এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • ভাটিয়ালি

  • এ হল কথা চালাচালির পাতা। খোলামেলা আড্ডা দিন। ঝপাঝপ লিখুন। অন্যের পোস্টের টপাটপ উত্তর দিন। এই পাতার কোনো বিষয়বস্তু নেই। যে যা খুশি লেখেন, লিখেই চলেন। ইয়ার্কি মারেন, গম্ভীর কথা বলেন, তর্ক করেন, ফাটিয়ে হাসেন, কেঁদে ভাসান, এমনকি রেগে পাতা ছেড়ে চলেও যান।
    যা খুশি লিখবেন। লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়। এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই। সাজানো বাগান নয়, ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি। এই হল আমাদের অনলাইন কমিউনিটি ঠেক। আপনিও জমে যান। বাংলা লেখা দেখবেন জলের মতো সোজা। আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি।
  • এস-আই-আর গুরুভার আমার গুরু গুরুতে নতুন? বন্ধুদের জানান
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • সায়ন | ১৮ মে ২০১২ ২১:৪৪4770
  • শুধু যদি সাম্পান জানতে পারত যে তার বাবা তাকে নিজে ক্রিকেট খেলার জন্য ভগ্নাংশের মত বেআইনি কন্ডিশন মেনে ট্রেড করছে ....

    সাম্পান, শিগ্গির গুরুতে আয়!
  • SS | ১৮ মে ২০১২ ২১:৪৪4771
  • One and a half men!
    ভগ্নাংশের সাথে ম্যাচিং করে অ্যাডপশন।
  • সায়ন | ১৮ মে ২০১২ ২১:৪২4767
  • মৈত্রেয়র এই বিইইশাআআল ফীটে ফিদা হয়ে সেদিন অমন তিড়িংবিড়িং নৃত্য করতে মৈত্রেয়র দেড়মনি মায়ের চোখ টাটিয়েছে, ঠিকই আছেঃ-p
  • মৈত্রেয়র মা | ১৮ মে ২০১২ ২১:৪২4768
  • আকা, আমি তোকে যেকোনোদিন খুশিমনে অ্যাডপ্ট করব, কারণ তুই রান্না করে দিবি কিনা। আমাকে এখন ট্যাংরা মাছ রাঁধতে হবে ভাবলেই গায়ে জ্বর আসছে।
  • Tim | ১৮ মে ২০১২ ২১:৪১4766
  • আকাদা, মোটেই চাওনা। তোমার ছোটবেলা মৈত্রেয়র থেকে অনেক স্লো ছিলো, প্রচুর অবকাশ পেয়েছো। অনেক কম প্রতিযোগিতা পেয়েছো। আমিও পেয়েছি। মৈত্রেয় খেলাধুলোর জন্য বাড়ি থেকে দারুন সাপোর্ট পাচ্ছে বলেই এইটুকু হচ্ছে, কিন্তু বেশ স্ট্রেসফুল এখকার বাচ্চাদের জীবন। ইন জেনেরাল।
  • আকা | ১৮ মে ২০১২ ২১:৪০4765
  • ব্যাং বিভীষণের সাথে কথা কয়ে দেখ দিকি আমারে অ্যাডাপ্ট করবি কিনা। সারাদিন ক্রিকেট খেলব।

    বাকি গুলো মানে ভগ্নাংশ ইত্যাদি করার জন্য আমাকে অ্যাডাপ্ট করলে ফ্রি হিসেবে সাম্পানকে দেব।
  • মৈত্রেয়র মা | ১৮ মে ২০১২ ২১:৩৮4764
  • আকা, তাহলে তোমাকে এখন ঘাড় গুঁজে কুড়িটা ভগ্নাংশের অঙ্ক করতে হবে। সিদ্ধার্থর মায়া মমতা আর তপোবনের ছবি এইদুটো চ্যাপ্টারের অনুশীলনী আর ইতিহাসের ব্রোঞ্জ এজ চ্যাপ্টারটা শেষ করতে হবে।
  • মৈত্রেয়র মা | ১৮ মে ২০১২ ২১:৩৬4761
  • হ্যাঁ অরণ্য, যেকোনো একজন যেতে পারত।
  • আকা | ১৮ মে ২০১২ ২১:৩৬4762
  • এই মুহূর্তে আমি মৈত্রেয় হতে চাই।
  • aranya | ১৮ মে ২০১২ ২১:৩৬4763
  • জাস্ট ঠ্যাং টানছিলাম। মৈত্রেয় খেলার জন্য বাড়ী থেকে যথেষ্ট সাপোর্ট পায়, সেটা জানি।
    বাচ্চাদের সাথে শুধু মা-দের ঢুকতে দিল, বাবাদের নয় কেন? নাকি বাবা আর মা-র মধ্যে যে কোন একজন ঢুকতে পারবে - এই নিয়ম?
