এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  অন্যান্য

  • বিকল্প মার্ক্সবাদের সন্ধানে-কাউ&

    Biplab Pal
    অন্যান্য | ১৮ এপ্রিল ২০১১ | ২৭৪৪১ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Biplab Pal | ১৮ এপ্রিল ২০১১ ১৭:১৪471188
  • 1]
    মার্ক্সবাদের প্রয়োগ সংক্রান্ত বিতর্ক গত ১৫০ বছর ধরে ছিল-এবং সেই বিতর্ক এখনো চলছে। মার্ক্সবাদ চর্চার সব থেকে দুর্বলতম দিক হচ্ছে, অধিকাংশ মার্ক্সবাদি চর্চাই হয়েছে কমিনিউস্ট জমানাতে-এবং তার বৃত্ত শাসকদলের রক্ষচক্ষুর মধ্যেই পালটি খেয়েছে। এই রেজিমেন্টেড মার্ক্সবাদের বাইরেও স্বাধীন ভাবে যারা মার্ক্সবাদ নিয়ে অন্যরকম চিন্তাভাবনা করেছেন-অন্য ধরনের প্রয়োগ চেয়েছেন-তাদের চিন্তাধারাই আজকে আমার কাছে অনেক বেশী প্রাসঙ্গিক মনে হচ্ছে। তাদের চিন্তাসূত্র ধরেই এই প্রবন্ধ লেখা।

    []
    মার্ক্স যে ব্যাক্তিগত জীবনে বিপ্লব চাইতেন, বিপ্লব করতে গিয়েছিলেন-সে ব্যাপারে সন্দেহ নেই। সেটা সত্য হওয়া সঙ্কেÄও, গত ১৫০ বছরে কমিনিউস্ট বলে একদল ফ্যাসিস্ট মতবাদিদের হাতে মার্ক্সবাদে ছিনতাই হয়েছে। সুতরাং যে ব্যাপারগুলি অধিকাংশ মানুষের অলক্ষ্যে থেকে গেছে-

    [] মার্ক্স কি রক্তাত্ব বিপ্লবে আস্থা রাখতেন?
    [] যে কোন ধরনের জন বিপ্লব কি মার্ক্সবাদের বিবর্তন তঙ্কÄ থেকে আসে?
    [] গনতান্ত্রিক না সশস্ত্র বিপ্লব- মার্ক্সবাদের সাথে সামঞ্জস্য পূর্ন?
    [] মার্ক্সবাদ কি মার্ক্সের ব্যাক্তিগত মতবাদ?

    গুগল করলে এই চারটি প্রশ্নের জন্যে হাজার হাজার প্রবন্ধ উঠে আসবে। একটু গভীরে গেলেই দেখবেন গোলমাল আছে।অপ্রথম গোলমাল এটাই একটি সামাজিক বিবর্তনের তঙ্কেÄ -বিপ্লব বা রাতারাতি সামাজিক কাঠামোর পরিবর্তন কোথা হইতে আসে??? এই বৈপ্লবিক পরিবর্তনের তঙ্কÄকি আদৌ বৈজ্ঞানিক? কার্ল মার্ক্সের অজস্ত্র লেখা আছে যেখানে বিপ্লবী এবং জনবিপ্লবের কথা লিখেছেন। জনবিপ্লবের প্রতি তার ভালোবাসা এই প্রবন্ধে আরো ভাল করে পাবেন-- http://www.runmuki.com/paul/writing/marx.html

    এটি পড়লে দেখবেন মার্ক্স সারা জীবন বিপ্লবের সাথে যুক্ত ছিলেন-বিপ্লবীদের সাথে তার সম্পর্ক ছিল- প্যারী কমিউনের সমালোচনাতে দেখা যাচ্ছে উনি কমিনিউস্টদের তীরস্কার করেছেন বুর্জোয়া সেনাবাহিনী এবং শ্রেনী শত্রু খতম না করার জন্যে। উনার সিভিল ওয়ার ইন ফ্রান্স পড়ার পর কারুর কোন দ্বিধা থাকারই কথা না-উনি সরাসরি শ্রেনীশত্রু নিকাশের (খতমের) পক্ষেই ছিলেন এবং যা পরবর্তীকালে লেনিন করে দেখাবেন।

    কিন্ত তার মানেই কি মার্ক্সবাদ রক্তাত্ব বিপ্লবের সমার্থক হয়? উনি প্যারি কমিউন নিয়ে যা লিখেছিলেন-সেটাকি আদৌ মার্ক্সবাদ থেকে আসে? লক্ষ্যনীয় তার প্যারি কমিউনের ওপর লেখাটি কোন বিশ্লেষনাত্বক লেখা না-সেখানে উনি কমিনিউন বিপ্লবীদের প্রশংসা করেছেন এবং ভবিষ্যত বিপ্লবের জন্যে আরো রক্তপাতের সুপারিশ করেছেন। এসব ঠিক আছে-কিন্ত সেগুলো কি তার মার্ক্সবাদি বিশ্লেষন থেকে আসে না আবেগ থেকে এসেছিল?

    সাথে সাথে মার্ক্স, তাঙ্কিÄক বিশ্লেষনের মাধ্যমে এটাও বুঝেছিলেন ঐধরনের রক্তপাত বিপ্লব দিয়ে সমাজপরিবর্তন তাঙ্কিÄক মার্ক্সবাদের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ন না। বস্তুত হেগেলিয়ান ডায়ালেক্টিক আদৌ কোন বৈপ্লবিক দর্শনে টানা যায় কি না, সেই নিয়ে দার্শনিক মহলেই বিতর্ক রয়েছে-এবং প্যারী কমিউন বিপ্লবের ব্যার্থতাতে মার্ক্স নিজেই এই ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন।
    *****************************
    http://evolutionrevolutionatrhodes.blogspot.com/2010/02/dialect-according-to-marx.html

    LikeHegel, Marxalsoarguedforthemaster-slavedialecttobeunderstoodthroughanhistoricalperspective.ThisbecamethefoundationforapproachingMarx’sowndialectwhichemphasizedthedialectshistoricalimportanceasacontinuousprocesswhichwoulddevelopthroughouthistory.However, unlikeHegel, Marxsawaparticularendtothedialect.ForMarx, theendwasaclassrevolution.WithinthetenetsofMarxism, thestrugglebetweenboththeproletariat (workingclass) andthebourgeoisclasscouldonlycometoanenduponthesocialawakeningoftheentireproletariatclass.Thissocialor“classawakening”wouldonlycompleteitselfuponarevolutionarymovementbytheproletariatclass.Marxarguedthatbecauseofthelongandtumultuousstrugglebetweentheproletariatandbourgeoisclasses, thatonedaytheproletariat (workingclass) wouldeventuallyriseupandoverthrowtheir“masters”(bourgeoisclass) thusliberatingthemselvesthefromenslavement.Personally, IfindMarx’sspinonHegel’sdialectalittlefar-fetched.AlthoughIdoseetherelevanceinMarx’sapplicationofthedialect, Idonot, ontheotherhand, seeifHegeleverintendedhisdialecttobeunderstoodthroughcertainpoliticalagenda (inthiscaseMarx’sagenda).Havingsaidthis, IquestionwhetherornotMarxusedHegel’sdialectdevoidofanyill-conceivedreasons.Meaning, wasMarxforcinghisownapplicationofthedialecttoillicitpoliticalresponse, orwasMarxcorrectinapplyingHegel’sdialecttothepoliticsofclassstruggle.Lastly, IwanttosuggestthatMarx’suseofthedialectfailstoencompassconsciousness’struggleforrecognitionuntilthedeath, towhichHegelargued
    **********************************************************

    এর মূল কারন অনুধাবন করা আমার প্রবন্ধের লক্ষ্য। মনে রাখতে হবে-এই বিতর্কের ভিত্তিতেই মার্ক্সবাদিরা গনতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী ( যেমন বার্নস্টাইন) এবং কমিনিউস্ট বিপ্লবী এই দুই ভাগে ভেঙে গেছে। এই ইতিহাস ত বহু চর্চিত। এই প্রশ্নগুলি সবার প্রথমে তোলেন এডোয়ার্ড বার্নস্টাইন যিনি স্যোশাল ডেমোক্রাসীর জনক হিসাবেই বিখ্যাত। উনার লেখাগুলি ধরেই আমরা প্রথমে এগোব-কেনা না তিনিই মার্ক্সবাদের গণতান্ত্রিক ব্যাখ্যার দিকে এবং বিপ্লব নস্যাত করে, বিবর্তনের দিকে ঝুঁকেছিলেন। বার্নস্টাইনের বক্তব্য ছিল, ট্রেড ইউনিয়ান আন্দোলনের মাধ্যেমে আস্তে আস্তে শ্রমিকদের হাতে উৎপাদনের রাশ আসবে এবং মালিক পক্ষর মালিকানা হাল্কা হবে।

    রোজা লুক্সেমবার্গ যদিও বার্নস্টাইনের সমর্থক ছিলেন না, তবুও উনি বার্নস্টাইনের একটি সুন্দর সংক্ষিপ্তকরন দিয়েছিলেন: thetradeunionstruggleforhoursandwagesandthepoliticalstruggleforreformswillleadtoaprogressivelymoreextensivecontrolovertheconditionsofproduction,”and“astherightsofthecapitalistproprietorwillbediminishedthroughlegislation, hewillbereducedintimetotheroleofasimpleadministrator.”“Thecapitalistwillseehispropertylosemoreandmorevaluetohimself”tillfinally“thedirectionandadministrationofexploitationwillbetakenfromhimentirely”and“collectiveexploitation”instituted.

    বার্নস্টাইন বলেছেন আসল মার্ক্সবাদি হতে গেলে মার্ক্সবাদের সমালোচক হতে হবে। সেই প্রকৃত মার্ক্সবাদি যে মার্ক্সবাদের দুর্বলতাগুলিকে চিহ্নিত করতে পারবে এবং তোতাপাখির মতন মার্ক্সবাদ সর্বসত্য বলে চিল্লাবে না।

    http://www.marxists.org/reference/archive/bernstein/works/1899/evsoc/ch01.htm

    Butthisdutycanonlybeaccomplishedifonegivesanaccountunreservedlyofthegapsandcontradictionsinthetheory.Inotherwords, thefurtherdevelopmentandelaborationoftheMarxistdoctrinemustbeginwithcriticismofit.To-day, thepositionisthatonecanproveeverythingoutofMarxandEngels.Thisisverycomfortablefortheapologistsandtheliterarypettifogger.Buthewhohaskeptonlyamoderatesensefortheory, forwhomthescientificcharacterofsocialismisnot“onlyashow-piecewhichonfestiveoccasionsistakenoutofaplatecupboardbutotherwiseisnottakenintoconsideration,”he, assoonasheisconsciousofthesecontradictions, feelsalsotheneedofremovingthem.Thedutyofthedisciplesconsistsindoingthisandnotineverlastinglyrepeatingthewordsoftheirmasters

    রোজা সহ বাকি কমিনিউস্টদের যুক্তি ছিল ট্রেড ইউনিয়ান ধনতান্ত্রিক সমাজব্যাবস্থায় শোষনের বিরুদ্ধে রক্ষাকবচ হতে পারে কিন্ত কখনৈ সেই আন্দোলন উৎপাদন ব্যাবস্থার মালিকানা শ্রমিকদের হাতে দেবে না। এখানে খেয়াল রাখতে হবে, বলশেভিক বিপ্লবেও কিন্ত শ্রমিকদের হাতে মালিকানা আসে নি। সে মালিকানা গেছিল রাষ্ট্রের হাতে। ফলে মস্কোতে বুরোক্রাটরা স্ফূর্তি করেছে-আর গ্রামে দুর্ভিক্ষে কৃষক শ্রমিকরা অনাহারে মরেছে। আর ১৯১৯-১৯২০ সালে অসংখ্য শ্রমিক এবং কৃষক বিদ্রোহ হয়েছে রাশিয়াতে। সোভিয়েত ইউনিয়ানে লালসেনারা যত না শ্রেনীশত্রু মেরেছেন-তার থেকে বেশী হত্যা করেছেন কৃষক এবং শ্রমিক। সমস্ত কমিনিউস্ট বিপ্লবে শ্রমিক বা কৃষকদের হাতে যে ক্ষমতা আসে নি -তার মূল কারন ক্ষমতা গেছে রাষ্ট্রের হাতে-আর তা বকলমে ভোগ করেছে কিছু কমিনিউস্ট পরিবার। যা রুমানিয়া বা উত্তর কোরিয়া বা কিউবাতে প্রায় রাজতন্ত্রের রূপ নেয়। সুতরাং কমিনিউস্ট বিপ্লব আসলেই অনেক দেশে রাজতন্ত্রকেই ফিরিয়ে আনে। শুধু তাই না-ক্ষমতার কেন্দ্রীকরনে স্টালিন বা পলপটের মতন কুখ্যাত খুনে দেশনেতা বিংশশতককে লেনিনবাদের উপহার। এগুলো লেনিনবাদিরা স্বীকার করেন না-উনারা এটাকে বুর্জোয়া মিডিয়ার চক্রান্ত -আমেরিকার চক্রান্ত বলে চালাতে চান। এই সব ত্রুটিকে অস্বীকার করে লাভ কি কিছু হয়? তারা জনসমকক্ষে আরো মূর্খ বা পাগল বা অশিক্ষিত বলে প্রতিপন্ন হন। যা জনসাধারনকে মার্ক্সবাদ এবং সমাজতন্ত্র থেকে আরো দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।

    ট্রেড ইউনিয়ান আন্দোলন নিজেরাই টিকতে অক্ষম-এবং ক্রমশ অপ্রাসঙ্গিক। লেনিনবাদ পৃথিবীকে দুর্ভিক্ষ এবং নরহত্যা ছাড়া কিছু দেয় নি। তাহলে সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের ভবিষ্যত কি?

    সুতরাং প্রশ্ন হচ্ছে কি উপায়ে শ্রমিক বা কৃষক শ্রেনীর হাতে উৎপাদন ব্যাবস্থার মালিকানা আসবে?

    সাম্য বা সমাজতন্ত্রের চেয়েও এই যৌথ শ্রমিক মালিকানার প্রশ্নটিই আসল। এর জন্যে কি বিপ্লব দরকার না তা সমাজ বিবর্তনের পথেই আসতে পারে?

    (3)

    মার্ক্সবাদের যে ইতিহাস আমরা জানি, বা বাংলা ভাষাতে পাওয়া যায়-তার বাইরেও যে একটা বিরাট ইতিহাস আছে, তা মার্ক্সিস্ট-লেনিনিস্টরা চেপে যায় বা অজ্ঞতার কারনে জানেই না। একথা অধিকাংশ লোকেই জানে না- ইউরোপে লেনিনবাদি রক্তাত্ব বিপ্লবের বিপক্ষে বা লেনিনবাদের বিরুদ্ধে দুটি শাখার জন্ম হয়। একদল দ্বিতীয় ইন্টারন্যাশানাল থেকেই স্যোশাল ডেমোক্রাসি বা ট্রেড ইউনিয়ান আন্দোলনে বেশী আস্থা রাখে। এই দলটির কথা আমরা জানি-কারন এদের শোধনবাদি হিসাবে গালাগাল দেওয়াটা লেনিনিস্টদের ব্রেকফাস্ট ছিল। কিন্ত যে দলটির কথা বাংলাভাষা বা মার্ক্সবাদি চর্চায় আসে না-অথচ যাদের চর্চায় আদি মার্ক্সবাদের তঙ্কÄ সব থেকে বেশী প্রাসঙ্গিক- তারা হচ্ছে কাউন্সিল কমিনিউজমে বিশ্বাসি ইউরোপের অটো রুলে, হার্মান গর্টার, এনটন প্যানেকক। আমি মূলত তাদের চিন্তাভাবনা এবং তাদের সূত্র ধরে পরবর্ত্তিকালে শিল্প প্রযুক্তি বিপ্লবের প্রসঙ্গে আসব।

