এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  অন্যান্য

  • নবজাতকের বাসযোগ্য পৃথিবী ও নরওয়ে বৃত্তন্ত

    Debaprasad Bandyopadhyay
    অন্যান্য | ০৭ জানুয়ারি ২০১২ | ৮১৪৯২ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • 4z | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১২ ২০:১৮526859
  • খাট থেকে পড়ে এরকম চোট! কেসটা যেভাবে রিপোর্টেড হচ্ছে তার থেকে তো অনেক বেশি সিরিয়াস মনে হচ্ছে।
  • mita | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১২ ২০:২৩526860
  • খালি বাড়িতে বাচ্চা রেখে যাওয়ার মতন আর একটা ব্যাপার হল খালি গাড়িতে বাচ্চা রেখে যাওয়া। Equally, if not more harmful.
  • dukhe | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১২ ২০:৩৮526861
  • আমার কেমন মনে হচ্ছে এই দম্পতি হয়তো নরওয়ের গল্প শুনে নিজেরা আলোচনা করেছিলেন - যাক বাবা - এখানে এমন হয়টয় না। নিজেদের না হওয়া অবধি এগুলো বিশ্বাস করাও কঠিন।
    আমার মেয়ে পড়েছিল রাত্রিবেলা আমার আর ভাইয়ের মাঝখানে ঘুমোতে ঘুমোতে। ওপর দিকে উঠতে উঠতে মাথা নিচে করে পড়ে গিয়েছিল। কপাল ভালো যে কিছু হয়নি। আর কপাল ভালো যে দেশে আছি।
  • pi | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১২ ২০:৪০526862
  • মিতাদির পরিচিতের কেসের মত হলে সাপোর্ট গ্রুপ না থাকলে তো খুব মুশকিল।
  • mita | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১২ ২১:১৪526863
  • ঠিক, তবে এই কেস এ শুধু সাপোর্ট গ্রূপ কিচ্ছু করতে পারতো না যদি ব্যাপারটায় সিরিয়স ফিজিকাল ড্যামেজ হত। এটা খূব ই মাইনর, হাসপাতালের ডাক্তার সেটা ভেরিফাই করতে পেরেছিলেন, আমাদের ডাক্তার বন্ধুরা সাথে ছিলেন, কিন্তু ultimately the hosptial's doctor was the one who had to confirm the extent of physical damage. And later the baby's pediatrician's report also helped. আবাপ এ যেটা রিপোর্ট করেছে সেটা শুনে অনেক, অনেক বেশি সিরিয়স মনে হচ্চে। তবে ঐ মা-বাবার সাথে কারো জানা শোনা থাকলে ভালো হত, হয়্ত ওঁদের ঠিক advise দিতে পারতেন।

