এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  অন্যান্য

  • নবজাতকের বাসযোগ্য পৃথিবী ও নরওয়ে বৃত্তন্ত

    Debaprasad Bandyopadhyay
    অন্যান্য | ০৭ জানুয়ারি ২০১২ | ৮১৪৬৫ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Debaprasad Bandyopadhyay | ০৭ জানুয়ারি ২০১২ ১০:১৮526535
  • নবজাতকের বাসযোগ্য পৃথিবী আর নরওয়ে–বেত্তান্ত
    আপনার পড়শিদের এই মুহূর্তে একটা প্রস্তাব দিন তো :‘আমার কাছে আপনার পরিবারের জন্য আমেরিকা বা য়ুরোপের কোনো একটা দেশে মাগনা যাওয়ার অফার আছে। যাবেন?’ দেখবেন প্রায় একশো শতাংশ ক্ষেত্রে ইতিবাচক উত্তর পাবেন।
    এরকম হ্যাংলামির একাধিক নমুনা পাওয়া যায় আমাদের পড়াশোনা থেকে বিয়ে থা অব্দি। এন আর আই পাত্তর (পাত্রী এখনও জনপ্রিয় নয়) পেলে কোনো কোনো মেয়ের বাপ-মায়ের নালঝোল গড়িয়ে পড়ে। সেক্ষেত্রে পণ-যৌতুকের লুকোনো আদান প্রদান করতেও তাঁরা পিছপা হন না। দিন পাঁচেকের মধ্যে দুজন অজানা মানুষের বে-ও (পড়ুন যৌন সম্পর্ক) হয়ে যায়। কিন্তু য়ুরোপ বা মার্কিন দেশ কি সত্যিই এমন সুখের সব-পেয়েছির দেশ? সংখ্যাতঙ্কেÄ এবং অর্থনীতিতে সুখের যে মাপকাঠি বা কলন (calculus) আছে, তা অবশ্যি এমত প্রশ্নের সদর্থক উত্তর দেবে। কিন্তু, সে উত্তর কি আদৌ প্রশ্নাতীত? ধরা যাক, পৃথিবীর একনম্বর সুখী দেশ ডেনমার্কের কথা। সেখানে নির্বিচারে ডলফিন মেরে নাচন কোঁদন করা হয়। সংখ্যাতঙ্কÄ – অর্থনীতির সুখের সংজ্ঞার্থে কোনো গন্ডগোল নেই তো? সুখের গপ্পোটা ‘নদীর এপার কহে ছাড়িয়া নি:শ্বাস’-এর মতো কোনো ব্যাপার নয় তো? সুকুমার রায়ের ‘রাজার অসুখ’ মনে আছে নিশ্চিত! সম্প্রতি ডেনমার্কের (মনে রাখবেন ওখানে এক অসুখি রাজপুত্তুর, নাম যার হ্যামলেট, প্রবাদ প্রতিম হয়ে আছেন!) পাশের আর এক সুখি দেশ নরওয়ের একটি ঘটনা নিয়ে বিপুল হৈ চৈ হচ্ছে। আমাদের মনের মধ্যে যে উপনিবেশ বানিয়ে রেখেছে য়ুরোপ-আমেরিকা, সেই মানস-উপনিবেশে বেশ বড় ধাক্কা দিয়েছে সেই ঘটনা। ইন্টারনেট বৈদ্যুতিন গনমাধ্যম আর ছাপাখানার দৌলতে আপনারা সে খবর নিশ্চিত জানেন : এক বাঙালি দম্পতির দুটি দুধের শিশুকে আটকে রেখে দিয়েছেন মহামান্য নরওয়ে-রাজার সরকারের অনুমোদিত এক সংস্থা। কি দোষ ঐ দুধের শিশু দুটির? যাদের একজনের বয়স তখন আড়াই বছর, আর একজনের বয়স আড়াই মাস। তাহলে কি তাদের বাপ মা-র দোষ? নরওয়ের সরকারি-প্রতিনিধি বা তাঁদের শিশুপাগল সংস্থার লোকজনেরা এক একবার এক একরকম কারণ দর্শাচ্ছেন। একবার তাঁরা বলছেন শিশুদুটি আটিজিম আছে, আর একবার তাঁরা বলছেন অসুখি দাম্পত্যের কথা; অথবা বলছেন মা সাগরিকা চক্রবর্তী ভট্টাচার্য শিশুপালনে অক্ষম। খেয়াল রাখতে হবে এই মা সাগরিকার স্বাস্থ্য-বিষয়ক এম বি এ ডিগ্রী আছে। কিন্তু নরওয়ে রাজ-সরকারের কাছে এহো বাহ্য, তাঁদের কাছে জৈবিক মা (বায়োলজিকাল মাদার) শেষ কথা নয়। ঠিকই তো, জৈবিক মা-ই কি শেষ অব্দি ‘মা’ হয়ে উঠতে পারেন? মহাশ্বেতা দেবীর স্তনদায়িনীর গপ্পো তো জানি আমরা। নরওয়ের ক্ষেত্রে রাজা ও লিবারেল বাম সরকার তাই তো শিশু-পালনের মহান দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। আমাদের প্রবাদেই তো আছে, “জন্ম দিলেই মা হয় না!” শিশুদের তাঁরা ‘ঠিকঠাক’ প্রতিপালন করবেন। এই ‘ঠিকঠাক’ শব্দটাও কি ‘সুখ’ কথাটার মতৈ গোলমেলে নয়? দেশ-কাল ভেদে মাপনী এদিক-ওদিক হয়ে যায় নাকি? অর্থনীতি-সংখ্যাতঙ্কেÄর আঁক যাঁরা কষেন, সেইসব রাষ্ট্রপোষিত বিদ্যেব্যবসায়ীরা অবশ্যি এমত প্রশ্ন এড়াবেন। বিজ্ঞানের হিংস্র প্রাতিষ্ঠানিকতার খাতিরে তাঁদের তো ‘য়ুনিভার্সাল ট্রুথ’ (?) বানাতেই হবে।
    এসব যুক্তি-তক্কো যাক আপাতত, কেননা নেট ছানবিন করে দেখলুম এই বাঙালি দম্পতির শিশু-হরণের ঘটনাটা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। মহামান্য নরওয়ে সরকার এটা করেই থাকেন। যে ছলাখ অভিবাসী নরওয়েতে থাকেন – রাশিয়া, আফ্রিকা, তুর্কি বা ভারতের বহু দম্পতির সঙ্গেই এমত আচরণ করেছেন তাঁরা। এমন শিশু-‘অপ’-হরণের একাধিক কাহিনি পড়তে-পড়তে, দেখতে-দেখতে একটা শব্দ মাথায় ঝলক মেরে উঠলো : আইনানুগ বা ডি জুরে কিডন্যাপিং!
    কিন্তু কেন এমন করছেন নরওয়ের রাজতান্ত্রিক সরকার? কিছু তথ্যের দিকে চোখ রাখা যাক। ৩৮৭ বর্গ কিমির এদেশে মানুষ আছেন মাত্র ৪৭ লাখ; প্রতি বর্গ কিমিতে মাত্র ১৪.৪৯ জন মানুষ থাকেন। আমরা, যাঁরা দৈনিক গা ঘেঁষাঘেঁষি করে লোকাল ট্রেন-ট্রাম-বাস-মেট্রোয় চড়ি, ছোট পায়রাখোপে থাকি, একজনের পা আর একজনের গায়ে ঠেকলে তেলে বেগুনে চটে যাই, তাঁরা অবশ্যই এমন দেশকেই ‘সকল দেশের সেরা’ বলে সাব্যস্ত করে ফেলবেন – এমন স্বপ্নের দেশে যেতে চাইবেন। এমনতর কামনার মুহূর্তে অবশ্যি খেয়াল থাকবে না উত্তর মেরুর কাছাকাছি এই দেশটি কয়েক বছরের মধ্যেই জলের মধ্যে ডুববে; গোলকের ওম বারলে বরফ গলা জলে প্রথম যদি কেউ ডোবে সে তো নরওয়ে!
    মনুষ্য জনিত কারণে গোলোকের ওম (Anthropogenicglobalwarming) বাড়ার ব্যাপারে নরওয়েরও দায়ভাগ আছে। তাঁদের জীবাশ্ম তেলের বেওসা। জীবাশ্ম তেল মানে পেট্রল-ডিজেল। এটা পুড়লে যে গোলোকের ওম বাড়ে, ওজোন স্তরে ফুটো হয়, বরফ গলে ইত্যাদি তা পাঠকরা নিশ্চিত জানেন। এক্ষেত্রে একটি তথ্য আমাদের জানা জরুরি : ঐ বাঙালি শিশুর বাবা এক ভূ-ভৌত বৈজ্ঞানিক। আমাদের মগজকে ওঁরা বেশ ভালৈ কাজে লাগাতে জানেন। এছাড়াও নিসর্গ বিরোধী আরেকটি কাজ ‘বেআইনি’ ভাবে করেন নরওয়ের মানুষরা, যা এখন ওপেন সিক্রেট : অস্তর শস্তরের বেওসা। নেটে গিয়ে সিয়ার সাইটে ঢুকে দেখে নিন। মুশকিল হলো, এত্তো ছোট্ট জনসংখ্যার দেশে ০ থেকে ১৪ বছর বয়সী বাচ্চার সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ১৮%। সব্বোনাশ! ৪৭ লাখের দেশে ৮৩ হাজার বাচ্চা! এদিকে সন্তান জন্মানোর হার মাত্র ০.৩২৯%। শূণ্যস্থান পূরণ করতে হবে তো! কি করা যায়? নজর গিয়ে পড়লো ৬ লাখ ‘বহিরাগত’ অভিবাসীদের বাচ্চাদের ওপর। যে কোনো ছুতো নাতায় তাঁদের বাচ্চাদের তুলে নিচ্ছেন কল্যাণকামী নরওয়ে-রাজ। এটাও আরেক মগজ চালান এবং শ্রমিক যোগান। জৈবিক বাবা-মা-রা নিরুপায় হয়ে মানসিকভাবে অসুস্থই শুধু হচ্ছেন না, আত্মহত্যাও করছেন।
    এত্তো কথা কইলুম একটাই কারণে। বঙ্গজ দম্পতির সন্তানদের কথা যখন মাস ছয়েক আগে শুনি ও বন্ধু বান্ধবদের বলতে শুরু করি, তখন কেউ এমন ঘটনা যে ঘটতে পারে, বিশ্বাসই করতে চাইছিলেন না। আমার সমস্ত পেশার বন্ধুরা তক্কো জুড়েছিলেন, কেননা তাঁরা কারণটা ঠিক ঠাওড়াতে পারছিলেন না। তারপর তথ্য সম্ভার যখন আনানোর বন্দোবস্ত করে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক কিছু সংবেদী আইনজীবী বন্ধুদের (তাঁরা কোন না কোন ভাবে India’ssmileNGO নামক একটি সংস্থার সংগে জড়িত) হাতে তুলে দিলুম এবং তা নেটে প্রকাশিত হল, আর তখনই শুরু হল হৈ চৈ।
    কিন্তু হৈ চৈ- পেছনে দেখলুম গুটিকয় সংবাদ মাধ্যম (আবার বলি, কোন্টিতে তাঁরা গুটিক) তাঁদের ব্যবসার দিকে মনোযোগ দিলেন, বাচ্চাদের দিকে নয়। ব্যাথা পেলুম। অন্য সংখ্যাগুরু আইনজীবী ও সাংবাদিক বন্ধুদের নি:স্বার্থ সহযোগিতা আমার ঐসব সেই ব্যথা দিল ভুলিয়ে। শুধু তাই নয়, তখন আমার মাথায় ঘুরছে প্রিয়নাথের (‘টিনের তলোয়ার’ নাটক দ্রষ্টব্য) একটি রবি – অনুপ্রাণিত সংলাপ :“কলিকাতার রাজপথে বাংলার কৃষকের রক্ত ঝরিলে, তাহা আমারই রক্ত ঝরিল। সুদূর দিল্লী নগরীর উপকন্ঠে নিহত কোনো বিদ্রোহী সিপাহী, সে আমারই চূর্ণ বক্ষপঞ্জর।“ নাহ, আর নিজের নাম ভাটিয়ে ‘আত্মজৈবনিক নিম’ খাওয়ানো নয়, যে বাঙালি দম্পতির সন্তান কষ্ট পাচ্ছে, অথবা রুশ-বাচ্চা, বা তুর্কি-বাচ্চা অথবা সুদূর আফ্রিকার বাচ্চা, তাদের প্রত্যেকের কষ্ট আমার কষ্ট, ব্যাথা বেদনা। কে এই বিশেষ খবর বেচে রোজগার করছেন, তা নিয়ে আমার মাথাব্যাথা নেই। তাকেও আমি শ্রদ্ধা জানাই। আমি সমস্ত মানুষের কাছে দরবার করছি, সমস্ত হোমো স্যাপিএন্সের কাছে অনুরোধ করছি, অবহেলিত নিপিড়ীত বাচ্চাদের বাঁচাতেই হবে – সে আমাদের ইটভাটার শিশু শ্রমিকই হোক অথবা নরওয়েতে বন্দি বাচ্চাই হোক কিংবা ২৪ টা বই কাঁধে নেওয়া কোলকুঁজো বাচ্চা। শিশুহীন পৃথিবীতে তো আমি আর বাঁচতে পারবো না – এই বিরাট বিশ্বকে শিশুর মতো হেসে দু হাত দিয়ে ছুঁতেও পারবো না ...
    আপাতত মনোকেন্দ্র অবশ্য রণকৌশল গত কারণেই নরওয়েতে বন্দি বাচ্চারা – বহুবচনে ‘বাচ্চারা,-এই পৃথিবী প্রহের অপহৃত নবজাতকরা। এখানে দেশ-কাল-কোম্পানি-জাত-পাত-জাতীয়তার হিসেব নিকেশ না করে আসুন, আমরা যে যার মতো করে নরওয়ের রাজতান্ত্রিক সংসদীয় গণতান্ত্রিক সরকারের হাতে গাছ আর কুড়োনো (‘ফুল তুলিবেন না’) ফুল জড়ো করে তুলে দিই। ফুল আর বাচ্চা অথবা গাছ কিভাবে লালন পালন করতে হয়, তা তাঁরা শিখে বুঝে নিন। ‘মানব সম্পদ’ বলে একটা গালভারি সুভাষণ তো আছে বটে, তার সঙ্গে না-মানুষের গুরুত্ব না জুড়লে ‘আমি’-টা বড্ডো ছোট হয়ে যায়, বিরাট আমি’র কথা তাই পাড়তেই হবে এখানে।
    উত্তর পান্ডুলিপি: পাঠক মার্জনা করবেন, একটি বিশেষ ঘটনায় বিচলিত হয়ে হয়তো আবেগ তাড়িত কিছু কথা বলে ফেলেছি। ত্‌ৎ-ময় কথা শেষ অব্দি কইতে পারিনি। এইধরণের ঘটনার যে মলথ্যাস (একজন পাদ্রি-অর্থনীতিবিদ)- কেন্দ্রিক ব্যাখ্যা আছে, তাকে নেতিকৃত করে এই গোলককে বাঁচানোর যে তরিকা আছে, তা এই খেপে আর বলা হয়ে উঠল না। শিশুহীন পৃথিবী যেমন চাই না, তেমনি আবেগহীন শুকনো তাঙ্কিÄক হয়েও বেঁচে থাকার মানে খুঁজে পাই না। আবার অ-বস্তুনিষ্ঠ(!) আবেদনের জন্য ক্ষমা চাইছি। আবার বলি, আসুন সবাই মিলে নবজাতকের বাসযোগ্য গ্রহ বানানোর চেষ্টা করি।
  • Debaprasad Bandyopadhyay | ০৭ জানুয়ারি ২০১২ ১০:৫০526646
  • ব্যক্তিগত (!?) আবেদন: আমাকে ধংস করে দাও যদি চাও, আমার সন্ততি স্বপ্নে থাক...
    আপনারা এতদিনে নরওয়-এর ঘটনাটা (বাচ্চাদের আইন-অনুগ kidnapping ) জেনে গেছেন নিশ্চিত. বাচ্চাদের বাঁচানোর ব্যাপারে আপনারা যদি সহমত হন, তাহলে আপনাদের নিজের নিজের দেশ/জায়গা থেকে নরওয়এ এমব্যাসি/কনসুলেট-এ দ করে একটা ফুলের টব বা কুড়োনো-ফুল (দ করে ফুল গাছ থেকে ছিড়বেন না) দিয়ে আসুন. আমরা দলমত নির্বিশেষে কোলকাতার কনসুলেট-এ ফুল দিচ্ছি আগামী ৯ তারিখ, সোমবার. আমাদের পদযাত্রা দুপুর ১ টায় শুরু, শেষ (যদিও শেষ নয়) রবীন্দ্র সরোবরের নরওয়এ কনসুলেট-এ. নরওয়এ শিখুক কিভাবে বাচ্চা আর ফুলগাছের লালন-পালন করতে হয়. মানুষ hisebe দেশ- কালের বাঁধন ভুলেই যাই না হয়.
    I'mhumblyrequestingyouallthatifuragreeingwiththiscause, pl.giftaflowertub/flowers (butdon'tpluckflowersfromthetreesormakeabouquet) toNorwayEmbassy/Consulatefromyourcountriesforsavingthechildrenoftheearth.Norwayshouldlearnthetechniqueofnurturingchildren&trees.Yourspatio-temporaldistancedoesnotmatter.
  • maximin | ০৭ জানুয়ারি ২০১২ ১৩:১৭526757
  • ! ! ! !
  • Ghanada | ০৭ জানুয়ারি ২০১২ ১৩:২৮526868
  • নরওয়েতে এক বাঙালি দম্পতির দুই সন্তানকে আটকে রেখেছে একটি সংস্থা। ভারতের তরফে এ ব্যাপারে কড়া চিঠি দেওয়ার পর অবশেষে দুটি শিশুকে মুক্ত করার বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছে নরওয়ে সরকার। গতকাল এবিষয়ে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠকও হয় নরওয়ে সরকারের প্রতিনিধিদের। শিশুদের দেখেও আসেন ভারতীয় দূতাবাসের আধিকারিকরা। তবে শিশুদের ছাড়ার ব্যাপারে পাঁচটি শর্ত দেওয়া হয়েছে। বাঙালি দম্পতির সঙ্গে সেই শর্তগুলি নিয়ে আলোচনা চলছে দূতাবাসের আধিকারিকদের। অন্যদিকে, এই ঘটনার প্রতিবাদে এবার সরব হয়েছে নাগরিক সমাজও। এই ঘটনার প্রতিবাদে আগামী নয়ই জানুয়ারি একটি প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে। রবীন্দ্রসদন থেকে শুরু হবে মিছিল। শুধু নরওয়ে নয়, যে কোনও দেশেই শিশুদের এইভাবে আটকে রাখার প্রতিবাদে এই মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে।

    অনুরুপ ভট্টাচার্য এবং সাগরিকা ভট্টাচার্যের প্রথম সন্তান অভিজ্ঞানের জন্ম হয়েছিল কলকাতাতেই। জন্মের কিছু সময় পর ২০০৯-এর ডিসেম্বরে অভিজ্ঞানকে সঙ্গে নিয়ে ওসলো চলে যান অনুরূপ ভট্টাচার্য। কর্মসূত্রে দীর্ঘদিন নরওয়ের ওসলোরই বাসিন্দা অনুরূপবাবু। এপর্যন্ত সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল। সমস্যা শুরু হয় অভিজ্ঞানকে যখন স্থানীয় কিন্ডারগার্টেন স্কুলে ভর্তি করা হয়। স্কুল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ছিল, অভিজ্ঞান নাকি বেশিরভাগ সময়ই ক্লাসরুমের এককোণে চুপচাপ বসে থাকত। মাঝেমধ্যে তাঁকে মেঝেতে মাথা ঠুকতে দেখা যেত বলেও অভিযোগ।

    অভিজ্ঞানের এই আচরণকে অস্বাভাবিক বলে আখ্যা দেয় ঐ স্কুল। যদিও অভিজ্ঞানের মা সাগরিকা ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, কিন্ডারগার্টেনে একমাত্র নরওয়েজিয়ান ভাষায় পড়ানো এবং কথোপকথন হয়। আর সদ্য স্কুলে ভর্তি হওয়া অভিজ্ঞানের কাছে সেখানকার ভাষা বোঝাই দুষ্কর হয়ে পড়েছিল। যেকারণে সে চুপচাপ থাকত।

    এরপর থেকেই শুরু হয়ে যায় নরওয়ের এক শিশু অধিকার রক্ষা সংক্রান্ত সংস্থার সর্বক্ষণের হস্তক্ষেপ। এরই মধ্যে জন্ম হয় অনুরূপ ও সাগরিকা ভট্টাচার্যের দ্বিতীয় সন্তানের। আদর করে মেয়ের নাম রেখেছিলেন তাঁরা ঐশ্বর্য। কিন্তু সেই সুখের সময় বেশিদিন টেকেনি। দুই শিশুকে নিয়ে একই ঘরে থাকত সাগরিকারা।

    সেদেশের সরকারি শিশু সংস্থার অভিযোগ, কেন শিশুদের আলাদা ঘরে রাখা হয়নি? কেন হাত দিয়ে তাদের খাবার খাওয়ানো হয়? অতএব নরওয়ের আইন অনুযায়ী শিশুর অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে বলে দুই সন্তানকেই কেড়ে নেওয়া হয় বাবা-মার থেকে।

