এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  অন্যান্য

  • সিঙ্গুর: কী ভাবছেন সবাই?

    Samik
    অন্যান্য | ০২ অক্টোবর ২০০৬ | ৮৫২৮১ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • b | ০৯ অক্টোবর ২০০৬ ১১:৫৬670221
  • আরেকটি ডিসক্লেমার দেওয়ার আছে, আমি খবরের কাগজ, স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা কে কিছুটা বুড়িয়ে যাওয়া বীক্ষা দিয়ে জুড়ছি বা জোড়ার চেষ্টা করছি। এইটের বাজার economics এ কমেছে, শুনেছি anthropology তে বেড়েছে (এই নিয়ে লোকের রসিকতা শুনেছি, হলফ করে কইতে পারব না।)

    সর্বোপরি আমি economicssocial science এর ছাত্র নই, উদা হিসেবে সরাসরি ই বলছি, তাই কল্লোল,সু বা রঙ্গন যে জায়গা থেকে কথা বলছেন সেই জায়গায় কখনই আমার বক্তব্য গুলো তেমন দাঁড়াবে না, তবু বলে রাখছি একটি কারণে, খবরের কাগজের বাইরে ভাগ করে কিছু ভাবা যায় কিনা সেটা দেখার জন্য।

    এমনিতে position সংক্রান্ত মন্তব্য লেখার মধ্যেই করছি।

    অতএব এই পোস্ট গুলি পাতি বাদ দিয়ে পড়তে পারেন।
  • Su | ০৯ অক্টোবর ২০০৬ ১৯:০৯670232
  • ব, আম্মো কোনও অর্থনীতিবিদ বা সমাজবিজ্ঞানীর দৃষ্টিকোণ থেকে কথা কইচি না কো, তার প্রথাগত শিক্ষা আমারও নাই। আমি কথা কইচি গিয়া প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এবং অবশ্যই খবরের কাগজ যে ভাবে ভাবে তার বাইরে দাঁড়িয়ে।

    আমার ধারণা, সিঙ্গুর প্রভৃতি বিষয়টা আঅরা গুলিয়ে ফেলছি, কারণ আমরা basically কথা বলছি মাইক্রো নিরিখে, ম্যাক্রো বস্তুটাকে এড়িয়ে যাচ্ছি। সিঙ্গুরে যে ঘটনা ঘটতে চলেছে তা এই রাজ্যে ২০ বছর আগে ঘটেছে বক্রেশ্বরে (যার কথা কেউ একজন বলেছেন) এবং ফলতায়, এক্সপোর্ট প্রোসেসিং জোন করার সময়ে। Lack of alternative অথবা lack of skill transfer সেখানে ঘটেছে অবধারিতভাবেই। সুতরাং এই দু জায়গাতেই পরিবার-পিছু এক জনের চাকরি, চারিদিকে কাজের বন্যা বয়ে যাওয়া, এ সবই ঢপ প্রতিপন্ন হয়েছে। অর্থাৎ বক্রেশ্বরে প্রায় ১০,০০০ টি পরিবার মোটামুটি পথে বসেছে। মাইক্রো লেভেলে এ সত্যি বড় সমস্যা, কিন্তু অন্য দিকটাও দেখতে হবে। বক্রেশ্বর বা ফলতায় যা হয়েছে, তাতে সামগ্রিকভাবে রাজ্যের উপকার হয়েছে। বক্রেশ্বর না হলে তো আমরা আজ যে জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি ত কোনওভাবেই সম্ভব হত না। সিঙ্গুরেও in all probablity এই ধরনের tangible এবং nontangible benefits হবে। ১০ হজার লোকের স্বার্থ না সারা রাজ্যের স্বার্থ, কোনটা দেখব আমরা এ ক্ষেত্রে? বৃহত্তর স্বার্থ বলে একটা কথা ছিল না?
    সু
  • Su | ০৯ অক্টোবর ২০০৬ ১৯:১৫670243
  • একটা ছোট্ট সংযোজন। বক্রেশ্বরে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রয়োজনে যে লেকটি তৈরি হয়েছে, তার নীচে এখনও তিনটি গ্রাম আছে। নৌকো করে গেলে স্বচ্ছ জলের তলায় সেই গ্রামগুলির চেহারা এখনও দেখতে পাওয়া যায়। পাকা বাড়িগুলো কী অদ্ভুত ভাবে জলের তলায় রয়ে গিয়েছে, গাছের কান্ড প্রভৃতি। খুব অদ্ভুত লাগে দেখতে।
    সু
  • r | ০৯ অক্টোবর ২০০৬ ২১:২৯670254
  • কল্লোলের কথার উত্তরে দুই একটি কথা:

    ১) "উন্নয়ন" বলতে "অর্থনৈতিক উন্নয়ন" নিয়েই কথা বলা হচ্ছে। অবশ্যই এর মধ্যে বিভিন্ন আধিভৌতিক মাত্রা যোগ করা যায়- উন্নতি আর ভালো থাকা কি সমার্থক? জানি না, এবং মনে করি জেনেও খুব একটা লাভ নেই। উন্নয়ন বলতে বুঝি আরও ভালোভাবে থাকা- স্রেফ ভাত-কাপড়-পয়সাকড়ি-ঘরদোরের হিসাবে। এতে কেউ ভালো থাকল তো থাক্ল, না থাকল তো থাকল না। অর্থনৈতিক উন্নয়নের উদ্দেশ্য এইটুকু। "ভালো থাকার" মতো বায়বীয় ধারণাকে সামলাবার সামর্থ্য নেই।

    ২) এইবার "সবার ভালো থাকা।" "অর্থনৈতিক উন্নয়ন" এবং "সবার ভালো থাকা" একেবারেই সমার্থক নয়। "সবার ভালো থাকা" হল উদ্দেশ্য, আর "অর্থনৈতিক উন্নয়ন" হল একটা পথ। অর্থনৈতিক উন্নয়ন না হলে সবাই কেন, কেউই ভালো থাকবেন না। কিন্তু অর্থনৈতিক উন্নয়ন হলেই যে সবাই যে ভালো থাকবেন তা মোটেও নয়। অর্থনৈতিক উন্নয়নের কোনো তঙ্কÄ এইরকম দাবীও রাখে না।

    ৩) এতদিনের "উন্নয়নের" পরে কি সবাই ভালো আছেন? যদি খাওয়া-পরা-থাকা-বাঁচার হিসেব করে গত তিনশ বছরের দুনিয়ার ইতিহাস দেখ, তাহলে মানুষ অনেক অনেক ভালো আছে আগের থেকে। এমন কি ভারতের পরিসংখ্যানও যদি দেখো, গত ষাট বছরে মানুষের খাওয়া-পরা-বাঁচার প্রভূত উন্নতি হয়েছে। কিন্তু তাও আমাদের কাঁটা বেঁধে চারটি কারণে-

    ক) যতটা উন্নতি হবার ছিল, ততটা কি হয়েছে?

    খ) যেহেতু আমাদের জনসংখ্যা বিশাল, তাই শতকরা হারে দারিদ্র্য ক্রমাগত কমলেও মোট সংখ্যার বিচারে তা ভয়াবহ

    গ) আমরা আজকের পরিপ্রেক্ষিতে দারিদ্র্যের কথা বলি। যদি একটা লম্বা ঐতিহাসিক টাইমস্কেলে দারিদ্র্যের কথা বলতাম, ব্যাপারটা অতটা খারাপ লাগত না বোধ হয়।

    ঘ) কিন্তু বিভিন্ন দেশের মধ্যে আর্থিক অসাম্য বিপুলভাবে বেড়েছে। পরিসংখ্যান দেখলে আফ্রিকা এবং আমেরিকার আর্থিক অসাম্যের মাত্রা অসহনীয় মনে হবে। এবং এই অসাম্য বেড়েই চলেছে।

    বিকল্প নিয়ে পরে দু চারটে কথা বলব।
  • Ishan | ০৯ অক্টোবর ২০০৬ ২১:৩৭670265
  • বক্রেশ্বরে এই সব প্রশ্ন এতটা সামনে আসেনি, কারণ লোকাল রেজিস্ট্যান্স ছিলনা। সিঙ্গুরে কিন্তু প্রবল রেজিস্ট্যান্স আছে।

    এক। এই রবিবারই দশ হাজার প্লাস লোক মিছিল করেছে জমি নেবার প্রতিবাদে। স্থানীয় মহিলারাও বঁটি-খুন্তি নিয়ে, মাথায় ব্যান্ডেজ নিয়ে, পিলপিল করে মিছিলে যোগ দিয়েছেন। স্থানীয় স্তরে দশ হাজার লোক জড়ো হওয়া ইয়ার্কি না।

    দুই। গোটা সিঙ্গুর থানা জুড়ে পুলিশ ক্যাম্প। পুলিশের সঙ্গে র‌্যাফ। সিঙ্গুর বাজার এলাকা ছাড়ালেই জায়গায় জায়গায় অঘোষিত ১৪৪। গজল্লা করলে, বিশেষ করে কারখানা প্রসঙ্গ নিয়ে গজল্লা করলে পুলিশ অনেক সময়ই তুলে নিয়ে যাচ্ছে, ঠ্যাঙাচ্ছে, কেস দিচ্ছে।

    এই রেজিস্ট্যান্সের এবং অপ্রেশনের খবরগুলো আবাপ বা আজকাল ছাপেনি। ছাপবেওনা। মমতা যেদিন ধর্ণা দিচ্ছিলেন, সেদিন পেপার গুলো শুধু মমতার কথাই ছেপেছে। কিন্তু মমতা ছাড়াও যে হাজার দুই লোক, বিশেষ করে কৃষক মহিলারা ছিলেন, পুলিষ-র‌্যাফ জাস্ট বিনা প্ররোচনায় লাঠি চালিয়েছে, সেটা লেখেনি। মমতা প্র্যাকটিক্যালি ওখানে ইস্যুর পিছনে দৌড়চ্ছেন, ইস্যু টাকে তৈরি করেননি। ইস্যু এবং রেজিস্ট্যান্স পুরোটাই স্থানীয়।

    স্থানীয় লোকের একটা বড়ো অংশ চাননা ওখানে কারখানা হোক।একটা একটা বেশ বড়ো অংশ। কতো শতাংশ জানিনা।ব্যক্তিগতভাবে আমার নিজের বন্ধুবান্ধবরা কেউ চায়না। এবং তাদের দাবী নব্বই শতাংশ লোকই চায়না। এবং এটাও সত্যি, যে, চল্লিশ শতাংশ জমির চেক বিলি হয়ে গেছে। এবং আরো হচ্ছে। একদল অবস্থাপন্ন লোক চেক নিচ্ছেন, যাদের ওখানে জমি রাখার কোনো বাসনা নেই, জমি বিক্রি করে অন্য কোথাও ইনভেস্ট করতে চান। এদের মধ্যে কংগ্রেসের গতবারের প্রার্থীও আছেন, স্বাভাবিকভাবেই -- সরকার ছাড়া অতোটা জমি একবারে কিনতো টা কে? আরেকটা অংশ টাকা নিচ্ছেন, কারণ, তারা মনে করেন, আর কোনো উপায় নেই। এই ভেতো চাষীরা এতো পুলিশ র‌্যাফকে ঠেকাতে পারবেনা। এই সংখ্যাটাই বেশি। এরা রাজি নয়, কিন্তু "আর কি উপায়'। আর তৃতীয় অংশটা এখনও রেজিস্ট করে যাচ্ছে।

    এবার প্রশ্ন হল, স্থানীয় লোকের এই বিরোধিতা কেন? খুব সোজা।এক। কারখানা হয়ে তাদের বিশেষ কিছু লাভ হবেনা। আর "দেশের জন্য আত্মত্যাগ'ই যদি করতে হয়, আমরা কেন? দুই। এই কথাটাই সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত। টাটার প্রোপোজড সাইট থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে, দুর্গাপুর রোডের ধারেই প্রচুর জলাজমি। চাষবাস হয়না, কেউ থাকেও না। স্থানীয় লোকের বক্তব্য হল, নিতে হলে ঐ পুরো জায়গাটাই নিয়ে নিক না, ধানী জমি না হলে শিল্প হবে না নাকি?