    আমি এটা ই বলতে চাইছি যে এখানে একটা process follow করে, যার জন্যে হাসপাতাল বা প্যারামেডিক রা এইরকম রিপোর্ট করতে পারে। They have a set standard for reporting abuse.
  • dukhe | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১২ ২১:৩৪526864
  • নিজেদের মত ইন্টারপ্রিট করার স্ট্যান্ডার্ড প্রসেস ?
  • a x | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১২ ২১:৫৫526865
  • সত্যি বলতে কি মা যদি ফোনের গল্প বন্ধ করার সময় না পেয়ে টেনে বাচ্চার হাত ডিসলোকেট করে, সেখানে আমার কোনো সহানুভূতি থাকেনা। নেগলেক্টও এক ধরণের অ্যাবিউস। বরঞ্চ খাট থেকে পড়ে যাওয়া আরো কমন ঘটনা। আমার অবাক লাগছে কীভাবে পড়ে গেলে সারজারি করার মত অবস্থা হয়।
  • san | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১২ ২১:৫৮526866
  • বিবিদা এবং অক্ষদিকে ক।
  • a x | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১২ ২২:০৬526867
  • আমি একা বাচ্চাকে প্রথম এক বছর দেখেছি। একটা পরিচিত চেনা লোক বা সেরকম বন্ধু ছিলনা। কোনো পক্ষের বাবা মা-ও ছিলনা। লন্ড্রি করতে একই ফ্লোরে কটা অ্যাপার্ট্মেন্ট বাদে যেতাম। খুব রাতে ক্রীবে শুইয়ে যেতাম। আরো বড় হলে পেরাম্বুলেটরে বসিয়ে একহাতে সেটা ঠেলে অন্যহাতে কোনোরকমে লন্ড্রি বাস্কেট টেনে টেনে নিয়ে যেতাম। অসুখ বিসুখ করলে অসুস্থ বাচ্চাকে নিয়েই ওষুধ কিনতে যেতে হত। বাচ্চাকে এক সেকেন্ডের জন্যও ঐরকম উঁচু জায়গায় বা জানলার কাছে একা যে রাখা যায়না, এগুলো পই পই করে হাসপাতাল/ডাক্তার বলে দেয়। কিচ্ছু করার নেই। it happens only once.
  • bb | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১২ ২২:০৭526870
  • দুখে আপনি কি করে জানলেন যে মা সেই সময় বাচ্চা কে রেখে ভারতে ফোন করছিলেন না? বা তাকে রেখে রান্না ঘরে রান্না করতে গিয়েছিলেন না।
    আমরা এই ব্যাপারগুলি ক্যাসুয়ালি নিয়ে থাকি।
    উন্নত দেশের অনেক সুযোগ নিতে হলে তাদের নিয়ম ও মানতে হবে- এটা আমি বিশ্বাস।
    এই কয়েকদিন আগেই আমরা শুনেছি ফোন ধরতে গিয়ে অটো থেকে পড়ে বাচ্চার কি অব্স্থা হয়েছে। আর এক্ষেত্রে আঘাত গুরুতর তাই আমি অত সাধারণ ভাবে নিতে পারছি না।(আমার ভুল হতেই পারে এবং সেটা হলে আমিই খুশি হব)।
  • aka | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১২ ২২:১৬526871
  • ঐজন্যই ক্রিব রেকমেন্ড করে। আমার এক ক্লায়েন্ট মেয়ে অ্যাডপ্ট করার কথা ভাবছিল। তার বাড়িতে যা চেক হয়েছে সে অবিশ্বাস্য। প্রতিটা ইলেকট্রিক আউটলেটে সেফটি লক বসাতে হয়েছিল। রান্নাঘরে যাবার জায়গায় বেড়া, ওরা যেহেতু বড় বাড়িতে থাকত তাই জানলায় সেফটি নেট ইত্যাদি।

    ক্রিবের ব্যবহার করতে বলে যাতে বাচ্ছারা পড়ে না যায়। বাবা মার সাথে শুতে বারণ করে SIDS এড়াতে। বাপ মার দিক থেকে দেখলে অসুবিধা, বাচ্ছার দিক থেকে দেখলে সেফটি।
  • aka | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১২ ২২:১৯526872
  • ময়ের দেওয়া ঘটনাগুলোর প্রথমটি আমার আগের কোম্পানির এমপ্লয়ীর। অতএব এই ঘটনাটি পুরোটাই জানি। কোম্পানি প্রচূর ব্যাক করেছিল। অ্যাবসলিউট ক্যালাসনেস। বহুতল বাড়ির জানলার কাছে ছোট মেয়েকে নিয়ে খেলা মূর্খামি, ক্যাবলামো। আমাদের দেশে হলে হয়ত আহারে বাবা মা বলে ছাড় পেত। কিন্তু এখানে বাচ্ছাটির মৃত্যু হল সেটা অনেক বেশি ইম্পর্ট্যান্ট।
  • mita | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১২ ২২:৪৭526873
  • অক্ষ, মা কে না চিনলে বা ফ্যামিলি টাকে না জানলে আমার ও হয়ত মনে হত habitual neglect.
  • pi | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১২ ২৩:৫০526874
  • বিদেশে খুব গরীব ঘরে কীভাবে কী হয় ?
    সেখানে তো বাচ্চার সাথে গরিবীর কারণে বাধ্য হয়েই অনেক কিছু হতে পারে যা অ্যাবিউজ না হোক, অযত্নের পর্যায়ে পড়বে। আমাদের দেশের পথশিশুর তুলনায় বিদেশের গরীব ঘরের বাচ্চারা ভাল থাকলেও কতটা ভাল ?
    এটা নিয়ে বিশেষ জানা নেই বলে জানতে চাইছি।
  • প্পন | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১২ ২৩:৫৯526876
  • * আলাদা
  • প্পন | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১২ ২৩:৫৯526875
  • ইউকেতে আমাদের মেয়েকে আলাদা শোয়ানোর কথা কিন্তু কেউ বলেনি। অবশ্য মিডওয়াইফ এসে আমাদের টু বেডরুম দেখে বোধহয় কিছু বলেনি তাও হতে পারে।

    আমাদের ক্রিব ছিল না। কিনব ভেবেছিলাম কিন্তু মেয়ে অনেকদিন (তা প্রায় মাস ছয়-সাত তো হবেই) মাকে ছাড়া ঘুমোতে পারত না। এমনকী মা হাত ছেড়ে দিলেই ঘুম ভেঙে উঠে কাঁদত। সকালে মিটিন মিছিল থাকত বলে আমি অন্য ঘরে শুতাম।

    এতসব কথা লিখলাম কারণ বা/মায়ের শরীরের চাপে SIDS-এর ঘটার সম্ভাবনা কি অনেক বেশি? ভারতেও কি তাই যেখানে শিশুকে অলাদা শোয়ানো এখনো জেনেরাল প্র্যাকটিস নয়?
  • প্পন | ১০ সেপ্টেম্বর ২০১২ ০০:০৩526877
  • মানে ভারত নিয়ে প্রশ্নটা ছিল যে এইখানে ওই কারণে রেকর্ডেড ইনফ্যান্ট ডেথের সংখ্যা কি খুব বেশি?
  • riddhi | ১০ সেপ্টেম্বর ২০১২ ০০:৪৪526878
  • অদ্ভুত ব্যপারটা হল আমেরিকায় পলিসি হিসেবে বেড-শেয়ারি` এর বিরুদ্ধে রিকমেন্দ করছে, ওদিকে সেই পলিসি পেপারে এই রেকোর জন্য যে এপিডেমিওলজিক পেপার সাইট করছে, সেখানে অন্য কথা বলছে। আমি তিন চাঅরটে পেপার দেখলাম, (ওদেরি সাইট করা)। মায়েদের মদ খাওয়া, বাপ-মায়ের স্মোক করা, বাপ-মা ছাঅড়া অন্য়্দের সাথে বেড শেয়ার করা, এই ফ্যাকটর গুলো এডযাস্ট করলে বেড শেয়ারিং এর কোন রিস্ক থাকছে না। এটাও দেখলাম মাল ও স্মোকিং ওয়েস্টার্ন কালচারে বেশী বলে সেটা একটা ফ্যাকটার।
    We found no increase in risk for older infants who share the parents' bed, infants of parents who do not smoke, or when the infant is returned to his or her cot. In the more restricted model, which incorporated factors for which there was an a priori expectation of their potential effects on the sleep environment, the independent significance of sharing the bed at the end of sleep disappeared. This result suggests that the risk of death may be associated with other potentially modifiable adverse conditions rather than the practice of bed sharing itself। এই পেপারটাই আবার সাইট করছে পলিসি পেপারে!

    In certain Asian cultures, however, where particular forms of mother-infant cosleeping are common such as in Japan and Hong Kong,the rates of cot death are low, corresponding to findings in the Bangladeshi and Asian communities in the United Kingdom and the Pacific Island communities in New Zealand.
    ইন্ডিয়াতে এস-আই-ডি-এস নিয়ে মেডিকাল বোর্ড নানা জিনিস রেকো করছে স্লিপিং পজিশন ইত্যাদি, কিন্তু মা কে ছেড়ে অন্য খাটে শোয়া নয়।
  • a x | ১০ সেপ্টেম্বর ২০১২ ০১:৫৪526879
  • না, কো-স্লিপিং অনেকেই রেকমেন্ড করে আজকাল। ইনফ্যাক্ট এটা নিয়ে বেশ কিছু জনতা খুবই সোচ্চার। আমি নিজে জানিনা কোনোটাতে বিশেষ কোনো বেনেফিট বা ক্ষতি আছে কিনা। নিজের ধারণা, স্রেফ অভিজ্ঞতা ও এদিক ওদিক দেখে ধারণা কো-স্লিপিং এবং একা শোয়া দুইএরই ভালো ও মন্দ দিক আছে।।

    পাই, এইজন্য চার্চের এত রমরমা। সাধারণত খুব গরীব হলেও চার্চের থ্রুতে বা কোনো একটা কম্যুনিটির কানেকশনে ক্রিব ইত্যাদি জুটে যায়, এছাড়া গুডউইল বা থ্রিফট স্টোরে সস্তায় পাওয়া যায়।

    কিন্তু অবভিয়াসলি সিঙ্গল মাদার বাচ্চাকে গাড়িতে রেখে কাজ করতে গেছে, এসে দেখে গরমে বাচ্চা মারা গেছে, এরকম ঘটনার সংখ্যাও কম না। আমার মেয়ে হবার পরে কি দেখেচিলাম ডে-কেয়ার সংক্রান্ত পরে লিখব। সেগ্রেগেশন কিভাবে হয় একেবারে শুরু থেকে না দেখলে বোঝা সম্ভব না।
  • aka | ১০ সেপ্টেম্বর ২০১২ ০৭:১৮526881
  • একসাথে শুলে SIDS বাড়ে না কমে জানি না। ডাক্তার বলেছিল তখন। তাও সেও অনেকদিন আগের কথা হল। এখন হয়ত অন্য রেকো। মোদ্দা কথা হল এখানে বাচ্ছার পালনের যা নিয়ম বীধি আছে সেগুলো মানতে হবে। দেশীয় কালচার দিয়ে নিয়ম এক্সপ্লেইন করতে গেলে চাপ হবে। ক্রিবের সুবিধা হল, ওতে পড়ার কোন চান্সই নেই।

    কথায় কথায় মনে পড়ল, ছেলে ক্যালিফোর্নিয়ায় একবার চেয়ার থেকে পড়ে গিয়েছিল, ঐ তিনফুটই হবে। তাও শক্ত মেঝেতে, রান্নাঘরের কিছুটা জায়গায় কার্পেট ছিল না। ডাক্তারকে ফোন করায় সে বলেছিল চিন্তার কিছু নেই ঐটুকুতে কিছু হবে না। কিছু হয়ও নি।
  • প্পন | ১০ সেপ্টেম্বর ২০১২ ০৮:৫৮526882
  • তিনফুট থেকে কার্পেটের উপর পড়লে তেমন কিছু হয় না। মেয়ে পাশ ফিরতে শেখার পরে ২-৩ বার পড়েছিল।
  • Hatem | ১০ সেপ্টেম্বর ২০১২ ১০:২৩526883
  • আম্রিগাতে ঋক হওয়ার আগে SIDS নিয়ে জ্ঞান দিয়েছিলো, কিন্তু যদ্দুর মনে পড়ছে এও বলেছিলো যে ওটা ওই ড্রিঙ্কিং হ্যাবিট থাকলেই বেশি বড় ফ্যাক্টর হয়। ঋতির সময় ক্রিব কেনা হয়েছিলো - তো তিনি কখনো সেটাতে শুতে পছন্দই করতেন না।

    তবে এইগুলো পড়ি আর ঋকের পা পুড়ে যাওয়া আর ঋতির হাত পুড়ে যাওয়ার ঘটনাগুলো মনে পড়ে...
  • dukhe | ১০ সেপ্টেম্বর ২০১২ ১০:৫১526884
  • ফোন ধরতে গিয়ে অটো থেকে পড়েনি। উটি অটো ইউনিয়নের পেশ করা গল্প।
    সিস্টেমে অচলা আস্থা রাখার অভ্যেস নেই বলে বাবা মা কে প্রথমেই ক্যালাস, নেগলিজেন্ট বলে দাগিয়ে দিতে পারি না। বাচ্চাকে আছাড়বিহীন বড় করার বাধকতা হাস্যকর লাগে।
  • কল্লোল | ১০ সেপ্টেম্বর ২০১২ ১১:৪৫526885
  • আমার একটা কথা মাথায় এলো। যারা এখন পচ্চিমে থাকো, তারা নিজেদের বাচ্চাবেলার দুর্ঘটনার কথা লেখো। তাতে আজ তোমাদের কি মনে হয়, সেটাও লেখো।
    গোটা ব্যাপারটা সংষ্কৃতির ফারাক। বাচ্চা "মানুষ করা" নিয়ে ভারতীয় (বা প্রাচ্য) ধারনার সাথে পাশ্চাত্যের ধারনার বিরোধ।
    যেখানে আছি সেখানকার আইন তো মানতেই হবে।
  • aka | ১০ সেপ্টেম্বর ২০১২ ১৮:২৮526886
  • বাচ্ছাকে আছাড়বিহীন ভাবে বড় করা আর এমন আছাড় খেল যাতে প্রাণসংশয় হবার আশঙ্কা আছে দুয়ের মধ্যে বড়সড় মোটা লাইন আছে। অ্যাক্সিডেন্ট আর নেগলিজেন্সের মধ্যেও আছে। ডেভলপড স্টেটে, এক্ষেত্রে বাচ্ছাকেও স্টেটের নাগরিক ধরে নিয়ে স্টেট তদন্ত করে দেখে অ্যাক্সিডেন্ট নাকি অ্যাবিউজ নাকি নেগলিজেন্স।
  • rimi | ১০ সেপ্টেম্বর ২০১২ ১৮:৩৪526887
  • দুখেদা, আছাড়বিহীন বড় করা আর মৃত্যু বা প্রতিবন্ধীতার দিকে ঠেলে দেওয়া তো এক ব্যপার নয়।
    ম যে ঘটনাটার কথা লিখেছে, ভেবে দেখো, বাচ্চাটি একেবারে মারাই গেল বাবা মার ভয়ংকর ভুলের জন্যে।
    আমার অসতর্কতার কারণে দুর্ঘটনা ঘটে আমার ছেলের জীবন সংশয় হলে আমি তো নিজেই নিজেকে কোনোদিন ক্ষমা করতে পারতাম না।

    আমার ছেলের দশ এগারো মাস বয়সে সে ঐ ফুট তিনেক উঁচু খাবার টেবিল (চেয়ার থেকে নয়) থেকে রান্নাঘরের মেঝেতে পড়ে গেছিল। ঐখানটা ছিল শক্ত মেঝে, কার্পেট এরিয়া নয়। আমিই তাকে টেবিলে বসিয়ে দু মিনিটের জন্যে ফ্রিজ থেকে খাবার বের করতে গেছিলাম। ভেবেছিলাম ঐটুকু সময়ের মধ্যে কিছু হবে না। কিন্তু ছেলে ঐটুকু সময়ের মধ্যেই পড়ল, আমার চোখের সামনে, একদম সোজা মাথা নিচের দিকে করে। মাথাটা শক্ত মেঝেতে ঠুকে গেল। তারপরে প্রায় ঘন্টাখানেক আমার নিজের স্বাভাবিক হতে। ডাক্তারকে ফোন করলাম, ডাক্তার অবশ্য দিব্বি ক্যাজুয়ালি বললেন যে ঐরকম উঁচু থেকে পড়লে বিশেষ কিছু ইনজুরি হবার কথা নয়, বল্লেন নজর রাখতে যে বাচ্চা নেতিয়ে পড়ছে কি না। নেতিয়ে পড়লে সাথে সাথে কল করতে। বলা বাহুল্য সেরকম কিছু হয় নি।

    তবে আমার বিরাট শিক্ষা হয়েছিল। তারপর থেকে ঐরকম "দুমিনিটের মধ্যে কি আর হবে" জাতীয় চিন্তা আর করি নি।

    সেদিন যদি আমার ছেলের মাথায় ব্লাড ক্লট করে জীবন সংশয় হত? আমেরিকায় থাকলে ইনভেস্টিগেশন হত, আর ভারতে থাকলে লোকে বলত "ভাগ্যে ছিল, কি করা যাবে?"

    কিন্তু বাচ্চার পার্স্পেক্টিভ থেকে ব্যপারটা একই থাকত।

    আর হ্যাঁ, আমেরিকাতে কিন্তু আদৌ আছাড়বিহীন ভাবে বড় করাটা সমর্থন করা হয় না। একটা কথাই আছে এখানে "blessings of the scratched knee"।
    কিন্তু প্রাণ সংশয় হবার মতন আঘাত হলে, মা বাবাকে জবাবদিহি করতেই হবে। দায়িত্ব যখন বাবা মার।
  • dukhe | ১০ সেপ্টেম্বর ২০১২ ২১:৩২526888
  • এটা আমাদের স্ট্যান্ডার্ড প্র্যাকটিস। যার ক্ষতি, তাকেই ভিক্টিমাইজ করা।
    অটো কেন বাচ্চাকে হিঁচড়ে নিয়ে গেল?
    - ওর মা তো ফোন ধরছিল, বাচ্চা সামলায়নি।
    তাপসী কেন মারা গেল ?
    - ওর বাড়ির লোক জ্বালিয়ে দিয়েছে।
    ধর্ষণের কারণ কী?
    - ওর চরিত্র ভালো না।

    বাচ্চার ক্ষতিতে বাবা মার চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কেউ হন বলে মনে করি না। বাচ্চা চোট পেয়েছে এই অজুহাতে এক বছরের শিশুকে মায়ের দুধ থেকে বঞ্চিত হতে দেখলেও খারাপ লাগে।

    অবশ্য, সন্তানস্নেহ - কে জানে - হয়তো এক অনাধুনিক ধারণামাত্র।
  • dukhe | ১০ সেপ্টেম্বর ২০১২ ২১:৩৬526889
  • কথাটা বোধহয় ভিক্টিমাইজ না, চরিত্রহনন।
  • san | ১০ সেপ্টেম্বর ২০১২ ২১:৫৩526890
  • এই প্রসঙ্গে না। ইন জেনারাল। বাচ্চার ক্ষতিতে সবচেয়ে ক্ষতি বাচ্চার নিজের হয়। বাবামায়ের না। এবং অনেক বাবামাকে ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় বাচ্চার বিবিধ ক্ষতি করতে দেখেছি ও দেখি, যাতে তাঁরা লজ্জিত হওয়া দূরে থাক নিজের ইগোকে বাচ্চার লাভক্ষতির ঊর্ধ্বে স্থান দিতে কুন্ঠিত হন না।

    বাবা মা মাত্রেই কিছু আকাশ থেকে খসে পড়া দেবদেবী নন।
  • san | ১০ সেপ্টেম্বর ২০১২ ২১:৫৫526892
  • আমি শুধু কয়েক মাসের বাচ্চার কথা বলছিনা অবশ্য। পাঁচ মাস, পাঁচ বছর, দশ বছর এমনকি পনেরো বছরের 'বাচ্চার' কথা।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। মন শক্ত করে মতামত দিন