এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  অন্যান্য

  • তিব্বত নিয়ে

    Arijit
    অন্যান্য | ২০ মার্চ ২০০৮ | ১০৬৫০ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Arijit | ২০ মার্চ ২০০৮ ১৫:২৯397644
  • তিব্বত নিয়ে সাধারণত: একটা ইউনিডাইমেনশনাল ধারনা প্রচলিত - হয় চীন ডাকাত এবং দলাই লামা ভগবান, নয় চীন ভগবান। এই নিয়ে কিছু খোলামেলা আলোচনার দরকার আছে। তার বেজলাইন হিসেবে একটা লিংক দিলাম - ফ্রেণ্ডলি ফিউডালিজম - http://www.michaelparenti.org/Tibet.html

    এবার শুরু হোক। দলাই লামার ফিউডাল ডিক্টেটরশিপের চেয়ে সম্ভবত: (কথাটা খেয়াল করবেন) চীনের শাসন ভালো - কিন্তু চীন পদ্ধতি এবং অ্যাপ্রোচ? দলাই লামাকে কি ক্লীনচিট দেওয়া যায়? ভারতের কোনো স্বার্থ আছে? তাছাড়া লামা বিতর্ক - সেই একজন যে পালিয়ে এলো...লামা সিস্টেমটার মধ্যে ঘাপলা তো আছেই...
  • Arijit | ২০ মার্চ ২০০৮ ১৫:৩৫397687
  • এন রামের একটা আর্টিকল হিন্দুতে বেরিয়েছিলো - সেটা এখন খুঁজে পাচ্ছি না। পেলে দিয়ে দেবো। সেটা অবশ্যই প্রশ্নের ঊর্দ্ধে নয়। কিন্তু ভালো। আর কারো কাছে ওটার লিংক থাকলে দিয়ে দাও না।
  • Blank | ২০ মার্চ ২০০৮ ১৬:০৮397709
  • এই N. Ram ভদ্রলোক কে আসলে?
  • r | ২০ মার্চ ২০০৮ ১৯:২৮397720
  • তিব্বত নিয়ে একটাই প্রশ্ন: রাষ্ট্র হিসেবে ঐতিহাসিকভাবে তিব্বত ও চীনের কি সম্পর্ক? অর্থাৎ, তিব্বত চীনের অংশ ছিল কি ছিল না ইত্যাদি ইত্যাদি। কঠিন প্রশ্ন, কিন্তু ওটাই মূল সূত্র।

    যদি এরকম হয় যে তিব্বত ঐতিহাসিকভাবে চীনের থেকে পৃথক একটি জাতিগোষ্ঠী/জাতিরাষ্ট্র/রাজনৈতিক সত্তা, তাহলে লামার শাসন ভালো না চীনের শাসন ভালো এই প্রশ্নটাই ওঠে না। তাহলে প্রশ্ন করতে হয়, ইরাকে সাদ্দামের শাসন ভালো না বুশের শাসন ভালো।
  • Ishan | ২০ মার্চ ২০০৮ ২১:০৬397731
  • তিব্বতের ইতিহাস নিয়ে সামান্যই জানা আছে। কিন্তু সেটা যাই হোক, জাতিসত্বার প্রশ্নে ইতিহাসটা মোটেও সূত্র না।

    যেমন, ইতিহাসগতভাবে দেখলে উত্তরভারত-বাংলাদেশ-পাকিস্তান একই ছাতার তলায় থাকা উচিত। আর দাক্ষিণাত্যের জন্য থাকা উচিত আলাদা ছাতা। বাস্তবে সেরকম হয়নি। সে নিয়ে জনতার ক্ষোভ টোভও নেই তেমন।

    বাংলা কথা হচ্ছে, একটি জনগোষ্ঠী নিজেকে আলাদা জাতি ভাবছে, আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার চাইছে। কারণ এক হাজার এক টা থাকতে পারে। কিন্তু চাইলে তাকে অধিকার দেওয়া হোক। সে বাংলাদেশে হোক, কাশ্মীরে হোক, চেচেনিয়ায় হোক, কি তিব্বতে।
  • r | ২০ মার্চ ২০০৮ ২১:১৫397742
  • অধিকার দেওয়ার আগে তো দেখতে হবে এটা আত্মনিয়ন্ত্রণের প্রশ্ন না সাম্রাজ্যবাদ থেকে স্বাধীনতার প্রশ্ন। দুটোর মধ্যে তফাৎ আছে- যেমন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন আর গোর্খাল্যান্ডের আত্মনিয়ন্ত্রণের আন্দোলনের মধ্যে তফাৎ আছে।

    কিন্তু ঐ দাক্ষিণাত্য এক ছাতায় আর বাংলা-উত্তর ভারত এক ছাতায় বোঝা গেল না। হাউ আর ইউ ডিফাইনিং ছাতাজ?
  • arjo | ২০ মার্চ ২০০৮ ২১:২১397753
  • কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে সত্যিই কি জনগোষ্ঠী ভাবছে? নাকি লামারা ভাবাচ্ছে? সেক্ষেত্রে লামাতন্ত্র কেমন সেই প্রশ্ন উঠবেই। বাঙলাদেশ তো ভারতের মধ্যেই থাকা উচিত ছিল। বাই অল মিনস বঙ্গভঙ্গ জোর করে। তিব্বতের কালচার চীনের থেকে আলাদা একমাত্র লামাতন্ত্রে। অবশ্য জানা নেই জনগণের মনে কি আছে এতদুর থেকে জানা সম্ভব ও নয়।
  • Ishan | ২০ মার্চ ২০০৮ ২১:২৩397764
  • প্রথম পয়েন্টটা ইন্টারেস্টিং। এভাবে ভাবিনি কখনও। ঠিক কথা, স্বাধীনতা চাইলেই এক জাতিসত্বা নাই হতে পারে। সবচেয়ে বড়ো উদাহরণ মনে হয় ভারত।

    উত্তর-দক্ষিণর বিভাজনের কথাটা লুজলি বলা। ওভাবে জাতিসত্বা ডিফাইন করা যায়না। একটা জাতিগোষ্ঠী যখন নিজেদের "আমরা' বলে ভাবতে শুরু করে, তখন তারা "আমাদের' ইতিহাস লেখে। নিজের সঙ্গে অন্যদের পার্থক্য খুঁজে বার করে। আর নিজেদের "আমরা' না ভাবলে, বৃহত্তর কোনো কোনো "আমরা'র অঙ্গ হয়ে যায়। তখনকার স্লোগান হয় "বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য'। :) পুরোটাই বর্তমানের খেলা। ওর সঙ্গে সুদূর অতীতের বিশেষ সম্পক্কো নাই।
  • r | ২০ মার্চ ২০০৮ ২১:৩০397645
  • সুদূর অতীতের নাই, অতীতের আছে। ইজরায়েল-প্যালেস্টাইন ইস্যুতেও আছে, ভারত-পাক-কাশ্মীর ইস্যুতেও আছে বা চীন-তিব্বত ইস্যুতেও আছে। ইতিহাস না দেখলে মনে হবে ইজরায়েল-প্যালেস্টাইন হল একটি ইহুদী ও একটি আরব দেশের জমির লড়াই। কিন্তুক ব্যাপার তো তা নয়!
  • Ishan | ২০ মার্চ ২০০৮ ২১:৩১397667
  • অজ্জো, "সত্যিই" ভাবছে না কেউ ভাবাচ্ছে, এটা, এই পৃথিবীর কোনো ক্ষেত্রেই জানার কোনো উপায় নেই। ছেলে বাপ-মায়ের চাপে পড়ে ইশকুলে যায়, নাকি ইশকুলে যেতে ভালোবাসে, এটা যেমন জানা যাবেনা। :)