    এবং এদের এই কথা কেউ শোনেনি। শুনবেওনা। নিরুপম সেন, বিদ্ধদেব ভট্টাচার্যরা সিঙ্গুর থেকে অনেক দূরে থাকেন।আর সামনে যারা আছে, তাদের নাম র‌্যাফ।
  • r | ০৯ অক্টোবর ২০০৬ ২১:৫২670276
  • এই 'বৃহত্তর স্বার্থ" ব্যাপারটা খুব গোলমেলে। পরে এই নিয়ে দীর্ঘ আলোচনায় যাওয়া যাবে। তবে সিঙ্গুরের কেসটা যা বুঝছি তাতে সরকার পুরো নেগোসিয়েশন প্রোসেসের ব্যাপারটা ঠিকঠাক গুছিয়ে উঠতে পারে নি। কাজেই যা হওয়ার হচ্ছে। কিন্তু বিরোধীরা এই ইস্যু নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ায় সরকারের উইন-উইন পরিস্থিতি। যদি না হয়, তাহলে বিরোধীদের দোষ। আর যদি হয়, তবে সরকারের কৃতিত্ব।
  • Arjit | ০৯ অক্টোবর ২০০৬ ২১:৫৩670287
  • টাটা শুধুমুধু কেন পয়সা দিয়ে জলাজমি কিনতে যাবে? বোজাতে খরচা নেই? টাটা হল এমন গ্রুপ যারা পারলে এমপ্লয়ীকে মাইনে না দিয়ে তাদের কাছ থেকে ডোনেশন নেয়...
  • r | ০৯ অক্টোবর ২০০৬ ২১:৫৮670298
  • উহুঁ! টাটা মানে শুধু টি সি এস নয়। কাজেই অত সহজ সমীকরণে যেও না। জামশেদপুরের লোকজন টাটা বলতে অজ্ঞান।
  • Ishan | ০৯ অক্টোবর ২০০৬ ২২:০৮670309
  • হ্যাঁ, আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে সরকারের উইন-উইন। কিন্তু প্র্যাকটিকালি লুজ-লুজও হতে পারে। সিঙ্গুরে প্র্যাকটিক্যালি কৃষক সভা উবে যেতে বসেছে। পরের ইলেকশানে সিপিএম হারবেই। এর আঁচ হরিপালের কয়েকটা অংশেও পড়েছে বলে শুনেছি। এমনিতেই হুগলীজেলা সিপিএম পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বপ্রবণ সিপিএম। এমনকি উত্তর-চব্বিশপরগণাকেও এই ব্যাপারে হুগলী অনায়াসেই তিন গোল দেবে। তারকেশ্বর-হরিপালে একগোষ্ঠী আরেক গোষ্ঠীর কর্মীকে খুন করছে, এক নেতা আরেকজনকে জালিয়াত বলছেন, এসব হামেশাই ঘটে। এবার এই পরিস্থিতিতে তারকেশ্বর-ধনেখালি -- এই কৃষকবেল্টে, বিশেষ করে দুর্গাপুর রোডের ধারের কৃষক বেল্টে যদি একবার এই মেসেজ চলে যায়, যে সরকার, যেকোনো দিন জমি নিয়ে নিতে পারে, তাহলে কিন্তু সরকারের কেলো। কারণ একটা বিধানসভা এলাকায় জিততে বা হারতে মাত্র পাঁচ শাতাংশ সুইং লাগে। সেরকমটা হলে, আবাপ বা আজকাল হাজার পাম্প দিয়েও হুগলীর কৃষকবেল্ট সিপিএমের হাতে ফিরিয়ে দিতে পারবেনা।
  • r | ০৯ অক্টোবর ২০০৬ ২২:১৮670321
  • মোটের হিসেবে লাভ হওয়ার কথা, সিঙ্গুর বা হরিপাল হারালেও। কারণ ব্র্যান্ডিং এবং ভোটার পারসেপশন, যার উপর নির্ভর করে ভোটের খেলা চলে। তার থেকেও বড় কথা, এই জাতীয় ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট এতদিনে সি পি এম নোবেল প্রাইজ পেয়ে গেছে এবং বিরোধীরা এইজাতীয় ক্রাইসিস কাজে লাগানোর ব্যর্থতাতেও নোবেল প্রাইজ পেয়েছে। সংগঠন না থাকলে প্রতিবাদ সেইভাবে আঘাত করে না- ইতিহাসের শিক্ষা। সিঙ্গুর বা হরিপালে যাই হোক না কেন। যে কারনে মরিচঝাঁপির পরেও উদ্বাস্তুদের ভোটব্যাঙ্কে আঁচড় পড়ে নি। কলকাতাতে বিভিন্ন ভোটে বিপুল রিগিংএর পরেও সি পি এমের কলকাতার ভোট শতকরার হিসেবে প্রায় একই থেকে গেছে। কাজেই.......
  • Ishan | ০৯ অক্টোবর ২০০৬ ২২:৩৪670332
  • ঠিক কথা। সিঙ্গুরের লোকজনও, মানে আমার বন্ধুবান্ধবরা, তারাও এরকমই বলছে। মধ্যবিত্ত যারা, "সিঙ্গুর শহরে' থাকে, কিন্তু কিছু জমি আছে ঐদিকে, ভাগে টাগে দেওয়া আছে, তারা নিশ্চিন্তে জমির চেক নিয়ে চলে এসে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি দেখছে :-)
  • Arjit | ১০ অক্টোবর ২০০৬ ০০:৫৬670343
  • টাটা নামে আমার মোটে ভক্তি নেই, আর সিঙ্গুরে তো রতন টাটা - তার ওপর তো আরো নেই।

