• টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। যে কোনো নতুন আলোচনা শুরু করার আগে পুরোনো লিস্টি ধরে একবার একই বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে কিনা দেখে নিলে ভালো হয়। পড়ুন, আর নতুন আলোচনা শুরু করার জন্য "নতুন আলোচনা" বোতামে ক্লিক করুন। দেখবেন বাংলা লেখার মতো নিজের মতামতকে জগৎসভায় ছড়িয়ে দেওয়াও জলের মতো সোজা।
  • ঐতিহ্যমন্ডিত বাংলা চটি সিরিজ

    sumeru
    বইপত্তর | ২৯ জানুয়ারি ২০১০ | ১৪৮০৫ বার পঠিত
আরও পড়ুন
মন-আমি - Sumeru Ray
আরও পড়ুন
খোপ - রৌহিন
আরও পড়ুন
খোপ - রৌহিন
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা

  • পাতা : 1 | 2 | 3 | 4 | 5 | 6 | 7 | 8 | 9 | 10 | 11
  • | 453412.159.896712.72 | ২২ জানুয়ারি ২০১৯ ০৯:৫৬434946
  • আচ্ছা ইসে, এই বছরের বইয়ের লিস্টি কিন্তু সাইটে আসে নি এখনও। যদিও ফেবুতে রমরম করে চলছে বেশ কিছুদিন। ;-)
  • boimelaa | 232312.172.781223.89 | ২৬ জানুয়ারি ২০১৯ ০০:৪৯434948
  • তাইতো, এখনো লিস্টি আসেনি। এই ন্যান।

    ২৯৩এ নতুন ১১টিঃ

    ######

    সিজনস অব বিট্রেয়াল – দময়ন্তী
    ~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
    ইতিহাস শুধু বইয়ে লেখা থাকেনা, গণস্মৃতিতেও ধরা থাকে ইতিহাসের উল্টে আসা পাতা। দেশভাগ সংক্রান্ত এই বইটি তেমনই এক গণস্মৃতির আর্কাইভ। দেশভাগের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতাগুলিকে লেখিকা তুলে এনেছেন পারিবারিক অ্যালবাম থেকে। এ একেবারেই কোনো কল্পকাহিনী নয়, বরং স্মৃতিতে থাকা দেশভাগের আখ্যান, যার সঙ্গে ওতঃপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে সেই বাস্তবতা, যাকে ইতিহাস বলা হয়ে থাকে। এই বইয়ের প্রতিটি অনুচ্ছেদে ফুটনোট হিসেবে তাই জুড়ে দেওয়া আছে এতাবৎকালের লিখিত ইতিহাস ও পারিবারিক স্মৃতির রেফারেন্স। ব্যক্তির স্মৃতি এখানে ইতিহাস হয়ে উঠেছে, আর ইতিহাস হয়ে উঠেছে গণস্মৃতির উপজীব্য। বাংলায় দেশভাগ নিয়ে লেখা এবং স্মৃতিকথন, কারোরই কোনো অভাব নেই। কিন্তু এ দুটিকে পরতে পরতে জুড়ে দিয়ে ইতিহাসের কঠিন বাস্তবতা আর টানটান মানবিক ফিকশনের অনন্য এক যুগলবন্দী গুরুচণ্ডা৯ থেকে প্রকাশিত এই বই।

    প্রচ্ছদ - দেবরাজ গোস্বামী
    নামাঙ্কন - চিরঞ্জিত সামন্ত
    ————————-

    অতিনাটকীয় - একক
    ~~~~~~~~~~~~
    কাজী যখন জোলারে জিগান ঃ গেলো বুধবার রাত সাতটায় তুমি অমুকের বাড়ির খাটালে সিঁদ কেটে ঢুকে মোষ চুরি করেছিলে ? জোলা তো রেগে আগুন ! সে এগারো দিন সময় চেয়ে নিল কাজীর কাছ থেকে , তারপর সেরা উকিল -লোক লস্কর ও সাক্ষী সাবুদ এনে কাঁটায় কাঁটায় প্রমান করে দিল , বুধবার নয় জোলার পো মোষ চুরি করেচে বিষ্যুতের ভোরে , বাগানের খোলা দরজা দিয়ে ঢুকে । তার বাগ্মিতা ও উপস্থিত বুদ্ধিতে ধন্য ধন্য কল্ল গাঁয়ের জনগণ । অন্তিমে, জোলার হেঁটোয় কাঁটা দিয়ে ডালকুত্তাদের ভুরিভোজ হলো ।

    এই কৃশকায় বইটির ফঙ্গবেনে কাহিনীসমূহ , গল্পসাহিত্যের বিন্যাসে ও ঘটনাপ্রবাহের যুক্তিজালবিস্তারে উপরিউক্ত জোলার পদাঙ্কানুসারী।এবার , কাজীর বিচার পাঠকের হাতে ।

    প্রচ্ছদ - একক
    ————————-

    পাড়াতুতো চাঁদ – ইন্দ্রাণী
    সংকলন - ছোট গল্প
    ~~~~~~~~~~~~~
    শঙ্খ ঘোষ বলেছিলেন, 'আমরা যখন সত্যিকারের সংযোগ চাই, আমরা যখন কথা বলি, আমরা ঠিক এমনই কিছু শব্দ খুঁজে নিতে চাই, এমনই কিছু কথা, যা অন্ধের স্পর্শের মতো একেবারে বুকের ভিতরে গিয়ে পৌঁছয়। পারি না হয়তো, কিন্তু খুঁজতে তবু হয়, সবসময়েই খুঁজে যেতে হয় শব্দের সেই অভ্যন্তরীণ স্পর্শ।" ইন্দ্রাণী খুঁজে চলেছেন।

    প্রচ্ছদে ব্যবহৃত তৃণা লাহিড়ীর পেপার কাট
    ————————-

    মজুররত্ন - তন্বী হালদার
    ~~~~~~~~~~~~~~~~~
    গল্প সংকলন
    এ এক অন্য জগৎ। এখানে ফরেস্ট বাংলোর চৌকিদারের ছেলের বউ বেহুলা, স্বামীর নাম লখিন্দর। এখানে মেথর কোয়ার্টারের যাত্রাপালায় রাবণের বৌ হয় সীতা। ভিখিরিরা গেয়ে ওঠে একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি। এখানে বিহার থেকে সোনাগাছি ঘুরে আসা মেয়ের নাম গঙ্গা। এখানে সকাল অন্য রকম। রাত অচেনা। অজনা মানুষ, অচেনা গল্প, অপরের জগৎ। অন্য ভাষা অন্য সুরে এই অনন্য উপাখ্যানগুলি গেঁথেছেন তন্বী হালদার।

    প্রচ্ছদে ব্যবহৃত তৃণা লাহিড়ীর পেপার কাট
    ————————-

    লক্ষ্মীর পাঁচাঌ
    সম্পাদনাঃ যশোধরা রায়চৌধুরী
    ~~~~~~~~~~
    লক্ষ্মীর পাঁচাঌ । এ আসলে চিরাচরিত লক্ষ্মীর পাঁচালিকে পুনর্নবীকরণের এক প্রয়াস। লক্ষ্মীর পাঁচালির পয়ার ছন্দটিকে অবিকৃত রেখে বিষয়বস্তুটিকে সম্পূর্ণ পাল্টে দিয়ে লেখা হচ্ছে নতুন একটি পাঁচালি। একে প্যাঁচালিও বলা যেতে পারে, বা প্যারডি। লোকশিক্ষেও বলা যেতে পারে, বা সাবভার্শন। লিখছেন নানা প্রজন্মের মহিলা ও পুরুষ কবিরা। এর দু-একটি পদ্য ইতিমধ্যেই প্রকাশিত, নানা মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে পপুলারও। এবার সম্পূর্ণ বইটি আপনি পাবেন গুরুচণ্ডাঌর প্রকাশনায়। ছাপা অক্ষরে। যা একটি সম্পূর্ণ ও নবীকৃত লক্ষ্মীর পাঁচাঌ।

    প্রচ্ছদে ব্যবহৃত বাংলার ঐতিহ্যবাহী লক্ষ্মী-সরা
    ————————-

    নাগরিকপঞ্জি ও ডিটেনশন ক্যাম্পঃ আসামে নাগরিক তৈরীর বৃত্তান্ত
    সংকলন ও সম্পাদনাঃ দেবর্ষি দাস, স্বাতী রায়, সোমনাথ রায়
    ~~~~~~~~~~
    এন আর সি আমাদের এক ৪০ লাখি মানবিক সঙ্কট উপহার দিয়েছে। সাথে সাথে ডি ভোটার, বর্ডার পুলিশ, বিদেশি ট্রাইবুনাল, ডিটেনশন ক্যাম্প, অরিজিনাল ইনহ্যাবিটান্ট ইত্যাদি শব্দাবলীর সাথে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে। এই বই বাংলা পাঠককে এন আর সি ও ডি ভোটার সংক্রান্ত হয়রানির সাথে পরিচয় করে দেবে। সংখ্যাগুরুর হাতে সংখ্যালঘুর অত্যাচারে রাষ্ট্র কী বিপজ্জনক ভূমিকা নিতে পারে বইয়ের লেখাগুলি তা পরিষ্কার করে দেখিয়েছে।

    প্রচ্ছদ - দেবরাজ গোস্বামী
    নামাঙ্কন - চিরঞ্জিত সামন্ত
    ————————-

    মলয় রায়চৌধুরী নিজের বাছাই

    গদ্যের সম্ভারের চূড়োয় ছোট্টো পালক
    ~~~~~~~~~~
    “শ্রেষ্ঠ, শিল্প, প্রতিভা, মাস্টারপিস, ইতিহাস ইত্যাদি ভাবকল্পগুলো আমার লেখার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, কেননা আমি জানি না ওগুলো ঠিক কি জিনিস । এতকাল যাবৎ আমি যা লিখেছি তা জড়ো করলে একশোর বেশি বই হয়ে যাবে ; গ্রন্হাকারে এর অর্ধেক প্রকাশিত হয়েছে বোধহয় । বোধহয় বলছি দুটো কারণে ঃ প্রথম, আমি নিজের বই সংগ্রহে রাখি না ; দ্বিতীয়, ২০০৫ থেকে, আরথ্রাইটিসের কারণে আমি কলম ধরে লিখতে পারি না বলে আমার সংগ্রহে পাণ্ডুলিপিও নেই যে প্রকাশক খুঁজবো । মাঝে হার্ড ডিস্ক খারাপ হবার ফলে কমপিউটার থেকেও বহু লেখা উধাও হয়ে গেছে । কবিতার কথা বলছি না, কেননা ওগুলো ইমেলের বডিতে লিখে পাঠিয়ে দিই, তারপর হারিয়ে যায় ।
    নিজের বাছাই বলতে তাই আমার পছন্দের বাছাই নয় ; যারা সামনে নেই তাদের তো বাছাই করার সুযোগ নেই । সুতরাং যারা চোখের সামনে পড়ল, তাদের থেকেই বেছে নিলুম । পাঠকের কাছে পৌঁছোতে পারেনি, এই ভেবে বেছে নিলুম । লেখাগুলো শ্রেষ্ঠ বা শিল্প বা মাস্টারপিস ইত্যাদির পর্যায়ে পড়বে না ; আগেই বলেছি, যে এই ব্যাপারগুলো আমি বুঝি না । কেউ সত্যিই বোঝে কিনা সে-ব্যাপারে আমার ঘোর সন্দেহ আছে । তবে আমি চেষ্টা করেছি যে বিয়ে আর বিয়ের পরের নানা রকমের তত্বের মতন আমার প্রতিটি লেখার আড়ালে যে তত্ব সাজানো হয়েছে তার সঙ্গে পাঠকের পরিচয় হোক । বেশি কথা বলতে চাই না । বললে আবার অন্যান্য তকমা চাপানো হতে পারে লেখাগুলোর ওপর, যেমন দ্রোহ, রেবেল, বিপ্লব, প্রতিষ্ঠানবিরোধী, যৌনগন্ধী ইত্যাদি ইত্যাদি । পাঠক নিজেই পড়ুন আর ভাবুন । ভাবনা মানে কেবল কপালের ভাঁজ নয়, মুচকি শ্লেষও তো তাইই। “

    প্রচ্ছদে ব্যবহৃত গীতাঞ্জলী যোশীর আঁকা লেখকের প্রতিকৃতি।
    নামাঙ্কন - চিরঞ্জিত সামন্ত
    ————————-

    নিরুদ্দিষ্টের উপাখ্যান ও অন্যান্য কাহিনি - অমর মিত্র
    ~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
    শ্রীরামচন্দ্র গ্লাস ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে গেছে। সেখানে শ্রীরাম আবাসনের বিজ্ঞপ্তি। বন্ধ কাচকলের শ্রমিক বৈরাগী মন্ডল বিজ্ঞপ্তি দেখেছিল প্রথম। সে ভাবত কাচকল বন্ধ হয়ে আছে বটে, কিন্তু খুলবে নিশ্চয়। কবে খুলবে তার খোঁজে কলকাতার আলিপুরে মালিকের বাড়ি পর্যন্ত গিয়েছিল সে। গিয়ে ফিরে এসেছিল। সে এখনো ঘুমের ঘোরে শেষ রাতে কারখানার সাইরেন শুনতে পায়। কারখানার প্রাচীরের ভিতরে ছিল যে নিম গাছ, তার ফুলের গন্ধ টের পায় চৈত্র সন্ধ্যায়। সবই ঠিক আছে, শুধু বড় বড় তালা খুললে হয়। আবাসনের কাজ আরম্ভের আগে বকেয়া পাওনা মেটাতে এসেছিল ক্তৃপক্ষ। নিরীহ শ্রমিক বৈরাগী বুঝতে পেরেছিল না খুলে টাকা দিয়ে দেওয়া মানে কারখানা আর খুলবে না। সেই রাতে পুলিশ তাকে তার বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়, কিন্তু পরে বলে বৈরাগীকে তোলেইনি। এই উপন্যাস সেই সত্য অনুসন্ধানের এক হৃদয় বিদারক বৃত্তান্ত।

    প্রচ্ছদ - চিরঞ্জিত সামন্ত
    ————————-

    তোমার সঙ্গে খেলা - বিপুল দাস
    ~~~~~~~~~~~~~~~~~
    পুবদিকেও হাইরাইজের কাজ শুরু হয়েছে। কিছুদিন বাদে পুব আকাশের দখলও নিয়ে নেবে ইট, সিমেন্ট, কংক্রিট। পার্টি অফিসগুলো দোতলা হয়ে যাচ্ছে। মেঝেতে টাইলস্‌ বসছে। মার্বেলের সিঁড়ি। কিছুদিন বাদে সকালবেলার রোদ আর শাশ্বত পাবে না। অথচ খুব রোদের দরকার শাশ্বতর। প্রতিদিনই মনে হয় তার শরীরের রক্ত আজ আরও একটু শীতল হয়ে গেল বুঝি। আগের মত আবার বুঝি স্থবির হয়ে পড়বে। শীতঘুমে যাওয়ার সময় হল তার।
    এভাবেই ভাঙনের কথা দিয়ে শুরু হয় এই উপন্যাস। মিতাকে আগুনে জ্বালিয়ে মারতে চেয়েছিল তার স্বামী। বুকে পোড়া ঘায়ের যন্ত্রণা নিয়ে মিতা আর উদাসীন শাশ্বত একসঙ্গে গিয়েছিল নিখিল বিশ্বাস নামের আশ্চর্য এক মানুষের কাছে। লোকটা বাগানে ফুল ফোতায়। সে বলেছিল -- আমি আকাশ, বাতাস, ফুলপাখিনদী, এই জগতের নিয়ম আর নিয়মভাঙার গল্প বলি। জানি না, সেই গল্প কেমন করে দুখি মানুষের কাজে লেগে যায়। জানেন, মাঝে মাঝে আমার নিজেরই খুব ভয় করে। অনেকে পা ছুঁয়ে প্রণাম করতে চায়। তখন নিজেকে খুব ছোটলোক আর অসহায় মনে হয় ।।। আমার এখানে একটা গাছ আছে, কুঁড়ি আসার এক ঘন্টার ভেতর পুরো ফুল হয়ে ফুটে ওঠে। আপনাকে দেখাব। মানুষের বুকের ভেতরেও একটা দলমন্ডল আছে। ফুল হয়ে ফোটে। কেউ টের পায়, কেউ সারাজীবন টেরই পায় না। অথচ, পাশের লোক তার গন্ধ পায়।
    শাশ্বত মিতার খোলা বুক দেখতে চেয়েছিল। পুড়ে যাওয়া, উঁচুনিচু, বীভৎস মাংসের দলার ভেতরে কোন কুসুম ফুটে ছিল ? শীতঘুম থেকে জেগে উঠে শাশ্বত কি পেয়েছিল সেই সৌরভ ? এই উপন্যাস সেই সুন্দরকে খুঁজে ফেরার গল্প।

    প্রচ্ছদ - দেবরাজ গোস্বামী।
    নামাঙ্কন - চিরঞ্জিত সামন্ত
    ————————-

    তাহাদের কথা
    ~~~~~~~~~~
    বিরাট বিরাট প্রতীকি বিপ্লব নয়।রকেট বিজ্ঞান বা বিমান চালনা নয়। ছোটো ছোটো পেশা, তেমন কোনো বাধাও নেই ঢুকে পড়তে তবু যেন মেয়েদের জন্য অনধিগম্য। সেইসব এলাকায় চুপচাপ ঢুকে পড়ছেন মেয়েরা। কোনো প্রচার, গৌরবগাথা, এবং সর্বাপেক্ষা যা গুরুত্বপূর্ণ, সমাজ-সংসারের প্রতি বিরাট কোনো অভিযোগ ছাড়াই, স্রেফ নিজের জোরে। পাড়া-প্রতিবেশি-আত্মীয়-স্বজনরা কখনও সাহায্য করছেন, কখনও করছেননা। কিন্তু বাধা হয়েও দাঁড়াচ্ছেননা কোথাও। কোনো বিজয়কেতন, কোনো প্রচারের দামামা ছাড়াই মেয়েরা দাঁড়াচ্ছেন নিজের পায়ে। বলছেন নিজেদের জীবিকার গল্প। জীবনের কথা। এ বই তাঁদেরই নিজের ভাষায়, তাহাদেরই কথা।

    ফেমিনিজম ডট কম-এর সংকলন, একটি গুরুচণ্ডাঌ সম্পাদনা।

    প্রচ্ছদ - চিরঞ্জিত সামন্ত
    ————————-

    রংনাম্বার হিরণ মিত্রের সঙ্গে কথোপকথন
    ~~~~~~~~
    শিল্পী হিরণ মিত্রের দীর্ঘ প্রশ্নোত্তর পর্ব, প্রয়াত লেখক অদ্রীশ বিশ্বাসের সংগে, সংযোজন হিসেবে একটি দীর্ঘ মূল্যবান সাক্ষাতকার, বিষাণ বসুর নেওয়া।

    কী থাকছে বইয়ে? অনেক না বলা কথা।

    বিষাণ বসুর কথায়, ছবি কী? কেমনভাবে ছবির ভিতরে ঢুকবো? দৃষ্টিনন্দন ছবি যদি বা চোখ টানে, কিন্তু অ্যাবস্ট্রাক্ট আর্ট? ছবি, নাকি লক্ষ লক্ষ টাকা দামে বিক্রি হওয়া ছবি, দর্শকের চোখ আটকাবে ঠিক কোথায়? দর্শক আর শিল্পী দুইয়েরই ভাবনার অচেতনে বাজারের ভূমিকা কী? দেশের ছবি, বিদেশের ছবি থেকে হালফিল ডিজিটাল আর্ট। ছবির জগৎ-এর একটা সার্বিক চিত্র উঠে এলো শিল্পী হিরণ মিত্রের সাথে এই অকপট সাক্ষাৎকারে। সাক্ষাৎকার ঠিক নয়, এ এক শিল্প-আড্ডা। সাথে অনিবার্যভাবেই থাকলো হিরণ মিত্রের মঞ্চ-প্রচ্ছদ-সিনেমা-শিল্পজীবন।

    বাংলা ভাষায় শিল্পী এবং শিল্পানুরাগীর কথোপকথনভিত্তিক বই রয়েছে বেশ কয়েকটি। কিন্তু, ঠিক এই ধরণের শিল্প-আড্ডার নজির, বোধ হয়, আর নেই। সেইদিক থেকে দেখলে, শিল্পচর্চার ক্ষেত্রে এই ছোটো বইটি, প্রকৃত অর্থেই, ল্যান্ডমার্ক। আর, সংগে রয়েছে হিরণ মিত্রের অসামান্য কিছু ছবি।

    প্রচ্ছদ - হিরণ মিত্র।
    ~~~~~~~~~~

    পাওয়া যাবে বইমেলায় গুরুচণ্ডা৯’র ২৯৩ নাম্বার স্টলে।
  • pi | 2345.110.894512.162 | ২৭ জানুয়ারি ২০১৯ ০৮:২৮434950
  • গুরুচণ্ডা৯ নিয়ে, জয় গোস্বামী
  • pi | 7845.15.9008912.116 | ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ০০:০০434951
  • "...অনিবার্য প্রশ্নটি স্থগিত রেখে বলি বাংলা ভাষায় উপন্যাসের বিকল্প পথ কিন্তু আগেও খুঁজেছেন ঔপন্যাসিকেরা। ধূর্যটিপ্রসাদ, জগদীশ গুপ্তর থেকে জীবনানন্দ, অমিয়ভূষণ, কমলকুমার, সন্দীপন, শ্যামল সকলের একটাই বদভ্যাস ছিল। প্রচলিত ভাষাকে আক্রমণ করো। অভ্যস্ত ভাবনায় আঘাত হানো। মননের নতুন জগৎ গড়ে তোলো। একটা জায়গা ভাঙতে ভাঙতেই তাঁরা একটা জায়গা গড়তেন। এরাও প্রকাশক পেতেন না, এস্টাব্লিশমেন্ট এদের প্রতি বিমুখ ছিল। এই ধারার লেখক সুবিমল মিশ্র আরো দুঃসাহসিক পথে হাঁটেন। তিনি নিজেই নিজের বই বের করতেন।
    এই যে বিকল্প পথ, এই কণ্টকাকীর্ণ পথে যে সব আখ্যানকার পাড়ি দেন, তাঁরা নিঃসঙ্গ হয়ে ওঠেন, কিন্তু তাঁরা নতুন পথের হদিশ দেন। ফলে এই ধারার উপন্যাস, এই স্পর্ধিত ধারা কিছু জলসেচ চায়। ওই যেটুকু ন্যূনতম জল পেলে সবুজ বাঁচতে পারে ততটুকুই। এই কারণে সৈকতের লেখা নিয়ে সামান্য দুটি একটি কথা লিখছি মাত্র।...

    এই সময়ে কুশান গুপ্তের কলমে,
    book review: book review of saikat banerjee’s novels - সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস: পাঠ প্রতিক্রিয়া | Eisamay - http://eisamay.com/3CFjvY/a31mzc
  • pi | 7845.15.346712.39 | ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ০৮:৫১434952
  • স্বাতী রায় লিখেছেন

    অঙ্কে আমার ছোটো থেকেই অ্যালার্জি। তাই ক্লাস এইট অবধি সযত্নে অঙ্ক আর আমি একে অপরের সাথে বৈরী রেখেই গেছি। ক্লাস নাইনে জুটলেন এক কড়া ফ্রেঞ্চকাট দাড়িওয়ালা মাষ্টারমশাই (সেই থেকে আমার ফ্রেঞ্চ কাট দাড়িতেও অ্যালার্জি)। তিনি প্রায় ঘেঁটি ধরে আমায় মাধ্যমিকের বৈতরণী পার করালেন। তারপরে অভাগার সাগর শুকোনোর দিন শুরু হলো। অঙ্কে চরম অনাশক্তি সত্বেও কিভাবে বেশ কমার্স গ্রাজুয়েট হয়েই গেলাম। ভীতি ছিলো বলে অঙ্ক'কে দূরে সরিয়ে রাখার সাধ্য ছিলোনা।

    শিবের গীত বাড়িয়ে লাভ নেই, মূল বক্তব্যে আসি - আজ্ঞে ৯০% জনতার মত আমারও অ্যালার্জি ছিলো সমকামী, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের প্রতি। বলাই বাহুল্য সেটা ভীতি ছিলো আসলে। অজ্ঞতা জনিত ভীতি। ওরা কারা? ওদের মনে কী চলে? ওদের যৌনতা কিরকম? আরোও হাজার হাজার প্রশ্ন। আচরণের ফলে তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়ে) মানুষের প্রতি তৈরি হয়েছিলো বিরূপ মনোভাব। কলেজে পড়তে এসে ধীরে ধীরে কিছু জিনিস পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছিলো যে, যে দেশে দ্বিতীয় লিঙ্গের মানুষের প্রতি মানুষের মনোভাব চুড়ান্ত বিদ্বেষমূলক সে দেশে তৃতীয় লিঙ্গের প্রতি আরও খারাপ হবে এ নিয়ে সন্দেহের কোনোই অবকাশ নেই। তাই সাধারণ "স্বাভাবিক" মানুষের প্রতি তাঁদেরও বিরূপ মনোভাব থাকবে এটাই স্বাভাবিক। এক সময়ে হাওড়া মেদিনীপুর ডেইলি প্যাসেঞ্জার হওয়ার সুবাদে আলাপ হয়েছিলো লেডিজ কম্পার্টমেন্টের যাত্রী গোলাপ,পারুল, সুমিতা, অঞ্জনা দের সাথে, ওরা হিজড়ে। দিন কয়েকেই যখন নিত্যযাত্রী ওঁদের সাথে ভাব হয়ে গেলো তখন একসাথে বসে বাদাম বা চা খেতে খেতে অনায়াসে আলোচনা চলতো "অ্যাই, তোর চুলে কি মাখিস রে? এত সিল্কি?" আমিও গুছিয়ে বসে রূপচর্চার যাবতীয় জ্ঞান দরাজ হাতেই বিলোতাম। তখন ভয় কেটে গেছে, দেখেছি আমার আর ওদের মধ্যে কোনোই পার্থক্য নেই। বরঙ মেয়েলী ঈর্ষাও বেশ ভালো মতই বর্তমান।

    পুরুষতন্ত্রের যন্ত্রণা নারী পুরুষ উভয়েরই, যদি ভাবা যায় যত বিধিনিষেধ শুধুই নারীর জন্য তাহলে তা ভুল। আমাদের সমাজে 'মর্দ কো দর্দ নেহি হোতা', 'লড়কিওঁ কি তরহা রোতা হ্যায়, লে চুঁড়ি পেহন লে' ইত্যাদি। সব মানুষের মধ্যেই যে মানবিক প্রবৃত্তির হেরফের হয় এটা এ সমাজ মেনে নিতে রাজি নয়। জিনস টিশার্ট পরা, ছোটো চুলের, মাথা উঁচু করে বুক চিতিয়ে হনহন করে পথ চলা মেয়েদের অহরহ লোপ্পা ক্যাচ নিতেই হয় - ব্যাটাছেলে, মদ্দামাগী ইত্যাদি নানান শব্দ। মোট কথা গতানুগতিকতার বাইরে যে কোনো কিছুকেই মেনে নিতে মানুষের প্রবল আপত্তি। তা বাহ্যিক আচরণ হোক বা শরীরের ভাষা বা পেশা। এই অবস্থার মাঝে অন্যরকম যৌনতাকে মেনে নেওয়ার তো প্রশ্নই নেই। কোনো পুরুষ আরেকজন পুরুষ কে ভালোবাসবে বা একজন নারী অপর নারী কে এ আজও অনেক "উদার উচ্চশিক্ষিত" মানুষের কাছে অসুস্থতা বা বিকৃতি। তার একটা বড় কারণ আমার মতে অজ্ঞতা। আমাদের নিজেদেরই সময় নেই নিজের মনের গভীরে ডুব দিয়ে কোনো কিছু বিশ্লেষণ করার, দায় পড়েছে "অন্য লিঙ্গের" মানুষদের কথা ভাবতে! কিন্তু যদি একটু খোলা মনে মেশা যায় তাহলে বুঝবেন ওরাও আমার আপনার মত দোষে গুণে মানুষ। আর যদি সঙ্কোচ বোধ হয় তাহলে আমার অঙ্কে ভীতি কাটানোর মত পড়ে ফেলুন গুরুচন্ডালী থেকে প্রকাশিত 'আমার যৌনতা, বইটি - কথা দিচ্ছি ভয় না কাটুক জড়তা কাটবেই। ভিন্ন ধারার যৌনতা, মানসিক অবস্থান, কষ্ট, আনন্দ - সমস্ত কিছুই আছে নিজস্ব অভিজ্ঞতায়।

    এবার অন্ততঃ তৃতীয় লিঙ্গ বা সমলিঙ্গের সমকামী মানুষ দেখলে আপনার আর মনে হবে না ওরা আপনাকে পেলেই ঝাঁপিয়ে পড়বে বা বিয়ে দিলেই 'ও' সুস্থ হয়ে যাবে!

    পুনঃ - বইটি আমার লেখা নয়।
  • pi | 2345.110.564512.220 | ০২ মার্চ ২০১৯ ২০:২২434953
  • আচ্ছা এই নানা চক্করে জানানো হয়নি। নতুন সব বই কলেজস্ট্রীট আর যাদবপুর বিগ ব্যাং এ চলে গেছে।

    অনলাইনেও এ চলে এসেছে, অনেকেই জেনেও গেছেন, কারণ অর্ডার ও করেছেন অনেকে।

    এই নং এ হোয়াট্সাপ বা কল করলেও গুরুর বই বা কলেজস্ট্রীটের অন্য বই পেয়ে যাবেন,

    +৯১৮৫৮৫০৮৪৬৭২
  • pi | 7845.29.673412.53 | ০২ মার্চ ২০১৯ ২০:৫০434954
  • এছাড়াও কলেজস্ট্রীটে থিংকারস লেনেও বই চলে গেছে।

    ওঁদের অনলাইনেও গুরুর সব বই পাওয়া যাবে।

    এই হপ্তায় এই পোস্টগুলি দিয়েছেন।

    বেঁচে থাকার জন্য অবিরত আলো এবং অন্ধকারের যে সংঘর্ষ জারি থাকে,যার ফলে ক্রমাগত অসহায় রক্তক্ষরণে রক্তাক্ত হতে থাকে বুকের গভীরে, এক শীতল পৃথিবী ক্রমশ আমাদের স্পর্শ বোধহীন জড় করে দিচ্ছে - সেইসব আখ্যান নিয়ে লেখিকা ইন্দ্রানীর এই সংকলন l প্রতিটি গল্পের আড়ালে আর একটি অনুচ্চারিত গল্প l সত্য উদ্ঘাটনের দায়িত্ব পাঠকের।

    পাড়াতুতো চাঁদ
    লেখিকাঃ ইন্দ্রণী
    প্রকাশকঃ গুরুচন্ডালী
    মুদ্রিত মূল্যঃ ৭০টাকা
    সুপ্রকাশ বইঘর মূল্যঃ ৫৬টাকা(২০%ছাড়)

    এখন অনলাইনে ভারতবর্ষের যেকোনো প্রান্ত থেকে কিনুন নিচের লিংক এ ক্লিক করে।

    https://thinkerslane.com/product/paratuto-chand/

    ----

    কাজী যখন জোলারে জিগান : গেলো বুধবার সন্ধেবেলায় তুমি অমুকের বাড়ির খাটালের আগল ভেঙে ঢুকে মোষ চুরি করেছিলে? জোলা তো রেগে আগুন l সে এগারো দিন সময় চেয়ে নিল কাজীর কাছ থেকে,তারপর সেরা উকিল-লোক লস্কর ও সাক্ষী সাবুদ এনে কাঁটায় কাঁটায় প্রমাণ করে দিল, বুধবার নয় বৃহস্পতিবার ভরে জোলার পো মোষ চুরি করেছে, তাও বাগানের খোলা দরজা দিয়ে ঢুকে l এই কৃষকায় বইটির ফঙ্গবেনে কাহিনীসমূহ, গল্পসাহিত্যের বিন্যাসে ও ঘটনাপ্রবাহের যুক্তিজালবিস্তারে উপরোক্ত জোলার পদাঙ্কানুসারী l এবার কাজীর বিচার পাঠকের হাতে।

    অতি না'ট কীয়
    লেখকঃ একক
    প্রকাশকঃ গুরুচন্ডালী
    মুদ্রিত মূল্যঃ ৬০টাকা
    সুপ্রকাশ বইঘর মূল্যঃ ৪৮টাকা(২০%ছাড়)

    এছাড়াও এখন ভারতবর্ষের যে কোনো প্রান্তে বসে অর্ডার করুন নিচের লিংক এ ক্লিক করে।

    https://thinkerslane.com/product/oti-natokiyo/

    ----

    সিঙ্গুরের ইতিহাস ঠিক 2006 সালে শুরু নয় l তার আগে সেখানে শুধু আলু নয়, ঐতিহাসিকও ফলত l এমনকি টিভি চ্যানেলে যতই সিঙ্গুর সিঙ্গুর বলে চেঁচামেচি করুক, ন্যানো কারখানাটাও সিঙ্গুর এক এবং দুই নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতেই নয়, বরং সিঙ্গুর রেল স্টেশন টপকে দুই মাইল দূরে যে এলাকার প্রান্তে কারখানা শুরু হচ্ছে,তার নাম রতনপুর l আরামবাগ মানেই যেমন শুধু "তাজা মুরগির মজা" নয়, তারকেশ্বর যেমন শুধু "জয় বাবা তারকনাথ" এর লোকেশন নয়, তেমনই সিঙ্গুরের লোক মানেই "ইচ্ছুক" আর "অনিচ্ছুক" নয় l তার ন্যানো আবিষ্কারও বলাবাহুল্য 2006 এর কারবার নয় l সৈকত বন্দোপাধ্যায় তার লেখা "বৃহৎ ন্যানোপুরাণ" বইটিতে সিঙ্গুরের কিছু অকথিত জানা কথা প্রকাশ করেছেন l

    প্রকাশকঃ গুরুচন্ডালি
    লেখকঃ সৈকত বন্দোপাধ্যায়
    মুদ্রিত মূল্যঃ ৯০ টাকা।
    সুপ্রকাশ বইঘর মূল্যঃ ৭২ টাকা(২০%ছাড়)

    এখন অনলাইনেও ভারতের যেকোনো প্রান্তে বসে অর্ডার করুন। লিংক নিচে দেওয়া হল।

    https://thinkerslane.com/product/brihot-nanopuran/
  • pi | 7845.29.673412.53 | ০২ মার্চ ২০১৯ ২১:১৫434956
  • এছাড়াও বই চলে গেছে শান্তিনিকেতনে রামকৃষ্ণের দোকানে, মালদায়, বাংলাদেশে।
  • pi | 2345.110.564512.221 | ০৯ মার্চ ২০১৯ ১৪:১৬434957
  • 'সিজনস অব বিট্রেয়াল ' নিয়ে লিখলেন অদিতি কবীর,

    দেশভাগ, পার্টিশান বা বাটওয়ারা- শব্দগুলো আজ আমাদের কাছে নিছক শব্দ মনে হলেও বহু মানুষের কাছে নিজ বাসভূমে পরবাসী হয়ে সব ফেলে বিদেশে চলে যাবার দুঃখের কথা। এই দেশভাগ নিয়েই দময়ন্তীর (Damayanti Talukdar) লেখা ডকু-ফিকশন ‘সিজনস অব বিট্রেয়াল’। এটি যখন গুরুচণ্ডালীতে বেরোচ্ছিল, আমি ২/১টা পর্ব পড়লেও, ভুলে যেতাম পরের পর্ব পড়তে। এবার কলকাতা বইমেলা যাবার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল এটাকে বই আকারে পাওয়া। আনন্দের ব্যপার হচ্ছে বইটা আমি শুধু কিনিনি, লেখিকার অটোগ্রাফও পেয়েছি!

    ‘সিজনস অব বিট্রেয়াল’- এর কাহিনী বোনা হয়েছে ১৯৩০ থেকে ১৯৫০-এর নানান সময়ের নানা ঘটনা দিয়ে। ডকু-ফিকশনের কেন্দ্রে আছে কিশোরগঞ্জের একটি পরিবার, যারা দেশভাগের পরে চলে আসে ভারতে, কিন্তু এই ‘চলে আসা’টুকু অত্যন্ত ঘটনাবহুল। কাহিনী শুরু হয় ১৯৫০ সালে, কিশোরী যুঁইয়ের এক কাপড়ে নিজভূমি ছেড়ে বান্ধবীর আত্মীয়দের সাথে কলকাতায় চলে যাওয়া দিয়ে। দেশভাগের পরপরই পূর্ব পাকিস্তানে আসতে থাকে মোহাজিররা। এরা উর্দুভাষী ভারতীয়, এবং অত্যন্ত লোভী। অপরের বাড়ি ও নারীর প্রতি সীমাহীন লোভ এদের (আমরা জানি, এই সম্প্রদায় ১৯৭১ সালে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর নারকীয় হত্যাযজ্ঞ, ধর্ষণ ও লুন্ঠনের দোসর ছিল)। কিশোরগঞ্জে আসা বিহারীরা কুমতলব আঁটে যুঁই সহ তিন কিশোরীকে অপহরণ করার, ঘটনাক্রমে তা জানতে পেরে তিনটি কিশোরীর পরিবার তাদের পাঠিয়ে দেয় ঐ পাড়ে। যুঁইয়ের প্রথম ঠাঁই হয় ছোটমাসীর বাড়িতে।

    মাত্র চার বছর আগে ঘটে গেছে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা। দ্বি-জাতিত্ত্বের মত অদ্ভুত একটি তত্ত্ব মোতাবেক একটি দেশ দুইভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে, একভাগ ‘শ্যাখেগো দ্যাশ’, আরেক ভাগ ‘মালাউনগো দ্যাশ’। উল্লিখিত পরিবারটির বাবা যোগেশ এবং আসন্ন প্রসবা মা লাবণ্য রয়ে যান কিশোরগঞ্জ। ১৯৫০-এর দাঙ্গার পর পরিস্থিতি আরও সঙ্কুচিত হয়ে পড়ে। স্থানীয় মুসলিম লীগ নেতাদের ইশারায় “হিন্দুগো কম দামে জিনিষ ব্যাচন” পর্যন্ত নিষিদ্ধ হয়ে যায়। এমতাবস্থায় যোগেশ কলকাতায় চলে যাবার সিদ্ধান্ত নেন।

    যোগেশের তিন ছেলে- সুহাস, প্রভাস এবং ভানু কলকাতায় পড়ে। তারা যে মেসে থাকে সেখানে যে আলোচনা চলে, সেটা বেশ পরিচিত- গান্ধী গান্ধী কর এই এত লোক মরল, এত লোকের ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেল, কই গান্ধী তো অনশনে বসল না? হ্যাঁ, একেবারে প্রাণে মেরে ঠিক করেনি, কিন্তু এগুলোও তো দেখবে। কিছুদিন আগে ব্লগার হত্যায় অনেককে এমন ভ্যালিডেট করতে দেখেছি। এই বই থেকে আমি একটা আইনের কথা জানতে পারলাম- Abducted Persons (Recovery & Restoration) 1949. এ বিষয়ে আরও জানার প্রচেষ্টা জারী থাকবে আমার।

    কাহিনীতে দু’টি চরিত্র আছে – অমরিন্দর এবং জামু, চরিত্র দু’টির ব্যপ্তি সংক্ষিপ্ত হলেও, আমার মনে অভিঘাত অনেক বেশি। অমরিন্দর শিখ, পাকিস্তান থেকে দেশত্যাগের সময় তাদের পরিবারস্থ নারী ও শিশুদের শিখখি রক্ষার্থে হত্যার বিবরণটা পড়ার সময় বাইরে ছিলাম, আমি এত জোরে হিঁইইই করে উঠেছিলাম যে আশেপাশের সবাই তাকিয়েছিল। অন্যদিকে জামু হিন্দীভাষী অনাথ বালক, কলকাতায় এসেছে দিল্লী থেকে। পেটচুক্তিতে কাজ করতে যাবার সময় একদিন অমরিন্দর তাকে পথে ধরে তার যৌনাঙ্গটি দেখতে চায়। জামু দৌড়ে সরলাদের বাড়িতে ঢোকে, অমরিন্দর তার পিছু ধাওয়া করে সে বাড়িতে আসে, হাতে তার খোলা কৃপান। সরলার দৃঢ়তায় জামু বেঁচে যায়। পুরো ঘটনাটা পড়ে বিশ্বাস করবেন আমি প্রায় মূর্ছা যাচ্ছিলাম। একটা বয়স্ক মানুষ প্রতিশোধের নেশায় এমনই উন্মাদ যে একটি ছোট্ট ছেলে মুসলমান প্রমাণিত হলে তাকে হত্যা করবে!

    খুশবন্ত সিংয়ের ট্রেন টু পাকিস্তান বইয়ে দিল্লী থেকে আগত ট্রেন ভর্তি লাশের কথা পড়েছিলাম। আর ‘সিজনস অব বিট্রেয়াল’ বইয়ে ছোট্ট জামুর বয়ানে দিল্লীতে পাকিস্তান থেকে আগত ট্রেন ভর্তি লাশের কথা পেলাম। আরও পেলাম একটি ভয়ানক খবর ১২ ফেব্রুয়ারী ১৯৫০ সালে ভৈরব-আখাউড়া লাইনের ট্রেন মেঘনার ওপর দাঁড় করিয়ে সমস্ত হিন্দু যাত্রীকে হত্যা করা হয়, যারা নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন প্রাণ বাঁচাতে, তাদের মাথায় ইঁট ছুঁড়ে হত্যা করা হয়! এই নিহতদের মধ্যে ছিলেন যুঁইয়ের কাকা মনীশও।

    পুরো বইটাই আসলে একটি ভয়াবহ সময়ের প্রামাণ্য দলিল। এর প্রতিটি পাতাতেই কোন না কোন তথ্য আছে। আরেকটা দারুণ ব্যপার হচ্ছে বইয়ে আছে প্রচুর বইয়ের রেফারেন্স, যা অনুসন্ধিৎসু পাঠকের জন্য সোনার খনি। আমি ব্যক্তিগতভাবে লাজবন্তী কাউরের বয়ানটি পড়তে উৎসুক, যিনি শিখখি রক্ষায় কুয়োতে ঝাঁপিয়ে পড়েও বেঁচে গেছেন।

    দ্বি-জাতিত্ত্বের ভিত্তিতে দেশভাগের চরম মূল্য দিতে হয়েছে আমাদের ১৯৪৬ এবং ১৯৫০ সালে। সে বিষবাষ্প রয়ে গেছে আমাদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। সাম্প্রদায়িকতার যে নিদর্শন পাই বাংলাদেশের বিভিন্ন নিউজ পোর্টালের মন্তব্যঘরে, ভারতের বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে এবং আমাদের আশেপাশে- তা এই বিষবাষ্পেরই ফল।
  • pi | 7845.29.341223.29 | ০৯ মার্চ ২০১৯ ১৫:৩১434958
  • গল্পকার বিশ্বদীপ চক্রবর্তী লিখেছেন,

    ইন্দ্রানী এতদিন কোথায় ছিলেন বলতে পারিনা। ওর একটা গল্প পড়েছিলাম বাতায়নে। আরো কোথায় পড়ি সেই খোজে ছিলাম। পেয়ে গেলাম। ছোটবেলায় পড়তাম ছোটগল্প হবে শেষ হতে হইল না শেষ। ওর গল্প শেষ হতে গেলেও দড়ি ধরে ঝুলে থাকতে হয় অনেকক্ষন, খাওয়া শেষের পর পাতা চাটা চলতেই থাকে। সংকলনে মাত্র কয়েকটা গল্প , একটা শুধু পডেছি। জমিয়ে জমিয়ে পড়তে হবে, তবে বই তো পড়লে শেষ হয়ে যায় না। সেটাই ভরসা।
  • pi | 7845.29.341223.29 | ০৯ মার্চ ২০১৯ ১৬:০৭434959
  • রইল "ব্যবহার" এর পোস্ট। ধন্যবাদ 'ব্যবহার'কে। আমরাও আনন্দিত, এই যুগ্ম প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের আগ্রহী পাঠকের কাছে গুরুচণ্ডা৯ র বই সুলভ নিয়মিত পৌঁছে যাওয়ার সুযোগে।

    এখানে ক্লিক করলেই পেয়ে যাবেন বই কেনার খবরাখবর

    https://www.facebook.com/Byabohar/posts/2286172121435476
    ---

    "ব্যবহার একটি অনলাইন ভিত্তিক বই বিক্রি প্রতিষ্ঠান। লক্ষ্য পাঠকের হাতে সহজে এবং সস্তায় বই পৌঁছে দেওয়া। ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যের বাইরে থেকে 'ব্যবহার'-এর যাত্রা শুরু মাত্র অল্প কয়েকদিন।

    স্বেচ্ছামূলক এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিদিনই আমাদের বেশ খানিক সময় নেয়। অনেক পাঠকের সাথে পরিচিত হচ্ছি, পরিচিতির বহর দীর্ঘ হচ্ছে।

    যে বইটি বাজারে অন্যান্য ব্যবস্থায় সংগ্রহে ১৮০/১৯০ টাকা ব্যয় করতে হয়, সেটা ১৫০/১৬০ টাকায় পেয়ে অনেক পাঠক 'ব্যবহার' পাতায় নিয়মিত চোখ রাখছেন। কোনো একটি ভালো বই হাতছাড়া না হওয়ার আক্ষেপে যেন নিজেকে পুড়তে না হয়।

    আমাদের এই স্বেচ্ছামূলক এবং স্বল্প পরিসরের কর্মকাণ্ডে গুরুচণ্ডা৯ যুক্ত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ, আমাদের আত্মবিশ্বাসকে নিঃসন্দেহে দৃঢ় করেছে। আমরা গুরুচণ্ডা৯-এর কর্তৃক সম্মানিত।

    গুরুচণ্ডা৯-র অনন্য সাধারণ বইগুলো সহজেই বাংলাদেশের পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে 'ব্যবহার' ও গুরুচণ্ডা৯-র যৌথ উদ্যোগে কাজ করছে।

    গুরু'র বেশ কিছু বই আপনারা 'ব্যবহার'-এ পাবেন এবং বাংলাদেশের বাজারে ভারতীয়-বই যে অগ্নিমূল্য বিক্রি হয়, তেমন মূল্য ব্যয় না করেই।

    গুরুচণ্ডা৯-র পাঠককুলকে 'ব্যবহার'-এ স্বাগতম!

    গ্রুপের লিংক:
    fb.com/pg/Byabohar
  • | 670112.220.788912.17 | ১০ মার্চ ২০১৯ ০৯:৫৪434960
  • নৈঃশব্দের পত্রগুচ্ছ প্রকাশ অনুষ্ঠানের খবর আজকের 'এই সময়' পত্রিকায়

  • pi | 785612.51.7834.80 | ২৪ মার্চ ২০১৯ ১০:৫৪434961
  • কাল গ্রুপে ভাস্কর ভট্টাচার্যের পোস্ট। :)

    'বই মেলায় যিনি (একজন ভদ্রমহিলা) আমাকে এই বই টা কিনতে বলেন তার নাম জানা হয় নি ।(তিনি ফোনে কেনা বই গুলো সমেত ছবি ও তোলেন) ।তাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। অসাধারণ একটা বই কেনানোর জন্য। এক সহজ সরল আত্মকথা। যা পড়ে মনে হলো নিজের অতীত এর সাথে আড্ডা দিলাম বহুদিন বাদে । আরো এমন উপহার চাই। ধন্যবাদ আবারও।"

    বইয়ের ছবি আসছে।
  • pi | 785612.51.89.134 | ০১ এপ্রিল ২০১৯ ১০:০৪434962
  • ছবি আর দেওয়াই হয়নি দেখি :(

    কেউ অনুমান করলেন, কোন বইটা?

    আচ্ছা, আরেকটা কথা।
    গুরুর বইপত্তর বিদেশে বসে পেতে হলে কলেজস্ট্রীট ডট নেটের
    এর সুমনকে এই নং এ হো আ করে দিলেই হবে। সাইট থেকে সরাসরি অর্ডারের ব্যবস্থা আসছে, তার আগে অব্দি হো আ ভরসা।
    নং:
    ৮৯১০২০৩৩৮৮

    বইয়ের তালিকা এখানে,

    https://www.collegestreet.net/index.php?route=product/publisher/info&publisher_id=54
  • | 453412.159.896712.72 | ০১ এপ্রিল ২০১৯ ১০:১১434963
  • কলেজোস্ট্রীট ডট নেট অবর বৈয়ের সথে পুঁচকি প্যাঁচা পাঠাচ্ছে শুনলাম।
  • pi | 785612.51.89.134 | ০১ এপ্রিল ২০১৯ ১০:২৫434964
  • আরে দমদি, ভাটে তোমার প্যা`চার পোস্টটা অনেক পরে পড়েছিলাম, আর লেখাই হয়নি! ঃ)

    যাহোক, এই নং টা লোকজনকে জানিয়ে দিতে পার তোমরা।
  • pi | 785612.51.4556.41 | ০৩ এপ্রিল ২০১৯ ১৬:৫৩434967
  • আর আগের পোস্ট ছিল কল্ললোদার তক্কোগুলি নিয়ে। লিখেছেন ভাস্কর ভট্টাচার্য।
    উনি কারাগার নিয়ে লিখেছেন এই হ্প্তায়,

    "শেষ করলাম । এক কথায় অনবদ্য। কিছু কথা বলতে চাই। রিভিউ লেখার মতো যোগ্যতা আমার নেই। ধৃষ্টতা মার্জনা করবেন। নকশাল আন্দোলন আমি দেখি নি , কিন্তু প্রচন্ড ভালবাসা, শ্রদ্ধা, আকর্ষণ আমার আছে । তার জন্য ই এতো জানতে চাওয়া। এতো পড়া। যতো টুকু বুঝেছি সকল স্থায়ী অবস্থান কে ক্রমাগত ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে তার সমস্ত অকাল অসাম্যের স্থবিরতা কে সরিয়ে আসল সাম্য সমাজতান্ত্রিক নির্যাসের খোঁজ। যে খানে সুস্থ বন্ধন আছে , অসুস্থ বাধ্যতা নেই । কিন্তু যখন প্রচুর পড়ে দেখি কোনো একজনের মতামত কে প্রশ্নাতীত ভাবে মেনে নিতে বলা হয়েছিল সেটা এক ধরনের অন্ধত্ব। সেটা হলে এই মতামতের সাথে অন্ধ মৌলবাদ বা উগ্র হিন্দুত্ব র সাথে কোনো ফারাক থাকে না । কল্লোল বাবুর এখানেই অসাধারনত্ব যে উনি এই মতবাদের আবেগ , আদর্শ, ভুল, হিংসা সবকিছু কে সঠিক সম্মান দিয়েও আত্মসমালোচনার আগুনে তাকে পুড়িয়েছেন । এটা করতে পারেন যিনি, তিনি এই মতবাদ কে সৎ ভাবে ভালোবাসেন । না হলে তা এক অন্ধ আবেগ হয়ে , বিশ্বাস হয়ে থেকে যায়। যা ধর্মীয় বিশ্বাস আমাদের শেখায় । তাই হয়তো সপ্নীল স্বপ্ন টা অধরাই রয়ে গেছে। ধন্যবাদ কল্লোল বাবুকে এবং গুরুচণ্ডালিকে সকল বলিদান ও আবেগ কে সম্পূর্ণ সম্মান দিয়েও (অপচয় না বলে) "মৃতস্বপ্নব্যবচ্ছেদে"র জন্য ......"Z
  • pi | 785612.51.7823.113 | ০৩ এপ্রিল ২০১৯ ১৬:৫৫434968
  • ঐ আলোচনার সুতোতে লিখেছেন, সত্যবান রায়।

    "কল্লোলের এ বিষয়ে ২য় বইখানি -"তক্কোগুলি, চরিতাবলী ও আখ্যানসমূহ", গুরুচণ্ডা৯ প্রকাশনা) আরও নির্মেদ, ক্রিটিকাল এবং এনালিটিক। অনিরুদ্ধ লাহিড়ীর ভূমিকাটি যেন স্বয়ং একটি কেন্দ্রভেদী নিরীক্ষণ। গুরুচন্ডা৯-র চটি সিরিজের আর একখানি বই - দীপ্তেন-এর "আমার ৭০", মাত্র ১৪ বা ১৫ পৃষ্ঠার অকিঞ্চিৎ পরিসরে যে ব্যাপককে ধারণ করেছে আশ্চর্য ন্যারেটিভে তাও উল্লেখযোগ্য। ৫০ বছর পূর্তির ঠিক আগে বা পরে যে ১২/১৪ খানি বই এবং আরও বেশ কিছু পত্রিকার বিশেষ সংখ্যা বেরিয়েছে সেই দলিল তথা স্মৃতি / বিশ্লেষণ আধারিত পৃষ্ঠারাশির মধ্যে কল্লোলের দুই খন্ডকে আমি নির্দিধায় প্রথম সারিতে রাখি।"
  • Pi | 2345.110.674512.240 | ০৫ এপ্রিল ২০১৯ ১০:৪৮434969
  • আসিতেছে!
    ছবিঃ ঋতুপর্ণ বসু, সায়ন কর ভৌমিক।

  • pi | 785612.51.3434.233 | ০৭ এপ্রিল ২০১৯ ১০:৪৫434970
  • শাক্যজিত ভট্টাচার্য লিখেছে,

    "বই দুটো মোটামুটি একই সময়ে প্রকাশিত হয়েছিল। দুই তিন বছর আগে পরে। দুটোরই বিষয় ছিল কালীঘাট। সঞ্জয় মুখোপাধ্যায় তাঁর 'বুনো স্ট্রবেরি' বইতে কালীঘাটকে দেখেছেন আখ্যানসম্ভাবনার পটভূমি হিসেবে, যেখানে জায়গাটা এক স্বপ্নপ্রস্তাব হিসেবে উঠে এসেছে। কল্লোল তাঁর 'তক্কগুলি, চরিতাবলী ও আখ্যানসমূহ' বইতে কালীঘাটের দশবছরের প্রেক্ষাপটে একটি বামপন্থী রাজনীতির ইতিহাসকে ধরেছেন, যেখানে সত্তরের হানাহানি ও রাজনৈতিক সন্ত্রাসের শেষে বামপন্থী ঐক্যের পুনর্গঠনের একটা আংশিক প্রয়াসের ইতিহাস উঠে এসেছে।

    আঞ্চলিক ইতিহাস নির্মাণ ও স্মৃতিনির্ভর কথকতার ক্ষেত্রে দুটো বইই একটা গুরূত্বপূর্ণ কাজ করে গেছে--নিছক সাহিত্য হিসেবে তো বটেই, তার বাইরেও আকর ইতিহাস নির্মাণের একটা বিকল্প পন্থা তৈরির ক্ষেত্রে। এর আগে গৌতম ভদ্র আনন্দবাজারের রবিবারের পাতায় একবার দুটো বইকে পাশাপাশি মিলিয়ে আলোচনা করেছিলেন, স্মৃতিসন্দর্ভ নির্মাণে কালীঘাটকে পরিপ্রেক্ষিত রেখে। আমি আলোচনা করেছি একটু অন্য দৃষ্টিভংগী থেকে। আরেক রকম, ১৬--৩১শে মার্চের সংখ্যাতে 'পাড়াজীবনের লগ্নতা, স্মৃতিনির্মিত ইতিহাস' নামের এই লেখাটায় দেখাবার চেষ্টা করেছি কীভাবে এই বইদুটো বিপ্রতীপ পাঠের মধ্যে দিয়ে কালীঘাটকে একটা মিথিক অস্তিত্ব করে তুলেছে, একটা হারানো সময়ের পুনর্নিমাণ করেছে।

    এই রিভিউটা পড়বার থেকেও অনেক বেশি গুরূত্বপূর্ণ হল বইদুটো পড়া।

    সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়, বুনো স্ট্রবেরি, দেজ পাবলিকেশন।
    কল্লোল, তক্কগুলি, চরিতাবলী ও আখ্যানসমূহ, গুরুচণ্ডালি প্রকাশনা।"

    আরেকরকমে প্রকাশিত।



  • গুরুচণ্ডা৯ | 236712.158.1290012.177 | ২১ জুলাই ২০১৯ ২০:৪৭434972
  • ভাস্কর ভট্টাচার্য লিখেছেন, "শেষ করলাম । ধন্যবাদ গুরুচণ্ডালি এবং কল্লোল বাবু । প্রকৃত নকশাল যে আত্ম-হনন নয় আত্ম-খনন এটা আবার বোঝানোর জন্য । আত্মখননেই প্রকৃত মেরুদণ্ড র খোঁজ পাওয়া যায় এবং তার সংস্পর্শে আসা যায় । নেতৃবৃন্দ দের মেরুদন্ডের ওপরে ব্যক্তিগত চাহিদা র এত আস্তরণ ছিলো যে ওনারা হয়তো আর আত্ম খননের পথে যান নি দুর্গন্ধ র ভয়ে । তাই শেষ দিকে শুধু আত্ম হননে জোর দিয়েছিলেন ।
    গোরা নকশাল আসলে সেই প্রকৃত নকশাল মতাদর্শ যা ভোরের টাটকা ফুলের মতো যেটার আত্ম খনন না হলে সুবাস ছড়ায় না ।
    সুবাসিত ধন্যবাদ আপনাকে ।"

    বইটা পাবেন কলেজস্ট্রীটে সুপ্রকাশ বইঘরে, দে বুক স্টোর, দেজ, ধ্যানবিন্দুতে এবং অনলাইনে
  • গুরুচণ্ডা৯ | 236712.158.1290012.183 | ২১ জুলাই ২০১৯ ২১:০২434975
  • ( 'কুরবানি অথবা কার্নিভ্যাল' উপন্যাসটি পড়বার পর সোহম ভট্টাচার্য্য নিচের চিঠিটি গুরুচণ্ডালি প্রকাশনীতে পাঠিয়েছিলেন। উনি ফেসবুকে নেই তাই অনুরোধ করেছিলেন লেখক Sakyajit Bhattacharya-কে যেন মেইল করে দেওয়া হয়। আমরা বইয়ের পেজে চিঠিটি তুলে দিলাম। )

    (এই চিঠিটা, লেখক শাক্যজিৎ ভট্টাচার্যকে উদ্দেশ করেই লিখছি। কোনো যোগাযোগ মাধ্যমে লেখককে পাব না। আমি ফেসবুকে নেই। তাই আশা করি, এইটুকু পৌঁছে যাবে। গুরুচন্ডা৯কে ধন্যবাদ এই বইয়ের জন্য।)

    কমরেড,

    স্বভাবের নিয়মে অভিনন্দন চিঠির শেষে থাকে। কিন্তু মেইল পাঠানোর সময় দেখলেই বুঝবেন, কী প্রচন্ডভাবে হাতটা ধরতে চাওয়ার তাড়নায় এই মেইল। তাই, অলক্ষ্যে, 'শতদ্রু'র হাতের মত, প্রথমেই ছুঁয়ে দিলাম।

    অনুষ্ঠান প্রচারে বিঘ্ন ঘটায়, ঠিক যেখানে শেষ হয়েছিল। অন্তত সিপিএম বাবাকে পাঠানো চিঠির যে অভিমান, আমাদের পার্টি পরিবৃত্তের আনাচে কানাচে থাকে, ঠিক তার পরের পর্ব থেকে যেন কুরবানি অথবা কার্নিভাল।

    এই লেখার কাছে পৌঁছে যাওয়ার একটা পুর্বকথা আছে। আমি কলকাতার মানুষ, কিন্তু পড়াশোনার কোনো পর্বেই যাদবপুরের সাথে কোনো সংযোগ নেই। ওই চত্বরে বন্ধুজন আছেন, ছিলেন। তাও, চিনিনা বিশেষ কিছুই। এবার পুজোয়, তাই এই বইয়ের খোঁজে যখন যাদবপুর কফি হাউসের নিচে এদিক ওদিক দেখছি, বুকস্টল আছে কি কিছু? একদিকে পার্টির বুকস্টল, আর তার কয়েক হাত দূরত্বে এ আই এস এ (আইসা)-র স্টল চোখে পড়ল। প্রায় গায়ে গায়ে। বইখানা, পার্টি স্টল থেকে নিয়ে বেরিয়ে ব্যাগে ভরছি, আর আইসা টেবিল থেকে দেখলাম, একটি ছেলে, চেয়ে আছে। ব্যাগের দিকে, বইয়ের দিকে। আর বইটা শেষ করার পর, বারবার, প্রমিত আর দেবুর মাঝখানে এই দুটো স্টলের দূরত্বের তফাৎ, আর একে অন্যের ব্যাগের দিকে দ্বিধায়, চিন্তায়, আশ্রয়ে তাকানোর কথা আমায় যাদবপুর নামের একটা দ্বীপের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

    যে দ্বীপের নাম হয়তো জে এন ইউ, হয়তো হায়দ্রাবাদ, কিংবা হয়তো সমস্ত কমিউন। যা গভীর আঁধার দিনে এখনো রাত জেগে হাতে হাতে লিখে ফেলতে ব'লে আজকের বিক্ষোভ। আপনাকে কুর্নিশ, এই সময়ের কমিউনকে ডকুমেন্ট করার জন্য।

    না, কোনো মায়ার নস্টালজিয়া নয়। এই উপন্যাস ভাল লেগেছে এই উপন্যাসের রাজনীতির জন্য। দক্ষিণপন্থী আগ্রাসনের সময়ে, হাতে হাত রাখার কথা বলার জন্য। আর ভীষণভাবে মানিকবাবুর, সেই লাইনের কাছে ফিরিয়ে দেবার জন্য, যেখানে প্রতিটি উদিত, 'মুখোশপরা বুদ্ধিজীবি জীব'।

    আর আপনার লেখায়, মরে যাওয়া মফস্বলের যে ভূত, তাড়া করে সাউথ সিটির কলকাতাকে। যে রাস্তায় রিফিউজি কলোনির লেনিন, রাত্রে হাঁটেন। ঠিক সেইখানে, সেই পুরোনো ছায়া পড়া বেঞ্চগুলোতে, আমাদের সময়ের 'শ্রীতমা-অনি' দিনগুলো সযত্নে রইল।

    আর উটের জন্য, ঐ চিৎকারের মানে, হ্যাঁ কিংবা না কোনোটাই নয় হয়তো।

    কারণটা ঐ জয়দেব বসু।

    'মনকে বলো, হ্যাঁ। তবু হ্যাঁ।'

    ভালবাসা আর মুঠোহাত রইল একসাথে।

    ইতি,
    সোহম ভট্টাচার্য।
  • র২হ | 237812.68.674512.97 | ২৮ জুলাই ২০১৯ ১৬:১০434976
  • র২হ | 236712.158.786712.103 | ২৮ জুলাই ২০১৯ ১৬:১১434978
  • র২হ | 236712.158.786712.103 | ২৮ জুলাই ২০১৯ ১৬:১১434979
  • r2h | 236712.158.676712.254 | ২৯ জুলাই ২০১৯ ১০:৩৩434980
  • গুরুচণ্ডা৯ | 236712.158.453412.241 | ৩০ জুলাই ২০১৯ ০২:২৯434981
  • রং নাম্বার - হিরণ মিত্রর সঙ্গে কথোপকথন

    ছবি কী? শিল্পীর তুলির ছোঁয়ায় ভাবনাগুলো কেমনভাবে হয়ে ওঠে ছবি? সেই ছবির সামনে দাঁড়িয়ে দর্শক কেমনভাবে স্পর্শ করতে পারবেন শিল্পীর মনোজগৎ? ছবি আঁকার প্রকরণের মতো, দেখারও কি রয়েছে কোনো পৃথক পদ্ধতি? আরেকদিকে, ছবির বাজার শিল্পকে, শিল্পীকে কেমনভাবে প্রভাবিত করে? আদৌ করে কি? শিল্পীর সৃষ্টি কতোখানি বহির্জগতের প্রভাবমুক্ত? একগুচ্ছ প্রশ্ন নিয়ে শিল্পী হিরণ মিত্রর সাথে কথোপকথন।

    কয়েক বছর আগে হিরণ মিত্রকে প্রশ্ন করেছিলেন প্রয়াত অদ্রীশ বিশ্বাস। 'রঙ নম্বর' নামে সেই সাড়াজাগানো বই দীর্ঘদিনই আউট-অফ-প্রিন্ট। এইবার ফিরল নতুন চেহারায়। সাথে জোড়া হয়েছে আরেকখানা নতুন কথোপকথন।

    নতুনটি ঠিক সাক্ষাৎকার নয়, জমাটি আড্ডা। হিরণদার সাথে বিষাণ বসু। বাধহীন খোলামেলা সেই আড্ডা প্রকাশ করা হলো প্রায় আন-এডিটেড।

    অনবদ্য কিছু ছবি আর ফটোগ্রাফ দিয়ে বইখানা সাজিয়েছেন শিল্পী হিরণ মিত্রই। ছবি ও কথার আশ্চর্য মেলবন্ধনে এই বই শিল্পপ্রেমী তো বটেই, চিত্রশিল্প বিষয়ে আপাত অনাগ্রহীদেরও আকর্ষণ করবে, নিশ্চিত।

    #####################################

    বইটির আংশিক দত্তক নিতে কেউ আগ্রহী হলে [email protected] এ ইমেল করুন।
  • রঙ নাম্বার | 236712.158.566712.233 | ৩০ জুলাই ২০১৯ ০৯:৪৬434982
  • আগের প্রচ্ছদ

  • গুরুচণ্ডা৯ | 236712.158.786712.127 | ০১ আগস্ট ২০১৯ ২৩:১৭434983
  • ইন্দ্রাণীর 'পাড়াতুতো চাঁদ ' নিয়ে লিখেছেন সাহিত্যিক অমর মিত্র, এ হপ্তার সাপ্তাহিক বর্তমানে ' এ সপ্তাহের বই' বিভাগে।

  • গুরুচণ্ডা৯ | 236712.158.786712.7 | ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:২৬434984
  • এই হপ্তার 'এই সময়' এ। ইন্দ্রাণীর 'পাড়াতুতো চাঁদ' নিয়ে।

  • গুরুচণ্ডা৯ | 236712.158.786712.7 | ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:২৯434985
  • গত হপ্তার 'এই সময়' এ। জয়ন্তী অধিকারীর 'কুমুদির গপ্পো' নিয়ে।

  • গুরুচণ্ডা৯ | 237812.69.563412.233 | ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:৪৯434987
  • কল্লোলের ' কারাগার, বধ্যভূমি ও স্মৃতিকথকতা' নিয়ে লিখলেন, ইন্দ্রনীল দত্ত।

    কানফাটানো শব্দে বোমাটা আছড়ে পড়ল শিশির বাবুর রেশন দোকানের ঠিক সামনে।
    তার মানে এখন ঘড়ির কাঁটায় সকাল ঠিক দশটা। কোনও নড়চড় হবে না।
    ঝপঝপ শব্দে পড়ে যাচ্ছে দোকানের ঝাঁপ। তার চেয়েও বেশি শব্দ করে বন্ধ হচ্ছে গেরস্ত বাড়ির জানলা-দরজাগুলো।
    পাশের বাড়ির সন্তোষদার বউয়ের সেই চিৎকার, ‘‘ওফ! কবে শেষ হবে এই ঝড়। উনি তো আবার এখনই বেরোলেন।’’
    দুড়দাড় করে বাজার নিয়ে ফেরা মানুষজনের প্রাণ বাঁচিয়ে ঘরে ফেরার তীব্র প্রতিযোগিতা।
    বারান্দার ধারের ঘরের খড়খড়ি তুলে অতি সাবধানে সাত বছরের চোখ দেখে ‘বসন্তের বজ্রনির্ঘোষ।’
    কল্লোলদা লিখছেন, ‘‘স্মৃতি কি সততই একসম্ভূত"? বোধহয় নয়। কোন একটা বিষয়ের স্মৃতিতে জড়িয়ে থাকে বহুকিছু। আর, সেই সব কিছুরই সেই বিশেষ বিষয়টি নিয়ে নানান স্মৃতি থেকেই যায়। ফলে স্মৃতি এক নয় বহু। তবু যখন স্মৃতিচারণ হয়, তখন ব্যক্তিই হয়ে ওঠেন সেই স্মৃতির আধার ও নায়ক। এ এক আশ্চর্য প্রহেলিকা। এই প্রহেলিকাই আমাকে টেনে নিয়ে যায় আরও এক আশ্চর্য পরিসরে।’’
    সত্যিই তাই। স্মৃতিতে স্মৃতির স্মৃতি। কিছু নিজের চোখে দেখা। পরে অনেকের মুখে অনেক কিছু শোনা। উত্তেজনা, উন্মাদনা, রোমাঞ্চ, আতঙ্ক—সমস্ত মিলেমিশে একাকার।
    চারু মজুমদারকে দেখার প্রশ্নই ওঠে না। অনেক পরে ছবিতে দেখেছি উত্তাল সত্তরের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ ব্যক্তিত্বকে। পড়েছি তাঁর লেখা ‘আট ঐতিহাসিক দলিল।’
    তবে অনেক কিছু শুনেছি ভাটিয়াদার কাছে। এক মুখ কাঁচাপাকা দাড়ি। মাথার চুল সাদা। সর্বাঙ্গ কাঁপছে। দাঁড়াতে বা বসার জন্য সাহায্য নিতে হত অন্যদের। কাঁপা হাতে চার্মিনার।
    মুখার্জি বাড়ির রকে বসে বলেছিল, ‘‘গ্রাম দিয়ে শহর ঘেরার তত্ত্বে কোথাও একটা ভুল তো ছিলই। না হলে আর মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন হলাম কী করে!’’
    রুনু গুহ নিয়োগী। সেও শোনা। মলয়া মাসির কাছে। লালবাজারে থার্ড ডিগ্রির হাত থেকে তো মহিলারাও ছাড়া পাননি।
    মলয়া মাসি মূত্র চেপে রাখতে পারত না। বাধ্য হয়ে সঙ্গে থাকত ক্যাথিটার আর পলিথিন পাউচ। তবুও কী দৃপ্ত ভঙ্গি। দু’চোখে আগুন।
    বাহাত্তরের নির্বাচনী সন্ত্রাসের ছবি হাল্কা মনে রয়েছে। পাড়া ছাড়ল মা। দেখা হল আবার উনআশিতে।
    কল্লোলদার কথা ধার করে বলতে গেলে, ‘‘...বসার ঘরে থিক থিক করছে মানুষ। বুকে জড়িয়ে ধরছে সকলে। এই তো এসে গেছে। কাল সকালে পুরোনো বন্ধুদের সাথে বসা—আবার নতুন করে। নতুন চিন্তা, নতুন লড়াই...’’
    কল্লোল কল্লোলিত কারাগার, বধ্যভূমি ও স্মৃতিকথকতা।
    সাবাশ গুরুচণ্ডা৯।
  • | 237812.68.674512.91 | ১৯ অক্টোবর ২০১৯ ১৫:১৪434990
  • পাই, লাস্ট বইমেলায় যেতে পারি নি। সেই সময় আর তার পরে প্রকাশিত বেশ কয়েকটি বই সংগ্রহ করতে পারি নি।

    এবারে করে নেবো
  • গুরুচণ্ডা৯ | 172.68.146.73 | ২৩ জানুয়ারি ২০২০ ১৭:০৫729491
  • নৈ:শব্দ্যের পত্রাবলী: My Letters to Silence-এ অর্চন অভিজিতের ক্যামেরাকলমের যুগলবন্দির পর নৈ:শব্দ্যের কথা, আরও একবার, অর্চন মুখার্জির ক্যামেরায়। এবার কলোনিয়াল কলকাতার গল্প... নৈ:শব্দ্যের আখ্যান: A Silent Saga
    কলমে অর্চন, জয়দীপ, চন্দ্রনীভ এবং অভিজিত।

    তবে এবার বই নয়, না-বই। না-বই কেন?
    উত্তর ক্রমে আসিতেছে।

    আপাতত প্রচ্ছদটুকুনি।

    প্রকাশিত হতে চলেছে গুরুচণ্ডা৯ থেকে। পাওয়া যাবে কোলকাতা বইমেলায় ৪৪৬ নং স্টল থেকে। করুণাময়ীর ৮ নং গেট দিয়ে ঢুকেই, একদম সামনে! ৭ নং আর ৯ নং গেটের থেকেও কাছেই।

    আর রইল নৈঃশব্দের পত্রাবলী নিয়ে আজকের সাপ্তাহিক বর্তমানে পাঠপ্রতিক্রিয়া। যদিও অর্চনের ছবির কথা বাদই চলে গেছে, যে ছবি নৈঃশব্দের কলমের কথার চেয়ে কিছুমাত্র কম বাঙ্ময় নয়! এ বই ছিল যুগলবন্দির!


  • pi | 172.69.135.153 | ২৬ জানুয়ারি ২০২০ ০৯:২৯729507
  • এখান থেকে নানা প্রকাশিত পাঠপ্রতিক্রিয়া, সমালোচনা কেউ এক একটা ছবি করে একটা ফাইলে লিনক দিলে বড় উপকার হত!
  • tester | 172.69.34.95 | ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১১:০১729527
  • guru | 172.69.34.17 | ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১৩:২৩729540
  • এসে গেছে, এসে গেছে, ২০২০ -র লিস্ট এসে গেছে - দেখে নিন - https://www.guruchandali.com/comment.php?topic=17020
  • pi | 162.158.31.161 | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০৯:০১729548
  • আনন্দবাজার পত্রিকায়। পুস্তক পরিচয়।
    নিরুদ্দিষ্টের উপাখ্যান নিয়ে।
    ১৯৯৩-এর ৩১ অক্টোবর ভোর রাতে, অথবা ৩০ অক্টোবর শেষ রাতে হুগলির ভিক্টোরিয়া চটকলের শ্রমিক ভিখারি পাসোয়ানকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ। ফাঁড়িতে পুলিশের অত্যাচারে ভিখারির মৃত্যু হয়, এমন সম্ভাবনার খবর অনেক পরে, অমর মিত্রের উপন্যাস প্রকাশেরও (একুশ শতকের শুরুতে) প্রায় দেড় দশক পরে পত্রপত্রিকায় পাওয়া যায়, যদিও সে মামলার আজও নিষ্পত্তি হয়নি। ভিখারি পাসোয়ান হারিয়ে যাওয়ার পরে আরও কত নিরুদ্দেশ-কাহিনি সংবাদ শিরোনামে এসেছে, গিয়েছে। তাঁদের স্পর্শও যেন-বা আছে অমরের ‘নিরুদ্দিষ্টের উপাখ্যান’-এ। আরও চারটি গল্প আছে এ-বইয়ে— গাছ ও মানুষ, ঊনচল্লিশের পরের জন, প্রাণবায়ু, রূপকথায় প্রবেশ। উপন্যাসের সঙ্গে গল্পগুলি মিলিয়ে পড়লে মনে হয় যেন অমর মিত্র পাঠককে সে ভাবেই তাঁর আখ্যান পাঠের জন্যে প্রস্তুত করেছেন, যাতে তাঁদের চেতনা ব্যেপে এই বোধটিই সঞ্চারিত হতে থাকে— এমনই এক দেশ-কাল-দুনিয়ায় আমাদের বসবাস, এমনই এক সংসার-সমাজ-রাষ্ট্রের ঘেরাটোপে, যেখানে নিরুদ্দেশ না-হওয়াটাই আশ্চর্যের, যেখানে হারিয়ে যাওয়াটাই সঙ্গত, বিপন্নতার বাড়তি কোনও হেতু যেখানে নিষ্প্রয়োজন, বিপদ-মুক্তির দিশা যেখানে লোপাট। সরব-নীরব, প্রতিবাদী-ভীরু, সকলের জীবনেরই এক অনিশ্চিত যাপন। এই প্রচ্ছন্ন সন্ত্রাসের কাহিনি কী অনায়াস নিচু স্বরের কথনে বলে যান অমর: ‘‘সহচরী শ্বাস নিচ্ছিল। নাকে আসছে নিমফুলের গন্ধ। কতদিন বাদে! ছেলেটিকে সে বুকে আঁকড়ে ধরল। তার ভয় করছিল। গন্ধটা চিনেছে ছেলে, একে কি ঘরে রাখতে পারবে?’’ ভূমিকায় লিখেছেন রুশতী সেন, লেখকের ‘‘আখ্যানধর্ম রাষ্ট্রীয় বা সামাজিক সন্ত্রাসকে, সাধারণের অস্তিত্বের সংকট আর অনিশ্চয়কে ফিরে ফিরে নিয়ে আসে পাঠকের বোধচৈতন্যের মুখোমুখি। অথচ সে আবাহনের ভিতরে প্রচারের ভঙ্গিটি অনুপস্থিত। সম্ভবত এই অনুপস্থিতিই আখ্যানের চলনকে এতখানি মর্মস্পর্শী করে তোলে।’’
  • π | 2402:3a80:a4a:f3d:0:53:d488:8001 | ১২ জুলাই ২০২০ ১৯:৫২732387
  • অনির্বাণ দত্ত চৌধুরী লিখলেন,

    "গুরুচণ্ডা৯ ক্রয়-প্রতিক্রিয়া
    যাঁরা আমাকে ব্যক্তিগত ভাবে চেনেন তাঁরা জানেন যে আমি খুবই নীচ ও কৃপণ প্রকৃতির মানুষ। আমি সেই ধরনের মানুষ যে আমাজনে প্রচুর সময় ব্যয় করে ১০-১২ টা ফিল্টার যুক্ত কাস্টমাইজড সার্চ বুকমার্ক করে সেকেন্ড হ্যান্ড বই কেনে এবং ২৫-৫০ পাউন্ডের বই ২৫০ টাকায় কিনে আল্লাদিত হয়। কিপটে বললে লঘু শোনায় তাই কষ্ট করে কৃপণ কথাটা টাইপ করলাম। তাতে তো আর পয়সা লাগছে না।
    যাজ্ঞে, আমার বদ্ধমূল ধারনা আমার মত অনেক কৃপণ মানূষ লোকলজ্জার ভয়ে প্রকাশ্যে আসতে পারেন না, তাঁদের জানাই ঘরে বসে সুলভ পাঠালয়ে যোগ দিন। সাথের ছবিতে দেখতে পাবেন মোট বাইশ টি বই। নিচে লিস্ট ও সাথে ছবি দিলাম। ২০% ছাড়ে মোট ১৪২৮ টাকায় কিনেছি - নো ডেলিভারি চার্জ - অর্থাৎ লেস দ্যান ৬৫ টাকা পার বই। রিসিটের ছবি রইল। আপনি ধারণা করতে পারবেন না এতে এই কৃপণ কত তৃপ্ত - আমি দেখতে ভালো হলে আমার আনন্দাশ্রুর ছবিও নিশ্চয়ই দিতাম। তাতে তো আর পয়সা লাগছে না।
    লোকাল ট্রেনে ১০ টাকায় দশটা পেন বিক্রি দেখেছেন? প্রথমে সৌরভ গাঙ্গুলি পেন, যাঁরা নিচ্ছেন তাদের জন্যে কোম্পানি থেকে বিনামূল্যে জ্যোতির্ময়ী শিকদার পেন - ৪০০ মিটার এবং ৮০০ মিটার এশিয়াড পদকের জন্য টু ইন ওয়ান পেন, একই পেনে এদিকে টিপলে লাল, ওদিকে টিপলে নীল ইত্যাদি ইত্যাদি করে মোট দশটা পেন। গুরুচণ্ডা৯ সেরকম বুকমার্ক দিয়েছেন - সাথের ছবির মধ্যমণি। ফ্রিতে, কোন প্রতিশ্রুতি ছিল না। সাধারণ পাঠক হলে বুকমার্কের সংখ্যা গুনতো না। কৃপণরা গোনে - আমি গুনেছি। ঠিক বাইশটা। আনন্দে চোখের জল চিবুকে এসে যাওয়ার জোগাড় মশাই। পুরো রাজযোটক। মানে এরাও আমার মত হিসেব করে দিচ্ছেন। গৌরী সেন কেস নয়। হিসেবপত্র আছে। লিস্টে ২০ টাকা দামের বইও আছে, ওরকম বিলিয়ে দিলে চলবে নাকি? এই না হলে কৃপণে কৃপণে কোলাকুলি। তাতে তো আর পয়সা লাগছে না।
    আর হ্যাঁ এদের কোন বইতে কোনরকম সই নেই, আধা, কাঁচা, পাকা, বিখ্যাত, অখ্যাত, কিংবদন্তী, লেখক, নপুংসক, প্রকাশক, চিটিংবাজ, বিক্রেতা, ফেসবুকে ক্ষমা চেয়ে পোস্ট ডিলিটকারী, বাংলা, হিন্দী, ইংরেজী কোনরকম সই নেই। জাস্ট নেই। চল্লিশের দোড়গোড়ায় দাঁড়িয়ে এই কৃপণ, খুব সম্প্রতি, জীবনে প্রথমবার, ল্যা ল্যা করতে করতে, একটি বইতে সই নিতে গিয়ে আক্কেলসেলামি দিয়েছে। কৃপণ মারধোর খেতে পারে, না খেয়ে থাকতে পারে। কিন্তু কৃপণকে যদি কেউ পয়সা নিয়ে ঠকায় তাহলে যে কী বিভীষণ মনখারাপ হয়, সে সহমনা কৃপণ ছাড়া কেউ বুইতে পারবেন না। যাজ্ঞে গুরুচণ্ডা৯ এর বইতে শুধু লেখা আর ছবি, ছবি আর লেখা। সই নেই, তা হোক, তাতে তো আর পয়সা লাগছে না।
    বাজে বকা শেষ - এবার কাজের কথা বলি। একজন তরুণ কলেজ স্ট্রীট থেকে সাইকেল চালিয়ে বই ডেলিভারি দিয়ে গেলেন - তার মেদহীন শরীরের দিকে তাকিয়ে ঈর্ষা হচ্ছিল। কুড়ি-বাইশ বছর আগে আম্মো পারতাম বি টি রোড দিয়ে, হাত ছেড়ে হুহু করে সাইকেল চালাতে। যাকগে, আজ থেকে আবার ২ কিলোমিটার করে হাঁটবো। ওই তরুণ আমাকে আবার চোখে আঙ্গুল দিয়ে বেসিকটা আবার শিখিয়ে দিয়ে গেলেন। তাতে তো আর পয়সা লাগছে না।

    হিরণ্যরেতাঃ - অজিত রায়
    হাম্বা হাম্বা - সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়
    উদ্বাস্তু কলোনির কথা : একটি স্মৃতিকথা সংকলন - সম্পাদনা : কল্লোল
    এক গাঁয়ের ডাক্তারের গল্প - ড: অনিরুদ্ধ সেনগুপ্ত
    সিজনস অফ বিট্রেয়াল - দময়ন্তী
    সিমোন দ্য নেলসন - রোশনারা মিশ্র ও চিরঞ্জিৎ সামন্ত
    দিনগুলি, রাতগুলি - সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়
    গোরা নকশাল - কল্লোল লাহিড়ি
    বাংলা স্ল্যাং, সমুচয় ঠিকুজিকুষ্ঠি - অজিত রায়
    বস্টনে বংগে - বর্ন ফ্রি
    বৃহৎ ন্যানোপুরাণ - সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়
    অ(ন)ন্য মহীন - গুরুচন্ডালি
    মহেঞ্জোদারো - সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়
    অপ্রকাশিত মরিচঝাঁপি - সম্পাদনা: তুষার ভট্টাচার্য
    অসুখ সারান - ঈপ্সিতা পালভৌমিক
    খান্ডবদাহন - সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিন্টু ধর্মাবলম্বী রাজা সবুজ ভদ্রমহিলা এবং একজন অভদ্র সামুকামী - আবু মুস্তাফিজ
    আমার যৌনতা – সংকলন - গুরুচন্ডা৯
    বন্দরের সান্ধ্যভাষা - সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়
    লা জবাব দিল্লি - শমীক মুখোপাধ্যায়
    হাম্বা - সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়
    আমার সত্তর - দীপ্তেন
  • করোনা

  • পাতা : 1 | 2 | 3 | 4 | 5 | 6 | 7 | 8 | 9 | 10 | 11
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত