এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  বইপত্তর

  • ঐতিহ্যমন্ডিত বাংলা চটি সিরিজ

    sumeru
    বইপত্তর | ২৯ জানুয়ারি ২০১০ | ৮৪৫৫০ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • π | ২৫ মার্চ ২০২২ ১০:২৪736084
  • অভিজিত চক্রবর্তী লিখলেন,
     
    আমি কবীর সুমনের ভক্ত। তাঁর গান বিশুদ্ধ বাংলা গান হিসেবেই শুনেছি। “তোমাকে চাই, তোমাকে চাই” গানে ‘হরিবোল হরিবোল’ ধ্বনিই আমার কানে বেজেছে। গীটার বলতে এখনও শ্রী সুনীল গাঙ্গুলি, বটুক নন্দী এবং অভিজিৎ নাথের বাজনায় “লুঘু সঙ্গীতের সুর” এবং ব্রীজভুষন কাবরার হাতে বেজে ওঠা রাগসংগীতই বুঝি। কৃত্তিবাসী ও কাশীরামদাসী আখর, পাঁচালি ও পদ রচনার বহু পুরোনো আঙ্গিককে মূল ধরে কবিতা রচনার নতুন এক সম্ভাবনার খোঁজ দিয়েছেন শ্রী সোমনাথ রায়, গুরুচন্ডালী প্রকাশিত তাঁর “অরূপ বৃন্দাবন ও অন্যান্য পদ” কাব্যগ্রন্থে। কবিতার স্বাস্থ্যের জন্য এ লক্ষ্মণ ভাল না খারাপ, সম্মুখ- নাকি পশ্চাৎগামীতা, সে কথা পন্ডিতজন বলতে পারবেন। আমার মতন গানশোনা কবিতা পাঠকের এই চটি বইয়ের পাঠ-অভিজ্ঞতা অসাধারণ, নিবেদন এইটুকুই। 

    বইটি পাঠ করে আমার শুরুতে কীর্তন শোনার অভিজ্ঞতাই হচ্ছিল। যদিও অরূপ বৃন্দাবনে কীর্তনের পদ এবং পাঁচালির মাঝখানে সোমনাথ অবলীলাক্রমে পেতে রেখেছেন ল্যান্ডমাইন এবং তারা পাঠককে কিছু আগে থেকে না জানতে দিয়ে কখনও কখনও সশব্দে ফেটে পড়েছে। 

    কীর্তন চলাকালীন অবিচ্ছিন্নতার পদের শেষটুকু এমন – 

    ...”ভক্ত জেনেছে তাঁর বিরহেই মধুর রমণ 
    স্বয়ংকৃষ্ণ থেকে প্রিয়তর কৃষ্ণস্মরণ 
    চক্রপাণির প্রেমে চরকা সে থামেনি বিরামে 
    বাংলার কারিগর পৃথিবী গড়েছে হরিনামে।“ 

    খোল কর্তাল সরিয়ে রেখে এবার সোমনাথ ঢুকে পড়েন ঠাকুমার ঝুলিতে –
     
    “রূপ দেখতে তরাস লাগে বলতে লাগে ভয় 
    রাক্ষসীরা কেমন করে মানুষ হয়ে রয় 
    কেমন করে ঘরের থেকে টুকরো করে ঘর 
    শব্দ ছেড়ে ঠিকরে আসে কবন্ধ অক্ষর 
    কেমন করে ভাতের থালায় বিষ মেখে নেয় লোকে 
    উগরে ফেলে আগুন আর আঙুল দিয়ে শোঁকে 
    আর্তনাদের শিষ চলে যায় ক্রোশের পরে ক্রোশ 
    সভায় বড় হুলুস্থুলু সবাই কী রাক্ষস !”... 

    আচমকা কাউকে না জানিয়ে এসে ফেটে পড়ে “নেড়াপোড়া” কবিতাটি –
     
    “আগুনে মাংস পোড়ে 
    ঈশ্বর-আদেশ সেইরূপ 
    বনস্থালী পুড়ে খাক, ছাইয়ের গাদার নিচে 
    স্তুপ 
    -আকারে ভক্ষ্য থাকে 
    মিঠে আলু, বেগুন, আতপে সেদ্ধ হওয়া চাল 
    বিনিময়ে সিদ্ধি মেলে, বিনিময় মিলের গোপাল 
    বিধর্মীর বাড়ি পোড়ে 
    পাদ্রি পোড়ে শিশুটির সাথে 
    নীরব শান্ত গ্রাম ভেট আসে রাজার সভাতে”... 

    আবার পাঁচালি। পুজোর, লক্ষ্মীপুজোর, কোজাগরী, বিজয়ার পাঁচালির মাঝখানে গোঁজা আছে রবীন্দ্রনাথ থেকে কিষেনজী, আল মেহমুদ থেকে প্রেম, বিরহ, গ্রহান্তর এবং রাজনীতি। 

    শেষ যে কবিতাটির প্রথম আট লাইন নিচে দিলাম তার নাম থিমপুজো – 

    “নিশ্চিত দুর্গার নয় বোরখার আড়ালে ঢাকা মুখ 
    দশপ্রহরণ তাকে কদাচ দেয়নি কোনও পিরে 
    এমন কি গিরিপত্নী শিউলি ঝরানো দরজায় 
    ডাকেনি – আয় মা উমা শংকরের ঘর থেকে ফিরে 

    এখানে তাকেই দেখি পর্দার অবয়বে ঢাকা 
    সন্ধের কলকাতা যেন কত প্রগাঢ় অচেনা 
    মাটি কামড়ে বসে আছে পার্কসার্কাস ময়দানে 
    এ শহরে জন্ম তবু বাংলাভাষা এখনও জানে না”... 

    এমন একটি কবিতার বই লেখার জন্য সোমনাথ রায়ের কাছে পাঠক হিসেবে কৃতজ্ঞতা জানাই।
  • π | ২৬ মার্চ ২০২২ ১১:১৬736091
  • অর্পিতা গোস্বামী চৌধুরী লিখেছেন,
    শেষ করলাম শ্রদ্ধেয় Amar Mitra -  র লেখা উপন্যাস "এখন মৃত্যুর ঘ্রাণ"    জমি অধিগ্রহণ নিয়ে এর আগে কোনও উপন্যাস আমি পড়িনি।  হয়তো ছোট গল্প পড়েছি দু'একটা।  এ গল্প তাই আমার কাছে অন্য এক স্বাদ নিয়ে আসে।  অন্য স্বাদ অন্য দিক দিয়েও।  অমরদার লেখা এর আগে যত পড়েছি তার থেকেও আলাদা এ গল্প।  ফ্ল্যাটবাড়ির ভেতর থেকে উঠে আসে আখ্যান। নারী আর জমি যেন কোথায় এক হয়ে যায়।  রোপা করা ফসল হত্যা করা হয়, ভ্রুণ হত্যা করা হয়।  নারী বা জমি কারও আবেগেরই কোনও দাম থাকে না বাজার অর্থনীতির কাছে।  প্রতিযোগিতা, একাকিত্ব,  ভঙ্গুর পরিবার সব একাকার হয়ে যায়।  কদম ফুলের গন্ধকে ছাপিয়ে যায় রান্নার গ্যাসের গন্ধ।  মাননীয় অমর মিত্র-র লেখার আলাদা এক ধরন আছে। তিনি তৈরি করতে পেরেছেন তেমন গদ্য যা লেখকের নাম না দেখেও বলে দেওয়া যায় সেটা কার লেখা। পাঠকরা বইটি অবশ্যই পড়বেন। এবং তাদের যে ভালো লাগবে সে কথা বলাই বাহুল্য। 
    "এখন মৃত্যুর ঘ্রাণ" উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়েছে গুরুচন্ডালী থেকে। খুব যত্ন নিয়ে বইটি করেছে প্রকাশক।  মূল্য মাত্র ১১০ টাকা।
  • π | ২৭ মার্চ ২০২২ ১২:৪৯736092
  • গুরুর পেঁচা আমাদের এখন গেছোদাদা,  কাল এই যদি তাকে  দিল্লির গোলমার্কেটের কাছে মুক্তধারার বেসমেন্টে দেখেছেন, তো কেউ দেখেছেন আগরতলার হাঁপানিয়ার মাঠে উবুদশের স্টলের, আবার কেউ পেয়েছেন পেয়ে যাবেন কলেজস্কোয়ারের মাঠে, ৫৫ নং টেবিলেও! 

    আর আছে,  কলেজস্ট্রীটে ধ্যানবিন্দু, দে বুক স্টোর, দেজ, সুপ্রকাশ, ইতিকথায়।  
    কলেজস্ট্রীটে ৫১/২/এ শ্রীগোপাল মল্লিক লেনের অফিসে তো আছেই।
    আছে, হোয়াপেও সদাসর্বদা, এই নং এ,  +919330308043 

    মেলাগুলিতে শ্যামলদা, অমৃতা, রাধা, শম্পা, অসিতদা, সোমরাজদের, আর নেপথ্যে ও সবসময়ের জন্য আরো অনেকের, অনেকের সৌজন্যে সবই সম্ভব!  ঃ)
     
    আর এরকম কিছু লোকজন। 
    এইমস থেকে এক কচি ডাক্তারবাবু সায়ন,  দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধু রজতকে নিয়ে পরীক্ষাটরীক্ষার মাঝে একডাকে একছুটে চলে এসে একাহাতেই সামলে দিচ্ছেন গুরুর দিল্লির স্টল, প্রথমবারের জন্য হয়তো বিল কাটছেন!  ঃ)  
    আজ আসবে বিহু আর তার বন্ধুরা। 
    গুরুতে অবিশ্যি এমনিধারা কাণ্ডকারখানাই ঘটে থাকে ;)

     
  • π | ২৭ মার্চ ২০২২ ১২:৪৯736093
  • এহহ, ভুল টই
  • π | ২৭ মার্চ ২০২২ ১৩:৩৩736096
  • π | ২৭ মার্চ ২০২২ ১৫:৫০736097
  • π | ২৭ মার্চ ২০২২ ১৯:২০736099
  • চৈতালী চট্টোপাধ্যায় লিখলেন,
     
    অনেকখানি ডুবে আছি ছোটখাটো মাপের একটি বইয়ের মধ্যে।গুরুচণ্ডা৯ প্রকাশনা থেকে বেরোনো ৪৬ হরিগঙ্গা বসাক রোড। লিখেছেন শক্তি দত্ত রায়।
    বাইবেলে যেমন যেকোনো পৃষ্ঠা খুলে পড়া শুরু করা যায়,এই বইটিতেও তেমনই,সময় পেলেই বিক্ষিপ্তভাবে পড়তে বসেও, যোগসূত্র তুলে নিতে অসুবিধা হচ্ছে না। আমাদের উত্তরপূর্বে উপরোক্ত ঠিকানাতেই জন্ম নিয়েছিলেন ত্রিপুরার এক ভূমিকন্যা।যদি ভরকেন্দ্র হয় আগরতলা, আত্মজীবনীমূলক এই আখ্যান পাকদণ্ডী পথ বেয়ে,চড়াই উৎরাই ভেঙে ভেঙে ছড়িয়ে পড়েছে।কত জনপদ,কত ছিন্নমূল মানুষের গল্প,কত উৎসব,পুজোপার্বণ,যুদ্ধ,আন্দোলন, ভালোবাসার কথা।মেধা ও মায়ায় জড়ানো
    গদ্য। খুব ইচ্ছে আছে অন্য কোনোখানে বিশদে বলব, বইটিকে নিয়ে। আপাতত এই লেখাশেষে আবার, নিরুপায়, বরং ঢুকে পড়ি এ বইয়ের কন্দরে!
  • শাকিল | 103.25.251.245 | ১৮ আগস্ট ২০২২ ১৫:৫৫738238
  • আমার চোটি পরতে ভালো লাগে বিশেষ কোরে মা ছেলে,ভাই বোন,পিশি,খালা,মাশি এ ধরনের গল্প পরতে ভালো লাগে।
    তবে গল্প গুছালো হলে বেশি মজা পাই পইরা 
     
  • নিঘাত সুলতানা তিথির কলমে | 2401:4900:7083:6924:f765:6457:9b1b:5d03 | ১৮ জুন ২০২৩ ১৭:৪১740246
  • সাহিত্য, চিত্রকলা এবং সিনেমায় নাকি সবচেয়ে বেশি ‘সময়’ ধরে রাখা যায়। সেই অর্থে দময়ন্তী’র “দুষ্কালের আখ্যানমালা” পুরোপুরি সার্থক। বইটা পড়তে শুরু করেছিলাম ট্রেনে বসে, প্রতিদিনকার অফিসযাত্রার কালে। প্রথম কয়েকটা গল্প পড়ে আপনমনেই ভাবছিলাম যে একদম সময় ধরে রাখা গল্প। তার পরে খেয়াল হলো যে এই গল্প সংকলনের নামই তাই। 

    সাধারণত বাংলা গল্প-উপন্যাস পড়লে তা বাংলাদেশি বা পশ্চিম বাংলার যেখানকার লেখকেরই হোক, আমি বাঙালী হিসেবে খুব রিলেট করতে পারি। এবার এই গল্পগুলো পড়তে গিয়ে একটু ব্যতিক্রম অনুভূতি হলো। মাঝে মাঝে ভাবছিলাম যে, বাঙালী- একই ভাষা, একই সংস্কৃতির হলেও বাঙালিত্ব ছাপিয়ে দিনশেষে সে তার রাষ্ট্রের অধীন একজন মানুষ মাত্র। ভিন্ন দেশে, ভিন্ন পরিস্থিতিতে তার জীবনটা চাই বা না চাই, তার জন্মস্থান, মাতৃভাষা, বেড়ে ওঠার সংস্কৃতি এ সব কিছু ছাপিয়ে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত বা কখনও কখনও আক্রান্ত হয় তার জীবন যাপনের স্থান, দেশ, পরিবেশ, এবং দেশের শাসকদের মাধ্যমে। তখন তার বাঙালিত্বর চাইতেও নাগরিকত্ব অনেক বেশি ডমিন্যান্ট হয়ে যাবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তাই বাংলাদেশের বাঙালি, পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি, ভারতের অন্যান্য প্রদেশে বাস করা বাঙালি, বাংলাদেশ-ভারতের বাইরের প্রবাসী বাঙালি সবাই এক হয়েও কেমন যেন আলাদা! 

    গল্পগুলো ভাবায়। গল্পগুলো পড়ে মনে হয় লেখক তার চরিত্রদের চেনেন, জানেন। তার চরিত্ররা অলীক বা স্বপ্নীল  কিছু নয়। তারা লেখকের আশে পাশে তুমুল বাস্তবতা এবং বর্তমানের মাঝে বিদ্যমান, লেখক হয় তাদের জীবন যাপন করেছেন, নয় খুব কাছে থেকে দেখেছেন বা শুনেছেন বা পর্যবেক্ষণ করেছেন। সব গল্পের মধ্যে “হৈমবতীর আমগাছ” এবং “পরের জা’গা পরের জমি” আমার বিশেষভাবে ভালো লেগেছে। 

    এই গল্প সংকলনটির প্রকাশক গুরুচন্ডা৯। তারা “দত্তক” বলে একটা অভিনব ব্যবস্থা চালু করেছে। এই ব্যবস্থায় আগ্রহী যে কেউ প্রকাশনার খরচ ভাগ করে নেয়ার মাধ্যমে বইটিকে দত্তক নিতে পারেন। অনেকটা ক্রাউড ফান্ডিং এর বাংলা ভার্সন বলা যায়। আমার কাছে দারুণ লেগেছে আইডিয়াটা।

    https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=pfbid0tXp9grFpSTx1XkWW1R6qkY38v3eX4rMWpvso1mTeKynBu8UyLYKA4qfmKggHk5sEl&id=661720435&mibextid=Nif5oz
  • π | ০৬ আগস্ট ২০২৩ ০৯:৩৭740485
  • π | ২০ জানুয়ারি ২০২৪ ০০:০১741918
  • একটি বইয়ের গ্রুপে একজন নজরে আনলেন। শ্রেয়া ঘোষ লিখেছেন,
     
    (১)

    প্রথম দিকের গল্প "জীবনগানে"। সেপ্টেম্বর ২০০৫ এ প্রকাশিত। কয়েকজন বন্ধু মিলে প্রকাশ করা হয়েছিল একটা  সংকলন - অলিন্দ। 

    সেই গল্পেই বোঝা গিয়েছিল সম্ভাবনা। গল্প জুড়ে সম্পর্কের টানাপোড়েন, চোরা অভিমান আর গল্প জুড়ে গান।

     -  " গগনে তব নিবিড় নীল? নীলিম নীল?" নীলের আগের শব্দটি মনে পড়েনা সঠিক সরমার। যাঁর মৃত্যু দৃশ্য দিয়ে শুরু গল্প। -" ভুবন জোড়া নীল তাঁকে ঘিরে নেয় প্রশ্নে, আলস্যে,শীতে। শিরায়, শিরায় গগনে তব অসীম নীল, অমল নীল, অমল মামা, তপু মাস্টারমশাই,ফোঁটায় ফোঁটায় নীল সরমার কপাল বেয়ে মাটিকে ছোঁয়, ছুঁতেই থাকে।" গল্পের শেষে মৃতা সরমার মনে পড়ে - "গগনে তব বিমল নীল" -  স্বপ্নে এসে নাতনিকে বলে যান। 

     ইন্দ্রাণীর লেখা বদলেছে। বদলাবেই। ২০০৫ থেকে এই ২৪ অব্দি। কিন্তু   লেখার ভরকেন্দ্র তখন থেকেই সম্ভবত নির্দিষ্ট। 

    যেমন  পুরোন এই গল্পটায় ছোট ছোট পরিচ্ছেদে অতীত, ভবিষ্যৎ, বর্তমান নিয়ে এক্কা দোক্কা খেলা। মূলত: সংলাপে নির্মিত কাহিনী । আগু পিছু করে গল্পের বুনন। সরাসরি ধারাবিবরণী দেওয়া গল্পের থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছেন। তবে এই নির্মাণ  আরোপিত নয়। সহজাত এই ভঙ্গীর সঙ্গে পাঠকের আরও নিবিড় পরিচয় ঘটবে ক্রমশঃ ।

     

     

    (২)

    প্রথম দিকের আরও দুটি গল্প , পিঁপড়ে আর খুঁটে খাওয়ার গ্রাফিতি।ইন্দ্রাণীর লেখার প্রাণ তাঁর সুতীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ শক্তি আর সংবেদনশীলতা। প্রথম থেকেই। একদম প্রথম দিকের গল্প পিঁপড়ে, ২০০৬ সালে লেখা। মনে আছে আজও। জীবন মৃত্যুর কিনারা ঘেঁষে রাস্তা পার হওতে চাওয়া একটা পিঁপড়ে। যেমন পিঁপড়ে আমি বা তুমি। ভয় শুধুমাত্র মৃত্যুর নয়, আগে পরে সর্বদা, সর্বত্র বিপদ। গল্পে বলা শুধু পিঁপড়ের কথা। অতিক্রমটুকু পাঠকের মনে। নিজেকে ঐ পিঁপড়ের জায়গায় বসাতেই হবে। প্রতিনিয়ত বিপদের পাশ কাটিয়ে চলার এই গল্পের শেষ বলে কিছু নেই।

     ইন্দ্রাণীর লেখা শুরু হয়েছে খানিকটা দেরি করে। দীর্ঘ সময়ে সঞ্চিত অভিজ্ঞতা, যখন তা স্মৃতি হয়েছে, তখন শুরু হয়েছে লেখা। অনেকটা যাপনের পর পিছন ফিরেছেন। ফলে দূর থেকে একটা বিস্তৃত সময়ছবি ধরা   পড়েছে। জীবন সম্পর্কে একটা সুস্পষ্ট ধারণা তৈরির পর তাকে অনুবাদ করেছেন ভাষায়। শৈশব থেকে পড়ে চলেছেন নানা বিষয়ের বই। তার সঙ্গে ফিল্ম, ক্রিকেট, গান । প্রত্যেক ক্ষেত্রে অনুশীলনের সঙ্গে মিশেছে ভালবাসা। শুধু শেখা নয়, সব কিছু ধারণ করেছে তাঁর মেধা আর মনন। আবেগ জারিত নিষ্ঠা ইন্দ্রাণীর লেখাকে এই উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

    ২০১৯ এর বইমেলায় প্রথম বই পাড়াতুতো চাঁদ প্রকাশিত হল।

    এই যে বলছিলাম, দীর্ঘ সময়ের সঞ্চয় নিয়ে ইন্দ্রাণী লিখতে শুরু করলেন, এযাবৎ আহরিত অভিজ্ঞতা, পাঠ, দর্শনের আত্তীকরণের পর সবটুকু মিশে গেছে গল্পে। আমার ধারণা অক্ষরে অক্ষরে সমর্থন করে "পাড়াতুতো চাঁদ"।

     বলতে গেলে দুজনের গল্প - লতিকা আর অশোক। ওদের বিয়ে থেকে শুরু।  এ গল্প পড়ছি, না দেখছি ধাঁধাঁ লাগে। লতিকাদের পাড়াটাই যেন এক খণ্ড ফিল্ম ওর কাছে। বিয়ের পর বর বউ গাড়ি করে গলি থেকে বেরোল যখন আকাশের চাঁদ আর পাহাড়ি সান্যাল একাকার, তিন তলার বারান্দা থেকে হাত নেড়েছিলেন ওদের। ফুলশয্যায়, লতিকা বলেছিল সে ভয় পেয়েছিল খানিক, অশোক যদি অশোক কুমারের মতন বুড়ো বুড়ো হয়....

    - তো , দেখলে কেমন? বুড়ো বুড়ো?

    - তোমাকে না শুভেন্দুর মতো লাগে।

     

    ২০০৬ -এ প্রথম প্রকাশিত গল্প, তারপর ২০১৯-এ প্রথম গল্পগ্রন্থ। দীর্ঘ সময়ে একটু একটু করে বদলেছে নির্মিতির স্টাইল। প্রথমদিকের গল্পে বিস্ময় জাগত খুঁটিনাটি - গল্পের-ই হোক কি যাপনের, তার ওপরেই গল্পের ভিত আর পোক্ত নির্মাণ। ইন্দ্রণী গল্পে শুধু ঘটনা বলে যান। তার বাইরে আর কিছুনা। অনুভূতির বর্ণনা অনুপস্থিত, অথচ তা স্পষ্ট বিদ্যমান।

    - " পরদিন অফিস যায় নি নীলকমল। দাড়ি কামায়নি, স্নান করেনি। কাগজ কোলে শুয়ে ছিল বাইরের ঘরে। জানলা দিয়ে দুপুর দেখছিল। দুপুর, রোদ, গরম হাওয়া।রাস্তায় পিচ গলছিল বোধহয়। হাওয়ার জোর বাড়ছিল। শুকনো পাতা উড়ে যাচ্ছিল বাগানে। জানলার কাচে রোদ ঠিকরোচ্ছিল, চোখে লাগছিল নীলকমলের।

    স্বপ্না সকালেই ডাক্তারের কাছে গেছে।টেস্টগুলো হবে তারপর স্কুলে যাবে। রিপোর্ট নিয়ে ফিরতে বিকেল। রুফাস বারান্দায় ছিল.... '

    স্বপ্নার প্রেগনেন্সী টেস্টের রিপোর্টের অপেক্ষায় ছিল নীলকমল। দম বন্ধ করা অপেক্ষায়। এরকম একটা সময়ের ছবি হাল্কা আঁচড়ে এঁকে গেছেন লেখক, একটিও প্রচলিত শব্দ ব্যবহার না করে।নীলকমলের টেনশনে আমিও আক্রান্ত হই। বাক্যগুলি দ্রুত পেরিয়ে যাই, কতক্ষণে স্বপ্নার রিপোর্ট আসবে ....  

    প্রথম বইএর প্রথম গল্পটি ই (রোব্বারের পরদিন) ছাপ রেখেছে বাঁক বদলের।

    “খুঁটে খাওয়ার গ্রাফিতি”তে গল্পের চরিত্র বারবার বলে, "এ এক অদ্ভূত জগৎ।" গল্পের চরিত্র একটু হলেও কিছু কথা বলে। সামান্যতম এই কম্যুনিকেশন অদৃশ্য ক্রমশঃ। পাঠককে পূর্ণ স্বাধীনতা।

    ইন্দ্রাণী লিখে চলেন তাঁর গল্প। পাঠক তৈরি করবেন নিজস্ব ভাবনায়, নিজস্ব আখ্যান। এক ফোঁটাও চেষ্টা নেই তাঁর তরফে  পাঠককে তাঁর বেঁধে দেওয়া পথে চালানোর। শব্দের এই পরিমিতি বোধ লেখক আর পাঠকের মধ্যে একটা যৌথ প্রক্রিয়া শুরু করে। পাঠকের সঙ্গে একই তলে বসে লেখকও বোনেন কাহিনী। এভাবেই নেশা ধরান তিনি। ঠিক এই কারণেই আমরা অপেক্ষায় থাকি তাঁর গল্পের।

    তবে ইন্দ্রাণীর এযাবৎ লেখা সব গল্পের মধ্যে আমাকে সবচেয়ে স্পর্শ করেছে "আকর্ষ" গল্পটি। আজ এই মুহূর্তে লিখছি যখন, আবার পড়লাম যখন, সেই প্রথমবার পড়ার মতোই আর্দ্র হল মন আর চোখ। এ গল্প যতবার পড়ি অন্ততঃ একটা করে বাক্য যেন সেই পাঠে খোলস ছাড়িয়ে নতুন করে ধাক্কা দেয় আমার অনুভূতিতে। এই গল্পের কোন বিশ্লেষণে যাবনা আমি। স্বামী - স্ত্রীর যৌথ যাপন নেই এ গল্পে। অথচ সে অর্থে বিচ্ছেদও নেই । প্রেম আছে কি নেই তাও বুঝতে পারিনা। গোটা গল্প জুড়ে অসম্ভব এক মায়া শুধু। মায়া না স্নেহ? - বুঝতে পারিনা। ভালোবাসা শব্দটা যেন ছোট্ট একটা বিন্দু হয়ে যায় এ গল্পে । গল্পের নাম আকর্ষ। অপরাজিতার আকর্ষ যেমন, - পেলব আর সবুজ । গাছকে শক্ত করে ধরে রাখে অথচ নিজে কি অসহায় আর দুর্বল। সামান্য টান দিলেও যুঝে উঠতে পারেনা। গল্প পড়তে পড়তে আকর্ষ দিয়ে বেঁধে ফেলে মন অজান্তে ছোট ছোট গাছের চারাগুলি, গল্পেই বড় হওয়া ছোট্ট কুকুরছানা, পরিচয়ের রহস্য মাখা বাবুলাল, বারে বারে হারিয়ে গিয়ে ফিরে আসা সুপ্রকাশ আর যার নাম দেননি লেখিকা ইচ্ছে করেই, আখ্যানমুখ্য চরিত্রটি,পঞ্চাশোর্ধ ভূগোল দিদিমণি।
    পাড়াতুতো চাঁদ
    ইন্দ্রআণঈ
    গুরুচণ্ডালী প্রকাশন
  • π | ২০ জানুয়ারি ২০২৪ ০০:০২741919
  • সংবাদ প্রতিদিনেবা
  • কুণাল চট্টোপাধ্যায় | 2409:4060:e8d:cb82::9b48:f608 | ২০ জানুয়ারি ২০২৪ ২২:২৭741923
  • হীরেনদাকে জানাতে চাই নোবেল জয়ীদের নিয়ে ওনার লেখা চটি বইটি হরিতকি কিংবা গীতার মতো। যত চিবোবে তত মিষ্টি। গীতার ১৮ অধ্যায়। হীরেনদার বই নয় অধ্যায়ের। অনেকে বলে গীতার ধ্যান যোগ ই আসল। আমার মতে হীরেনদার বই এর দ্বিতীয় অধ্যায় আসল। তবে গীতা ব্যাখ্যা করার মত এক জন বিশ্লেষন করার কেউ থাকলে এই বই সর্বত্রগামী হবে। বইটি এক কথায় অসাধারণ।
  • π | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৪:১৬742221
  • সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়ের পাঁচ মাথার মোড় পড়লাম। অনবদ্য।আমার ভীষণ প্রিয় লেখক। দেবব্রত বিশ্বাসের  ওপর লেখাটা দুবার পড়ে ফেললাম। আশ মিটছে না। অষ্টাদশ শতাব্দীর বাখ ও বিংশ শতাব্দীর দেবব্রত বিশ্বাসকে একই ফ্রেমে বন্দী করার এমন বিদগ্ধ ও পাণ্ডিত্যপূর্ণ  আলোচনা বাংলা ভাষায় হয়তো বিরল ।

    হিরেন সিংহরায় এর লেখা অর্থনীতিতে নোবেল বইটাও খুব সহজবোধ্য আলোচনা।বাকি বইগুলো পড়ছি।
    গুরুচন্ডালি কে অসংখ্য ভালবাসা।আপনারা আরো আরো বই প্রকাশ করুন।
    অর্ধেন্দুবাবু লিখেছেন
  • জয়দীপ চক্রবর্তী | 2405:201:8011:c85b:3c65:5ed6:a851:aed3 | ১৭ মার্চ ২০২৪ ১২:২০742570
  •   #রসিকার ছেলে
    #প্রতিভা সরকার
     
     পায়েল তাদভি, দর্শন সোলাঙ্কি, বৈভব যাদব, কে. কিরণ চন্দ, ফয়জান আহমেদ, রোহিত ভেমুলা—এই নামগুলো হয়তো এখন আমরা ভুলে গেছি। আসলে ভুলে যাওয়াই দস্তুর। এঁদের সবারই তিনটি সাধারণ বৈশিষ্ট—
    ক) এঁরা সবাই মৃত।
    খ) দলিত বা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের থেকে ছিল।
    খ)  প্রত্যেকেই দেশের কোনো না কোনো প্রিমিয়াম ইন্সটিটিউট যথা আই আই টি, আই আই এম, আই আই এস সি, এ আই এম এস-এর পাঠরত ছিলেন।
    দেশের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী সংসদের উচ্চ কক্ষে(রাজ্যসভা) সম্প্রতি তাঁর জবাবি ভাষণে দেশ-কে জানিয়েছিলেন যে, বিগত তিন-চার বছরে আমাদের দেশের নিশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তফসিল জাতি উপজাতি বিদ্যার্থীদের মৃত্যুর হার বেড়েছে। জাতপাতের বৈষম্য জনিত বিভাজন এবং তৎসম্পর্কিত অত্যাচার যে ভাইরাসের মতন আমাদের গর্বের প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভিতর থেকে দুর্বল করছে এ-কথা এখন আর লুকিয়ে রাখার জায়গা নেই।
    আমরা যারা পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা তারা নির্ভাবনায় থাকি যে আমাদের এখানে এ-সব সমস্যা নেই; হ্যাঁ, হয়তো দক্ষিন ভারত, বিহার, উত্তর প্রদেশ, মহারাষ্ট্র, গুজরাট প্রভৃতি রাজ্যসমূহে তাদের প্রাত্যহিকতায় যেভাবে জাতপাত আসে আমাদের রাজ্যে তার তীব্রতার কিছুটা ব্যতিক্রম অবশ্যই আছে। তবে রাজনীতির পরিভাষা, হিসেব  আমাদের রাজ্যেও দ্রুত বিবর্তিত হচ্ছে। সীমান্তবর্তী জেলা, দরিদ্র পীড়িত জেলাগুলোতে জাতপাতের বিষয়টি ভালই টের পাওয়া যায়। তেলেঙ্গানার ছেলে কিরণ চন্দ, আসামের ফয়জান আহমেদ এঁরা কিন্তু খড়্গপুর আই আই টি-র ছাত্র ছিলেন। পড়তেই পড়তেই এঁদের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়। অনেক বছর পূর্বে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে লোধা জাতের চুনি কোটালের আত্মহত্যা নিয়ে যথেষ্ট গ্রহণযোগ্য ঘোরতর অভিযোগ ছিল। প্রত্যেকটি ক্ষেত্রের মতন চুনি কোটালের মৃত্যুতেও বিশ্ববিদ্যালয়ের এবং রাজ্যের ক্ষমতার শীর্ষ নেতৃত্ব সীমাহীন উদাসীন এবং বোবা ছিলেন। অতি সম্প্রতি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে যে মেধাবী উজ্জ্বল তরতাজা ভাইটি 'খুন' হলেন সেখানেও বিভাজনের রাজনীতি একটা প্রধান বিষয়। বৈষম্যের রূপভেদ আছে—গ্রামের ছাত্র, মাতৃভাষায় পড়া, সংরক্ষণের আওতায় কিনা; যৌন নিপীড়নের সঙ্গে এ-সংক্রান্ত নির্যাতনও বহাল তবিয়তে ক্যাম্পাস দাপিয়ে বেড়ায়।

    উপন্যাসে রসিকার ছেলে রোশন আই আই টি-র উজ্জ্বল মেধাবী ছাত্র। রোহিত ভেমুলার আদলে চরিত্রায়ন। 'তবে উপন্যাসটি না কোনও ব্যক্তি মানুষের জীবনী, না পুরোপুরি কাল্পনিক কাহিনি।' তফসিল জাতি উপজাতি অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রীদের বিচ্ছিন্নতাবোধের আরশিনগর। রসিকার বাবা-মা জমিতে ধান কাটতে গিয়ে উচ্চ-বর্ণের গুন্ডাদের গুলিতে খুন হয়। শহরে সীতালক্ষ্মীর বাড়িতে আশ্রয় পায়, পড়াশোনা করে একাদশ শ্রেণি পর্যন্ত, ওবিসি জাতের এক লোকের সঙ্গে বিয়ে হয় রসিকার। লোকটি রসিকার পেটে বাচ্চা দিয়ে নিজের জাতের এক অল্প বয়সি মেয়েকে নিয়ে ভেগে পড়ে। এরপর রসিকার নাম্মা-র গোয়াল ঘরে রোশনের জন্ম হয়। মাদিগা সম্প্রদায়ের মধ্যে এই 'রোশন' নাম রাখাও ব্যতিক্রম—শেষাইয়া, ভেপুলা ইত্যাদি নাম রাখার চল। রসিকা কবিতা লিখত অবসরে।
    গ্রামে বাবু জাতের মল ভাসত যে জলে সেখানে বাসন মাজতে হত রোশনদের। দলিতদের জন্য ঐ ব্যবস্থাই গ্রামে। বাবুদের মলমূত্র টোটিদের ওখানেই ভাসাতে নির্দেশ ছিল।
    আই আই টি-তে সংরক্ষণ নিয়ে নয়, নিজের যোগ্যতায় ভর্তি হয় রোশন। কিন্তু জাতের সংরক্ষণ নিয়ে বিদ্রূপ শারীরিক মানসিক দানবীয় চাপ নিরন্তর সহ্য করে যেতে যেতে এক সময় হাল ছেড়ে দিল রোশন। প্রতিষ্ঠানের ভাইস-চ্যান্সেলর স্কলারশিপ, হস্টেল বন্ধ করে দিল রোশনের। রাজনৈতিক দলের মদতপুষ্ট গুন্ডা যারা ইউনিয়নের ছত্রছায়ায় থাকে রোশন সহ অন্য তাঁর অন্য সহপাঠী দলিতদের মেরে মাথা-টাথা ফাটিয়ে দিল। নিজেরা বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে আহত হওয়ার শংসাপত্র বার করে নিজেদের ভিক্টিম প্রমাণ করল৷ পেল কর্তৃপক্ষের পিঠ-চাপরানি।
    এইভাবেই ভেমুলা, ফয়জানের মতন অসংখ্য স্কলার আত্মহত্যার মোড়কে 'খুন' হন আমাদের গর্বের প্রতিষ্ঠানগুলোতে।
    উপন্যাসটি শেষ হয়েছে রসিকার একটি অনবদ্য প্রেস মিট দিয়ে। এক তরুণী সাংবাদিক রসিকা-র দিকে প্রশ্ন ছুড়ে দিল—আপনি কি সত্যি বিশ্বাস করেন, এইভাবে দৌড়োদৌড়ি করে, মিছিল মিটিং করে আপনারা রাষ্ট্র, সরকার, প্রশাসনের ক্ষমতাবানদের কাছ থেকে সুবিচার পাবেন?
    রসিকা—"আপনি কি মনে করেন রাষ্ট্র যন্ত্রের মন বলে কিছু থাকে? আমি এগুলি করি অন্যকে পরিবর্তনের জন্য নয়, আমি নিজেই যাতে পরিবর্তিত না হয়ে যাই, তারজন্য।"
    বই আকারে প্রকাশ হবার আগে ১৪৩০ শারদীয়া নন্দন-এ বের হয়েছিল উপন্যাসটি। আমি শারদ সংখ্যা থেকেই পড়ার সুযোগ পাই—প্রতিভাদি স্নেহভরে শারদ সংখ্যাটি উপহার দিয়ে আমাকে লেখাটি পড়ার সুযোগ করে দিয়েছিলেন, কী আর বলি! আনন্দের সঙ্গে সম্মানিতও বোধ করেছি।
    বই হিসেবে উপন্যাসটি পড়ে দেখলাম পত্রিকার থেকে লেখাটি অনেক বিস্তৃত হয়েছে—নতুন কিছু বিষয় সার্থক যোগ হয়েছে। প্রতিভা সরকারের এই উপন্যাসটি সময়ের একটা উল্লেখযোগ্য দলিল হয়ে থাকল।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভ্যাবাচ্যাকা না খেয়ে মতামত দিন