    সে যাক - কিন্তু তুমি কি সখ করে বাজার থেকে পচা আম কিনবে? টাটাও তাই - ব্যবসা করতে এসেছে, তারা কেন জলাজমি নেবে যেখানে ওদেরকেই গাঁটের কড়ি খসিয়ে জলা বোজাতে হবে। সরকার যদি পচা আমকেই আলফনসো বলে বেচতে পারতো তাহলে না হয় কথা ছিলো।

    কিন্তু জমির সঠিক ব্রেক আপটা কি (মানে কতটা আবাদি, কতটা পতিত) সে সম্পর্কে কোন সলিড তথ্য আছে?
  • Ishan | ১০ অক্টোবর ২০০৬ ০৯:০১670354
  • সলিড লিকুইড জানিনা, একদম আঁখো দেখা হল হল, যে, যে জায়গাটার কথা বলা হচ্ছে, সেখানে কোনো অনাবাদী জমি নেই। হ্যাঁ পুকুর আছে, রাস্তা আছে, বাড়ি আছে, চাড্ডি হাবিজাবি জিনিসও আছে, কিন্তু "পতিত জমি' বলতে যা বোঝায় সেটা নেই।

    হ্যাঁ, একটা তথ্য ভুল দিয়েছিলাম। সিঙ্গুরে মিছিলে মোটেই দশ হাজার লোক হয়নি। ওটা লোকজন আন্দাজে বলেচিল। একজন গুনে দেখেছে বলল আজকে, হাজার পাঁচেক লোক হয়েছিল। সেটাও অবশ্য খারাপ সংখ্যা নয়।
  • dam | ১০ অক্টোবর ২০০৬ ০৯:১৪670365
  • আমার পরিচিত ২-৩ জন দিয়ারার লোক সিঙ্গুরে চষের জমিতে জন খাটতেন। আজ খবর পেলাম তাঁদের বাড়ীতে গিয়ে পাট্টি থেকে বলে এসেছিল ঐমুখো আর না হতে। আবার পাট্টিরই কেউ কেউ বলে গেছিল জমায়েতে যোগ দিতে। তাঁদের নিজেদের তাগিদেই তাঁরা জমায়েতে যোগ দেন।
  • Ishan | ১০ অক্টোবর ২০০৬ ০৯:৫৭670376
  • আর হ্যাঁ, টাটা অবশ্যই ব্যবসা করতে এসেছে। তাতে চাট্টি লোকের কর্মসংস্থানও হবে নিশ্চয়ই।

    কিন্তু একজন ব্যবসা করবে, আর তাতে "বৃহত্তর অর্থে' চাট্টি লোকের উপকার হবে, অতএব তুমি তোমার জমি ছেড়ে দাও, বৃহত্তর স্বার্থে আত্মবলিদান কর -- এই যুক্তি যদি স্থানীয় লোকের কাছে গ্রহণযোগ্য না হয়, তারা যদি বলে, যে, ব্যবসা করতে এসেছ ব্যবসা কর, তোমার ব্যবসার স্বার্থে আমি আত্মত্যাগ করতে যাব কেন, সেই যুক্তিকে ফেলে দেব কিকরে?

    হাজার হলেও, জমিটা চাষীর নিজের। শহরের হকারকে দখলি ফুটপাথ থেকে তুলতে হলেও পঞ্চাশবার ভাবতে হয়, আর এখানে নিজের জমি থেকে চাষী উঠতে না চাইলে তার জবাব র‌্যাফ? এটা কি ব্যবসা, না জমিদারী? "আত্মত্যাগ' করলেও কেউ চাষীকে কি শহীদের মর্যাদা দেবে? তখন তো সরকার হাত ধুয়ে ফেলে বলবে ক্ষতিপূরণ তো দিয়েছি আবার কি?

    এটা "বৃহত্তর স্বার্থে' আত্মত্যাগ নয়। স্রেফ ব্যবসা। এবং ব্যবসার যুক্তি ব্যবসার ভাষাতেই হওয়া উচিত। সরকার যদি কোনো কারণে ব্যবসার এজেন্ট হতে চায় (হলে কোনো দোষ নেই), তাহলে সরকারের ভাষা ব্যবসার ভাষাই হওয়া উচিত, স্টেট নামক জমিদারের নয়।

    ওখানে আরও দুচাট্টি কারখানা হয়েছে। সেসব আবাদী জমিতেই হয়েছে। কিন্তু সেসব নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই, ক্ষোভও নেই, কারণ সেসব কেনা-বেচা ব্যবসার নিয়মে, বাজারের ভাষায় হয়েছে। এখানে সেটা হচ্ছেনা।
  • Arjit | ১০ অক্টোবর ২০০৬ ১৪:০৬670387
  • সেই সেইনসবুরির উদাহরণটা আবার কাজে আসছে - সেইনসবুরি সুপারমার্কেট করার জন্যে জমি নিলো, লোকাল কাউন্সিলের সাথে এই কড়ারে যে ওরা সুপারমার্কেটের পিছন দিয়ে M6-এ ওঠার অ্যাপ্রোচ রোডটা পুরো বানিয়ে দেবে - দিয়েছিলোও।

    সরকার এই ধরণের ডীল করে না কেন? টাটা/বিড়লা ব্যবসা করবে ভালো কথা, কিন্তু এই রকম কিছু দায়বদ্ধতা রাখতে হবে।

    আসলে আমাদের রাজনীতি এবং ব্যবসা - সবই এক যুগ আগে পড়ে রয়েছে। আজ সকালে বিবিসিতে ব্লেয়ারের ইন্টারভিউ ছিলো - ব্লেয়ার নিজের বাড়ির সামনে হাতে চায়ের কাপ নিয়ে ছাতা মাথায় দাঁড়িয়ে, বিবিসির প্রেজেন্টার স্টুডিওতে...এই "অ্যাপ্রোচেবিলিটি"-টা বুদ্ধদেব/মনমোহন সিং - কারো ক্ষেত্রে পাওয়া সম্ভব? অথচ এটাও কিন্তু ইমেজ বিল্ডিং - ব্লেয়ার কতটা অ্যাপ্রোচেবল সেটা প্রোজেক্ট করা...

    টাটা দেশে বিদেশে ব্যবসা করে - সেইনসবুরির এই উদাহরণটার মতন আরো গুচ্ছ গুচ্ছ আছে - ওরা জানে না তা তো নয়। সরকারও যে জানে না তা নয়। আসলে কনসেপ্টটা মডার্ন হয়নি - এতদিনেও।
  • S | ১০ অক্টোবর ২০০৬ ২০:৫৮670398
  • এখানটায় একটু বক্তব্য রাখব।

    ব্লেয়ার নিজের বাড়ির সামনে ছাতা মাথায় চায়ের কাপ হাতে নিয়ে দাঁড়ালে অ্যাপ্রোচেবিলিটি কী করে আসে? আমি এনডিটিভি ইন্ডিয়াতে এ রকম একটা সাক্ষাৎকার দেখেছিলাম বুদ্ধ ভট্‌চায্যির সাথে মণিদীপা ব্যানার্জির (NDTV-র রিপোর্টার)। সেখেনে ঐ পাম অ্যাভেনিউয়ের বাড়ির বারান্দায় টবে রাখা জল দিতে দিতে, আবার কলকাতারই কোনও রাস্তায় পায়চারি করতে করতে। প্রোগ্রামটার নাম ছিল বোধ হয় নেতাজি কে সাথ চওবিশ ঘন্টে। তারই আরেক এপিসোডে মমতাকে দেখিয়েছিল ঐ ভাবেই, কলকাতার রাস্তাঘাটে ঘুরতে ঘুরতে।

    টিভি ক্যামেরার সামনে ঐ সব ভড়ংবাজি ব্লেয়ার যেমন করে, মমতাও তেমনিই করে, তাতে অ্যাপ্রোচেবিলিটি বেড়ে যায় না। ওরা চিরকালই ধরাছোঁয়ার বাইরের লোক, সাধারণ মানুষের থেকে আলাদা একটা ডিটাচ্‌ড সেক্‌শন।

    দ্বিতীয়, টিসিএসের ওপর আমারও ক্ষার কম নেই, কিন্তু টাটার দায়বদ্ধতা অস্বীকার করি না তাই বলে। আঞ্চলিক ভাবে সিঙ্গুরের জন্য টাটা কতটা কী করবে, আমার জানা নেই, তবে দেশের বিকাশে টাটা কিন্তু অনেক পয়সা খরচা করে। ইনফোসিসও করে। টাটার অ্যাডাল্ট লিটারেসি প্রোগ্রাম, স্কুলে স্কুলে কম্পিউটার বা এডুকেশন প্রোভাইড করা তার মধ্যে কিছু। টাটা, ইনফোসিস, এবং তাদের মাধ্যমে আমরা সফটওয়্যার প্রফেশনালরা দেশের এক বড় অংশের করদাতা। ট্যাক্সের পয়সায় যতই নয়ছয় হোক সরকারী লেভেলে, দেশের বিকাশও কিন্তু ঐ ট্যাক্সের পয়সায়ই হয়। সুতরাং দায়বদ্ধতার অভাব নেই।

    ট্যাক্স দিতে আমি বাধ্য, টাটাও বাধ্য, এতে দায়বদ্ধতা অতটা নেই ঠিকই, কিন্তু স্বত:প্রণোদিত হয়েও কিন্তু টাটা অনেক কিছু করে। আরেকটা উদাহরণ হল TIFR। এখানে দায়বদ্ধতার তো অভাব নেই!
  • Arjit | ১০ অক্টোবর ২০০৬ ২১:২৭670409
  • তক্কোটা ঘুরে যাচ্ছে, তবুও -

    তুমি যে অনুষ্ঠানের কথা বলছো সেটা কালেভদ্রে একবার, আগে থেকে সাজুগুজু করে ক্যামেরার সামনে পোজ দেওয়া - আর ব্লেয়ারের এই ইন্টারভিউ আগে থেকে ফিক্স করে কিছু নয় - একদম হঠাৎই ধরা - এবং এই একবার নয় - প্রচুরবার এরকম দেখেছি। শুধু ব্লেয়ার নয় - ডেভিড ক্যামেরন, গর্ডন ব্রাউন - প্রায় সকলের মধ্যেই এগুলো দেখেছি। এখানে রাজনীতিকরা অন্যভাবে চলে - বলা ভালো "ভাও" কম খায় - বা হয়তো ওটাই মডার্ন স্টাইল - নইলে রেডিও প্রোগ্রামে ওরকম খিস্তি খাওয়ার পরেও স্টেশন চলতো না।

    টাটার (টিসিএস) দায়বদ্ধতার গপ্পে যাবো না - মহাভারত হয়ে যাবে - ট্যাক্সের কথা বলছো - কর্পোরেট ট্যাক্স কত যে মারে - এমনকি তোমার/আমার ন্যায্য পাওনা টাকাও...যাকগে। তবে সেইনসবুরির উদাহরণটা আমি এখনো দেবো।
  • Samik | ১০ অক্টোবর ২০০৬ ২২:০৪670420
  • সেটা ঠিক।

    টাটা, বিশেষত টাটা, এমপ্লয়ীদের চোষে। টু হান্ড্রেড পার্সেন্ট ঠিক। আমি যদি ঘন্টায় আশি ডলার রোজগার করি টিসিএসের জন্যে, আমি পাই ঘন্টায় দশ ডলার থেকে ষোল ডলার। এমপ্লয়ীদের পেছন টিপে গুড়ের শেষ ফোঁটাটা নিংড়ে নেবার ব্যাপারে টাটাদের সুনাম আছে, এ ব্যাপারে আমি একমত।

    ভিখিরির কোম্পানি কি সাধে বলি?
  • kallol | ১১ অক্টোবর ২০০৬ ১০:৪০670432
  • র - গত ৬০ বছরে ভারতের পরিসংখ্যান কি বলে ? পরিসংখ্যান অবশ্য নানা রকমের হয়। ধরা যাক :
    ১)
    ১৯৭২-৭৩ দারিদ্র সীমার নীচে ৫১.৫%
    ১৯৯২-৯৩ দারিদ্র সীমার নীচে ৪০.৭০%
    ১৯৯৯-২০০০ দারিদ্র সীমার নীচে ২৬.১০%
    আবার
    ২)
    ভারতে নূন্যতম প্রয়োজনীয় ক্যালরী মাথা পিছু দিনে : ২৪০০
    প্রতিটি রোজগেরে মানুষের ওপর নির্ভর্শীল মানুষের সংখ্যা : ৩
    ১৯৯৯-২০০০ দারিদ্র সীমারেখা মাসে ৪৫৪.১১ টাকা প্রতি মানুষ। অর্থাৎ দিনে (৪৫৪.১১ / ৩০)=১৫.১৩ টাকা। অর্থাৎ দিনে জন প্রতি (১৫.১৩ / ৪)= ৩.৭৮ টাকা।
    ১০০ গ্রাম চালে : ৩২৫ ক্যালরী
    ১টা চাপাটি : ১১৯ ক্যালরী
    ১০০ গ্রাম আলু : ৯৭ ক্যালরী
    এক বাটি ডাল : ৩০০ ক্যালরী
    দিনে ৩.৭৮ টাকায় ২৪০০ ক্যালরী !!!
    প্রভুত উন্নতি - মনে তো হয় না।
    উন্নয়নের ধারনা নিয়ে প্রে লিখছি।

    সূত্র :
    ১) planningcommission.nic.in
    ২) http://delhiplanning.nic.in
    ৩) http://labour.nic.in/wagecell
    ৪) http://www.naturalphysiques.com
  • b | ১১ অক্টোবর ২০০৬ ১১:৩৮670443
  • পুরাকালে আমার যে ছটি পয়েন্ট লেখার কথা ছিল তার মধ্যে এটি তিন নং।

    টাটারা জামসেদপুরে যে সব কম্যুনিটি ডেভেলাপে্‌মন্ট কাজ করেছেন সে গুলো প্রসংশনীয়। তবে গ্লোবালাইজেশন এর আগের industry আর পরের corporate এর গুণগত পার্থক্য তো আছে। গ্লোবালাইজেশন যে সব জিনিস কে legitimise করে তার মধ্যে নিশ্ছিদ্র investment protection একটি, এর মধ্যে সামাজিক দায়িঙ্কেÄর জায়গা কম, তবু বলতে হয়, অনেক corporate কিছু social sector এর ও self governance এর কাজ করে। খুব ভালো, তার সঙ্গে বিকল্প জীবিকার প্রশ্ন টি acountability র বন্ধন দিয়ে জোড়ে না, voluntarism দিয়ে জোড়ে। সে বন্ধন খুব শক্ত নয়। আর কতগুলি আছে, যে গুলি বিশুদ্ধ রসিকতা। বৃটিশ পেট্রোলিয়াম ধর wwf কে পোচুর টাকা দেয়, ওদিকে নাইজেরিয়া র সমস্ত খনিজ তেলের মূল দুটি মালিক বিপি আর শেল! সেখানে পরিবেশ, local employement নিয়ে অনেক অনেক পোস্নো।

    সু,
    অরিজিৎ (আর সম্ভবত ইশান এরো) বোধ হয় পয়েন্ট ছিল, সরকারের সঙ্গে business এর একটা negotiation জায়গা। ছাতা আর interview টা বাদ দ্যান;-)
  • kallol | ১১ অক্টোবর ২০০৬ ১২:০৯670454
  • আগের পোস্টটায় যে হিসেব দিলাম তা সবই সরকারী হিসেব। তাতেই বলছে দারিদ্র সীমার নীচে মানুষের সংখ্যা কমছে। আবার তারা দারিদ্র সীমা নির্ধারনের মাপকাঠি ঠিক করে দিচ্ছে যে অঙ্কে তাতে তাদেরই ঠিক করা ক্যালরীর হিসেব মেলানো দায় হয়ে উঠছে। পৃথিবীর ৩০০ বছরের ইতিহাস ঘাটলেও এর থেকে ভালো কিছু পাওয়া যাবে না। তুমিই তো লিখলে আফ্রিকা-আমেরিকার পার্থক্য।
    পরিসংখ্যান দিয়ে কি করবো ? মাসে ৪৫৪.১১ টাকার উপরে যাদের রোজগার অর্থৎ দিনে ৩.৭৮ টাকার উপরে যাদের রোজগার তারা কি দিব্যি ভালো আছেন ? যারা এর ৩ গুণ রোজগার করেন তারা? দিনে ৩.৭৮x৩ অর্থাৎ ১১.৩৪ টাকা?? মাসে ((১১.৩৪x ৪)x৩০) অর্থাৎ ১৩৬০ টাকা??? খুব কি ভালো থাকেন তারা? যারা এর ১০ গুণ রোজগার করেন, (((৩.৭৮x১০)x৪)x৩০)অর্থাৎ মাসে ৪৫০০ টাকা, খুব কি ভালো থাকেন তারাও ? তাহলে ভালো না থাকা মানুষের সংখ্যা কোথায় দাঁড়ায় ?
    অথচ দারিদ্র সীমার নীচে মানুষের সংখ্যা কমছে !!!!

    আজ পর্যন্ত সমস্ত উন্নয়নের মডেলসমূহ একথাই বলে এসেছে এতে সবার ভালো হবে। কেউ বলেছে সবাই যোগ্যতা অনুযায়ী ভালো থাকবে (সমাজতন্ত্র), কেউ বলেছে সবাই প্রয়োজন অনুযায়ী ভালো থাকবে (সাম্যবাদ), কেউ বলেছে সবাই ভালো থাকবে, কেউ কেউ বেশী ভালো থাকবে (ধনতন্ত্র)। কেউ একথা কখনো বলেনি - এরা ভালো থাকবে - ওরা খারাপ থাকবে। আর ভাত-কাপড়-পয়সাকড়ি-ঘরদোর-এর ভালো থাকা ? সেটাও কি হচ্ছে ? তুমি আমি কেমন ছিলাম আর কেমন আছির হিসেব দিয়ে মাসে ৪৫০০ টাকা কামানো মানুষের হিসেব হবে কি ?
  • Lyadosh Chandra Mitra | ১১ অক্টোবর ২০০৬ ১৪:১০670465
  • দারিদ্র সীমার নীচে মানুষ-এর সংখ্যা কমানোর সহজ উপায় হল দারিদ্র সীমানাটা কমিয়ে দেওয়া। শূন্যর কাছাকাছি করে দাও, no গরীব লোক। বড়লোকত্বের / মধ্যবিত্তত্বের সীমানাটাকে কমিয়ে সবাইকে গন্ডীর মধ্যে টেনে নিলে-ও হয়, বেশ একটা ইয়ে মানে আদর্শ ব্যবস্থা। lies, damn lies, statistics.....আসলে Huge disparity in basic standard of living - এই ব্যাপারটা শুধু পশ্চিমবঙ্গ, ভারত নয়, বেশীর ভাগ emerging economy বা developing country-র গল্প ... এ অন্য টপিক। অন্য থ্রেডে হবে।

    সিঙ্গুর-এ ফিরে আসা যাক।
    কোন্নগর-এ বিড়লা-দের গাড়ীর কারখানা উঠে গিয়ে ফেলাট বাড়ি হবে, সিঙ্গুর-এ ধানজমি-তে টাটা-দের গাড়ীর কারখানা হবে।
    টাটা-দের কারখানা-টা বড় কোনো ইস্যু নয়। টাটা শিল্প গোষ্ঠী প্রতিষ্ঠিত গ্রুপ, ওরা পশ্চিমবঙ্গে ফ্যাক্টরি করতে চাইলে সে খুবই ভালো খবর। এখনো অবধি যা হচ্ছে বা হবে বলে ভাবা হচ্ছে তার মধ্যে টাটা-র প্রকল্প বেটার। হলদিয়া, ফলতা ... এসব মাথায় রেখেই বলছি।

    আসলে সারা ভারত (শুধু ভারত কেন, চীন-সহ অনেক দেশেই)-এর বড় শহর এবং আশেপাশের জায়গা গুলোতে এখন জমি/ফেলাট বাড়ির ব্যবসার একটা অবিশ্বাস্য রকমের হরির লুট চলছে। দাম গুলো দেখ ( http://www.axiomestates.com )। এর কারণ এখানে হেজিয়ে লাভ নেই। আগে কিছু ফেলাটবাড়ি উঠবে, তারপর তাকে ঘিরে বাইক তৈরীর কারখানা হবে -তাও মহানগরী-র ঘাড়ের ওপর, এটার মধ্যে সরকার-এর মুক্ত অর্থনীতির বাজার বুঝে টু-পাইস কামিয়ে নেওয়ার নীতি থাকতেও পারে। এখন কথা হল যে ঝোপ বুঝে কোপ মেরে দু পয়সা কামিয়ে সরকার নিতেই পারে, বিশেষ করে সরকার-কে যদি কর্পোরেট হিসেবে দেখা হয়। সিঙ্গুর-এ জমি কম দামে টাটা-কে ছেড়ে দাও ("বৃহত্তর স্বার্থ"), আবার রাজারহাটে জমি হেব্বি দড়াদড়ি করে ইনফোসিস-কে ঝেড়ে দাও - এ তো ভাই স্ট্যান্ডার্ড করপোরেট পলিসি। এ পলিসি তো ঐ দোফলা, ত্রিফলার যুক্তি দিয়ে ফালাফালা করা যাবে না।
  • Arjit | ১১ অক্টোবর ২০০৬ ১৪:১৭670476
  • দারিদ্রসীমার গপ্পে ইনফ্লেশন রেট ধরে? জানি না। গত বেশ কয়েকবছর ধরে ইনফ্লেশন রেট পাঁচ পার্সেন্ট বা তার আশেপাশে বলে পোচুর গর্ব করে। কিন্তু জিনিসপত্রের দাম দেখে সেটা মনে হয় না। কি একটা যেন কায়দা আছে এই ইনফ্লেশন রেট নিয়ে - সঠিক জানি না - প্রো বৈ বলতে পারবেন।
  • vikram | ১১ অক্টোবর ২০০৬ ১৪:৪৮670487
  • সাবধান,
    আবেগে কিন্তু বক্তব্য ঘেঁটে যাচ্ছে।

    বিক্রম
  • r | ১১ অক্টোবর ২০০৬ ১৭:১৫670498
  • কল্লোল,

    দারিদ্র্যরেখার সংজ্ঞা চ্যালেঞ্জ করে অবশ্যই প্রচুর কূটতর্ক করা যায়। অর্থনীতিতে এই ব্যাপারটা ছোটোখাটো কুটীরশিল্প হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে পরিসংখ্যানের ব্যাপারে দু চারটে মন্তব্য:

    ১) সরকারের বিভিন্ন এজেন্সির পরিসংখ্যানের মধ্যে আকাশ পাতাল তফাৎ। সি এস ও এবং এন এস এসের দেওয়া স্ট্যাটিস্টিক্সের তফাৎ নিয়ে প্রচুর কাজও হয়েছে। কাজেই ভারত সরকারের দুই এজেন্সির দেওয়া পরিসংখ্যান নিয়ে হিসেব মেলাতে গেলে মগজ ঘুলিয়ে যাওয়া স্বাভাবিক।

    ২) একবারও বলি নি দারিদ্র্য নেই। আমাদের দারিদ্র্যের মোটামুটি যে ছক পরিসংখ্যান অনুযায়ী পাওয়া যায় তা হল:
    অ) আমাদের দারিদ্র্যসীমার নীচে থাকা লোকের সংখ্যা কমেছে এবং মাথাপিছু আয় বেড়েছে, ক্রমাগত।
    আ) ট্র্যাডিশনালি দুর্ভিক্ষ বলতে যা বোঝায়, তা আমাদের দেশে বৃটিশ শাসনের পরে আর হয় নি।
    ই) কিন্তু অপুষ্টি, জনস্বাস্থ্য, বিশেষ করে শিশুদের পুষ্টি এবং স্বাস্থ্যের উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমাদের পারফোর্মেন্স ন্যক্কারজনক।

    পরিসংখ্যান ছেড়ে যদি অ্যানেকডোটাল এভিডেন্সের জায়গা থেকেও দারিদ্র্যকে দেখো, তাহলে আমার কথাটা অনেকটা বোঝা যাবে। পঞ্চাশ-ষাটের দশক থেকে যে রাজনৈতিক কর্মীরা বাঁকুড়া, বর্ধমান, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুরে গ্রাসরুট স্তরে কাজ করে এসেছেন, তাদের জিজ্ঞাসা করে দেখো দারিদ্র্যের খতিয়ান। যে কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী হোন না কেন। যতটা হবার ছিল ততটা হয় নি হয় নিশ্চয়। কিন্তু তার মানে এই নয় দারিদ্র্য বেড়েছে। "ভালো থাকা", "খারাপ থাকা" একে তো আপেক্ষিক, তার উপর খুব ধোঁয়াশা গোছের আইডিয়া। কাজেই সচেতনভাবেই তোমার "ভালো থাকা" "খারাপ থাকা" শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করলাম না। আর একটা কথা, দারিদ্র্য কমার সাথে অসাম্য কমা বাড়ার কোনো ওয়ান টু ওয়ান করেস্পন্ডেন্স নেই। ক আর খ দুটো লোক। ক ধনী আর খ গরীব। দুজনকে তিরিশ টাকা দেওয়া হল। এইবার ক পঁচিশ আর খ পাঁচ টাকা পেল। দারিদ্র্য কমল, অসাম্য বাড়ল। উলটোটাও সম্ভব।

    আবার বলি কোনো আর্থিক উন্নয়ন সবার "ভালো থাকার" পূর্বশর্ত। ("ভালো থাকা" শব্দগুচ্ছ পছন্দ না হলেও তোমার কথার রেফারেন্স ধরে ব্যবহার করলাম)। কিন্তু এর সাথে সম্পৃক্ত বহুবিধ রাজনৈতিক প্রক্রিয়া, সামাজিক বিবর্তন ইত্যাদি ইত্যাদি। যেগুলো নিয়ে আর্থিক উন্নয়নের মডেল কোনো কথা বলে না। বলার কথাও নয়।

    যদি আর্থিক উন্নয়নের ব্যবহারিক মডেল দেখো, সেখানে ধনতন্ত্র/ সমাজতন্ত্র/ সাম্যবাদ গোছের বিভাজন খুব কৃত্রিম। এইজাতীয় জেনারালাইজ্‌ড্‌ অ্যাবস্ট্রাক্ট গ্র্যান্ড থিওরি নিয়ে আজ আর সত্যি সত্যি কেউ মাথা ঘামায় না। এখন আর্থিক উন্নয়নের মডেলের প্রশ্ন অনেক প্রত্যক্ষ এবং ব্যবহারিক। যেমন, স্কুলে যাওয়া বয়সী ছেলেমেয়েদের উপস্থিতিতে মিড ডে মিলের প্রভাব এবং ফাইনান্সিঙের দিক থেকে তার কস্ট-বেনিফিট অ্যানালিসিস, বা শিশুশ্রম রদ করলে দারিদ্র্যসীমার উপর তার কি প্রভাব ইত্যাদি। এই জাতীয় মডেলিংও কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রে খুব আঞ্চলিক স্তরে করা হয়। কাজেই এই সব "তন্ত্র" ঠিক না ভুল, তা নিয়ে তর্কটাই পলিসি প্রণয়নের ক্ষেত্রে তামাদি হয়ে গেছে। একমাত্র সুদূর বাম এবং সুদূর ডানেদের ছাড়া। সৌভগ্যক্রমে তারা নীতিপ্রণেতা নন।
  • santanu | ১১ অক্টোবর ২০০৬ ১৭:৫৯670509
  • লাস্ট মামু ছিল সিঙ্গুর এ তারপর ১০ টা পোস্ট অর্থনীতি।
  • Arjit | ১১ অক্টোবর ২০০৬ ১৮:৪৩670531
  • দুটো কোচ্চেন, বলা ভালো ইনফারেন্স -

    (১) এই বিবেক দেবরায় আর আবাপ-তে লেখে যে বিবেক দেবরায় - দুজনে নিগ্‌ঘাৎ আলাদা লোক।
    (২) উন্নয়ন মানে "শুধু" শপিং মল নয় সেতো আমিই কবে থেকে বলতেছি - তারিক আলি শেখায়েছেলো - এ আর নতুন কি বল্ল?
  • Arjit | ১১ অক্টোবর ২০০৬ ১৮:৪৪670543
  • তবে ইনফারেন্সটা তথ্য নিয়ে নয়, লেখাটা নিয়ে। কাজেই "র"-এর ডিসক্লেমারের বাইরে।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা খুশি মতামত দিন