    আমি কেন কাউন্সিল কম্যুনিজম নিয়ে লিখছি তার একটা গৌড়চন্দ্রিকা দরকার। কাউন্সিল কমিনিউজমের ধারনা কমিনিউজমের ব্যার্থতার যুগে কেন প্রাসঙ্গিক সেটাও জানা দরকার। প্রথম কথা হচ্ছে ট্রেড ইউনিয়ান আন্দোলনের মাধ্যমে শ্রমিক শ্রেনীর কতটা স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে বা সমাজতন্ত্রের দিকে সিস্টেম কতটা অগ্রসর হয়েছে ? ভারত, আমেরিকা বাংলাদেশ যেদিকেই দেখি-সেদিকেই ব্যার্থতা। আমেরিকাতে এই দুই দিন আগে উইনস্কনসিন থেকে আইন করে সরকারি কর্মচারিদের ট্রেড ইউনিয়ান করা বন্ধ করা হয়েছে। রিপাবলকানরা হুমকি দিচ্ছে ক্ষমতায় আসলে গোটা আমেরিকাতেই তারা ট্রেড ইউনিয়ান বন্ধ করে দেবে। ইউরোপের ওয়েলফেয়ার দেশগুলির অবস্থাও ভাল না। ওয়েলফেয়ার চালাতে গিয়ে দেউলিয়া হওয়ার পর, সর্বত্র ছাঁটাইকে তাদের ও মেনে নিতে হচ্ছে নইলে ঘরে চুল্লী জ্বলবে না। ভারতে শ্রমিক বিরোধি বিল ঠেকানোর মতন বামশক্তি নেই-তারা ক্রমশ দুর্বল থেকে দুর্বলতর হচ্ছে। আগামী দিনে তাদের মাইক্রোস্কোপ দিয়ে খুঁজতে হবে। নতুন প্রজন্ম বিশ্বাস করা শিখছে বাম ধারনাগুলি ঐতিহাসিক ভুল-কারন তা সমাধান আনতে সর্বত্র ব্যার্থ। অথচ গোটা বিশ্বে ধনবৈষম্য বেড়েই চলেছে এবং শোষন ও বাড়ছে সীমাহীন ভাবে। গতবছর আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর গুলি চলেছে হরিয়ানা এবং বাংলাদেশে। এসব দেশে গরীবরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ-অথচ বামশক্তি দুর্বলতর হচ্ছে। অদ্ভুত না? বামেদের জিজ্জেস করুন তারা নিও লিবারিলজম, মিডিয়া ইত্যাদির সাতকাহিনী শুনিয়ে দেবে। অথচ বাম শাসিত রাজ্যেই বামেরা জমি হারাচ্ছে সবচেয়ে দ্রুত। গোটা পৃথিবীজুরেই এটা ঘটছে এবং বামেদের পিছু হটা কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা না।

    এর উত্তর কোন লেনিনবাদিকে জিজ্ঞসে করলে দেখবেন-সে আত্মবিশ্বাসের সাথে বলে দেবে-এমন ত জানা কথা। গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্র যে সোনার পাথরপাটি এবং আসলে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব দরকার-এসব নাকি, লেনিনের শোধনবাদের বিরুদ্ধের অবস্থানকেই দৃঢ় করে! অথচ এরা একবারেও স্বীকার করতে চাইছে না-লেনিনবাদ আসলেই স্টেট ক্যাপিটালিজম বা সরকারি ধনতন্ত্র ছাড়া কিছু না। এবং তা নির্মম আদিম মিশরের দাস প্রথার বেশী এই বিশ্বকে বেশীকিছু দিতে পারে নি। গত শতাব্দির সব গণহত্যা এবং দুর্ভিক্ষগুলি পৃথিবীকে লেনিনবাদের উপহার। পশ্চিম বঙ্গেও পাটিতন্ত্র মানুষের জীবনে অভিশাপ হিসাবেই এসেছে-তা আশীর্বাদ হয় নি।

    অর্থাৎ মার্ক্সবাদের লেনিনবাদি ধারা বা গনতান্ত্রিক সমাজতান্ত্রিক ধারা-দুটিই সম্পূর্ন ভাবে ব্যার্থ সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন। সুতরাং প্রশ্ন উঠবেই কেন বামপন্থা ব্যার্থ? তার মানে কি মার্ক্সবাদও ব্যার্থ? বলশেভিক বিপ্লবে লেনিনের নৃসংশতা এবং কৃষক শ্রমিকদের বিদ্রোহের ওপর লাল বাহিনীর কুত্তাকাটা আক্রমনে ১৯২০ সাল থেকেই ইউরোপের "বিপ্লবী" মার্ক্সিস্ট গোষ্টির অধিকাংশই বলশেভিক বিপ্লবের ভুয়ো তত্বে বিশ্বাস হারায়। আবার তারা এটাও দেখছিলেন, ট্রেড ইউনিয়ান আন্দোলন আসলেই শোষনের হাতকে শক্ত করছে। এর পর স্টালিন স্যোশালিজম ইন ওয়ান কাϾট্র ইত্যাদি ভুয়ো তঙ্কেÄর প্রচলন করতে আরো পরিস্কার হয় লেনিনবাদ আসলেই লাল-ফ্যাসিজম।

    সুতরাং এন্টন পেনকক, অটো রুলে এসব দেখে নতুন ধরনের বামপন্থী আন্দোলনের চিন্তা করতে থাকেন। তারা মূলত লেনিনবাদ, এনার্কিজম এবং স্যোশাল ডেমোক্রাসির ব্যার্থতা পর্যালোচনা করে-এই সিদ্ধান্তে আসেন যে ফ্যাক্টরি কাউন্সিল বা শ্রমিকদের হাতে উৎপাদনের সরাসরি মালিকানা ছাড়া বিকল্প নেই। রাষ্ট্রের হাতে মালিকানা মানে সেখানে পুঁজিপতিদের স্থানে যম হয়ে আসে পার্টি মেম্বার আর বুরোক্রাটরা। তাছারা পৃথিবীর সর্বত্র রাষ্ট্রায়ঙ্কÄ কারখানাগুলির উৎপাদিকা শক্তি দুর্বল। আর এনার্কিস্টরা উৎপাদন নিয়ে চিন্তাই করেন না। উৎপাদন কিন্ত একটা কাঠামো ছাড়া সম্ভব না। ট্রেড ইউনিয়ানের কথা ছেড়ে দিলাম। বর্তমান গ্লোবালাইজেশনের যুগে তারা তালপাতার সেপাই ছাড়া কিছুই না।

    লেনিনবাদ কেন সব জায়গায় ব্যার্থ এটা বিশ্লেষন করলে দেখা যাবে- রাষ্ট্রীয় দমননীতির চেয়েও ব্যার্থতার মূল কারন উৎপাদন ব্যাবস্থার উন্নতিতে ব্যার্থতা। চীনে গত ৪-৫ বছর ধরে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জন্যে কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না বিশেষ-সিঙ্গাপুরেও প্রায় ডিক্টেটরশিপ-কিন্ত বিপ্লবের আশঙ্কা নেই। এসবের মুল কারন, এই ফ্যাসিস্ট সিস্টেমগুলি উন্নত উৎপাদন ব্যাবস্থা নিয়ে আনতে সক্ষম যার কারনে জনগন বস্তুবাদি লাভেই তুষ্ট- রাজনৈতিক স্বাধীনতা নিয়ে তাদের মাথাব্যাথা নেই। পশ্চিম বঙ্গেও লেনিনবাদিদের শত অত্যচার সঙ্কেÄও, সিপিএম টিকে যেতে পারত-যদি তারা এটা বুঝত উৎপাদনে অগ্রগতি না হলে, তাদের সিস্টেমের মৃত্যু অবধারিত। মোদির ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে গুজরাট নীরব-কারন উৎপাদনে গুজরাট শীর্ষে। ধনতন্ত্রও টিকে আছে সেই উৎপাদন শক্তির জোরে। আমেরিকাতে আগে কখনো ধনতন্ত্রের বিরুদ্ধে মানুষকে এত সোচ্চার হতে লোকে দেখে নি। এখন দেখছে-কারন এখানে ধনতান্ত্রিক উৎপাদনে ভাঁটা পড়েছে বিশ্বায়নের কোপে। উৎপাদন শক্তিতে সংকট না এলে রাজনৈতিক সিস্টেমে সংকট আসে না। এটাই ইতিহাসের শিক্ষা। সোভিয়েত ইউনিয়ান থেকে সব কমিনিউস্ট দেশগুলি-এমনকি আমাদের ৩৫ বছর ক্ষমতায় থাকা সিপিএম ধ্বংশ হতে চলেছে শুধু একটাই কারনে-সেটি হচ্ছে এই রাজনৈতিক সিস্টেম অত্যন্ত দুর্বল উৎপাদন শক্তির জন্ম দেয়। আর এই দুর্বল উৎপাদন শক্তি থেকে জন্ম নেয় দারিদ্র, দুর্ভিক্ষ এবং বেকারত্ব-যা ক্রমশ বিদ্রোহের রূপ নেয়। আর তা থামাতে যখন পার্টির গুন্ডাবাহিনী মাঠে নামে-তখন কমিনিউজমের পতন হয় আরো দ্রুত।

