এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  নাটক

  • চাগ্রীর গপ্পো

    সে
    নাটক | ১৩ নভেম্বর ২০১৪ | ৩০৭৭৭ বার পঠিত | রেটিং ৪ (১ জন)
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • সে | ১৯ নভেম্বর ২০১৪ ১৪:৫৫652750
  • পৌনে এগারোটা নাগাদ অফিস পৌঁছে যাই। সেরকম কিছু দেরি হয় নি। আর হলেই বা কী? আজই তো আমার এই অফিসে শেষ দিন। গলির মধ্যে মেরুন ফিয়াটটাও নেই। তারমানে ভৈশ এখনো আসেনি। ভালোই হলো। অন্ততঃ ঘ্যানঘ্যান থেকে অব্যহতি।
    অফিসঘরে ঢুকে দেখি দুজন ভিজিটর। অল্পবয়সী দুটো ছেলে মেয়ে। মেয়েটা আমার চেয়ে বয়সে কিছু ছোটো হবে। অপরূপ সুন্দরী। সেইরকম সুন্দর তার পোশাক আশাক। দেখলেই বোঝা যায় খুব বড়োলোক। ওরা দুজনে বসে আছে ভৈশের টেবিলের সামনে দুটো চেয়ারজুড়ে। ভিকাসও রয়েছে। আমাকে দেখে এমন একটা মুখভঙ্গী করে যেন আমি দেরিতে পৌঁছনোয় খুব বিরক্ত হয়েছে। যেন ও ই আমার বস।
    আমি চুপচাপ আমার জায়গায় বসে পড়ি।
    আজ আমার ভেতর থেকে ভয় জিনিসটা অনেকটাই কমে গিয়েছে। আর তো মোটে কটা ঘন্টা। এদেরকে আর আমি তোয়াক্কা করি না। এই ঘিঞ্জি এলাকা, এই পলিউশান, গরম, ঘাম, অপমান, অন্যায়, সমস্ত শেষ হতে চলেছে আর একটু পরেই।
    মাইনের টাকাটা হাতে নিয়ে এদের নাকের ডগা দিয়ে কলা দেখিয়ে বেরিয়ে যাবো। সঙ্গে করে নিয়ে যাবো আমার সেই রাইটিং প্যাডটা। সম্ভবতঃ ঐ আলমারির তাকেই রেখেছি।
    উঠে পড়ি খুঁজতে। পাইনা। এত কাগজপত্র ফাইল রয়েছে কিন্তু ঐ ছোট্টো প্যাডটা হাওয়া। ওটাই তো আমার ডায়েরি যেটা এর চেষ্টা করলেও পড়তে পারবে না।
    ভিকি আমার কাছে এসে বলে, কিছু খুঁজছেন?
    হ্যাঁ, একটা ছোটো প্যাড ছিলো আমার টেবিলে। দেখতে পাচ্ছি না।
    হাঁ বুঝেছি।
    তুই দেখেছিস?

    ভিকি নিজের ঠোঁটদুটোর ওপরে আঙুল দিয়ে চোখের ইশারায় আমায় চুপ করতে বলে।
    আমি বিষ্ময়ে স্থির হয়ে যাই, ওকে পড়তে চেষ্টা করি।

    একটু পরে ওকে জিগ্যেস করি নীচু স্বরে- কী ব্যাপার বল তো?
    ভিকিও প্রায় ফিসফিসিয়ে উত্তর দেয় - উস্‌ দিন, জব আপ লেট আয়ে থে না..
    হ্যাঁ, শনিবার।
    হাঁ।
    বল, তারপর।
    স্যার ও প্যাড দেখ লিয়া, ইধারই পড়া হুয়া থা টেবিল মেঁ।
    তারপর?
    বহৎ গুস্‌সা হো গিয়া থা... ফির ফাড়কে ফেঁক দিয়া।
    কোথায় ফেলে দিয়েছে?
    বাহার।
    বাহার?
    ম্যায় বাহার জাকে ফেঁক্‌কে আয়া। বহৎ গুস্‌সে মে থা। কেয়া লিখা থা?
    কী লিখেছি তা পড়বার ক্ষমতা ওর নেই।
    ইংলিস?
    না।

    আমাদের চুপি চুপি কথোপকথন ভিকাসের ভালো লাগে না। সে ভিকিকে হুকুম করে ঠান্ডা নিয়ে আসতে, গেস্টদের জন্যে।
    অপ্সরাদের সুন্দরী মেয়েটা এবার চেয়ার থেকে উঠে আমার দিকে এগিয়ে এসে হাসে।

    নাইস অফিস।

    আমিও হাসি সৌজন্যসূচক।

    আপনি কতদিন কাজ করছ এখানে? (মেয়েটা বাঙালী নয়)
    এক মাস।

    তারপরে মেয়েটা চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে অথচ কোনো কথা বলে না।
    এই নীরবতা ভাঙতে আমি এবার ওকে প্রশ্ন করি।

    ডু ইউ ওয়র্ক সামহোয়্যার?
    হাঁ? আমি স্টার্ট করছি ভেরি সুন।
    এখানে? এই অফিসে?
    নো নো!
    মেয়েটা হেসে উঠে খিলখিলিয়ে।
    আইল বি অ্যান এয়ার হোস্টেস।
    বাঃ! কোন এয়ারলাইন্স?
    এটা নোতুন এয়ারলাইন্স লঞ্চ হবে। বেঙ্গল এয়ারলাইন্স।
  • সে | ১৯ নভেম্বর ২০১৪ ১৫:৪৯652761
  • সেদিন বিকেলে সিঙাড়ার অর্ডার দেয় ভৈশ। প্লেটে সিঙাড়া সাজিয়ে তার সামনে রেখে ভিকি গা মুচড়ে দাঁড়িয়ে হাত কচলাতে কচলাতে বলে, স্যার কুছ রুপয়া চাহিয়ে।
    রুপয়া?
    হাঁ স্যার, আজ তিস তারিখ হ্যায় না।
    তো?
    কুছ সামান খরিদ্‌না হ্যায়।
    আচ্ছা? কিৎনা প্যায়সা চাহিয়ে? অভি ... (ওয়ালেট থেকে বের করে) স রুপিয়া রাখ। আচ্ছা, ইয়ে লে। দোসো। খুশ্‌? ঔর ইয়ে গ্লাস ঠিক্‌সে সাফ কর।
    স্যার স্যাল্‌রি কব মিলেগা? কল্‌ তো ছুট্টি হ্যায়।
    ছুট্টি? কিস্‌ খুশি মেঁ?
    ও ফার্স্ট মে হ্যায় না কাল।
    তো? ইজ্‌ ইট্‌ অ্যা গভ্‌মেন্ট অফিস?
    কাল অফিস খুলা রহেগা?
    অফ্‌কোর্স! টুমরো উই আর ওপেন। বাট দিস বিল্ডিং উইল বি ক্লোজ্‌ড্‌। নো প্রবলেম। মেরে ঘর পে আ জানা। ইউ উইল ওয়ার্ক ফ্রম দেয়ার।