    কথাটা হল, চিনে সরকার অনেকদিন তো সময় পেল তিব্বতিদের নিজেদের মতো করে ভাবাবার। এবার দেখা যাক না তিব্বতিরা নিজেদের ইচ্ছায় (অথবা লামার প্ররোচনায়) কি ভাবছে। সে ভাবা সুইসাইডাল হতেই পারে। হলে নিজেরা বুঝবে।
  • bhabuk | ২০ মার্চ ২০০৮ ২১:৩১397656
  • N Ram এর লেখাটা'র সাথে রাম গুহ র লেখটা ও থাক।
    এ গিয়ে archives এ যান। লেখাটার নাম - Big Brother Fascination প্রকাশের তারিখ - সেপ্টেম্বর ৮, ২০০০।

    আর N Ram হ'লেন The HindurEditor-in-chief
  • Ishan | ২০ মার্চ ২০০৮ ২১:৩৩397678
  • র, নিকট অতীতে তিব্বত তো চিনের অংশই ছিল। দেখাই যাচ্ছে। :)
  • r | ২০ মার্চ ২০০৮ ২১:৪৫397681
  • নিকট অতীতে গাজা স্ট্রিপ, গোলান হাইট্‌স্‌ ইত্যাদিও ইজরায়েলের দখলে ছিল- দেখাই যাচ্ছে। :-)
  • arjo | ২০ মার্চ ২০০৮ ২১:৪৬397682
  • এক্ষেত্রে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা খুবই উল্লেখযোগ্য। ঐতিহাসিক ভাবে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ক্ষমতা চায়। র এর কথার সূত্র ধরে সাম্রাজ্যবাদ থেকে আলাদা হওয়া নয় বরং অত্মনিয়ন্ত্রন ই মুল উদ্দ্যেশ্য। দলাই লামা কখনোই অর্থনৈতিক স্বাধীনতা চাননি। লক্ষ্য করুন দলাই লামা তিব্বত নয় মানে জনগণ কি চাইছে সেটা জানা নেই। আর কখনো ইম্পর্ট্যান্ট ও হয়ে ওঠে নি। যদিও জানার উপায় নেই কিন্তু কিছু কিছু ইন্ডিকেশন অবশ্যই আছে যে এই আন্দোলন আত্মনিয়ন্ত্রণের।
  • r | ২০ মার্চ ২০০৮ ২১:৫৭397684
  • মোদ্দা কথা চীন-তিব্বতের ইতিহাস না জেনে ফুট কেটে লাভ নেই, আর এখন চীন-তিব্বতের ইতিহাস পড়ার সময় নেই। :-)
  • d | ২০ মার্চ ২০০৮ ২১:৫৭397683
  • হিউয়েন সাং'য়ের বিবরণে "মো লো পো'র কথা আছে। কানিংহামের অনুমান এটা পশ্চিম তিব্বত। অনেকে অবশ্য বলেন ভারতবর্ষের "মালব্য'ই হল "মো লো পো'। তবে শুনেছিলাম এইবিষয়ে নাকি কোন স্থিরসিদ্ধান্তে আসা যায় নি। তো, যদি পশ্চিম তিব্বতই হয়ে থাকে, তাহলে এই অংশটা তাং রাজত্বের কালে চীনের অধীনে যায়।

    নেটে ইতিহাস খুঁজে এইটা পেলাম।
    http://cc.purdue.edu/~wtv/tibet/history.html#iif10
  • ranjan roy | ২০ মার্চ ২০০৮ ২২:০৫397685
  • r,
    ঈশানের ""পৃথক জাতিসত্তা হিসেবে নিজেদের ভাবতে শুরু করা'' কথাটার ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছি। ইতিহাসের সাক্ষ্য নিয়ে কোন দেশের রাজনৈতিক সীমারেখা কি অজর-অনড় হয়ে থাকে?
    তাহলে ভারত--পাকিস্তান--বাংলাদেশ এর বারংবার বদলাতে থাকা সীমানাকে কি করে বৈধ ভাববো? ইউরোপের উদাহরণ নাই তুললাম। সাম্প্রতিক কালের ইরিত্রিয়া? ইস্ট টিমর?
    ঠিক আছে, ভারতেই ফিরে আসি। সিকিম? বা লংকার তামিলদের পৃথক রাজ্যের আন্দোলন? বা কাশ্মীর, বা নাগাল্যান্ড-মনিপুরের লড়াই? মনোরমার দেশে ভারতীয় ফৌজ আর তিব্বতে চীনাফৌজ---- দুটোর ব্যবহার প্রায় একরকম নয়?
    আমার এই বুড়ো বয়সে মনে হচ্ছে--রঙ্গন যেমন বলছে-- লেনিনিস্ট ঐ ম্যাক্সিম, অর্থাৎ ন্যাশনাল লিবারেশনের সংগ্রামকে দরাজ হাতে সর্টিফিকেট না দিয়ে আগে দেখতে হবে যে ওটা বৃহত্তর সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আন্দোলনের অংশ, নাকি কোন জাতিসত্তার আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার নিয়ে লড়াই( পেছন থেকে কোন প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির ওস্কানো)----এটা বেশ চাপের ব্যাপার।
    কারণ এটা মাপার কোন নিরপেক্ষ প্যারামিটার নেই।
    আর আমাদের স্ট্যান্ডপয়েন্ট ডীমান্ড করে কন্‌সিস্টেন্সি।
    তিব্বতে চীনের বিরোধিতা করলে একই সঙ্গে কাশ্মীরে, নাগাল্যান্ডে, মনিপুরে ভারতরাষ্ট্রের বিরোধিতা করা
    লজিক্যাল করোলারি।
  • Ishan | ২০ মার্চ ২০০৮ ২২:০৬397686
  • সেই কথাই তো বলছি। রাজনৈতিক দখলদারির গল্প, মানে কে কোথায় কার অধীনে ছিল, সে ইতিহাস দিয়ে বিশেষ কাজ নাই। ইউক্রেন যেমন। বহু বহু দিন ধরে রাশিয়ার অংশ ছিল। রুশ বিপ্লবে ওডেসার শ্রমিকদের ভূমিকা অস্বীকার করা যাবেনা। এক-জাতি এক-প্রাণ। কিন্তু তাও ইউক্রেন আলাদা হল। সেটা মূলত: রাশিয়ার দাদাগিরির বিরুদ্ধে উত্থান। এর সঙ্গে ইউক্রেনের অতীতের লিংকটা খুব দুর্বল।

    একই গল্প বাংলাদেশের। খুব হইচই করে পাকিস্তান হল। ক বছর পরেই বাংঅলাদেশী জাতিসত্বা চাগিয়ে উঠল। ভারতেও হিন্দির আগ্রাসন যথেষ্ট। কিন্তু ভারতীয় বাঙালিরা খুবই ভারতানুরাগী। এখানেও অতীতের খুব বেশি ভূমিকা নেই।
  • Ishan | ২০ মার্চ ২০০৮ ২২:১০397688
  • আগের পোস্টটা রঙ্গনের কথার পরিপ্রেক্ষিতে।

    রঞ্জনদার, বিশেষ করে সিকিমের উদাহরণটা খুব ইন্টারেস্টিং। ভারত গপ করে গিলে ফেলল সিকিমকে। কিন্তু সে নিয়ে কারো কোনো হেলদোল আছে বলে মনে হয়না। কারো মানে এখানে সিকিমের জনতার কথা বলছি আরকি।