    ঋণ:- ২৪ ঘন্টা চ্যানেল
  • maximin | ০৭ জানুয়ারি ২০১২ ১৩:৫৪526979
  • ধরে নিলাম সাগরিকার কথা ঠিক। স্কুলে ভর্তি করার সময় সব বাবামাই ভালো করে খোঁজ নেয়। অনুরূপবাবু কর্মসূত্রে দীর্ঘদিন নরওয়ের ওসলোরই বাসিন্দা। তা তিনি খোঁজ না নিয়েই কিন্ডারগার্টেন স্কুলে ভর্তি করলেন? সব কিন্ডারগার্টেন স্কুলেই কি বাচ্চাদের সঙ্গে শুধুমাত্র নরওয়েজিয়ান ভাষাতে কথা বলা হয়?
  • maximin | ০৭ জানুয়ারি ২০১২ ১৩:৫৬527090
  • মেঝেতে মাথা ঠোকাটা মোটেই স্বাভাবিক নয়। পরিবারে অশান্তি ছিল হয়তো।
  • maximin | ০৭ জানুয়ারি ২০১২ ১৫:২৯527201
  • অনুরূপবাবু এক্ষুনি দেশে চলে আসতে চাইছেন। এজেন্সি তাকে পাসপোর্ট দাখিল করতে বলেছে এবং ভিসা এক্সটেন্ড করতে বলেছে। অনুরূপবাবু রাজি নন। বাচ্চারা অবশ্য ভারতীয় সিটিজেন। ভারতীয় ডিপ্লোম্যাটরা ব্যাপারটাতে ইন্টারভেন করেছেন। ওসলোতে ভারতের এম্ব্যাসির ফার্স্ট-সেক্রেটারি পি-বালচন্দ্রন অনুরূপবাবুদের বাড়িতে গিয়ে কথা বলেছেন এবং নরওয়েরর সেই চাইন্ড কেয়ার এজেন্সির সঙ্গেও কথা বলেছেন।
  • maximin | ০৭ জানুয়ারি ২০১২ ১৫:৩৫527249
  • ব্যাপারটা বেশ গোলমেলে ঠেকছে। আজ নয়, পাঁচমাস আগেই, বাচ্চাদের নিয়ে গেছে। এতদিন পর রিপোর্ট করলেন কেন অনুরূপবাবু?
  • maximin | ০৭ জানুয়ারি ২০১২ ১৫:৪৩527260
  • TimesofIndia, January7.

    "Theagencyofficialsaskedmetosubmitmypassportalongwiththoseofmychildren, asmyvisawillexpireinMarch.Theytoldmethatitwasmyresponsibilitytogetthevisaofmychildrenextended.ThenItoldthemthatIwouldprefertoreturntoIndiaalongwithmychildrenandso, Iamnotkeenonextendingmyvisa.Theofficialsthentriedtoforcemetosubmitthepassports."
  • pi | ০৮ জানুয়ারি ২০১২ ০০:২৫526536
  • অভিবাসীদের বাচ্চা তুলে নেওয়া ও শ্রমিক যোগানের সম্পর্কটা ভালো বুঝতে পারলাম না। বাচ্ছারা মা বাবার কাছে বড় হলেও তো নরওয়ে তেই থাকতো !
  • aka | ০৮ জানুয়ারি ২০১২ ০৬:০৫526547
  • কোথায় নরওয়ে কোথায় ইউএস??? দুনিয়ার সমস্ত বাঙলা লেখার ভূমিকা শুরু হয় ইউএস কত খারাপ সেই দিয়ে। ক্লান্তিকর।

    আদারওয়াইজ ইসু নিয়ে কিছু বলার নেই। তবে এটাও সত্যি নরওয়েতে থাকলে অটিস্টিক চাইল্ডের কেয়ার বেশি হত। তবে বায়োলজিকাল পেরেন্টদের দাবী সবথেকে বেশি, নীতিগতভাবে।
  • rimi | ০৮ জানুয়ারি ২০১২ ০৬:৪২526558
  • আমার বোন জাপানে থাকে। ওর মেয়ের ২ বছর বয়সে ওরা ওকে জাপানের সরকারি ডে কেয়ার হৈকুয়েনে দিল। মেয়ে তখন বিন্দুমাত্র জাপানিজ বুঝত না। মোটামুটি মাস ছয়েক সেই মেয়ে ক্লাসরুমের এককোনে চুপচাপ বসে থাকত। বোন তো টিচারদের সঙ্গে প্রতি সপ্তাহে মিট করে মেয়ের অসুবিধা নিয়ে কথা বলত। টিচাররা খুব ভালো করে মেয়ের যত্ন নিতেন। বাড়িতেও বোন নিজে জাপানিজ ক্লাস নিল ইউনিভার্সিটিতে। সব মিলিয়ে ছ মাস বাদেই মেয়ে (এবং মাও) ফ্লুয়েন্টলি জাপানিজ বলতে শুরু করল।

    বাবা মার সঙ্গে কোনোরকম আলোচনা না করে, খোঁজ খবর না নিয়ে বাচ্চাকে দুম করে নিয়ে নেওয়াটা খুব অদ্ভুত। বিশেষ করে যে দেশে বাচ্চাদের জন্যে অনেক কিছু চিন্তা করা হয়, অনেকরকম ব্যবস্থা থাকে।

    তবে হ্যাঁ, এইরকম ঘটনার সঙ্গে বিদেশে যাবার লোভ টোভ ইত্যাদির কি সম্পর্ক তা বুঝলাম না।
  • maximin | ০৮ জানুয়ারি ২০১২ ১৪:৩০526569
  • হ্যাঁ আমিও সেকারণেই প্রথমে এক্সক্লামেশন মার্ক দিয়েছিলাম।
  • maximin | ০৮ জানুয়ারি ২০১২ ১৪:৪২526580
  • নইলে মায়ের কোল থেকে বাচ্চাদেরকে কেড়ে নিয়ে গেছে শুনে আঁতকে উঠতাম। দেবপ্রসাদবাবু শুরুতেই এমন একটা আংগল দিলেন।
  • maximin | ০৮ জানুয়ারি ২০১২ ১৪:৪৪526591
  • * অ্যাংগল
  • lcm | ০৮ জানুয়ারি ২০১২ ১৫:৫৭526602
  • নরওয়ে ৩৮৭ বর্গ কিমি সাইজের দেশ (রাফ্‌লি, ২০ কিমি বাই ২০ কিমি) দেখে একটু ঘাবড়ে গেছিলাম... যাই হোক, নরওয়ে-র আয়তন দেখলাম ৩৮৭০০০ বর্গ কিমি। এটা হয়ত লেখকের টাইপিং এরর।
    কিন্তু আবার পরে দেখলাম, ৪৭ লাখ লোকের দেশে ৮৩ হাজার বাচ্চা - এখানেও ভুল, ওটা ৮ লাখ ৭০ হাজার বাচ্চা হবে (৪৭ লাখের ১৮%)। লেখক বোধহয় আবেগ তাড়িত হয়ে...

    লেখাটি পড়ে মনে হল ক্রমহ্রাসমান জনসংখ্যা রোধের জন্য নরওয়ের সরকার বিভিন্ন ইমিগ্র্যান্টদের বাচ্চা ছিনিয়ে নিয়ে দেশে রেখে দিয়ে জনসংখ্যা বৃদ্ধির চেষ্টা করছে। স্ক্যান্ডিনেভিয়ান এবং ইউরোপের অনেক দেশেই জনসংখ্যা কমছে সেটা ঠিক, তা বলে গুটিকয়েক ইমিগ্রান্টদের বাচ্চা দিয়ে সেটা ব্যালান্স করা.... ইয়ে মানে, সংখ্যার দিক দিয়েও একটু...

    ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স বা হ্যারাসমেন্টের হাত থেকে শিশুদের বাঁচানোর জন্য অনেক দেশেও প্রভূত আইন কানুন আছে। যত বেশী লিবারল দেশ তত কড়া আইন। বাড়িতে বাচ্চাকে গায়ে হাত তুলে পেটালে, মা-বাবার পুলিশ হাজত বাস খুবই কমন ফেনোমেনন। স্কুলে পড়তে আসা বাচ্চাদের মধ্যে কোনো সিম্পটম দেখলেই স্কুল কর্তৃপক্ষ সজাগ হয়ে ওঠেন এবং ব্যবস্থা নেন। এই আইন-কানুন সময়বিশেষে ভুল প্রয়োগ বা যাকে বলে ওভারডোজ হয়ে যায় না তা নয়।
  • pi | ০৮ জানুয়ারি ২০১২ ২২:৪৫526613
  • আমি তো একজায়গায় দেখলাম, শিশু ১১ লাখ।

    যাহোক, দেশের জনসঙ্খ্যার প্রায় ১২% ইমিগ্র্যান্ট। নরওয়ের পপুলেশন গ্রোথ এখন যা হচ্ছে, ভবিষ্যতে যা হবে বলে প্রোজেক্টেড সেও মূলত: এই ইম্‌গ্‌র্‌য়ান্ট দিয়েই। সেটা ঠিক।
    তো, আমার প্রশ্ন ইমিগ্র্যান্টদের সন্তান তো দেশের নাগরিকই হয়ে যেতে পারেন বা যান। তো, এই জোর করে নিয়ে দেশের ওয়ার্কফোর্সের অভাব পূরণ করার অভিসন্ধিটা ঠিকঠাক বুঝতে পারছিনা। আর সেরকম চাইলে ইমিগ্রেশন আইন শিথিল করা, সহজে নাগরিকত্ব দিয়ে দেওয়া, এগুলো করলেই তো হয়। করেও মনে হয়।
    তো, এরকম বিদঘুটে বাঁকা পথ নেবার কী আছে ? হয়তো কিছু মিস করে যাচ্ছি। একটু বিস্তারিত বল্লে ভাল হয়।

    lcm দা সেষ প্যারাতে যেটা বল্লেন, সেটা ঘটনা।
  • Binary | ১০ জানুয়ারি ২০১২ ০১:৫৫526624
  • আমি নিজে ডেনমার্কে ছিলাম চার বছরের বেশী। আমার ঠিক ঐ বয়সের মেয়ে ওখানকার বুগেস্টু, বর্নহাভেন -এ গেছে। আমি নিশ্চই জানি ওখানকার নিয়ম।

    ১) যা হয়েছে দুরের লোকের মনে হতে পারে বাড়াবাড়ি, কিন্ত, ওদেশে এটাই নিয়ম। এটা শুধু ভারাতীয় বাচ্চা বলে নয়, যেকোনো, মানে নরোজিয়ান বাচ্চাদের ক্ষেত্রে-ও প্রোজোয্য, সবার একই নিয়ম। আমি নিজেই এরকম উদাহরন জানি। এর সঙ্গে, ইমিগ্রান্ট পলিসি এসবের যোগাযোগ করা কোনো কাজের নয়।

    ২) এই ঘটনার সাথে, 'এনারই দেখলে জীবে জল পরার' কোনো সম্পর্ক নাই।

    ৩) হতে পারে নরোজিয়ান চাইল্ড কেয়ার-এর রিঅ্যাকসনটা একটু বেশী কঠিন মনে হচ্ছে, কিন্তু ঐ যে বল্লাম, যে টা নিয়ম সেটাই ফলো করা হয়েছে, এটাই ওসব দেশে দস্তুর।
  • Binary | ১০ জানুয়ারি ২০১২ ০২:২৭526635
  • জেনেরালি বাচ্চারা ৩/৫ মাস সময় নেয় কোনো এঅকটা ভাষা শিখে নিতে, কিন্তু তাতে ঐ বয়সের বাচ্চাদের বডি ল্যাঙ্গুএজে ভাব আদান প্রদানে কোনো অসুবিধে থাকার কথা নয়। এক্ষেত্র অবশ্য জানা নেই ঠিক কি হয়েছে, তবে আমার নিজের এবং আমার জানাশোনা ভিন্নভাষী বাচ্চাদের ডেনমার্কের বুগেস্টু -তে কোনো অসুবিধে হয়নি, বরং আমাদের দেশী ডে কেয়ার থেকে ওখানে বাচ্চাদের দেখাশোনার কোনো তুলনাই চলে না, এটা আমি ১০০ ভাগ দেশ প্রেমী হয়েও বলতে পারি।

    আর, একবার সরকারের আর আইন ব্যাবস্থার হাতে গেলে তার সমাধান হতে সময় লাগে, সে আমাদের দেশী কোটি কোটি পরিবরিক কোর্ট কেস কম কি ?
  • Binary | ১০ জানুয়ারি ২০১২ ০৬:০৯526647
  • তাছাড়া, কোনো বাচ্চার স্পেশাল নিড্‌স থাকলে, ২/৩ স্টেজ কাউন্সেলিনং, তারপর অটিজিম থাকলে-ও মেডিকাল কাউন্সেলিং এসব স্টেপ-এর পরেও কিছু না হলে হোম ইনস্পেক্টার আসে। এরকম দুম করে বাচ্চাকে ফস্টার কেয়ারে পাঠিয়ে দেওয়াটা কিরকম অবাস্তব মনে হচ্ছে, যদি না পুরো বিষয়টা না জানা থাকে।

    তাও আবার দুটো বাচ্চাই।

    যুক্তি আর ফ্যাক্টস চাই, নইলে সুধু ইমোশনাল স্টেটমেন্ট কিছুই বোঝা যায় না, আর ফুল দিয়েও কোনো লাভ হয় না।
  • aka | ১০ জানুয়ারি ২০১২ ০৬:২৫526658
  • বাইনারিদার কথায় ক দিলাম। কিন্তু ভারতীয়, বাঙালী বাবা মা তো তাই অ্যাবিউজ বা অন্য কিছুর সম্ভাবনা কম। যেমন ছেলে মেয়ে কেন বাবা মা র সাথে এক বিছানায় শোয় এইসব প্রশ্ন উঠেছে। আমার মনে হচ্ছে এক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি হয়েছে। অবশ্য পুরো তথ্য নেই সেটাও সত্যি।
  • Binary | ১০ জানুয়ারি ২০১২ ০৭:০৪526669
  • আজ্জো, এটা ঠিক-ই যে, আমাদের সংস্ক্‌তিতে যেটা নর্মাল, ওদেশে-র মাপ কাঠিতে সেটা নাও হতে পারে। যেমন, বাচ্চা আর বাবা মা এক ঘরে থাকা ইত্যাদি। কিন্তু এসব অনেক পরে করোলারি হয়ে আসে। আমি যা জানি, তাতে এই সব ক্ষেত্রে যা যা মাপা হয়,
    ১) বাচ্চার ইমুনাজেশন রেকর্ড ঠিক আছে কিনা।
    ২) বাচ্চাকে রেগুলার ইন্টার্ভালে ডাক্তার দেখানো হয় কি না
    ৩) বাচ্চা ওপেন এয়ারে অন্য বাচ্চাদের সাথে, কত টাইম কাটায়
    ৪) বাবা - মা বাচ্চার সামনে অনবরত ঝগড়া করে কি না
    ৫) বাচ্চা খাবারে পুষ্টি কিরকম
    ৬) তিন বছরের বাচ্চা কে বাবা মা ধমকায় কিনা

    ইত্যাদি ইত্যাদি। এগুলো তো বেসিক। এগুলো ঠিক না থকলে অন্য বিষয় গুলো, যেমন এক ঘরে বাচ্চা ইত্যাদি
  • aka | ১০ জানুয়ারি ২০১২ ০৭:২৮526680
  • ইমিউনাইজেশন রেকর্ড, ওয়েলনেস চেকাপ, খাবার আর সেফটি যেমন ইলেকট্রিকাল আউটলেট বন্ধ রাখা ইত্যাদি অত্যন্ত ইম্পর্ট্যান্ট বিষয়। একখাটে শোওয়াটাও বারণ করে সিডসের জন্য।

    তবে সত্যি কথা বলতে এগুলো আমরাও আস্তে আস্তে শিখেছি। মানে একেবারে প্রথম দিকে হলে কেস খেয়ে যেতাম।
  • aka | ১০ জানুয়ারি ২০১২ ০৭:৩১526691
  • আই মিন ঐ ইলেকট্রিকাল আউটলেট বন্ধ রাখা ইত্যাদি খুঁটিনাটি। এটা আমি জেনেছিলাম আমার এক ক্লায়েন্ট দত্তক নেওয়ার সময়ে তার বাড়িতে এই সব ইনস্পেকশন হয়েছিল তখন।
  • aka | ১০ জানুয়ারি ২০১২ ০৭:৪৭526702
  • কথা হল নেগলেক্ট করেছে কিনা সেটা বোঝার মতন তথ্য হাতে নেই। করলে সে জেনেই করুক বা বুঝেই করুক কেস খাবেই। একে ভারতীয় তায় বাঙালী কেমন যেন মনে হচ্ছে নিজের ছেলেকেই নিয়ে নিয়েছে। খারাপ লাগাটা যাচ্ছে না।
  • Binary | ১০ জানুয়ারি ২০১২ ০৯:০৫526713
  • সেতো হবেই। আমারো হচ্ছে। কাল 'ইতি ম্‌নালিনী' দেখে, খুব মন খারাপ হল, ১০ বছরের মেয়েটার জন্য, কারণ অবচেতনে আমরা নিজের ছেলেমেয়ে কে ম্যাপিং করি।

    আমার বক্তব্য ছিলো, এই ঘটনাটা, মোটেও 'ইউরোপ-অ্যামেরিকা স্বর্গ' নয়, ইত্যাদি-প্রভ্‌তি প্রমাণ করার জন্য ব্যবহার করায় আমার যথেস্ট আপত্তি আছে, যেটা এই টই-এর সুরুতে করা হয়েছে।
  • njkjbjhbjhbhb | ১০ জানুয়ারি ২০১২ ১৪:৪৮526724
  • এখানে সম্ভবত বিদেশে থাকার ইচ্ছার কথাই বলা হয়েছে। লোভ কথা শুনতে খারাপ লাগে। কিন্তু যারা বিদেশে থাকে, তাদের থাকতে ভাল লাগে বলেই না থাকে। নইলে ইচ্ছার বিরুদ্ধে কেউ বিদেশে বছরের পর বছর পরে আচে, এমন বল্লে সেটা মোটেই বিশ্বাসযোগ্য হবেনা। অনেকেই বলে বিদেশে আমাদের সব কাজ করতে হয় নিজেদেরকেই,ধুত ভালো লাগেনা --এই সব বল্লেও এন আর আই তকমা বা বিদেশের আরাম সুযোগ সুবিধে ছেড়ে আসাও যায়না সহযেই। খালি চাকরির দোহাই দিলে চলবেনা।
  • oparhar chele | ১০ জানুয়ারি ২০১২ ১৫:০৬526735
  • সে ধরেন দেশে থাকার ইচ্চার পেছোনেও তো কিছু স্বার্থ থাকে। হাজবেন্ড-ওয়াইফের একজন যদি সরকারী চাকরি, এল আই সি বা কোন ন্যাশনালাইজড ব্যাঙ্কে কাজ করে তো অন্যজন তখন 'দেশে থাকতে ইচ্চুক' হয়ে যায়। আরো ধরেন গিয়ে ছেলেটা মেয়েটার জন্য সারাবছর ইস্কুলের টিপিন বানিয়ে রাখার জন্য শ্বাশুড়ী মজুদ থাকা, জ্বরজারিতে পার্টিশার্টিতে মা'য়ের কাছে বাচ্চা ডাম্প করে যাওয়ার সুবিধেও তো দেশে বেশি।
    সবদিক দেখেশুনেই লোকে ইচ্ছুক বা অনিচ্ছুক হয় আর কি- যার যাতে বেশি লাভ বা লোভ
  • Sibu | ১০ জানুয়ারি ২০১২ ১৫:০৭526746
  • ব্যাপারটা আসলে কি হয়েছে বলা কঠিন। আম্রিকান সোশ্যাল সার্ভিসের সাঅথে দু-চারবার মুখোমুখি হয়েছে। মোস্ট অফ দেয়ার রুলস আর সেন্সিবল, আর বেশীর ভাগ সোশ্যাল ওয়ার্কার খুব ভাল। তবে এরকম শুনেছি, যে এজেন্সি ফান্ডিং কেসলোডের ওপর ডিপেন্ড করে। তাই কিছু কিছু সোশ্যাল ওয়ার্কার বর্ডারলাইন কেসগুলোকে ফস্টার কেয়ারে পাঠাতে চায়। সত্যি মিথ্যে জানিনা।
  • Paramita | ১১ জানুয়ারি ২০১২ ০০:৫১526758
  • আমার মামাতো ভাই নরওয়েতে থাকে। এই ঘটনার পর ফোন করলাম। ওর সাড়ে চার বছুরে মেয়ে কিন্ডারগার্টেনে যায়। তার অনেক বন্ধুও যায়। স্কুল নিয়ে দিব্যি খুশী। হ্যাঁ, আরো অনেক দেশের মত বাচ্চাদের ছোট বয়স থেকেই শেখানো হচ্ছে বাপ-মা মারলেই স্কুলে রিপোর্ট করতে ইত্যাদি। ওদের আরো অনেক বন্ধুর ছেলেমেয়েই স্কুলে যায়। স্কুলের অ্যাটিচুড নিয়ে ওদের খারাপ কোন এক্সপিরিয়েন্স হয়নি।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঝপাঝপ প্রতিক্রিয়া দিন