    ভিকি গ্লাস ধুতে চলে যায়।

    এবার আমার পালা।

    আই ওয়ান্ট টু রিজাইন।
    ভৈশ সিঙাড়ায় কামড় দিয়েছিলো। মাঝপথে থেমে যায়। তারপরে আমার দিকে তাকায় ভালো করে।
    কিঁউ? ক্যা হুয়া? অ্যামাই রানিং অ্যাওয়ে উইথ ইয়োর স্যাল্‌রি?
    আমি চুপ।
    হোয়াট্‌ হ্যাপেন্ড? টেল মী। আর ইউ অ্যাংরি উইথ মি? দো চার দিন দের হো জাতা হ্যায়। দিস্‌ ইজ্‌ অ্যা নিউ কম্প্যানী।
    আমি কথা বলি না।
    সো? হোয়াই হ্যাভিউ ডিসাইডেড টু রিজাইন?
    অন্য চাকরি পেয়েছি।
    আচ্ছা? হোয়্যার? উইচ্‌ কম্প্যানী?
    বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডে।
    বালিগঞ্জ সার্কুলার রোড ইজ্‌ এ বিগ প্লেস। কম্প্যানী কা নাম বাতাও।

    খেয়াল হয়, কোম্পানীর নামটাতো জানিনা। নামটা বলতে পারিনা, এমনকি ঠিকানাটাও না।

    শো মি ইয়োর অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার।
    নেই।
    হোহো করে হেসে ওঠে ভৈশ্‌।
    কীসের বিজনেস তাদের, কোম্পানীর নাম, ঠিকানা, এম্‌প্লয়মেন্ট কন্ট্র্যাক্ট, স্যালারী, কিছুই বলতে পারি না। একটার পর একটা প্রশ্নের উত্তর না দিতে পেরে নিজেকেই কেমন বোকার মতো লাগে।

    স্টুপিড গার্ল! কাম টুমরো টু মাই হাউস। উই উইল ডিসকাস অ্যাবাউট ইট। অ্যাডেস মালুম হ্যায়? পাল প্লেস। অপোজিট টু আইস্‌ স্কেটিং রিঙ্ক।

    প্যাকাপ!
  • সে | ১৯ নভেম্বর ২০১৪ ১৫:৫০652772
  • পাম* প্লেস।
  • de | ১৯ নভেম্বর ২০১৪ ১৮:২৯652783
  • বেঙ্গল এয়ারলাইন্স!!!
  • কল্লোল | ১৯ নভেম্বর ২০১৪ ২১:৫১652794
  • এগ্গে হ্যাঁ। ব্যাঙ্গল এয়ারলাইন্স।
    এই ব্যায়লা থে আসান্সোল, শিলিগ্গুরি, কুচবেহার, মালদা এমনতরো।
    তাপ্পর হলো কি অ্যার্পোট পাওয়া গেলো না।
    কল্লোল
  • সে | ২০ নভেম্বর ২০১৪ ০১:০০652805
  • মে দিবসের সকাল। বাসের ফ্রিকোয়েন্সি কম। অফিসের ভিড়ও নেই। মোটকথা গন্তব্যে পৌঁছতে অসুবিধে হওয়া উচিৎ নয়।
    বারবার ভেবেছি মনে মনে, যাব কি যাব না। নতুন কাজ যখন পেয়েই গেছি, তখন কেন যাচ্ছি? কিন্তু আমার সম্বল ঠেকেছে মাত্র সাতশো টাকায়। আর কিছু ছোটোখাটো নোট, খুচরো পয়সা। যদি মাইনে না দেয়, তবে আরো একটা মাস অপেক্ষা করতে হবে নতুন কোম্পানী থেকে মাইনে পেতে। সেটা কীভাবে সম্ভব হবে? এত কম টাকায় চালাবো কেমন করে আরেকটা মাস? দিনে অ্যাভারেজ কুড়ি টাকা। তা দিয়ে বাসের টিকিট, খাবার। বাড়িভাড়ার ব্যাপারটা নাহয় মুলতুবি রইল। কঠিন অঙ্ক। ভাবতে ইচ্ছে করে না। গন্তব্যে পৌঁছনোর আগে ঠিক করি ঐ নতুন অফিস থেকে কিছু খবর সংগ্রহ করতে। কীসের ব্যবসা ওদের। অফিস বন্ধ থাকলেও দারোয়ানেরা তো থাকবে। তারা নিশ্চয় জানে।
    সেই হলুদবাড়ীর গেটের সামনে গিয়ে দেখি দরজাটা অল্প খোলা।
    একজন লোক বেরিয়ে আসে। আধবুড়ো মতন। তাকে জিগ্যেস করি, আপনি এখানেই কাজ করেন?
    সে আমায় দেখেনি আগে, চোখেও মনে হয় খুব ভালো দেখে না। ধুতির ওপরে শার্ট পরা। সে ভেতর থেকে একজনকে ডেকে দেয়।
    একজন অল্পবয়সী লোক এবার আমায় দেখে এগিয়ে আসে।
    ওহো, আপনি আগেরদিন এসেছিলেন না?
    হ্যাঁ, চিনতে পারছেন?
    আজ তো সব বন্ধ। আজ কাল দুদিন বন্ধ।
    জানি ভাই। আসলে আমি এখানে সোমবার থেকে জয়েন করব তো।
    আসুন, ভেতরে আসুন।