    বাকি জিনিসে রঞ্জনদাকে ডিটো।
  • ranjan roy | ২০ মার্চ ২০০৮ ২২:১২397689
  • D,
    কেয়াবাৎ, না না, মালবের মালভূমি হল উত্তর-পশ্চিম মধ্যপ্রদেশ থেকে পূব অব্দি এই এলাকাটা--
    রতলাম- নিমাড় থেকে ইটার্সি হয়ে হোসংগাবাদ পেরিয়ে ভোপাল ছাড়িয়ে ইন্দোর -উজ্জয়িনী অবদি। বিদিশা-মালবিকার দেশ, কালিদাসের দেশ।সেই শিপ্রানদীতীরে অবধি।
    এনিয়ে হিন্দি বলয়ে কোন মতভেদ নেই। এদিকের স্কুলপাঠ্য ভূগোল-ইতিহাসে তাই পড়ানো হয়।
  • r | ২০ মার্চ ২০০৮ ২২:১৫397690
  • আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের আন্দোলনের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলি নি। শুধু বলেছি চরিত্রগতভাবে দুটি ভিন্ন জিনিষ- অতএব এদের নিয়ে রিয়েল পলিটিকও ভিন্ন হতে বাধ্য। যেটা মানছি না সেটা হল ইতিহাস নিয়ে ঈশেনের বক্তব্য। হঠাৎ কখন সন্ধেবেলায় নামহারার ফুল গন্ধে এলায় স্টাইলে কোনো আত্মনিয়ন্ত্রণ বা ঔপনিবেশিকতাবিরোধী আন্দোলন শুরু হয় না। যে কারনে ইজরায়েল-প্যালেস্টাইনের উদাহরণ দিয়েছি। ১৯৪৮ সালের পরের ইতিহাসে ইজরায়েল বলে একটা রাষ্ট্র আছে, প্যালেস্টাইন বলে একটা রাষ্ট্র নেই। এটাকে মাপকাঠি ধরে যদি ইজরায়েল-প্যালেস্টাইন সংঘর্ষের চরিত্র বুঝতে হয়, গোড়ায় গলদ হবে। ১৯৬৭ সালের পরে গাজা স্ট্রিপ, গোলান হাইট্‌স ইজরায়ে্‌লর অন্তর্ভুক্ত, তার আগে নয়। অতএব ইতিহাস প্রয়োজন। সকালে দাঁত মেজে ব্রেকফাস্ট আত্মনিয়ন্ত্রণ চাইলাম, আর গ্যালারির সবাই হাততালি মারল- ব্যাপারটা এত সরলরৈখিক নয়।
  • ranjan roy | ২০ মার্চ ২০০৮ ২২:১৭397691
  • D,
    এক্স্‌ট্রিমলি সরি। তুমি অন্য কিছু বলছো, আমি অন্য কিছু। ভারতে মালব কোথায় সে নিয়ে তুমি কোন প্রশ্ন তোলনি।
    বুড়োবয়সে উত্তেজিত হলে ফোকাস নষ্ট হয়:))))।
    আবারও সরি।
  • arjo | ২০ মার্চ ২০০৮ ২২:২০397692
  • না না রঞ্জন দা সবই এক ব্যাপার নয়। গোর্খাল্যান্ড আর কাশ্মীর এক না। সমর্থন করব না করব না সেটা আর একটু অবজেক্টিভলি ভাবা উচিত ব্যাপারটা সাবজেক্টিভ নয়। তাইলে আর বিজেপি র হিন্দু রাষ্ট্র বানানোর মধ্যে অসংগতি কোথায় রইল? শিবসেনা মহারাষ্ট্র মারাঠীদের বললে অসুবিধা কোথায়?
  • r | ২০ মার্চ ২০০৮ ২২:২১397693
  • এবং এই পড়াশুনা না থাকার কারণে আমার তিব্বত নিয়ে কোনো বক্তব্য নাই, ইজরায়েল-প্যালেস্টাইন নিয়ে আছে। :-)

    পু: কনসিস্টেন্সির কিন্তু একটা মৌলিক লজিকাল ফ্যালাসি আছে- যাদেরই দাড়ি থাকে তারাই রামছাগল হয় না ইত্যাদি ইত্যাদি। :-))
  • Arpan | ২১ মার্চ ২০০৮ ০০:০৮397694
  • খামচা খামচা করে উইকি থেকে পড়ে যা জানা গেল:

    তিব্বতকে অনেকদিন ধরেই ব্রিটেন, চীন আর রাশিয়া মিলে নিজেদের ফুটবল খেলার মাঠ বানিয়ে ছেড়েছিল। ১৯০৪ সালে রাশিয়ার "আগ্রাসন' রুখতে ইয়ংহাজব্যান্ড তিব্বত অভিযানের নেতৃত্ব দেন এবং সহজেই লাসা অধিকার করে নেন। এইসময় প্রথমবার চীন তিব্বতের ওপর আপন সার্বভৌমত্বের অধিকার ঘোষণা করে বিবৃতি দেয়। ১৯০৭ সালে ব্রিটেন আর রাশিয়া মিলে চুক্তি স্বাক্ষর করে যাতে বলা হয় তিব্বতের ব্যপারে কোন ফয়সালা করতে গেলে চীনের অনুমতিসাপেক্ষে করতে হবে।

    কিন্তু গোলেমলে ১৯১২ সাল থেকেই তিব্বত মোটামুটি চীনের আওতার বাইরে চলে আসে। জাপানের কাছে মার খেয়ে এইসময় চীনের কোমর ভেঙ্গে গিয়েছিল। ১৯১৪ সালে ব্রিটেন, চীন ও তিব্বতের মধ্যে সিমলায় ত্রিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হল। এতে তিব্বত দুইভাগ করে আউটার টিবেট চীনকে দিয়ে দেওয়া হল। ইনার টিবেট স্বাধীন রাজ্য হিসাবে ঘোষিত হল।

    এই চুক্তি মোতাবেক আরো একটা জিনিস করা হল। ইনার টিবেট আর ব্রিটিশ ভারত বরাবর একটা সীমানা টেনে দেওয়া হল। যাকে ম্যাকমোহন লাইন বলে ইতিহাসে। ব্রিটিশরা এইভাবে হাত ধুয়ে ফেললে কী হবে, এতে আরো ঘোঁট পাকাল। চীন তিব্বতের ওপর অধিকার কখনোই ছেড়ে দেয়নি। ফলস্বরূপ ১৯৫০-এ চীনা মুক্তিফৌজ এসে লাসা দখল করে নিল। শুধু তাই নয়, দাবি উঠল ১৯১৪-এর চুক্তির সময় চীনকে দুর্বল পেয়ে অনেক কিছু ঠকিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এবং বলা হল ম্যাকমোহন লাইন টানার সময় অযৌক্তিকভাবে চীনের (তিব্বতের) অনেককিছু ভারতের ভাগে ঢুকে যায়। ভারতের অরুণাচল প্রদেশ হল আসলে দক্ষিণ তিব্বত ইত্যাদি। এর পরের ইতিহাস চীন ভারত যুদ্ধ ইত্যাদি।

    এই হল নিকট ইতিহাস। মানে যবে থেকে কলোনিয়াল ইতিহাস মানুষকে ইতিহাস পড়তে শিখিয়েছে। দেখা গেছে যেখানেই আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠছে তার অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই মরে ভূত হয়ে যাওয়া কলোনিয়াল ভাগ-বাঁটোয়ারা দায়ী। একই জিনিস ইরাকি শিয়া, সুন্নি ও তুর্কদের সাথেও হতে চলেছে।
  • Arpan | ২১ মার্চ ২০০৮ ০০:০৯397695
  • থুড়ি, ওটা কুর্দ হবে। তুর্ক না। :-P
  • ranjan roy | ২১ মার্চ ২০০৮ ০৯:১৭397696
  • হ্যাঁ, Arjo,
    আমি কিন্তু আমার এই extreme view নিয়ে consistent
    যদি মহারাষ্ট্রের ব্যাপক মারাঠীভাষী জনগোষ্ঠী মনে করে যে ওটা শুধু ওদেরই জন্যে, তাহলে ওটা একদিন """স্বাধীন মহারাষ্ট্র'' বলে একটি স্বতন্ত্র দেশ হবে,তুমি-আমি চাই বা না চাই, যেমন পূর্ব পাকিস্তান একদিন বাংলাদেশ হয়ে গেলো। শিবসেনার গলদ হচ্ছে যে ওরা এই দাবী ভারতরাষ্ট্রের
    মধ্যে থেকে করছে- যেটা মামাবাড়ির আব্দার। গাছেরও খাবো, তলারও কুড়োবো এ' চলবে না। ডিট্টো গোর্খাল্যান্ড।
    আর যদি ভগবানের ভুলে অধিকাংশ ভারতবাসী মনে করে যে এই দেশকে ""হিন্দুরাষ্ট্র '' ঘোষিত করা হউক--- তাহলে তোমার-আমার মত সেকুলারদের অন্যদেশে নাগরিকত্ব নিতে হবে, এ'দেশে দ্বিতীয়শ্রেণীর নগরিক হয়ে থাকতে হবে।
    রঙ্গনের ইতিহাস ফ্যাক্টরকে পাশ্‌কাটানো যাচ্ছে না। অবশ্যই কোন আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি অনুধাবন করতে হলে, কে-কি-কারা বুঝতে হলে ইতিহাস বিনা গতি নেই।
    কিন্তু আমার( এবং সম্ভত: ঈশানের) বক্তব্য হচ্ছে ইতিহাসের সাক্ষ্য কোন আন্দোলনের লেজিটিমেসির নির্ণায়ক হতে পারে না।
    ইতিহাস কে সাক্ষী মেনে চীন তিব্বতকে নিজের বলে, ঐভাবে ভারত কাস্মীরকে অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ বলে। রাশিয়া যেন কাদের কাদের বলে, যুগোস্লাভিয়া, সার্বিয়া, বোসনিয়ার কথা নাই তুল্লাম। অতীত অজর-অমর নয়। আমরা অতীতে বাঁচি নে।
    ইতিহাস তুলে বিজেপি র শ্রমিক সংঘ ওদের ডায়েরিতে ম্যাপে আফগানিস্তান থেকে বার্মা অব্দি বিশাল ভারত বলে দেখিয়েছে।
    আমার কথা হচ্ছে জনগোষ্ঠীর ইমোশনাল ভাবনা। আজ যদি বাড়ীর কোন ছেলে বিয়ে করে( বা না করে) বলে যে আমি সংযুক্ত পরিবারের থেকে আলাদা হয়ে যাবো, তো তাকে -- বাপ্‌ধন, তোকে কত কষ্ট
    করে বড় করেছি, সেবার অসুখে রাত জেগেছিলাম-- এসব বলে আটকে রাখা যাবে কি?
  • Sudipta | ২১ মার্চ ২০০৮ ১৮:১১397697
  • খুব ভালো লাগলো এই টই-টা; আলোচনাটা খুব ভালো দিকে এগোচ্ছে; অনেক কিছু অজানা জিনিস জানতে পারলাম; অজ্জিতদাকে ধন্যবাদ এটার একটা আলাদা টই খোলার জন্যে;
  • r | ২১ মার্চ ২০০৮ ১৮:৫৩397699
  • রঞ্জনদার কথার পিঠোপিঠি কয়েকটা কথা, সরাসরি চীন-তিব্বতের সাথে যদিও সম্পর্কিত নয়।

    আইডেন্টিটি পলিটিক্সের মধ্যে একটা গোলমেলে বিষয় আছে: আইডেন্টিটি। আইডেন্টিটির কয়েকটা মাত্রা সবাই মানে- ভাষা, বা জাতি। ধর্ম বা বর্ণের কথা বললে সবাই হাঁই হাঁই করে ওঠে। অর্থাৎ বাংলাদেশ ঠিক আছে কারণ ওখানে আইডেন্টিটির মাত্রা ছিল ভাষা, পাকিস্তান ঠিক নেই কারণ ওখানে আইডেন্টিটির মাত্রা ছিল ধর্ম। আইডেন্টিটির মাত্রা নিয়ে এই বিভাজন আমার কাছে কৃত্রিম লাগে। মানুষের দাবী ব্যাপারটা যদি এতই বড় হয়, তাহলে মানুষের উপরেই ছেড়ে দেওয়া হোক সে আইডেন্টিটির কোন মাত্রাটাকে বড় করে দেখবে। অর্থাৎ আইডেন্টিটি পলিটিক্সকে সমর্থন করার মাপকাঠি যদি হয় কনসিস্টেন্সি, তাহলে পৃথক হিন্দুরাষ্ট্রের জন্য অহিংস আন্দোলনেও আমাকে সায় দিতে হবে।

    সমস্যাটা আরও বাড়ে যদি ইজরায়েল-প্যলেস্টাইনের কথা ভাবি। জিয়নিস্টরা নিজেদের আইডেন্টিটি প্রতিষ্ঠার জন্য একটা রাষ্ট্র খুঁজেছিল কারণ তখন রাষ্ট্র=দেশ=ভূমি- এই সমীকরণটাই সবজায়গায় প্রতিষ্ঠিত। আবার প্যালেস্টিনিয়ানরা নিজেদের আইডেন্টিটি ফিরে পাওয়ার জন্যই সেই হারিয়ে যাওয়া ভূমি পুনরুদ্ধারের জন্য আন্দোলন করছে। দুই জনগোষ্ঠীরই প্রেরণা কিন্তু এক- আইডেন্টিটির প্রতিষ্ঠা। কাজেই কনসিস্টেন্সির খাতিরে আমাদের ইজরায়েল ও প্যালেস্টাইন- উভয়কেই সমর্থন করতে হয়। কিন্তু আমরা তা করি না। করি না কারণ শুধুমাত্র কনসিস্টেন্সিকে মাপকাঠি রেখে রাজনৈতিক সমর্থন অসমর্থনের উত্তর পাওয়া যায় না। আর ওটাই যদি মাপকাঠি হয়, হিটলারের জার্মান আইডেন্টিটির সন্ধান আর আমেরিকার আফ্রিকানদের আইডেন্টিটির সন্ধানকে আমাকে পাশাপাশি রাখতে হয়।

    রাখি না কারণ হিটলারের ইতিহাস ও আমেরিকার আফ্রিকানদের ইতিহাস আলাদা, কারণ হিটলারের বর্তমান ও আফ্রিকান আমেরিকানদের বর্তমান আলাদা, তাদের ভবিষ্যৎ লক্ষ্যও আলাদ। ভবিষৎ লক্ষ্যের ব্যাপারটা গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেকেই চায় তাদের আইডেন্টিটি মানবসমাজে স্বমহিমায় স্বগরিমায় প্রতিষ্ঠিত হোক, কিন্তু প্রত্যেকের ক্ষেত্রে সেই লক্ষ্যের রূপ-বর্ণ-গন্ধ আলাদা আলাদা। সেই রূপ-গন্ধ-বর্ণকে বিচার করে, তাদের ইতিহাস বিচার না করে সমর্থন বা অসমর্থন খুব নাইভ রাজনীতি।

    কনসিস্টেন্সিকে মাপকাঠি ধরার এই সিলোজিস্টিক ফ্যালাসি সবক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা মনে চায় মতামত দিন