  • মৈত্রেয়র মা | ১৮ মে ২০১২ ২১:৩৩4760
  • টিম, একদল বাচ্চা ওখনে ছিল না, মৈত্রেয় আর ওর বয়সী আরেকটা ছেলে। বাকি সবাই অ্যাডাল্ট। অ্যাডাল্টরা কেউ ধারেকাছে যাওয়ার চেষ্টাও করে নি। তাতেও মৈত্রেয় আর ঐ বাচ্চাটিকে খুব বাজেভাবে ধাক্কা মেরে সরানো হয়। আমি প্রতিবাদও করি। যদিও কোনো লাভ হয় না তাতে।
  • মৈত্রেয়র মা | ১৮ মে ২০১২ ২১:৩১4759
  • অরণ্য, মৈত্রেয় যতক্ষণ ধরে খেলে, স্বয়ং ক্রিস গেইলও নয়বছর বয়সে অতক্ষণ ধরে ক্রিকেট খেলত কিনা সন্দেহ আছে।

    এসেস, হতাশ হয় নি। একটু হিংসে হয়েছে বাবা-মামার উপর।
  • Tim | ১৮ মে ২০১২ ২১:৩০4757
  • মৈত্রেয়কে সাবাশি দিয়েও একটা অন্য কথা কই। সিকিওরিটিরা এরম অসভ্যতা করার পরে সেই ফ্র্যাঞ্চাইজির সাথে দেখা না করাই উচিত ছিলো। একদল বাচ্চা আর তাদের মায়েরা, ধরেই নিচ্ছি ভালোভাবে চেক করিয়েই ঢুকিয়েছে। কি ভয় পাচ্ছিলো? মানববোমা আছে ওদের মধ্যে?
  • পাই | ১৮ মে ২০১২ ২১:৩০4758
  • ঋভুর জন্য আদর রইলো। এনিয়ে ওর নিজের লেখা পড়ার ইচ্ছে রইলো।
  • aranya | ১৮ মে ২০১২ ২১:২৯4756
  • সিকিওরিটি গার্ডরা ব্যাপক গাঁট তো, অত বাচ্চা একটা ছেলে কি বোম মারবে না কি !! কোন মানে হয়। কোহলি-টা দেখছি বেশ ভাল লোক।
    মৈত্রেয় আমাদের গর্ব - ওকে জানিয়ে দেবেন।
  • SS | ১৮ মে ২০১২ ২১:২৫4755
  • মৈত্রেয়'র আর-সি-বি জয় বেশ জম্পেশ হয়েছে। শেষে কি বম্বে টিমকে দেখতে পায়নি বলে হতাশ হল? পরের বারের জন্য তোলা থাক ওটা।
  • hu | ১৮ মে ২০১২ ২১:২৪4754
  • যা তা ব্যাপার তো! মৈত্রেয়র পিঠ চাপড়ে দিলাম।
  • মৈত্রেয়র মা | ১৮ মে ২০১২ ২১:২০4753
  • প্রচুর বানান ভুল। কিছু করার নেই। বুদ্ধি করে পড়ে নিন।
  • মৈত্রেয়র মা | ১৮ মে ২০১২ ২১:১৮4751
  • দুচ্ছাই, মাঝপথেই পোস্ট হয়ে গেল। সব মামুর দোষ।

    এবার মৈত্রেয় যাওয়ার চেষ্টা করল ডিভিলিয়ার্সের সামনে। কিন্তু এবারে সিকিউরিটি এত জোরে ধাক্কা দিল যে মৈত্রেয় সত্যিই পড়ে গেল। পড়ে গিয়েই তার ঠোঁট ফুলে গেল কান্নায়, কারণ সিকিউরিটির দল ততক্ষণে হাঁটা দিয়েছে পুরো টিমকে ঘিরে ধরে করিডোর দিয়ে। একটি মাছিরও ফাঁক গলে ক্রিকেটারদের কাছে যাওয়ার উপায় নেই। মৈত্রেয় তো দূরস্থান। মৈত্রেয়র কান্না থামাতে মৈত্রেয়র মা তাকে বোঝালো, তুমি তো গেইলের সঙ্গে কথা বলেছ, কোহলি তোমায় কাচে ডেকে নিয়েছে। এতেই খুশি থাক। ডিভিলিয়ার্সের সঙ্গে পরে কখনো নিশ্চয়ই দেখা হবে। তা করতে করতে দুটো ছেলে এসে মৈত্রেয়র নেওয়া অটোগ্রাফগুলোর ফটো তোলার অনুমতি চাইল, তাদের মোবাইলে। মৈত্রেয়র মা তাদের একটু ধমকে দিল, "ফটো নিচ্ছ নাও, কিন্তু খবরদার, ন্জেরা এই অটোগ্রাফ পেয়েছ বলে যেন ফেসবুক আর টুইটারে পোস্ট কোরো না।" (মৈত্রেয়র মা স্বর্গে গেলেও থ্রেট দেয়, সে ও আপনারা জানেনই।) তারপর এলাহি ইনারের ব্যবস্থা ছিল, কিন্তু মনখারাপ নিয়ে মৈত্রেয় ইছুইই হেতে পারে না। আর মৈত্রেয়র মাও তাই খেতে পারে না। নীচে নেমে এসে সোনে লবিতে অপেক্ষারত মৈত্রেয়র মামা আর বাবা নাকি বম্বে টিমকে বাস্থেকে নেমে ওটেলে ঢুকতে দেখেছে। সেই খবর শুনে মৈত্রেয়র চোখ গোলগোল হয়ে যায়।
  • সায়ন | ১৮ মে ২০১২ ২১:১৮4752
  • বাকিটা কই?
  • সায়নমামা | ১৮ মে ২০১২ ২১:১১4750
  • ফর দ্য রেকর্ড, মৈত্রেয়'র সঙ্গে কথা বলে সেদিন মন ভালো হয়ে গেল। মৈত্রেয় এক মৃদুভাষী লাজুক বাচ্চাছেলে, সে মৈত্রেয়র মা মৈত্রেয়কে নিয়ে মাঝে মাঝে যাই লিখুন না কেনঃ-)
  • শ্রী সদা | ১৮ মে ২০১২ ২১:১০4749
  • আহ্হ বৃষ্টি ! ছাদে উঠে ভিজে আসতে ইচ্ছে করছে।
  • মৈত্রেয়র মা | ১৮ মে ২০১২ ২১:০৯4748
  • এখনই লিখে দিই বাকিটা।
    মৈত্রেয় আরসিবির থেকে আরেকটা মেইল অথবা ফোনের জন্য দুই হপ্তা ধরে অপেক্ষা করে করে আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছে। এর মধ্যে সে কয়েকটা কম্পিটিশন জিতে ফেলেছে, ক্রিকেট অ্যাটাক্স গেমের সিটি ফাইনালে পৌঁছে গেছে, তার ফাইনাল ইভেন্ট হবে চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে। পরপর দুই দিন দুটো কুইজে সেকেন্ড হয়েছে, তার পরের দিন স্পেলিং বী তে ফার্স্ট হয়েছে, স্পেলিং বি শেষ হওয়ার পরেই, মা নিজের ফোন বার করে দেখে আরসিবির সেই কমিউনিটি ম্যানেজারের আটটা মিসড কল। তড়িঘড়ি ফোন করা হল, জানা গেল সাতটা পঁয়তাল্লিশের মধ্যে আইটিসির গার্ডেনিয়া হোটেলে পৌঁছতে হবে। ক্রিকেটারদের সঙ্গে দেখা করার ছাড়পত্র মিলেছে। এদিকে ঘড়িতে তখন সাতটা কুড়ি। সেইন্ট জনস অডিটোরিয়াম থেকে পঁচিশ মিনিটে ঐখানে পৌঁছে যাওয়া চাট্টিখানি কথা নাকি। মৈত্রেয়র বাবা সেই অসমম্ভব কর্মটি সাধনের চেষ্টায় লেগে পড়লেন সোঁ সোঁ করে গাড়ি চালিয়ে। এমনিতে তিনি স্লো ড্রাইভিংয়ে কচ্ছপকেও লজ্জা দেবেন। মৈত্রেয়র মা গাড়িতে বসে আবার সায়নমামাকে ফোন করে জানিয়ে দিলেন। সায়নমামা তো শুনেই তিড়িংবিড়িং নৃত্য শুরু করলেন। হোটেলে পৌঁছে দেখা গেল সিকিউরিটির অসম্ভব বাড়াবাড়ি। মৈত্রেয়র বাবা এবং মামাকে ঢুকতে দেওয়া হল না, মৈত্রেয় আর তার মা ঢোকার চান্স পেল, কিন্তু নো ক্যামেরা। আরসিবির নিজস্ব ফটোগ্রাফার ফটো তুলবে, তার কপি দেওয়া হবে। অনুষ্ঠানটির নাম মিট অ্যাণ্ড গ্রিট। যে ঘরে মৈত্রেয় আর তার মা ইয়ে বসল, সেইখনে আরো অনেক লোক আগে থেকেই বসে আচে। প্রথমে নাচ-গান হল, তারপর কোনো এক ইখ্যাত পারকাশনিস্ট এসে বাজালেন (নামটা ভুলে যাওয়ার জন্য সত্যি দুঃখিত, মৈত্রেয়কেও ডেকে নিলেন গিটার বাজাতে, মৈত্রেয় একটু পিড়িং পিড়িং করেই লজ্জিত মুখে এসে বসে পড়ল মায়ের পাশে। এবার একে একে প্লেয়াররা এসে ঢুকল। প্রথমেই যেই প্লেয়ারটা এসে ঢুকল, মৈত্রেয়র মা তাকে চিনতে না পেরে জিজ্ঞেস করল, এটা কে রে, আরসিবির প্লেয়ারদের ডাক্তার? মৈত্রেয় মায়ের অজ্ঞানতায় লজা পেয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বলল "উফ আস্তে বল, ওটা আপ্পানা। আপ্পানাকেও চেনো না!" একে একে পুরো টিম ঢ্কল, ক্রিস গেইল ঢোকা মাত্রই মৈত্রেয় এক লাফে সামনে, এবং প্রায় সঙ্গে সঙ্গে সিকিউরিটির কাছে রামধাক্কা খেয়ে ফিরে এল। জানা গেল কিছু ফ্যানকে পুরো টিমের সঙ্গে ছবি তুলতে দেওয়া হবে। যাদের মধ্যে মৈত্রেয়ও আছে। ছবি তোলার সময়ে মৈত্রেয় ফটোর জন্য পোজ দিয়ে না দাঁড়িয়ে খাতা কলম নিয়ে সোজা ক্রিস গেইলের সামনে। গিয়ে বলল "আই ডোন্ট ওয়ান্ট ফটোগ্রাফ, আই ওয়ান্ট ইওর অটোগ্রাফ।" সিকিউরিটি আবার মৈত্রেয়কে টেনে সরানোর চেষ্টা করতে গিয়ে বাধা পেল স্বয়ং গেইলের থেকে। গেইলকে মৈত্রেয় জানিয়ে দিল যে মৈত্রেয়র ইচ্ছে গেইলের সঙ্গে মাঠে ক্রিকেট খেলার। গেইলও হাসিমুখে বলল "উইল লুক ফর ইউ"। এবার মৈত্রেয় আবার বিরাট কোহলির সামনে, সিইউরিটি টেনে সরানোর চেষ্টা আবার ইন্তু এবারে বিরাট কোহলি নিজেই টেনে পায়ের কাচে মৈত্রেয়কে বসিয়ে দিল গ্রুপ ফটোগ্রাফের জন্য। তারপর অটোগ্রাফও দিল। মৈত্রেয়বাবু কোহলিকে অভয় দিলেন, আমরা প্লেয় অফএ যাবই যাব বলে। এবার মৈত্রেয়
  • SS | ১৮ মে ২০১২ ২০:৫৫4747
  • আরে ব্যাঙ, পুরোটা একবারেই লিখে দাওনা বাপু। আবার অপেক্ষা করতে হবে পরের কিস্তির জন্য?
  • অরণ্য | ১৮ মে ২০১২ ২০:৫৩4746
  • মৈত্রেয়-র মা, লা জবাব লেখা। দারুণ লাগল পড়ে। মৈত্রেয় এখন থেকে খেলার জন্য আরেকটু বেশী সময় পাবে তো? ঃ-)
  • মৈত্রেয়র মা | ১৮ মে ২০১২ ২০:৪২4744
  • সিঁফো দেখলাম ক্রিস গেইলের সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যাপারে জানতে চেয়েছে।

    হপ্তা দুয়েক আগে মৈত্রেয়র মা এক গনগনে দুপুরে গুচ্ছের বাজে কাজ নিয়ে যখন হিমসিম খাচ্ছিল, তখন মৈত্রেয়র মার মোবাইলে এক অচেনা নম্বর থেকে ফোন। আর কে না জানে ঐ সময়ের ফোন মানেই ব্যাঙ্ক থেকে বিনা ইন্টারেস্টে ধার দেওয়ার লোভ দেখিয়ে ফোন। অথবা মে মাসের দুপুরে গোয়ার নির্জন সৈকতে চার দিনের ছুটি কাটিয়ে আসার নেমন্তন্নর ফোন। মৈত্রেয়র মাও অপেক্ষা করে থাকে এইসব ফোনের জন্য, চাট্টি গাল দিয়ে একটু হাল্কা হওয়ার ব্রেক পাওয়া যায় বলে। মৈত্রেয়র মা যেই না ফোন ধরে গলাটা বেশ খ্যারখেরে করে বলেছে ""হাউ ক্যান আই হেল্প ইউ?'' (বাংলায় পড়তে হবে ""কে রে ব্যাটা, আমাকে ফোন করার আস্পদ্দা করেচিস?'') ঐদিক থেকে একজন ভারি মোলায়েম গলায় বলে, সে নাকি আরসিবির কমিউনিটি ম্যানেজার। মৈত্রেয়র মা তখন শিকারের আশায় ছিল কিনা তাই আরসিবির ম্যানেজারের সঙ্গে আরবিআইয়ের ম্যানেজার গুলিয়ে ফেলে কয়েক সেকেন্ড ধরে খাবি খেতে থাকে, আজকাল রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ম্যানেজাররাও ধার দিতে চেয়ে ফোন করে নাকি ভেবে। খাবি খাওয়া মানে জাস্ট ভাষা হারিয়ে ফেলে কয়েক সেকেন্ড চুপ করে থাকে। মোলায়েম গলাটি আবার নিজের পরিচয় দিয়ে শুধোয়, মৈত্রেয়র মা মৈত্রেয়র হয়ে আরসিবিকে কোনো মেইল করেছিলেন কিনা। এইবারে মৈত্রেয়র মা নিজের ছেলের নামটা শুনেই বুঝতে পারে আরসিবি মানে কী। মৈত্রেয়র মা এবার উল্টে শুধোয় সেই মেইলে কী লেখা ছিল। মোলায়েম গলা একটু হকচকিয়ে ক্রসচেক করে, মৈত্রেয়র মা-বাবা কী মৈত্রেয়র হয়ে কোনো ছবি বা লেখা পাঠান নি আরসিবির কমিউনিটিতে! মৈত্রেয়র মা পষ্ট করে বলে দেয়, ""দেখুন, এইগুলো মৈত্রেয় নিজেই পাঠিয়েছে বলেই আমার ধারণা। কারণ আমি যদি জানতাম সে পড়া ফেলে আবার এইসবে মেতেছে, আমি ওকে মোটেই পাঠাতে দিতুম না।'' মোলায়েম গলা খুব একচোট হেসে নিয়ে জানায়, মৈত্রেয়র আরসিবির প্রতি ভালোবাসা এবং প্যাশন দেখে আরসিবি গোষ্ঠী মুগ্ধ এবং তারা ভারি খুশি তাদের সেই হপ্তার সবচেয়ে বড় সমর্থক হিসেবে মৈত্রেয়র নাম ঘোষণা করতে পেরে। তারা মৈত্রেয়কে পুরষ্কারস্বরূপ একটা হটএয়ারবেলুন রাইড দিতে চায় সেইদিনই বিকেলে। মৈত্রেয়র মা-বাবা যেন অতি অবশ্যই মৈত্রেয়কে নিয়ে বিকেল সাড়ে পাঁচটার সময় এমজিরোডের উপর অমুক মাঠে চলে আসেন। মৈত্রেয় বেলুন চড়ে চিন্নাস্বামী স্টেডিয়াম যাবে। মৈত্রেয়র মা ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে দেড়টা। চট করে হিসেব করে নেয় বাড়ি যাওয়া, বাড়ি গিয়ে ভদ্রভাবে চুল আঁচড়ে আবার মৈত্রেয়কে নিয়ে বেরিয়ে পড়া, অটো ধরে এমজি রোড পৌঁছানো সবটা কতটা সহজে সম্ভব। সবচেয়ে বড় কথা এমজিরোডের যে জায়গাটায় যেতে বলা হয়েছে, সেই জায়গাটার নাম মৈত্রেয়র মা দশ বছরের লুরুবাসেও কখনো শোনে নি। মৈত্রেয়র মা জনে জনে আশপাশের লোকদের শুধোতে থাকে অমুক মাঠটার নাম শুনেছিস কি, কেউ কোনো হদিশ দিতে পারে না। হুড়মুড়িয়ে ফোন করতে গিয়ে একটা কল দিয়ে ফেলে সায়নকে। তো সবাইয়েরই তো জানা আছে, সায়নবাবু কাজের থেকে অকাজই বেশি ভালোবাসেন, ঐজন্য তিনি অম্নি সাথে সাথে সেই মাঠের হদিশ, অক্ষাংশ, দ্রাঘিমাংশ সব বলে দ্যান মৈত্রেয়র মাকে।
    মৈত্রেয় আর তার মা যখন হাঁফাতে হাঁফাতে সেই মাঠে পৌঁছায়, তখন ঘড়িতে পাঁচটাপঁচিশ। গিয়ে দেখে আরসিবি এবং ডিএনএর কয়কজন সেখানে অপেক্ষা করছে। তারা মৈত্রেয়কে আলাদা করে ডেকে নিয়ে মিনি ইন্টারভিউ করে নিশ্চিন্ত হয়, ইনিই তিনি কিনা সেই ব্যাপারে। ইন্টারভিউয়ের পরে মৈত্রেয় তেতোমুখে মাকে এসে বলে, তার খুব রাগ হয়, যখন কেউ তাকে জিজ্ঞেস করে সে বড় হয়ে কী হতে চায়, আর এরাও সেই একই প্রশ্ন করেছে। আর সে বলে দিয়েছে, সে ক্রিকেটার হতে চায়। তারা নাকি তারপরেও শুধিয়েছে, যদি না হতে পার কোনো কারণে তাহলে কী করবে! মৈত্রেয়ও নাকি উত্তরে বলে দিয়েছে "বাট আই ক্যান অলওয়েজ লাভ ক্রিকেট"। মৈত্রেয়র মা এই কথা শুনে ফিক করে একটু হেসে ফেলে, বছর পনেরো বাদের ইন্টারভিউগুলোতে ছেলে নেহাৎ মন্দ করবে না ভেবে। যাই হোক, সায়নমামা আর আরো অনেক মামামাসিরা বারবার করে বলে দিয়েছিল ফটো চাই, তাই মৈত্রেয়র মাও ক্যামেরা অন করে এগিয়ে যায়। গিয়ে দেখে আরসিবির ফ্ল্যাগের বেলুনের কাপড় মাটিতে ফেলা, আর মেশিন দিয়ে সেই কাপড়টাকে ফোলানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। খানিকক্ষণ ধরে সেই দৃশ্যেরই ফটো তোলে মৈত্রেয়র মা, আর মৈত্রেয় বারবার এদিকওদিক দেখতে থাকে আর আশা করতে থাকে কখন বিরাট কোহলি, ক্রিস গেইল, ডিভিলিয়ার্সরা মাঠে ঢুকে তার সঙ্গে বেলুন চড়বে সেই আশায়। দেখা যায় বেলুনের মালিক এক সুন্দরী মহিলা। তিনি সমবেত সবাইকে জানিয়ে দেন, বেলুন এই মুহুর্তে উড়বে না কারণ হাওয়ার খুব দাপট। মৈত্রেয়র মা ঘড়ির দিকে তাকিয়ে শিউরে ওঠে, হাওয়া না থামলে যদি বেলুন না ওড়ে, তাহলে আর কতক্ষণ হাওয়ার থামার অপেক্ষায় বসে থাকতে হবে। এদিকে আবার বাড়ি ফিরে ভাত-ডালের পিন্ডি চাপানো-ও বাকি। মৈত্রেয় আর থাকতে না পেরে শুধিয়েই ফেলল, ক্রিকেটাররা কখন আসবে বেলুন চড়তে। সবাই খুব একচোট হেসে নিয়ে বলল, ক্রিকেটাররা মোটেই আসবে না বেলুন চড়তে, শুধু যারা বিগেস্ট ফ্যান অফ আরসিবি কন্টেস্টের উইনার তারাই এই বেলুনে চড়বে। মৈত্রেয়র শুকিয়ে যাওয়া মুখটা দেখে একজন মৈত্রেয়কে বলে, নিরাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই, মৈত্রেয় যেকটা রচনা পাঠিয়েছিল আরসিবিকে, তারা সেগুলো পাঠিয়েছে ক্রিস গেইল এবং অন্যান্য প্লেয়ারদের। মৈত্রেয় নিশ্চয়ই একদিন দেখতে পাবে প্লেয়ারদের কাছ থেকে। মৈত্রেয় গর্বভরে বলে "আই হ্যাভ অলরেডি মেট অ্যান্ড টকড টু বিরাট কোহলি লাস্ট ইয়ার। ইফ হি ইজ নট রেডি টু মিট মি দিস ইয়ার এগেইন, ডাজ নট ম্যাটার। ক্যান আই মিট গেইল?" (ঘটনা হচ্ছে, এই বছর, মানে গত বছর, মানে মৈত্রেয় যখন ক্লাস থ্রীতে পড়ত, তখন মৈত্রেয়দের ক্লাসে বসে যে কটা রচনা লিখতে হয়েছিল, তার একটা বাদ দিয়ে বাকি সব কটাতেই মৈত্রেয় কোনো না কোনো ভাবে গেইলের নাম উল্লেখ করে দিদিমণির কাছে বেশ বকুনি খেয়েছিলেন। এবং পাকামি করে তিনি সেগুলি আরসিবির কমিউনিটিতে পোস্টও করেছিলেন।)
    যাই হোক, কিছুক্ষণ বাদে জানা গেল হাওয়ার দাপট কমেছে এবং বেলুন এখন উড়তে পারে। আবার বেলুন ফোলানোর পর্ব চলল খানিকক্ষণ ধরে। মৈত্রেয়র মা দেখে বেলুনের যেখানটায় চড়তে হবে, সেটা একটা পাতি বেতের ঝাঁপি। মৈত্রেয়র সঙ্গে মৈত্রেয়র মাকেও চড়তে হবে কারণ মৈত্রেয়র বয়স এখন চোদ্দ বছর হয় নি। মৈত্রেয়র মা যখন হাঁচোড়পাঁচোর করে নিজের দেড়মণি শরীরটাকে সেই বেতের ঝাঁপিতে ঢোকানোর চেষ্টা করছিল, তখন মৈত্রেয়র মার বারবার সেই গোলমাল সিনেমায় দীনা পাঠকের জানলা দিয়ে গলে ঢোকার সীনটা মনে পড়ে যাচ্ছিল। যাই হোক, বেলুনে চড়ে আকাশ থেকে এমজিরোড দেখার স্মৃতিটা মোটেই সুখকর হয় নি মৈত্রেয় বা তার মায়ের কাছে। কারণ মৈত্রেয়র বেজায় গরম লাগছিল মাথার উপরের আগুনের হল্কায় আর মৈত্রেয়র মার ভয় করছিল বেলুন এই বুঝি কুপোকাত হল ভেবে। যাই হোক দিব্যি চিন্নাস্বামী দর্শন হল বেলুন চেপে।
    বাড়ি ফেরার সময়ে একজন মৈত্রেয়কে লোভ দেখিয়ে দিল "ওয়েট ফর দা রিয়াল গুড নিউজ" বলে।

    এই হল গিয়ে প্রথম পর্ব। পরে সময় করে ক্রিস গেইল দর্শনের পর্বও লিখে দেব।
  • h | ১৮ মে ২০১২ ২০:৪২4745
  • অর্পণ, থ্যাংক্স। পেয়েছি। ইন্দো আর দমুর ফুয়েন্তেস সম্পর্কে লেখা গুলো খুজছিলাম। থ্যাংক্স।
  • h | ১৮ মে ২০১২ ১৯:২৮4742
  • ১। এইখানে কোন লেখা খোঁজার কি উপায়?
    ২। পিডিএফ করা যায়? মানুষ কে যাতে পাঠানো যায়।
  • প্পন | ১৮ মে ২০১২ ১৯:১৮4741
  • হনু ব্যাক উইথ আ ব্যাং। (নো পান প্লিজ)

    ফুটপাথে ক্যাটওয়াক। হো হো হা হা।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত