গায় (যেমন কেষ্টোপুর, উল্টোডাঙা, বেলেঘাটার অনেকটা অঞ্চল), কোথাওই কলকাতা টিভিতে কোনরকম শব্দ শোনা যাচ্ছে না।

    কারণ এখনও জানা যায় নি। খবরের কাগজেও কোন বিজ্ঞপ্তি নেই।
  • B | ২০ মে ২০০৭ ২১:৪২384656
  • সেজ-এর কথার পরবর্তী অংশে পশ্চিমবঙ্গে সেজ্‌ আইন নিয়ে কিছু কথা :-

    এই রাজ্যে সেজ বিল পাস হয় ২০০৩ সালে।
    (এখানে সবার একটু খটকা লাগতে পারে যে সে¸ট্রাল আইনের সময় এক, অথচ স্টেটের আরেক কেন? ব্যাপার হচ্ছে যে কেন্দ্র সেজ্‌ আইন প্রণয়নের সময় বেশী লাগতে পারে দেখে তার আগেই বিভিন্ন রাজ্যের কাছে এই আইন তাদের তাদের মত করে প্রণয়ন করার প্রস্তাব দিয়েছিলো। এবং সেই প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে এগিয়ে এসেছিলো প্রথম যে চারটি রাজ্য তারা হোলো পশ্চিমবঙ্গ, গুজরাত, ছত্তিস্‌গড় এবং সম্ভবত: তামিলনাড়ু।

    শুধু তাই নয়, রাজ্যসভায় সাময়িক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জেরে কেন্দ্রকে এই সেজ্‌ আইন প্রণয়নে যে যে পয়েণ্টের জন্য বাসুদেব আচারিয়া, নীলোৎপল বসু, প্রমুখ বামেরা বাধা দিচ্ছিলেন, মজার ব্যাপার যে সেগুলির সব কটাই প্রায় তখন এই রাজ্যে পাস হওয়ার মুখে বা পাস হয়ে যাচ্ছে।:-)))

    পশ্চিমবঙ্গে এই বিলের মূল উদ্দেশ্য বর্ণনায় রয়েছে "to accelerate economic reforms" - মানে এর উদ্দেশ্য হোল "আর্থিক সংস্কার ত্বরান্বিত করা"। অবশ্য এর লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য অধ্যায়ের কোথাওই কর্মসংস্থানের কথা বলা নেই। আর এও বলা আছে যে এই আইন রাজ্যের সর্বত্র প্রযোজ্য হবে।

    আইনের ২য় অধ্যায়ের ৩নং ধারার ১ নং উপধারা বলছে রাজ্য সরকার সেজ্‌এর জন্য প্রকল্প বানাবে অথবা বেসরকারি ব্যক্তি বা কোম্পানীকে বানানোর জন্য আমন্ত্রন জানাবে। রাজ্য সরকারই সেজ্‌এর স্থান নির্ধারণ করবে আবার ডেভেলপার যদি প্রকল্পের সাথে সাযুজ্যকারী কোন জায়গা বাছলে, তা অধিগ্রহণে তাকে সাহায্য করবে।

    ৪র্থ অধ্যায়, ৮ম ধারা, ২ নং উপধারা বলছে ডেভেলপারের ক্ষমতার কথা-
    ১) তার নিজের মালিকানার জমিকে হস্তান্তর করতে পারবে, ইজারা দিতে পারবে। জমিতে বাড়ি থাকলে তা বিক্রি করতে পারবে। ফাঁকা জমি থাকলে সে সেই জমিতে শিল্প গড়তেও পারে, নাও পারে, কেন না সে ওই ফাঁকা জমিকে ছোট ছোট খণ্ডে ভাগ করে ঐ জমি শিল্প গড়ার জন্য, বাড়ি বা ফ্ল্যাট গড়ার জন্য অথবা দপ্তরখানা করার জন্যও ব্যবহার করতে পারে।
    ২) সেজ্‌ করবো বলে যে কোন শিল্পপতি জমি নিজের নামে বা সংস্থার নামে কিনতে পারবে।
    ৩) সেজ্‌ অঞ্চলে শিল্পপতি যদি কোন পরিকাঠামো তৈরি করে তবে সে ঐ পরিকাঠামো সেজ্‌ অঞ্চলের সংস্থাকে ব্যবহার করতে গিয়ে পরিষেবা বাবদ লেভি আদায় করতে পারবে, কিন্তু সে সরকারের যেসব পরিষেবা গ্রহণ করছে, তার জন্য তাকে কোনরকম কর, শুল্ক, খাজনা বা লেভি দিতে হবে না।
    ৪) ডেভেলপার, অনুপস্থিত জমির মালিকের মত, নিজে উপস্থিত না থেকে সমস্ত ক্রিয়াকলাপ তার নায়েব মারফৎ চালাতে পারবে।
    ৫) ডেভেলপার, ডেভেলপমেণ্ট কমিশনার(যে পদটি কেন্দ্রীয় আইনবলে সারা দেশের সেজ্‌ অঞ্চলগুলির জন্য সৃষ্ট)-এর সাথে "পরামর্শ " করে সেজ্‌ অঞ্চলে যে কোন স্থান তার ইচ্ছামাফিক শিল্প, বাণিজ্য, বসতবাড়ি বা "অন্যান্য" কাজের জন্য সীমানা নির্দেশ করতে পারবে।
    ৬) ডেভেলপার বা সরকার সমগ্র সেজ্‌ অঞ্চলকে তার ইচ্ছে মত বেড়া দিয়ে ঘিরে ফেলতে পারে এবং সেইখানে প্রবেশ-প্রস্থানের অনুমতি ডেভেলপমেণ্ট কমিশনারের কাছ থেকে নিতে হবে।

    শ্রম আইন - :-)))
    শ্রম ও শ্রমিক-বিরোধ সংক্রান্ত সমস্যার নিষ্পত্তির দায়িত্ব থাকবে ডেভেলপমেণ্ট কমিশনারের হাতে, শ্রম দপ্তর বা শ্রম কমিশনার তাতে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। (মোটা হরফে আণ্ডারলাইন করা)। সেজ্‌ এলাকার সমস্ত কার্যকলাপ এমন কি গল্ফ কোর্স, ওয়াটার পার্ক, নাইট ক্লাব, ইত্যাদিও "অত্যাবশ্যকীয় জরুরি পরিষেবা"-র অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ধর্মঘটের অধিকার মূলত: নেই, মজুরি নিয়ে অসাম্য থাকলেও কিছুই করা যাবে না। " মহান "মে দিবস" দিচ্ছে ডাক, .........!!" :-)))

    ৬ষ্ঠ অধ্যায় - নিজস্ব শক্তির উৎস আর সরবরাহ হুবহু কেন্দ্রীয় আইনের মতই। অর্থাৎ রাজ্য সরকারও তার সবরকম আর্থিক, সামাজিক নজরদারি তুলে নিয়েছে এক্ষেত্রে।

    ৭ম অধ্যায় - দূষণ নিয়ন্ত্রন পর্ষদের দায়িত্বও, কেন্দ্রের মতই সেই ডেভেলপমেণ্ট কমিশনারের হাতেই।

    বলা বাহুল্য, যে বিষয়গুলো সম্পূর্ণ রাজ্যের এক্তিয়ারে, সেখানেও, কেন্দ্রের সাথে পাল্লা দিয়ে, কর মকুবের বন্যা বইয়ে দিয়েছেন আমাদের রাজ্যের শাসকেরা। আর তা করা হয়েছে এক অনিশ্চিত সময়সীমার জন্যই।
  • B | ২১ মে ২০০৭ ০১:১৭384657
  • বিভিন্ন দেশের সেজ্‌ আর আজকের নন্দীগ্রামের লড়াইয়ের জন্ম -

    অর্থনৈতিক অঞ্চলের ধারণা বিভিন্ন দেশের আইনের পরিবর্তনের সাথে সাথেই পাল্টেছে। প্রথমে এসেছিলো "মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল"(FTZ - Free Trade Zone) আর রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (EPZ-Export Processing Zone)। EPZ মূলত: বা একান্তই উৎপাদিত পণ্য রপ্তানির জন্য নিবেদিত জায়গা, আর FTZ রপ্তানির সাথে সাথে আমদানিও চালাতে পারে। এ দুটি ছাড়াও একটি "বিদেশী অভিগমন অঞ্চল" বা ("Foreign Access Zone")এর কথাও ভাবা হয়, যেখানে কেবলমাত্র আমদানিই করা হবে।

    নানা দেশ নানা সময়ে বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করেছে, ভারতও অবশ্যই - EPZ এবং ভারত সরকারের নিজস্ব নামে সেজ্‌, নানা সময়ে। সমগ্র এশিয়ার মধ্যে সর্বপ্রথম সেজ্‌ স্থাপিত হয় পশ্চিম ভারতে বন্দরশহর কাণ্ড্‌লাতে, ১৯৬৬ সালে। এরপর অন্যান্য জায়গায় EPZ স্থাপিত হতে থাকে একে একে পশ্চিমবঙ্গের ফলতায় আর সল্ট লেকে।

    মেক্সিকোতে এই সমস্ত অঞ্চলগুলোকে একসাথে স্থানীয় ভাষায় বলা হয় ম্যাকুইলাডোরাস(Maquiladoras), যেখানে বস্তুত: একশ শতাংশ অ-মেক্সিকান মালিকানা। এ অঞ্চলের নিয়মমতে এখানকার মালিকেরা যত ইচ্ছে বিদেশী কর্মচারী নিয়োগ করতে পারে এবং করছেও, কেবলমাত্র ঘণ্টাভিত্তিক মজুরিতে তারা স্থানীয় মজুর নিয়োগ করে। এরা ঘোষণাও করেছে যে এরা মেক্সিকোর কম মজুরির শ্রমশক্তি নিয়োগ করে, সস্তায় পণ্য তৈরি করে, শুল্ক, কর না দিয়ে রপ্তানি করতে পারছে বলে লাভ করছে এবং এরা মেক্সিকোতে ক্রমাগত লগ্নি করে যাবে।

    ১৯৯৫-এ গ্যাট চুক্তি মোতাবেক বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা গঠনের এক বছরের মধ্যে সারা অ্যামেরিকাতে ৪৯টি রাজ্য জুড়ে ২২৫টি SEZ এবং ৩৫৯টি উপ-অঞ্চল গড়ে ওঠে। কিন্তু যেহেতু এই পুরো ব্যাপারটাই মার্কিন বাণিজ্য সংস্থাগুলোর সুবিধার্থে করা হচ্ছে, তাই প্রথম থেকেই তার নিজস্ব ভূখণ্ডে এর খেলার নিয়ম তাদের নিজের মতো করে পরিবর্তিত করে নেওয়া হয়েছে। এই সমস্ত বাণিজ্য অঞ্চল থেকে যদি মার্কিন সংস্থাগুলি কিছু রপ্তানি করে, তবে কোন শুল্ক, কর বা লেভি তাদের দিতে হবে না, আমদানির ক্ষেত্রে তারা শুল্ক, কর বা লেভিতে প্রচুর ছাড় পাবে। অথচ কোন বিদেশী সংস্থা মার্কিন FPZ থেকে রপ্তানি করলে রপ্তানির ক্ষেত্রে সমস্ত আর্থিক ছাড় পেলেও আমদানি করলে কোন বিশেষ সুবিধে পাবে না। ফলে মার্কিন আর অ-মার্কিন সংস্থাগুলির মধ্যে বৈষম্য রয়েছে প্রচুর। এ ছাড়া সারা অ্যামেরিকাতে যত অনিয়মিত চুক্তিবদ্ধ শ্রমিক আছে তার প্রায় ৭০-৮০ শতাংশই এখানে নিয়োজিত। (এ ব্যাপারে ঈশান আরও আলোকপাত করতে পারবে, আশা করি)।

    বিশ্বায়ন আর বিশ্বায়ন করতে করতে যখন শ্রমিক আন্দোলন ছত্রভঙ্গ তখনই সারা পৃথিবীতে EPZএর মাধ্যমে ব্যবসা করা লোকেরা একজোট হয়ে "ওয়ার্ল্ড এক্সপোর্ট প্রোসেসিং জোন অ্যাসোসিয়েশন" তৈরি করেছে। তাদের ডায়রেক্টরী থেকে জানা যায় যে ১৯৯৭ সালের মধ্যেই সারা বিশ্বে ৭০টির বেশী দেশে ৮০০টির মত EPZ তৈরি হয়ে গেছে এবং চালু আছে। ল্যাটিন অ্যামেরিকা ও ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ মিলিয়ে প্রায় ১০০টি, এশিয়াতে ৬৪টি এবং অ্যাফ্রিকাতে ৩১টি। ধনী দেশগুলিতে তাদের EPZ গুলি দেশের দরিদ্রতম অঞ্চলে অথবা আদিবাসীপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে স্থাপন করার প্রবণতা বেশী। যেমন অস্ট্রেলিয়ার EPZগুলো ডারউইনে-উত্তর অঞ্চলে যা মূলত: আদিবাসী এলাকা।

    বিভিন্ন আর্থিক সুবিধের অঞ্চল হিসেবে নির্দিষ্ট হওয়ায়, এই শিল্প ইউনিটগুলি স্থানীয় মানুষের বিক্ষোভের ভয়ে প্রথম থেকেই ভীত ছিলো। এ সত্য ল্যাটিন অ্যামেরিকা বা ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে সংলগ্ন অঞ্চল থেকে বিচ্ছিন্ন, আলাদা করার জন্য উঁচু পাঁচিল দিয়ে ঘিরে রেখে এ অঞ্চলগুলোকে সম্পূর্ণ আলাদা রাখা থেকে পরিষ্কার হয়ে যায় - ঠিক যেমন উত্তর ভিয়েৎনামে মার্কিন সৈন্যরা ভিয়েৎনামী গ্রামগুলোকে কাঁটাতার দিয়ে ঘিরে "স্ট্র্যাটেজিক হ্যাম্‌লেট্‌" বানিয়েছিলো।

    কোন অশুভ যোগাযোগে জানা নেই, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের ধারণা জনসমক্ষে একটি গবেষণাপত্রের আকারে যখন প্রথম এসেছিলো, তখন সেই গবেষণাপত্রের একজন লেখক ছিলেন ডগলাস পাইক, যিনি ভিয়েৎনাম যুদ্ধের সময় মার্কিন সৈন্যবাহিনীর পরামর্শদাতা হিসেবে ভিয়েৎমিন গেরিলাদের কেমনভাবে দমন করতে হবে, তা করতে গিয়ে কেমনভাবে "স্ট্র্যাটেজিক হ্যাম্‌লেট্‌" বানাতে হবে, সেই মর্মে একটি "Handbook" রচনা করেছিলেন।

    অপ্রাসঙ্গিক নাম হলেও, সেজ্‌ না হলেও, সিঙ্গুরেও কি তড়িঘড়ি এইরকমই "স্ট্র্যাটেজিক হ্যাম্‌লেট" বানানোর মত কিছু আমরা দেখি নি? যা রক্ষা করার জন্য প্রশাসনিক বর্বরতা, জমিহারা কৃষকদের উপর সর্বগ্রাসী আক্রমণই জন্ম দিয়েছে আজকের নন্দীগ্রামকে, (নেতাদের প্যাঁচ-পয়জারের উর্দ্ধে) নন্দীগ্রামের সাধারণ মানুষের লড়াইকে।
  • punya | ০৮ নভেম্বর ২০০৭ ২০:২৭384658
  • 30 arrested from a rally against current Nandigram incidents, from College Square. They have been arrested and taken to Lal Bazar in the afternoon.

    Most of the arrested people are students.
  • Jayanta Das | ০৯ নভেম্বর ২০০৭ ১২:৩৮384659
  • ওই মাঠে কেটেছিলি
    হেমন্তের ধান

    মাঠ জুড়ে অমানিশা,
    অন্য কারও জয়ধ্বজা আজ....

    মেয়ে তোর
    চোখ জ্বলে
    বুক জ্বলে.....

    আমি তোকে
    স্বপ্নে দিই

    চার হাত

    তোর
    হাতে ওঠে
    লড়াইয়ের খাঁড়া

    তোর
    গলায় ওঠে
    নীচ লোভীদের
    মুণ্ডমালা

    তোর
    রক্তাক্ত উলঙ্গ শরীর
    ঢাকে
    নীচ পশুদের
    কেটে নেওয়া হাত....

    .......
    .......


    তোর আবাহনে
    সুমুখে জ্বালিয়ে রাখি
    মাটির পিদিম

    আজ।
  • kallol | ০৯ নভেম্বর ২০০৭ ১৫:৪৫384660
  • সাবাশ জয়ন্ত, আপনার কবিতাটি অসাধারণ।
  • Arijit | ০৯ নভেম্বর ২০০৭ ১৫:৫৬384661
  • http://www.dnaindia.com/report.asp?newsid=1131700

    A committee activist told DNA that a dozen 40-member special action squads have been formed, each of which is under two joint-commanders from the Trinamool and Maoist sides.

    There will be a three-layer resistance to the CRPF or police. While children and women take up the first two, the third layer will have special action squad members with sophisticated weapons holding it out.

    The committee activists have already destroyed connecting roads to Nandigram and built trenches instead. At six major entry points — Ranichak, Tekhali bridge, Taptatti Canal, Giribazar Pool, Talibhata and Bhangabera — they have installed high intensity explosives.

    Special action squad teams are also in place at Garchakraberia, Sonachura and Satengabazar equipped with mortars, self loading rifles, double barrel guns, country-made pistols and muskets.

    Two AK47s and a stengun complete the picture. A temporary workshop has been set up at #Sonachura to make country-made single-shooter pistols.


    দু:খিত - অমানুষ বলুন বা জন্তু - হিউম্যান রাইটসের হাজার "একতরফা' দোহাই দিন - এই নন্দীগ্রামকে আর "আন্দোলন' বলা যাচ্ছে না। ঘটনা কি সেটা এখন বেশ পরিষ্কার, কবিতা দিয়ে আর ঢাকা যায় না - ঘোরানোও যায় না, পাল্টানোও যায় না। যখন দুপক্ষই একই জিনিস ঘটায়, তখন তাদের মধ্যে কেউ একজন রঙ মেখে আক্রান্ত সাজলে বিশ্বাসযোগ্যতা থাকে না।
  • kallol | ০৯ নভেম্বর ২০০৭ ১৬:৫৫384663
  • কি জানি মাওবাদী-তৃণমূল জোট কোথায় গেলো। আজকের আনন্দবাজারে তো অন্য গল্প। সিপিএম সব দখল টখল করে নিলো। ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ ওয়ালারা রণে ভঙ্গ দিয়েছেন। মাওবাদী খুঁজে পাওয়া যায় নি, ল্যান্ডমাইনও না। এখন ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ ওয়ালারাই প্রশাসনকে চাইছে।
    তাহলে "DNA" টেস্টেও উল্টোপাল্টা বের হয় ?
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খারাপ-ভাল মতামত দিন