    গেট দিয়ে ভেতরে ঢুকে বাঁহাতে শেড দেয়া জায়গা, সেখানে উনুনের ওপর ভাতের হাঁড়ি চাপানো।

    একটা কাঠের টুল এগিয়ে দেয় আমায়। বসুন ম্যাডাম।

    বসব না ভাই। একটা কথা আসলে জিগ্যেস করতে এসেছি।
    হ্যাঁ, কী কথা?
    এই কোম্পানীর ব্যবসাটা আসলে কী?
    ওরে বাবা! এদের তো বিরাট ব্যাপার। হেভি ইন্ডাস্ট্রি হয় না? সেই হেভি ইন্ডাস্ট্রির ব্যবসা করে। যেমন ধরুন স্টীল তৈরী হচ্ছে। এটাই ওদের ব্যবসা। এইটা হেড অফিস।
    তাহলে তো বিরাট ব্যাপার।
    এই দেখুন আমরা চারজন ড্রাইভার আছি, তারপরে মালি, দারোয়ান, সুইপার। সব এখানেই থাকি। কোয়ার্টার দিয়েছে। একটু চা খাবেন তো?
    না না! প্লীজ। আজ নয়, আজ নয়। সোমবারে তো আসছিই। আপনার নাম কি ভাই?
    আমার নাম চন্দ্রশেখর। আমি ড্রাইভার।
    ঠিকাছে চন্দ্রশেখরদা। আজ চলি। নমস্কার।
    চায়ের জল কিন্তু গরম আছে, আমরাও খাবো, একটু বসুন না।
    সোমবারে খাবো, কথা দিচ্ছি।

    আমি বেরিয়ে আসি ওখান থেকে। মনটা হাল্কা হয়ে যায়।

    হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছে যাই পাম প্লেস। দোতলার একটা ফ্ল্যাট। দরজাটা অল্প একটু খোলা। ভেতরে ঢুকে দেখি ড্রয়িং কাম ডাইনিং রুম। সেখানে গুজরাতি সোফাসেটে বসে ভিকি ও ভিকাস টিভি দেখছে। ভৈশকে দেখা যায় না। সেন্টার টেবিলে একটা রুমাল পাতা, তার ওপরে নানারকম গ্রহরত্ন বসানো পাঁচটা সোনার আংটি।
  • সে | ২০ নভেম্বর ২০১৪ ০৩:১৫652816
  • কাজকর্মের কোনো আয়োজন দেখছি না। ঘরের অন্যপ্রান্তে, যেটা ডাইনিং স্পেস সেখান থেকে রান্নাঘরের দিকে যাতায়াত করছেন মাম্মিজি ও এক পরিচারিকা। বেগুন পোড়ার গন্ধ নাকে আসছে।
    ঘরের এপাশটায়, যেখানে আমরা বসে রয়েছি অবহেলিত গেস্টের মতো, সেখানে টিভির ভলিউম খুব নীচের দিকে। সিনেমার গানের কোনো চ্যানেল মনে হচ্ছে।
    মাথার ওপরে যে পাখাটা চলছিলো সেটা বন্ধ করে দিলো পরিচারিকা। সে এখন সমস্ত আসবাব ডাস্টিং করবে।
    আমরা খুব ভদ্রতা দেখিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে কোথায় যাবো বুঝতে না পেরে ঐ ঘর সংলগ্ন বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালাম। বারান্দাটায় প্রচুর ভাঙাচোরা জিনিস ডাঁই করা। রাস্তায় উল্টোফুটে এক ইস্তিরিওয়ালা সবে তার উনুনটা ধরিয়েছে। গনগনে আঁচের ওপরে লোহার ইস্তিরি গরম হচ্ছে।
    ডাস্টিং সমাপ্ত, আমাদের নিজ নিজ স্থানে প্রত্যাবর্তন, এবং অনতিবিলম্বেই মিস্টার ভৈশ উপস্থিত হল সেখানে। চান টান করে পাউডার মেখে ফিটফাট হয়ে এসে সে একটা একটা করে আঙটি পরে ফেলল।
    আমরা সব সিরিয়াস হয়ে বসে আছি।
    সন্তোষকে কাজ দেওয়া হলো একটা সালোয়ার সুট "প্রেস" করিয়ে আনার নীচের ঐ ইস্তিরিওয়ালার থেকে। হালকা বেগ্‌নে রঙের লখ্‌নৌ চিকনের সালোয়ার সুট ও দুপাট্টা। পোশাকটা মিস্টার ভৈশের বোনের।
    প্রথমে ' চাব্বি', 'চাব্বি', করে তাকে ডাকা হচ্ছিলো, পরে বুঝলাম তার নাম ছবি।

