• টইপত্তর  বইপত্তর

  • ঐতিহ্যমন্ডিত বাংলা চটি সিরিজ

    sumeru
    বইপত্তর | ২৯ জানুয়ারি ২০১০ | ৩৭৬৫২ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • pi | 24.139.221.129 | ০৯ ডিসেম্বর ২০১৭ ১৬:০৬434823
  • পুজোর ইবুক ?
  • কল্লোল | 233.227.59.41 | ১০ ডিসেম্বর ২০১৭ ০৯:৩৮434826
  • ৯ তারিখের অনুষ্ঠন সম্পন্ন হলো। মোটমুটি সুসম্পন্ন। মোটমুটি কারন আলোচনার দুটো ভাগ ছিলো ৭০এর দশক ও কাশ্মীর। হয়তো স্বাভাবিক কারনেই ৭০এর দশক প্রচুর সময় নিয়ে নেওয়ায় (দু ঘন্টার সামান্য বেশী) কাশ্মীর বেচারী আধ ঘন্টার মতো সময় পেলো।
    আমাদের এই নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
    প্রথমে তাপস বললো। শুরুতেই বেশ চমক I love 69 এই বাক্যটি দিয়ে শুরু। আজ কেমন করে ৬৯ নকশালবাড়ি থেকে দূরে একটি যৌন অনুসঙ্গে পর্যবসিত, সেই জয়গা থেকে, সেই সময় তথা নকশাল আন্দোলনের ক্লেদের দিকটি নিয়ে দরুন আলোচনা। না, তার মানে এই নয় যে নকশাল আন্দোলন শুধুই ক্লেদের জন্ম দিয়েছে। তাপসের বলার ছিলো ঐ আন্দোলন ক্লেদের-ও জন্ম দিয়েছে সে ইতিহাসও উঠে আসুক। ন্যায্য দাবী। অবশ্য এই নিয়ে তাপসের মতে দীপ্তেনের আমার সত্তর কথা বলেছে। আরও বেশ কিছু কাজ হয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখ্য কৃষ্ণা বন্দোপাধ্যায় সম্পাদিত খোঁজ পত্রিকার নকশাল আন্দোলনে নারী সংখ্যা। জয়ারও বেশ কিছু লেখা আছে এই নিয়ে।
    এর পর কল্লোল লহিড়ীর বই প্রকাশিত হলো জয়ার হাত দিয়েই। এবং আলোচনা ৭০ ও স্মৃতি নিয়ে চলতে থাকে। মাঝে অভিষেক অবান্তর পাঠশালা নিয়ে কথা বলে এবং ৭০ ও স্মৃতি নিয়ে আলোচনা চলতেই থাকে। শিবাংশু কারাগার বধ্যভূমি স্মৃতিকথকতা নিয়ে বলে। কিন্তু ঐ যে সময়! কাশ্মীর ক্ষুব্ধ হচ্ছিলো, তাই সে আলোচনা অসম্পূর্ণ রেখেই মিঠুনের বই থেকে অংশ বিশেষ পাঠ করা হলো আর শেষে সুজাত কাশ্মীর নিয়ে চাঁচাছোলা বক্তব্য রাখলো। ওর মতে স্বাধীনতা কাশীরের ন্যয পাওনা, যা থেকে বারত কাশ্মীরকে বঞ্চিত করেছে। জুনাগড় ও কাশ্মীরের অর্ন্তভূক্তি নিয়ে যে দ্বিচারীতা করা হয়েছে তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। আলোচনার সময় ছিলো না। নইলে বিষয়টি অনেক কৌতুহলোদ্দীপক হয়ে উঠতে পারতো। আমাদের সময় নিয়ে সতর্ক হতে হবে।
    সব শেষে জয়গাটি নিয়ে না বললে কথা অসম্পূর্ণ থাকবে। খুব পুরোণো একটি জমিদার বাড়ির বৈঠকখানা। গোটা কাঠামোতেই বয়সের চাপ খুব স্পষ্ট এবং লুকানোর কোন চেষ্টাও নেই। সেটাই অনেকের খুব ভলো লেগেছে, বিশেষ করে একটি খুবই অল্প বয়সী মানুষের।
    এটা আমার কাছে খুব বড়ো পাওনা।

    প্রসঙ্গতঃ এই বাড়িটায় মাসের প্রথম শনি ও রবিবার বিষমুক্ত হাট বসে। জৈব সারে তৈরী চাল, ডাল, আলু, তরকারীর হাট। উৎপাদনকারীরা সরাসরি নিয়ে আসেন, তাই দামও সাধ্যের মধ্যেই। উত্সাহী হলে চলে আসুন।
  • কল্লোল | 233.227.59.41 | ১০ ডিসেম্বর ২০১৭ ০৯:৪১434827
  • *ওর মতে স্বাধীনতা কাশীরের ন্যয পাওনা, যা থেকে বারত কাশ্মীরকে বঞ্চিত করেছে।
    পড়তে হবে - ওর মতে স্বাধীনতা কাশ্মীরের ন্যায্য পাওনা, যা থেকে ভারত কাশ্মীরকে বঞ্চিত করেছে।
  • অভিষেক | 52.110.184.99 | ১১ ডিসেম্বর ২০১৭ ১০:৩১434828
  • গোরা নকশাল- পাঠ পতিক্রিয়া
    ************************

    'নকশাল মানে যারা উড়তে পারে'। গোরা নকশাল কি শুধুই সাদা উড়ন্ত এক পাখীর রূপকের আড়ালে সম্ভাব্যতার খোঁজ, আততি। নাকি সুস্থভাবে হাঁটতে পারার ক্ষমতা জেলে রেখে আসা দাড়িওয়ালা প্রসন্ন এক প্রতিস্পর্ধীর এক আবছায়া বিবরণ?
    সদ্য পড়ে উঠলাম এই বই। লেখক যে ছায়াছবির শিল্পচর্চার সাথে সংযুক্ত তা বয়ানের ঝোঁকে বেশ বুঝতে পারা যায়। ঝকঝকে নির্মাণ আর লেখকের মতে যা শুধুই 'কাল্পনিক' বিবরণ তা উত্তাল সত্তরের আর এক ভাষ্য। এবং শুধু তাও নয়। এ ভাষ্য স্বপ্নের বহমানতার। স্বপ্নবীজক অনন্ত জপের অসীম চংক্রমণের। পথ যাই হোক।
    গঙ্গাপারের মফস্বল জনপদ বালীর এক উদবাস্তু পরিবারে টুকনু তার দাদা, ঠাকুমা আর বাবা-মায়ের জগতে উপস্থিত হয় তাদের এক নিকটাত্মীয় গোরা। গোরার পরিচয় বইএর নামেই তবু না বললে নয় যে টুকনুদের পায়রার নামও নকশাল। জেলযাপনের গর্বিত স্মারক চিহ্ন বয়ে চলা গোরার প্রসন্নতায় আলোকিত হয়ে ওঠে বয়ে চলা এক স্বপ্নের নদীপথ।
    সে নদীতে কখনো গঙ্গা বেয়ে ভেসে আসে পরিচিত সদ্যউনিশ এক ছেলের ফুলে ওঠা লাশ। সে নদী কখনও হয়ে ওঠে স্থানীয় জুটমিলের দারোয়ান হরকিষনের গ্রামের ছোটো নদী কমলা। হরকিষনের মন খারাপ বহুদিন সে নদী না দেখে। হয়ত সে নদীরও মন খারাপ। এ বই গতকাল প্রকাশ হয়েছে যে বাড়িতে তারও নাম কমলা।
    উঁকি দিয়ে যায় স্বপ্নভঙ্গের অস্থির কিছু স্মৃতি। অধিকার চিনে বুঝে নেওয়ার অদম্য ইচ্ছার মুখে ক্ষমতাতন্ত্রের প্রদর্শন ছিঁড়েখুঁড়ে নিতে চায় যাবতীয় স্বপ্নের চারাগাছগুল্মদের। গোরা চোখ বোজেন একদিন বুক ভরা টিবিকীটাণু নিয়ে। প্রাচীন রিলেরেসের ক্লান্ত বিধ্বস্ত দৌড়বাজ প্রাচীন পবিত্র স্বপ্নদেরকে অবশ্য এগিয়ে দিয়েছেন।
    চোখ উপড়ে দিয়ে খুলিতে গুলি খাওয়া গোরার সহপথিক সেই জেলখানায় খুন হওয়া আলোর পথের আর এক অভিযাত্রী এবং গোরার কতশত বান্ধবদের নিজের, নিজেদের পারানির কড়ি এবং আলোর ঠিকানার খোঁজ আজ নতুন মানুষদের হাতে। টুকনুদের চোখে এবং কলমে সে স্বপ্ন বয়ে চলে তুরতুর করে।
    এ ভাষ্য তাই শুধু ভাঙাস্বপ্নের উপাখ্যান নয়। এ ভাষ্য ব্যাটনবদলের, নতুন চোখে দ্যাখার এবং অবশ্যই আগামী টুকনুদের করোটিতে সেঁধিয়ে ফণা তোলা ফোঁসফোঁসানির।
    কল্পনা এবং বাস্তবের সীমারেখা এখানে য্যানো সেই চশমাটা। যা ছাড়া সুশান্ত দেখতে পেতোনা ভালো। সেই সুশান্ত যার ফুলে ওঠা লাশ গঙ্গা থেকে তুলে আনে টুকনুর বন্ধু। পুলিশ তাকে ভ্যানে তোলার সময়ে যা পড়ে থাকে মাটিতে।
    প্রচ্ছদ খুব সুন্দর। লেখকের আরও লেখা আসুক। যেকোনো মাধ্যমেই পড়তে চাইবো।

    ১০/১২/২০১৭
  • aranya | 172.118.16.5 | ১১ ডিসেম্বর ২০১৭ ১১:০৫434829
  • খুবই প্রিয় লেখা - 'গোরা নকশাল'। ভাল লাগল অভিষেকের পাঠ-প্রতিক্রিয়া
  • pi | 57.29.218.84 | ০৬ জানুয়ারি ২০১৮ ২২:২৮434830
  • 'আলোচনা - আশালতা।
    লেখক - অমর মিত্র।
    আলোচক - অর্পিতা গোস্বামী চৌধুরী

    পড়লাম শ্রী অমর মিত্রের লেখা ‘’আশালতা’’ গল্প সংগ্রহ। প্রথম গল্প “আশালতা”। আশালতাকে কেন্দ্র করে দুটি পরিবারের স্বপ্ন এবং স্বপ্ন ভঙ্গের গল্প এটি। দুই বন্ধুর দুই পরিবার। কোন একদিন ঘটে যাওয়া বিপ্লব বুকে বেঁচে থাকা, সেই বীজ বপনের গল্প। যে আশালতা জন্মায় সুন্দরবনে বাঘের দেশে, সুন্দরী, গরান হেতালের বনে,কিংবা জঙ্গলমহলের শাল পিয়াল মহুয়ার বনে, ডুয়ারসের অনন্ত অরণ্যে আশালতা জন্মায় অবহেলায়। সে লতায় বহ্নির তেজ সে কখনো সুইসাইড কমিট করতে পারে না। আগুন ছড়িয়ে যায়। বিপ্লবও। আজ যে আশালতা কাল সেই অদ্রিজা। স্বাতি নক্ষত্রই দিতে পারে আশালতাকে।…। আহা বুকের গভীরে আছে প্রত্যয়… উই শ্যাল ওভারকাম, উই শ্যাল ওভারকাম, উই শ্যাল ওভার কাম…।
    দ্বিতীয় গল্প ‘কুলছুমের হাত’। অপূর্ব সুন্দর গল্পটি পড়লাম একরাশ মুগ্ধতার সঙ্গে। বরং বলা ভালো দমবন্ধ করে, কি হয় কিয়! বুক দুরুদুরু। এন্তাজ আর মারিয়ম -এর সাথে সাথে তখন একই হতবাক দশা গ্রাস করে পাঠককেও , সত্যি তালাক আসলে কতবার বলা হয়েছে! ভাঙাচোরা দাওয়া, ঘুণ-ধরা বাঁশের খুঁটির উপর হুমড়ি খেয়ে পড়া চালের মতই বিপন্ন এক প্রান্তিক মুসলমানের পরিবার তার প্রচলিত কু-প্রথাকে হাতিয়ার করে লতিফ মিঞার সুযোগ সন্ধান আসলে সত্যি এক গোপন কান্নার জল ছবি। মরিয়ম বিবির বুক ধকধক করছিল। এই ঘরের গন্ধ, ঘরের মানুষের গন্ধ, সব ছেড়েছুড়ে দিয়ে বেরোতে হবে। অন্য দিকে কুলছুম ভীত হংসীর মতো কাঁপতে লাগল। তখন সেই অনিবার্যতার সামনে পাঠককে স্থির চিত্রের মতো দাঁড় করিয়ে শব্দ বাক্যের খেলায় মেতে ওঠে অনায়াস লেখক।
    ‘হারু ও মারিতেস’ গল্পে নির্মম এক খিদের রাজ্য টেনে নিয়ে যান লেখক। সেখানে রিয়েল ভার্চুয়াল একাকার হয়ে যায়। এর মধ্যেই আবার বুনট বাঁধে কল্প রাজ্য। ‘ আমার ছেলে ডাকছে, বুন যেতি দেবে না, মেয়ে বলে বাপ আমার কাছে এসে থাক, আমার যাবার জায়গার অভাব!
    চিরাচরিত জমি দখলের গল্প ‘ হাসেম আলির সাত কাঠা। জমি আর নারী এক হয়ে গেছে লেখকের মুন্সিয়ানায়। জারিনা সত্যিই যেন নিজেই এক পরিপূর্ণ জমি যে জমিনের জন্য রক্ত ফেলতি হয়।
    ‘’মহাকরণ’’ গল্পটিতে উঠে এসেছে একদিকে ফাইলের অচল অবস্থা অন্য দিকে সেই মহাকরণেই বিনয় বাদল দিনেশের স্মৃতি বিজড়িত অলিন্দ। বে আইনি কয়লা খাদানের বিবরণের পাশাপাশি সমাজের তোষামোদ প্রীয়তা সরাসরি, ‘ সমাজের ক্ষমতাবান মানুষের বিপক্ষে যেতে নেই’।
    জমি নিয়ে আরেক গল্প কালো নদী। নতুন গড়ে ওঠা টাউনশিপ গিলে খেয়েছে আবাদি জমি, জমির সরষে ফুল, ধান, পাট এমনকি গিলে খেল সোমত্ত মেয়ে পর্যন্ত। আবার লেখকের কলমে এক হয়ে গেল জমি আর নারী। বুড়ো ভরত কাঁপতে কাঁপতে হাইওয়ের সামনে দাঁড়ায়। কালো নদী বয়ে যাচ্ছে। খরস্রোতা। এই স্রোতে ভেসে যাওয়া ছাড়া কিই বা আর করার আছে! কিই বা আর করার থাকে এই সর্বহারা মানুষগুলোর। সুন্দর নিটোল গল্প ‘কালো নদী।’
    এই ঘরানারই আরেক গল্প ‘বছিরদ্দি ভূমি ধরিতে যায়’। প্রান্তিক মুসলমানের জমি বিবাদের এই কাহিনীতে যুযুধান কাকা ভাইপো। গল্পে বছিরদ্দি দাদার গোরে শেষ আশ্রয় খোঁজে। দাদার কাছে তার হাহাকার ‘ নিলেম ধরতি বলল,ধরলাম।নিজির নামে। সে তো কাগজে। খাতায় পত্তরে। মাটিতে তো লয়। ‘
    ‘ মোহরগঞ্জের জিনিয়া ফুল ‘ গ্রন্থের অষ্টম গল্প। সুরে সুরে যন্ত্রনা আর অবমাননার মূর্ছনা । সেই সঙ্গে জুড়ে যায় মধ্যবিত্ত অপারগতা। জেগে থাকে ভার্চুয়াল।
    গানের ভিতরে গান গল্পে পরিবেশ বিবর্তনের নিষ্ঠুর ছোঁয়া। বদলে গেছে খাল বিল বন বাদার। মরে যাচ্ছে নাগকেশর গাছ। এরমধ্যেই সুর খুঁজে ফেরে মতিন মিঞা। শুভম জানে সুর নেই সেখানে। সে নিজের বাড়িতে অনেক টাকা খরচ করে বানিয়েছে গানের ঘর, সুরের ঘর। অপূর্ব বাক্যবিন্যাস, বকের দল উড়ে গেছে -- ‘গান নিয়ে উড়ে গেছে স্যার’। বকের দল আর নেই। একটি বাচ্চা মরার গান আর নেমে আসা শকুনের ভীড়ে জেগে থাকে এক তীব্র হাহাকার।
    ‘ নদী ভরাটি গ্রামে মানুষের ঢল নেমেছে যেন। জেলাশাসক হাঁটছেন… চোখ বুজলেই মনে হচ্ছে জলের শব্দ যেন।’ অদ্ভুত এক রুক্ষতার গল্প ‘নদী-ভূমি।’ শুখা দেশে নদী থাকে মরে, শুকিয়ে, বালির নীচে ডুবে,নিম্নদৃষ্টি হয়ে ভীত হয়ে, গুটিয়ে ভিক্ষার বাড়িয়ে। পড়তে পড়তে হারিয়ে যেতে হয় পরিচিত অপরিচিত গ্রাম্য মামুলি আদমির ভীড়ে।
    আবহমান গল্পটি আবর্তিত হয়েছে তিনটি খেজুর গাছকে কেন্দ্র করে। বাপ ছেলের কলহ আখ্যায়িত হয়েছে করুন রসে। তবু তার ঊর্ধ্বে উঠে এসেছে সোনাভানের নিরাপত্তা তাকে ঘিরে বিশ্বাস অবিশ্বাসের সেই দোলাচল। সেই প্রাচীন কাল থেকে যেমন প্রতিটি ঘটনা দুর্ঘটনার দায় মেয়েদেরই আর মেয়েদেরই বারবার বলতে হয় বিশ্বাস কর, বিশ্বাস কর। সোনাভানও রাতের অন্ধকারে কেঁদে কেঁদে বলে, ‘ বিশ্বাস কর আমি তারে আলোকলতার রস খাওয়াই নাই’।
    অতি সাধারণ গল্প কেমন করে অসাধারণ হয়ে উঠতে পারে লেখকের মুন্সিয়ানায় তা ‘এই চরাচর এই চালচিত্র’ পড়লে বোঝা যায়।
    সামাজিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের সাথে সাথে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব উঠে এসেছে ‘সুধা ও গণপতি’ গল্পে। সুধার মনে হয় ‘ হয়তো চল্লিশ বছর আগের পৃথিবী তার মানুষজন নিয়ে ফিরে আসতে পারে। আবার ক্ষমতায় কংগ্রেস।’ সুধা জমিয়ে রাখে আদ্যিকালের একটি ট্রাঙ্কে জমির পরচা,জমির খতিয়ান, জমির অসংখ্য দলিল। ‘সুধা তার পুত্রের কথা বেশি বলে না যত বলে ভাঁটিপোতার কথা……। অস্ফুট স্বরে বলে আমরা কি আর কোনদিন ক্ষমতায় ফিরব না গণপতি?’ ক্ষমতার স্বাদ এরকমই। কিন্তু আসল ক্ষমতা কার কাছে সত্যি কি কেউ জানে না জানতে পারে! সুযোগ পেয়ে প্রায় তিরিশ বছর আগের পুরোনো অপমানের জ্বালা দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে। ক্ষমতার সুখ ফিরে আসে সুধাময়ীর শরীরে। ফিরছে পুরোনো বাতাস, রোদ, অন্ধকার। টিকিয়ে রাখতে পারবে তো সে চাষারা নিজেদের ক্ষমতা! গল্পে পাঠক এক যুগ পরিক্রমা করে। রাজনীতির এক অধ্যায় থেকে সরে যায় অন্য অধ্যায়তে। ক্ষমতারও রঙ বদলায় রুপ বদলায়। সুধা টাকা নেবে না ‘বোর্ডস অব ডিরেক্টর এ ঢুকবে।’
    গানে গানে বর্ষা নামে ভূবন জুড়ে। ‘বড়ে গুলামের গান’ গল্পটি পুরোটাই এক মেঘ মল্লার। ‘ আজি ঝরঝর মুখর বাদল দিনে…।।’ ইথার তরঙ্গে এই গান ছড়িয়ে পড়েছে শহর থেকে অন্য শহরে, দেশ থেকে অন্য দেশে। ইনবক্স থেকে ইনবক্সে। সেই রাগ রাগিণী ঘুরে ইথার তরঙ্গে এই গান ছড়িয়ে পড়েছে শহর থেকে অন্য শহরে, দেশ থেকে অন্য দেশে। ইনবক্স থেকে ইনবক্সে। সেই রাগ রাগিণী ঘুরে বেড়ায় বাস্তব থেকে পরাবাস্তবেও। ‘মায়া মনে আছে হাঁসপাহাড়িতে আমরা দুজনে বসে থাকতাম মেঘের দিকে চেয়ে।’ লেখক তার লেখার উৎকর্ষে পাঠককে গল্পের নিজের ভূমিতে টেনে নিয়ে যান বার বার সেখানে ধামসা বাজে গাঁয়ে গাঁয়ে, সেখানে মিশে যায় মেঘের বজ্রধ্বনি নেমে আসে শ্রাবণ ধারা মুছে যায় বাকি সব।
    শেষ গল্প ‘যে ফেরেনি ‘ সমসাময়িক অস্থিরতম প্রেক্ষাপটে লেখা একটি কঠোর বাস্তব প্রতিচ্ছবি। বিবরনের মাধ্যমে এই গল্পে উঠে এসেছে বারবার মৃত্যুর পর আরেকটি মৃত্যু। ‘একটি মৃত্যু অন্য একটি মৃত্যুর সূচনা করছে।’ আসলে যতই খারাপ লাগুক বাসব পরিস্থিতি আমরা কেউ উপেক্ষা করতে পারি না। কি সাঙ্ঘাতিক করুন ঘটনা বিন্যাস, ‘হয়ত কোনদিন ফিরবে না মনে মনে গোপনে তা জেনেও মাথার সিঁদুর অক্ষয় রেখে তার জন্য পথের দিকে চেয়ে যেভাবে অপেক্ষা করে, তেমনিই যেন অপেক্ষা করে চার বিধবা।’
    বাংলা চটি সিরিজ ‘আশালতা ‘ বইটি শেষ করেও যেন শেষ হয়না। অনুরণন চলতে থাকে মনের অন্তস্থলে। কখনো কখনো হাতরে বেরিয়েছি, আর কে এমন করে লিখে রেখেছে জীবনের আখ্যান! আবছা ভাবে এসেছে ইম্মত চুগ্ তাই। তবু যেন মিল হয়েও হয় না। কাছে এসেও দূরে চলে যায় সেসব আখ্যান। সমস্ত গ্রন্থ জুড়ে বাস্তবতা আর রোমান্টিকতা সমান্তরাল ভাবে অবস্থান করেছে। কখনো কখনো যেন গল্পকার বাস্তবতার প্রবল পাঁকে ঢুকে রোমান্টিকতাকে তুলে নিয়ে এসেছেন মুক্তোর মতো। একথা বলাই বাহুল্য, লেখক অমর মিত্র এক উচ্চকোটির শিল্পী । তার সামাজিক দৃষ্টি অত্যন্ত গভীর। মনস্তত্ত্বের জটিল বাঁকের সাথেও তার রয়েছে সুপরিচয়। সংকলনের প্রতিটি গল্প অত্যন্ত মূল্যবান।

    বইটির প্রকাশক গুরুচণ্ডালী প্রকাশনা। মূল্য মাত্র ১০০ টাকা।
  • গুরুচণ্ডা৯ | 24.139.221.129 | ২০ জানুয়ারি ২০১৮ ০৮:১৬434831
  • এবারের বইমেলায় প্রকাশিত হতে চলেছে অদ্রীশ বিশ্বাসের মিছিলে বাদল সরকার, সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়ের খেরোবাসনা ও বর্ন ফ্রি র বস্টনে বংগের দ্বিতীয় সংস্করণ এবং দীপ্তেনের আমার ৭০ এর তৃতীয় সংস্করণ।
  • pi | 57.29.212.139 | ২১ জানুয়ারি ২০১৮ ১১:৪৩434834
  • আপনার নামঃ

    বিভাগঃ

    বাংলা লিখুন(গুগল লেআউট)

    বাংলা লিখুন(গুরুচন্ডালি লেআউট)

    বাংলা বা ইংরিজি লিখুন(নিজস্ব সফটওয়্যার)

    কয়েকটি শব্দে কেবল বিষয়ের নাম দিন(লেখার বিষয়বস্তু পরের পোস্টে দেবেন)

    নতুন কোনো আলোচনা শুরু করার জন্য উপরের কোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন
  • পাই | 57.29.212.139 | ২১ জানুয়ারি ২০১৮ ১১:৪৯434835
  • ধুত্তেরি। কী পোস্ট হল!

    "একমাস হয়ে গেল গোরা নকশাল পড়েছি। এই একমাসে আরো অনেক কিছু হয়ে গেছে। আমার একটা ওয়েব ছবির শুটিং আর এডিট শেষ করেছি (ডাবিং আর কালার বাকি আছে)। আরেকটা ওয়েব ছবির শুটিং প্রায় শেষ। সাংবাদিকতার পাশাপাশি কিছু লেখালিখির কাজ চলছে। মাঝে মাঝে টুক করে বেরিয়ে পড়া তো আছেই। সাথে চাকরি পাওয়া আর চাকরি ছাড়ার বদ অভ্যাসটা আবার শুরু হয়েছে। এরমাঝে মামনি (আমার বড়মাসি) অসুস্থ হয়েছেন, আমার পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে আমি একটু ব্যাকফুটে চলে যাই। আরও অনেককিছুই হয়েছে। যাইহোক যে কথা লিখতে বসেছি সেখানে আসি, এই একমাসে কম করে ৫ জন কে গোরা নকশাল পড়িয়েছি। আর একটা জিনিস করিনি।।। গোরা নকশাল নিয়ে একটা রিভিউ লিখব ঠিক করেও লিখতে পারিনি। বইটা কিনে বাড়ি আসার পথে বাসে-ট্রেনেই সিংহভাগ পড়া হয়ে গেছিল। বাড়ি ফিরে বাকিটা শেষ করেছিলাম। তখন রাত প্রায় ২ টো। ততক্ষণে আমার জ্বর এসে গেছে। বিকালেই বৃষ্টিতে ভিজেছি, ব্যাস।।।। আর তারপর জ্বরের ঘোরে যা তা ভুলভাল লিখেগেছিলাম।।।।

    শুরুতেই একটা কথা বলে রাখছি, আমি কিন্তু গোরা নকশালের রিভিউ লিখছি না। কারন এ বিষয় লেখার মত মূলধন আমার নেই। কুড়িয়ে-বাড়িয়ে যা পেয়েছি তাতে আমি কনফিউজ এবং আমার তা স্বীকার করতে কোন সংকোচ নেই। যেমন গোরা নকশাল বইয়ের প্রকাশের দিন তুমুল মতানৈক্য দেখলাম দু’জন মানুষের মধ্যে।।। নকশাল একটা সময়; না আন্দোলন? বিহার-উত্তরপ্রদেশ-ঝাড়খন্ড-ওড়িষ্যার মাওবাদিদেরও নকশাল বলে শুনেছি। সবই শোনা অথবা বইবন্দী পড়াশোনা। কোনটা সোনা আর কোনটা চোনা তা মাপার মত নিক্তি আমার কাছে নেই। তাই যে বিষয় আমার অভিজ্ঞতা নেই, তা নিয়ে লেখার ক্ষমতাও আমার নেই।

    যেকোনো বই পড়ার পর, বা ছবি দেখার পর অথবা গান শোনার পর একটা আফটার এফেক্ট আমার মধ্যে কাজ করে। কম বা বেশি যাই হোকনা কেন, করে। সময়ের সাথে তা আস্তে আস্তে মৃদু হয়। এবারও তাই হল। তার সাথে আমার একটা অদ্ভুত অভিজ্ঞতা হ’ল। আমার নিজের সাথে না বলা কথাগুলো হঠাৎ করে নিজে বলতে শুরু করেছি। মানে আমার এই প্রলাপটা আমার ভেতরে ছিল ঠিকই, তার টের পেতাম। কিন্তু সে কথা বলতো না। ঠিক আমার ছোটো থেকে বড় হয়ে ওঠার সময়টার মত। যখন আমি কারো সাথে কমিউনিকেট করতে বিব্রত বোধ করতাম। আমার স্পিচিং প্রবলেমের জন্য। অথচ কাউকে বুঝতে দিতাম না। ঠিক সেই রকম।

    আমি কোনোদিন কোন গোরা নকশাল দেখিনি, তাই তার প্রতি কোনও প্রেম আমার নেই। আমি কি ঠিক বললাম ? হয়তো না। হয়তো কেন, নিশ্চয়ই না।।।। কারন গোরা নকশালদের চিনিয়ে দেবার মত আমি কাউকে পাইনি। বা পেলেও এই গোরা নকশালদের কেউ চিনিয়ে দেয়নি। অথবা চিনিয়ে দিলেও, তাদের চিনলে যে কি হবে তা কেউ বলে দেয় নি। কিম্বা বলে দিলেও তা বুঝতে পারিনি। আর আজ বুঝলেই বা কি করব তাও বুঝতে পারি না।।।।

    কারো প্রতি প্রেম না থাকলে কি চোখ দিয়ে জল পরতে পারে।।।

    গায়ে উদবাস্তুর গন্ধ মেখে যারা কোনও এক রাতের অন্ধকারে নিজের ঘর, উঠোন আর পরিচয় ছেড়ে আরেক পরিচয়ের খোঁজে বেরিয়ে পড়েছিল। কোলের শিশুটাকে আঁকড়ে শিয়ালদার কোনও এক এঁদো গলির স্যাঁতস্যাঁতে ঘরের মেঝেতে একসাথে গাদাগাদি করে শুয়ে আধো ঘুমের মধ্যে মাঠ-পুকুরধার-সবুজ ঘাসের স্বপ্ন দেখেছিল, আর সকাল হলেই ঝেড়ে ফেলতে চাইত উদবাস্তুর তকমা। তাদের সেই শিশুটার তাড়াতাড়ি বড় হওয়ার খুব তাগিদ ছিল। থাকবেইতো, বাঁচতে হবে যে। ।।।অথবা এদেশে থেকেও স্বাধীনতার স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল যাদের। এক চূড়ান্ত অচলায়তন সময়, যখন বাড়ির বাইরে বেড় হলে ফেরার কোনও নিশ্চিয়তা থাকত না। ঠিক সেই সময় যারা একটু শান্তির আশায় ঘর বেঁধেছিল, তাদেরই কোনো এক নববিবাহিত বধূ জানলার ধারে পরদার আড়ালে দাঁড়িয়ে দূরের অন্ধকার নেমে আসা রাস্তাটার দিকে তাকিয়ে থাকত প্রত্যেকটা সন্ধ্যার আগে। অফিস থেকে উনি ফিরে আসবেন বলে। কিছুটা বারুদের গন্ধ, ধোঁয়ার কুণ্ডলী, গুলির শব্দ আর অন্ধকার গলির পাশে পড়ে থাকা লাশের পাস কাটিয়ে উনি মানিকতলার ভাড়া বাড়িটার একতলার ঘরে ফিরতেন। তারপর জানালা বন্ধ হ’ত। এরপরতো স্বপ্ন দেখার সময়। ওদিকে বাড়ি ফেরার পরও রাস্তায় কারা ছুটছিল।।।। বাইরের অশান্ত সময় শান্ত ঘরটার একতলার জানলার বাইরে থেকে যেত। তাদের কোলের শিশুটারও তাড়াতাড়ি বড় হওয়ার খুব তাগিদ ছিল। থাকবেইতো, বাঁচতে হবে যে। সেই বেড়ে ওঠার তাগিদের মধ্যে নিশ্চয়ই তাদের সাথে এমনই কোনও গোরা নকশালের দেখা হয়েছিল।।।। বড় হওয়ার সাথে সাথে তাড়াও দিন বদলের স্বপ্ন দেখেছিল। কিন্তু তারা তাদের বিভীষিকাময় অতীতটার কথা জানত। তাই দিন বদলের স্বপ্ন কোনো এক রাতে অন্ধকার গলির বাঁকে লুকিয়ে রেখে পরদিন ভোরে তারা বাড়ি ফিরেছিল, কিছুটা রোদ্দুর গায়ে মেখে। তাদের ঘরের ভেতরে চাতক পাখির মত বসে থাকা প্রানী গুলো দিনান্তে শুধু একটু নিশ্চিন্তের ঘুম চেয়েছিল। তাই তাদের বাড়ি ফিরতে হয়েছিল, কিছুটা রোদ্দুর গায়ে মেখে। অথবা সেই সব হারানো উদবাস্তু শিশুটা বড় হয়ে একটা সংসার চেয়েছিল। তাই তাদের বাড়ি ফিরতে হয়েছিল, কিছুটা রোদ্দুর গায়ে মেখে। আর সময় পেলেই সেই অন্ধকার গলির বাঁকে লুকিয়ে রাখা দিন বদলের স্বপ্নটাকে দেখে আসতো সেই তাড়তাড়ি বড় হওয়ার তাগিদে বড় হয়ে যাওয়া শিশুগুলো। কিন্তু ততদিনে অন্ধকার গলিতে বাতির আলো জ্বলেছে।

    স্বপ্নরা আর আলোর মধ্যে ধরা দেয়না।।।

    এভাবেই বেড়ে ওঠা সেই দুই শিশু যখন একসাথে একটা সংসার তৈরী করল। আর সেই প্রায় স্বচ্ছল সংসারে নয়ের দশকের মাঝামাঝি সময় যখন এক দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম হল, তখন সবাই মিলে দুহাত দিয়ে আগলে বিগত সময়ের শেষ ধোঁয়াটুকুর গন্ধটার আঁচও পেতে দেয়নি সেই খুদেকে। তাই জন্মের প্রথম দিন থেকেই তার গায়ে খুব নরম রোদ্দুর লেগেছে। তাই যখনি কোনও এক গোরা নকশালের ফিসফিসানি তার কানের পাস দিয়ে ঠাণ্ডা হাওয়ার মত বয়ে গেছে, তখনি গোরা নকশালেরা হয়ে গেছে; হয় কোন এক অমুক অথবা এক তমুক। ভয় হয়, এই খুদেটা আবার যদি দিন বদলের স্বপ্ন দেখে।।।! অনেক হয়েছে দিন বদল। আসলে কিছু বদলায় না, মানুষ বদলাতে দেয় না। শুধু সময়ের প্রলেপে নিজেদের বদলানোর দাবি করে যায়।।।।

    তাই আর মামার বাড়ির ওপরের ঘরের মিটিং দেখা হয়ে ওঠে না। আমার শোনা একটা দূর্ঘটনার কথায় ভিখারী পাসোয়ানকে নিয়ে রচনা লেখা হয়ে ওঠে না। বার বার খুদেটার দিকে ঘুরে তাকায় মা, তাকিয়ে থাকে অনিতা দিদিমণি। আমি জানি অনিতা দিদিমণি সেদিনকার আমার লেখা রচনার কাগজটা তুমি আস্তে করে মায়ের হাতে গুঁজে দিয়েছিলে, মা সেটা দলা পাকিয়ে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিল রাস্তার ধারে। আমি দেখেছিলাম। আমি আরও দেখেছিলাম মামার বাড়িতে আমার কোন কোন বই গুলোতে হাত দেওয়া বারন। ওগুলো বড়দের বই। আমি জানতাম ওগুলো বড়মামার বই। আমি এটাও জানতাম তোমরা সবাই কোনও না কোনও গোরা নকশালকে দেখেছ। মা, অনিতা দিদিমণি, বড়মামা, ছোটমামা, বাবা, অংক স্যার, প্রদীপ কাকু, টুকনু দা সবাই।।।। শুধু আমাদের থেকে তাদের আড়াল করে গেছো।

    আমি দিন বদলের স্বপ্ন দেখি না জানো। দেখি বললে খুব মিথ্যে কথা বলা হবে। জানিনা আমার পাশাপাশি হেঁটে চলে বেড়ানো কারাকারা দিন বদলের স্বপ্ন দেখে। আর দেখার পর কি করে তাও জানিনা। আসলে আমি এমন কোনও দিন দেখিনি যেটা বদলের প্রয়োজন আছে। আমি এটাও জানি না যে আমি যেটা দেখছি সেটা আদৌ দিন কিনা। হয়তো দিন, হয়তো না। কিন্তু এতেই চোখ সয়ে গেছে। কারন আমি স্পষ্ট দেখতে পাই। আমারই বয়সি রাকাইনের কেউ আজ দিন বদলের স্বপ্ন দেখে, কোনও এক কাশ্মীরি দিন বদলের স্বপ্ন দেখে, কোনও এক দলিত দিন বদলের স্বপ্ন দেখে, কোনও এক প্যালেস্তাইনি দিন বদলের স্বপ্ন দেখে, কোনো এক মেক্সিকান দিন বদলের স্বপ্ন দেখে। কোনও এক ইজরাইলী দিন বদলের স্বপ্ন দেখে।

    উদবাস্তু, নকশাল শব্দগুলো শুনতে আমার হেব্বি ভালো লাগে। মাইরি বলছি, ইস।।। হেব্বি লাগে। শুধু কনফিউজ থাকি নকশাল সময় হলেই বা কি আর আন্দোলন হলেই বা কি।।।। ঠিক যেমন কনফিউজ ছিলাম ঝাড়খণ্ডে একটা ডকুমেন্টারীর শ্যুটিং করতে গিয়ে।।। “ ওপাড়ের জঙ্গল পেড়িয়ে নকশালরা আসে, আমার বেটার মাথায় বন্দুক ধইরে বলে – আজ তুর ঘরে থাকবু। তারপর সদরে গিয়ে গুলি চালিয়ে আবার ওপাড়ের জঙ্গল পেড়িয়ে চলে যায়। তারপর পুলিশ আসে, আমায় মাইরধর করে। আর ভাইটারে উঠায় নিয়া কুথায় যে চলি গেল, চাইর মাস খোঁজ নাইরে দাদা। বল ইবার।।। দশটা টাকা পেইলে মুড়ি কিনব না গুলি কিনব।।।”

    কোনো এক বসন্তের বিকেলে আমরা যখন ফাইটার গেমের ডিভিডি নিয়ে কাড়াকাড়ি করছিলাম, ঠিক তখন কোনো এক হাসপাতালে টিবি রোগে ভুগে মারা গেছিল গোরা নকশাল। আমাদের ভারচুয়াল ফাইটিং গেমে জেতার উল্লাস বা হারার হাহুতাশ কি মারা যাওয়ার আগে শুনতে পেয়েছিল তোমার গোরা নকশাল? জীবনের শেষ বিকেলের পড়ন্ত রোদ্দুরটুকু কি দিন বদলের আশ্বাস দিতে পেরেছিলো গোরা নকশালকে ? টিবি রোগে যে মুখ দিয়ে রক্ত ওঠে সেটা মন দিয়ে প্রথম কোথায় দেখেছিলাম জানো টুকনু দা।।। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে, ফিল্মস্টাডি পড়তে গিয়ে। আমাদের সেই ক্লাসটা নিয়েছিলেন কল্লোল লাহিড়ী।

    তোমরা তো গোরা নকশালদের বাঁচার গল্পটা না জানলেও, মরার গল্পটা জানো। আমিতো তার কোনও খবরই পাই নি। আমাদের তো তা পেতে দেওয়া হয় না। আজ থেকে বহু বছর পর আমার জীবনের শেষ বিকালের ঠিক আগে যদি কোনও টুকনু দিন বদলের স্বপ্ন নিয়ে এসে দাঁড়ায়, যদি গোরা নকশালের গল্প শুনতে চায়…। আমি কি উত্তর দেব বলতে পার…"

    লিখেছেন স্বর্ণাভ চৌধুরি
  • সিকি | 158.168.40.123 | ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ০৯:৪০434836
  • তুলে দিলাম।
  • pi | 57.15.193.66 | ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ১০:৩২434837
  • মিঠুন ভৌমিকের লেখাঃ

    বইমেলা বাইটস -১

    এই মুহূর্তে কবিতা লিখতে ভালোবাসা মানুষের খুবই দুঃসময়। অসংখ্য কবিতার বই, রক্তবীজের মত কবিদের ভিড়ে পছন্দের লেখালেখি খুঁজে পাওয়া কঠিন। অথচ একবারও সিরিয়াসলি কবিতা লিখতে চেয়েছেন এমন মানুষমাত্রেই জানবেন, কত মাপজোখ, অংক ও ভাবনার ফসল হলো কবিতা, যদি তা সততার সাথে লিখতে হয়। আমার চেনা দুজন কবির কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছে গত কয়েকবছরে। তাদের কথা লিখতে বসেছি।

    সুমনদার (সুমন মান্না) প্রথম কবিতার বই "আলোচাল" প্রকাশিত হলো ২০১০ এ, যদিও তার কবিতা আমি ই পড়ছি ২০০৬ বা তারো আগে থেকে, মনে নেই। সুমনদার সর্বশেষ কবিতার বই (আট বছরে চারটে) সিগনেট থেকে "সাদা কালোয় রক্ত মাংস"। যাঁরা কবিতা পড়েন, কবিতায় দৃশ্যকল্প খোঁজেন, পরতে পরতে লুকিয়ে থাকা গল্প আবিষ্কার করতে ভালোবাসেন তাঁদের আগ্রহ জাগানোর মতই লেখা। আমি হঠাৎ পড়িঃ

    "তবে তাই হোক, ফের খাতা ছেঁড়া শব্দ গড়ায়
    ইঁট কাঠ, খসা পাতা, যাতে সে আশ্রয় পায়
    ধুলো পথ, ঘাসের জঙ্গল, কিছু পরে রাত্রি নামবে
    ফিরে যাবে? এখনও কি শেষ লোকালটা পাবে?


    জানতাম চলে যাবে, এ পৃথিবী আখ্যাননির্ভর
    ঠিকঠাক পৌঁছবে? ফিরে যাওয়া প্রসঙ্গান্তর
    তাও ফের ফিরবেও জানি, এইখানে রাখা থাকে খাতা
    মাঝে মধ্যে কিছু তার সাদা, মাঝে মাঝে লিখছে কবিতা।"
    -গুরুচন্ডা৯ সাইট।

    বা, এই কটি লাইন

    অলীক বনগন্ধে বুঁদ হয়ে বাতাস স্থির হয়ে আছে
    সত্যিকার আমাকে দেখে ফেলে ফিরে গেছ তুমি
    শীতকাল নিয়ে চলে গেছ বলে এখনো মাঠে মাঠে
    খড়কুটো পড়ে থাকে, ভাবে হাওয়া এলে ধুলো
    ঝরে যেত – কচি পাতাটিও কাঁপে ঘুণধরা ডালে।

    কাদের বাড়িতে লোক আসে এত ঘন ঘন
    শামিয়ানা খাটে, ভিয়েন বসে কাদের বাড়িতে এমন
    রাতভর খানাপিনা চলে লোকজন আসে নাচে গায়
    জানি, আমার জন্য নয় এইসব দেখি আর ভাবি
    হাকুচ স্থির বাতাসের নিঝুম মত্ততা চেনাশোনা, তাও
    নতুন পাতার মতো লোকজন আমাদের গাঢ় পুরনো
    বাড়িতে আর ডাল ভাত মাছে আসবে না কক্ষনো
    কিছু জানি, তবু শুধু দেখে যাই যতক্ষণ চোখ যায়
    অলীক বনগন্ধে বুঁদ হয়ে বাতাস স্থির হয়ে আছে।

    - "ঝড়ের পূর্বাভাস, দেশ, ১৭ই মে ২০১৩

    এইরকম অলীক ভাস্কর্য্য, পড়িয়ে নেওয়ার মায়াটান সুমনদার বেশিরভাগ কবিতায়।

    দ্বিতীয়জন সায়ন কর ভৌমিক। দেখলেইমনে হবে লেখাটেখা নিয়ে মন নেই মোটেই, খালি ইসে। বেশি কথায় কাজ কি, পড়ুন গুরুচন্ডা৯'র অন্দরে পড়ে থাকা রাধিকা সিরিজঃ

    "একটু ছন্দ চাহো একটুকু ভ্রান্ত জীবন
    একটু ঘাসের বুকে শিশিরের কুচি শীতশেষে
    একটু একাকী থাকে বালকেরা বয়েসের দোষে
    এতটুকু চিঠি তাকে রাধিকা লিখেছে মনে মনে

    এতটুকু দুর থেকে মনে হয় কত দূরে যায়
    কিশোর বেলাতে তার হাত ধরে ফিরেছে রাধিকা
    এতটা দিনের শেষে রাধিকা তৃতীয় যাম জাগে
    এতদিনে পদ লেখে একাকী শ্যামের বয়ান

    ঘাসকুচি ঢেকে দেয় উঠোনের ছাঁচি বাঁশ বেড়া
    পাতারা উদাস গেছে এতদিনে মৃত ও নীরব
    বালকের চলে গেছে কত কত ভ্রান্ত বিকাল
    এতটা চিঠিও তাকে লেখেনি রাধিকা এতদিনে

    একটু একাকী আর এতটা ভীড়ের প্রকোপ
    গুটিশুটি রাজপথে তাহাদের ভালোবাসা ভয়ে
    পেরিয়েছে ধুলো মাটি রাস্তার এপার ওপার
    সহসা সময় হয়, পদাবলী শ্যামের বয়ানে। "

    ছবিও সেরকমই, ছিটকে বেরিয়ে এসে কথা বলবে যেন। সায়নদাও লিখছে আঁকছে অনেকদিন। এক একটা লাইন চামড়ায় কেটে বসে যাবে এমন লেখা, অবহেলায় লিখে ফেলা, অমনোযোগে। ওরকম মনে হয়। আসলে বহুদিনের চর্চা, নিজস্ব স্বর খুঁজে পাওয়ার আন্তরিক পরিশ্রম। এইসব। গুরুচন্ডা৯ থেকে সায়নদার কবিতার বই "পাখিয়াল"।

    আমি মাত্র দুজনের কথা বললাম। এবং কবিতাগুলোও প্রকাশিত বইয়ের থেকে তুলিনি, হাতের সামনে যা আছে তাই। সমুদ্রের জল যেমন সর্বত্রই ঊনিশ-বিশ, সেই নিশ্চিন্তি নিয়ে এদের লেখা পড়ি। স্বজনপোষণই ধরতে পারেন। সব বই উল্টেপাল্টে দেখার বিলাস তো প্রবাসীর কপালে নাই। এরকম নির্ঘাৎ আরো অনেকেই আছেন, প্রকাশিত কবি, যাঁদের বই কিনতে পাওয়া যায়। খোঁজ জারি থাকুক, এই শুভকামনা রইলো।

    আর বাংলা লেখালেখি নিয়ে এই শিবের গাজনের প্রেক্ষিতটা হলো, শুধু রোম সাম্রাজ্য না, এক চিলতে সামান্য লেখাও, যদি ভালোমানের হয়, আন্তরিক হতে হয়, সময় লাগে। সেই সময়, পরিশ্রমের থাকা না থাকা অনেকটাই পার্থক্য করে দেয়। সেই পার্থক্য স্টাইল ও কনটেন্টে বোঝা যায়। বাংলাভাষায় লেখালেখির হাল এমনিতে বেশ খারাপ। পার্থক্য করতে না পারলে সেই অন্ধকার দিন আর বেশি দূরে নেই, যখন বড়োজোর মীম বানানো যায় এমন মেটেরিয়াল নিয়ে ছোটগল্প লিখে ফেলার লোক বাদে বাংলায় পড়ালেখা আর কেউ করবেনা।
  • pi | 57.15.119.165 | ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ০৭:৫৫434838
  • অনিকেত রুণার লেখাঃ

    শীতকালে মান্ধাতা আমলের শেড দেওয়া ভেপার ল্যাম্প জ্বলতে দেখেছেন? সেই আলোয় যতদূর না দেখা যায় তার চেয়ে ঘোলাটে হয়ে ওঠে বেশী। আর শেডের উপরে চেপে থাকা অন্ধকার কে ছুরি দিয়ে যে কোন আকারে কেটে নেওয়া যায়, এমনই নিটোল পুরন্ত সে। সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায় এর 'দিনগুলি রাতগুলি' র মলাট এর ভেতরে ঢুকে পড়তে আমি ওই শেড টার তলায় এসে দাঁড়ালাম। যে মলাটের ভেতর টায় ঘোলাটে মরবিড আলো না বাইরেটা সেটা আলাদা করতে পারলাম না। নাকি ওই নিটোল অন্ধকার টায় দাঁড়িয়েছিলাম তাও বুঝলাম না। এই দোলাচলের মধ্যে, সংশয়ে ভুগতে ভুগতে বইটা পড়তে থাকলাম। প্রতিটা চলনের মধ্যে সাররিয়ালিটি ঢুকে পড়ে আমাকে এমন ডাকতে থাকল যেন চুল্লীর গনগনে কমলা সম্মোহন। জীবিত আমি ভালবেসে ঢুকে যাই চুল্লীতে। দগ্ধে যাওয়ার মুহুর্তদের আমি জড়াই শরীরে। এই দুই মলাটের মধ্যে দাঁড়িয়ে আমি স্পষ্ট প্রত্যক্ষ করি আমার অবসেসিভ এনটিটি - একটা নরম তুলতুলে রক্তমাংস কে দলাপিন্ড বানিয়ে দি নিজের হাতে, দিয়ে মোক্ষলাভ হয় আমার। সমস্ত নারকীয় অনুভূতি রমণ করতে করতে বইটা পড়ি আমি। পাঠপ্রতিক্রিয়া বলে কি একে?
  • শ্রেয়া | 11.187.250.0 | ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ১১:২৮434839
  • "দিনগুলি রাতগুলি" নিয়ে মিঠুন ভৌমিক লিখেছেন।

    সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায় লেখালেখির জগতে চেনা নাম। পড়ে ফেললাম গুরুচন্ডা৯ থেকে সদ্য প্রকাশিত নভেলেট "দিনগুলি, রাতগুলি।।।"। অনেকদিন পর ফিকশন পড়া। সৈকতদার গল্পের ফর্ম পাল্টেছে মনে হলো, যদিও হাতের কাছে অন্য বইগুলো এই মুহূর্তে না থাকায় সেটা হলফ করে বলতে পারিনা। ১৯৯৫ সাল খুবই আশ্চর্য সময়। আর কয়েক বছরেই পাল্টে যেতে চলেছে বহু কিছু। বহুদিনের অসহায় স্থিতাবস্থা, অন্ন-বস্ত্র-রুটির নিশ্চয়তা খুঁজে ফেরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম শিগ্গিরি ইতিহাস হয়ে যাবে, প্রেমের বিনির্মাণ প্রয়োজন হবে। দূর হবে টাকার প্রতি ছুঁতমার্গ, তারপর ক্রমশ সাফল্যের মানদন্ড হয়ে যাবে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট। এসবই হবে দ্রুত, কবরখানার পাঁচিলে যেমন সন্ধ্যা নামে ঝাঁকড়া গাছের নিচে। তা সে শিবপুর হোক বা গল্‌ফ ক্লাব। এই গল্প্টা বহুভাবে, বহুবার শুনেও পুরোনো হবার না। নব্বইয়ের দশকের গোড়ায় যাদের টিনকাল বা যৌবনকাল, তাঁদের অবশ্যপাঠ্য। কিছু টুকরো ঘটনা, যা মিথও হতে পারে, আবার নাও পারে। যাপনের যৌথ খামারগুলি, অপ্রাপ্তি। এসব বুকে পুষে রাখার একধরণের আরাম আছে। তার চিহ্ন এ লেখার সর্বাঙ্গে।

    "দিনগুলি, রাতগুলি।।। " -সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়

    পাওয়া যাচ্ছে গুরুচন্ডা৯ তে, বইমেলার ২০৪আ নম্বর স্টলে।
  • শ্রেয়া | 11.187.250.0 | ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ১২:০৫434840
  • তাপস দাশ লিখেছেন (ট্যাগ করা গেল না) -

    ঠিক কতটা পথ পেরোলে একজন মানুষ পর্যটক হয়ে ওঠেন, তার কোনও হিসেবনিকেশ সম্ভবত নেই। ইচ্ছাশক্তির জেরে পঙ্গু গিরি লঙ্ঘন করতে পারে কিনা, তাও সত্যিই জানা যায় না। ভলকে ভলকে যার গলা বেয়ে রক্ত বেরিয়ে আসে, ডাক্তার যাকে জানিয়ে দেন, টার্মিনাল স্টেজ অফ টিউবারকিউলোসিস, সেই মানুষটি যখন এ ঘটনার মাত্র দু বছর পর, কোনও শারীরিক সক্ষমতার ট্রেনিং ছাড়া, শুধু স্বপ্ন আর ইচ্ছাশক্তি ভর করে বাইকে চড়ে পাড়ি দিয়ে ফেলেন জুলে-লাদাখ কিংবা স্পিতি, সে কাহিনি পড়লে উপরের দুটি প্রশ্ন মনের মধ্যে উঁকি দেয় বইকি। এ গল্প, থুড়ি ঘটনা, বাইকভ্রমণের হলেও, স্বপ্নভরা ভ্রামণিকদের কেউই এই মোটরসাইকেল ডায়েরিপাঠে রসবঞ্চিত হবেন না। প্রথম রাতের ভয়-স্বপ্ন, আর তার মাত্র কয়েকদিন পরে সকালে উঠেই বোধ করা, যে এখন আর কোনও কষ্ট নেই, এই দ্বিত্বের মধ্যে যে মানবিক চলাচল, সে আশ্চর্য ভ্রমণের গন্ধ এ কাহিনির ছত্রে ছত্রে রয়েছে যেমন, তেমনই তার হদিশ রয়েছে দুই পংক্তির অভ্যন্তরস্থ স্পেসে, সাজানো ছবির বিন্যাসে। যাত্রাপথের বিপদ, যাকে দূর থেকে দেখলে, দূরবর্তী হয়ে পড়লে, কেবল অ্যাডভেঞ্চারের মতই লাগে, তার মুখোমুখি হওয়ার শিরদাঁড়া ঠান্ডা করার অনুভবের শরিক করে নেন অচল সিকি, তাঁর মোটর সাইকেল ডায়েরিতে। এমন কৌতূহল ও কৌতুক উদ্রেককারী ছদ্মনাম কেন ব্যবহার করলেন, তার আভাসও বইয়ে দেওয়া রয়েছে। প্রকৃতির কাছে যাওয়ার অর্থ মানুষ বিবর্জিত কোনও রম্যস্থানে ভ্রমণ বলতে যখন বুঝে যাচ্ছেন আবিশ্ব নাগরিকরা, সেরকম এক সময়ে, পথশোভার পাশাপাশি, মানুষকেও দেখতে থাকেন এই পর্যটক, তাঁদের কথা লিপিবদ্ধ করে রাখেন এই ডায়েরিতে, যার নাম- সর্ষেদানায়, ইচ্ছেডানায়।।।অনেককাল আগে কোনও এক অপূর্বকুমার রায় পথের দেবতার হাতছানি পেয়ে গিয়েছিল, অচল সিকির শেষকথায় সে হাতছানিপ্রাপ্তির ইশারা বিদ্যমান।

    তাপস দাশ লিখলেন আমাদের পায়ের তলার সর্ষে আর মনের ইচ্ছেকে নিয়ে। ঃ)
  • বিপ্লব রহমান | ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ১২:৩১434841
  • দারুণ সব চটি সিরিজ। অচল সিকির সর্ষেদানায়, ইচ্ছেডানায় ও গোরা নকশালে খুব আগ্রহ হচ্ছে। চলুক।

    #

    "বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট [নামিয়ে নিন] রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।"

    গাইডটি সত্যিই খুব দৃষ্টি নন্দন। এটিও কি বইমেলায় মূদ্রিত আকারে পাওয়া গিয়েছে?
  • pi | 127.227.31.191 | ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ১৩:৩১434842
  • হ্যঁ, যাচ্ছে ঃ)
  • শ্রেয়া | 212.142.65.215 | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ১৬:০১434843
  • দিনগুলি রাতগুলি শেষ করলাম হাওড়া মেদিনীপুর লোকাল ট্রেনে । হাওড়ায় শুরু করেছিলাম । শেষ হল যখন রূপনারায়ন পেরোচ্ছি । জানলার বাইরে নদীর ওপর থম মেরে আছে অন্ধকার । একটি নভেলা আমাকে একটা পুরো জেলা আড়াআড়ি পার করে দিল ট্রেনের থেকে অনেক বেশী গতিতে । বইটি কেমন লাগল - ইত্যাদি ব্যাপার লেখা উদ্দেশ্য নয় । সেসব লিখতে গেলে মনে হয় পরীক্ষা দিতে বসলাম । এটুকু বলাই উদ্দেশ্য যে কথক যে অনুভুতিগুলি শেয়ার করছেন তা আমারও । অনেকটা এরকমই কেটেছে কলেজের দিনগুলি - রাতগুলি ।অর্থাত কিনা রিলেট করছি পুরোদস্তুর । আসলে ওই সময়টাই অদ্ভুত । আলো, অন্ধকার, রাস্তার ধারে সারি সারি রোলের দোকান, সস্তার বার এর বাল্বের আলোয় সুন্দরী হয়ে ওঠা পোস্টারের অর্ধনগ্ন যুবতী, ভেজা ছোলা, বীটনুনের অপার্থিব স্বাদ আর অন্যদিকে মেয়েদের রহস্যময় পৃথিবীর সিলৌট । সেখানে আশ্চর্য সব ঘটনা ঘটতে থাকে অসম্ভব সাচ্ছন্দে । বান্ধবীর কালো ব্রা এর স্ট্র্যাপ যখন শরীর নয়, মন অথবা মনের ভেতরের কোনও জাদুপৃথিবীর জানলা গুলো খুলে দেয় । সেখানে একটা কালো টিপ, একটা লম্বা নরম চুল, সাদা সালোয়ার কামিজের আলগা বোতাম- সবই এক একটা কোড - যার সূত্র ধরে পৌঁছানো যেতে পারে এক বুদবুদ জগতে । যা সত্য অথচ অলীক । হয়তবা পুরাকল্পীয় । তবে বড়ই ক্ষণিক । নভেলাটির মতই সংক্ষিপ্ত । পরে কলেজোত্তর পৃথিবীর নখ দাঁত সেই কুয়াশাজগতের তন্তুগুলিকে একে একে ছিঁড়ে ফেলবে ।
    কথা হল, এভাবে বলা সহজ নয় । অন্তত এভাবে সেই সব মিথিক্যাল দিনগুলির অবোধ্য ঘোরগুলি লিপিবদ্ধ করা যায় এটা জেনেই আশ্চর্য হচ্ছি ।

    শান্তনু কুমার দাসের কলমে দিনগুলি রাতগুলির প্রতিক্রিয়া।।
  • pi | 24.139.221.129 | ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ১২:২৫434845
  • এই বইটির তৃতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হতে চলেছে।
    খুব শিজ্ঞিরি। বইমেলায় চেয়েও যাঁ্রা পাননি, খুব তাড়াতাড়িই পেয়ে যাবেন।

    বইটির আংশিক আর্থিক দত্তক নিতে কেউ আগ্রহী হলেও জানাবেন। মেসেজ করতে পারেন। অনেক ধন্যবাদ।

    '
    পুরুষ মাত্রেই নারীকে কামনা করেনা। বা নারী মাত্রেই পুরুষকে। পুরুষ এবং নারীর একমাত্রিক যৌন আখ্যানের আড়ালে অজস্র দৃশ্যের জন্ম হয়। জন্ম হয়, চাওয়া, পাওয়া, অপ্রাপ্তি, আঘাত, নিঃসঙ্গতা এবং বেদনার। সেসব নিয়ে কোনো মহৎ উপন্যাস রচিত হয়না। নির্মিত হয়না কোনো প্রেমগাথা।

    এসব দৃশ্যের কিয়দংশ রইল এই বইয়ে। দ্বিতীয় পেরিয়ে তৃতীয় সংস্করণে পা রাখতে চলা এই বইতে নিজেদের অভিজ্ঞতা, অনুভূতির কথা লিখেছেন সেইসব মানুষরা, যাঁরা জ্ঞস্ট্রেটঞ্চ নন। মিডিয়াব্যাপী পুরুষ এবং নারীর একমাত্রিক যৌন আখ্যানের ধামাকার পাশাপাশি এই লেখাগুলিও থাক, বাড়তে থাকুক আকারে ও প্রকারে প্রথম থেকে দ্বিতীয় হয়ে তৃতীয় সংস্করণে।
  • | 116.193.198.15 | ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ১৩:২৬434846
  • প্রায় সবই বুঝতে পারলাম। শুধু এই " জ্ঞস্ট্রেটঞ্চ" মানেটা বলে দিলেই বাকীটাও ক্লিয়ার হয়ে যায় আর কি!
  • রুকু | 212.142.104.11 | ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ১৩:৩৩434847
  • বইটার নাম আমার যৌনতা।
  • pinaki | 90.254.154.67 | ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ১৪:২৫434848
  • ওটা 'স্ট্রেট'। :-D কোট আনকোট পার্টটা মনে হয় ফন্ট মিসম্যাচের জন্য জ্ঞ আর ঞ্চ হয়ে গেছে। :-D
  • সিকি | 158.168.40.123 | ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ১৪:৩১434849
  • ত্রেতা যুগে যখন "বাংলাপ্লেন" নামক নন-ইউনিকোড ফন্টটা ইউজ হত গুরুতে লেখালিখির জন্য, তাতে ওপেনিং কোট আর ক্লোজিং কোট ইউনিকোড কনভার্সনের সময়ে জ্ঞ-ঞ্চ হয়ে যেত।
  • রুকু | ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ১৪:৪৬434850
  • গোরা নকশাল...গুরু তে প্রথম বার পোস্ট হওয়ার সময় থেকেই নাম টা কেমন টানছিল। এবারের বইমেলায় তাই এটাই ছিল আমার প্রথম রসদ। কাল সন্ধ্যাবেলায় পড়তে শুরু করেছিলাম- উৎসর্গ, কৃতজ্ঞতা, ভুমিকা কোনো টাই ছাড়া গেল না। অনেকদিন পর এরকম অনায়াস ঝরঝরে বাংলা পড়ার আরাম পাচ্ছিলাম। টুকনুর ছোটবেলার নির্ভেজাল দিনগুলো মনে হলো আমার চোখের সামনে দেখছি। কিছু টা পড়ার পর ভাবলাম রেখে দিই, বাকি টা কাল হবে। কিন্তু পারলাম না তো! ততক্ষণে যে গোরা নকশালের সাথে প্রথম পরিচয় হয়ে গেছে, ঘুম আসার নামগন্ধ নেই। অতঃপর রাতদুপুরে আলো জ্বেলে আবার পড়া শুরু, এবার এক নিঃশ্বাসে শেষ।
    সত্যি কি আর শেষ হয়, নাকি হওয়া সম্ভব? চোখ বুজলেই তো প্রিয়াংশু, সুশান্ত, গোরা রা ভেসে উঠছে এখনো, বুকের ভেতর ধাক্কা মারছে সমানে। সারারাত প্রায় জেগে কাটলো, এখনো ঘোরের মধ্যেই আছি।

    পুনশ্চ: এটা নেহাতই এক সাধারণ পাঠকের জবানবন্দী। সকাল সকাল Ipsita দি কে মেসেজ করে জানানোর পর সাহস করে লিখে ফেললাম।

    গোরা নকশালের পাঠ প্রতিক্রিয়া লিখেছেন রাজশ্রী সরকার।
  • রাজশ্রী সরকার | 57.15.28.63 | ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ১৯:০০434851
  • গোরা নকশাল...গুরু তে প্রথম বার পোস্ট হওয়ার সময় থেকেই নাম টা কেমন টানছিল। এবারের বইমেলায় তাই এটাই ছিল আমার প্রথম রসদ।

    কাল সন্ধ্যাবেলায় পড়তে শুরু করেছিলাম- উৎসর্গ, কৃতজ্ঞতা, ভুমিকা কোনো টাই ছাড়া গেল না। অনেকদিন পর এরকম অনায়াস ঝরঝরে বাংলা পড়ার আরাম পাচ্ছিলাম। টুকনুর ছোটবেলার নির্ভেজাল দিনগুলো মনে হলো আমার চোখের সামনে দেখছি। কিছুটা পড়ার পর ভাবলাম রেখে দিই, বাকিটা কাল হবে। কিন্তু পারলাম না তো! ততক্ষণে যে গোরা নকশালের সাথে প্রথম পরিচয় হয়ে গেছে, ঘুম আসার নামগন্ধ নেই। অতঃপর রাতদুপুরে আলো জ্বেলে আবার পড়া শুরু, এবার এক নিঃশ্বাসে শেষ।

    সত্যি কি আর শেষ হয়, নাকি হওয়া সম্ভব? চোখ বুজলেই তো প্রিয়াংশু, সুশান্ত, গোরা রা ভেসে উঠছে এখনো, বুকের ভেতর ধাক্কা মারছে সমানে। সারারাত প্রায় জেগে কাটলো, এখনো ঘোরের মধ্যেই আছি।

    পুনশ্চ: এটা নেহাতই এক সাধারণ পাঠকের জবানবন্দী। সকাল সকাল Ipsita দি কে মেসেজ করে জানানোর পর সাহস করে লিখে ফেললাম।
  • আবু তোরাব মোল্লা | 57.11.94.111 | ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ২০:৪৬434852
  • পাঠকের মতামত
    #গোরা_নকশাল
    বইমেলা প্রতিবারই যাই। এবারেও গিয়েছিলাম। প্রতিবারের মতই এবারও বাজেট এবং সম্ভাব্য বই ঠিক করে রেখেছিলাম। তবে এবারে বাজেট অল্প থাকার দরুন বেশি বই আমার লিস্টে রাখতে পারিনি।
    কিছুদিন আগে ফেসবুকের সূত্রে পরিচিত বন্ধু সেখ সাহেবুল হক আমাকে একটা গ্রুপের কথা বলে। আমি বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় গ্রুপে জয়েন করে দেখেছি সেখানে হয় ছাগলামো নয় নোংরামো হয়। আমি বন্ধুর মত তর্কা-তর্কি করতে ভালোবাসি। সঙ্গে ছোটো বেলা থেকেই প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার একটা ভাবনা মনে দানা বাঁধতো। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য আমার ছেলেবেলার প্রিয় কবি সুকান্ত। তিনি আমাকে খুব টানতেন। আমি সাহেবুলের পরামর্শে #গুরুচন্ডা৯ জয়েন করলাম।
    ইতিপূর্বে গুরুর কোনো বই পড়ার সৌভাগ্য হয় নি। এবারে গুরুর একটা বই আগে থেকেই মনে মনে ঠিক করে রেখেছিলাম।

    #গোরা_নকশাল
    গুরুর স্টল স্থান পরিবর্তন করার পরদিন আমি গিয়েছিলাম। গিয়ে দু একটা বই ঘেঁটে আমার কাঙ্খিত বই কিনে স্টল ছেড়েছিলাম।
    এবার আসি “গোরা নকশাল” বিষয়ে কারন আমার এই পোষ্ট সে বিষয়েই।

    গল্প শুরু হচ্ছে টুকনু নামের একটি বাচ্চা ছেলের নজরে দেখা বর্ননা দিয়ে। যেটা সাধারণ দৃষ্টিতে দেখলে হাস্যরসের বিষয় হতে পারত। কিন্তু লেখক কল্লোল লাহিড়ী সেই বর্ণনার মধ্যে বিরাট সম্ভাবনার বিজ বুনেছেন। আমি আরবি সাহিত্যে ইতিপূর্বে এই ধরনের বর্ণনা পড়েছি। ডঃ ত্বহা হুসাইন তাঁর হাস্যরসাত্মক আত্মজীবনি (আল আইয়াম) “দিনগুলি” –তে এই পদ্ধতিতে শিশুর চোখে দেখা বর্ননা দিয়েছেন। সেই দৃষ্টিতে দেখলে এটা বিশ্বমানের একটা রচনা। আর কি অদ্ভুত ব্যাপার ডঃ ত্বহা হুসাইনও প্রতিষ্ঠান বিরোধি ছিলেন এবং তিনিও প্রচলিত ধারনাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাতেন। কল্লোল লাহিড়ীও প্রশ্নটা তুলেছেন, লাল পতাকার শাসনে কেন শ্রমিকেরা বঞ্চিত হবে?
    সাতের দশকে এক দল প্রত্যয়ী কিশোরের একটা মতবাদকে আঁকড়ে সব কিছু বদলে দেবার যে প্রচেষ্টা ছিল তার ঐতিহাসিক পুনর্নির্মান করেছেন লেখক। নকশালের ধারনা বদলেছেন কিংবা মিলিয়েছেন, যার চেতনা ডানা মেলে বহু দূর উড়তে পারে সেই নকশাল। এটা বোঝাবার জন্য যে ধরনের ঘটনার কোলাজ লেখক ব্যবহার করেছেন তা এক কথায় অনবদ্য।
    অর্ধেক পড়ে আমার মনে হচ্ছিল, আমি কেন চোখের সামনে সব ঘটনা দেখতে পাচ্ছি না? এই সমস্যা কাটাবার জন্য আমি “নক্সাল” নামে মিঠুন চক্রবর্ত্তী অভিনিত সিনেমা ইউটিউব থেকে দেখে নিলাম। যদিও সেই সিনেমায় বাজার ধরার উদ্দেশ্যে কিছু আপোশ ছিল। এবার শুরু হল আমার আসল যাত্রা। আমার চাকরি জীবনে আমি উত্তর পাড়ায় দুবার ভোট করেছি। সেখানকার শ্রমিকদের অবস্থা আমি নিজের চোখে দেখেছি। একেবারে চোখের সামনে বাস্তব উপলব্ধি পাচ্ছিলাম লেখায়।
    গোরা নকশাল যেন টুকনুকে আঁকড়ে বাঁচতে চায়ছিল।টুকনুর দাদা নকশালের যে অর্থ বলেছিল তা বড়ই বাস্তব। তাই বার বার সে কথা এসেছে। টুকনু দ্বন্ধে পড়েছে তা নিয়ে। টুকনুর দাদা শিক্ষার প্রতি আগ্রহি ছিল টুকনু সম্পুর্ন তার বিপরিত। তাকে গোরা নকশাল নিজের হাতে তার আদর্শে গড়তে চেয়েছিল। কি হয়েছিল তা বড়ই আবছা। অবশ্য এটা আমার ভ্রমও হতে পারে।
    শ্রমিক আন্দলনকে আবার পুনঃসংগঠিত করার ক্ষেত্রে যখন প্রথম গোরাকে অনাসক্ত দেখা গেল আমার একটু রাগই হয়েছিল। তবে পরে সে ভূল ভেঙেছিল। আবার নতুন আঙ্গিকে নতুন রাজনৈতিক আবর্তে শ্রমিক আন্দলন দানাবেঁধেছিল। কিন্তু শাষকের কালো হাত সর্বদাই সর্বহারার অধিকারের আন্দলন রক্ত দেখিয়ে দমন করেছে। এই পর্বে আমার এই গল্পের সবথেকে প্রিয় চরিত্র ঠুলিকে পেলাম। ঠুলি চরিত্রটি শরৎচন্দ্রের শ্রিকান্ত উপন্যাসের ইন্দ্রনাথকে মনে করায়। তবে এই ঠুলি জানে সে কোন শ্রেনির প্রতিনিধিত্ব করছে। সে লাল পতাকা নিয়ে ইনক্লাব স্লোগান দিতে জানে। এই পর্বে সুশান্ত নামে যে চরিত্রটি এসেছে সে অনবদ্য। সে নকশাল আন্দোলনের সত্তরের দশকের যে কোনো চরিত্রেরই প্রতিচ্ছবি। তবে এই পর্বে সে ঠুলির কাছে ম্লান হয়ে গেছে।
    চে গুয়েভারা এই গল্পের চরিত্র হয়ে উঠেছে। সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক চাপান উতোরও গল্পের অঙ্গ হয়ে উঠেছে।
    সবথেকে বাস্তব হল পিসি মণি চরিত্রটি। যে পরিবার নকশাল চিন্তাধারাকে বহন করে সেই পরিবারেই তাবিজ-কবজের প্রচলন। এ যেন আমাদের দেশের বহুত্ববাদী চিন্তাধারার ক্ষুদ্র সংস্করণ।

    সিনেমা নির্মানের সঙ্গে এই গল্পের আত্মিক যোগ। বার বার ফ্লাস ব্যাকে ফিরে যাওয়া। গল্পের সংলাপ হয়ে বার বার একবার এগিয়ে যাওয়া আবার ফিরে দেখা। তবে এটা বই না হয়ে সিনেমা হলে যেমন কিছুটা সুবিধা হত তেমনই বেশ কিছু অসুবিধাও ছিল। শিশু মননের যে বর্ণনা এতে আছে তা হয়ত সিনেমাতে দেখানো সম্ভবও ছিলনা।

    এবারে আসি ক্লাইম্যাক্সে-
    গল্পের প্রতিটা চরিত্র এখানে আকর্ষনীয়। সকলেই পাঠকের হৃদয়ে জিবন্ত হয়ে ওঠে।
    একটা বাস্তব প্রশ্নের সামনে পাঠককে দাঁড় করিয়ে দেয় “গোরা নকশাল”।
    ওরা আমাদের কোনো অধিকার দেয়নি। নামেই বাঁচিয়ে রেখেছে। আসলে রাষ্ট্র ক্ষমতা মানুষকে অধিকার বুঝিয়ে দেয়নি। সব প্রতিশ্রুতিই থেকে গেছে। কোনো নকশালও সব বদলে দিতে পারেনি। রাস্ট্র তাদের কোমর ভেঙে দিয়েছে।

    টুকনু বড় হয়ে বুঝেছে, সেও আসলে নিষ্ঠুরই ছিল। সে তো বুঝেছিল, কিন্তু আমরা? আমরা সকলেই হয়ত কোথাও না কোথাও নিষ্ঠুরই।
    • কাঁচা হাতে লেখায় ভুল-ত্রুটি থাকতে পারে। ক্ষমা করবেন।
  • aranya | 172.118.16.5 | ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ২৩:৪৩434853
  • আবু তোরাব, ভাল লাগল আপনার পাঠ প্রতিক্রিয়া। আরও লিখুন।

    গোরা নকশাল বড্ড প্রিয় লেখা, মাঝে মাঝেই ফিরে পড়ি
  • pi | 57.29.254.76 | ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ১৪:৪৯434854
  • কাল। রেনবো কার্নিভাল। ট্রায়াংুলার পার্কে।

    আর এর সাথেই হচ্ছে গুরুচণ্ডা৯ র বোস্টনে বং গে র দ্বিতীয় সংস্করণ ও আমার যৌনতার তৃতীয় সংস্করণের আনুষ্ঠানিক প্রকাশ। করবেন, নবনীতা দেবসেন ও মীনাক্ষী সান্যাল।
  • পাই | 57.29.189.36 | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ১৮:৩৪434856
  • রাহুল লিখেছেন -

    বইটা কিনব কিনা তা নিয়ে সামান্য দ্বিধায় ছিলাম, কেননা ব্লগেই লেখাগুলো পড়েছি আগে। তা বইমেলা গেলাম একদিন, গুরুচণ্ডালীর স্টলে ঢুকলাম, বইটা হাতে নিলাম, কি মনে হল না নিয়ে চলে এলাম। কিন্তু মনে খচখচ, অগত্যা পরের দিনই অন্য এক বন্ধুর হাত দিয়ে বইটা আনিয়ে স্বস্তি। আনলাম কিন্তু পড়লাম না। পড়েই ছিল এদ্দিন টেবিলে, প্যাকেটটা খুলিনি অবদি, রোজকার কাগজপত্র, বই, ম্যাগাজিন জমা পড়ছিল উপর উপর।

    খানিক অসুস্থ ছিলাম গত কয়েকদিন। আপনার মতো আমারও শ্বাসের সমস্যা, মাঝে মাঝেই মনে হয় মৃত্যু থেকে মাত্রই কয়েক সেকেন্ড দূরে রয়েছি, তা সেই টানাপোড়েন গেল বাহাত্তর ঘন্টার উপর। যাইহোক, একগুচ্ছ আন্টিবায়োটিক গিলে আজ খানিক সুস্থ হওয়ার পর কি মনে হতে বইটা টেনে বার করলাম। এগারোটার দিকে বসেছিলাম, মাঝে স্নান খাওয়া করেছি শুধু, তা বাদ দিয়ে পাতা থেকে চোখ সরাইনি, এইমাত্র শেষ হল। লাদাখ, স্পিতি হয়ে শেষকথা।

    বেসিক্যালি সবই জানা, ফিরতি পথের রাস্তার মতো, নিজে পড়েছি এ লেখা, বন্ধুদের পড়িয়েছি, তবু আজ ফের পড়তে গিয়ে কোথাও একঘেয়ে লাগল না। সাহিত্যের একরকম সংজ্ঞা এইরকম হয় যে, কোনো বইর কাছে যদি দ্বিতীয়বার ফিরে যাওয়া যায়, তবে তার বিশেষ কিছু প্রসাদগুণ আছে। এবং আমি নিশ্চিত ভবিষ্যতে আবার কখনও পাঁচ ঘন্টা এই বইটার পিছনে আমি খরচ করব। অদ্ভুত একটা ভালো লাগা কোথাও গিয়ে তৈরি হয় যেন। নর্থইস্টটা এই সংস্করণে ঢোকেনি, পরে কখনও জুড়ে গেলে আরও খোলতাই হবে পুরো ব্যাপারটা।

    যাইহোক, ভালো থাকবেন। আরও লম্বা সব সফর জারি থাকুক।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
    • কি, কেন, ইত্যাদি
    • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
    • আমাদের কথা
    • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
    • বুলবুলভাজা
    • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
    • হরিদাস পালেরা
    • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
    • টইপত্তর
    • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
    • ভাটিয়া৯
    • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
    গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
    মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


    পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খারাপ-ভাল প্রতিক্রিয়া দিন