    সুতরাং দুটি জিনিস সমাজতান্ত্রিক শাসনে দরকার-ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরন বা উৎপাদন ব্যাবস্থার ওপর উৎপাদকের মালিকানা এবং উন্নততর উৎপাদন। প্রথমটি গণতন্ত্রের প্রথম শর্ত। দ্বিতীয়টি সাম্যবাদের শর্ত।

    যৌথ মালিকানা উন্নততর উৎপাদন দিতে পারে কি না- সেটি বিতর্কিত। কিন্ত আমেরিকান স্টার্টআপ কোম্পানীগুলি উদ্ভাবনী শ্রমিকদের দ্বারাই শুরু হয়। চীনের বৃহত্তম কোম্পানী হুয়াইও ১০০% শ্রমিক মালিকানাধীন। এবং তা মাত্র ২০ বছরের মধ্যে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম টেলিকম কোম্পানীতে রূপান্তরিত। আমেরিকার বৃহত্তম টেলিকম কোম্পানী সিসকোকেও তারা ছাড়িয়ে গেছে। আমেরিকান স্টার্টাআপ এবং হুয়ায় বা জিটিই এর সাফল্য থেকে পরিস্কার শ্রমিক মালিকানাধীন কোম্পানী বা যৌথ শ্রমিক উৎপাদন ব্যাবস্থা বর্তমান ধনতান্ত্রিক উৎপাদন ব্যাবস্থার থেকে উন্নত উৎপাদন ব্যাবস্থা দিতে সক্ষম। আমি হুয়াই নিয়ে যতটা জানি-সেটাতে দেখেছি-সেখানে কোম্পানী পরিচালনের সর্বস্তরে শ্রমিকদের বক্তব্য থাকে। এটা আমেরিকান ধনতন্ত্রের উন্নত প্রযুক্তির কোম্পানীগুলিতেও হয়। কিন্ত সেখানে ছাঁটাই এর ভয়ে কেঐ কোম্পানীর সাথে নিজেকে মানসিক ভাবে জড়ায় না। দায়সারা ভাবে পেশাগত কাজ সারে। শ্রমিক মালিকানাধীন কোম্পানীগুলিতে স্বাভাবিক ভাবেই শ্রমিকদের আবেগ এবং মন অনেক বেশী জড়িয়ে থাকে। ভারতের মারোয়ারী কোম্পানীগুলি কোনদিন কোন উদ্ভাবনী প্রযুক্তির শিল্প গড়তে পারবে না। কারন তাদের কোম্পানীগুলি সম্পূর্ন শ্রমিক শোষনের ওপর তৈরী এবং সেখানে ম্যানেজমেন্ট সম্পূর্ন পরিবারের হাতে। মিত্তল থেকে আম্বানীর বিপুল সম্পত্তির উৎস সরকারকে ঘুঁশ খাওয়ানো -তারা মোটেও বিলগেটস বা জুকারবাগে মতন নতুন প্রযুক্তি তৈরী করে উৎপাদন বাড়াতে সক্ষম না। মনে রাখতে হবে বিল গেটস বা জুকারবাগও এক অর্থে শ্রমিক-মাইক্রোসফটে বা ফেসবুকে এরা নিজেরা কোড লিখেছেন।

    সুতরাং নানান উদাহরন থেকে পরিস্কার শ্রমিকের হাতে কোম্পাণীর সরাসরি মালিকানা থাকা উৎপাদনের জন্যে শ্রেষ্ঠতর। ভারতের আই আই টির ব্যাবস্থার সাফল্যও এখানে নিহিত। আই আই টি গুলি কিন্ত সরকারের নিয়ন্ত্রনে সরাসরি নেই-তা চলে সেনেটের দ্বারা যা অধ্যাপক নিয়ন্ত্রিত-স্বয়ত্বশাসিত। সুতরাং এই স্বয়ত্বশাসিত শ্রমিক মালিকানা-যাকে ফ্যাক্টরি কাউন্সিল বলে অবিহিত করা হয়-সেটাই মার্ক্সবাদি সমাজের বা শোষনমুক্ত সমাজের জন্য সর্বোত্তম পদ্ধতি।

    ফ্যাক্টরি কাউন্সিল বনাম ট্রেড ইউনিয়ানের পার্থক্য বোঝা দরকার। ট্রেড ইউনিয়ান আন্দোলন সফল হলে-তা কিন্ত উৎপাদন শক্তির বিরুদ্ধেই কাজ করে-এবং তা আজ গ্লবালাইজেশনের যুগে সংকটের মুখে। ই এস জেড বা স্পেশাল ইকনমিক জোন করে, ট্রেড ইউনিয়ানই তুলে দেওয়া হচ্ছে-কারন তা প্রতিযোগিতার বাজারে কোম্পানীকে তোলার বদলে ডোবাতে সক্ষম। স্পেশাল ইকনমিক জোনের সংখ্যা সব দেশেই বাড়ছে-এবং ট্রেড ইউনিয়ান ততটাই অপ্রাসঙ্গিক হচ্ছে। আই টি এবং বিপিও শিল্পেও ট্রেড ইউনিয়ান অপ্রসাঙ্গিক- অথচ এমন না এদের ওপর শোষন নেই। কালকেই পড়লাম ভারতের বিপিও গুলি আদিম দাস ব্যাবস্থা চালাচ্ছে। কলসেন্টারের একটি মেয়ে কোন কোন দিন আট ঘন্টার মধ্যে একবার বাথরুমেও যেতে পারে না ভয়ে- কল মিস হয়ে গেলে, চাকরী থেকে ছাঁটাই হবে। কারন এমন হয়েছে। অথচ, এদের ট্রেড ইউনিয়ান নেই-এরা ট্রেড ইউনিয়ানকে ঘৃণা করে। কারন এদের ধারনা এসব শিল্পে ট্রেড ইউনিয়ান চললে, বিপিওটা ফিলিপিন্সে বা আর্জেন্টিনাতে চলে যাবে। খুব অমূলক কিছু না। ট্রেড ইউনিয়ান আন্দোলনের চোটে পশ্চিম বঙ্গকে শিল্প শ্বশান বানিয়েছিল সিপিএম।

    এখানেই ফ্যাক্টরি কাউন্সিল ট্রেডইউনিয়ান থেকে এগিয়ে থাকবে। ফ্যাক্টরি কাউন্সিলের ধারনায় কারখানার মালিকানা এবং ম্যানেজমেন্ট শ্রমিকদের হাতে। সেখানে ফ্যাক্টরিতে উৎপাদন না হলে-কোম্পানী লসে চললে-তাদের বেতন হবে না। আবার লাভ করলে, লাভের ভাগ সবাই পাবে। সুতরাং ফ্যাক্টরি কাউন্সিলে উৎপাদন আরো বাড়ে-শ্রমিকরা আরো দ্বায়িত্ব নিয়ে কাজ করে-এবং তার লাভটাও তারা ভোগ করে। সম্প্রতি চীন এর একটা ভাল উদাহরন রেখেছে। সেখানে অনেক গ্রামে "উৎপাদন কমিনিউটি" তৈরী হয়েছে যেখানে গ্রামটাকেই একটা কোম্পানী করে দেওয়া হয়েছে। এমন একটা গ্রাম উজিয়াজুই। ১৯৯৫ সালের আগে এটি ছিল গরীব জেলেদের গ্রাম। এখন সেখানে অনেক আধুনিক উৎপাদন কারখানা। গ্রামের সবাই তার মালিক। গ্রামবাসীদের বার্ষিক উপায় ৯০০০ ডলারের ওপরে। এবং তারা সপ্তাহে সাতদিনই খাটে। করবেই বা না কেন? লাভের গুড়ত মালিকের পকেটে যাচ্ছে না-পাচ্ছে তারাই।

    (৪)
    উৎপাদন ব্যাবস্থাতে শ্রমিক মালিকানা এলে রাজনৈতিক নেতৃত্বের কি পরিবর্তন হবে? একথা বলার অপেক্ষা রাখে না, বর্তমানের গণতন্ত্র সম্পূর্নভাবেই মালিক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। সেখানে সাধারন মানুষের প্রত্যাশাপূরন অনেকটা বাচ্চাকে ললিপপ খাওয়ানোর মতন। যেটুকু দিলে স্থিতিশীল অবস্থা জারী থাকে এবং একটি স্বার্থপর মধ্যবিত্ত শ্রেনী [ বুর্জোয়া কথাটা ব্যাবহার করলাম না] সেই ব্যাবস্থার সেবাদাস হিসাবে নিজেদের নিয়োজিত করে-ঠিক সেই ভাবে চলছে বর্তমানের পার্লামেন্টারী গণতন্ত্র বা প্রক্সি গণতন্ত্র। তবুও তার মধ্যেও কিছু ভাল আছে-যেমন ক্ষমতার কেন্দ্রীকরন অন্তত এখানে হয় না-যা সবার আগে দরকার। আবার জনগনের হাতে ক্ষমতাও যায় না।

    বর্তমান গণতন্ত্রের সংকট সব থেকে ভাল বোঝা যাচ্ছে এখন আমেরিকাতে। ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট ফিল্ম। রিপাবলিকানরা চাইছে বড়লোকদের ট্যাক্স কমাতে এবং সব ধরনের স্যোশাল ওয়েলফেয়ার তুলে দিতে। ডেমোক্রাটরা চাইছে ওয়েলফেয়ার রাখতে আর বড়লোকদের ওপর ট্যাক্স বসাতে। এখানে শ্রেনীদ্বন্দ গণতন্ত্রের মাধ্যমে খুব সামনে এসে গেছে। কিন্ত জিতছে কে? রিপাবলিকান রা। কেন? আমেরিকাতে সবাই ধনী হয়ে গেল না কি? না সেরকম কিছুই না। বেসিক্যালি ব্যাবসায়ীরা ডেমোক্রাট এবং রিপাবলিকান সবাইকেই কিনে নিয়েছে। যার জন্যে ডেমোক্রাটরা যখন নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী ছিল সাধারন মানুষের ভোটে জিতে- তখন না কমালো ডিফেন্স বাজেট-না বাড়ালো বড়লোকদের ওপর ট্যাক্স। আবার ভোট পাওয়ার জন্যে ওয়েল ফেয়ার ও রেখে দিল। বড়লোকদের ওপর ট্যাক্স বাড়ালো না -কারন তাদের টাকাতেই নির্বাচনী তহবিল ফুলে ওঠে। ফলে আমেরিকা দেউলিয়া হওয়ার দিকে এগোচ্ছিল- সঙ্গত কারনে আমেরিকান কংগ্রেসে রিপাবলিকানরা জিতল এবং তারা ওয়েলফেয়ার উঠিয়ে দিতে চাইছে এখন। কিন্ত বড়লোকদের পকেটে হাত দেওয়া যাবে না! গরীবদের শিক্ষা আর চিকিৎসার টাকা কাট! অর্থাৎ এই শ্রেণীদ্বন্দে স্যোশাল ডেমোক্রাটরা হেরে যাচ্ছে কারন তারাও ব্যাবসায়ীদের হাতে বিকিয়ে আছে। আমাদের সিপিএম থেকে আমেরিকার ডেমোক্রাট-কেঐ এর ব্যাতিক্রম না।

    বটমলাইন হচ্ছে উৎপাদন ব্যাবস্থা যার হাতে- গনতন্ত্র তথা রাজনীতির রাশ তার হাতেই থাকবে। এটাই হওয়া উচিত-এবং গনিতিক নিয়মেই তাই হয়। লেনিনবাদিরাও এটাই জানেন। কিন্ত সরকার যদি সেই উৎপাদন ব্যাবস্থার ওপর অধিকার নিতে যায়-তখন ক্ষমতা যায় বুরোক্রাটদের হাতে। সোভিয়েত ইউনিয়ান বা নেহেরুর ভারতে সেটাই হয়েছিল। সেটা আরো খারাপ। ব্যাবসায়িদের যাও বা দায়বদ্ধতা আছে বুরোক্রাটদের তাও নেই। সুতরাং ফ্যাক্টরি কাউন্সিল বা কোপরেটিভ গুলি শক্তিশালী হলে রাজনীতিতে বড় কোম্পানীর স্থলে, ক্ষমতার কেন্দ্র এদের হাতেই আসবে। এবং সেটা হবে নীরব মার্ক্সীয় বিপ্লব-যা গণতন্ত্রের ধারাবাহিক বিবর্তনের মাধ্যমেই সম্ভব। শুধু দিশাটা ঠিক থাকলেই হল। আর চীনের মডেলে শ্রমিক পরিচালিত কোম্পানীগুলির পেছনে সরকারি ব্যাঙ্ক এবং সরকারের ব্যাপক সাহায্য দরকার। শেষের কাজটা গনতান্ত্রিক উপায়েই সম্ভব। তার জন্যে ছত্রিশগড়ের জঙ্গলে গিয়ে পুলিশ মারতে হয় না।
  • lisa | ১৯ এপ্রিল ২০১১ ০৩:০৫471299
  • শিয়ালে বেগুন খায়
  • Biplab Pal | ১৯ এপ্রিল ২০১১ ০৯:১৭471410
  • লেখাটি নিয়ে মুক্তমনাতে কিছু গুরুত্বপূর্ন আলোচনা হয়েছে-
    আমি তার লিংক দিলাম:

    http://mukto-mona.com/banga_blog/?p=15798&cpage=1#comment-55396

    অনেক চিন্তাই লেখার মধ্যে আনতে পারি নি-তা আলোচনার মাধ্যমে অনেকটাই মুক্তমনাতে পরিস্কার হচ্ছে।
  • kallol | ১৯ এপ্রিল ২০১১ ১৩:২৬471425
  • বিপ্লববাবু - অসম্ভব দরকারী একটা লেখা লিখছেন। কাউন্সিল কমিউনিজম নিয়ে জানতাম না। আরও বিশদে জানতে চাই।
    আপনার সাথে মার্ক্স বা লেলিনের সমাজতন্ত্র নিয়ে একমত - ওটা আসলে রাষ্ট্রীয় পুঁজিবাদ, যেখানে উৎপাদন ব্যবস্থা বা সম্পর্ক কোনটাই মৌলিকভাবে পাল্টায় না।
  • Biplab Pal | ১৯ এপ্রিল ২০১১ ১৯:০৯471436
  • কল্লোল বাবু
    পশ্চিম বঙ্গ বাসী হিসাবে লেনিনবাদের ব্যার্থতা আপনার না জানার কথা না। আপনি ঠিকই বলেছেন-লেনিনবাদে উৎপাদন এবং উৎপাদকের মৌলিক সম্পর্ক বদলায় না। বরং আরো ক্ষতি হয়। মুক্তমনাতে এই নিয়ে আমি আরো আলোচনা করছি। এখানে আবার সব বঙ্গবাসী বামেরদের আড্ডা-যাদের কাছে মার্ক্সবাদ পাতা চেবানো তোতাকাহিনী। অধিকাংশই এসব কিছু বোঝে না। কারন সেই রিয়ালাইজেশনই নেই-তারা কলেজ থেকে পার্টি করেছে। উৎপাদন ব্যাবস্থার সাথে জড়ায় নি-ফলে এসব বুঝবে বলে মনে হয় না। কিন্ত জনগন কাউন্সিল কমিনিউজম না বুঝলে বাম আন্দোলনের ক্ষতি হবে-ধুয়ে মুছে যাবে ধনতন্ত্রের উৎপাদন শক্তির কাছে। এবং শোষন আরো বাড়তেই থাকবে।
  • aka | ১৯ এপ্রিল ২০১১ ১৯:২২471447
  • উৎপাদনের জন্য টাকা আসবে কোথা থেকে?
  • Arpan | ১৯ এপ্রিল ২০১১ ২০:১১471458
  • লেখাটা পড়তে ভালো লাগছে। মুক্তমনার লিংটা আরেকবার দেবেন? (ইউনিকোডে পোস্টালে ঠিকঠাক লিং আসেনা। "বাংলা লেখার নতুন কলে' বা "এই বিষয়ে আপনার মতামত দিন" বাংলাপ্লেন ইন্টারফেসের এই দুটো টুলের কোন একটা ইউজ করুন)

    আকাবাবুর মত আমারো কয়েকটা ফান্ডামেন্টাল কোশ্ন আছে। লেখাটা শেষ হলে করব।
  • Biplab Pal | ১৯ এপ্রিল ২০১১ ২০:১৬471469
  • mukto-monarLink:

    http://mukto-mona.com/banga_blog/?p=15798

    টাকা বা ফাইনানিসাল স্টাকচার কি হবে-সেটা নিয়ে মুক্তমনাতে আমার এই কমেন্টটা দেখুন:

    & ১০ নাম্বার কমেন্টটা দেখুন। কোয়াপরেটিভ ব্যাঙ্কিং সহ নানান ভাবে বিকল্প ফাইনান্সিয়াল স্টাকচার দাঁড় করানো যায়। যা যৌথ মালিকানার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ন।
  • Biplab Pal | ১৯ এপ্রিল ২০১১ ২০:১৭471480
  • MMLink:
    http://mukto-mona.com/banga_blog/?p=15798
  • Biplab Pal | ১৯ এপ্রিল ২০১১ ২০:২২471189
  • লিংক আসছে না। দুর্বল টেকনোলজি!!

    আপনারা কপিপেস্ট করুন এখান থেকে:

    www.mukto-mona.com

    বাংলা ব্লগে চলে গেলে প্রথম পেজেই আছে লেখাটা-নইলে ফেসবুকে বাংলার রাজনীতি ফোরামেও দেখতে পারেন: ওখান থেকেও মুক্তমোনার লিংক পাবেন:

    http://www.facebook.com/bengalpolitics
  • aka | ১৯ এপ্রিল ২০১১ ২১:৪৯471211
  • আচ্ছা কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক নিয়ে পরে কথা বলা যাবে।

    ধরা যাক শ্রমিকের হাতে মালিকানা। সব শ্রমিকের সমান মালিকানা? কোনো হায়ার্কি নেই?

    বেশির ভাগ পাব্লিক কোম্পানিই তো তাই। মানে যেমন আমি x কোম্পানির চাকুরে কিন্তু শেয়ার কিনি y কোম্পানির। আবার x কোম্পানির কিছু প্রফিট শেয়ারিং পাই। এর থেকে আলাদা কিসে?
  • Biplab Pal | ১৯ এপ্রিল ২০১১ ২২:০২471222
  • % -%

    , ? -% %

    - %

    % %
  • aka | ১৯ এপ্রিল ২০১১ ২২:০৪471233
  • এটি কোন ভাষায় লেখা?
  • Biplab Pal | ১৯ এপ্রিল ২০১১ ২২:৩৪471244
  • পাবলিক কোমপানী পৃথিবিতে কটা? আর সেখানে মালিকানা কি শ্রমিকদের হাতে? আমাদের কোমম্পানীতে শ্রমিকদের জন্যে ১-২% শেয়ার থাকে-সেটা ৫০-৬০% করতে হবে। বাকিটা ফাইনান্সিয়াল সংস্থাগুলোর হাতে থাকুক। কিন্ত ফাইনান্সিয়াল সংস্থাগুলোকেও কোয়াপরেটিভ ব্যাঙ্ক হতে হবে।

    আর প্রথমে যখন কোম্পানী শুরু হয়-সেখানে শ্রমিকদের শেয়ার আইন করে ৫০-৭০% করতে হবে। এখন ০% ও থাকে না-কোন কোন কোম্পানী ৫% শ্রমিক শেয়ার রাখে।

    ১-২% এর সাথে ৫০-৬০% এর অনেক পার্থক্য আছে। স্টার্ট আপ গুলো কাউন্সিলের কাছা কাছি আসবে। কিন্ত যখন সেখানে এঞ্জেল ইনভেস্টর ঢুকে যাচ্ছে, শ্রমিক মালিকানা ডাইলুট হচ্ছে।

    একটা উদাহরন দিচ্ছি। ফেসবুক কিনতে চেয়েছিল মাইক্রোসফট-জুকারবার্গ দেয় নি। কারন সে ছিল একাধারে মালিক ও কর্মী। সে জানত মাইক্তোসফট কিনলে ২০০৮ সালেই ফেসবুক শেষ। কারন মাই স্পেস কেনার পর মালিকরা লাভ লাভ করে এত নেচেছে-মাই স্পেস প্রায় উঠেই গেল। সেখানে ফেসবুক যেহেতু ছিল কর্মি [ এবং আছে] পরিচালিত সংস্থা-তারা লাভের তোয়াক্কা না করে- সৃষ্টি করাতে বিশ্বাস করেছে। এটাই শ্রমিক পরিচালন বনাম মালিক পরিচালনের পার্থক্য।
  • Biplab Pal | ১৯ এপ্রিল ২০১১ ২২:৩৮471255
  • আর সবার সমান মালিকানা সম্ভব না। সোভিয়েত বা কিউবাতেও সবার মাইনা সমান না। কিন্ত অনুপাতটা ১: ৫ এর মধ্যে থাকে। এটা না হলে আবার উন্নততর উৎপাদন সম্ভব না। এখন ম্যানেজ মেন্ট বনাম শ্রমিকের বেতন রেশিও ১ : ২০০ এর কাছাকাছি ভারতে।
  • lcm | ১৯ এপ্রিল ২০১১ ২৩:০৬471266
  • হে, হে, ফেসবুক শ্রমিক/কর্মি পরিচালিত সংস্থা।
    মার্ক জুকের্বার্গ ২৪%... অন্যরা ১০%, ৫% ... এরকম করতে করতে, এখনও ৩০% বরাদ্দ হাজার দুয়েক এমপ্লয়ি-র জন্য... তাও এখনও ipo হয় নি, তারপর তো আরো ভাগ....

    যাই হোক, মার্ক্সবাদ নিয়ে এক পিস --

    ছাত্র: স্যর, মার্ক্সবাদ দিয়ে কি করে চলবে, পথে বসে যাবো স্যর।

    শিক্ষক: তা, তোমরা কি ভেবেছ, এরকমই হাওয়াবাজি চলবে। দিনের পর দিন। আমি মার্ক্সবাদ এর লজিক থেকে সরছি না।

    ছাত্র: ছেয়েছি তো মোটে ৪০। তাও দেবেন না। এত কম মার্ক্স নিয়ে চাকরির বাজারে স্যর....
  • Biplab Pal | ১৯ এপ্রিল ২০১১ ২৩:১৮471277
  • যদি আইন থাকে দুজন কর্মীর মধ্যে শেয়ারের পার্থক্য ১: ৫ এর বেশী হবে না-তাহলেই ত এসব সমস্যা হয় না। এসব এমন কিছু বড় সমস্যা না। সামান্য আইন সংস্‌ক্‌লারেই বদলানো যায়।

    আমি ফেসবুকের উদাহরন দিয়েছিলাম কর্মীপরিচালনের উৎকর্ষ দিকটা দেখাতে। আমি বলিনি ফেসবুকে শেয়ার ডিসট্রিবিউশনটা মডেল। আমার উদাহরন ছিল যৌথমালিকানার উৎকর্ষ দেখানোতে-তার ফর্ম কি হবে তাই নিয়ে অনেক পরীক্ষা চালানো উচিত।
  • dri | ১৯ এপ্রিল ২০১১ ২৩:৩২471288
  • এই আইন সংস্কার একেবারেই সামান্য নয়! আইন যারা সংস্কার করে (যে কোন দেশের লেজিস্লেটিভ বডি) তারা তো হেভিলি ফাইনান্স্‌ড বায় টপ বসেস অফ বিগ কোম্পানী এবং ফিনান্সিয়াল সেক্টার। তারা কেন নিজেদের শেয়ার কমানো সাপোর্ট করবে? কোন একজন ভোটপ্রার্থী এইসব করবে বললে তো সঙ্গে সঙ্গে তার থেকে সব ফাইনান্সিয়াল সাপোর্ট সরিয়ে নেবে। পয়সা ছাড়া কি আজকাল ভোটে লড়া যায়? কোথাও?
  • dri | ১৯ এপ্রিল ২০১১ ২৩:৩৯471300
  • আর তাছাড়া ফেসবুকের উৎকর্ষের রিয়েল কারণ যে লাভের আনন্দের বদলে সৃষ্টির আনন্দ সেটা আমার কাছে খুব স্পষ্ট নয়।

    মোরওভার, লাভের আনন্দে অন্য অনেক কোম্পানী অনেক কিছুই সৃষ্টি করেছে আগে।

    সৃষ্টির আনন্দ উন্নততর উৎকর্ষে পৌঁছে দেয় কিনা সেটা বিতর্কের বিষয়।

    তবে একথা ঠিক, এই ব্যবস্থায় সবচেয়ে বড় বেনিফিশিয়ারি হবে বড় বড় কোম্পানী কাজ করে এমন কর্মীরা। কিন্তু চায়ের দোকান তো এই মডেলে চলবে না। অতয়েব চায়ের দোকানের কর্মীর কোন লাভ নেই।

    রাস্ট্রীয় পুঁজিবাদের বদলে আমরা ফর্চুন-ফাইভ-হান্ড্রেড-কোম্পানী-এমপ্লয়ীজ পুঁজিবাদ তৈরী করছি না তো?
  • dri | ১৯ এপ্রিল ২০১১ ২৩:৫৭471311
  • এই নিয়মের আওতায় এলে যাদের রিয়েল লাভ, সেইসব কোম্পানীর কর্মীসংখ্যা পৃথিবীর টোটাল পপুলেশানের কত পার্সেন্ট?

    আপনি কী ভাগচাষী, কাপড়ের কলের শ্রমিক, চায়ের/কোকোর ক্ষেতের শ্রমিক, খনির শ্রমিক, সোনার ইন্ডাস্ট্রির শ্রমিক এদের সব্বাইকে এর আওতায় রাখার কথা বলছেন? দ্যাট্‌স আ টল অর্ডার।

    রয়্যাল ডাচ শেলের শেয়ারের সিংহভাগ ডাচ রানী বিয়াট্রিক্সের হাতে। ব্রিটিশ পেট্রোলিয়ামের সিংহভাগ ব্রিটিশ রাজপরিবারের হাতে। আপনি কী এগুলো বদলানোর কথা বলছেন? মেনে নেবে? এর সাকসেসের চান্স কত বলে আপনার মনে হয়?

    আপনি শুধু বলছেন ভারতের ন্যাশানালাইজ্‌ড ব্যাঙ্ক যেন শ্রমিক মালিকানায় চলে আসে। প্রাইভেট ব্যাঙ্কের (সিটিব্যাঙ্ক, স্ট্যানচার্ট, ডয়েচ ব্যাঙ্ক, এইচ এস বি সি ...) স্ট্রাকচার না বদলে ভারতের ব্যাঙ্কের স্ট্রাকচার বদলে দেওয়ার প্রোপোজালে আমার সন্দেহবাতিক মন নানা রকম 'কু' দেখে। কে আটকাবে টেক ওভার? এইসব স্টার্টাপগুলোর দিকে তাকলেই তো বোঝা যায়। সফলগুলো তো সবই গিলে খেয়ে নেয়।
  • dri | ২০ এপ্রিল ২০১১ ০০:০৮471322
  • মানুষ একত্রিত হয়ে নন-হাইরার্কিকাল ভাবে ডিসিশান নিচ্ছে, এটা ছোট 'সমমনস্ক' গ্রুপে যদি বা সম্ভব (স্টার্টাপ কেসে) এর স্কেলেবিলিটি নিয়ে আমার ঘোর সন্দেহ আছে। যত বেশী লোক বাড়ে, ডাইভার্সিটি অফ ওপিনিয়ান বাড়ে, ডিসিশানে আসা ডিফিকাল্ট হয়।

    আর ডিসিশান ছাড়া কোম্পানী চলে না। বিতর্ক ফর বিতর্কজ সেক এইসব ফোরামে চলতে পারে, কোম্পানীতে নয়।
  • Biplab Pal | ২০ এপ্রিল ২০১১ ০০:২২471333
  • গনতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে শ্রম আইন বদলানো যাবে না, শ্রমিক মালিকানা আইন আনা যাবে না-একথা মানতে রাজী না। একথা মানলে, এটাও মানতে হয়-বামপন্থী আন্দোলনই সম্ভব না।

    কিন্ত আমরা দেখেছিত ভাগচাষিকে জমির মালিকানা দেওয়া সম্ভব। সেটা হলে এটাও হবে-দরকার শক্তিশালী সঠিক বামপন্থী আন্দোলনের। লেনিনবাদিদের বাম আন্দোলনের নামে পার্টিবাজি করলে কিস্যু হবে না।

    আর হ্যা-এটা অবশ্যই কাপরের কল, গেঞ্জির ফ্যাক্তরি, খনি-সবার জন্যেই প্রযোয্য। চায়ের দোকানেও এটা চলে, যদি সেগুলো আইনত রেজিস্টার করে।
  • Biplab Pal | ২০ এপ্রিল ২০১১ ০০:২৪471344
  • মানুষ একত্রিত হয়ে নন-হাইরার্কিকাল ভাবে ডিসিশান নিচ্ছে, এটা ছোট 'সমমনস্ক' গ্রুপে যদি বা সম্ভব (স্টার্টাপ কেসে) এর স্কেলেবিলিটি নিয়ে আমার ঘোর সন্দেহ আছে। যত বেশী লোক বাড়ে, ডাইভার্সিটি অফ ওপিনিয়ান বাড়ে, ডিসিশানে আসা ডিফিকাল্ট হয়।

    আর ডিসিশান ছাড়া কোম্পানী চলে না। বিতর্ক ফর বিতর্কজ সেক এইসব ফোরামে চলতে পারে, কোম্পানীতে নয়।


    ডিসিশান তে নেবে ম্যানেজমেন্ট- সিইও। কিন্ত তাদের মালিক শ্রমিকরা। এখনকার মতনই চলবে-শুধু ম্যানেজমেন্টকে শ্রমিকদের স্বার্থ মেনে চলতে হবে-কারন তারাই মালিক। এটাই বিরাট পার্থক্য।
  • Biplab Pal | ২০ এপ্রিল ২০১১ ০০:৩১471355
  • শ্রমিক মালিকানা কেন ব্যাক্তি মালিকানার থেকে অনেক ভাল ( উন্নত উৎপাদনের প্রশ্নে) তার উদাহরন ফেসবুক বনাম মাইস্পেসের লড়াই।

    ২০০৭ সালে স্যোশাল নেটওয়ার্কে মাইস্পেস ছিল লিডার-সেটা তখন শ্রমিক প্রধান কোম্পানী। ফেসবুক তখন ওদের থেকে অনেক ছোট। সেই সময় মুড্রক কিনে নিল মাইস্পেস ৭৫০ মিলিয়ান ডলারে। তারপর থেকে মাইস্পেস গাধার ঘারে গেল। কারন মুদ্রক শুধু লাভ লাভ করে মাইস্পেস কে ইনোভেট করতে ভুলিয়ে দিল।

    কিন্ত জুকারবার্গ মাইক্রোসফটের কাছে ফেসবুক বেচলেন না। ১ বিলিয়ানের অফার ছিল। কারন তিনি তখনো কর্মী-ফেসবুক নিয়ে তার অনেক কিছু কোড লেখা বাকী আছে। কারুর দাস হতে রাজী নন জুকারবার্গ। মাইস্পেস যখন বিজ্ঞাপন নিয়ে ব্যাস্ত, জুকারবার্গের টিম যার ফেসবুকের মালিকও বটে তারা সৃষ্টির খেলায় মেতেছিলেন। এবং তারাই জিতলেন।

    কিন্ত ক্ষতি কার হল-মাইস্পেসের একসময় ১৫০০ কর্মী ছিল। এখন সবাই বেকার। কারন তারা মালিকানা হারাতে মাইস্পেস সব সিদ্ধান্ত যা নিয়েছে-ভুল। ক্ষনিকের লাভের জন্যে সিদ্ধান্ত তারা নিত না-তাদের হাতে মালিকানা থাকলে।
  • dri | ২০ এপ্রিল ২০১১ ০০:৩৮471366
  • গণতান্ত্রিক আন্দোলনটা কী কেস? (শুনতে খুব সুন্দর লাগছে, কিন্তু একদম ভিজুয়ালাইজ করতে পারছি না)। আপাতত, আমেরিকান গণতান্ত্রিক ফ্রেমওয়ার্কে আমরা দেখছি ইউনিয়ান ক্রমাগত গ্রাউন্ড লুজ করতে। উইসকন্সিনে, ওহায়োতে। এর আগে জি এমের ব্যাঙ্ক্রাপ্সির সময় অটো ইউনিয়ান পুরো ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।

    ভারতের ক'টা স্টেটে ভাগচাষীর মালিকানা আছে? পৃথিবীর? জিম্বাবোয়েতে জমির মালিকানা জোর করে সাদাদের থেকে কেড়ে নেওয়ায় বৃটেনের রাগ এখনও যায় নি। এক্সপেক্ট কোভার্ট অপারেশান এনি ডে। আইভরি কোস্টে তো ব্রুটাল ভাবে সৈন্য পাঠিয়ে একটা আই এম এফের এজেন্ট বসালো।

    কিউবার আজকের খবরগুলো দেখে নিন।

    ফিদেল কাস্ত্রো পার্টি থেকে রিজাইন করলেন। http://www.bloomberg.com/news/2011-04-19/fidel-castro-says-he-won-t-be-part-of-communist-party-s-central-committee.html
    কিউবার কমিউনিস্ট পারি সুইপিং ইকনমিক রিফর্ম অ্যাপ্রুভ করল। http://abcnews.go.com/International/wireStory?id=13401742
    কিউবার পার্টি কংগ্রেস প্রাইভেট প্রপার্টি অ্যাপ্রুভ করল। http://www.bbc.co.uk/news/world-latin-america-13125104

    কোনদিকে যাচ্ছি আমরা? প্রাইভেট প্রপার্টির স্যাংটিটির দিকে? না যৌথ খামারের দিকে?
  • Biplab Pal | ২০ এপ্রিল ২০১১ ০০:৩৯471377
  • এই নিয়মের আওতায় এলে যাদের রিয়েল লাভ, সেইসব কোম্পানীর কর্মীসংখ্যা পৃথিবীর টোটাল পপুলেশানের কত পার্সেন্ট?


    সব সংস্থাকেই যৌথ শ্রমিক মালিকানাতে নিয়ে আসা সম্ভব। আমি উদাহরন শুধু কিছু কিছু গ্লোরিফায়েড কোম্পানীর দিচ্ছি-শুধু বোঝাতে ঐসব জায়গায় যদি শ্রমিক মালিকানা সব থেকে বেশী উৎকর্ষ এবং উৎপাদন দিতে পারে, অন্যত্র তা আরো সহজে সম্ভব।

    আমার উদাহরন গুলো অনেক পাঠকের বুঝতে ভুল হচ্ছে। মনে রাখবেন আমি লিখছি একটা জিনিসের ওপর ভিত্তি করে

    সেটা হচ্ছে উন্নততর উৎপাদন ব্যাবস্থা জিতবে। সেটাই কারন লেনিনবাদের হারার এবং ট্রেড ইউনিয়ানের বিলুপ্তির। সুতরাং আমাদের এমন একটা সমাজতান্ত্রিক কাঠামো ভাবতে হবে, যা বর্তমানের ধনতান্ত্রিক ব্যাবস্থাকে উৎপাদনে হারাতে সক্ষম। সেটা না হলে, আমরা ভুল পথে ভাবছি বামপন্থা নিয়ে। যা এতদিন ভাবা হয়েছে। ঠিক সেই কারনেই আমি ফেসবুক, হুয়াই এর উদাহরন দিলাম। কেন না ওগুলো সর্বাধিক উন্নত ধনতন্ত্রে ব্যাক্তি মালিকানাকে হারিয়েছে। প্রমান করার জন্যে, যে শ্রমিক মালিকানা উৎপাদনের জন্যে অনেক বেশী ভাল। অবশ্যি রাষ্ট্র মালিকানা সর্ব অধম। সেটাও মাথায় রাখবেন।
  • Biplab Pal | ২০ এপ্রিল ২০১১ ০০:৪৪471388
  • কোনদিকে যাচ্ছি আমরা? প্রাইভেট প্রপার্টির স্যাংটিটির দিকে? না যৌথ খামারের দিকে?


    কীঊবা বা সোভিয়েতে মোটেও যৌথ খামারে শ্রমিক মালিকানা ছিল না। সেগুলো সরকারি মালিকানা।
    সুতরাং আপেলের সাথে অরেঞ্জের তুলনা হচ্ছে। যৌথ খামারের শ্রমিক মালিকানা আর রাষ্ট্রিয় মালিকানা একবস্তু না। তাই কিউবাতে যা হচ্ছে, ঠিক হচ্ছে। তাই হওয়ার ছিল। রাষ্ট্রের হাতে মালিকানা থাকলে তাই হবে,

    ট্রেড ইউনিয়ান কেন ধ্বংশ হবে-সেটাও আমার লেখাতেই আছে। সেটা কি আমার লেখার বিরুদ্ধে যায়???
  • dri | ২০ এপ্রিল ২০১১ ০০:৪৭471399
  • মাইস্পেস জাস্ট একটা এগ্‌জাম্পল। নিশ্চয়ই কোন ভুল ডিসিশান নিয়েছিল। কিন্তু মাইক্রোসফ্‌টের অনেক সফল প্রডাক্ট আছে। ইনোভেশানও কম নেই। সেগুলো সবই লাভের ফ্রেমওয়ার্কে, সৃষ্টির ফ্রেমওয়ার্কে নয়।

    সৃষ্টির আনন্দে চলে এরকম অনেক স্টার্টাপ কিস্যু করতে না পেরে বন্ধ হয়ে যায় এরকম এগ্‌জাম্পল আছে।

    একটা এগ্‌জাম্পল দিয়ে একটা প্যারাডাইম প্রুভ করা যায় না।

    এবং ফেসবুকের সাফল্যের কারণ সৃষ্টির আনন্দ না অন্য কিছু সেটাও ইনভেস্টিগেট করার প্রয়োজন আছে। সাফল্যের রিয়েল কারণ বার করতে গেলে কেস স্টাডিটা আরো ডিটেলে করা দরকার।
  • dri | ২০ এপ্রিল ২০১১ ০০:৫২471411
  • সি ই ও যখন ডিসিশান নেবে তখন শ্রমিকের কথা মাথায় রাখবে বেশী, না লাভের কথা মাথায় রাখবে বেশী? দুটো কি ক¾ট্রাডিক্টারী হতে পারে?
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঝপাঝপ প্রতিক্রিয়া দিন