    আঙটি পরে নিয়ে ভৈশ খুব মন দিয়ে খবরের কাগজ পড়তে লাগল। বারান্দায় বেরোনোর আগে ভিকাস টুক করে টিভিটা অফ করে দিয়েছিলো, তাই আপাতত ঘরের ইন্টেরিয়র ডেকোরেশান দেখা ছাড়া আমার আর কোনো কাজ নেই। ভিকাস অবশ্য বাধ্য ছাত্রের মতো চুপটি করে বসে সেন্টার টেবিলের দিকে একাগ্র মনে কী যেন দেখছে।
    মিনিট দশেক এইরকম চলল।
    তারপরে মিস্টার ভৈশ কাগজপড়া শেষ করে, কী যেন একটা খুব ইম্‌পর্ট্যান্ট জিনিস মনে পড়েছে এমনি ভাবে টেলিফোন ডায়াল করতে লাগল। তখনো ঘরে ঘরে মোবাইল ফোন চালু হয় নি। খুব অল্প লোকের মোবাইল ফোন থাকত। কল রিসিভ করতেও পয়সা লাগত বলে লোকে হাইস্পীডে কথা শেষ করত।
    ভৈশ ফোনে কার সঙ্গে কথা বলছে বোঝা যায় নি প্রথমে। তারপরে ওপ্রান্ত থেকে মহিলা কন্ঠ শোনা গেল। লাইটার ও চোরি শব্দদুটো শুনবার পরে বুঝলাম ভৈশের লাইটারটি খোয়া গিয়েছে। সম্ভবতঃ এই সেই লাইটার যেটা একবার আমিও ব্যবহার করেছি।
    ফাইনালি জানা গেল যে বেঙ্গল এয়ারলাইন্সের হবু এয়ার হোস্টেসটি নাকি ওনার শখের লাইটারটি ঝেড়ে দিয়েছে গতকাল।
    মেয়েটি এমনিতে চোর নয়, কিন্তু মিস্টার ভৈশের সিগারেট ফোঁকা কমানোর জন্যেই সে এই দুষ্টুমিটা করেছে। বোঝা যাচ্ছে, এদের মধ্যে অল্প ইন্টুমিন্টু আছে।
  • nina | ২০ নভেম্বর ২০১৪ ০৬:৫৫652827
  • মন দিয়ে পড়ছি
  • ranjan roy | ২০ নভেম্বর ২০১৪ ২০:০৮652833
  • ১৭ ঘন্টা হয়ে গেল!!!
  • সে | ২০ নভেম্বর ২০১৪ ২১:২০652835
  • সারাটা দিন অফিসের কাজ কিছুই হয় না। সন্তোষকে দিয়ে ভৈশের মাম্মিজি বাথরুমের শ্যাওলা পরিষ্কার করাতে লেগে যান।
    ইস্তিরি করিয়ে আনা বেগুনি লখ্‌নৌ চিকন পরে ছবি সেজেগুজে রেডি হয়ে বেরিয়ে আসে। তার সঙ্গে অনেক জিনিস ব্যাগ বিরাট বিরাট কাগজের চার্ট পেপার রোল করা।
    কোন এক বিখ্যাত ইন্টেরিয়র ডিজাইনারের বাড়ি তার মিটিং আছে আজ, প্রোজেক্টের কাজে। দুপুরবেলা পৌঁছতে হবে, গাড়ি চাই। ওদের পাপা তো সকালেই নিজের গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে গিয়েছেন ড্রাইভারসহ, তাই সে চাইছে তার ভাইয়া যদি তাকে ড্রাইভ করে পৌঁছে দেয় মেরুন ফিয়াটে করে।
    এরা পাবলিক ট্রান্‌স্পোর্ট জানে না চেনে না। মনে হয় চড়েওনি কোনোদিন।
    ভাইয়া কুঁড়েমি করতে থাকে, রাজি হয় না, অনেকরকম অজুহাত দেখাতে থাকে কাজের চাপ, কাস্টমারের ফোন আসবে, এই সমস্ত। ছবি বিশ্বাস করে না। রেগে যায়, ঝগড়া করে।
    শেষে রফা হয় ট্যাক্সি করে ছবি যাবে তার গন্তব্যে। এর মধ্যে মাম্মিজি ও তৈরী হয়ে বেরিয়ে আসেন, তাঁকেও কোথাও একটা যেতে হবে। সুতরাং তাঁরও ট্যাক্সি চাই। দুটো ট্যাক্সি না একটা ট্যাক্সি, এই নিয়ে কিছুক্ষণ কথাকাটাকাটির পরে রফা হয় একটা ট্যাক্সির। ভিকাস ট্যাক্সি ডাকতে যায়। গলির মুখে ট্যাক্সি ঢুকছে দেখতে পেয়ে ছবি আমাকে বলে, চলো হাত লাগাও, সামান উঠাও।
    অদ্ভুত লোক এরা।
    আমি কিছু নিই, ভিকি কিছু নেয় সঙ্গে।
    ছবি বেরোনোর আগে বলে যায় ভৈশ্‌কে, খানা ঢাকা দেওয়া আছে টেবিলে, বেঙ্গন কা ভর্তা, করেলা, আরো কী কী যেন।
  • সে | ২১ নভেম্বর ২০১৪ ০১:১১652836
  • দুপুর দুটো টুটো নাগাদ ভৈশ বলে লাঞ্চ করনা হ্যায়।
    তারপরে ডাইনিং টেবিলের ঢাকা দেয়া খাবারগুলো ঢাকনা খুলে খুলে দ্যাখে, তারপর বলে লেট্‌স্‌ গো আউট।
    আমরা চারজনে পৌঁছই বালিগঞ্জ ফাঁড়ির কাছে এয়ার কন্ডিশন্ড ধাবায়। ওরা নিজেরাই মেন্যু দেখে ঠিক করে ফ্যালে কী কী নেওয়া হবে। সবই বিভিন্ন চিকেনের প্রিপারেশান। একটা বিরাট বাটিতে আসে চিকেনের ঠ্যাং এবং থকথকে ঝোলের মধ্যে থেকে উঁকি মারে ডিম সেদ্ধ। নিমেষে উড়ে যেতে থাকে খাবার। ভিকাস ও ভিকি পাল্লা দিয়ে খায়। এসব দেখে ভৈশ বেশিক্ষন বসে থাকে না। চেয়ার ছেড়ে উঠে পড়ে, ক্যাশে গিয়ে বিল মিটিয়ে ফ্যালে। তারপরে শুধু নিজের জন্যে নেয় এক গ্লাস লস্যি। ভিকিরা তখন প্লেট সাফ করে ফেলেছে।

    এতক্ষনে ভৈশ কথা বলে আমার সঙ্গে।
    সে রাজী। আমি যদি এই চাকরি ছেড়ে দিয়ে নতুন ভালো চাকরি নিই, সেতো আমার উন্নতির জন্যে খুবই ভালো। এই অফিসের কাজে আমি কতই বা আর আয় করতে পারব? মাস গেলে দেড় থেকে দু হাজার। তার বেশি কে ই বা দেবে? অন্য অফিস কত দিচ্ছে?
    বললাম যে- জানি না, কথা হয় নি এবিষয়ে। কিন্তু ওদের বিজনেস টা জানি হেভি ইন্ডাস্ট্রি, স্টীল টিলের কারবার।
    ভেরি গুড।
    ভৈশের বক্তব্য হচ্ছে যে ওদেরকে যাচাই করে নিতে হবে।
    কিন্তু কেন? ওরাতো ভালো কোম্পানি। অতোবড়ো অফিস।
    ভৈশ হেসে ফেলে। তার চেনা এক লোক আছে, এই নতুন কোম্পানীর ব্যাপারে তার কাছে সে খোঁজখবর নেবে। একটা কাজ করা যাক, রবিবার তার সঙ্গে মীট করে আলোচনা হোক?
    রবিবার? কোথায়?
    উই উইল ফাইন্ড অ্যা প্লেস।
    কিন্তু সোমবার আমার জয়েনিং ডে, রবিবার আমি একটু রেস্ট নিতে চাইছিলাম।
    তোমাকে কি আটকে রাখব নাকি সারাদিন? বিকেলের দিকে দেখা করে কথা বলব।
    আর আমার স্যালারি?
    ওটা একটু দেরি হচ্ছে। সেভেন্থ্‌, পাক্কা!
  • সে | ২১ নভেম্বর ২০১৪ ০১:৩১652837
  • বাকি দুটো দিন ঝড়ের মতো কেটে গেল সময়। একটা নতুন ভালো চাকরি পাবার আনন্দে আমি সবসময় খুশি খুশি থাকি।
    খুব তাড়াতাড়ি অফিসে যাই, গিয়ে ভিকির সঙ্গে প্রচুর আড্ডা মারি। ভিকি এমনিতে খুশি যে আমি ছেড়ে দিচ্ছি, আবার সেইসঙ্গে মনমরা যে ওর আর কথা বলবার লোক রইল না।
    দূর, তুই মন খারাপ করছিস কেন? আমি মাঝে মাঝে শনিবার অফিসের পরে এখানে এসে দেখা করে যাব।
    ভিকি হাসে। মন খারাপের হাসি।
    শনিবার জানলাম রবিবার কখন মীট করছি। বিকেল তিনটে সাড়ে তিনটে নাগাদ। গ্র্যান্ড হোটেলের সামনে।
    ভৈশ বলে দিলো একটু ভালো পোশাক পরে আসতে। প্রেফারেবলি নট্‌ সারি। একটু সাজগোজ করে আসতে। এত সিম্পল নয়।
    যে ভদ্রলোকটির সঙ্গে আলোচনা হবে তিনি বিভিন্ন কোম্পানীর সঙ্গে ব্যবসা করেন। হয়ত এই নতুন অফিসেও ওঁর চেনা জানা আছে। একটা অ্যাপ্লিকেশন লেটার, একটা ভালো এম্‌প্লয়মেন্ট কন্ট্র্যাক্ট, এসমস্ত খুব জরুরী। এম্‌প্লয়ার যেন ঠকিয়ে না নিতে পারে।
    ঠিকই তো! এসব কথা তো জানতামই না।
    অ্যান্ড ইউ শুড ইন্‌সিস্ট ফর গুড স্যালারী।
    হ্যাঁ, এটাও আমার প্রশ্ন। ঠিক বুঝতে পারছিনা কত চাইব।
    ডোন্ট ওয়রি। উই উইল ডিসকাস এভরিথিং। দিজ্‌ থিংস ক্যানট বি ডিসকাসড হিয়ার। ওকে?
    থ্যাঙ্ক ইউ।
    আরে থ্যাংক্স পরে দেবে।
    ভৈশের মুখে স্মিত হাসি।
    সী ইউ টুমরো।

    অফিস থেকে বেরোতেই দেখি দমকা হাওয়া। ঝড়ের মতো।
    আহ্‌, মুক্তি! এই অফিসে আর কাজ করতে আসতে হবে না। কালকের জন্যে একটা ভালো ড্রেস চাই। আমার আছে। একটা ডীপ পার্পল লং ফ্রক। ফুল স্লিভ। আমার খুব প্রিয় ওটা। কতোদিন পরিনি। কাল ওটাই পরব।
  • rivu | ২১ নভেম্বর ২০১৪ ০৬:১৫652838
  • এখন যদি বলি, চিন্তায় টেনশনে দম আটকে আসছে, খারাপ দেখাবে কি? যতই হোক, এটা "সে"র পার্সোনাল লাইফের গল্প। আজার নাফিসি বলেছিলেন, আমরা ফিকশন পড়ি টু এম্প্যাথাইজ উইথ দ্য ক্যারেক্টারস। লেখাটা খুবই সফল সে দিক থেকে, কিন্তু এটাতো ফিকশন নয়। জানি সত্যি ঘটনা, সে জন্যেই কি এত বেশি উদ্বেগ? যাই হোক, মোদ্দা কথাটা হলো, খুব আগ্রহ নিয়ে পড়ছি।
  • কল্লোল | ২১ নভেম্বর ২০১৪ ০৬:১৯652839
  • ওরেঃ তারা। এতো রহস্য গপ্পো!! মানে ভৈঁষটাকে মাপা যাচ্ছে না। খুব পুঁদুচ্চেরি ক্যারেকটার। ক্রাইম থ্রিলার হয় জানতাম। এতো চাগরী থ্রিলার!

    দারুণ হচ্ছে। বসে আছি।
  • de | ২১ নভেম্বর ২০১৪ ১০:৫১652840
  • সত্যি থ্রিলার!!
  • সে | ২১ নভেম্বর ২০১৪ ১২:৪৭652841
  • রবিবারের দুপুর। ঠাঠা রোদে চাঁদি ফেটে যাবার জোগাড়। আমি সাজগোজ করে নিলাম।
    আমার ঘরে ফ্যান নেই, আবার দরজা জানলাও পুরো খুলে রাখা যায় না।
    আমার পায়েও একটা শু, সেটা যদিও মারি ক্লেয়ার নয়। চুলটা বড্ড বেয়াড়াভাবে বেড়ে গিয়েছে। খুলে রাখা যাবে না, গরমও লাগবে। কীভাবে বাঁধব সেটা বুঝতে পারছি না।
    একটা ছাতা নিলে ভালো হতো, কিন্তু ছাতাতো আমার নেই। ভ্যানিটি ব্যাগ একটা ছিলো, একটু পুরোনো হয়েছিলো, কিন্তু সেটা পোড়ামাটি রঙের - এই ডীপ পার্পল ড্রেসের সঙ্গে মানাবে না।
    ছোটো একটা পার্স নিই। বেশি কিছুতো নেবার নেই। অল্প টাকা পয়সা, একটা ডটপেন, লিখবার জন্যে অল্প কাগজ, ঘাম মুছবার জন্যে রুমাল আর ঘরের চাবিটা থাকবে এই পার্সে।
    আশেপাশের বাড়ীর লোকজন ছুটির দুপুরে খেতে বসেছে, টিভি সিরিয়াল বিজ্ঞাপন রেডিওর শব্দ, খাবার ঘরের পরিবেশনের শব্দ, গার্হস্থ্য চেঁচামেচি, সমস্ত পেরোতে থাকি সন্তর্পনে। এই পোশাকে এত বড়ো একটা মেয়েকে দেখতে অভ্যস্থ নয় এই পাড়া।
    বাস চলতে শুরু করলে আগুনের হলকার মতো হাওয়া বয় জানলার পাশে। কবে যে একটু বৃষ্টি হবে কে জানে।
    আচ্ছা ইস্কুল কলেজের গরমের ছুটি কি পড়ে গিয়েছে?
    না, তা কীকরে পড়বে। সবে তো বে মাস শুরু হোলো, এরপরে রবীন্দ্র জয়ন্তী আছে না! পঁচিশে বৈশাখ। এত গরম হয়ে যায় কোলকাতা? যদি মাথা ঘুরে পড়ে যাই? যদি মরে যাই? কে বাঁচাতে আসবে?
    আজ আমি কোনোমতেই কিন্তু দেরি করব না। আজ আমার চাকরি হারাবার ভয় নেই। বাসের ভাড়া দিয়েও ব্যাগে থাকবে বত্রিশ টাকা ও কিছু খুচরো পয়সা। ট্যাক্সি নেবার প্রশ্নই ওঠে না। মদ খাওয়া? হাঃ হাঃ। আমার শিক্ষা হয়ে গেছে। দেখা করব, কথাবার্তা যা বলার বলব, কিছু নোট করে নেবার থাকলে কাগজ কলম তো আছেই সঙ্গে।
    বাস বদলাতে বদলাতে পোঁছে যাই লিন্ডসে স্ট্রীটের মোড়ে। দুপা হাঁটলেই গ্র্যান্ড হোটেল। আজ সব কেমন চুপচাপ। গ্র্যান্ডের নীচের সব দোকানগুলোর ঝাঁপ নামানো। একটা ভিখিরি মেয়ে কাপড় লুটিয়ে লুটিয়ে হেঁটে গেল আমার পাশ দিয়ে। তার হাতে অনেক প্লাস্টিকের ব্যাগ, অনেক নোংরা জিনিসপত্র, সম্পত্তি। ভিখিরি নয়, ও পাগল। কোথায় থাকে ও? কেমন করে পাগল হয়ে গেছে কে জানে।
    মিস্টার ভৈশ কোথায়? তিনটে তো বেজে গিয়েছে।
    আমি কিন্তু অনটাইম।
  • ঐশিক | ২১ নভেম্বর ২০১৪ ১৪:১১652842
  • সাংঘাতিক রকমের ভালো লেখা, সোনার কলম হোক আপনার
  • সে | ২১ নভেম্বর ২০১৪ ১৪:৩২652843
  • জুতোটা অনেকদিন পরিনি তো, তাই আজকের হাঁটহাটিতে ব্যাথা লাগছে। বিশেষ করে ডানপায়ের গোড়ালিতে। অপেক্ষা করবার জন্যে এরকম একটা জায়গায় ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা খুব অস্বস্তিকর। হাঁটলে ভালো হয়, কিন্তু হাঁটতে গেলেই গোড়ালিটা যেন কেটে কেটে যাচ্ছে। জুতোটা খুলে দেখলাম। ওরে বাবা! লাল হয়ে গেছে, ফোস্কা পড়েছে। দাঁড়িয়েই থাকি। সাড়ে তিনটে অবধি দেখবো, তার পরে এক সেকেন্ডও দাঁড়াবো না।
    সাড়ে তিনটের আগেই ভৈশ কে দেখা যায় এগিয়ে আসতে। ক্যামেরার দোকানের সেই গলি থেকে বেরিয়ে আসে। তার হাতে একটা ঢাউশ ব্রীফকেস।
    হাই। ওয়েটিং ফর অ লং টাইম?
    অ্যাবাউট টোয়েন্টি মিনিটস্‌
    ইট্‌স্‌ টেরিবলি হট টুডে। ভো ক্যা হুয়া কি, মাই কার ইজ নট স্টার্টিং, সো আই হ্যাড টু টেক এ ট্যাকসি। লেট্‌স্‌ ওয়েট হিয়ার। ওয়াও, ইট'স অ্যা টের্রিফিক ড্রেস ইউ আর ওয়্যারিং। সো, এক কাম করতে হ্যায়, ওয়ান্স হি কামস্‌ উই উইল গো সামহোয়্যার টু সীট অ্যান্ড টক। ওকে? হি ইজ অ্যা ভেরি বিগ্‌ বিজনেস্‌ম্যান। ডোন্ট টক টু মাচ্‌ ইন্‌ফ্রন্ট অফ হিম।
    প্রায় তক্ষুনি একটা সাদামারুতি স্লো হয়ে দাঁড়ায় গ্র্যান্ডের সামনে রাস্তার ওপরে। ভৈশ দৌড়ে গিয়ে ওঠে ড্রাইভিং সীটের পাশে। আমি পেছনের সীটে একা। গাড়ি যে চালাচ্ছে, সে পয়সাওয়ালা লোক। রেয়াভিউ মিরর দিয়ে আমাকে দেখে নেয়। কিন্তু ভৈশ আলাপ করায় না আমাদের। গাড়ি দক্ষিনমুখো অল্প এগিয়েই ধাঁ করে ইউ টার্ন নেয় চৌরঙ্গীর ওপরেই। তারপরে উত্তরমুখো চলতে থাকে। ভাগ্যিস কোনো ট্র্যাফিক পুলিশ ছিলো না রাস্তায়। নইলে নির্ঘাৎ ধরত।
    গাড়ীর সব কাচ ওঠানো। ভেতরে এসি চলছে। এতক্ষণে গরম থেকে বাঁচা গেল।
    ওরা দুজনে নিজেদের মধ্যে কথা বলতে থাকে। ব্যবসার কথা, চেনাজানা লোকেদের কথা, বাড়ীর কথা। আমি প্রায় কিছুই বুঝতে পারিনা। শুধু দুয়েকটা জিনিস বুঝি, যেমন হাবিব (সেই মারি ক্লেয়ার জুজো বানায় যে লোকটা) ফৈজাবাদ গিয়েছে, কিংবা ছবি শুড গেট ম্যারেড দিস ইয়ার। ছবির বিয়ে নিয়ে ভৈশের খুব চিন্তা। শী হ্যাজ কম্প্লিটেড বি এস সি ইন হোম সায়েন্স, নাউ শী ইজ্‌ ইন ইন্টেরিয়র ডেকোরেশন বিজনেস। এই সমস্ত।
    গাড়ী আবার ঘুরে গেছে ধর্মতলা স্ট্রীটে, আবার আরেকটা রাইট টার্ণ নেয়, তারপরে আমরা পৌঁছে যাই আমড়াতলার মোড়ে। যেখানটায় দাঁড়িয়ে ছিলাম, সেখান থেকে এক মিনিটের হাঁটা পথ। একটা হোটেলের ড্রাইভ ইন্‌ এ ঢুকে যায় সাদা মারুতি।
    আরে! এখানে বহুকাল আগে রিট্‌স্‌ কন্টিনেন্টাল ছিলো না? ছোটোবেলায় চৌরঙ্গী দিয়ে যেতে আসতে কত দেখেছি সেই উঁচু বাড়ীটা, লিপ্‌টনের নিয়নের কেটলি, পুরোনো সেই ধর্মতলা মনে পড়ে যায়।
    কিন্তু এটুকু রাস্তা এত ঘুরে আসতে হোলো কেন? হেঁটেই তো যাওয়া যেত।
    বাব্বাঃ নতুন নাম হয়েছে দেখছি হোটেলটার। পিয়ারলেস ইন। পিয়ারলেস তো আগে ইন্‌শিওরেন্সের ব্যবসা করত, এখন হোটেলও খুলেছে দেখছি।
  • kumu | ২১ নভেম্বর ২০১৪ ১৬:৪৬652844
  • ভইশ একটা ভৈঁষ।অন্য লোকটাও।কেন যাচ্চ ওদের সঙ্গে??
  • Suhasini | ২১ নভেম্বর ২০১৪ ১৭:৫২652846
  • বড্ড চিন্তা হচ্ছে মেয়েটার জন্য।
  • mohor | ২১ নভেম্বর ২০১৪ ১৮:১৮652848
  • সত্যি, কেন যাচ্ছে??
  • mohor | ২১ নভেম্বর ২০১৪ ১৮:১৮652847
  • সত্যি, কেন যাচ্ছে??
  • hu | ২১ নভেম্বর ২০১৪ ২১:১৮652849
  • কেন যাচ্ছে, কেন যাচ্ছিল এগুলো আমিও ভাবছিলাম। এটা তো সত্য ঘটনা অবলম্বনে। দেখা যাক!
  • lcm | ২১ নভেম্বর ২০১৪ ২১:২০652850
  • আহা, যাক না। দেখোই না কি হয়।
  • Tim | ২১ নভেম্বর ২০১৪ ২১:৪১652851
  • নাহ সত্যি সত্যি যাচ্ছেনা। এটা কেস স্টাডি। যাই হোক, গপ্প চলুক।
  • Atoz | ২১ নভেম্বর ২০১৪ ২২:০৬652852
  • টিম, ঃ-)
  • সে | ২১ নভেম্বর ২০১৪ ২২:৩১652853
  • ইন মানে সরাইখানা। তেমনিই পড়েছি ছোটোবেলায়। সেই সরাইখানার ছবি মনের মধ্যে অন্যভাবে আঁকা ছিলো। যেমনটা থাকে ঈশপের গল্পের মতো ছোটোছোটো গল্পে, লোককাহিনিতে। এইটে তার সঙ্গে মিলছে না। গাড়ী থেকে বেরিয়ে সেই ঢাউশ ব্রীফকেসটা নিয়ে নেয় সেই লোকটা, গাড়ির চাবি সংগ্রহ করে উর্দিপরা এক দারোয়ান। লোকটা আমাদের দিকে আর ফেরে না। গটগটিয়ে সোজা ঢুকে যায় হোটেলের ভেতরে। ভৈশ ও আমি অপেক্ষাকৃত মন্থরভাবে ঢুকি সেই একই জায়গায়। রিসেপশান কাউন্টার বাঁ দিকে অনেকটা জায়গা জুড়ে। দুজন রিসেপশানিস্ট। তাদের একজন ছেলে, যার সঙ্গে লোকটা কথা বলছে এবং তাচ্ছিল্যের সঙ্গে হাতে ধরে রেখেছে একটা মোবাইল ফোন। অন্যজন মেয়ে রিসেপশানিস্ট। ভৈশ তার কাছেই যায়, আমি অল্প পেছনে দাঁড়িয়ে হোটেলের শোভা দেখি।
    সম্ভবতঃ রেস্টুরেন্ট খোঁজে। মেয়েটা গড়গড় করে বলে চলে, আহেলি নিশিদিন আরো কিছু নাম। তারপরে দেখিয়ে দেয় কেমন করে সিঁড়ি দিয়ে উঠে যাওয়া যাবে বা লিফট্‌ নেওয়া যাবে।
    আমরা উঠে যাই সেখানে। অন্য লোকটা তখনো রিসেপশানেই থেকে যায় ঢাউশ ব্রীফকেস সহ।
    দুপুর গড়িয়ে সবে বিকেল হয়েছে। কোনো টেবিল না নিয়ে আমরা একটা সোফায় বসেছি। সুবেশ ওয়েটার এসে নম্রতা মাখানো স্বরে প্রশ্ন করে, ডু ইউ ওঅন্ট টু অর্ডার সামথিং স্যার?
    অ্যাকচুয়ালি উই আর ওয়েটিং ফর অ্যানাদার পার্সন।
    ওকে স্যার। ইন্‌ দ্য মীন টাইম ডু ইউ ওঅন্ট টু ড্রিংক সামথিং?
    নো থ্যাংক্স্‌।
    ওকে স্যার।

    লোকটা চলে যায়।
    কোনো কিছু অর্ডার না করেই তারা লাগানো হোটেলের ইন্দ্রপুরীর মতো রেস্টুরেন্টে বসে থাকতে দেয়, অথচ এই কদিন আগেই একটা ওঁচা রেস্টুরেন্ট থেকে আমায় প্রায় ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়েছে। তাওতো বিনে পয়সায় বসতে চাইনি, কোল্ড ড্রিঙ্ক অর্ডার করেছিলাম। আজব দুনিয়া।

    এর একটু পরে চলে আসে সেই লোকটি, যার নাম সম্ভবতঃ রাকেশ। ভৈশ ঐ নামেই ডাকছিলো যদিও ফর্ম্যালি পরিচয় করায় নি। লোকটা বলে - কাম।
    সেই নম্র ওয়েটারটি দূর থেকেই আমাদের দিকে তাকিয়ে বিনয়ে ঝুঁকে স্মিত হাসিতে বিদায় দেয়। কোনোকিছু অর্ডার না করে পাঁচ দশমিনিট বসে থাকার জন্যে একফোঁটাও রাগ প্রকাশ করে না।
    আমরা ঐ রেস্টুরেন্ট থেকে বেরিয়ে হোটেলের ভেতরের দিকে চলে যাই। করিডোরের মুখে লিফটের সামনে। তারপরে ছয় কিংবা সাততলায় এসে থামে লিফট। লিফট থেকে বেরিয়ে অল্প হেঁটেই একটা ঘরের দরজা খোলে লোকটা, তার পেছন পেছন ঢুকি আমরা। সবার পেছনে আমি।
  • সে | ২১ নভেম্বর ২০১৪ ২৩:০৩652854
  • ফোস্কা গলে গিয়ে পায়ে অসহ্য জ্বালা হচ্ছে। কাউকে বলতে পারছিনা। রেস্টুরেন্টে বসে থাকার সময় শু-এর চাপ দিয়ে ভেতর দিকে নমিয়ে দিয়েছি। ফলে ওটাকে চটির মতো ম্যবহার করা যাচ্ছে। একটু অসুবিধে হচ্ছে ঠিকই হাঁটতে, তবে কার্পেটে মোড়া করিডোরে কোনো আওয়াজ তোলেনি।
    ঘরে ঢুকেই ডান হাতে একটা দরজা, অল্প খোলা। ওটা বাথরুম। সেইটে পেরিয়ে এগিয়ে এলে মূল ঘরটায় আসা যায়। সেখানে বাঁ হাতে একটা বড়ো টেবিল, চেয়ার, টিভি, আরো কী কী যেন রয়েছে। ডানদিকে একটা ডবল বেড। সেইটা পেরিয়ে দুটো সিঙ্গল কাউচ - পাশাপাশি নয়, মধ্যিখানে একটা ছোট্টো টেবিল রয়েছে। আমি প্রথমে টেবিলে সামনে রাখা চেয়ারটায় বসতে চাচ্ছিলাম, কিন্তু ভৈশ ভেতরের দিকের কাউচটা দেখিয়ে আমায় বলে, সীট দেয়ার। ফিল কম্ফর্টেবল।
    বসলাম। আমার পার্সটা রেখেছি ছোট্টো টেবিলটার ওপরে।
    এখন আলোচনাটা শুরু করে দিতে হবে। অনেক ধানাই পানাই তো হোলো। লোকটা বসে অন্য কাউচটাতে। ভৈশ সরাসরি বিছানায় বসে পায়ের জুতো খুলে ফ্যালে।
    দরজায় বেল বাজে।
    কাম ইন্‌!
    দরজা ভেজানো ছিলো, আমি শেষ ঢুকেছি।
    একজন ওয়েটর ঢোকে হাতে মেন্যু কার্ড।
    রুম সার্ভিস।
    ওয়াট ডু ইয়ু ওয়ন্ট টু অর্ডার স্যার?
    ওদের হাতে হাতে দুটো মেন্যু ধরিয়ে দেয়। আমার দিকে আড়চোখে দ্যাখে ওয়েটার।
    ওরা খাদ্যদ্রব্য ঠিক করছে।
    চিকেন ওম্‌লেট।
    ওকে স্যার।
    অ্যান্ড ডু ইয়ু হ্যাভ সাম আদার স্ন্যাক্স্‌ লাইক ...
    ইয়েস স্যার, উই হ্যাভ অ্যা ভ্যারাইটি অফ স্যান্ডুইচেস্‌, অ্যান্ড ইফ্‌ ইউ প্রেফার ভেজিটেরিয়ান, উই অল্‌সো...
    নো নো, স্যান্ডুইচ নেহি। ব্রিং টু চিকেন ওমলেট অ্যান্ড উইথ দ্যাট ও জো দেতা হ্যায় না, ও সব।
    অ্যান্ড ইউ ম্যাডাম?
    আমি এদের দেখছিলাম। অন্য জগতে ছিলাম। হঠাৎ আমায় জিগ্যেস করায় বলি, নাথিং।
    অ্যান্ড ওয়াট উইল ইউ ড্রিংক স্যার?
    ভডকা অ্যান্ড অরেঞ্জ জুস।
    ফুল?
    নো, হাফ।
    এনিথিং এল্স স্যার? টি, কফি অর সামথিং ফর ম্যাডাম?
    নো, নাথিং - আমি বলি।
    থ্যাংকিউ স্যার। উই উইল সার্ভ ইউ ইন অ্যাবাউট টেন টু ফিফটিন মিনিট্স্‌।

    ওয়েটার চলে যায়।
    যাবার সময় দরজাটা টেনে দিয়ে যায়। আর ঠিক তক্ষুনি আমার হঠাৎ ভয় করতে শুরু করে।
  • ranjan roy | ২১ নভেম্বর ২০১৪ ২৩:১১652855
  • ক্লিফ হ্যাংগার!!!
  • সে | ২১ নভেম্বর ২০১৪ ২৩:২৩652857
  • অনেক বানান ভুল হয়েছে লাস্ট পোস্টে উপরন্তু অরেকটা ভুল
    "দরজায় বেল বাজে" না, "দরজায় নক্‌ করে কেউ"
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা মনে চায় মতামত দিন